|
১৯৭২ সালের সংবিধান গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের সংবিধান
প্রণয়ন, কাঠামো ও মূলনীতি |
|
চ্যাপ্টার সারসংক্ষেপ |
|
বাংলাদেশের সংবিধান ১৯৭২ সালের ৪ নভেম্বর গণপরিষদে
গৃহীত হয় এবং ১৬ ডিসেম্বর ১৯৭২ থেকে কার্যকর হয়। মূল সংবিধানে ছিল একটি প্রস্তাবনা,
১১টি ভাগ, ১৫৩টি অনুচ্ছেদ ও ৪টি তফসিল। সংবিধান প্রণয়ন কমিটির সভাপতি ছিলেন তৎকালীন
আইনমন্ত্রী ড. কামাল হোসেন এবং কমিটির সদস্য সংখ্যা ছিল ৩৪ জন। মূল চারটি রাষ্ট্রীয়
মূলনীতি ছিল: জাতীয়তাবাদ, সমাজতন্ত্র, গণতন্ত্র ও ধর্মনিরপেক্ষতা। |
▌ ১. প্রেক্ষাপট আলোচনা
|
১৯৭১ সালের ১৬ ডিসেম্বর স্বাধীনতা অর্জনের পর
বাংলাদেশের সামনে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কাজ ছিল একটি লিখিত সংবিধান প্রণয়ন। বঙ্গবন্ধু
শেখ মুজিবুর রহমান পাকিস্তানের কারাগার থেকে মুক্তি পেয়ে ১৯৭২ সালের ১০ জানুয়ারি
দেশে ফিরে আসেন। দেশে ফেরার পরদিন, অর্থাৎ ১১ জানুয়ারি ১৯৭২, তিনি 'বাংলাদেশের অস্থায়ী
সংবিধান আদেশ' জারি করেন, যার মাধ্যমে দেশে সাময়িকভাবে সংসদীয় শাসনব্যবস্থা প্রতিষ্ঠিত
হয়। পূর্ণাঙ্গ সংবিধান প্রণয়নের জন্য ১৯৭২ সালের
২৩ মার্চ 'গণপরিষদ আদেশ' জারি করা হয়। ১৯৭০ সালের সাধারণ নির্বাচনে নির্বাচিত পূর্ব
পাকিস্তানের জাতীয় ও প্রাদেশিক পরিষদের সদস্যদের নিয়ে এই গণপরিষদ গঠিত হয়। গণপরিষদের
একমাত্র দায়িত্ব ছিল বাংলাদেশের জন্য একটি সংবিধান প্রণয়ন করা; আইন প্রণয়নের ক্ষমতা
এর ছিল না। ১৯৭২ সালের ১০ এপ্রিল গণপরিষদের প্রথম অধিবেশন
বসে এবং পরদিন ১১ এপ্রিল তৎকালীন আইন ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী ড. কামাল হোসেনকে সভাপতি
করে ৩৪ সদস্য বিশিষ্ট খসড়া সংবিধান প্রণয়ন কমিটি গঠিত হয়। এই কমিটিই ছয় মাসের
অধিক সময় কাজ করে ১৯৭২ সালের ১২ অক্টোবর গণপরিষদে সংবিধান বিল উত্থাপন করে; ৪ নভেম্বর
তা গৃহীত হয় এবং ১৬ ডিসেম্বর (বিজয় দিবস) থেকে কার্যকর হয়। |
▌ ২. গুরুত্বপূর্ণ বিষয়
|
▸ অস্থায়ী সংবিধান আদেশ জারি: ১১ জানুয়ারি ১৯৭২, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। ▸ গণপরিষদ আদেশ: ২৩
মার্চ ১৯৭২ (১৯৭১ সালের ২৬ মার্চ থেকে কার্যকর)। ▸ গণপরিষদের প্রথম অধিবেশন: ১০ এপ্রিল ১৯৭২। মোট সদস্য ৪৩০ জন। ▸ গণপরিষদের প্রথম স্পিকার: শাহ আব্দুল হামিদ; মৃত্যুর (১২ অক্টোবর ১৯৭২) পর স্পিকার হন
মোহাম্মদউল্লাহ। ▸ সংবিধান প্রণয়ন কমিটি গঠন: ১১ এপ্রিল ১৯৭২, সদস্য ৩৪ জন, সভাপতি ড. কামাল হোসেন। ▸ কমিটির একমাত্র মহিলা সদস্য: বেগম রাজিয়া বানু (শেরে বাংলা এ. কে. ফজলুল হকের নাতনি)। ▸ কমিটির একমাত্র বিরোধী দলীয় সদস্য: সুরঞ্জিত সেনগুপ্ত (ন্যাপ-মোজাফ্ফর); তিনি সংবিধানে স্বাক্ষর
করতে অস্বীকৃতি জানান। ▸ কমিটির জ্যেষ্ঠতম সদস্য: হাফেজ হাবীবুর রহমান। ▸ কমিটির প্রথম বৈঠক: ১৭
এপ্রিল ১৯৭২; জনগণের কাছ থেকে ৯৮টি সুপারিশ গ্রহণ করা হয়। ▸ খসড়া সংবিধান উত্থাপন: ১২ অক্টোবর ১৯৭২, গণপরিষদের দ্বিতীয় অধিবেশনে ড. কামাল হোসেন
উত্থাপন করেন। খসড়াটি ছিল ১৫৩ অনুচ্ছেদের ৭২ পৃষ্ঠার দলিল। ▸ সংবিধান গৃহীত: ৪
নভেম্বর ১৯৭২ (এই দিন 'সংবিধান দিবস' হিসেবে পালিত হয়)। ▸ সদস্যদের স্বাক্ষর: ১৪
ডিসেম্বর ১৯৭২; প্রথম স্বাক্ষর করেন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। ▸ সংবিধান কার্যকর: ১৬
ডিসেম্বর ১৯৭২ (প্রথম বিজয় দিবসের বার্ষিকীতে)। ▸ মূল সংবিধানের কাঠামো: ১টি প্রস্তাবনা + ১১টি ভাগ + ১৫৩টি অনুচ্ছেদ + ৪টি তফসিল। ▸ চারটি মূলনীতি: জাতীয়তাবাদ,
সমাজতন্ত্র, গণতন্ত্র ও ধর্মনিরপেক্ষতা (মুক্তিযুদ্ধের চার নীতি)। ▸ ভাষা: বাংলা ও ইংরেজি
উভয় ভাষায়; অর্থগত বিরোধ দেখা দিলে বাংলা রূপ প্রাধান্য পাবে (অনুচ্ছেদ ১৫৩)। ▸ মূল হস্তলিখিত সংবিধান: ৯৩ পৃষ্ঠার হাতে লেখা পাণ্ডুলিপি; বর্তমানে বাংলাদেশ জাতীয়
জাদুঘরে সংরক্ষিত। ▸ মূল লিপিকার: এ. কে.
এম. আবদুর রউফ; সার্বিক তত্ত্বাবধানে শিল্পাচার্য জয়নুল আবেদিন; অলংকরণে শিল্পী
হাশেম খান। ▸ বাংলা ভাষারূপ পর্যালোচনা কমিটি: আহ্বায়ক ড. আনিসুজ্জামান; ভাষা বিশেষজ্ঞ সৈয়দ আলী আহসান
ও মযহারুল ইসলাম। ▸ সাংবিধানিক অভিভাবক: সুপ্রিম
কোর্ট; অনুচ্ছেদ ১০২ অনুযায়ী হাইকোর্ট বিভাগ মৌলিক অধিকার বলবৎ করার ক্ষমতা সম্পন্ন। |
▌ ৩. তুলনামূলক ছক
৩.১ মূল সংবিধান (১৯৭২) বনাম বর্তমান সংবিধান
|
বিষয় |
মূল সংবিধান (১৯৭২) |
বর্তমান (২০২৬ পর্যন্ত) |
|
মোট অনুচ্ছেদ |
১৫৩টি |
১৫৩টি (পরিবর্তনহীন) |
|
মোট ভাগ |
১১টি |
১১টি |
|
মোট তফসিল |
৪টি |
৭টি |
|
শাসন ব্যবস্থা |
সংসদীয় |
সংসদীয় (চতুর্থ সংশোধনীতে সাময়িকভাবে রাষ্ট্রপতিশাসিত) |
|
রাষ্ট্রধর্ম |
ছিল না |
ইসলাম (অষ্টম সংশোধনী, ১৯৮৮) |
|
প্রস্তাবনার শুরু |
'আমরা, বাংলাদেশের জনগণ...' |
'বিসমিল্লাহির রহমানির রহিম' + প্রস্তাবনা |
|
মূলনীতির সংখ্যা |
৪টি |
৪টি (পঞ্চদশ সংশোধনীতে পুনঃস্থাপিত) |
|
সংসদের আসন |
৩০০ + সংরক্ষিত ১৫ মহিলা = ৩১৫ |
৩০০ + সংরক্ষিত ৫০ মহিলা = ৩৫০ |
৩.২ গণপরিষদের তিন প্রধান ব্যক্তিত্বের ভূমিকা
|
ব্যক্তি |
পদ |
প্রধান অবদান |
|
শাহ আব্দুল হামিদ |
প্রথম স্পিকার (১০ এপ্রিল ১৯৭২) |
গণপরিষদ পরিচালনার প্রাথমিক দায়িত্ব; ১২ অক্টোবর ১৯৭২ মৃত্যু। |
|
মোহাম্মদউল্লাহ |
দ্বিতীয় স্পিকার |
সংবিধান বিল উপস্থাপন ও পাসের সময় গণপরিষদ পরিচালনা। |
|
ড. কামাল হোসেন |
খসড়া কমিটির সভাপতি ও আইনমন্ত্রী |
৩৪ সদস্যের খসড়া সংবিধান প্রণয়ন কমিটির নেতৃত্ব; ১২ অক্টোবর
সংবিধান বিল উত্থাপন। |
৩.৩ মূল সংবিধানের ১১টি ভাগ (একনজরে)
|
ভাগ |
শিরোনাম |
মূল বিষয়বস্তু |
|
প্রথম |
প্রজাতন্ত্র |
রাষ্ট্রের নাম, সীমানা, রাষ্ট্রভাষা, জাতীয় সংগীত, সংবিধানের
প্রাধান্য। |
|
দ্বিতীয় |
রাষ্ট্র পরিচালনার মূলনীতি |
৪টি মূলনীতি ও রাষ্ট্রের নির্দেশনামূলক নীতিমালা। |
|
তৃতীয় |
মৌলিক অধিকার |
অনুচ্ছেদ ২৬–৪৭; ১৮টি মৌলিক অধিকার ও তা বলবৎ করার বিধান। |
|
চতুর্থ |
নির্বাহী বিভাগ |
রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রী, মন্ত্রিসভা, অ্যাটর্নি জেনারেল। |
|
পঞ্চম |
আইনসভা |
জাতীয় সংসদ, সদস্য, কার্যপ্রণালী, আইন প্রণয়ন। |
|
ষষ্ঠ |
বিচার বিভাগ |
সুপ্রিম কোর্ট, অধস্তন আদালত, প্রশাসনিক ট্রাইব্যুনাল। |
|
সপ্তম |
নির্বাচন |
নির্বাচন কমিশন, ভোটার তালিকা, নির্বাচন পরিচালনা। |
|
অষ্টম |
মহা হিসাব নিরীক্ষক |
কম্পট্রোলার অ্যান্ড অডিটর জেনারেল। |
|
নবম |
বাংলাদেশের কর্মবিভাগ |
সরকারি কর্মচারী, সরকারি কর্ম কমিশন (অনুচ্ছেদ ১৩৭)। |
|
দশম |
সংবিধান সংশোধন |
অনুচ্ছেদ ১৪২ — দুই-তৃতীয়াংশ ভোটে সংশোধন। |
|
একাদশ |
বিবিধ |
ক্ষমা, সংকটকালীন বিধান, ব্যাখ্যা, সংক্ষিপ্ত নাম ইত্যাদি। |
▌ ৪. টাইমলাইন: সংবিধান প্রণয়নের ক্রমধারা
|
তারিখ |
ঘটনা |
তাৎপর্য |
|
১০ জানুয়ারি ১৯৭২ |
বঙ্গবন্ধুর স্বদেশ প্রত্যাবর্তন। |
সংবিধান প্রণয়ন প্রক্রিয়ার সূচনা। |
|
১১ জানুয়ারি ১৯৭২ |
অস্থায়ী সংবিধান আদেশ জারি। |
সংসদীয় শাসন প্রতিষ্ঠা; প্রধানমন্ত্রী পদ সৃষ্টি। |
|
২৩ মার্চ ১৯৭২ |
গণপরিষদ আদেশ জারি। |
১৯৭০-এর নির্বাচিতদের নিয়ে গণপরিষদ গঠনের সাংবিধানিক ভিত্তি। |
|
১০ এপ্রিল ১৯৭২ |
গণপরিষদের প্রথম অধিবেশন। |
শাহ আব্দুল হামিদ স্পিকার; কার্যপ্রণালী বিধি গৃহীত। |
|
১১ এপ্রিল ১৯৭২ |
৩৪ সদস্যের খসড়া কমিটি গঠন। |
ড. কামাল হোসেন সভাপতি; ১০ জুনের মধ্যে রিপোর্টের নির্দেশ। |
|
১৭ এপ্রিল ১৯৭২ |
খসড়া কমিটির প্রথম বৈঠক। |
জনগণের কাছ থেকে মতামত আহ্বান (শেষ তারিখ ৮ মে)। |
|
১২ অক্টোবর ১৯৭২ |
গণপরিষদে সংবিধান বিল উত্থাপন। |
ড. কামাল হোসেন ১৫৩ অনুচ্ছেদের ৭২ পৃষ্ঠার বিল উপস্থাপন। |
|
১৯–৩০ অক্টোবর ১৯৭২ |
সাধারণ আলোচনা। |
৪৫ জন সদস্য আলোচনায় অংশ নেন; সুরঞ্জিত সেনগুপ্ত ২৪টি সুপারিশ
পেশ করেন। |
|
৪ নভেম্বর ১৯৭২ |
সংবিধান গৃহীত। |
'সংবিধান দিবস' হিসেবে পালিত হয়। |
|
১৪ ডিসেম্বর ১৯৭২ |
সদস্যদের স্বাক্ষর। |
৩৯৯ জন স্বাক্ষর করেন; সুরঞ্জিত সেনগুপ্ত স্বাক্ষর থেকে বিরত
থাকেন। |
|
১৬ ডিসেম্বর ১৯৭২ |
সংবিধান কার্যকর। |
প্রথম বিজয় দিবসের বার্ষিকীতে কার্যকর; গণপরিষদ ভেঙে দেওয়া
হয়। |
▌ ৫. মনে রাখার কৌশল ও ট্রিকস
|
💡 ট্রিকস |
|
ট্রিক ১ — চার মূলনীতি 'জা-স-গ-ধ': জাতীয়তাবাদ, সমাজতন্ত্র, গণতন্ত্র, ধর্মনিরপেক্ষতা। ট্রিক ২ — তিন তারিখ '১২ - ৪ - ১৬': ১২ অক্টোবর উত্থাপন, ৪ নভেম্বর গৃহীত, ১৬ ডিসেম্বর কার্যকর। ট্রিক ৩ — কাঠামো '১-১১-১৫৩-৪': ১টি প্রস্তাবনা, ১১ ভাগ, ১৫৩ অনুচ্ছেদ, ৪ তফসিল (মূল সংবিধানে)। ট্রিক ৪ — কমিটি '৩৪ + ১ + ১': ৩৪ জন সদস্য, ১ জন মহিলা (রাজিয়া বানু), ১ জন বিরোধী দল
(সুরঞ্জিত সেনগুপ্ত)। ট্রিক ৫ — প্রস্তাবনার ভিত্তি 'মুক্তিযুদ্ধ':
সংবিধানের প্রস্তাবনায় ১৯৭১-এর মুক্তিযুদ্ধ
ও স্বাধীনতার ঘোষণাপত্রের চেতনাকেই ভিত্তি করা হয়েছে। ট্রিক ৬ — মুদ্রণ ব্যয় '১৪ হাজার': মূল সংবিধান ছাপাতে ব্যয় হয়েছিল মাত্র ১৪ হাজার টাকা; ব্যবহৃত
প্রেস ছিল ১৯৪৮ সালে তৈরি ক্র্যাবটি ব্র্যান্ডের অফসেট মেশিন। |
▌ ৬. বিশেষ নোট
|
📌 বিশেষ নোট |
|
১. সংবিধান প্রণেতা বনাম সংবিধান প্রণয়ন কমিটির
সভাপতি: ড. কামাল হোসেন সংবিধান প্রণয়ন
কমিটির সভাপতি ছিলেন; তিনি একক রচয়িতা নন। ৩৪ সদস্যের কমিটির সবার সম্মিলিত অবদানে
সংবিধান প্রণীত হয়েছে। ২. দুটি ভাষার সংবিধান: সংবিধান বাংলা ও ইংরেজি — দুই ভাষায় বিদ্যমান। অর্থগত বিরোধ
দেখা দিলে বাংলা রূপটি প্রাধান্য পাবে (অনুচ্ছেদ ১৫৩)। মূল হস্তলিখিত কপিতেও বাংলা
ও ইংরেজি — উভয় সংস্করণ রয়েছে। ৩. 'বিসমিল্লাহ' মূল ১৯৭২ সংবিধানে ছিল না:
১৯৭২ সালের মূল সংবিধানের প্রস্তাবনা শুরু
হয়েছিল 'আমরা, বাংলাদেশের জনগণ...' এই বাক্যে। 'বিসমিল্লাহির রহমানির রহিম' পরবর্তীতে
১৯৭৮ সালের দ্বিতীয় ঘোষণার আদেশের মাধ্যমে যোগ করা হয় এবং ১৯৭৯ সালের পঞ্চম সংশোধনীতে
অনুমোদিত হয়। ৪. সংবিধান দিবস কেন ৪ নভেম্বর: এই দিনে গণপরিষদে সংবিধান গৃহীত হয়েছিল। কার্যকর হয় ১৬ ডিসেম্বর;
কিন্তু গৃহীত হওয়ার দিনটিকেই 'সংবিধান দিবস' হিসেবে পালন করা হয়। ৫. মূল হস্তলিখিত কপি: ৯৩ পৃষ্ঠার এই দলিল চামড়ায় বাঁধানো হয়েছিল সৈয়দ শাহ শফির
হাতে। শিল্পীদের অঙ্কন কমিটিতে ছিলেন জুনাবুল ইসলাম, সমরজিৎ রায় চৌধুরী ও আবুল বারক
আলভী। মূল কপি বর্তমানে বাংলাদেশ জাতীয় জাদুঘরে সংরক্ষিত। ৬. মুক্তিযুদ্ধের চার নীতি: মূল সংবিধানের ৪ মূলনীতি মুক্তিযুদ্ধের চার নীতি হিসেবে পরিচিত।
পঞ্চম সংশোধনীতে (১৯৭৯) 'ধর্মনিরপেক্ষতা' ও 'সমাজতন্ত্র' বাদ দেওয়া হয়; পঞ্চদশ
সংশোধনীতে (২০১১) চারটি মূলনীতিই পুনঃস্থাপিত হয়। |
▌ ৭. সতর্কতা
|
⚠️ সতর্কতা |
|
ভুল-১: সংবিধান গৃহীত vs কার্যকর। সংবিধান গৃহীত হয় ৪ নভেম্বর ১৯৭২; কার্যকর হয় ১৬ ডিসেম্বর
১৯৭২। দুটি তারিখ গুলিয়ে ফেলা MCQ-এর সবচেয়ে সাধারণ ভুল। ভুল-২: গণপরিষদ vs জাতীয় সংসদ। সংবিধান গৃহীত হয় গণপরিষদে — জাতীয় সংসদে নয়। প্রথম জাতীয়
সংসদ গঠিত হয় ১৯৭৩ সালের ৭ মার্চের নির্বাচনের পর। ভুল-৩: কমিটির সদস্য সংখ্যা। সংবিধান প্রণয়ন কমিটির সদস্য ৩৪ জন — ৩৫ জন নয়। কিছু সূত্রে
৩৫-এর উল্লেখ থাকলেও বিসিএস ও পিএসসি গৃহীত উত্তর '৩৪ জন'। ভুল-৪: প্রথম স্পিকার বিভ্রান্তি। গণপরিষদের প্রথম স্পিকার শাহ আব্দুল হামিদ; মোহাম্মদউল্লাহ
দ্বিতীয় স্পিকার (১৯৭২ সালের অক্টোবরে শাহ আব্দুল হামিদের মৃত্যুর পর)। সংবিধান
গৃহীত হওয়ার সময়ের স্পিকার ছিলেন মোহাম্মদউল্লাহ। ভুল-৫: মূলনীতি ৪ vs ৫ বনাম পরিবর্তন। মূল সংবিধানে রাষ্ট্রীয় মূলনীতি ৪টি; কখনো ৫টি হয়নি। পঞ্চম
সংশোধনীতে সংখ্যা কমিয়ে আনা হলেও পঞ্চদশে আবার ৪টিতে ফিরিয়ে আনা হয়। ভুল-৬: তফসিল ৪ vs ৭। মূল সংবিধানে তফসিল ছিল ৪টি; বর্তমানে ৭টি। প্রশ্ন 'মূল সংবিধানে'
নাকি 'বর্তমান সংবিধানে' — তা ভালোভাবে পড়ে উত্তর দিতে হবে। |
▌ ৮. কি-ওয়ার্ড ও টার্মিনোলজি
|
🌐 Keywords |
|||||||||||||||||||||||||||||||||||||||
|
▌ ৯. প্রশ্ন (Q&A)
|
|
|
প্রশ্ন: গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের সংবিধান কত তারিখে গণপরিষদে
গৃহীত হয়? উত্তর: ১৯৭২ সালের
৪ নভেম্বর। প্রশ্ন: বাংলাদেশের সংবিধান কার্যকর হয় কত তারিখে? উত্তর: ১৬ ডিসেম্বর,
১৯৭২। প্রশ্ন: ১৯৭২ সালের ৪ নভেম্বর স্বাধীন বাংলাদেশের সংবিধানের
খসড়া গৃহীত হয় কোথায়? উত্তর: গণপরিষদে। প্রশ্ন: বাংলাদেশের সংবিধান সর্বপ্রথম কোন তারিখে গণপরিষদে
উত্থাপিত হয়? উত্তর: ১২ অক্টোবর,
১৯৭২। প্রশ্ন: বাংলাদেশ গণপরিষদের প্রথম অধিবেশন কত তারিখে শুরু
হয়? উত্তর: ১০ এপ্রিল,
১৯৭২। প্রশ্ন: বাংলাদেশ গণপরিষদের প্রথম স্পিকার কে ছিলেন? উত্তর: শাহ আব্দুল
হামিদ। প্রশ্ন: ১৯৭২ সালের বাংলাদেশের সংবিধানের রাষ্ট্রীয় মূলনীতি
কয়টি? উত্তর: ৪টি — জাতীয়তাবাদ,
সমাজতন্ত্র, গণতন্ত্র, ধর্মনিরপেক্ষতা। প্রশ্ন: বাংলাদেশের সংবিধান প্রণয়ন কমিটির সদস্য সংখ্যা কত
ছিল? উত্তর: ৩৪ জন; সভাপতি
ছিলেন ড. কামাল হোসেন। প্রশ্ন: সংবিধান প্রণয়ন কমিটির একমাত্র মহিলা সদস্য কে ছিলেন? উত্তর: বেগম রাজিয়া
বানু। প্রশ্ন: ১৯৭২ সালের বাংলাদেশের সংবিধানের হাতে লেখা পাণ্ডুলিপি
কে তৈরি করেছিলেন? উত্তর: এ. কে. এম.
আবদুর রউফ। প্রশ্ন: "All powers in the Republic belong to the
people" সংবিধানের কোন অনুচ্ছেদে আছে? উত্তর: অনুচ্ছেদ ৭(১)। প্রশ্ন: 'সকল নাগরিক আইনের দৃষ্টিতে সমান এবং আইনের সমান আশ্রয়
লাভের অধিকারী' — সংবিধানের কোন অনুচ্ছেদে বর্ণিত? উত্তর: অনুচ্ছেদ ২৭। প্রশ্ন: ধর্মীয় স্বাধীনতা — সংবিধানের কোন অনুচ্ছেদে উল্লেখ
আছে? উত্তর: অনুচ্ছেদ ৪১। প্রশ্ন: বাংলাদেশের সংবিধানে মোট কতটি অনুচ্ছেদ রয়েছে? উত্তর: ১৫৩টি। প্রশ্ন: সংবিধানের কোন ভাগে রাষ্ট্র পরিচালনার মূলনীতি বিবৃত
হয়েছে? উত্তর: দ্বিতীয় ভাগে
(অনুচ্ছেদ ৮–২৫)। প্রশ্ন: বাংলাদেশ সরকারি কর্ম কমিশন সংবিধানের কোন অনুচ্ছেদ
অনুযায়ী গঠিত? উত্তর: অনুচ্ছেদ ১৩৭। |
▌ ১০. লিখিত পরীক্ষার দৃষ্টিভঙ্গি
|
✍️ লিখিত পরীক্ষার জন্য |
|
১৯৭২ সালের সংবিধান বাংলাদেশের রাষ্ট্রগঠনের
সর্বোচ্চ দলিল; এটি ১৯৭০ সালের সাধারণ নির্বাচনে জনগণের ম্যান্ডেট ও ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধে
অর্জিত স্বাধীনতার সাংবিধানিক প্রতিফলন। মাত্র এক বছরের মধ্যে একটি সদ্য-স্বাধীন
রাষ্ট্রের পক্ষে এমন বিস্তৃত, লিখিত ও আত্মনির্ভর সংবিধান প্রণয়ন তুলনামূলক সাংবিধানিক
ইতিহাসে এক ব্যতিক্রমী দৃষ্টান্ত। মুক্তিযুদ্ধের চার নীতিকে — জাতীয়তাবাদ, সমাজতন্ত্র,
গণতন্ত্র ও ধর্মনিরপেক্ষতা — রাষ্ট্র পরিচালনার মূলনীতি হিসেবে গ্রহণের মাধ্যমে এই
সংবিধান একটি ধর্মনিরপেক্ষ, কল্যাণরাষ্ট্রিক ও সংসদীয় গণতান্ত্রিক ব্যবস্থার সাংবিধানিক
ভিত্তি স্থাপন করে। অনুচ্ছেদ ৭ অনুযায়ী 'জনগণই সকল ক্ষমতার উৎস' — এই ঘোষণাকে কেন্দ্রে
রেখে সংবিধান গণসার্বভৌমত্বের দর্শন প্রতিষ্ঠা করেছে। তবে পরবর্তী সাড়ে পাঁচ দশকে এই সংবিধান ১৭টিরও
অধিক সংশোধনীর মধ্য দিয়ে গেছে; কিছু সংশোধনী আদালত কর্তৃক অবৈধ ঘোষিত হয়েছে। ফলে
'৭২-এর মূল সংবিধান ও বর্তমান সংবিধানের মধ্যে কাঠামোগত ও মূলনীতিগত পার্থক্য রয়েছে
— এই বিচ্যুতি ও পুনঃস্থাপনার ধারাবাহিকতাই বাংলাদেশের সাংবিধানিক বিবর্তনের কেন্দ্রবিন্দু। |
▌ ১১. চটজলদি রিভিশন
|
⚡ এক নজরে |
||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||
|