তড়িৎ কোষ

Chapter Activity

Rating
New / 5
Reviews
0
Read Sessions
0
Readers
0

তড়িৎ কোষ | বিজ্ঞান মাস্টার সিরিজ

⚡ বিজ্ঞান মাস্টার সিরিজ ⚡

পদার্থবিজ্ঞান ও রসায়ন | চতুর্থ অধ্যায়

━━━━━ অধ্যায় ━━━━━

তড়িৎ কোষ

Electric Cell & Electrochemical Cell

━━━━━━━━━━━━━━━━━━━━━━━━

"রাসায়নিক শক্তিকে তড়িৎ শক্তিতে রূপান্তরের গভীর বিজ্ঞান"

তড়িৎ রসায়ন

📚

২০+ বছরের প্রশ্ন

🔋

১২+ ধরনের কোষ

🎯

BCS + ভর্তি

বিসিএস প্রিলিমিনারি ● ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ● রাজশাহী, চট্টগ্রাম, জাহাঙ্গীরনগর, BUET

সরকারি ব্যাংক ● শিক্ষক নিবন্ধন ● প্রাথমিক শিক্ষক নিয়োগ


📑 সূচিপত্র (Table of Contents)

১. কনসেপ্ট ক্লিয়ারিং: তড়িৎ কোষ কী?

২. তড়িৎ কোষের ইতিহাস ও বিবর্তন

৩. তড়িৎ কোষের মৌলিক নীতি (Working Principle)

৪. তড়িৎ কোষের গাঠনিক উপাদান (Components)

৫. তড়িৎ কোষের শ্রেণিবিভাগ (Classification)

৬. সরল ভোল্টীয় কোষ (Simple Voltaic Cell) — বিস্তারিত

৭. পোলারাইজেশন ও স্থানীয় ক্রিয়া (Polarization & Local Action)

৮. ড্যানিয়েল কোষ (Daniel Cell) — বিস্তারিত

৯. লেকল্যান্স কোষ (Leclanché Cell)

১০. শুষ্ক কোষ (Dry Cell) — বিস্তারিত

১১. ক্ষারীয় কোষ ও বোতাম কোষ (Alkaline & Button Cell)

১২. সীসা সঞ্চয়ী কোষ (Lead-Acid Accumulator) — বিস্তারিত

১৩. নিকেল-ক্যাডমিয়াম ও লিথিয়াম-আয়ন কোষ

১৪. জ্বালানি কোষ (Fuel Cell) ও সৌর কোষ

১৫. তড়িচ্চালক বল (EMF) ও অভ্যন্তরীণ রোধ

১৬. ফ্যারাডের তড়িৎ বিশ্লেষণের সূত্র

১৭. কোষের সমবায় (Series and Parallel)

১৮. তড়িৎ কোষের ব্যবহার (Applications)

১৯. গুরুত্বপূর্ণ বিষয় (Key Takeaways)

২০. পরীক্ষার সম্ভাব্যতা (Exam Potential)

২১. মনে রাখার ট্রিক ও নেমোনিক

২২. বিশেষ নোট (Special Notes)

২৩. সাধারণ ভুল ও সতর্কতা

২৪. বিগত বছরের প্রশ্ন-উত্তর (৫০+ প্রশ্ন)

২৫. দ্রুত রিভিশন চার্ট (Quick Reference)

২৬. আবিষ্কারক তালিকা


১. কনসেপ্ট ক্লিয়ারিং: তড়িৎ কোষ কী?

১.১ সংজ্ঞা ও মৌলিক ধারণা

তড়িৎ কোষ (Electric Cell) বলতে এমন একটি যন্ত্রকে বোঝায় যেখানে রাসায়নিক শক্তি (Chemical Energy) সরাসরি তড়িৎ শক্তিতে (Electrical Energy) রূপান্তরিত হয়। অর্থাৎ, এর ভেতরে একটি স্বতঃস্ফূর্ত জারণ-বিজারণ বিক্রিয়া (Spontaneous Redox Reaction) সংঘটিত হয় এবং সেই বিক্রিয়ার ফলে নির্গত শক্তিই তড়িৎ শক্তি হিসেবে বহিঃস্থ বর্তনীতে সরবরাহ করা হয়।

আমাদের দৈনন্দিন জীবনে ব্যবহৃত প্রায় প্রতিটি বহনযোগ্য তড়িৎ যন্ত্র — যেমন মোবাইল ফোন, টর্চলাইট, রিমোট কন্ট্রোল, হাতঘড়ি, ক্যালকুলেটর, ল্যাপটপ, এমনকি গাড়ি ও বৈদ্যুতিক বাহন — সবই এক বা একাধিক তড়িৎ কোষের ওপর নির্ভরশীল। সাধারণ ভাষায়, একাধিক তড়িৎ কোষ যুক্ত হয়ে যা গঠিত হয় তাকে ব্যাটারি (Battery) বলা হয়। তবে আধুনিক প্রয়োগে একটি কোষকেও সাধারণভাবে ব্যাটারি বলা হয়ে থাকে।

১.২ পরিভাষা স্পষ্টীকরণ

তড়িৎ কোষ বুঝতে হলে কিছু মৌলিক পরিভাষা প্রথমেই জানা দরকার:

বিষয়

ব্যাখ্যা

তড়িৎ কোষ (Cell)

একটি একক এককোষীয় তড়িৎ-রাসায়নিক যন্ত্র

ব্যাটারি (Battery)

এক বা একাধিক তড়িৎ কোষের সমন্বয়ে গঠিত যন্ত্র

তড়িদ্দ্বার (Electrode)

যেসব পরিবাহী পদার্থে বিক্রিয়া ঘটে — দু'টি থাকে

অ্যানোড (Anode)

যে তড়িদ্দ্বারে জারণ (Oxidation) ঘটে — ইলেকট্রন ছেড়ে দেয়

ক্যাথোড (Cathode)

যে তড়িদ্দ্বারে বিজারণ (Reduction) ঘটে — ইলেকট্রন গ্রহণ করে

তড়িৎ বিশ্লেষ্য (Electrolyte)

যে দ্রবণে আয়ন থাকে এবং তড়িৎ পরিবহন করে

লবণ সেতু (Salt Bridge)

দুই অর্ধ-কোষের মধ্যে আয়ন প্রবাহ বজায় রাখে

তড়িচ্চালক বল (EMF)

কোষের দুই প্রান্তের সর্বোচ্চ বিভব পার্থক্য

অভ্যন্তরীণ রোধ (r)

কোষের ভেতরের তড়িৎ বিশ্লেষ্যের নিজস্ব রোধ

টার্মিনাল ভোল্টেজ (V)

বর্তনী যুক্ত থাকার সময় কোষের দুই প্রান্তের ভোল্টেজ

জারণ-বিজারণ (Redox)

জারণ ও বিজারণের যুগপৎ সংঘটিত বিক্রিয়া

অর্ধ-কোষ (Half Cell)

একটি তড়িদ্দ্বার ও তার নিজস্ব দ্রবণ মিলে গঠিত অংশ

১.৩ কেন এটি গুরুত্বপূর্ণ?

তড়িৎ কোষ শুধু একটি একাডেমিক বিষয় নয় — এটি আধুনিক সভ্যতার ভিত্তি। ১৯০০ সালে ব্যাটারি ছাড়া এই পৃথিবী কল্পনাও করা যেত না। বর্তমানে বৈদ্যুতিক গাড়ি (Tesla, BYD), নবায়নযোগ্য শক্তি সঞ্চয়, মহাকাশযান, পেসমেকার, স্যাটেলাইট — সর্বত্র তড়িৎ কোষের প্রয়োগ। এ কারণে BCS, বিশ্ববিদ্যালয় ভর্তি পরীক্ষা, ব্যাংক, ও শিক্ষক নিবন্ধন পরীক্ষায় প্রতি বছর এ অধ্যায় থেকে অন্তত ২–৪টি প্রশ্ন আসে।


২. তড়িৎ কোষের ইতিহাস ও বিবর্তন

আজকের লিথিয়াম-আয়ন ব্যাটারির পথ চলা শুরু হয়েছিল প্রায় আড়াইশো বছর আগে। নিচে এই বিবর্তনের একটি সম্পূর্ণ সময়রেখা দেওয়া হলো:

সাল

বিজ্ঞানী/আবিষ্কার

যা ঘটেছিল

১৭৮০

লুইজি গ্যাল্ভানি (Luigi Galvani)

ব্যাঙের পায়ে দুটি ভিন্ন ধাতু লাগিয়ে পেশী সংকোচন লক্ষ্য করেন — "প্রাণী বিদ্যুৎ" ধারণা

১৮০০

আলেসান্দ্রো ভোল্টা (Alessandro Volta)

ভোল্টায়িক পাইল (Voltaic Pile) — পৃথিবীর প্রথম তড়িৎ কোষ আবিষ্কার

১৮০০

নিকোলসন ও কার্লাইল

তড়িৎ বিশ্লেষণ (Electrolysis) আবিষ্কার করেন ভোল্টার পাইল ব্যবহার করে

১৮৩৬

জন ফ্রেডেরিক ড্যানিয়েল

ড্যানিয়েল কোষ আবিষ্কার — পোলারাইজেশন সমস্যা সমাধান, টেলিগ্রাফে ব্যবহার

১৮৩৪

মাইকেল ফ্যারাডে

তড়িৎ বিশ্লেষণের সূত্র প্রতিষ্ঠা — কোষের রাসায়নিক ভিত্তি প্রমাণ

১৮৫৯

গ্যাস্টন প্লান্টে (Gaston Planté)

সীসা সঞ্চয়ী কোষ (Lead-Acid Cell) — প্রথম রিচার্জযোগ্য ব্যাটারি

১৮৬৬

জর্জ লেকল্যান্স (Georges Leclanché)

লেকল্যান্স কোষ — শুষ্ক কোষের পূর্বসূরি

১৮৮৬

কার্ল গ্যাসনার

প্রথম বাণিজ্যিক শুষ্ক কোষ

১৮৯৯

ওয়াল্ডমার জুনার

নিকেল-ক্যাডমিয়াম (Ni-Cd) কোষ

১৯৫৯

লুইস আরি

ক্ষারীয় (Alkaline) ব্যাটারি

১৯৭০-৮০

এম. স্ট্যানলি হুইটিংহ্যাম, গুডএনাফ

লিথিয়াম-আয়ন ব্যাটারির ভিত্তি

১৯৯১

সনি কোম্পানি (জাপান)

বাণিজ্যিকভাবে প্রথম লি-আয়ন ব্যাটারি বাজারে আসে

২০১৯

গুডএনাফ, হুইটিংহ্যাম, ইয়োশিনো

লি-আয়ন ব্যাটারি আবিষ্কারের জন্য নোবেল পুরস্কার (রসায়ন)

📚 ঐতিহাসিক গুরুত্ব

ভোল্টার আবিষ্কার (১৮০০) ছিল মানব ইতিহাসে প্রথম স্থির তড়িৎ প্রবাহের উৎস।

তাঁর সম্মানে তড়িৎ-বিভবের একক "ভোল্ট (Volt)" নামকরণ করা হয়েছে।

ভোল্টা তাঁর পাইল ফরাসি সম্রাট নেপোলিয়ান বোনাপার্টকে প্রদর্শন করেন।

"Battery" শব্দটি সর্বপ্রথম ব্যবহার করেন বেঞ্জামিন ফ্র্যাঙ্কলিন (১৭৪৮ সালে)।

তখন "Battery" বলতে সারিবদ্ধ কামানকে বোঝানো হতো — পরে একাধিক কোষের ক্ষেত্রে এটি প্রয়োগ হয়।


৩. তড়িৎ কোষের মৌলিক নীতি (Working Principle)

৩.১ মূল ধারণা

তড়িৎ কোষের কাজ করার পিছনে যে মৌলিক বৈজ্ঞানিক নীতি কাজ করে, তা হলো জারণ-বিজারণ বিক্রিয়া (Oxidation-Reduction Reaction) বা সংক্ষেপে Redox Reaction। যখন দুটি ভিন্ন ধাতু (যেমন জিংক ও কপার) একটি তড়িৎ বিশ্লেষ্য দ্রবণে ডোবানো হয়, তখন একটি ধাতু (বেশি সক্রিয়) ইলেকট্রন ছেড়ে দিতে চায় — এটিই অ্যানোড। অন্য ধাতু (কম সক্রিয়) সেই ইলেকট্রন গ্রহণ করতে চায় — এটিই ক্যাথোড।

৩.২ ইলেকট্রন প্রবাহের দিক

ক. অ্যানোডে জারণ ঘটে: ধাতু পরমাণু ইলেকট্রন ছেড়ে আয়নে পরিণত হয় (Zn → Zn²⁺ + 2e⁻)।

খ. ইলেকট্রন বাহ্যিক তার দিয়ে অ্যানোড থেকে ক্যাথোডে যায়। এই ইলেকট্রনের প্রবাহই তড়িৎ প্রবাহ (বিপরীত দিকে)।

গ. ক্যাথোডে বিজারণ ঘটে: দ্রবণের ধনাত্মক আয়ন ইলেকট্রন গ্রহণ করে (Cu²⁺ + 2e⁻ → Cu)।

ঘ. অভ্যন্তরীণভাবে আয়নগুলো দ্রবণের মধ্য দিয়ে চলাচল করে — ধনাত্মক আয়ন ক্যাথোডের দিকে, ঋণাত্মক আয়ন অ্যানোডের দিকে।

ঙ. এভাবে একটি সম্পূর্ণ বদ্ধ বর্তনী (Closed Circuit) তৈরি হয় এবং তড়িৎ প্রবাহিত হতে থাকে যতক্ষণ না বিক্রিয়ক শেষ হয়।

Zn + Cu²⁺ → Zn²⁺ + Cu (সামগ্রিক রেডক্স বিক্রিয়া)

৩.৩ প্রচলিত কারেন্ট বনাম ইলেকট্রন প্রবাহ

একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় মনে রাখতে হবে: ইলেকট্রনের প্রবাহ অ্যানোড (-) থেকে ক্যাথোড (+) এ যায়। কিন্তু প্রচলিত কারেন্ট (Conventional Current) বহিঃস্থ বর্তনীতে ক্যাথোড (+) থেকে অ্যানোড (-) এ প্রবাহিত হয় ধরা হয় — কারণ ভোল্টার যুগে ইলেকট্রন আবিষ্কৃত হয়নি, এবং সেই ভুল প্রথা আজও বহাল আছে।

⚠️ সবচেয়ে কনফিউজিং বিষয় — মনে রাখুন!

● গ্যাল্ভানিক কোষে: অ্যানোড = ঋণাত্মক (−), ক্যাথোড = ধনাত্মক (+)

● তড়িৎ বিশ্লেষণ কোষে: অ্যানোড = ধনাত্মক (+), ক্যাথোড = ঋণাত্মক (−)

অর্থাৎ অ্যানোড-ক্যাথোডের চিহ্ন কোষের ধরনের ওপর নির্ভর করে।

কিন্তু উভয় ক্ষেত্রেই: অ্যানোডে জারণ, ক্যাথোডে বিজারণ — এই নিয়ম একই থাকে।


৪. তড়িৎ কোষের গাঠনিক উপাদান

যেকোনো তড়িৎ কোষে নিম্নলিখিত মৌলিক উপাদানগুলো থাকতেই হবে। প্রতিটির আলাদা ভূমিকা রয়েছে এবং একটি বিকল হলে পুরো কোষ অচল হয়ে যায়।

৪.১ তড়িদ্দ্বার (Electrodes)

তড়িৎ কোষে দুটি তড়িদ্দ্বার থাকে — একটি অ্যানোড ও অন্যটি ক্যাথোড। সাধারণত এগুলি ভিন্ন ভিন্ন ধাতু বা পরিবাহী পদার্থ দিয়ে তৈরি। সক্রিয়তা সিরিজে (Activity Series) যে ধাতুর অবস্থান যত উপরে, সেটি তত বেশি সহজে ইলেকট্রন ছাড়ে এবং অ্যানোড হিসেবে কাজ করে। যেমন জিংক, কপার থেকে সক্রিয়তর — তাই জিংক অ্যানোড, কপার ক্যাথোড।

বিষয়

ব্যাখ্যা

সাধারণ অ্যানোড উপাদান

জিংক (Zn), লিথিয়াম (Li), ক্যাডমিয়াম (Cd), লেড (Pb)

সাধারণ ক্যাথোড উপাদান

কপার (Cu), কার্বন (C), MnO₂, PbO₂, NiOOH

নিষ্ক্রিয় তড়িদ্দ্বার

প্ল্যাটিনাম (Pt), গ্রাফাইট (C) — বিক্রিয়ায় অংশ নেয় না

ধাতু ছাড়াও

গ্রাফাইট (অধাতু হয়েও পরিবাহী)

৪.২ তড়িৎ বিশ্লেষ্য (Electrolyte)

তড়িৎ বিশ্লেষ্য হলো এমন একটি দ্রবণ যা আয়নে বিভাজিত হয়ে তড়িৎ পরিবহন করে। এটি তরল হতে পারে (অ্যাসিড, ক্ষার, লবণ দ্রবণ) বা পেস্ট আকারে (শুষ্ক কোষে) বা কঠিন (লি-আয়ন কোষে আংশিক কঠিন)।

বিষয়

ব্যাখ্যা

সরল ভোল্টীয় কোষ

তনু সালফিউরিক অ্যাসিড (H₂SO₄)

ড্যানিয়েল কোষ

জিংক সালফেট (ZnSO₄) ও কপার সালফেট (CuSO₄)

শুষ্ক কোষ

অ্যামোনিয়াম ক্লোরাইড (NH₄Cl) ও জিংক ক্লোরাইড পেস্ট

সীসা সঞ্চয়ী কোষ

পাতলা সালফিউরিক অ্যাসিড (H₂SO₄)

ক্ষারীয় কোষ

পটাশিয়াম হাইড্রক্সাইড (KOH)

নিকেল-ক্যাডমিয়াম কোষ

পটাশিয়াম হাইড্রক্সাইড (KOH)

লিথিয়াম-আয়ন কোষ

লিথিয়াম লবণ (LiPF₆) অর্গানিক দ্রাবকে

৪.৩ লবণ সেতু (Salt Bridge)

লবণ সেতু হলো একটি U-আকৃতির কাচের নল যার মধ্যে অ্যাগার-অ্যাগার জেলির সাথে KCl বা KNO₃ বা NH₄NO₃ এর দ্রবণ মিশ্রিত করা থাকে। দুটি অর্ধ-কোষের মধ্যে এটি স্থাপন করা হয়।

লবণ সেতুর প্রধান কাজ চারটি:

১. দুই অর্ধ-কোষের মধ্যে আয়নের প্রবাহ বজায় রাখে।

২. কোষের প্রতিটি অর্ধে বৈদ্যুতিক নিরপেক্ষতা (Electrical Neutrality) রক্ষা করে।

৩. দ্রবণ দুটির মিশ্রণ প্রতিরোধ করে — কিন্তু আয়ন চলাচল চালু রাখে।

৪. বাহ্যিক বর্তনী সম্পূর্ণ করে — অর্থাৎ আয়ন প্রবাহের মাধ্যমে অভ্যন্তরীণ বর্তনী বন্ধ রাখে।

📌 লবণ সেতু না থাকলে কী হবে?

অ্যানোড অর্ধ-কোষে Zn²⁺ আয়ন বাড়তে থাকবে — ধনাত্মক হয়ে যাবে।

ক্যাথোড অর্ধ-কোষে Cu²⁺ আয়ন কমতে থাকবে — ঋণাত্মক হয়ে যাবে।

চার্জ ভারসাম্য নষ্ট হবে এবং ৩০ সেকেন্ডের মধ্যে কোষ বন্ধ হয়ে যাবে।

তাই লবণ সেতুকে "কোষের জীবনরক্ষাকারী" বলা যায়।


৫. তড়িৎ কোষের শ্রেণিবিভাগ

তড়িৎ কোষকে প্রধানত রাসায়নিক বিক্রিয়ার প্রতিবর্তনযোগ্যতার (Reversibility) ভিত্তিতে তিন ভাগে ভাগ করা যায়:

🔋 A. প্রাথমিক কোষ (Primary Cell)

যে কোষে রাসায়নিক বিক্রিয়া অপরিবর্তনীয় (Irreversible)। অর্থাৎ একবার বিক্রিয়ক শেষ হয়ে গেলে আর পুনরায় চার্জ দেওয়া যায় না — ফেলে দিতে হয়।

উদাহরণ:

সরল ভোল্টীয় কোষ — EMF = ১.০৮ V

ড্যানিয়েল কোষ — EMF = ১.১ V

লেকল্যান্স কোষ — EMF = ১.৫ V

শুষ্ক কোষ (Dry Cell) — EMF = ১.৫ V — টর্চ, রিমোট

ক্ষারীয় কোষ (Alkaline) — EMF = ১.৫ V — দীর্ঘস্থায়ী

পারদ কোষ (Mercury Cell) — EMF = ১.৩৫ V — ঘড়িতে

সিলভার অক্সাইড কোষ — EMF = ১.৫৫ V — শ্রবণযন্ত্রে

🔄 B. দ্বিতীয়ক/সঞ্চয়ী কোষ (Secondary Cell)

যে কোষে রাসায়নিক বিক্রিয়া উভয়মুখী (Reversible)। বাইরে থেকে তড়িৎ প্রয়োগ করে পুনরায় চার্জ করা যায় এবং বহুবার ব্যবহার করা যায়।

উদাহরণ:

সীসা সঞ্চয়ী কোষ (Lead-Acid) — EMF = ২ V/কোষ — গাড়ির ব্যাটারি

নিকেল-ক্যাডমিয়াম (Ni-Cd) — EMF = ১.২ V — পুরোনো রিচার্জেবল

নিকেল-মেটাল হাইড্রাইড (Ni-MH) — EMF = ১.২ V — পরিবেশবান্ধব

লিথিয়াম-আয়ন (Li-ion) — EMF = ৩.৬-৩.৭ V — মোবাইল, ল্যাপটপ

লিথিয়াম-পলিমার (Li-Po) — EMF = ৩.৭ V — হালকা ও পাতলা

⚡ C. জ্বালানি কোষ (Fuel Cell)

জ্বালানি (যেমন H₂) ও অক্সিডাইজার (O₂) ক্রমাগত সরবরাহ করে তড়িৎ উৎপন্ন করা হয়। এর উপজাত হলো শুধু পানি (H₂O) — তাই পরিবেশবান্ধব। মহাকাশযান (NASA Apollo) ও আধুনিক বৈদ্যুতিক বাহনে ব্যবহৃত।

🎯 কেন এই শ্রেণিবিভাগ গুরুত্বপূর্ণ?

BCS-এ প্রায়ই প্রশ্ন আসে: "নিচের কোনটি প্রাথমিক/দ্বিতীয়ক কোষ?"

প্রাথমিক ↔ অপরিবর্তনীয় ↔ একবার ব্যবহার্য — এই ত্রয়ী মনে রাখুন।

দ্বিতীয়ক ↔ পরিবর্তনীয় ↔ রিচার্জযোগ্য — এই ত্রয়ী মনে রাখুন।

জ্বালানি কোষ ↔ ক্রমাগত জ্বালানি ↔ উপজাত পানি — এই ত্রয়ী মনে রাখুন।


৬. সরল ভোল্টীয় কোষ — বিস্তারিত

ইতালীয় পদার্থবিজ্ঞানী আলেসান্দ্রো ভোল্টা ১৮০০ সালে এই কোষ আবিষ্কার করেন। এটিই মানব ইতিহাসের প্রথম তড়িৎ কোষ। তাঁর সম্মানে এই কোষের নাম "ভোল্টীয় কোষ" রাখা হয়েছে।

৬.১ গঠন (Construction)

একটি কাচের পাত্রে তনু সালফিউরিক অ্যাসিড (H₂SO₄) রাখা হয়। এই অ্যাসিডে দুটি ধাতব পাত আংশিকভাবে ডোবানো হয় — একটি জিংক (Zn) এবং অন্যটি কপার (Cu)। দুটি পাতের উপরের অংশ বাইরে থেকে একটি তার দিয়ে যুক্ত করা হয় এবং তারের সাথে গ্যাল্ভানোমিটার যুক্ত করলে তড়িৎ প্রবাহ ধরা যায়।

বিষয়

ব্যাখ্যা

আবিষ্কারক

আলেসান্দ্রো ভোল্টা (Alessandro Volta), ১৮০০

ধনাত্মক তড়িদ্দ্বার (+)

কপার (Cu) পাত — ক্যাথোড

ঋণাত্মক তড়িদ্দ্বার (−)

জিংক (Zn) পাত — অ্যানোড

তড়িৎ বিশ্লেষ্য

তনু সালফিউরিক অ্যাসিড (H₂SO₄)

তড়িচ্চালক বল (EMF)

১.০৮ ভোল্ট

শক্তি রূপান্তর

রাসায়নিক শক্তি → তড়িৎ শক্তি

৬.২ রাসায়নিক বিক্রিয়া

অ্যানোডে (জিংক পাত) — জারণ:

Zn → Zn²⁺ + 2e⁻ (জিংক ইলেকট্রন হারিয়ে আয়নে পরিণত)

ক্যাথোডে (কপার পাত) — বিজারণ:

2H⁺ + 2e⁻ → H₂↑ (হাইড্রোজেন আয়ন ইলেকট্রন গ্রহণ করে গ্যাস উৎপন্ন)

সামগ্রিক বিক্রিয়া:

Zn + H₂SO₄ → ZnSO₄ + H₂↑ (জিংক সালফেট ও হাইড্রোজেন গ্যাস)

৬.৩ কার্যনীতি

জিংক, কপার অপেক্ষা সক্রিয়। অ্যাসিডে ডোবার সঙ্গে সঙ্গে জিংক দ্রবীভূত হতে থাকে, ইলেকট্রন ছেড়ে দেয়। এই ইলেকট্রন বহিঃস্থ তার দিয়ে কপার পাতের দিকে যায়। অন্যদিকে অ্যাসিডের H⁺ আয়ন কপার পাতের কাছে এসে ইলেকট্রন গ্রহণ করে H₂ গ্যাস হয়ে কপার পাতে জমা হতে থাকে।

৬.৪ ত্রুটি (Defects of Voltaic Cell)

এই সরল কোষের দুটি বড় ত্রুটি আছে — যা পরবর্তী বিজ্ঞানীরা সমাধান করেছেন:

পোলারাইজেশন (Polarization) — ক্যাথোডে H₂ বুদ্বুদ জমে EMF দ্রুত কমে যায়

স্থানীয় ক্রিয়া (Local Action) — অমেধ্য জিংকে স্থানীয় কোষ গঠিত হয়ে জিংক ক্ষয় হয় যদিও কারেন্ট বের না হয়


৭. পোলারাইজেশন ও স্থানীয় ক্রিয়া

৭.১ পোলারাইজেশন (Polarization)

সরল ভোল্টীয় কোষ চালু হওয়ার কিছুক্ষণ পরই দেখা যায় যে কারেন্ট দ্রুত কমে যাচ্ছে। কারণ — কপার পাতের উপরে হাইড্রোজেন গ্যাসের একটি স্তর তৈরি হয়। এই স্তর একদিকে ক্যাথোড পাতকে অ্যাসিড থেকে আলাদা করে দেয়, অন্যদিকে নিজে একটি বিপরীত EMF তৈরি করে — ফলে মূল EMF কমে যায়। একেই বলে পোলারাইজেশন।

প্রতিকার — ডিপোলারাইজার (Depolarizer):

পোলারাইজেশন দূর করার জন্য ক্যাথোডের কাছে একটি অক্সিডাইজিং পদার্থ রাখা হয় যা হাইড্রোজেনকে অক্সিডাইজ করে পানিতে পরিণত করে। এই পদার্থকে ডিপোলারাইজার বলে। সাধারণ ডিপোলারাইজার:

ম্যাঙ্গানিজ ডাইঅক্সাইড (MnO₂) — শুষ্ক কোষে ব্যবহৃত

পটাশিয়াম ডাইক্রোমেট (K₂Cr₂O₇) — ক্রোমিক অ্যাসিড কোষে

নাইট্রিক অ্যাসিড (HNO₃) — গ্রোভ কোষে

কপার সালফেট (CuSO₄) — ড্যানিয়েল কোষে

৭.২ স্থানীয় ক্রিয়া (Local Action)

বাণিজ্যিক জিংক পাতে সামান্য পরিমাণ অমেধ্য (যেমন আয়রন, কার্বন) থাকে। এই অমেধ্যগুলি অ্যাসিডে ডুবলে জিংকের সাথে অসংখ্য ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র স্থানীয় কোষ (Local Cell) গঠন করে। ফলে বহিঃস্থ বর্তনী সংযুক্ত না থাকলেও জিংক ধীরে ধীরে দ্রবীভূত হতে থাকে — এটিই স্থানীয় ক্রিয়া।

প্রতিকার — অ্যামালগামেশন (Amalgamation):

জিংক পাতের উপরিভাগ পারদ (Mercury) দ্বারা প্রলেপ দিলে জিংক-পারদ অ্যামালগাম তৈরি হয়। এই প্রলেপ অমেধ্যগুলিকে ঢেকে রাখে, ফলে স্থানীয় কোষ গঠিত হতে পারে না। জিংক শুধু তখনই দ্রবীভূত হয় যখন বহিঃস্থ বর্তনী সংযুক্ত থাকে।

📌 সাদৃশ্যপূর্ণ পার্থক্য

পোলারাইজেশন: ক্যাথোডে সমস্যা (H₂ গ্যাস জমে)

স্থানীয় ক্রিয়া: অ্যানোডে সমস্যা (অমেধ্য জিংকে স্বয়ংক্রিয় দ্রবণ)

একটি বিদ্যুৎ উৎপাদন কমায়, অন্যটি জিংক অপচয় ঘটায়।

BCS পরীক্ষায় এই পার্থক্য নিয়ে প্রশ্ন আসে।


৮. ড্যানিয়েল কোষ (Daniel Cell) — বিস্তারিত

ব্রিটিশ রসায়নবিদ জন ফ্রেডেরিক ড্যানিয়েল ১৮৩৬ সালে এই কোষ আবিষ্কার করেন। এটি ছিল প্রথম শিল্পমানের তড়িৎ কোষ এবং প্রথম ব্যবহারিক বিদ্যুৎ উৎস — যা বৈদ্যুতিক টেলিগ্রাফ যুগের ভিত্তি গড়েছিল। ড্যানিয়েল কোষের প্রধান কৃতিত্ব হলো — সরল ভোল্টীয় কোষের পোলারাইজেশন সমস্যা স্থায়ীভাবে দূর করা।

৮.১ গঠন

ড্যানিয়েল কোষে দুটি অর্ধ-কোষ থাকে, লবণ সেতু বা পোরাস পার্টিশন দিয়ে আলাদা।

বিষয়

ব্যাখ্যা

অ্যানোড (−)

জিংক (Zn) পাত — জিংক সালফেট (ZnSO₄) দ্রবণে ডুবানো

ক্যাথোড (+)

কপার (Cu) পাত — কপার সালফেট (CuSO₄) দ্রবণে ডুবানো

সংযোগ

লবণ সেতু (Salt Bridge) বা ছিদ্রযুক্ত মৃৎপাত্র (Porous Pot)

EMF

১.১ ভোল্ট (স্থির)

আবিষ্কার সাল

১৮৩৬

প্রথম ব্যবহার

টেলিগ্রাফ নেটওয়ার্ক

৮.২ রাসায়নিক বিক্রিয়া

অ্যানোডে (জিংক) — জারণ:

Zn → Zn²⁺ + 2e⁻ (জিংক দ্রবীভূত)

ক্যাথোডে (কপার) — বিজারণ:

Cu²⁺ + 2e⁻ → Cu (কপার সঞ্চিত)

সামগ্রিক বিক্রিয়া:

Zn + CuSO₄ → ZnSO₄ + Cu

৮.৩ কোষ নোটেশন (Cell Notation)

আন্তর্জাতিক প্রথা অনুযায়ী ড্যানিয়েল কোষকে লেখা হয়:

Zn | Zn²⁺ (1M) ‖ Cu²⁺ (1M) | Cu (একক দণ্ড | অর্ধ-কোষের মধ্যে, দ্বিদণ্ড ‖ লবণ সেতু)

৮.৪ সুবিধাসমূহ

১. পোলারাইজেশন হয় না — কারণ ক্যাথোডে H₂ এর পরিবর্তে Cu জমা হয়।

২. স্থানীয় ক্রিয়াও কম — কারণ জিংক H₂SO₄ এর সংস্পর্শে নেই।

৩. EMF স্থির থাকে — দীর্ঘ সময় ধরে।

৪. নির্ভরযোগ্য — তাই দীর্ঘদিন টেলিগ্রাফে ব্যবহৃত হয়েছিল।

৮.৫ অসুবিধা

১. ভারী এবং বহনযোগ্য নয়।

২. তরল তড়িৎ বিশ্লেষ্য ব্যবহারে ছিটকে পড়ার ঝুঁকি।

৩. ক্রমাগত চার্জ ক্ষয় হয় (বিক্রিয়ক ফুরিয়ে যায়)।


৯. লেকল্যান্স কোষ (Leclanché Cell)

ফরাসি বিজ্ঞানী জর্জ লেকল্যান্স ১৮৬৬ সালে এই কোষ আবিষ্কার করেন। এটি ছিল প্রাথমিক কোষের একটি বড় উন্নতি এবং শুষ্ক কোষের সরাসরি পূর্বসূরি।

বিষয়

ব্যাখ্যা

আবিষ্কারক

জর্জ লেকল্যান্স (১৮৬৬)

অ্যানোড (−)

জিংক (Zn) দণ্ড

ক্যাথোড (+)

কার্বন (C) দণ্ড — চারপাশে MnO₂ ও কার্বন পাউডারের মিশ্রণ

তড়িৎ বিশ্লেষ্য

অ্যামোনিয়াম ক্লোরাইড (NH₄Cl) দ্রবণ

ডিপোলারাইজার

ম্যাঙ্গানিজ ডাইঅক্সাইড (MnO₂)

EMF

১.৫ ভোল্ট

অ্যানোডে বিক্রিয়া:

Zn → Zn²⁺ + 2e⁻

ক্যাথোডে বিক্রিয়া:

2NH₄⁺ + 2e⁻ + 2MnO₂ → Mn₂O₃ + 2NH₃ + H₂O

লেকল্যান্স কোষের সমস্যা হলো — এটি তরল NH₄Cl দ্রবণ ব্যবহার করত, তাই বহনযোগ্য ছিল না। পরবর্তীতে এই দ্রবণকে পেস্টে রূপান্তরিত করে শুষ্ক কোষ তৈরি করা হয়।


১০. শুষ্ক কোষ (Dry Cell) — বিস্তারিত

শুষ্ক কোষ হলো সবচেয়ে সুপরিচিত ও ব্যাপকভাবে ব্যবহৃত প্রাথমিক কোষ। টর্চলাইট, রিমোট কন্ট্রোল, ঘড়ি, খেলনা — প্রায় সর্বত্র এর প্রয়োগ। ১৮৮৬ সালে কার্ল গ্যাসনার লেকল্যান্স কোষের তরল উপাদানকে পেস্টে রূপান্তরিত করে এই বহনযোগ্য কোষ তৈরি করেন।

১০.১ গঠন (Construction)

বিষয়

ব্যাখ্যা

বাইরের পাত্র

জিংক (Zn) এর নলাকার পাত্র — যা একই সাথে অ্যানোড

কেন্দ্রীয় দণ্ড

কার্বন (C) দণ্ড — ক্যাথোড

কার্বনের চারপাশে

MnO₂ ও কার্বন গুঁড়ার মিশ্রণ — ডিপোলারাইজার

তড়িৎ বিশ্লেষ্য

NH₄Cl ও ZnCl₂ এর আর্দ্র পেস্ট

সিলিং

উপরে পিচ/অ্যাসফাল্ট দিয়ে বন্ধ করা

EMF

১.৫ ভোল্ট

ব্যবহার

টর্চ, রেডিও, রিমোট, খেলনা

১০.২ বিক্রিয়া

অ্যানোডে (জিংক পাত্র):

Zn → Zn²⁺ + 2e⁻

ক্যাথোডে (কার্বন দণ্ড + MnO₂):

2NH₄⁺ + 2MnO₂ + 2e⁻ → Mn₂O₃ + 2NH₃ + H₂O

১০.৩ সুবিধা ও অসুবিধা

সুবিধা:

সস্তা ও সহজলভ্য

বহনযোগ্য এবং হালকা

যেকোনো অবস্থানে ব্যবহারযোগ্য (পেস্ট তাই ছিটকে পড়ে না)

শেলফ লাইফ ভালো

অসুবিধা:

রিচার্জ করা যায় না

অনেকদিন না ব্যবহার করলে লিক করতে পারে (NH₄Cl ক্ষয়কারী)

কম তাপমাত্রায় কার্যকারিতা কমে

শক্তি ঘনত্ব ক্ষারীয় কোষের চেয়ে কম


১১. ক্ষারীয় কোষ ও বোতাম কোষ

১১.১ ক্ষারীয় কোষ (Alkaline Cell)

শুষ্ক কোষের উন্নত সংস্করণ। ১৯৫৯ সালে লুইস আরি (Lewis Urry) এই কোষ আবিষ্কার করেন। তড়িৎ বিশ্লেষ্য হিসেবে অম্লের পরিবর্তে ক্ষার ব্যবহৃত হয় বলে এর নাম ক্ষারীয় কোষ।

বিষয়

ব্যাখ্যা

অ্যানোড (−)

জিংক গুঁড়া (Zinc Powder)

ক্যাথোড (+)

ম্যাঙ্গানিজ ডাইঅক্সাইড (MnO₂)

তড়িৎ বিশ্লেষ্য

পটাশিয়াম হাইড্রক্সাইড (KOH)

EMF

১.৫ ভোল্ট

সাধারণ শুষ্ক কোষের তুলনায়

৩-৫ গুণ বেশি স্থায়ী, বেশি কারেন্ট দেয়

ব্যবহার

ডিজিটাল ক্যামেরা, ক্যাসেট প্লেয়ার, খেলনা

১১.২ পারদ কোষ (Mercury Cell)

বিষয়

ব্যাখ্যা

অ্যানোড

জিংক (Zn) — অ্যামালগামেটেড

ক্যাথোড

মার্কারিক অক্সাইড (HgO)

তড়িৎ বিশ্লেষ্য

KOH ও ZnO এর পেস্ট

EMF

১.৩৫ ভোল্ট (অত্যন্ত স্থির)

বিশেষত্ব

ভোল্টেজ পুরো জীবনচক্রে স্থির থাকে

ব্যবহার

হাতঘড়ি, হিয়ারিং এইড, পেসমেকার

সমস্যা

পারদ বিষাক্ত — পরিবেশের ক্ষতি

১১.৩ সিলভার অক্সাইড বোতাম কোষ

বিষয়

ব্যাখ্যা

অ্যানোড

জিংক

ক্যাথোড

সিলভার অক্সাইড (Ag₂O)

তড়িৎ বিশ্লেষ্য

KOH

EMF

১.৫৫ ভোল্ট

ব্যবহার

ছোট ইলেকট্রনিক যন্ত্রপাতি — ঘড়ি, ক্যালকুলেটর


১২. সীসা সঞ্চয়ী কোষ (Lead-Acid Accumulator)

ফরাসি বিজ্ঞানী গ্যাস্টন প্লান্টে (Gaston Planté) ১৮৫৯ সালে এই কোষ আবিষ্কার করেন। এটিই পৃথিবীর প্রথম রিচার্জযোগ্য (Secondary) ব্যাটারি। আজও বিশ্বব্যাপী মোটরযানের ব্যাটারি হিসেবে এটি প্রধান।

১২.১ গঠন

বিষয়

ব্যাখ্যা

আবিষ্কারক

গ্যাস্টন প্লান্টে (১৮৫৯)

ক্যাথোড (+)

সীসার ডাইঅক্সাইড (PbO₂) এর পাত — চকলেট-বাদামি

অ্যানোড (−)

বিশুদ্ধ সীসা (Pb) এর ছিদ্রযুক্ত পাত — ধূসর

তড়িৎ বিশ্লেষ্য

পাতলা সালফিউরিক অ্যাসিড (H₂SO₄), আপেক্ষিক গুরুত্ব ১.২৫-১.২৮

আধার

শক্ত রাবার বা পলিপ্রপিলিনের পাত্র

প্রতি কোষের EMF

২.০ ভোল্ট

গাড়ির ব্যাটারি

৬টি কোষ শ্রেণিতে যুক্ত = ১২ ভোল্ট

ট্রাক/বাস ব্যাটারি

১২টি কোষ = ২৪ ভোল্ট

১২.২ ডিসচার্জ বিক্রিয়া (কোষ ব্যবহারের সময়)

অ্যানোডে (Pb):

Pb + SO₄²⁻ → PbSO₄ + 2e⁻

ক্যাথোডে (PbO₂):

PbO₂ + 4H⁺ + SO₄²⁻ + 2e⁻ → PbSO₄ + 2H₂O

সামগ্রিক ডিসচার্জ:

Pb + PbO₂ + 2H₂SO₄ → 2PbSO₄ + 2H₂O

লক্ষ্য করুন — ডিসচার্জের সময় উভয় পাতে PbSO₄ জমা হয় এবং H₂SO₄ পাতলা হতে থাকে। এই পরিবর্তন থেকেই ব্যাটারির চার্জ অবস্থা নির্ণয় করা যায়।

১২.৩ চার্জিং বিক্রিয়া (পুনরায় চার্জের সময়)

বাইরে থেকে বিপরীত দিকে তড়িৎ প্রয়োগ করলে বিক্রিয়া উল্টে যায়:

2PbSO₄ + 2H₂O → Pb + PbO₂ + 2H₂SO₄

১২.৪ চার্জ অবস্থা নির্ণয়

সীসা ব্যাটারির চার্জ অবস্থা নির্ণয় করার সবচেয়ে সাধারণ উপায় — H₂SO₄ এর আপেক্ষিক গুরুত্ব (Specific Gravity) মাপা। এজন্য হাইড্রোমিটার (Hydrometer) নামক যন্ত্র ব্যবহৃত হয়।

বিষয়

ব্যাখ্যা

পূর্ণ চার্জ

১.২৮ - ১.৩০

৭৫% চার্জ

১.২২ - ১.২৫

৫০% চার্জ

১.১৮ - ১.২০

২৫% চার্জ

১.১৪ - ১.১৬

সম্পূর্ণ ডিসচার্জ

১.১০ - ১.১২

১২.৫ সুবিধা ও অসুবিধা

সুবিধা:

উচ্চ কারেন্ট সরবরাহ করতে পারে (Starting motor চালু করার জন্য)

রিচার্জযোগ্য — ৫০০-১০০০ বার চার্জ-ডিসচার্জ চক্র

সাশ্রয়ী — অন্যান্য রিচার্জযোগ্য কোষের তুলনায় কম দাম

নির্ভরযোগ্য প্রযুক্তি — ১৬০+ বছরের প্রমাণিত

অসুবিধা:

ভারী — সীসা ভারী ধাতু

শক্তি ঘনত্ব কম (Li-ion এর তুলনায়)

অ্যাসিড ক্ষরণের ঝুঁকি

সীসা ও অ্যাসিড উভয়ই পরিবেশ দূষণকারী


১৩. নিকেল-ক্যাডমিয়াম ও লিথিয়াম-আয়ন কোষ

১৩.১ নিকেল-ক্যাডমিয়াম কোষ (Ni-Cd)

বিষয়

ব্যাখ্যা

আবিষ্কারক

ওয়াল্ডমার জুনার (Waldemar Jungner), ১৮৯৯

ক্যাথোড (+)

নিকেল অক্সাইড হাইড্রক্সাইড (NiOOH)

অ্যানোড (−)

ক্যাডমিয়াম ধাতু (Cd)

তড়িৎ বিশ্লেষ্য

পটাশিয়াম হাইড্রক্সাইড (KOH)

EMF

১.২ ভোল্ট

চার্জ-ডিসচার্জ চক্র

১০০০+ বার

ব্যবহার

পুরোনো রিচার্জেবল ব্যাটারি, AA/AAA, পাওয়ার টুলস

সমস্যা

ক্যাডমিয়াম বিষাক্ত, মেমরি ইফেক্ট

১৩.২ লিথিয়াম-আয়ন কোষ (Li-ion)

আধুনিক ইলেকট্রনিক্সের প্রাণ। সনি (Sony) কোম্পানি ১৯৯১ সালে প্রথম বাণিজ্যিকভাবে এটি বাজারে আনে। ২০১৯ সালে এই ব্যাটারির উন্নতির জন্য জন গুডএনাফ, স্ট্যানলি হুইটিংহ্যাম, ও আকিরা ইয়োশিনো রসায়নে নোবেল পুরস্কার পান।

বিষয়

ব্যাখ্যা

ক্যাথোড (+)

লিথিয়াম কোবাল্ট অক্সাইড (LiCoO₂) বা LiFePO₄

অ্যানোড (−)

গ্রাফাইট (C) — যেখানে Li⁺ আয়ন প্রবেশ করে

তড়িৎ বিশ্লেষ্য

LiPF₆ অর্গানিক দ্রাবকে (এথিলিন কার্বনেট)

EMF

৩.৬ - ৩.৭ ভোল্ট

শক্তি ঘনত্ব

অত্যন্ত উচ্চ (Pb-acid এর ৪-৬ গুণ)

চার্জ-ডিসচার্জ

৫০০-২০০০ বার

ওজন

অত্যন্ত হালকা

ব্যবহার

মোবাইল, ল্যাপটপ, ট্যাবলেট, ইলেকট্রিক গাড়ি (Tesla)

Li-ion কোষের সাধারণ বিক্রিয়া (সরলীকৃত):

LiCoO₂ + C ⇌ Li(1-x)CoO₂ + Li(x)C

(চার্জের সময় লিথিয়াম আয়ন ক্যাথোড থেকে গ্রাফাইট অ্যানোডে যায়, ডিসচার্জে উল্টোটা হয়।)


১৪. জ্বালানি কোষ (Fuel Cell) ও সৌর কোষ

১৪.১ জ্বালানি কোষ

জ্বালানি কোষ এমন এক বিশেষ তড়িৎ কোষ যেখানে ক্রমাগত জ্বালানি (যেমন H₂) ও অক্সিডাইজার (O₂) সরবরাহ করে তড়িৎ উৎপাদন করা হয়। উইলিয়াম গ্রোভ (Sir William Grove) ১৮৩৯ সালে এর ধারণা দেন।

বিষয়

ব্যাখ্যা

জ্বালানি

হাইড্রোজেন (H₂)

অক্সিডাইজার

অক্সিজেন (O₂)

তড়িৎ বিশ্লেষ্য

PEM (Proton Exchange Membrane) বা KOH

উপজাত

পানি (H₂O) এবং তাপ

দক্ষতা

৬০% এর বেশি (সাধারণ ইঞ্জিন ৩০-৪০%)

প্রথম প্রধান ব্যবহার

NASA Apollo Mission (১৯৬০)

আধুনিক ব্যবহার

Toyota Mirai, হোন্ডা ক্ল্যারিটি (H₂ গাড়ি)

অ্যানোডে:

2H₂ → 4H⁺ + 4e⁻

ক্যাথোডে:

O₂ + 4H⁺ + 4e⁻ → 2H₂O

সামগ্রিক:

2H₂ + O₂ → 2H₂O + বিদ্যুৎ + তাপ

১৪.২ সৌর কোষ (Solar Cell)

সৌর কোষ প্রকৃতপক্ষে তড়িৎ-রাসায়নিক কোষ নয় — এটি একটি ফোটোভোল্টায়িক কোষ (Photovoltaic Cell)। সিলিকনের p-n জাংশনে আলো পড়লে ইলেকট্রন উদ্দীপ্ত হয় এবং তড়িৎ প্রবাহ তৈরি হয়। অর্থাৎ এতে আলোক শক্তি → তড়িৎ শক্তিতে রূপান্তর ঘটে।

বিষয়

ব্যাখ্যা

উপাদান

সিলিকন (Si) — p-n জাংশন

শক্তি রূপান্তর

আলোক শক্তি → তড়িৎ শক্তি

গড় দক্ষতা

১৫-২২% (বাণিজ্যিক)

প্রতি কোষের ভোল্টেজ

০.৫ - ০.৬ ভোল্ট

ব্যবহার

ক্যালকুলেটর, স্যাটেলাইট, সোলার প্যানেল


১৫. তড়িচ্চালক বল (EMF) ও অভ্যন্তরীণ রোধ

১৫.১ তড়িচ্চালক বল (EMF)

তড়িচ্চালক বল হলো — কোষের দুই প্রান্তের মধ্যে এমন বিভব পার্থক্য যা তখন বিদ্যমান থাকে যখন কোষ থেকে কোনো কারেন্ট নির্গত হচ্ছে না (বর্তনী খোলা অবস্থায়)। এর একক ভোল্ট (V)। এটিই কোষের সর্বোচ্চ সম্ভাব্য ভোল্টেজ।

সংজ্ঞা:

কোষের ১ কুলম্ব ধনাত্মক চার্জকে ঋণাত্মক প্রান্ত থেকে ধনাত্মক প্রান্তে স্থানান্তর করতে কোষ যে পরিমাণ কাজ করে, সেটিই EMF।

ε = W / Q (এখানে ε = EMF, W = কাজ, Q = চার্জ)

যেমন: ১.৫ V এর শুষ্ক কোষ অর্থ — কোষটি ১ কুলম্ব চার্জ স্থানান্তর করতে ১.৫ জুল কাজ করে।

১৫.২ অভ্যন্তরীণ রোধ (Internal Resistance, r)

কোষের তড়িৎ বিশ্লেষ্যের নিজস্ব একটি রোধ আছে — এটিই অভ্যন্তরীণ রোধ। প্রতিটি বাস্তব কোষে এটি বিদ্যমান। যে কোষের অভ্যন্তরীণ রোধ যত কম, সেটি তত ভালো কোষ।

বিষয়

ব্যাখ্যা

শুষ্ক কোষ (নতুন)

প্রায় ০.৫ ওহম

সীসা সঞ্চয়ী কোষ

প্রায় ০.০১ - ০.০৫ ওহম (খুব কম)

Li-ion (ভালো)

প্রায় ০.০৩ - ০.১ ওহম

ক্ষারীয় কোষ

প্রায় ০.১৫ - ০.৩ ওহম

১৫.৩ EMF বনাম টার্মিনাল ভোল্টেজ

যখন কোষ থেকে কারেন্ট নির্গত হয়, অভ্যন্তরীণ রোধে কিছু ভোল্টেজ পতন (Voltage Drop) ঘটে। ফলে বাইরে যে ভোল্টেজ পাওয়া যায় তা EMF-এর চেয়ে কম হয়। এটিকে টার্মিনাল ভোল্টেজ বলে।

V = ε − I·r (V = টার্মিনাল ভোল্টেজ, I = কারেন্ট, r = অভ্যন্তরীণ রোধ)

🎯 পরীক্ষার গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্ট

ε = EMF, যখন I = 0 (বর্তনী খোলা)। এটি কোষের একটি ধ্রুবক বৈশিষ্ট্য।

V = টার্মিনাল ভোল্টেজ, যখন I > 0 (কারেন্ট প্রবাহিত)। V সবসময় ε এর চেয়ে কম।

I = ε / (R + r) — এটি ওহমের সূত্রের সম্প্রসারিত রূপ।

অভ্যন্তরীণ রোধ যত কম, কোষ তত শক্তিশালী।


১৬. ফ্যারাডের তড়িৎ বিশ্লেষণের সূত্র

ব্রিটিশ বিজ্ঞানী মাইকেল ফ্যারাডে ১৮৩৪ সালে তড়িৎ বিশ্লেষণের দুটি মৌলিক সূত্র প্রতিষ্ঠা করেন। এই সূত্রগুলি তড়িৎ কোষ ও তড়িৎ বিশ্লেষণ উভয়েরই ভিত্তি।

১৬.১ ফ্যারাডের প্রথম সূত্র

তড়িৎ বিশ্লেষণে কোনো তড়িদ্দ্বারে নির্গত পদার্থের ভর সেই বিশ্লেষ্যের মধ্য দিয়ে প্রবাহিত আধানের সমানুপাতিক।

m ∝ Q বা m = Z·I·t (Z = তড়িৎ রাসায়নিক তুল্যাঙ্ক)

১৬.২ ফ্যারাডের দ্বিতীয় সূত্র

একই পরিমাণ আধান বিভিন্ন তড়িৎ বিশ্লেষ্যের মধ্য দিয়ে প্রবাহিত হলে নির্গত পদার্থসমূহের ভর তাদের রাসায়নিক তুল্যাঙ্কের সমানুপাতিক।

m₁/m₂ = E₁/E₂

১৬.৩ ফ্যারাডে ধ্রুবক

১ মোল ইলেকট্রনের আধান পরিমাণকে ফ্যারাডে ধ্রুবক বলে।

F = 96,485 কুলম্ব/মোল ≈ 96,500 C/mol


১৭. কোষের সমবায় (Series and Parallel)

১৭.১ শ্রেণি সমবায় (Series Combination)

যখন একাধিক কোষকে এমনভাবে যুক্ত করা হয় যে একটির ধনাত্মক প্রান্ত পরেরটির ঋণাত্মক প্রান্তের সাথে যুক্ত হয়, তাকে শ্রেণি সমবায় বলে।

বিষয়

ব্যাখ্যা

মোট EMF

ε_total = ε₁ + ε₂ + ε₃ + ... + ε_n

মোট অভ্যন্তরীণ রোধ

r_total = r₁ + r₂ + ... + r_n

মোট কারেন্ট

I = nε / (R + nr)

সুবিধা

উচ্চ ভোল্টেজ পাওয়া যায়

উদাহরণ

টর্চে ৩টি ১.৫V কোষ = ৪.৫V

গাড়ির ব্যাটারি

৬টি ২V কোষ = ১২V

১৭.২ সমান্তরাল সমবায় (Parallel Combination)

যখন সকল কোষের ধনাত্মক প্রান্তগুলো একসাথে এবং ঋণাত্মক প্রান্তগুলো একসাথে যুক্ত করা হয়, তাকে সমান্তরাল সমবায় বলে।

বিষয়

ব্যাখ্যা

মোট EMF

ε_total = ε (একই, যদি সব কোষ সমান হয়)

মোট অভ্যন্তরীণ রোধ

1/r_total = 1/r₁ + 1/r₂ + ... → r_total = r/n

মোট কারেন্ট

I = ε / (R + r/n)

সুবিধা

উচ্চ কারেন্ট পাওয়া যায়, ব্যাটারি বেশি সময় চলে

ব্যবহার

যখন কম ভোল্টেজে বেশি কারেন্ট দরকার


১৮. তড়িৎ কোষের ব্যবহার (Applications)

১৮.১ দৈনন্দিন ব্যবহার

টর্চলাইট, রেডিও, ঘড়ি — শুষ্ক কোষ ও ক্ষারীয় কোষ

মোবাইল ফোন, ল্যাপটপ, ট্যাবলেট — লিথিয়াম-আয়ন ব্যাটারি

গাড়ি, মোটরসাইকেল, ট্রাক — সীসা সঞ্চয়ী কোষ (Lead-Acid Battery)

শ্রবণ যন্ত্র, পেসমেকার — পারদ কোষ ও সিলভার অক্সাইড বোতাম কোষ

টিভি রিমোট, খেলনা — AA/AAA শুষ্ক কোষ

ইলেকট্রিক গাড়ি (Tesla, BYD) — লিথিয়াম-আয়ন প্যাক

সোলার প্যানেল সিস্টেম — সোলার সেল + লিথিয়াম-আয়ন স্টোরেজ

পাওয়ার ব্যাকআপ (UPS, IPS) — সীসা সঞ্চয়ী কোষ

১৮.২ শিল্প ও প্রযুক্তি ক্ষেত্রে

মহাকাশযান (NASA, ISRO) — জ্বালানি কোষ (H₂-O₂)

সাবমেরিন — সীসা সঞ্চয়ী কোষ ও Li-ion

টেলিকমিউনিকেশন সেল টাওয়ার — সীসা সঞ্চয়ী কোষ ব্যাকআপ

হাসপাতাল ইমার্জেন্সি পাওয়ার — Ni-Cd ও Pb-acid

ক্যামেরা ফ্ল্যাশ, লাইটিং সিস্টেম — ক্ষারীয় ও লিথিয়াম কোষ

ইলেক্ট্রোপ্লেটিং — তড়িৎ বিশ্লেষণ কোষ ব্যবহার


১৯. গুরুত্বপূর্ণ বিষয় (Key Takeaways)

⭐ অবশ্যই মনে রাখুন — দ্রুত রিভিশন ⭐

তড়িৎ কোষ: — রাসায়নিক শক্তিকে তড়িৎ শক্তিতে রূপান্তর করে

আবিষ্কারক: — আলেসান্দ্রো ভোল্টা (১৮০০)

প্রথম রিচার্জযোগ্য: — সীসা সঞ্চয়ী কোষ — গ্যাস্টন প্লান্টে (১৮৫৯)

প্রথম শিল্পমানের: — ড্যানিয়েল কোষ (১৮৩৬)

সরল ভোল্টীয় কোষের EMF: — ১.০৮ ভোল্ট

ড্যানিয়েল কোষের EMF: — ১.১ ভোল্ট

শুষ্ক/লেকল্যান্স/ক্ষারীয় কোষের EMF: — ১.৫ ভোল্ট

পারদ কোষের EMF: — ১.৩৫ ভোল্ট

সীসা সঞ্চয়ী কোষের EMF: — প্রতি কোষ ২ ভোল্ট

গাড়ির ব্যাটারি: — ৬টি কোষ × ২ ভোল্ট = ১২ ভোল্ট

Ni-Cd কোষের EMF: — ১.২ ভোল্ট

Li-ion কোষের EMF: — ৩.৬-৩.৭ ভোল্ট

অ্যানোডে: — জারণ (Oxidation) — ইলেকট্রন ছেড়ে দেয়

ক্যাথোডে: — বিজারণ (Reduction) — ইলেকট্রন গ্রহণ করে

ইলেকট্রন প্রবাহ: — অ্যানোড → ক্যাথোড (বাহ্যিক বর্তনীতে)

প্রচলিত কারেন্ট: — ক্যাথোড → অ্যানোড (বাহ্যিক বর্তনীতে)

পোলারাইজেশন: — ক্যাথোডে H₂ জমে — MnO₂ দিয়ে দূর করা হয়

স্থানীয় ক্রিয়া: — অমেধ্য Zn-এ — অ্যামালগামেশনে দূর হয়

লবণ সেতু: — KCl, KNO₃, NH₄NO₃ দ্রবণ — আয়ন প্রবাহ রক্ষা করে

শুষ্ক কোষের ডিপোলারাইজার: — MnO₂

সীসা ব্যাটারির ইলেক্ট্রোলাইট: — পাতলা H₂SO₄ (আপেক্ষিক গুরুত্ব ১.২৫)

চার্জ পরিমাপের যন্ত্র: — হাইড্রোমিটার (Hydrometer)

জ্বালানি কোষের উপজাত: — পানি (H₂O)

Li-ion ব্যাটারির নোবেল: — ২০১৯ — গুডএনাফ, হুইটিংহ্যাম, ইয়োশিনো

ফ্যারাডে ধ্রুবক: — ৯৬,৫০০ কুলম্ব/মোল

EMF সমীকরণ: — V = ε − Ir

শ্রেণি সমবায়: — ভোল্টেজ যোগ হয়

সমান্তরাল সমবায়: — কারেন্ট ক্ষমতা বাড়ে


২০. পরীক্ষার সম্ভাব্যতা (Exam Potential)

বিগত ২০ বছরের BCS, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, রাজশাহী, চট্টগ্রাম, BUET, MBBS, ও সরকারি চাকরি পরীক্ষার প্রশ্ন বিশ্লেষণ করে নিচের প্রবণতা পাওয়া গেছে:

গুরুত্ব

যে বিষয় থেকে সবচেয়ে বেশি আসে

টপিক

★★★★★

অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ

শুষ্ক কোষের EMF (১.৫V), উপাদান, ডিপোলারাইজার MnO₂

★★★★★

অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ

সীসা সঞ্চয়ী কোষের EMF (২V), গাড়ির ব্যাটারি (১২V), ইলেক্ট্রোলাইট H₂SO₄

★★★★★

অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ

অ্যানোডে অক্সিডেশন, ক্যাথোডে রিডাকশন

★★★★

খুব গুরুত্বপূর্ণ

ভোল্টা ও ড্যানিয়েলের আবিষ্কার সাল

★★★★

খুব গুরুত্বপূর্ণ

প্রাথমিক বনাম দ্বিতীয়ক কোষের পার্থক্য

★★★

গুরুত্বপূর্ণ

ড্যানিয়েল কোষ ও লবণ সেতু

★★★

গুরুত্বপূর্ণ

পোলারাইজেশন ও স্থানীয় ক্রিয়া

★★★

গুরুত্বপূর্ণ

Li-ion ব্যাটারি (আধুনিক প্রসঙ্গে)

★★

মাঝারি

জ্বালানি কোষ ও মহাকাশযানে ব্যবহার

★★

মাঝারি

EMF ও টার্মিনাল ভোল্টেজের পার্থক্য

★★

মাঝারি

শ্রেণি ও সমান্তরাল সমবায়

কম

ফ্যারাডের সূত্র (বিস্তারিত গণনা)

🎯 BCS-এ আসা প্রকৃত প্রশ্নের ধাঁচ

১. "শুষ্ক কোষে ব্যবহৃত ডিপোলারাইজারের নাম কী?" → MnO₂

২. "গাড়ির ব্যাটারিতে কোন এসিড ব্যবহার করা হয়?" → সালফিউরিক এসিড

৩. "নিষ্ক্রিয় কোষের EMF কত?" → ১.৫ ভোল্ট

৪. "কে ব্যাটারি আবিষ্কার করেন?" → আলেসান্দ্রো ভোল্টা

৫. "তড়িৎ কোষে কোন শক্তি কোন শক্তিতে রূপান্তরিত হয়?" → রাসায়নিক → তড়িৎ


২১. মনে রাখার ট্রিক ও নেমোনিক

💡 ট্রিক ১: অ্যানোড-ক্যাথোড মনে রাখার ইংরেজি সূত্র

"AN OX — RED CAT"

AN = ANode → OX = OXidation (জারণ)

RED = REDuction (বিজারণ) → CAT = CAThode (ক্যাথোড)

অর্থাৎ: অ্যানোডে অক্সিডেশন, ক্যাথোডে রিডাকশন।

বাংলায় ছন্দ: "অ্যানোডে অক্সি, ক্যাথোডে রিড — কখনো ভুলে যেও না সিড!"

💡 ট্রিক ২: কোষের EMF মনে রাখার ছন্দ

ভোল্টা শূন্য আট — ১.০৮ V (সরল ভোল্টীয়)

ড্যানি এক-দশ — ১.১ V (ড্যানিয়েল কোষ)

শুষ্ক দেড়ে চলে — ১.৫ V (শুষ্ক/ক্ষারীয়)

সীসা দুই বলে — ২.০ V (প্রতি সীসা কোষ)

Ni-Cd এক-দুই — ১.২ V

Li-আয়ন তিন-সাত — ৩.৭ V

💡 ট্রিক ৩: শুষ্ক কোষের চার উপাদান

C-Z-M-N

C = কার্বন দণ্ড (ক্যাথোড, ধনাত্মক)

Z = জিংক পাত্র (অ্যানোড, ঋণাত্মক)

M = MnO₂ (ম্যাঙ্গানিজ ডাইঅক্সাইড — ডিপোলারাইজার)

N = NH₄Cl (অ্যামোনিয়াম ক্লোরাইড — তড়িৎ বিশ্লেষ্য)

মনে রাখুন: "সিজমন" — শুষ্ক কোষের রহস্য চাবি!

💡 ট্রিক ৪: গাড়ির ব্যাটারি (সীসা কোষ)

৬ × ২ = ১২

৬টি কোষ, প্রতিটি ২ ভোল্ট = মোট ১২ ভোল্ট

ক্যাথোড = PbO₂ (P-O-S-itive ভাবুন)

অ্যানোড = Pb (Plain Lead — নেগেটিভ)

চার্জ কমলে → H₂SO₄ পাতলা → আপেক্ষিক গুরুত্ব কমে

ছন্দ: "সীসা দুই, ছয়ে বারো — গাড়ির ব্যাটারি সবার পারো"

💡 ট্রিক ৫: পোলারাইজেশন বনাম স্থানীয় ক্রিয়া

'P for Polarization, P for Plus (cathode)'

পোলারাইজেশন → ক্যাথোডে (+) → H₂ জমে

'L for Local action, L for negative (anode)' — উল্টো ভাবে

স্থানীয় ক্রিয়া → অ্যানোডে (−) → অমেধ্য Zn এ

এক বাক্য: "পোলা ক্যাথোডে, স্থানীয় অ্যানোডে"

💡 ট্রিক ৬: আবিষ্কারক ও সাল মনে রাখা

"ভো-ড্যা-প্লা" — ০০ ৩৬ ৫৯

ভো = ভোল্টা (১৮০০) — প্রথম তড়িৎ কোষ

ড্যা = ড্যানিয়েল (১৮৩৬) — প্রথম শিল্পমানের

প্লা = প্লান্টে (১৮৫৯) — প্রথম রিচার্জেবল

ছন্দ: "ভো শূন্য, ড্যা ছত্রিশ, প্লা ঊনষাট — তিন বিজ্ঞানীর তিন কেরামতি জোড়াট!"

💡 ট্রিক ৭: প্রাথমিক বনাম দ্বিতীয়ক

প্রাথমিক = 'P for Permanent damage' (একবার নষ্ট = চিরকাল নষ্ট)

দ্বিতীয়ক = 'S for Second chance' (দ্বিতীয় সুযোগ = রিচার্জ)

প্রাথমিক: শুষ্ক, ভোল্টা, ড্যানিয়েল, পারদ, ক্ষারীয়

দ্বিতীয়ক: সীসা, Ni-Cd, Ni-MH, Li-ion, Li-Po


২২. বিশেষ নোট (Special Notes)

📌 নোট ১: ভোল্টা কেন রাসায়নিক কোষ বুঝতে পারেননি?

ভোল্টা ১৮০০ সালে প্রথম কোষ আবিষ্কার করলেও তিনি ভেবেছিলেন এটি অফুরন্ত শক্তির উৎস।

তিনি বুঝতে পারেননি যে তড়িৎ উৎপন্ন হচ্ছে রাসায়নিক বিক্রিয়ার কারণে।

১৮৩৪ সালে মাইকেল ফ্যারাডে প্রমাণ করেন — কোষের তড়িৎ আসে রাসায়নিক বিক্রিয়া থেকে।

তাই বলা হয় — ভোল্টা আবিষ্কার করেছেন, ফ্যারাডে ব্যাখ্যা দিয়েছেন।

📌 নোট ২: 'ব্যাটারি' শব্দের উৎপত্তি

১৭৪৮ সালে বেঞ্জামিন ফ্র্যাঙ্কলিন প্রথম "Battery" শব্দ ব্যবহার করেন।

তখন এটি ছিল সামরিক পরিভাষা — সারিবদ্ধ কামান (Battery of Cannons)।

ফ্র্যাঙ্কলিন একাধিক লেইডেন জারকে "ব্যাটারি" বলেছিলেন।

অর্থাৎ "ব্যাটারি" মানে মূলত একাধিক কোষের সংগ্রহ। কিন্তু আজকে একটি কোষকেও ব্যাটারি বলা হয়।

📌 নোট ৩: কেন গাড়িতে ১২ ভোল্ট?

গাড়ির ইঞ্জিন স্টার্ট করতে স্টার্টার মোটরের প্রচুর কারেন্ট দরকার।

৬ ভোল্ট হলে কারেন্ট খুব বেশি হয়ে তার পুড়ে যেত।

২৪ ভোল্ট হলে অপ্রয়োজনীয় ভোল্টেজ — বিদ্যুৎস্পর্শের ঝুঁকি।

১২ ভোল্ট = ৬ × ২V = নিরাপদ ও কার্যকর — তাই এটি স্ট্যান্ডার্ড।

ট্রাক/বাসে ২৪ ভোল্ট ব্যবহৃত হয় বেশি ক্ষমতার জন্য।

📌 নোট ৪: লিথিয়াম কেন ব্যাটারির জন্য আদর্শ?

লিথিয়াম সবচেয়ে হালকা ধাতু (পারমাণবিক সংখ্যা ৩)।

লিথিয়ামের আদর্শ বিজারণ বিভব সবচেয়ে কম (−৩.০৪ V) — তাই উচ্চ EMF দেয়।

এই দুই বৈশিষ্ট্যের কারণে লি-আয়ন ব্যাটারি হালকা ও উচ্চ শক্তি ঘনত্বের।

তবে লিথিয়াম জলে বিস্ফোরিত হয় — তাই অর্গানিক ইলেক্ট্রোলাইট ব্যবহার করা হয়।

📌 নোট ৫: ফোন ব্যাটারি ফোলা কেন?

Li-ion ব্যাটারিতে অতিরিক্ত গরম বা অতিচার্জে গ্যাস উৎপন্ন হয়।

এই গ্যাস ব্যাটারির ভেতরে চাপ বাড়িয়ে ফাঁপিয়ে দেয়।

ফোলা ব্যাটারি ব্যবহার করা বিপজ্জনক — বিস্ফোরিত হতে পারে।

তাই অরিজিনাল চার্জার ও ১০০% এর আগে চার্জ খোলার পরামর্শ।

📌 নোট ৬: জ্বালানি কোষ কেন বিশেষ?

সাধারণ কোষে সীমিত রাসায়নিক শক্তি সংরক্ষিত থাকে — শেষ হলে আর কারেন্ট পাওয়া যায় না।

জ্বালানি কোষে ক্রমাগত H₂ ও O₂ সরবরাহ করলে অসীমকাল চলতে পারে।

উপজাত: শুধুমাত্র পানি (H₂O) — সম্পূর্ণ পরিবেশবান্ধব।

১৯৬৯ সালে চাঁদে অবতরণকারী Apollo 11 মিশনে জ্বালানি কোষ ব্যবহৃত হয়।

ভবিষ্যতে গাড়ির জ্বালানি হিসেবে H₂ ফুয়েল সেল গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে।


২৩. সাধারণ ভুল ও সতর্কতা

⚠️ পরীক্ষার হলে যে ভুলগুলো শিক্ষার্থীরা প্রায়ই করে

❌ ভুল: অ্যানোড সর্বদা ধনাত্মক।

✅ সঠিক: গ্যাল্ভানিক কোষে অ্যানোড = ঋণাত্মক, তড়িৎ বিশ্লেষণ কোষে = ধনাত্মক।

❌ ভুল: ক্যাথোডে অক্সিডেশন ঘটে।

✅ সঠিক: ক্যাথোডে সর্বদা বিজারণ (রিডাকশন) ঘটে — এই নিয়ম উভয় কোষেই একই।

❌ ভুল: শুষ্ক কোষের EMF ২ ভোল্ট।

✅ সঠিক: শুষ্ক কোষের EMF ১.৫ ভোল্ট। ২ ভোল্ট হলো সীসা সঞ্চয়ী কোষের।

❌ ভুল: লবণ সেতু ইলেকট্রন পরিবহন করে।

✅ সঠিক: লবণ সেতু আয়ন (আয়নের গতি) পরিবহন করে — ইলেকট্রন বাহিরের তারে যায়।

❌ ভুল: তড়িৎ বিশ্লেষণ = তড়িৎ কোষ।

✅ সঠিক: ভিন্ন প্রক্রিয়া — তড়িৎ কোষে রাসায়নিক → তড়িৎ, তড়িৎ বিশ্লেষণে তড়িৎ → রাসায়নিক।

❌ ভুল: ড্যানিয়েল কোষে পোলারাইজেশন হয়।

✅ সঠিক: ড্যানিয়েল কোষে পোলারাইজেশন হয় না — এটাই ভোল্টীয় কোষের চেয়ে সুবিধা।

❌ ভুল: জ্বালানি কোষ ও সৌর কোষ একই।

✅ সঠিক: জ্বালানি কোষ → রাসায়নিক শক্তি, সৌর কোষ → আলোক শক্তি।

❌ ভুল: টার্মিনাল ভোল্টেজ EMF থেকে বেশি।

✅ সঠিক: V সবসময় ε থেকে কম: V = ε − Ir


২৪. বিগত বছরের প্রশ্ন (Previous Year Questions)

নিম্নে BCS, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, রাজশাহী, চট্টগ্রাম, BUET, MBBS, সরকারি ব্যাংক, ও শিক্ষক নিবন্ধন পরীক্ষার বিগত ২০ বছরের প্রশ্নের ধাঁচে ৫০+টি প্রশ্ন-উত্তর দেওয়া হলো:

ক) মৌলিক ধারণা

প্রশ্ন: তড়িৎ কোষে কোন শক্তি কোন শক্তিতে রূপান্তরিত হয়?

উত্তর: রাসায়নিক শক্তি (Chemical Energy) তড়িৎ শক্তিতে (Electrical Energy) রূপান্তরিত হয়।

প্রশ্ন: তড়িৎ কোষের মূল নীতি কী?

উত্তর: জারণ-বিজারণ বিক্রিয়া (Redox Reaction)।

প্রশ্ন: অ্যানোডে কী ঘটে?

উত্তর: জারণ (Oxidation) — ইলেকট্রন নির্গত হয়।

প্রশ্ন: ক্যাথোডে কী ঘটে?

উত্তর: বিজারণ (Reduction) — ইলেকট্রন গৃহীত হয়।

প্রশ্ন: বহিঃস্থ বর্তনীতে ইলেকট্রন কোন দিকে প্রবাহিত হয়?

উত্তর: অ্যানোড (−) থেকে ক্যাথোড (+)।

প্রশ্ন: প্রচলিত কারেন্ট কোন দিকে যায়?

উত্তর: ক্যাথোড (+) থেকে অ্যানোড (−)।

খ) ভোল্টা ও সরল ভোল্টীয় কোষ

প্রশ্ন: প্রথম তড়িৎ কোষ কে আবিষ্কার করেন?

উত্তর: আলেসান্দ্রো ভোল্টা (Alessandro Volta), ১৮০০ সালে।

প্রশ্ন: ভোল্টীয় কোষের তড়িচ্চালক বল কত?

উত্তর: ১.০৮ ভোল্ট।

প্রশ্ন: সরল ভোল্টীয় কোষে কী কী উপাদান থাকে?

উত্তর: জিংক (−), কপার (+), ও তনু সালফিউরিক অ্যাসিড।

প্রশ্ন: সরল ভোল্টীয় কোষের দুটি ত্রুটি কী?

উত্তর: (১) পোলারাইজেশন (২) স্থানীয় ক্রিয়া।

গ) পোলারাইজেশন ও স্থানীয় ক্রিয়া

প্রশ্ন: পোলারাইজেশন কী?

উত্তর: ভোল্টীয় কোষের ক্যাথোডে H₂ গ্যাস জমে EMF কমে যাওয়ার ঘটনা।

প্রশ্ন: পোলারাইজেশন কোথায় ঘটে?

উত্তর: ক্যাথোডে (ধনাত্মক প্রান্তে)।

প্রশ্ন: পোলারাইজেশন দূর করার পদার্থকে কী বলে?

উত্তর: ডিপোলারাইজার (Depolarizer)।

প্রশ্ন: শুষ্ক কোষের ডিপোলারাইজার কী?

উত্তর: ম্যাঙ্গানিজ ডাইঅক্সাইড (MnO₂)।

প্রশ্ন: স্থানীয় ক্রিয়া কী?

উত্তর: অমেধ্য জিংকে ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র স্থানীয় কোষ গঠিত হয়ে জিংক ক্ষয় হওয়ার ঘটনা।

প্রশ্ন: স্থানীয় ক্রিয়া দূর করার উপায় কী?

উত্তর: জিংকে পারদ লেপ দেওয়া বা অ্যামালগামেশন (Amalgamation)।

ঘ) ড্যানিয়েল কোষ

প্রশ্ন: ড্যানিয়েল কোষ কে আবিষ্কার করেন?

উত্তর: জন ফ্রেডেরিক ড্যানিয়েল (১৮৩৬ সালে)।

প্রশ্ন: ড্যানিয়েল কোষের EMF কত?

উত্তর: ১.১ ভোল্ট।

প্রশ্ন: ড্যানিয়েল কোষে কোন তড়িৎ বিশ্লেষ্য ব্যবহৃত হয়?

উত্তর: জিংক সালফেট (ZnSO₄) ও কপার সালফেট (CuSO₄)।

প্রশ্ন: লবণ সেতুর কাজ কী?

উত্তর: দুই অর্ধ-কোষের মধ্যে আয়ন প্রবাহ বজায় রেখে বৈদ্যুতিক নিরপেক্ষতা রক্ষা করা।

প্রশ্ন: লবণ সেতুতে কী থাকে?

উত্তর: KCl, KNO₃ বা NH₄NO₃ এর দ্রবণে ভেজানো অ্যাগার জেলি।

প্রশ্ন: ড্যানিয়েল কোষ প্রথম কোথায় ব্যাপকভাবে ব্যবহৃত হয়েছিল?

উত্তর: বৈদ্যুতিক টেলিগ্রাফ নেটওয়ার্কে।

ঙ) শুষ্ক কোষ

প্রশ্ন: শুষ্ক কোষের EMF কত?

উত্তর: ১.৫ ভোল্ট।

প্রশ্ন: শুষ্ক কোষের ক্যাথোড কী?

উত্তর: কার্বন (C) দণ্ড।

প্রশ্ন: শুষ্ক কোষের অ্যানোড কী?

উত্তর: জিংক (Zn) পাত্র।

প্রশ্ন: শুষ্ক কোষে কোন তড়িৎ বিশ্লেষ্য ব্যবহৃত হয়?

উত্তর: অ্যামোনিয়াম ক্লোরাইড (NH₄Cl) ও জিংক ক্লোরাইডের পেস্ট।

প্রশ্ন: শুষ্ক কোষের আবিষ্কারক কে?

উত্তর: জর্জ লেকল্যান্স (পদ্ধতি) ও কার্ল গ্যাসনার (বাণিজ্যিক রূপ)।

চ) সীসা সঞ্চয়ী কোষ

প্রশ্ন: সীসা সঞ্চয়ী কোষ কে আবিষ্কার করেন?

উত্তর: গ্যাস্টন প্লান্টে (Gaston Planté), ১৮৫৯ সালে।

প্রশ্ন: সীসা সঞ্চয়ী কোষের প্রতিটি কোষের EMF কত?

উত্তর: ২.০ ভোল্ট।

প্রশ্ন: গাড়ির ব্যাটারির মোট ভোল্টেজ কত?

উত্তর: ১২ ভোল্ট (৬টি কোষ × ২V)।

প্রশ্ন: সীসা সঞ্চয়ী কোষের ক্যাথোড কী?

উত্তর: সীসার ডাইঅক্সাইড (PbO₂)।

প্রশ্ন: সীসা সঞ্চয়ী কোষের অ্যানোড কী?

উত্তর: বিশুদ্ধ সীসা (Pb)।

প্রশ্ন: গাড়ির ব্যাটারিতে কোন এসিড ব্যবহৃত হয়?

উত্তর: পাতলা সালফিউরিক অ্যাসিড (H₂SO₄)।

প্রশ্ন: সীসা ব্যাটারির চার্জ অবস্থা কোন যন্ত্র দিয়ে মাপা হয়?

উত্তর: হাইড্রোমিটার (Hydrometer)।

প্রশ্ন: পূর্ণ চার্জ অবস্থায় H₂SO₄ এর আপেক্ষিক গুরুত্ব কত?

উত্তর: প্রায় ১.২৮ - ১.৩০।

প্রশ্ন: ডিসচার্জ অবস্থায় উভয় পাতে কী জমা হয়?

উত্তর: সীসা সালফেট (PbSO₄)।

ছ) আধুনিক কোষ ও Li-ion

প্রশ্ন: নিকেল-ক্যাডমিয়াম কোষের EMF কত?

উত্তর: ১.২ ভোল্ট।

প্রশ্ন: লিথিয়াম-আয়ন কোষের EMF কত?

উত্তর: ৩.৬ - ৩.৭ ভোল্ট।

প্রশ্ন: মোবাইল ফোনে কোন ব্যাটারি ব্যবহৃত হয়?

উত্তর: লিথিয়াম-আয়ন (Li-ion) ব্যাটারি।

প্রশ্ন: Li-ion ব্যাটারি প্রথম বাণিজ্যিকভাবে কে বাজারে আনে?

উত্তর: সনি (Sony) কোম্পানি, ১৯৯১ সালে।

প্রশ্ন: Li-ion ব্যাটারির জন্য নোবেল পুরস্কার কে কে পান?

উত্তর: জন গুডএনাফ, স্ট্যানলি হুইটিংহ্যাম, ও আকিরা ইয়োশিনো (২০১৯)।

প্রশ্ন: পারদ কোষের EMF কত?

উত্তর: ১.৩৫ ভোল্ট।

প্রশ্ন: পারদ কোষ কোথায় ব্যবহৃত হয়?

উত্তর: হাতঘড়ি, পেসমেকার, শ্রবণযন্ত্রে।

জ) জ্বালানি কোষ ও সৌর কোষ

প্রশ্ন: জ্বালানি কোষে কী জ্বালানি ব্যবহৃত হয়?

উত্তর: হাইড্রোজেন (H₂) ও অক্সিজেন (O₂)।

প্রশ্ন: জ্বালানি কোষের উপজাত কী?

উত্তর: পানি (H₂O) ও তাপ।

প্রশ্ন: মহাকাশযানে কোন তড়িৎ কোষ ব্যবহৃত হয়?

উত্তর: হাইড্রোজেন-অক্সিজেন জ্বালানি কোষ।

প্রশ্ন: সৌর কোষে কোন পদার্থ ব্যবহৃত হয়?

উত্তর: সিলিকন (Si) — p-n জাংশন।

প্রশ্ন: সৌর কোষে কোন শক্তি রূপান্তরিত হয়?

উত্তর: আলোক শক্তি (Light Energy) তড়িৎ শক্তিতে।

ঝ) EMF ও বিবিধ

প্রশ্ন: EMF এর একক কী?

উত্তর: ভোল্ট (Volt)।

প্রশ্ন: কোষের অভ্যন্তরীণ রোধের একক কী?

উত্তর: ওহম (Ω)।

প্রশ্ন: টার্মিনাল ভোল্টেজ ও EMF এর সম্পর্ক?

উত্তর: V = ε − Ir (যেখানে I = কারেন্ট, r = অভ্যন্তরীণ রোধ)।

প্রশ্ন: ফ্যারাডে ধ্রুবকের মান কত?

উত্তর: ৯৬,৫০০ কুলম্ব/মোল।

প্রশ্ন: শ্রেণি সমবায়ে n সংখ্যক কোষের মোট EMF কত?

উত্তর: ε_total = n × ε (প্রতিটি কোষ একই হলে)।

প্রশ্ন: সমান্তরাল সমবায়ে মোট EMF কত?

উত্তর: ε_total = ε (সমান কোষ হলে — পরিবর্তন হয় না)।

প্রশ্ন: কোষে সঞ্চিত মোট চার্জের একক?

উত্তর: অ্যাম্পিয়ার-আওয়ার (Ah) বা কুলম্ব।

প্রশ্ন: কে "ব্যাটারি" শব্দটি প্রথম ব্যবহার করেন?

উত্তর: বেঞ্জামিন ফ্র্যাঙ্কলিন (১৭৪৮)।

প্রশ্ন: তড়িৎ বিশ্লেষণের সূত্র কে আবিষ্কার করেন?

উত্তর: মাইকেল ফ্যারাডে (১৮৩৪)।


২৫. দ্রুত রিভিশন চার্ট (Quick Reference)

📊 সব কোষের তুলনামূলক সারণি 📊

কোষের নাম

EMF

ধনাত্মক (+)

ঋণাত্মক (−)

তড়িৎ বিশ্লেষ্য

ধরন/ব্যবহার

সরল ভোল্টীয়

১.০৮V

কপার (Cu)

জিংক (Zn)

তনু H₂SO₄

প্রাথমিক, ঐতিহাসিক

ড্যানিয়েল

১.১V

কপার (Cu)

জিংক (Zn)

ZnSO₄ ও CuSO₄

প্রাথমিক, টেলিগ্রাফ

লেকল্যান্স

১.৫V

কার্বন (C)

জিংক (Zn)

NH₄Cl দ্রবণ

প্রাথমিক, পূর্বসূরি

শুষ্ক কোষ

১.৫V

কার্বন (C)

জিংক (Zn)

NH₄Cl পেস্ট

প্রাথমিক, টর্চ-রিমোট

ক্ষারীয় কোষ

১.৫V

MnO₂

Zn গুঁড়া

KOH

প্রাথমিক, ডিজি ক্যামেরা

পারদ কোষ

১.৩৫V

HgO

Zn (অ্যামালগ্রাম)

KOH পেস্ট

প্রাথমিক, ঘড়ি

সিলভার অক্সাইড

১.৫৫V

Ag₂O

Zn

KOH

বোতাম কোষ, ঘড়ি

সীসা সঞ্চয়ী

২.০V

PbO₂

Pb

H₂SO₄ (পাতলা)

দ্বিতীয়ক, গাড়ি

Ni-Cd

১.২V

NiOOH

Cd

KOH

দ্বিতীয়ক, পাওয়ার টুল

Ni-MH

১.২V

NiOOH

Metal Hydride

KOH

দ্বিতীয়ক, AA রিচার্জ

Li-ion

৩.৭V

LiCoO₂

গ্রাফাইট

LiPF₆ অর্গানিক

দ্বিতীয়ক, মোবাইল

জ্বালানি কোষ

১.২৩V

O₂

H₂

PEM/KOH

ক্রমাগত, মহাকাশযান

সৌর কোষ

০.৫-০.৬V

n-Si

p-Si

—(p-n জাংশন)

ফোটোভোল্টায়িক


২৬. আবিষ্কারক ও সাল (Inventor Reference)

আবিষ্কার

আবিষ্কারক

সাল

প্রথম তড়িৎ কোষ (ভোল্টায়িক পাইল)

আলেসান্দ্রো ভোল্টা

১৮০০

তড়িৎ বিশ্লেষণের সূত্র

মাইকেল ফ্যারাডে

১৮৩৪

ড্যানিয়েল কোষ

জন ফ্রেডেরিক ড্যানিয়েল

১৮৩৬

জ্বালানি কোষের ধারণা

স্যার উইলিয়াম গ্রোভ

১৮৩৯

সীসা সঞ্চয়ী কোষ

গ্যাস্টন প্লান্টে

১৮৫৯

লেকল্যান্স কোষ

জর্জ লেকল্যান্স

১৮৬৬

বাণিজ্যিক শুষ্ক কোষ

কার্ল গ্যাসনার

১৮৮৬

নিকেল-ক্যাডমিয়াম কোষ

ওয়াল্ডমার জুনার

১৮৯৯

ক্ষারীয় ব্যাটারি

লুইস আরি

১৯৫৯

লিথিয়াম-আয়ন (বাণিজ্যিক)

সনি কোম্পানি

১৯৯১

Li-ion এর জন্য নোবেল পুরস্কার

গুডএনাফ, হুইটিংহ্যাম, ইয়োশিনো

২০১৯

"ব্যাটারি" শব্দের প্রথম ব্যবহার

বেঞ্জামিন ফ্র্যাঙ্কলিন

১৭৪৮

বিদ্যুৎ আবিষ্কার (স্থির)

উইলিয়াম গিলবার্ট

১৬০০

গ্যাল্ভানোমিটার

আঁদ্রে মারি অ্যাম্পিয়ার

১৮২০

ডায়নামো (যান্ত্রিক → তড়িৎ)

মাইকেল ফ্যারাডে

১৮৩১

⚡ অধ্যায় সমাপ্ত ⚡

"যে ছাত্র এই অধ্যায়ের সব ট্রিক ও Q&A আত্মস্থ করতে পারবে — BCS তড়িৎ কোষ অংশে তার ১০০% নম্বর প্রায় নিশ্চিত।"

📚 বিজ্ঞান মাস্টার সিরিজ — তড়িৎ কোষ অধ্যায় 📚

BCS Preliminary ● University Admission ● Govt. Job Preparation

পৃষ্ঠা /

Review this chapter

You Can Also Read

Chapters closely related to the one you are reading now.

তড়িৎ চৌম্বক

No reviews
0 students
Read chapter

ট্রান্সফরমার

No reviews
0 students
Read chapter

তরঙ্গ এবং শব্দ

No reviews
0 students
Read chapter

তাপ ও তাপ গতিবিদ্যা

No reviews
0 students
Read chapter

Most Read by Students

Popular picks getting the strongest student traffic right now.

জৈব রসায়ন (Organic Chemistry)

No reviews
1 student
Read chapter

পরিবেশ রসায়ন (Environmental Chemistry)

No reviews
1 student
Read chapter

পরিমাণগত রসায়ন (Quantitative Chemistry)

No reviews
1 student
Read chapter

অসহযোগ আন্দোলন (মার্চ ১৯৭১)

No reviews
1 student
Read chapter

এক্সক্লুসিভ ইকোনমিক জোন (EEZ)

No reviews
1 student
Read chapter

কৃষিজ সম্পদ

No reviews
1 student
Read chapter

Others Who Read This Also Read

Behavior-based suggestions from student reading patterns where available.

তড়িৎ চৌম্বক

No reviews
0 students
Read chapter

ট্রান্সফরমার

No reviews
0 students
Read chapter

তরঙ্গ এবং শব্দ

No reviews
0 students
Read chapter

তাপ ও তাপ গতিবিদ্যা

No reviews
0 students
Read chapter

Best Reviewed

Chapters earning the strongest student feedback.

তড়িৎ চৌম্বক

No reviews
0 students
Read chapter

ট্রান্সফরমার

No reviews
0 students
Read chapter

তরঙ্গ এবং শব্দ

No reviews
0 students
Read chapter

তাপ ও তাপ গতিবিদ্যা

No reviews
0 students
Read chapter

Course Suggestions

Want a more guided path after this chapter? These courses are the closest fit.

Browse all courses
Learner fit৳1,999

Bangla

Bangla Language Mastery

Popular with BCS learners who want guided study.

6 lessons8.5h4.9 (186)1.3K students

By Sadia Rahman

View course
Learner fit৳2,999

Platform Building

Teacher Marketplace Blueprint

Popular with BCS learners who want guided study.

5 lessons6.8h4.9 (28)410 students

By Sadia Rahman

View course
FreeFree

English

Admission English Playbook

Free guided course with lessons you can jump into anytime.

4 lessons4.2h4.8 (91)2.8K students

By Rayan Akter

View course