কম্পিউটার পেরিফেরালস
Computer Peripherals
সারসংক্ষেপ
পেরিফেরাল ডিভাইস হলো কম্পিউটারের সঙ্গে যুক্ত সেই সব বহিরাগত যন্ত্রপাতি, যেগুলো কেন্দ্রীয় প্রসেসিং ইউনিট
(CPU) ও প্রধান মেমোরির বাইরে থেকে ডেটা ইনপুট, আউটপুট, সংরক্ষণ ও স্থানান্তরের কাজ সম্পাদন করে। এই অধ্যায়ে পেরিফেরালের সংজ্ঞা ও শ্রেণিবিভাগ, প্রতিটি প্রধান ইনপুট, আউটপুট ও মিশ্র ডিভাইসের গঠন ও কাজ, প্রিন্টার ও মনিটরের শ্রেণিবিভাগ, স্টোরেজ ডিভাইসের পদানুক্রম, প্রচলিত পোর্ট ও ইন্টারফেস, পরিমাপ ও মান
(DPI, রেজল্যুশন, রিফ্রেশ রেট) এবং বাংলাদেশের প্রেক্ষাপট বিস্তারিতভাবে আলোচনা করা হয়েছে। BCS,
ব্যাংক জব ও বিশ্ববিদ্যালয় ভর্তি পরীক্ষায় এই অধ্যায় থেকে প্রতিবছর একাধিক প্রশ্ন পুনরাবৃত্ত হয়।
প্রেক্ষাপট আলোচনা
একটি কম্পিউটার সিস্টেমের কাজ সম্পন্ন করতে কেবল সিপিইউ ও র্যামই যথেষ্ট নয়। ব্যবহারকারীর সঙ্গে যোগাযোগ স্থাপন, তথ্য গ্রহণ, ফলাফল প্রদর্শন এবং দীর্ঘস্থায়ী সংরক্ষণের জন্য অতিরিক্ত হার্ডওয়্যার যন্ত্রপাতি প্রয়োজন হয়। এই অতিরিক্ত যন্ত্রপাতিগুলোকেই পেরিফেরাল ডিভাইস
(Peripheral Device) বলা হয়। গ্রীক উপসর্গ
'peri' অর্থ চারপাশ এবং
'pherein' অর্থ বহন করা; অর্থাৎ যেসব যন্ত্র সিপিইউ-এর চারপাশে থেকে তথ্য আদান-প্রদান করে, সেগুলোই পেরিফেরাল।
পেরিফেরাল প্রযুক্তির বিবর্তন ঘটে কম্পিউটার শিল্পের অগ্রগতির সঙ্গে সঙ্গতি রেখে। ১৮৬৮ সালে
Christopher Latham Sholes টাইপরাইটার উদ্ভাবন করেন, যা পরবর্তীতে আধুনিক
QWERTY কীবোর্ডের ভিত্তি হয়। ১৯৬৪ সালে
Stanford Research Institute-এর Douglas Engelbart প্রথম কম্পিউটার মাউস তৈরি করেন, যা ১৯৮৪ সালে
Apple Macintosh-এর মাধ্যমে গণমানুষের কাছে পৌঁছায়। ১৯৭০-এর দশকে প্রথম ডট ম্যাট্রিক্স প্রিন্টার এবং ১৯৭১ সালে Gary
Starkweather Xerox PARC-এ প্রথম লেজার প্রিন্টার তৈরি করেন।
ডিসপ্লে প্রযুক্তিতেও বিপ্লব ঘটে। প্রথম দিকের কম্পিউটারে CRT
(Cathode Ray Tube) মনিটর ব্যবহৃত হতো, যা পরে LCD
(Liquid Crystal Display), LED (Light Emitting Diode), এবং সর্বশেষ OLED
(Organic LED) ও QLED-তে রূপান্তরিত হয়েছে। স্টোরেজে চৌম্বকীয় টেপ থেকে ফ্লপি ডিস্ক, হার্ডডিস্ক (HDD),
সলিড স্টেট ড্রাইভ
(SSD), এবং বর্তমানে NVMe
SSD ও ক্লাউড স্টোরেজ পর্যন্ত পথচলা ক্রমবিকাশের সাক্ষী।
আধুনিক যুগে USB
(Universal Serial Bus) ইন্টারফেস ১৯৯৬ সালে চালু হওয়ার পর পেরিফেরাল সংযোগ সহজ হয়ে যায়। USB
1.0 থেকে শুরু করে বর্তমানের USB4
(40 Gbps) এবং Thunderbolt 4 পেরিফেরাল ডেটা ট্রান্সফারে নতুন মাত্রা যোগ করেছে। স্মার্টফোন, ট্যাবলেট ও IoT ডিভাইসের যুগে অনেক পেরিফেরাল এখন তারবিহীনভাবে কাজ করে:
Bluetooth কীবোর্ড, Wi-Fi প্রিন্টার, ওয়্যারলেস হেডফোন ইত্যাদি।
সংজ্ঞা বক্স
|
পেরিফেরাল ডিভাইস
(Peripheral Device) যেসব ইলেকট্রনিক হার্ডওয়্যার সরাসরি কম্পিউটারের সঙ্গে সংযুক্ত থেকে ডেটা ইনপুট, আউটপুট, সংরক্ষণ বা যোগাযোগের কাজে সহায়তা করে; কিন্তু কম্পিউটারের মূল কার্যকর অংশ অর্থাৎ সিপিইউ ও প্রধান মেমোরির অংশ নয়, সেগুলোকে পেরিফেরাল ডিভাইস বলা হয়। পেরিফেরাল ডিভাইস কম্পিউটারের সঙ্গে সরাসরি সংযুক্ত থাকতে পারে অথবা তারবিহীনভাবে যুক্ত হতে পারে। |
|
পেরিফেরাল ও কোর কম্পোনেন্টের পার্থক্য কম্পিউটারের কোর কম্পোনেন্ট: মাদারবোর্ড, সিপিইউ, প্রধান মেমোরি (RAM),
পাওয়ার সাপ্লাই ইউনিট। পেরিফেরাল কম্পোনেন্ট: কীবোর্ড, মাউস, মনিটর, প্রিন্টার, স্ক্যানার, স্পিকার, হার্ডডিস্ক, পেনড্রাইভ ইত্যাদি। অর্থাৎ মাদারবোর্ডের সঙ্গে পোর্ট, ক্যাবল বা ওয়্যারলেস মাধ্যমে সংযুক্ত যেকোনো বহিরাগত যন্ত্রই পেরিফেরাল। |
পেরিফেরাল ডিভাইসের শ্রেণিবিভাগ
কাজের প্রকৃতির ভিত্তিতে পেরিফেরাল ডিভাইসকে প্রধানত চারটি শ্রেণিতে ভাগ করা যায়। প্রথমত, ইনপুট ডিভাইস: যেগুলো ব্যবহারকারী থেকে ডেটা গ্রহণ করে কম্পিউটারে পাঠায়। দ্বিতীয়ত, আউটপুট ডিভাইস: যেগুলো কম্পিউটারের প্রসেস করা ফলাফল ব্যবহারকারীকে দেখায়, শোনায় বা মুদ্রণ করে। তৃতীয়ত, ইনপুট-আউটপুট
(I/O) উভয় ডিভাইস: যেগুলো একই সাথে ডেটা গ্রহণ ও প্রেরণ উভয় কাজ করে। চতুর্থত, স্টোরেজ ডিভাইস বা সেকেন্ডারি স্টোরেজ: যেগুলো ডেটা দীর্ঘমেয়াদে সংরক্ষণ ও পরিবহনের কাজ করে।
|
শ্রেণি |
মূল কাজ |
উদাহরণ |
|
ইনপুট ডিভাইস |
ব্যবহারকারী থেকে ডেটা গ্রহণ |
কীবোর্ড, মাউস, স্ক্যানার, মাইক্রোফোন, ওয়েবক্যাম, জয়স্টিক |
|
আউটপুট ডিভাইস |
প্রসেস করা ডেটা ব্যবহারকারীকে প্রদান |
মনিটর, প্রিন্টার, প্লটার, স্পিকার, প্রজেক্টর |
|
I/O উভয় |
একসঙ্গে ইনপুট ও আউটপুট |
মডেম, টাচস্ক্রিন, নেটওয়ার্ক কার্ড, হেডসেট |
|
স্টোরেজ ডিভাইস |
ডেটা সংরক্ষণ ও পরিবহন |
HDD, SSD, পেনড্রাইভ, CD/DVD, মেমোরি কার্ড |
ইনপুট ডিভাইস
ইনপুট ডিভাইস ব্যবহারকারীর প্রদত্ত তথ্য, কমান্ড বা সংকেতকে কম্পিউটারের বোধগম্য ডিজিটাল রূপে রূপান্তর করে এবং সিপিইউর কাছে প্রেরণ করে। ইনপুট ডিভাইসকে আবার কিছু উপশ্রেণিতে ভাগ করা যায়: কী-ভিত্তিক
(Keyboard), পয়েন্টিং (Mouse, Trackball,
Joystick), স্ক্যানিং (Scanner, OMR, OCR, MICR,
Barcode Reader), পয়েন্টিং-কাম-ড্রয়িং
(Light Pen, Digitizer, Touchscreen), অডিও
(Microphone), ভিজ্যুয়াল (Webcam, Digital Camera), এবং বায়োমেট্রিক
(Fingerprint Scanner, Retina Scanner)।
কীবোর্ড (Keyboard)
কীবোর্ড সবচেয়ে প্রচলিত ইনপুট ডিভাইস যা টাইপরাইটারের অনুরূপ গঠনে নির্মিত। একটি সাধারণ কীবোর্ডে প্রায় ১০৪ থেকে ১১০টি কী থাকে। কী-গুলোকে পাঁচটি প্রধান বিভাগে ভাগ করা যায়: অক্ষর কী
(Alphanumeric Keys: A থেকে Z, 0 থেকে 9), ফাংশন কী
(Function Keys: F1 থেকে F12, মোট ১২টি), নিউমেরিক কী-প্যাড, নেভিগেশন কী
(Arrow, Home, End, Page Up, Page Down) এবং মডিফায়ার কী
(Shift, Ctrl, Alt)।
ফাংশন কীগুলোর মধ্যে F1 সাধারণত Help
কী হিসেবে কাজ করে; F5 প্রায়ই
Refresh-এর জন্য এবং MS
PowerPoint-এ slideshow শুরু করতে ব্যবহৃত হয়; F12
প্রায়শই Save
As হিসেবে ব্যবহৃত হয়। বাংলায় টাইপ করার জন্য
Bijoy, Bijoy Bayanno, Avro Keyboard প্রভৃতি জনপ্রিয় কীবোর্ড সফটওয়্যার রয়েছে;
Bijoy ১৯৮৮ সালে মোস্তফা জব্বার উদ্ভাবন করেন। বাংলা টাইপিং-এ ইংরেজি থেকে বাংলায় রূপান্তরের শর্টকাট সাধারণত
Ctrl+Alt+B।
|
শর্টকাট |
কাজ |
|
Ctrl + C |
নির্বাচিত অংশ
Copy করা |
|
Ctrl + V |
Paste করা |
|
Ctrl + X |
Cut করা |
|
Ctrl + Z |
মুছে যাওয়া বা সাম্প্রতিক কাজ পূর্বাবস্থায় ফিরিয়ে আনা (Undo) |
|
Ctrl + A |
সবকিছু
Select করা |
|
Ctrl + F |
Find বা খোঁজার Box খোলা |
|
Ctrl + S |
ফাইল
Save করা |
|
Ctrl + P |
Print Dialog খোলা |
|
Ctrl + B |
Bold করা |
|
Ctrl + I |
Italic করা |
|
Ctrl + End |
ডকুমেন্টের শেষে কার্সর নিয়ে যাওয়া |
|
Ctrl + Alt + Del |
কম্পিউটার Reboot
বা টাস্ক ম্যানেজার চালু |
|
Shift + Delete |
ফাইল স্থায়ীভাবে মুছে ফেলা |
|
Caps Lock |
সব অক্ষর বড় হাতের অক্ষরে লেখা |
মাউস (Mouse)
মাউস হলো একটি পয়েন্টিং ইনপুট ডিভাইস যা স্ক্রিনে কার্সর নিয়ন্ত্রণ করে। ১৯৬৪ সালে
Douglas Engelbart কাঠের তৈরি প্রথম মাউস উদ্ভাবন করেন। প্রযুক্তি অনুযায়ী মাউস তিন ধরনের: মেকানিক্যাল মাউস (গোলাকার বল ব্যবহার করে), অপটিক্যাল মাউস (LED
ও সেন্সর ব্যবহার করে), এবং লেজার মাউস (লেজার রশ্মি ব্যবহার করে অধিক নির্ভুলতা প্রদান করে)। মাউসে সাধারণত দুটি বাটন (বাঁ ও ডান) ও একটি স্ক্রল হুইল থাকে।
স্ক্যানার (Scanner)
স্ক্যানার মুদ্রিত বা হাতে লেখা ডকুমেন্ট, ছবি অথবা বস্তুকে ডিজিটাল ইমেজে রূপান্তর করে কম্পিউটারে ইনপুট করে। স্ক্যানার ইনপুট ডিভাইস হিসেবে কাজ করে। প্রকারভেদের মধ্যে রয়েছে: ফ্ল্যাটবেড স্ক্যানার, হ্যান্ড-হেল্ড স্ক্যানার, শিট-ফেড স্ক্যানার এবং ড্রাম স্ক্যানার।
OMR, OCR ও MICR
OMR (Optical Mark
Reader) মুদ্রিত পেপারে বৃত্ত বা চিহ্ন (যেমন: পেন্সিল দিয়ে কালো করা MCQ-এর উত্তর) পড়তে ব্যবহৃত হয়; ভর্তি পরীক্ষা ও সরকারি ফলাফল গণনায় OMR ব্যাপকভাবে ব্যবহৃত হয়। OCR
(Optical Character Recognition) মুদ্রিত বা হাতে লেখা অক্ষরকে সম্পাদনযোগ্য ডিজিটাল টেক্সটে রূপান্তর করে; অর্থাৎ মুদ্রিত লেখা সরাসরি ইনপুট নেওয়ার জন্য OCR ব্যবহৃত হয়। MICR
(Magnetic Ink Character Recognition) হলো বিশেষ চৌম্বকীয় কালি দিয়ে মুদ্রিত অক্ষর পড়ার প্রযুক্তি; ব্যাংকিং শিল্পে চেক প্রক্রিয়াকরণে MICR
ব্যবহৃত হয়।
|
প্রযুক্তি |
পূর্ণরূপ |
মূল কাজ |
প্রধান প্রয়োগ |
|
OMR |
Optical Mark Reader |
পেপারে চিহ্নিত মার্ক পড়া |
MCQ পরীক্ষা, ব্যালট |
|
OCR |
Optical Character Recognition |
মুদ্রিত লেখা টেক্সটে রূপান্তর |
ডকুমেন্ট ডিজিটাইজেশন |
|
MICR |
Magnetic Ink Character
Recognition |
চৌম্বকীয় কালি পড়া |
ব্যাংকের চেক প্রক্রিয়াকরণ |
|
Barcode Reader |
Barcode Scanner |
বারকোড পড়া |
খুচরা বিক্রয়, লাইব্রেরি |
অন্যান্য ইনপুট ডিভাইস
জয়স্টিক
(Joystick) মূলত কম্পিউটার গেমিং, ফ্লাইট সিমুলেটর ও CAD-এ ব্যবহৃত পয়েন্টিং ডিভাইস। লাইট পেন
(Light Pen) সরাসরি স্ক্রিনে স্পর্শ করে চিহ্ন বা চিত্র আঁকতে ব্যবহৃত হয়; ডিজিটাইজার বা গ্রাফিক ট্যাবলেট চিত্রশিল্পীদের কাছে জনপ্রিয়। ট্র্যাকবল
(Trackball) উল্টানো মাউসের মতো; বল ঘুরিয়ে কার্সর নিয়ন্ত্রণ করা হয়। মাইক্রোফোন শব্দ শক্তিকে তড়িৎ শক্তিতে রূপান্তর করে অডিও ইনপুট হিসেবে গ্রহণ করে। ওয়েবক্যাম ও ডিজিটাল ক্যামেরা স্থির ও চলমান ভিডিও ইনপুট গ্রহণ করে। বায়োমেট্রিক ডিভাইসের মধ্যে ফিঙ্গারপ্রিন্ট স্ক্যানার, রেটিনা স্ক্যানার ও ফেইস রিকগনিশন সিস্টেম পরিচয় যাচাইয়ে ব্যবহৃত হয়।
আউটপুট ডিভাইস
আউটপুট ডিভাইস কম্পিউটারের প্রসেস করা ফলাফলকে মানুষের বোধগম্য রূপে (যেমন: ছবি, লেখা, শব্দ) উপস্থাপন করে। আউটপুট দুই ধরনের হয়: সফট কপি (স্ক্রিনে প্রদর্শিত, যেমন: মনিটর) এবং হার্ড কপি (কাগজে মুদ্রিত, যেমন: প্রিন্টার)। কম্পিউটার থেকে প্রিন্টারে মুদ্রিত আউটপুটকে Hard
Copy বলা হয়।
মনিটর (Monitor)
মনিটর হলো কম্পিউটারের প্রধান ভিজ্যুয়াল আউটপুট ডিভাইস; এটি কখনো ডিসপ্লে স্ক্রিন বা ভিডিও ডিসপ্লে ইউনিট
(VDU) নামেও পরিচিত। মনিটরে দৃশ্যমান ছবির গুণগত মান নির্ভর করে কম্পিউটারের VGA কার্ড
(Video Graphics Adapter) -এর ক্ষমতার উপর। মনিটরের রেজল্যুশন পিক্সেলে পরিমাপ করা হয় (যেমন:
1920 × 1080), এবং রিফ্রেশ রেট হার্টজে
(60Hz, 144Hz, 240Hz)।
মনিটরের প্রজন্ম অনুযায়ী CRT থেকে আধুনিক OLED
পর্যন্ত বিবর্তন ঘটেছে। CRT
(Cathode Ray Tube) ছিল প্রথম প্রজন্মের মনিটর: ভারী, অধিক বিদ্যুৎ খরচকারী এবং বড় আকৃতির। LCD
(Liquid Crystal Display) তরল ক্রিস্টাল ও ব্যাকলাইট ব্যবহার করে; এটি পাতলা ও কম বিদ্যুৎ খরচকারী। LED মনিটরে LCD প্যানেলের ব্যাকলাইটে LED
(Light Emitting Diode) ব্যবহৃত হয়; এটি কম্পিউটার মনিটরে প্রচলিত। OLED
(Organic LED) আত্ম-আলোকিত পিক্সেল ব্যবহার করে এবং সর্বাধিক কালো ও কনট্রাস্ট প্রদান করে। QLED
(Quantum Dot LED) আরও উন্নত রঙ পুনরুৎপাদন করে।
|
মনিটর প্রজন্ম |
বৈশিষ্ট্য |
সুবিধা |
অসুবিধা |
|
CRT |
ক্যাথোড রে টিউব, ইলেকট্রন গান |
কম দাম, ভালো রঙ |
ভারী, বড়, অধিক বিদ্যুৎ |
|
LCD |
তরল ক্রিস্টাল, ফ্লুরোসেন্ট ব্যাকলাইট |
পাতলা, কম বিদ্যুৎ |
সীমিত ভিউইং এঙ্গেল |
|
LED |
LCD + LED ব্যাকলাইট |
পাতলা, উজ্জ্বল, দীর্ঘস্থায়ী |
তুলনামূলক ব্যয়বহুল |
|
OLED |
জৈব আত্ম-আলোকিত পিক্সেল |
সর্বোচ্চ কনট্রাস্ট, পাতলা |
সবচেয়ে ব্যয়বহুল, বার্ন-ইন |
|
QLED |
Quantum Dot সহ
LED |
উন্নত রঙ পুনরুৎপাদন |
OLED-এর চেয়ে কম কনট্রাস্ট |
প্রিন্টার (Printer)
প্রিন্টার কম্পিউটার থেকে নির্গত ডিজিটাল তথ্যকে কাগজে হার্ড কপি আকারে মুদ্রণ করে। প্রিন্টারের আউটপুট মান পরিমাপ করা হয় DPI
(Dot Per Inch) এককে; যত বেশি DPI,
প্রিন্টের গুণমান তত উন্নত। প্রিন্টার দুই প্রধান শ্রেণিতে বিভক্ত:
Impact Printer ও Non-Impact Printer।
Impact Printer-এ প্রিন্টিং হেড সরাসরি কাগজে আঘাত করে অক্ষর মুদ্রণ করে। এর প্রধান উদাহরণ Dot
Matrix Printer ও Daisy Wheel Printer। ডট ম্যাট্রিক্স প্রিন্টার ৭, ৯ বা ২৪টি পিনের ম্যাট্রিক্স ব্যবহার করে ডট-ভিত্তিক অক্ষর তৈরি করে; এটি কার্বন কপি তৈরি করতে পারে, তবে গতি ধীর ও শব্দ বেশি। ব্যাংক ও সরকারি দপ্তরে রসিদ মুদ্রণে এটি এখনও ব্যবহৃত হয়।
Non-Impact Printer-এ কোনো ভৌত আঘাত নেই; কালি বা টোনার সরাসরি কাগজে পৌঁছে দেওয়া হয়। প্রধান উদাহরণ:
Inkjet Printer (তরল কালির ক্ষুদ্র ফোঁটা স্প্রে করে),
Laser Printer (লেজার রশ্মি ব্যবহার করে টোনার পাউডার গলিয়ে মুদ্রণ করে), এবং
Thermal Printer (তাপ-সংবেদী কাগজে তাপ প্রয়োগ করে মুদ্রণ; এতে কোনো কালি ব্যবহৃত হয় না)। লেজার প্রিন্টার সবচেয়ে দ্রুতগতির ও উন্নতমানের প্রিন্ট প্রদানে সক্ষম এবং এটি Page
Printer হিসেবে পরিচিত। থার্মাল প্রিন্টারে কালি ব্যবহার করা হয় না; এটি রসিদ ও ATM প্রিন্টিং-এ ব্যবহৃত হয়।
|
প্রিন্টার |
প্রকার |
প্রযুক্তি |
ব্যবহার |
|
Dot Matrix |
Impact |
পিনের ম্যাট্রিক্স আঘাত |
চালান, কার্বন কপি |
|
Daisy Wheel |
Impact |
ঘূর্ণায়মান টাইপ চাকা |
অফিস (পুরোনো) |
|
Inkjet |
Non-Impact |
কালি স্প্রে |
ঘরোয়া, রঙিন ফটো |
|
Laser |
Non-Impact |
লেজার + টোনার পাউডার |
অফিস, উচ্চ গতি (Page Printer) |
|
Thermal |
Non-Impact |
তাপ-সংবেদী কাগজ |
ATM, POS রসিদ (কালিবিহীন) |
|
3D Printer |
Non-Impact |
ফিলামেন্ট স্তরবিন্যাস |
প্রোটোটাইপ, মেডিকেল মডেল |
অন্যান্য আউটপুট ডিভাইস
Plotter এক ধরনের আউটপুট ডিভাইস যা বড় আকারের নকশা, মানচিত্র, স্থাপত্যের ব্লুপ্রিন্ট ও CAD ড্রয়িং মুদ্রণ করতে ব্যবহৃত হয়।
Speaker বা
Loudspeaker তড়িৎ শক্তিকে শব্দ শক্তিতে রূপান্তর করে অডিও আউটপুট প্রদান করে; এটি মাইক্রোফোনের ঠিক বিপরীত কাজ করে।
Projector মাল্টিমিডিয়া উপস্থাপনার জন্য বড় পর্দায় ভিডিও ও ইমেজ প্রদর্শন করে; এটি ক্লাসরুম ও কনফারেন্সে ব্যাপকভাবে ব্যবহৃত হয়।
Headphone ব্যক্তিগত অডিও আউটপুটের জন্য ব্যবহৃত হয়।
ইনপুট-আউটপুট উভয় ডিভাইস
কিছু পেরিফেরাল ডিভাইস একই সঙ্গে ডেটা গ্রহণ ও প্রেরণের ক্ষমতা রাখে; এদের I/O
Device বলা হয়। উদাহরণস্বরূপ, মডেম কম্পিউটার থেকে ডিজিটাল ডেটা গ্রহণ করে এনালগ সিগন্যালে রূপান্তর করে টেলিফোন লাইনে প্রেরণ করে
(output), আবার অপর প্রান্ত থেকে আগত এনালগ সিগন্যাল ডিজিটালে রূপান্তর করে কম্পিউটারে দেয়
(input)।
Touchscreen-এ ব্যবহারকারীর আঙুলের স্পর্শ ইনপুট হিসেবে গ্রহণ করা হয় এবং সেই স্পর্শের অবস্থান অনুযায়ী স্ক্রিনে আউটপুট প্রদর্শিত হয়; এটি স্মার্টফোন,
ATM, কিয়স্ক ও আধুনিক ল্যাপটপে ব্যাপকভাবে ব্যবহৃত হয়।
Network Interface Card (NIC) ডেটা প্যাকেট গ্রহণ ও প্রেরণ উভয় কাজ করে।
Headset (মাইক্রোফোন + স্পিকার),
Fax Modem, USB Flash Drive (পড়া ও লেখা),
Audio Card ও MFP (Multi-Function Printer: প্রিন্ট + স্ক্যান + কপি + ফ্যাক্স) উভয় কাজের যন্ত্র।
স্টোরেজ পেরিফেরাল
কম্পিউটার মেমোরিকে প্রধানত দুই ভাগে ভাগ করা হয়: প্রাইমারি মেমোরি
(RAM, ROM, Cache, Register) যা সিপিইউর সঙ্গে সরাসরি যুক্ত এবং সেকেন্ডারি মেমোরি
(HDD, SSD, পেনড্রাইভ, CD/DVD ইত্যাদি) যা দীর্ঘমেয়াদী ডেটা সংরক্ষণের জন্য ব্যবহৃত হয়। সেকেন্ডারি স্টোরেজগুলোই পেরিফেরাল হিসেবে বিবেচিত। RAM সেকেন্ডারি স্টোরেজ ডিভাইস নয়।
চৌম্বকীয় স্টোরেজ (Magnetic Storage)
হার্ড ডিস্ক ড্রাইভ
(HDD) ঘূর্ণায়মান চৌম্বকীয় প্লেটারে ডেটা সংরক্ষণ করে। হার্ড ডিস্কের পৃষ্ঠকে কেন্দ্রিক বৃত্তে ভাগ করা থাকে, যাকে ট্র্যাক
(Track) বলে; প্রতিটি ট্র্যাককে আবার সেক্টর
(Sector) -এ ভাগ করা হয়। একটি সেক্টরের আকার সাধারণত ৫১২ বাইট। ফ্লপি ডিস্ক ও ম্যাগনেটিক টেপ অপ্রচলিত চৌম্বকীয় স্টোরেজ। ডিস্কে ডেটা এলোমেলো হয়ে গেলে ডিস্ক ডিফ্রাগমেন্টেশন
(Disk Defragmentation) ব্যবহার করে ফাইলগুলো পুনর্বিন্যস্ত করা হয়।
সলিড স্টেট স্টোরেজ (Solid State Storage)
সলিড স্টেট ড্রাইভ
(SSD) ফ্ল্যাশ মেমোরি ব্যবহার করে ডেটা সংরক্ষণ করে; এতে কোনো ঘূর্ণায়মান অংশ নেই। SSD
HDD-র তুলনায় অনেক দ্রুতগতির, কম বিদ্যুৎ খরচকারী, শব্দহীন ও আরও স্থায়ী। বর্তমানে NVMe
(Non-Volatile Memory Express) প্রটোকল-ভিত্তিক M.2
SSD সর্বোচ্চ গতি প্রদান করে। পেনড্রাইভ (USB
Flash Drive) ও মেমোরি কার্ড (SD,
microSD)-ও ফ্ল্যাশ মেমোরির উদাহরণ। ডেটা সংরক্ষণ ও স্থানান্তরে পেনড্রাইভ ব্যাপকভাবে ব্যবহৃত হয়।
অপটিক্যাল স্টোরেজ (Optical Storage)
অপটিক্যাল স্টোরেজ মাধ্যমে লেজার রশ্মি ব্যবহার করে ডেটা পড়া ও লেখা হয়। প্রধান অপটিক্যাল মাধ্যমগুলো হলো: CD
(Compact Disc, ৭০০ মেগাবাইট),
DVD (Digital Versatile Disc, ৪.৭ গিগাবাইট: ১৭ গিগাবাইট), এবং
Blu-ray Disc (২৫: ১০০ গিগাবাইট)।
CD-ROM হলো রিড-অনলি অপটিক্যাল ডিভাইস। CD-তে ফাইল কপি করার প্রক্রিয়াকে
Burning বলা হয়। DVD সাধারণত সহায়ক স্মৃতি হিসেবে কাজ করে।
|
মেমোরি একক |
মান (বাইনারি) |
প্রায় বাইট |
|
১
Bit |
তথ্যের ক্ষুদ্রতম একক (0
বা 1) |
প্রযোজ্য নয় |
|
১ Nibble |
৪ Bit |
প্রযোজ্য নয় |
|
১
Byte |
৮
Bit |
১
Byte |
|
১
Kilobyte (KB) |
১০২৪ Byte |
১,০২৪ |
|
১
Megabyte (MB) |
১০২৪ KB |
১,০৪৮,৫৭৬ |
|
১
Gigabyte (GB) |
১০২৪ MB |
প্রায় ১.০৭ বিলিয়ন |
|
১
Terabyte (TB) |
১০২৪ GB |
প্রায় ১.১ ট্রিলিয়ন |
|
১
Petabyte (PB) |
১০২৪ TB |
প্রায় ১.১ × ১০¹⁵ |
স্টোরেজ পদানুক্রম (Storage Hierarchy)
কম্পিউটারে গতি ও দামের ভিত্তিতে স্টোরেজের একটি পদানুক্রম রয়েছে:
Register (সিপিইউর অভ্যন্তরীণ ক্ষুদ্রতম মেমোরি, সর্বাধিক দ্রুত) →
Cache (CPU ও RAM-এর মধ্যে বাফার হিসেবে কাজ করে) →
RAM (Random Access Memory, প্রধান মেমোরি, অস্থায়ী) →
SSD → HDD → অপটিক্যাল ডিস্ক → ম্যাগনেটিক টেপ → ক্লাউড স্টোরেজ। যত উপরে, গতি তত বেশি, দাম তত বেশি, ধারণক্ষমতা তত কম।
Google Drive, Dropbox, OneDrive হলো ক্লাউড স্টোরেজের উদাহরণ।
পোর্ট ও কানেক্টর
পোর্ট হলো কম্পিউটারের সঙ্গে পেরিফেরাল ডিভাইস সংযুক্ত করার ইন্টারফেস বিন্দু। বিভিন্ন ধরনের পোর্ট বিভিন্ন প্রকার সিগন্যাল ও গতি সমর্থন করে।
|
পোর্ট/কানেক্টর |
পূর্ণরূপ |
ব্যবহার |
সর্বোচ্চ গতি |
|
USB-A 2.0 |
Universal Serial Bus |
সাধারণ পেরিফেরাল |
480 Mbps |
|
USB 3.0/3.1 Gen 1 |
Universal Serial Bus |
দ্রুত স্টোরেজ |
5 Gbps |
|
USB 3.2 Gen 2x2 |
Universal Serial Bus |
উচ্চগতি স্টোরেজ |
20 Gbps |
|
USB4 / Thunderbolt 4 |
Universal Serial Bus 4 |
সর্বাধুনিক |
40 Gbps |
|
HDMI |
High Definition Multimedia
Interface |
ভিডিও + অডিও আউটপুট |
48 Gbps (HDMI 2.1) |
|
DisplayPort |
Display Port |
উচ্চ-রেজল্যুশন মনিটর |
80 Gbps (DP 2.0) |
|
VGA |
Video Graphics Array |
পুরোনো এনালগ ভিডিও |
640 × 480 মূল |
|
DVI |
Digital Visual Interface |
ডিজিটাল ভিডিও |
10 Gbps |
|
RJ45 |
Registered Jack 45 |
ইথারনেট/LAN |
10 Gbps (Cat 6a) |
|
3.5 mm Jack |
Audio Jack |
অডিও ইনপুট/আউটপুট |
Analog |
|
PS/2 |
Personal System/2 |
পুরোনো মাউস/কীবোর্ড |
Low-speed |
|
Type-C |
USB Type-C |
সর্বমুখী, রিভার্সিবল |
USB4 সমর্থিত |
আধুনিক ওয়্যারড ইথারনেট সংযোগের জন্য সর্বাধিক ব্যবহৃত পোর্ট হলো RJ45। HDMI
পোর্ট প্রধানত ভিডিও মাল্টিমিডিয়া, প্রজেক্টর স্ক্রিন ও ভিডিও গ্রাফিক্সে ব্যবহৃত হয়;
HDMI পোর্ট LAN নেটওয়ার্কের জন্য ব্যবহৃত হয় না।
পরিমাপ ও মানদণ্ড
|
পরিমাপ |
পূর্ণরূপ |
ক্ষেত্র |
উদাহরণ |
|
DPI |
Dots Per Inch |
প্রিন্টার ও স্ক্যানার রেজল্যুশন |
৬০০
DPI লেজার প্রিন্টার |
|
PPI |
Pixels Per Inch |
মনিটর ও স্মার্টফোন ডিসপ্লে |
৪৬০ PPI
Retina |
|
Hz |
Hertz |
মনিটর রিফ্রেশ রেট |
৬০
Hz, ১৪৪ Hz |
|
ms |
Millisecond |
মনিটরের রেসপন্স টাইম |
১ ms
gaming monitor |
|
bps |
Bits Per Second |
ডেটা ট্রান্সফার গতি |
Mbps, Gbps |
|
Pixel |
Picture Element |
ছবি/স্ক্রিনের ক্ষুদ্র ইউনিট |
৩ রঙ ডট (R, G, B) |
|
Cycle/Sec |
ক্লক স্পিড |
প্রসেসর |
GHz |
রঙিন মনিটরের প্রতিটি পিক্সেলে ৩টি রঙের ডট থাকে: লাল
(Red), সবুজ
(Green) ও নীল
(Blue), যাকে RGB মডেল বলা হয়। প্রিন্টার রেজল্যুশন DPI-তে পরিমাপ করা হলেও স্ক্রিন রেজল্যুশন PPI-তে পরিমাপ করা হয়।
প্রথম, আবিষ্কারক ও সাল
|
পেরিফেরাল |
আবিষ্কারক |
সাল |
দেশ/প্রতিষ্ঠান |
|
আধুনিক কম্পিউটার মাউস |
Douglas Engelbart |
1964 |
SRI, যুক্তরাষ্ট্র |
|
QWERTY কীবোর্ড লেআউট |
Christopher Latham Sholes |
1873 |
যুক্তরাষ্ট্র |
|
লেজার প্রিন্টার |
Gary Starkweather |
1971 |
Xerox PARC |
|
ইনকজেট প্রিন্টার |
Canon ও HP (স্বতন্ত্রভাবে) |
1976 |
জাপান ও যুক্তরাষ্ট্র |
|
ডট ম্যাট্রিক্স প্রিন্টার |
Centronics/Epson |
1968 |
যুক্তরাষ্ট্র/জাপান |
|
প্রথম হার্ড ডিস্ক (IBM 305 RAMAC) |
IBM |
1956 |
যুক্তরাষ্ট্র |
|
প্রথম ফ্ল্যাশ মেমোরি |
Dr. Fujio Masuoka |
1980 |
Toshiba, জাপান |
|
প্রথম CD |
Philips ও Sony |
1982 |
নেদারল্যান্ডস/জাপান |
|
প্রথম
USB স্ট্যান্ডার্ড |
USB-IF কনসোর্টিয়াম |
1996 |
Intel-নেতৃত্বাধীন |
|
প্রথম গ্রাফিক্যাল মাল্টিটাচ |
Apple iPhone |
2007 |
যুক্তরাষ্ট্র |
|
LED |
Nick Holonyak Jr. |
1962 |
GE, যুক্তরাষ্ট্র |
|
OLED |
Ching W. Tang ও Steven Van Slyke |
1987 |
Kodak, যুক্তরাষ্ট্র |
|
Bijoy বাংলা কীবোর্ড |
মোস্তফা জব্বার |
1988 |
বাংলাদেশ |
বাংলাদেশের প্রেক্ষাপট
বাংলাদেশে কম্পিউটার পেরিফেরালের যাত্রা শুরু হয় ১৯৬৪ সালে ঢাকার পরমাণু শক্তি কেন্দ্রে IBM
1620 কম্পিউটার স্থাপনের মাধ্যমে; এটিই ছিল বাংলাদেশে প্রথম কম্পিউটার, যা বর্তমানে বাংলাদেশ পরমাণু শক্তি কমিশনে সংরক্ষিত আছে। তখনকার কম্পিউটারে পাঞ্চ কার্ড ইনপুট, ম্যাগনেটিক টেপ স্টোরেজ ও লাইন প্রিন্টার ব্যবহৃত হতো।
বাংলায় টাইপিংয়ের পেরিফেরাল-সফটওয়্যার সংযোগে যুগান্তকারী অবদান রাখেন মোস্তফা জব্বার, যিনি ১৯৮৮ সালে
Bijoy বাংলা কীবোর্ড সফটওয়্যার চালু করেন। ২০০৩ সালে মেহেদী হাসান খান Avro
Keyboard নামে ইউনিকোড-ভিত্তিক বিনামূল্যের বাংলা কীবোর্ড সফটওয়্যার তৈরি করেন। বর্তমানে
Bijoy Bayanno, Avro, Google Keyboard বাংলা টাইপিং-এ প্রচলিত।
ICT Division-এর তথ্য অনুসারে, বাংলাদেশে ২০২৪ সালে দেশীয় হার্ডওয়্যার অ্যাসেম্বলি বাজার দ্রুত বিকশিত হচ্ছে;
Walton, Symphony, Edison Group দেশে মনিটর, ল্যাপটপ, ট্যাবলেট ও স্মার্টফোন উৎপাদন করছে। বাংলাদেশ
Hi-Tech Park Authority (BHTPA) দেশীয় হার্ডওয়্যার রপ্তানিকেও উৎসাহিত করছে। এছাড়া দৃষ্টিহীনদের জন্য বাংলা ভাষার প্রথম সফটওয়্যার 'আইসাইট' তৈরি হয়েছে বাংলাদেশেই।
|
🇧🇩 বাংলাদেশের পেরিফেরাল ও হার্ডওয়্যার তথ্য প্রথম কম্পিউটার: IBM 1620 (১৯৬৪, পরমাণু শক্তি কেন্দ্র)। প্রথম বাংলা কীবোর্ড সফটওয়্যার: বিজয় (মোস্তফা জব্বার, ১৯৮৮)। ইউনিকোড-ভিত্তিক বিনামূল্যের বাংলা কীবোর্ড: Avro (মেহেদী হাসান খান, ২০০৩)। দেশীয় কম্পিউটার ও মোবাইল উৎপাদক: Walton, Symphony, Edison Group। দৃষ্টিহীনদের জন্য বাংলা সফটওয়্যার: আইসাইট। ইলেকট্রনিক্স উৎপাদনে হাই-টেক পার্ক স্থাপন: কালিয়াকৈর, যশোর, রাজশাহী, খুলনা। |
সংক্ষিপ্ত রূপ ও পূর্ণরূপ
|
সংক্ষেপ |
পূর্ণরূপ |
বাংলা অর্থ |
|
CPU |
Central Processing Unit |
কেন্দ্রীয় প্রক্রিয়াকরণ একক |
|
RAM |
Random Access Memory |
র্যান্ডম এক্সেস মেমোরি |
|
ROM |
Read Only Memory |
শুধু পাঠযোগ্য মেমোরি |
|
HDD |
Hard Disk Drive |
হার্ড ডিস্ক ড্রাইভ |
|
SSD |
Solid State Drive |
সলিড স্টেট ড্রাইভ |
|
CD |
Compact Disc |
কমপ্যাক্ট ডিস্ক |
|
DVD |
Digital Versatile Disc |
ডিজিটাল ভার্সাটাইল ডিস্ক |
|
USB |
Universal Serial Bus |
ইউনিভার্সাল সিরিয়াল বাস |
|
HDMI |
High Definition Multimedia
Interface |
উচ্চ মানসম্পন্ন মাল্টিমিডিয়া ইন্টারফেস |
|
VGA |
Video Graphics Array |
ভিডিও গ্রাফিক্স অ্যারে |
|
DVI |
Digital Visual Interface |
ডিজিটাল ভিজ্যুয়াল ইন্টারফেস |
|
LCD |
Liquid Crystal Display |
তরল ক্রিস্টাল ডিসপ্লে |
|
LED |
Light Emitting Diode |
আলো নির্গত ডায়োড |
|
OLED |
Organic Light Emitting Diode |
জৈব আলো নির্গত ডায়োড |
|
CRT |
Cathode Ray Tube |
ক্যাথোড রে টিউব |
|
DPI |
Dots Per Inch |
ডটস পার ইঞ্চি |
|
PPI |
Pixels Per Inch |
পিক্সেলস পার ইঞ্চি |
|
OMR |
Optical Mark Reader/Recognition |
অপটিক্যাল মার্ক রিডার |
|
OCR |
Optical Character
Recognition |
অপটিক্যাল ক্যারেক্টার রিকগনিশন |
|
MICR |
Magnetic Ink Character Recognition |
ম্যাগনেটিক ইঙ্ক ক্যারেক্টার রিকগনিশন |
|
NIC |
Network Interface Card |
নেটওয়ার্ক ইন্টারফেস কার্ড |
|
BIOS |
Basic Input Output System |
বেসিক ইনপুট আউটপুট সিস্টেম |
|
UPS |
Uninterruptible Power
Supply |
নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ |
|
MFP |
Multi-Function Printer |
মাল্টি-ফাংশন প্রিন্টার |
|
RGB |
Red Green Blue |
রেড গ্রিন ব্লু |
|
VDU |
Visual Display Unit |
ভিজ্যুয়াল ডিসপ্লে ইউনিট |
|
NVMe |
Non-Volatile Memory Express |
নন-ভোলাটাইল মেমোরি এক্সপ্রেস |
|
RJ45 |
Registered Jack 45 |
রেজিস্টার্ড জ্যাক ৪৫ |
|
PS/2 |
Personal System/2 |
পার্সোনাল সিস্টেম ২ |
|
ATM |
Automated Teller Machine |
অটোমেটেড টেলার মেশিন |
বিশেষ নোট ও কাউশন পেয়ার
|
⚠️
Hardware বনাম Software Hardware: কম্পিউটারের ভৌত (ছোঁয়া যায়) উপাদান (মনিটর, কীবোর্ড, CPU, RAM, মাউস)। Software: প্রোগ্রাম ও নির্দেশাবলির সমষ্টি, যেমন: Windows, MS Word, PowerPoint। PowerPoint হার্ডওয়্যার নয়। পেরিফেরাল সবসময় হার্ডওয়্যার, তবে সব হার্ডওয়্যার পেরিফেরাল নয় (যেমন: CPU,
RAM, motherboard কোর হার্ডওয়্যার)। |
|
⚠️ RAM বনাম ROM RAM: Random Access Memory, অস্থায়ী (Volatile), বিদ্যুৎ গেলে ডেটা মুছে যায়, পড়া ও লেখা উভয় সম্ভব। ROM: Read Only Memory, স্থায়ী (Non-Volatile), বিদ্যুৎ গেলেও ডেটা থাকে, প্রধানত পড়ার জন্য। BIOS সাধারণত ROM-এ সংরক্ষিত থাকে। RAM সিপিইউতে অবস্থান করে। |
|
⚠️ HDD বনাম SSD HDD: ঘূর্ণায়মান চৌম্বকীয় প্লেটার, ধীর, শব্দ করে, কম দামে বেশি ধারণক্ষমতা। SSD: ফ্ল্যাশ মেমোরি, দ্রুত, শব্দহীন, অধিক স্থায়ী, তুলনামূলক ব্যয়বহুল। SSHD: Hybrid Drive, HDD ও SSD-এর সমন্বয়। সবচেয়ে দ্রুতগতির স্টোরেজ হলো SSD। |
|
⚠️ Soft
Copy বনাম Hard Copy Soft Copy: ডিজিটাল কপি, মনিটর/স্ক্রিনে দৃশ্যমান (যেমন: PDF,
Word ফাইল প্রদর্শন)। Hard Copy: কাগজে মুদ্রিত প্রিন্টার আউটপুট। 'The printed output from a computer' হলো Hard Copy। |
মনে রাখার কৌশল ও ট্রিকস
|
📌 ইনপুট ও আউটপুট ডিভাইস আলাদা করার সূত্র ইনপুট = তথ্য ভেতরে আসে: কীবোর্ড, মাউস, স্ক্যানার, মাইক্রোফোন, ওয়েবক্যাম, জয়স্টিক, OMR/OCR/MICR। আউটপুট = তথ্য বাইরে যায়: মনিটর, প্রিন্টার, প্লটার, স্পিকার, প্রজেক্টর, হেডফোন। I/O উভয়: মডেম, টাচস্ক্রিন, NIC, USB ফ্ল্যাশ ড্রাইভ, MFP। |
|
📌 প্রিন্টার ক্যাটাগরি মনে রাখা Impact (আঘাত করে): Dot Matrix, Daisy Wheel: সূত্র 'DD-Impact'। Non-Impact (আঘাত নেই): Inkjet, Laser, Thermal: সূত্র 'ILT-NoImpact'। কালিবিহীন একমাত্র: Thermal Printer। Page Printer = Laser। |
|
📌 মেমোরি একক ক্রম Bit < Nibble (4 bit) < Byte (8
bit) < KB (1024 B) < MB (1024 KB) < GB (1024 MB) < TB (1024 GB)
< PB < EB < ZB < YB। সূত্র: 'বিট-নিবল-বাইট, কে-এম-জি-টি' (ছোট থেকে বড়)। |
|
📌
OMR-OCR-MICR পার্থক্য OMR: Mark (চিহ্ন/বৃত্ত) → পরীক্ষার OMR শিট। OCR: Character (অক্ষর/লেখা) → মুদ্রিত লেখা ডিজিটাল করা। MICR: Magnetic ink → ব্যাংকের চেক প্রক্রিয়াকরণ। |
লিখিত পরীক্ষার জন্য
|
✍️ লিখিত পরীক্ষার জন্য পেরিফেরাল ডিভাইস কম্পিউটার ও মানুষের মধ্যে যোগসূত্র স্থাপন করে; কীবোর্ড থেকে কোয়ান্টাম-যুগের নিউরাল ইন্টারফেস পর্যন্ত পেরিফেরাল প্রযুক্তির বিবর্তন মানুষের সঙ্গে যন্ত্রের মিথস্ক্রিয়াকে ক্রমাগত স্বাভাবিক ও দক্ষ করে তুলছে। চতুর্থ শিল্প বিপ্লবের যুগে IoT, ওয়্যারলেস পেরিফেরাল, বায়োমেট্রিক ইনপুট, AR/VR ডিভাইস ও ক্লাউড স্টোরেজ পরিবেশ পরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে ডিজিটাল কর্মক্ষেত্র, শিক্ষা ও স্বাস্থ্যসেবাকে রূপান্তর করছে; বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে দেশীয় হার্ডওয়্যার উৎপাদন, বিজয়-অভ্র বাংলা টাইপিং ও সরকারি সেবায় OMR-MICR ব্যবহার এই রূপান্তরের গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক। তবে ই-বর্জ্য (e-waste) ব্যবস্থাপনা, ডিজিটাল বৈষম্য ও পেরিফেরাল-নির্ভর নিরাপত্তা ঝুঁকি (যেমন: USB ম্যালওয়্যার, কীলগার) টেকসই প্রযুক্তি ব্যবহারে গুরুত্বপূর্ণ চ্যালেঞ্জ হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে। |
বায়োমেট্রিক ও আধুনিক ইনপুট ডিভাইস
বায়োমেট্রিক ডিভাইস মানুষের শারীরিক বা আচরণগত স্বতন্ত্র বৈশিষ্ট্য বিশ্লেষণ করে পরিচয় শনাক্ত করে। বর্তমানে ব্যাংকিং, পাসপোর্ট, স্মার্টফোন আনলক ও জাতীয় পরিচয়পত্র যাচাইয়ে বায়োমেট্রিক ইনপুট ব্যাপকভাবে ব্যবহৃত হয়। প্রধান বায়োমেট্রিক ইনপুট ডিভাইসগুলোর মধ্যে রয়েছে ফিঙ্গারপ্রিন্ট স্ক্যানার, যা আঙুলের ছাপের অনন্য রেখা বিশ্লেষণ করে; রেটিনা ও আইরিস স্ক্যানার, যা চোখের রক্তনালির বিন্যাস বা আইরিসের প্যাটার্ন থেকে ব্যক্তি শনাক্ত করে; ফেইস রিকগনিশন সিস্টেম, যা মুখের ৩-ডি জ্যামিতি AI-ভিত্তিক অ্যালগরিদমে বিশ্লেষণ করে; এবং ভয়েস রিকগনিশন, যা কণ্ঠস্বরের তরঙ্গদৈর্ঘ্য ও কম্পাঙ্ক বিশ্লেষণ করে।
বাংলাদেশের জাতীয় পরিচয়পত্র
(NID) ও পাসপোর্ট ব্যবস্থায় ফিঙ্গারপ্রিন্ট ও আইরিস স্ক্যানিং বাধ্যতামূলক, যা
Election Commission ও Department of Immigration
& Passports দ্বারা পরিচালিত। মোবাইল ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিস
(bKash, Nagad) -এ লেনদেন নিরাপত্তায় ফেইস ও ফিঙ্গারপ্রিন্ট অথেনটিকেশন ব্যবহৃত হচ্ছে।
টাচস্ক্রিন প্রযুক্তির প্রকারভেদ
টাচস্ক্রিনে স্পর্শ শনাক্ত করার পদ্ধতির ভিত্তিতে কয়েকটি প্রকারভেদ রয়েছে।
Resistive Touchscreen-এ দুটি পরিবাহী স্তর চাপের সাহায্যে যুক্ত হয়ে স্পর্শ শনাক্ত করে; এটি স্টাইলাস বা যেকোনো বস্তু দিয়ে কাজ করে কিন্তু মাল্টি-টাচ সমর্থন করে না।
Capacitive Touchscreen মানব শরীরের বিদ্যুৎ পরিবাহিতা ব্যবহার করে স্পর্শ শনাক্ত করে; স্মার্টফোন ও আধুনিক ট্যাবলেটে এই প্রযুক্তি প্রচলিত এবং এটি মাল্টি-টাচ সমর্থন করে।
Infrared Touchscreen-এ স্ক্রিনের চারপাশে ইনফ্রারেড রশ্মির গ্রিড থাকে; স্পর্শ এই রশ্মি বাধাগ্রস্ত করে অবস্থান শনাক্ত করে।
Surface Acoustic Wave-এ অতিশব্দ তরঙ্গ ব্যবহৃত হয়। ATM,
কিয়স্ক ও পয়েন্ট-অব-সেল মেশিনে বিভিন্ন প্রযুক্তির টাচস্ক্রিন ব্যবহৃত হয়।
ভার্চুয়াল ও অগমেন্টেড রিয়েলিটি পেরিফেরাল
ভার্চুয়াল রিয়েলিটি (VR)
ও অগমেন্টেড রিয়েলিটি (AR)
প্রযুক্তির বিকাশের সঙ্গে বিশেষ ধরনের পেরিফেরাল আবির্ভূত হয়েছে।
Head-Mounted Display (HMD) ব্যবহারকারীর মাথায় পরা একটি ডিসপ্লে ইউনিট, যা ত্রিমাত্রিক ভার্চুয়াল পরিবেশ প্রদর্শন করে;
Meta Quest, HTC Vive ও Sony PlayStation VR এর জনপ্রিয় উদাহরণ। Data
Gloves বিশেষ গ্লাভস যা হাতের নড়াচড়া ও আঙুলের অবস্থান শনাক্ত করে ভার্চুয়াল জগতে ইনপুট প্রদান করে।
Motion Controller গেমিং ও সিমুলেশনে শরীরের নড়াচড়া ক্যাপচার করে। অগমেন্টেড রিয়েলিটিতে স্মার্ট চশমা
(Google Glass, Microsoft HoloLens) বাস্তব জগতের উপর ডিজিটাল তথ্য ওভারলে করে।
AR/VR পেরিফেরাল শিক্ষা, চিকিৎসা প্রশিক্ষণ, স্থাপত্য পরিকল্পনা, সামরিক সিমুলেশন ও বিনোদনে ব্যাপক ব্যবহৃত হচ্ছে। এদের ছবিগুলো জীবন্ত ও বাস্তবসম্মত দেখানোর জন্য ত্রিমাত্রিক রেন্ডারিং প্রযুক্তি ব্যবহৃত হয়।
পাওয়ার ও কুলিং পেরিফেরাল
কম্পিউটারের নিরবচ্ছিন্ন কাজ ও দীর্ঘ আয়ুর জন্য বিদ্যুৎ ও তাপ ব্যবস্থাপনা অপরিহার্য।
Uninterruptible Power Supply (UPS) হলো একটি ব্যাটারি-ভিত্তিক ব্যাকআপ সিস্টেম, যা মূল বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ হলেও কম্পিউটারকে সাময়িকভাবে চালু রাখে এবং সিস্টেমকে নিরাপদে শাটডাউন করতে সময় দেয়। এটি বিদ্যুৎ ভোল্টেজের ওঠানামা থেকে কম্পিউটারকে রক্ষা করে। UPS-এর তিনটি প্রকার রয়েছে:
Offline UPS, Line-Interactive UPS ও
Online UPS।
কুলিং পেরিফেরাল কম্পিউটারের অভ্যন্তরীণ তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণ করে। Heat
Sink ধাতব পাতের গঠন, যা সিপিইউ ও জিপিইউ থেকে তাপ শোষণ করে; এর সঙ্গে যুক্ত
Cooling Fan সেই তাপ বাতাসে বহিষ্কার করে। উচ্চক্ষমতাসম্পন্ন গেমিং ও সার্ভার কম্পিউটারে
Liquid Cooling বা ওয়াটার কুলিং সিস্টেম ব্যবহৃত হয়, যেখানে তরল কুল্যান্ট পাইপের মধ্য দিয়ে তাপ পরিবহন করে। অত্যধিক তাপ কম্পিউটারের জন্য ক্ষতিকর; ধুলো, পানি ও ভাইরাসও কম্পিউটারের ক্ষতি করতে পারে।
|
UPS-এর প্রকারভেদ Offline (Standby) UPS: সাশ্রয়ী, ঘরোয়া কম্পিউটারের জন্য উপযোগী; পাওয়ার যাওয়ার পর ব্যাটারিতে স্থানান্তর হয় ৪-৮ মিলিসেকেন্ডে। Line-Interactive UPS: ভোল্টেজ রেগুলেশন প্রদান করে, ছোট ব্যবসা ও অফিসে ব্যবহৃত। Online (Double-Conversion) UPS: সর্বোচ্চ মানের সুরক্ষা প্রদান করে; ডেটা সেন্টার, ব্যাংক ও হাসপাতালে ব্যবহৃত। কোনো পরিবর্তন সময় নেই। |
স্মার্ট ও IoT পেরিফেরাল
Internet of Things
(IoT) যুগে বহু পেরিফেরাল এখন ইন্টারনেট-সংযুক্ত ও বুদ্ধিমান হয়ে উঠেছে।
Smart Speaker (Amazon Echo, Google Home) ভয়েস কমান্ড গ্রহণ করে এবং AI-ভিত্তিক উত্তর প্রদান করে; এগুলো ইনপুট ও আউটপুট উভয় কাজ করে।
Smart Display, Smart TV ও Smart Refrigerator ইন্টারনেট ব্যবহার করে রিয়েল-টাইম তথ্য প্রদর্শন করে।
Wearable Devices যেমন Apple Watch, Fitbit, Smart
Glasses শরীরের তথ্য সংগ্রহ ও প্রদর্শন উভয় কাজ করে।
নিরাপত্তা ক্ষেত্রে IP
Camera ও
Smart Doorbell দূরবর্তী মনিটরিং, ক্লাউড-স্টোরেজ ও মোবাইল অ্যাপ-ভিত্তিক নিয়ন্ত্রণ প্রদান করে। শিল্প-পর্যায়ে IoT-যুক্ত সেন্সর কারখানার যন্ত্রপাতি, পরিবেশ ও ইনভেন্টরি মনিটর করে। বাংলাদেশে স্মার্ট মিটার
(BREB), স্মার্ট সিটি প্রকল্প (পূর্বাচল) ও
Precision Agriculture-এ IoT পেরিফেরাল ব্যবহার বৃদ্ধি পাচ্ছে।
Precision Agriculture-এ মূলত IoT সেন্সর প্রযুক্তি ব্যবহৃত হয়।
পেরিফেরাল রক্ষণাবেক্ষণ ও ই-বর্জ্য
পেরিফেরাল ডিভাইসের দীর্ঘ আয়ুর জন্য নিয়মিত পরিষ্কার ও সঠিক ব্যবহার গুরুত্বপূর্ণ। কীবোর্ড ও মাউসে নিয়মিত ধুলো জমে; কম্প্রেসড এয়ার ও মাইক্রোফাইবার কাপড় দিয়ে পরিষ্কার করতে হয়। মনিটর স্ক্রিনে অ্যান্টি-স্ট্যাটিক ক্লিনার ব্যবহার করতে হয়; সাধারণ পানি বা অ্যালকোহল-ভিত্তিক ক্লিনার ক্ষতিকর হতে পারে। প্রিন্টার-হেডে কালি শুকিয়ে গেলে নিয়মিত প্রিন্ট হেড ক্লিনিং চালানো প্রয়োজন। হার্ডডিস্কে সঞ্চিত ডেটা এলোমেলো হয়ে গেলে ডিস্ক ডিফ্রাগমেন্টেশন চালালে ফাইলগুলো পুনর্বিন্যস্ত হয় এবং অ্যাকসেস গতি বাড়ে; তবে SSD-তে ডিফ্রাগমেন্টেশন প্রয়োজন নেই।
ই-বর্জ্য
(e-waste) বর্তমান বিশ্বের অন্যতম দ্রুত বর্ধনশীল পরিবেশ সমস্যা। UN
Global E-waste Monitor 2024 অনুসারে, ২০২২ সালে বিশ্বে প্রায় ৬২ মিলিয়ন টন ই-বর্জ্য উৎপন্ন হয়েছে, যার মাত্র ২২.৩% পুনর্ব্যবহার করা হয়েছে। পুরোনো মনিটর, ব্যাটারি, কেবল ও প্রিন্টার কার্ট্রিজে সীসা, পারদ, ক্যাডমিয়াম ও ব্রোমিনেটেড ফ্লেম রিটার্ডেন্টের মতো বিষাক্ত উপাদান থাকে, যা মাটি ও পানি দূষণ করে। বাংলাদেশে
Department of Environment ই-বর্জ্য ব্যবস্থাপনা বিধিমালা ২০২১ প্রণয়ন করেছে, যেখানে ই-বর্জ্যের সংগ্রহ ও পুনর্ব্যবহারের নির্দেশনা রয়েছে। পেরিফেরাল ব্যবহারকারী হিসেবে নিজের পুরোনো ডিভাইস নির্ধারিত সংগ্রহকেন্দ্রে জমা দেওয়া পরিবেশ রক্ষায় অপরিহার্য পদক্ষেপ।
পেরিফেরাল নিরাপত্তা ঝুঁকি
পেরিফেরাল ডিভাইসও সাইবার নিরাপত্তা ঝুঁকির বাহক হতে পারে। USB
Flash Drive মাধ্যমে ম্যালওয়্যার ছড়িয়ে পড়া বহু পুরোনো কৌশল;
Stuxnet ভাইরাস ২০১০ সালে এই পদ্ধতিতে ইরানের পারমাণবিক কেন্দ্রে ছড়িয়ে পড়েছিল।
Keylogger নামক হার্ডওয়্যার বা সফটওয়্যার কীবোর্ডের প্রতিটি টাইপ রেকর্ড করে পাসওয়ার্ড ও সংবেদনশীল তথ্য চুরি করে।
Rubber Ducky জাতীয় বিশেষ ডিভাইস USB কীবোর্ড হিসেবে প্রবেশ করে স্বয়ংক্রিয় ম্যালিশিয়াস কমান্ড চালাতে পারে।
আধুনিক ডিসপ্লে ও কীবোর্ডের বৈদ্যুতিক বিকিরণ থেকেও তথ্য ফাঁস হতে পারে, যা
TEMPEST আক্রমণ নামে পরিচিত। তারবিহীন পেরিফেরাল
(Bluetooth keyboard, mouse) -এ ম্যান-ইন-দ্য-মিডল আক্রমণের ঝুঁকি থাকে যদি যথাযথ এনক্রিপশন না থাকে। এসব ঝুঁকি প্রতিরোধে অজানা USB ডিভাইস না লাগানো, নিয়মিত অ্যান্টিভাইরাস স্ক্যান করা এবং USB পোর্ট ডিজেবল করা গুরুত্বপূর্ণ সুরক্ষা ব্যবস্থা।
প্রশ্ন ও উত্তর
প্রশ্ন: পেরিফেরাল ডিভাইস কী?
উত্তর: কম্পিউটারের সঙ্গে সংযুক্ত যেসব বহিরাগত হার্ডওয়্যার ইনপুট, আউটপুট, সংরক্ষণ বা যোগাযোগের কাজ করে কিন্তু সিপিইউ ও প্রধান মেমোরির অংশ নয়, তাদের পেরিফেরাল ডিভাইস বলে।
প্রশ্ন: কম্পিউটারের ভৌত উপাদানগুলোকে কী বলা হয়?
উত্তর: হার্ডওয়্যার (Hardware)।
প্রশ্ন: কম্পিউটারের মেকানিক্যাল ডিভাইস কাকে বলা হয়?
উত্তর: হার্ডওয়্যার।
প্রশ্ন: কোনটি হার্ডওয়্যার নয়?
উত্তর: MS Word, Windows, PowerPoint (এগুলো সফটওয়্যার)।
প্রশ্ন: কোনটি ইনপুট ডিভাইস?
উত্তর: কীবোর্ড, মাউস, স্ক্যানার, মাইক্রোফোন।
প্রশ্ন: কোনটি ইনপুট ডিভাইস নয়?
উত্তর: মনিটর, প্রিন্টার, স্পিকার।
প্রশ্ন: কম্পিউটারের সবচেয়ে প্রচলিত ইনপুট ডিভাইস কোনটি?
উত্তর: কীবোর্ড।
প্রশ্ন: মাউস কোন ধরনের ডিভাইস?
উত্তর: ইনপুট ডিভাইস।
প্রশ্ন: মাউসের আবিষ্কারক কে?
উত্তর: Douglas Engelbart (১৯৬৪)।
প্রশ্ন: স্ক্যানার কোন ধরনের ডিভাইস?
উত্তর: ইনপুট ডিভাইস।
প্রশ্ন: জয়স্টিক কোন ধরনের ডিভাইস?
উত্তর: ইনপুট ডিভাইস (গেমিং)।
প্রশ্ন: ওয়েবক্যাম কোন ধরনের ডিভাইস?
উত্তর: ইনপুট ডিভাইস।
প্রশ্ন: কম্পিউটারের ইনপুট ডিভাইসগুলোর উদাহরণ কী?
উত্তর: কী-বোর্ড, মাউস, ওয়েবক্যাম, স্ক্যানার, মাইক্রোফোন, জয়স্টিক।
প্রশ্ন: কীবোর্ডে কতটি ফাংশন কী থাকে?
উত্তর: ১২টি (F1 থেকে F12)।
প্রশ্ন: ফাংশন কী নির্দেশক চিহ্ন কোনগুলো?
উত্তর: F1 হতে
F12।
প্রশ্ন: বেশিরভাগ প্রোগ্রামে কোন ফাংশন কী HELP কী
হিসেবে ব্যবহৃত হয়?
উত্তর: F1।
প্রশ্ন: MS PowerPoint-এ slideshow শুরু করার ফাংশন কী কোনটি?
উত্তর: F5।
প্রশ্ন: কম্পিউটারের সংরক্ষণ (Save) কী
বাটন কোনটি?
উত্তর: F12 (Save As) অথবা Ctrl+S।
প্রশ্ন: Shift, Ctrl, Alt কী-গুলোকে কী বলা হয়?
উত্তর: Modifier Key।
প্রশ্ন: ইংরেজিতে সব অক্ষর ক্যাপিটাল লেটারে লেখার জন্য কোন বাটন চাপতে হবে?
উত্তর: Caps Lock।
প্রশ্ন: কম্পিউটারে টাইপ করার সময় মুছে গেলে পুনরায় আনতে কোন কমান্ড?
উত্তর: Ctrl + Z (Undo)।
প্রশ্ন: MS Word-এ
কপি করার শর্টকাট কোনটি?
উত্তর: Ctrl + C।
প্রশ্ন: MS Word-এ
Find option আনতে কোন বাটন চাপতে হবে?
উত্তর: Ctrl + F।
প্রশ্ন: সব কন্টেন্ট সিলেক্ট করতে কোন কমান্ড?
উত্তর: Ctrl + A।
প্রশ্ন: Ctrl + End চাপ দিলে কার্সর কোথায় যায়?
উত্তর: ডকুমেন্টের শেষে।
প্রশ্ন: কোনো লাইনের শুরুতে যেতে কোন কী চাপতে হয়?
উত্তর: Home Key।
প্রশ্ন: ফাইল স্থায়ীভাবে Delete করতে
কোন বাটন?
উত্তর: Shift + Delete।
প্রশ্ন: কম্পিউটার Reboot করতে
কোন কমান্ড?
উত্তর: Ctrl + Alt + Del।
প্রশ্ন: Print Dialog খুলতে কোন কমান্ড?
উত্তর: Ctrl + P।
প্রশ্ন: কোনটি আউটপুট ডিভাইস?
উত্তর: মনিটর, প্রিন্টার, স্পিকার, প্লটার, প্রজেক্টর।
প্রশ্ন: মনিটর কী ধরনের ডিভাইস?
উত্তর: আউটপুট ডিভাইস।
প্রশ্ন: প্রিন্টার কী ধরনের ডিভাইস?
উত্তর: আউটপুট ডিভাইস।
প্রশ্ন: সবচেয়ে সাধারণ আউটপুট ডিভাইস কোনটি?
উত্তর: মনিটর।
প্রশ্ন: কম্পিউটার থেকে নির্গত মুদ্রিত আউটপুটকে কী বলে?
উত্তর: Hard Copy।
প্রশ্ন: স্ক্রিনে প্রদর্শিত আউটপুটকে কী বলে?
উত্তর: Soft Copy।
প্রশ্ন: মনিটরে দৃশ্যমান ছবির গুণগত মান কোন যন্ত্রাংশের ক্ষমতার উপর নির্ভর করে?
উত্তর: VGA Card।
প্রশ্ন: LED কোথায়
ব্যবহৃত হয়?
উত্তর: কম্পিউটার মনিটরে।
প্রশ্ন: CRT, LED, LCD কী?
উত্তর: ডিসপ্লে স্ক্রিনের সাধারণ প্রকার (display screens)।
প্রশ্ন: রঙিন মনিটরের প্রতিটি পিক্সেলে কতটি রঙের ডট থাকে?
উত্তর: ৩টি (Red, Green, Blue)।
প্রশ্ন: প্রিন্টারের আউটপুট মান পরিমাপের একক কী?
উত্তর: DPI (Dots Per Inch)।
প্রশ্ন: সবচেয়ে দ্রুতগতির প্রিন্টার কোনটি?
উত্তর: লেজার প্রিন্টার (Laser Printer)।
প্রশ্ন: সবচেয়ে দ্রুতগতিতে উন্নতমানের প্রিন্ট প্রদানে সক্ষম কোন প্রিন্টার?
উত্তর: লেজার প্রিন্টার।
প্রশ্ন: লেজার প্রিন্টারকে কী হিসেবেও চিনে?
উত্তর: Page Printer।
প্রশ্ন: কোন প্রিন্টারে কালি ব্যবহৃত হয় না?
উত্তর: Thermal Printer।
প্রশ্ন: Impact Printer-এর উদাহরণ কোনটি?
উত্তর: Dot Matrix Printer, Daisy Wheel Printer।
প্রশ্ন: Non-Impact Printer-এর উদাহরণ?
উত্তর: Inkjet, Laser, Thermal Printer।
প্রশ্ন: কোনটি একইসাথে ইনপুট ও আউটপুট ডিভাইস হিসেবে কাজ করে?
উত্তর: টাচস্ক্রিন, মডেম।
প্রশ্ন: মডেম কী ধরনের ডিভাইস?
উত্তর: ইনপুট ও আউটপুট উভয় ডিভাইস।
প্রশ্ন: টাচস্ক্রিন কী ধরনের ডিভাইস?
উত্তর: ইনপুট ও আউটপুট উভয় ডিভাইস।
প্রশ্ন: কম্পিউটারের স্টোরেজ ডিভাইস কোনটি?
উত্তর: হার্ডডিস্ক, পেনড্রাইভ, SSD, CD/DVD, মেমোরি কার্ড।
প্রশ্ন: সবচেয়ে দ্রুতগতির স্টোরেজ ডিভাইস কোনটি?
উত্তর: SSD (Solid State Drive)।
প্রশ্ন: Solid State Drive (SSD) কী?
উত্তর: ফ্ল্যাশ মেমোরি-ভিত্তিক স্টোরেজ ডিভাইস।
প্রশ্ন: কোনটি স্টোরেজ ডিভাইস নয়?
উত্তর: র্যাম (RAM)।
প্রশ্ন: কোনটি সেকেন্ডারি স্টোরেজ ডিভাইস নয়?
উত্তর: RAM।
প্রশ্ন: DVD কোন
ধরনের স্মৃতি?
উত্তর: সহায়ক স্মৃতি (সেকেন্ডারি স্টোরেজ)।
প্রশ্ন: কোনটি অপটিক্যাল স্টোরেজ ডিভাইস?
উত্তর: CD ROM, DVD।
প্রশ্ন: CD-ROM-এ
ফাইল কপি করার প্রক্রিয়াকে কী বলা হয়?
উত্তর: Burning।
প্রশ্ন: DVD-এর
পূর্ণরূপ কী?
উত্তর: Digital Versatile Disc।
প্রশ্ন: হার্ড ডিস্ক মাপার একক কী?
উত্তর: গিগাবাইট (GB), টেরাবাইট
(TB)।
প্রশ্ন: হার্ড ডিস্কের পৃষ্ঠকে যে কেন্দ্রিক বৃত্তে ভাগ করা হয় তাকে কী বলে?
উত্তর: ট্র্যাক (Track)।
প্রশ্ন: হার্ড ডিস্কের ট্র্যাককে আবার যেসব অংশে ভাগ করা হয় তাকে কী বলে?
উত্তর: সেক্টর (Sector)।
প্রশ্ন: হার্ড ডিস্কের একটি সেক্টরের আকার কত?
উত্তর: ৫১২ Byte।
প্রশ্ন: ডিস্ক ডিফ্রাগমেন্টেশন কেন ব্যবহৃত হয়?
উত্তর: ডিস্কের ফাইলগুলোকে পুনর্বিন্যস্ত করার জন্য।
প্রশ্ন: Google Drive কোন ধরনের স্টোরেজ?
উত্তর: ক্লাউড স্টোরেজ।
প্রশ্ন: DVD-তে
কত পরিমাণ ডেটা ধারণক্ষমতা থাকে?
উত্তর: প্রায় ৪.৭ গিগাবাইট (সিঙ্গেল-লেয়ার)।
প্রশ্ন: কম্পিউটারের অস্থায়ী মেমোরি কোনটি?
উত্তর: RAM।
প্রশ্ন: কম্পিউটারের স্থায়ী স্মৃতিশক্তিকে কী বলে?
উত্তর: ROM।
প্রশ্ন: কম্পিউটারে ব্যবহৃত ক্ষুদ্রতম মেমোরি কী?
উত্তর: Register।
প্রশ্ন: CPU ও
প্রধান মেমোরির মধ্যে বাফার হিসেবে কোন মেমোরি কাজ করে?
উত্তর: Cache Memory।
প্রশ্ন: ইন্টারনেট ব্যবহারের ফলে কুকিজ ও টেম্পোরারি ফাইল কোথায় জমা হয়?
উত্তর: ব্রাউজারের ক্যাশ মেমরিতে।
প্রশ্ন: ১ Byte = কত Bit?
উত্তর: ৮ Bit।
প্রশ্ন: ১ Nibble = কত Bit?
উত্তর: ৪ Bit।
প্রশ্ন: ১ KB = কত Byte?
উত্তর: ১০২৪ Byte।
প্রশ্ন: ১ MB = কত KB?
উত্তর: ১০২৪ KB।
প্রশ্ন: ১ GB = কত MB?
উত্তর: ১০২৪ MB।
প্রশ্ন: কম্পিউটারের মেমরির ধারণক্ষমতা প্রকাশের একক কী?
উত্তর: বাইট (Byte)।
প্রশ্ন: সবচেয়ে দ্রুত গতিসম্পন্ন মেমোরি কী?
উত্তর: Cache Memory (এর পরে RAM)।
প্রশ্ন: ROM-ভিত্তিক
প্রোগ্রামের নাম কী?
উত্তর: Firmware।
প্রশ্ন: মুদ্রিত লেখা সরাসরি ইনপুট নেওয়ার জন্য কোনটি ব্যবহৃত হয়?
উত্তর: OCR (Optical Character Recognition)।
প্রশ্ন: কোন পেরিফেরাল ডিভাইস মুদ্রিত লেখা পড়তে অপটিক্যাল প্রযুক্তি ব্যবহার করে?
উত্তর: OCR।
প্রশ্ন: MICR-এর
পূর্ণরূপ কী?
উত্তর: Magnetic Ink Character Recognition
(Reader)।
প্রশ্ন: ব্যাংকিং শিল্পে কোন ধরনের স্ক্যানার ব্যবহৃত হয়?
উত্তর: MICR।
প্রশ্ন: MCQ পরীক্ষার
উত্তরপত্র পরীক্ষা করতে কোন প্রযুক্তি ব্যবহৃত হয়?
উত্তর: OMR।
প্রশ্ন: USB-এর
পূর্ণরূপ কী?
উত্তর: Universal Serial Bus।
প্রশ্ন: USB কোন
ধরনের স্টোরেজ ডিভাইস?
উত্তর: Secondary Storage।
প্রশ্ন: আধুনিক ওয়্যারড ইথারনেট সংযোগের সবচেয়ে প্রচলিত পোর্ট কোনটি?
উত্তর: RJ45।
প্রশ্ন: HDMI-এর
পূর্ণরূপ কী?
উত্তর: High Definition Multimedia Interface।
প্রশ্ন: HDMI পোর্টের
ব্যবহার নয় কোনটি?
উত্তর: LAN Network।
প্রশ্ন: ইন্টারনেটে সংযুক্ত করতে কোন যন্ত্রাংশ আবশ্যক?
উত্তর: মডেম (Modem)।
প্রশ্ন: মডেম হচ্ছে কী?
উত্তর: তথ্য আদান-প্রদানের যন্ত্র (Modulator + Demodulator)।
প্রশ্ন: মডেমের ভিতরে কী থাকে?
উত্তর: একটি মডুলেটর ও একটি ডিমডুলেটর।
প্রশ্ন: তড়িৎ শক্তি শব্দ শক্তিতে রূপান্তরিত হয় কোন যন্ত্রের মাধ্যমে?
উত্তর: লাউড স্পিকার।
প্রশ্ন: শব্দ শক্তিকে তড়িৎ শক্তিতে রূপান্তর করে কোনটি?
উত্তর: মাইক্রোফোন।
প্রশ্ন: BIOS-এর
পূর্ণরূপ কী?
উত্তর: Basic Input/Output System।
প্রশ্ন: কম্পিউটারের মস্তিষ্ক বলা হয় কোনটিকে?
উত্তর: মাইক্রোপ্রসেসর (CPU)।
প্রশ্ন: UPS-এর
কাজ কী?
উত্তর: বিদ্যুৎ ব্যাকআপ দেওয়া।
প্রশ্ন: UPS-এর
পূর্ণরূপ কী?
উত্তর: Uninterruptible Power Supply।
প্রশ্ন: কম্পিউটারে গণনার একক কোনটি?
উত্তর: বিট (Bit)।
প্রশ্ন: কম্পিউটারের প্রধান মেমোরি কোথায় থাকে?
উত্তর: মাইক্রোপ্রসেসরের বাইরে থাকে।
প্রশ্ন: RAM কোথায়
থাকে?
উত্তর: সিপিইউতে (মাদারবোর্ডে)।
প্রশ্ন: কম্পিউটারের প্রধান অংশ নয় কোনটি?
উত্তর: প্রিন্টার।
প্রশ্ন: মাদারবোর্ডের অংশ নয় কোনটি?
উত্তর: পাওয়ার সাপ্লাই।
প্রশ্ন: সবচেয়ে বেশি ডেটা ধারণক্ষমতাসম্পন্ন মাধ্যম কোনটি?
উত্তর: ডিজিটাল ভিডিও ডিস্ক (DVD/Blu-ray)।
প্রশ্ন: প্রথম আধুনিক ইলেকট্রনিক কম্পিউটারের নাম কী?
উত্তর: ENIAC।
প্রশ্ন: বাংলাদেশে প্রথম স্থাপিত কম্পিউটারের নাম কী?
উত্তর: IBM-1620।
প্রশ্ন: বাংলা টাইপিং সফটওয়্যার কোনটি?
উত্তর: বিজয়, অভ্র, বিজয় বায়ান্ন।
প্রশ্ন: বাংলা টাইপিং সফটওয়্যার নয় কোনটি?
উত্তর: Google Keyboard।
প্রশ্ন: দৃষ্টিহীনদের জন্য বাংলার প্রথম সফটওয়্যার কোনটি?
উত্তর: আইসাইট।
প্রশ্ন: ফিঙ্গারপ্রিন্ট স্ক্যানার কী ধরনের ডিভাইস?
উত্তর: বায়োমেট্রিক ইনপুট ডিভাইস।
প্রশ্ন: জাতীয় পরিচয়পত্র (NID)-এ
কোন বায়োমেট্রিক ডেটা ব্যবহৃত হয়?
উত্তর: ফিঙ্গারপ্রিন্ট ও আইরিস স্ক্যান।
প্রশ্ন: স্মার্টফোনে সবচেয়ে প্রচলিত টাচস্ক্রিন প্রযুক্তি কোনটি?
উত্তর: Capacitive Touchscreen।
প্রশ্ন: মাল্টি-টাচ সমর্থন করে কোন টাচস্ক্রিন?
উত্তর: Capacitive Touchscreen।
প্রশ্ন: VR-এ
মাথায় পরা ডিভাইসকে কী বলে?
উত্তর: Head-Mounted Display (HMD)।
প্রশ্ন: ভার্চুয়াল রিয়েলিটিতে কী ধরনের ইমেজ তৈরি হয়?
উত্তর: ত্রি-মাত্রিক।
প্রশ্ন: UPS-এর
প্রকার কয়টি?
উত্তর: তিনটি: Offline, Line-Interactive, Online।
প্রশ্ন: ডেটা সেন্টারে কোন ধরনের UPS ব্যবহৃত
হয়?
উত্তর: Online (Double-Conversion) UPS।
প্রশ্ন: CPU থেকে
তাপ অপসারণ করতে কোন উপাদান ব্যবহৃত হয়?
উত্তর: Heat Sink ও Cooling Fan।
প্রশ্ন: উচ্চক্ষমতার গেমিং পিসিতে কোন কুলিং সিস্টেম ব্যবহৃত হয়?
উত্তর: Liquid Cooling বা ওয়াটার কুলিং।
প্রশ্ন: কম্পিউটারের জন্য ক্ষতিকর কী?
উত্তর: অত্যধিক তাপ, ধুলো, পানি, ভাইরাস।
প্রশ্ন: Precision Agriculture-এ সাধারণত কোন প্রযুক্তি ব্যবহৃত হয়?
উত্তর: IoT, সেন্সর।
প্রশ্ন: IoT-এর
পূর্ণরূপ কী?
উত্তর: Internet of Things।
প্রশ্ন: Smart Speaker কোন ধরনের ডিভাইস?
উত্তর: I/O উভয়
ডিভাইস (ভয়েস ইনপুট, অডিও আউটপুট)।
প্রশ্ন: HDD-এ
ডেটা এলোমেলো হলে কোন প্রক্রিয়া ব্যবহার করা হয়?
উত্তর: Disk Defragmentation।
প্রশ্ন: SSD-তে
কি ডিফ্রাগমেন্টেশন প্রয়োজন?
উত্তর: প্রয়োজন নেই।
প্রশ্ন: ই-বর্জ্যে কোন বিষাক্ত উপাদান থাকে?
উত্তর: সীসা, পারদ, ক্যাডমিয়াম।
প্রশ্ন: USB-এর
মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া বিখ্যাত ভাইরাসের নাম কী?
উত্তর: Stuxnet (২০১০)।
প্রশ্ন: কী-বোর্ডের প্রতিটি টাইপ রেকর্ড করে এমন ম্যালওয়্যারের নাম কী?
উত্তর: Keylogger।
প্রশ্ন: Spyware-এর
উদাহরণ কোনটি?
উত্তর: Key loggers।
চটজলদি রিভিশন
● পেরিফেরাল = কম্পিউটারের সঙ্গে যুক্ত বহিরাগত হার্ডওয়্যার যন্ত্র।
● চার শ্রেণি: ইনপুট, আউটপুট, I/O
উভয়, স্টোরেজ।
● ইনপুট ডিভাইস: কীবোর্ড, মাউস, স্ক্যানার, মাইক, ওয়েবক্যাম, জয়স্টিক,
OMR, OCR, MICR।
● আউটপুট ডিভাইস: মনিটর, প্রিন্টার, স্পিকার, প্লটার, প্রজেক্টর।
● I/O উভয় ডিভাইস: মডেম, টাচস্ক্রিন,
NIC, USB ফ্ল্যাশ ড্রাইভ,
MFP, হেডসেট।
● স্টোরেজ ডিভাইস:
HDD, SSD, পেনড্রাইভ, CD, DVD, মেমোরি কার্ড, ক্লাউড।
● কীবোর্ডে ফাংশন কী ১২টি (F1:
F12); F1 = Help, F5 = Refresh/Slideshow, F12 = Save As।
● Modifier
Keys: Shift, Ctrl, Alt।
● মাউস আবিষ্কার:
Douglas Engelbart, ১৯৬৪।
● OMR =
Optical Mark Reader; OCR = Optical Character Recognition; MICR = ব্যাংক চেক।
● মনিটরে ছবির মান নির্ভর করে VGA
Card-এর উপর।
● মনিটর প্রকার: CRT
→ LCD → LED → OLED → QLED।
● পিক্সেলে ৩টি রঙ: লাল, সবুজ, নীল
(RGB)।
● প্রিন্টার মান =
DPI; লেজার প্রিন্টার সবচেয়ে দ্রুত
(Page Printer)।
● কালিবিহীন একমাত্র প্রিন্টার:
Thermal Printer।
● Impact:
Dot Matrix, Daisy Wheel। Non-Impact: Inkjet, Laser,
Thermal।
● Hard
Copy = কাগজে মুদ্রিত আউটপুট;
Soft Copy = স্ক্রিনে দৃশ্যমান।
● RAM =
অস্থায়ী, ROM
= স্থায়ী;
ROM-প্রোগ্রাম =
Firmware; BIOS ROM-এ থাকে।
● SSD
HDD-র চেয়ে দ্রুত; সবচেয়ে দ্রুত স্টোরেজ =
SSD (Cache & Register দ্রুততম মেমোরি)।
● হার্ড ডিস্কে
Track-Sector গঠন; ১ সেক্টর = ৫১২ Byte।
● CD-ROM-এ ফাইল কপি =
Burning; অপটিক্যাল স্টোরেজ লেজার ব্যবহার করে।
● DVD =
Digital Versatile Disc, সহায়ক স্মৃতি।
● RAM সেকেন্ডারি স্টোরেজ নয়; এটি প্রাইমারি ও অস্থায়ী।
● Storage
একক ক্রম: Bit
< Nibble (4) < Byte (8) < KB (1024 B) < MB < GB < TB < PB।
● USB =
Universal Serial Bus; USB4/Thunderbolt 4 = 40 Gbps।
● Ethernet
পোর্ট =
RJ45; HDMI = High Definition Multimedia Interface।
● HDMI দিয়ে LAN নেটওয়ার্ক চলে না।
● মডেম ইনপুট-আউটপুট উভয় ডিভাইস; এর মধ্যে আছে
Modulator + Demodulator।
● স্পিকার তড়িৎ → শব্দ; মাইক্রোফোন শব্দ → তড়িৎ।
● LED মনিটরের ব্যাকলাইটে ব্যবহৃত।
● BIOS
= Basic Input/Output System; UPS = বিদ্যুৎ ব্যাকআপ।
● কম্পিউটারের মস্তিষ্ক = মাইক্রোপ্রসেসর/CPU।
● বাংলাদেশে প্রথম কম্পিউটার IBM
1620 (১৯৬৪, পরমাণু শক্তি কেন্দ্র)।
● বাংলা কীবোর্ড:
Bijoy (মোস্তফা জব্বার, ১৯৮৮),
Avro (মেহেদী হাসান খান, ২০০৩)।