আল মাহমুদ

Chapter Activity

Rating
New / 5
Reviews
0
Read Sessions
1
Readers
1

আল মাহমুদ

কবিতার সাধক | ইসলামি জাগরণের কবি

জীবন পরিচয়পটভূমি

জন্ম, শৈশবনামের ইতিহাস

১৯৩৬ সালের ১১ জুলাই ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার মোড়াইল গ্রামে জন্ম নেন আল মাহমুদতাঁর পুরো নাম মীর আবদুস শুকুর আল মাহমুদবাংলাদেশের সাহিত্যের ইতিহাসে 'আল মাহমুদ' নামটি আজ একটি প্রতিষ্ঠান

তাঁর পিতার নাম মীর আবদুর রব এবং মাতার নাম রওশন আরা মীরপরিবার ছিল মধ্যবিত্ত মুসলিমশৈশব থেকেই তিনি কবিতার প্রতি আকৃষ্ট হনব্রাহ্মণবাড়িয়ার গ্রামীণ পরিবেশ, নদী, মাঠ, ফসলের মাঠএই সব কিছু তাঁর কবিমানসকে গড়ে তুলেছিল

মাত্র সপ্তম শ্রেণিতে পড়ার সময়ই তাঁর কবিতা ঢাকার পত্রিকায় প্রকাশ পেতে শুরু করে। ১৯৫৪ সালে ম্যাট্রিক পাস করার পর সরাসরি ঢাকায় চলে আসেন এবং সাহিত্যকেই জীবনের পথ বেছে নেন

আল মাহমুদের প্রকৃত নামমীর আবদুস শুকুর আল মাহমুদ

জন্মস্থানমোড়াইল গ্রাম, ব্রাহ্মণবাড়িয়া

কর্মজীবনরাজনৈতিক জীবন

ঢাকায় এসে আল মাহমুদ সাংবাদিকতায় যুক্ত হনকাজ করেন 'দৈনিক মিল্লাত', 'কবি', 'দৈনিক গণকণ্ঠ' সহ বিভিন্ন পত্রিকায়। ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধে তিনি সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করেন

মুক্তিযুদ্ধের পর ১৯৭৫ সালে তিনি বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমিতে যোগ দেনদীর্ঘদিন এই প্রতিষ্ঠানে কর্মরত ছিলেনপরে পরিচালকের পদ অলঙ্কৃত করেন

রাজনৈতিক জীবনে তিনি বামপন্থী থেকে ক্রমে ইসলামি চেতনার দিকে ঝুঁকে পড়েনজীবনের শেষভাগে তিনি ইসলামি সাহিত্যদর্শন নিয়ে গভীরভাবে কাজ করেন

আল মাহমুদ ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধে সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করেন

মৃত্যুউত্তরাধিকার

২০১৯ সালের ১৫ ফেব্রুয়ারি ঢাকার ইবনে সিনা হাসপাতালে মৃত্যুবরণ করেন আল মাহমুদতাঁর বয়স হয়েছিল ৮২ বছরমৃত্যুর পর তাঁকে ঢাকায় মিরপুর বুদ্ধিজীবী কবরস্থানে সমাহিত করা হয়

তাঁর মৃত্যুতে বাংলা সাহিত্যের এক মহাযুগের অবসান হয়আধুনিক বাংলা কবিতায় তিনি যে স্থান নির্মাণ করে গেছেন, তা অতুলনীয়। 'সোনালি কাবিন' তাঁকে চিরকালের জন্য অমর করে রেখেছে

আল মাহমুদের মৃত্যু — ১৫ ফেব্রুয়ারি ২০১৯।

বিষয়

তথ্য

পূর্ণ নাম

মীর আবদুস শুকুর আল মাহমুদ

জন্ম

১১ জুলাই ১৯৩৬

জন্মস্থান

মোড়াইল গ্রাম, ব্রাহ্মণবাড়িয়া, বাংলাদেশ

মৃত্যু

১৫ ফেব্রুয়ারি ২০১৯

মৃত্যুস্থান

ইবনে সিনা হাসপাতাল, ঢাকা

পিতা

মীর আবদুর রব

মাতা

রওশন আরা মীর

পেশা

কবি, ঔপন্যাসিক, গল্পকার, সাংবাদিক

কর্মক্ষেত্র

দৈনিক গণকণ্ঠ, বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমি (পরিচালক)

বিখ্যাত গ্রন্থ

সোনালি কাবিন, লোক লোকান্তর, কালের কলস

প্রধান পুরস্কার

বাংলা একাডেমি পুরস্কার (১৯৬৮), একুশে পদক (১৯৮৬)

কাব্যগ্রন্থ

লোক লোকান্তর (১৯৬৩) [প্রথম কাব্যগ্রন্থ]

প্রকাশবিষয়বস্তু

১৯৬৩ সালে প্রকাশিত 'লোক লোকান্তর' আল মাহমুদের প্রথম কাব্যগ্রন্থএই গ্রন্থের মাধ্যমে বাংলা সাহিত্যে একটি নতুন কণ্ঠস্বর প্রতিষ্ঠিত হয়

'লোক লোকান্তর' মানে লোক থেকে লোকান্তরেঅর্থাএক জগথেকে আরেক জগতে যাত্রাকবিতাগুলোতে গ্রামীণ বাংলার চিত্র, নদী-মাঠের ছবি এবং সাধারণ মানুষের জীবনের কথা বলা হয়েছেপাশাপাশি আছে রোমান্টিক প্রেমজীবনের গভীর অনুভূতি

এই গ্রন্থের ভাষা একদম সরল কিন্তু ভেতরে গভীরতা অনেকগ্রামের কথ্যভাষাআঞ্চলিক শব্দ ব্যবহার করে কবি এমন এক কাব্যভাষা তৈরি করেন যা আগে বাংলায় দেখা যায়নিএই বৈশিষ্ট্যই আল মাহমুদকে আলাদা করে রাখে

লোক লোকান্তরআল মাহমুদের প্রথম কাব্যগ্রন্থ (১৯৬৩)।

কালের কলস (১৯৬৬) [দ্বিতীয় কাব্যগ্রন্থ]

কবিতার ভাবার্থবৈশিষ্ট্য

'কালের কলস' — সময়ের পাত্রএই কাব্যগ্রন্থে কবি সময়কে একটি কলসের সাথে তুলনা করেছেনযেভাবে কলসে জল থাকে, তেমনি কালের পাত্রে জমা থাকে স্মৃতি, অভিজ্ঞতাজীবনের সারাৎসার

এই গ্রন্থেও গ্রামীণ বাংলার চিত্র প্রধাননদীর পাড়ের জীবন, কৃষকের ঘাম, নারীর সৌন্দর্যসব মিলিয়ে এক পূর্ণাঙ্গ কাব্যজগৎ। কবির ভাষায় দেশজ শব্দের ব্যবহার আরও পরিপক্ব হয়েছে

কালের কলসআল মাহমুদের দ্বিতীয় কাব্যগ্রন্থ (১৯৬৬)।

সোনালি কাবিন (১৯৬৬) — মাস্টারপিস

ঐতিহাসিক গুরুত্বপ্রকাশ

'সোনালি কাবিন' আল মাহমুদের সবচেয়ে বিখ্যাত কাব্যগ্রন্থআসলে এটি একটি সনেট-সংকলন। ১৯৬৬ সালে প্রথম প্রকাশিত হলেও পরে বহুবার পুনর্মুদ্রিত হয়েছেবাংলা সাহিত্যের ইতিহাসে এটি একটি মাইলফলক

সোনালি কাবিনে মোট ১৪টি সনেট আছেএগুলোকে একসাথে 'সোনালি কাবিন' নামে ডাকা হয়প্রতিটি সনেট চৌদ্দ লাইনেরইতালীয়শেক্সপিরিয়ান সনেটের মিশেলে রচিত

সোনালি কাবিন কী? — সম্পূর্ণ ভাবার্থ

'কাবিন' শব্দটি এসেছে আরবি 'মহর' থেকেবিবাহে স্ত্রীকে যে অর্থ বা সম্পদ দেওয়া হয়কিন্তু আল মাহমুদের 'সোনালি কাবিন'-এ কাবিন হলো কবিতাকবি তাঁর প্রিয়তমাকে বলছেনআমি তোমাকে সোনার গয়না বা সম্পদ দিতে পারব না, কিন্তু আমার কবিতাই তোমার কাবিন

সনেটগুলোতে কবি একজন কৃষক-কবির দৃষ্টিতে তাঁর প্রেমিকাকে দেখেনপ্রেমিকা এখানে গ্রামীণ বাংলার মেয়েসে নদীর মতো চলে, ফসলের মাঠের মতো সবুজ, শিশিরের মতো পবিত্রকবির প্রেম এখানে দেহজআত্মিকউভয়ই

সোনালি কাবিনের অন্যতম বৈশিষ্ট্য হলো এতে ব্যবহৃত ভাষাকবি ব্যবহার করেছেন চট্টগ্রামব্রাহ্মণবাড়িয়ার আঞ্চলিক শব্দ। 'হাওয়া', 'তিতাস', 'মেঘনা', 'ভাটিয়াল' — এই শব্দগুলো পাঠকের মনে বাংলার মাটির গন্ধ এনে দেয়

সনেটগুলোতে প্রেমের পাশাপাশি আছে কৃষিজীবনের ছবিধান কাটার দৃশ্য, নদীতে নৌকা চলার ছবি, গ্রামীণ বধূর রান্নার ধোঁয়াএসব মিলিয়ে এক অনন্য কাব্যজগতৈরি হয়েছেপ্রেমকে কবি দেখেছেন কৃষির মতোবীজ বুনলে ফসল পাওয়া যায়

সোনালি কাবিনের ১নং সনেটে কবি বলেনআমি তোমাকে চাই, তুমি কি আসবে? তোমার জন্য আমার কাছে আছে শুধু কবিতাএই কবিতাই আমার সোনালি কাবিনএই প্রস্তাবনাই পুরো গ্রন্থের মূলসুর

সোনার দিনার নেই, দেনমোহর চেয়ো না হরিণী / যদি নাও, দিতে পারি কবিতার খাতা।”

আমার সোনালি কাবিন তোমার শাড়ির আঁচল জুড়ে ভরে দেব ফুলেপাতায়।”

সোনালি কাবিন = ১৪টি সনেটের সংকলনকাবিন = বিবাহের মহরকবিতাই এখানে কাবিন

সোনালি কাবিন বাংলা সাহিত্যের সর্বশ্রেষ্ঠ সনেট-সংকলনগুলোর একটি

সোনালি কাবিনে মোট ১৪টি সনেট আছে

প্রশ্ন: সোনালি কাবিনে মোট কতটি সনেট? ১৪টি সনেট

প্রশ্ন: 'কাবিন' শব্দের অর্থ? বিবাহে স্ত্রীকে প্রদেয় মহর বা সম্পদ

প্রশ্ন: সোনালি কাবিন প্রথম প্রকাশিত হয়? ১৯৬৬ সালে

মায়াবী পর্দা দুলে ওঠো (১৯৬৯) [কাব্যগ্রন্থ]

'মায়াবী পর্দা দুলে ওঠো' — এই নামটিই একটি কবিতার মতোজীবনের মায়াবী দিক, স্বপ্নের জগৎ, অধরা সৌন্দর্যের পেছনে ছুটে চলার ব্যাকুলতাএই সব অনুভূতি এই গ্রন্থে ধরা আছে

এই গ্রন্থে প্রেমপ্রকৃতির পাশাপাশি কবির আত্মিক অনুসন্ধানও আছেজীবন কী? সত্যিকারের সুন্দর কোথায়? এই প্রশ্নগুলো কবিতার ভেতর দিয়ে তোলা হয়েছে

আরব্য রজনীর রাজহাঁস (১৯৭৩) [কাব্যগ্রন্থ]

'আরব্য রজনীর রাজহাঁস' — নামটিই রূপকথার গন্ধ বহন করেআরব্য রজনীর মতো রহস্যময় জীবন, আর সেই জীবনে রাজহাঁসের মতো নির্ভীকসুন্দর পথচলা

এই গ্রন্থে কবি পৌরাণিকরূপকথার উপাদান ব্যবহার করে সমসাময়িক জীবনকে দেখেছেনমিথোলজিআধুনিকতার এই মেলবন্ধন আল মাহমুদের কাব্যশৈলীর অন্যতম বৈশিষ্ট্য

বখতিয়ারের ঘোড়া (১৯৭৫) [কাব্যগ্রন্থ]

পটভূমিসম্পূর্ণ ভাবার্থ

'বখতিয়ারের ঘোড়া' একটি ঐতিহাসিক প্রতীকের উপর দাঁড়ানো কাব্যগ্রন্থইখতিয়ার উদ্দিন মুহাম্মাদ বিন বখতিয়ার খলজিযিনি ১২০৩ সালে বাংলায় মুসলিম শাসন প্রতিষ্ঠা করেছিলেনতাঁর ঘোড়া এখানে প্রতীকী অর্থ বহন করে

বখতিয়ারের ঘোড়া মানে হলো দ্রুতগতির পরিবর্তন, ইতিহাসের চাকার ঘুরে যাওয়াকবি এই প্রতীক ব্যবহার করে বলেছেনইতিহাসের ঘোড়া থামে না, সময় বদলায়, সভ্যতা বদলায়

এই গ্রন্থে কবির ইসলামি চেতনা আরও স্পষ্ট হয়মুসলিম ঐতিহ্য, বাংলার ইসলামি ইতিহাস এবং সমসাময়িক রাজনৈতিক পরিস্থিতিসব মিলিয়ে এক জটিল কাব্যজগৎ।

বখতিয়ারের ঘোড়া আবার ছুটছে দিগন্তের দিকে, / ইতিহাসের পাতা উল্টে যাচ্ছে ঝড়ের বেগে।”

বখতিয়ারের ঘোড়াইখতিয়ার উদ্দিন বখতিয়ার খলজির প্রতীকে রচিত কাব্যগ্রন্থ

অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ কাব্যগ্রন্থ

কাব্যগ্রন্থ

প্রকাশকালবিষয়

মিথ্যেবাদী রাখাল

১৯৭৮ — ধর্মীয়আধ্যাত্মিক ভাবনা

একটি পাখি লাল ডানা

১৯৮০ — প্রেমপ্রকৃতির কবিতা

দ্বিতীয় ভাঙন

১৯৮৮ — ব্যক্তিজীবনের সংকটমুক্তি

প্রহরান্তের পাশ্ফেরা

১৯৮৮ — রাতদিনের সন্ধিক্ষণের কবিতা

নদীর ভেতরে নদী

১৯৯৫ — নদীকে জীবনের রূপক করা

পানকৌড়ির রক্ত

১৯৯৮ — প্রকৃতিমানবিক সম্পর্ক

বিরামহীন উৎসব

২০০০ — জীবনোৎসবের কবিতা

তোমার গন্ধে ফুলেছে কদম

২০০৩ — প্রেমআধ্যাত্মিকতার মিশেল

আমি, দূরগামী

২০০৮ — জীবনের দীর্ঘ যাত্রার কবিতা

না কোনো শূন্যতা নেই

২০১৩ — বিশ্বাসের কবিতা

বিখ্যাত কবিতা

সোনালি কাবিন (সনেট ১) [সর্বাধিক পঠিত কবিতা]

কবিতার পূর্ণ ভাবার্থ

এই সনেটে কবি তাঁর প্রেমিকাকে একটি অভিনব প্রস্তাব দেনতিনি বলেনহে প্রিয়তমা, আমি তোমাকে ভালোবাসিকিন্তু আমার কাছে সোনার দিনার নেই, হীরার অঙ্গুরী নেইআমি একজন কবিআমার সম্পদ শুধু কবিতা

তুমি কি আমার কবিতাকে কাবিন হিসেবে গ্রহণ করবে? এই 'সোনালি কাবিন' — সোনার মতো মূল্যবান কবিতার কাবিনএটি নেবে তোমাকে পরিয়ে দেব শব্দের গয়না, বাক্যের চুড়ি, ছন্দের নূপুর

এই সনেটে দেহআত্মার প্রেম একসাথে আছেকবি প্রিয়তমার শরীরের সৌন্দর্য দেখেনকিন্তু সেই দেখায় আছে পবিত্রতাগ্রামীণ নারীর সৌন্দর্যকে তিনি দেখেছেন ফসলের মাঠের মতোযেখানে পরিশ্রম আছে, সরলতা আছে, উর্বরতা আছে

কবি বলেনতোমার হাতের আঙুল দেখলে মনে হয় ধানের শীষতোমার চোখ দেখলে মনে হয় নদীর জলতুমি এই মাটির মেয়েতাই তোমার প্রেমে মাটির গন্ধ আছে

সোনার দিনার নেই, দেনমোহর চেয়ো না হরিণী / যদি নাও, দিতে পারি কবিতার খাতা।”

হাত বাড়াও হরিণী, ধরো এই হাত, / আমার সোনালি কাবিন নিয়ে যাও সাথে।”

প্রতিদিন ঘরহীন [বিখ্যাত কবিতা]

কবিতার পূর্ণ ভাবার্থ

'প্রতিদিন ঘরহীন' একটি গভীর অস্তিত্ববাদী কবিতাকবি বলছেনপ্রতিটি মানুষ আসলে ঘরহীনআমরা মনে করি আমাদের ঘর আছে, পরিবার আছে, ঠিকানা আছেকিন্তু প্রকৃতপক্ষে আমরা সবাই পথিকএই পৃথিবীতে ক্ষণিকের অতিথি

এই ঘরহীনতা একটা বেদনার কথাকিন্তু একই সাথে মুক্তিরও কথাযার ঘর নেই, সে বাধা নেইযে বাধামুক্ত, সে যে কোনো দিকে যেতে পারেকবি এই ঘরহীনতাকে নেতিবাচকভাবে নয়, ইতিবাচকভাবে দেখেন

কবিতায় আধুনিক নগরজীবনের একাকীত্বও আছেঢাকা শহরে আসা একজন গ্রামীণ কবির অভিজ্ঞতাভিড়ের মধ্যেও একা, হাজার মানুষের মাঝেও ঘরহীন

নোলক [বিখ্যাত প্রেমের কবিতা]

কবিতার পূর্ণ ভাবার্থ

'নোলক' মানে নাকের ফুল বা নাকছাবিগ্রামীণ বাংলার নারীরা নাকে পরেএই ছোট্ট গয়নাটিকে কেন্দ্র করে আল মাহমুদ রচনা করেছেন একটি অসাধারণ প্রেমের কবিতা

কবিতায় কবি দেখছেন তাঁর প্রিয়তমার নাকে নোলকসেই নোলকের চিকচিক করা দেখে তাঁর মনে পড়ে যায় গ্রামের নদী, ঘাসের ডগায় শিশির, ফসলের মাঠে আলোএকটি ছোট্ট গয়না কীভাবে পুরো একটা জীবনস্মৃতি বহন করেএটাই কবিতার মূল বিষয়

এই কবিতায় আল মাহমুদের ভাষাশৈলী সবচেয়ে মনোরমআঞ্চলিক শব্দের সাথে মিশিয়েছেন ছন্দের সৌন্দর্যপাঠক পড়তে পড়তে মনে হয় — এ যেন নিজের গ্রামের কথা

নোলক পরে কে যায় হেলে দুলে, / চোখের পাতায় কাজল টেনে খোঁপায় গুঁজে ফুলে।”

সবুজ শাড়ি [প্রেমপ্রকৃতির কবিতা]

কবিতার পূর্ণ ভাবার্থ

'সবুজ শাড়ি' কবিতায় প্রেমিকার সবুজ শাড়িকে কেন্দ্র করে কবি বাংলার প্রকৃতির সাথে প্রেমের এক অপূর্ব সংযোগ স্থাপন করেছেন

কবি বলেনতুমি সবুজ শাড়ি পরে যখন মাঠের মধ্যে দিয়ে যাও, মনে হয় তুমি আর শাড়ি আলাদা নওতুমিই সবুজ মাঠতোমার শাড়ির রং আর ধানের পাতার রং একইতুমি এই মাটি থেকে উঠে আসা

এভাবে আল মাহমুদ প্রেমিকার সৌন্দর্যকে প্রকৃতির সাথে মিলিয়ে দেনপ্রেম এখানে শুধু দুজন মানুষের মধ্যে নয়প্রেম এখানে মানুষমাটির মধ্যে

পাখির কাছে ফুলের কাছে [প্রকৃতিঈশ্বরের কবিতা]

কবিতার পূর্ণ ভাবার্থ

এই কবিতায় আল মাহমুদ প্রকৃতিকে ঈশ্বরের বার্তাবাহক হিসেবে দেখেনপাখির গান আসলে ঈশ্বরের স্তুতি, ফুলের সৌন্দর্য আসলে ঈশ্বরের প্রকাশ

কবি বলেনপাখির কাছে যদি শিখতে চাও কীভাবে গান গাইতে হয়, ফুলের কাছে যদি শিখতে চাও কীভাবে সুন্দর হতে হয়তাহলে আসলে তুমি ঈশ্বরের কাছেই শিখছপ্রকৃতি হলো ঈশ্বরের অনন্ত বই

জীবনের শেষ পর্যায়ে লেখা এই ধরনের কবিতায় আল মাহমুদের আধ্যাত্মিক পরিপক্বতা স্পষ্ট

তিতাস নদীর ধারে [স্মৃতিনস্টালজিয়ার কবিতা]

কবিতার পূর্ণ ভাবার্থ

তিতাস নদী ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নদীআল মাহমুদের শৈশবের নদীএই কবিতায় কবি তাঁর শৈশবের স্মৃতিমাতৃভূমির প্রতি অপরিসীম ভালোবাসা প্রকাশ করেছেন

কবি বলছেনতিতাস নদীর ধারে আমার জন্ম, সেই নদীর জল খেয়ে বড় হয়েছিসেই নদীর ধারে ধারে আমার শৈশব কেটেছে, প্রথম প্রেম হয়েছেআজ শহরে এসে ঝলমলে জীবনের মাঝেও তিতাস নদীর কথা ভুলতে পারি না

এই কবিতায় নস্টালজিয়া আছে, কিন্তু কান্না নেইবরং আছে গভীর ভালোবাসাগর্বএই মাটি থেকে আসাটাই তাঁর সবচেয়ে বড় পরিচয়

উপন্যাস

কবিকোলাহল (১৯৮১)

সম্পূর্ণ কাহিনি

'কবিকোলাহল' আল মাহমুদের প্রথম উপন্যাসএটি আত্মজীবনীমূলককবির নিজের জীবনের অভিজ্ঞতার অনেকটাই এখানে আছে

কেন্দ্রীয় চরিত্র একজন তরুণ কবিযিনি গ্রাম ছেড়ে শহরে আসেন স্বপ্ন নিয়েঢাকার কোলাহলময় শহরজীবনে তিনি একদিকে সাহিত্যের জগতে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করতে চান, অন্যদিকে সংসারের চাপ, আর্থিক সংকট এবং রাজনৈতিক টানাপোড়েনে ছটফট করেন

কোলাহল শব্দটি শুধু শহরের শব্দ নয়ভেতরের কোলাহলওএকজন কবি যখন বাণিজ্যিক পৃথিবীতে টিকে থাকার চেষ্টা করেন, যখন আদর্শবাস্তবতার মধ্যে টানাটানি হয়সেটাই ভেতরের কোলাহল

এই উপন্যাসে ষাটের দশকের ঢাকার সাহিত্যিক পরিবেশের একটি জীবন্ত ছবি পাওয়া যায়সেই সময়ের কবি-সাহিত্যিকদের জীবনযাপন, তাঁদের স্বপ্নহতাশা, তাঁদের বন্ধুত্বদ্বন্দ্বসব কিছু

কবিকোলাহল = আল মাহমুদের প্রথম উপন্যাসষাটের দশকের ঢাকার সাহিত্যিক জীবনের দলিল

উপমহাদেশ (১৯৯৩)

সম্পূর্ণ কাহিনি

'উপমহাদেশ' আল মাহমুদের সবচেয়ে বড় উপন্যাসভারতীয় উপমহাদেশের ইতিহাসের পটভূমিতে রচিত এই উপন্যাসে রয়েছে ব্রিটিশ শাসন, দেশভাগ, বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ পর্যন্ত একটি দীর্ঘ কালপরিক্রমা

উপন্যাসের কেন্দ্রে আছে একটি পরিবারযারা এই উপমহাদেশের ইতিহাসের সাথে সাথে পরিবর্তিত হয়েছেদেশভাগের সময় পরিবার বিচ্ছিন্ন হয়, মুক্তিযুদ্ধে সদস্যরা ভিন্ন ভিন্ন পথ বেছে নেন

ইতিহাসের বড় ক্যানভাসে ব্যক্তিমানুষের গল্প বলার এই কৌশল আল মাহমুদকে একজন পরিপক্ব ঔপন্যাসিক হিসেবে প্রমাণ করে

উপমহাদেশ = ব্রিটিশ যুগ থেকে মুক্তিযুদ্ধ পর্যন্ত ইতিহাসের ক্যানভাসে ব্যক্তিজীবনের গল্প

নিশিন্দা নারী (১৯৮৩)

সম্পূর্ণ কাহিনি

'নিশিন্দা' হলো একটি গাছের নামতেতো গাছ, কিন্তু ওষুধি গুণ আছে। 'নিশিন্দা নারী' — যে নারীর জীবন নিশিন্দার মতো, বাইরে তেতো কিন্তু ভেতরে গুণ

উপন্যাসের কেন্দ্রীয় চরিত্র একজন নারী যিনি সমাজের চোখে 'ভালো' নারী ননহয়তো তিনি স্বামীর বিরুদ্ধে গেছেন, বা সমাজের নিয়ম ভেঙেছেনকিন্তু তাঁর ভেতরে আছে প্রচণ্ড শক্তি, মানবিকতা এবং ভালোবাসা

আল মাহমুদ এই উপন্যাসে নারীর ভেতরের জগৎকে অত্যন্ত সংবেদনশীলতার সাথে উপস্থাপন করেছেনসমাজ যাকে নিশিন্দার মতো তেতো মনে করে, কবি দেখান সে আসলে কতটা মূল্যবান

নিশিন্দা নারী = সমাজ-বহির্ভূত নারীর শক্তিমানবিকতার উপন্যাস

গন্ধর্ব কাহিনী (১৯৮৭)

সম্পূর্ণ কাহিনি

গন্ধর্ব হলো পৌরাণিক সংগীতের দেবতা। 'গন্ধর্ব কাহিনী' — সংগীতসৌন্দর্যের দেবতার কাহিনি

এই উপন্যাসে একজন শিল্পীর জীবনের গল্প আছেশিল্পজীবনের দ্বন্দ্ব, সৃষ্টিশীলতার যন্ত্রণা, সমাজের চাপে শিল্পীর পরিণতিএই বিষয়গুলো তুলে ধরা হয়েছে

পৌরাণিক উপাদান ব্যবহার করে সমসাময়িক জীবনের সমস্যা দেখানোএটি আল মাহমুদের উপন্যাসের বিশেষ কৌশল

গল্পগ্রন্থ

পানকৌড়ির রক্ত (১৯৭৫) — প্রথম গল্পগ্রন্থ

'পানকৌড়ির রক্ত' আল মাহমুদের প্রথম গল্পগ্রন্থপানকৌড়ি একটি জলপাখিবাংলার নদীর পাখিএই পাখির রক্ত মানে জলপাখির মৃত্যুযা আসলে বাংলার সরল গ্রামীণ জীবনের ধ্বংসের প্রতীক

গল্পগুলোতে গ্রামীণ বাংলার মানুষের জীবন, তাদের সংগ্রাম, প্রেমবেদনার কাহিনিসহজ ভাষায় গভীর সব গল্প

পানকৌড়ির রক্ত (গল্প) [নামগল্প]

সম্পূর্ণ কাহিনি

একটি গ্রামে একজন বৃদ্ধ জেলে থাকেনতাঁর জীবনের একমাত্র সঙ্গী নদী এবং সেই নদীর পাখিরাবিশেষত পানকৌড়িএকদিন তিনি দেখেন নদীর পাড়ে একটি পানকৌড়ি মরে পড়ে আছে, রক্ত ঝরছে

পাখির রক্ত দেখে তাঁর মনে হয় — এ যেন তাঁর নিজের রক্তকারণ পানকৌড়ি যেমন নদীতে বাঁচে, তিনিও তেমনি নদীতে বাঁচেননদী শুকিয়ে গেলে, পাখি মরে গেলেতাঁরও মৃত্যু

এই গল্পে পরিবেশ বিপর্যয়ের কথা আছেশিল্পায়নের ফলে নদী দূষিত হচ্ছে, পাখিরা মরছেগ্রামের মানুষের জীবন বিপন্নকিন্তু কেউ শুনছে না

পানকৌড়ির রক্ত = প্রকৃতি ধ্বংসগ্রামীণ জীবন বিপন্ন হওয়ার গল্প

সৌরভের কাছে পরাজিত (১৯৮৫)

'সৌরভের কাছে পরাজিত' একটি প্রেমের গল্পগ্রন্থসৌরভ মানে গন্ধফুলের সুগন্ধকবি বলছেনআমি সেই সৌরভের কাছে পরাজিত, যে সৌরভ হলো নারীর সৌন্দর্য, প্রকৃতির সৌন্দর্য

গল্পগুলোতে প্রেমের নানা রূপ আছেতরুণ প্রেম, পরিপক্ব প্রেম, হারানো প্রেমের স্মৃতিসব মিলিয়ে প্রেমের একটি পূর্ণাঙ্গ চিত্র

অন্যান্য গল্পগ্রন্থ

গল্পগ্রন্থ

প্রকাশকালবিষয়

জলবেশ্যা

১৯৮৯ — নদীনারী জীবনের গল্প

ময়ূরীর মুখ

১৯৯৪ — প্রকৃতিমানবিক সম্পর্কের গল্প

গন্ধবণিক

২০০৩ — বাণিজ্যমানবিক মূল্যবোধের গল্প

ধূলার সংসার

২০০৯ — সংসারজীবনের গল্প

পুরস্কারসাহিত্যকীর্তি

পুরস্কার / সম্মান

বিশেষ তথ্য

বাংলা একাডেমি পুরস্কার

১৯৬৮ — বাংলাদেশের সর্বোচ্চ সাহিত্য পুরস্কার

একুশে পদক

১৯৮৬ — বাংলাদেশ সরকারের সর্বোচ্চ বেসামরিক পুরস্কার

জয় বাংলা পুরস্কার

মুক্তিযুদ্ধে অবদানের জন্য

ফিলিপস সাহিত্য পুরস্কার

বাংলাদেশে প্রদত্ত

সমকাল সাহিত্য পুরস্কার

সাহিত্যে অবদানের জন্য

জীবনানন্দ পুরস্কার

কলকাতা থেকে প্রদত্ত

সোনালি কাবিন পুরস্কার

নিজের নামে প্রবর্তিত পুরস্কার

আল মাহমুদের বাংলা একাডেমি পুরস্কার — ১৯৬৮ সালে

আল মাহমুদের একুশে পদক — ১৯৮৬ সালে

কাব্যশৈলীর বৈশিষ্ট্য

আল মাহমুদের সাহিত্যের বিশেষ বৈশিষ্ট্যসমূহ

আল মাহমুদের কবিতার সবচেয়ে বড় বৈশিষ্ট্য হলো তাঁর ভাষাতিনি ব্যবহার করেছেন চট্টগ্রাম, ব্রাহ্মণবাড়িয়াময়মনসিংহ অঞ্চলের আঞ্চলিক শব্দএই শব্দগুলো বাংলা কবিতায় আগে সেভাবে আসেনিতিনিই প্রথম দেখালেন যে আঞ্চলিক শব্দও কবিতার উপকরণ হতে পারে

দ্বিতীয় বৈশিষ্ট্য হলো গ্রামীণ প্রতিমাউপমাতাঁর কবিতায় ফসলের মাঠ, নদী, হাওর, নৌকা, কৃষক, জেলেএই সব প্রতিমা আসেকিন্তু এগুলো শুধু দৃশ্যপট নয়এগুলো গভীর অর্থবহ প্রতীক

তৃতীয় বৈশিষ্ট্য হলো দেহআত্মার প্রেমের সমন্বয়আল মাহমুদের প্রেমের কবিতায় দেহের সৌন্দর্য আছে, কিন্তু সেটা অশ্লীল নয়বরং পবিত্রতিনি মনে করেন দেহআত্মা আলাদা নয়

চতুর্থ বৈশিষ্ট্য হলো ইসলামি চেতনাবিশেষত জীবনের শেষ পর্যায়ে তাঁর কবিতায় ইসলামি দর্শন, আল্লাহর প্রতি ভক্তি এবং মৃত্যুপরলোকের চিন্তা প্রবলভাবে এসেছে

আঞ্চলিক শব্দের ব্যবহারকাব্যভাষার নতুন দিগন্ত উন্মোচন

গ্রামীণ প্রতিমাপ্রতীকের ব্যবহার

দেহআত্মার প্রেমের সমন্বয়

ইসলামি চেতনাআধ্যাত্মিকতা

ইতিহাসপুরাণের মিশেল

সনেট রচনায় বিশেষ দক্ষতা

প্রশ্নোত্তর

প্রশ্ন: আল মাহমুদের প্রকৃত নাম?

মীর আবদুস শুকুর আল মাহমুদ

প্রশ্ন: আল মাহমুদের জন্মতারিখ?

১১ জুলাই ১৯৩৬

প্রশ্ন: আল মাহমুদের জন্মস্থান?

মোড়াইল গ্রাম, ব্রাহ্মণবাড়িয়া

প্রশ্ন: আল মাহমুদের মৃত্যুতারিখ?

১৫ ফেব্রুয়ারি ২০১৯

প্রশ্ন: আল মাহমুদের প্রথম কাব্যগ্রন্থ?

লোক লোকান্তর (১৯৬৩)

প্রশ্ন: আল মাহমুদের দ্বিতীয় কাব্যগ্রন্থ?

কালের কলস (১৯৬৬)

প্রশ্ন: সোনালি কাবিন প্রথম প্রকাশ?

১৯৬৬ সালে

প্রশ্ন: সোনালি কাবিনে মোট কতটি সনেট?

১৪টি সনেট

প্রশ্ন: 'কাবিন' শব্দের অর্থ?

বিয়েতে স্ত্রীকে প্রদেয় মহর

প্রশ্ন: আল মাহমুদের প্রথম উপন্যাস?

কবিকোলাহল (১৯৮১)

প্রশ্ন: আল মাহমুদের প্রথম গল্পগ্রন্থ?

পানকৌড়ির রক্ত (১৯৭৫)

প্রশ্ন: আল মাহমুদ বাংলা একাডেমি পুরস্কার পান?

১৯৬৮ সালে

প্রশ্ন: আল মাহমুদ একুশে পদক পান?

১৯৮৬ সালে

প্রশ্ন: 'বখতিয়ারের ঘোড়া' কাব্যগ্রন্থের বিষয়?

ঐতিহাসিকইসলামি চেতনার কবিতা

প্রশ্ন: আল মাহমুদ মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণ করেন?

হ্যাঁ, ১৯৭১ সালে

প্রশ্ন: আল মাহমুদ কোথায় কর্মরত ছিলেন?

বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমি (পরিচালক)

প্রশ্ন: 'নোলক' কবিতায় নোলক কী?

নাকের গয়না (নাকছাবি)

প্রশ্ন: 'লোক লোকান্তর' মানে?

এক জগথেকে আরেক জগতে

প্রশ্ন: আল মাহমুদের কবিতার বিশেষ ভাষিক বৈশিষ্ট্য?

আঞ্চলিক শব্দের ব্যবহার

প্রশ্ন: 'উপমহাদেশ' উপন্যাসের পটভূমি?

ব্রিটিশ শাসন থেকে মুক্তিযুদ্ধ পর্যন্ত

প্রশ্ন: আল মাহমুদের কবরস্থান?

মিরপুর বুদ্ধিজীবী কবরস্থান, ঢাকা

প্রশ্ন: আল মাহমুদ কোন পত্রিকায় কাজ করেন?

দৈনিক গণকণ্ঠ (সম্পাদক)

ট্রিকিঅজানা তথ্য

MCQ পরীক্ষায় সবচেয়ে বেশি ফাঁদ হিসেবে আসে এই তথ্যগুলো!

আল মাহমুদের প্রকৃত নাম 'মীর আবদুস শুকুর আল মাহমুদ' — শুধু 'আল মাহমুদ' নয়

সোনালি কাবিন প্রথম প্রকাশ ১৯৬৬ সালে — ১৯৬৩ সালে নয়

সোনালি কাবিনে ১৪টি সনেট — ১৪টি কবিতা নয়, ১৪টি সনেট

'কাবিন' মানে মহর বা দেনমোহরসোনার অলংকার নয়

আল মাহমুদের প্রথম কাব্যগ্রন্থ 'লোক লোকান্তর' (১৯৬৩) — 'সোনালি কাবিন' নয়

আল মাহমুদ বামপন্থী থেকে ইসলামি চেতনায় এসেছেনউভয়ই তাঁর লেখায় আছে

আল মাহমুদ মুক্তিযুদ্ধে সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করেছেন

আল মাহমুদের প্রথম গল্পগ্রন্থ 'পানকৌড়ির রক্ত' — প্রথম উপন্যাস 'কবিকোলাহল'।

আল মাহমুদ বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির পরিচালক ছিলেন

আল মাহমুদের 'নোলক' কবিতায় নোলক হলো নাকছাবিনথের মতো গয়না

তিতাস নদী ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নদীএটি আল মাহমুদের শৈশবের নদী

'বখতিয়ারের ঘোড়া' — বখতিয়ার খলজির ঐতিহাসিক প্রতীকে রচিত কাব্যগ্রন্থ

আল মাহমুদের কবিতায় আঞ্চলিক শব্দ ব্যবহার তাঁর বিশেষ কাব্যশৈলী

আল মাহমুদ ১৫ ফেব্রুয়ারি ২০১৯ মারা যানইবনে সিনা হাসপাতালে

আল মাহমুদের কবর মিরপুর বুদ্ধিজীবী কবরস্থানে

চূড়ান্ত সারসংক্ষেপ তালিকা

বিষয়

উত্তর

প্রকৃত নাম

মীর আবদুস শুকুর আল মাহমুদ

জন্ম

১১ জুলাই ১৯৩৬, মোড়াইল, ব্রাহ্মণবাড়িয়া

মৃত্যু

১৫ ফেব্রুয়ারি ২০১৯, ঢাকা

প্রথম কাব্যগ্রন্থ

লোক লোকান্তর (১৯৬৩)

দ্বিতীয় কাব্যগ্রন্থ

কালের কলস (১৯৬৬)

বিখ্যাত কাব্যগ্রন্থ

সোনালি কাবিন (১৯৬৬) — ১৪টি সনেট

প্রথম উপন্যাস

কবিকোলাহল (১৯৮১)

প্রথম গল্পগ্রন্থ

পানকৌড়ির রক্ত (১৯৭৫)

বাংলা একাডেমি

১৯৬৮ সালে

একুশে পদক

১৯৮৬ সালে

কর্মক্ষেত্র

বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমি, পরিচালক

বিখ্যাত কবিতা

সোনালি কাবিন, নোলক, সবুজ শাড়ি, তিতাস নদীর ধারে

কাব্যশৈলী

আঞ্চলিক শব্দ + গ্রামীণ প্রতিমা + ইসলামি চেতনা

কবরস্থান

মিরপুর বুদ্ধিজীবী কবরস্থান, ঢাকা

শুভকামনা!

Review this chapter

You Can Also Read

Chapters closely related to the one you are reading now.

আধুনিক যুগ

No reviews
0 students
Read chapter

ইয়ং বেঙ্গল ও ডিরোজিও

No reviews
0 students
Read chapter

আখতারুজ্জামান ইলিয়াস

No reviews
0 students
Read chapter

অন্ধকার যুগ

No reviews
0 students
Read chapter

উপন্যাস ও গল্প

No reviews
0 students
Read chapter

Most Read by Students

Popular picks getting the strongest student traffic right now.

অসহযোগ আন্দোলন (মার্চ ১৯৭১)

No reviews
1 student
Read chapter

নদী, সেতু, পাহাড়, দ্বীপ, বন, সমুদ্রবন্দর

No reviews
1 student
Read chapter

বাংলা ভাষার রীতি

No reviews
1 student
Read chapter

Others Who Read This Also Read

Behavior-based suggestions from student reading patterns where available.

অসহযোগ আন্দোলন (মার্চ ১৯৭১)

No reviews
1 student
Read chapter

কৃষিজ সম্পদ

No reviews
1 student
Read chapter

নদী, সেতু, পাহাড়, দ্বীপ, বন, সমুদ্রবন্দর

No reviews
1 student
Read chapter

বাংলা ভাষার রীতি

No reviews
1 student
Read chapter

ভাষা ও বাংলা ভাষা

No reviews
1 student
Read chapter

Best Reviewed

Chapters earning the strongest student feedback.

আধুনিক যুগ

No reviews
0 students
Read chapter

ইয়ং বেঙ্গল ও ডিরোজিও

No reviews
0 students
Read chapter

আখতারুজ্জামান ইলিয়াস

No reviews
0 students
Read chapter

অন্ধকার যুগ

No reviews
0 students
Read chapter

উপন্যাস ও গল্প

No reviews
0 students
Read chapter

Course Suggestions

Want a more guided path after this chapter? These courses are the closest fit.

Browse all courses
Learner fit৳1,999

Bangla

Bangla Language Mastery

Popular with BCS learners who want guided study.

6 lessons8.5h4.9 (186)1.3K students

By Sadia Rahman

View course
Learner fit৳2,999

Platform Building

Teacher Marketplace Blueprint

Popular with BCS learners who want guided study.

5 lessons6.8h4.9 (28)410 students

By Sadia Rahman

View course
FreeFree

English

Admission English Playbook

Free guided course with lessons you can jump into anytime.

4 lessons4.2h4.8 (91)2.8K students

By Rayan Akter

View course