নৈতিকতা, মূল্যবোধ ও সুশাসন নাগরিকের অধিকার ও কর্তব্য Citizens' Rights and Duties |
মৌলিক অধিকার অনু. ২৭-৪৪ | মৌলিক নীতি অনু. ৮-২৫ | UDHR অনুচ্ছেদ ৩০ | ICCPR ও ICESCR ১৯৬৬ |
সারসংক্ষেপ
নাগরিকের অধিকার (Rights) ও কর্তব্য (Duties) একটি গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রের নৈতিক ও আইনি ভিত্তি। অধিকার হলো ব্যক্তির ব্যক্তিত্ব বিকাশের জন্য রাষ্ট্র ও সমাজ-অনুমোদিত সুযোগ-সুবিধা, আর কর্তব্য হলো রাষ্ট্র, সমাজ ও আন্তর্জাতিক ব্যবস্থার প্রতি ব্যক্তির দায়বদ্ধতা; দুটি একই মুদ্রার দুটি পিঠ। এই অধ্যায়ে অধিকারের সংজ্ঞা ও বৈশিষ্ট্য, শ্রেণিবিভাগ (নৈতিক/আইনি, পৌর/অর্থনৈতিক/রাজনৈতিক/সাংস্কৃতিক), মৌলিক অধিকার (Fundamental Rights), মানবাধিকার (Human Rights), জাতিসংঘের সর্বজনীন মানবাধিকার ঘোষণাপত্র (UDHR, ১০ ডিসেম্বর ১৯৪৮), বাংলাদেশ সংবিধানের তৃতীয় ভাগ, নাগরিকের কর্তব্যের শ্রেণিবিন্যাস এবং অধিকার-কর্তব্যের পারস্পরিক সম্পর্ক বিশদভাবে আলোচনা করা হয়েছে। BCS, ব্যাংক ও বিশ্ববিদ্যালয় ভর্তি পরীক্ষায় এই অধ্যায় থেকে প্রতি বছর একাধিক প্রশ্ন আসে।
প্রেক্ষাপট আলোচনা
অধিকার ও কর্তব্যের ধারণা সভ্যতার মতোই প্রাচীন। প্রাচীন গ্রিসের পলিসে নাগরিকদের যেমন রাজনৈতিক অধিকার ছিল, তেমনি রাষ্ট্রের প্রতি কর্তব্যপালন তাদের নৈতিক অপরিহার্যতা হিসেবে গণ্য হতো; অ্যারিস্টটল 'Politics' গ্রন্থে নাগরিকতার সংজ্ঞায় কর্তব্যপরায়ণতাকে কেন্দ্রীয় গুরুত্ব দিয়েছেন। আধুনিক যুগে অধিকারের ধারণা সুসংহত রূপ পায় ১৬৮৯ সালের ইংরেজ Bill of Rights, ১৭৭৬ সালের আমেরিকান স্বাধীনতা ঘোষণা এবং ১৭৮৯ সালের ফরাসি 'Declaration of the Rights of Man and of the Citizen' এর মাধ্যমে; রুশো এই দলিলেই উল্লেখ করেছিলেন, মানুষ স্বাধীন ও সমান অধিকার নিয়ে জন্মগ্রহণ করে এবং সর্বদা সমান থাকে।
দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের ভয়াবহতার পর জাতিসংঘ ১০ ডিসেম্বর ১৯৪৮ সালে প্যারিসে অনুষ্ঠিত সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে Universal Declaration of Human Rights (UDHR) গ্রহণ করে; এই ঘোষণাপত্রে ৩০টি অনুচ্ছেদে মানবাধিকারের সর্বজনীন কাঠামো নির্ধারিত হয়। পরবর্তীতে ১৯৬৬ সালে দুটি আন্তর্জাতিক চুক্তি ICCPR (International Covenant on Civil and Political Rights) ও ICESCR (International Covenant on Economic, Social and Cultural Rights) গৃহীত হয়; UDHR ও এই দুটি চুক্তি মিলিতভাবে International Bill of Human Rights নামে পরিচিত। জাতিসংঘ ১০ ডিসেম্বরকে আন্তর্জাতিক মানবাধিকার দিবস হিসেবে পালন করে।
বাংলাদেশের সংবিধানের তৃতীয় ভাগ (অনুচ্ছেদ ২৬-৪৭) মৌলিক অধিকারসমূহকে অন্তর্ভুক্ত করেছে; অনুচ্ছেদ ২৬ স্পষ্টভাবে বলে, মৌলিক অধিকারের সাথে অসামঞ্জস্যপূর্ণ যেকোনো আইন বাতিল হবে। মৌলিক অধিকার লঙ্ঘিত হলে নাগরিক সরাসরি হাইকোর্ট বিভাগের কাছে অনুচ্ছেদ ১০২ এর অধীনে রিট আবেদন করতে পারেন। অধিকারের পাশাপাশি নাগরিকের কর্তব্যও সংবিধান-নির্দেশিত; অনুচ্ছেদ ২১(১) অনুযায়ী সংবিধান ও আইন মান্য করা, শৃঙ্খলা রক্ষা, নাগরিক দায়িত্ব পালন এবং জাতীয় সম্পদ রক্ষা করা প্রত্যেক নাগরিকের কর্তব্য।
সংজ্ঞা ও মূল ধারণা
অধিকার (Right) শব্দটি ইংরেজি 'Right' থেকে এসেছে, যার অর্থ ন্যায্য বা যথার্থ। নাগরিকতার দৃষ্টিতে এটি ব্যক্তির আত্মবিকাশের জন্য প্রয়োজনীয় ও সমাজ-রাষ্ট্র অনুমোদিত সুযোগ-সুবিধার সমষ্টি। অপরদিকে কর্তব্য (Duty) হলো সমাজ, রাষ্ট্র ও আন্তর্জাতিক ব্যবস্থার প্রতি ব্যক্তির দায়িত্ব যা পালনের জন্য সে নৈতিক ও আইনিভাবে দায়বদ্ধ।
সংজ্ঞা অধিকার (Right): Professor Laski-এর সংজ্ঞা অনুযায়ী, অধিকার হলো সামাজিক জীবনের সেইসব শর্ত, যা ছাড়া কোনো ব্যক্তি সাধারণত নিজের সর্বোত্তম রূপে নিজেকে গড়ে তুলতে পারে না (Rights are those conditions of social life without which no man can seek, in general, to be himself at his best)। অধিকার রাষ্ট্র ও সমাজ কর্তৃক স্বীকৃত ও অনুমোদিত হতে হয়। |
সংজ্ঞা কর্তব্য (Duty): Professor Harold Laski-এর মতে, কর্তব্য হলো ব্যক্তি, সমাজ ও রাষ্ট্রের সর্বাঙ্গীণ কল্যাণের জন্য কোনো কিছু করা বা না করার দায়িত্ব। Professor Hobhouse বলেন, কর্তব্য সমাজ বা রাষ্ট্রের একজন সদস্য হিসেবে পালনীয় বাধ্যবাধকতা। কর্তব্যপালন না করে অধিকার ভোগ অর্থহীন। |
সংজ্ঞা মৌলিক অধিকার (Fundamental Rights): যেসব অধিকার সংবিধানে লিখিতভাবে স্বীকৃত ও রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ আইন দ্বারা সুরক্ষিত। মৌলিক অধিকার লঙ্ঘনের প্রতিকারে নাগরিক সরাসরি হাইকোর্ট বিভাগে রিট আবেদন করতে পারেন। বাংলাদেশ সংবিধানের অনুচ্ছেদ ২৭-৪৪ মৌলিক অধিকার বর্ণনা করেছে। |
সংজ্ঞা মানবাধিকার (Human Rights): যেসব অধিকার মানুষের জন্মগত, সর্বজনীন, অলঙ্ঘনীয় ও অপরিহার্য, এবং ধর্ম, জাতি, বর্ণ, লিঙ্গ বা ভাষা নির্বিশেষে প্রতিটি মানুষ ভোগ করার অধিকারী। UDHR ১৯৪৮ মানবাধিকারের আন্তর্জাতিক মানদণ্ড। |
বিভিন্ন চিন্তকের দৃষ্টিতে অধিকার
চিন্তক | সংজ্ঞা/মত |
Professor Laski | সামাজিক জীবনের সেইসব শর্ত যা ছাড়া ব্যক্তির সর্বোত্তম বিকাশ সম্ভব নয় |
Professor Ernest Barker | ব্যক্তির ক্ষমতার পূর্ণ বিকাশের জন্য রাষ্ট্র-নিশ্চিত ও সুরক্ষিত অপরিহার্য শর্ত |
T. H. Green | ব্যক্তির অন্তর্বিকাশের জন্য অপরিহার্য বাহ্যিক শর্ত |
L. T. Hobhouse | প্রকৃত অধিকার হলো সমাজ-কল্যাণের শর্ত |
Holland | সমাজের মতামত ও শক্তি দ্বারা অন্যের কাজকে প্রভাবিত করার সামর্থ্য |
Bosanquet | সমাজ কর্তৃক স্বীকৃত ও রাষ্ট্র কর্তৃক বলবৎ একটি দাবি |
Aristotle | প্রত্যেক রাষ্ট্রকে চেনা যায় সে যেসব অধিকার রক্ষা করে তার দ্বারা |
Rousseau | মানুষ জন্মগ্রহণ করে স্বাধীন এবং সর্বদা অধিকারের ক্ষেত্রে সমান থাকে |
অধিকারের বৈশিষ্ট্য
অধিকার সম্পর্কে উপরিউক্ত আলোচনা বিশ্লেষণ করলে কয়েকটি স্বতন্ত্র বৈশিষ্ট্য পাওয়া যায়, যেগুলো অধিকারকে অন্যান্য সামাজিক ধারণা থেকে আলাদা করে।
সুযোগ-সুবিধার সমষ্টি: অধিকার হলো ব্যক্তির ব্যক্তিত্ব ও জীবনকে বিকশিত করার জন্য সুযোগ-সুবিধার সমষ্টি; যেমন জীবন রক্ষার অধিকার, কর্মের অধিকার, ধর্ম-সংক্রান্ত অধিকার।
সামাজিক উৎপত্তি: অধিকার সমাজ কর্তৃক সৃষ্ট; সমাজ ছাড়া অধিকার কল্পনাও অসম্ভব। তাই অধিকার সামাজিক স্বীকৃতি ছাড়া বাস্তব হয় না।
রাষ্ট্র কর্তৃক অনুমোদিত: অধিকার রাষ্ট্র কর্তৃক অনুমোদিত ও সুরক্ষিত হওয়া আবশ্যক; অধিকার লঙ্ঘনকারীকে রাষ্ট্র শাস্তি প্রদান করে।
সর্বজনীন (Universal) প্রকৃতি: প্রকৃত অধিকার সকল নাগরিকের জন্য সমানভাবে প্রযোজ্য; কোনো বিশেষ শ্রেণির জন্য নয়।
কল্যাণমূলক: অধিকার ব্যক্তি, সমাজ ও রাষ্ট্রের কল্যাণে ব্যবহৃত হতে হয়; ক্ষতির জন্য নয়।
পরিবর্তনশীল প্রকৃতি: যুগ, সমাজ ও দেশভেদে অধিকার পরিবর্তিত হয়; দাসত্ব যেমন কখনো অধিকার ছিল, এখন তা নিষিদ্ধ।
কর্তব্যের সাথে অবিচ্ছিন্ন: প্রতিটি অধিকারের সাথে সংশ্লিষ্ট একটি কর্তব্য আছে; অধিকার ও কর্তব্য একই মুদ্রার দুই পিঠ।
সীমাবদ্ধ ও শর্তসাপেক্ষ: অধিকার সীমাহীন নয়; অপরের অধিকার ও জনস্বার্থের সীমার মধ্যে এর ভোগ সম্ভব।
আইনি সুরক্ষা: রাষ্ট্রের আদালত ও আইন দ্বারা অধিকার সংরক্ষিত হয়।
📌 মনে রাখুন অধিকারের মৌলিক সূত্র অধিকার = সামাজিক স্বীকৃতি + রাষ্ট্রীয় অনুমোদন + আইনি সুরক্ষা + কর্তব্যের সাথে সম্পর্ক। Ernest Barker: 'অধিকার ততক্ষণ পর্যন্ত প্রকৃত অধিকার নয়, যতক্ষণ রাষ্ট্র সেটাকে অধিকার বলে স্বীকার করে ও রক্ষায় সচেষ্ট থাকে।' |
অধিকারের শ্রেণিবিভাগ
অধিকারকে বিভিন্ন দৃষ্টিকোণ থেকে শ্রেণিবদ্ধ করা যায়। প্রকৃতি ও উৎসের ভিত্তিতে অধিকার প্রধানত দুই ভাগে বিভক্ত: নৈতিক অধিকার (Moral Rights) ও আইনি অধিকার (Legal Rights)। আইনি অধিকারকে আবার পৌর, অর্থনৈতিক, রাজনৈতিক, সাংস্কৃতিক, ধর্মীয় ও ব্যক্তিগত অধিকারে বিভাজন করা হয়।
প্রকৃতির ভিত্তিতে শ্রেণিবিভাগ
প্রকার | সংজ্ঞা | বৈশিষ্ট্য |
নৈতিক অধিকার | মানুষের নৈতিক চেতনার ওপর নির্ভরশীল অধিকার যা আইনি কর্তৃপক্ষ দ্বারা নিশ্চিত নয় | সম্মান, সদ্ব্যবহার, সততা পাওয়ার আশা |
আইনি অধিকার | রাষ্ট্রের আইন দ্বারা স্বীকৃত ও সুরক্ষিত অধিকার | ভোটাধিকার, সম্পত্তির অধিকার, শিক্ষার অধিকার |
আইনি অধিকারের উপশ্রেণি
শ্রেণি | প্রধান অধিকারসমূহ |
পৌর অধিকার (Civil Rights) | জীবনের অধিকার, স্বাধীনতার অধিকার, চিন্তা ও বাক-স্বাধীনতা, সমাবেশ ও সংগঠনের অধিকার, চলাফেরার অধিকার, সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতা, চুক্তির অধিকার, আইনের চোখে সমতা, সম্পত্তির অধিকার, ধর্মের অধিকার, পরিবার গঠনের অধিকার, ন্যায়বিচারের অধিকার, শিক্ষার অধিকার |
অর্থনৈতিক অধিকার (Economic Rights) | কর্মের অধিকার, যুক্তিসঙ্গত মজুরির অধিকার, বিশ্রামের অধিকার, ট্রেড ইউনিয়ন গঠনের অধিকার, বার্ধক্য ও অক্ষমতার অবস্থায় অর্থনৈতিক সুরক্ষার অধিকার |
রাজনৈতিক অধিকার (Political Rights) | ভোটদানের অধিকার, নির্বাচিত হওয়ার অধিকার, সরকারি পদে প্রবেশের অধিকার, আবেদন করার অধিকার, সরকার সমালোচনার অধিকার, বিদেশে সুরক্ষার অধিকার, স্থায়ী বসবাসের অধিকার |
সাংস্কৃতিক অধিকার (Cultural Rights) | নিজ সংস্কৃতি ও ভাষা চর্চার অধিকার, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ |
ধর্মীয় অধিকার (Religious Rights) | নিজ ধর্ম পালন ও প্রচারের অধিকার, ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান স্থাপনের অধিকার |
ব্যক্তিগত অধিকার (Personal Rights) | ব্যক্তিগত গোপনীয়তা, সম্মান, পরিচয়ের অধিকার |
মৌলিক অধিকার (Fundamental Rights)
মৌলিক অধিকার হলো সেইসব অধিকার যা সংবিধানে লিখিতভাবে স্বীকৃত এবং রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ আইনের মাধ্যমে সুরক্ষিত। এগুলো ব্যক্তির ব্যক্তিত্ব বিকাশের জন্য অপরিহার্য এবং রাষ্ট্র চাইলেই এগুলোকে খর্ব করতে পারে না। বাংলাদেশ সংবিধানের তৃতীয় ভাগে (অনুচ্ছেদ ২৬-৪৭) ১৮টি মৌলিক অধিকার বর্ণিত হয়েছে।
বাংলাদেশ সংবিধানের মৌলিক অধিকারসমূহ
অনুচ্ছেদ | মৌলিক অধিকার |
অনুচ্ছেদ ২৬ | মৌলিক অধিকারের সাথে অসামঞ্জস্যপূর্ণ আইন বাতিল |
অনুচ্ছেদ ২৭ | আইনের দৃষ্টিতে সমতা; সকল নাগরিক আইনের সমান আশ্রয় লাভের অধিকারী |
অনুচ্ছেদ ২৮ | ধর্ম, গোষ্ঠী, বর্ণ, নারী-পুরুষভেদ বা জন্মস্থানের কারণে রাষ্ট্র কোনো বৈষম্য করিবে না |
অনুচ্ছেদ ২৯ | প্রজাতন্ত্রের কর্মে নিয়োগ লাভে সুযোগের সমতা |
অনুচ্ছেদ ৩০ | রাষ্ট্রপতির অনুমতি ছাড়া বিদেশী খেতাব গ্রহণে নিষেধ |
অনুচ্ছেদ ৩১ | আইনের আশ্রয় লাভের অধিকার ও আইন অনুযায়ী আচরণ |
অনুচ্ছেদ ৩২ | জীবন ও ব্যক্তিস্বাধীনতার অধিকার রক্ষা |
অনুচ্ছেদ ৩৩ | গ্রেপ্তার ও আটক সম্পর্কিত রক্ষাকবচ |
অনুচ্ছেদ ৩৪ | জবরদস্তি শ্রম নিষিদ্ধ |
অনুচ্ছেদ ৩৫ | বিচার ও দণ্ড সম্পর্কে রক্ষণ; double jeopardy থেকে সুরক্ষা |
অনুচ্ছেদ ৩৬ | চলাফেরার স্বাধীনতা |
অনুচ্ছেদ ৩৭ | সমাবেশের স্বাধীনতা |
অনুচ্ছেদ ৩৮ | সংগঠনের স্বাধীনতা |
অনুচ্ছেদ ৩৯ | চিন্তা, বিবেক ও বাক-স্বাধীনতা; সংবাদপত্রের স্বাধীনতা |
অনুচ্ছেদ ৪০ | পেশা বা বৃত্তির স্বাধীনতা |
অনুচ্ছেদ ৪১ | ধর্মীয় স্বাধীনতা |
অনুচ্ছেদ ৪২ | সম্পত্তির অধিকার |
অনুচ্ছেদ ৪৩ | গৃহ ও যোগাযোগের গোপনীয়তা রক্ষার অধিকার |
অনুচ্ছেদ ৪৪ | মৌলিক অধিকার বলবৎকরণের অধিকার (হাইকোর্টে রিট আবেদনের অধিকার) |
📌 মনে রাখুন মৌলিক অধিকার লঙ্ঘনের প্রতিকার মৌলিক অধিকার লঙ্ঘিত হলে নাগরিক সরাসরি হাইকোর্ট বিভাগে অনুচ্ছেদ ৪৪ ও ১০২ অনুসারে রিট আবেদন (Writ Petition) করতে পারেন। পাঁচ প্রকার রিট: Habeas Corpus, Mandamus, Prohibition, Certiorari, Quo Warranto। |
⚡ এক্সাম টিপ পরীক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ সংবিধানে মৌলিক অধিকারের সংখ্যা ১৮টি (অনুচ্ছেদ ২৭-৪৪)। আইনের চোখে সকল নাগরিক সমান: অনুচ্ছেদ ২৭। জনস্বাস্থ্য ও নৈতিকতা: অনুচ্ছেদ ১৮ (এটি রাষ্ট্রের মূলনীতির অংশ, মৌলিক অধিকার নয়)। |
রাষ্ট্রপরিচালনার মূলনীতি
বাংলাদেশ সংবিধানের দ্বিতীয় ভাগে (অনুচ্ছেদ ৮-২৫) রাষ্ট্রপরিচালনার মূলনীতি (Fundamental Principles of State Policy) লিপিবদ্ধ। এগুলো মৌলিক অধিকার থেকে আলাদা; রাষ্ট্রকে এসব অর্জনের দিকনির্দেশনা দেয়, কিন্তু আদালতে এগুলোর প্রয়োগ দাবি করা যায় না।
অনুচ্ছেদ | মূলনীতি |
অনুচ্ছেদ ৮ | মূলনীতিসমূহ: জাতীয়তাবাদ, সমাজতন্ত্র, গণতন্ত্র ও ধর্মনিরপেক্ষতা |
অনুচ্ছেদ ৯ | জাতীয়তাবাদ |
অনুচ্ছেদ ১০ | সমাজতন্ত্র ও শোষণমুক্তি |
অনুচ্ছেদ ১১ | গণতন্ত্র ও মানবাধিকার |
অনুচ্ছেদ ১২ | ধর্মনিরপেক্ষতা ও ধর্মীয় স্বাধীনতা |
অনুচ্ছেদ ১৩ | মালিকানার নীতি |
অনুচ্ছেদ ১৪ | কৃষক ও শ্রমিকের মুক্তি |
অনুচ্ছেদ ১৫ | মৌলিক প্রয়োজন পূরণ (অন্ন, বস্ত্র, বাসস্থান, শিক্ষা, চিকিৎসা) |
অনুচ্ছেদ ১৬ | গ্রামীণ উন্নয়ন ও কৃষি বিপ্লব |
অনুচ্ছেদ ১৭ | বাধ্যতামূলক ও অবৈতনিক প্রাথমিক শিক্ষা |
অনুচ্ছেদ ১৮ | জনস্বাস্থ্য ও নৈতিকতা |
অনুচ্ছেদ ১৯ | সুযোগের সমতা |
অনুচ্ছেদ ২০ | শ্রমের অধিকার ও বাধ্যবাধকতা; অনুচ্ছেদ ২০(২) দুর্নীতিবিরোধী |
অনুচ্ছেদ ২১ | নাগরিক ও সরকারী কর্মচারীগণের কর্তব্য |
অনুচ্ছেদ ২২ | নির্বাহী বিভাগ থেকে বিচার বিভাগ পৃথকীকরণ |
অনুচ্ছেদ ২৩ | জাতীয় সংস্কৃতি |
অনুচ্ছেদ ২৪ | জাতীয় স্মৃতিনিদর্শন রক্ষা |
অনুচ্ছেদ ২৫ | আন্তর্জাতিক শান্তি, নিরাপত্তা ও সংহতি বৃদ্ধি |
⚠️ সতর্কতা মৌলিক অধিকার বনাম মূলনীতি মৌলিক অধিকার (২৭-৪৪) আদালতে প্রয়োগযোগ্য; মূলনীতি (৮-২৫) প্রয়োগযোগ্য নয়, শুধু নির্দেশনামূলক। পরীক্ষায় এই পার্থক্য সর্বোচ্চ গুরুত্বপূর্ণ। |
মানবাধিকার ও UDHR
মানবাধিকার (Human Rights) হলো প্রতিটি মানুষের জন্মসিদ্ধ, সর্বজনীন ও অলঙ্ঘনীয় অধিকার, যা ধর্ম, জাতি, বর্ণ, লিঙ্গ, ভাষা বা জন্মস্থান নির্বিশেষে সকলের জন্য সমানভাবে প্রযোজ্য। জাতিসংঘের সর্বজনীন মানবাধিকার ঘোষণাপত্র (Universal Declaration of Human Rights, UDHR) মানবাধিকারের আন্তর্জাতিক মানদণ্ড নির্ধারণ করেছে।
বিষয় | তথ্য |
UDHR গৃহীত হওয়ার তারিখ | ১০ ডিসেম্বর ১৯৪৮ |
গৃহীত স্থান | প্যারিস, ফ্রান্স |
মোট অনুচ্ছেদ | ৩০টি |
খসড়া প্রণয়নকারী কমিটির প্রধান | Eleanor Roosevelt (আমেরিকা) |
প্রধান খসড়াকারী | John Peters Humphrey (কানাডা) |
গৃহীত পক্ষে ভোট | ৪৮টি দেশ (৫৮ সদস্যের মধ্যে); ৮টি বিরত |
আন্তর্জাতিক মানবাধিকার দিবস | ১০ ডিসেম্বর |
International Bill of Human Rights | UDHR + ICCPR + ICESCR (১৯৬৬) |
মৌলিক প্রতিপাদ্য (অনুচ্ছেদ ১) | সব মানুষ স্বাধীন ও সমান মর্যাদা ও অধিকার নিয়ে জন্মগ্রহণ করে |
UDHR-এর গুরুত্বপূর্ণ অনুচ্ছেদসমূহ
অনুচ্ছেদ ১: সকল মানুষ স্বাধীন এবং মর্যাদা ও অধিকারে সমান হয়ে জন্মগ্রহণ করে।
অনুচ্ছেদ ৩: জীবনের অধিকার, স্বাধীনতা ও ব্যক্তি-নিরাপত্তার অধিকার।
অনুচ্ছেদ ৪: দাসত্ব ও দাস ব্যবসা নিষিদ্ধ।
অনুচ্ছেদ ৫: নির্যাতন ও অমানবিক আচরণ নিষিদ্ধ।
অনুচ্ছেদ ১৩: চলাফেরার স্বাধীনতা ও বসবাসের অধিকার।
অনুচ্ছেদ ১৪: নিপীড়ন থেকে আশ্রয় খোঁজার অধিকার।
অনুচ্ছেদ ১৮: চিন্তা, বিবেক ও ধর্মের স্বাধীনতা।
অনুচ্ছেদ ১৯: মত ও মত প্রকাশের স্বাধীনতা।
অনুচ্ছেদ ২৩: কর্মের অধিকার ও যুক্তিসঙ্গত মজুরির অধিকার।
অনুচ্ছেদ ২৬: শিক্ষার অধিকার; প্রাথমিক শিক্ষা অবৈতনিক।
মানবাধিকারের ধরন
প্রজন্ম | ধরন | উদাহরণ |
প্রথম প্রজন্ম | নাগরিক ও রাজনৈতিক অধিকার (Civil & Political) | জীবন, স্বাধীনতা, বাকস্বাধীনতা, ভোটাধিকার (UDHR ১-২১, ICCPR) |
দ্বিতীয় প্রজন্ম | অর্থনৈতিক, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক (Economic, Social & Cultural) | কর্ম, শিক্ষা, স্বাস্থ্য, সামাজিক নিরাপত্তা (UDHR ২২-২৭, ICESCR) |
তৃতীয় প্রজন্ম | সমষ্টিগত/সংহতির অধিকার (Solidarity Rights) | পরিবেশ, উন্নয়ন, শান্তির অধিকার |
বাংলাদেশে মানবাধিকার কাঠামো
বাংলাদেশ মানবাধিকার সংরক্ষণে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক চুক্তি অনুসমর্থন করেছে এবং দেশীয় আইন প্রণয়ন করেছে। জাতীয় মানবাধিকার কমিশন এর তদারকির প্রধান প্রাতিষ্ঠানিক সংস্থা।
সংস্থা/আইন | সাল ও বিষয় |
জাতীয় মানবাধিকার কমিশন আইন | ২০০৯; স্বাধীন সংবিধিবদ্ধ সংস্থা গঠন |
বাংলাদেশের জাতীয় মানবাধিকার কমিশন প্রতিষ্ঠা | ১৩ জুন ২০০৭ (অধ্যাদেশ); ২০০৯ আইন দ্বারা পুনঃপ্রতিষ্ঠিত |
UDHR অনুসমর্থন | ১৯৭৪ (বাংলাদেশের জাতিসংঘ সদস্যপদ গ্রহণের সাথে) |
ICCPR অনুসমর্থন | ৬ সেপ্টেম্বর ২০০০ |
ICESCR অনুসমর্থন | ৫ অক্টোবর ১৯৯৮ |
CEDAW অনুসমর্থন | ৬ নভেম্বর ১৯৮৪ |
CRC (শিশু অধিকার কনভেনশন) অনুসমর্থন | ৩ আগস্ট ১৯৯০ |
নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন | ২০০০ (২০০৩ সংশোধিত) |
মানব পাচার প্রতিরোধ ও দমন আইন | ২০১২ |
শিশু আইন | ২০১৩ |
প্রতিবন্ধী ব্যক্তির অধিকার ও সুরক্ষা আইন | ২০১৩ |
মৌলিক অধিকার ও মানবাধিকারের তুলনা
মৌলিক অধিকার ও মানবাধিকার ঘনিষ্ঠ ধারণা হলেও সমার্থক নয়; দুটির পরিধি ও প্রকৃতিতে স্পষ্ট পার্থক্য আছে।
দিক | মৌলিক অধিকার | মানবাধিকার |
উৎস | দেশের সংবিধান | মানুষের জন্মসিদ্ধ ও আন্তর্জাতিক ঘোষণাপত্র |
পরিধি | নির্দিষ্ট রাষ্ট্রের নাগরিকের জন্য | সকল মানুষের জন্য সর্বজনীন |
প্রয়োগযোগ্যতা | সংবিধান-প্রদত্ত আদালতে প্রয়োগযোগ্য | সবসময় আদালতে প্রয়োগযোগ্য নয়, নৈতিক দাবি |
সংখ্যা ও সংজ্ঞা | নির্দিষ্ট ও সুস্পষ্ট | বিস্তৃত ও বিকশিত হচ্ছে |
পরিবর্তন | সংবিধান সংশোধনের মাধ্যমে পরিবর্তনযোগ্য | চিরন্তন ও অলঙ্ঘনীয় |
সম্পর্ক | মানবাধিকারের একটি অংশ | মৌলিক অধিকারের চেয়ে ব্যাপক |
📌 মনে রাখুন পরীক্ষায় মনে রাখা সকল মৌলিক অধিকার মানবাধিকার, কিন্তু সকল মানবাধিকার মৌলিক অধিকার নয়। মানবাধিকারের পরিধি অপেক্ষাকৃত ব্যাপক। |
নাগরিকের কর্তব্য
রাষ্ট্রের সদস্য হিসেবে প্রত্যেক নাগরিকের তার সামাজিক, রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক, নৈতিক ও আইনি কর্তব্য পালন করতে হয়। অধিকার ভোগের বিনিময়ে নাগরিকদের রাষ্ট্রের প্রতি কর্তব্যপালন একটি স্বাভাবিক ও নৈতিক দায়। Laski-এর ভাষায়, কর্তব্য পালন ব্যতীত অধিকার ভোগের প্রত্যাশা করা যায় না।
কর্তব্যের শ্রেণিবিভাগ
শ্রেণি | উদাহরণ |
নৈতিক কর্তব্য (Moral Duties) | গরিবদের সাহায্য, পিতা-মাতা ও গুরুজনদের শ্রদ্ধা, দুর্যোগে সহযোগিতা, সত্যবাদিতা |
আইনগত কর্তব্য (Legal Duties) | আইন মান্য করা, কর প্রদান, ভোটদান, বিচার ব্যবস্থায় সহযোগিতা |
সামাজিক কর্তব্য (Social Duties) | সামাজিক রীতি-নীতি মেনে চলা, প্রতিষ্ঠানের প্রতি শ্রদ্ধা, প্রতিবেশীর কল্যাণ |
রাজনৈতিক কর্তব্য (Political Duties) | রাষ্ট্রের প্রতি আনুগত্য, যোগ্য প্রার্থীকে নির্বাচন, জাতীয় সঙ্গীত-পতাকা-সংবিধানের প্রতি শ্রদ্ধা |
অর্থনৈতিক কর্তব্য (Economic Duties) | নিয়মিত কর প্রদান, সততার সাথে ব্যবসা, সরকারি সম্পত্তি রক্ষা |
প্রধান নাগরিক কর্তব্যসমূহ
রাষ্ট্রের প্রতি আনুগত্য (Allegiance to the State): নাগরিকের প্রথম ও প্রধান কর্তব্য। বিদেশী আগ্রাসন থেকে রাষ্ট্র রক্ষায় প্রস্তুত থাকা।
আইন মান্য করা (Obedience to Law): রাষ্ট্রের প্রণীত আইন ও সংবিধান মেনে চলা।
সততার সাথে ভোটাধিকার প্রয়োগ (Right to Honest Franchise): যোগ্য ও সৎ প্রার্থীকে নির্বাচন করা।
নিয়মিত কর প্রদান (Regular Payment of Taxes): রাষ্ট্রের অর্থনৈতিক চাহিদা পূরণে সময়মতো কর প্রদান।
জনসেবা (Public Service): সমাজের কল্যাণে স্বেচ্ছাসেবী কাজ ও সহযোগিতা প্রদান।
সন্তানদের শিক্ষা প্রদান (To Educate Children): পরবর্তী প্রজন্মকে উপযুক্ত শিক্ষা ও মূল্যবোধে গড়ে তোলা।
জাতীয় সম্পত্তি রক্ষা: রাষ্ট্রের সম্পদ ও পরিবেশের যত্ন নেওয়া।
জাতীয় ঐক্য ও সংহতি রক্ষা: ধর্মীয়, জাতিগত বা ভাষাগত বিভাজন এড়িয়ে চলা।
সংবিধান, জাতীয় সঙ্গীত ও পতাকার প্রতি শ্রদ্ধা প্রদর্শন।
জাতীয় দিবস যথাযথভাবে পালন।
জনস্বার্থে কাজ ও সরকারি কাজে সহযোগিতা।
সংবিধানে নাগরিক কর্তব্য
অনুচ্ছেদ | কর্তব্য |
অনুচ্ছেদ ২১ (১) | সংবিধান ও আইন মান্য করা, শৃঙ্খলা রক্ষা, নাগরিক দায়িত্ব পালন এবং জাতীয় সম্পদ রক্ষা প্রতিটি নাগরিকের কর্তব্য |
অনুচ্ছেদ ২১ (২) | প্রজাতন্ত্রের কর্মে নিযুক্ত প্রত্যেক ব্যক্তি জনগণের সেবা করার চেষ্টা করিবেন |
অনুচ্ছেদ ২৪ | জাতীয় স্মৃতিনিদর্শন, শিল্পকলা ও বস্তু রক্ষা |
অনুচ্ছেদ ১৭ | বাধ্যতামূলক শিক্ষায় অংশগ্রহণ |
অধিকার ও কর্তব্যের পারস্পরিক সম্পর্ক
অধিকার ও কর্তব্য একে অপরের পরিপূরক; একটি ছাড়া অন্যটি অর্থহীন। সমাজবিজ্ঞানী Hobhouse যথার্থই বলেছেন, যদি আমার পথে অবাধে চলার অধিকার থাকে, তাহলে তোমার কর্তব্য আমাকে যুক্তিসঙ্গত স্থান করে দেওয়া; অর্থাৎ একজনের অধিকার অপরের কর্তব্যের বাহক। Mahatma Gandhi-র ভাষায়, প্রকৃত অধিকারের উৎস হলো কর্তব্যপালন; পবিত্রভাবে কর্তব্যপালন করলে অধিকার আপনাআপনি আসে।
সম্পর্কের প্রধান দিক
অধিকার কর্তব্যকে নির্দেশ করে: এক ব্যক্তির অধিকার অপরের কর্তব্য সৃষ্টি করে; যেমন একজনের জীবনের অধিকার অপরকে তা সম্মান করার কর্তব্যপালনে বাধ্য করে।
কর্তব্য পালনের মাধ্যমেই অধিকার অর্থপূর্ণ: শুধু আইন থাকলেই অধিকার সুরক্ষিত হয় না; প্রতিটি নাগরিকের কর্তব্যপালনই অধিকারের বাস্তব রূপ দেয়।
অধিকার ও কর্তব্য একই উৎস: রাষ্ট্র ও সমাজ উভয়ের উৎস; তাই প্রকৃতিগতভাবে অভিন্ন।
একই ব্যক্তির অধিকার-কর্তব্য: একজন নাগরিক ভোটদানের অধিকার ভোগ করেন, আবার যোগ্য প্রার্থীকে ভোট দেওয়ার কর্তব্যও পালন করেন।
অধিকারের অপব্যবহার = কর্তব্যের অবহেলা: অপরের অধিকারে হস্তক্ষেপ করে নিজের অধিকার ভোগ করা যায় না।
ভারসাম্য বজায় রাখা: গণতান্ত্রিক সমাজের সাফল্যের জন্য অধিকার ও কর্তব্যের ভারসাম্য অপরিহার্য।
সাংবিধানিক সমন্বয়: সংবিধানে অধিকার ও কর্তব্য উভয়ই লিপিবদ্ধ থাকে; একটিকে ছাড়া অন্যটি অসম্পূর্ণ।
✍️ লিখিত পরীক্ষার জন্য Laski-র প্রসিদ্ধ সূত্রটি স্পষ্ট: 'Rights imply duties'; অর্থাৎ প্রতিটি অধিকার একটি বাধ্যবাধকতা বহন করে এবং দুটি একই মুদ্রার দুই পিঠ। একটি স্বাস্থ্যবান গণতন্ত্রের পূর্বশর্ত হলো অধিকার ও কর্তব্যের পারস্পরিক স্বীকৃতি; নাগরিক যদি শুধু অধিকার দাবি করে কর্তব্য এড়িয়ে যায়, তবে রাষ্ট্র ভঙ্গুর হয়ে পড়ে এবং দুর্বল শাসন ব্যবস্থায় উন্নয়ন প্রকল্প ব্যর্থ হয়। বাংলাদেশের সাংবিধানিক দর্শন এই ভারসাম্যকে স্বীকার করেছে: তৃতীয় ভাগে মৌলিক অধিকার, দ্বিতীয় ভাগে রাষ্ট্রনীতি ও অনুচ্ছেদ ২১ এ নাগরিক কর্তব্য একই কাঠামোয় সন্নিবেশিত করে সংবিধান একটি ভারসাম্যপূর্ণ নাগরিকতাবোধ গড়ার দিকনির্দেশনা প্রদান করেছে। |
অধিকার সংরক্ষণের উপায়
শুধু সংবিধানে অধিকার লিপিবদ্ধ করলেই তা সুরক্ষিত হয় না; অধিকার সংরক্ষণের জন্য একাধিক প্রাতিষ্ঠানিক, আইনি ও সামাজিক ব্যবস্থা প্রয়োজন।
আইন (Law): স্পষ্ট ও কার্যকর আইন অধিকার সংরক্ষণের প্রধান হাতিয়ার।
গণতন্ত্র (Democracy): গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা ছাড়া অধিকার সুরক্ষা অসম্ভব; স্বৈরশাসনে অধিকার লঙ্ঘিত হয়।
মৌলিক অধিকারের ঘোষণা (Declaration of Fundamental Rights): সংবিধানে লিখিত অধিকারের তালিকা।
আইনের শাসন (Rule of Law): সবাই আইনের অধীন; কেউ আইনের ঊর্ধ্বে নয়।
বিচার বিভাগের স্বাধীনতা (Independence of Judiciary): নির্বাহী বিভাগ থেকে পৃথক ও নিরপেক্ষ বিচার ব্যবস্থা।
জনগণের চিরন্তন সতর্কতা (Eternal Vigilance of the People): জনগণ অধিকার-সচেতন না হলে অধিকার ক্ষুণ্ণ হয়। 'Eternal vigilance is the price of liberty' : Thomas Jefferson।
নিরপেক্ষ ও শক্তিশালী গণমাধ্যম: রাষ্ট্রের চতুর্থ স্তম্ভ; অধিকার লঙ্ঘনের তথ্য প্রকাশ করে।
সিভিল সোসাইটি ও মানবাধিকার সংস্থা: প্রাতিষ্ঠানিক তদারকি।
শিক্ষা ও সচেতনতা: নাগরিক অধিকার-শিক্ষা সচেতন নাগরিক গড়ে।
নৈতিক দ্বন্দ্ব ও কেস বিশ্লেষণ
অধিকার ও কর্তব্যের প্রয়োগে প্রায়শ দ্বন্দ্ব সৃষ্টি হয়; নিচে প্রতিনিধিত্বমূলক কয়েকটি পরিস্থিতির বিশ্লেষণ উপস্থাপিত হলো।
কেস ১: বাকস্বাধীনতা বনাম জননিরাপত্তা
একজন সাংবাদিক একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করতে চান যা সরকারের জন্য বিব্রতকর; কর্তৃপক্ষ যুক্তি দিচ্ছে এটি জননিরাপত্তা ক্ষুণ্ণ করতে পারে। বিশ্লেষণে দেখা যায় সংবিধানের অনুচ্ছেদ ৩৯ অনুযায়ী বাকস্বাধীনতা মৌলিক অধিকার, তবে রাষ্ট্রের নিরাপত্তা, শৃঙ্খলা ও সদাচারের যুক্তিসঙ্গত বিধিনিষেধ প্রযোজ্য। ভারসাম্য রক্ষাই সমাধান; বিচার বিভাগ স্বাধীন তদন্তের মাধ্যমে সিদ্ধান্ত নিতে পারে।
কেস ২: ধর্মীয় স্বাধীনতা বনাম নারী অধিকার
একজন তরুণী ধর্মীয় ঐতিহ্যের নামে শিক্ষা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। সংবিধানের অনুচ্ছেদ ৪১ ধর্মীয় স্বাধীনতা প্রদান করে, কিন্তু অনুচ্ছেদ ১৭ অবৈতনিক শিক্ষা ও অনুচ্ছেদ ২৮ ধর্ম-নিরপেক্ষ সমতার বিধান করে। জাতিসংঘের CRC ও CEDAW-এর আলোকে শিশুর শিক্ষার অধিকার ধর্মীয় ব্যাখ্যার চেয়ে অগ্রাধিকার পাবে; পরিবারের নৈতিক ও আইনি কর্তব্য শিশুকে শিক্ষা প্রদান।
কেস ৩: ভোটাধিকার বনাম রাজনৈতিক উদাসীনতা
একজন শিক্ষিত নাগরিক ভোটদানে আগ্রহ নেই দেখান এই যুক্তিতে যে কোনো প্রার্থীই যোগ্য নন। নৈতিকভাবে এটি গণতান্ত্রিক কর্তব্য থেকে পলায়ন; ভোটদান শুধু অধিকার নয়, নাগরিক কর্তব্য। উপযুক্ত প্রার্থী না থাকলে 'না-ভোট' (No Vote) বা NOTA সুবিধা ব্যবহার করা যেতে পারে; সম্পূর্ণ বিরত থাকা গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়াকে দুর্বল করে।
কেস ৪: গোপনীয়তা বনাম জনস্বার্থ
একটি সংবাদমাধ্যম একজন সরকারি কর্মকর্তার আর্থিক অনিয়মের প্রমাণ পেয়ে প্রকাশ করতে চাইছে। অনুচ্ছেদ ৪৩ যোগাযোগের গোপনীয়তার অধিকার দেয়, কিন্তু জনস্বার্থে দুর্নীতির তথ্য প্রকাশ এই গোপনীয়তার ঊর্ধ্বে। নৈতিক ভারসাম্যের নীতি অনুযায়ী, যেখানে অপরের অধিকার বা জনস্বার্থ জড়িত, সেখানে ব্যক্তিগত গোপনীয়তার দাবি সীমিত হবে।
আন্তর্জাতিক মানবাধিকার চুক্তি ও সংস্থা
জাতিসংঘের আওতায় মানবাধিকার সুরক্ষার জন্য একাধিক চুক্তি ও কনভেনশন গৃহীত হয়েছে। বাংলাদেশ এসব চুক্তির অধিকাংশে স্বাক্ষরকারী।
চুক্তি/ঘোষণা | সংক্ষেপ | গৃহীত | প্রতিপাদ্য |
UDHR | Universal Declaration of Human Rights | ১০ ডিসেম্বর ১৯৪৮ | মানবাধিকারের মৌলিক ঘোষণাপত্র, ৩০ অনুচ্ছেদ |
ICCPR | International Covenant on Civil and Political Rights | ১৬ ডিসেম্বর ১৯৬৬ | নাগরিক ও রাজনৈতিক অধিকার |
ICESCR | International Covenant on Economic, Social and Cultural Rights | ১৬ ডিসেম্বর ১৯৬৬ | অর্থনৈতিক, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক অধিকার |
CEDAW | Convention on Elimination of All Forms of Discrimination Against Women | ১৮ ডিসেম্বর ১৯৭৯ | নারীর প্রতি সকল প্রকার বৈষম্য নিরসন |
CRC | Convention on the Rights of the Child | ২০ নভেম্বর ১৯৮৯ | শিশু অধিকার |
CAT | Convention against Torture | ১০ ডিসেম্বর ১৯৮৪ | নির্যাতন প্রতিরোধ |
CRPD | Convention on the Rights of Persons with Disabilities | ১৩ ডিসেম্বর ২০০৬ | প্রতিবন্ধী ব্যক্তির অধিকার |
ICERD | International Convention on the Elimination of Racial Discrimination | ২১ ডিসেম্বর ১৯৬৫ | জাতিগত বৈষম্য নিরসন |
প্রধান আন্তর্জাতিক সংস্থা
UN Human Rights Council (UNHRC): ২০০৬ সালে প্রতিষ্ঠিত; পূর্ববর্তী Commission on Human Rights-এর উত্তরসূরি; সদর দপ্তর জেনেভা।
UN High Commissioner for Human Rights: OHCHR; সদর দপ্তর জেনেভা।
Amnesty International: ১৯৬১ সালে Peter Benenson কর্তৃক প্রতিষ্ঠিত; সদর দপ্তর লন্ডন।
Human Rights Watch: ১৯৭৮ সালে প্রতিষ্ঠিত; সদর দপ্তর নিউইয়র্ক।
International Criminal Court (ICC): ২০০২ সালে প্রতিষ্ঠিত; সদর দপ্তর হেগ, নেদারল্যান্ডস।
ASK (আইন ও সালিশ কেন্দ্র): বাংলাদেশের একটি প্রধান মানবাধিকার সংস্থা; ১৯৮৬ সালে প্রতিষ্ঠিত।
সাম্প্রতিক মানবাধিকার সূচক ও তথ্য
আন্তর্জাতিক ও জাতীয় পর্যায়ের সাম্প্রতিক মানবাধিকার পরিস্থিতি বিভিন্ন সূচকে পরিমাপিত হয়। বাংলাদেশ বহু চুক্তি অনুসমর্থন করেছে এবং একটি স্বাধীন মানবাধিকার কমিশন বিদ্যমান।
Live Data সাম্প্রতিক পরিসংখ্যান ✓ UDHR অনুসমর্থন (সদস্য রাষ্ট্র): ১৯৩টি জাতিসংঘ সদস্য (২০২৪) ✓ জাতিসংঘের সদস্য সংখ্যা: ১৯৩টি দেশ ✓ UDHR প্রস্তুতিকালীন সদস্য: ৫৮ (১৯৪৮); ৪৮ পক্ষে, ৮ বিরত ✓ আন্তর্জাতিক মানবাধিকার দিবস: ১০ ডিসেম্বর ✓ বাংলাদেশ মানবাধিকার কমিশন প্রতিষ্ঠা: ১৩ জুন ২০০৭ (অধ্যাদেশ); ২০০৯ আইন ✓ বাংলাদেশ সংবিধান গৃহীত: ৪ নভেম্বর ১৯৭২; কার্যকর ১৬ ডিসেম্বর ১৯৭২ ✓ সংবিধান সংশোধনী: ১৭তম (২০১৮ সাল পর্যন্ত) ✓ বাংলাদেশ ICCPR অনুসমর্থন: ৬ সেপ্টেম্বর ২০০০ ✓ বাংলাদেশ CEDAW অনুসমর্থন: ৬ নভেম্বর ১৯৮৪ |
তুলনামূলক বিশ্লেষণ
নাগরিকতার এই অধ্যায়ে কিছু গুরুত্বপূর্ণ ধারণার পার্থক্য পরীক্ষায় ফাঁদ হিসেবে আসে; নিচের ছকে স্পষ্ট করা হলো।
ধারণা | অর্থ | মূল পার্থক্য |
নৈতিক অধিকার | সমাজের নৈতিকতা-নির্ভর অধিকার | আইনি বাধ্যবাধকতা নেই |
আইনি অধিকার | রাষ্ট্রের আইন দ্বারা স্বীকৃত | লঙ্ঘনে আইনি প্রতিকার |
মৌলিক অধিকার | সংবিধানে স্বীকৃত | আদালতে বলবৎযোগ্য |
মানবাধিকার | জন্মসিদ্ধ সর্বজনীন অধিকার | আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি |
পৌর অধিকার (Civil Rights) | ব্যক্তিগত স্বাধীনতা সংক্রান্ত | সামাজিক জীবনে |
রাজনৈতিক অধিকার | রাষ্ট্র পরিচালনায় অংশগ্রহণ | ভোট, নির্বাচন, পদ |
অর্থনৈতিক অধিকার | জীবিকা ও কর্মসংস্থান | কর্ম, মজুরি, বিশ্রাম |
সাংস্কৃতিক অধিকার | সংস্কৃতি ও ভাষা চর্চা | নিজ ঐতিহ্য রক্ষা |
অধিকার বনাম স্বেচ্ছাচার
অধিকার | স্বেচ্ছাচার |
সামাজিক ও রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি | কোনো স্বীকৃতি নেই |
কল্যাণমূলক | ক্ষতিকর |
আইনের সীমার মধ্যে | আইনের বাইরে |
অপরের অধিকারের প্রতি সম্মান | অপরের অধিকারে হস্তক্ষেপ |
টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা (SDG) ও নাগরিক অধিকার
জাতিসংঘের টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা (SDG, 2015-2030) এর একাধিক লক্ষ্যে মানবাধিকার ও নাগরিকতার সুরক্ষা অন্তর্ভুক্ত হয়েছে। মানবাধিকারের সুরক্ষা সকল SDG-এর ভিত্তি।
SDG লক্ষ্যমাত্রা | সম্পর্কিত অধিকার/কর্তব্য |
SDG ৪ | সকলের জন্য মানসম্মত শিক্ষা; শিক্ষার অধিকার |
SDG ৫ | জেন্ডার সমতা; নারীর অধিকার |
SDG ৮ | শোভন কর্ম ও অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি; কর্মের অধিকার |
SDG ১০ | অসমতা হ্রাস; বৈষম্য বিলোপ |
SDG ১৬.৩ | জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা |
SDG ১৬.৭ | অংশগ্রহণমূলক ও জবাবদিহিমূলক সিদ্ধান্ত গ্রহণ |
SDG ১৬.৯ | সকলের জন্য আইনি পরিচয় প্রদান (জন্ম নিবন্ধনসহ) |
SDG ১৬.১০ | তথ্যপ্রবাহ ও মৌলিক স্বাধীনতা সুরক্ষা |
মনে রাখার কৌশল
📌 মনে রাখুন UDHR-এর গুরুত্বপূর্ণ তথ্য ১০ ডিসেম্বর ১৯৪৮ : প্যারিস : ৩০ অনুচ্ছেদ : Eleanor Roosevelt সূত্র: ১০-৪৮-৩০ (দিন-সাল-অনুচ্ছেদ) আন্তর্জাতিক মানবাধিকার দিবস ১০ ডিসেম্বর। |
📌 মনে রাখুন পাঁচ ধরনের রিট : H-M-P-C-Q H = Habeas Corpus (বন্দি প্রত্যক্ষীকরণ) M = Mandamus (পরমাদেশ) P = Prohibition (নিষেধাজ্ঞা) C = Certiorari (উৎপ্রেষণ) Q = Quo Warranto (অধিকার পৃচ্ছা) |
📌 মনে রাখুন কর্তব্যের ৫ শ্রেণি : নৈ-আ-সা-রা-অ নৈ = নৈতিক আ = আইনগত সা = সামাজিক রা = রাজনৈতিক অ = অর্থনৈতিক |
📌 মনে রাখুন মৌলিক অধিকারের অনুচ্ছেদ পরিসীমা সংবিধানের তৃতীয় ভাগ : অনুচ্ছেদ ২৬-৪৭ মৌলিক অধিকারের সংখ্যা : ১৮ (অনু. ২৭-৪৪) রিট আবেদন : অনুচ্ছেদ ৪৪ ও ১০২ |
📌 মনে রাখুন Bill of Human Rights ত্রয়ী UDHR ১৯৪৮ + ICCPR ১৯৬৬ + ICESCR ১৯৬৬ = International Bill of Human Rights |
বিশেষ নোট
পরীক্ষায় ভুল হওয়ার সম্ভাব্য বিভ্রান্তিকর তথ্যগুলোর স্পষ্টীকরণ:
জনস্বাস্থ্য ও নৈতিকতা: অনুচ্ছেদ ১৮; এটি দ্বিতীয় ভাগ (রাষ্ট্রনীতি), মৌলিক অধিকার নয়।
আইনের চোখে সব নাগরিক সমান: অনুচ্ছেদ ২৭।
সরকারি নিয়োগে সুযোগের সমতা: অনুচ্ছেদ ২৯; এটি মৌলিক অধিকার, নৈতিক বিষয় নয়।
সংবাদপত্রের স্বাধীনতা: ব্যক্তিগত অধিকার; অনুচ্ছেদ ৩৯ এর অংশ।
তথ্য পাওয়া: মৌলিক অধিকার; তথ্য অধিকার আইন ২০০৯ এর মাধ্যমে স্পষ্ট।
মৌলিক অধিকার লঙ্ঘনের প্রতিকার: হাইকোর্ট বিভাগে রিট আবেদন; অনুচ্ছেদ ১০২।
বাংলাদেশ প্রজাতন্ত্রের ভিত্তি: মৌলিক মানবাধিকার ও স্বাধীনতা নিশ্চিতকরণ, মানবসত্তার মর্যাদা, জনগণের কার্যকর অংশগ্রহণ অর্থাৎ উপরের সবকটি।
UDHR-এ ভোট: ৪৮ পক্ষে, ৮ বিরত (USSR-সহ সমাজতান্ত্রিক দেশ ও সৌদি আরব); ০ বিপক্ষে।
UDHR খসড়া কমিটির প্রধান: Eleanor Roosevelt (যুক্তরাষ্ট্র)।
মৌলিক অধিকার সংখ্যা: ১৮টি (অনুচ্ছেদ ২৭-৪৪)।
সকল মৌলিক অধিকার মানবাধিকার: হ্যাঁ; তবে সকল মানবাধিকার মৌলিক অধিকার নয়।
নাগরিকের চিরন্তর সতর্কতা: Thomas Jefferson; স্বাধীনতার মূল্য।
পরীক্ষার ফাঁদ ও সতর্কতা
ভুল হওয়ার সম্ভাব্য জোড়া | স্পষ্টীকরণ |
মৌলিক অধিকার vs মূলনীতি | মৌলিক অধিকার: অনু. ২৭-৪৪, প্রয়োগযোগ্য; মূলনীতি: অনু. ৮-২৫, নির্দেশনামূলক, প্রয়োগযোগ্য নয় |
মৌলিক অধিকার vs মানবাধিকার | মৌলিক অধিকার সংবিধানে, মানবাধিকার জন্মসিদ্ধ ও সর্বজনীন |
আইন vs নৈতিকতা | আইন: রাষ্ট্রিক বাধ্যতা; নৈতিকতা: বিবেক-ভিত্তিক |
UDHR vs ICCPR/ICESCR | UDHR ১৯৪৮ ঘোষণাপত্র; ICCPR ও ICESCR ১৯৬৬ আইনিভাবে বাধ্যতামূলক চুক্তি |
অনুচ্ছেদ ২৭ vs ২৮ | ২৭: আইনের চোখে সমতা; ২৮: ধর্ম-গোষ্ঠী-বর্ণ ভিত্তিক বৈষম্য নিষেধ |
অনুচ্ছেদ ৩১ vs ৩২ | ৩১: আইনের আশ্রয়; ৩২: জীবন ও স্বাধীনতা |
অনুচ্ছেদ ৩৭ vs ৩৮ | ৩৭: সমাবেশ; ৩৮: সংগঠন |
অনুচ্ছেদ ১৮ vs ৩৯ | ১৮: জনস্বাস্থ্য ও নৈতিকতা (মূলনীতি); ৩৯: চিন্তা ও বাকস্বাধীনতা (মৌলিক) |
পৌর vs রাজনৈতিক অধিকার | পৌর: ব্যক্তি জীবনে; রাজনৈতিক: রাষ্ট্রের কাজে অংশগ্রহণ |
পরীক্ষার প্রশ্ন
প্রশ্ন: সকল মৌলিক অধিকার কি মানবাধিকার?
উত্তর: হ্যাঁ, সকল মৌলিক অধিকার মানবাধিকার, তবে সকল মানবাধিকার মৌলিক অধিকার নয়; মানবাধিকার মৌলিক অধিকারের চেয়ে ব্যাপক।
প্রশ্ন: মৌলিক ও মানবাধিকার উভয়ের উৎস কি এক?
উত্তর: হ্যাঁ, উভয়ের উৎস এক ও অভিন্ন: মানবাধিকার।
প্রশ্ন: মৌলিক ও মানবাধিকারের কোনটির পরিধি ব্যাপক?
উত্তর: মানবাধিকার।
প্রশ্ন: জাতিসংঘের সর্বজনীন মানবাধিকার ঘোষণাপত্র কত সালে গৃহীত হয়?
উত্তর: ১০ ডিসেম্বর ১৯৪৮।
প্রশ্ন: UDHR কোথায় গৃহীত হয়?
উত্তর: প্যারিস, ফ্রান্স।
প্রশ্ন: UDHR-এ মোট কতটি অনুচ্ছেদ আছে?
উত্তর: ৩০টি।
প্রশ্ন: UDHR খসড়া কমিটির প্রধান কে ছিলেন?
উত্তর: Eleanor Roosevelt।
প্রশ্ন: আন্তর্জাতিক মানবাধিকার দিবস কবে?
উত্তর: ১০ ডিসেম্বর।
প্রশ্ন: International Bill of Human Rights কোন তিনটি দলিল মিলে?
উত্তর: UDHR (১৯৪৮), ICCPR (১৯৬৬), ICESCR (১৯৬৬)।
প্রশ্ন: ICCPR-এর পূর্ণরূপ কী?
উত্তর: International Covenant on Civil and Political Rights।
প্রশ্ন: ICESCR-এর পূর্ণরূপ কী?
উত্তর: International Covenant on Economic, Social and Cultural Rights।
প্রশ্ন: মৌলিক অধিকার লঙ্ঘনের প্রতিকারে কোন আদালতে যেতে হয়?
উত্তর: হাইকোর্ট বিভাগে।
প্রশ্ন: বাংলাদেশ সংবিধানের কত নম্বর অনুচ্ছেদে রিট আবেদনের অধিকার?
উত্তর: অনুচ্ছেদ ৪৪ (ও ১০২)।
প্রশ্ন: আইনের চোখে সব নাগরিক সমান: কোন অনুচ্ছেদে?
উত্তর: অনুচ্ছেদ ২৭।
প্রশ্ন: সরকারি নিয়োগ-লাভে সুযোগের সমতা: কী ধরনের বিষয়?
উত্তর: মৌলিক অধিকার (অনুচ্ছেদ ২৯)।
প্রশ্ন: জনস্বাস্থ্য ও নৈতিকতা সংক্রান্ত বিধান সংবিধানের কোন অনুচ্ছেদে?
উত্তর: অনুচ্ছেদ ১৮।
প্রশ্ন: বাংলাদেশ প্রজাতন্ত্রের ভিত্তি কী?
উত্তর: মৌলিক মানবাধিকার ও স্বাধীনতা নিশ্চিতকরণ, মানবসত্তার মর্যাদা ও মূল্যের প্রতি শ্রদ্ধা এবং প্রশাসনের সকল পর্যায়ে জনগণের কার্যকর অংশগ্রহণ; অর্থাৎ উপরের সবকটি।
প্রশ্ন: সংবাদপত্রের স্বাধীনতা কী ধরনের অধিকার?
উত্তর: ব্যক্তিগত অধিকার।
প্রশ্ন: তথ্য পাওয়া কোন ধরনের অধিকার?
উত্তর: মৌলিক অধিকার।
প্রশ্ন: বাংলাদেশের সংবিধান কত সালে গৃহীত?
উত্তর: ৪ নভেম্বর ১৯৭২।
প্রশ্ন: বাংলাদেশের সংবিধান কত তারিখে কার্যকর হয়?
উত্তর: ১৬ ডিসেম্বর ১৯৭২।
প্রশ্ন: সংবিধানে মৌলিক অধিকার মোট কয়টি?
উত্তর: ১৮টি (অনুচ্ছেদ ২৭-৪৪)।
প্রশ্ন: সংবিধানের তৃতীয় ভাগে কী আছে?
উত্তর: মৌলিক অধিকার (অনুচ্ছেদ ২৬-৪৭)।
প্রশ্ন: সংবিধানের দ্বিতীয় ভাগে কী আছে?
উত্তর: রাষ্ট্রপরিচালনার মূলনীতি (অনুচ্ছেদ ৮-২৫)।
প্রশ্ন: চিন্তা, বিবেক ও বাক-স্বাধীনতা কোন অনুচ্ছেদে?
উত্তর: অনুচ্ছেদ ৩৯।
প্রশ্ন: চলাফেরার স্বাধীনতা কোন অনুচ্ছেদে?
উত্তর: অনুচ্ছেদ ৩৬।
প্রশ্ন: সমাবেশের স্বাধীনতা কোন অনুচ্ছেদে?
উত্তর: অনুচ্ছেদ ৩৭।
প্রশ্ন: সংগঠনের স্বাধীনতা কোন অনুচ্ছেদে?
উত্তর: অনুচ্ছেদ ৩৮।
প্রশ্ন: ধর্মীয় স্বাধীনতা কোন অনুচ্ছেদে?
উত্তর: অনুচ্ছেদ ৪১।
প্রশ্ন: সম্পত্তির অধিকার কোন অনুচ্ছেদে?
উত্তর: অনুচ্ছেদ ৪২।
প্রশ্ন: জীবন ও ব্যক্তিস্বাধীনতার অধিকার কোন অনুচ্ছেদে?
উত্তর: অনুচ্ছেদ ৩২।
প্রশ্ন: জবরদস্তি শ্রম নিষিদ্ধ কোন অনুচ্ছেদে?
উত্তর: অনুচ্ছেদ ৩৪।
প্রশ্ন: গ্রেপ্তার ও আটক রক্ষাকবচ কোন অনুচ্ছেদে?
উত্তর: অনুচ্ছেদ ৩৩।
প্রশ্ন: আইনের আশ্রয় লাভের অধিকার কোন অনুচ্ছেদে?
উত্তর: অনুচ্ছেদ ৩১।
প্রশ্ন: জনগণের ক্ষমতার মালিক কে?
উত্তর: জনগণ (অনুচ্ছেদ ৭)।
প্রশ্ন: বাংলাদেশে জাতীয় মানবাধিকার কমিশন প্রতিষ্ঠা কত সালে?
উত্তর: ২০০৭ সালে অধ্যাদেশ; ২০০৯ সালে আইনি ভিত্তি।
প্রশ্ন: জাতীয় মানবাধিকার কমিশন আইন কত সালে?
উত্তর: ২০০৯ সালে।
প্রশ্ন: মানবাধিকার প্রকৃতি অনুযায়ী কী ধরনের?
উত্তর: জন্মসিদ্ধ, সর্বজনীন, অলঙ্ঘনীয় ও অপরিহার্য।
প্রশ্ন: জাতিসংঘ মানবাধিকার পরিষদ কত সালে গঠিত?
উত্তর: ২০০৬ সালে।
প্রশ্ন: জাতিসংঘ মানবাধিকার পরিষদের সদর দপ্তর কোথায়?
উত্তর: জেনেভা, সুইজারল্যান্ড।
প্রশ্ন: Amnesty International কত সালে প্রতিষ্ঠিত?
উত্তর: ১৯৬১ সালে।
প্রশ্ন: Amnesty International-এর প্রতিষ্ঠাতা কে?
উত্তর: Peter Benenson।
প্রশ্ন: Amnesty International-এর সদর দপ্তর কোথায়?
উত্তর: লন্ডন।
প্রশ্ন: Human Rights Watch কত সালে প্রতিষ্ঠিত?
উত্তর: ১৯৭৮ সালে।
প্রশ্ন: ICC-এর সদর দপ্তর কোথায়?
উত্তর: হেগ, নেদারল্যান্ডস।
প্রশ্ন: আইন ও সালিশ কেন্দ্র (ASK) কত সালে প্রতিষ্ঠিত?
উত্তর: ১৯৮৬ সালে।
প্রশ্ন: CEDAW-এর পূর্ণরূপ কী?
উত্তর: Convention on the Elimination of all forms of Discrimination Against Women।
প্রশ্ন: CEDAW কত সালে গৃহীত?
উত্তর: ১৮ ডিসেম্বর ১৯৭৯।
প্রশ্ন: বাংলাদেশ CEDAW কবে অনুসমর্থন করে?
উত্তর: ৬ নভেম্বর ১৯৮৪।
প্রশ্ন: CRC-এর পূর্ণরূপ কী?
উত্তর: Convention on the Rights of the Child।
প্রশ্ন: CRC কত সালে গৃহীত?
উত্তর: ২০ নভেম্বর ১৯৮৯।
প্রশ্ন: ভোটাধিকার কোন ধরনের অধিকার?
উত্তর: রাজনৈতিক অধিকার।
প্রশ্ন: কর্মের অধিকার কোন শ্রেণির অধিকার?
উত্তর: অর্থনৈতিক অধিকার।
প্রশ্ন: বাকস্বাধীনতা কোন শ্রেণির অধিকার?
উত্তর: পৌর অধিকার।
প্রশ্ন: ধর্ম পালনের অধিকার কোন শ্রেণির?
উত্তর: ধর্মীয় অধিকার (পৌর অধিকারেরও অংশ)।
প্রশ্ন: Laski-র মতে অধিকার কী?
উত্তর: সামাজিক জীবনের সেইসব শর্ত যা ছাড়া কোনো মানুষ সাধারণত নিজের সর্বোত্তম রূপে গড়ে উঠতে পারে না।
প্রশ্ন: 'Rights imply duties' উক্তিটি কার?
উত্তর: Professor Harold Laski।
প্রশ্ন: 'Eternal vigilance is the price of liberty' কার উক্তি?
উত্তর: Thomas Jefferson।
প্রশ্ন: 'Man is born free' উক্তিটি কার?
উত্তর: Rousseau।
প্রশ্ন: নাগরিকের প্রথম ও প্রধান কর্তব্য কী?
উত্তর: রাষ্ট্রের প্রতি আনুগত্য (Allegiance to the State)।
প্রশ্ন: সুশাসন প্রতিষ্ঠায় নাগরিকের কর্তব্য কী?
উত্তর: নিয়মিত কর প্রদান, সততার সাথে ব্যবসা, যথাযথ ভোট, এবং সরকার পরিচালনায় সহযোগিতা।
প্রশ্ন: সরকারের কর্তব্য কী?
উত্তর: ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা, আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা ও জবাবদিহি নিশ্চিতকরণ (উপরের সবগুলো)।
প্রশ্ন: নাগরিকের অর্থনৈতিক কর্তব্য কী?
উত্তর: নিয়মিত কর প্রদান ও সরকারি সম্পত্তি রক্ষা।
প্রশ্ন: মৌলিক অধিকার ও মূলনীতির মধ্যে পার্থক্য কী?
উত্তর: মৌলিক অধিকার আদালতে প্রয়োগযোগ্য; মূলনীতি নির্দেশনামূলক, প্রয়োগযোগ্য নয়।
প্রশ্ন: সংবিধানের প্রস্তাবনায় উল্লিখিত আদর্শ কোনগুলো?
উত্তর: জাতীয়তাবাদ, সমাজতন্ত্র, গণতন্ত্র, ধর্মনিরপেক্ষতা।
প্রশ্ন: মানবাধিকার তিন প্রজন্ম কী?
উত্তর: ১ম: নাগরিক ও রাজনৈতিক; ২য়: অর্থনৈতিক, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক; ৩য়: সমষ্টিগত (পরিবেশ, উন্নয়ন, শান্তি)।
প্রশ্ন: Habeas Corpus কী?
উত্তর: বন্দি প্রত্যক্ষীকরণ; কোনো ব্যক্তিকে আইনগতভাবে আটক করা হয়েছে কিনা তা যাচাইয়ের আদেশ।
প্রশ্ন: Mandamus কী?
উত্তর: পরমাদেশ; সরকারি কর্তৃপক্ষকে কর্তব্য পালনের নির্দেশ।
প্রশ্ন: Prohibition কী?
উত্তর: নিষেধাজ্ঞা; অধস্তন আদালত বা সংস্থাকে এখতিয়ার-বহির্ভূত কাজ থেকে বিরত রাখা।
প্রশ্ন: Certiorari কী?
উত্তর: উৎপ্রেষণ; নিম্ন আদালতের সিদ্ধান্ত বাতিল বা পুনর্বিবেচনার আদেশ।
প্রশ্ন: Quo Warranto কী?
উত্তর: অধিকার পৃচ্ছা; কোন ব্যক্তি যে পদে আছেন সেটির বৈধতা যাচাইয়ের আদেশ।
প্রশ্ন: মৌলিক অধিকারের অন্যতম রক্ষাকবচ কোনটি?
উত্তর: বিচার বিভাগের স্বাধীনতা।
প্রশ্ন: মৌলিক অধিকারের পরিধি কতটুকু?
উত্তর: ব্যাপক ও বিস্তৃত (সংবিধান নির্ধারিত)।
প্রশ্ন: UDHR-এর প্রথম অনুচ্ছেদ কী বলে?
উত্তর: সব মানুষ স্বাধীন ও সমান মর্যাদা ও অধিকার নিয়ে জন্মগ্রহণ করে।
প্রশ্ন: UDHR-এর তৃতীয় অনুচ্ছেদ কী?
উত্তর: জীবন, স্বাধীনতা ও ব্যক্তি-নিরাপত্তার অধিকার।
প্রশ্ন: গণতন্ত্রের পূর্বশর্ত কী?
উত্তর: শিক্ষিত নাগরিক, স্বাধীন বিচার বিভাগ, মুক্ত নির্বাচন।
প্রশ্ন: সভ্য সমাজের মানদণ্ড কী?
উত্তর: আইনের শাসন।
প্রশ্ন: রাষ্ট্রের চতুর্থ স্তম্ভ কাকে বলা হয়?
উত্তর: সংবাদমাধ্যম।
প্রশ্ন: সুশাসন প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রে প্রধান প্রতিবন্ধকতা কী?
উত্তর: দুর্নীতি।
প্রশ্ন: মূল্যবোধ ও সুশাসনের উপস্থিতি জাতীয় উন্নয়নের কোন দিকটিকে বেশি টেকসই করে?
উত্তর: মানব সম্পদ উন্নয়ন।
প্রশ্ন: মৌলিক অধিকারের অন্যতম শর্ত কী?
উত্তর: এটি সংবিধান কর্তৃক স্বীকৃত হতে হবে।
প্রশ্ন: মানবাধিকারের অন্যতম বৈশিষ্ট্য কী?
উত্তর: সার্বজনীনতা।
প্রশ্ন: নাগরিকের পরিবারের প্রতি কর্তব্য কী?
উত্তর: পিতা-মাতার সেবা, সন্তানের শিক্ষা, পরিবারের আর্থিক দায়িত্ব।
প্রশ্ন: নাগরিকের সমাজের প্রতি কর্তব্য কী?
উত্তর: সামাজিক রীতি মান্য, প্রতিবেশীর কল্যাণ, সামাজিক প্রতিষ্ঠানের প্রতি শ্রদ্ধা।
প্রশ্ন: নাগরিকের আন্তর্জাতিক দায়িত্ব কী?
উত্তর: বিশ্বশান্তি প্রতিষ্ঠা, ভ্রাতৃত্ব ও সহযোগিতা।
প্রশ্ন: বাংলাদেশের একজন নাগরিকের কয়টি প্রধান অধিকার আছে?
উত্তর: ৬ ধরনের: পৌর, রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক, সামাজিক, সাংস্কৃতিক, ধর্মীয়।
প্রশ্ন: বাংলাদেশের সংবিধান অনুযায়ী 'নাগরিক' কে?
উত্তর: যিনি বাংলাদেশের নাগরিকতা আইন অনুযায়ী নাগরিকতা প্রাপ্ত।
প্রশ্ন: মৌলিক অধিকার কখন স্থগিত হতে পারে?
উত্তর: জরুরি অবস্থায় (অনুচ্ছেদ ১৪১খ অনুসারে)।
প্রশ্ন: জরুরি অবস্থায়ও কোন অধিকার স্থগিত করা যায় না?
উত্তর: অনুচ্ছেদ ৩২ (জীবন ও স্বাধীনতা) এবং অনুচ্ছেদ ৩৫(১,৩,৫) এর সুরক্ষা সম্পূর্ণরূপে স্থগিত করা যায় না।
প্রশ্ন: অধিকার সংরক্ষণে গণমাধ্যমের ভূমিকা কী?
উত্তর: অধিকার লঙ্ঘনের তথ্য প্রকাশ ও জনমত গঠন।
চটজলদি রিভিশন
পরীক্ষার ঠিক আগের মুহূর্তে স্মৃতি ঝালিয়ে নেওয়ার জন্য তথ্যপুঞ্জ।
অধিকার = সমাজ-রাষ্ট্র স্বীকৃত সুযোগ-সুবিধা।
Laski: 'Rights imply duties'।
Ernest Barker: রাষ্ট্র স্বীকৃত না হলে অধিকার প্রকৃত অধিকার নয়।
Rousseau: Man is born free and continues equal in rights।
Aristotle: প্রত্যেক রাষ্ট্রকে চেনা যায় তার রক্ষিত অধিকার দিয়ে।
অধিকার ৭টি বৈশিষ্ট্য: সমষ্টিগত, সামাজিক, রাষ্ট্রীয়, সর্বজনীন, কল্যাণকর, পরিবর্তনশীল, কর্তব্য-সংযুক্ত।
প্রকৃতি অনুসারে অধিকার: নৈতিক ও আইনি।
আইনি অধিকারের উপশ্রেণি: পৌর, অর্থনৈতিক, রাজনৈতিক, সাংস্কৃতিক, ধর্মীয়, ব্যক্তিগত।
মৌলিক অধিকার সংবিধানে স্বীকৃত।
মানবাধিকার জন্মসিদ্ধ ও সর্বজনীন।
সব মৌলিক অধিকার মানবাধিকার, সব মানবাধিকার মৌলিক অধিকার নয়।
UDHR ১০ ডিসেম্বর ১৯৪৮, প্যারিস, ৩০ অনুচ্ছেদ।
UDHR খসড়া কমিটি প্রধান: Eleanor Roosevelt।
UDHR ভোট: ৪৮ পক্ষে, ৮ বিরত।
আন্তর্জাতিক মানবাধিকার দিবস ১০ ডিসেম্বর।
International Bill of Human Rights: UDHR + ICCPR + ICESCR।
ICCPR ও ICESCR ১৯৬৬ সালে গৃহীত।
মানবাধিকার তিন প্রজন্ম: নাগরিক-রাজনৈতিক; অর্থনৈতিক-সামাজিক-সাংস্কৃতিক; সমষ্টিগত।
বাংলাদেশ সংবিধান গৃহীত ৪ নভেম্বর ১৯৭২।
সংবিধান কার্যকর ১৬ ডিসেম্বর ১৯৭২।
সংবিধানের তৃতীয় ভাগ: মৌলিক অধিকার (অনু. ২৬-৪৭)।
সংবিধানের দ্বিতীয় ভাগ: মূলনীতি (অনু. ৮-২৫)।
মৌলিক অধিকার সংখ্যা ১৮ (অনু. ২৭-৪৪)।
অনুচ্ছেদ ২৭: আইনের চোখে সমতা।
অনুচ্ছেদ ২৮: ধর্ম-গোষ্ঠী-বর্ণ ভিত্তিক বৈষম্য নিষেধ।
অনুচ্ছেদ ২৯: সরকারি নিয়োগে সুযোগের সমতা।
অনুচ্ছেদ ৩১: আইনের আশ্রয়।
অনুচ্ছেদ ৩২: জীবন ও ব্যক্তি-স্বাধীনতা।
অনুচ্ছেদ ৩৩: গ্রেপ্তার ও আটক রক্ষাকবচ।
অনুচ্ছেদ ৩৪: জবরদস্তি শ্রম নিষেধ।
অনুচ্ছেদ ৩৫: বিচার-দণ্ড রক্ষাকবচ।
অনুচ্ছেদ ৩৬: চলাফেরার স্বাধীনতা।
অনুচ্ছেদ ৩৭: সমাবেশের স্বাধীনতা।
অনুচ্ছেদ ৩৮: সংগঠনের স্বাধীনতা।
অনুচ্ছেদ ৩৯: চিন্তা, বিবেক ও বাকস্বাধীনতা।
অনুচ্ছেদ ৪০: পেশা-বৃত্তির স্বাধীনতা।
অনুচ্ছেদ ৪১: ধর্মীয় স্বাধীনতা।
অনুচ্ছেদ ৪২: সম্পত্তির অধিকার।
অনুচ্ছেদ ৪৩: গৃহ ও যোগাযোগের গোপনীয়তা।
অনুচ্ছেদ ৪৪: রিট আবেদনের অধিকার।
অনুচ্ছেদ ১৮: জনস্বাস্থ্য ও নৈতিকতা (মূলনীতি)।
অনুচ্ছেদ ২১: নাগরিক ও সরকারি কর্মচারীগণের কর্তব্য।
অনুচ্ছেদ ২১(২): জনগণের সেবা।
অনুচ্ছেদ ২২: নির্বাহী থেকে বিচার বিভাগ পৃথকীকরণ।
৫ ধরনের রিট: Habeas Corpus, Mandamus, Prohibition, Certiorari, Quo Warranto।
Habeas Corpus: বন্দি প্রত্যক্ষীকরণ।
Mandamus: পরমাদেশ।
Quo Warranto: অধিকার পৃচ্ছা।
মৌলিক অধিকার লঙ্ঘনের প্রতিকার: হাইকোর্টে রিট।
অনুচ্ছেদ ১০২: হাইকোর্টের রিট ক্ষমতা।
নাগরিক কর্তব্য ৫ শ্রেণি: নৈতিক, আইনগত, সামাজিক, রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক।
প্রথম কর্তব্য: রাষ্ট্রের প্রতি আনুগত্য।
নাগরিকের প্রধান অর্থনৈতিক কর্তব্য: কর প্রদান।
Bangladesh National Human Rights Commission প্রতিষ্ঠা ২০০৭ (অধ্যাদেশ), ২০০৯ (আইন)।
বাংলাদেশ ICCPR অনুসমর্থন ২০০০।
বাংলাদেশ ICESCR অনুসমর্থন ১৯৯৮।
বাংলাদেশ CEDAW অনুসমর্থন ১৯৮৪।
বাংলাদেশ CRC অনুসমর্থন ১৯৯০।
UN Human Rights Council ২০০৬, সদর দপ্তর জেনেভা।
Amnesty International ১৯৬১, প্রতিষ্ঠাতা Peter Benenson, সদর দপ্তর লন্ডন।
Human Rights Watch ১৯৭৮, নিউইয়র্ক।
ICC ২০০২, হেগ।
ASK (আইন ও সালিশ কেন্দ্র) ১৯৮৬।
অধিকার সংরক্ষণের উপায়: আইন, গণতন্ত্র, ঘোষণা, আইনের শাসন, বিচার বিভাগের স্বাধীনতা, জনগণের সতর্কতা।
Thomas Jefferson: Eternal vigilance is the price of liberty।
অধিকার ও কর্তব্য একই মুদ্রার দুই পিঠ।
Gandhi: কর্তব্যপালন থেকেই অধিকার আসে।
Hobhouse: একজনের অধিকার অপরের কর্তব্য।
মূলনীতি প্রয়োগযোগ্য নয়, কিন্তু রাষ্ট্রের দিকনির্দেশক।
মৌলিক অধিকার আদালতে প্রয়োগযোগ্য।
তথ্য পাওয়ার অধিকার মৌলিক অধিকার।
সংবাদপত্রের স্বাধীনতা ব্যক্তিগত অধিকার।
ভোটাধিকার রাজনৈতিক অধিকার।
কর্মের অধিকার অর্থনৈতিক অধিকার।
বাকস্বাধীনতা পৌর অধিকার।
অধিকার সর্বজনীন, কিন্তু সীমাবদ্ধ ও শর্তসাপেক্ষ।
স্বেচ্ছাচার অধিকার নয়।
জরুরি অবস্থায় কিছু মৌলিক অধিকার স্থগিত হতে পারে।
প্রজাতন্ত্রের ভিত্তি: মৌলিক মানবাধিকার, মানবমর্যাদা, জনগণের অংশগ্রহণ।
SDG ১৬: শান্তি, ন্যায়বিচার ও কার্যকর প্রতিষ্ঠান।
SDG ৪: মানসম্মত শিক্ষার অধিকার।
SDG ৫: জেন্ডার সমতা।
SDG ১০: অসমতা হ্রাস।
মৌলিক অধিকার বনাম মানবাধিকার: মৌলিক সংবিধানে, মানবাধিকার জন্মসিদ্ধ।
মৌলিক অধিকার বনাম মূলনীতি: মৌলিক প্রয়োগযোগ্য, মূলনীতি নির্দেশনামূলক।