সাধারণ বিজ্ঞান
রসায়ন ও পদার্থবিজ্ঞান
এটমের গঠন
Structure of Atom (পরমাণুর গঠন)
পরমাণু মডেল | মৌলিক কণিকা | আইসোটোপ/আইসোবার | পর্যায় সারণি |
পদার্থের গঠন ও পরমাণু — মূল ধারণা
পদার্থের ক্ষুদ্রতম কণিকা
পদার্থ → অণু → পরমাণু → মৌলিক কণিকা। পরমাণু (Atom) হলো মৌলের ক্ষুদ্রতম কণিকা যা রাসায়নিক বিক্রিয়ায় অংশ নেয়। অণু (Molecule) হলো পদার্থের ক্ষুদ্রতম কণিকা যা স্বাধীনভাবে থাকতে পারে।
পদার্থের কণিকা | সংজ্ঞা | রাসায়নিক বিক্রিয়া |
পরমাণু (Atom) | মৌলের ক্ষুদ্রতম কণিকা; মৌলের ধর্ম বহন করে | অংশ নেয় |
অণু (Molecule) | পদার্থের ক্ষুদ্রতম অংশ; স্বাধীনভাবে বিদ্যমান | সরাসরি অংশ নেয় না |
আয়ন (Ion) | আধানযুক্ত পরমাণু বা পরমাণুগুচ্ছ | অংশ নেয় |
র্যাডিক্যাল (Radical) | মুক্ত ইলেকট্রনসহ পরমাণুগুচ্ছ | অত্যন্ত সক্রিয় |
পরমাণুর মৌলিক কণিকাসমূহ
কণিকা | আবিষ্কারক | সাল | আধান | ভর (a.m.u.) | অবস্থান |
ইলেকট্রন (Electron) | জে.জে. থমসন (J.J. Thomson) | ১৮৯৭ | -1 (ঋণাত্মক) | ≈ 0 (9.11×10⁻²⁸g) | নিউক্লিয়াসের বাইরে কক্ষপথে |
প্রোটন (Proton) | আর্নেস্ট রাদারফোর্ড (Rutherford) | ১৯১৯ | +1 (ধনাত্মক) | 1 (1.67×10⁻²⁴g) | নিউক্লিয়াসের ভেতরে |
নিউট্রন (Neutron) | জেমস চ্যাডউইক (Chadwick) | ১৯৩২ | 0 (নিরপেক্ষ) | ≈1 (1.67×10⁻²⁴g) | নিউক্লিয়াসের ভেতরে |
পজিট্রন (Positron) | কার্ল অ্যান্ডারসন (Carl Anderson) | ১৯৩২ | +1 (ধনাত্মক) | ≈0 (ইলেকট্রনের মতো) | কৃত্রিম তেজস্ক্রিয়তায় |
🧠 মনে রাখার ট্রিক — আবিষ্কারকের ছন্দ |
ইলেকট্রন → জে.জে. থমসন (1897) → 'ই-থ' মনে রাখো: ই = ইলেকট্রন, থ = থমসন। |
প্রোটন → রাদারফোর্ড (1919) → 'প-রা' = প্রোটন-রাদারফোর্ড। |
নিউট্রন → চ্যাডউইক (1932) → 'নি-চ্যা' = নিউট্রন-চ্যাডউইক। |
পারমাণবিক সংখ্যার আবিষ্কারক → মোসলে (Moseley)। |
প্রথম পারমাণবিক ভরের ধারণা দেন → জন ডাল্টন (John Dalton)। |
ইলেকট্রন = ঋণাত্মক (Negative = কিছু কমে); প্রোটন = ধনাত্মক (Positive = কিছু যোগ)। |
|
পরমাণুর মডেলসমূহ (Atomic Models)
পরমাণু মডেলের বিকাশ — কালক্রম
বিজ্ঞানী | মডেল | সাল | মূল বৈশিষ্ট্য | সীমাবদ্ধতা |
জন ডাল্টন (John Dalton) | বিলিয়ার্ড বল মডেল | ১৮০৩ | পরমাণু অবিভাজ্য কঠিন গোলক | ইলেকট্রন, প্রোটন ব্যাখ্যা নেই |
জে.জে. থমসন (J.J. Thomson) | প্লাম পুডিং মডেল (তরমুজ মডেল) | ১৮৯৭ | ধনাত্মক গোলকে ইলেকট্রন বিক্ষিপ্ত | নিউক্লিয়াস ব্যাখ্যা করতে পারেনি |
আর্নেস্ট রাদারফোর্ড (Rutherford) | নিউক্লিয়ার মডেল (গ্রহ-সৌর মডেল) | ১৯১১ | ছোট ঘন নিউক্লিয়াস কেন্দ্রে; ইলেকট্রন কক্ষপথে | কক্ষপথের স্থায়িত্ব ব্যাখ্যা করতে পারেনি |
নিলস বোর (Niels Bohr) | বোর মডেল | ১৯১৩ | নির্দিষ্ট কক্ষপথে (শক্তিস্তরে) ইলেকট্রন ঘুরছে | বহু-ইলেকট্রন পরমাণুতে ব্যর্থ |
সমারফেল্ড (Sommerfeld) | উপবৃত্তাকার কক্ষপথ | ১৯১৬ | বোর মডেলের উন্নতি; উপবৃত্তাকার কক্ষপথ | কোয়ান্টাম তত্ত্ব দিয়ে প্রতিস্থাপিত |
কোয়ান্টাম মডেল (Schrödinger/Heisenberg) | তরঙ্গ-মেকানিক্স মডেল | ১৯২৬ | ইলেকট্রনের সঠিক অবস্থান অনির্ণেয়; অরবিটাল ধারণা | জটিল গণনা |
রাদারফোর্ডের সোনার পাত পরীক্ষা (Gold Foil Experiment)
রাদারফোর্ড ১৯১১ সালে পাতলা সোনার পাতের ওপর আলফা কণা নিক্ষেপ করেন। পর্যবেক্ষণ থেকে তিনি সিদ্ধান্তে আসেন যে পরমাণুর মধ্যে একটি ছোট, ঘন, ধনাত্মক আধানযুক্ত কেন্দ্র (Nucleus) আছে।
পর্যবেক্ষণ | সিদ্ধান্ত |
বেশিরভাগ আলফা কণা সরলপথে যায় | পরমাণুর বেশিরভাগ অংশ ফাঁকা (শূন্য) |
কিছু আলফা কণা বিক্ষিপ্ত হয় | পরমাণুর কেন্দ্রে ধনাত্মক আধান আছে |
অতি অল্প কণা সরাসরি ফিরে আসে | নিউক্লিয়াস অত্যন্ত ঘন ও ছোট |
ইলেকট্রন নিউক্লিয়াসের বাইরে | পরমাণু মূলত ফাঁকা স্থান |
বোর মডেল ও শক্তিস্তর (Bohr Model & Energy Levels)
নিলস বোর (Niels Bohr) ১৯১৩ সালে হাইড্রোজেন পরমাণুর মডেল দেন। বোর মডেলের মূল ধারণা: ইলেকট্রন নির্দিষ্ট শক্তিস্তরে (কক্ষপথে) ঘোরে এবং শক্তি শোষণ বা নির্গমন করে এক স্তর থেকে অন্য স্তরে যায়।
কক্ষপথ (Shell) | সংকেত | সর্বোচ্চ ইলেকট্রন (2n²) | শক্তিস্তর |
প্রথম | K | 2×1² = 2 | সবচেয়ে কম শক্তি |
দ্বিতীয | L | 2×2² = 8 | — |
তৃতীয় | M | 2×3² = 18 | — |
চতুর্থ | N | 2×4² = 32 | — |
পঞ্চম | O | 2×5² = 50 | সর্বোচ্চ শক্তি |
💡 বিশেষ নোট — কক্ষপথে ইলেকট্রন সংখ্যা |
সূত্র: প্রতিটি কক্ষপথে সর্বোচ্চ ইলেকট্রন সংখ্যা = 2n² (n = কক্ষপথ নম্বর)। |
K = 2, L = 8, M = 18, N = 32 — মনে রাখো: '2, 8, 18, 32' = 2n² ফর্মুলা। |
সবচেয়ে বাইরের কক্ষপথে সর্বোচ্চ ৮টি ইলেকট্রন থাকতে পারে (অষ্টক নিয়ম)। |
শেষ কক্ষপথের ইলেকট্রন সংখ্যাকে যোজ্যতা ইলেকট্রন (Valence Electron) বলে। |
|
পারমাণবিক সংখ্যা, ভর সংখ্যা ও ইলেকট্রন বিন্যাস
মূল সংজ্ঞা
পরিভাষা | সংজ্ঞা | সংকেত | উদাহরণ (কার্বন) |
পারমাণবিক সংখ্যা (Atomic Number) | পরমাণুর নিউক্লিয়াসে প্রোটনের সংখ্যা। আবিষ্কারক: মোসলে (Moseley) | Z | C এর Z=6 (৬টি প্রোটন) |
ভর সংখ্যা (Mass Number) | প্রোটন + নিউট্রনের মোট সংখ্যা (অপর নাম: নিউক্লিয়াস সংখ্যা) | A | C এর A=12 (6p+6n) |
নিউট্রন সংখ্যা | নিউট্রন সংখ্যা = A − Z | N | 12−6 = 6 নিউট্রন |
আনবিক ভর (Atomic Mass) | একটি পরমাণুর গড় ভর; a.m.u.-তে প্রকাশ | — | C এর আনবিক ভর = 12 |
যোজ্যতা ইলেকট্রন (Valence Electron) | শেষ কক্ষপথের ইলেকট্রন; রাসায়নিক ধর্ম নির্ধারণ করে | — | C এ 4টি যোজ্যতা ইলেকট্রন |
পরিচিত মৌলের ইলেকট্রন বিন্যাস
মৌল | প্রতীক | Z | ইলেকট্রন বিন্যাস (K L M N) | যোজ্যতা |
হাইড্রোজেন | H | 1 | 1 | 1 |
হিলিয়াম | He | 2 | 2 | 0 (নিষ্ক্রিয়) |
লিথিয়াম | Li | 3 | 2, 1 | 1 |
বেরিলিয়াম | Be | 4 | 2, 2 | 2 |
বোরন | B | 5 | 2, 3 | 3 |
কার্বন | C | 6 | 2, 4 | 4 |
নাইট্রোজেন | N | 7 | 2, 5 | 3 |
অক্সিজেন | O | 8 | 2, 6 | 2 |
ফ্লুরিন | F | 9 | 2, 7 | 1 |
নিয়ন | Ne | 10 | 2, 8 | 0 (নিষ্ক্রিয়) |
সোডিয়াম | Na | 11 | 2, 8, 1 | 1 |
ম্যাগনেসিয়াম | Mg | 12 | 2, 8, 2 | 2 |
অ্যালুমিনিয়াম | Al | 13 | 2, 8, 3 | 3 |
সিলিকন | Si | 14 | 2, 8, 4 | 4 |
ফসফরাস | P | 15 | 2, 8, 5 | 3 বা 5 |
সালফার | S | 16 | 2, 8, 6 | 2 |
ক্লোরিন | Cl | 17 | 2, 8, 7 | 1 |
আর্গন | Ar | 18 | 2, 8, 8 | 0 (নিষ্ক্রিয়) |
পটাসিয়াম | K | 19 | 2, 8, 8, 1 | 1 |
ক্যালসিয়াম | Ca | 20 | 2, 8, 8, 2 | 2 |
🧠 মনে রাখার ট্রিক — মৌলের পারমাণবিক সংখ্যা |
H(1) He(2) Li(3) Be(4) B(5) C(6) N(7) O(8) F(9) Ne(10) |
ছন্দ: 'হ-হে-লি-বে-বো-কা-না-ও-ফ-নে' (ছোট্ট ছড়া দিয়ে মনে রাখো)। |
Na(11) Mg(12) Al(13) Si(14) P(15) S(16) Cl(17) Ar(18) K(19) Ca(20) |
ছন্দ: 'না-মা-আ-সি-পি-এস-ক্লো-আর-কে-কা' = সোডিয়াম থেকে ক্যালসিয়াম। |
নিষ্ক্রিয় মৌল: He(2), Ne(10), Ar(18), Kr(36), Xe(54), Rn(86) — এদের শেষ কক্ষে ৮টি (He-এ ২টি)। |
|
আইসোটোপ, আইসোবার ও আইসোটোন
সংজ্ঞা ও তুলনা
প্রকার | সংজ্ঞা | সমান কী? | ভিন্ন কী? | উদাহরণ |
আইসোটোপ (Isotope) | একই মৌলের পরমাণু যাদের প্রোটন সংখ্যা সমান কিন্তু নিউট্রন সংখ্যা ভিন্ন | প্রোটন সংখ্যা (Z) | ভর সংখ্যা (A) | H-1, H-2, H-3 (প্রোটিয়াম, ডিউটেরিয়াম, ট্রিটিয়াম) |
আইসোবার (Isobar) | ভিন্ন মৌলের পরমাণু যাদের ভর সংখ্যা সমান কিন্তু প্রোটন সংখ্যা ভিন্ন | ভর সংখ্যা (A) | প্রোটন সংখ্যা (Z) | Ca(20) ও Ar(18) উভয়ের A=40 |
আইসোটোন (Isotone) | ভিন্ন মৌলের পরমাণু যাদের নিউট্রন সংখ্যা সমান | নিউট্রন সংখ্যা (N) | প্রোটন ও ভর সংখ্যা | C-13(7n) ও N-14(7n) |
আইসোমার (Isobar–Isotope) | একই সংখ্যক প্রোটন ও নিউট্রন কিন্তু ভিন্ন শক্তিস্তর | Z ও A | শক্তি | Co-60m ও Co-60 |
হাইড্রোজেনের তিনটি আইসোটোপ
নাম | প্রতীক | প্রোটন | নিউট্রন | ভর সংখ্যা | বিশেষত্ব |
প্রোটিয়াম (Protium) | ¹H | 1 | 0 | 1 | সবচেয়ে সাধারণ হাইড্রোজেন (৯৯.৯৮%) |
ডিউটেরিয়াম (Deuterium) | ²H বা D | 1 | 1 | 2 | ভারী হাইড্রোজেন; ভারী পানি (D₂O) তৈরিতে |
ট্রিটিয়াম (Tritium) | ³H বা T | 1 | 2 | 3 | তেজস্ক্রিয়; হাইড্রোজেন বোমায় |
⚠️ সতর্কতা — আইসোটোপ ও আইসোবার বিভ্রান্তি |
আইসোটোপ: একই মৌল (Z সমান); আইসোবার: ভিন্ন মৌল (A সমান)। |
আইসোটোন: নিউট্রন সমান (N সমান) — এটি আইসোটোপ বা আইসোবার কোনোটিই নয়। |
প্রশ্নে শুধু 'ভর সংখ্যা সমান' বললে → আইসোবার। |
প্রশ্নে শুধু 'একই মৌলের ভিন্ন রূপ' বললে → আইসোটোপ। |
রেডিও আইসোটোপ ব্যবহার: পিত্তথলির পাথর গলাতে, ক্যান্সার চিকিৎসায়। |
প্রকৃতিতে রেডিও আইসোটোপের সংখ্যা: প্রায় ৫০টি। |
|
পর্যায় সারণি (Periodic Table)
পর্যায় সারণির ইতিহাস
বিজ্ঞানী | অবদান | সাল |
জন নিউল্যান্ডস (Newlands) | অষ্টক সূত্র দেন — প্রতি অষ্টম মৌলের ধর্ম একই | ১৮৬৫ |
দিমিত্রি মেন্ডেলিভ (Mendeleev) | প্রথম পর্যায় সারণি তৈরি করেন — পারমাণবিক ভর অনুযায়ী | ১৮৬৯ |
হেনরি মোসলে (Moseley) | পারমাণবিক সংখ্যা আবিষ্কার; আধুনিক পর্যায় সারণির ভিত্তি | ১৯১৩ |
আধুনিক পর্যায় সূত্র | মৌলের ধর্ম পারমাণবিক সংখ্যার পর্যায়ক্রমিক ফাংশন | ১৯১৩+ |
আধুনিক পর্যায় সারণির কাঠামো
বৈশিষ্ট্য | তথ্য |
মোট মৌল সংখ্যা | ১১৮টি (স্বাভাবিকভাবে প্রাপ্ত ৯২টি) |
পর্যায় (Period) সংখ্যা | ৭টি পর্যায় (আনুভূমিক সারি) |
গ্রুপ (Group) সংখ্যা | ১৮টি গ্রুপ (উল্লম্ব স্তম্ভ) |
একই পর্যায়ে | কক্ষপথ সংখ্যা সমান; প্রোটন সংখ্যা ভিন্ন |
একই গ্রুপে | যোজ্যতা ইলেকট্রন সংখ্যা সমান; রাসায়নিক ধর্ম মিল |
সর্বশেষ আবিষ্কৃত মৌল | ওগানেসন (Oganesson, Z=118) |
সবচেয়ে হালকা মৌল | হাইড্রোজেন (H, Z=1) |
সবচেয়ে ভারী প্রাকৃতিক মৌল | ইউরেনিয়াম (U, Z=92, পারমাণবিক ভর ২৩৮) |
গুরুত্বপূর্ণ গ্রুপ ও তাদের বৈশিষ্ট্য
গ্রুপ | নাম | মৌলসমূহ | বৈশিষ্ট্য |
গ্রুপ-IA | ক্ষার ধাতু (Alkali Metals) | Li, Na, K, Rb, Cs, Fr | সবচেয়ে সক্রিয় ধাতু; পানিতে ভাসে; জলে বিক্রিয়া করে |
গ্রুপ-IIA | ক্ষারীয় মৃত্তিকা ধাতু (Alkaline Earth) | Be, Mg, Ca, Sr, Ba, Ra | কম সক্রিয়; Ca হাড় গঠনে প্রয়োজনীয় |
গ্রুপ-VIIA | হ্যালোজেন (Halogens) | F, Cl, Br, I, At | সবচেয়ে সক্রিয় অধাতু; লবণ উৎপাদক |
গ্রুপ-0 (VIIIA) | নিষ্ক্রিয় গ্যাস (Noble Gases) | He, Ne, Ar, Kr, Xe, Rn | রাসায়নিক বিক্রিয়ায় অংশ নেয় না; শেষ কক্ষে ৮টি ইলেকট্রন |
গ্রুপ-IVA | কার্বন গ্রুপ | C, Si, Ge, Sn, Pb | সেমিকন্ডাক্টর (Si, Ge); কার্বনে সর্বাধিক যৌগ |
গুরুত্বপূর্ণ মৌলের প্রতীক ও পারমাণবিক সংখ্যা
মৌল | প্রতীক | Z | মৌল | প্রতীক | Z |
হাইড্রোজেন | H | 1 | সালফার | S | 16 |
হিলিয়াম | He | 2 | ক্লোরিন | Cl | 17 |
কার্বন | C | 6 | পটাসিয়াম | K | 19 |
নাইট্রোজেন | N | 7 | ক্যালসিয়াম | Ca | 20 |
অক্সিজেন | O | 8 | আয়রন (লোহা) | Fe | 26 |
সোডিয়াম | Na | 11 | কপার (তামা) | Cu | 29 |
ম্যাগনেসিয়াম | Mg | 12 | জিঙ্ক (দস্তা) | Zn | 30 |
অ্যালুমিনিয়াম | Al | 13 | সিলভার | Ag | 47 |
সিলিকন | Si | 14 | সোনা | Au | 79 |
ফসফরাস | P | 15 | ইউরেনিয়াম | U | 92 |
🧠 মনে রাখার ট্রিক — হ্যালোজেন গ্রুপ |
হ্যালোজেন: F, Cl, Br, I, At = 'ফ্লু-ক্লো-ব্রো-আয়-এট' মনে রাখো। |
নিষ্ক্রিয় গ্যাস: He(2), Ne(10), Ar(18), Kr(36), Xe(54), Rn(86)। |
ছন্দ: 'হে-নি-আ-ক্রো-জে-রা' = He, Ne, Ar, Kr, Xe, Rn। |
সক্রিয়তম ধাতু: সিজিয়াম (Cs); সক্রিয়তম অধাতু: ফ্লুরিন (F)। |
হ্যালোজেন অর্থ: সামুদ্রিক লবণ উৎপাদক (Halo = লবণ, Gen = উৎপাদন)। |
|
রাসায়নিক বন্ধন ও যোজ্যতা (Chemical Bond & Valency)
রাসায়নিক বন্ধনের প্রকারভেদ
বন্ধনের প্রকার | সংজ্ঞা | উদাহরণ | বৈশিষ্ট্য |
আয়নিক বন্ধন (Ionic Bond) | ইলেকট্রন স্থানান্তরের মাধ্যমে গঠিত | NaCl, KCl, MgO | কঠিন, উচ্চ গলনাংক; পানিতে দ্রবণীয় |
সমযোজী বন্ধন (Covalent Bond) | ইলেকট্রন জুটি ভাগ করার মাধ্যমে গঠিত | H₂, O₂, H₂O, CH₄ | কম গলনাংক; জৈব যৌগে সাধারণ |
ধাতব বন্ধন (Metallic Bond) | ধাতুর মুক্ত ইলেকট্রনের মাধ্যমে গঠিত | Fe, Cu, Al | তাপ ও বিদ্যুৎ সুপরিবাহী; নমনীয় |
হাইড্রোজেন বন্ধন (Hydrogen Bond) | H ও F/O/N এর মধ্যে দুর্বল আকর্ষণ | H₂O, NH₃, HF | পানির অস্বাভাবিক ধর্মের কারণ |
ভ্যান্ডারওয়ালস বল (Van der Waals) | অস্থায়ী দ্বিমেরু আকর্ষণ বল | নোবেল গ্যাস, I₂ | অত্যন্ত দুর্বল; নিষ্ক্রিয় গ্যাসে |
যোজ্যতা (Valency)
যোজ্যতা (Valency) হলো কোনো মৌলের একটি পরমাণু হাইড্রোজেনের যতটি পরমাণুর সাথে যুক্ত হয় বা প্রতিস্থাপন করতে পারে তার সংখ্যা। যোজ্যতা ইলেকট্রনই যোজ্যতা নির্ধারণ করে।
মৌল | যোজ্যতা ইলেকট্রন | যোজ্যতা | উদাহরণ যৌগ |
H, Na, K, Cl, F | 1 | 1 | HCl, NaCl, KF |
O, Mg, Ca, S | 2 | 2 | H₂O, MgO, CaO |
N, Al, P | 3 | 3 | NH₃, AlCl₃, PCl₃ |
C, Si, Pb | 4 | 4 | CH₄, SiO₂, PbO₂ |
Ne, Ar (নিষ্ক্রিয়) | 8 | 0 | — |
💡 বিশেষ নোট — কার্বনের বিশেষ ধর্ম |
কার্বনের যোজ্যতা = 4 → সর্বাধিক যৌগ তৈরি করে। |
কার্বনের ক্যাটিনেশন ধর্ম: কার্বন নিজের সাথে বন্ধন করে শৃঙ্খল তৈরি করতে পারে। |
জৈব যৌগের মূল উপাদান: কার্বন (C) — জৈব রসায়নের ভিত্তি। |
বিজারক হিসেবে ক্রিয়া করে এমন একমাত্র অধাতু: কার্বন। |
কার্বন বহুরূপী: হীরক (Diamond) ও গ্রাফাইট (Graphite) কার্বনের রূপভেদ। |
|
ধাতু ও অধাতু
বিশেষ ধাতুর তুলনা
বৈশিষ্ট্য | ধাতু | প্রতীক |
সবচেয়ে হালকা ধাতু | লিথিয়াম | Li |
সবচেয়ে ভারী ধাতু | অসমিয়াম | Os |
সবচেয়ে মূল্যবান ধাতু | ক্যালিফোর্নিয়াম, প্লাটিনাম, ইউরেনিয়াম | Cf, Pt, U |
সবচেয়ে ঘাতসহ ধাতু | সোনা | Au |
সবচেয়ে নমনীয় ধাতু | সোনা | Au |
উচ্চতম গলনাংকের ধাতু | টাংস্টেন | W |
সর্বোচ্চ তাপ ও বিদ্যুৎ পরিবাহী | সিলভার/রুপো | Ag |
সবচেয়ে বেশি তরল ধাতু | পারদ | Hg |
স্বাভাবিক তাপমাত্রায় তরল ধাতু | পারদ (Hg) ও গ্যালিয়াম (Ga) | Hg, Ga |
জলে ভাসে এমন ধাতু | সোডিয়াম | Na |
সর্বাধিক সক্রিয় ধাতু | সিজিয়াম | Cs |
সর্বাধিক সক্রিয় অধাতু | ফ্লুরিন | F |
যে ধাতুতে আঘাতে শব্দ হয় না | অ্যান্টিমনি | Sb |
একমাত্র অধাতু যা বিদ্যুৎ পরিবাহী | গ্রাফাইট (C) | C |
একমাত্র মৌলিক অধাতু তরল | ব্রোমিন | Br |
অ্যাভোগ্যাড্রো সংখ্যা ও মোল
বিষয় | তথ্য |
১ মোল বস্তুতে অণুর সংখ্যা | অ্যাভোগ্যাড্রো সংখ্যা (N) = 6.022×10²³ |
অ্যাভোগ্যাড্রো সংখ্যার প্রতীক | N (নাইট্রোজেন নয়, বড় N) |
প্রস্তাবক | অ্যাভোগ্যাড্রো; মোলিকুলার হাইপোথিসিস ধারণা |
পারমাণবিক ভরের একক | a.m.u. (Atomic Mass Unit) = ¹/₁₂ × একটি C-12 পরমাণুর ভর |
আইসোটোপ সংখ্যায় সমান থাকে | প্রোটন সংখ্যা (Z) |
প্রশ্নোত্তর (Q&A)
মৌলিক কণিকা ও পরমাণু মডেল
প্রশ্ন: ইলেকট্রন আবিষ্কার করেন কে?
উত্তর: জন থমসন (J.J. Thomson) — ১৮৯৭ সালে
প্রশ্ন: প্রোটন আবিষ্কার করেন কে?
উত্তর: আর্নেস্ট রাদারফোর্ড (Rutherford) — ১৯১৯ সালে
প্রশ্ন: নিউট্রন আবিষ্কার করেন কে?
উত্তর: জেমস চ্যাডউইক (James Chadwick) — ১৯৩২ সালে
প্রশ্ন: পারমাণবিক সংখ্যার আবিষ্কারক কে?
উত্তর: বিজ্ঞানী মোসলে (Moseley)
প্রশ্ন: প্রথম পারমাণবিক ভরের ধারণা দেন কে?
উত্তর: জন ডাল্টন (John Dalton)
প্রশ্ন: পরমাণুর নিউক্লিয়াসে কী থাকে না?
উত্তর: ইলেকট্রন
প্রশ্ন: পরমাণুতে কী সমান থাকে?
উত্তর: ইলেকট্রন ও প্রোটনের সংখ্যা (নিরপেক্ষ পরমাণুতে)
প্রশ্ন: পরমাণুর প্রোটনের সংখ্যাকে কী বলে?
উত্তর: পারমাণবিক সংখ্যা (Atomic Number = Z)
প্রশ্ন: ভর সংখ্যার অপর নাম কী?
উত্তর: নিউক্লিয়াস সংখ্যা
প্রশ্ন: প্রতিটি কক্ষপথে ইলেকট্রনের সর্বোচ্চ সংখ্যা কত?
উত্তর: 2n² (n = কক্ষপথ নম্বর)
আইসোটোপ, আইসোবার, মৌল
প্রশ্ন: আইসোটোপে কী ভিন্ন থাকে?
উত্তর: ভর সংখ্যা (Mass Number)
প্রশ্ন: আইসোটোনে কী সমান থাকে?
উত্তর: নিউট্রন সংখ্যা
প্রশ্ন: আইসোবারে কী ভিন্ন থাকে?
উত্তর: প্রোটন সংখ্যা (Atomic Number)
প্রশ্ন: হাইড্রোজেনের আইসোটোপ কয়টি?
উত্তর: তিনটি — প্রোটিয়াম, ডিউটেরিয়াম, ট্রিটিয়াম
প্রশ্ন: ভারী পানি (Heavy Water) কী?
উত্তর: D₂O — ডিউটেরিয়াম অক্সাইড
প্রশ্ন: সবচেয়ে হালকা মৌল কোনটি?
উত্তর: হাইড্রোজেন (H)
প্রশ্ন: সবচেয়ে ভারী মৌল কোনটি?
উত্তর: ইউরেনিয়াম (U) — প্রাকৃতিক
প্রশ্ন: ইউরেনিয়ামের আনবিক ভর কত?
উত্তর: ২৩৮
প্রশ্ন: প্রকৃতিতে রেডিও আইসোটোপের সংখ্যা কত?
উত্তর: প্রায় ৫০টি
পর্যায় সারণি ও রাসায়নিক বন্ধন
প্রশ্ন: আধুনিক পর্যায় সারণিতে মোট মৌলের সংখ্যা কত?
উত্তর: ১১৮টি
প্রশ্ন: প্রথম পর্যায় সারণি তৈরি করেন কে?
উত্তর: দিমিত্রি মেন্ডেলিভ (Mendeleev) — ১৮৬৯ সালে
প্রশ্ন: পর্যায় সারণিতে মোট কয়টি পর্যায় আছে?
উত্তর: ৭টি
প্রশ্ন: পর্যায় সারণিতে মোট কয়টি গ্রুপ আছে?
উত্তর: ১৮টি
প্রশ্ন: নিষ্ক্রিয় গ্যাস কোন গ্রুপে?
উত্তর: গ্রুপ-0 (VIIIA)
প্রশ্ন: হ্যালোজেন গ্রুপে কোন মৌলগুলো আছে?
উত্তর: F, Cl, Br, I, At
প্রশ্ন: সর্বাধিক সক্রিয় ধাতু কোনটি?
উত্তর: সিজিয়াম (Cs) বা পটাসিয়াম (K) — উভয় গ্রুপ IA-তে
প্রশ্ন: সর্বাধিক সক্রিয় অধাতু কোনটি?
উত্তর: ফ্লুরিন (F)
প্রশ্ন: বিজারক হিসেবে কাজ করে এমন একমাত্র অধাতু কোনটি?
উত্তর: কার্বন (C)
প্রশ্ন: যে ধাতুতে আঘাত করলে শব্দ হয় না?
উত্তর: অ্যান্টিমনি (Sb)
প্রশ্ন: একমাত্র অধাতু যা বিদ্যুৎ পরিবাহী কোনটি?
উত্তর: গ্রাফাইট (কার্বনের রূপভেদ)
প্রশ্ন: স্বাভাবিক তাপমাত্রায় তরল অবস্থায় থাকে কোন ধাতু?
উত্তর: পারদ (Hg) এবং গ্যালিয়াম (Ga)
প্রশ্ন: সবচেয়ে বেশি আপেক্ষিক তাপ বিশিষ্ট পদার্থ?
উত্তর: জল (H₂O)
প্রশ্ন: অ্যাভোগ্যাড্রো সংখ্যা কত?
উত্তর: 6.022×10²³ (প্রতি মোলে অণুর সংখ্যা)
প্রশ্ন: একটি মৌল অপর একটি মৌলে স্বতঃস্ফূর্তভাবে পরিণত হওয়াকে কী বলে?
উত্তর: প্রাকৃতিক তেজস্ক্রিয়তা
বিশ্লেষণ ও চূড়ান্ত ট্রিক
কোথা থেকে সবচেয়ে বেশি প্রশ্ন আসে?
টপিক | BCS প্রিলি | DU ভর্তি | বিশ্ববিদ্যালয় ভর্তি |
মৌলিক কণিকা আবিষ্কারক | ★★★★★ | ★★★★★ | ★★★★★ |
পারমাণবিক সংখ্যা ও ভর সংখ্যা | ★★★★★ | ★★★★★ | ★★★★★ |
আইসোটোপ/আইসোবার/আইসোটোন | ★★★★ | ★★★★★ | ★★★★★ |
ইলেকট্রন বিন্যাস | ★★★★ | ★★★★ | ★★★★★ |
পর্যায় সারণি — মৌল ও প্রতীক | ★★★★ | ★★★ | ★★★★ |
বিশেষ ধাতুর তথ্য | ★★★★ | ★★★ | ★★★★ |
পরমাণু মডেলের ইতিহাস | ★★★ | ★★★★ | ★★★ |
পরীক্ষায় ফাঁদ প্রশ্ন
বিষয় | সঠিক উত্তর | সাধারণ ভুল |
নিউক্লিয়াসে কী নেই? | ইলেকট্রন | প্রোটন বলে |
ইলেকট্রন আবিষ্কারক | জে.জে. থমসন | রাদারফোর্ড মনে করে |
পারমাণবিক সংখ্যার আবিষ্কারক | মোসলে (Moseley) | মেন্ডেলিভ মনে করে |
আইসোটোপে কী সমান? | প্রোটন সংখ্যা (Z) | ভর সংখ্যা বলে |
আইসোবারে কী সমান? | ভর সংখ্যা (A) | প্রোটন সংখ্যা বলে |
তরল ধাতু | পারদ ও গ্যালিয়াম — দুটি | শুধু পারদ বলে |
সবচেয়ে সক্রিয় ধাতু | সিজিয়াম (Cs) | সোডিয়াম বলে |
বিদ্যুৎ পরিবাহী অধাতু | গ্রাফাইট (কার্বন) | সিলিকন বলে |
🏆 মেগা ট্রিক — সব একসাথে মনে রাখো |
1. কণিকা আবিষ্কারক: ইলেকট্রন=থমসন(1897), প্রোটন=রাদারফোর্ড(1919), নিউট্রন=চ্যাডউইক(1932)। |
2. কক্ষপথে ইলেকট্রন: K=2, L=8, M=18, N=32 → সূত্র: 2n²। |
3. আইসোটোপ: Z সমান (একই মৌল); আইসোবার: A সমান (ভিন্ন মৌল); আইসোটোন: N সমান। |
4. নিষ্ক্রিয় গ্যাস ছন্দ: 'হে-নি-আ-ক্রো-জে-রা' = He, Ne, Ar, Kr, Xe, Rn। |
5. সক্রিয়তম ধাতু: Cs (সিজিয়াম); সক্রিয়তম অধাতু: F (ফ্লুরিন)। |
6. পর্যায় সারণির জনক: মেন্ডেলিভ (1869); আধুনিক ভিত্তি: মোসলে (1913)। |
7. বিজারক অধাতু: কার্বন (C); বিদ্যুৎ পরিবাহী অধাতু: গ্রাফাইট। |
8. তরল ধাতু: পারদ (Hg) ও গ্যালিয়াম (Ga)। |
9. ইউরেনিয়াম = সবচেয়ে ভারী প্রাকৃতিক মৌল (A=238, Z=92)। |
10. অ্যাভোগ্যাড্রো সংখ্যা = 6.022×10²³ (১ মোলে অণুর সংখ্যা)। |
|