ইলেকট্রনিক্স
Electronics
📚 অধ্যায়ের বিষয়সমূহ (Table of Contents)
বিদ্যুতের মূল ধারণা (Fundamentals of Electricity)
কনসেপ্ট ক্লিয়ারিং — ইলেকট্রনিক্সের ভিত্তি
🔋 বিদ্যুৎ কী এবং এটি কীভাবে প্রবাহিত হয়?
বিদ্যুৎ হলো মূলত ইলেকট্রনের (Electron) প্রবাহ। পরিবাহী ধাতুর মধ্যে মুক্ত ইলেকট্রনগুলো একটি নির্দিষ্ট দিকে প্রবাহিত হলে তাকে বৈদ্যুতিক প্রবাহ (Electric Current) বলে।
মনে রাখো: ইলেকট্রন প্রবাহিত হয় ঋণাত্মক (−) থেকে ধনাত্মক (+) মেরুর দিকে, কিন্তু প্রচলিত ধারায় (Conventional Current) ধরা হয় ধনাত্মক (+) থেকে ঋণাত্মক (−) মেরুর দিকে।
| রাশি (Quantity) | সংকেত | SI একক | যন্ত্র |
|---|---|---|---|
| বৈদ্যুতিক প্রবাহ (Current) | I | অ্যাম্পিয়ার (A) | অ্যামিটার |
| বিভব-প্রভেদ (Voltage) | V | ভোল্ট (V) | ভোল্টমিটার |
| রোধ (Resistance) | R | ওহম (Ω) | ওহমমিটার |
| তড়িৎশক্তি (Power) | P | ওয়াট (W) | ওয়াটমিটার |
| আধান (Charge) | Q | কুলম্ব (C) | গ্যালভানোমিটার |
| পরিবাহিতা (Conductance) | G | সিমেন্স (S) | — |
📌 গুরুত্বপূর্ণ সংজ্ঞা (Key Definitions)
- ১ অ্যাম্পিয়ার: কোনো পরিবাহীর যেকোনো প্রস্থচ্ছেদের মধ্য দিয়ে প্রতি সেকেন্ডে ১ কুলম্ব তড়িৎ প্রবাহিত হলে, সেই প্রবাহমাত্রাকে ১ অ্যাম্পিয়ার বলে। (I = Q/t)
- ১ ভোল্ট: কোনো পরিবাহীর এক প্রান্ত থেকে অপর প্রান্তে ১ কুলম্ব তড়িৎ পাঠাতে যদি ১ জুল কাজ করতে হয়, তবে ওই পরিবাহীর বিভব-প্রভেদকে ১ ভোল্ট বলে। (V = W/Q)
- আধান ও প্রবাহমাত্রার সম্পর্ক: আধান (Q) = প্রবাহমাত্রা (I) × সময় (t)
- তড়িৎচ্চালক বল (EMF): তড়িৎচ্চালক বলের একক হলো ভোল্ট। সরল ভোল্টীয় কোষের EMF = 1.08 V
- আদর্শ অ্যামিটার: রোধ শূন্য হওয়া উচিত (সার্কিটে শ্রেণি সমবায়ে যুক্ত)
- আদর্শ ভোল্টমিটার: রোধ অসীম হওয়া উচিত (সার্কিটে সমান্তরাল সমবায়ে যুক্ত)
আধান-প্রবাহ-সময়: "আমি প্রতিদিন সময় নষ্ট করি" → আধান = প্রবাহ × সময় → Q = I × t
যন্ত্রের সংযোগ মনে রাখো: ভোল্টমিটার = ভোল্ট = সমান্তরাল (V দিয়ে Veil — আলাদা থাকে); অ্যামিটার = শ্রেণিতে (সার্কিটের মাঝে থাকে)
ওহমের সূত্র ও বৈদ্যুতিক সার্কিট (Ohm's Law & Circuit)
পরীক্ষায় সর্বোচ্চ প্রশ্ন আসে এই টপিক থেকে
⚡ ওহমের সূত্র (Ohm's Law)
জার্মান বিজ্ঞানী জর্জ সাইমন ওহম (Georg Simon Ohm) ১৮২৭ সালে এই সূত্র আবিষ্কার করেন।
সূত্র: স্থির তাপমাত্রায়, কোনো পরিবাহীর দুই প্রান্তের বিভব-প্রভেদ (V) ওই পরিবাহীর মধ্য দিয়ে প্রবাহিত তড়িৎপ্রবাহমাত্রার (I) সমানুপাতিক।
🔌 রোধের সমবায় (Combination of Resistors)
| বৈশিষ্ট্য | শ্রেণি সমবায় (Series) | সমান্তরাল সমবায় (Parallel) |
|---|---|---|
| তুল্য রোধ | R = R₁ + R₂ + R₃ (বড়) | 1/R = 1/R₁ + 1/R₂ (ছোট) |
| প্রবাহমাত্রা | সবখানে একই | ভিন্ন ভিন্ন শাখায় |
| বিভব-প্রভেদ | ভিন্ন ভিন্ন রোধে | সবখানে একই |
| একটি খুললে | পুরো সার্কিট বন্ধ | অন্যগুলো চলে |
| ব্যবহার | Christmas light | বাড়ির ওয়্যারিং |
🔥 পরিবাহকতা ও রোধাঙ্ক (Conductivity & Resistivity)
- রোধ নির্ভর করে: পরিবাহীর দৈর্ঘ্যের সমানুপাতিক এবং প্রস্থচ্ছেদের ব্যস্তানুপাতিক → R = ρL/A
- রোধাঙ্কের (Resistivity) SI একক: ওহম-মিটার (Ω·m); CGS পদ্ধতিতে ওহম-সেন্টিমিটার
- তাপমাত্রা বাড়লে রোধ: ধাতুর রোধ বাড়ে (তাপমাত্রা ↑ → রোধ ↑); অর্ধপরিবাহীর রোধ কমে
- বাল্বের ফিলামেন্টের রোধ: ভাস্বর অবস্থায় (জ্বলন্ত) সাধারণ অবস্থার চেয়ে বেশি
- নাইক্রোম (Nichrome) তার: নিকেল + ক্রোমিয়াম + লোহার সংকর; হিটারে ব্যবহৃত
- → বিভব-প্রভেদ দ্বিগুণ করলে তড়িৎপ্রবাহ কত হবে? (দ্বিগুণ)
- → দুটি রোধকে সমান্তরালে যুক্ত করলে তুল্যরোধ উভয় রোধের চেয়ে কেমন? (ছোট)
- → ফিউজ তার মূল বর্তনীর সাথে কোন সমবায়ে যুক্ত? (শ্রেণি সমবায়ে)
- → ২২০ ভোল্টে ১১০ ভোল্টের বাতি জ্বালাতে কী ব্যবহার করতে হবে? (রেজিস্টর)
- ✗ ভুল: "সমান্তরাল সমবায়ে রোধ বাড়ে" — আসলে কমে!
- ✗ ভুল: অ্যামিটার সমান্তরালে — এটি ভুল, অ্যামিটার সবসময় শ্রেণিতে।
- ✗ ভুল: ইলেকট্রন প্রবাহ ও প্রচলিত প্রবাহ একই দিকে — আসলে বিপরীত দিকে।
অর্ধপরিবাহী পদার্থ (Semiconductor)
আধুনিক ইলেকট্রনিক্সের হৃদয়
🧬 তিন ধরনের পদার্থ তুলনা
| বৈশিষ্ট্য | পরিবাহী (Conductor) | অর্ধপরিবাহী (Semiconductor) | অপরিবাহী (Insulator) |
|---|---|---|---|
| তড়িৎ পরিবহন | সহজে | মাঝামাঝি | পারে না |
| ব্যান্ড গ্যাপ | শূন্য বা ওভারল্যাপ | ছোট (0.1–3.0 eV) | বড় (>3 eV) |
| তাপমাত্রা বাড়লে | পরিবাহিতা কমে | পরিবাহিতা বাড়ে | অপরিবর্তিত |
| উদাহরণ | তামা, রুপা, অ্যালু. | সিলিকন, জার্মেনিয়াম | রাবার, কাঠ, প্লাস্টিক |
💎 অর্ধপরিবাহীর বিস্তারিত (Semiconductor Details)
অর্ধপরিবাহী পদার্থে তড়িৎ পরিবহন ক্ষমতা সাধারণ তাপমাত্রায় অপরিবাহীর মতো, কিন্তু সুবিধামতো অপদ্রব্য মিশিয়ে তড়িৎ পরিবাহকতা বৃদ্ধি করা যায় — এই প্রক্রিয়াকে ডোপিং (Doping) বলে।
| প্রকার | ডোপিং উপাদান | বাহক | উদাহরণ অপদ্রব্য |
|---|---|---|---|
| N-টাইপ (N-type) | পঞ্চযোজী (Pentavalent) | ইলেকট্রন (Electron) | ফসফরাস (P), আর্সেনিক (As), অ্যান্টিমনি (Sb) |
| P-টাইপ (P-type) | ত্রিযোজী (Trivalent) | হোল (Hole) | বোরন (B), গ্যালিয়াম (Ga), ইন্ডিয়াম (In) |
N-type → Negative → ইলেকট্রন প্রধান বাহক (বেশি ইলেকট্রন)
P-type → Positive → হোল প্রধান বাহক (ইলেকট্রনের অনুপস্থিতি)
সবচেয়ে বেশি ব্যবহৃত অর্ধপরিবাহী: সিলিকন (Silicon, Si) — কারণ এর ব্যান্ড গ্যাপ (1.12 eV) ঘরের তাপমাত্রায় আদর্শ।
N-P মনে রাখো: "N = Negative = ইলেকট্রন দেয় এমন পদার্থ মিশায় (পঞ্চযোজী)"
পঞ্চযোজী মনে রাখার ছন্দ: "পাবনায় আর্সেনিক সাহেব" → P (ফসফরাস) + As (আর্সেনিক) + Sb (অ্যান্টিমনি)
ত্রিযোজী মনে রাখার ছন্দ: "বাঘা গালে ইন্দ্র" → B (বোরন) + Ga (গ্যালিয়াম) + In (ইন্ডিয়াম)
ডায়োড ও রেক্টিফায়ার (Diode & Rectifier)
P-N জংশনের জাদু — একমুখী প্রবাহের রক্ষক
🔲 P-N জংশন ডায়োড (P-N Junction Diode)
P-type এবং N-type অর্ধপরিবাহী একসাথে জোড়া দিলে P-N জংশন তৈরি হয়। এই জংশন শুধু একদিকে তড়িৎপ্রবাহ দেয় — তাই এটি একমুখী ভালভ (One-way Valve) হিসেবে কাজ করে।
| অবস্থা | সংযোগ | প্রবাহ | ব্যবহার |
|---|---|---|---|
| ফরোয়ার্ড বায়াস (Forward Bias) | P-এ ধনাত্মক, N-এ ঋণাত্মক | প্রবাহিত হয় ✓ | রেক্টিফায়ার |
| রিভার্স বায়াস (Reverse Bias) | P-এ ঋণাত্মক, N-এ ধনাত্মক | প্রবাহিত হয় না ✗ | Zener Diode ব্যবহার |
বার্নার ভোল্টেজ (Barrier Voltage): সিলিকনে ≈ 0.7V, জার্মেনিয়ামে ≈ 0.3V
🔄 রেক্টিফায়ার (Rectifier) — AC কে DC তে রূপান্তর
| প্রকার | ডায়োড সংখ্যা | দক্ষতা | বৈশিষ্ট্য |
|---|---|---|---|
| হাফ ওয়েভ রেক্টিফায়ার (Half-wave) | ১টি | ৪০.৬% | শুধু ধনাত্মক অর্ধচক্র পাস |
| ফুল ওয়েভ রেক্টিফায়ার (Full-wave) | ২টি | ৮১.২% | উভয় অর্ধচক্র পাস |
| ব্রিজ রেক্টিফায়ার (Bridge) | ৪টি | ৮১.২% | সেন্টার ট্যাপ লাগে না |
🌟 বিশেষ ডায়োডসমূহ (Special Diodes)
ট্রানজিস্টর (Transistor)
আধুনিক প্রযুক্তির মেরুদণ্ড — বিবর্ধক ও সুইচ
🔬 ট্রানজিস্টরের পরিচয়
ট্রানজিস্টর আবিষ্কার করেন জন বার্ডিন (John Bardeen), উইলিয়াম শকলি (William Shockley) ও ওয়াল্টার ব্র্যাটেইন (Walter Brattain) — ১৯৪৭ সালে Bell Labs-এ। এজন্য তারা ১৯৫৬ সালে পদার্থবিজ্ঞানে নোবেল পুরস্কার পান।
ট্রানজিস্টরের তিনটি অংশ: Emitter (E), Base (B), Collector (C)
| বৈশিষ্ট্য | NPN ট্রানজিস্টর | PNP ট্রানজিস্টর |
|---|---|---|
| গঠন | N-P-N | P-N-P |
| প্রধান বাহক | ইলেকট্রন | হোল |
| সুইচিং গতি | দ্রুততর | তুলনামূলক ধীর |
| ব্যবহার | বেশি সাধারণ | বিশেষ ক্ষেত্রে |
বিবর্ধক (Amplifier) হিসেবে: বেসে (Base) ছোট সংকেত দিলে কালেক্টরে (Collector) বড় সংকেত পাওয়া যায়।
সুইচ (Switch) হিসেবে: Base-এ সংকেত দিলে ON হয়, না দিলে OFF থাকে — ডিজিটাল সার্কিটে ব্যবহৃত।
কারেন্ট গেইন (β): β = I_C / I_B (সাধারণত ৫০ থেকে ৩০০)
📡 ট্রানজিস্টরের কনফিগারেশন (Configurations)
| কনফিগারেশন | ইনপুট | আউটপুট | প্রধান ব্যবহার |
|---|---|---|---|
| Common Emitter (CE) | Base-Emitter | Collector-Emitter | সবচেয়ে বেশি ব্যবহৃত; ভোল্টেজ ও কারেন্ট উভয় বিবর্ধন |
| Common Base (CB) | Emitter-Base | Collector-Base | উচ্চ ফ্রিকোয়েন্সি বিবর্ধন |
| Common Collector (CC) | Base-Collector | Emitter-Collector | ইম্পিডেন্স ম্যাচিং (Emitter Follower) |
লজিক গেট ও ডিজিটাল ইলেকট্রনিক্স (Logic Gates & Digital)
ডিজিটাল যুগের ভাষা — বাইনারি (0 ও 1)
🔢 বুলিয়ান অ্যালজেবরা ও মূল লজিক গেট
ডিজিটাল সার্কিটে ০ (LOW) ও ১ (HIGH) — এই দুটি মাত্র অবস্থা থাকে। লজিক গেট হলো এমন ইলেকট্রনিক সার্কিট যা বুলিয়ান অপারেশন সম্পন্ন করে।
| গেটের নাম | বাংলা অর্থ | প্রতীক | সত্য হওয়ার শর্ত | সমীকরণ |
|---|---|---|---|---|
| AND গেট | এবং | · | সব ইনপুট ১ হলে আউটপুট ১ | Y = A · B |
| OR গেট | অথবা | + | যেকোনো একটি ইনপুট ১ হলে আউটপুট ১ | Y = A + B |
| NOT গেট | না/বিপরীত | ‾ | ইনপুট ০ হলে আউটপুট ১; ১ হলে ০ | Y = Ā |
| NAND গেট | AND-এর বিপরীত | ↑ | সব ইনপুট ১ হলে আউটপুট ০ | Y = A·B̄ |
| NOR গেট | OR-এর বিপরীত | ↓ | সব ইনপুট ০ হলে আউটপুট ১ | Y = A+B̄ |
| XOR গেট | এক্সক্লুসিভ অথবা | ⊕ | ইনপুট ভিন্ন হলে আউটপুট ১ | Y = A⊕B |
| XNOR গেট | এক্সক্লুসিভ নর | ⊙ | ইনপুট একই হলে আউটপুট ১ | Y = A⊙B |
🌟 সর্বজনীন গেট (Universal Gate)
"দুই সর্বজনীন = NAND ও NOR" — মনে রাখো: উভয়ই "না" দিয়ে শুরু (Not AND, Not OR)
💻 ইন্টিগ্রেটেড সার্কিট (Integrated Circuit — IC)
একটি ছোট্ট সিলিকন চিপের মধ্যে লক্ষ লক্ষ ট্রানজিস্টর, রেজিস্টর ও ক্যাপাসিটর একসাথে সংযুক্ত করে IC তৈরি করা হয়।
| প্রজন্ম (Generation) | নাম | ট্রানজিস্টর সংখ্যা |
|---|---|---|
| প্রথম | SSI (Small Scale Integration) | ১–১০০টি |
| দ্বিতীয় | MSI (Medium Scale Integration) | ১০০–১০০০টি |
| তৃতীয় | LSI (Large Scale Integration) | ১০০০–১০,০০০টি |
| চতুর্থ | VLSI (Very Large Scale Integration) | ১০,০০০–১০,০০,০০০টি |
| পঞ্চম | ULSI (Ultra Large Scale Integration) | ১০ লাখেরও বেশি |
মুরের সূত্র (Moore's Law): প্রতি দুই বছরে মাইক্রোপ্রসেসরে ট্রানজিস্টরের সংখ্যা দ্বিগুণ হয় — গর্ডন মুর (Gordon Moore), ১৯৬৫ সালে।
বৈদ্যুতিক চৌম্বকত্ব ও যন্ত্রপাতি
বিদ্যুৎ ও চুম্বকের অপূর্ব সংমিশ্রণ
🧲 বৈদ্যুতিক চৌম্বকত্ব (Electromagnetism)
- বৈদ্যুতিক চৌম্বকত্ব প্রথম লক্ষ্য করেন: বিজ্ঞানী হ্যান্স ক্রিশ্চান ওয়ার্স্টেড (Hans Christian Oersted) — ১৮২০ সালে। তড়িৎবাহী তারের কাছে চুম্বক থাকলে যে বিক্ষিপ্ত হয় তা তিনি প্রমাণ করেন।
- বৈদ্যুতিক চুম্বকে: তড়িৎশক্তি → চৌম্বকশক্তিতে রূপান্তরিত হয়
- বৈদ্যুতিক মোটরে: তড়িৎশক্তি → যান্ত্রিক শক্তিতে রূপান্তরিত হয়
- ডায়নামোতে: যান্ত্রিক শক্তি → তড়িৎশক্তিতে রূপান্তরিত হয়
- ট্রান্সফর্মারে: AC বিদ্যুতের ভোল্টেজ পরিবর্তন করা হয় (DC-তে কাজ করে না)
- অ্যাম্পিয়ার পাক (Ampere Turn): তড়িৎচুম্বকের মেরুশক্তি অ্যাম্পিয়ার পাকের সমানুপাতিক
🔌 ইলেকট্রনিক যন্ত্রপাতির তালিকা
| যন্ত্র | কাজ | শক্তি রূপান্তর |
|---|---|---|
| বৈদ্যুতিক মোটর | তড়িৎ → যান্ত্রিক কাজ | বৈদ্যুতিক → যান্ত্রিক |
| ডায়নামো / জেনারেটর | যান্ত্রিক → তড়িৎ | যান্ত্রিক → বৈদ্যুতিক |
| ট্রান্সফর্মার | ভোল্টেজ পরিবর্তন (AC) | বৈদ্যুতিক → বৈদ্যুতিক |
| ব্যালাস্ট | তড়িৎপ্রবাহ নিয়ন্ত্রণ | ফ্লুরোসেন্ট লাইটে ব্যবহৃত |
| ক্যাপাসিটর | চার্জ সঞ্চয় | বৈদ্যুতিক → বৈদ্যুতিক ক্ষেত্রে |
| ইন্ডাক্টর (Inductor) | চৌম্বকক্ষেত্রে শক্তি সঞ্চয় | বৈদ্যুতিক → চৌম্বক |
📡 ইলেকট্রনিক যোগাযোগ ব্যবস্থা (Electronic Communication)
| বিষয় | তথ্য |
|---|---|
| রেডিও তরঙ্গের আবিষ্কারক | হার্টজ (Hertz) — ১৮৮৭ সালে |
| রেডিও সম্প্রচার প্রথম করেন | গুগলিয়েলমো মার্কনি (Marconi) |
| AM রেডিও ফ্রিকোয়েন্সি | ৫৩০ kHz – ১৬০০ kHz |
| FM রেডিও ফ্রিকোয়েন্সি | ৮৮ MHz – ১০৮ MHz |
| মোবাইল নেটওয়ার্ক | ১G → 2G → 3G → 4G LTE → 5G |
| WiFi ফ্রিকোয়েন্সি | ২.৪ GHz ও ৫ GHz |
| Bluetooth ফ্রিকোয়েন্সি | ২.৪ GHz (ISM Band) |
প্রশ্ন ও উত্তর
দ্রুত রিভিশনের জন্য
⚡ বিদ্যুৎ ও রোধ সম্পর্কিত প্রশ্নোত্তর
🧲 বৈদ্যুতিক চৌম্বকত্ব সম্পর্কিত প্রশ্নোত্তর
💻 অর্ধপরিবাহী ও ডিজিটাল সম্পর্কিত প্রশ্নোত্তর
অতিরিক্ত গুরুত্বপূর্ণ তথ্য (Extra Important Facts)
পরীক্ষায় ফাঁদ প্রশ্নের উত্তর
🎯 পরীক্ষায় কনফিউশন তৈরিকারী প্রশ্নসমূহ
| বিষয় | সঠিক উত্তর | ভুল ধারণা |
|---|---|---|
| বৈদ্যুতিক বাতিতে ফিলামেন্টের উপাদান | টাংস্টেন (Tungsten) — উচ্চ গলনাংক (3422°C) | অনেকে ভাবেন নিকেল বা কার্বন |
| ঘড়ির পেন্ডুলাম তৈরি হয় | ইনভার (Invar) — তাপে প্রসারণ কম | লোহা বা তামা মনে হয় |
| বৈদ্যুতিক মোটর ও ডায়নামোর পার্থক্য | মোটর: বিদ্যুৎ→যান্ত্রিক; ডায়নামো: যান্ত্রিক→বিদ্যুৎ | একই মনে করে |
| সিনেমাকোপ প্রজেক্টরে কোন লেন্স? | অবতল লেন্স (Concave) | উত্তল মনে হয় |
| তড়িৎ প্রবাহ মাপতে ব্যবহৃত যন্ত্র | অ্যামিটার (Ammeter) | ব্যালিস্টিক গ্যালভানোমিটার — মোট চার্জ মাপে |
| মাতাল গাড়িচালক ধরতে পুলিশের যন্ত্র | ব্রেদালাইজার (Breathalyzer) | অনেকে ভাবেন থার্মোমিটার |
🌈 LED ও আলোর বর্ণমালা
| LED রঙ | উপাদান | তরঙ্গদৈর্ঘ্য |
|---|---|---|
| লাল (Red) | GaAsP (গ্যালিয়াম আর্সেনাইড ফসফাইড) | 620–750 nm |
| সবুজ (Green) | GaP (গ্যালিয়াম ফসফাইড) | 495–570 nm |
| নীল (Blue) | InGaN (ইন্ডিয়াম গ্যালিয়াম নাইট্রাইড) | 450–495 nm |
| সাদা (White) | নীল LED + ফসফর আবরণ | সব দৃশ্যমান পরিসর |
নীল LED আবিষ্কারের জন্য আকাসাকি, আমানো ও নাকামুরা ২০১৪ সালে পদার্থবিজ্ঞানে নোবেল পান।
| টপিক | BCS প্রিলি | DU ভর্তি | অন্যান্য বিশ্ববিদ্যালয় |
|---|---|---|---|
| ওহমের সূত্র ও রোধ | ★★★★★ | ★★★★ | ★★★★★ |
| বৈদ্যুতিক একক ও সংজ্ঞা | ★★★★★ | ★★★ | ★★★★ |
| অর্ধপরিবাহী ও ডায়োড | ★★★ | ★★★★★ | ★★★★ |
| লজিক গেট | ★★★ | ★★★★★ | ★★★★★ |
| বৈদ্যুতিক চৌম্বকত্ব | ★★★★ | ★★★ | ★★★ |
| যন্ত্রপাতি ও তাদের কাজ | ★★★★ | ★★ | ★★★ |
"V = IR" — ভোল্ট = অ্যাম্পিয়ার × ওহম (সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সমীকরণ)
শ্রেণি বনাম সমান্তরাল: "শ্রেণিতে সবাই লাইন ধরে — একটি পড়লে সবাই পড়ে" (বাল্ব সিরিজে = একটি নিভলে সব নেভে)
N ও P-type: "N = নিউট্রন নয়, ইলেকট্রন বেশি"; "P = পজিটিভ হোল বেশি"
NAND ও NOR: "দুই না-তে সর্বজনীন" — দুটোই Universal Gate
মোটর-ডায়নামো: "মোটর বিদ্যুৎ খায় → কাজ করে; ডায়নামো কাজ নিয়ে → বিদ্যুৎ দেয়"