সাধারণ বিজ্ঞান
খাদ্য ও পুষ্টি
(Food & Nutrition)
কার্বোহাইড্রেট • প্রোটিন • স্নেহ • ভিটামিন • খনিজ • পানি উৎসেচক • পুষ্টিহীনতা • পরিপাক |
১. ভূমিকা
তুমি কি জানো — তোমার শরীর প্রতিদিন যা খাও তা থেকে কোষ তৈরি করে, হরমোন সংশ্লেষণ করে, হাড় শক্ত রাখে, রোগ প্রতিরোধ করে? খাদ্য আসলে শুধু ক্ষুধা মেটানোর উপাদান নয় — খাদ্য হলো জীবনের কাঁচামাল (Raw Materials of Life)। একটি নির্দিষ্ট পুষ্টির অভাবে কীভাবে একটি পুরো দেশে রোগ ছড়িয়ে পড়তে পারে — ইতিহাসে তার হাজারো উদাহরণ আছে।
বিসিএস প্রিলিমিনারি, ঢাবি, রাবি, চবি, কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় ও মেডিকেল ভর্তি পরীক্ষায় গত ২০ বছরে এই অধ্যায় থেকে প্রতি বছর ৩-৫টি প্রশ্ন আসে। "কোন ভিটামিন চর্বিতে দ্রবণীয়?", "রিকেটস কোন ভিটামিনের অভাবে হয়?", "অগ্ন্যাশয়ের উৎসেচক কোনগুলো?", "কোয়াশিয়রকর ও ম্যারাসমাসের পার্থক্য?" — এ প্রশ্নগুলো পরীক্ষায় বারবার আসে।
২. কনসেপ্ট ক্লিয়ারিং ডিসকাশন
খাদ্য ও পুষ্টি অধ্যায়ে কিছু মৌলিক পার্থক্য আগে বোঝা দরকার।
পরিভাষা | English | সংজ্ঞা |
খাদ্য | Food | যে পদার্থ খেলে শরীর শক্তি পায়, দেহ গঠন ও মেরামত হয় এবং বিপাক নিয়ন্ত্রিত হয় |
পুষ্টি | Nutrition | শরীরে খাদ্য উপাদান ব্যবহারের পদ্ধতি ও বিজ্ঞান |
সুষম খাদ্য | Balanced Diet | সকল পুষ্টি উপাদান সঠিক পরিমাণে থাকা খাদ্য |
উৎসেচক | Enzyme | জীবন্ত কোষে উৎপন্ন জৈব অনুঘটক যা বিপাকীয় বিক্রিয়া ত্বরান্বিত করে |
পরিপাক | Digestion | বৃহৎ খাদ্য অণুকে ক্ষুদ্র শোষণযোগ্য অণুতে পরিণত করার প্রক্রিয়া |
বিপাক | Metabolism | দেহে সংঘটিত সকল রাসায়নিক বিক্রিয়ার সমষ্টি |
ক্যালোরি | Calorie | খাদ্যের শক্তিমান পরিমাপের একক |
ভিটামিন | Vitamin | অল্প পরিমাণে দরকার কিন্তু দেহ নিজে তৈরি করতে পারে না — বাইরে থেকে নিতে হয় |
খনিজ লবণ | Mineral Salt | দেহের হাড়, দাঁত, রক্ত গঠনে সাহায্যকারী অজৈব পদার্থ |
পুষ্টিহীনতা | Malnutrition | এক বা একাধিক পুষ্টি উপাদানের দীর্ঘমেয়াদী অভাব |
৩. সুষম খাদ্যের ছয়টি উপাদান
সুষম খাদ্যে ঠিক ৬টি উপাদান থাকতে হয়। এই ৬টি উপাদান একসাথে থাকলে দেহের সব কার্যক্রম সুষ্ঠুভাবে পরিচালিত হয়।
উপাদান | প্রধান কাজ | প্রধান উৎস | প্রতি গ্রামে ক্যালোরি |
কার্বোহাইড্রেট | শক্তি সরবরাহ (প্রধান উৎস) | ভাত, আলু, রুটি, চিনি | ৪ কিলোক্যালোরি |
প্রোটিন | দেহ গঠন ও মেরামত; এনজাইম-হরমোন তৈরি | মাংস, মাছ, ডিম, ডাল, দুধ | ৪ কিলোক্যালোরি |
স্নেহ পদার্থ (ফ্যাট) | শক্তি সঞ্চয়; চর্বিতে দ্রবণীয় ভিটামিন পরিবহন | তেল, ঘি, মাখন, বাদাম | ৯ কিলোক্যালোরি |
ভিটামিন | বিপাক নিয়ন্ত্রণ; রোগ প্রতিরোধ | বিভিন্ন ফল, শাকসবজি, দুধ | শক্তি দেয় না |
খনিজ লবণ | হাড়-দাঁত গঠন; রক্ত উৎপাদন; স্নায়ু কাজ | শাকসবজি, দুধ, মাছ, লবণ | শক্তি দেয় না |
পানি | দ্রাবক; তাপ নিয়ন্ত্রণ; পরিবহন মাধ্যম | পানীয় জল, ফল, শাকসবজি | শক্তি দেয় না |
| 💡 একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন পরীক্ষায় অনেক সময় জিজ্ঞেস করা হয়: "শক্তি সরবরাহ করে না কোন পুষ্টি উপাদান?" — উত্তর হলো ভিটামিন, খনিজ লবণ ও পানি। অর্থাৎ শুধু কার্বোহাইড্রেট (৪), প্রোটিন (৪) এবং স্নেহ পদার্থ (৯) — এই তিনটিই শক্তি সরবরাহ করে। |
৪. কার্বোহাইড্রেট (Carbohydrate)
কার্বোহাইড্রেট হলো কার্বন, হাইড্রোজেন ও অক্সিজেন দিয়ে তৈরি জৈব যৌগ। এটি দেহের প্রধান ও তাৎক্ষণিক শক্তির উৎস। প্রতি গ্রাম কার্বোহাইড্রেট থেকে ৪ কিলোক্যালোরি শক্তি পাওয়া যায়।
৪.১ কার্বোহাইড্রেটের শ্রেণিবিভাগ
শ্রেণি | উদাহরণ | বৈশিষ্ট্য |
মনোস্যাকারাইড (Monosaccharide) | গ্লুকোজ, ফ্রুক্টোজ, গ্যালাক্টোজ | সরলতম চিনি; সরাসরি শোষণযোগ্য; মিষ্টি স্বাদ |
ডাইস্যাকারাইড (Disaccharide) | সুক্রোজ (চিনি), ল্যাক্টোজ (দুধের), মল্টোজ | ২টি মনোস্যাকারাইড; পানিবিশ্লেষণে দুই মনোস্যাকারাইড পাওয়া যায় |
পলিস্যাকারাইড (Polysaccharide) | স্টার্চ (শ্বেতসার), সেলুলোজ, গ্লাইকোজেন | বহু মনোস্যাকারাইড; সাধারণত অদ্রাবণীয়; মিষ্টি নয় |
৪.২ গুরুত্বপূর্ণ কার্বোহাইড্রেট — বিস্তারিত
গ্লুকোজ (Glucose, C₆H₁₂O₆) — রক্তের প্রধান শর্করা; মস্তিষ্কের একমাত্র জ্বালানি; স্বাভাবিক রক্তে ৮০-১২০ mg/dL
ফ্রুক্টোজ (Fructose) — ফল ও মধুতে পাওয়া যায়; সবচেয়ে মিষ্টি মনোস্যাকারাইড
সুক্রোজ (Sucrose) — আখ থেকে পাওয়া সাধারণ চিনি = গ্লুকোজ + ফ্রুক্টোজ; খাদ্য হিসেবে ব্যবহৃত চিনি ডাইস্যাকারাইড
ল্যাক্টোজ (Lactose) — দুধের শর্করা = গ্লুকোজ + গ্যালাক্টোজ; ল্যাক্টেজ উৎসেচক দিয়ে পরিপাক হয়
স্টার্চ / শ্বেতসার (Starch) — উদ্ভিদের সঞ্চিত শর্করা; ভাত-আলু-রুটির মূল শর্করা; অ্যামাইলেজ দিয়ে পরিপাক
গ্লাইকোজেন (Glycogen) — প্রাণীর দেহে সঞ্চিত শর্করা; যকৃৎ ও পেশিতে থাকে; রক্তে গ্লুকোজ কমলে ভেঙে যায়
সেলুলোজ (Cellulose) — উদ্ভিদের কোষ প্রাচীরের উপাদান; মানুষ পরিপাক করতে পারে না; খাদ্য আঁশ (Dietary Fibre) হিসেবে কাজ করে
| 🔬 গ্লাইকোজেনেসিস কী? গ্লাইকোজেনেসিস (Glycogenesis) হলো যকৃতে গ্লুকোজ থেকে গ্লাইকোজেন তৈরির প্রক্রিয়া। রক্তে গ্লুকোজ বেশি হলে এই প্রক্রিয়ায় ইনসুলিন হরমোনের সাহায্যে তা গ্লাইকোজেন হিসেবে সঞ্চিত হয়। বিপরীতে গ্লাইকোজেনোলাইসিস-এ গ্লাইকোজেন ভেঙে গ্লুকোজ তৈরি হয়। |
৫. প্রোটিন (Protein)
প্রোটিন হলো অ্যামিনো অ্যাসিডের দীর্ঘ শৃঙ্খল দিয়ে গঠিত জৈব অণু। প্রতি গ্রাম প্রোটিন থেকে ৪ কিলোক্যালোরি শক্তি পাওয়া যায়। প্রোটিন দেহ গঠন, মেরামত, এনজাইম, হরমোন, অ্যান্টিবডি তৈরিতে অপরিহার্য।
৫.১ অ্যামিনো অ্যাসিড
প্রোটিনের গাঠনিক একক হলো অ্যামিনো অ্যাসিড (Amino Acid)। মোট ২০টি অ্যামিনো অ্যাসিড দিয়ে সব প্রোটিন তৈরি। এর মধ্যে ৮টি অত্যাবশ্যকীয় অ্যামিনো অ্যাসিড (Essential Amino Acid) — যা দেহ নিজে তৈরি করতে পারে না, খাদ্য থেকে নিতে হয়।
প্রোটিনের শ্রেণি | উদাহরণ | বৈশিষ্ট্য |
প্রথম শ্রেণির প্রোটিন (High Biological Value) | মাংস, মাছ, ডিম, দুধ | সব অত্যাবশ্যকীয় অ্যামিনো অ্যাসিড আছে; প্রাণিজ উৎস |
দ্বিতীয় শ্রেণির প্রোটিন (Low Biological Value) | ডাল, বাদাম, শস্য | কিছু অ্যামিনো অ্যাসিড কম; উদ্ভিজ্জ উৎস |
৫.২ গুরুত্বপূর্ণ প্রোটিন
হিমোগ্লোবিন (Haemoglobin) — লোহিত রক্তকণিকার প্রোটিন; অক্সিজেন পরিবহন করে; লোহা ধারণ করে
কেসিন (Casein) — দুধের প্রধান প্রোটিন; রেনিন উৎসেচকের মাধ্যমে পাকস্থলীতে জমাট বাঁধে
কেরাটিন (Keratin) — নখ, চুল, ত্বকের প্রোটিন; সালফার সমৃদ্ধ
কোলাজেন (Collagen) — সংযোজক কলার প্রোটিন; ত্বক, হাড়, তরুণাস্থিতে
ইনসুলিন (Insulin) — অগ্ন্যাশয়ের হরমোন প্রোটিন; রক্তে গ্লুকোজ নিয়ন্ত্রণ করে
মায়োসিন ও অ্যাক্টিন — পেশির সংকোচনে দায়ী প্রোটিন
অ্যালবুমিন (Albumin) — ডিমের সাদা অংশের প্রোটিন; রক্তের প্রধান প্রোটিন
| 💊 প্রোটিনের অভাবে যা হয় কোয়াশিয়রকর (Kwashiorkor) — শুধু প্রোটিনের অভাবে; পেট ফোলা ম্যারাসমাস (Marasmus) — প্রোটিন ও ক্যালোরি উভয়ের অভাব; হাড় জিরজিরে শরীরের বৃদ্ধি বাধাগ্রস্ত হয় রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কমে |
৬. স্নেহ পদার্থ (Fat & Lipids)
স্নেহ পদার্থ কার্বন, হাইড্রোজেন ও অক্সিজেন দিয়ে গঠিত — তবে অক্সিজেনের পরিমাণ কার্বোহাইড্রেটের চেয়ে অনেক কম। প্রতি গ্রাম স্নেহ পদার্থ থেকে ৯ কিলোক্যালোরি শক্তি পাওয়া যায় — এটি তিনটি উপাদানের মধ্যে সর্বোচ্চ।
শ্রেণি | উদাহরণ | বৈশিষ্ট্য |
সম্পৃক্ত চর্বি (Saturated Fat) | ঘি, মাখন, নারকেল তেল | স্বাভাবিক তাপে কঠিন; হৃদরোগের ঝুঁকি বাড়ায় |
অসম্পৃক্ত চর্বি (Unsaturated Fat) | সয়াবিন, সূর্যমুখী, অলিভ তেল | তরল অবস্থায়; হৃদবান্ধব; ওমেগা-৩, ওমেগা-৬ |
ট্রান্স ফ্যাট | ডালডা, বনস্পতি | হাইড্রোজেনেশন দ্বারা তৈরি; সবচেয়ে ক্ষতিকর |
৬.১ স্নেহ পদার্থের গুরুত্বপূর্ণ কাজ
শক্তির সঞ্চয় — প্রতি গ্রামে ৯ কিলোক্যালোরি
চর্বিতে দ্রবণীয় ভিটামিন A, D, E, K পরিবহন ও শোষণ
অঙ্গ রক্ষা — কিডনি, হৃদপিণ্ডকে আঘাত থেকে রক্ষা
দেহের তাপ নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করে
স্নায়ুতন্ত্রের মায়েলিন সিথ (Myelin Sheath) তৈরিতে
| 🧠 মনে রাখার সহজ নিয়ম চর্বিতে দ্রবণীয় ভিটামিন: ADEK → "আ-ড্যা-ই-কা" জলে দ্রবণীয় ভিটামিন: B-কমপ্লেক্স সব + C + P → "বি-সি-পি" স্নেহ পদার্থ = ৯ কিলোক্যালোরি/গ্রাম (সর্বোচ্চ শক্তি) |
৭. ভিটামিন (Vitamins)
ভিটামিন হলো জৈব রাসায়নিক পদার্থ যা দেহের বিপাক ক্রিয়া নিয়ন্ত্রণে অল্প পরিমাণে প্রয়োজন কিন্তু দেহ নিজে সংশ্লেষণ করতে পারে না (ব্যতিক্রম: ভিটামিন D ও K)। ভিটামিন আবিষ্কারক: ক্যাশিমির ফাংক (Casimir Funk, ১৯১২)।
৭.১ চর্বিতে দ্রবণীয় ভিটামিন (Fat-Soluble: A, D, E, K)
ভিটামিন | রাসায়নিক নাম | প্রধান উৎস | অভাবজনিত রোগ | বিশেষ তথ্য |
ভিটামিন A | রেটিনল (Retinol) | গাজর, কলিজা, মাছের তেল, দুধ, ডিম | রাতকানা (Night Blindness), জেরোফথালমিয়া | রঙিন ফলে β-ক্যারোটিন → শরীরে Vit A |
ভিটামিন D | ক্যালসিফেরল (Calciferol) | সূর্যালোক (প্রধান), মাছের তেল, দুধ | রিকেটস (শিশু), অস্টিওম্যালেশিয়া (প্রাপ্তবয়স্ক) | একমাত্র সূর্যালোকে ত্বকে সংশ্লেষিত হয় |
ভিটামিন E | টোকোফেরল (Tocopherol) | উদ্ভিজ্জ তেল, বাদাম, শস্যের অঙ্কুর | বন্ধ্যাত্ব, স্নায়বিক সমস্যা | শক্তিশালী অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট |
ভিটামিন K | ফাইলোকুইনোন (Phylloquinone) | শাকসবজি, কলিজা, সবুজ পাতা | রক্ত জমাট বাঁধতে অসুবিধা | অন্ত্রের ব্যাকটেরিয়াও তৈরি করে |
৭.২ জলে দ্রবণীয় ভিটামিন (Water-Soluble: B-complex, C, P)
ভিটামিন | রাসায়নিক নাম | প্রধান উৎস | অভাবজনিত রোগ |
ভিটামিন B₁ | থায়ামিন (Thiamine) | ঢেঁকি ছাঁটা চাল, ডাল, শূকরের মাংস | বেরিবেরি (Beri-Beri) |
ভিটামিন B₂ | রাইবোফ্লাভিন (Riboflavin) | দুধ, ডিম, মাংস, সবুজ শাক | কৌণিক চিলোসিস, গ্লসাইটিস |
ভিটামিন B₃ | নায়াসিন (Niacin) | মাংস, বাদাম, ছাতু | পেলাগ্রা (Pellagra) — ৩D: Dermatitis, Diarrhoea, Dementia |
ভিটামিন B₅ | প্যান্টোথেনিক অ্যাসিড | বেশিরভাগ খাদ্যে | বার্নিং ফুট সিনড্রোম |
ভিটামিন B₆ | পাইরিডক্সিন (Pyridoxine) | মাংস, মাছ, ডিম, কলা | রক্তস্বল্পতা, ডার্মাটাইটিস |
ভিটামিন B₇ | বায়োটিন (Biotin) | ডিম, বাদাম, মটরশুঁটি | চুল পড়া, ডার্মাটাইটিস |
ভিটামিন B₉ | ফলিক অ্যাসিড (Folic Acid) | সবুজ শাকসবজি, ডাল | অ্যানিমিয়া; গর্ভাবস্থায় নিউরাল টিউব ডিফেক্ট |
ভিটামিন B₁₂ | সায়ানোকোবালামিন (Cyanocobalamin) | মাছ, মাংস, দুধ, ডিম | পার্নিশিয়াস অ্যানিমিয়া (Pernicious Anaemia) |
ভিটামিন C | অ্যাসকরবিক অ্যাসিড (Ascorbic Acid) | আমলকী, পেয়ারা, লেবু, কমলা, আমড়া | স্কার্ভি (Scurvy) — দাঁতের মাড়ি থেকে রক্ত |
ভিটামিন P | বায়োফ্ল্যাভোনয়েড | সাইট্রাস ফল, লাল মরিচ | কৈশিকনালীর ভঙ্গুরতা |
| ⭐ বিশেষ ভিটামিন B₁₂ — মনে রাখার তথ্য ভিটামিন B₁₂ -এ কোবাল্ট (Cobalt) পাওয়া যায় — পর্যায় সারণির কোবাল্ট ধাতু একমাত্র ভিটামিন যাতে ধাতব মৌল (কোবাল্ট) থাকে শুধুমাত্র প্রাণিজ খাদ্যে পাওয়া যায় — নিরামিষাশীদের ঘাটতির ঝুঁকি বেশি অভাবে পার্নিশিয়াস অ্যানিমিয়া হয় |
| 🍋 ভিটামিন C — বিশেষ মনে রাখার তথ্য সবচেয়ে বেশি ভিটামিন C পাওয়া যায়: আমলকী > পেয়ারা > লেবু > কমলা রান্নায় নষ্ট হয়ে যায় — তাই কাঁচা ফলে বেশি উপকারী ভিটামিন C অ্যাসকরবিক অ্যাসিড — হালকা অম্লীয় স্কার্ভি রোগে দাঁতের মাড়ি থেকে রক্ত পড়ে এবং ক্ষত শুকায় না |
৮. খনিজ লবণ (Mineral Salts)
খনিজ লবণ হলো অজৈব পদার্থ যা দেহের হাড়, দাঁত, রক্ত গঠনে এবং এনজাইম কার্যক্রমে অপরিহার্য। এগুলো শক্তি দেয় না কিন্তু শরীরের রাসায়নিক ভারসাম্য বজায় রাখে।
খনিজ | প্রধান কাজ | প্রধান উৎস | অভাবজনিত রোগ |
ক্যালসিয়াম (Ca) | হাড় ও দাঁত গঠন; রক্ত জমাট বাঁধতে সাহায্য | দুধ, পনির, কাঁটাযুক্ত মাছ, শাকসবজি | রিকেটস, অস্টিওপোরোসিস, টিটেনাস |
ফসফরাস (P) | হাড় ও দাঁত গঠন (ক্যালসিয়ামের সাথে); ATP তৈরি | মাছ, মাংস, ডিম, ডাল | দুর্বলতা, হাড়ের সমস্যা |
লোহা / আয়রন (Fe) | হিমোগ্লোবিন গঠন; অক্সিজেন পরিবহন | কচু শাক, কলিজা, মাংস, ডিম | আয়রন-ডেফিসিয়েন্সি অ্যানিমিয়া, রক্তশূন্যতা |
আয়োডিন (I) | থাইরয়েড হরমোন সংশ্লেষণ | সামুদ্রিক মাছ, আয়োডিনযুক্ত লবণ | গলগণ্ড (Goitre), ক্রেটিনিজম (শিশুতে) |
পটাশিয়াম (K) | স্নায়ু ও পেশির কাজ; হৃদস্পন্দন নিয়ন্ত্রণ | কলা, আলু, ছাতু, ডাল | পেশির দুর্বলতা, হার্টের সমস্যা |
সোডিয়াম (Na) | অসমোটিক ভারসাম্য; স্নায়ু পরিবহন | খাবার লবণ, সামুদ্রিক খাবার | হাইপোনেট্রিমিয়া, ক্র্যাম্প |
ম্যাগনেসিয়াম (Mg) | এনজাইম কার্যক্রম; হাড় গঠন; ক্লোরোফিলের কেন্দ্র | বাদাম, শস্য, সবুজ শাক | পেশির কাঁপুনি, দুর্বলতা |
জিঙ্ক (Zn) | ইনসুলিন সংশ্লেষণ; ক্ষত নিরাময়; বিকাশ | মাংস, বাদাম, ডাল, বীজ | বৃদ্ধি বাধাগ্রস্ত, রোগ প্রতিরোধ কমে |
ফ্লুরিন (F) | দাঁতের এনামেল শক্ত করা | ফ্লুরিনযুক্ত পানি, চা | দন্তক্ষয় (Dental Caries) |
কোবাল্ট (Co) | ভিটামিন B₁₂ গঠন | মাছ, মাংস, দুধ | পার্নিশিয়াস অ্যানিমিয়া |
| 📌 পরীক্ষায় গ্যারান্টিযুক্ত তথ্য মানবদেহে সবচেয়ে বেশি খনিজ: ক্যালসিয়াম (হাড় ও দাঁতে) কচু শাকে সবচেয়ে বেশি: লৌহ (Iron/Fe) ছাতুতে সবচেয়ে বেশি: পটাশিয়াম (K) গলগণ্ড রোগের কারণ: আয়োডিনের অভাব ভিটামিন B₁₂-তে থাকে: কোবাল্ট (Cobalt) হিমোগ্লোবিনের খনিজ উপাদান: লোহা (Fe) |
৯. পানি (Water)
পানি কোনো পুষ্টি উপাদান হিসেবে গণ্য না হলেও দেহের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ উপাদান। মানবদেহের মোট ওজনের ৬০–৭০% পানি।
পানির প্রধান কাজ
দ্রাবক হিসেবে — রক্ত, কোষরস, পরিপাকরসে দ্রাবক হিসেবে কাজ করে
পরিবহন মাধ্যম — পুষ্টি, হরমোন, বর্জ্য পদার্থ বহন করে
তাপ নিয়ন্ত্রণ — ঘাম হিসেবে বাষ্পীভূত হয়ে দেহ ঠান্ডা রাখে
রাসায়নিক বিক্রিয়ায় অংশগ্রহণ — পরিপাকে হাইড্রোলাইসিস প্রক্রিয়ায়
স্নেহন (Lubrication) — অস্থিসন্ধিতে সাইনোভিয়াল তরল হিসেবে
দেহের অঙ্গ | পানির পরিমাণ |
রক্ত | ৯০-৯২% |
পেশি | ৫০% |
মস্তিষ্ক | ৭৩% |
হাড় | ৩১% |
প্রোটোপ্লাজম | ৬০-৯০% |
| 💧 গুরুত্বপূর্ণ তথ্য প্রতিদিন প্রয়োজন: প্রায় ৩ লিটার পানি শরীরে ২০% পানি কমলে মৃত্যু পর্যন্ত হতে পারে সবচেয়ে বেশি পানি থাকে: রক্তে (৯০-৯২%) পানি নিজে কোনো ক্যালোরি সরবরাহ করে না |
১০. খাদ্য পরিপাক ও উৎসেচক
পরিপাক হলো বৃহৎ খাদ্য অণুকে ক্ষুদ্র শোষণযোগ্য অণুতে পরিণত করার প্রক্রিয়া। এটি প্রধানত হাইড্রোলাইসিস বিক্রিয়ার মাধ্যমে উৎসেচকের (Enzyme) সাহায্যে ঘটে।
১০.১ পরিপাক অঙ্গ ও উৎসেচক
অঙ্গ | নিঃসৃত উৎসেচক | পরিপাক করে |
মুখ (Mouth) — লালারস | টায়ালিন (Ptyalin) / অ্যামাইলেজ | শ্বেতসার → মল্টোজ |
পাকস্থলী (Stomach) | পেপসিন, রেনিন, HCl | প্রোটিন → পেপটোন; দুধ জমাট |
অগ্ন্যাশয় (Pancreas) | অ্যামাইলেজ, লাইপেজ, ট্রিপসিন, কাইমোট্রিপসিন, মল্টেজ | সব ধরনের খাদ্য |
যকৃৎ (Liver) | পিত্তরস (bile); মল্টেজ, ল্যাক্টেজ, অ্যামাইলেজ | চর্বি ইমালসিফিকেশন |
ক্ষুদ্রান্ত্র (Small Intestine) | সুক্রেজ, ইরেপসিন, নিউক্লিয়েজ, লাইপেজ | সম্পূর্ণ পরিপাক ও শোষণ |
১০.২ অগ্ন্যাশয়ের উৎসেচক — বিস্তারিত
| 🔬 অগ্ন্যাশয়ের পাঁচটি উৎসেচক
|
১০.৩ পরিপাকের বিভিন্ন পর্যায়
পর্যায় | স্থান | মূল ঘটনা |
মুখগহ্বর | মুখ | শ্বেতসারের প্রাথমিক পরিপাক; খাদ্য চর্বণ ও লালার সাথে মিশ্রণ |
পাকস্থলী | পাকস্থলী | প্রোটিনের প্রাথমিক পরিপাক; HCl দ্বারা জীবাণু ধ্বংস; কাইম তৈরি |
ক্ষুদ্রান্ত্র | ডিউডেনাম, জেজুনাম, ইলিয়াম | সম্পূর্ণ পরিপাক; পুষ্টি শোষণ (ভিলাই দ্বারা) |
বৃহদান্ত্র | কোলন | পানি শোষণ; মল গঠন; কিছু ভিটামিন (K, B₁₂) উৎপাদন |
| 📌 গুরুত্বপূর্ণ পার্থক্য শর্করা পরিপাক শুরু: মুখে (টায়ালিন/অ্যামাইলেজ দ্বারা) প্রোটিন পরিপাক শুরু: পাকস্থলীতে (পেপসিন দ্বারা) চর্বি পরিপাক শুরু: ক্ষুদ্রান্ত্রে (লাইপেজ ও পিত্তরস দ্বারা) গ্লুকোজ সংশ্লেষণ: যকৃতে (গ্লাইকোজেনেসিস) |
১১. ক্যালোরি ও শক্তি
ক্যালোরি হলো শক্তির একক। খাদ্যের শক্তিমান পরিমাপে কিলোক্যালোরি (kcal) ব্যবহৃত হয়। বিভিন্ন পুষ্টি উপাদান থেকে ভিন্ন পরিমাণ শক্তি পাওয়া যায়।
পুষ্টি উপাদান | প্রতি গ্রামে ক্যালোরি | মনে রাখার সংখ্যা |
কার্বোহাইড্রেট (Carbohydrate) | ৪ কিলোক্যালোরি | ৪ |
প্রোটিন (Protein) | ৪ কিলোক্যালোরি | ৪ |
স্নেহ পদার্থ / চর্বি (Fat) | ৯ কিলোক্যালোরি | ৯ — সর্বোচ্চ |
অ্যালকোহল (Alcohol) | ৭ কিলোক্যালোরি | ৭ |
পানি, ভিটামিন, খনিজ | ০ কিলোক্যালোরি | শক্তি দেয় না |
| 🔥 ক্যালোরির সহজ মনে রাখার ট্রিক "কার্ব-প্রোটিন = চার-চার, স্নেহ = নয়" → 4-4-9 অ্যালকোহল ৭ (কার্ব ৪ ও স্নেহ ৯-এর মাঝামাঝি) ভিটামিন-খনিজ-পানি = শক্তি শূন্য কিন্তু কাজ অনেক |
১১.১ দৈনিক ক্যালোরির চাহিদা
ব্যক্তি | দৈনিক ক্যালোরির চাহিদা (আনুমানিক) |
শিশু (১-৩ বছর) | ১,০০০-১,৪০০ কিলোক্যালোরি |
স্কুলগামী শিশু (৬-১২) | ১,৬০০-২,৬০০ কিলোক্যালোরি |
পূর্ণবয়স্ক পুরুষ | ২,৫০০-৩,০০০ কিলোক্যালোরি |
পূর্ণবয়স্ক মহিলা | ২,০০০-২,৫০০ কিলোক্যালোরি |
গর্ভবতী মহিলা | +৩০০ কিলোক্যালোরি অতিরিক্ত |
স্তন্যদানকারী মহিলা | পূর্ণবয়স্ক মহিলার +৫০০ |
১২. পুষ্টিহীনতার রোগ
দীর্ঘমেয়াদী পুষ্টির অভাবে নানা রোগ দেখা দেয়। বিসিএস পরীক্ষায় এই অংশ থেকে প্রায় প্রতি বছরই প্রশ্ন আসে।
১২.১ প্রোটিন-ক্যালোরি অপুষ্টি
রোগ | কারণ | লক্ষণ | প্রধান ভুক্তভোগী |
কোয়াশিয়রকর (Kwashiorkor) | শুধু প্রোটিনের অভাব; ক্যালোরি যথেষ্ট | পেট ফোলা, মুখ ও পা ফোলা, চুল বিবর্ণ, দুর্বলতা | ছোট শিশু যারা শুধু শর্করা জাতীয় খাবার খায় |
ম্যারাসমাস (Marasmus) | প্রোটিন ও ক্যালোরি উভয়ের অভাব | ত্বক ও হাড় জিরজিরে, দেখতে বৃদ্ধের মতো, তীব্র ক্ষুধা | ১ বছরের কম বয়সী শিশু |
১২.২ ভিটামিন ও খনিজের অভাবজনিত রোগ
রোগ | অভাব (কারণ) | মূল লক্ষণ |
রাতকানা (Night Blindness) | ভিটামিন A | রাতে দেখতে পায় না; কর্নিয়া শুকিয়ে যায় |
স্কার্ভি (Scurvy) | ভিটামিন C | দাঁতের মাড়ি থেকে রক্ত; ক্ষত শুকায় না; সন্ধিব্যথা |
রিকেটস (Rickets) | ভিটামিন D (শিশু) | হাড় নরম, পায়ের বাঁকা, দাঁতে বিলম্ব |
অস্টিওম্যালেশিয়া | ভিটামিন D (প্রাপ্তবয়স্ক) | হাড় নরম, ব্যথা |
বেরিবেরি (Beri-beri) | ভিটামিন B₁ | স্নায়ুর দুর্বলতা; হৃদপিণ্ড বড় হয়; পা ফোলে |
পেলাগ্রা (Pellagra) | ভিটামিন B₃/নায়াসিন | ত্বকে ঘা, ডায়ারিয়া, মানসিক বিভ্রান্তি |
গলগণ্ড (Goitre) | আয়োডিন | গলা ফোলে (থাইরয়েড বৃদ্ধি) |
অ্যানিমিয়া (রক্তস্বল্পতা) | লোহা (Fe) বা ফলিক অ্যাসিড বা B₁₂ | রক্তশূন্যতা, ক্লান্তি |
দন্তক্ষয় (Dental Caries) | ফ্লুরাইডের অভাব | দাঁতে পচন |
ক্রেটিনিজম | আয়োডিন (শিশুতে) | বৌদ্ধিক প্রতিবন্ধকতা, বামন |
অক্ষিশুষ্কতা (Xerophthalmia) | ভিটামিন A | চোখ শুকনো, অন্ধত্ব |
পার্নিশিয়াস অ্যানিমিয়া | ভিটামিন B₁₂ | লোহিতকণিকা বড় কিন্তু কম |
১৩. বিশেষ খাদ্যের পুষ্টিগুণ
কিছু নির্দিষ্ট খাদ্যের নাম এবং তাদের বিশেষ পুষ্টি উপাদান পরীক্ষায় বারবার আসে।
খাদ্য | বিশেষ পুষ্টি / বৈশিষ্ট্য | পরীক্ষার গুরুত্ব |
আমলকী | সবচেয়ে বেশি ভিটামিন C | বিসিএস ও ভর্তি পরীক্ষায় বারবার |
পেয়ারা | ভিটামিন C সমৃদ্ধ (কমলার চেয়ে বেশি) | প্রায়ই প্রশ্নে আসে |
কচু শাক | সবচেয়ে বেশি আয়রন (Fe) | লৌহ = কচু শাক |
ছাতু (Sattu) | সবচেয়ে বেশি পটাশিয়াম (K) | ছাতু = পটাশিয়াম |
পোকানো চাল / ঢেঁকি ছাঁটা চাল | ভিটামিন B-কমপ্লেক্স (B₁ থায়ামিন) | বেরিবেরি প্রতিরোধ |
দুধ | ক্যালসিয়াম, প্রোটিন (কেসিন), ল্যাক্টোজ | সম্পূর্ণ খাদ্য হিসেবে বিবেচিত |
ডিম | সম্পূর্ণ প্রোটিন (অ্যালবুমিন); ভিটামিন D, B₁২ | প্রোটিনের উৎকৃষ্ট উৎস |
মাছের তেল / কড লিভার অয়েল | ভিটামিন A ও D সবচেয়ে বেশি | রিকেটস চিকিৎসায় |
কলা | পটাশিয়াম, B₆, কার্বোহাইড্রেট | তাৎক্ষণিক শক্তি |
গাজর | β-ক্যারোটিন → ভিটামিন A | রাতকানা প্রতিরোধে |
লেবু / কমলা | ভিটামিন C (অ্যাসকরবিক অ্যাসিড) | স্কার্ভি প্রতিরোধ |
সামুদ্রিক মাছ | আয়োডিন, ওমেগা-৩ ফ্যাটি অ্যাসিড | থাইরয়েড সুস্থ রাখে |
আলু | কার্বোহাইড্রেট, ভিটামিন C, পটাশিয়াম | সস্তা কিন্তু পুষ্টিকর |
সয়াবিন | উচ্চমানের উদ্ভিজ্জ প্রোটিন | ডালের বিকল্প |
১৪. গুরুত্বপূর্ণ বিষয় (Key Takeaways)
সুষম খাদ্যের ৬ উপাদান: কার্বো, প্রোটিন, স্নেহ, ভিটামিন, খনিজ, পানি
ক্যালোরি: কার্বো=৪, প্রোটিন=৪, স্নেহ=৯ কিলোক্যালোরি/গ্রাম
চর্বিতে দ্রবণীয় ভিটামিন: A, D, E, K (মনে রাখো: ADEK)
জলে দ্রবণীয় ভিটামিন: B-কমপ্লেক্স (B₁ থেকে B₁₂) + C + P
ভিটামিন B₁₂-এ কোবাল্ট (Co) থাকে — একমাত্র ধাতুযুক্ত ভিটামিন
ভিটামিন D — একমাত্র সূর্যালোকে ত্বকে সংশ্লেষণ হয়
সবচেয়ে বেশি ভিটামিন C: আমলকী > পেয়ারা > লেবু > কমলা
কচু শাক → সবচেয়ে বেশি লৌহ (Fe); ছাতু → সবচেয়ে বেশি পটাশিয়াম (K)
পোকানো চাল → ভিটামিন B-কমপ্লেক্স
রাতকানা → ভিটামিন A অভাব; রিকেটস → ভিটামিন D অভাব
স্কার্ভি → ভিটামিন C অভাব; বেরিবেরি → ভিটামিন B₁ অভাব
পেলাগ্রা → ভিটামিন B₃/নায়াসিন; গলগণ্ড → আয়োডিন অভাব
কোয়াশিয়রকর = শুধু প্রোটিনের অভাব → পেট ফোলা
ম্যারাসমাস = প্রোটিন+ক্যালোরি উভয়ের অভাব → হাড়জিরজিরে
অগ্ন্যাশয়ের উৎসেচক: অ্যামাইলেজ, মল্টেজ, ট্রিপসিন, কাইমোট্রিপসিন, লাইপেজ
মুখে শর্করা পরিপাক শুরু; পাকস্থলীতে প্রোটিন; ক্ষুদ্রান্ত্রে চর্বি
রক্তের প্রধান শর্করা: গ্লুকোজ; স্বাভাবিক রক্তে গ্লুকোজ: ৮০-১২০ mg/dL
গ্লাইকোজেনেসিস ঘটে: যকৃতে
মানবদেহ ৬০-৭০% পানি; প্রতিদিন প্রয়োজন প্রায় ৩ লিটার
হিমোগ্লোবিনের খনিজ: লোহা; ক্লোরোফিলের কেন্দ্রে: ম্যাগনেসিয়াম
১৫. পরীক্ষার জন্য বিশ্লেষণ
🔥 সবচেয়ে কমন ২৫টি ক্ষেত্র
কোন ভিটামিন চর্বিতে দ্রবণীয়
রিকেটস কোন ভিটামিনের অভাবে হয়
স্কার্ভি কোন ভিটামিনের অভাবে হয়
বেরিবেরি কোন ভিটামিনের অভাবে হয়
গলগণ্ড কোন উপাদানের অভাবে হয়
পেলাগ্রা কোন ভিটামিনের অভাবে হয়
কোয়াশিয়রকর ও ম্যারাসমাসের পার্থক্য
অগ্ন্যাশয়ের উৎসেচকের নাম
কার্বোহাইড্রেট প্রতি গ্রামে কত কিলোক্যালোরি
স্নেহ পদার্থ প্রতি গ্রামে কত কিলোক্যালোরি
সবচেয়ে বেশি ভিটামিন C কোন ফলে
কচু শাকে কোন পুষ্টি সবচেয়ে বেশি
ছাতুতে কোন খনিজ সবচেয়ে বেশি
পোকানো চালে কোন ভিটামিন থাকে
ভিটামিন D কোথায় তৈরি হয়
ভিটামিন B₁₂-এ কোন ধাতু আছে
গ্লাইকোজেনেসিস কোথায় হয়
দুধের প্রোটিনের নাম
সার্বজনীন খাদ্য কোনটি
মানবদেহে সবচেয়ে বেশি খনিজ কোনটি
রক্তের প্রধান শর্করা
চর্বি পরিপাকে কোন উৎসেচক
শর্করা পরিপাক কোথায় শুরু
প্রোটিন পরিপাক কোথায় শুরু
কোন ভিটামিন রান্নায় নষ্ট হয়
১৬. ট্রিকস ও নেমোনিক
| ট্রিক ১: চর্বিতে দ্রবণীয় ভিটামিন — ADEK "আ-ড্যা-ই-কা" → A, D, E, K বা: "এক দেশে আ-ড্যা-ই-কা" — মনে রাখো শুধু এই চারটি চর্বিতে দ্রবণীয়। বাকি সব জলে। |
| ট্রিক ২: ৪-৪-৯ ক্যালোরি নিয়ম "কার্ব-প্রোটিন চার-চার, চর্বি নয়" কার্বোহাইড্রেট = ৪ | প্রোটিন = ৪ | স্নেহ = ৯ স্মৃতিসহায়: "আমি চারে চারে কিনলাম, নয় টাকার তেল" → কার্ব-প্রোটিন=৪, তেল/স্নেহ=৯ |
| ট্রিক ৩: ভিটামিন C সমৃদ্ধ ফল — ক্রমানুসারে "আমলকী পেয়ারাকে দেখে লেবু হাসে কমলা" → আমলকী > পেয়ারা > লেবু > কমলা মনে রেখো: আমলকী সবার উপরে |
| ট্রিক ৪: অগ্ন্যাশয়ের উৎসেচক — আ-ম-ট্রি-কাই-লা "অ্যামাইলেজ মল্টেজ ট্রিপসিন কাইমো লাইপেজ" = আ + ম + ট্রি + কাই + লা = পাঁচটি অগ্ন্যাশয়ের উৎসেচক |
| ট্রিক ৫: কোয়াশিয়রকর বনাম ম্যারাসমাস "কোয়াশি = শুধু প্রোটিন অভাব → কোয়াশি পেট ফুলে (K = Kwashiorkor)" "ম্যারাসমাস = সব অভাব → মারা গেছে শুকিয়ে" কোয়াশিয়রকর → পেট ফোলা, মুখ-পা ফোলা, চুল বিবর্ণ ম্যারাসমাস → হাড়জিরজিরে, বৃদ্ধের মতো দেখায় |
| ট্রিক ৬: রোগ-ভিটামিন জুড়ি — ছন্দে "রাত-A, রিকেট-D, স্কার্ভি-C, বেরি-B₁, পেলাগ্রা-B₃, গলা-আয়োডিন" রাতকানা → A রিকেটস → D স্কার্ভি → C বেরিবেরি → B₁ (থায়ামিন) পেলাগ্রা → B₃ (নায়াসিন) গলগণ্ড → আয়োডিন |
১৭. বিশেষ নোট ও কনফিউশন দূরীকরণ
| 📌 বিশেষ নোট ১: রান্নায় কোন ভিটামিন নষ্ট হয়? ভিটামিন C (অ্যাসকরবিক অ্যাসিড) তাপে সবচেয়ে বেশি নষ্ট হয় — রান্নার সময় দ্রুত ভেঙে যায়। তাই কাঁচা ফলে ভিটামিন C বেশি থাকে। চর্বিতে দ্রবণীয় ভিটামিন (A, D, E, K) তুলনায় তাপস্থায়ী। |
| 📌 বিশেষ নোট ২: ভিটামিন D একমাত্র সূর্যালোকে তৈরি হয় ত্বকে সূর্যের অতিবেগুনী রশ্মির উপস্থিতিতে 7-ডিহাইড্রোকোলেস্টেরল থেকে ভিটামিন D (কোলেক্যালসিফেরল) তৈরি হয়। এটিকে "সূর্যের ভিটামিন" বলা হয়। কালো ত্বকের মানুষ ও ঘরের ভিতরে থাকা লোকদের ভিটামিন D অভাব বেশি দেখা যায়। |
| 📌 বিশেষ নোট ৩: দুধ কি সম্পূর্ণ খাদ্য? দুধকে প্রায়ই "সম্পূর্ণ খাদ্য" (Complete Food) বলা হয় কারণ এতে প্রায় সব পুষ্টি উপাদান থাকে। তবে দুধে ভিটামিন C ও লৌহের পরিমাণ খুব কম। তাই শিশুরা শুধু দুধে বড় হতে পারে কিছুদিন, কিন্তু দীর্ঘমেয়াদে শাকসবজি-ফলমূল দরকার। |
| 📌 বিশেষ নোট ৪: পোকানো চাল বনাম মেশিনে ছাঁটা চাল ঢেঁকি বা হাতে ছাঁটা চালে ভিটামিন B-কমপ্লেক্স (বিশেষত B₁ থায়ামিন) বেশি থাকে কারণ ছাঁটার সময় চালের বাইরের স্তর (ব্রান) কম নষ্ট হয়। মেশিনে অতিরিক্ত ছাঁটার কারণে সাদা চালে ভিটামিন B₁ প্রায় থাকে না — তাই বেরিবেরি রোগ হয়। |
| 📌 বিশেষ নোট ৫: ফ্যাটি অ্যাসিড ও গ্লিসারল চর্বি পরিপাকের চূড়ান্ত ফলাফল: ফ্যাটি অ্যাসিড + গ্লিসারল। এটি লাইপেজ উৎসেচকের দ্বারা ক্ষুদ্রান্ত্রে ঘটে। গরম করলে চর্বিতে দ্রবণীয় ভিটামিন (ADEK) চর্বির সাথে শোষিত হয় — তাই শাকসবজি তেলে ভেজে খেলে ভিটামিন শোষণ ভালো হয়। |
১৮. সতর্কতা — সাধারণ ভুলসমূহ
| ⚠️ ভুল ১: রিকেটস = ক্যালসিয়ামের অভাব? না! রিকেটসের মূল কারণ ভিটামিন D-এর অভাব। ভিটামিন D না থাকলে ক্যালসিয়াম শোষণ হয় না — তাই হাড় নরম হয়। ক্যালসিয়াম খাওয়া থাকলেও ভিটামিন D ছাড়া শোষণ হবে না। |
| ⚠️ ভুল ২: স্কার্ভি = ভিটামিন A-এর অভাব? না! স্কার্ভি হয় ভিটামিন C-এর অভাবে। ভিটামিন A-এর অভাবে হয় রাতকানা ও জেরোফথালমিয়া। সহজে মনে রাখো: Scurvy-C → "SC" → ভিটামিন C। |
| ⚠️ ভুল ৩: কোয়াশিয়রকর = ম্যারাসমাস একই রোগ? না! কোয়াশিয়রকর = শুধু প্রোটিনের অভাব → পেট ফোলে। ম্যারাসমাস = প্রোটিন+ক্যালোরি উভয়ের অভাব → শুকিয়ে হাড়-জিরজিরে। |
| ⚠️ ভুল ৪: সব B ভিটামিন এক? না! B১ থেকে B১২ পর্যন্ত বিভিন্ন ভিটামিন আলাদা রাসায়নিক। B₁=থায়ামিন, B₂=রাইবোফ্লাভিন, B₃=নায়াসিন, B₉=ফলিক অ্যাসিড, B₁২=সায়ানোকোবালামিন — প্রতিটি আলাদা কাজ করে। |
| ⚠️ ভুল ৫: ভিটামিন C = লেবু সবার উপরে? না! সবচেয়ে বেশি ভিটামিন C থাকে আমলকীতে। তারপর পেয়ারা, লেবু, কমলা। অনেকে ভাবে লেবু বা কমলা প্রথম — কিন্তু আমলকী সবার চেয়ে এগিয়ে। |
| ⚠️ ভুল ৬: চর্বি = ৪ কিলোক্যালোরি? না! চর্বি বা স্নেহ পদার্থ থেকে প্রতি গ্রামে ৯ কিলোক্যালোরি পাওয়া যায় — কার্বোহাইড্রেট ও প্রোটিনের দ্বিগুণের বেশি। ৪ কিলোক্যালোরি দেয় কার্বোহাইড্রেট ও প্রোটিন প্রতিটি। |
১৯. প্রিভিয়াস ইয়ার কোয়েশ্চনস
ক) ভিটামিন সংক্রান্ত
প্রশ্ন: চর্বিতে দ্রবণীয় ভিটামিন কোনগুলো?
উত্তর: A, D, E, K।
প্রশ্ন: জলে দ্রবণীয় ভিটামিন কোনগুলো?
উত্তর: B-কমপ্লেক্স সব এবং C ও P।
প্রশ্ন: রাতকানা রোগ কোন ভিটামিনের অভাবে হয়?
উত্তর: ভিটামিন A।
প্রশ্ন: রিকেটস কোন ভিটামিনের অভাবে হয়?
উত্তর: ভিটামিন D।
প্রশ্ন: স্কার্ভি কোন ভিটামিনের অভাবে হয়?
উত্তর: ভিটামিন C।
প্রশ্ন: বেরিবেরি কোন ভিটামিনের অভাবে হয়?
উত্তর: ভিটামিন B₁ (থায়ামিন)।
প্রশ্ন: পেলাগ্রা কোন ভিটামিনের অভাবে হয়?
উত্তর: ভিটামিন B₃ (নায়াসিন)।
প্রশ্ন: গলগণ্ড কোন উপাদানের অভাবে হয়?
উত্তর: আয়োডিন।
প্রশ্ন: ক্রেটিনিজম কী?
উত্তর: শিশুকালে আয়োডিনের অভাবে বৌদ্ধিক প্রতিবন্ধকতা।
প্রশ্ন: পার্নিশিয়াস অ্যানিমিয়া কোন ভিটামিনের অভাবে?
উত্তর: ভিটামিন B₁₂।
প্রশ্ন: ভিটামিন B₁₂-এ কোন ধাতু আছে?
উত্তর: কোবাল্ট (Cobalt)।
প্রশ্ন: ভিটামিন A-এর রাসায়নিক নাম কী?
উত্তর: রেটিনল।
প্রশ্ন: ভিটামিন B₁-এর রাসায়নিক নাম কী?
উত্তর: থায়ামিন।
প্রশ্ন: ভিটামিন B₂-এর রাসায়নিক নাম কী?
উত্তর: রাইবোফ্লাভিন।
প্রশ্ন: ভিটামিন C-এর রাসায়নিক নাম কী?
উত্তর: অ্যাসকরবিক অ্যাসিড।
প্রশ্ন: ভিটামিন D-এর রাসায়নিক নাম কী?
উত্তর: ক্যালসিফেরল।
প্রশ্ন: ভিটামিন E-এর রাসায়নিক নাম কী?
উত্তর: টোকোফেরল।
প্রশ্ন: ভিটামিন K-এর কাজ কী?
উত্তর: রক্ত জমাট বাঁধাতে সাহায্য।
প্রশ্ন: ভিটামিন D কোথায় তৈরি হয়?
উত্তর: সূর্যালোকে ত্বকে।
প্রশ্ন: রান্নায় কোন ভিটামিন সবচেয়ে বেশি নষ্ট হয়?
উত্তর: ভিটামিন C।
প্রশ্ন: কোন ভিটামিনের অভাবে বন্ধ্যাত্ব হয়?
উত্তর: ভিটামিন E।
প্রশ্ন: ফলিক অ্যাসিড কোন ভিটামিন?
উত্তর: ভিটামিন B₉।
প্রশ্ন: পাইরিডক্সিন কোন ভিটামিন?
উত্তর: ভিটামিন B₆।
খ) খাদ্য উপাদান ও পুষ্টি
প্রশ্ন: সবচেয়ে বেশি ভিটামিন C কোন ফলে?
উত্তর: আমলকী।
প্রশ্ন: কচু শাকে কোন পুষ্টি সবচেয়ে বেশি?
উত্তর: লৌহ / আয়রন (Fe)।
প্রশ্ন: ছাতুতে কোন খনিজ সবচেয়ে বেশি?
উত্তর: পটাশিয়াম (K)।
প্রশ্ন: পোকানো চালে কোন ভিটামিন থাকে?
উত্তর: ভিটামিন B-কমপ্লেক্স (বিশেষত B₁)।
প্রশ্ন: দুধের প্রোটিনের নাম কী?
উত্তর: কেসিন।
প্রশ্ন: দুধের শর্করার নাম কী?
উত্তর: ল্যাক্টোজ।
প্রশ্ন: ডিমের সাদা অংশের প্রোটিনের নাম?
উত্তর: অ্যালবুমিন।
প্রশ্ন: হিমোগ্লোবিনে কোন খনিজ থাকে?
উত্তর: লোহা (Fe)।
প্রশ্ন: ক্লোরোফিলের কেন্দ্রে কোন ধাতু?
উত্তর: ম্যাগনেসিয়াম (Mg)।
প্রশ্ন: উচ্চ শ্রেণির প্রোটিনের উদাহরণ কোনটি?
উত্তর: মাংস, মাছ, ডিম, দুধ (প্রাণিজ)।
প্রশ্ন: নিম্ন শ্রেণির প্রোটিনের উদাহরণ?
উত্তর: ডাল, বাদাম, শস্য (উদ্ভিজ্জ)।
প্রশ্ন: স্নেহ পদার্থ থেকে প্রতি গ্রামে কত কিলোক্যালোরি?
উত্তর: ৯ কিলোক্যালোরি।
প্রশ্ন: কার্বোহাইড্রেট থেকে প্রতি গ্রামে কত কিলোক্যালোরি?
উত্তর: ৪ কিলোক্যালোরি।
প্রশ্ন: প্রোটিন থেকে প্রতি গ্রামে কত কিলোক্যালোরি?
উত্তর: ৪ কিলোক্যালোরি।
প্রশ্ন: কোন শর্করা মানুষ পরিপাক করতে পারে না?
উত্তর: সেলুলোজ।
প্রশ্ন: গ্লাইকোজেনেসিস কোথায় ঘটে?
উত্তর: যকৃতে।
প্রশ্ন: রক্তের প্রধান শর্করা কোনটি?
উত্তর: গ্লুকোজ।
প্রশ্ন: স্বাভাবিক রক্তে গ্লুকোজের মাত্রা কত?
উত্তর: ৮০-১২০ mg/dL।
প্রশ্ন: মানবদেহে মোট ওজনের কত শতাংশ পানি?
উত্তর: ৬০-৭০%।
প্রশ্ন: প্রতিদিন কতটুকু পানি প্রয়োজন?
উত্তর: প্রায় ৩ লিটার।
প্রশ্ন: খাদ্যে চিনি (Sucrose) কোন শ্রেণির কার্বোহাইড্রেট?
উত্তর: ডাইস্যাকারাইড।
গ) পরিপাক ও উৎসেচক
প্রশ্ন: শর্করা পরিপাক কোথায় শুরু হয়?
উত্তর: মুখে (লালার টায়ালিন/অ্যামাইলেজ দ্বারা)।
প্রশ্ন: প্রোটিন পরিপাক কোথায় শুরু হয়?
উত্তর: পাকস্থলীতে (পেপসিন দ্বারা)।
প্রশ্ন: চর্বি পরিপাক কোথায় শুরু হয়?
উত্তর: ক্ষুদ্রান্ত্রে (লাইপেজ দ্বারা)।
প্রশ্ন: লালারসে কোন উৎসেচক থাকে?
উত্তর: টায়ালিন (ভিন্ন নাম: অ্যামাইলেজ)।
প্রশ্ন: পাকস্থলীতে কোন উৎসেচক থাকে?
উত্তর: পেপসিন ও রেনিন।
প্রশ্ন: পাকস্থলীতে কোন অ্যাসিড নিঃসৃত হয়?
উত্তর: হাইড্রোক্লোরিক অ্যাসিড (HCl)।
প্রশ্ন: অগ্ন্যাশয়ের উৎসেচকগুলো কী কী?
উত্তর: অ্যামাইলেজ, মল্টেজ, ট্রিপসিন, কাইমোট্রিপসিন, লাইপেজ।
প্রশ্ন: কোন উৎসেচক প্রোটিন পরিপাক করে?
উত্তর: পেপসিন (পাকস্থলী), ট্রিপসিন ও কাইমোট্রিপসিন (অগ্ন্যাশয়)।
প্রশ্ন: চর্বি পরিপাকে কোন উৎসেচক?
উত্তর: লাইপেজ।
প্রশ্ন: পিত্তরস কোথা থেকে নিঃসৃত হয়?
উত্তর: যকৃৎ থেকে (পিত্তথলিতে জমা থাকে)।
প্রশ্ন: পিত্তরসের কাজ কী?
উত্তর: চর্বিকে ইমালসিফাই (সূক্ষ্ম করে) করা।
প্রশ্ন: রেনিন উৎসেচক কী করে?
উত্তর: পাকস্থলীতে দুধের কেসিন প্রোটিন জমাট বাঁধায়।
প্রশ্ন: ক্ষুদ্রান্ত্রের শোষণ অংশের নাম কী?
উত্তর: ভিলাই (Villi)।
প্রশ্ন: যে অঙ্গ পুষ্টির তাৎক্ষণিক শক্তি সরবরাহ করে?
উত্তর: যকৃৎ (লিভার)।
ঘ) পুষ্টিহীনতার রোগ
প্রশ্ন: কোয়াশিয়রকর রোগে কী ঘাটতি?
উত্তর: শুধু প্রোটিনের অভাব।
প্রশ্ন: কোয়াশিয়রকর রোগের প্রধান লক্ষণ?
উত্তর: পেট ফোলা (Oedema)।
প্রশ্ন: ম্যারাসমাস কী?
উত্তর: প্রোটিন ও ক্যালোরি — উভয়ের অভাবে শিশুর রোগ।
প্রশ্ন: স্কার্ভিতে কী উপসর্গ?
উত্তর: দাঁতের মাড়ি থেকে রক্ত পড়া, ক্ষত শুকায় না।
প্রশ্ন: রিকেটস কাদের বেশি হয়?
উত্তর: শিশুদের।
প্রশ্ন: অস্টিওম্যালেশিয়া কাদের হয়?
উত্তর: প্রাপ্তবয়স্কদের ভিটামিন D অভাবে।
প্রশ্ন: বেরিবেরি রোগের লক্ষণ?
উত্তর: স্নায়বিক দুর্বলতা, পা ফোলা, হৃদপিণ্ড বড় হওয়া।
প্রশ্ন: পেলাগ্রার ৩D কী কী?
উত্তর: Dermatitis, Diarrhoea, Dementia।
প্রশ্ন: অ্যানিমিয়া কোন পুষ্টির অভাবে হয়?
উত্তর: লৌহ (Fe), ফলিক অ্যাসিড (B₉) বা B₁২।
প্রশ্ন: গলগণ্ড প্রতিরোধে কী ব্যবহার করা হয়?
উত্তর: আয়োডিনযুক্ত লবণ।
ঙ) বিবিধ
প্রশ্ন: সুষম খাদ্যের কয়টি উপাদান?
উত্তর: ছয়টি।
প্রশ্ন: কোন পুষ্টি উপাদান শক্তি দেয় না?
উত্তর: ভিটামিন, খনিজ লবণ ও পানি।
প্রশ্ন: প্রাণিজ প্রোটিন শ্রেণি কোনটি?
উত্তর: প্রথম শ্রেণির / উচ্চমানের (মাংস, মাছ, ডিম, দুধ)।
প্রশ্ন: গাজরে কোন পুষ্টি সবচেয়ে বেশি?
উত্তর: বিটা-ক্যারোটিন (→ ভিটামিন A)।
প্রশ্ন: সামুদ্রিক মাছে কোন পুষ্টি বিশেষ?
উত্তর: আয়োডিন ও ওমেগা-৩ ফ্যাটি অ্যাসিড।
প্রশ্ন: অত্যাবশ্যকীয় অ্যামিনো অ্যাসিড কয়টি?
উত্তর: ৮টি।
প্রশ্ন: মোট অ্যামিনো অ্যাসিড কয়টি?
উত্তর: ২০টি।
প্রশ্ন: মানবদেহে সবচেয়ে বেশি খনিজ কোনটি?
উত্তর: ক্যালসিয়াম।
প্রশ্ন: ভিটামিন আবিষ্কার করেন কে?
উত্তর: ক্যাশিমির ফাংক (Casimir Funk, ১৯১২)।
প্রশ্ন: ফ্যাটি অ্যাসিড চর্বি পরিপাকের কী ফলাফল?
উত্তর: ফ্যাটি অ্যাসিড + গ্লিসারল।
প্রশ্ন: কোন ডাইস্যাকারাইড দুধে পাওয়া যায়?
উত্তর: ল্যাক্টোজ।
প্রশ্ন: কোন পলিস্যাকারাইড প্রাণীর দেহে সঞ্চিত থাকে?
উত্তর: গ্লাইকোজেন।
প্রশ্ন: উদ্ভিদের সঞ্চিত শর্করা কোনটি?
উত্তর: স্টার্চ/শ্বেতসার।
প্রশ্ন: কোন শর্করা রক্তে থাকে?
উত্তর: গ্লুকোজ।
প্রশ্ন: কোন উৎসেচক দিয়ে ইস্টে গাঁজন হয়?
উত্তর: জাইমেজ।
২০. উপসংহার — শিক্ষকের শেষ কথা
প্রিয় শিক্ষার্থী, খাদ্য ও পুষ্টি অধ্যায়টি বিজ্ঞানের সবচেয়ে ব্যবহারিক ও জীবনমুখী অধ্যায়। এই অধ্যায়ের প্রতিটি তথ্য তোমার নিজের জীবনের সাথে সম্পর্কিত — কী খাচ্ছো, কতটা খাচ্ছো, কেন খাচ্ছো।
পরীক্ষায় ভালো করতে ৪টি বিষয় অবশ্যই মুখস্থ করতে হবে:
প্রথম — সব ভিটামিনের রাসায়নিক নাম, দ্রাব্যতা, উৎস, অভাবজনিত রোগ (টেবিল মুখস্থ)।
দ্বিতীয় — ক্যালোরি নিয়ম: কার্বো=৪, প্রোটিন=৪, স্নেহ=৯।
তৃতীয় — অগ্ন্যাশয়ের ৫ উৎসেচক: অ্যামাইলেজ, মল্টেজ, ট্রিপসিন, কাইমো, লাইপেজ।
চতুর্থ — কোয়াশিয়রকর (প্রোটিন অভাব) ও ম্যারাসমাস (প্রোটিন+ক্যালোরি উভয় অভাব)।
| 🎯 চূড়ান্ত মন্ত্র "ADEK = চর্বিতে, বাকি সব = জলে। কার্বো-প্রোটিন = চার-চার, চর্বি = নয়। কোয়াশিয় = শুধু প্রোটিন, ম্যারাসমাস = দুটোই। আমলকী = C সেরা, কচু = লৌহ সেরা।" এই কয়টা মনে থাকলে খাদ্য ও পুষ্টি থেকে সব প্রশ্ন সঠিক হবে। |
শুভকামনা! আপনার পরীক্ষা সফল হোক।
— সমাপ্ত —