কার্বনের বহুমুখী ব্যবহার

Chapter Activity

Rating
New / 5
Reviews
0
Read Sessions
0
Readers
0

সাধারণ বিজ্ঞান

কার্বনের বহুমুখী ব্যবহার

(Versatile Uses of Carbon)

কার্বনের অস্তিত্ব প্রকৃতিতে দুই রকমস্বাধীন অবস্থায় (হীরক, গ্রাফাইট, কয়লা ইত্যাদি) এবং যৌগ অবস্থায় (CO₂, সকল জৈব যৌগ, কার্বনেট পাথর ইত্যাদি)। কিন্তু সবচেয়ে বিস্ময়কর হলোকার্বন একই মৌল হয়েও এমন অনেকগুলো রূপে অবস্থান করতে পারে যাদের ভৌত ধর্ম একেবারে বিপরীতমুখী

কার্বনের বিচিত্র চরিত্রের পেছনে দুটি অসাধারণ ধর্ম

ধর্ম ১: বহুরূপতা (Allotropy)

প্রকৃতিতে একই মৌল ভিন্ন ভিন্ন ভৌত রূপে অবস্থান করার প্রবণতাকে বহুরূপতা (Allotropy) বলেআর এই ভিন্ন ভিন্ন রূপগুলোকে বলে রূপভেদ (Allotropes)। কার্বন একটি বহুরূপী মৌল (Allotropic element) — এর প্রধান রূপভেদ হীরকগ্রাফাইট

ধর্ম ২: ক্যাটেনেশন (Catenation)

কার্বন পরমাণু নিজেদের সঙ্গে দীর্ঘ শৃঙ্খল (long chain), শাখা-শৃঙ্খল (branched chain) ও বলয় (ring) গঠন করতে পারেএই ধর্মকেই ক্যাটেনেশন বলেকোনো মৌল কার্বনের মতো এত নিখুঁতভাবে এই ধর্ম প্রকাশ করতে পারে না। এ কারণেই প্রকৃতিতে কার্বনের যৌগের সংখ্যা সর্বোচ্চপ্রায় এক কোটিরও বেশি জৈব যৌগ পর্যন্ত আবিষ্কৃত হয়েছে

পরিভাষা সংক্ষেপ

বাংলা পরিভাষা

English Term

অর্থ

বহুরূপতা

Allotropy

একই মৌলের ভিন্ন ভিন্ন রূপে অবস্থানের প্রবণতা

রূপভেদ

Allotrope

একটি মৌলের একেকটি বিশেষ রূপ

ক্যাটেনেশন

Catenation

একই মৌলের পরমাণুদের পরস্পর যুক্ত হয়ে শৃঙ্খল গঠনের ধর্ম

জৈব যৌগ

Organic Compound

কার্বনঅন্যান্য মৌলের সমন্বয়ে গঠিত যৌগ

অজৈব যৌগ

Inorganic Compound

কার্বন পরমাণুবিহীন প্রায় সকল যৌগ

বিধ্বংসী পাতন

Destructive Distillation

বাতাসের অনুপস্থিতিতে জৈব পদার্থের তাপীয় পচন

বিজারক

Reducing Agent

যে পদার্থ অন্য পদার্থকে ইলেকট্রন দিয়ে বিজারিত করে

কার্বন পরমাণুর পরিচিতিবৈশিষ্ট্য

যেকোনো রূপভেদ বুঝতে হলে আগে বুঝতে হবে কার্বন পরমাণু আসলে কেমনকার্বনের নামটি এসেছে ল্যাটিন “Carbo” থেকে, যার অর্থ কয়লা

পরমাণুর মৌলিক পরিচয়

বৈশিষ্ট্য (Property)

মান (Value)

প্রতীক (Symbol)

C

পারমাণবিক সংখ্যা (Atomic Number)

ভর সংখ্যা (Mass Number)

১২ (প্রধান আইসোটোপ)

ইলেকট্রন বিন্যাস (Electron Configuration)

1s² 2s² 2p² অথবা 2, 4

যোজনী/যোজ্যতা (Valency)

৪ (চতুস্তলকীয় / Tetravalent)

পর্যায় সারণিতে অবস্থান

গ্রুপ ১৪, পিরিয়ড

শ্রেণি (Category)

অধাতু (Non-metal)

প্রকৃতি

বিজারক পদার্থ (Reducing agent)

আইসোটোপ

C-12, C-13, C-14 (তেজস্ক্রিয়)

কার্বনের চারটি মুক্ত হাতকেন গুরুত্বপূর্ণ?

কার্বনের সর্বশেষ কক্ষপথে ৪টি ইলেকট্রন থাকে (2s² 2p²)। অক্টেট পূরণে কার্বনের আরও ৪টি ইলেকট্রন দরকার, কিন্তু এটি ইলেকট্রন গ্রহণ বা ত্যাগকোনোটাই ভালোভাবে করতে পারে নাতাই এটি ৪টি সমযোজী বন্ধন (Covalent bond) গঠন করেএই চারটিমুক্ত হাত”ই কার্বনকে অসংখ্য যৌগ গঠনে সক্ষম করেএই হাতগুলো ত্রিমাত্রিকভাবে সাজানোচতুস্তলকীয় (tetrahedral) আকারেযেখানে দুটি বন্ধনের কোণ ১০৯°২৮'।

ফাস্ট ফ্যাক্ট

মিথেন (CH₄) অণুতে H–C–H বন্ধন কোণের মান: ১০৯°২৮'

কার্বন একই সঙ্গে ধাতুঅধাতু উভয়ের সঙ্গে যৌগ গঠন করতে পারে

প্রকৃতিতে কেবল কার্বন-১২ ও কার্বন-১৩ পাওয়া যায়; কার্বন-১৪ তেজস্ক্রিয় এবং জীবাশ্ম বয়স নির্ণয়ে ব্যবহৃত হয় (Radio-carbon dating)

কার্বনের রূপভেদের শ্রেণিবিভাগ

একই কার্বন মৌলঅথচ এর রূপগুলো কেমন আলাদা! কারণ পরমাণুর সাজানোর পদ্ধতি (অর্থাস্ফটিক জালক বা lattice) আলাদাসাজানোর ধরন অনুযায়ী কার্বনের রূপভেদকে দুই বড় ভাগে ভাগ করা হয়:

(ক) স্ফটিকাকার রূপভেদ (Crystalline Allotropes)

এই রূপগুলোতে পরমাণু নিয়মিত, পুনরাবৃত্তিমূলক জ্যামিতিক আকারে সাজানো থাকেঅর্থাএদের একটি সুস্পষ্ট স্ফটিক গঠন আছে

হীরক (Diamond)

গ্রাফাইট (Graphite)

ফুলারিন (Fullerene / C₆₀ — “বাকিবল”)

কার্বন ন্যানোটিউব (Carbon Nanotube)

গ্রাফিন (Graphene)

(খ) নিরাকার রূপভেদ (Amorphous Allotropes)

এই রূপগুলোতে পরমাণু নির্দিষ্ট কোনো ক্রমে সাজানো নেইএলোমেলো বিন্যাসফলে এদের নির্দিষ্ট আকৃতি নেই, এজন্যইনিরাকার”।

কয়লা (Coal) — সাধারণ জ্বালানি কয়লা

কাঠকয়লা (Wood Charcoal)

প্রাণিজ কয়লা / অস্থিজ কয়লা (Animal / Bone Charcoal)

কোক (Coke)

ভুষা কয়লা / কাজল (Lamp Black / Soot)

চিনি কয়লা (Sugar Charcoal)

সক্রিয় কার্বন (Activated Carbon)

📌 মূল ধারণা

স্ফটিকাকারনিরাকারউভয়ই রাসায়নিকভাবে অভিন্ন (শুধু C), কিন্তু পরমাণুর সাজানোর পদ্ধতি আলাদাএই গঠনগত পার্থক্যই কারণহীরক এত শক্ত, গ্রাফাইট এত নরম, আর কাজল এত মসৃণ কালো

হীরক (Diamond) — কার্বনের রাজা

হীরক বা ডায়মন্ড কার্বনের সবচেয়ে বিখ্যাত স্ফটিকাকার রূপভেদগ্রিক শব্দ “Adamas” থেকে নাম এসেছে, যার অর্থঅজেয়”। যুগ যুগ ধরে এটি ধন, সৌন্দর্য, ক্ষমতাকঠোরতার প্রতীক

গঠন (Structure)

হীরকে প্রতিটি কার্বন পরমাণু sp³ সংকরিত (sp³ hybridised) অবস্থায় চারটি প্রতিবেশী কার্বন পরমাণুর সঙ্গে শক্তিশালী সমযোজী বন্ধন গঠন করেএই চারটি বন্ধন চতুস্তলকীয়ভাবে (tetrahedral) বিন্যস্তঅর্থাপরমাণু চারপাশে সমদূরত্বে ছড়িয়ে আছেফলে গোটা স্ফটিকটি একটি বিশাল ত্রিমাত্রিক জালক (3D network) — যেখানে প্রতিটি পরমাণু তার প্রতিবেশীদের সঙ্গে এত শক্তভাবে বাঁধা যে ভাঙা অসম্ভব হয়ে দাঁড়ায়

এক টুকরো হীরক আসলে কী?

চমকপ্রদ সত্যএক টুকরো হীরক আসলে একটিমাত্র বিশাল অণু (Giant Molecule)! এটি অসংখ্য ছোট অণু পাশাপাশি জোড়া দিয়ে তৈরি নয়এজন্য এর গঠনে দুর্বল কোনো জায়গা নেইতাই এটি প্রকৃতির সবচেয়ে শক্ত পদার্থ

ভৌত ধর্ম (Physical Properties)

ধর্ম

বিবরণমান

কাঠিন্য (Hardness)

প্রকৃতিতে সবচেয়ে শক্ত পদার্থ; Moh-এর স্কেলে ১০ (সর্বোচ্চ)

গলনাঙ্ক (Melting Point)

প্রায় ৩৫০০°C — অত্যন্ত উচ্চ

ঘনত্ব (Density)

৩.৫১ g/cm³

প্রতিসরাঙ্ক (Refractive Index)

২.৪২ — খুবই উচ্চ, ফলে চমৎকার দীপ্তি

বিদ্যুপরিবাহিতা

অপরিবাহী (Insulator) — মুক্ত ইলেকট্রন নেই

তাপ পরিবাহিতা

অত্যন্ত উচ্চকপারের চেয়েও বেশি

দ্রাব্যতা

কোনো দ্রাবকে দ্রবীভূত হয় না

আলোর আচরণ

পূর্ণ অভ্যন্তরীণ প্রতিফলন (TIR) — তাই ঝিকিমিকি

হীরক উজ্জ্বল দেখায় কেন?

হীরকের চমৎকার ঝিকিমিকি আমাদের মুগ্ধ করেএর পেছনে কাজ করে আলোকবিজ্ঞানের একটি বিশেষ ঘটনাপূর্ণ অভ্যন্তরীণ প্রতিফলন (Total Internal Reflection বা TIR)। হীরকের প্রতিসরাঙ্ক খুবই বেশি (২.৪২), ফলে এর সংকট কোণ (critical angle) মাত্র ২৪.৫°। এর মানেহীরায় ঢোকা আলোক রশ্মি ভেতরে বারবার প্রতিফলিত হয়ে আবার ওই উপরের মুখ দিয়েই বেরিয়ে আসে, যেন একটি প্রিজমতাই বাইরে থেকে দেখলে মনে হয় হীরক নিজে থেকেই আলো ছড়াচ্ছে

⚠️ মাথায় রাখবে

হীরক নিজে কোনো আলো উৎপন্ন করে না; সে শুধু পরিবেশের আলোকে নিজের ভেতরে ঘুরিয়ে-ফিরিয়ে বের করে দেয়তাই অন্ধকার ঘরে হীরা একদম জ্বলে নাকেবল আলো থাকলেই ঝলমল করে

হীরকের ব্যবহার (Uses of Diamond)

ব্যবহার

কোন ধর্মের জন্য

গহনারত্ন তৈরি

পূর্ণ অভ্যন্তরীণ প্রতিফলনআলোর বিচ্ছুরণ

কাচ কাটার যন্ত্র (Glass cutter)

অসাধারণ কাঠিন্য

পাথর ছিদ্রকারী যন্ত্র (Rock drill)

শিলায় কাটার ক্ষমতা

শল্যচিকিৎসায় সূক্ষ্ম ছুরি

তীক্ষ্ণ ধার, ক্ষয় হয় না

ঘড়ির বিয়ারিং (Jewel bearing)

ক্ষয়রোধী, ঘর্ষণ কম

হীরকচূর্ণঘর্ষকরং তৈরি

কাঠিন্যদীপ্তি

পরিমাপ যন্ত্রের সূক্ষ্ম সূচ

ক্ষয় হয় না, আকার পরিবর্তন হয় না

সেমিকন্ডাক্টর গবেষণায়

উচ্চ তাপ পরিবাহিতা

আসল হীরানকল হীরাকীভাবে চিনবেন?

বাজারে অনেক রকম নকল হীরা পাওয়া যায়কিউবিক জিরকোনিয়া (Cubic Zirconia), মইসানাইট (Moissanite), কাচ ইত্যাদিআসলটি চেনার সবচেয়ে নির্ভরযোগ্য পদ্ধতিএক্স-রে পরীক্ষাআসল হীরা এক্স-রে ভেদ করে যেতে দেয় (transparent to X-rays), কিন্তু নকল হীরা এক্স-রে পথ আটকে দেয়। এ ছাড়াও তাপ পরিবাহিতা, ঘনত্বদীপ্তিনির্ণায়ক যন্ত্রের সাহায্যে পার্থক্য করা যায়

🆕 হীরকের চেয়েও কঠিন?

সম্প্রতি গবেষণাগারে কৃত্রিমভাবে তৈরি বোরোজেন (Borazon বা Cubic Boron Nitride) নামক যৌগ আবিষ্কৃত হয়েছে, যা হীরক অপেক্ষাও কঠিন বলে দাবি করা হয়এর প্রতীক BN। এ ছাড়া কার্বনের আরেক রূপ Lonsdaleite-ও হীরকের চেয়ে ৫৮% বেশি শক্ত বলে মনে করা হয়বিসিএস পরীক্ষায় এইনতুন তথ্য”গুলো কম্পিটিটিভ এজ দেয়

গ্রাফাইট (Graphite) — কার্বনের চমৎকার ব্যতিক্রম

যদি হীরক হয় কার্বনের রাজা, তবে গ্রাফাইট তার ছদ্মবেশী চাচাতো ভাইএকই মৌল, কিন্তু এতটাই আলাদা যে আগের যুগের বিজ্ঞানীরা ভাবতেই পারতেন না এরা একই পদার্থগ্রাফাইট শব্দের উৎপত্তি গ্রিকGrapheinথেকে, যার অর্থলেখা” — কারণ এটি কাগজে দাগ ফেলে

গঠন (Structure)

গ্রাফাইটে প্রতিটি কার্বন পরমাণু sp² সংকরিত (sp² hybridised) অবস্থায় কেবল তিনটি প্রতিবেশী কার্বনের সঙ্গে যুক্ত হয়এর ফলে গঠিত হয় ষড়ভুজীয় (hexagonal) চাকতি, যা স্তরের পর স্তর সাজানো থাকেঅনেকটা ভাত-রুটির স্তূপের মতোচতুর্থ ইলেকট্রনটি কোনো নির্দিষ্ট বন্ধনে আবদ্ধ না হয়ে অসংলগ্ন (delocalized) অবস্থায় স্তর বরাবর মুক্তভাবে চলাচল করতে পারে

দুটি স্তরের মধ্যে কোনো শক্তিশালী রাসায়নিক বন্ধন নেইশুধু খুবই দুর্বল ভ্যান ডার ওয়ালস বল (Van der Waals force)। এই দুর্বল বলের কারণেই স্তরগুলো সহজে একটির ওপর আরেকটি পিছলে যেতে পারেতাই গ্রাফাইট মসৃণপিচ্ছিল

🧠 গভীর অনুধাবন: গ্রাফাইটের অলৌকিক বৈশিষ্ট্য

প্রতিটি কার্বনে ৩টি বন্ধন আছে (হীরকের চেয়ে কম)

চতুর্থ ইলেকট্রন মুক্ততাই বিদ্যুপরিবহন সম্ভব

স্তরগুলো শক্ত, কিন্তু স্তরের মধ্যবর্তী সংযোগ দুর্বল

এই দ্বৈত প্রকৃতিইশক্ত স্তর + পিচ্ছিল আন্তঃস্তরগ্রাফাইটের চমৎকারিত্বের রহস্য

ভৌত ধর্ম (Physical Properties)

ধর্ম

বিবরণ

কাঠিন্য

অত্যন্ত নরম, সাবানের মতো পিচ্ছিল

গলনাঙ্ক

প্রায় ৩৬০০°C (হীরকের চেয়েও উচ্চ)

ঘনত্ব

২.২৬ g/cm³ (হীরকের চেয়ে কম)

বিদ্যুপরিবাহিতা

ভালো পরিবাহীঅধাতু হয়েও ব্যতিক্রম!

তাপ পরিবাহিতা

ভালো পরিবাহী

রং

ধূসর-কালো, ধাতব দীপ্তিযুক্ত

ঘর্ষণ গুণাঙ্ক

অত্যন্ত কমতাই লুব্রিকেন্ট হিসেবে আদর্শ

স্পর্শ

সাবানের মতো পিচ্ছিল

অধাতু হয়েও কেন বিদ্যুপরিবহন করে?

সাধারণত অধাতু (Non-metal) বিদ্যুপরিবহন করে না, কারণ তাতে মুক্ত ইলেকট্রন থাকে নাকিন্তু গ্রাফাইটে প্রতিটি কার্বন তিনটি বন্ধনে যুক্ত হলে চতুর্থ ইলেকট্রনটি স্বাধীন (delocalized) অবস্থায় স্তর বরাবর মুক্তভাবে চলাচল করতে পারেতাড়িৎক্ষেত্র (electric field) প্রয়োগ করা হলে এই মুক্ত ইলেকট্রনগুলো চলাচল শুরু করেঅর্থাবিদ্যুপরিবাহিত হয়। এ কারণেই এটি একমাত্র অধাতু যা বিদ্যুৎ ও তাপ উভয়ই পরিবহন করতে পারে

গ্রাফাইটের ব্যবহার (Uses of Graphite)

ক্ষেত্র

ব্যবহার

কারণ

লেখালেখি

পেন্সিলেরসীস”রূপে (কাদা মিশিয়ে)

কাগজে দাগ রাখে

যন্ত্রপাতি

মসৃণকারক / পিচ্ছিলকারক (Lubricant)

উচ্চতাপে তেল কাজ করে না

শুষ্ক কোষ ব্যাটারি

ধনাত্মক ইলেকট্রোড (Carbon rod)

বিদ্যুপরিবহন + রাসায়নিক নিষ্ক্রিয়তা

পারমাণবিক চুল্লি

মডারেটর (Moderator)

নিউট্রনের গতি হ্রাস করে

শিল্পকারখানা

গলনাঙ্কের ক্রুসিবল (Crucible)

উচ্চ গলনাঙ্ক ৩৬০০°C

আর্ক ল্যাম্পআর্ক ওয়েল্ডিং

কার্বন রড

বিদ্যুপরিবহন

ইলেকট্রনিক্স

ইলেকট্রোড, ব্রাশ

পরিবাহিতাতাপ-সহিষ্ণুতা

মহাকাশ প্রযুক্তি

তাপ ঢাল (heat shield)

উচ্চ তাপ-সহিষ্ণু

পেন্সিলের সীস কীভাবে তৈরি হয়?

পেন্সিলের ভেতরের কালো দণ্ডটিযাকে আমরা সাধারণতসীসবলে চিনিআসলে সীসা (Lead) নয়, এটি গ্রাফাইটকাদামাটির মিশ্রণকাদা যত বেশি, পেন্সিল তত শক্ত (H-grade); গ্রাফাইট যত বেশি, পেন্সিল তত গাঢ়নরম (B-grade)। ইতিহাসগতভাবে নামটি “lead” রয়ে গেছে, কিন্তু এতে সীসা থাকে না

হীরক বনাম গ্রাফাইটচূড়ান্ত তুলনা

বৈশিষ্ট্য

হীরক (Diamond)

গ্রাফাইট (Graphite)

গঠন

৩-D জালক, প্রতিটি C-এরবন্ধন

স্তরে স্তরে চাকতি, প্রতি C-এরবন্ধন

সংকরায়ণ

sp³

sp²

কাঠিন্য

প্রকৃতির সবচেয়ে শক্ত

নরমপিচ্ছিল

গলনাঙ্ক

~৩৫০০°C

~৩৬০০°C

ঘনত্ব

৩.৫১ g/cm³

২.২৬ g/cm³

বিদ্যুপরিবাহিতা

অপরিবাহী

ভালো পরিবাহী

চেহারা

স্বচ্ছ, ঝকঝকে

কালো, অস্বচ্ছ

দাম

অত্যন্ত দামি

সস্তা

ব্যবহার

অলংকার, কাচ-কাটার

পেন্সিল, লুব্রিকেন্ট, মডারেটর

ফুলারিনআধুনিক রূপভেদ

বিজ্ঞান কখনো থেমে থাকে নাবিংশ শতকের শেষ দিকে কার্বনের জগতে এক বিপ্লব আসেআবিষ্কৃত হয় নতুন রূপভেদ ফুলারিনতারপর একে একে আসে কার্বন ন্যানোটিউবগ্রাফিনযা ন্যানো-প্রযুক্তিকে এগিয়ে নিয়ে যায়

ফুলারিন (Fullerene / Buckminsterfullerene)

১৯৮৫ সালে ব্রিটিশ বিজ্ঞানী হ্যারল্ড ক্রোটো (Harold Kroto), মার্কিন বিজ্ঞানী রবার্ট কার্ল (Robert Curl) ও রিচার্ড স্মলি (Richard Smalley) একসঙ্গে কার্বনের একটি নতুন রূপ আবিষ্কার করেনঅণুটির রাসায়নিক সংকেত C₆₀ — অর্থাৎ ৬০টি কার্বন পরমাণু মিলে একটি অণু তৈরি করেএর গঠন অবিকল ফুটবলের মতো — ২০টি ষড়ভুজ এবং ১২টি পঞ্চভুজ মুখএজন্য এর ডাকনামবাকিবল” (Buckyball)। এই আবিষ্কারের জন্য তিন বিজ্ঞানী ১৯৯৬ সালে রসায়নে নোবেল পুরস্কার পান

কার্বন ন্যানোটিউব (Carbon Nanotube — CNT)

যদি গ্রাফাইটের একটি স্তরকে গুটিয়ে নলাকার (cylindrical) করা হয়, তবে যা তৈরি হয় তাই কার্বন ন্যানোটিউবএর ব্যাস ন্যানোমিটার (১০⁻⁹ মিটার) স্কেলেএটি ইস্পাতের চেয়ে প্রায় ১০০ গুণ শক্তিশালী, কিন্তু ওজনে অনেক হালকা

গ্রাফিন (Graphene)

গ্রাফাইটের একটিমাত্র স্তরমাত্র এক পরমাণু পুরুসেটিকেই বলে গ্রাফিন। ২০০৪ সালে আবিষ্কৃতএটি ইস্পাতের চেয়ে ২০০ গুণ শক্ত এবং অসাধারণ বিদ্যুপরিবাহী। ২০১০ সালে এর আবিষ্কারকরাআন্দ্রে গাইম (Andre Geim) ও কনস্টান্টিন নভোসেলভ (Konstantin Novoselov) — পদার্থবিজ্ঞানে নোবেল পান

🚀 আধুনিক ব্যবহার

ফুলারিনওষুধ পরিবহন (drug delivery), সুপারকন্ডাকটিভিটি গবেষণা

কার্বন ন্যানোটিউবঅতি-হালকা যৌগিক উপাদান, ইলেকট্রনিক্স, সেন্সর

গ্রাফিনদ্রুতগতির ট্রানজিস্টর, নমনীয় টাচ-স্ক্রিন, ব্যাটারির ইলেকট্রোড

নিরাকার কার্বনকয়লার পরিবার

নিরাকার কার্বনের অনেক রূপ আছে, কিন্তু সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণএবং পরীক্ষায় সবচেয়ে বেশি প্রশ্ন আসেকয়লার বিভিন্ন প্রকার থেকেকয়লা হলো লক্ষ লক্ষ বছর আগে মৃত উদ্ভিদের ভূগর্ভস্থ চাপতাপের প্রভাবে গঠিত একটি জৈব-জ্বালানি (fossil fuel)। কার্বনের শতকরা পরিমাণ অনুযায়ী এর কয়েক ধরনের শ্রেণিবিভাগ হয়

কয়লার চার প্রধান প্রকার

যত পুরনোযত গভীরে চাপা পড়েছিল, কয়লার মান তত উন্নতঅর্থাকার্বনের পরিমাণ তত বেশিচাপতাপের প্রভাবে কয়লার বিবর্তন (Coalification) হয়, যেখানে জলীয় অংশউদ্বায়ী পদার্থ সরে গিয়ে কার্বন ঘনীভূত হয়

প্রকার (Type)

কার্বনের %

বৈশিষ্ট্য

ব্যবহার

পিট (Peat)

৫০–৬০%

নরম, ভেজা, কম তাপ

নিম্নমানের জ্বালানি, সার

লিগনাইট (Lignite)

৬০–৭০%

বাদামি কয়লা, বেশি ধোঁয়া

তাপ-বিদ্যুকেন্দ্র

বিটুমিনাস (Bituminous)

৭৮–৮৭%

সর্বাধিক ব্যবহৃত, কালো

গৃহস্থালি, রেল, কোক তৈরি

অ্যানথ্রাসাইট (Anthracite)

৯০%+

চকচকে কালো, ধোঁয়াহীন, সর্বোৎকৃষ্ট

শিল্পে উচ্চ-তাপ জ্বালানি

🔑 প্রশ্ন

কার্বনের পরিমাণ সর্বাধিকঅ্যানথ্রাসাইট কয়লায় (৯০%+)

কার্বনের পরিমাণ সর্বনিম্নপিট কয়লায় (~৬০%)

সর্বোৎকৃষ্ট কয়লাঅ্যানথ্রাসাইট

পিট কয়লার বৈশিষ্ট্যনরমভেজা

বিধ্বংসী পাতনকয়লার পরিবার

বিধ্বংসী পাতন (Destructive Distillation) হলো বাতাসের অনুপস্থিতিতে কোনো জৈব পদার্থকে উচ্চ তাপ দিয়ে পচানোর প্রক্রিয়াএই প্রক্রিয়া কাঠ, হাড়, রক্তবিভিন্ন জৈব উপাদান থেকে ভিন্ন ভিন্ন ধরনের কয়লা উৎপন্ন করেপ্রতিটি কয়লার ব্যবহারের ক্ষেত্রও আলাদাএই বৈচিত্র্যই কার্বনের বহুমুখিতা

নাম

প্রস্তুতি (Source & Method)

প্রধান ব্যবহার

কাঠ কয়লা (Wood Charcoal)

অপর্যাপ্ত বাতাসে কাঠের অসম্পূর্ণ দহন

ধাতু নিষ্কাশন, বারুদ তৈরি, ফিল্টার

প্রাণিজ কয়লা (Animal Charcoal)

বদ্ধ পাত্রে প্রাণীর হাড়রক্তের বিধ্বংসী পাতন

চিনি শোধন (decolorising agent)

অস্থিজ কয়লা (Bone Charcoal)

প্রাণীদেহের হাড়ের বিধ্বংসী পাতন

চিনি শোধন, রং তৈরি

আইভরি ব্ল্যাক (Ivory Black)

অস্থিজ কয়লাকে HCl দিয়ে প্রক্রিয়াজাত

কালো রং (চিত্রকলায় রঞ্জক)

ভুষা কয়লা / কাজল (Lamp Black)

তেল / কেরোসিনের অসম্পূর্ণ দহন

ছাপার কালি, রাবারে ফিলার, কাজল

কোক (Coke)

বদ্ধ পাত্রে বিটুমিনাস কয়লার বিধ্বংসী পাতন

লোহা গলানো, ইস্পাত তৈরি

চিনি কয়লা (Sugar Charcoal)

গাঢ় H₂SO₄ + চিনি (পানি শোষণ)

বিশুদ্ধতম নিরাকার কার্বনের নমুনা

সক্রিয় কার্বন (Activated Carbon)

তাপ + রাসায়নিক সক্রিয়করণ

পানি ফিল্টার, গ্যাস মাস্ক, ওষুধ

মনে রাখার টেবিল

যে কাজে

ব্যবহৃত কয়লা

ধাতু নিষ্কাশন (Metallurgy)

কাঠ কয়লা

চিনি শোধন

প্রাণিজ কয়লা

লোহা গলানো / ইস্পাত তৈরি

কোক

ছাপার কালি / কালো রং

ভুষা কয়লা / কাজল

চিত্রকলার রঞ্জক

আইভরি ব্ল্যাক

পানি বিশুদ্ধিকরণ

সক্রিয় কার্বন

পেন্সিললুব্রিকেন্ট

গ্রাফাইট (যদিও এটি নিরাকার নয়)

কার্বনের গুরুত্বপূর্ণ যৌগসমূহ

কার্বন প্রকৃতিতে স্বাধীন রূপে যা পাওয়া যায়, তার চেয়ে কোটিগুণ বেশি পাওয়া যায় বিভিন্ন যৌগ আকারেবিসিএসভর্তি পরীক্ষায় এসব যৌগ থেকেও প্রচুর প্রশ্ন আসেকয়েকটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ যৌগ নিচে আলোচনা করা হলো

কার্বন ডাই অক্সাইড (CO₂)

সংকেত: CO₂; বর্ণহীন, গন্ধহীন গ্যাস

বায়ুমণ্ডলে পরিমাণ: প্রায় ০.০৩% (বর্তমানে ০.০৪%-এ পৌঁছেছে)

সালোকসংশ্লেষণে (Photosynthesis) উদ্ভিদ এটি গ্রহণ করে

প্রধান গ্রিনহাউস গ্যাস (Greenhouse Gas) — বৈশ্বিক উষ্ণায়নের জন্য দায়ী

কঠিন অবস্থায় শুষ্ক বরফ (Dry Ice) — খাদ্য সংরক্ষণে ব্যবহৃত

আগুন নেভানোর সিলিন্ডারে ব্যবহৃত হয় (CO₂ Fire Extinguisher)

সোডা ওয়াটার / ফিজি পানীয়তে দ্রবীভূত অবস্থায় থাকে

কার্বন মনোক্সাইড (CO)

সংকেত: CO; বর্ণহীন, গন্ধহীন কিন্তু অত্যন্ত বিষাক্ত গ্যাস

জ্বালানির অসম্পূর্ণ দহনে উৎপন্ন হয় (যেমন: গাড়ির ইঞ্জিন)

রক্তের হিমোগ্লোবিনের সঙ্গে ২০০ গুণ দ্রুততায় যুক্ত হয়ে কার্বক্সিহিমোগ্লোবিন তৈরি করে

ফলে অক্সিজেন বহনে বাধাশ্বাসকষ্টমৃত্যু ঘটাতে পারে

ওয়াটার গ্যাস (Water Gas) = CO + H₂; প্রোডিউসার গ্যাস = CO + N₂

হাইড্রোকার্বন (Hydrocarbons)

শুধু কার্বনহাইড্রোজেন দিয়ে গঠিত যৌগকে হাইড্রোকার্বন বলেআমাদের বর্তমান সভ্যতা মূলত হাইড্রোকার্বনের ওপর দাঁড়িয়েপেট্রোল, ডিজেল, কেরোসিন, প্রাকৃতিক গ্যাস সবই হাইড্রোকার্বন

যৌগ

সংকেত

প্রকৃতিব্যবহার

মিথেন (Methane)

CH₄

প্রাকৃতিক গ্যাস / CNG-এর প্রধান উপাদান; জৈব গ্রিনহাউস গ্যাস; বায়োগ্যাসমার্শ গ্যাস

ইথেন (Ethane)

C₂H₆

প্রাকৃতিক গ্যাসে পাওয়া যায়

ইথিলিন (Ethylene)

C₂H₄

কাঁচা ফল পাকাতে ব্যবহৃত; পলিথিনের মনোমার

অ্যাসিটিলিন (Acetylene)

C₂H₂

ওয়েল্ডিং-এ ব্যবহৃত (প্রচণ্ড তাপ উৎপন্ন করে)

প্রোপেন (Propane)

C₃H₈

LPG-তে থাকে

বিউটেন (Butane)

C₄H₁₀

LPG-এর প্রধান উপাদান

বেনজিন (Benzene)

C₆H₆

সকল সুগন্ধি যৌগের ভিত্তি

কার্বনেটবাইকার্বনেট

ক্যালসিয়াম কার্বনেট (CaCO₃) — চক, চুনাপাথর, মার্বেলের প্রধান উপাদান; টুথপেস্টে দাঁত পরিষ্কারক হিসেবেও ব্যবহৃত

সোডিয়াম কার্বনেট (Na₂CO₃) — কাপড় কাচার সোডা / ওয়াশিং সোডা

সোডিয়াম বাইকার্বনেট (NaHCO₃) — বেকিং সোডা; পেটের অ্যাসিডিটি কমাতেকেক ফোলাতে ব্যবহৃত

জৈব অম্ল (Organic Acids)

উৎস (Source)

অম্ল (Acid)

লেবু / কমলা

সাইট্রিক অ্যাসিড (Citric acid)

আপেল

ম্যালিক অ্যাসিড (Malic acid)

তেঁতুল / আঙ্গুর

টারটারিক অ্যাসিড (Tartaric acid)

সিরকা / ভিনেগার

অ্যাসিটিক অ্যাসিড (Acetic acid) — ৪–১০%

দুধ / দই

ল্যাকটিক অ্যাসিড (Lactic acid)

আমলকী / শাক

অক্সালিক অ্যাসিড (Oxalic acid)

কচু

ক্যালসিয়াম অক্সালেট (গলা চুলকানির কারণ)

পিঁপড়ার কামড়

ফরমিক অ্যাসিড (Formic acid)

পলিমারপ্লাস্টিক

পলিথিন (Polyethylene) — মনোমার ইথিলিন; প্যাকেজিং, ব্যাগ

পিভিসি (PVC) — মনোমার ভিনাইল ক্লোরাইড; পাইপ, তার-আবরণ

টেফলন (Teflon) — মনোমার টেট্রাফ্লুরোইথিলিন; ননস্টিক প্যান

জৈব ভঙ্গুর পলিমার: প্রোটিন, সেলুলোজ, রাবার, স্টার্চ

অজৈব ভঙ্গুর পলিমার: PVC, পলিথিন, টেফলন

শিল্পেদৈনন্দিন জীবনে কার্বন

আমরা সকালে ঘুম থেকে উঠে যা খাই, যা পরি, যা ব্যবহার করিতার প্রায় সবকিছুতেই কার্বন আছেনিচে কিছু গুরুত্বপূর্ণ শিল্পগতদৈনন্দিন ব্যবহার তুলে ধরা হলো

ইস্পাত শিল্পে কার্বন

ইস্পাত (Steel) তৈরিতে লোহার সঙ্গে ০.১৫% – ১.৫% কার্বন মেশানো হয়

কার্বনের পরিমাণ ইস্পাতের ধরন ঠিক করে:

কম কার্বন (০.১৫–০.৩%) — মাইল্ড স্টিল (নরম, নমনীয়)

মাঝারি কার্বন (০.৩–০.৭%) — মিডিয়াম স্টিল (ভারী যন্ত্রপাতি)

উচ্চ কার্বন (০.৭–১.৫%) — হাই কার্বন স্টিল (শক্ত, ভঙ্গুর; কাটার যন্ত্র)

জ্বালানি শিল্প

LPG (Liquefied Petroleum Gas) — রান্নার গ্যাস; প্রধান উপাদান বিউটেন (C₄H₁₀)

CNG (Compressed Natural Gas) — মিথেন (CH₄)

পেট্রোল, ডিজেল, কেরোসিনসবই হাইড্রোকার্বনের মিশ্রণ

বায়োগ্যাসমিথেন (৫৫–৬০%)

গোবর গ্যাসমূলত মিথেন

রান্নাঘরখাদ্য

চিনিসুক্রোজ (C₁₂H₂₂O₁₁), কার্বনের জৈব যৌগ

ভিনেগার — ৪–১০% অ্যাসিটিক অ্যাসিড

বেকিং সোডাসোডিয়াম বাইকার্বনেট (NaHCO₃)

টুথপেস্টক্যালসিয়াম কার্বনেট (CaCO₃)

সাবানসোডিয়াম স্টিয়ারেট (জৈব যৌগ)

মেডিকেলস্বাস্থ্য

সক্রিয় কার্বন (Activated Carbon) — বিষক্রিয়ার চিকিৎসায়

ক্লোরোফর্ম (CHCl₃) — এক সময় চেতনানাশক হিসেবে ব্যবহৃত হতো

কার্বন-১৪ (¹⁴C) — মেডিকেল ইমেজিংগবেষণায়

গ্রাফিনঅত্যাধুনিক ওষুধ-পরিবহন (drug-delivery) প্রযুক্তিতে

চিত্রকলামুদ্রণ

ছাপার কালিভুষা কয়লাকাজল

পেইন্টবার্নিশেহীরকচূর্ণআইভরি ব্ল্যাক

পেন্সিলগ্রাফাইট

পরিবেশে কার্বনের ভূমিকা

কার্বন প্রকৃতির ভিত্তিকিন্তু ভারসাম্য বিঘ্নিত হলে এটি সর্বনাশের কারণও হতে পারেগত শতাব্দীতে মানুষের অতিরিক্ত জ্বালানি পোড়ানোর ফলে বায়ুমণ্ডলে CO₂ এর পরিমাণ বেড়ে চলেছেযার ফলস্বরূপ গ্রিনহাউস ইফেক্টবৈশ্বিক উষ্ণায়ন (Global Warming)।

কার্বন চক্র (Carbon Cycle)

পরিবেশে কার্বন একটি বৃত্তাকার পথে চলে: বায়ুমণ্ডলে CO₂ → সালোকসংশ্লেষণের মাধ্যমে উদ্ভিদখাদ্যশৃঙ্খলে প্রাণীশ্বসনপচনের মাধ্যমে আবার CO₂ → বায়ুমণ্ডলএই চক্রের ভারসাম্য রক্ষাই জীবজগতের টিকে থাকার ভিত্তি

গ্রিনহাউস ইফেক্টবৈশ্বিক উষ্ণায়ন

প্রধান গ্রিনহাউস গ্যাসকার্বন ডাই অক্সাইড (CO₂)

জৈব গ্রিনহাউস গ্যাসমিথেন (CH₄)

CFC (ক্লোরোফ্লুরোকার্বন) — ওজোন স্তর ধ্বংসের প্রধান কারণ

CFC-এর প্রধান উৎসরেফ্রিজারেটর, এসি, এরোসল স্প্রে, জেট প্লেন

কালো ফুসফুস রোগ (Black Lung Disease) — কয়লা খনির শ্রমিকদের রোগ

🌍 আজকের পৃথিবীতে কার্বন

শিল্প বিপ্লব শুরুর আগে (১৭৫০) বায়ুমণ্ডলে CO₂ ছিল প্রায় ২৮০ ppm। বর্তমানে এটি ৪২০ ppm-এর কাছাকাছিঅর্থাৎ ৫০% বৃদ্ধিএই বৃদ্ধির পরিণতিতে গত ১৫০ বছরে পৃথিবীর গড় তাপমাত্রা ১.১°C বেড়েছেসমুদ্রপৃষ্ঠ উঁচু হচ্ছে, হিমবাহ গলছেতাই কার্বন নিঃসরণ কমানো (Carbon footprint reduction) বিশ্বের সবচেয়ে জরুরি পরিবেশগত আলোচনা

গুরুত্বপূর্ণ বিষয় (Key Takeaways)

পুরো অধ্যায়ের সারমর্ম এক জায়গায়দ্রুত রিভিশনের জন্য:

কার্বন (C) — পারমাণবিক সংখ্যা ৬, পর্যায় সারণির ১৪ গ্রুপ, ২ পিরিয়ড

কার্বন একটি বহুরূপী (Allotropic) অধাতুদুই প্রধান রূপভেদ: হীরকগ্রাফাইট

হীরকপ্রকৃতির সবচেয়ে শক্ত পদার্থ; পূর্ণ অভ্যন্তরীণ প্রতিফলনে উজ্জ্বল

গ্রাফাইটএকমাত্র অধাতু যা বিদ্যুপরিবহন করে

ফুলারিন (C₆₀) — “বাকিবলনামে পরিচিত; ১৯৮৫ সালে আবিষ্কার

কোকবিটুমিনাস কয়লার বিধ্বংসী পাতনে; লোহা গলানোয় ব্যবহৃত

অ্যানথ্রাসাইটসর্বোচ্চ কার্বনযুক্ত কয়লা (৯০%+); সর্বোৎকৃষ্ট

পিটসর্বনিম্ন কার্বনযুক্ত কয়লা; নরমভেজা

ক্যাটেনেশন ধর্ম কার্বনের সর্বাধিক প্রকাশিততাই কার্বনের যৌগ সংখ্যা সর্বোচ্চ

কার্বন একটি বিজারক (Reducing agent) পদার্থ

CO₂ — প্রধান গ্রিনহাউস গ্যাস; CO — শ্বাসকষ্ট ঘটিয়ে মৃত্যু ঘটায়

বায়ুমণ্ডলে CO₂ এর পরিমাণ মাত্র ০.০৩% — কিন্তু এর সামান্য পরিবর্তনই জলবায়ু পাল্টে দেয়

ইস্পাতে কার্বন: ০.১৫% – ১.৫%

CNG = মিথেন; LPG = বিউটেন

ওজোন স্তর ধ্বংসের প্রধান কারণ — CFC (ক্লোরোফ্লুরোকার্বন)

কাঁচা ফল পাকাতেইথিলিন (C₂H₄)

ওয়েল্ডিং-এ ব্যবহৃত গ্যাসঅ্যাসিটিলিন (C₂H₂)

চিনি শোধনেপ্রাণিজ কয়লা

ধাতু নিষ্কাশনেকাঠ কয়লা

পেন্সিলেরসীস” — গ্রাফাইটকাদার মিশ্রণ

পরীক্ষার জন্য সম্ভাব্য প্রশ্ন বিশ্লেষণ

এই অধ্যায় থেকে নিম্নলিখিত ক্ষেত্র থেকে সবচেয়ে বেশি প্রশ্ন আসে:

🔥 সবচেয়ে কমন ১৫টি ক্ষেত্র (Hot Topics)

কার্বনের রূপভেদতাদের ব্যবহার (প্রতি বিসিএসে আসে)

গ্রাফাইট কেন বিদ্যুপরিবহন করে

হীরক কেন প্রকৃতির সবচেয়ে শক্ত

পারমাণবিক চুল্লিতে মডারেটর হিসেবে কী ব্যবহৃত হয়

কোন কয়লায় সর্বোচ্চ কার্বন

কয়লার বিভিন্ন প্রকারতাদের ব্যবহার

পেন্সিলের সীস বানানো হয় কী দিয়ে

ইস্পাতে কার্বনের শতকরা পরিমাণ

জৈবঅজৈব যৌগের পার্থক্য

কার্বন মনোক্সাইডের বিষক্রিয়া

শুষ্ক বরফ (Dry Ice) কী

বহুরূপতাক্যাটেনেশন ধর্ম

CNG ও LPG-এর প্রধান উপাদান

CFC ও ওজোন স্তর

কাঁচা ফল পাকাতে কোন গ্যাস

মনে রাখার ট্রিকসনেমোনিক

জটিল তালিকা মনে রাখার জন্য নিচের ট্রিকগুলো খুবই কার্যকরপরীক্ষার আগে শেষ মুহূর্তে চোখ বুলালেই অনেক প্রশ্নের উত্তর মাথায় চলে আসবে

ট্রিক ১: কয়লার চার প্রকারমান অনুযায়ী (নিম্নউচ্চ)

পি-লি-বি-অ্যান” → পিটলিগনাইটবিটুমিনাসঅ্যানথ্রাসাইট

কার্বনের পরিমাণ ক্রমে বাড়ে; অ্যানথ্রাসাইট সেরা

ট্রিক ২: হীরক বনাম গ্রাফাইটদ্রুত পার্থক্য

হীরক হিরো, গ্রাফাইট গরিব

হীরককঠিন, অপরিবাহী, দামি, ৪ বন্ধন

গ্রাফাইটনরম, পরিবাহী, সস্তা, ৩ বন্ধন

ট্রিক ৩: কার্বনের রূপভেদের ক্রম মনে রাখা

হীগ্রাফু–ক–কোকা” → হীরকগ্রাফাইটফুলারিনকয়লাকোককাজল

ট্রিক ৪: কোন কাজে কোন কয়লা?

ধাতু নিষ্কাশনকাঠ কয়লা

চিনি শোধনপ্রাণিজ কয়লা

লোহা গলানোকোক

ছাপার কালিভুষা কয়লা

পেন্সিল / লুব্রিকেন্ট / মডারেটরগ্রাফাইট

ট্রিক ৫: কার্বনের চমকপ্রদএকমাত্র”গুলো

একমাত্র অধাতু যা বিদ্যুপরিবহন করেগ্রাফাইট

প্রকৃতিতে সবচেয়ে শক্ত পদার্থহীরক

যে মৌলের যৌগের সংখ্যা সর্বোচ্চকার্বন

জৈব যৌগের মূল উপাদানকার্বন

প্রধান গ্রিনহাউস গ্যাস → CO₂

জৈব গ্রিনহাউস গ্যাসমিথেন

ট্রিক ৬: হাইড্রোকার্বনের সংকেত মনে রাখা

অ্যালকেন → CₙH₂ₙ₊₂ (সম্পৃক্ত, একক বন্ধন)

অ্যালকিন → CₙH₂ₙ (অসম্পৃক্ত, দ্বিবন্ধন)

অ্যালকাইন → CₙH₂ₙ₋₂ (অসম্পৃক্ত, ত্রিবন্ধন)

ছন্দ: “কেন-কিন-কাইন” — যথাক্রমে +২, ০, -২

বিশেষ নোটকনফিউশন দূরীকরণ

📌 বিশেষ নোট ১: বিধ্বংসী পাতন (Destructive Distillation)

বাতাসের অনুপস্থিতিতে কঠিন জৈব পদার্থ উত্তপ্ত করে পচানোর প্রক্রিয়াকাঠের বিধ্বংসী পাতনে কাঠকয়লা, প্রাণীর হাড়ের বিধ্বংসী পাতনে অস্থিজ কয়লা পাওয়া যায়সাধারণ দহন আর বিধ্বংসী পাতনের মূল পার্থক্য: দহনে অক্সিজেন থাকে, পাতনে থাকে না

📌 বিশেষ নোট ২: হীরাগ্রাফাইট রাসায়নিকভাবে অভিন্ন!

উভয়ই শুধু কার্বন (C); শুধু পরমাণুর সাজানোর ধরনে (lattice structure) পার্থক্যতাই এদের রূপভেদ বলা হয়, ভিন্ন মৌল নয়। ১৭৭২ সালে ফরাসি বিজ্ঞানী লাভয়সিয়ে প্রথম এটি প্রমাণ করেনহীরককে পুড়িয়ে তিনি দেখান যে শুধু CO₂ গ্যাস উৎপন্ন হয়

📌 বিশেষ নোট ৩: CFC — সুবিধাবিপদ

ক্লোরোফ্লুরোকার্বন (CFC) আবিষ্কৃত হয়েছিল রেফ্রিজারেটরের নিরাপদ গ্যাস হিসেবেকিন্তু পরে দেখা গেল এই গ্যাস স্ট্র্যাটোস্ফিয়ারে পৌঁছে ওজোন স্তর ধ্বংসের প্রধান কারণমন্ট্রিল প্রোটোকলের (১৯৮৭) মাধ্যমে বিশ্বজুড়ে CFC ব্যবহার নিয়ন্ত্রিত হয়েছে

📌 বিশেষ নোট ৪: কার্বন-১৪ ও রেডিও-কার্বন ডেটিং

বায়ুমণ্ডলের কার্বন-১৪ একটি তেজস্ক্রিয় আইসোটোপজীবিত উদ্ভিদ-প্রাণী এটি সালোকসংশ্লেষণখাদ্যচক্রের মাধ্যমে গ্রহণ করেমৃত্যুর পর এর পরিমাণ ক্রমে কমতে থাকে (অর্ধায়ু ৫,৭৩০ বছর)। এই হ্রাসের পরিমাণ মেপে প্রত্নতাত্ত্বিক বস্তু, জীবাশ্ম, মমির বয়স নির্ণয় করা হয়যাকে বলে রেডিও-কার্বন ডেটিংআবিষ্কারক: উইলার্ড লিবি

📌 বিশেষ নোট ৫: কালো ফুসফুস রোগ

দীর্ঘদিন ধরে কয়লার সূক্ষ্ম গুঁড়া শ্বাসে গ্রহণ করলে কয়লা খনির শ্রমিকদের ফুসফুসে কালো দাগ জমেএই রোগের নাম Pneumoconiosis বা Coal Worker’s Lung — সাধারণভাবে কালো ফুসফুস রোগপ্রতিকার নেই, প্রতিরোধই একমাত্র উপায়

সতর্কতাসাধারণ ভুলসমূহ

⚠️ ভুল ১: গ্রাফাইট ধাতু?

না! গ্রাফাইট অধাতুকিন্তু বিদ্যুপরিবহন করেএটাই এর বিশেষত্বঅনেকে বিদ্যুপরিবহন দেখে ভুল করে ধাতু বলে দেয়

⚠️ ভুল ২: পেন্সিলের সীসে সীসা (Lead) থাকে?

না! পেন্সিলের কালো অংশটি গ্রাফাইট (সঙ্গে কাদা মিশিয়ে শক্ত করা)। ঐতিহাসিকভাবে নামটি “lead” রয়ে গেছে, কিন্তু এতে সীসা (Pb) থাকে না

⚠️ ভুল ৩: CO₂ বিষাক্ত গ্যাস?

না! CO (কার্বন মনোক্সাইড) বিষাক্ত। CO₂ গ্রিনহাউস গ্যাস কিন্তু সরাসরি বিষাক্ত নয়আমরা প্রতিনিয়ত শ্বাস ত্যাগের সঙ্গে CO₂ ছাড়ছি

⚠️ ভুল ৪: সবচেয়ে ভালো কয়লা = বিটুমিনাস?

না! সর্বোৎকৃষ্ট কয়লা অ্যানথ্রাসাইট (৯০%+ কার্বন)। বিটুমিনাস হলো সবচেয়ে বেশি ব্যবহৃতকিন্তু সেরা নয়

⚠️ ভুল ৫: হীরক জ্বলে না?

জ্বলে! হীরক ৭০০–৯০০°C তাপে অক্সিজেনের উপস্থিতিতে CO₂ গ্যাসে রূপান্তরিত হয়শুধু সাধারণ তাপে জ্বলে না

⚠️ ভুল ৬: ক্যাটেনেশন = যৌগ গঠনের ক্ষমতা?

ভুল! ক্যাটেনেশন মানে একই মৌলের পরমাণুদের নিজেদের মধ্যে শৃঙ্খল গঠনের ক্ষমতাযেকোনো যৌগ গঠনের ক্ষমতা নয়

⚠️ ভুল ৭: গ্রাফাইটকয়লা একই?

না! গ্রাফাইট একটি স্ফটিকাকার রূপভেদসুনির্দিষ্ট স্তরিত গঠন আছেকয়লা নিরাকারনির্দিষ্ট গঠন নেইকয়লায় কার্বন ছাড়াও সালফার, নাইট্রোজেন, খনিজপানি থাকেগ্রাফাইট প্রায় বিশুদ্ধ কার্বন

প্রিভিয়াস ইয়ার কোয়েশ্চনস (Q&A)

কার্বনতার রূপভেদ

প্রশ্ন: কার্বনের প্রধান রূপভেদ কী কী?

উত্তর: হীরকগ্রাফাইট (প্রধান); এছাড়া ফুলারিন, কয়লা, কোক ইত্যাদি

প্রশ্ন: প্রকৃতিতে সবচেয়ে শক্ত পদার্থ কোনটি?

উত্তর: হীরক (Diamond)।

প্রশ্ন: অধাতু হয়েও বিদ্যুপরিবহন করে কোনটি?

উত্তর: গ্রাফাইট (Graphite)।

প্রশ্ন: কাচ কাটতে ব্যবহৃত হয় কী?

উত্তর: হীরা

প্রশ্ন: পেন্সিলেরসীসআসলে কী?

উত্তর: গ্রাফাইট (কাদা মিশিয়ে শক্ত করা)।

প্রশ্ন: পারমাণবিক চুল্লিতে নিউট্রনের গতি হ্রাসে কী ব্যবহৃত হয়?

উত্তর: গ্রাফাইট (মডারেটর হিসেবে)।

প্রশ্ন: হীরক উজ্জ্বল দেখায় কেন?

উত্তর: পূর্ণ অভ্যন্তরীণ প্রতিফলন (Total Internal Reflection) এর কারণে

প্রশ্ন: এক টুকরো হীরক আসলে কী?

উত্তর: একটি বিশাল অণু (Giant Molecule)।

প্রশ্ন: আসলনকল হীরা পার্থক্য করা যায় কীভাবে?

উত্তর: এক্স-রে (X-ray) এর সাহায্যে

প্রশ্ন: ফুলারিন কে আবিষ্কার করেন?

উত্তর: ক্রোটো, কার্লস্মলি (১৯৮৫)।

প্রশ্ন: নতুন আবিষ্কৃত যে যৌগ হীরক অপেক্ষা কঠিন তার নাম কী?

উত্তর: বোরোজেন (Borazon)।

প্রশ্ন: মসৃণকারক হিসেবে ব্যবহৃত হয় কী?

উত্তর: গ্রাফাইট

প্রশ্ন: শুষ্ক কোষে (Dry Cell) ধনাত্মক পাত হিসেবে কী ব্যবহৃত হয়?

উত্তর: কার্বন দণ্ড / গ্রাফাইট

প্রশ্ন: কার্বনের কোন রূপভেদ ফুটবলের আকৃতির?

উত্তর: ফুলারিন (C₆₀)।

কয়লাবিধ্বংসী পাতন

প্রশ্ন: কার্বন সবচেয়ে বেশি আছে কোন কয়লায়?

উত্তর: অ্যানথ্রাসাইট (Anthracite) কয়লায় (৯০%-এর বেশি)।

প্রশ্ন: পিট কয়লার বৈশিষ্ট্য কী?

উত্তর: নরমভেজা

প্রশ্ন: কয়লার মূল উপাদান কী?

উত্তর: কার্বন

প্রশ্ন: চিনি শোধনে কী ব্যবহৃত হয়?

উত্তর: প্রাণিজ কয়লা (Animal Charcoal)।

প্রশ্ন: ধাতু নিষ্কাশনে কোন কয়লা ব্যবহৃত হয়?

উত্তর: কাঠ কয়লা (Wood Charcoal)।

প্রশ্ন: ছাপার কালিতে কালো রং হিসেবে কী ব্যবহৃত হয়?

উত্তর: ভুষা কয়লা / কাজল (Lamp Black)।

প্রশ্ন: লোহা গলানোয় কী ব্যবহৃত হয়?

উত্তর: কোক

প্রশ্ন: কোক কীভাবে তৈরি হয়?

উত্তর: বিটুমিনাস কয়লার বিধ্বংসী পাতনে

প্রশ্ন: প্রাণীদেহের হাড়ের বিধ্বংসী পাতনে কী পাওয়া যায়?

উত্তর: অস্থিজ কয়লা (Bone Charcoal)।

প্রশ্ন: আইভরি ব্ল্যাক কীভাবে তৈরি হয়?

উত্তর: অস্থিজ কয়লাকে HCl দ্বারা প্রক্রিয়াজাত করে

প্রশ্ন: আইভরি ব্ল্যাক কী হিসেবে ব্যবহৃত হয়?

উত্তর: কালো রং হিসেবে

প্রশ্ন: কালো ফুসফুস রোগ কাদের হয়?

উত্তর: কয়লা খনির শ্রমিকদের

প্রশ্ন: পানি বিশুদ্ধিকরণে কোন কার্বন ব্যবহৃত হয়?

উত্তর: সক্রিয় কার্বন (Activated Carbon)।

কার্বন যৌগদৈনন্দিন রসায়ন

প্রশ্ন: জৈব যৌগের মূল উপাদান কী?

উত্তর: কার্বন (C)।

প্রশ্ন: কোন ধর্মের কারণে কার্বনের যৌগের সংখ্যা সর্বাধিক?

উত্তর: ক্যাটেনেশন (Catenation) ধর্ম

প্রশ্ন: কাঁচা ফল পাকাতে কোন যৌগ ব্যবহৃত হয়?

উত্তর: ইথিলিন (C₂H₄)।

প্রশ্ন: প্রাকৃতিক গ্যাস (CNG)-এর প্রধান উপাদান কী?

উত্তর: মিথেন (CH₄)।

প্রশ্ন: LPG-এর প্রধান উপাদান কী?

উত্তর: বিউটেন (C₄H₁₀)।

প্রশ্ন: ভিনেগার বা সিরকা কী?

উত্তর: ৪–১০% অ্যাসিটিক অ্যাসিডের জলীয় দ্রবণ

প্রশ্ন: ওয়েল্ডিং-এ ব্যবহৃত গ্যাসের নাম কী?

উত্তর: অ্যাসিটিলিন (C₂H₂)।

প্রশ্ন: আলেয়া সৃষ্টির জন্য দায়ী গ্যাস কোনটি?

উত্তর: মিথেন (Marsh Gas)।

প্রশ্ন: দাঁত পরিষ্কারে টুথপেস্টে কোন যৌগ ব্যবহৃত হয়?

উত্তর: ক্যালসিয়াম কার্বনেট (CaCO₃)।

প্রশ্ন: মিথেনে H–C–H বন্ধন কোণ কত?

উত্তর: ১০৯°২৮'।

প্রশ্ন: লেবুর রসে কোন অ্যাসিড থাকে?

উত্তর: সাইট্রিক অ্যাসিড

প্রশ্ন: আপেলে কোন অ্যাসিড থাকে?

উত্তর: ম্যালিক অ্যাসিড

প্রশ্ন: তেঁতুলে কোন অ্যাসিড থাকে?

উত্তর: টারটারিক অ্যাসিড

প্রশ্ন: দুধে কোন অ্যাসিড থাকে?

উত্তর: ল্যাকটিক অ্যাসিড

প্রশ্ন: কচু খেলে গলা চুলকায় কেন?

উত্তর: কচুতে ক্যালসিয়াম অক্সালেট থাকে

প্রশ্ন: রাজঅম্ল (Aqua Regia) কী?

উত্তর: অংশ গাঢ় HCl + ১ অংশ গাঢ় HNO₃-এর মিশ্রণ

পরিবেশ ও CO₂

প্রশ্ন: ওজোন স্তরের ক্ষতির জন্য প্রধান দায়ী গ্যাস কোনটি?

উত্তর: ক্লোরোফ্লুরোকার্বন (CFC)।

প্রশ্ন: প্রধান গ্রিনহাউস গ্যাস কোনটি?

উত্তর: কার্বন ডাই অক্সাইড (CO₂)।

প্রশ্ন: জৈব গ্রিনহাউস গ্যাস কোনটি?

উত্তর: মিথেন

প্রশ্ন: কোন গ্যাসের কারণে শ্বাসকষ্ট হয়ে মানুষের মৃত্যু ঘটে?

উত্তর: কার্বন মনোক্সাইড (CO)।

প্রশ্ন: বায়ুতে CO₂ এর পরিমাণ কত?

উত্তর: প্রায় ০.০৩% (বর্তমানে ০.০৪%+ এর দিকে)।

প্রশ্ন: শুষ্ক বরফ (Dry Ice) কী?

উত্তর: কঠিন কার্বন ডাই অক্সাইড

প্রশ্ন: CFC-এর দুটি প্রধান উৎস কী?

উত্তর: রেফ্রিজারেটরজেট প্লেন

প্রশ্ন: গ্রিনহাউস ইফেক্টের কারণ কী?

উত্তর: বায়ুমণ্ডলে তাপশক্তি আটকা পড়া

প্রশ্ন: ওয়াটার গ্যাস কী?

উত্তর: CO + H₂ এর মিশ্রণ

প্রশ্ন: প্রোডিউসার গ্যাস কী?

উত্তর: CO + N₂ এর মিশ্রণ

শিল্পসংকর ধাতু

প্রশ্ন: ইস্পাতে (Steel) কার্বনের শতকরা পরিমাণ কত?

উত্তর: ০.১৫% – ১.৫%।

প্রশ্ন: ইস্পাত তৈরিতে লোহার সঙ্গে কী মেশানো হয়?

উত্তর: কার্বন

প্রশ্ন: কাগজে দাগ কাটে কোন পদার্থ?

উত্তর: গ্রাফাইট (পেন্সিলের সীস)।

প্রশ্ন: কোন অধাতু তাপবিদ্যুপরিবহনে সক্ষম?

উত্তর: গ্রাফাইট

প্রশ্ন: গাড়ির ব্যাটারিতে সাধারণত কোন এসিড ব্যবহার হয়?

উত্তর: সালফিউরিক অ্যাসিড (H₂SO₄)।

প্রশ্ন: রেডিও-কার্বন ডেটিংয়ে কোন আইসোটোপ ব্যবহৃত হয়?

উত্তর: কার্বন-১৪।

প্রশ্ন: রেডিও-কার্বন ডেটিং কে আবিষ্কার করেন?

উত্তর: উইলার্ড লিবি

সমাপ্ত

Review this chapter

You Can Also Read

Chapters closely related to the one you are reading now.

এপিকালচার (মৌমাছি পালন)

No reviews
0 students
Read chapter

খাদ্য ও পুষ্টি

No reviews
0 students
Read chapter

Most Read by Students

Popular picks getting the strongest student traffic right now.

অসহযোগ আন্দোলন (মার্চ ১৯৭১)

No reviews
1 student
Read chapter

নদী, সেতু, পাহাড়, দ্বীপ, বন, সমুদ্রবন্দর

No reviews
1 student
Read chapter

বাংলা ভাষার রীতি

No reviews
1 student
Read chapter

Others Who Read This Also Read

Behavior-based suggestions from student reading patterns where available.

এপিকালচার (মৌমাছি পালন)

No reviews
0 students
Read chapter

খাদ্য ও পুষ্টি

No reviews
0 students
Read chapter

Best Reviewed

Chapters earning the strongest student feedback.

এপিকালচার (মৌমাছি পালন)

No reviews
0 students
Read chapter

খাদ্য ও পুষ্টি

No reviews
0 students
Read chapter

Course Suggestions

Want a more guided path after this chapter? These courses are the closest fit.

Browse all courses
Learner fit৳1,999

Bangla

Bangla Language Mastery

Popular with BCS learners who want guided study.

6 lessons8.5h4.9 (186)1.3K students

By Sadia Rahman

View course
Learner fit৳2,999

Platform Building

Teacher Marketplace Blueprint

Popular with BCS learners who want guided study.

5 lessons6.8h4.9 (28)410 students

By Sadia Rahman

View course
FreeFree

English

Admission English Playbook

Free guided course with lessons you can jump into anytime.

4 lessons4.2h4.8 (91)2.8K students

By Rayan Akter

View course