খনিজ উৎস

Chapter Activity

Rating
New / 5
Reviews
0
Read Sessions
0
Readers
0

সাধারণ বিজ্ঞান

খনিজ উৎস

(Mineral Resources)

ধাতু • অধাতু • আকরিক • সংকর ধাতু

বাংলাদেশের খনিজ সম্পদ ও ব্যবহার

ভূমিকা

প্রিয় শিক্ষার্থী, একটু চারদিকে তাকাও। তোমার হাতে যে কলম, পকেটে যে মোবাইল ফোন, রান্নাঘরের যে চামচ, রাস্তায় চলা গাড়ি, বাড়ির লোহার রড, এমনকি তোমার শরীরের হাড় — এর প্রতিটিতে রয়েছে কোনো না কোনো খনিজ পদার্থ (Mineral)। মানব সভ্যতার ইতিহাসই আসলে খনিজের ইতিহাস — পাথর যুগ, তাম্র যুগ, ব্রোঞ্জ যুগ, লোহার যুগ। বর্তমান যুগকে অনেকে বলেন “সিলিকন যুগ” — কারণ কম্পিউটার ও ইলেকট্রনিক্সের ভিত্তি সিলিকন নামক একটি ধাতুকল্প।

বিসিএস প্রিলিমিনারি সিলেবাসের সাধারণ বিজ্ঞান অংশে এবং ঢাকা, রাজশাহী, চট্টগ্রাম, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়সহ মেডিকেল ও ইঞ্জিনিয়ারিং ভর্তি পরীক্ষায় গত ২০ বছরের প্রশ্নপত্র বিশ্লেষণ করলে দেখা যায় — “খনিজ উৎস” অধ্যায় থেকে প্রায় প্রতিবারই ৩-৫টি প্রশ্ন আসে। বিশেষ করে — “সবচেয়ে হালকা/ভারী/দামি ধাতু কোনটি?”, “কোন ধাতুর আকরিক বক্সাইট?”, “সিলেট গ্যাসক্ষেত্র কোথায়?”, “মিনামাটা রোগ কোন ধাতুর কারণে?” — এ ধরনের প্রশ্ন একদম গ্যারান্টিযুক্ত।

এই অধ্যায়টির বিশেষত্ব হলো — এর প্রতিটি তথ্যই সংখ্যা ও নাম-নির্ভর। অর্থাৎ ঠিকভাবে মুখস্থ করলে নিশ্চিত নম্বর। কিন্তু এত নাম মনে রাখা কঠিন। তাই এই অধ্যায়ে আমরা নেমোনিক ট্রিক ও বৈজ্ঞানিক যুক্তি দিয়ে প্রতিটি তথ্যকে গভীরভাবে বোঝার চেষ্টা করব।

📌 খনিজ আর আকরিকের পার্থক্য

সব আকরিকই খনিজ, কিন্তু সব খনিজই আকরিক নয়। যেমন: কোয়ার্টজ (SiO₂) একটি খনিজ, কিন্তু এটি থেকে সিলিকন বের করা অর্থনৈতিকভাবে লাভজনক নয় — তাই এটি আকরিক নয়। অন্যদিকে বক্সাইট খনিজ এবং একই সঙ্গে অ্যালুমিনিয়ামের আকরিক, কারণ এ থেকে লাভজনকভাবে অ্যালুমিনিয়াম পাওয়া যায়।

পৃথিবীর গঠন ও খনিজের উৎপত্তি

খনিজ কোথা থেকে আসে — এটি বুঝতে হলে আগে পৃথিবীর গঠন জানতে হবে। ভূবিজ্ঞানীরা পৃথিবীকে রাসায়নিকভাবে চারটি স্তরে ভাগ করেছেন:

পৃথিবীর চার প্রধান স্তর

স্তর (Layer)

প্রধান উপাদান

গভীরতা / বৈশিষ্ট্য

ভূত্বক (Crust)

অক্সিজেন (~৪৬%), সিলিকন (~২৮%), অ্যালুমিনিয়াম, লোহা

৫–৭০ কিমি; কঠিন; সব খনিজ এখানেই পাওয়া যায়

গুরুমণ্ডল (Mantle)

সিলিকেট পাথর, ম্যাগনেসিয়াম, লোহা

৭০–২,৯০০ কিমি; অর্ধ-গলিত শিলা

বহিঃকেন্দ্র (Outer Core)

তরল লোহা ও নিকেল

২,৯০০–৫,১৫০ কিমি; চৌম্বকক্ষেত্রের উৎস

অন্তঃকেন্দ্র (Inner Core)

কঠিন লোহা ও নিকেল

৫,১৫০–৬,৩৭৮ কিমি; অত্যন্ত উচ্চ চাপ ও তাপ

ভূত্বকে সর্বাধিক প্রাপ্ত মৌল (Crustal Abundance)

পৃথিবীর ভূত্বকে যে মৌলগুলো সবচেয়ে বেশি পাওয়া যায়, সেগুলোর শতকরা পরিমাণ মনে রাখা অত্যন্ত জরুরি। বিসিএস-এ একাধিকবার এসেছে।

ক্রম

মৌল

প্রতীক

ভূত্বকে শতকরা পরিমাণ

অক্সিজেন (Oxygen)

O

~৪৬.৬%

সিলিকন (Silicon)

Si

~২৭.৭%

অ্যালুমিনিয়াম (Aluminium)

Al

~৮.১%

লোহা / আয়রন (Iron)

Fe

~৫.০%

ক্যালসিয়াম (Calcium)

Ca

~৩.৬%

সোডিয়াম (Sodium)

Na

~২.৮%

পটাশিয়াম (Potassium)

K

~২.৬%

ম্যাগনেসিয়াম (Magnesium)

Mg

~২.১%

⚡ প্রশ্ন

ভূত্বকে সর্বাধিক প্রাপ্ত মৌল — অক্সিজেন

ভূত্বকে সর্বাধিক প্রাপ্ত ধাতু — অ্যালুমিনিয়াম

ভূত্বকে সর্বাধিক প্রাপ্ত অধাতু — অক্সিজেন

পৃথিবীর কেন্দ্রের প্রধান উপাদান — লোহা ও নিকেল

পৃথিবীর অভ্যন্তরীণ চৌম্বকক্ষেত্রের উৎস — তরল লোহা ও নিকেল

ধাতু — সাধারণ ধর্ম ও শ্রেণিবিভাগ

পর্যায় সারণিতে প্রায় ১১৮টি মৌলের মধ্যে প্রায় ৯০টিই ধাতু। ধাতুকে চেনা যায় কিছু সাধারণ ভৌত ও রাসায়নিক ধর্ম দেখে।

ধাতুর ভৌত ধর্ম (Physical Properties of Metals)

চাকচিক্য (Lustre) — চকচকে পৃষ্ঠ; আলো প্রতিফলিত করে

নমনীয়তা (Ductility) — তার তৈরি করা যায় (যেমন: স্বর্ণ থেকে সূক্ষ্ম তার)

ঘাতসহনীয়তা (Malleability) — পিটিয়ে পাতলা পাত করা যায় (যেমন: সোনার পাত)

পরিবাহিতা (Conductivity) — তাপ ও বিদ্যুৎ ভালোভাবে পরিবহন করে

ঝংকার (Sonority) — আঘাত করলে শব্দ উৎপন্ন হয়

উচ্চ ঘনত্ব ও গলনাঙ্ক (High density and melting point) — সাধারণত

কঠিন অবস্থা — সাধারণ তাপমাত্রায় কঠিন (পারদ ও গ্যালিয়াম ব্যতিক্রম)

ধাতুর রাসায়নিক ধর্ম

সাধারণত ১, ২ বা ৩টি ইলেকট্রন ত্যাগ করে ধনাত্মক আয়ন (cation) গঠন করে

ক্ষারীয় অক্সাইড গঠন করে (যেমন: Na₂O, CaO)

অম্লের সঙ্গে বিক্রিয়া করে হাইড্রোজেন গ্যাস উৎপন্ন করে

সক্রিয় ধাতু পানির সঙ্গে বিক্রিয়া করে (যেমন: সোডিয়াম জলে অনে বিস্ফোরণ)

জারিত হয় (Oxidation) — ইলেকট্রন ত্যাগ করে

ধাতুর সক্রিয়তা সিরিজ (Reactivity Series)

ধাতুকে সক্রিয়তার ক্রমে সাজালে যে তালিকা পাওয়া যায় — তা ধাতুর সক্রিয়তা সিরিজ। এই সিরিজ অনুযায়ী ধাতু কতটা সহজে ইলেকট্রন ছাড়তে পারে তা বোঝা যায়।

🔥 সক্রিয়তার ক্রম (অধিক সক্রিয় → কম সক্রিয়)

K > Na > Ca > Mg > Al > Zn > Fe > Sn > Pb > [H] > Cu > Hg > Ag > Au > Pt

পটাশিয়াম সবচেয়ে সক্রিয়, প্লাটিনাম সবচেয়ে কম সক্রিয়। হাইড্রোজেন এই তালিকায় তুলনার মানদণ্ড হিসেবে রাখা হয়েছে।

ধাতুর শ্রেণিবিভাগ (Classification of Metals)

শ্রেণি

উদাহরণ

বৈশিষ্ট্য

ক্ষার ধাতু (Alkali Metals)

Li, Na, K, Rb, Cs

নরম, অত্যন্ত সক্রিয়, পানির সঙ্গে দ্রুত বিক্রিয়া

মৃৎ ক্ষার ধাতু (Alkaline Earth)

Be, Mg, Ca, Sr, Ba

ক্ষার ধাতুর চেয়ে কম সক্রিয়

অবস্থান্তর ধাতু (Transition)

Fe, Cu, Zn, Ag, Au

শক্ত, উচ্চ গলনাঙ্ক, রঙিন যৌগ গঠন

মূল্যবান ধাতু (Noble Metals)

Au, Pt, Pd

জারণ হয় না, খুব দামি

ভারী ধাতু (Heavy Metals)

Pb, Hg, Cd, Ni

ঘনত্ব বেশি, বিষাক্ত

তেজস্ক্রিয় ধাতু (Radioactive)

U, Th, Ra, Po

তেজস্ক্রিয় রশ্মি নিঃসরণ

বিরল মৃত্তিকা ধাতু

Sc, Y, La-Lu (লন্থানাইড)

প্রকৃতিতে কম পরিমাণে; ইলেকট্রনিক্সে ব্যবহৃত

অধাতু ও ধাতুকল্প (Metalloid)

অধাতু (Non-metals)

অধাতু হলো সেইসব মৌল যাদের ধর্ম ধাতুর সম্পূর্ণ বিপরীত। পর্যায় সারণির ডান দিকে এদের অবস্থান। মাত্র ১৭টি মৌল অধাতু — তবে এদের গুরুত্ব অপরিসীম।

অধাতুর সাধারণ ধর্ম

চাকচিক্যহীন (গ্রাফাইট ব্যতিক্রম)

ভঙ্গুর ও নমনীয়তাহীন

তাপ ও বিদ্যুৎ অপরিবাহী (গ্রাফাইট ব্যতিক্রম)

ঘনত্ব ও গলনাঙ্ক সাধারণত কম

সাধারণ তাপমাত্রায় কঠিন, তরল বা গ্যাসীয় তিন অবস্থাতেই থাকতে পারে

ইলেকট্রন গ্রহণ করে ঋণাত্মক আয়ন (anion) গঠন করে

অম্লীয় অক্সাইড গঠন করে (যেমন: CO₂, SO₂)

প্রধান অধাতুর তালিকা

অধাতু

প্রতীক

ভৌত অবস্থা (সাধারণ তাপে)

হাইড্রোজেন (Hydrogen)

H

গ্যাস — সবচেয়ে হালকা

অক্সিজেন (Oxygen)

O

গ্যাস

নাইট্রোজেন (Nitrogen)

N

গ্যাস

কার্বন (Carbon)

C

কঠিন (হীরক/গ্রাফাইট)

সালফার (Sulphur)

S

কঠিন (হলুদ)

ফসফরাস (Phosphorus)

P

কঠিন

ক্লোরিন (Chlorine)

Cl

গ্যাস

ফ্লুরিন (Fluorine)

F

গ্যাস — সবচেয়ে সক্রিয় অধাতু

আয়োডিন (Iodine)

I

কঠিন (ঊর্ধ্বপাতি)

ব্রোমিন (Bromine)

Br

তরল — একমাত্র তরল অধাতু

ধাতুকল্প (Metalloid)

কিছু মৌল আছে যারা ধাতু ও অধাতু — উভয়ের কিছু কিছু ধর্ম প্রদর্শন করে। এদের বলে ধাতুকল্প বা অর্ধপরিবাহী (Semi-conductor)। আধুনিক ইলেকট্রনিক্সের ভিত্তি এই ধাতুকল্পের ওপর প্রতিষ্ঠিত।

ধাতুকল্প

প্রতীক

গুরুত্ব / ব্যবহার

সিলিকন (Silicon)

Si

IC চিপ, সোলার সেল, কম্পিউটারের ভিত্তি

জার্মেনিয়াম (Germanium)

Ge

ট্রানজিস্টর, অর্ধপরিবাহী

আর্সেনিক (Arsenic)

As

বিষাক্ত; কীটনাশক, কাঠ সংরক্ষণে

বোরন (Boron)

B

বোরাক্স, পারমাণবিক চুল্লি

অ্যান্টিমনি (Antimony)

Sb

মুদ্রণ যন্ত্রের সংকর ধাতু; আঘাতে শব্দ হয় না

টেলুরিয়াম (Tellurium)

Te

সংকর ধাতু, সোলার সেল

গুরুত্বপূর্ণ ধাতু ও তাদের আকরিক

লোহা (Iron, Fe)

পারমাণবিক সংখ্যা: ২৬

ভূত্বকে চতুর্থ সর্বাধিক প্রাপ্ত মৌল

রাসায়নিক প্রতীক Fe — ল্যাটিন “Ferrum” থেকে

প্রধান আকরিক — হেমাটাইট (Fe₂O₃), ম্যাগনেটাইট (Fe₃O₄), লিমোনাইট, সিডারাইট

বাংলাদেশের প্রধান লোহার খনি — সিরাজগঞ্জের জামালপুর-শরীয়তপুর-গাইবান্ধা এলাকা

লোহা ৩ প্রকার: পিগ আয়রন (Pig iron), কাস্ট আয়রন (Cast iron), রট আয়রন (Wrought iron)

বিশুদ্ধতম লোহা — রট আয়রন (Wrought iron); কার্বন: ০.১% এর কম

অ্যালুমিনিয়াম (Aluminium, Al)

পারমাণবিক সংখ্যা: ১৩

ভূত্বকে সর্বাধিক প্রাপ্ত ধাতু (~৮.১%)

প্রধান আকরিক — বক্সাইট (Al₂O₃·2H₂O)

অন্যান্য আকরিক — ক্রায়োলাইট (Na₃AlF₆), কোরান্ডাম (Al₂O₃)

বৈশিষ্ট্য — হালকা, নমনীয়, ক্ষয়রোধী, পুনর্ব্যবহারযোগ্য

ব্যবহার — উড়োজাহাজ, মোটরগাড়ির খোলস, রান্নার পাত্র, ফয়েল, জানালার ফ্রেম

প্রকৃতিতে মুক্ত অবস্থায় পাওয়া যায় (যৌগ আকারে)

তামা (Copper, Cu)

পারমাণবিক সংখ্যা: ২৯

রাসায়নিক প্রতীক Cu — ল্যাটিন “Cuprum” থেকে

প্রধান আকরিক — চ্যালকোপাইরাইট (CuFeS₂), ম্যালাকাইট, কপার পাইরাইট

রঙ — লালচে-বাদামি; চকচকে

বৈশিষ্ট্য — অত্যন্ত ভালো বিদ্যুৎ ও তাপ পরিবাহী (রূপার পরেই)

ব্যবহার — বৈদ্যুতিক তার, পাইপ, রান্নার পাত্র, সংকর ধাতু (পিতল, কাঁসা, ব্রোঞ্জ)

স্বর্ণ (Gold, Au)

পারমাণবিক সংখ্যা: ৭৯; প্রতীক Au (ল্যাটিন “Aurum”)

সবচেয়ে নমনীয় ও সবচেয়ে ঘাতসহ ধাতু

প্রকৃতিতে প্রায়ই মুক্ত অবস্থায় (Native form) পাওয়া যায়

জারিত হয় না — তাই অলংকারে শতাব্দী ধরে অপরিবর্তিত থাকে

কেবল রাজঅম্ল (Aqua Regia, ৩ HCl + ১ HNO₃) এ দ্রবীভূত হয়

খাঁটি স্বর্ণ ২৪ ক্যারেট; গহনায় সাধারণত ২২/১৮ ক্যারেট ব্যবহৃত হয়

রৌপ্য / রূপা (Silver, Ag)

প্রতীক Ag — ল্যাটিন “Argentum” থেকে

সর্বোৎকৃষ্ট বিদ্যুৎ ও তাপ পরিবাহী ধাতু (সবচেয়ে ভালো)

প্রধান আকরিক — আর্জেন্টাইট (Ag₂S)

বায়ুতে হাইড্রোজেন সালফাইডের (H₂S) উপস্থিতিতে কালো হয়ে যায়

ব্যবহার — অলংকার, মুদ্রা, ফটোগ্রাফি (AgBr), চিকিৎসায় (অ্যান্টিব্যাকটেরিয়াল)

পারদ / মার্কারি (Mercury, Hg)

প্রতীক Hg — গ্রিক “Hydrargyrum” থেকে (অর্থ “তরল রূপা”)

একমাত্র ধাতু যা সাধারণ তাপমাত্রায় তরল অবস্থায় থাকে

সবচেয়ে ভারী তরল পদার্থ (ঘনত্ব ১৩.৬ g/cm³)

প্রধান আকরিক — সিনাবার (HgS)

ব্যবহার — থার্মোমিটার, ব্যারোমিটার, ফ্লোরোসেন্ট লাইট, ব্যাটারি

মিনামাটা রোগের কারণ

অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ ধাতু ও তাদের আকরিক

ধাতু (Metal)

প্রতীক

প্রধান আকরিক (Principal Ore)

সোডিয়াম (Sodium)

Na

রক সল্ট (NaCl)

পটাশিয়াম (Potassium)

K

কার্নালাইট, সিলভাইট

ক্যালসিয়াম (Calcium)

Ca

চুনাপাথর (CaCO₃), জিপসাম

ম্যাগনেসিয়াম (Magnesium)

Mg

ম্যাগনেসাইট (MgCO₃), ডলোমাইট

জিঙ্ক / দস্তা (Zinc)

Zn

জিঙ্কব্লেন্ড (ZnS), কালামিন (ZnCO₃)

সীসা (Lead)

Pb

গ্যালেনা (PbS)

টিন / রাং (Tin)

Sn

ক্যাসিটারাইট (SnO₂)

ম্যাঙ্গানিজ (Manganese)

Mn

পাইরোলুসাইট (MnO₂)

নিকেল (Nickel)

Ni

পেন্টল্যান্ডাইট

ক্রোমিয়াম (Chromium)

Cr

ক্রোমাইট (FeCr₂O₄)

ইউরেনিয়াম (Uranium)

U

পিচব্লেন্ড (UO₂)

টাংস্টেন (Tungsten)

W

উলফ্রামাইট, শিলাইট

প্লাটিনাম (Platinum)

Pt

মুক্ত অবস্থায়; স্পেরিলাইট

টাইটেনিয়াম (Titanium)

Ti

রুটাইল (TiO₂), ইলমেনাইট

লোহার তিন প্রকার

প্রকার

কার্বনের %

বৈশিষ্ট্য

ব্যবহার

পিগ আয়রন (Pig Iron)

৩.৫–৪.৫%

অপরিশোধিত, ভঙ্গুর

ঢালাই, ইস্পাত তৈরির কাঁচামাল

কাস্ট আয়রন (Cast Iron)

২.০–৪.৫%

কঠিন কিন্তু ভঙ্গুর

গ্যাস বার্নার, রেল লাইন, পাইপ

রট আয়রন (Wrought Iron)

০.১% এর কম

বিশুদ্ধতম; নমনীয়, ঘাতসহ

শিল্পকলা, গেট, রেলিং

ইস্পাত (Steel)

০.১৫–১.৫%

শক্ত ও নমনীয়

নির্মাণ, যানবাহন, যন্ত্রপাতি

🔑 ইস্পাত — বিশেষ মনে রাখার বিষয়

সাধারণ ইস্পাতে কার্বন: ০.১৫% – ১.৫%

স্টেইনলেস স্টিল = লোহা + ক্রোমিয়াম (১০–১২%) + নিকেল

টুল স্টিল = লোহা + কার্বন + টাংস্টেন/ক্রোমিয়াম

ম্যাঙ্গানিজ স্টিল = লোহা + ১১–১৪% ম্যাঙ্গানিজ (অত্যন্ত শক্ত)

সংকর ধাতু (Alloys)

একাধিক ধাতুকে বিগলিত অবস্থায় মিশ্রিত করে শীতল করলে যে সমসত্ত্ব কঠিন পদার্থ তৈরি হয়, তাকে সংকর ধাতু বা Alloy বলে। সংকর ধাতু তৈরির উদ্দেশ্য — মূল ধাতুর কোনো একটি অপ্রিয় ধর্ম দূর করা বা নতুন কাঙ্ক্ষিত ধর্ম যোগ করা।

সংকর ধাতু কেন তৈরি করা হয়?

কাঠিন্য বাড়ানো (যেমন: বিশুদ্ধ সোনা নরম, তামা মিশিয়ে শক্ত করা হয়)

ক্ষয়রোধ ক্ষমতা বাড়ানো (যেমন: স্টেইনলেস স্টিল)

উচ্চ তাপ-সহিষ্ণুতা যোগ করা

চাকচিক্য ও দৃষ্টিনন্দনতা বাড়ানো

ঘনত্ব কমানো বা বাড়ানো প্রয়োজন অনুযায়ী

গলনাঙ্ক কমিয়ে সহজে ঢালাই-উপযোগী করা

গুরুত্বপূর্ণ সংকর ধাতু ও উপাদান

সংকর ধাতু (Alloy)

উপাদান (Components)

প্রধান ব্যবহার

পিতল (Brass)

তামা (৬০-৮০%) + জিঙ্ক (২০-৪০%)

বাসনপত্র, যন্ত্রাংশ, সাজসজ্জা

কাঁসা / ব্রোঞ্জ (Bronze)

তামা (৭৫-৯০%) + টিন (১০-২৫%)

মূর্তি, মেডেল, ঘণ্টা, যন্ত্রাংশ

ইস্পাত (Steel)

লোহা + কার্বন (০.১৫-১.৫%)

নির্মাণ, যানবাহন, রেললাইন

স্টেইনলেস স্টিল

লোহা + ক্রোমিয়াম + নিকেল

ছুরি-চামচ, পাত্র, সার্জিকাল যন্ত্র

ডুরালুমিন (Duralumin)

অ্যালুমিনিয়াম + তামা + ম্যাগনেসিয়াম

উড়োজাহাজের খোলস, মোটরগাড়ি

সোলডার (Solder)

টিন (৫০%) + সীসা (৫০%)

ঝালাই করা, ইলেকট্রনিক্স

জার্মান সিলভার

তামা + জিঙ্ক + নিকেল (কোনো রূপা নেই!)

চামচ-পাত্র, রূপালি অলংকার

গান মেটাল

তামা + টিন + জিঙ্ক

বন্দুকের ব্যারেল, ভাল্ব

টাইপ মেটাল

সীসা + অ্যান্টিমনি + টিন

মুদ্রণ যন্ত্রের অক্ষর

মুদ্রার ধাতু

তামা + নিকেল

কয়েন তৈরি

অ্যামালগাম (Amalgam)

পারদ + অন্য ধাতু

দাঁতের ফিলিং, সোনা নিষ্কাশন

ম্যাগনেলিয়াম

অ্যালুমিনিয়াম + ম্যাগনেসিয়াম

হালকা যন্ত্রাংশ

নিক্রোম

নিকেল + ক্রোমিয়াম + লোহা

ইলেকট্রিক হিটার, ইস্ত্রির কয়েল

মোনেল (Monel)

নিকেল + তামা + লোহা

রাসায়নিক যন্ত্রপাতি

ইনভার (Invar)

লোহা + নিকেল

ঘড়ির পেন্ডুলাম, পরিমাপ যন্ত্র

বেল মেটাল

তামা (৭৭%) + টিন (২৩%)

ঘণ্টা তৈরি

📌 চমকপ্রদ তথ্য

জার্মান সিলভার (German Silver) — নামে রূপা থাকলেও এতে কোনো রূপা নেই! এটি আসলে তামা, জিঙ্ক ও নিকেলের মিশ্রণ — রূপালি রঙের জন্য নামকরণ হয়েছে। বিসিএস পরীক্ষায় এ থেকে প্রশ্ন এসেছে কয়েকবার।

ধাতু-সংক্রান্ত সব “একমাত্র” তথ্য

পরীক্ষায় সবচেয়ে বেশি প্রশ্ন আসে — “সবচেয়ে…”, “একমাত্র…” — এ ধরনের সুপারলেটিভ থেকে। এই অংশটি সম্পূর্ণ মুখস্থ করতে হবে।

ভর ও ঘনত্বের চরম মান

প্রশ্ন

উত্তর

সবচেয়ে হালকা ধাতু

লিথিয়াম (Li)

সবচেয়ে ভারী ধাতু

অসমিয়াম (Os)

সবচেয়ে হালকা মৌল / গ্যাস / অধাতু

হাইড্রোজেন (H)

সবচেয়ে ভারী মৌলিক গ্যাস

রেডন (Rn)

সবচেয়ে ভারী তরল পদার্থ

পারদ (Hg)

জলে ভাসমান ধাতু

সোডিয়াম (Na)

মূল্য ও দুষ্প্রাপ্যতা

প্রশ্ন

উত্তর

সবচেয়ে মূল্যবান ধাতু

ক্যালিফোর্নিয়াম (Cf), রোডিয়াম (Rh), প্লাটিনাম (Pt)

পৃথিবীর সবচেয়ে দুর্লভ মৌল

অ্যাস্টাটিন (At) — পৃথিবীতে মাত্র ২৮ গ্রাম আছে

সবচেয়ে ব্যয়বহুল প্রাকৃতিক উপাদান

অ্যান্টিম্যাটার

ভৌত ধর্মের চরম মান

প্রশ্ন

উত্তর

সবচেয়ে নমনীয় ধাতু (Most ductile)

সোনা (Au)

সবচেয়ে ঘাতসহ ধাতু (Most malleable)

সোনা (Au)

সর্বোচ্চ গলনাঙ্ক বিশিষ্ট ধাতু

টাংস্টেন (W) — ৩৪২২°C

সর্বনিম্ন গলনাঙ্ক বিশিষ্ট ধাতু

পারদ (Hg) — −৩৯°C; সীসাও কম

সবচেয়ে কঠিন প্রাকৃতিক পদার্থ

হীরক (Diamond)

সবচেয়ে কঠিন কৃত্রিম পদার্থ

বোরোজেন (Borazon)

রাসায়নিক সক্রিয়তা

প্রশ্ন

উত্তর

সবচেয়ে সক্রিয় ধাতু

সিজিয়াম (Cs); পরে পটাশিয়াম (K)

সবচেয়ে সক্রিয় অধাতু

ফ্লুরিন (F)

সবচেয়ে নিষ্ক্রিয় ধাতু

প্লাটিনাম, সোনা

সবচেয়ে নিষ্ক্রিয় গ্যাস

হিলিয়াম (He)

সর্বাপেক্ষা তড়িৎ ধনাত্মক মৌল

সিজিয়াম (Cs)

সর্বাপেক্ষা তড়িৎ ঋণাত্মক মৌল

ফ্লুরিন (F)

পরিবাহিতা ও পরিবহন

প্রশ্ন

উত্তর

সর্বোত্তম বিদ্যুৎ ও তাপ পরিবাহী ধাতু

রূপা / সিলভার (Ag)

দ্বিতীয় সর্বোত্তম বিদ্যুৎ পরিবাহী

তামা (Cu)

অধাতু হয়েও বিদ্যুৎ পরিবাহী

গ্রাফাইট

অর্ধপরিবাহী (Semi-conductor)

সিলিকন (Si), জার্মেনিয়াম (Ge)

তাপের সুপরিবাহী কিন্তু বিদ্যুতের কুপরিবাহী

অভ্র (Mica)

বিশেষ আচরণ

প্রশ্ন

উত্তর

যে ধাতুর উপর আঘাত করলে শব্দ হয় না

অ্যান্টিমনি (Sb)

যে ধাতু সাধারণ তাপমাত্রায় তরল

পারদ (Hg) ও গ্যালিয়াম (Ga)

যে অধাতু সাধারণ তাপমাত্রায় তরল

ব্রোমিন (Br)

প্রকৃতিতে মুক্ত অবস্থায় পাওয়া যায়

সোনা, প্লাটিনাম, রূপা

ছুরি দিয়ে সহজে কাটা যায় (নরম)

সোডিয়াম, পটাশিয়াম, সিজিয়াম

চাঁদের নামে নামকরণ

সেলেনিয়াম (Selene = চাঁদ)

সূর্যের নামে নামকরণ

হিলিয়াম (Helios = সূর্য)

জ্বলতে জ্বলতে উজ্জ্বল আলো দেয়

ম্যাগনেসিয়াম (Mg)

তাপ পরিবাহী কিন্তু বিদ্যুৎ অপরিবাহী

অভ্র (Mica)

মূল্যবান ধাতু ও রত্ন পাথর

ধাতু ও রত্ন — দুটোই সভ্যতার ইতিহাসে গুরুত্বপূর্ণ। নিচে কিছু চমকপ্রদ তথ্য:

মূল্যবান ধাতু (Precious Metals)

সোনা (Gold, Au) — ২৪ ক্যারেট = খাঁটি; ২২ ক্যারেট = ৯১.৬% সোনা

রূপা (Silver, Ag) — গহনা, মুদ্রা

প্লাটিনাম (Platinum, Pt) — সবচেয়ে মূল্যবান; ক্যাটালিস্ট, গহনা

রোডিয়াম (Rhodium, Rh) — গাড়ির ক্যাটালিটিক কনভার্টারে

প্যালাডিয়াম (Palladium, Pd) — গহনা, ইলেকট্রনিক্স

ইরিডিয়াম (Iridium, Ir) — পেনের নিব, মহাকাশ প্রযুক্তি

রত্ন পাথর ও তাদের মূল রাসায়নিক উপাদান

রত্ন পাথর

রাসায়নিক যৌগ / মূল উপাদান

রঙ

হীরা (Diamond)

বিশুদ্ধ কার্বন (C)

স্বচ্ছ

চুনি / রুবি (Ruby)

Al₂O₃ + Cr (অ্যালুমিনিয়ামের যৌগ)

লাল

পান্না (Emerald)

Be₃Al₂(SiO₃)₆ — বেরিল

সবুজ

নীলকান্তমণি / স্যাফায়ার

Al₂O₃ + Fe/Ti

নীল

পোখরাজ (Topaz)

Al₂SiO₄(F,OH)₂

হলুদ

মুক্তা (Pearl)

CaCO₃ (ক্যালসিয়াম কার্বনেট) ৮৮-৯০%

সাদা

কোয়ার্টজ (Quartz)

SiO₂ (সিলিকন ডাইঅক্সাইড)

স্বচ্ছ/বিভিন্ন

💎 মনে রাখো

নীলা, চুনি, পান্না — সব মূল্যবান পাথর প্রকৃতপক্ষে অ্যালুমিনিয়াম বা সিলিকনের যৌগ। শুধু রঞ্জক পদার্থের কারণে রং ভিন্ন। অর্থাৎ রাসায়নিকভাবে এগুলো সাধারণ পাথরই, কিন্তু বিরল ও সুন্দর বলে দামি।

জ্বালানি খনিজ — কয়লা, তেল, গ্যাস

জ্বালানি খনিজ (Fossil Fuels) হলো লক্ষ-কোটি বছর আগের মৃত উদ্ভিদ ও প্রাণীর দেহাবশেষ থেকে তৈরি প্রাকৃতিক সম্পদ। বর্তমান সভ্যতার প্রায় ৮০%-এর বেশি শক্তি এই উৎস থেকেই আসে।

কয়লা (Coal)

প্রকার

কার্বন %

বৈশিষ্ট্য

পিট (Peat)

৫০–৬০%

নরম, ভেজা, নিম্নমান

লিগনাইট (Lignite)

৬০–৭০%

বাদামি কয়লা

বিটুমিনাস (Bituminous)

৭৮–৮৭%

সর্বাধিক ব্যবহৃত

অ্যানথ্রাসাইট (Anthracite)

৯০%+

সর্বোৎকৃষ্ট, ধোঁয়াহীন

পেট্রোলিয়াম (Petroleum)

কাঁচা তেল (Crude Oil) — পরিশোধনের পর বিভিন্ন পণ্য পাওয়া যায়

পরিশোধন প্রক্রিয়া — ভগ্নাংশীয় পাতন (Fractional Distillation)

প্রাপ্ত পণ্য — পেট্রোল, ডিজেল, কেরোসিন, লুব্রিকেন্ট, বিটুমিন

পৃথিবীর সবচেয়ে বড় তেলক্ষেত্র — গাওয়ার (সৌদি আরব)

OPEC = তেল রপ্তানিকারক দেশগুলোর সংগঠন

প্রাকৃতিক গ্যাস (Natural Gas)

প্রধান উপাদানমিথেন (CH₄), প্রায় ৭০-৯০%

অন্যান্য উপাদান — ইথেন, প্রোপেন, বিউটেন

CNG (Compressed Natural Gas) — পরিবহনে ব্যবহৃত

LNG (Liquefied Natural Gas) — বৃহৎ পরিমাণ পরিবহনে

LPG (Liquefied Petroleum Gas) — প্রধান উপাদান বিউটেন; রান্নায় ব্যবহৃত

⚡ জ্বালানি গ্যাস সম্পর্কিত গুরুত্বপূর্ণ তথ্য

ওয়াটার গ্যাস (Water Gas) = CO + H₂

প্রোডিউসার গ্যাস (Producer Gas) = CO + N₂

বায়োগ্যাস = মূলত মিথেন (৫৫-৬০%)

মার্শ গ্যাস (জলাভূমির গ্যাস) = মিথেন

কয়লা গ্যাস = H₂ + CH₄ + CO

বাংলাদেশের খনিজ সম্পদ

বাংলাদেশের ভূগর্ভে রয়েছে অনেক ধরনের খনিজ সম্পদ — প্রাকৃতিক গ্যাস, কয়লা, চুনাপাথর, কঠিন শিলা, সিলিকা বালি, গ্লাসস্যান্ড, পিট ইত্যাদি। বিসিএস পরীক্ষায় এই অংশ থেকে নিয়মিত প্রশ্ন আসে।

প্রাকৃতিক গ্যাসক্ষেত্র

বাংলাদেশের প্রধান খনিজ সম্পদ — প্রাকৃতিক গ্যাস। মূলত পূর্বাঞ্চলে গ্যাসক্ষেত্রগুলো অবস্থিত। গ্যাসের প্রধান উপাদান মিথেন।

গ্যাসক্ষেত্র

অবস্থান (জেলা)

আবিষ্কারের সাল

হরিপুর

সিলেট

১৯৫৫ (প্রথম)

ছাতক

সুনামগঞ্জ

১৯৫৯

রশিদপুর

হবিগঞ্জ

১৯৬০

তিতাস

ব্রাহ্মণবাড়িয়া

১৯৬২

হবিগঞ্জ

হবিগঞ্জ

১৯৬৩

বাখরাবাদ

কুমিল্লা

১৯৬৯

সেমুতাং

খাগড়াছড়ি

১৯৬৯

কৈলাশটিলা

সিলেট

১৯৬২

বিয়ানীবাজার

সিলেট

১৯৮১

মাগুরছড়া

মৌলভীবাজার

১৯৮৪

জালালাবাদ

সিলেট

১৯৮৯

সাঙ্গু (অফশোর)

চট্টগ্রাম উপকূল

১৯৯৬

বিবিয়ানা

হবিগঞ্জ

১৯৯৮ — সর্ববৃহৎ

মৌলভীবাজার

মৌলভীবাজার

১৯৯৯

ভোলা

ভোলা

১৯৯৪–১৯৯৫

শাহবাজপুর

ভোলা

১৯৯৫

🇧🇩 জরুরি তথ্য

বাংলাদেশের প্রথম আবিষ্কৃত গ্যাসক্ষেত্র — হরিপুর (সিলেট), ১৯৫৫

বাংলাদেশের সর্ববৃহৎ গ্যাসক্ষেত্র — বিবিয়ানা (হবিগঞ্জ)

বাংলাদেশের একমাত্র অফশোর গ্যাসক্ষেত্র — সাঙ্গু

বাংলাদেশের গ্যাসক্ষেত্রের অধিকাংশই — সিলেট ও চট্টগ্রাম বিভাগে

কয়লাক্ষেত্র

কয়লাক্ষেত্র

অবস্থান (জেলা)

মন্তব্য

বড়পুকুরিয়া

দিনাজপুর (পার্বতীপুর)

একমাত্র চালু কয়লা খনি; ১৯৮৫ আবিষ্কৃত

ফুলবাড়ী

দিনাজপুর

বৃহত্তম মজুদ; বিতর্কিত

খালাশপীর

রংপুর (পীরগঞ্জ)

চালু হয়নি

জামালগঞ্জ

জয়পুরহাট

১৯৬২ আবিষ্কৃত; গভীরতম

দীঘিপাড়া

দিনাজপুর

মজুদ আছে

অন্যান্য খনিজ সম্পদ

খনিজ

প্রধান অবস্থান

ব্যবহার

চুনাপাথর (Limestone)

ছাতক (সুনামগঞ্জ), টেকেরহাট, জয়পুরহাট

সিমেন্ট, চুন

চীনামাটি (China Clay)

বিজয়পুর (নেত্রকোনা), মৌলভীবাজার

মৃৎশিল্প, পোর্সেলিন

সিলিকা বালি (Silica Sand)

শাহজীবাজার, বালিজুড়ি

কাচ শিল্প

কঠিন শিলা (Hard Rock)

মধ্যপাড়া (দিনাজপুর)

নির্মাণ

গ্লাস স্যান্ড

শাহজীবাজার (হবিগঞ্জ)

কাচ তৈরি

পিট কয়লা

ফরিদপুর, বাঘিয়া-চান্দা, খুলনা

নিম্নমান জ্বালানি

সিলিকা স্যান্ড

বালিজুড়ি (জামালপুর)

কাচ ও সিরামিক

খনিজ বালি (ভারী খনিজ)

কক্সবাজার সমুদ্র উপকূল

জিরকন, রুটাইল, মোনাজাইট

ইউরেনিয়াম (অল্প)

মৌলভীবাজার

পারমাণবিক জ্বালানি

📍 মনে রাখার সহজ ম্যাপ

সিলেট-সুনামগঞ্জ অঞ্চল — গ্যাস ও চুনাপাথর

দিনাজপুর-রংপুর অঞ্চল — কয়লা ও কঠিন শিলা

কক্সবাজার উপকূল — খনিজ বালি (Heavy Mineral Sand)

নেত্রকোনা ও বিজয়পুর — চীনামাটি

ময়মনসিংহ-জামালপুর — সিলিকা বালি

ধাতু থেকে উদ্ভূত রোগ ও বিষক্রিয়া

রোগ (Disease)

দায়ী ধাতু / পদার্থ

লক্ষণ ও প্রভাব

মিনামাটা (Minamata)

পারদ (Mercury, Hg)

স্নায়বিক বিকার, পেশী দুর্বলতা; জাপান (১৯৫৬)

ইতাই-ইতাই (Itai-Itai)

ক্যাডমিয়াম (Cd)

হাড়ের ব্যথা, কিডনি বিকল; জাপান

ব্ল্যাকফুট (Black foot)

আর্সেনিক (As)

পায়ের কালো দাগ, পচন, ক্যানসার

আর্সেনিকোসিস

আর্সেনিক (As)

ত্বকে কালো দাগ (মেলানোসিস), ক্যানসার

ফ্লুরোসিস (Fluorosis)

ফ্লুরাইড (F⁻)

দাঁতের ক্ষয়, হাড়ের বিকৃতি

প্লাম্বিজম (Plumbism)

সীসা (Lead, Pb)

মস্তিষ্কে বিষক্রিয়া, রক্তস্বল্পতা, শিশুদের বুদ্ধি কমে

কালো ফুসফুস রোগ

কয়লার গুঁড়া

কয়লা খনির শ্রমিকদের ফুসফুসে কালো দাগ

সিলিকোসিস

সিলিকা ধুলা

ফুসফুসের ক্ষতি; পাথর-কাটার শ্রমিকদের

অ্যাসবেস্টোসিস

অ্যাসবেস্টস

ফুসফুসের ক্ষতি ও ক্যানসার

বেরিলিওসিস

বেরিলিয়াম (Be)

ফুসফুসের প্রদাহ

⚠️ আর্সেনিক — বাংলাদেশের নীরব ঘাতক

বাংলাদেশের অনেক জেলায় ভূগর্ভস্থ পানিতে আর্সেনিকের পরিমাণ বিপজ্জনক মাত্রায় বেশি। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (WHO) মতে নিরাপদ মাত্রা মাত্র ০.০১ mg/L (১০ ppb), কিন্তু বাংলাদেশের অনুমোদিত মাত্রা ০.০৫ mg/L। আর্সেনিক বিষক্রিয়ার ফলাফল — মেলানোসিস, কেরাটোসিস, ক্যানসার এবং অবশেষে মৃত্যু। বরগুনা, চাঁদপুর, ফরিদপুর, ঝিনাইদহ — এসব জেলা সবচেয়ে আক্রান্ত।

গুরুত্বপূর্ণ বিষয় (Key Takeaways)

পুরো অধ্যায়ের সারমর্ম এক জায়গায় — দ্রুত রিভিশনের জন্য:

খনিজ ও আকরিকের পার্থক্য — সব আকরিক খনিজ, কিন্তু সব খনিজ আকরিক নয়

ভূত্বকে সর্বাধিক প্রাপ্ত মৌল — অক্সিজেন; সর্বাধিক ধাতু — অ্যালুমিনিয়াম

পৃথিবীর কেন্দ্রের প্রধান উপাদান — লোহা ও নিকেল

সবচেয়ে হালকা ধাতু — লিথিয়াম; সবচেয়ে ভারী — অসমিয়াম

সবচেয়ে নমনীয় ও ঘাতসহ — সোনা

সর্বোচ্চ গলনাঙ্ক — টাংস্টেন (৩৪২২°C); সর্বনিম্ন — পারদ

সর্বোত্তম পরিবাহী ধাতু — রূপা; তারপর তামা

সাধারণ তাপে তরল ধাতু — পারদ ও গ্যালিয়াম

সাধারণ তাপে তরল অধাতু — ব্রোমিন

সবচেয়ে সক্রিয় ধাতু — সিজিয়াম; সবচেয়ে সক্রিয় অধাতু — ফ্লুরিন

লোহার প্রধান আকরিক — হেমাটাইট, ম্যাগনেটাইট

অ্যালুমিনিয়ামের প্রধান আকরিক — বক্সাইট

তামার প্রধান আকরিক — চ্যালকোপাইরাইট

পারদের প্রধান আকরিক — সিনাবার (HgS)

ইস্পাত = লোহা + কার্বন (০.১৫-১.৫%)

পিতল = তামা + জিঙ্ক

কাঁসা / ব্রোঞ্জ = তামা + টিন

জার্মান সিলভারে কোনো রূপা নেই — শুধু তামা, জিঙ্ক, নিকেল

বাংলাদেশের প্রথম গ্যাসক্ষেত্র — হরিপুর (সিলেট, ১৯৫৫)

বাংলাদেশের সর্ববৃহৎ গ্যাসক্ষেত্র — বিবিয়ানা (হবিগঞ্জ)

একমাত্র চালু কয়লা খনি — বড়পুকুরিয়া (দিনাজপুর)

মিনামাটা রোগ — পারদ; ইতাই-ইতাই — ক্যাডমিয়াম; ব্ল্যাকফুট — আর্সেনিক

পরীক্ষার জন্য সম্ভাব্য প্রশ্ন বিশ্লেষণ

🔥 সবচেয়ে কমন ২০টি ক্ষেত্র (Hot Topics)

ভূত্বকে সর্বাধিক প্রাপ্ত মৌল ও ধাতু

সবচেয়ে হালকা/ভারী/সক্রিয় ধাতু

সবচেয়ে কঠিন/নমনীয়/ঘাতসহ ধাতু

সর্বোত্তম পরিবাহী ধাতু

ধাতু ও তাদের আকরিকের নাম মেলানো

লোহার তিন প্রকার ও বিশুদ্ধতম রূপ

ইস্পাতে কার্বনের পরিমাণ

সংকর ধাতু ও তাদের উপাদান (পিতল, কাঁসা, ডুরালুমিন, জার্মান সিলভার)

জার্মান সিলভারে রূপা আছে কিনা

সাধারণ তাপে তরল ধাতু ও অধাতু

রত্ন পাথরের রাসায়নিক উপাদান (চুনি, পান্না, নীলকান্তমণি)

কয়লার প্রকার ও কার্বন শতকরা

CNG, LPG, LNG-এর প্রধান উপাদান

বাংলাদেশের প্রথম/বৃহত্তম গ্যাসক্ষেত্র

বাংলাদেশের কয়লা খনির অবস্থান

মিনামাটা/ইতাই-ইতাই/ব্ল্যাকফুট রোগের কারণ

আর্সেনিকের নিরাপদ মাত্রা

আঘাতে শব্দ হয় না কোন ধাতুর

চাঁদ/সূর্যের নামে কোন মৌল

সবচেয়ে দুষ্প্রাপ্য ও মূল্যবান ধাতু

মনে রাখার ট্রিকস ও নেমোনিক

খনিজ অধ্যায়ের সবচেয়ে বড় সমস্যা — অনেক নাম মনে রাখা। নিচের ট্রিকগুলো আপনার সাহায্যে আসবে।

ট্রিক ১: ভূত্বকে মৌলের পরিমাণ (অধিক → কম)

“অ-সি-আ-লো-ক্যা-সো-প-ম্যা”

অক্সিজেন → সিলিকন → অ্যালুমিনিয়াম → লোহা → ক্যালসিয়াম → সোডিয়াম → পটাশিয়াম → ম্যাগনেসিয়াম

ট্রিক ২: ধাতুর সক্রিয়তা সিরিজ (অধিক সক্রিয় → কম)

"K Na Ca Mg Al Zn Fe Sn Pb [H] Cu Hg Ag Au Pt"

বাংলায়: “কেন নাচ কর? মাগো, অ্যা লজ্জা পেয়েছ, ফেইসবুকে সিন প্যাচ! H — কপি হয়ে গেলো রূপালি সোনায় প্ল্যাটফর্মে!”

ট্রিক ৩: সাধারণ তাপে তরল মৌল

ধাতু: পারদ ও গ্যালিয়াম → “পা-গা”

অধাতু: ব্রোমিন → “ব্রো” একা তরল

মোট তরল মৌল: ৩টি (Hg, Ga, Br)

ট্রিক ৪: প্রধান সংকর ধাতু — উপাদান

পিতল = তামা + জিঙ্ক → “পি-তামা-জি”

কাঁসা = তামা + টিন → “কাঁ-তামা-টি”

ইস্পাত = লোহা + কার্বন → “ই-লো-কা”

ডুরালুমিন = অ্যাল + কপার + ম্যাগ → “ডু-আ-কপ-ম্যা”

জার্মান সিলভার = তামা + জিঙ্ক + নিকেল → “জা-তা-জি-নি” (কোনো রূপা নেই!)

ট্রিক ৫: ধাতুর চমকপ্রদ “একমাত্র”গুলো

সবচেয়ে হালকা ধাতু — লিথিয়াম ("লি-হা")

সবচেয়ে ভারী ধাতু — অসমিয়াম ("অ-ভা")

সবচেয়ে নমনীয় ধাতু — সোনা

সর্বোচ্চ গলনাঙ্ক — টাংস্টেন

সর্বনিম্ন গলনাঙ্ক — পারদ

সর্বোত্তম পরিবাহী — রূপা

আঘাতে শব্দহীন — অ্যান্টিমনি

সবচেয়ে সক্রিয় — সিজিয়াম/পটাশিয়াম

জলে ভাসমান ধাতু — সোডিয়াম

ট্রিক ৬: বাংলাদেশের প্রথম তিন গ্যাসক্ষেত্র

“হ-ছা-র” → হরিপুর (১৯৫৫) → ছাতক (১৯৫৯) → রশিদপুর (১৯৬০)

সর্ববৃহৎ — বিবিয়ানা (১৯৯৮)

ট্রিক ৭: রোগ ও দায়ী ধাতু

“মি-পা, ই-ক্যাড, ব্ল্যা-আর্স, ফ্লু-ফ্লু, প্লা-সী”

মিনামাটা — পারদ

ইতাই-ইতাই — ক্যাডমিয়াম

ব্ল্যাকফুট — আর্সেনিক

ফ্লুরোসিস — ফ্লুরাইড

প্লাম্বিজম — সীসা (Plumbum = Pb)

বিশেষ নোট ও কনফিউশন দূরীকরণ

📌 বিশেষ নোট ১: ধাতুর প্রতীকের গোপন রহস্য

অনেক ধাতুর প্রতীক ইংরেজি নামের সঙ্গে মেলে না — কারণ এগুলো ল্যাটিন বা গ্রিক নাম থেকে এসেছে:

Fe (Iron) — Ferrum

Cu (Copper) — Cuprum

Ag (Silver) — Argentum

Au (Gold) — Aurum

Hg (Mercury) — Hydrargyrum (তরল রূপা)

Pb (Lead) — Plumbum

Sn (Tin) — Stannum

K (Potassium) — Kalium

Na (Sodium) — Natrium

W (Tungsten) — Wolfram

📌 বিশেষ নোট ২: প্রতিটি ধাতু তরল না কেন?

পারদের ইলেকট্রনিক বিন্যাস বিশেষ — এর 6s² ইলেকট্রন এত শক্তভাবে নিউক্লিয়াসে বাঁধা যে তা ধাতব বন্ধনে অংশ নেয় না। ফলে পারমাণবিক বন্ধন দুর্বল, এবং পারদ সাধারণ তাপেই তরল থাকে। গ্যালিয়ামের গলনাঙ্ক ২৯.৭°C — হাতের তাপেই গলে যায়!

📌 বিশেষ নোট ৩: গ্যালভানাইজেশন বনাম ইলেকট্রোপ্লেটিং

গ্যালভানাইজেশন: লোহার ওপর দস্তা/জিঙ্কের প্রলেপ — মরিচা প্রতিরোধে

ইলেকট্রোপ্লেটিং: তড়িৎ বিশ্লেষণের মাধ্যমে এক ধাতুর ওপর অন্য ধাতুর পাতলা প্রলেপ

পার্থক্য: গ্যালভানাইজেশনে শুধু দস্তা ব্যবহৃত হয়; ইলেকট্রোপ্লেটিং-এ অনেক ধাতু (সোনা, রূপা, ক্রোম)

📌 বিশেষ নোট ৪: ক্যারেট ও সোনার বিশুদ্ধতা

২৪ ক্যারেট = ১০০% খাঁটি সোনা (নরম, গহনায় উপযুক্ত নয়)

২২ ক্যারেট = ৯১.৬% সোনা + ৮.৪% অন্য ধাতু (গহনায় ব্যবহৃত)

১৮ ক্যারেট = ৭৫% সোনা

১৪ ক্যারেট = ৫৮.৩% সোনা

সূত্র: ক্যারেট ÷ ২৪ × ১০০ = শতকরা সোনার পরিমাণ

📌 বিশেষ নোট ৫: রাজঅম্ল (Aqua Regia)

৩ অংশ গাঢ় হাইড্রোক্লোরিক অ্যাসিড (HCl) + ১ অংশ গাঢ় নাইট্রিক অ্যাসিড (HNO₃) — এই মিশ্রণের নাম রাজঅম্ল বা Aqua Regia। এটি একমাত্র অম্ল যা সোনা ও প্লাটিনামকে দ্রবীভূত করতে পারে। নাম “Aqua Regia” এসেছে ল্যাটিন থেকে — অর্থ “রাজার জল”, কারণ এটি ধাতুর রাজা সোনাকেও হার মানাতে পারে।

সতর্কতা — সাধারণ ভুলসমূহ

⚠️ ভুল ১: ভূত্বকে সর্বাধিক ধাতু = লোহা?

না! সর্বাধিক ধাতু অ্যালুমিনিয়াম (~৮%)। লোহা চতুর্থ স্থানে (~৫%)। অনেকে ভাবে লোহা সবচেয়ে বেশি — এটা ভুল।

⚠️ ভুল ২: সবচেয়ে মূল্যবান ধাতু = সোনা?

না! সোনা মূল্যবান, কিন্তু সবচেয়ে দামি নয়। ক্যালিফোর্নিয়াম, রোডিয়াম, প্লাটিনাম — এগুলো আরও দামি। ক্যালিফোর্নিয়াম ১ গ্রাম মূল্য প্রায় ২৭ মিলিয়ন ডলার!

⚠️ ভুল ৩: জার্মান সিলভারে রূপা থাকে?

না! জার্মান সিলভারে কোনো রূপা নেই — শুধু তামা, জিঙ্ক ও নিকেল। নামটা বিভ্রান্তিকর — রঙের কারণে এই নাম।

⚠️ ভুল ৪: পেন্সিলের সীস = সীসা (Lead)?

না! পেন্সিলের কালো অংশটি গ্রাফাইট। ঐতিহাসিক কারণে নামটা “lead” রয়ে গেছে।

⚠️ ভুল ৫: সবচেয়ে হালকা মৌল ≠ সবচেয়ে হালকা ধাতু

সবচেয়ে হালকা মৌল হাইড্রোজেন (গ্যাস)। কিন্তু হাইড্রোজেন ধাতু নয়। সবচেয়ে হালকা ধাতু লিথিয়াম।

⚠️ ভুল ৬: পারদ ও মার্কারি — দুটো আলাদা?

না! পারদ, মার্কারি, কুইকসিলভার, হাইড্রার্জিরাম — সবগুলো একই ধাতুর (Hg) ভিন্ন নাম।

⚠️ ভুল ৭: ক্রোমিয়ামের প্রলেপ = গ্যালভানাইজেশন?

না! গ্যালভানাইজেশন বিশেষভাবে জিঙ্ক/দস্তার প্রলেপকে বোঝায়। ক্রোমিয়ামের প্রলেপ আলাদা — তাকে ক্রোম-প্লেটিং বলে।

Q&A

ক) ধাতু ও অধাতু — চরম মান

প্রশ্ন: সবচেয়ে হালকা ধাতু কোনটি?

উত্তর: লিথিয়াম (Li)।

প্রশ্ন: সবচেয়ে ভারী ধাতু কোনটি?

উত্তর: অসমিয়াম (Os)।

প্রশ্ন: সবচেয়ে হালকা মৌল কোনটি?

উত্তর: হাইড্রোজেন (H)।

প্রশ্ন: সবচেয়ে ভারী মৌলিক গ্যাস কোনটি?

উত্তর: রেডন (Rn)।

প্রশ্ন: সবচেয়ে মূল্যবান ধাতু কোনটি?

উত্তর: ক্যালিফোর্নিয়াম (Cf), প্লাটিনাম (Pt)।

প্রশ্ন: সবচেয়ে ঘাতসহ ধাতু কোনটি?

উত্তর: সোনা (Au)।

প্রশ্ন: সবচেয়ে নমনীয় ধাতু কোনটি?

উত্তর: সোনা (Au)।

প্রশ্ন: সবচেয়ে উচ্চ গলনাঙ্ক বিশিষ্ট ধাতু?

উত্তর: টাংস্টেন (W) — ৩৪২২°C।

প্রশ্ন: সবচেয়ে নিম্ন গলনাঙ্ক বিশিষ্ট ধাতু?

উত্তর: পারদ (Hg)।

প্রশ্ন: সবচেয়ে সক্রিয় ধাতু কোনটি?

উত্তর: সিজিয়াম (Cs)।

প্রশ্ন: সবচেয়ে সক্রিয় অধাতু কোনটি?

উত্তর: ফ্লুরিন (F)।

প্রশ্ন: সর্বাপেক্ষা তড়িৎ ধনাত্মক মৌল কোনটি?

উত্তর: সিজিয়াম (Cs)।

প্রশ্ন: সবচেয়ে বেশি আপেক্ষিক তাপ বিশিষ্ট পদার্থ?

উত্তর: জল (H₂O)।

প্রশ্ন: সবচেয়ে ভালো বিদ্যুৎ পরিবাহী পদার্থ?

উত্তর: সিলভার / রূপা (Ag)।

প্রশ্ন: কোন ধাতু সাধারণ তাপমাত্রায় তরল?

উত্তর: পারদ (Hg) এবং গ্যালিয়াম (Ga)।

প্রশ্ন: কোন অধাতু সাধারণ তাপমাত্রায় তরল?

উত্তর: ব্রোমিন (Br)।

প্রশ্ন: সবচেয়ে ভারী তরল পদার্থ কোনটি?

উত্তর: পারদ (Hg)।

প্রশ্ন: কোন ধাতু জলে ভাসে?

উত্তর: সোডিয়াম (Na)।

প্রশ্ন: কোন ধাতুর উপর আঘাত করলে শব্দ হয় না?

উত্তর: অ্যান্টিমনি (Sb)।

প্রশ্ন: ছুরি দিয়ে সহজে কাটা যায় কোন ধাতু?

উত্তর: সোডিয়াম (Na)।

প্রশ্ন: কোন অধাতু তাপ ও বিদ্যুৎ পরিবহনে সক্ষম?

উত্তর: গ্রাফাইট।

প্রশ্ন: কোন অধাতু বিদ্যুৎ অর্ধপরিবাহী?

উত্তর: সিলিকন (Si)।

প্রশ্ন: প্রকৃতির সবচেয়ে শক্ত পদার্থ কোনটি?

উত্তর: হীরক।

প্রশ্ন: চাঁদের নামে নামকরণ করা মৌল কোনটি?

উত্তর: সেলেনিয়াম (Selenium)।

প্রশ্ন: সূর্যের নামে নামকরণ করা মৌল কোনটি?

উত্তর: হিলিয়াম (Helium)।

খ) ধাতু ও আকরিক

প্রশ্ন: অ্যালুমিনিয়ামের প্রধান আকরিকের নাম কী?

উত্তর: বক্সাইট।

প্রশ্ন: লোহার প্রধান আকরিক কোনটি?

উত্তর: হেমাটাইট ও ম্যাগনেটাইট।

প্রশ্ন: তামার প্রধান আকরিকের নাম কী?

উত্তর: চ্যালকোপাইরাইট / কপার পাইরাইট।

প্রশ্ন: পারদের প্রধান আকরিক কী?

উত্তর: সিনাবার (HgS)।

প্রশ্ন: জিঙ্কের প্রধান আকরিক কী?

উত্তর: জিঙ্কব্লেন্ড (ZnS)।

প্রশ্ন: সীসার প্রধান আকরিক কী?

উত্তর: গ্যালেনা (PbS)।

প্রশ্ন: টিনের প্রধান আকরিক কী?

উত্তর: ক্যাসিটারাইট (SnO₂)।

প্রশ্ন: ইউরেনিয়ামের প্রধান আকরিক কী?

উত্তর: পিচব্লেন্ড (UO₂)।

প্রশ্ন: ম্যাঙ্গানিজের প্রধান আকরিক কী?

উত্তর: পাইরোলুসাইট (MnO₂)।

প্রশ্ন: প্রকৃতিতে মুক্ত অবস্থায় কোন ধাতু পাওয়া যায়?

উত্তর: সোনা, প্লাটিনাম, রূপা।

গ) সংকর ধাতু (Alloys)

প্রশ্ন: ইস্পাত তৈরিতে লোহার সঙ্গে কী মেশানো হয়?

উত্তর: কার্বন।

প্রশ্ন: ইস্পাতে কার্বনের শতকরা পরিমাণ কত?

উত্তর: ০.১৫% – ১.৫%।

প্রশ্ন: পিতল কী কী ধাতুর সংকর?

উত্তর: তামা + জিঙ্ক।

প্রশ্ন: কাঁসা / ব্রোঞ্জ কী কী ধাতুর সংকর?

উত্তর: তামা + টিন।

প্রশ্ন: ডুরালুমিন কী কী ধাতুর সংকর?

উত্তর: অ্যালুমিনিয়াম + তামা + ম্যাগনেসিয়াম।

প্রশ্ন: জার্মান সিলভারে কোন কোন ধাতু থাকে?

উত্তর: তামা + জিঙ্ক + নিকেল (কোনো রূপা নেই!)।

প্রশ্ন: সোলডারে (Solder) কী কী থাকে?

উত্তর: টিন + সীসা।

প্রশ্ন: টাইপ মেটাল কী?

উত্তর: সীসা + অ্যান্টিমনি + টিন (মুদ্রণ অক্ষর তৈরিতে)।

প্রশ্ন: স্টেইনলেস স্টিলে কী কী থাকে?

উত্তর: লোহা + ক্রোমিয়াম + নিকেল।

প্রশ্ন: নিক্রোম কী?

উত্তর: নিকেল + ক্রোমিয়াম + লোহার সংকর; হিটারের তারে ব্যবহৃত।

প্রশ্ন: অ্যামালগাম কী?

উত্তর: পারদের সঙ্গে অন্য ধাতুর সংকর।

প্রশ্ন: উড়োজাহাজের খোলস তৈরি হয় কী দিয়ে?

উত্তর: ডুরালুমিন (অ্যালুমিনিয়াম)।

প্রশ্ন: লোহার উপর দস্তার প্রলেপ দেওয়াকে কী বলে?

উত্তর: গ্যালভানাইজেশন।

প্রশ্ন: লোহার তিন প্রকার কী কী?

উত্তর: পিগ আয়রন, কাস্ট আয়রন, রট আয়রন।

প্রশ্ন: বিশুদ্ধতম লোহা কোনটি?

উত্তর: রট আয়রন (Wrought Iron) — কার্বন ০.১% এর কম।

ঘ) ভূত্বক ও খনিজ

প্রশ্ন: ভূত্বকে সর্বাধিক প্রাপ্ত মৌল কোনটি?

উত্তর: অক্সিজেন (~৪৬%)।

প্রশ্ন: ভূত্বকে সর্বাধিক প্রাপ্ত ধাতু কোনটি?

উত্তর: অ্যালুমিনিয়াম।

প্রশ্ন: পৃথিবীর কেন্দ্রের প্রধান উপাদান কী?

উত্তর: লোহা ও নিকেল।

প্রশ্ন: পৃথিবীর চৌম্বকক্ষেত্রের উৎস কী?

উত্তর: তরল লোহা ও নিকেল (বহিঃকেন্দ্র)।

প্রশ্ন: রক্তের লোহিত কণিকার লোহার যৌগের নাম কী?

উত্তর: হিমোগ্লোবিন।

প্রশ্ন: ক্লোরোফিলে কোন ধাতু থাকে?

উত্তর: ম্যাগনেসিয়াম।

প্রশ্ন: কেলিফর্নিয়ামের ১ গ্রামের দাম প্রায় কত?

উত্তর: ২৭ মিলিয়ন মার্কিন ডলার।

ঙ) রত্ন পাথর ও মূল্যবান খনিজ

প্রশ্ন: হীরা কিসের বিশুদ্ধ রূপ?

উত্তর: কার্বনের।

প্রশ্ন: চুনি / রুবি কীসের যৌগ?

উত্তর: অ্যালুমিনিয়ামের যৌগ (Al₂O₃ + Cr)।

প্রশ্ন: পান্না কী?

উত্তর: বেরিল — Be₃Al₂(SiO₃)₆।

প্রশ্ন: নীলকান্তমণি / স্যাফায়ার কীসের যৌগ?

উত্তর: অ্যালুমিনিয়ামের যৌগ।

প্রশ্ন: মুক্তায় ক্যালসিয়াম কার্বনেট কত শতাংশ?

উত্তর: ৮৮–৯০%।

প্রশ্ন: ২৪ ক্যারেট সোনা মানে কী?

উত্তর: ১০০% খাঁটি সোনা।

প্রশ্ন: ২২ ক্যারেট সোনায় শতকরা কত ভাগ সোনা?

উত্তর: ৯১.৬%।

প্রশ্ন: রাজঅম্ল (Aqua Regia) কাকে বলে?

উত্তর: ৩ অংশ গাঢ় HCl + ১ অংশ গাঢ় HNO₃।

চ) জ্বালানি খনিজ ও গ্যাস

প্রশ্ন: কয়লার মূল উপাদান কী?

উত্তর: কার্বন।

প্রশ্ন: কার্বন সবচেয়ে বেশি কোন কয়লায়?

উত্তর: অ্যানথ্রাসাইট (৯০%+)।

প্রশ্ন: পিট কয়লার বৈশিষ্ট্য কী?

উত্তর: নরম ও ভেজা।

প্রশ্ন: CNG-এর প্রধান উপাদান কী?

উত্তর: মিথেন (CH₄)।

প্রশ্ন: LPG-এর প্রধান উপাদান কী?

উত্তর: বিউটেন (C₄H₁₀)।

প্রশ্ন: বায়োগ্যাসের প্রধান উপাদান কী?

উত্তর: মিথেন।

প্রশ্ন: ওয়াটার গ্যাস কী?

উত্তর: CO + H₂।

প্রশ্ন: প্রোডিউসার গ্যাস কী?

উত্তর: CO + N₂।

প্রশ্ন: মার্শ গ্যাস কী?

উত্তর: মিথেন।

ছ) বাংলাদেশের খনিজ সম্পদ

প্রশ্ন: বাংলাদেশের প্রথম আবিষ্কৃত গ্যাসক্ষেত্র কোনটি?

উত্তর: হরিপুর, সিলেট (১৯৫৫)।

প্রশ্ন: বাংলাদেশের সর্ববৃহৎ গ্যাসক্ষেত্র কোনটি?

উত্তর: বিবিয়ানা, হবিগঞ্জ।

প্রশ্ন: বাংলাদেশের একমাত্র অফশোর গ্যাসক্ষেত্র কোনটি?

উত্তর: সাঙ্গু।

প্রশ্ন: বাংলাদেশের একমাত্র চালু কয়লা খনি কোথায়?

উত্তর: বড়পুকুরিয়া, দিনাজপুর।

প্রশ্ন: কঠিন শিলার খনি কোথায়?

উত্তর: মধ্যপাড়া, দিনাজপুর।

প্রশ্ন: চীনামাটি পাওয়া যায় কোথায়?

উত্তর: বিজয়পুর, নেত্রকোনা।

প্রশ্ন: সিলিকা বালি পাওয়া যায় কোথায়?

উত্তর: শাহজীবাজার (হবিগঞ্জ), বালিজুড়ি।

প্রশ্ন: চুনাপাথরের প্রধান উৎস কোথায়?

উত্তর: ছাতক, সুনামগঞ্জ।

প্রশ্ন: কক্সবাজার সমুদ্র উপকূলে কী পাওয়া যায়?

উত্তর: খনিজ বালি / Heavy Mineral Sand।

জ) ধাতু-জনিত রোগ

প্রশ্ন: মিনামাটা রোগ কোন ধাতুর কারণে হয়?

উত্তর: পারদ (Mercury)।

প্রশ্ন: ইতাই-ইতাই রোগ কোন ধাতুর কারণে হয়?

উত্তর: ক্যাডমিয়াম।

প্রশ্ন: ব্ল্যাকফুট রোগ কীসের কারণে হয়?

উত্তর: আর্সেনিক।

প্রশ্ন: ফ্লুরোসিস রোগ কীসের কারণে হয়?

উত্তর: ফ্লুরাইড দূষণ।

প্রশ্ন: কালো ফুসফুস রোগ কাদের হয়?

উত্তর: কয়লা খনির শ্রমিকদের।

প্রশ্ন: সিলিকোসিস রোগ কীসের কারণে?

উত্তর: সিলিকা ধুলো।

প্রশ্ন: WHO-এর মতে পানিতে আর্সেনিকের নিরাপদ মাত্রা কত?

উত্তর: প্রতি লিটারে ০.০১ mg।

প্রশ্ন: বাংলাদেশের অনুমোদিত আর্সেনিক মাত্রা কত?

উত্তর: প্রতি লিটারে ০.০৫ mg।

প্রশ্ন: আর্সেনিক বিষক্রিয়ায় ত্বকের কোন রোগ হয়?

উত্তর: মেলানোসিস।

প্রশ্ন: সীসা বিষক্রিয়াকে কী বলে?

উত্তর: প্লাম্বিজম।

ঝ) বিবিধ

প্রশ্ন: ক্যালসিয়াম কার্বনেটের রাসায়নিক সংকেত কী?

উত্তর: CaCO₃।

প্রশ্ন: খাওয়ার লবণের রাসায়নিক নাম কী?

উত্তর: সোডিয়াম ক্লোরাইড (NaCl)।

প্রশ্ন: গাড়ির ব্যাটারিতে কোন অ্যাসিড ব্যবহৃত হয়?

উত্তর: সালফিউরিক অ্যাসিড।

প্রশ্ন: টুথপেস্টে দাঁত পরিষ্কারে কোন যৌগ?

উত্তর: ক্যালসিয়াম কার্বনেট।

প্রশ্ন: জিপসামের রাসায়নিক নাম কী?

উত্তর: ক্যালসিয়াম সালফেট।

প্রশ্ন: কুইক লাইম কী?

উত্তর: ক্যালসিয়াম অক্সাইড (CaO)।

প্রশ্ন: চুনের জল কী?

উত্তর: ক্যালসিয়াম হাইড্রক্সাইড।

প্রশ্ন: প্লাস্টার অব প্যারিস কী?

উত্তর: ক্যালসিয়াম সালফেট পাউডার।

প্রশ্ন: স্বর্ণকারের কারখানা থেকে কোন গ্যাস বের হয়?

উত্তর: নাইট্রোজেন ডাইঅক্সাইড (NO₂)।

প্রশ্ন: কাচ তৈরির প্রধান কাঁচামাল কী?

উত্তর: বালি / সিলিকা।

প্রশ্ন: ফিটকিরির রাসায়নিক নাম কী?

উত্তর: পটাশ অ্যালাম।

প্রশ্ন: শুষ্ক বরফ (Dry Ice) কী?

উত্তর: কঠিন কার্বন ডাই অক্সাইড।

— সমাপ্ত —

Review this chapter

You Can Also Read

Chapters closely related to the one you are reading now.

খাদ্য ও পুষ্টি

No reviews
0 students
Read chapter

কার্বনের বহুমুখী ব্যবহার

No reviews
0 students
Read chapter

চিকিৎসাবিজ্ঞানী ও আবিষ্কার

No reviews
0 students
Read chapter

Most Read by Students

Popular picks getting the strongest student traffic right now.

অসহযোগ আন্দোলন (মার্চ ১৯৭১)

No reviews
1 student
Read chapter

নদী, সেতু, পাহাড়, দ্বীপ, বন, সমুদ্রবন্দর

No reviews
1 student
Read chapter

বাংলা ভাষার রীতি

No reviews
1 student
Read chapter

Others Who Read This Also Read

Behavior-based suggestions from student reading patterns where available.

খাদ্য ও পুষ্টি

No reviews
0 students
Read chapter

কার্বনের বহুমুখী ব্যবহার

No reviews
0 students
Read chapter

চিকিৎসাবিজ্ঞানী ও আবিষ্কার

No reviews
0 students
Read chapter

Best Reviewed

Chapters earning the strongest student feedback.

খাদ্য ও পুষ্টি

No reviews
0 students
Read chapter

কার্বনের বহুমুখী ব্যবহার

No reviews
0 students
Read chapter

চিকিৎসাবিজ্ঞানী ও আবিষ্কার

No reviews
0 students
Read chapter

Course Suggestions

Want a more guided path after this chapter? These courses are the closest fit.

Browse all courses
Learner fit৳1,999

Bangla

Bangla Language Mastery

Popular with BCS learners who want guided study.

6 lessons8.5h4.9 (186)1.3K students

By Sadia Rahman

View course
Learner fit৳2,999

Platform Building

Teacher Marketplace Blueprint

Popular with BCS learners who want guided study.

5 lessons6.8h4.9 (28)410 students

By Sadia Rahman

View course
FreeFree

English

Admission English Playbook

Free guided course with lessons you can jump into anytime.

4 lessons4.2h4.8 (91)2.8K students

By Rayan Akter

View course