বাংলাদেশ ও বৈশ্বিক পরিবেশ পরিবর্তন

Chapter Activity

Rating
New / 5
Reviews
0
Read Sessions
0
Readers
0

বাংলাদেশ বৈশ্বিক পরিবেশ পরিবর্তন

জলবায়ু পরিবর্তন, গ্রিনহাউস প্রভাব, ওজোন স্তর, আন্তর্জাতিক চুক্তি, বাংলাদেশের ঝুঁকি অভিযোজন

সারসংক্ষেপ

বৈশ্বিক পরিবেশ পরিবর্তন বলতে পৃথিবীর জলবায়ু ব্যবস্থায় দীর্ঘমেয়াদী পরিবর্তনকে বোঝায়, যা প্রাকৃতিক কারণে বা মানবসৃষ্ট গ্রিনহাউস ্যাস নির্গমনের ফলে ঘটছে IPCC AR6 (২০২১-২০২৩) অনুযায়ী গত ১০০ বছরে বৈশ্বিক গড় তাপমাত্রা প্রায় . ডিগ্রি সেলসিয়াস বেড়েছে এবং প্রাক-শিল্প যুগের তুলনায় CO₂ ঘনত্ব ২৮০ ppm থেকে ৪২১ ppm- পৌঁছেছে (২০২৩) বাংলাদেশ বৈশ্বিক CO₂ নির্গমনে মাত্র . শতাংশ অবদান রাখলেও জলবায়ু পরিবর্তনের ক্ষতির শিকার শীর্ষ দেশগুলোর একটি (Germanwatch CRI ২০২১: ৭ম) সমুদ্রপৃষ্ঠ বৃদ্ধি, ঘূর্ণিঝড়ের তীব্রতা বৃদ্ধি, বন্যা, খরা, লবণাক্ততা নদীভাঙন বাংলাদেশের প্রধান জলবায়ু ঝুঁকি

প্রেক্ষাপট আলোচনা

জলবায়ু পরিবর্তন (Climate Change) বলতে পৃথিবীর জলবায়ু ব্যবস্থায় পরিসংখ্যানগতভাবে তাৎপর্যপূর্ণ দীর্ঘমেয়াদী (ন্যূনতম ৩০ বছর) পরিবর্তনকে বোঝায় UNFCCC (United Nations Framework Convention on Climate Change) অনুযায়ী জলবায়ু পরিবর্তনের প্রধান কারণ মানবসৃষ্ট গ্রিনহাউস গ্যাস নির্গমন, বিশেষত জীবাশ্ম জ্বালানি (কয়লা, তেল, গ্যাস) পোড়ানো, বনভূমি ধ্বংস এবং শিল্প প্রক্রিয়া শিল্পবিপ্লবের (১৭৫০) পর থেকে বায়ুমণ্ডলে CO₂ ঘনত্ব ৫০ শতাংশ বেড়েছে, মিথেন (CH₄) ১৫০ শতাংশ এবং নাইট্রাস অক্সাইড (N₂O) ২০ শতাংশ বেড়েছে

IPCC (Intergovernmental Panel on Climate Change) ১৯৮৮ সালে WMO UNEP দ্বারা প্রতিষ্ঠিত হয় এটি জলবায়ু পরিবর্তন বিষয়ে বিশ্বের সবচেয়ে কর্তৃত্বপূর্ণ বৈজ্ঞানিক সংস্থা IPCC AR6 (Sixth Assessment Report, ২০২১-২০২৩) অনুযায়ী: বর্তমান নির্গমন হারে ২১০০ সাল নাগাদ বৈশ্বিক তাপমাত্রা . থেকে . ডিগ্রি সেলসিয়াস বাড়তে পারে; সমুদ্রপৃষ্ঠ .২৮ থেকে .০১ মিটার বৃদ্ধি পাবে; চরম আবহাওয়ার ঘটনা (তাপদাহ, বন্যা, ঘূর্ণিঝড়) আরো ঘন ঘন তীব্র হবে ২০০৭ সালে IPCC মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক উপরাষ্ট্রপতি আল গোর যৌথভাবে শান্তিতে নোবেল পুরস্কার পান

বাংলাদেশ জলবায় পরিবর্তনের সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ দেশগুলোর একটি কারণ: () নিচু -দ্বীপ ভূমি (গড় উচ্চতা মিটার), () দীর্ঘ উপকূলরেখা (৭১১ কিমি), () উচ্চ জনসংখ্যা ঘনত্ব (,১১৯/বর্গকিমি), () কৃষিনির্ভর অর্থনীতি (মোট কর্মসংস্থানের ৪০%), () উজানের পানিপ্রবাহের উপর নির্ভরশীলতা (৯২% মিঠাপানি উজান থেকে আসে) সংবিধানের অনুচ্ছেদ ১৮ক (১৫তম সংশোধনী ২০১১) পরিবেশ জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণকে রাষ্ট্রের দায়িত্ব ঘোষণা করেছে

📦 সংজ্ঞা বক্স: জলবায়ু পরিবর্তনের মূল পরিভাষা

জলবায়ু পরিবর্তন (Climate Change): পৃথিবীর জলবায়ু ব্যবস্থায় দীর্ঘমেয়াদী পরিবর্তন; UNFCCC অনুযায়ী মূলত মানবসৃষ্ট গ্রিনহাউস গ্যাস নির্গমনের ফল

গ্রিনহাউস প্রভাব (Greenhouse Effect): বায়ুমণ্ডলীয় গ্যাস (CO₂, CH₄, N₂O) পৃথিবীর বিকিরিত তাপ আটকে রাখার প্রক্রিয়া; গ্রিনহাউস প্রভাব ছাড়া পৃথিবীর তাপমাত্রা হতো -১৮°C

বৈশ্বিক উষ্ণায়ন (Global Warming): গ্রিনহাউস গ্যাস বৃদ্ধির কারণে পৃথিবীর গড় তাপমাত্রা ক্রমাগত বৃদ্ধি পাওয়া

অভিযোজন (Adaptation): জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবের সাথে খাপ খাওয়ানো (যেমন: বাঁধ নির্মাণ, লবণসহিষ্ণু ফসল)

প্রশমন (Mitigation): গ্রিনহাউস গ্যাস নির্গমন কমানো (যেমন: নবায়নযোগ্য শক্তি, বনায়ন)

Carbon Footprint: একটি ব্যক্তি, সংস্থা বা পণ্যের কার্যক্রমে যে পরিমাণ CO₂ নির্গত হয়

Net Zero: CO₂ নির্গমন শোষণের সমতা; বৈশ্বিক লক্ষ্য ২০৫০ সালের মধ্যে

Loss and Damage: জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে যে ক্ষতি অভিযোজনেও এড়ানো যায় না

Climate Justice: জলবায়ু পরিবর্তনে সবচেয়ে কম দায়ী দেশগুলো সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত; এই অসমতার নৈতিক দিক

গ্রিনহাউস গ্যাস: প্রকারভেদ প্রভাব

গ্রিনহাউস গ্যাস (Greenhouse Gas, GHG) পৃথিবীর বায়ুমণ্ডলে তাপ আটকে রাখে প্রধান গ্রিনহাউস গ্যাসগুলো হলো কার্বন ডাই-অক্সাইড (CO₂), মিথেন (CH₄), নাইট্রাস অক্সাইড (N₂O), ক্লোরোফ্লুরোকার্বন (CFC/HCFC), হাইড্রোফ্লুরোকার্বন (HFC) এবং সালফার হেক্সাফ্লোরাইড (SF₆) জলীয় বাষ্প (Water Vapor) প্রাকৃতিকভাবে সবচেয়ে বেশি পরিমাণে থাকা গ্রিনহাউস গ্যাস, তবে মানবসৃষ্ট গ্রিনহাউস গ্যাসের মধ্যে CO₂ সবচেয়ে বেশি নির্গত হয় এবং বৈশ্বিক উষ্ণায়নের প্রধান কারণ

গ্রিনহাউস গ্যাস

রাসায়নিক সূত্র

GWP (CO₂=)

বায়ুমণ্ডলে স্থায়িত্ব

প্রধান উৎস

কার্বন ডাই-অক্সাইড

CO₂

৩০০-,০০০ বছর

জীবাশ্ম জ্বালানি, বনভূমি ধ্বংস

মিথেন

CH₄

২৫

১২ বছর

ধানক্ষেত, গবাদিপশু, ল্যান্ডফিল, প্রাকৃতিক গ্যাস

নাইট্রাস অক্সাইড

N₂O

২৯৮

১১৪ বছর

কৃষি (সার), শিল্প, যানবাহন

CFC-12

CCl₂F₂

১০,৯০০

১০০ বছর

রেফ্রিজারেটর, এয়ার কন্ডিশনার (নিষিদ্ধ)

HFC-134a

C₂H₂F₄

,৪৩০

১৩ বছর

CFC-এর বিকল্প; শীতাতপ নিয়ন্ত্রণ

SF₆

SF₆

২২,৮০০

,২০০ বছর

বৈদ্যুতিক সরঞ্জাম; সর্বোচ্চ GWP

জলীয় বাষ্প

H₂O

পরিবর্তনশীল

দিন-সপ্তাহ

প্রাকৃতিক বাষ্পীভবন; মানবসৃষ্ট নয়

GWP (Global Warming Potential) কী?

GWP হলো কোনো গ্রিনহাউস গ্যাসের CO₂-এর তুলনায় তাপ আটকানোর ক্ষমতা CO₂-এর GWP = (ভিত্তি)

মিথেনের GWP ২৫: অর্থাৎ টন মিথেন = ২৫ টন CO₂-এর সমান উষ্ণায়ন প্রভাব

SF₆-এর GWP ২২,৮০০: সবচেয়ে শক্তিশালী গ্রিনহাউস গ্যাস

বায়ুমণ্ডলে CO₂ ঘনত্ব: প্রাক-শিল্প ২৮০ ppm; বর্তমান ৪২১ ppm (NOAA ২০২৩)

গ্রিনহাউস প্রভাব না থাকলে পৃথিবীর গড় তাপমাত্রা হতো -১৮°C (বর্তমান +১৫°C)

বায়ুমণ্ডলের স্তরবিন্যাস

বায়ুমণ্ডল পৃথিবীর চারপাশে গ্যাসের আবরণ, যা পৃথিবীকে সূর্যের ক্ষতিকর রশ্মি থেকে রক্ষা করে এবং তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণ করে বায়ুমণ্ডলের প্রধান উপাদান: নাইট্রোজেন (৭৮.০৯%), অক্সিজেন (২০.৯৫%), আর্গন (.৯৩%), CO₂ (.০৪%) বায়ুমণ্ডলকে পাঁচটি প্রধান স্তরে ভাগ করা হয়

স্তর

উচ্চতা (কিমি)

তাপমাত্রা বৈশিষ্ট্য

গুরুত্বপূর্ণ বৈশিষ্ট্য

ট্রপোস্ফিয়ার (Troposphere)

-১২ (গড়)

উচ্চতায় হ্রাস (.°C/কিমি)

আবহাওয়ার সকল ঘটনা; মেঘ, বৃষ্টি, বজ্রপাত; মানুষের বাস

স্ট্র্যাটোস্ফিয়ার (Stratosphere)

১২-৫০

উচ্চতায় বৃদ্ধি (ওজোনের কারণে)

ওজোন স্তর (১৫-৩০ কিমি); বিমান চলাচল; UV শোষণ

মেসোস্ফিয়ার (Mesosphere)

৫০-৮০

উচ্চতায় হ্রাস

উল্কা দগ্ধ হয়; সবচেয়ে ঠান্ডা স্তর (-৯০°C)

থার্মোস্ফিয়ার (Thermosphere)

৮০-৭০০

উচ্চতায় দ্রুত বৃদ্ধি

মেরুজ্যোতি (Aurora); কৃত্রিম উপগ্রহ; আয়নোস্ফিয়ার এখানে

এক্সোস্ফিয়ার (Exosphere)

৭০০-১০,০০০

অত্যন্ত উচ্চ

মহাকাশের সীমানা; গ্যাস অণু মহাকাশে বিলীন

ট্রপোস্ফিয়ার স্ট্র্যাটোস্ফিয়ারের সীমানাকে ট্রপোপজ (Tropopause) বলে ট্রপোস্ফিয়ারে প্রতি কিলোমিটার উচ্চতা বৃদ্ধিতে গড় তাপমাত্রা . ডিগ্রি সেলসিয়াস হ্রাস পায়, একে Normal Lapse Rate বলে স্ট্র্যাটোস্ফিয়ারে তাপমাত্রা বৃদ্ধি পায় কারণ ওজোন স্তর অতিবেগুনি রশ্মি (UV) শোষণ করে তাপ উৎপন্ন করে ট্রপোস্ফিয়ারে কখনো কখনো উচ্চতা বৃদ্ধির সাথে তাপমাত্রা হ্রাস না পেয়ে বৃদ্ধি পায়, একে তাপমাত্রার উৎক্রম (Temperature Inversion) বলে, যা ধোঁয়াশা (Smog) সৃষ্টি করে

ওজোন স্তর ক্ষয়

ওজোন স্তর (Ozone Layer) স্ট্র্যাটোস্ফিয়ারে ১৫ থেকে ৩০ কিলোমিটার উচ্চতায় অবস্থিত ওজোন (O₃) অণু সূর্যের ক্ষতিকর অতিবেগুনি রশ্মি (UV-B) শোষণ করে পৃথিবীকে রক্ষা করে ওজোন পরিমাপের একক ডবসন ইউনিট (Dobson Unit, DU); স্বাভাবিক পরিমাণ ৩০০ DU ১৯৮৫ সালে ব্রিটিশ বিজ্ঞানী জোসেফ ফার্মান (Joseph Farman) তার দল অ্যান্টার্কটিকার উপরে ওজোন গর্ত (Ozone Hole) আবিষ্কার করেন ওজোন ক্ষয়ের প্রধান কারণ CFC (ক্লোরোফ্লুরোকার্বন, বাণিজ্যিক নাম ফ্রেয়ন/Freon) একটি CFC অণু প্রায় ,০০,০০০ ওজোন অণু ধ্বংস করতে সক্ষম

মন্ট্রিল প্রোটোকল (Montreal Protocol, ১৬ সেপ্টেম্বর ১৯৮৭, কানাডা) CFC অন্যান্য ওজোন ক্ষয়কারী পদার্থ (ODS) নিয়ন্ত্রণের জন্য স্বাক্ষরিত হয় এটি পরিবেশ সংরক্ষণে সবচেয়ে সফল আন্তর্জাতিক চুক্তি হিসেবে বিবেচিত; ১৯৮ দেশ অনুমোদন করেছে (সর্বজনীন) মন্ট্রিল প্রোটোকলের কিগালি সংশোধনী (Kigali Amendment, ২০১৬) HFC (হাইড্রোফ্লুরোকার্বন) হ্রাসের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে বিজ্ঞানীদের পূর্বাভাস: ওজোন স্তর ২০৫৮ থেকে ২০৬৫ সালের মধ্যে ১৯৮০-এর স্তরে ফিরে আসবে বিশ্ব ওজোন দিবস: ১৬ সেপ্টেম্বর (মন্ট্রিল প্রোটোকল স্বাক্ষরের তারিখ)

আন্তর্জাতিক পরিবেশ জলবায়ু চুক্তিসমূ

চুক্তি/সম্মেলন

স্থান সাল

মূল বিধান

বাংলাদেশের অবস্থান

স্টকহোম সম্মেলন

সুইডেন, ১৯৭২

প্রথম পরিবেশ সম্মেলন; UNEP গঠন; জুন বিশ্ব পরিবেশ দিবস

বাংলাদেশ অংশগ্রহণকারী

মন্ট্রিল প্রোটোকল

কানাডা, ১৯৮৭

CFC ODS নিষিদ্ধ; ওজোন সংরক্ষণ; ১৬ সেপ্টেম্বর ওজোন দিবস

স্বাক্ষরকারী

IPCC প্রতিষ্ঠা

১৯৮৮

WMO UNEP দ্বারা; জলবায়ু বিজ্ঞানের সর্বোচ্চ কর্তৃপক্ষ

সদস্য

রিও আর্থ সামিট

ব্রাজিল, ১৯৯২

UNFCCC, CBD, Agenda 21 গৃহীত; টেকসই উন্নয়ন ধারণা

স্বাক্ষরকারী

UNFCCC

১৯৯২ (কার্যকর ১৯৯৪)

জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলায় মূল কাঠামো

সদস্য (Annex-I বহির্ভূত)

কিয়োটো প্রোটোকল

জাপান, ১৯৯৭ (কার্যকর ২০০৫)

উন্নত দেশের GHG কমানোর বাধ্যতামূলক লক্ষ্য; CDM প্রক্রিয়া

অনুমোদনকারী

প্যারিস চুক্তি

ফ্রান্স, ২০১৫ (COP21)

তাপমাত্রা বৃদ্ধি .°C- সীমিত রাখা; NDC; বছরে পর্যালোচনা

স্বাক্ষরকারী (NDC জমা)

রামসার কনভেনশন

ইরান, ১৯৭১

জলাভূমি সংরক্ষণ; রামসার সাইট

সুন্দরবন ১৯৯২; টাঙ্গুয়ার ২০০০

বাসেল কনভেনশন

সুইজারল্যান্ড, ১৯৮৯

বিপজ্জনক বর্জ্য চলাচল নিয়ন্ত্রণ

স্বাক্ষরকারী

CBD (জীববৈচিত্র্য সনদ)

১৯৯২ (রিও)

জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ; জিনসম্পদ ভাগাভাগি

স্বাক্ষরকারী

সেন্ডাই কাঠামো

জাপান, ২০১৫

দুর্যোগ ঝুঁকি হ্রাস; ২০১৫-২০৩০

সক্রিয় অংশগ্রহণকারী

কিগালি সংশোধনী

রুয়ান্ডা, ২০১৬

HFC হ্রাস (মন্ট্রিলের অধীনে)

অনুমোদনকারী

COP (Conference of Parties) সম্মেলনের ধারাবাহিকতা

COP হলো UNFCCC-এর বার্ষিক সদস্য রাষ্ট্রগুলোর সম্মেলন প্রথম COP ১৯৯৫ সালে বার্লিনে (জার্মানি) অনুষ্ঠিত হয় COP সম্মেলনে জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলায় বৈশ্বিক নীতি লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারিত হয়

COP

সাল

স্থান

মূল সিদ্ধান্ত

COP1

১৯৯৫

বার্লিন, জার্মানি

প্রথম COP; বার্লিন ম্যান্ডেট

COP3

১৯৯৭

কিয়োটো, জাপান

কিয়োটো প্রোটোকল গৃহীত; GHG কমানোর বাধ্যতামূলক লক্ষ্য

COP15

২০০৯

কোপেনহেগেন, ডেনমার্ক

কোপেনহেগেন অ্যাকর্ড; °C লক্ষ্যমাত্রা; ব্যর্থ বলে সমালোচিত

COP21

২০১৫

প্যারিস, ফ্রান্স

প্যারিস চুক্তি; .°C লক্ষ্য; NDC; সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ COP

COP26

২০২১

গ্লাসগো, যুক্তরাজ্য

কয়লা ক্রমহ্রাস; মিথেন প্রতিজ্ঞা; ক্ষতি ক্ষয়ক্ষতি আলোচনা

COP27

২০২২

শার্ম এল-শেখ, মিশর

Loss and Damage Fund গঠনের ঐতিহাসিক সিদ্ধান্ত

COP28

২০২৩

দুবাই, UAE

জীবাশ্ম জ্বালানি থেকে 'ট্রানজিশন'; Global Stocktake

COP29

২০২৪

বাকু, আজারবাইজান

জলবায়ু অর্থায়ন: বার্ষিক ৩০০ বিলিয়ন ডলার লক্ষ্য

বাংলাদেশে জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব

বাংলাদেশ জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে বিশ্বের শীর্ষ ১০টি ঝুঁকিপূর্ণ দেশের একটি (Germanwatch CRI ২০২১: ৭ম; ND-GAIN Country Index: ১৬২তম) দেশের ভৌগোলিক অবস্থান, নিচু ভূমি উচ্চ জনঘনত্য এই ঝুঁকিকে বহুগুণ বাড়িয়েছে

প্রভাবের ক্ষেত্র

পর্যবেক্ষিত পরিবর্তন

ভবিষ্যৎ পূর্বাভাস

আক্রান্ত অঞ্চল

সমুদ্রপৃষ্ঠ বৃদ্ধি

গত ১০০ বছরে ১৪ মিমি/বছর (বাংলাদেশে)

মিটার বাড়লে ১৭% ভূমি নিমজ্জিত; কোটি উদ্বাস্তু

উপকূল (কক্সবাজার থেকে সাতক্ষীরা)

ঘূর্ণিঝড়ের তীব্রতা

ক্যাটাগরি-/ ঘূর্ণিঝড় বৃদ্ধি

তীব্রতা সংখ্যা আরো বাড়বে

চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, খুলনা উপকূল

বন্যা

১৯৯৮ তীব্রতার বন্যা ঘন ঘন

বার্ষিক ৩০-৪০% ভূমি প্লাবন সম্ভাবনা

সারাদেশে; সিলেট, ময়মনসিংহ বিশেষত

খরা

রাজশাহী রংপুরে বৃষ্টি হ্রাস

খরা মৌসুম দীর্ঘতর হবে

বরেন্দ্রভূমি, উত্তর-পশ্চিমাঞ্চল

লবণাক্ততা

উপকূলে ভূগর্ভস্থ পানিতে লবণ বৃদ্ধি

চাষযোগ্য জমি ক্রমহ্রাসমান

সাতক্ষীরা, খুলনা, বাগেরহাট, পটুয়াখালী

তাপমাত্রা বৃদ্ধি

গত ১০০ বছরে .°C বৃদ্ধি

২১০০ সালে .-.°C বৃদ্ধি

সারাদেশে; শহরাঞ্চলে বেশি

নদীভাঙন

বার্ষিক ১০,০০০ হেক্টর ভূমি বিলীন

আরো তীব্র হবে

পদ্মা, যমুনা, মেঘনা তীরবর্তী

কৃষি উৎপাদন

ধানের উৎপাদন -১০% হ্রাসের ঝুঁকি

২০৫০- ধান ১৭% কম (IPCC)

সারাদেশে; উপকূলে লবণাক্ততায়

জলবায়ু উদ্বাস্তু

প্রতি বছর - লক্ষ

২০৫০ সালে .- কোটি

উপকূল, নদীতীর, চর

স্বাস্থ্য

ডেঙ্গু, ডায়রিয়া বৃদ্ধি

জলবায়ু-সম্পর্কিত রোগ বাড়বে

শহর উপকূল

জীববৈচিত্র্য

সুন্দরবনের ম্যানগ্রোভ হুমকিতে

রয়েল বেঙ্গল টাইগারের আবাস সংকুচিত

সুন্দরবন, পার্বত্য চট্টগ্রাম

বাংলাদেশের জাতীয় জলবায়ু কর্মকৌশল

বাংলাদেশ জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলায় বেশ কিছু জাতীয় নীতি কৌশল গ্রহণ করেছে NAPA (National Adaptation Programme of Action, ২০০৫) ছিল প্রথম জাতীয় অভিযোজন পরিকল্পনা BCCSAP (Bangladesh Climate Change Strategy and Action Plan, ২০০৯) দেশের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ জলবায়ু দলিল, যা ৬টি থিম্যাটিক এরিয়ায় বিভক্ত: খাদ্য নিরাপত্তা, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা, অবকাঠামো, গবেষণা, প্রশমন সক্ষমতা বৃদ্ধি বাংলাদেশ জলবায়ু পরিবর্তন ট্রাস্ট ফান্ড (BCCTF, আইন ২০১০) দেশের নিজস্ব অর্থায়নে পরিচালিত বিশ্বের প্রথম জাতীয় জলবায়ু তহবি; সরকার এতে ,০০০ কোটি টাকার বেশি বরাদ্দ দিয়েছে

NDC (Nationally Determined Contribution) হলো প্যারিস চুক্তির অধীনে প্রতিটি দেশের জলবায়ু পদক্ষেপের প্রতিশ্রুতি বাংলাদেশের NDC (২০২১ আপডেট) অনুযায়ী: শর্তসাপেক্ষে ২০৩০ সালের মধ্যে GHG নির্গমন ২১.৮৫ শতাংশ মানোর লক্ষ্যমাত্রা এবং শর্তহীনভাবে .৭৩ শতাংশ কমানোর প্রতিশ্রুতি Mujib Climate Prosperity Plan (MCPP, ২০২১) উন্নয়ন জলবায়ু কর্মকে একত্রে সমন্বিত করার নতুন দৃষ্টিভঙ্গি; এই পরিকল্পনায় নবায়নযোগ্য শক্তি, সবুজ অর্থনীতি জলবায়ু-সহিষ্ণু উন্নয়নের উপর জোর দেওয়া হয়েছে

প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামোতে বাংলাদেশ জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলায় পরিবেশ, বন জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয় (MoEFCC) প্রধান দায়িত্বে রয়েছে পরিবেশ অধিদপ্তর (DoE, ১৯৮৯) পরিবেশ সংরক্ষণ আইন ১৯৯৫ বাস্তবায়ন করে Bangladesh Meteorological Department (BMD) আবহাওয়া জলবায়ু তথ্য সংগ্রহ করে SPARRSO (Space Research and Remote Sensing Organization) স্যাটেলাইট ভিত্তিক পরিবেশ পর্যবেক্ষণ করে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তর (DDM, ১৯৯৩) দুর্যোগ মোকাবিলায় নেতৃত্ব দেয় এবং ঘূর্ণিঝড় প্রস্তুতি কর্মসূচি (CPP, ১৯৭) উপকূলীয় জনগোষ্ঠীকে সতর্ক করে

বৈশ্বিক পরিবেশ আন্দোলনের টাইমলাইন

বছর

ঘটনা

তাৎপর্য

১৯৬২

Rachel Carson 'Silent Spring' প্রকাশ

কীটনাশকের পরিবেশগত ক্ষতি তুলে ধরা; আধুনিক পরিবেশ আন্দোলনের সূচনা

১৯৭২

স্টকহোম সম্মেলন (-১৬ জুন)

প্রথম আন্তর্জাতিক পরিবেশ সম্মেলন; UNEP গঠন; জুন বিশ্ব পরিবেশ দিবস

১৯৮৫

অ্যান্টার্কটিকায় ওজোন গর্ত আবিষ্কার

ওজোন স্তর ক্ষয়ের প্রথম প্রমাণ

১৯৮৭

মন্ট্রিল প্রোটোকল (১৬ সেপ্টেম্বর)

CFC নিষিদ্ধ; সবচেয়ে সফল পরিবেশ চুক্তি; ১৬ সেপ্টেম্বর ওজোন দিবস

১৯৮৭

ব্রান্টল্যান্ড রিপোর্ট 'Our Common Future'

টেকসই উন্নয়নের (Sustainable Development) সংজ্ঞা প্রথম দেওয়া হয়

১৯৮৮

IPCC প্রতিষ্ঠা

WMO UNEP দ্বারা; জলবায়ু বিজ্ঞানের সর্বোচ্চ কর্তৃপক্ষ

১৯৯২

রিও আর্থ সামিট (-১৪ জুন)

UNFCCC, CBD, Agenda 21; টেকসই উন্নয়নের বৈশ্বিক কাঠামো

১৯৯৫

COP1 বার্লিন

প্রথম UNFCCC সদস্য রাষ্ট্রগুলোর সম্মেলন

১৯৯৭

কিয়োটো প্রোটোকল (১১ ডিসেম্বর)

উন্নত দেশের GHG কমানোর বাধ্যতামূলক লক্ষ্য; CDM

২০০৫

কিয়োটো প্রোটোকল কার্যকর

৫৫ দেশ অনুমোদনের পর কার্যকর; যুক্তরাষ্ট্র অনুমোদন করেনি

২০০৭

IPCC আল গোর শান্তিতে নোবেল

জলবায়ু সচেতনতায় সর্বোচ্চ স্বীকৃতি

২০০৯

BCCSAP গৃহীত (বাংলাদেশ)

বাংলাদেশের প্রধান জলবায়ু কৌশল দলিল

২০১৫

প্যারিস চুক্তি (COP21, ১২ ডিসেম্বর)

.°C লক্ষ্য; সব দেশের অংশগ্রহণ; NDC

২০১৫

SDG (টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা) গৃহীত

১৭ লক্ষ্য; SDG ১৩ জলবায়ু পদক্ষেপ

২০১৯

Greta Thunberg 'Fridays for Future'

বিশ্বব্যাপী তরুণদের জলবায়ু ধর্মঘট আন্দোলন

২০২১

IPCC AR6 প্রকাশ শুরু

'Code Red for Humanity'; .°C সীমা ২০৩০-এর আগেই অতিক্রমের ঝুঁকি

২০২২

COP27: Loss and Damage Fund

ক্ষতি ক্ষয়ক্ষতি তহবিল গঠনের ঐতিহাসিক সিদ্ধান্ত

২০২৩

COP28: জীবাশ্ম জ্বালানি 'ট্রানজিশন'

জীবাশ্ম জ্বালানি থেকে সরে আসার প্রথম বৈশ্বিক সম্মতি

২০২৪

COP29: জলবায়ু অর্থায়ন

বার্ষিক ৩০০ বিলিয়ন ডলার জলবায়ু অর্থায়নের লক্ষ্যমাত্রা

প্রথম-সর্বোচ্চ-সর্বনিম্ন তথ্যকোষ

🏆 জলবায়ু পরিবেশে 'সর্ব-' তথ্যকোষ

সর্বাধিক CO₂ নির্গমনকারী দেশ: চীন (বর্তমানে); মাথাপিছু: কাতার/লুক্সেমবার্গ

সর্বোচ্চ GWP গ্যাস: SF₆ (২২,৮০০)

সবচেয়ে বেশি নির্গত GHG: CO₂ (পরিমাণে); সবচেয়ে শক্তিশালী: SF₆ (GWP-তে)

প্রাক-শিল্প CO₂: ২৮০ ppm; বর্তমান: ৪২১ ppm (NOAA ২০২৩)

প্রথম পরিবেশ সম্মেলন: স্টকহোম (১৯৭২)

সবচেয়ে সফল পরিবেশ চুক্তি: মন্ট্রিল প্রোটোকল (১৯৮৭); ১৯৮ দেশ

ওজোন গর্ত প্রথম আবিষ্কার: ১৯৮৫, অ্যান্টার্কটিকা

একটি CFC অণু ধ্বংস করে: ,০০,০০০ ওজোন অণু

IPCC প্রতিষ্ঠা: ১৯৮৮; নোবেল: ২০০৭ (আল গোর-এর সাথে)

প্যারিস চুক্তি: ১২ ডিসেম্বর ২০১৫; .°C লক্ষ্য

Loss and Damage Fund: COP27 (২০২২, মিশর)

বাংলাদেশের জলবায়ু ঝুঁকি: CRI ৭ম (Germanwatch ২০২১)

বাংলাদেশের CO₂ নির্গমন: মাত্র .% (বৈশ্বিক)

সমুদ্রপৃষ্ঠ িটার বাড়লে: বাংলাদেশের ১৭% ভূমি নিমজ্জিত; কোটি উদ্বাস্তু

বাংলাদেশের প্রথম জলবায়ু তহবিল: BCCTF (২০১০); ,০০০+ কোটি টাকা

NDC লক্ষ্যমাত্রা: ২০৩০- GHG ২১.৮৫% হ্রাস (শর্তসাপেক্ষ)

বিশ্ব পরিবেশ দিবস: জুন; বিশ্ব ওজোন দিবস: ১৬ সেপ্টেম্বর

আন্তর্জাতিক দুর্যোগ প্রশমন দিবস: ১৩ অক্টোবর

টেকসই উন্নয়নের সংজ্ঞা: ব্রান্টল্যান্ড কমিশন 'Our Common Future' (১৯৮৭)

কেস স্টাডি

🔬 কেস স্টাডি: ঘূর্ণিঝড় সিডর (২০০৭) জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব

তারিখ: ১৫ নভেম্বর ২০০৭ (বৃহস্পতিবার রাত)

শ্রেণি: ক্যাটাগরি- ঘূর্ণিঝড়; সর্বোচ্চ বায়ুর গতি ২৬০ কিমি/ঘণ্টা

আঘাত: বরগুনা, পটুয়াখালী, ভোলা, বাগেরহাট উপকূল

মৃত্যু: সরকারি হিসাব ,৪০৬ জন; বিকল্প অনুমান ১০,০০০+

ক্ষতি: . বিলিয়ন ডলার (World Bank ২০০৮); . লক্ষ ঘরবাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত

জলোচ্ছ্বাস (Storm Surge): - মিটার উচ্চতার ঢেউ উপকূলে আঘাত হানে

সুন্দরবনের ভূমিকা: সুন্দরবন প্রাকৃতিক বাধা হিসেবে কাজ করে খুলনা শহরকে রক্ষা করেছে; সুন্দরবন না থাকলে ক্ষতি আরো বেশি হতো

জলবায়ু সম্পর্ক: IPCC অনুযায়ী সমুদ্রপৃষ্ঠের তাপমাত্রা বৃদ্ধি ঘূর্ণিঝড়ের তীব্রতা বাড়ায়; বঙ্গোপসাগরে ক্যাটাগরি-/ ঘূর্ণিঝড়ের সংখ্যা বৃদ্ধি পাচ্ছে

শিক্ষা: CPP-এর সতর্কতা আশ্রয়কেন্দ্র ব্যবস্থা মৃত্যু কমিয়েছে (১৯৭০ সাইক্লোনে - লক্ষ মৃত্যু; সিডরে ,৪০৬); কিন্তু সম্পদ ক্ষতি এখনো বিশাল

🔬 কেস স্টাডি: সিলেট বন্যা ২০২২ জলবায়ু পরিবর্তন

তারিখ: জুন ২০২২ (প্রথম পর্যায়) আগস্ট ২০২২ (দ্বিতীয় পর্যায়)

মাত্রা: ১২২ বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ পানিস্তর (সিলেট, সুনামগঞ্জ, মৌলভীবাজার)

কারণ: মেঘালয়-আসামে অতিবৃষ্টি (২৪ ঘণ্টায় ৯৭২ মিমি, চেরাপুঞ্জি); উজানের পানিপ্রবাহ বৃদ্ধি

প্রভাব: ৭২ লক্ষ মানুষ আক্রান্ত; লক্ষ+ ঘর ক্ষতিগ্রস্ত; হাওর অঞ্চলের বোরো ফসল নষ্ট

জলবায়ু সম্পর্ক: বৈশ্বিক উষ্ণায়নে বায়ুমণ্ডলে জলীয় বাষ্প বৃদ্ধি পেয়েছে; প্রতি °C তাপমাত্রা বৃদ্ধিতে বায়ু % বেশি জলীয় বাষ্প ধারণ করে (Clausius-Clapeyron সম্পর্ক), ফলে চরম বৃষ্টিপাতের ঘটনা বাড়ছে

শিক্ষা: আকস্মিক বন্যা (Flash Flood) হাওর অঞ্চলের প্রধান দুর্যোগ; জলবায়ু পরিবর্তনে এই ধরনের চরম বৃষ্টিপাত বন্যা আরো ঘন ঘন হবে

সাম্প্রতিক পরিসংখ্যান (২০২৩-২০২৪)

📊 Live Data: জলবায়ু পরিবেশ সূচক

বৈশ্বিক CO₂ ঘনত্ব: ৪২১ ppm (NOAA ২০২৩); প্রাক-শিল্প: ২৮০ ppm

বৈশ্বিক তাপমাত্রা বৃদ্ধি: +.°C (প্রাক-শিল্প যুগের তুলনায়, IPCC AR6)

সমুদ্রপৃষ্ঠ বৃদ্ধি: বৈশ্বিক গড় . মিমি/বছর; বাংলাদেশে ১৪ মিমি/বছর

বাংলাদেশের CRI অবস্থান: ৭ম (Germanwatch ২০২১)

বাংলাদেশের CO₂ নির্গমন: মাত্র .% (বৈশ্বিক মোটের)

সর্বোচ্চ CO₂ নির্গমনকারী: চীন (৩০%), যুক্তরাষ্ট্র (১৪%), ভারত (%)

প্যারিস চুক্তি স্বাক্ষরকারী: ১৯৫ দেশ + EU

বাংলাদেশ NDC লক্ষ্য: ২০৩০- GHG ২১.৮৫% হ্রাস (শর্তসাপেক্ষ)

BCCTF তহবিল: ,০০০+ কোটি টাকা বরাদ্দ

ঘূর্ণিঝড় আশ্রয়কেন্দ্র: ,৩০০+ (DDM ২০২৩)

CPP স্বেচ্ছাসেবক: ৭৬,০০০+ (DDM ২০২৩)

সুন্দরবনে রয়েল বেঙ্গল টাইগার: ১২৫টি (বন বিভাগ ২০২৪)

COP29 (বাকু ২০২৪): জলবায়ু অর্থায়ন ৩০০ বিলিয়ন ডলার লক্ষ্য

অভিযোজন প্রশমন: বাংলাদেশের কৌশল

অভিযোজন (Adaptation) কৌশল

অভিযোজন হলো জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবের সাথে খাপ খাওয়ানোর প্রক্রিয়া বাংলাদেশের জন্য অভিযোজন প্রশমনের চেয়ে অধিক জরুরি, কারণ দেশটি ইতোমধ্যে জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব ভোগ করছে প্রধান অভিযোজন কৌশলগুলো হলো: উপকূলীয় বাঁধ পোল্ডার সংস্কার (১৩৯টি পোল্ডার দক্ষিণ উপকূলে), ঘূর্ণিঝড় আশ্রয়কেন্দ্র নির্মাণ (,৩০০+, DDM ২০২৩), লবণসহিষ্ণু ধানের জাত উদ্ভাবন (BRRI dhan47, dhan67, dhan97), খরাসহিষ্ণু ফসল জাত (BRRI dhan56, BRRI dhan57), উপকূলীয় বনায়ন (ম্যানগ্রোভ বনায়ন কর্মসূচি), বৃষ্টির পানি সংরক্ষণ, এবং জলবায়ু-সহিষ্ণু অবকাঠামো নির্মাণ

CPP (Cyclone Preparedness Programme, ১৯৭২) বাংলাদেশের সবচেয়ে সফল দুর্যোগ অভিযোজন কর্মসূচি ১৯৭০ সালের ভোলা সাইক্লোনে থেকে লক্ষ মানুষ মারা গিয়েছিল; ২০০৭ সালের সিডরে (একই মাত্রার ঘূর্ণিঝড়) মৃত্যু ,৪০৬ জনে সীমিত থাকে এই ব্যাপক উন্নতির পেছনে CPP-এর ৭৬,০০০+ স্বেচ্ছাসেবকের সতর্কতা বার্তা, আশ্রয়কেন্দ্র ব্যবস্থা এবং সরকারি দুর্যোগ প্রস্তুতি কাজ করেছে বাংলাদেশের ঘূর্ণিঝড় প্রস্তুতি মডেল বিশ্বের অন্যান্য উপকূলীয় দেশের জন্য অনুকরণীয় (UN সচিবালয় স্বীকৃতি)

প্রশমন (Mitigation) কৌশল

প্রশমন হলো গ্রিনহাউস গ্যাস নির্গমন কমানোর প্রক্রিয়া বাংলাদেশের নির্গমন মাত্র . শতাংশ হওয়ায় প্রশমনে বাংলাদেশের প্রধান ভূমিকা সীমিত; তবে সরকার বেশ কিছু প্রশমন পদক্ষেপ নিয়েছে: নবায়নযোগ্য শক্তি সম্প্রসারণ (সৌর, বায়ু; লক্ষ্য ২০৪১- ৪০%), ইটভাটায় পরিবেশবান্ধব প্রযুক্তি (Zigzag Kiln, Tunnel Kiln), CNG/LPG যানবাহন সম্প্রসারণ, বনায়ন বন সংরক্ষণ (REDD+ কর্মসূচি), শিল্পে শক্তি দক্ষতা বৃদ্ধি, এবং বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় মিথেন ক্যাপচার রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র (,৪০০ MW) চালু হলে কার্বন-মুক্ত বিদ্যুতের একটি বড় উৎস যোগ হবে

ানচিত্র-বিকল্প ছক: বাংলাদেশে জলবায়ু ঝুঁকির আঞ্চলিক বিন্যাস

অঞ্চল

প্রধান জলবায়ু ঝুঁকি

আক্রান্ত জেলা

অভিযোজন পদক্ষেপ

উপকূল (দক্ষিণ)

ঘূর্ণিঝড়, জলোচ্ছ্বাস, লবণাক্ততা

কক্সবাজার, চট্টগ্রাম, নোয়াখালী, ভোলা, পটুয়াখালী, বরগুনা, খুলনা, সাতক্ষীরা

আশ্রয়কেন্দ্র, বাঁধ, ম্যানগ্রোভ বনায়ন

হাওর (উত্তর-পূর্ব)

আকস্মিক বন্যা, ফসলহানি

সুনামগঞ্জ, কিশোরগঞ্জ, হবিগঞ্জ, মৌলভীবাজার, নেত্রকোনা

আগাম বন্যা সতর্কতা, বোরো ধান সুরক্ষা

বরেন্দ্র (উত্তর-পশ্চিম)

খরা, ভূগর্ভস্থ পানি হ্রাস

রাজশাহী, চাঁপাইনবাবগঞ্জ, নওগাঁ, দিনাজপুর

বৃষ্টির পানি সংরক্ষণ, খরাসহিষ্ণু ফসল

নদীতীরবর্তী

নদীভাঙন, বন্যা

পদ্মা, যমুনা, মেঘনা তীরবর্তী জেলাসমূহ

নদীশাসন, স্থানান্তর, চর উন্নয়ন

পার্বত্য (পূর্ব)

ভূমিধস, বন্যা

রাঙামাটি, খাগড়াছড়ি, বান্দরবান, কক্সবাজার

ভূমি ব্যবস্থাপনা, বৃক্ষরোপণ

শহরাঞ্চল

তাপদ্বীপ, জলাবদ্ধতা

ঢাকা, চট্টগ্রাম, রাজশাহী, খুলনা

সবুজ পরিকল্পনা, নিষ্কাশন ব্যবস্থা

সুন্দরবন

সমুদ্রপৃষ্ঠ বৃদ্ধি, লবণাক্ততা

খুলনা, সাতক্ষীরা, বাগেরহাট

সংরক্ষণ, ম্যানগ্রোভ পুনরুদ্ধার

জলবায়ু অর্থায়ন আন্তর্জাতিক সহযোগিতা

জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলায় অর্থায়ন একটি কেন্দ্রীয় বিষয় ২০০৯ সালে COP15 (কোপেনহেগেন)- উন্নত দেশগুলো ২০২০ সালের মধ্যে বার্ষিক ১০০ বিলিয়ন ডলার জলবায়ু অর্থায়নের প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল, যা পূরণ হয়নি (২০২১ সালে ৮৩. বিলিয়ন ডলার সংগৃহীত, OECD ২০২৩) COP29 (বাকু ২০২৪)- এই লক্ষ্যমাত্রা বাড়িয়ে বার্ষিক ৩০০ বিলিয়ন ডলার করা হয়েছে

Green Climate Fund (GCF) UNFCCC-এর প্রধান জলবায়ু তহবিল, যা উন্নয়নশীল দেশগুলোকে অভিযোজন প্রশমনে সহায়তা করে বাংলাদেশ GCF থেকে বেশ কিছু প্রকল্পে অর্থায়ন পেয়েছে Adaptation Fund, GEF (Global Environment Facility) এবং দ্বিপাক্ষিক সহায়তা (জার্মানি, যুক্তরাজ্য, ডেনমার্ক, নেদারল্যান্ডস) বাংলাদেশের জলবায়ু কর্মকাণ্ডে অর্থায়ন করছে

Loss and Damage Fund COP27 (২০২২)-এর সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত এই তহবিল জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে যে ক্ষতি অভিযোজনেও এড়ানো যায় না তার জন্য ক্ষতিপূরণ দেবে বাংলাদেশের মতো Climate Vulnerable Forum (CVF)-এর সদস্য দেশগুলো এই তহবিলের জন্য দীর্ঘদিন ধরে দাবি জানিয়ে আসছিল বাংলাদেশ ২০২০-২১ সালে CVF-এর সভাপতি ছিল এবং এই সময়ে Loss and Damage বিষয়ে শক্তিশালী অবস্থান তুলে ধরেছিল Climate Justice বা জলবায়ু ন্যায্যতার মূল কথা হলো: যারা জলবায়ু পরিবর্তনের জন্য সবচেয়ে কম দায়ী (বাংলাদেশ, ক্ষুদ্র দ্বীপরাষ্ট্র) তারা সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত, এবং দায়ী দেশগুলোর (G7, চীন) এই ক্ষতিপূরণে এগিয়ে আসা উচিত

বৈশ্বিক COনির্গমন: দেশভিত্তিক তুলনা

দেশ

মোট CO₂ নির্গমন (বৈশ্বিক %)

মাথাপিছু (টন/বছর)

প্যারিস চুক্তিতে অবস্থান

চীন

৩০%

.

স্বাক্ষরকারী; ২০৬০- কার্বন নিউট্রাল লক্ষ্য

যুক্তরাষ্ট্র

১৪%

১৫.

স্বাক্ষর (Trump বেরিয়ে যান ২০১৭; Biden ফিরে আসেন ২০২১)

ভারত

%

.

স্বাক্ষরকারী; ২০৭০- Net Zero লক্ষ্য

EU

%

.

স্বাক্ষরকারী; ২০৫০- Net Zero লক্ষ্য; European Green Deal

রাশিয়া

%

১১.

স্বাক্ষরকারী; সীমিত পদক্ষেপ

জাপান

%

.

স্বাক্ষরকারী; ২০৫০- কার্বন নিউট্রাল

বাংলাদেশ

.%

.

স্বাক্ষরকারী; NDC ২১.৮৫% হ্রাস (শর্তসাপেক্ষ); CVF সভাপতি ছিল

কাতার

.%

৩৫.

সর্বোচ্চ মাথাপিছু নির্গমনকারী দেশগুলোর একটি

তুভালু

নগণ্য

.

ক্ষুদ্র দ্বীপরাষ্ট্র; সমুদ্রপৃষ্ঠ বৃদ্ধিতে সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ

বিশেষ নোট: বিভ্রান্তিকর তথ্যের স্পষ্টীকরণ

এক্সাম টিপ: প্রায়ই ভুল হয় যে তথ্যগুলো

'বৈশ্বিক উষ্ণায়ন' 'জলবায়ু পরিবর্তন' সমার্থক নয় উষ্ণায়ন হলো তাপমাত্রা বৃদ্ধি; জলবায়ু পরিবর্তন ব্যাপকতর (বৃষ্টিপাত, ঘূর্ণিঝড়, সমুদ্রস্তর সব পরিবর্তন)

CO₂ সবচেয়ে বেশি পরিমাণে নির্গত GHG; SF₆ সবচেয়ে শক্তিশালী (GWP ২২,৮০০)

জলীয় বাষ্প সবচেয়ে বেশি পরিমাণে থাকা GHG (প্রাকৃতিক); CO₂ মানবসৃষ্ট GHG-তে শীর্ষ

কিয়োটো প্রোটোকল ১৯৯৭-তে স্বাক্ষর, ২০০৫- কার্যকর (গুলিয়ে ফেলবেন না)

প্যারিস চুক্তির লক্ষ্য .°C (কিয়োটোতে নির্দিষ্ট তাপমাত্রা লক্ষ্য ছিল না)

UNFCCC ১৯৯২-তে গৃহীত, ১৯৯৪-তে কার্যকর; IPCC ১৯৮৮-তে প্রতিষ্ঠিত

স্টকহোম ১৯৭২ থেকে জুন পরিবেশ দিবস; মন্ট্রিল ১৯৮৭ থেকে ১৬ সেপ্টেম্বর ওজোন দিবস

ট্রপোস্ফেরিক ওজোন ক্ষতিকর দূষক; স্ট্র্যাটোস্ফেরিক ওজোন উপকারী প্রতিরক্ষা

সাংবিধানিক SDG সংযোগ

সংবিধানের অনুচ্ছেদ ১৮ক (১৫তম সংশোধনী ২০১১) পরিবেশ জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণকে রাষ্ট্রের দায়িত্ব ঘোষণা করেছে জলবায়ু পরিবর্তন সরাসরি SDG ১৩ (জলবায়ু পদক্ষেপ, Climate Action) এর অন্তর্ভুক্ত ছাড়াও SDG (পরিচ্ছন্ন শক্তি), SDG ১১ (টেকসই শহর), SDG ১৪ (জলজ জীবন), SDG ১৫ (স্থলজ জীবন), SDG (ক্ষুধা নিরসন, কৃষি), SDG (পরিচ্ছন্ন পানি) সবকিছুই জলবায়ু পরিবর্তনের সাথে আন্তঃসম্পর্কিত বাংলাদেশের পরিবেশ সংরক্ষণ আইন ১৯৯৫ (সংশোধিত ২০১০, ২০২৩) এবং পরিবেশ আদালত আইন ২০১০ পরিবেশ সুরক্ষার আইনি ভিত্তি

মনে রাখার কৌশল

📌 কৌশল : বায়ুমণ্ডলের স্তর মনে রাখুন 'ট্র-স্ট্র-মে-থা-এক্স'

ট্র: ট্রপোস্ফিয়ার (আবহাওয়া, মানুষের বাস)

স্ট্র: স্ট্র্যাটোস্ফিয়ার (ওজোন স্তর, বিমান)

মে: মেসোস্ফিয়ার (উল্কা দগ্ধ, সবচেয়ে ঠান্ডা)

থা: থার্মোস্ফিয়ার (মেরুজ্যোতি, উপগ্রহ)

এক্স: এক্সোস্ফিয়ার (মহাকাশের সীমানা)

মনে রাখুন: নিচ থেকে উপরে ক্রমানুসারে

📌 কৌশল : আন্তর্জাতিক চুক্তির ক্রম মনে রাখুন 'স্ট-মন-রি-কি-প্যা'

স্ট: স্টকহোম (১৯৭২; প্রথম পরিবেশ সম্মেলন)

মন: মন্ট্রিল (১৯৮৭; ওজোন; CFC নিষিদ্ধ)

রি: রিও (১৯৯২; UNFCCC, CBD, Agenda 21)

কি: কিয়োটো (১৯৯৭; GHG কমানো বাধ্যতামূলক লক্ষ্য)

প্যা: প্যারিস (২০১৫; .°C লক্ষ্য; NDC)

📌 কৌশল : GHG ক্রম (GWP অনুযায়ী) 'CO-মি-না-CFC-HFC-SF'

CO₂ () < মিথেন (২৫) < N₂O (২৯৮) < CFC (১০,৯০০) < HFC (,৪৩০) < SF₆ (২২,৮০০)

মনে রাখুন: CO₂ সবচেয়ে বেশি নির্গত; SF₆ সবচেয়ে শক্তিশাল

সতর্কতা: পরীক্ষায় ফাঁদ

সতর্কতা : আবহাওয়া বনাম জলবায়ু

আবহাওয়া (Weather): স্বল্পমেয়াদী (দৈনিক/সাপ্তাহিক) বায়ুমণ্ডলীয় অবস্থা

জলবায়ু (Climate): দীর্ঘমেয়াদী (ন্যূনতম ৩০ বছর) আবহাওয়ার গড় প্যাটার্ন

প্রশ্নে 'আবহাওয়ার উপাদান' আসলে: তাপমাত্রা, বৃষ্টিপাত, আর্দ্রতা, বায়ুচাপ (বন্যা নয়)

'জলবায়ুর নিয়ামক' আসলে: অক্ষাংশ, উচ্চতা, সমুদ্র সান্নিধ্য (দ্রাঘিমাংশ নিয়ামক নয়)

সতর্কতা : ওজোন স্তর বনাম ট্রপোস্ফেরিক ওজোন

স্ট্র্যাটোস্ফেরিক ওজোন (১৫-৩০ কিমি): উপকারী; UV রশ্মি শোষণ করে

ট্রপোস্ফেরিক ওজোন (ভূপৃষ্ঠ স্তরে): ক্ষতিকর; বায়ুদূষক; স্বাস্থ্যহানিকর

'ওজোন হোল' স্ট্র্যাটোস্ফিয়ারে, ট্রপোস্ফিয়ারে নয়

ওজোন গর্ত অ্যান্টার্কটিকায় (দক্ষিণ মেরু), আর্কটিকে নয়

সতর্কতা : কিয়োটো বনাম প্যারিস

কিয়োটো (১৯৯৭): শুধু উন্নত দেশের (Annex-I) বাধ্যতামূলক লক্ষ্য; যুক্তরাষ্ট্র অনুমোদন করেনি

প্যারিস (২০১৫): সব দেশের NDC (স্বেচ্ছায়); যুক্তরাষ্ট্র স্বাক্ষর করে পরে বেরিয়ে যায় (Trump ২০১৭), আবার ফিরে আসে (Biden ২০২১)

প্যারিস চুক্তির লক্ষ্য: .°C (°C নয; °C হলো সর্বোচ্চ সীমা)

সতর্কতা : পরিবেশ দিবস গুলিয়ে যায়

বিশ্ব পরিবেশ দিবস: জুন (স্টকহোম ১৯৭২ থেকে)

বিশ্ব ওজোন দিবস: ১৬ সেপ্টেম্বর (মন্ট্রিল ১৯৮৭ থেকে)

বিশ্ব জলাভূমি দিবস: ফেব্রুয়ারি (রামসার ১৯৭১ থেকে)

আন্তর্জাতিক দুর্যোগ প্রশমন দিবস: ১৩ অক্টোবর

বিশ্ব জীববৈচিত্র্য দিবস: ২২ মে

বিশ্ব পানি দিবস: ২২ মার্চ

বিশ্ব বনায়ন দিবস: ২১ মার্চ

লিখিত পরীক্ষার জন্য

লিখিত পরীক্ষার জন্য: বিশ্লেষণমূলক বক্তব্য

বৈশ্বিক জলবায়ু পরিবর্তন একটি অসম সমীকরণ: শিল্পোন্নত দেশগুলো (G7, চীন) মোট CO₂-এর ৭০ শতাংশের বেশি নির্গমনের জন্য দায়ী, অথচ বাংলাদেশের মতো স্বল্পোন্নত উন্নয়নশীল দেশগুলো, যারা বৈশ্বিক নির্গমনে মাত্র . শতাংশ অবদান রাখে, তারা জলবায়ু পরিবর্তনের সবচেয়ে য়াবহ পরিণতি ভোগ করছে এই Climate Justice বা জলবায়ু ন্যায্যতার প্রশ্নটি প্যারিস চুক্তি এবং COP27-এর Loss and Damage Fund-এর পেছনে মূল চালিকাশক্তি বাংলাদেশ এই ন্যায্যতার দাবিতে আন্তর্জাতিক জলবায়ু কূটনীতিতে Climate Vulnerable Forum (CVF)-এর চেয়ারম্যান হিসেবে নেতৃত্ব দিয়েছে অভিযোজন (Adaptation) বাংলাদেশের জন্য প্রশমন (Mitigation)-এর চেয়ে বেশি জরুরি, কারণ দেশটি ইতোমধ্যে জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব ভোগ করছে লবণসহিষ্ণু ধান, ঘূর্ণিঝড় আশ্রয়কেন্দ্র, উপকূলীয় বনায়ন এবং জলবায়ু-সহিষ্ণু অবকাঠামো নির্মাণ বাংলাদেশের অভিযোজন কৌশলের মূল উপাদান

বিগত পরীক্ষার প্রশ্ন

প্রশ্ন: পৃথিবীর উষ্ণায়নের জন্য কোন গ্যাস দায়ী?

উত্তর: সবগুলোই সঠিক (CO₂, N₂O, মিথেন); তবে CO₂ সবচেয়ে বেশি নির্গত হয়

প্রশ্ন: বায়ুমণ্ডলে সবচেয়ে বেশি কোন গ্যাস পাওয়া যায়?

উত্তর: নাইট্রোজেন (৭৮.০৯%)

প্রশ্ন: ভূ-পৃষ্ঠের সবচেয়ে নিকটবর্তী স্তর কোনটি?

উত্তর: ট্রপোস্ফিয়ার (Troposphere)

প্রশ্ন: 'ওজোন হোল' বায়ুমণ্ডলের কোন স্তরে?

উত্তর: স্ট্র্যাটোস্ফিয়ার (Stratosphere)

প্রশ্ন: ওজোন স্তর বায়ুমণ্ডলের কোন উচ্চতায়?

উত্তর: ১৫ থেকে ৩০ কিলোমিটার (স্ট্র্যাটোস্ফিয়ারে)

প্রশ্ন: ট্রপোপজ কোথায় দেখা যায়?

উত্তর: ট্রপোস্ফিয়ার স্ট্র্যাটোস্ফিয়ারের মাঝে

প্রশ্ন: ট্রপোমণ্ডলের প্রধান বৈশিষ্ট্য কোনটি?

উত্তর: উচ্চতা বৃদ্ধির সাথে তাপমাত্রা হ্রাস (.°C/কিমি)

প্রশ্ন: আবহাওয়া সংক্রান্ত সকল ঘটনা কোন স্তরে ঘটে?

উত্তর: ট্রপোস্ফিয়ারে

প্রশ্ন: বেতার তরঙ্গ কোথায় প্রতিফলিত হয়?

উত্তর: আয়নোস্ফিয়ারে (থার্মোস্ফিয়ারের অংশ)

প্রশ্ন: কোনটি জলবায়ুর উপাদান?

উত্তর: বৃষ্টিপাত (এবং তাপমাত্রা, আর্দ্রতা, বায়ুচাপ)

প্রশ্ন: কোনটি জলবায়ুর নিয়ামক নয়?

উত্তর: দ্রাঘিমাংশ (Longitude)

প্রশ্ন: কোনটি আবহাওয়ার উপাদান নয়?

উত্তর: বন্যা

প্রশ্ন: বাংলাদেশে কোন ধরনের জলবায়ু বিরাজমান?

উত্তর: ক্রান্তীয় মৌসুমি জলবায়ু (Tropical Monsoon)

প্রশ্ন: ভূমধ্যসাগরীয় জলবায়ুর প্রধান বৈশিষ্ট্য কী?

উত্তর: বৃষ্টিবহুল শীতকাল বৃষ্টিহীন গ্রীষ্মকাল

প্রশ্ন: কোন দেশটি মৌসুমি জলবায়ু অঞ্চলের অন্তর্ভুক্ত নয়?

উত্তর: যুক্তরাষ্ট্র (ভারত, বাংলাদেশ, ব্রাজিল মৌসুমি অঞ্চলে)

প্রশ্ন: প্রতি কিলোমিটার উচ্চতায় তাপমাত্রা কত হ্রাস পায়?

উত্তর: . ডিগ্রি সেলসিয়াস (Normal Lapse Rate)

প্রশ্ন: তাপমাত্রার উৎক্রম (Temperature Inversion) কী?

উত্তর: উচ্চতা বৃদ্ধির সাথে তাপমাত্রা হ্রা না পেয়ে বৃদ্ধি পাওয়া

প্রশ্ন: তাপ উৎক্রম বায়ুমণ্ডলের কোন স্তরে হয়?

উত্তর: ট্রপোস্ফিয়ারে (এবং স্ট্র্যাটোস্ফিয়ারেও স্বাভাবিকভাবে)

প্রশ্ন: ITCZ-এর পূর্ণরূপ কী?

উত্তর: Inter-Tropical Convergence Zone (আন্তঃক্রান্তীয় অভিসরণ অঞ্চল)

প্রশ্ন: বর্ষাকালে বাংলাদেশে মৌসুমি বায়ু কোন দিক থেকে আসে?

উত্তর: দক্ষিণ-পশ্চিম দিক থেকে

প্রশ্ন: IPCC কত সালে প্রতিষ্ঠিত?

উত্তর: ১৯৮৮ সালে (WMO UNEP দ্বারা)

প্রশ্ন: IPCC কত সালে নোবেল পুরস্কার পায়?

উত্তর: ২০০৭ সালে (শান্তিতে; আল গোর-এর সাথে যৌথভাবে)

প্রশ্ন: প্যারিস চুক্তি কত সালে স্বাক্ষরিত?

উত্তর: ১২ ডিসেম্বর ২০১৫ (COP21)

প্রশ্ন: প্যারিস চুক্তির তাপমাত্রা লক্ষ্যমাত্রা কত?

উত্তর: . ডিগ্রি সেলসিয়াস (সর্বোচ্চ °C)

প্রশ্ন: কিয়োটো প্রোটোকল কত সালে কার্যকর হয়?

উত্তর: ২০০৫ সালে (স্বাক্ষর ১৯৯৭)

প্রশ্ন: মন্ট্রিল প্রোটোকল কোন বিষয়ে?

উত্তর: ওজোন স্তর সংরক্ষণ; CFC নিষিদ্ধ

প্রশ্ন: স্টকহোম সম্মেলন কত সালে অনুষ্ঠিত?

উত্তর: ১৯৭২ সালে (সুইডেন)

প্রশ্ন: বিশ্ব পরিবেশ দিবস কবে?

উত্তর: জুন

প্রশ্ন: বিশ্ব ওজোন দিবস কবে?

উত্তর: ১৬ সেপ্টেম্বর

প্রশ্ন: রিও আর্থ সামিট কত সালে?

উত্তর: ১৯৯২ সালে (ব্রাজিল)

প্রশ্ন: Loss and Damage Fund কোন COP- সিদ্ধান্ত হয়?

উত্তর: COP27 (২০২২, শার্ম এল-শেখ, মিশর)

প্রশ্ন: NDC-এর পূর্ণরূপ কী?

উত্তর: Nationally Determined Contribution (জাতীয়ভাবে নির্ধারিত অবদান)

প্রশ্ন: BCCSAP কত সালে গৃহীত?

উত্তর: ২০০৯ সালে

প্রশ্ন: বাংলাদেশ জলবায়ু পরিবর্তন ট্রাস্ট ফান্ড আইন কত সালের?

উত্তর: ২০১০ সালের

প্রশ্ন: বায়ুমণ্ডলের কোন স্তরে বজ্রপাত ঘটে?

উত্তর: ট্রপোমণ্ডলে (Troposphere)

প্রশ্ন: গ্রিনহাউস প্রভাব না থাকলে পৃথিবীর তাপমাত্রা কত হতো?

উত্তর: -১৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস

প্রশ্ন: বর্তমানে বায়ুমণ্ডলে CO₂ ঘনত্ব কত?

উত্তর: ৪২১ ppm (NOAA ২০২৩)

প্রশ্ন: GWP সবচেয়ে বেশি কোন গ্রিনহাউস গ্যাসের?

উত্তর: SF₆ (সালফার হেক্সাফ্লোরাইড); GWP ২২,৮০০

প্রশ্ন: CFC-এর বাণিজ্যিক নাম কী?

উত্তর: ফ্রেয়ন (Freon)

প্রশ্ন: ওজোন পরিমাপের একক কী?

উত্তর: ডবসন ইউনিট (Dobson Unit, DU)

প্রশ্ন: ওজোন গর্ত কত সালে আবিষ্কৃত?

উত্তর: ১৯৮৫ সালে; অ্যান্টার্কটিকার উপরে; ব্রিটিশ বিজ্ঞানী জোসেফ ফার্মান

প্রশ্ন: কিগালি সংশোধনী কোন চুক্তির অধীনে?

উত্তর: মন্ট্রিল প্রোটোকলের অধীনে (২০১৬); HFC হ্রাসের লক্ষ্য

প্রশ্ন: Agenda 21 কোথায় গৃহীত?

উত্তর: রিও আর্থ সামিট (১৯৯২, ব্রাজিল)

প্রশ্ন: UNEP কত সালে প্রতিষ্ঠিত?

উত্তর: ১৯৭২ সালে (স্টকহোম সম্মেলনের পর); সদর দপ্তর নাইরোবি (কেনিয়া)

প্রশ্ন: টেকসই উন্নয়নের সংজ্ঞা কে দিয়েছেন?

উত্তর: ব্রান্টল্যান্ড কমিশন; 'Our Common Future' (১৯৮৭)

প্রশ্ন: Annex-I দেশ কী?

উত্তর: কিয়োটো প্রোটোকলে উন্নত শিল্পোন্নত দেশ যাদের GHG কমানোর বাধ্যতামূলক লক্ষ্য আছে

প্রশ্ন: CDM-এর পূর্ণরূপ কী?

উত্তর: Clean Development Mechanism; কিয়োটো প্রোটোকলের অধীনে; উন্নত দেশ উন্নয়নশীল দেশে সবুজ প্রকল্পে বিনিয়োগ করে কার্বন ক্রেডিট পায়

প্রশ্ন: Green Climate Fund (GCF) কী?

উত্তর: UNFCCC-এর প্রধান জলবায়ু তহবিল; উন্নয়নশীল দেশের অভিযোজন প্রশমনে অর্থায়ন করে

প্রশ্ন: Climate Vulnerable Forum (CVF) কী?

উত্তর: জলবায়ু পরিবর্তনে সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ দেশগুলোর জোট; বাংলাদেশ ২০২০-২১ সালে সভাপতি ছিল

প্রশ্ন: El Nino কী?

উত্তর: প্রশান্ত মহাসাগরের পানি স্বাভাবিকের চেয়ে উষ্ণ হওয়ার প্রক্রিয়া; বৈশ্বিক আবহাওয়ায় প্রভাব ফেলে

প্রশ্ন: La Nina কী?

উত্তর: El Nino- বিপরীত; প্রশান্ত মহাসাগরের পানি শীতলতর হয়; বাংলাদেশে অতিবৃষ্টি বন্যার ঝুঁকি বাড়ায়

প্রশ্ন: Carbon Credit কী?

উত্তর: একটি নির্দিষ্ট পরিমাণ CO₂ নির্গমন কমানোর অনুমতি; কিনতে-বেচা যায়; কিয়োটো/প্যারিস চুক্তির অধীনে

প্রশ্ন: বাংলাদেশের ঘূর্ণিঝড় আশ্রয়কেন্দ্র কতটি?

উত্তর: ,৩০০-এর বেশি (DDM ২০২৩)

প্রশ্ন: CPP-তে কত স্বেচ্ছাসেবক আছেন?

উত্তর: ৭৬,০০০-এর বেশি (DDM ২০২৩)

প্রশ্ন: ভোলা সাইক্লোনে কত মানুষ মারা যায়?

উত্তর: আনুমানিক থেকে লক্ষ (১২ নভেম্বর ১৯৭০); বিশ্বের সবচেয়ে প্রাণঘাতী ক্রান্তীয় ঘূর্ণিঝড়

প্রশ্ন: সিডর ঘূর্ণিঝড়ে কত মানুষ মারা যায়?

উত্তর: সরকারি হিসাব ,৪০৬ জন (১৫ নভেম্বর ২০০৭)

প্রশ্ন: Greta Thunberg কোন আন্দোলনের প্রতিষ্ঠাতা?

উত্তর: Fridays for Future (জলবায়ু ধর্মঘট আন্দোলন, ২০১৮)

এসিড বৃষ্টি, বায়ুদূষণ পরিবেশ অবক্ষয়

এসিড বৃষ্টি (Acid Rain) হলো বৃষ্টির পানিতে সালফার ডাই-অক্সাইড (SO₂) নাইট্রোজেন অক্সাইড (NOx) মিশ্রিত হয়ে সালফিউরিক এসিড (H₂SO₄) নাইট্রিক এসিড (HNO₃) তৈরি হওয়া, যা বৃষ্টির সাথে ভূপৃষ্ঠে পড়ে স্বাভাবিক বৃষ্টির pH .; এসিড বৃষ্টির pH .-এর কম শিল্পকারখানা, যানবাহন তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্র SO₂ NOx-এর প্রধান উৎস এসিড বৃষ্টি বন, জলাশয়, মাটি, ভবন ঐতিহাসিক স্থাপনার ক্ষতি করে ইউরোপ উত্তর আমেরিকায় এসিড বৃষ্টি একটি বড় সমস্যা ছিল; Clean Air Act (যুক্তরাষ্ট্র, ১৯৯০ সংশোধনী) EU নীতিমালার ফলে SO₂ নির্গমন ব্যাপক হ্রাস পেয়েছে ভারতের তাজমহল এসিড বৃষ্টিতে হলুদ হয়ে যাচ্ছে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করা হয়েছে (তাজমহল ট্র্যাপিজিয়াম জোন, সুপ্রিম কোর্ট ১৯৯৬)

বায়ুদূষণ পরিবেশ পরিবর্তনের একটি গুরুত্বপূর্ণ উপাদান WHO-এর ২০২৩ সালের প্রতিবেদন অনুযায়ী বিশ্বে প্রতি বছর ৭০ লক্ষ মানুষ বায়ুদূষণে মারা যায় ঢাকা বিশ্বের সবচেয়ে দূষিত শহরগুলোর একটি (IQAir ২০২৩); AQI (Air Quality Index) প্রায়ই 'অস্বাস্থ্যকর' (Unhealthy) মাত্রায় থাকে ঢাকার বায়ুদূষণের প্রধান কারণ: ইটভাটা (৫৮%), যানবাহন, নির্মাণকাজ শিল্পকারখানা PM2.5 (Particulate Matter . মাইক্রন) ক্ষুদ্র কণা ফুসফুসের গভীরে ঢুকে হৃদরোগ, ফুসফুসের ক্যান্সার শ্বাসকষ্ট সৃষ্টি করে WHO-এর নির্দেশিকা অনুযায়ী PM2.5-এর সর্বোচ্চ গ্রহণযোগ্য মাত্রা বার্ষিক গড় µg/m³; ঢাকায় এটি ৭৭ µg/m³-এরও বেশি (IQAir ২০২৩)

পানি দূষণও পরিবেশ পরিবর্তনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে বাংলাদেশে শিল্পবর্জ্য, কৃষি রাসায়নিক (কীটনাশক সার) এবং পয়ঃনিষ্কাশন নদী জলাশয় দূষণের প্রধান কারণ বুড়িগঙ্গা, শীতলক্ষ্যা, তুরাগ বালু নদী ঢাকার চারপাশের সবচেয়ে দূষিত নদী; এগুলোতে দ্রবীভূত অক্সিজেন (DO) প্রায় শূন্যে নেমে আসে শুষ্ক মৌসুমে মাটি দূষণে প্লাস্টিক বর্জ্য একটি ক্রমবর্ধমান সমস্যা; বাংলাদেশে দৈনিক প্রায় ,০০০ টন প্লাস্টিক বর্জ্য তৈরি হয় (DoE ২০২৩) বাংলাদেশ ২০০২ সালে পলিথিন ব্যাগ নিষিদ্ধকারী বিশ্বের প্রথম দেশগুলোর একটি

দুর্যোগ চক্র জলবায়ু পরিবর্তনের সম্পর্ক

দুর্যোগ ব্যবস্থাপনার দুর্যোগ চক্র (Disaster Management Cycle) চারটি ধাপে বিভক্ত: প্রস্তুতি (Preparedness), প্রশমন (Mitigation), সাড়াদান (Response) পুনরুদ্ধার (Recovery) জলবায়ু পরিবর্তন প্রতিটি ধাপকে প্রভাবিত করছে

ধাপ

বিবরণ

জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব

বাংলাদেশের উদাহরণ

প্রস্তুতি

দুর্যোগ আঘাতের আগে প্রস্তুতি গ্রহণ

ঘূর্ণিঝড়ের তীব্রতা বৃদ্ধিতে আরো বেশি প্রস্তুতি প্রয়োজন

CPP ৭৬,০০০ স্বেচ্ছাসেবক; ,৩০০+ আশ্রয়কেন্দ্র

প্রশমন

ঝুঁকি ক্ষতি কমানো

জলবায়ু অভিযোজন প্রশমনের অংশ হয়ে গেছে

উপকূলীয় বাঁধ, ম্যানগ্রোভ বনায়ন, লবণসহিষ্ণু ধান

সাড়াদান

দুর্যোগের সময় জরুরি কার্যক্রম

চরম আবহাওয়ায় সাড়াদান আরো জটিল

DDM, সেনাবাহিনী, BDRCS, আন্তর্জাতিক সংস্থা

পুনরুদ্ধার

দুর্যোগ-পরবর্তী পুনর্গঠন

'Build Back Better': জলবায়ু-সহিষ্ণু পুনর্নির্মাণ

সিডর-পরবর্তী আশ্রয়কেন্দ্র সম্প্রসারণ

সেন্ডাই কাঠামো (Sendai Framework for Disaster Risk Reduction, ২০১৫-২০৩০) দুর্যোগ ঝুঁকি হ্রাসের বর্তমান বৈশ্বিক কাঠামো, যা হিউগো কাঠামোর (Hyogo Framework, ২০০৫-২০১৫) উত্তরসূরি সেন্ডাই কাঠামোর ৪টি অগ্রাধিকার: দুর্যোগ ঝুঁকি বোঝা, দুর্যোগ ঝুঁকি ব্যবস্থাপনায় প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতা শক্তিশালীকরণ, দুর্যোগ ঝুঁকি হ্রাসে বিনিয়োগ বৃদ্ধি, এবং কার্যকর সাড়াদানের জন্য প্রস্তুতি 'Build Back Better' পুনরুদ্ধার বাংলাদেশের দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা আইন ২০১২ এবং জাতীয় দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা নীতি ২০১৫ সেন্ডাই কাঠামোর সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ

UNDRR (United Nations Office for Disaster Risk Reduction, পূর্বনাম UNISDR) ১৯৯৯ সালে প্রতিষ্ঠিত; সদর দপ্তর জেনেভা আন্তর্জাতিক দুর্যোগ প্রশমন দিবস ১৩ অক্টোবর (UN ঘোষিত) বাংলাদেশের দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তর (DDM) দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের অধীনে কাজ করে; ১৯৯৩ সালে প্রতিষ্ঠিত জাতীয় দুর্যোগ ঝুঁকি হ্রাস কাউন্সিল (NDRCC) প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারণী সংস্থা

সমুদ্রপৃষ্ঠ বৃদ্ধি বাংলাদেশের উপকূলীয় ঝুঁকি

সমুদ্রপৃষ্ঠ বৃদ্ধি (Sea Level Rise) জলবায়ু পরিবর্তনের সবচেয়ে গুরুতর প্রভাবগুলোর একটি এবং বাংলাদেশের জন্য অস্তিত্বের হুমকি বৈশ্বিক গড় সমুদ্রপৃষ্ঠ বৃদ্ধির হার বার্ষিক . মিলিমিটার (NASA ২০২৩), তবে বাংলাদেশের উপকূলে এই হার বার্ষিক ১৪ মিলিমিটার (BMD), যা বৈশ্বিক গড়ের প্রায় গুণ এর কারণ স্থানীয় ভূমি অবনমন (Land Subsidence), যেখানে -দ্বীপীয় পলিমাটি সংকুচিত হচ্ছে এবং ভূগর্ভস্থ পানির অতিরিক্ত উত্তোলনে ভূমি দেবে যাচ্ছে

IPCC AR6-এর পূর্বাভাস অনুযায়ী ২১০০ সাল নাগাদ বৈশ্বিক সমুদ্রপৃষ্ঠ .২৮ থেকে .০১ মিটার বৃদ্ধি পাবে (নির্গমনের পরিস্থিতি অনুযায়ী) বাংলাদেশের ক্ষেত্রে মিটার সমুদ্রপৃষ্ঠ বৃদ্ধিতে দেশের ১৭ শতাংশ ভূমি স্থায়ীভাবে নিমজ্জিত হবে এবং প্রায় কোটি মানুষ জলবায়ু উদ্বাস্তু (Climate Refugee) হবে সাতক্ষীরা, খুলনা, বাগেরহাট, পটুয়াখালী, বরগুনা ভোলা জেলা সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে লবণাক্ততা বৃদ্ধি ইতোমধ্যে উপকূলীয কৃষি পানীয় জলের উপর মারাত্মক প্রভাব ফেলছে; সাতক্ষীরায় ভূগর্ভস্থ পানিতে লবণের মাত্রা WHO- মান (৫০০ mg/L) অতিক্রম করেছে

সমুদ্রপৃষ্ঠ বৃদ্ধির দুটি প্রধান কারণ: তাপীয় প্রসারণ (Thermal Expansion, মহাসাগরের পানি উষ্ণ হলে আয়তন বাড়ে; মোট বৃদ্ধির প্রায় %) এবং হিমবাহ বরফ চাদর গলন (গ্রিনল্যান্ড অ্যান্টার্কটিকার বরফ চাদর গলে; মোট বৃদ্ধির প্রায় ৬০%) গ্রিনল্যান্ডের সম্পূর্ণ বরফ চাদর গললে সমুদ্রপৃষ্ঠ . মিটার এবং অ্যান্টার্কটিকার সম্পূর্ণ বরফ গললে ৫৮ মিটার বৃদ্ধি পাবে (IPCC AR6) এই মাত্রার বৃদ্ধি শত-হস্র বছরের বিষয় হলেও বৈজ্ঞানিক সম্প্রদায় 'Tipping Point' (অপ্রত্যাবর্তনীয় সীমানা) সম্পর্কে উদ্বিগ্ন

কার্বন বাজার, সবুজ অর্থনীতি বৃত্তাকার অর্থনীতি

কার্বন বাজার (Carbon Market) হলো এমন একটি ব্যবস্থা যেখানে কার্বন নির্গমনের অনুমতিপত্র (Carbon Credit) িনতে-বেচা যায় কিয়োটো প্রোটোকলের CDM (Clean Development Mechanism) অধীনে উন্নত দেশগুলো উন্নয়নশীল দেশে সবুজ প্রকল্পে বিনিয়োগ করে কার্বন ক্রেডিট অর্জন করে প্যারিস চুক্তির অনুচ্ছেদ কার্বন বাজারের নতুন কাঠামো তৈরি করেছে ইউরোপীয় ইউনিয়নের ETS (Emissions Trading System) বিশ্বের বৃহত্তম কার্বন বাজার বাংলাদেশ কার্বন ক্রেডিট বিক্রি করে রাজস্ব আয়ের সম্ভাবনা রাখে (যেমন: ম্যানগ্রোভ বনের কার্বন সঞ্চয়, সৌরবিদ্যুৎ প্রকল্প)

সবুজ অর্থনীতি (Green Economy) একটি অর্থনৈতিক মডেল যা পরিবেশগত ক্ষতি না করে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি অর্জনের লক্ষ্য রাখে UNEP-এর সংজ্ঞা অনুযায়ী সবুজ অর্থনীতি হলো কম-কার্বন, সম্পদ-দক্ষ সামাজিকভাবে অন্তর্ভুক্তিমূলক অর্থনীতি বৃত্তাকার অর্থনীতি (Circular Economy) হলো যেখানে বর্জ্যকে সম্পদে রূপান্তর করা হয় এবং পণ্যের জীবনচক্র বাড়ানো হয় বাংলাদেশে জাহাজ ভাঙা শিল্প (Ship Breaking) একটি বৃত্তাকার অর্থনীতির উদাহরণ, যেখানে পুরনো জাহাজ থেকে ইস্পাত পুনরুদ্ধার করা হয়; তবে পরিবেশ শ্রমিক স্বাস্থ্য ঝুঁকি উদ্বেগের বিষয়

বাংলাদেশের Mujib Climate Prosperity Plan (MCPP, ২০২১) জলবায়ু পদক্ষেপকে অর্থনৈতিক সুযোগে রূপান্তরের একটি নতুন দৃষ্টিভঙ্গি এই পরিকল্পনায় নবায়নযোগ্য শক্তিতে বিশাল বিনিয়োগ, সবুজ বন্ড (Green Bond), জলবায়ু-সহিষ্ণু অবকাঠামো এবং Blue Economy- মাধ্যমে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির পথ দেখানো হয়েছে Delta Plan 2100 (BDP2100, ২০১৮) বাংলাদেশের ১০০ বছরের সমন্বিত উন্নয়ন পরিকল্পনা, যা জলবায়ু পরিবর্তন, পানি ব্যবস্থাপনা, ভূমি ব্যবহার দুর্যোগ ব্যবস্থাপনাকে একসাথে সমন্বিত করেছে BDP2100 অনুযায়ী ৬টি Hotspot চিহ্নিত: উপকূল, বরেন্দ্র, হাওর, পার্বত্য, নদী-মোহনা শহরাঞ্চল

জলবায়ু পরিবর্তন জীববৈচিত্র্য হ্রাস

জলবায়ু পরিবর্তন জীববৈচিত্র্যের জন্য একটি বড় হুমকি IPBES (Intergovernmental Science-Policy Platform on Biodiversity and Ecosystem Services) এর ২০১৯ সালের প্রতিবেদন অনুযায়ী প্রায় ১০ লক্ষ প্রজাতি বিলুপ্তির ঝুঁকিতে রয়েছে এবং জলবায়ু পরিবর্তন এই হুমকির অন্যতম কারণ বাংলাদেশে সুন্দরবনের ম্যানগ্রোভ বন সমুদ্রপৃষ্ঠ বৃদ্ধি লবণাক্ততায় হুমকির মুখে; রয়েল বেঙ্গল টাইগারের আবাস সংকুচিত হচ্ছে (বর্তমানে ১২৫টি, বন বিভাগ ২০২৪) প্রবাল প্রাচীর (সেন্ট মার্টিন দ্বীপ) সমুদ্রের তাপমাত্রা বৃদ্ধিতে ব্লিচিং (Coral Bleaching) এর শিকার হচ্ছে

হাওর অঞ্চলে জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে আকস্মিক বন্যা তাপমাত্রা বৃদ্ধি মিঠাপানির মাছের ১৪৩ প্রজাতির আবাস হুমকিতে ফেলছে ইলিশ মাছের প্রজনন প্যাটার্নে পরিবর্তন লক্ষ্য করা যাচ্ছে; তাপমাত্রা বৃদ্ধি নদীর পানিপ্রবাহ পরিবর্তনে ইলিশের ডিম ছাড়ার সময় স্থান বদলে যাচ্ছে CBD (Convention on Biological Diversity, ১৯৯২) জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণের আন্তর্জাতিক কাঠামো; ২০২২ সালে COP15 (মন্ট্রিল)- Kunming-Montreal Global Biodiversity Framework গৃহীত হয়, যেখানে ২০৩০ সালের মধ্যে ভূমি সমুদ্রের ৩০ শতাংশ সংরক্ষিত এলাকায় আনার লক্ষ্যমাত্রা (30x30 Target) নির্ধারণ করা হয়েছে

El Nino, La Nina বৈশ্বিক জলবায়ু প্যাটার্ন

El Nino-Southern Oscillation (ENSO) প্রশান্ত মহাসাগরে সমুদ্রপৃষ্ঠের তাপমাত্রার একটি চক্রাকার পরিবর্তন, যা বৈশ্বিক আবহাওয়া জলবায়ুকে ব্যাপকভাবে প্রভাবিত করে El Nino পর্যায়ে (উষ্ণ পর্যায়) প্রশান্ত মহাসাগরের পূর্বাংশে (দক্ষিণ আমেরিকা উপকূলে) পানি স্বাভাবিকের চেয়ে উষ্ণ হয় La Nina পর্যায়ে (শীতল পর্যায়) একই অঞ্চলে পানি শীতলতর হয় প্রতি থেকে বছর পরপর এই চক্র ঘটে El Nino বছরে বৈশ্বিক গড় তাপমাত্রা . থেকে . ডিগ্রি সেলসিয়াস বৃদ্ধি পায়; ২০২৩ সালে শক্তিশালী El Nino জলবায়ু পরিবর্তনের মিলিত প্রভাবে বিশ্বের সর্বকালের উষ্ণতম বছর রেকর্ড হয়

বাংলাদেশে El Nino বছরে শুষ্ক মৌসুম দীর্ঘতর হয়, বৃষ্টিপাত কম হয় এবং খরার ঝুঁকি বাড়ে La Nina বছরে বাংলাদেশে অতিবৃষ্টি বন্যার ঝুঁকি বৃদ্ধি পায়; ২০২২ সালের সিলেট বন্যার অন্যতম কারণ ছিল La Nina-প্রভাবিত অতিবৃষ্টি Indian Ocean Dipole (IOD) আরেকটি সমুদ্র-বায়ুমণ্ডলীয় চক্র যা ভারত মহাসাগরে ঘটে এবং বাংলাদেশের মৌসুমি বৃষ্টিপাতকে প্রভাবিত করে ধনাত্মক IOD বছরে বাংলাদেশে বৃষ্টিপাত বেশি হয় জলবায়ু পরিবর্তন ENSO IOD চক্রের তীব্রতা বৃদ্ধি করছে বলে গবেষকরা মনে করেন

পানি সংকট জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব

বাংলাদেশের পানি সংক জলবায়ু পরিবর্তনের সাথে সরাসরি সম্পর্কিত দেশের ৯২ শতাংশ মিঠাপানি উজান থেকে (ভারত) আসে, ফলে আন্তঃসীমান্ত পানিপ্রবাহের পরিবর্তন বাংলাদেশকে সরাসরি প্রভাবিত করে হিমালয়ের হিমবাহ গলনে স্বল্পমেয়াদে পানিপ্রবাহ বাড়ছে, কিন্তু দীর্ঘমেয়াদে হিমবাহ সংকুচিত হলে ুষ্ক মৌসুমে পানিপ্রবাহ উল্লেখযোগ্যভাবে কমে যাবে গঙ্গা পানিচুক্তি (১৯৯৬) ৩০ বছর মেয়াদ শেষ হচ্ছে ২০২৬ সালে; তিস্তা পানিচুক্তি এখনো হয়নি

ভূগর্ভস্থ পানির সংকট ক্রমবর্ধমান ঢাকায় প্রতিদিন ২৫০ কোটি লিটার পানির চাহিদার ৮০ শতাংশ ভূগর্ভস্থ উৎস থেকে আসে; পানির স্তর বার্ষিক থেকে মিটার নামছে (BWDB ২০২৩) বরেন্দ্র অঞ্চলে (রাজশাহী, নওগাঁ, চাঁপাইনবাবগঞ্জ) ভূগর্ভস্থ পানির স্তর আরো দ্রুত নামছে; কোথাও কোথাও ৩০ মিটারের নিচে চলে গেছে উপকূলীয় অঞ্চলে সমুদ্রপৃষ্ঠ বৃদ্ধি ঘূর্ণিঝড়ের জলোচ্ছ্বাসে ভূগর্ভস্থ পানিতে লবণ অনুপ্রবেশ (Saline Intrusion) বৃদ্ধি পাচ্ছে; সাতক্ষীরা খুলনায় পানীয় জলের তীব্র সংকট

আর্সেনিক দূষণ বাংলাদেশের পানি খাতের আরেকটি বড় সমস্যা, যদিও এটি সরাসরি জলবায়ু পরিবর্তনের ফল নয় ৬৪ জেলার মধ্যে ৬১ জেলায় আর্সেনিক পাওয়া গেছে; প্রায় . কোটি মানুষ আর্সেনিকযুক্ত পানি পান করছে (DPHE ২০২১) WHO-এর নির্দেশিকায় পানীয় জলে আর্সেনিকের সর্বোচ্চ গ্রহণযোগ্য মাত্রা ১০ µg/L; বাংলাদেশের মান ৫০ µg/L জলবায়ু পরিবর্তনে ভূগর্ভস্থ পানির স্তর নামলে আর্সেনিক ঘনত্ব বাড়তে পারে

নগরায়ন, তাপদ্বীপ জলবায়ু পরিবর্তন

নগরায় জলবায়ু পরিবর্তনের একটি গুরুত্বপূর্ণ নিয়ামক এবং শিকার উভয়ই Urban Heat Island (UHI) বা শহুরে তাপদ্বীপ প্রভাবে শহরাঞ্চলের তাপমাত্রা আশপাশের গ্রামাঞ্চলের চেয়ে থেকে ডিগ্রি সেলসিয়াস বেশি হয় ঢাকা, চট্টগ্রাম রাজশাহীতে এই প্রভাব স্পষ্ট কংক্রিট, ডামার ধাতব পৃষ্ঠ সূর্যের তাপ শোষণ করে ধীরে ধীরে ছাড়ে; সবুজ আবরণ (গাছ, ঘাস) হ্রাস পাওয়ায় তাপ শোষণের প্রাকৃতিক ব্যবস্থা দুর্বল হচ্ছে ঢাকায় গত ২০ বছরে প্রায় ৭০ শতাংশ জলাশয় ৫০ শতাংশ সবুজ আবরণ বিলুপ্ত হয়েছে (RAJUK ২০১৮)

শহরে জলাবদ্ধতা (Waterlogging) লবায়ু পরিবর্তনের একটি ক্রমবর্ধমান সমস্যা চরম বৃষ্টিপাতের ঘটনা বৃদ্ধি (প্রতি °C তাপমাত্রা বৃদ্ধিতে % বেশি বৃষ্টিপাত), জলাশয় ভরাট নিষ্কাশন ব্যবস্থার অপর্যাপ্ততায় ঢাকা চট্টগ্রামে ঘন ঘন জলাবদ্ধতা দেখা দিচ্ছে ২০২৪ সালের বর্ষায় ঢাকায় একদিনে ২০০ মিমি-এর বেশি বৃষ্টিপাত হয়, যা শহরের বড় অংশকে জলমগ্ন করে জলবায়ু-সহিষ্ণু নগর পরিকল্পনায় সবুজ অবকাঠামো (Green Infrastructure), বৃষ্টির পানি সংগ্রহ, ভাসমান কৃষি এবং টেকসই নিষ্কাশন ব্যবস্থা (Sustainable Urban Drainage System, SUDS) গুরুত্বপূর্ণ

জলবায়ু অভিবাস (Climate Migration) বাংলাদেশের ক্রমবর্ধমান বাস্তবতা প্রতি বছর আনুমানিক থেকে লক্ষ মানুষ নদীভাঙন, বন্যা, লবণাক্ততা ঘূর্ণিঝড়ের কারণে বাস্তুচ্যুত হচ্ছে (Internal Displacement Monitoring Centre, IDMC ২০২৩) এই অভিবাসীদের বেশিরভাগই ঢাকা চট্টগ্রামের স্তিতে আশ্রয় নেন, যা শহরের জনসংখ্যা চাপ সেবা সংকট বৃদ্ধি করে IPCC AR6 অনুযায়ী ২০৫০ সালের মধ্যে বাংলাদেশে জলবায়ু উদ্বাস্তুর সংখ্যা . থেকে কোটিতে পৌঁছাতে পারে এই বিশাল অভিবাসনের চাপ সামলাতে সমন্বিত নগর পরিকল্পনা, উপকূলীয় সুরক্ষা এবং গ্রামীণ অর্থনীতি শক্তিশালীকরণ অত্যন্ত জরুরি জলবায়ু অভিবাসনকে আন্তর্জাতিক আইনে 'শরণার্থী' মর্যাদা দেওয়ার দাবি ক্রমশ জোরালো হচ্ছে, কারণ ১৯৫১ সালের Refugee Convention- জলবায়ু উদ্বাস্তুদের অন্তর্ভুক্ত করা হয়নি

বৈশ্বিক তাপমাত্রা চরম আবহাওয়ার রেকর্ড

বৈশ্বিক জলবায়ু পরিবর্তনের সবচেয়ে দৃশ্যমান প্রমাণ হলো তাপমাত্রা বৃদ্ধি WMO- তথ্য অনুযায়ী ২০১৪ থেকে ২০২৩ সালের প্রতিটি বছর উষ্ণতম ১০ বছরের মধ্যে পড়ে এবং ২০২৩ সাল রেকর্ড ভাঙা উষ্ণতম বছর বৈশ্বিক গড় তাপমাত্রা প্রাক-শিল্প যুগের (১৮৫০-১৯০০) তুলনায় .৪৫ িগ্রি সেলসিয়াস বেশি ছিল, যা . ডিগ্রি সীমার অত্যন্ত কাছে আর্কটিকে বরফ গলার হার ক্রমাগত বাড়ছে; গত ৪০ বছরে আর্কটিক সমুদ্রের বরফ ১৩ শতাংশ/দশক হারে কমছে (NASA ২০২৩) গ্রিনল্যান্ড অ্যান্টার্কটিকার বরফ চাদর (Ice Sheet) গলে সমুদ্রপৃষ্ঠ বৃদ্ধিতে অবদান রাখছে

চরম আবহাওয়ার ঘটনা বিশ্বব্যাপী বৃদ্ধি পাচ্ছে ২০২১ সালে কানাডার ব্রিটিশ কলাম্বিয়ায় ৪৯. ডিগ্রি সেলসিয়াস রেকর্ড করা হয়, যা উত্তর আমেরিকার সর্বকালের সর্বোচ্চ ২০২২ সালে পাকিস্তানে ভয়াবহ বন্যায় দেশের এক-তৃতীয়াংশ নিমজ্জিত হয়, যাকে জলবায়ু পরিবর্তনের রাসরি প্রভাব হিসেবে বিজ্ঞানীরা চিহ্নিত করেছেন ২০২৩ সালে গ্রিসে ব্যাপক দাবানল এবং লিবিয়ায় ভয়াবহ বন্যা (ড্যানিয়েল ঝড়; ১১,০০০+ মৃত্যু) জলবায়ু পরিবর্তনের তীব্রতার আরেকটি প্রমাণ এই প্রতিটি ঘটনা IPCC AR6-এর পূর্বাভাসের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ: চরম আবহাওয়া রো ঘন ঘন তীব্র হচ্ছে

চটজলদি রিভিশন

জলবায়ু পরিবর্তনের প্রধান কারণ: মানবসৃষ্ট GHG নির্গমন (CO₂, CH₄, N₂O, CFC)

CO₂ ঘনত্ব: প্রাক-শিল্প ২৮০ ppm; বর্তমান ৪২১ ppm; ৫০% বৃদ্ধি

বৈশ্বিক তাপমাত্রা: গত ১০০ বছরে .°C বৃদ্ধি (IPCC AR6)

GWP: CO₂=, CH₄=২৫, N₂O=৯৮, CFC=১০,৯০০, SF₆=২২,৮০০ (সর্বোচ্চ)

গ্রিনহাউস প্রভাব না থাকলে তাপমাত্রা: -১৮°C; বর্তমান: +১৫°C

বায়ুমণ্ডল: ৭৮% N₂, ২১% O₂, .% Ar, .০৪% CO₂

স্তর: ট্রপো (আবহাওয়া), স্ট্র্যাটো (ওজোন), মেসো (ঠান্ডা), থার্মো (Aurora), এক্সো (মহাকাশ)

ট্রপোস্ফিয়ারে Lapse Rate: .°C/কিমি

ওজোন স্তর: স্ট্র্যাটোস্ফিয়ারে ১৫-৩০ কিমি; ওজোন গর্ত ১৯৮৫ (অ্যান্টার্কটিকা)

CFC ওজোন ধ্বংস করে; ১টি CFC = ,০০,০০০ ওজোন অণু ধ্বংস

মন্ট্রিল প্রোটোকল: ১৯৮৭; CFC নিষিদ্ধ; ১৯৮ দেশ; সবচেয়ে সফল চুক্তি

ওজোন পুনরুদ্ধার: ০৫৮-২০৬৫ সালে (পূর্বাভাস)

স্টকহোম ১৯৭২: প্রথম পরিবেশ সম্মেলন; জুন পরিবেশ দিবস; UNEP

রিও ১৯৯২: UNFCCC, CBD, Agenda 21

কিয়োটো ১৯৯৭ (কার্যকর ২০০৫): Annex-I দেশের বাধ্যতামূলক GHG হ্রাস

প্যারিস ২০১৫ (COP21): .°C লক্ষ্য; সব দেশের NDC; বছরে পর্যালোচনা

COP27 (২০২২ মিশর): Loss and Damage Fund; COP28 (২০২৩ UAE): জীবাশ্ম ট্রানজিশন

IPCC: ১৯৮৮ প্রতিষ্ঠা; ২০০৭ নোবেল (আল গোর সাথে); AR6 (২০২১-২৩)

বাংলাদেশ CRI ৭ম (Germanwatch ২০২১); CO₂ নির্গমন মাত্র .%

সমুদ্রপৃষ্ঠ মিটার বাড়লে: ১৭% ভূমি নিমজ্জিত; কোটি উদ্বাস্তু

BCCSAP: ২০০৯; BCCTF: ২০১০ (,০০০+ কোটি টাকা); NAPA: ২০০৫

NDC (২০২১): শর্তসাপেক্ষে ২১.৮৫% GHG হ্রাস (২০৩০)

আবহাওয়ার উপাদান: তাপমাত্রা, বৃষ্টিপাত, আর্দ্রতা, বায়ুচাপ বন্যা নয়

জলবায়ুর নিয়ামক: অক্ষাংশ, উচ্চতা, সমুদ্র সান্নিধ্য দ্রাঘিমাংশ নয

বাংলাদেশ: ক্রান্তীয় মৌসুমি জলবায়ু; বর্ষায় দক্ষিণ-পশ্চিম বায়ু

ভূমধ্যসাগরীয়: শীতে বৃষ্টি, গ্রীষ্মে শুষ্ক

সাংবিধানিক ১৮ক: পরিবেশ সংরক্ষণ (১৫তম সংশোধনী ২০১১)

SDG ১৩: জলবায়ু পদক্ষেপ; SDG : পরিচ্ছন্ন শক্তি; SDG ১৪: সমুদ্র; SDG ১৫: ভূমি

পরিবেশ সংরক্ষণ আইন: ১৯৯৫; DoE: ১৯৮৯; DDM: ১৯৯৩; CPP: ১৯৭২

জুন পরিবেশ; ১৬ সেপ্টেম্বর ওজোন; ১৩ অক্টোবর দুর্যোগ; ২২ মার্চ পানি

El Nino: প্রশান্ত মহাসাগর উষ্ণ; বাংলাদেশে খরার ঝুঁকি বাড়ে

La Nina: প্রশান্ত মহাসাগর শীতল; বাংলাদেশে অতিবৃষ্টি বন্যার ঝুঁকি বাড়ে

ENSO ক্র: প্রতি - বছরে; ২০২৩ শক্তিশালী El Nino; সর্বকালের উষ্ণতম বছর

সমুদ্রপৃষ্ঠ বৃদ্ধির কারণ: তাপীয় প্রসারণ (৪০%) + বরফ গলন (৬০%)

বাংলাদেশে সমুদ্রপৃষ্ঠ: ১৪ মিমি/বছর (বৈশ্বিক . মিমি/বছরের গুণ)

গ্রিনল্যান্ড বরফ গললে: +. মিটার; অ্যান্টার্কটিকা: +৫৮ মিটার

কার্বন বাজার: Carbon Credit কিনতে-বেচা; EU ETS বৃহত্তম

CDM: Clean Development Mechanism; কিয়োটোর অধীনে

GCF: Green Climate Fund; UNFCCC- প্রধান জলবায়ু তহবিল

CVF: Climate Vulnerable Forum; বাংলাদেশ ২০২০-২১ সভাপতি

MCPP: Mujib Climate Prosperity Plan (২০২১); জলবায়ু + উন্নয়ন সমন্বয়

BDP2100: Delta Plan; Hotspot; ১০০ বছরের পরিকল্পনা (২০১৮)

সবুজ অর্থনীতি: কম-কার্বন, সম্পদ-দক্ষ, সামাজিক অন্তর্ভুক্তিমূলক (UNEP সংজ্ঞা)

CBD COP15 (২০২২ মন্ট্রিল): 30x30 Target; ৩০% ভূমি সমুদ্র সংরক্ষিত

জীববৈচিত্র্য: IPBES অনুযায়ী ১০ লক্ষ প্রজাতি বিলুপ্তির ঝুঁকিতে

সুন্দরবনে রয়েল বেঙ্গল টাইগার: ১২৫টি (২০২৪); সমুদ্রপৃষ্ঠ ৃদ্ধিতে আবাস সংকুচিত

Coral Bleaching: সমুদ্রের তাপমাত্রা বৃদ্ধিতে প্রবাল সাদা হয়ে মারা যায়; সেন্ট মার্টিন আক্রান্ত

CPP: ১৯৭২ প্রতিষ্ঠিত; ৭৬,০০০+ স্বেচ্ছাসেবক; ,৩০০+ আশ্রয়কেন্দ্র

ভোলা ১৯৭০: - লক্ষ মৃত; সিডর ২০০৭: ,৪০৬ মৃত (CPP-এর সাফল্য)

২০২৩: সর্বকালের উষ্ণতম বছর (El Nino + জলবায়ু পরিবর্তন)

Tipping Point: অপ্রত্যাবর্তনীয় সীমানা; যেমন: গ্রিনল্যান্ড বরফ, আমাজন বন

Net Zero: নির্গমন = শোষণ; বৈশ্বিক লক্ষ্য ২০৫০; চীন ২০৬০; ভারত ২০৭০

গুরুত্বপূর্ণ বিষয়

জলবায়ু পরিবর্তনের প্রধান কারণ: মানবসৃষ্ট GHG নির্গমন; CO₂ সবচেয়ে বেশি নির্গত; SF₆ সবচেয়ে শক্তিশালী (GWP)

বায়ুমণ্ডল: ৭৮% N₂, ২১% O₂; স্তর (ট্রপো > স্ট্র্যাটো > মেসো > থার্মো > এক্সো)

ট্রপোস্ফিয়ার: আবহাওয়া ঘটে; -১২ কিমি; Lapse Rate .°C/কিমি

ওজোন স্তর: স্ট্র্যাটোস্ফিয়ারে ১৫-৩০ কিমি; UV শোষ; CFC ধ্বংস করে

মন্ট্রিল প্রোটোকল (১৯৮৭): CFC নিষিদ্ধ; ১৯৮ দেশ; সবচেয়ে সফল পরিবেশ চুক্তি

IPCC: ১৯৮৮ (WMO+UNEP); AR6 (২০২১-২৩); ২০০৭ নোবেল

স্টকহোম ১৯৭২ (UNEP, জুন); রিও ১৯৯২ (UNFCCC, CBD); কিয়োটো ১৯৯৭ (GHG); প্যারিস ২০১৫ (.°C)

COP27 (২০২২): Loss and Damage Fund; COP28 (২০২৩): জীবাশ্ম ট্রানজিশন; COP29 (২০২৪): ৩০০ বিলিয়ন

বাংলাদেশ: CRI ৭ম; CO₂ মাত্র .%; সমুদ্রপৃষ্ঠ ১৪ মিমি/বছর; মিটার = ১৭% নিমজ্জিত

BCCSAP ২০০৯; BCCTF ২০১০; NAPA ২০০৫; NDC ২১.৮৫% (শর্তসাপেক্ষ)

CPP ১৯৭২; ৭৬,০০০+ স্বেচ্ছাসেবক; ,৩০০+ আশ্রয়কেন্দ্র

আবহাওয়ার উপাদান: তাপমাত্রা, বৃষ্টি, আর্দ্রতা, চাপ (বন্যা নয়)

জলবায়ুর নিয়ামক: অক্ষাংশ, উচ্চতা, সমুদ্র সান্নিধ্য (দ্রাঘিমাংশ নয়)

El Nino: খরা ঝুঁকি; La Nina: বন্যা ঝুঁকি; ENSO - বছর চক্র

সবুজ অর্থনীতি: কম-কার্বন; বৃত্তাকার অর্থনীতি: বর্জ্য=সম্পদ

কার্বন বাজার: Carbon Credit; CDM; EU ETS বৃহত্তম

Net Zero: ২০৫০ বৈশ্বিক লক্ষ্য; চীন ২০৬০; ভারত ২০৭০

এসিড বৃষ্টি: pH .-এর কম; SO₂ NOx কারণ; ভবন বন ক্ষতিগ্রস্ত

ঢাকা বায়ুদূষণ: PM2.5 ৭৭+ µg/m³ (WHO মান µg/m³); ইটভাটা ৫৮% দায়ী

আর্সেনিক: ৬১ জেলায় পাওয়া গেছে; . কোটি আক্রান্ত; বাংলাদেশ মান ৫০ µg/L; WHO মান ১০ µg/L

জলবায়ু অভিবাসন: বার্ষিক - লক্ষ; ২০৫০- .- কোটি (IPCC AR6)

পলিথি ব্যাগ নিষিদ্ধ: বাংলাদেশ ২০০২ সালে (বিশ্বের প্রথম দেশগুলোর একটি)

সেন্ডাই কাঠামো ২০১৫-২০৩০; UNDRR ১৯৯৯ (জেনেভা); DDM ১৯৯৩; ১৩ অক্টোবর দুর্যোগ দিবস

দুর্যোগ চক্র: প্রস্তুতি > প্রশমন > সাড়াদান > পুনরুদ্ধার (Build Back Better)

CBD COP15 (২০২২ মন্ট্রিল): 30x30 Target; ৩০% ভূমি সমুদ্র সংরক্ষিত

Coral Bleaching: সমুদ্রের তাপমাত্রা বাড়লে প্রবাল সাদা হয়ে মারা যায়; সেন্ট মার্টিন আক্রান্ত

বাংলাদেশের অনন্য জলবায়ু ঝুঁকি: কেন এই দেশ সবচেয়ে বেশি আক্রান্ত

বাংলাদেশের জলবায়ু ঝুঁকি পাঁচটি কাঠামোগত কারণে বিশ্বের প্রায় সকল দেশের চেয়ে বেশি প্রথমত, ভৌগোলিক অবস্থান: গঙ্গা-ব্রহ্মপুত্র-মেঘনা অববাহিকার ভাটিতে এবং বঙ্গোপসাগরের তীরে অবস্থান একই সাথে বন্যা ঘূর্ণিঝড়ের ঝুঁকি তৈরি করে দ্বিতীয়ত, নিচু ভূমি: দেশের ৭০ শতাংশ ভূমি সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে মিটারের নিচে, ফলে সামান্য সমুদ্রপৃষ্ঠ বৃদ্ধিতেও বিশাল এলাকা ডুবে যায় তৃতীয়ত, জনঘনত্ব: প্রতি বর্গকিলোমিটারে ,১১৯ জন বসবাসের কারণে দুর্যোগে আক্রান্ত মানুষের সংখ্যা অত্যন্ত বেশি চতুর্থত, কৃষিনির্ভরতা: মোট কর্মসংস্থানের ৪০ শতাংশ কৃষিতে, যা তাপমাত্রা, বৃষ্টি লবণাক্ততার পরিবর্তনে সরাসরি ক্ষতিগ্রস্ত হয় পঞ্চমত, উজান নির্ভরশীলতা: দেশের ৯২ শতাংশ মিঠাপানি উজান থেকে আসে, ফলে হিমালয়ের হিমবাহ গলন আন্তঃসীমান্ত পানিপ্রবাহ পরিবর্তন বাংলাদেশকে সরাসরি প্রভাবিত করে

এই পাঁচটি কারণের সম্মিলিত প্রভাবে বাংলাদেশ Germanwatch-এর Global Climate Risk Index- ক্রমাগত শীর্ষ ১০- থাকে (২০২১: ৭ম) ND-GAIN Country Index অনুযায়ী বাংলাদেশ বিশ্বের ১৬২তম সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ দেশ (১৮৫ দেশের মধ্যে) তবে একই সাথে এটি উল্লেখযোগ্য যে বাংলাদেশ জলবায়ু অভিযোজনে বিশ্বের অন্যতম সফল দেশ ১৯৭০ সালের ভোলা সাইক্লোনে থেকে লক্ষ মানুষ মারা গিয়েছিল; ২০০৭ সালের সিডরে (প্রায় একই মাত্রার ঘূর্ণিঝড়) মৃত্যু ,৪০৬ জনে সীমিত থেকেছে এই ৯৯ শতাংশেরও বেশি মৃত্যু হ্রাস CPP-এর আশ্রয়কেন্দ্র ব্যবস্থা, আগাম সতর্কতা এবং সরকারি প্রস্তুতির সাফল্য বাংলাদেশের এই অভিযোজন অভিজ্ঞতা বিশ্বের অন্যান্য জলবায়ু-ঝুঁকিপূর্ণ দেশের জন্য অনুসরণযোগ্য মডেল হিসেবে UN দ্বারা স্বীকৃত

Review this chapter

You Can Also Read

Chapters closely related to the one you are reading now.

বাংলাদেশ ও অঞ্চল ভিত্তিক ভৌগোলিক সীমানা ও অবস্থান

No reviews
0 students
Read chapter

বাংলাদেশের পরিবেশ: প্রকৃতি ও সম্পদ

No reviews
0 students
Read chapter

প্রাকৃতিক সম্পদের বণ্টন ও গুরুত্ব

No reviews
0 students
Read chapter

বাংলাদেশের ভূপ্রকৃতি ও জলবায়ু

No reviews
0 students
Read chapter

পরিবেশ সংক্রান্ত প্রধান চ্যালেঞ্জসমূহ​

No reviews
0 students
Read chapter

ভূ-প্রাকৃতিক বৈশিষ্ট্য

No reviews
0 students
Read chapter

Most Read by Students

Popular picks getting the strongest student traffic right now.

জৈব রসায়ন (Organic Chemistry)

No reviews
1 student
Read chapter

পরিবেশ রসায়ন (Environmental Chemistry)

No reviews
1 student
Read chapter

পরিমাণগত রসায়ন (Quantitative Chemistry)

No reviews
1 student
Read chapter

দুর্যোগ প্রস্তুতি ও মোকাবেলা

No reviews
1 student
Read chapter

অসহযোগ আন্দোলন (মার্চ ১৯৭১)

No reviews
1 student
Read chapter

Others Who Read This Also Read

Behavior-based suggestions from student reading patterns where available.

বাংলাদেশ ও অঞ্চল ভিত্তিক ভৌগোলিক সীমানা ও অবস্থান

No reviews
0 students
Read chapter

বাংলাদেশের পরিবেশ: প্রকৃতি ও সম্পদ

No reviews
0 students
Read chapter

প্রাকৃতিক সম্পদের বণ্টন ও গুরুত্ব

No reviews
0 students
Read chapter

বাংলাদেশের ভূপ্রকৃতি ও জলবায়ু

No reviews
0 students
Read chapter

পরিবেশ সংক্রান্ত প্রধান চ্যালেঞ্জসমূহ​

No reviews
0 students
Read chapter

ভূ-প্রাকৃতিক বৈশিষ্ট্য

No reviews
0 students
Read chapter

Best Reviewed

Chapters earning the strongest student feedback.

বাংলাদেশ ও অঞ্চল ভিত্তিক ভৌগোলিক সীমানা ও অবস্থান

No reviews
0 students
Read chapter

বাংলাদেশের পরিবেশ: প্রকৃতি ও সম্পদ

No reviews
0 students
Read chapter

প্রাকৃতিক সম্পদের বণ্টন ও গুরুত্ব

No reviews
0 students
Read chapter

বাংলাদেশের ভূপ্রকৃতি ও জলবায়ু

No reviews
0 students
Read chapter

পরিবেশ সংক্রান্ত প্রধান চ্যালেঞ্জসমূহ​

No reviews
0 students
Read chapter

ভূ-প্রাকৃতিক বৈশিষ্ট্য

No reviews
0 students
Read chapter

Course Suggestions

Want a more guided path after this chapter? These courses are the closest fit.

Browse all courses
Learner fit৳1,999

Bangla

Bangla Language Mastery

Popular with BCS learners who want guided study.

6 lessons8.5h4.9 (186)1.3K students

By Sadia Rahman

View course
Learner fit৳2,999

Platform Building

Teacher Marketplace Blueprint

Popular with BCS learners who want guided study.

5 lessons6.8h4.9 (28)410 students

By Sadia Rahman

View course
FreeFree

English

Admission English Playbook

Free guided course with lessons you can jump into anytime.

4 lessons4.2h4.8 (91)2.8K students

By Rayan Akter

View course