আন্তর্জাতিক পরিবেশ ও জলবায়ু International Environment and Climate |
সারসংক্ষেপ
আন্তর্জাতিক পরিবেশ ও জলবায়ু বিষয়টি বৈশ্বিক পরিবেশ সংরক্ষণ আন্দোলনের ইতিহাস, প্রধান আন্তর্জাতিক সম্মেলন, কনভেনশন ও প্রটোকল, জলবায়ু পরিবর্তনের বৈশ্বিক কাঠামো এবং বাংলাদেশের আন্তর্জাতিক অঙ্গীকারের সমন্বিত বিশ্লেষণ ঘিরে আবর্তিত। BCS প্রিলিতে সাল-শহর-বিধান ভিত্তিক সরাসরি প্রশ্ন এবং লিখিত পরীক্ষায় কারণ-প্রভাব বিশ্লেষণ আসে; বাংলাদেশ জলবায়ু পরিবর্তনের শীর্ষ ঝুঁকিপূর্ণ দশটি দেশের একটি হওয়ায় এই অধ্যায়ের গুরুত্ব দিন দিন বাড়ছে।
প্রেক্ষাপট আলোচনা
শিল্পবিপ্লব-পরবর্তী সময় থেকে গত শতাব্দীতে কার্বন ডাই অক্সাইডের পরিমাণ প্রায় ২৫ শতাংশ, নাইট্রাস অক্সাইডের পরিমাণ ১৯ শতাংশ এবং মিথেনের পরিমাণ প্রায় ১০০ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। বায়ুমণ্ডলে তাপ ধরে রাখতে সক্ষম গ্যাসসমূহের ঘনত্ব বাড়ার ফলে বৈশ্বিক উষ্ণতা (Global Warming) ঘটছে এবং পৃথিবীর ঋতু-বৈচিত্র্য পরিবর্তিত হচ্ছে। আন্তঃসরকার জলবায়ু পরিবর্তন প্যানেল (Intergovernmental Panel on Climate Change, IPCC) এই উষ্ণতা বৃদ্ধির পেছনে মূলত মানুষের কার্যক্রমকেই দায়ী করেছে।
এই বৈশ্বিক সংকট মোকাবিলায় ১৬ জুন ১৯৭২ সালে সুইডেনের রাজধানী স্টকহোমে অনুষ্ঠিত মানব পরিবেশ সম্মেলন (UN Conference on the Human Environment) থেকেই আন্তর্জাতিক পরিবেশ কূটনীতির আনুষ্ঠানিক সূচনা ঘটে। এর ঠিক বিশ বছর পর ৩ থেকে ১৪ জুন ১৯৯২ সালে ব্রাজিলের রিও-ডি-জেনিরোতে অনুষ্ঠিত ধরিত্রী সম্মেলনে (Earth Summit) বিশ্বের ১৭৮ টি দেশের সরকার প্রধান বা প্রতিনিধি অংশগ্রহণ করেন; এখানেই Agenda 21, UNFCCC এবং CBD গৃহীত হয়। এর ফলে পরিবেশ সংরক্ষণ কেবল জাতীয় বিষয় না থেকে বৈশ্বিক প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামোয় রূপ নেয়।
১৯৮৭ সালের মন্ট্রিল প্রটোকল ওজোন স্তর রক্ষায়, ১৯৯৭ সালের কিয়োটো প্রটোকল গ্রিনহাউস গ্যাস নিঃসরণ হ্রাসে এবং ২০১৫ সালের প্যারিস চুক্তি বৈশ্বিক উষ্ণতা ১.৫ ডিগ্রি সেলসিয়াসের নিচে রাখতে আইনগত ভিত্তি তৈরি করে। জলবায়ু পরিবর্তনে স্বল্প দায়ী হয়েও সর্বাধিক ঝুঁকির মুখোমুখি বাংলাদেশ প্রায় সকল প্রধান কনভেনশনে স্বাক্ষরকারী, এবং Climate Vulnerable Forum (CVF) ও V20 গোষ্ঠীর সক্রিয় সদস্য হিসেবে আন্তর্জাতিক মঞ্চে দাবিদার দেশগুলোর অন্যতম মুখপাত্র।
আন্তর্জাতিক জলবায়ু কূটনীতির প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামো
জাতিসংঘের অধীনে পরিবেশ সংক্রান্ত শীর্ষ প্রতিষ্ঠান United Nations Environment Programme (UNEP); স্টকহোম সম্মেলনের ফলে ১৯৭২ সালে কেনিয়ার রাজধানী নাইরোবিতে এর সদর দপ্তর স্থাপন করা হয়। জলবায়ু বিজ্ঞান মূল্যায়নের শীর্ষ প্রতিষ্ঠান IPCC; ১৯৮৮ সালে World Meteorological Organization (WMO) ও UNEP যৌথভাবে এটি প্রতিষ্ঠা করে; ১৯৯০ সালে এর প্রথম মূল্যায়ন প্রতিবেদন এবং ২০২৩ সালে ষষ্ঠ মূল্যায়ন প্রতিবেদন (AR6 Synthesis Report) প্রকাশিত হয়। চুক্তিভিত্তিক আলোচনা পরিচালনার দায়িত্বে UNFCCC সচিবালয়, যার সদর দপ্তর জার্মানির বনে।
🌍 প্রাতিষ্ঠানিক বক্স UNEP: প্রতিষ্ঠা ১৯৭২; সদর দপ্তর নাইরোবি, কেনিয়া; বিশ্ব পরিবেশ দিবস ৫ জুন এই সংস্থা পরিচালনা করে। WMO: প্রতিষ্ঠা ১৯৫০; সদর দপ্তর জেনেভা, সুইজারল্যান্ড; জাতিসংঘের বিশেষায়িত আবহাওয়া সংস্থা। IPCC: প্রতিষ্ঠা ১৯৮৮ (WMO ও UNEP যৌথভাবে); সদর দপ্তর জেনেভা; বর্তমান চেয়ার জিম স্কিয়া (যুক্তরাজ্য, ২০২৩ থেকে)। UNFCCC সচিবালয়: প্রতিষ্ঠা ১৯৯২; সদর দপ্তর বন, জার্মানি; বর্তমান নির্বাহী সচিব সাইমন স্টিল (২০২৩ থেকে)। UNDRR: প্রতিষ্ঠা ১৯৯৯; সদর দপ্তর জেনেভা; বৈশ্বিক দুর্যোগ ঝুঁকি হ্রাস কাঠামো পরিচালনা করে। |
মূল সংজ্ঞা
সংজ্ঞা জলবায়ু পরিবর্তন (Climate Change): দীর্ঘমেয়াদে (সাধারণত ৩০ বছর বা বেশি সময়ে) পৃথিবীর তাপমাত্রা, বৃষ্টিপাত, বায়ুপ্রবাহ ইত্যাদি জলবায়ু উপাদানের লক্ষণীয় পরিবর্তন। UNFCCC-এর সংজ্ঞা অনুযায়ী মানবিক কর্মকাণ্ডের ফলে বায়ুমণ্ডলের গঠনে যে পরিবর্তন এবং তার সঙ্গে যুক্ত স্বাভাবিক জলবায়ু-পরিবর্তনশীলতাকে একত্রে জলবায়ু পরিবর্তন বলে। বৈশ্বিক উষ্ণতা (Global Warming): মানুষের কর্মকাণ্ডে নিঃসৃত গ্রিনহাউস গ্যাসের কারণে পৃথিবীর গড় ভূপৃষ্ঠ ও সমুদ্রপৃষ্ঠের তাপমাত্রা বৃদ্ধির প্রবণতা। গ্রিনহাউস প্রভাব (Greenhouse Effect): সূর্য থেকে আসা স্বল্প-তরঙ্গ বিকিরণ পৃথিবী শোষণ করে দীর্ঘ-তরঙ্গ অবলোহিত বিকিরণরূপে পুনঃনির্গমন করলে কিছু বায়ুমণ্ডলীয় গ্যাস তা শোষণ করে ভূপৃষ্ঠের তাপমাত্রা স্বাভাবিকের চেয়ে উষ্ণ রাখে; এটিই গ্রিনহাউস প্রভাব। এই প্রক্রিয়া না থাকলে পৃথিবীর গড় তাপমাত্রা প্রায় –১৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস হতো। জলবায়ু উদ্বাস্তু (Climate Refugee): জলবায়ু পরিবর্তনজনিত কারণে (সমুদ্রপৃষ্ঠ বৃদ্ধি, লবণাক্ততা, বন্যা, খরা) যারা স্থায়ীভাবে বসতি ছেড়ে অন্যত্র অভিবাসনে বাধ্য হয়। ২০৫০ সালের মধ্যে দক্ষিণ এশিয়ায় ৪ কোটির বেশি অভ্যন্তরীণ জলবায়ু উদ্বাস্তু হতে পারে (World Bank Groundswell Report ২০২১)। |
প্রধান আন্তর্জাতিক পরিবেশ সম্মেলন ও চুক্তি
নিচের ছকে আন্তর্জাতিক পরিবেশ ও জলবায়ু সংক্রান্ত সকল গুরুত্বপূর্ণ সম্মেলন ও চুক্তির স্থান, সাল, কার্যকর সাল, মূল বিধান এবং বাংলাদেশের স্বাক্ষর-অনুমোদনের সাল একত্রে দেখানো হলো।
চুক্তি/সম্মেলন | স্থান | গৃহীত সাল | কার্যকর | মূল বিধান | বাংলাদেশ |
রামসার কনভেনশন | রামসার, ইরান | ১৯৭১ | ১৯৭৫ | জলাভূমি সংরক্ষণ | ১৯৯২ |
স্টকহোম সম্মেলন | স্টকহোম, সুইডেন | ১৯৭২ | প্রযোজ্য নয় | মানব পরিবেশ ঘোষণা; UNEP প্রতিষ্ঠা | অংশগ্রহণ |
CITES | ওয়াশিংটন | ১৯৭৩ | ১৯৭৫ | বিপন্ন প্রাণী-উদ্ভিদের বাণিজ্য নিয়ন্ত্রণ | ১৯৮১ |
ভিয়েনা কনভেনশন | ভিয়েনা, অস্ট্রিয়া | ১৯৮৫ | ১৯৮৮ | ওজোন স্তর সুরক্ষার কাঠামো | ১৯৯০ |
মন্ট্রিল প্রটোকল | মন্ট্রিল, কানাডা | ১৯৮৭ | ১৯৮৯ | CFC ও ODS পর্যায়ক্রমে বন্ধ | ১৯৯০ |
বাসেল কনভেনশন | বাসেল, সুইজারল্যান্ড | ১৯৮৯ | ১৯৯২ | বিপজ্জনক বর্জ্যের আন্তঃসীমান্ত চলাচল নিয়ন্ত্রণ | ১৯৯৩ |
UNFCCC | রিও-ডি-জেনিরো, ব্রাজিল | ১৯৯২ | ১৯৯৪ | গ্রিনহাউস গ্যাস স্থিতিশীলকরণ | ১৯৯৪ |
CBD | রিও-ডি-জেনিরো, ব্রাজিল | ১৯৯২ | ১৯৯৩ | জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ | ১৯৯৪ |
UNCCD | প্যারিস, ফ্রান্স | ১৯৯৪ | ১৯৯৬ | মরুকরণ মোকাবিলা | ১৯৯৬ |
কিয়োটো প্রটোকল | কিয়োটো, জাপান | ১৯৯৭ | ২০০৫ | শিল্পোন্নত দেশের বাধ্যতামূলক নিঃসরণ হ্রাস | ২০০১ |
রটারডাম কনভেনশন | রটারডাম, নেদারল্যান্ডস | ১৯৯৮ | ২০০৪ | ক্ষতিকর রাসায়নিক আমদানি-পূর্ব সম্মতি | ২০০৭ |
কারটাজেনা প্রটোকল | মন্ট্রিল, কানাডা | ২০০০ | ২০০৩ | জৈব নিরাপত্তা; LMO চলাচল | ২০০৪ |
স্টকহোম কনভেনশন | স্টকহোম, সুইডেন | ২০০১ | ২০০৪ | স্থায়ী জৈব দূষক (POPs) নিয়ন্ত্রণ | ২০০৭ |
নাগোয়া প্রটোকল | নাগোয়া, জাপান | ২০১০ | ২০১৪ | জিনগত সম্পদের ভাগাভাগি (ABS) | ২০১৯ |
দোহা সংশোধনী | দোহা, কাতার | ২০১২ | ২০২০ | কিয়োটোর দ্বিতীয় ধাপ ২০১৩-২০২০ | ২০১৩ |
সেন্ডাই কাঠামো | সেন্ডাই, জাপান | ২০১৫ | ২০১৫ | দুর্যোগ ঝুঁকি হ্রাস ২০১৫-২০৩০ | অনুমোদন |
প্যারিস চুক্তি | প্যারিস, ফ্রান্স | ২০১৫ | ২০১৬ | ১.৫°C লক্ষ্য; NDC | ২০১৬ |
কিগালি সংশোধনী | কিগালি, রুয়ান্ডা | ২০১৬ | ২০১৯ | HFC হ্রাস | ২০১৯ |
মিনামাটা কনভেনশন | মিনামাটা, জাপান | ২০১৩ | ২০১৭ | পারদ দূষণ নিয়ন্ত্রণ | ২০১৯ |
BBNJ চুক্তি | নিউইয়র্ক, যুক্তরাষ্ট্র | ২০২৩ | অপেক্ষমাণ | আন্তর্জাতিক জলসীমার জীববৈচিত্র্য | ২০২৩ |
স্টকহোম সম্মেলন ১৯৭২: পরিবেশ কূটনীতির সূচনা
United Nations Conference on the Human Environment আন্তর্জাতিক পরিসরে পরিবেশ সংক্রান্ত প্রথম বৈশ্বিক সম্মেলন। সুইডেনের রাজধানী স্টকহোমে ৫ থেকে ১৬ জুন ১৯৭২ সালে অনুষ্ঠিত এই সম্মেলনে ১১৩ টি দেশ ও ১৯ টি আন্তঃসরকার সংস্থা অংশগ্রহণ করে। সম্মেলনের প্রথম দিন ৫ জুনকে বিশ্ব পরিবেশ দিবস হিসেবে ঘোষণা করা হয়। স্টকহোম ঘোষণায় ২৬ টি নীতি এবং ১০৯ টি সুপারিশ গৃহীত হয়; এই সম্মেলনের সরাসরি ফলস্বরূপ একই বছর জাতিসংঘ পরিবেশ কর্মসূচি (UNEP) প্রতিষ্ঠিত হয় এবং এর সদর দপ্তর নাইরোবিতে স্থাপিত হয়।
স্টকহোম ঘোষণার প্রথম নীতিতে বলা হয় প্রত্যেক মানুষের স্বাধীনতা, সমতা ও পর্যাপ্ত জীবনমানের পরিবেশে বসবাসের মৌলিক অধিকার রয়েছে এবং বর্তমান ও ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য পরিবেশ রক্ষার দায়িত্ব তার রয়েছে। ভারতের প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরা গান্ধী এই সম্মেলনে প্রদত্ত বক্তৃতায় দারিদ্র্যকে সবচেয়ে বড় পরিবেশ-দূষক হিসেবে চিহ্নিত করেন; এটি স্টকহোম-নীতিতে দারিদ্র্য ও পরিবেশের সম্পর্ক যুক্ত করার প্রথম রাজনৈতিক স্বীকৃতি।
রিও ধরিত্রী সম্মেলন ১৯৯২: টেকসই উন্নয়নের জন্ম
United Nations Conference on Environment and Development (UNCED) বা ধরিত্রী সম্মেলন (Earth Summit) ব্রাজিলের রিও-ডি-জেনিরো শহরে ৩ থেকে ১৪ জুন ১৯৯২ সালে অনুষ্ঠিত হয়। বিশ্বের ১৭৮ টি দেশের সরকার প্রধান ও প্রতিনিধি, ২,৪০০ এনজিও প্রতিনিধি এবং ১৭,০০০ অংশগ্রহণকারী এতে যোগ দেন। সম্মেলন থেকে গৃহীত হয় পাঁচটি প্রধান দলিল: রিও ঘোষণা, Agenda 21, বন নীতিমালা, জলবায়ু পরিবর্তন কাঠামো কনভেনশন (UNFCCC) এবং জীববৈচিত্র্য কনভেনশন (CBD)। 'টেকসই উন্নয়ন' (Sustainable Development) ধারণা এই সম্মেলনের পর বৈশ্বিক উন্নয়ন কৌশলের কেন্দ্রে চলে আসে।
রিও ঘোষণার ২৭ টি নীতির মধ্যে নীতি ৩ ভবিষ্যৎ প্রজন্মের অধিকার, নীতি ৭ Common But Differentiated Responsibilities (CBDR) এবং নীতি ১৫ Precautionary Principle স্থাপন করে। CBDR নীতির মাধ্যমে স্বীকৃত হয় যে শিল্পোন্নত দেশগুলোর ঐতিহাসিক দায় বেশি, ফলে নিঃসরণ হ্রাসেও তাদের নেতৃত্বের ভূমিকা থাকবে; এই নীতি কিয়োটো ও প্যারিস চুক্তিতে প্রসারিত হয়েছে। রিও সম্মেলনের ২০ বছর পর ২০১২ সালে একই শহরে Rio+20 সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়, যেখানে 'The Future We Want' দলিল গৃহীত হয় এবং SDG-এর ভিত্তি স্থাপিত হয়।
📌 মনে রাখুন রিও সম্মেলন থেকে সরাসরি জন্ম নিয়েছে চারটি দলিল: ১. রিও ঘোষণা, ২. Agenda 21, ৩. UNFCCC, ৪. CBD। বন নীতিমালা গৃহীত হলেও তা আইনি বাধ্যকর কনভেনশন নয়। |
UNFCCC ও Conference of Parties (COP)
United Nations Framework Convention on Climate Change (UNFCCC) ১৯৯২ সালে রিও সম্মেলনে গৃহীত এবং ২১ মার্চ ১৯৯৪ সালে কার্যকর হয়। বর্তমানে এর সদস্য সংখ্যা ১৯৮ (১৯৭ টি দেশ ও ইউরোপীয় ইউনিয়ন)। UNFCCC-এর চূড়ান্ত উদ্দেশ্য বায়ুমণ্ডলে গ্রিনহাউস গ্যাসের ঘনত্বকে এমন এক স্তরে স্থিতিশীল করা যেখানে জলবায়ু ব্যবস্থার উপর মানবিক হস্তক্ষেপের বিপজ্জনক প্রভাব থাকবে না। বাংলাদেশ ১৯৯৪ সালে এই কনভেনশন অনুমোদন করে।
Conference of Parties (COP) UNFCCC-এর সর্বোচ্চ সিদ্ধান্ত-গ্রহণকারী সংস্থা। প্রতিবছর বিভিন্ন দেশে এর অধিবেশন বসে। প্রথম COP-1 অনুষ্ঠিত হয় ১৯৯৫ সালে জার্মানির বার্লিনে; ২০২৪ সালের COP29 আজারবাইজানের রাজধানী বাকুতে এবং ২০২৫ সালের COP30 ব্রাজিলের বেলেমে অনুষ্ঠিত হয়। প্রতিটি COP-এ সদস্যদেশ NDC (Nationally Determined Contribution) ও Global Stocktake-এর অগ্রগতি পর্যালোচনা করে।
গুরুত্বপূর্ণ COP-সম্মেলনের টাইমলাইন
সম্মেলন | সাল | শহর/দেশ | প্রধান অর্জন/সিদ্ধান্ত |
COP-1 | ১৯৯৫ | বার্লিন, জার্মানি | বার্লিন ম্যান্ডেট গৃহীত; প্রথম সম্মেলন |
COP-3 | ১৯৯৭ | কিয়োটো, জাপান | কিয়োটো প্রটোকল গৃহীত |
COP-7 | ২০০১ | মারাকেশ, মরক্কো | মারাকেশ চুক্তি; LDC ফান্ড প্রতিষ্ঠা |
COP-11 | ২০০৫ | মন্ট্রিল, কানাডা | কিয়োটো প্রটোকল কার্যকর |
COP-13 | ২০০৭ | বালি, ইন্দোনেশিয়া | Bali Roadmap; REDD ধারণা |
COP-15 | ২০০৯ | কোপেনহেগেন, ডেনমার্ক | কোপেনহেগেন একর্ড; ২°C লক্ষ্য |
COP-16 | ২০১০ | ক্যানকুন, মেক্সিকো | Green Climate Fund প্রতিষ্ঠার সিদ্ধান্ত |
COP-17 | ২০১১ | ডারবান, দক্ষিণ আফ্রিকা | ডারবান প্ল্যাটফর্ম |
COP-18 | ২০১২ | দোহা, কাতার | দোহা সংশোধনী; কিয়োটো ২য় ধাপ |
COP-21 | ২০১৫ | প্যারিস, ফ্রান্স | প্যারিস চুক্তি গৃহীত (১২ ডিসেম্বর) |
COP-22 | ২০১৬ | মারাকেশ, মরক্কো | প্যারিস চুক্তি কার্যকর |
COP-26 | ২০২১ | গ্লাসগো, যুক্তরাজ্য | Glasgow Climate Pact; কয়লা হ্রাস |
COP-27 | ২০২২ | শারম-এল-শেখ, মিশর | Loss and Damage Fund প্রতিষ্ঠা |
COP-28 | ২০২৩ | দুবাই, UAE | Global Stocktake; জীবাশ্ম জ্বালানি থেকে সরে আসার আহ্বান |
COP-29 | ২০২৪ | বাকু, আজারবাইজান | নতুন জলবায়ু অর্থায়ন লক্ষ্য $৩০০ বিলিয়ন/বছর |
COP-30 | ২০২৫ | বেলেম, ব্রাজিল | এনডিসি ৩.০ আপডেট; আমাজন কেন্দ্রিক আলোচনা |
কিয়োটো প্রটোকল ১৯৯৭
জাপানের কিয়োটো শহরে ১১ ডিসেম্বর ১৯৯৭ সালে COP-3 সম্মেলনে কিয়োটো প্রটোকল গৃহীত হয় এবং ১৬ ফেব্রুয়ারি ২০০৫ সালে এটি কার্যকর হয়। এটি ইতিহাসের প্রথম আইনগতভাবে বাধ্যকর চুক্তি যা শিল্পোন্নত দেশগুলোকে (Annex I দেশসমূহ) গ্রিনহাউস গ্যাস নিঃসরণ হ্রাসের নির্দিষ্ট লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করে দেয়। প্রথম প্রতিশ্রুতি কাল ২০০৮-২০১২ সময়ে ১৯৯০ সালের তুলনায় গড়ে ৫.২% নিঃসরণ হ্রাস বাধ্যতামূলক করা হয়। বাংলাদেশ ২০০১ সালে এই প্রটোকল অনুমোদন করে।
কিয়োটো প্রটোকল ছয়টি প্রধান গ্রিনহাউস গ্যাসকে নিয়ন্ত্রণের আওতায় আনে: কার্বন ডাই অক্সাইড (CO₂), মিথেন (CH₄), নাইট্রাস অক্সাইড (N₂O), হাইড্রোফ্লোরোকার্বন (HFCs), পারফ্লোরোকার্বন (PFCs) এবং সালফার হেক্সাফ্লোরাইড (SF₆); ২০১২ সালের দোহা সংশোধনীতে এই তালিকায় নাইট্রোজেন ট্রাইফ্লোরাইড (NF₃) যুক্ত হয়। প্রটোকল তিনটি নমনীয় কৌশল প্রবর্তন করে: Clean Development Mechanism (CDM), Joint Implementation (JI) এবং International Emissions Trading (IET)। দোহা সংশোধনীর মাধ্যমে ২০১৩-২০২০ সময়কে দ্বিতীয় প্রতিশ্রুতি কাল হিসেবে গৃহীত হয়, যা ৩১ ডিসেম্বর ২০২০ এ কার্যকর হয়।
⚡ এক্সাম টিপ কিয়োটো প্রটোকলে CBDR নীতির ভিত্তিতে শুধুমাত্র Annex I (শিল্পোন্নত) দেশের নিঃসরণ হ্রাস বাধ্যতামূলক; উন্নয়নশীল দেশের (বাংলাদেশ সহ) জন্য বাধ্যতামূলক লক্ষ্য নেই। যুক্তরাষ্ট্র এই প্রটোকলে স্বাক্ষর করলেও অনুমোদন করেনি; কানাডা ২০১১ সালে প্রটোকল থেকে বেরিয়ে যায়। |
প্যারিস চুক্তি ২০১৫: জলবায়ু যুগের নতুন অধ্যায়
প্যারিস চুক্তি (Paris Agreement) ১২ ডিসেম্বর ২০১৫ সালে ফ্রান্সের প্যারিসে COP-21 সম্মেলনে গৃহীত এবং ৪ নভেম্বর ২০১৬ সালে কার্যকর হয়; ২২ এপ্রিল ২০১৬ (বিশ্ব ধরিত্রী দিবসে) এটি আনুষ্ঠানিকভাবে স্বাক্ষরের জন্য উন্মুক্ত করা হয়। বাংলাদেশ ২২ এপ্রিল ২০১৬ সালেই এতে স্বাক্ষর করে এবং ২১ সেপ্টেম্বর ২০১৬ সালে অনুমোদন করে। চুক্তির কেন্দ্রীয় লক্ষ্য বৈশ্বিক গড় তাপমাত্রা বৃদ্ধি প্রাক-শিল্প স্তরের তুলনায় ২ ডিগ্রি সেলসিয়াসের 'অনেক নিচে' রাখা এবং ১.৫ ডিগ্রি সেলসিয়াসে সীমাবদ্ধ রাখার সর্বোচ্চ চেষ্টা।
প্যারিস চুক্তির বৈশিষ্ট্যপূর্ণ দিক হলো এটি সকল দেশের জন্য প্রযোজ্য (universal); উন্নত-উন্নয়নশীল উভয় দেশকেই Nationally Determined Contribution (NDC) দাখিল করতে হয়। চুক্তির অনুচ্ছেদ ৬ বাজার-ভিত্তিক সহযোগিতা ও কার্বন বাজার কাঠামো নির্ধারণ করে; অনুচ্ছেদ ৯ উন্নত দেশের কাছ থেকে উন্নয়নশীল দেশে অর্থায়নের বিধান রাখে; অনুচ্ছেদ ১৪ Global Stocktake-এর নিয়ম স্থাপন করে যা প্রতি ৫ বছর পর হবে। প্রথম Global Stocktake ২০২৩ সালের COP-28 দুবাইতে সম্পন্ন হয়েছে। বর্তমানে ১৯৬ টি পক্ষ এই চুক্তিতে রয়েছে।
📌 মনে রাখুন প্যারিস চুক্তির তিনটি মূল লক্ষ্য (অনুচ্ছেদ ২): ১. তাপমাত্রা বৃদ্ধি ২°C-এর অনেক নিচে, ১.৫°C-এ চেষ্টা; ২. খাপ খাইয়ে নেওয়ার সক্ষমতা ও স্থিতিস্থাপকতা বৃদ্ধি; ৩. নিঃসরণ-হ্রাসমুখী উন্নয়নে অর্থপ্রবাহের ধারা সামঞ্জস্যপূর্ণ করা। |
মন্ট্রিল প্রটোকল ১৯৮৭ ও ওজোন স্তর সুরক্ষা
ওজোন স্তর পৃথিবীর স্ট্র্যাটোস্ফিয়ারে প্রায় ১৫ থেকে ৩৫ কিলোমিটার উচ্চতায় অবস্থিত (সর্বাধিক ঘনত্ব ২০ থেকে ৩০ কিলোমিটারে)। এটি সূর্যের অতিবেগুনি বিকিরণ (UV-B ও UV-C) শোষণ করে জীবজগৎকে রক্ষা করে। ১৯৮৫ সালে ব্রিটিশ অ্যান্টার্কটিক সার্ভে দল অ্যান্টার্কটিকার আকাশে ওজোন গর্ত (Ozone Hole) আবিষ্কার করে। ওজোন স্তর ধ্বংসের প্রধান কারণ ক্লোরোফ্লুরোকার্বন (CFC), হ্যালন, কার্বন টেট্রাক্লোরাইড ইত্যাদি Ozone Depleting Substances (ODS)।
১৯৮৫ সালে অস্ট্রিয়ার ভিয়েনায় গৃহীত Vienna Convention for the Protection of the Ozone Layer ওজোন রক্ষার বৈশ্বিক কাঠামো প্রতিষ্ঠা করে। এর অধীনে ১৬ সেপ্টেম্বর ১৯৮৭ সালে কানাডার মন্ট্রিল শহরে গৃহীত হয় Montreal Protocol on Substances that Deplete the Ozone Layer; ১৬ সেপ্টেম্বরকেই বিশ্ব ওজোন দিবস (World Ozone Day) হিসেবে পালিত হয়। মন্ট্রিল প্রটোকল ১৯৮৯ সালে কার্যকর হয় এবং ১৯৮৭ থেকে এ পর্যন্ত আটবার সংশোধিত হয়েছে। বাংলাদেশ ২ আগস্ট ১৯৯০ সালে এই প্রটোকল অনুমোদন করে।
মন্ট্রিল প্রটোকলকে জাতিসংঘের ইতিহাসে সবচেয়ে সফল আন্তর্জাতিক পরিবেশ চুক্তি বলা হয়; এটিই একমাত্র চুক্তি যাতে জাতিসংঘের সকল ১৯৮ টি সদস্য রাষ্ট্র অংশ নিয়েছে (universal ratification)। প্রটোকল কার্যকর হওয়ার পর থেকে বৈশ্বিক ODS উৎপাদন ৯৯% কমেছে এবং ২০৬৬ সালের মধ্যে অ্যান্টার্কটিক ওজোন গর্ত পুনরুদ্ধার সম্ভব বলে অনুমান (UNEP/WMO Ozone Assessment ২০২২)। ২০১৬ সালের কিগালি সংশোধনী HFC গ্যাসসমূহকে নিয়ন্ত্রণে আনে, যা জলবায়ু পরিবর্তন রোধেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে; এর ফলে ২১০০ সালের মধ্যে ০.৫°C তাপমাত্রা বৃদ্ধি এড়ানো যাবে।
⚠️ সতর্কতা ভিয়েনা কনভেনশন (১৯৮৫) বনাম মন্ট্রিল প্রটোকল (১৯৮৭): ভিয়েনা কাঠামো (framework), মন্ট্রিল কার্যকর প্রটোকল। ভিয়েনা ১৯৮৮ সালে কার্যকর, মন্ট্রিল ১৯৮৯ সালে। বিশ্ব ওজোন দিবস ১৬ সেপ্টেম্বর বনাম বিশ্ব পরিবেশ দিবস ৫ জুন বনাম ধরিত্রী দিবস ২২ এপ্রিল: এই তিনটি তারিখ পরীক্ষায় বারবার গুলিয়ে দেওয়া হয়। |
গ্রিনহাউস গ্যাস ও বৈশ্বিক উষ্ণতা
গ্রিনহাউস গ্যাসের বৈশ্বিক ঘনত্ব ও উষ্ণায়ন-সম্ভাবনা (Global Warming Potential, GWP) ভিন্ন। ১০০ বছরের সময়সীমায় কার্বন ডাই অক্সাইডের GWP ১ হিসেবে ধরে অন্যান্য গ্যাসের তুলনা করা হয়। বর্তমানে বৈশ্বিক উষ্ণতা বৃদ্ধির প্রায় ৬৬% দায়ী CO₂; দ্বিতীয় বৃহৎ অবদান মিথেনের, যার ১০০ বছরের GWP প্রায় ২৮ (IPCC AR6)।
গ্যাস | প্রতীক | প্রধান উৎস | GWP (১০০ বছর) | জীবনকাল |
কার্বন ডাই অক্সাইড | CO₂ | জীবাশ্ম জ্বালানি, বনউজাড় | ১ | ৩০০ থেকে ১,০০০ বছর |
মিথেন | CH₄ | ধান চাষ, গবাদি পশু, প্রাকৃতিক গ্যাস | ২৮ | প্রায় ১২ বছর |
নাইট্রাস অক্সাইড | N₂O | রাসায়নিক সার, শিল্প | ২৬৫ | প্রায় ১১৪ বছর |
HFC-23 | CHF₃ | শীতলীকরণ গ্যাস | ১২,৪০০ | ২২২ বছর |
PFC (CF₄) | CF₄ | অ্যালুমিনিয়াম শিল্প | ৭,৩৮০ | ৫০,০০০ বছর |
SF₆ | SF₆ | বৈদ্যুতিক সরঞ্জাম | ২৩,৫০০ | ৩,২০০ বছর |
NF₃ | NF₃ | ইলেকট্রনিক্স উৎপাদন | ১৬,১০০ | ৫০০ বছর |
জলীয় বাষ্প | H₂O | প্রাকৃতিক বাষ্পীভবন | পরিবর্তনশীল | দিন-সপ্তাহ |
বায়ুমণ্ডলে CO₂-এর প্রাক-শিল্প ঘনত্ব ছিল প্রায় ২৮০ ppm; ২০২৪ সালের মে মাসে Mauna Loa অবজারভেটরিতে রেকর্ডকৃত মাসিক গড় ৪২৬.৭ ppm (NOAA), যা মানব ইতিহাসে সর্বোচ্চ। IPCC AR6 অনুযায়ী ২০১১-২০২০ দশকে বৈশ্বিক গড় তাপমাত্রা প্রাক-শিল্প স্তর থেকে ১.০৯ ডিগ্রি সেলসিয়াস বৃদ্ধি পেয়েছে। WMO-এর ২০২৪ সালের প্রতিবেদন অনুসারে ২০২৪ সাল ছিল রেকর্ড-ইতিহাসে সবচেয়ে উষ্ণতম বছর এবং প্রথমবারের মতো বার্ষিক গড় তাপমাত্রা প্যারিস চুক্তির ১.৫°C সীমা অতিক্রম করেছে (১.৫৫ ± ০.১৩°C)।
জলবায়ু পরিবর্তনের প্রধান বৈশ্বিক প্রভাব
সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা: বিংশ শতাব্দীতে গড় উচ্চতা ১৫ থেকে ২৫ সেন্টিমিটার বেড়েছে; বর্তমান বৃদ্ধির হার প্রতি বছর প্রায় ৩.৪ মিলিমিটার (NASA Sea Level Portal ২০২৪)।
হিমবাহ ও মেরু-বরফ গলন: অ্যান্টার্কটিকা ও গ্রিনল্যান্ডের বরফ চাদর প্রতি বছর প্রায় ৪১০ গিগাটন বরফ হারাচ্ছে (IPCC AR6, ২০২৩)। ১৯৭৯-পরবর্তী সময়ে আর্কটিকের গ্রীষ্মকালীন বরফ আচ্ছাদন প্রায় ৪০% হ্রাস পেয়েছে।
চরম আবহাওয়া: উষ্ণতা-প্রবাহ, খরা, দাবানল, ঘূর্ণিঝড় ও ভারী বৃষ্টিপাতের ঘটনার তীব্রতা ও পৌনঃপুনিকতা উভয়ই বৃদ্ধি; ১৯৮০-২০২৩ সময়ে বৈশ্বিক পর্যায়ে প্রাকৃতিক দুর্যোগের ক্ষতি বার্ষিক ২৫০ বিলিয়ন ডলার ছাড়িয়েছে (Munich Re ২০২৪)।
মহাসাগরীয় অম্লতা: বায়ুমণ্ডলের অতিরিক্ত CO₂ শোষণে মহাসাগরের pH ১৮০০ সাল থেকে গড়ে ০.১ ইউনিট কমেছে; প্রবাল প্রাচীর ও খোলকজাত প্রাণীর উপর প্রভাব মারাত্মক।
খাদ্য নিরাপত্তা: তাপমাত্রা বৃদ্ধি ও বৃষ্টিপাত-চক্রের পরিবর্তনে গম, ভুট্টা ও ধানের বৈশ্বিক উৎপাদনশীলতা প্রতি দশকে ১ থেকে ৫% হ্রাসের আশঙ্কা (FAO ২০২৪)।
জীববৈচিত্র্য বিপন্নতা: তাপমাত্রা ২ ডিগ্রি বাড়লে বিশ্বের প্রায় ১৮% প্রজাতি বিলুপ্তির ঝুঁকিতে পড়বে (IPCC AR6 WG-II)।
জলবায়ু উদ্বাস্তু: ২০৫০ সালের মধ্যে বিশ্বে অভ্যন্তরীণ জলবায়ু-জনিত অভিবাসী হবে আনুমানিক ২১ কোটি ৬০ লক্ষ (World Bank Groundswell Report ২০২১)।
বাংলাদেশ ও আন্তর্জাতিক জলবায়ু কাঠামো
বাংলাদেশ গ্রিনহাউস গ্যাস নিঃসরণে নগণ্য (বৈশ্বিক ০.৫৬%, IEA ২০২৪) হলেও জলবায়ু-ঝুঁকিতে শীর্ষস্থানীয়। Germanwatch প্রকাশিত Climate Risk Index (CRI) ২০২৫ অনুযায়ী দীর্ঘমেয়াদি জলবায়ু-ঝুঁকিতে বাংলাদেশের অবস্থান বিশ্বে সপ্তম। সমুদ্রপৃষ্ঠ ১ মিটার বাড়লে বাংলাদেশের প্রায় ১৭% উপকূলীয় ভূমি নিমজ্জিত হবে এবং ৩ কোটি মানুষ বাস্তুচ্যুত হতে পারে (World Bank ২০২২)। এই বাস্তবতার ফলে আন্তর্জাতিক জলবায়ু কূটনীতিতে বাংলাদেশের সক্রিয় ভূমিকা অপরিহার্য।
বাংলাদেশ Climate Vulnerable Forum (CVF) ও Vulnerable Twenty (V20) গোষ্ঠীর প্রতিষ্ঠাতা সদস্য। CVF ২০০৯ সালে গঠিত হয় এবং ২০২০ থেকে ২০২২ সাল পর্যন্ত বাংলাদেশ এর সভাপতিত্ব করেছে। বাংলাদেশ ২০১৫ সালে প্রথম INDC এবং ২০২১ সালে আপডেটেড NDC দাখিল করেছে যেখানে ২০৩০ সালের মধ্যে শর্তহীনভাবে ৬.৭৩% এবং শর্তসাপেক্ষে ১৫.১২% নিঃসরণ হ্রাসের প্রতিশ্রুতি রয়েছে। জাতীয় পর্যায়ে BCCSAP (২০০৯), বাংলাদেশ ক্লাইমেট চেঞ্জ ট্রাস্ট ফান্ড আইন ২০১০, ন্যাশনাল অ্যাডাপটেশন প্ল্যান (NAP, ২০২২-২০৫০) এবং Mujib Climate Prosperity Plan (২০২২) চালু রয়েছে।
🌍 Live Data Climate Risk Index ২০২৫: বাংলাদেশের অবস্থান বিশ্বে ৭ম (Germanwatch, ২০২৫)। মাথাপিছু নিঃসরণ: ০.৫৬ টন CO₂e (বাংলাদেশ, ২০২৩); বৈশ্বিক গড় ৪.৭ টন (IEA, ২০২৪)। BCCTF বরাদ্দ: প্রায় ৪,৬৫০ কোটি টাকা; ২০০৯-পরবর্তী সময়ে ৯৫০টির বেশি প্রকল্প (অর্থ বিভাগ, ২০২৪)। নবায়নযোগ্য জ্বালানি লক্ষ্য: ২০৪১ সালের মধ্যে মোট বিদ্যুতের ৪০% (পাওয়ার সিস্টেম মাস্টার প্ল্যান, ২০২৩)। Loss and Damage Fund: COP-28-এ গৃহীত; প্রাথমিক প্রতিশ্রুতি ৭০০ মিলিয়ন ডলার; বাংলাদেশ এই তহবিলের বোর্ড সদস্য (২০২৪)। |
আন্তর্জাতিক পরিবেশ আন্দোলনের টাইমলাইন
সাল | ঘটনা | তাৎপর্য |
১৯৬২ | Silent Spring প্রকাশ (Rachel Carson) | আধুনিক পরিবেশ আন্দোলনের সূচনা |
১৯৭১ | রামসার কনভেনশন গৃহীত | জলাভূমি সংরক্ষণের প্রথম চুক্তি |
১৯৭২ | স্টকহোম সম্মেলন; UNEP প্রতিষ্ঠা | পরিবেশ কূটনীতির আনুষ্ঠানিক সূচনা |
১৯৮৩ | Brundtland Commission গঠিত | টেকসই উন্নয়ন ধারণা প্রবর্তন |
১৯৮৫ | ভিয়েনা কনভেনশন; অ্যান্টার্কটিক ওজোন গর্ত আবিষ্কৃত | ওজোন কূটনীতির শুরু |
১৯৮৭ | Our Common Future প্রতিবেদন; মন্ট্রিল প্রটোকল | Sustainable Development সংজ্ঞায়িত |
১৯৮৮ | IPCC প্রতিষ্ঠা | জলবায়ু বিজ্ঞানের বৈশ্বিক প্রতিষ্ঠান |
১৯৯২ | রিও ধরিত্রী সম্মেলন; UNFCCC, CBD, Agenda 21 | টেকসই উন্নয়নের ভিত্তি স্থাপন |
১৯৯৪ | UNFCCC কার্যকর; UNCCD গৃহীত | জলবায়ু চুক্তির আনুষ্ঠানিক যাত্রা |
১৯৯৫ | প্রথম COP বার্লিনে | জলবায়ু সম্মেলনের ধারা শুরু |
১৯৯৭ | কিয়োটো প্রটোকল গৃহীত | প্রথম বাধ্যকর নিঃসরণ-হ্রাস চুক্তি |
২০০০ | সহস্রাব্দ উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা (MDG) | MDG-7: পরিবেশ টেকসইকরণ |
২০০২ | জোহানেসবার্গ World Summit on Sustainable Development | Rio+10 পর্যালোচনা |
২০০৫ | কিয়োটো প্রটোকল কার্যকর; হিউগো কাঠামো গৃহীত | দুর্যোগ ব্যবস্থাপনার আন্তর্জাতিক কাঠামো |
২০১২ | Rio+20 'The Future We Want' | SDG-এর ভিত্তি |
২০১৫ | প্যারিস চুক্তি; সেন্ডাই কাঠামো; SDG গৃহীত | জলবায়ু-টেকসই উন্নয়ন একীভূত |
২০২১ | Glasgow Climate Pact (COP-26) | কয়লা ক্রমান্বয়ে কমানোর সিদ্ধান্ত |
২০২২ | Loss and Damage Fund (COP-27) | ক্ষতি-ক্ষতিপূরণ তহবিল প্রতিষ্ঠা |
২০২৩ | প্রথম Global Stocktake (COP-28) | জীবাশ্ম জ্বালানি থেকে সরে আসার আহ্বান |
২০২৪ | COP-29 বাকু; নতুন অর্থায়ন লক্ষ্য | $৩০০ বিলিয়ন/বছর প্রতিশ্রুতি |
২০২৫ | COP-30 বেলেম, ব্রাজিল | এনডিসি ৩.০ ও আমাজন কেন্দ্রিক আলোচনা |
টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা (SDG) ও পরিবেশ
জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদ ২৫ সেপ্টেম্বর ২০১৫ সালে 'Transforming our World: the 2030 Agenda for Sustainable Development' গ্রহণ করে, যেখানে ১৭ টি লক্ষ্যমাত্রা ও ১৬৯ টি সাব-টার্গেট নির্ধারিত হয়। SDG গৃহীত হয় ১ জানুয়ারি ২০১৬ থেকে কার্যকর হিসেবে এবং বাস্তবায়ন-কাল ২০১৬ থেকে ২০৩০। ১৭ টি SDG-এর মধ্যে অন্তত ৮ টি সরাসরি পরিবেশ ও জলবায়ুর সঙ্গে সম্পর্কিত।
SDG নং | শিরোনাম | পরিবেশ-সংযোগ |
SDG ২ | শূন্য ক্ষুধা | টেকসই কৃষি; খাদ্যনিরাপত্তা |
SDG ৬ | নিরাপদ পানি ও স্যানিটেশন | নদী, জলাভূমি, ভূগর্ভস্থ পানি |
SDG ৭ | সাশ্রয়ী ও পরিচ্ছন্ন জ্বালানি | নবায়নযোগ্য জ্বালানি; কার্বন নিঃসরণ হ্রাস |
SDG ১১ | টেকসই নগর ও সম্প্রদায় | নগরায়ন; বাসযোগ্যতা |
SDG ১২ | দায়িত্বশীল ভোগ ও উৎপাদন | সম্পদ-দক্ষতা; বর্জ্য ব্যবস্থাপনা |
SDG ১৩ | জলবায়ু কর্ম (Climate Action) | প্যারিস চুক্তি বাস্তবায়ন |
SDG ১৪ | জলজ জীবন (Life Below Water) | মহাসাগর, প্রবাল, মৎস্য |
SDG ১৫ | স্থলজ জীবন (Life on Land) | বন, জীববৈচিত্র্য, মরুকরণ |
বাংলাদেশের সাংবিধানিক ও আইনি সংযোগ
১৫ তম সংশোধনী (৩০ জুন ২০১১) মাধ্যমে গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের সংবিধানে নতুন অনুচ্ছেদ ১৮ক যুক্ত হয়। এই অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে রাষ্ট্র বর্তমান ও ভবিষ্যৎ নাগরিকদের জন্য পরিবেশ সংরক্ষণ ও উন্নয়ন, জীববৈচিত্র্য, জলাভূমি, বন ও বন্যপ্রাণী রক্ষা ও সংরক্ষণে সচেষ্ট থাকবে। এর পাশাপাশি অনুচ্ছেদ ২১ (১) নাগরিকদের নৈতিক দায়িত্ব হিসেবে রাষ্ট্রীয় সম্পত্তি রক্ষার কথা বলে; অনুচ্ছেদ ৩১ ও ৩২-এ জীবনের অধিকারের ব্যাখ্যায় উচ্চ আদালত পরিবেশের অধিকারকে অন্তর্ভুক্ত বলে রায় দিয়েছেন (Dr. Mohiuddin Farooque v. Bangladesh, ১৯৯৬)।
আন্তর্জাতিক চুক্তি বাস্তবায়নে বাংলাদেশের প্রধান আইনগুলো হলো: পরিবেশ সংরক্ষণ আইন ১৯৯৫ (সংশোধিত ২০১০, ২০২৩); পরিবেশ আদালত আইন ২০১০; বাংলাদেশ জলবায়ু পরিবর্তন ট্রাস্ট ফান্ড আইন ২০১০; বন আইন ১৯২৭; বন্যপ্রাণী (সংরক্ষণ ও নিরাপত্তা) আইন ২০১২; ওজোন স্তর ক্ষয়কারী দ্রব্য (নিয়ন্ত্রণ) বিধিমালা ২০০৪। প্রতিষ্ঠানিকভাবে দায়িত্ব পরিবেশ মন্ত্রণালয় (MoEFCC), পরিবেশ অধিদপ্তর (DoE, ১৯৮৯), বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তর (BMD) এবং বাংলাদেশ স্পেস রিসার্চ অ্যান্ড রিমোট সেন্সিং অর্গানাইজেশন (SPARRSO)-এর উপর।
প্রথম, সর্বোচ্চ ও সর্বনিম্ন তথ্যকোষ
★ গুরুত্বপূর্ণ সর্ব-তথ্য প্রথম আন্তর্জাতিক পরিবেশ সম্মেলন: স্টকহোম, ১৯৭২ প্রথম জলবায়ু কনভেনশন: UNFCCC, ১৯৯২ প্রথম বাধ্যকর জলবায়ু প্রটোকল: কিয়োটো, ১৯৯৭ প্রথম সর্বজনীন (universal) আইনি চুক্তি: প্যারিস চুক্তি, ২০১৫ সবচেয়ে সফল পরিবেশ প্রটোকল: মন্ট্রিল প্রটোকল (universal ratification: ১৯৮ পক্ষ) প্রথম COP: COP-1, বার্লিন, ১৯৯৫ সর্বশেষ COP (অনুষ্ঠিত): COP-30, বেলেম, ব্রাজিল, ২০২৫ সর্বাধিক CO₂-নিঃসরণকারী দেশ (বার্ষিক): চীন (Global Carbon Project ২০২৪) সর্বাধিক ঐতিহাসিক ক্রমপুঞ্জিত CO₂-নিঃসরণকারী: যুক্তরাষ্ট্র সর্বাধিক মাথাপিছু নিঃসরণকারী বড় দেশ: কাতার (Our World in Data ২০২৪) পৃথিবীর সর্বোচ্চ বার্ষিক CO₂ ঘনত্ব রেকর্ড: ৪২৬.৭ ppm (Mauna Loa, ২০২৪) রেকর্ড-ইতিহাসের সবচেয়ে উষ্ণতম বছর: ২০২৪ (WMO রিপোর্ট) প্রথম দেশ হিসেবে নেট-জিরো অর্জন: সুরিনাম ও ভুটান (২০২০) Climate Risk Index ২০২৫-এ বাংলাদেশের অবস্থান: ৭ম UNEP সদর দপ্তর: নাইরোবি (কেনিয়া): জাতিসংঘের প্রথম তৃতীয় বিশ্বে স্থাপিত সংস্থা |
সাম্প্রতিক COP-সমূহের প্রধান অর্জন
COP-28 দুবাই, ২০২৩
৩০ নভেম্বর থেকে ১৩ ডিসেম্বর ২০২৩ সালে সংযুক্ত আরব আমিরাতের দুবাইতে অনুষ্ঠিত COP-28 ইতিহাসের প্রথম Global Stocktake-এর সমাপ্তি ঘোষণা করে। UAE Consensus নামে গৃহীত চূড়ান্ত দলিলে প্রথমবারের মতো 'transitioning away from fossil fuels in energy systems' (জ্বালানি ব্যবস্থায় জীবাশ্ম জ্বালানি থেকে সরে আসা) এর আহ্বান যুক্ত হয়। ২০৩০ সালের মধ্যে বৈশ্বিক নবায়নযোগ্য জ্বালানির ক্ষমতা তিনগুণ করা এবং জ্বালানি দক্ষতা দ্বিগুণ করার লক্ষ্যে সম্মত হয় ১৩০ টির বেশি দেশ। Loss and Damage Fund চালুর সিদ্ধান্ত এবং প্রাথমিক প্রতিশ্রুতি ৭০০ মিলিয়ন ডলার ঘোষিত হয়।
COP-29 বাকু, ২০২৪
১১ থেকে ২২ নভেম্বর ২০২৪ সালে আজারবাইজানের রাজধানী বাকুতে অনুষ্ঠিত COP-29 'Finance COP' নামে পরিচিতি পায়। সম্মেলনে New Collective Quantified Goal on Climate Finance (NCQG) চূড়ান্ত হয়, যেখানে ২০৩৫ সালের মধ্যে উন্নয়নশীল দেশের জন্য বার্ষিক ৩০০ বিলিয়ন ডলার জলবায়ু অর্থায়নের প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়; দাবি ছিল ১.৩ ট্রিলিয়ন ডলার, যা বাংলাদেশসহ LDC ও ছোট দ্বীপ দেশগুলো অপর্যাপ্ত বলে প্রতিক্রিয়া জানায়। প্যারিস চুক্তির অনুচ্ছেদ ৬-এর বাস্তবায়ন বিধি (Article 6.2 এবং 6.4) চূড়ান্ত হয়।
COP-30 বেলেম, ২০২৫
১০ থেকে ২১ নভেম্বর ২০২৫ সালে ব্রাজিলের আমাজন অঞ্চলের বেলেম শহরে COP-30 অনুষ্ঠিত হয়; প্যারিস চুক্তির দশম বার্ষিকীতে এটি বিশেষ গুরুত্ব বহন করে। সম্মেলনের কেন্দ্রীয় আলোচ্য বিষয় ছিল নতুন NDC (NDC ৩.০) দাখিল, বন উজাড় বন্ধ এবং Just Transition বাস্তবায়ন। আমাজন কেন্দ্রিক আয়োজন বনাঞ্চল সংরক্ষণের গুরুত্ব বৈশ্বিক এজেন্ডায় তুলে ধরে।
আন্তর্জাতিক জলবায়ু অর্থায়ন কাঠামো
তহবিল/প্রক্রিয়া | প্রতিষ্ঠা | পরিচালক সংস্থা | মূল উদ্দেশ্য |
Global Environment Facility (GEF) | ১৯৯২ | GEF Council | বৈশ্বিক পরিবেশ সমস্যা |
Least Developed Countries Fund (LDCF) | ২০০১ | GEF | LDC-এর অভিযোজন |
Special Climate Change Fund (SCCF) | ২০০১ | GEF | অভিযোজন ও প্রযুক্তি |
Adaptation Fund | ২০০৭ | Adaptation Fund Board | কিয়োটো প্রটোকল অভিযোজন |
Green Climate Fund (GCF) | ২০১০ | GCF Board | উন্নয়নশীল দেশে অর্থায়ন |
Climate Investment Funds (CIF) | ২০০৮ | World Bank | নবায়নযোগ্য জ্বালানি |
Loss and Damage Fund | ২০২২ | World Bank (interim) | ক্ষতি-ক্ষতিপূরণ |
NCQG (নতুন লক্ষ্য) | ২০২৪ | UNFCCC | $৩০০ বিলিয়ন/বছর ২০৩৫ |
আন্তর্জাতিক জলবায়ু সূচক ও বাংলাদেশের অবস্থান
সূচক | প্রকাশক | বাংলাদেশের সর্বশেষ অবস্থান | মোট দেশ |
Climate Risk Index (CRI) | Germanwatch | ৭ম (২০২৫) | ১৮৫ |
INFORM Risk Index | EU/UN | ৩৭তম (২০২৫) | ১৯১ |
ND-GAIN Vulnerability Index | Notre Dame | ১৬২তম (২০২৩) | ১৮৫ |
Environmental Performance Index | Yale University | ১৭৭তম (২০২৪) | ১৮০ |
Climate Change Performance Index | Germanwatch | ৩৫তম (২০২৫) | ৬৪ |
Air Quality Life Index | U Chicago/EPIC | শীর্ষ ৩-এ (২০২৪) | ১৪০+ |
World Risk Index | Bündnis Entwicklung Hilft | ১১তম (২০২৪) | ১৯৩ |
জলবায়ু পরিবর্তনের কারণ, প্রভাব ও প্রতিকার (লিখিত পরীক্ষা কাঠামো)
কারণ | প্রভাব | প্রতিকার/অভিযোজন |
জীবাশ্ম জ্বালানি দহন | CO₂ বৃদ্ধি, বৈশ্বিক উষ্ণতা | নবায়নযোগ্য জ্বালানি (সৌর, বায়ু, জল) |
বনউজাড় (deforestation) | কার্বন সিঙ্ক হ্রাস; জীববৈচিত্র্য ক্ষতি | REDD+; বনায়ন; সামাজিক বনায়ন |
শিল্প-নিঃসরণ ও সিমেন্ট | PFC, HFC, SF₆ বৃদ্ধি | কিগালি সংশোধনী; কার্বন ক্যাপচার |
কৃষি (ধান, পশুপালন) | CH₄ ও N₂O বৃদ্ধি | AWD সেচ; জৈব সার; নিম্ন-কার্বন কৃষি |
যানবাহন | শহুরে বায়ু দূষণ; CO₂ | EV; গণপরিবহন; সাইকেল-পথ |
প্লাস্টিক ও বর্জ্য | মিথেন; মহাসাগরীয় দূষণ | সার্কুলার ইকোনমি; বর্জ্য ব্যবস্থাপনা |
CFC/HCFC (পুরোনো) | ওজোন স্তর ক্ষয় | মন্ট্রিল প্রটোকল; HFC ফেজ-আউট |
আন্তর্জাতিক দূষণ-প্রতিরোধ কনভেনশনসমূহ
পরিবেশ দূষণ মোকাবিলায় কয়েকটি বিশেষায়িত কনভেনশন গৃহীত হয়েছে। বাসেল কনভেনশন (১৯৮৯, কার্যকর ১৯৯২) বিপজ্জনক বর্জ্যের আন্তঃসীমান্ত চলাচল ও তার নিষ্পত্তি নিয়ন্ত্রণ করে। রটারডাম কনভেনশন (১৯৯৮, কার্যকর ২০০৪) ক্ষতিকর রাসায়নিক ও কীটনাশকের আমদানি-পূর্ব 'প্রাইওর ইনফর্মড কনসেন্ট' (PIC) পদ্ধতি প্রতিষ্ঠা করে। স্টকহোম কনভেনশন (২০০১, কার্যকর ২০০৪) স্থায়ী জৈব দূষক (Persistent Organic Pollutants, POPs) যেমন DDT, PCB, ডাইঅক্সিন ও ফুরান ব্যবহার সীমিত করে; প্রাথমিকভাবে ১২ টি 'Dirty Dozen' রাসায়নিককে নিষিদ্ধ করা হয়েছিল। মিনামাটা কনভেনশন (২০১৩, কার্যকর ২০১৭) পারদ (Mercury) দূষণ নিয়ন্ত্রণে গৃহীত হয়; নামকরণ ১৯৫০-এর জাপানের মিনামাটা শহরের পারদ-দূষণ ট্র্যাজেডির স্মরণে।
জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণে আন্তর্জাতিক প্রচেষ্টা
Convention on Biological Diversity (CBD) ৫ জুন ১৯৯২ সালে রিও সম্মেলনে গৃহীত এবং ২৯ ডিসেম্বর ১৯৯৩ সালে কার্যকর হয়; এই কারণেই ২২ মে আন্তর্জাতিক জীববৈচিত্র্য দিবস হিসেবে পালিত হয়। CBD-এর তিনটি প্রধান লক্ষ্য: জীববৈচিত্র্যের সংরক্ষণ, এর উপাদানের টেকসই ব্যবহার এবং জিনগত সম্পদ ব্যবহারের লাভের ন্যায্য ও সমভিত্তিক ভাগাভাগি। CBD-এর অধীনে দুটি প্রটোকল গুরুত্বপূর্ণ: কারটাজেনা প্রটোকল ২০০০ (জৈব নিরাপত্তা ও LMO) এবং নাগোয়া প্রটোকল ২০১০ (Access and Benefit Sharing, ABS)। ২০২২ সালের ডিসেম্বরে কানাডার মন্ট্রিলে অনুষ্ঠিত CBD COP-15-এ Kunming-Montreal Global Biodiversity Framework গৃহীত হয়, যা '30 by 30' লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করে অর্থাৎ ২০৩০ সালের মধ্যে বিশ্বের অন্তত ৩০% স্থলভাগ ও ৩০% জলভাগ সংরক্ষণের আওতায় আনা।
আন্তর্জাতিক প্রকৃতি ও প্রাকৃতিক সম্পদ সংরক্ষণ ইউনিয়ন (IUCN) ১৯৪৮ সালে ফ্রান্সের ফন্টেইনব্লোতে প্রতিষ্ঠিত হয়; সদর দপ্তর সুইজারল্যান্ডের গ্লন্ডে। IUCN Red List প্রজাতির সংরক্ষণ-অবস্থা শ্রেণিবিন্যাস করে নয়টি ভাগে: Extinct (EX), Extinct in the Wild (EW), Critically Endangered (CR), Endangered (EN), Vulnerable (VU), Near Threatened (NT), Least Concern (LC), Data Deficient (DD), এবং Not Evaluated (NE)। ২০২৪ সালের IUCN Red List-এ ১,৬৩,৩০০+ প্রজাতির মধ্যে প্রায় ৪৫,৩০০ প্রজাতি বিলুপ্তির ঝুঁকিতে রয়েছে। বাংলাদেশের রয়েল বেঙ্গল টাইগার Endangered (EN) এবং সুন্দরবন ১৯৯৭ সালে UNESCO World Heritage Site এবং ১৯৯২ সালে Ramsar Site ঘোষিত।
বিশেষ নোট: বিভ্রান্তিকর তথ্যের ব্যাখ্যা
📌 মনে রাখুন (Disambiguation) ১. স্টকহোম সম্মেলন ১৯৭২ (মানব পরিবেশ): UNEP প্রতিষ্ঠা; এর সঙ্গে স্টকহোম কনভেনশন ২০০১ (POPs নিয়ন্ত্রণ) গুলিয়ে ফেলা যাবে না। দুটোই সুইডেনে কিন্তু সম্পূর্ণ ভিন্ন বিষয়। ২. Kyoto Protocol ১৯৯৭ গৃহীত, ২০০৫ কার্যকর: ৮ বছরের ব্যবধান বুঝে রাখা জরুরি। প্যারিস চুক্তি ২০১৫ গৃহীত, ২০১৬ কার্যকর: মাত্র এক বছরে কার্যকর হয়েছে। ৩. UNFCCC বনাম IPCC: UNFCCC একটি কনভেনশন (১৯৯২ গৃহীত, ১৯৯৪ কার্যকর); IPCC একটি বৈজ্ঞানিক প্রতিষ্ঠান (১৯৮৮ প্রতিষ্ঠা)। দুটো ভিন্ন সত্তা। ৪. মন্ট্রিল প্রটোকল ১৯৮৭ ওজোন সংক্রান্ত, কিন্তু Cartagena Protocol ২০০০ মন্ট্রিলেই গৃহীত হয়েছিল জৈব নিরাপত্তার বিষয়ে; দুটো ভিন্ন প্রটোকল। ৫. Earth Day ২২ এপ্রিল, World Environment Day ৫ জুন, World Ozone Day ১৬ সেপ্টেম্বর, Biodiversity Day ২২ মে, World Wetlands Day ২ ফেব্রুয়ারি (রামসার), International Disaster Reduction Day ১৩ অক্টোবর। |
সতর্কতা: পরীক্ষায় ঘন ঘন আসা ফাঁদ-জোড়া
⚠️ সতর্কতা (ক) UNEP সদর দপ্তর: নাইরোবি, কেনিয়া বনাম WMO সদর দপ্তর: জেনেভা, সুইজারল্যান্ড বনাম UNFCCC সচিবালয়: বন, জার্মানি। (খ) প্রথম COP: বার্লিন ১৯৯৫ বনাম প্যারিস চুক্তির COP: COP-21, প্যারিস ২০১৫ বনাম Loss and Damage Fund-এর COP: COP-27, শারম-এল-শেখ ২০২২। (গ) MDG: ২০০০-২০১৫ (৮ লক্ষ্য) বনাম SDG: ২০১৬-২০৩০ (১৭ লক্ষ্য)। MDG-7 ছিল পরিবেশ; SDG-তে পরিবেশ-সংক্রান্ত একাধিক (SDG-৬, ১৩, ১৪, ১৫)। (ঘ) Hyogo Framework ২০০৫-২০১৫ (কোবে, জাপান) বনাম Sendai Framework ২০১৫-২০৩০ (সেন্ডাই, জাপান)। দুটোই জাপানে কিন্তু ভিন্ন শহর ও সময়। (ঙ) CBD ১৯৯২ গৃহীত, ১৯৯৩ কার্যকর; Nagoya Protocol ২০১০ গৃহীত, ২০১৪ কার্যকর; Cartagena Protocol ২০০০ গৃহীত, ২০০৩ কার্যকর। তিনটিই ভিন্ন। |
মনে রাখার কৌশল ও ট্রিকস
কৌশল ১: সম্মেলনের শহর-সাল ছন্দ
“স্টক বহাত্তর (১৯৭২), মন্ট্রিল সাতাশি (১৯৮৭), রিও বিরানব্বই (১৯৯২), কিয়োটো সাতানব্বই (১৯৯৭), প্যারিস পনেরো (২০১৫)”: এই ক্রম একবার মনে রাখলে পাঁচটি প্রধান সম্মেলনের সাল মনে থাকবে।
কৌশল ২: প্রথম-অক্ষর সূত্র (গ্রিনহাউস গ্যাস)
“কাম-নাফ-হ-প-স” = কার্বন ডাই অক্সাইড, মিথেন, নাইট্রাস অক্সাইড, ফ্লোরিনেটেড (HFC, PFC), সালফার হেক্সাফ্লোরাইড। কিয়োটো প্রটোকলে নিয়ন্ত্রিত ৬ গ্যাস + দোহায় NF₃ যোগ = ৭।
কৌশল ৩: তারিখ-দিবস সূত্র
“জলাভূমি দুই (২ ফেব্রুয়ারি), ধরিত্রী বাইশ (২২ এপ্রিল), জীববৈচিত্র্য বাইশ (২২ মে), পরিবেশ পাঁচ (৫ জুন), ওজোন ষোলো (১৬ সেপ্টেম্বর), দুর্যোগ তেরো (১৩ অক্টোবর)।”
কৌশল ৪: COP-নম্বর ও শহর
“তিন কিয়োটো (COP-3 কিয়োটো), একুশ প্যারিস (COP-21 প্যারিস), সাতাশ মিশর (COP-27 মিশর), আঠাশ দুবাই (COP-28 দুবাই), উনত্রিশ বাকু (COP-29 বাকু), ত্রিশ ব্রাজিল (COP-30 বেলেম)।”
লিখিত পরীক্ষার জন্য থিসিস-স্তরের বিশ্লেষণ
✍️ লিখিত পরীক্ষার জন্য আন্তর্জাতিক পরিবেশ ও জলবায়ু কূটনীতি স্টকহোম ১৯৭২ থেকে যাত্রা শুরু করে রিও ১৯৯২ এ প্রাতিষ্ঠানিক রূপ পায়, কিয়োটো ১৯৯৭ এ আইনি ভিত্তি লাভ করে এবং প্যারিস ২০১৫ চুক্তিতে সর্বজনীনতার অভিযাত্রা সম্পন্ন করে; তবে নিঃসরণে সর্বনিম্ন অবদান রেখেও বাংলাদেশের মতো ভৌগোলিকভাবে নিম্নভূমির দেশসমূহ সর্বাধিক ক্ষতির শিকার, যা Common But Differentiated Responsibilities নীতির বাস্তব প্রয়োগে বৈষম্য প্রকাশ করে। মন্ট্রিল প্রটোকলের সর্বজনীন সাফল্য এবং প্যারিস চুক্তির ১.৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস লক্ষ্যমাত্রার সীমিত অগ্রগতির তুলনামূলক বিশ্লেষণ থেকে স্পষ্ট হয় যে কার্যকর কার্যকর চাপ-প্রক্রিয়া, প্রযুক্তি হস্তান্তর এবং অর্থায়ন না থাকলে আন্তর্জাতিক চুক্তি প্রতীকীত্বে আবদ্ধ থেকে যায়; বাংলাদেশের জন্য COP-27 এর Loss and Damage Fund ও COP-29 এর NCQG থেকে কতটুকু প্রকৃত অর্থ আসবে তা ভবিষ্যৎ জলবায়ু-অভিযোজনের নির্ধারক হবে। |
কেস স্টাডি: প্যারিস চুক্তি ২০১৫ এর গ্লোবাল স্টকটেক ২০২৩
প্যারিস চুক্তির অনুচ্ছেদ ১৪ অনুযায়ী প্রথম Global Stocktake (GST-1) ২০২৩ সালের COP-28 দুবাইতে সম্পন্ন হয়। এই প্রক্রিয়ায় সকল দেশের সম্মিলিত অগ্রগতি পর্যালোচনা করা হয়। মূল প্রতিবেদনে উঠে আসে যে সম্মিলিত NDC বাস্তবায়িত হলেও ২১০০ সালের মধ্যে বৈশ্বিক উষ্ণতা প্রায় ২.৫ থেকে ২.৯ ডিগ্রি সেলসিয়াস বৃদ্ধির পথে রয়েছে, যা প্যারিস চুক্তির ১.৫ ডিগ্রি লক্ষ্যমাত্রা থেকে অনেক বেশি। নিঃসরণ গ্যাপ পূরণে ২০৩০ সালের মধ্যে বিশ্বের গ্রিনহাউস গ্যাস ৪৩% হ্রাস প্রয়োজন; বর্তমান NDC-তে প্রায় ২% হ্রাস হবে। GST-এর ফলস্বরূপ UAE Consensus-এ প্রথমবারের মতো 'transitioning away from fossil fuels' শব্দবন্ধ যুক্ত হয় এবং ২০৩০ সালের মধ্যে নবায়নযোগ্য জ্বালানি ক্ষমতা তিনগুণ এবং জ্বালানি দক্ষতা দ্বিগুণ করার লক্ষ্য গৃহীত হয়। ১৯৬টি পক্ষকে ২০২৫ সালের মধ্যে নতুন NDC (NDC ৩.০) দাখিল করতে হবে যা ২০৩৫ সাল পর্যন্ত প্রযোজ্য হবে; এই প্রক্রিয়া COP-30 বেলেম ২০২৫ এ সমাপ্ত হয়েছে। বাংলাদেশের জন্য শিক্ষা হলো নবায়নযোগ্য জ্বালানি ক্ষমতা, অভিযোজন অর্থায়ন এবং Loss and Damage তহবিলে অংশগ্রহণ বৃদ্ধির গুরুত্ব এই কাঠামোতে স্পষ্টভাবে ফুটে উঠেছে।
বিগত পরীক্ষার প্রশ্ন (প্রশ্নোত্তর)
নিচে বিগত ২০ বছরে এই অধ্যায় থেকে এসেছে এমন প্রশ্নগুলো বিষয়ভিত্তিক ক্রমে সাজিয়ে দেওয়া হলো।
প্রশ্ন: UNFCCC এর পূর্ণ অভিব্যক্তি কী?
উত্তর: United Nations Framework Convention on Climate Change।
প্রশ্ন: UNFCCC কোন সম্মেলনে গৃহীত হয়?
উত্তর: ১৯৯২ সালের রিও ধরিত্রী সম্মেলনে।
প্রশ্ন: UNFCCC কত সালে কার্যকর হয়?
উত্তর: ১৯৯৪ সালে।
প্রশ্ন: UNFCCC এর সদর দপ্তর কোথায়?
উত্তর: জার্মানির বন শহরে।
প্রশ্ন: বিশ্বের প্রথম পরিবেশ বিষয়ক আন্তর্জাতিক সম্মেলন কোথায় অনুষ্ঠিত হয়?
উত্তর: সুইডেনের স্টকহোমে।
প্রশ্ন: স্টকহোম সম্মেলন কত সালে অনুষ্ঠিত হয়?
উত্তর: ১৯৭২ সালের ৫ থেকে ১৬ জুন।
প্রশ্ন: স্টকহোম সম্মেলনের ফলে কোন সংস্থা প্রতিষ্ঠিত হয়?
উত্তর: UNEP (United Nations Environment Programme)।
প্রশ্ন: UNEP এর সদর দপ্তর কোথায়?
উত্তর: কেনিয়ার নাইরোবিতে।
প্রশ্ন: বিশ্ব পরিবেশ দিবস কবে?
উত্তর: ৫ জুন।
প্রশ্ন: ধরিত্রী সম্মেলন (Earth Summit) কোথায় ও কত সালে অনুষ্ঠিত হয়?
উত্তর: ১৯৯২ সালের ৩ থেকে ১৪ জুন ব্রাজিলের রিও-ডি-জেনিরোতে।
প্রশ্ন: রিও সম্মেলনে কোন কোন দলিল গৃহীত হয়?
উত্তর: রিও ঘোষণা, Agenda 21, বন নীতিমালা, UNFCCC ও CBD।
প্রশ্ন: রিও সম্মেলনে কতটি দেশ অংশ নেয়?
উত্তর: ১৭৮টি দেশ।
প্রশ্ন: কিয়োটো প্রটোকল কোন দেশে গৃহীত হয়?
উত্তর: জাপানের কিয়োটো শহরে।
প্রশ্ন: কিয়োটো প্রটোকল কত সালে গৃহীত ও কত সালে কার্যকর হয়?
উত্তর: ১৯৯৭ সালে গৃহীত, ২০০৫ সালে কার্যকর।
প্রশ্ন: কিয়োটো প্রটোকল COP-এর কততম সম্মেলনে গৃহীত হয়?
উত্তর: COP-3 সম্মেলনে।
প্রশ্ন: কিয়োটো প্রটোকলে কয়টি গ্রিনহাউস গ্যাস নিয়ন্ত্রণের আওতায়?
উত্তর: ৬টি; দোহা সংশোধনীর পর ৭টি (NF₃ যুক্ত)।
প্রশ্ন: প্যারিস চুক্তি কত সালে স্বাক্ষরিত হয়?
উত্তর: ১২ ডিসেম্বর ২০১৫।
প্রশ্ন: প্যারিস চুক্তি কোন COP-এ গৃহীত হয়?
উত্তর: COP-21 সম্মেলনে।
প্রশ্ন: প্যারিস চুক্তির মূল লক্ষ্য কী?
উত্তর: বৈশ্বিক উষ্ণতা ২ ডিগ্রি সেলসিয়াসের অনেক নিচে রাখা এবং ১.৫ ডিগ্রিতে সীমাবদ্ধ রাখার চেষ্টা।
প্রশ্ন: প্যারিস চুক্তি কত সালে কার্যকর হয়?
উত্তর: ৪ নভেম্বর ২০১৬।
প্রশ্ন: প্যারিস চুক্তিতে কোন ধরনের প্রতিশ্রুতি দাখিল করতে হয়?
উত্তর: Nationally Determined Contribution (NDC)।
প্রশ্ন: মন্ট্রিল প্রটোকল কত সালে গৃহীত হয়?
উত্তর: ১৬ সেপ্টেম্বর ১৯৮৭।
প্রশ্ন: মন্ট্রিল প্রটোকলের উদ্দেশ্য কী?
উত্তর: ওজোন স্তর ক্ষয়কারী পদার্থ (CFC, HCFC, halon) পর্যায়ক্রমে বন্ধ করা।
প্রশ্ন: ভিয়েনা কনভেনশন কত সালে গৃহীত?
উত্তর: ১৯৮৫ সালে অস্ট্রিয়ার ভিয়েনায়।
প্রশ্ন: বিশ্ব ওজোন দিবস কবে?
উত্তর: ১৬ সেপ্টেম্বর।
প্রশ্ন: ওজোন স্তর বায়ুমণ্ডলের কোন স্তরে অবস্থিত?
উত্তর: স্ট্র্যাটোস্ফিয়ারে, প্রায় ১৫ থেকে ৩৫ কিলোমিটার উচ্চতায়।
প্রশ্ন: ওজোন স্তর ধ্বংসের প্রধান কারণ কী?
উত্তর: ক্লোরোফ্লুরোকার্বন (CFC)।
প্রশ্ন: অ্যান্টার্কটিকার আকাশে ওজোন গর্ত কত সালে আবিষ্কৃত হয়?
উত্তর: ১৯৮৫ সালে।
প্রশ্ন: IPCC এর পূর্ণরূপ কী?
উত্তর: Intergovernmental Panel on Climate Change।
প্রশ্ন: IPCC কোন দুটি সংস্থা মিলিতভাবে প্রতিষ্ঠা করে?
উত্তর: WMO ও UNEP।
প্রশ্ন: IPCC কত সালে প্রতিষ্ঠিত হয়?
উত্তর: ১৯৮৮ সালে।
প্রশ্ন: IPCC এর সর্বশেষ মূল্যায়ন প্রতিবেদন কোনটি?
উত্তর: AR6 (Sixth Assessment Report), ২০২১-২০২৩।
প্রশ্ন: IPCC এর সদর দপ্তর কোথায়?
উত্তর: সুইজারল্যান্ডের জেনেভায়।
প্রশ্ন: প্রথম COP সম্মেলন কোথায় অনুষ্ঠিত হয়?
উত্তর: জার্মানির বার্লিনে ১৯৯৫ সালে।
প্রশ্ন: COP-28 কত সালে এবং কোথায় অনুষ্ঠিত?
উত্তর: ২০২৩ সালে সংযুক্ত আরব আমিরাতের দুবাইতে।
প্রশ্ন: COP-29 কত সালে এবং কোথায় অনুষ্ঠিত?
উত্তর: ২০২৪ সালে আজারবাইজানের বাকুতে।
প্রশ্ন: COP-30 কোথায় অনুষ্ঠিত হয়?
উত্তর: ব্রাজিলের বেলেম শহরে ২০২৫ সালে।
প্রশ্ন: Loss and Damage Fund কোন COP-এ গৃহীত হয়?
উত্তর: COP-27 (২০২২, শারম-এল-শেখ, মিশর)।
প্রশ্ন: পৃথিবীর উষ্ণায়নের জন্য কোন গ্যাস প্রধানত দায়ী?
উত্তর: কার্বন ডাই অক্সাইড (CO₂); মিথেন, নাইট্রাস অক্সাইড সহ একাধিক গ্যাস দায়ী।
প্রশ্ন: গ্রিনহাউস গ্যাস কোনটি নয়?
উত্তর: অক্সিজেন (O₂) এবং নাইট্রোজেন (N₂) গ্রিনহাউস গ্যাস নয়।
প্রশ্ন: সবচেয়ে শক্তিশালী গ্রিনহাউস গ্যাস কোনটি?
উত্তর: SF₆ (সালফার হেক্সাফ্লোরাইড); ১০০ বছরের GWP ২৩,৫০০।
প্রশ্ন: মিথেনের প্রধান উৎস কী?
উত্তর: ধান চাষ, গবাদি পশু, প্রাকৃতিক গ্যাস ফুটো ও জৈব পচন।
প্রশ্ন: Convention on Biological Diversity (CBD) কত সালে গৃহীত?
উত্তর: ১৯৯২ সালে রিও সম্মেলনে।
প্রশ্ন: আন্তর্জাতিক জীববৈচিত্র্য দিবস কবে?
উত্তর: ২২ মে।
প্রশ্ন: Cartagena Protocol কী সম্পর্কিত?
উত্তর: জৈব নিরাপত্তা ও জীবন্ত পরিবর্তিত জীব (LMO) এর আন্তঃসীমান্ত চলাচল।
প্রশ্ন: Nagoya Protocol কত সালে গৃহীত হয় এবং কী বিষয়ে?
উত্তর: ২০১০ সালে জাপানের নাগোয়ায়; জিনগত সম্পদের প্রাপ্যতা ও লাভ-ভাগাভাগি (ABS)।
প্রশ্ন: Kunming-Montreal Global Biodiversity Framework কত সালে গৃহীত?
উত্তর: ২০২২ সালের CBD COP-15-এ।
প্রশ্ন: '30 by 30' লক্ষ্য কী?
উত্তর: ২০৩০ সালের মধ্যে বিশ্বের ৩০% স্থল ও ৩০% জলভাগ সংরক্ষণের আওতায় আনার লক্ষ্য।
প্রশ্ন: রামসার কনভেনশন কী সম্পর্কিত?
উত্তর: জলাভূমি সংরক্ষণ।
প্রশ্ন: রামসার কনভেনশন কত সালে গৃহীত?
উত্তর: ২ ফেব্রুয়ারি ১৯৭১ সালে ইরানের রামসার শহরে।
প্রশ্ন: বিশ্ব জলাভূমি দিবস কবে?
উত্তর: ২ ফেব্রুয়ারি।
প্রশ্ন: বাংলাদেশের রামসার সাইট কোনগুলো?
উত্তর: সুন্দরবন (১৯৯২) এবং টাঙ্গুয়ার হাওর (২০০০)।
প্রশ্ন: বাসেল কনভেনশন কী সম্পর্কিত?
উত্তর: বিপজ্জনক বর্জ্যের আন্তঃসীমান্ত চলাচল ও নিষ্পত্তি নিয়ন্ত্রণ।
প্রশ্ন: Stockholm Convention (২০০১) কী সম্পর্কিত?
উত্তর: স্থায়ী জৈব দূষক (Persistent Organic Pollutants, POPs)।
প্রশ্ন: মিনামাটা কনভেনশন কী সম্পর্কিত?
উত্তর: পারদ (Mercury) দূষণ নিয়ন্ত্রণ।
প্রশ্ন: UNCCD কী?
উত্তর: United Nations Convention to Combat Desertification; ১৯৯৪ সালে গৃহীত, ১৯৯৬ সালে কার্যকর।
প্রশ্ন: টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা (SDG) কত সালে গৃহীত?
উত্তর: ২৫ সেপ্টেম্বর ২০১৫।
প্রশ্ন: SDG-এর বাস্তবায়নকাল কত?
উত্তর: ২০১৬ থেকে ২০৩০।
প্রশ্ন: SDG-তে মোট কয়টি লক্ষ্য?
উত্তর: ১৭টি; ১৬৯টি সাব-টার্গেট।
প্রশ্ন: জলবায়ু সংক্রান্ত SDG কোনটি?
উত্তর: SDG-১৩ (Climate Action)।
প্রশ্ন: জলজ জীবন সংক্রান্ত SDG কোনটি?
উত্তর: SDG-১৪ (Life Below Water)।
প্রশ্ন: স্থলজ জীবন সংক্রান্ত SDG কোনটি?
উত্তর: SDG-১৫ (Life on Land)।
প্রশ্ন: Green Climate Fund কত সালে প্রতিষ্ঠিত?
উত্তর: ২০১০ সালে COP-16 ক্যানকুনে।
প্রশ্ন: Brundtland Report-এর নাম কী?
উত্তর: Our Common Future (১৯৮৭)।
প্রশ্ন: টেকসই উন্নয়নের সংজ্ঞা কে প্রথম দেন?
উত্তর: Brundtland Commission (১৯৮৭)।
প্রশ্ন: Hyogo Framework-এর সময়কাল কত?
উত্তর: ২০০৫ থেকে ২০১৫।
প্রশ্ন: Sendai Framework-এর সময়কাল কত?
উত্তর: ২০১৫ থেকে ২০৩০।
প্রশ্ন: সেন্ডাই কাঠামো কোথায় গৃহীত?
উত্তর: জাপানের সেন্ডাইতে ১৪-১৮ মার্চ ২০১৫।
প্রশ্ন: UNDRR কত সালে প্রতিষ্ঠিত?
উত্তর: ১৯৯৯ সালে।
প্রশ্ন: আন্তর্জাতিক দুর্যোগ প্রশমন দিবস কবে?
উত্তর: ১৩ অক্টোবর।
প্রশ্ন: IUCN-এর সদর দপ্তর কোথায়?
উত্তর: সুইজারল্যান্ডের গ্লন্ডে।
প্রশ্ন: IUCN কত সালে প্রতিষ্ঠিত?
উত্তর: ১৯৪৮ সালে।
প্রশ্ন: IUCN Red List-এ Critically Endangered বলতে কী বোঝায়?
উত্তর: বিলুপ্তির অত্যন্ত উচ্চ ঝুঁকিতে থাকা প্রজাতি।
প্রশ্ন: বিশ্বে সর্বাধিক CO₂ নিঃসরণকারী দেশ কোনটি?
উত্তর: চীন; দ্বিতীয় যুক্তরাষ্ট্র; তৃতীয় ভারত।
প্রশ্ন: জলবায়ু পরিবর্তনে বাংলাদেশের অবস্থান Climate Risk Index ২০২৫-এ কততম?
উত্তর: ৭ম।
প্রশ্ন: BCCSAP কত সালে প্রণীত?
উত্তর: ২০০৯ সালে।
প্রশ্ন: Bangladesh Delta Plan 2100 কত সালে গৃহীত?
উত্তর: ২০১৮ সালে।
প্রশ্ন: বাংলাদেশের পরিবেশ সংরক্ষণ আইন কত সালের?
উত্তর: ১৯৯৫ সালের (সংশোধিত ২০১০, ২০২৩)।
প্রশ্ন: পরিবেশ অধিদপ্তর (DoE) কত সালে প্রতিষ্ঠিত?
উত্তর: ১৯৮৯ সালে।
প্রশ্ন: বাংলাদেশ সংবিধানের কোন অনুচ্ছেদে পরিবেশ সংরক্ষণের কথা আছে?
উত্তর: অনুচ্ছেদ ১৮ক (১৫শ সংশোধনী ২০১১)।
প্রশ্ন: Climate Vulnerable Forum (CVF) কত সালে গঠিত?
উত্তর: ২০০৯ সালে।
প্রশ্ন: বাংলাদেশ CVF-এর সভাপতি ছিল কোন সময়ে?
উত্তর: ২০২০-২০২২।
প্রশ্ন: বাংলাদেশ প্যারিস চুক্তিতে কত সালে স্বাক্ষর ও অনুমোদন করে?
উত্তর: স্বাক্ষর ২২ এপ্রিল ২০১৬, অনুমোদন ২১ সেপ্টেম্বর ২০১৬।
প্রশ্ন: Mauna Loa অবজারভেটরিতে রেকর্ডকৃত সর্বোচ্চ মাসিক গড় CO₂ ঘনত্ব (২০২৪) কত?
উত্তর: ৪২৬.৭ ppm।
প্রশ্ন: প্রাক-শিল্প যুগে বায়ুমণ্ডলে CO₂-এর ঘনত্ব ছিল কত?
উত্তর: প্রায় ২৮০ ppm।
প্রশ্ন: প্যারিস চুক্তির অনুচ্ছেদ ৬ কী সম্পর্কিত?
উত্তর: কার্বন বাজার ও বাজার-ভিত্তিক সহযোগিতা।
প্রশ্ন: প্যারিস চুক্তির অনুচ্ছেদ ১৪ কী সম্পর্কিত?
উত্তর: Global Stocktake; প্রতি ৫ বছরে অগ্রগতি পর্যালোচনা।
প্রশ্ন: প্রথম Global Stocktake কোথায় ও কখন সম্পন্ন হয়?
উত্তর: ২০২৩ সালের COP-28 দুবাইতে।
প্রশ্ন: UAE Consensus কোন COP-এ গৃহীত?
উত্তর: COP-28 (২০২৩)।
প্রশ্ন: NCQG (নতুন জলবায়ু অর্থায়ন লক্ষ্যমাত্রা) কত নির্ধারিত হয়েছে?
উত্তর: ২০৩৫ সালের মধ্যে বার্ষিক ৩০০ বিলিয়ন ডলার (COP-29)।
প্রশ্ন: কিগালি সংশোধনী কত সালে এবং কোথায় গৃহীত?
উত্তর: ২০১৬ সালে রুয়ান্ডার কিগালিতে; HFC হ্রাস বিষয়ক।
প্রশ্ন: Common But Differentiated Responsibilities (CBDR) নীতি কোথায় গৃহীত?
উত্তর: ১৯৯২ রিও ঘোষণার নীতি ৭-এ।
প্রশ্ন: Precautionary Principle কোথায় গৃহীত?
উত্তর: ১৯৯২ রিও ঘোষণার নীতি ১৫-এ।
প্রশ্ন: জাপানের কিয়োটো প্রটোকল থেকে কোন দেশ ২০১১ সালে বেরিয়ে যায়?
উত্তর: কানাডা।
প্রশ্ন: কোন দেশ প্যারিস চুক্তি থেকে ২০১৭ সালে বেরিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দিয়ে আবার ২০২১ সালে যোগ দেয়?
উত্তর: যুক্তরাষ্ট্র।
প্রশ্ন: WMO-এর পূর্ণরূপ কী?
উত্তর: World Meteorological Organization; সদর দপ্তর জেনেভা।
প্রশ্ন: ২০২৪ সাল কোন রেকর্ডের জন্য পরিচিত?
উত্তর: রেকর্ড-ইতিহাসের সর্বোচ্চ উষ্ণতম বছর; প্রথমবার বার্ষিক গড় তাপমাত্রা ১.৫°C অতিক্রম।
প্রশ্ন: জলবায়ু উদ্বাস্তু (Climate Refugee) সংক্রান্ত World Bank-এর বিখ্যাত প্রতিবেদনের নাম কী?
উত্তর: Groundswell Report (২০২১)।
প্রশ্ন: ২০৫০ সালের মধ্যে দক্ষিণ এশিয়ায় কত কোটি অভ্যন্তরীণ জলবায়ু উদ্বাস্তু হবে বলে অনুমান?
উত্তর: প্রায় ৪ কোটির বেশি।
প্রশ্ন: জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে সমুদ্রপৃষ্ঠ ১ মিটার বৃদ্ধি পেলে বাংলাদেশের শতকরা কত ভাগ ভূমি ডুবে যাবে?
উত্তর: প্রায় ১৭%।
প্রশ্ন: BBNJ চুক্তি কী?
উত্তর: Biodiversity Beyond National Jurisdiction; ২০২৩ সালে নিউইয়র্কে গৃহীত আন্তর্জাতিক জলসীমার জীববৈচিত্র্য সংক্রান্ত চুক্তি।
প্রশ্ন: বাংলাদেশের সর্বশেষ আপডেটেড NDC কত সালের?
উত্তর: ২০২১ সালের; ২০৩০ সালের মধ্যে শর্তসাপেক্ষে ১৫.১২% নিঃসরণ হ্রাসের প্রতিশ্রুতি।
চটজলদি রিভিশন
শেষ মুহূর্তের রিভিশনের জন্য সকল মূল তথ্য এক নজরে।
স্টকহোম সম্মেলন: ৫-১৬ জুন ১৯৭২, সুইডেন; ১১৩ দেশ; UNEP প্রতিষ্ঠা; বিশ্ব পরিবেশ দিবস ৫ জুন
UNEP প্রতিষ্ঠা: ১৯৭২; সদর দপ্তর নাইরোবি, কেনিয়া
Brundtland Commission: ১৯৮৩ গঠিত; Our Common Future প্রতিবেদন ১৯৮৭
ভিয়েনা কনভেনশন: ১৯৮৫, অস্ট্রিয়া; কার্যকর ১৯৮৮; ওজোন কাঠামো
মন্ট্রিল প্রটোকল: ১৬ সেপ্টেম্বর ১৯৮৭, কানাডা; কার্যকর ১৯৮৯; CFC নিষেধ; বিশ্ব ওজোন দিবস
IPCC প্রতিষ্ঠা: ১৯৮৮; WMO ও UNEP যৌথভাবে; সদর দপ্তর জেনেভা
বাসেল কনভেনশন: ১৯৮৯, সুইজারল্যান্ড; কার্যকর ১৯৯২; বিপজ্জনক বর্জ্য
রিও ধরিত্রী সম্মেলন: ৩-১৪ জুন ১৯৯২, ব্রাজিল; ১৭৮ দেশ; পাঁচ দলিল
UNFCCC: ১৯৯২ গৃহীত, ২১ মার্চ ১৯৯৪ কার্যকর; সদস্য ১৯৮; সদর দপ্তর বন
CBD: ১৯৯২ গৃহীত, ১৯৯৩ কার্যকর; জীববৈচিত্র্য দিবস ২২ মে
UNCCD: ১৯৯৪ গৃহীত প্যারিসে, ১৯৯৬ কার্যকর; মরুকরণ
প্রথম COP: COP-1, ১৯৯৫, বার্লিন, জার্মানি
কিয়োটো প্রটোকল: ১১ ডিসেম্বর ১৯৯৭, জাপান; কার্যকর ১৬ ফেব্রুয়ারি ২০০৫; COP-3-এ গৃহীত
কিয়োটোতে নিয়ন্ত্রিত গ্যাস: CO₂, CH₄, N₂O, HFC, PFC, SF₆ (৬টি); দোহায় NF₃ যোগ → ৭টি
কিয়োটো নমনীয় কৌশল: CDM, JI, IET
কানাডা কিয়োটো ছাড়ে: ২০১১; যুক্তরাষ্ট্র স্বাক্ষর করলেও অনুমোদন করেনি
Cartagena Protocol: ২০০০, মন্ট্রিল, কানাডা; কার্যকর ২০০৩; জৈব নিরাপত্তা; LMO
Stockholm Convention POPs: ২০০১, সুইডেন; কার্যকর ২০০৪
Rotterdam Convention: ১৯৯৮, নেদারল্যান্ডস; কার্যকর ২০০৪; PIC পদ্ধতি
Adaptation Fund: ২০০৭ প্রতিষ্ঠা
Bali Roadmap: COP-13, ২০০৭, ইন্দোনেশিয়া
Copenhagen Accord: COP-15, ২০০৯; ২°C লক্ষ্য
Green Climate Fund: ২০১০, COP-16 ক্যানকুন, মেক্সিকো
Nagoya Protocol: ২০১০, জাপান; কার্যকর ২০১৪; ABS
দোহা সংশোধনী: ২০১২, কাতার; কার্যকর ২০২০; কিয়োটোর ২য় ধাপ
মিনামাটা কনভেনশন: ২০১৩, জাপান; কার্যকর ২০১৭; পারদ দূষণ
Hyogo Framework: ২০০৫-২০১৫, কোবে, জাপান
Sendai Framework: ১৪-১৮ মার্চ ২০১৫, জাপান; ২০১৫-২০৩০; ৪ অগ্রাধিকার, ৭ লক্ষ্য
SDG গৃহীত: ২৫ সেপ্টেম্বর ২০১৫; ১৭ লক্ষ্য, ১৬৯ সাব-টার্গেট; ২০১৬-২০৩০
প্যারিস চুক্তি: ১২ ডিসেম্বর ২০১৫, COP-21; কার্যকর ৪ নভেম্বর ২০১৬; ১.৫°C লক্ষ্য
প্যারিস চুক্তি স্বাক্ষরের জন্য উন্মুক্ত: ২২ এপ্রিল ২০১৬ (Earth Day)
প্যারিস চুক্তিতে NDC বাধ্যতামূলক; প্রতি ৫ বছরে Global Stocktake (অনুচ্ছেদ ১৪)
কিগালি সংশোধনী: ২০১৬, রুয়ান্ডা; কার্যকর ২০১৯; HFC হ্রাস
Glasgow Climate Pact: COP-26, ২০২১, যুক্তরাজ্য; কয়লা ক্রমান্বয়ে হ্রাস
Loss and Damage Fund: COP-27, ২০২২, শারম-এল-শেখ, মিশর
Kunming-Montreal Global Biodiversity Framework: ২০২২, কানাডা; 30 by 30 লক্ষ্য
BBNJ চুক্তি: ২০২৩, নিউইয়র্ক; আন্তর্জাতিক জলসীমার জীববৈচিত্র্য
COP-28: দুবাই, UAE, ২০২৩; প্রথম Global Stocktake; UAE Consensus; Loss and Damage Fund চালু
COP-29: বাকু, আজারবাইজান, ২০২৪; NCQG $৩০০ বিলিয়ন/বছর ২০৩৫
COP-30: বেলেম, ব্রাজিল, ২০২৫; NDC ৩.০; আমাজন কেন্দ্রিক
প্রধান গ্রিনহাউস গ্যাস: CO₂ (৬৬% উষ্ণায়ন অবদান), CH₄, N₂O, HFC, PFC, SF₆, NF₃, জলীয় বাষ্প
CO₂ প্রাক-শিল্প ঘনত্ব: ২৮০ ppm; বর্তমান (মে ২০২৪): ৪২৬.৭ ppm
তাপমাত্রা বৃদ্ধি (২০১১-২০২০): ১.০৯°C; ২০২৪ বার্ষিক: ১.৫৫°C (WMO)
মহাসাগরীয় pH হ্রাস: ১৮০০ থেকে ০.১ ইউনিট
সমুদ্রপৃষ্ঠ বৃদ্ধি (২০২৪): ৩.৪ মিমি/বছর
বিশ্ব ওজোন দিবস: ১৬ সেপ্টেম্বর
বিশ্ব পরিবেশ দিবস: ৫ জুন
বিশ্ব ধরিত্রী দিবস: ২২ এপ্রিল
বিশ্ব জলাভূমি দিবস: ২ ফেব্রুয়ারি (রামসার দিবস)
আন্তর্জাতিক জীববৈচিত্র্য দিবস: ২২ মে
আন্তর্জাতিক দুর্যোগ প্রশমন দিবস: ১৩ অক্টোবর
বিশ্ব আবহাওয়া দিবস: ২৩ মার্চ
ওজোন স্তর উচ্চতা: স্ট্র্যাটোস্ফিয়ার, ১৫-৩৫ কিমি (সর্বাধিক ২০-৩০ কিমি)
অ্যান্টার্কটিক ওজোন গর্ত আবিষ্কার: ১৯৮৫
মন্ট্রিল প্রটোকল: একমাত্র universal ratification (১৯৮ পক্ষ)
IUCN: ১৯৪৮ প্রতিষ্ঠা, ফন্টেইনব্লো, ফ্রান্স; সদর দপ্তর গ্লন্ড, সুইজারল্যান্ড
IUCN Red List ক্যাটাগরি: EX, EW, CR, EN, VU, NT, LC, DD, NE (৯টি)
MDG সময়কাল: ২০০০-২০১৫; ৮ লক্ষ্য; MDG-7 পরিবেশ
পরিবেশ সংক্রান্ত SDG: ৬, ১৩, ১৪, ১৫ (সরাসরি); ২, ৭, ১১, ১২ (পরোক্ষ)
বাংলাদেশের CO₂ অবদান: ০.৫৬% (বৈশ্বিক); মাথাপিছু ০.৫৬ টন (২০২৩)
Climate Risk Index ২০২৫: বাংলাদেশ ৭ম
World Risk Index ২০২৪: বাংলাদেশ ১১তম
সর্বাধিক CO₂ নিঃসরণকারী: চীন (বার্ষিক), যুক্তরাষ্ট্র (ঐতিহাসিক)
BCCSAP: ২০০৯; Bangladesh Climate Change Trust Fund Act: ২০১০
BCCTF বরাদ্দ: প্রায় ৪,৬৫০ কোটি টাকা; ৯৫০+ প্রকল্প
Bangladesh Delta Plan 2100: ২০১৮ গৃহীত
Mujib Climate Prosperity Plan: ২০২২
NAP (National Adaptation Plan): ২০২২-২০৫০
বাংলাদেশের রামসার সাইট: সুন্দরবন (১৯৯২), টাঙ্গুয়ার হাওর (২০০০)
সুন্দরবন UNESCO World Heritage: ১৯৯৭
বাংলাদেশের NDC (আপডেটেড ২০২১): শর্তহীন ৬.৭৩%, শর্তসাপেক্ষ ১৫.১২%
বাংলাদেশ মন্ট্রিল প্রটোকল অনুমোদন: ২ আগস্ট ১৯৯০
বাংলাদেশ UNFCCC অনুমোদন: ১৯৯৪; কিয়োটো প্রটোকল: ২০০১; প্যারিস: ২০১৬
Climate Vulnerable Forum (CVF): ২০০৯ প্রতিষ্ঠা; বাংলাদেশ সভাপতি ২০২০-২০২২
WMO প্রতিষ্ঠা: ১৯৫০; সদর দপ্তর জেনেভা
UNDRR প্রতিষ্ঠা: ১৯৯৯; সদর দপ্তর জেনেভা
বাংলাদেশ সংবিধান অনুচ্ছেদ ১৮ক: পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ; ১৫তম সংশোধনী ২০১১
পরিবেশ সংরক্ষণ আইন: ১৯৯৫ (সংশোধিত ২০১০, ২০২৩)
পরিবেশ আদালত আইন: ২০১০; পরিবেশ অধিদপ্তর (DoE): ১৯৮৯
Brundtland Definition: 'Development that meets the needs of the present without compromising the ability of future generations to meet their own needs'
Rio Declaration: ২৭ নীতি; নীতি ৭ CBDR; নীতি ১৫ Precautionary; নীতি ৩ ভবিষ্যৎ প্রজন্ম
Agenda 21: ৪০ অধ্যায়; ২১ শতকের কর্মসূচি
Rio+10: ২০০২ জোহানেসবার্গ; Rio+20: ২০১২ রিও 'The Future We Want'
প্রথম পরিবেশ আন্দোলনের গ্রন্থ: Silent Spring (Rachel Carson, ১৯৬২)
Greenpeace প্রতিষ্ঠা: ১৯৭১ কানাডা
অধ্যায় সমাপ্ত। এই অধ্যায়ের প্রতিটি তথ্য BCS প্রিলি, লিখিত, ব্যাংক জব ও বিশ্ববিদ্যালয় ভর্তি পরীক্ষায় সরাসরি প্রযোজ্য।