আবহাওয়া ও জলবায়ু নিয়ামকসমূহ Elements and Controls of Weather and Climate |
সারসংক্ষেপ
আবহাওয়া ও জলবায়ু নিয়ামকসমূহ ভূগোলের সবচেয়ে মৌলিক ও পরীক্ষায় বহুবার পুনরাবৃত্ত অধ্যায়। আবহাওয়ার ছয়টি উপাদান (তাপমাত্রা, বায়ুচাপ, বায়ুপ্রবাহ, আর্দ্রতা, বৃষ্টিপাত, মেঘাচ্ছন্নতা) এবং জলবায়ুর সাতটি প্রধান নিয়ামক (অক্ষাংশ, উচ্চতা, সমুদ্র থেকে দূরত্ব, সমুদ্রস্রোত, বায়ুপ্রবাহ, পর্বতের অবস্থান, ভূমির ঢাল) থেকে সরাসরি MCQ ও কারণ-ব্যাখ্যা ধরনের লিখিত প্রশ্ন আসে। প্রতিটি BCS, ব্যাংক ও বিশ্ববিদ্যালয় পরীক্ষায় এই অধ্যায় থেকে গড়ে ২ থেকে ৪ টি প্রশ্ন থাকে।
প্রেক্ষাপট আলোচনা
আবহাওয়া ও জলবায়ু পরস্পর সম্পর্কিত হলেও সম্পূর্ণ ভিন্ন ধারণা। আবহাওয়া (Weather) হলো কোনো নির্দিষ্ট স্থানের একটি স্বল্প সময়ের (ঘণ্টা, দিন, সপ্তাহ) বায়ুমণ্ডলীয় অবস্থা; জলবায়ু (Climate) হলো সেই স্থানের দীর্ঘ সময়ের (সাধারণত ৩০ বা ৩৫ বছরের, World Meteorological Organization-এর মান) গড় আবহাওয়ার প্রবণতা। আবহাওয়া দ্রুত ও ঘন ঘন পরিবর্তিত হয়; জলবায়ু পরিবর্তিত হয় খুব ধীরে এবং সাধারণত ভৌগোলিক স্কেলে।
আবহাওয়া পরিমাপ ও পূর্বাভাসের জন্য বাংলাদেশে দায়িত্বরত প্রধান প্রতিষ্ঠান বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তর (Bangladesh Meteorological Department, BMD); এটি ১৯৪৮ সালে প্রতিষ্ঠিত এবং প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের অধীনে কাজ করে। আন্তর্জাতিক পরিসরে World Meteorological Organization (WMO) ১৯৫০ সালে জেনেভায় প্রতিষ্ঠিত হয়; এর সদস্যসংখ্যা ১৯২ এবং বিশ্ব আবহাওয়া দিবস প্রতিবছর ২৩ মার্চ পালিত হয়। মহাকাশভিত্তিক আবহাওয়া পর্যবেক্ষণে SPARRSO (Bangladesh Space Research and Remote Sensing Organization, প্রতিষ্ঠা ১৯৮০) সহায়ক ভূমিকা পালন করে।
জলবায়ু-উপাদান (climatic elements) ও জলবায়ু-নিয়ামক (climatic controls) দুটি ভিন্ন ধারণা। উপাদান হলো জলবায়ু পরিমাপের জন্য ব্যবহৃত পরিমাপযোগ্য রাশি; নিয়ামক হলো সেই রাশিগুলোকে প্রভাবিতকারী ভৌগোলিক উপাদান। উদাহরণস্বরূপ, তাপমাত্রা একটি জলবায়ু-উপাদান কিন্তু অক্ষাংশ ও উচ্চতা সেই তাপমাত্রার নিয়ামক। অক্ষাংশ, উচ্চতা, সমুদ্র থেকে দূরত্ব, সমুদ্রস্রোত, বায়ুপ্রবাহ, পর্বতের অবস্থান ও ভূমির ঢাল মিলে যেকোনো স্থানের জলবায়ু-চরিত্র নির্ধারণ করে; দ্রাঘিমাংশ জলবায়ুর নিয়ামক নয়, কারণ এটি সময়-নির্ধারক, তাপ-নির্ধারক নয়।
বাংলাদেশের আবহাওয়াগত প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামো
🗺️ প্রাতিষ্ঠানিক বক্স বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তর (BMD): প্রতিষ্ঠা ১৯৪৮; সদর দপ্তর আগারগাঁও, ঢাকা; প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের অধীন; পূর্বাভাস ৩, ৭, ১০ দিন ও মৌসুমি সংস্করণে। SPARRSO: প্রতিষ্ঠা ১৯৮০; সদর দপ্তর আগারগাঁও, ঢাকা; স্যাটেলাইট ভিত্তিক আবহাওয়া ও দুর্যোগ পর্যবেক্ষণ। WMO: প্রতিষ্ঠা ২৩ মার্চ ১৯৫০; সদর দপ্তর জেনেভা, সুইজারল্যান্ড; সদস্য ১৯২; বিশ্ব আবহাওয়া দিবস ২৩ মার্চ। Bangladesh Climate: ক্রান্তীয় মৌসুমি (Tropical Monsoon, Köppen Aw/Am); ছয় ঋতু; গড় বার্ষিক বৃষ্টিপাত ২,৩০০ মিলিমিটার। |
মূল সংজ্ঞা
সংজ্ঞা আবহাওয়া (Weather): কোনো নির্দিষ্ট স্থানের অল্প সময়ের (ঘণ্টা, দিন বা সপ্তাহ) বায়ুমণ্ডলীয় অবস্থা। ট্রিউয়ার্থা (Trewartha): The state of the atmosphere at a given time and place। জলবায়ু (Climate): কোনো নির্দিষ্ট স্থানের দীর্ঘ সময়ের (সাধারণত ৩০ বা ৩৫ বছরের) গড় আবহাওয়ার অবস্থা। WMO-এর মতে, ৩০-বছরের গড় ভিত্তিতে জলবায়ু-গণনা করা হয় (Climatological Normals)। জলবায়ুর উপাদান (Elements of Climate): জলবায়ু পরিমাপের জন্য ব্যবহৃত রাশি; যথা তাপমাত্রা, বায়ুচাপ, বায়ুপ্রবাহ, আর্দ্রতা, বৃষ্টিপাত, মেঘাচ্ছন্নতা ও সূর্যকিরণ-দৈর্ঘ্য। জলবায়ুর নিয়ামক (Controls of Climate): যেসব ভৌগোলিক উপাদান জলবায়ু-উপাদানগুলোকে প্রভাবিত করে; যথা অক্ষাংশ, উচ্চতা, সমুদ্র থেকে দূরত্ব, সমুদ্রস্রোত, বায়ুপ্রবাহ, পর্বতের অবস্থান, ভূমির ঢাল ও বনাঞ্চল। আবহবিজ্ঞান (Meteorology): বায়ুমণ্ডল ও আবহাওয়া সংক্রান্ত বৈজ্ঞানিক অধ্যয়ন; এর জনক বলা হয় গ্রিক দার্শনিক অ্যারিস্টটল-কে যিনি ৩৫০ খ্রিষ্টপূর্বে 'Meteorologica' গ্রন্থ রচনা করেন। |
আবহাওয়া ও জলবায়ুর পার্থক্য
তুলনার বিষয় | আবহাওয়া (Weather) | জলবায়ু (Climate) |
সময়-পরিধি | ঘণ্টা, দিন, সপ্তাহ | ৩০ বা ৩৫ বছর বা তারও বেশি |
পরিবর্তনশীলতা | দ্রুত ও অস্থির | ধীর ও স্থিতিশীল |
ভৌগোলিক বিস্তার | ছোট এলাকা | বিস্তৃত অঞ্চল বা দেশ |
পরিমাপের ভিত্তি | তাৎক্ষণিক পর্যবেক্ষণ | দীর্ঘকালীন গড় (Mean) |
পূর্বাভাসকাল | ৩ থেকে ১০ দিন (সীমিত) | বছর থেকে শতাব্দী |
পরিমাপক যন্ত্র | থার্মোমিটার, ব্যারোমিটার | একই, কিন্তু দীর্ঘমেয়াদে গড়িত |
শাখা | Meteorology (আবহবিজ্ঞান) | Climatology (জলবায়ুবিজ্ঞান) |
উদাহরণ | ঢাকায় আজ ২৮°C; কাল বৃষ্টি | বাংলাদেশের গড় বার্ষিক বৃষ্টিপাত ২,৩০০ মিমি |
আবহাওয়ার উপাদানসমূহ
আবহাওয়ার ছয়টি প্রধান উপাদান বায়ুমণ্ডলের অবস্থা পরিমাপের ভিত্তি গঠন করে। এই উপাদানগুলো হলো তাপমাত্রা, বায়ুচাপ, বায়ুপ্রবাহ, আর্দ্রতা, মেঘাচ্ছন্নতা ও বৃষ্টিপাত। কোনো কোনো বিশেষজ্ঞ সূর্যালোক-দৈর্ঘ্য (Sunshine Duration) ও দৃশ্যমানতা (Visibility)-কেও এই তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করেন। প্রাকৃতিক দুর্যোগ যেমন বন্যা, খরা, ঘূর্ণিঝড় ইত্যাদি আবহাওয়ার উপাদান নয়; এগুলো আবহাওয়ার চরম-অবস্থার ফলাফল মাত্র।
উপাদান | পরিমাপক যন্ত্র | একক | ভূমিকা |
তাপমাত্রা | থার্মোমিটার (Thermometer) | °C, °F, K | বায়ুর উষ্ণতা; অন্য সকল উপাদানের চালক |
বায়ুচাপ | ব্যারোমিটার (Barometer) | মিলিবার, hPa, atm | বায়ুপ্রবাহ ও আবহাওয়া-পরিবর্তনের সংকেত |
বায়ুপ্রবাহ | অ্যানিমোমিটার (Anemometer) | নট, কিমি/ঘণ্টা, মি/সে | তাপ ও আর্দ্রতার পরিবহন |
আর্দ্রতা | হাইগ্রোমিটার (Hygrometer) | গ্রাম/ঘনমিটার, % | মেঘ ও বৃষ্টির পূর্বশর্ত |
মেঘাচ্ছন্নতা | ন্যাফোস্কোপ (Nephoscope) | অক্টাস (০-৮) | সূর্যকিরণ বাধা, বৃষ্টির উৎস |
বৃষ্টিপাত | রেইন গজ (Rain Gauge) | মিলিমিটার, ইঞ্চি | জল-প্রাপ্যতা; ভূগর্ভস্থ পানি পুনর্ভরণ |
সূর্যকিরণ-দৈর্ঘ্য | সানশাইন রেকর্ডার | ঘণ্টা/দিন | সালোকসংশ্লেষ ও বাষ্পীভবনের চালক |
দৃশ্যমানতা | ভিজিবিলিটি মিটার | মিটার, কিমি | বিমান ও নৌ-চলাচল নির্ধারক |
তাপমাত্রা (Temperature)
তাপমাত্রা হলো বায়ু কতটা উষ্ণ বা শীতল তার পরিমাপ। সাধারণত ছায়ায় ১.২ মিটার উচ্চতায় মাপা হয়; সর্বোচ্চ-সর্বনিম্ন তাপমাত্রা মাপতে ম্যাক্সিমাম-মিনিমাম থার্মোমিটার (six's thermometer) ব্যবহৃত হয়। তাপমাত্রার উল্লম্ব হ্রাসের গড় হার (Normal Lapse Rate) ট্রপোস্ফিয়ারে প্রতি কিলোমিটার উচ্চতা বৃদ্ধিতে ৬.৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস। কখনো কখনো তাপমাত্রার এই স্বাভাবিক ক্রম উল্টে যায়, অর্থাৎ উচ্চতা বাড়ার সাথে তাপমাত্রা না কমে বরং বাড়ে; এই অবস্থাকে বলে তাপীয় উৎক্রম (Temperature Inversion); এটি সাধারণত ট্রপোস্ফিয়ারে শীতকালীন স্বচ্ছ রাতে এবং উপত্যকা অঞ্চলে ঘটে।
বায়ুচাপ (Atmospheric Pressure)
বায়ুচাপ হলো একক ক্ষেত্রফলে বায়ুর কলামের ওজন। সমুদ্রপৃষ্ঠে গড় বায়ুচাপ ১,০১৩.২৫ মিলিবার বা ৭৬০ মিলিমিটার পারদ-স্তম্ভ (১ atmosphere)। বায়ুচাপ মাপতে ব্যবহৃত হয় ব্যারোমিটার; দুই প্রকার: মার্কারি ব্যারোমিটার (১৬৪৩ সালে ইতালীয় বিজ্ঞানী টরিচেলি কর্তৃক আবিষ্কৃত) এবং অ্যানেরয়েড ব্যারোমিটার। সমান বায়ুচাপ-বিশিষ্ট স্থানসমূহকে যুক্তকারী কাল্পনিক রেখার নাম আইসোবার (Isobar)। বায়ুচাপের পার্থক্যই বায়ু এক স্থান থেকে অন্য স্থানে প্রবাহিত হওয়ার প্রধান কারণ; উচ্চচাপ থেকে নিম্নচাপের দিকে বায়ু প্রবাহিত হয়।
বায়ুপ্রবাহ (Wind)
চলমান বায়ুকে বায়ুপ্রবাহ বলা হয়। প্রবাহের গতি মাপা হয় অ্যানিমোমিটারে এবং দিক নির্দেশ করে উইন্ড ভেন (Wind Vane)। পৃথিবীর আবর্তনের কারণে বায়ুর গতিপথ বেঁকে যায়; এই প্রভাবকে বলে কোরিওলিস প্রভাব (Coriolis Effect)। ফেরেলের সূত্র (Ferrel's Law) অনুসারে কোরিওলিস প্রভাবে উত্তর গোলার্ধে বায়ু ডান দিকে এবং দক্ষিণ গোলার্ধে বাম দিকে বেঁকে যায়। ফলে উত্তর গোলার্ধে নিম্নচাপ কেন্দ্র করে বাতাস ঘড়ির কাঁটার বিপরীত দিকে এবং দক্ষিণ গোলার্ধে ঘড়ির কাঁটার দিকে প্রবাহিত হয়।
আর্দ্রতা (Humidity)
বায়ুতে উপস্থিত জলীয় বাষ্পের পরিমাণকে আর্দ্রতা বলে। আর্দ্রতা মাপা হয় হাইগ্রোমিটারে। তিন প্রকার আর্দ্রতা পরিমাপ ব্যবহৃত হয়: পরম আর্দ্রতা (Absolute Humidity, গ্রাম/ঘনমিটার), নির্দিষ্ট আর্দ্রতা (Specific Humidity, গ্রাম/কিলোগ্রাম) ও আপেক্ষিক আর্দ্রতা (Relative Humidity, শতকরা হারে)। বায়ু যখন সর্বোচ্চ জলীয় বাষ্প ধারণ করে তখন সেটিকে সম্পৃক্ত বায়ু (Saturated Air) বলা হয়; এই অবস্থায় আপেক্ষিক আর্দ্রতা ১০০%। সম্পৃক্ত-অবস্থায় আরও ঠান্ডা হলে বাষ্প জল-কণায় ঘনীভূত হয়; এই তাপমাত্রাকে শিশিরাঙ্ক (Dew Point) বলে।
বৃষ্টিপাত (Precipitation)
বায়ুমণ্ডল থেকে যেকোনো আকারে (জল, বরফ, শিলা, তুষার) পতিত জল-কণাকে বৃষ্টিপাত বলে। মাপা হয় রেইন গজ-এ; একক মিলিমিটার বা ইঞ্চি। সমান বৃষ্টিপাত-বিশিষ্ট স্থানকে যুক্তকারী কাল্পনিক রেখার নাম আইসোহাইট (Isohyet)। উৎপত্তি ও প্রক্রিয়া অনুসারে বৃষ্টিপাত প্রধানত তিন প্রকার: পরিচলন বৃষ্টিপাত (Convectional, নিরক্ষীয় অঞ্চলে দৈনিক বিকেলে), শৈলোৎক্ষেপ বৃষ্টিপাত (Orographic, পর্বতের প্রতিবাত-ঢালে) এবং ঘূর্ণি বা সংঘর্ষ বৃষ্টিপাত (Cyclonic/Frontal, ক্রান্তীয় ও নাতিশীতোষ্ণ অঞ্চলে শীতল ও উষ্ণ বায়ুর সংঘর্ষে)।
⚡ এক্সাম টিপ বৃষ্টিপাতের প্রকার অনুযায়ী অঞ্চল মনে রাখুন: পরিচলন → নিরক্ষীয় অঞ্চল; শৈলোৎক্ষেপ → পর্বতের প্রতিবাত-ঢালে (যেমন চেরাপুঞ্জি, সিলেট); ঘূর্ণি বা ফ্রন্টাল → ক্রান্তীয় ও নাতিশীতোষ্ণ অঞ্চল। |
জলবায়ুর নিয়ামকসমূহ (Controls of Climate)
জলবায়ুর প্রধান নিয়ামক সাতটি: অক্ষাংশ (Latitude), উচ্চতা (Altitude), সমুদ্র থেকে দূরত্ব (Distance from sea / Continentality), সমুদ্রস্রোত (Ocean currents), বায়ুপ্রবাহ (Wind systems), পর্বতের অবস্থান (Mountain barriers) ও ভূমির ঢাল (Slope/Aspect)। অনেক সময় বনাঞ্চল, মৃত্তিকা, মেঘাচ্ছন্নতা ও মানুষের কর্মকাণ্ডকেও সহায়ক নিয়ামক হিসেবে গণ্য করা হয়। দ্রাঘিমাংশ (Longitude) জলবায়ুর নিয়ামক নয়, কারণ দ্রাঘিমাংশ সময় নির্ধারক; এটি কোনো স্থানের তাপমাত্রা বা বৃষ্টিপাতকে সরাসরি প্রভাবিত করে না।
নিয়ামক | প্রভাবিত উপাদান | মূল প্রক্রিয়া | উদাহরণ |
অক্ষাংশ | তাপমাত্রা, ঋতু | সূর্য-রশ্মির পতন কোণ | নিরক্ষরেখায় লম্ব, মেরুতে তির্যক |
উচ্চতা | তাপমাত্রা, চাপ | Lapse rate ৬.৫°C/কিমি | দার্জিলিং শীতল, কলকাতা উষ্ণ |
সমুদ্র থেকে দূরত্ব | তাপমাত্রা, আর্দ্রতা | জলের উচ্চ তাপ-ধারণ | বরিশাল-ঢাকা পার্থক্য |
সমুদ্রস্রোত | তাপমাত্রা, বৃষ্টি | উষ্ণ/শীতল স্রোতের তাপ পরিবহন | গাল্ফ স্ট্রিম: পশ্চিম ইউরোপ উষ্ণ |
বায়ুপ্রবাহ | বৃষ্টিপাত, আর্দ্রতা | আর্দ্রতা ও তাপ পরিবহন | মৌসুমি বায়ু → দক্ষিণ এশিয়া |
পর্বতের অবস্থান | বৃষ্টিপাত, বায়ু | প্রতিবাত-অনুবাত প্রভাব | চেরাপুঞ্জি বনাম শিলং |
ভূমির ঢাল | তাপ গ্রহণ | সূর্যমুখী ঢাল উষ্ণ | উত্তর গোলার্ধের দক্ষিণমুখী ঢাল |
বনাঞ্চল | তাপ, আর্দ্রতা | বাষ্পীভবন-প্রস্বেদন | ক্রান্তীয় বন → উচ্চ আর্দ্রতা |
অক্ষাংশের প্রভাব
অক্ষাংশ হলো নিরক্ষরেখা থেকে কোনো স্থানের কৌণিক দূরত্ব (০° থেকে ৯০° উত্তর বা দক্ষিণ)। অক্ষাংশ বাড়লে সূর্যকিরণ ক্রমেই তির্যকভাবে পৃথিবীতে পড়ে, একই পরিমাণ শক্তি বেশি ক্ষেত্রফলে বিচ্ছুরিত হয়, ফলে তাপমাত্রা কমে। অক্ষাংশের ভিত্তিতে পৃথিবী পাঁচটি তাপ-অঞ্চলে বিভক্ত: ক্রান্তীয় (০° থেকে ২৩.৫° উত্তর/দক্ষিণ), উপ-ক্রান্তীয় বা অশ্ব অক্ষাংশ (২৩.৫° থেকে ৩৫°), নাতিশীতোষ্ণ (৩৫° থেকে ৬৬.৫°), উপ-মেরু (৬৬.৫° থেকে ৭৫°) ও মেরু (৭৫° থেকে ৯০°)। বিশেষ অক্ষাংশ রেখাগুলো হলো নিরক্ষরেখা (০°), কর্কটক্রান্তি (২৩.৫° উত্তর), মকরক্রান্তি (২৩.৫° দক্ষিণ), সুমেরু বৃত্ত (৬৬.৫° উত্তর), কুমেরু বৃত্ত (৬৬.৫° দক্ষিণ)। বাংলাদেশ ২০°৩৪' থেকে ২৬°৩৮' উত্তর অক্ষাংশে অবস্থিত এবং কর্কটক্রান্তি (২৩.৫° উত্তর) রেখা দেশের ময়মনসিংহ ও সিলেট বিভাগ অতিক্রম করেছে।
উচ্চতার প্রভাব
ভূপৃষ্ঠ থেকে যত উপরে উঠা যায়, বায়ুর ঘনত্ব ও জলীয় বাষ্পের পরিমাণ ততই কমে। ফলে বায়ুমণ্ডল কম তাপ ধরে রাখতে পারে এবং তাপমাত্রা হ্রাস পায়। স্বাভাবিক তাপ-হ্রাস হার (Normal Lapse Rate) ট্রপোস্ফিয়ারে প্রতি ১,০০০ মিটার (১ কিমি) উচ্চতা বৃদ্ধিতে ৬.৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস; অর্থাৎ প্রতি ১৬৫ মিটারে ১°C। আর্দ্র অ্যাডিয়াব্যাটিক হার ৫°C/কিমি এবং শুষ্ক অ্যাডিয়াব্যাটিক হার ১০°C/কিমি। উচ্চতার এই প্রভাবের ফলেই নিরক্ষীয় কেনিয়ার মাউন্ট কেনিয়া বা তানজানিয়ার কিলিমানজারোর শীর্ষে চিরন্তন তুষার পাওয়া যায়। তাপীয় উৎক্রম (Temperature Inversion) এই স্বাভাবিক প্রক্রিয়ার ব্যতিক্রম, যেখানে উচ্চতা বাড়লে তাপমাত্রা না কমে বরং বাড়ে।
সমুদ্র থেকে দূরত্ব (Continentality)
জলের আপেক্ষিক তাপ-ধারণ ক্ষমতা স্থলভূমির তুলনায় প্রায় পাঁচগুণ বেশি; ফলে জলভাগ ধীরে উষ্ণ হয় এবং ধীরে শীতল হয়। সমুদ্র সংলগ্ন স্থানে শীতকালে বায়ু অপেক্ষাকৃত উষ্ণ এবং গ্রীষ্মে অপেক্ষাকৃত শীতল হয়; দিনরাত্রির তাপ-পার্থক্যও কম থাকে কারণ বায়ুতে বেশি জলীয় বাষ্প থাকে যা তাপ আবদ্ধ করে রাখে। বিপরীতে মহাদেশের অভ্যন্তরীণ অঞ্চল চরম তাপ-প্রকৃতির হয়; এই বৈশিষ্ট্যকে মহাদেশীয়তা (Continentality) বলে। বাংলাদেশের ক্ষেত্রে কক্সবাজার ও বরিশালের মতো উপকূলীয় অঞ্চলের গড় তাপ-পরিসর রাজশাহী বা দিনাজপুরের তুলনায় কম।
সমুদ্রস্রোতের প্রভাব
মহাসাগরের বিশাল জলরাশির অনুভূমিক প্রবাহকে সমুদ্রস্রোত (Ocean Current) বলে। সমুদ্রস্রোত মূলত নিয়ত বায়ুর (Permanent Winds) গতিপথ অনুসরণ করে এবং কোরিওলিস প্রভাবে দিক পরিবর্তন করে। উষ্ণ স্রোত (Warm Current) নিরক্ষীয় অঞ্চল থেকে মেরুর দিকে এবং শীতল স্রোত (Cold Current) মেরু থেকে নিরক্ষের দিকে প্রবাহিত হয়। উষ্ণ স্রোত যে উপকূলে পৌঁছায় সেখানের তাপমাত্রা ও আর্দ্রতা বাড়ায় (যেমন গাল্ফ স্ট্রিম পশ্চিম ইউরোপকে উষ্ণ রাখে); শীতল স্রোত উপকূলে শুষ্ক ও মরু-অঞ্চল সৃষ্টি করে (যেমন ক্যানারি স্রোত সাহারা মরুভূমি, পেরু স্রোত আতাকামা মরুভূমি)। দুটি ভিন্নধর্মী সমুদ্রস্রোতের মধ্যবর্তী সীমারেখাকে হিমপ্রাচীর (Cold Wall) বলা হয়।
প্রধান সমুদ্রস্রোতের তালিকা
স্রোতের নাম | মহাসাগর | প্রকার | প্রভাবিত উপকূল |
গাল্ফ স্ট্রিম | আটলান্টিক | উষ্ণ | যুক্তরাজ্য, পশ্চিম ইউরোপ |
উত্তর আটলান্টিক স্রোত | আটলান্টিক | উষ্ণ | নরওয়ে, আইসল্যান্ড |
ক্যানারি স্রোত | আটলান্টিক | শীতল | উত্তর-পশ্চিম আফ্রিকা; সাহারা সৃষ্টিতে ভূমিকা |
বেংগুয়েলা স্রোত | আটলান্টিক | শীতল | দক্ষিণ-পশ্চিম আফ্রিকা; নামিব মরুভূমি |
ব্রাজিল স্রোত | আটলান্টিক | উষ্ণ | ব্রাজিল উপকূল |
ফকল্যান্ড স্রোত | আটলান্টিক | শীতল | আর্জেন্টিনা উপকূল |
ল্যাব্রাডর স্রোত | আটলান্টিক | শীতল | নিউফাউন্ডল্যান্ড; গ্র্যান্ড ব্যাংক মৎস্যক্ষেত্র |
কুরোশিও স্রোত | প্রশান্ত | উষ্ণ | জাপান উপকূল |
ওয়াশিও/ওয়া স্রোত | প্রশান্ত | শীতল | জাপান, কুরিল দ্বীপপুঞ্জ |
ক্যালিফোর্নিয়া স্রোত | প্রশান্ত | শীতল | যুক্তরাষ্ট্র পশ্চিম উপকূল |
পেরু/হামবোল্ট স্রোত | প্রশান্ত | শীতল | পেরু, চিলি; আতাকামা মরুভূমি |
মোজাম্বিক স্রোত | ভারত | উষ্ণ | পূর্ব আফ্রিকা |
আগুলহাস স্রোত | ভারত | উষ্ণ | দক্ষিণ-পূর্ব আফ্রিকা |
পশ্চিমা বায়ু-চালিত স্রোত | দক্ষিণ | শীতল | অ্যান্টার্কটিক পরিবৃত্ত স্রোত |
বায়ুপ্রবাহের প্রভাব
বায়ুপ্রবাহ তাপ, আর্দ্রতা ও দূষিত পদার্থ পরিবহন করে এবং বৃষ্টিপাতের অন্যতম প্রধান নির্ধারক। বায়ুপ্রবাহকে কাল-পরিধি ও স্থায়িত্বের ভিত্তিতে তিন প্রকারে ভাগ করা হয়: নিয়ত বায়ু (Permanent Winds, যেমন বাণিজ্য বায়ু, পশ্চিমা বায়ু, মেরুদেশীয় বায়ু), সাময়িক বা মৌসুমি বায়ু (Periodic Winds, যেমন মৌসুমি বায়ু, স্থলবায়ু-সমুদ্রবায়ু) এবং স্থানীয় বায়ু (Local Winds, যেমন কালবৈশাখী, লু, খামসিন)। বাণিজ্য বায়ু (Trade Winds) ০° থেকে ৩০° অক্ষাংশের মধ্যে নিয়মিত প্রবাহিত হয়; পশ্চিমা বায়ু (Westerlies) ৩০° থেকে ৬০° অক্ষাংশে; মেরুদেশীয় বায়ু (Polar Easterlies) ৬০° থেকে ৯০° অক্ষাংশে। দক্ষিণ গোলার্ধের ৪০° থেকে ৪৭° অক্ষাংশের পশ্চিমা বায়ুকে 'গর্জনশীল চল্লিশা' (Roaring Forties) বলা হয়।
পর্বতের অবস্থানের প্রভাব
পর্বত বায়ুর গতিপথে বাধা সৃষ্টি করে আর্দ্রতা-বহনকারী বায়ুকে উপরে উঠতে বাধ্য করে; ফলে বাষ্প ঘনীভূত হয়ে প্রতিবাত-ঢালে (Windward Slope) ভারী বৃষ্টিপাত ঘটে। বিপরীত দিকে অনুবাত-ঢালে (Leeward Slope) বায়ু নেমে আসার সময় উষ্ণ ও শুষ্ক হয়; এই অঞ্চলকে বলে বৃষ্টিচ্ছায় অঞ্চল (Rain Shadow Region)। ভারতের চেরাপুঞ্জি (গড় বার্ষিক বৃষ্টিপাত ১১,৭৭৭ মিমি) ও মৌসিনরাম (১১,৮৭২ মিমি) মেঘালয়ের প্রতিবাত-ঢালে অবস্থিত বলেই বিশ্বের সর্বোচ্চ বৃষ্টিপাত-অঞ্চল। বাংলাদেশে সিলেট বিভাগের বৃষ্টিপাত (গড় ৪,১০০ মিমি) মেঘালয়ের পাদদেশে অবস্থিত হওয়ার ফলেই বেশি; বিপরীতে রাজশাহী-নাটোর অঞ্চল হিমালয়ের বৃষ্টিচ্ছায়ায় থাকায় বৃষ্টিপাত কম (গড় ১,৪০০ মিমি)।
ভূমির ঢাল ও বনাঞ্চলের প্রভাব
সূর্যমুখী ঢাল (উত্তর গোলার্ধে দক্ষিণমুখী, দক্ষিণ গোলার্ধে উত্তরমুখী) বেশি সূর্য-শক্তি গ্রহণ করে; ফলে এই ঢালগুলো বেশি উষ্ণ ও শুষ্ক হয় এবং কৃষি ও বসতির জন্য পছন্দনীয়। বনাঞ্চল উচ্চ মাত্রায় বাষ্পীভবন ও প্রস্বেদন (Evapotranspiration) ঘটায়; ফলে স্থানীয় বায়ুমণ্ডলে আর্দ্রতা ও মেঘাচ্ছন্নতা বাড়ে এবং তাপ-পরিসর কমে। বনহীন অঞ্চলে দিন-রাতের তাপ-পার্থক্য বেশি এবং বৃষ্টিপাত কম। আমাজন বেসিন বা ক্রান্তীয় বৃষ্টিবন (Tropical Rainforest) অঞ্চলে সারা বছর উচ্চ আর্দ্রতা ও পরিচলন বৃষ্টিপাতের অন্যতম কারণ এই ব্যাপক বনাঞ্চল।
📌 মনে রাখুন জলবায়ুর নিয়ামক: অক্ষাংশ, উচ্চতা, সমুদ্র দূরত্ব, সমুদ্রস্রোত, বায়ুপ্রবাহ, পর্বত, ভূমির ঢাল, বনাঞ্চল। নিয়ামক নয়: দ্রাঘিমাংশ (সময়-নির্ধারক), নগরায়ন (সরাসরি স্থানীয় প্রভাব), বৃষ্টিপাত (এটি উপাদান, নিয়ামক নয়)। উপাদান ও নিয়ামকের পার্থক্য: উপাদান = পরিমাপযোগ্য রাশি; নিয়ামক = সেই রাশির নিয়ন্ত্রক। তাপমাত্রা উপাদান, কিন্তু অক্ষাংশ ও উচ্চতা তাপমাত্রার নিয়ামক। |
বায়ুপ্রবাহের শ্রেণিবিন্যাস
প্রকার | নাম | উদাহরণ | অঞ্চল ও বৈশিষ্ট্য |
নিয়ত বায়ু | বাণিজ্য বায়ু | উত্তর-পূর্ব ও দক্ষিণ-পূর্ব বাণিজ্য | ০° থেকে ৩০°; বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলে সহায়ক |
নিয়ত বায়ু | পশ্চিমা বায়ু | Westerlies | ৩০° থেকে ৬০°; পশ্চিম থেকে পূর্বে |
নিয়ত বায়ু | মেরুদেশীয় বায়ু | Polar Easterlies | ৬০° থেকে ৯০°; পূর্ব থেকে পশ্চিমে |
সাময়িক বায়ু | মৌসুমি বায়ু | Monsoon | দক্ষিণ এশিয়া; ঋতু অনুযায়ী দিক পরিবর্তন |
সাময়িক বায়ু | সমুদ্রবায়ু-স্থলবায়ু | Sea breeze, Land breeze | উপকূলীয়; দিনে সমুদ্র→স্থল, রাতে স্থল→সমুদ্র |
সাময়িক বায়ু | পার্বত্য-উপত্যকা বায়ু | Mountain-Valley Breeze | দিনে উপত্যকা→পর্বত, রাতে বিপরীত |
স্থানীয় বায়ু | কালবৈশাখী (Nor'wester) | বাংলাদেশ ও ভারত | প্রাক্-মৌসুমি (চৈত্র-বৈশাখ); উত্তর-পশ্চিম থেকে |
স্থানীয় বায়ু | লু (Loo) | উত্তর ভারত | উষ্ণ শুষ্ক, গ্রীষ্মকাল |
স্থানীয় বায়ু | খামসিন (Khamsin) | মিশর | উষ্ণ শুষ্ক, সাহারা থেকে |
স্থানীয় বায়ু | ফন (Föhn) | আল্পস পর্বতমালা | উষ্ণ শুষ্ক, অনুবাত-ঢাল |
স্থানীয় বায়ু | চিনুক (Chinook) | রকি পর্বতমালা | উষ্ণ শুষ্ক, 'তুষারভক্ষক' |
স্থানীয় বায়ু | সিরোক্কো (Sirocco) | ভূমধ্যসাগরীয় অঞ্চল | উষ্ণ আর্দ্র, সাহারা থেকে দক্ষিণ ইউরোপে |
স্থানীয় বায়ু | মিস্ট্রাল (Mistral) | ফ্রান্স | শীতল শুষ্ক, উত্তর থেকে দক্ষিণে |
স্থানীয় বায়ু | বোরা (Bora) | এড্রিয়াটিক উপকূল | শীতল শুষ্ক, বলকান থেকে |
বিভিন্ন অঞ্চলে ক্রান্তীয় ঘূর্ণিঝড়ের আঞ্চলিক নাম
অঞ্চল/দেশ | আঞ্চলিক নাম |
উত্তর আটলান্টিক, ক্যারিবিয়ান, পূর্ব প্রশান্ত মহাসাগর (আমেরিকা) | হারিকেন (Hurricane) |
উত্তর-পশ্চিম প্রশান্ত মহাসাগর (চীন, জাপান, ফিলিপাইন) | টাইফুন (Typhoon) |
উত্তর ভারত মহাসাগর (বাংলাদেশ, ভারত, মিয়ানমার) | সাইক্লোন (Cyclone) |
দক্ষিণ-পশ্চিম প্রশান্ত মহাসাগর (অস্ট্রেলিয়া) | উইলি-উইলি (Willy-Willy) |
দক্ষিণ-পশ্চিম ভারত মহাসাগর | সাইক্লোন (Cyclone) |
ফিলিপাইন (স্থানীয়) | বাগুইও (Baguio) |
যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ এলাকা | টর্নেডো (Tornado) |
বৃষ্টিপাতের প্রকারভেদ
প্রকার | প্রক্রিয়া | অঞ্চল | উদাহরণ |
পরিচলন বৃষ্টিপাত | ভূপৃষ্ঠ উষ্ণ হলে বায়ু সরাসরি উপরে উঠে | নিরক্ষীয় অঞ্চল | আমাজন, কঙ্গো; দৈনিক বিকেলে |
শৈলোৎক্ষেপ বৃষ্টিপাত | পর্বতে বাধা পেয়ে বায়ু ঊর্ধ্বমুখী | পর্বতের প্রতিবাত-ঢাল | চেরাপুঞ্জি, মৌসিনরাম, সিলেট |
ঘূর্ণিবৃষ্টি বা ফ্রন্টাল | শীতল-উষ্ণ বায়ুর সংঘর্ষে | ক্রান্তীয় ও নাতিশীতোষ্ণ | মধ্য-অক্ষাংশ সাইক্লোন; বাংলাদেশ বর্ষা |
সংঘর্ষ বৃষ্টিপাত | দুই বায়ুপুঞ্জের মুখোমুখি | মধ্য-অক্ষাংশ | ইউরোপ, উত্তর আমেরিকা শীতকাল |
মেঘের প্রকারভেদ
Luke Howard ১৮০৩ সালে মেঘের বৈজ্ঞানিক শ্রেণিবিন্যাস প্রবর্তন করেন। উচ্চতা ও আকৃতির ভিত্তিতে মেঘ চার প্রধান শ্রেণিতে বিভক্ত: উচ্চ মেঘ (সিরাস, সিরোস্ট্র্যাটাস, সিরোকিউমুলাস; ৬,০০০ মিটারের উপরে), মধ্য মেঘ (অল্টোস্ট্র্যাটাস, অল্টোকিউমুলাস; ২,০০০ থেকে ৬,০০০ মিটার), নিম্ন মেঘ (স্ট্র্যাটাস, স্ট্র্যাটোকিউমুলাস, নিম্বোস্ট্র্যাটাস; ২,০০০ মিটারের নিচে) এবং উল্লম্বভাবে বিকশিত মেঘ (কিউমুলাস, কিউমুলোনিম্বাস)। কিউমুলোনিম্বাস (Cumulonimbus) সবচেয়ে বিপজ্জনক মেঘ; এটি বজ্রপাত, শিলাবৃষ্টি, টর্নেডো ও ভারী বৃষ্টিপাত ঘটায়। সিরাস (Cirrus) সর্বাধিক উচ্চতার মেঘ এবং নির্মল আবহাওয়া নির্দেশ করে।
মেঘের শ্রেণি | প্রধান মেঘ | উচ্চতা | বৈশিষ্ট্য |
উচ্চ মেঘ | সিরাস (Ci), সিরোস্ট্র্যাটাস, সিরোকিউমুলাস | ৬,০০০+ মিটার | তুষারকণার পালক-আকৃতি; নির্মল আবহাওয়া |
মধ্য মেঘ | অল্টোস্ট্র্যাটাস, অল্টোকিউমুলাস | ২,০০০-৬,০০০ মিটার | ধূসর, আবৃতকারী |
নিম্ন মেঘ | স্ট্র্যাটাস, স্ট্র্যাটোকিউমুলাস, নিম্বোস্ট্র্যাটাস | ০-২,০০০ মিটার | কুয়াশা-জাতীয়, গুঁড়ি বৃষ্টি |
উল্লম্ব বিকশিত | কিউমুলাস, কিউমুলোনিম্বাস | ৫০০-১২,০০০+ মিটার | ফুলকপি-আকৃতি; বজ্রবৃষ্টি |
বায়ুমণ্ডলের স্তরসমূহ
পৃথিবীর বায়ুমণ্ডল উচ্চতা ও তাপমাত্রার ভিত্তিতে পাঁচটি প্রধান স্তরে বিভক্ত: ট্রপোস্ফিয়ার, স্ট্র্যাটোস্ফিয়ার, মেসোস্ফিয়ার, থার্মোস্ফিয়ার ও এক্সোস্ফিয়ার। আবহাওয়া সংক্রান্ত যাবতীয় ঘটনা (ঝড়, বৃষ্টি, মেঘ, বজ্রপাত) ট্রপোস্ফিয়ারে সংঘটিত হয়; এই স্তর ভূপৃষ্ঠ থেকে গড়ে ১২ কিলোমিটার পর্যন্ত (নিরক্ষীয় অঞ্চলে ১৬-১৮ কিমি, মেরুতে ৮ কিমি)। স্ট্র্যাটোস্ফিয়ারে ১৫ থেকে ৩৫ কিলোমিটারে ওজোন স্তর অবস্থিত; এটি অতিবেগুনি রশ্মি শোষণ করে। বিমান স্ট্র্যাটোস্ফিয়ারের নিম্ন অংশে চলাচল করে। বেতার তরঙ্গের প্রতিফলন ঘটে আয়নোস্ফিয়ারে যা থার্মোস্ফিয়ারের অংশ (৮০ থেকে ৫০০+ কিমি)।
স্তর | উচ্চতা | তাপমাত্রার আচরণ | বৈশিষ্ট্য |
ট্রপোস্ফিয়ার | ০-১২ কিমি (গড়) | উচ্চতার সাথে হ্রাস (৬.৫°C/কিমি) | আবহাওয়া, মেঘ, বৃষ্টি; বায়ুমণ্ডলের ৭৫% ভর |
স্ট্র্যাটোস্ফিয়ার | ১২-৫০ কিমি | উচ্চতার সাথে বৃদ্ধি | ওজোন স্তর ১৫-৩৫ কিমি; বিমান চলাচল |
মেসোস্ফিয়ার | ৫০-৮৫ কিমি | উচ্চতার সাথে হ্রাস | উল্কাপাত পুড়ে যায়; সর্বনিম্ন তাপমাত্রা |
থার্মোস্ফিয়ার | ৮৫-৬০০ কিমি | উচ্চতার সাথে বৃদ্ধি | আয়নোস্ফিয়ার অংশ; বেতার তরঙ্গ প্রতিফলন; অরোরা |
এক্সোস্ফিয়ার | ৬০০-১০,০০০ কিমি | অত্যন্ত উচ্চ | মহাকাশের সীমানা; স্যাটেলাইট |
আবহাওয়া-জলবায়ু সংক্রান্ত কাল্পনিক রেখাসমূহ
রেখা | কী যুক্ত করে |
আইসোথার্ম (Isotherm) | সমান তাপমাত্রা-বিশিষ্ট স্থান |
আইসোবার (Isobar) | সমান বায়ুচাপ-বিশিষ্ট স্থান |
আইসোহাইট (Isohyet) | সমান বৃষ্টিপাত-বিশিষ্ট স্থান |
আইসোহিউম (Isohume) | সমান আর্দ্রতা-বিশিষ্ট স্থান |
আইসোনিফ (Isoneph) | সমান মেঘাচ্ছন্নতা-বিশিষ্ট স্থান |
আইসোহেল (Isohel) | সমান সূর্যকিরণ-সময়-বিশিষ্ট স্থান |
আইসোট্যাক (Isotach) | সমান বায়ুগতি-বিশিষ্ট স্থান |
সমোন্নতি রেখা (Contour) | সমান উচ্চতা-বিশিষ্ট স্থান |
আইসোক্লাইন (Isocline) | সমান চৌম্বক-অবনতি (magnetic dip) |
আইসোস্ট্যাটিক রেখা | ভূপৃষ্ঠের সমান চাপ-অবস্থান |
পৃথিবীর প্রধান জলবায়ু অঞ্চল
জার্মান-রাশিয়ান আবহাওয়াবিদ Wladimir Köppen ১৯০০ সালে জলবায়ুর শ্রেণিবিন্যাস প্রবর্তন করেন; ১৯১৮ সালে সংশোধিত রূপ Köppen Climate Classification নামে পরিচিত। এই পদ্ধতিতে তাপমাত্রা ও বৃষ্টিপাতের ভিত্তিতে জলবায়ুকে পাঁচটি প্রধান শ্রেণিতে ভাগ করা হয়: A (ক্রান্তীয়), B (শুষ্ক/মরু), C (মৃদু নাতিশীতোষ্ণ), D (মহাদেশীয় শীতপ্রধান), E (মেরু)। BW নির্দেশ করে মরু জলবায়ু (Desert) এবং BS নির্দেশ করে স্টেপ বা অর্ধ-মরু (Steppe)। বাংলাদেশের জলবায়ু Köppen শ্রেণিতে Aw (ক্রান্তীয় সাভানা) ও Am (ক্রান্তীয় মৌসুমি) এর অন্তর্গত। দক্ষিণ এশিয়ার দেশসমূহ প্রধানত মৌসুমি জলবায়ু (Tropical Monsoon) অঞ্চলের অন্তর্গত।
অঞ্চল | Köppen কোড | অক্ষাংশ | বৈশিষ্ট্য | উদাহরণ |
নিরক্ষীয় | Af | ০°-১০° | সারা বছর উচ্চ তাপ ও বৃষ্টি | আমাজন, কঙ্গো, ইন্দোনেশিয়া |
ক্রান্তীয় মৌসুমি | Am, Aw | ১০°-২৫° | ঋতুভিত্তিক বৃষ্টি | বাংলাদেশ, ভারত, ভিয়েতনাম |
মরু/উপ-ক্রান্তীয় | BW, BS | ২০°-৩৫° | অতি স্বল্প বৃষ্টি, চরম তাপ | সাহারা, আরব, আতাকামা |
ভূমধ্যসাগরীয় | Cs | ৩০°-৪৫° | শীতে বৃষ্টি, গ্রীষ্মে শুষ্ক | স্পেন, ইতালি, ক্যালিফোর্নিয়া |
নাতিশীতোষ্ণ | Cf, Df | ৪০°-৬০° | মৃদু গ্রীষ্ম-শীত | যুক্তরাজ্য, ফ্রান্স, যুক্তরাষ্ট্র |
টাইগা (সাইবেরীয়) | Dfc | ৫০°-৭০° | দীর্ঘ কঠোর শীত | রাশিয়া, কানাডা |
তুন্দ্রা | ET | ৬৬°-৮০° | অতি ঠান্ডা, স্বল্প-গ্রীষ্ম | উত্তর কানাডা, গ্রিনল্যান্ড |
মেরু | EF | ৮০°-৯০° | চিরন্তন বরফ | অ্যান্টার্কটিকা, আর্কটিক |
বাংলাদেশের জলবায়ুর বৈশিষ্ট্য ও নিয়ামক
বাংলাদেশের জলবায়ু ক্রান্তীয় মৌসুমি (Tropical Monsoon)। দেশের ভৌগোলিক অবস্থান (২০°৩৪' থেকে ২৬°৩৮' উত্তর অক্ষাংশ এবং ৮৮°০১' থেকে ৯২°৪১' পূর্ব দ্রাঘিমাংশ), কর্কটক্রান্তি রেখার নিকটতা, হিমালয় পর্বতমালা ও বঙ্গোপসাগরের সানিধ্য, এবং দক্ষিণ-পশ্চিম মৌসুমি বায়ুর প্রবাহ মিলে দেশটিকে ছয় ঋতু-বিশিষ্ট অনন্য জলবায়ু-অঞ্চলে পরিণত করেছে। বাংলাদেশের গড় বার্ষিক বৃষ্টিপাত প্রায় ২,৩০০ মিলিমিটার; সর্বাধিক বৃষ্টিপাত হয় সিলেটের লালাখাল (গড় ৫,৪৮০ মিমি) ও সুনামগঞ্জে, সর্বনিম্ন রাজশাহী-নাটোর অঞ্চলে (গড় ১,৪০০ মিমি)। দেশের সর্বোচ্চ রেকর্ডকৃত তাপমাত্রা ৪৫.১ ডিগ্রি সেলসিয়াস (রাজশাহী, ১৮ মে ১৯৭২) এবং সর্বনিম্ন ২.৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস (শ্রীমঙ্গল, ১৯৬৮)।
ঋতু | বাংলা মাস | ইংরেজি মাস | প্রধান বৈশিষ্ট্য |
গ্রীষ্ম | বৈশাখ-জ্যৈষ্ঠ | এপ্রিল-মে মধ্য জুন | উষ্ণতম; কালবৈশাখী; আম-জাম |
বর্ষা | আষাঢ়-শ্রাবণ | মধ্য জুন-আগস্ট | দক্ষিণ-পশ্চিম মৌসুমি বায়ু; প্রায় ৮০% বৃষ্টিপাত |
শরৎ | ভাদ্র-আশ্বিন | সেপ্টেম্বর-অক্টোবর | মৌসুমি-পরবর্তী; ঘূর্ণিঝড় সম্ভাবনা; কাশফুল |
হেমন্ত | কার্তিক-অগ্রহায়ণ | নভেম্বর-মধ্য ডিসেম্বর | ফসল কাটার মৌসুম; নবান্ন; শীতের সূচনা |
শীত | পৌষ-মাঘ | মধ্য ডিসেম্বর-ফেব্রুয়ারি | শীতলতম; কুয়াশা; সর্বনিম্ন তাপমাত্রা জানুয়ারি |
বসন্ত | ফাল্গুন-চৈত্র | মার্চ-এপ্রিল প্রথম সপ্তাহ | মৃদু উষ্ণ; কোকিল ও ফুল; পহেলা ফাল্গুন |
বাংলাদেশের বর্ষাকালে দক্ষিণ-পশ্চিম মৌসুমি বায়ু বঙ্গোপসাগর থেকে আর্দ্রতা বহন করে আসে এবং হিমালয় ও মেঘালয় পর্বতমালায় বাধা পেয়ে শৈলোৎক্ষেপ-ভিত্তিক ভারী বৃষ্টিপাত ঘটায়। শীতকালে উত্তর-পূর্ব মৌসুমি বায়ু স্থল থেকে সমুদ্রের দিকে শুষ্ক বায়ু বহন করে, ফলে বৃষ্টিপাত প্রায় নেই বললেই চলে। প্রাক্-মৌসুমি ঋতু (চৈত্র-বৈশাখ) বাংলাদেশে কালবৈশাখী (Nor'wester) ঝড়ের জন্য পরিচিত; এই ঝড় উত্তর-পশ্চিম দিক থেকে প্রবাহিত হয় এবং কিউমুলোনিম্বাস মেঘ থেকে শিলাবৃষ্টি ও বজ্রপাত ঘটায়।
প্রথম, সর্বোচ্চ ও সর্বনিম্ন তথ্যকোষ
★ গুরুত্বপূর্ণ সর্ব-তথ্য পৃথিবীর সর্বাধিক বৃষ্টিপাত-অঞ্চল: মৌসিনরাম, মেঘালয়, ভারত (গড় ১১,৮৭২ মিমি) পৃথিবীর সর্বনিম্ন বৃষ্টিপাত-অঞ্চল: আতাকামা মরুভূমি, চিলি (১০০ বছরে শূন্য রেকর্ড) পৃথিবীর সর্বোচ্চ রেকর্ডকৃত তাপমাত্রা: ৫৬.৭°C, ফার্নেস ক্রিক, ক্যালিফোর্নিয়া, ১৯১৩ পৃথিবীর সর্বনিম্ন রেকর্ডকৃত তাপমাত্রা: –৮৯.২°C, ভোস্টক, অ্যান্টার্কটিকা, ১৯৮৩ পৃথিবীর সর্বাধিক বায়ুপ্রবাহ-গতি: ৪০৭ কিমি/ঘণ্টা, ব্যারো দ্বীপ, অস্ট্রেলিয়া, ১৯৯৬ বাংলাদেশের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা: ৪৫.১°C, রাজশাহী, ১৮ মে ১৯৭২ বাংলাদেশের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা: ২.৬°C, শ্রীমঙ্গল, ১৯৬৮ বাংলাদেশের সর্বাধিক বৃষ্টিপাত: লালাখাল, সিলেট (গড় ৫,৪৮০ মিমি/বছর) বাংলাদেশের সর্বনিম্ন বৃষ্টিপাত: রাজশাহী-নাটোর অঞ্চল (গড় ১,৪০০ মিমি/বছর) আবহবিজ্ঞানের জনক: গ্রিক দার্শনিক অ্যারিস্টটল (Meteorologica, ৩৫০ খ্রিষ্টপূর্ব) আধুনিক আবহবিজ্ঞানের প্রতিষ্ঠাতা: লুক হাওয়ার্ড (Luke Howard), মেঘ-শ্রেণিবিন্যাস ১৮০৩ Köppen জলবায়ু-শ্রেণিবিন্যাস প্রবর্তক: Wladimir Köppen, ১৯০০ প্রথম ব্যারোমিটার আবিষ্কার: ইভানজেলিস্তা টরিচেলি, ইতালি, ১৬৪৩ WMO প্রতিষ্ঠা: ২৩ মার্চ ১৯৫০; বিশ্ব আবহাওয়া দিবস ২৩ মার্চ BMD প্রতিষ্ঠা: ১৯৪৮; সদর দপ্তর আগারগাঁও, ঢাকা বাংলাদেশের প্রথম স্যাটেলাইট: বঙ্গবন্ধু-১, ১১ মে ২০১৮ সর্বাধিক উচ্চতার মেঘ: সিরাস (Cirrus) বজ্রপাত-বৃষ্টি ঘটায় যে মেঘ: কিউমুলোনিম্বাস |
সর্বশেষ পরিসংখ্যান ও তথ্য
🌍 Live Data বাংলাদেশের গড় বার্ষিক বৃষ্টিপাত: প্রায় ২,৩০০ মিমি (BMD জলবায়ু-সারাংশ, ২০২৪)। ২০২৪ সাল: রেকর্ড-ইতিহাসের সর্বোচ্চ উষ্ণতম বছর; বৈশ্বিক গড় তাপমাত্রা প্রাক-শিল্প স্তর থেকে ১.৫৫°C বেশি (WMO State of the Global Climate, ২০২৫)। বাংলাদেশে ২০২৪-এর বৃষ্টিপাত: এপ্রিল-মে'২০২৪ এ দীর্ঘস্থায়ী তাপপ্রবাহে ঢাকা ৪০.৬°C ছাড়িয়েছিল; এপ্রিল ২০২৪ বাংলাদেশের ইতিহাসে দ্বিতীয় উষ্ণতম এপ্রিল (BMD)। বৈশ্বিক CO₂ ঘনত্ব: ৪২৬.৭ ppm (Mauna Loa, মে ২০২৪); প্রাক-শিল্প ২৮০ ppm থেকে ৫০%+ বৃদ্ধি। সমুদ্রপৃষ্ঠ বৃদ্ধির গড় হার: ৩.৪ মিমি/বছর (১৯৯৩-২০২৩); বাংলাদেশের উপকূলে কিছু এলাকায় ৫-৭ মিমি/বছর। |
বাংলাদেশের আবহাওয়া কাঠামোর আন্তর্জাতিক সংযোগ
বাংলাদেশ ১৯৫২ সালে WMO-এর সদস্য হিসেবে যোগদান করে (পাকিস্তানের অংশ হিসেবে) এবং স্বাধীনতার পর ১৯৭৩ সালে স্বতন্ত্র সদস্য হয়। দেশের আবহাওয়া পর্যবেক্ষণে ৪৩ টি সারফেস স্টেশন, ১২ টি রেডার স্টেশন (চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, খেপুপাড়া, রংপুর, মৌলভীবাজার, রাজশাহী সহ) এবং SPARRSO পরিচালিত স্যাটেলাইট-ভিত্তিক পর্যবেক্ষণ কেন্দ্র সক্রিয়। বাংলাদেশ ১৯৯৪ সালে UNFCCC ও ২০১৬ সালে প্যারিস চুক্তি অনুমোদন করে; ২০২১ সালে আপডেটেড NDC দাখিল করেছে যেখানে আবহাওয়া ও জলবায়ু-অভিযোজন বিষয়ে বিনিয়োগের প্রতিশ্রুতি রয়েছে। SAARC Meteorological Research Centre (SMRC) ১৯৯৫ সালে ঢাকায় প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল, যা ২০১৬ পর্যন্ত কার্যক্রম পরিচালনা করে এবং বর্তমানে SAARC Disaster Management Centre নামে কাজ করছে।
সাংবিধানিক ও SDG সংযোগ
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের সংবিধানের অনুচ্ছেদ ১৮ক (১৫ম সংশোধনী, ২০১১) অনুযায়ী রাষ্ট্র বর্তমান ও ভবিষ্যৎ নাগরিকদের জন্য পরিবেশ সংরক্ষণ ও উন্নয়ন, জীববৈচিত্র্য, জলাভূমি, বন ও বন্যপ্রাণী রক্ষায় সচেষ্ট থাকবে। জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবিলায় বাংলাদেশ Climate Vulnerable Forum (CVF)-এর সক্রিয় সদস্য এবং SDG-১৩ (Climate Action) বাস্তবায়নে নিজস্ব অর্থায়নে Bangladesh Climate Change Trust Fund (BCCTF) ২০১০ সালে গঠন করেছে। SDG-১৩ ছাড়াও আবহাওয়া ও জলবায়ু-সংক্রান্ত প্রাসঙ্গিক SDG লক্ষ্যমাত্রা হলো SDG-৬ (নিরাপদ পানি), SDG-১১ (টেকসই নগর), SDG-১৪ (জলজ জীবন) এবং SDG-১৫ (স্থলজ জীবন)।
মনে রাখার কৌশল ও ট্রিকস
কৌশল ১: জলবায়ুর নিয়ামক (Acronym)
“অউসসবপভ” = অক্ষাংশ + উচ্চতা + সমুদ্র-দূরত্ব + সমুদ্রস্রোত + বায়ুপ্রবাহ + পর্বত + ভূমির ঢাল। দ্রাঘিমাংশ ও নগরায়ন এই তালিকায় নেই, কোনো প্রশ্নে এই দুটি থাকলে সেটিই উত্তর “নিয়ামক নয়”।
কৌশল ২: আবহাওয়ার উপাদান-পরিমাপ যন্ত্র
“তা-থ, চা-ব্যা, প্র-অ্যা, আ-হাই, বৃ-রেইন” = তাপমাত্রা-থার্মোমিটার, চাপ-ব্যারোমিটার, প্রবাহ-অ্যানিমোমিটার, আর্দ্রতা-হাইগ্রোমিটার, বৃষ্টি-রেইন গজ।
কৌশল ৩: ঘূর্ণিঝড়ের আঞ্চলিক নাম
“আমেরিকা হারিকেন, জাপানে টাইফুন, ভারত-বাংলাদেশে সাইক্লোন, অস্ট্রেলিয়ায় উইলি-উইলি, ফিলিপাইনে বাগুইও।”
কৌশল ৪: নিয়ত বায়ুর অক্ষাংশ
“বাণিজ্য ০-৩০, পশ্চিমা ৩০-৬০, মেরুদেশীয় ৬০-৯০।” মনে রাখুন: প্রতি অংশ ৩০° করে।
কৌশল ৫: আইসো-রেখার পরিচয়
“থা-তাপ, বা-চাপ, হা-বৃষ্টি (Hyet), হি-আর্দ্রতা (Hume), নি-মেঘ (Neph), হে-সূর্য (Hel), ট্যা-গতি (Tach)।”
বিশেষ নোট: বিভ্রান্তিকর তথ্যের ব্যাখ্যা
📌 মনে রাখুন (Disambiguation) ১. উপাদান বনাম নিয়ামক: তাপমাত্রা, বায়ুচাপ, বায়ুপ্রবাহ, আর্দ্রতা, বৃষ্টিপাত: এগুলো জলবায়ুর উপাদান। অক্ষাংশ, উচ্চতা, সমুদ্রস্রোত: এগুলো নিয়ামক। প্রশ্নে 'জলবায়ুর উপাদান কোনটি?' = বৃষ্টিপাত; 'নিয়ামক কোনটি?' = অক্ষাংশ। ২. দ্রাঘিমাংশ জলবায়ুর নিয়ামক নয়: দ্রাঘিমাংশ সময়-নির্ধারক; অক্ষাংশ তাপ-নির্ধারক। পরীক্ষায় 'নিয়ামক নয়' প্রশ্নে দ্রাঘিমাংশ থাকলে সেটিই উত্তর। ৩. বন্যা আবহাওয়ার উপাদান নয়: তাপমাত্রা, বৃষ্টিপাত, আর্দ্রতা: আবহাওয়ার উপাদান। বন্যা, খরা, ঘূর্ণিঝড়: এগুলো ফলাফল বা দুর্যোগ, উপাদান নয়। ৪. Lapse Rate ৬.৫°C/কিমি: স্বাভাবিক হার ট্রপোস্ফিয়ারে। শুষ্ক অ্যাডিয়াব্যাটিক ১০°C/কিমি, আর্দ্র অ্যাডিয়াব্যাটিক ৫°C/কিমি। তাপীয় উৎক্রমে এই ক্রম উল্টে যায়। ৫. কালবৈশাখী বনাম মৌসুমি বায়ু: কালবৈশাখী স্থানীয় ঝড় (চৈত্র-বৈশাখ, প্রাক্-মৌসুমি); মৌসুমি বায়ু সাময়িক বায়ু (ছয় মাস স্থায়ী)। কালবৈশাখী উত্তর-পশ্চিম থেকে আসে, মৌসুমি দক্ষিণ-পশ্চিম থেকে। ৬. ক্যানারি ও পেরু স্রোত: ক্যানারি স্রোত (আটলান্টিক) → সাহারা মরুভূমি; পেরু স্রোত (প্রশান্ত) → আতাকামা মরুভূমি। দুটিই শীতল স্রোত, মরুভূমি সৃষ্টিতে ভূমিকা রাখে। |
সতর্কতা: পরীক্ষায় ঘন ঘন আসা ফাঁদ-জোড়া
⚠️ সতর্কতা (ক) সিরাস বনাম কিউমুলোনিম্বাস: সিরাস (সর্বোচ্চ উচ্চতা, পালক-আকৃতি, নির্মল আবহাওয়া) বনাম কিউমুলোনিম্বাস (উল্লম্ব বিকশিত, বজ্রবৃষ্টি)। 'বজ্রসহ বৃষ্টি ঘটায়?' = কিউমুলোনিম্বাস। (খ) স্থলবায়ু বনাম সমুদ্রবায়ু: দিনের বেলা সমুদ্রবায়ু (সমুদ্র→স্থল), রাতের বেলা স্থলবায়ু (স্থল→সমুদ্র)। সমুদ্রবায়ু = Sea Breeze; স্থলবায়ু = Land Breeze। (গ) কোরিওলিস উত্তর গোলার্ধে ডান, দক্ষিণ গোলার্ধে বাম: ফলে উত্তর গোলার্ধে নিম্নচাপের চারপাশে বাতাস ঘড়ির কাঁটার বিপরীত (anti-clockwise) এবং দক্ষিণ গোলার্ধে ঘড়ির কাঁটার দিকে (clockwise) প্রবাহিত হয়। (ঘ) ট্রপোস্ফিয়ার বনাম স্ট্র্যাটোস্ফিয়ার: আবহাওয়া ঘটনা ট্রপোস্ফিয়ারে; ওজোন স্তর ও বিমান চলাচল স্ট্র্যাটোস্ফিয়ারে। বেতার তরঙ্গ আয়নোস্ফিয়ারে প্রতিফলিত হয়। (ঙ) আইসোবার বনাম আইসোহাইট: আইসোবার = সমান চাপ; আইসোহাইট = সমান বৃষ্টিপাত। 'Iso-bar' এ 'bar' (চাপ); 'Iso-hyet' এ 'hyet' (গ্রিকে বৃষ্টি)। (চ) কর্কটক্রান্তি (২৩.৫° উত্তর) বনাম মকরক্রান্তি (২৩.৫° দক্ষিণ): বাংলাদেশের মধ্য দিয়ে কর্কটক্রান্তি গিয়েছে (ঢাকা ও মৌলভীবাজার বিভাগ অতিক্রম)। ২৩ জুন সূর্য কর্কটক্রান্তির উপর লম্বভাবে কিরণ দেয়। |
কারণ, প্রভাব ও প্রতিকার (লিখিত পরীক্ষা কাঠামো)
জলবায়ু-নিয়ামক | প্রভাব | ফলাফল/উদাহরণ |
অক্ষাংশ ১০° বৃদ্ধি | গড় তাপমাত্রা ৩-৫°C হ্রাস | নিরক্ষীয় বনাম মধ্য-অক্ষাংশ পার্থক্য |
উচ্চতা ১,০০০ মিটার বৃদ্ধি | তাপমাত্রা ৬.৫°C হ্রাস | ঢাকা ও দার্জিলিং তুলনা |
সমুদ্র থেকে দূরত্ব বৃদ্ধি | তাপ-পরিসর বৃদ্ধি; আর্দ্রতা হ্রাস | চট্টগ্রাম-রংপুর তুলনা |
উষ্ণ সমুদ্রস্রোত | উপকূল উষ্ণ ও আর্দ্র | গাল্ফ স্ট্রিম-পশ্চিম ইউরোপ |
শীতল সমুদ্রস্রোত | উপকূল শুষ্ক, মরুভূমি | ক্যানারি-সাহারা, পেরু-আতাকামা |
প্রতিবাত-ঢালে বায়ু | ভারী বৃষ্টিপাত | চেরাপুঞ্জি, মৌসিনরাম, সিলেট |
অনুবাত-ঢালে বায়ু | বৃষ্টিচ্ছায়া; শুষ্ক | তিব্বত মালভূমি, রাজশাহী |
ঘন বনাঞ্চল | উচ্চ আর্দ্রতা; পরিচলন বৃষ্টি | আমাজন, কঙ্গো |
লিখিত পরীক্ষার জন্য থিসিস-স্তরের বিশ্লেষণ
✍️ লিখিত পরীক্ষার জন্য জলবায়ুর নিয়ামকসমূহ পরস্পর-সম্পর্কিত একটি বহুস্তরীয় ব্যবস্থা; অক্ষাংশ মূল তাপ-নির্ধারক হলেও উচ্চতা, সমুদ্রসান্নিধ্য, সমুদ্রস্রোত ও পর্বত-অবস্থান একই অক্ষাংশের দুই স্থানের জলবায়ুতে নাটকীয় ভিন্নতা সৃষ্টি করতে পারে; কাঁকেশ্বর ও দার্জিলিং, কোলকাতা ও মুম্বাই, রিয়াধ ও কুনমিং এর তুলনাই এর প্রমাণ। বাংলাদেশের ক্রান্তীয় মৌসুমি জলবায়ু-গঠনে ভূগোলের চারটি কারণ অপরিহার্য: কর্কটক্রান্তির নিকটতা যা পর্যাপ্ত সৌর-শক্তি নিশ্চিত করে, বঙ্গোপসাগরের সানিধ্য যা আর্দ্রতা সরবরাহ করে, হিমালয় পর্বতমালা যা মৌসুমি বায়ুকে আটকে শৈলোৎক্ষেপ বৃষ্টি ঘটায়, এবং দক্ষিণ-পশ্চিম মৌসুমি বায়ুর নিয়মিত প্রবাহ যা ৮০% বৃষ্টিপাত বহন করে; ফলে এই দেশের কৃষি, জীবিকা ও সংস্কৃতি ছয় ঋতুর চক্রে আবদ্ধ হয়েছে। |
কেস স্টাডি: চেরাপুঞ্জির শৈলোৎক্ষেপ বৃষ্টিপাত
ভারতের মেঘালয় রাজ্যের পূর্ব খাসি পাহাড় জেলার চেরাপুঞ্জি (২৫°১৭' উত্তর, ৯১°৪৪' পূর্ব; উচ্চতা ১,৪৮৪ মিটার) বিশ্বের অন্যতম সর্বাধিক বৃষ্টিপাত-অঞ্চল। চেরাপুঞ্জির গড় বার্ষিক বৃষ্টিপাত ১১,৭৭৭ মিলিমিটার এবং পার্শ্ববর্তী মৌসিনরামের গড় ১১,৮৭২ মিলিমিটার, যা পৃথিবীর সর্বোচ্চ। চেরাপুঞ্জিতে এক বছরে সর্বোচ্চ বৃষ্টিপাতের রেকর্ড ২৬,৪৬১ মিলিমিটার (১৮৬০-৬১) এবং এক মাসে ৯,৩০০ মিলিমিটার (জুলাই ১৮৬১)। এই অস্বাভাবিক বৃষ্টিপাতের কারণ পুরোপুরি ভৌগোলিক ও জলবায়ু-নিয়ামক ভিত্তিক: বঙ্গোপসাগর থেকে আগত আর্দ্রতা-পূর্ণ দক্ষিণ-পশ্চিম মৌসুমি বায়ু সরাসরি মেঘালয় পর্বতমালার দক্ষিণ ঢালে আঘাত করে; বায়ু পর্বতে বাধা পেয়ে দ্রুত উপরে উঠতে বাধ্য হয়; উচ্চতার সাথে তাপমাত্রা হ্রাস (Lapse Rate) এর ফলে বাষ্প ঘনীভূত হয় এবং প্রতিবাত-ঢালে শৈলোৎক্ষেপ বৃষ্টিপাত ঘটে। এই অঞ্চলেই বিশ্বের সর্বাধিক বৃষ্টিপাতের কারণটি জলবায়ুর নিয়ামকসমূহের মধ্যে পর্বতের অবস্থান ও বায়ুপ্রবাহের একসঙ্গে কার্যকর প্রভাবের সর্বোত্তম উদাহরণ। অপরদিকে চেরাপুঞ্জির ঠিক উত্তরে অবস্থিত শিলং অনুবাত-ঢালে অবস্থিত হওয়ায় তুলনামূলক কম বৃষ্টি পায় (গড় ২,১৫০ মিমি); এটিই বৃষ্টিচ্ছায়া অঞ্চলের ক্লাসিক উদাহরণ।
বিগত পরীক্ষার প্রশ্ন (প্রশ্নোত্তর)
বিগত ২০ বছরের BCS, ব্যাংক জব ও বিশ্ববিদ্যালয় ভর্তি পরীক্ষায় এই অধ্যায় থেকে এসেছে এমন প্রশ্নগুলো বিষয়ভিত্তিক ক্রমে সাজিয়ে দেওয়া হলো।
প্রশ্ন: আবহাওয়া বলতে কী বোঝায়?
উত্তর: কোনো নির্দিষ্ট স্থানের অল্প সময়ের (ঘণ্টা, দিন, সপ্তাহ) বায়ুমণ্ডলীয় অবস্থা।
প্রশ্ন: জলবায়ু বলতে কী বোঝায়?
উত্তর: কোনো নির্দিষ্ট স্থানের দীর্ঘ সময়ের (সাধারণত ৩০ বা ৩৫ বছর) গড় আবহাওয়ার অবস্থা।
প্রশ্ন: বাংলাদেশের জলবায়ু কোন প্রকারের?
উত্তর: ক্রান্তীয় মৌসুমি (Tropical Monsoon)।
প্রশ্ন: দক্ষিণ এশিয়ার দেশসমূহ প্রধানত কোন জলবায়ুর অন্তর্গত?
উত্তর: মৌসুমি জলবায়ু।
প্রশ্ন: কোনটি আবহাওয়ার উপাদান নয়?
উত্তর: বন্যা (বন্যা একটি দুর্যোগ, আবহাওয়ার উপাদান নয়)।
প্রশ্ন: কোনটি জলবায়ুর উপাদান?
উত্তর: বৃষ্টিপাত।
প্রশ্ন: তাপমাত্রা, বায়ুর চাপ, বায়ুপ্রবাহ, আর্দ্রতা: এগুলোকে কী বলে?
উত্তর: জলবায়ুর উপাদান।
প্রশ্ন: কোনটি জলবায়ুর নিয়ামক নয়?
উত্তর: নগরায়ন/দ্রাঘিমাংশ (এ দুটি জলবায়ুর নিয়ামক হিসেবে গণ্য নয়)।
প্রশ্ন: জলবায়ুর প্রধান নিয়ামক কয়টি?
উত্তর: সাতটি: অক্ষাংশ, উচ্চতা, সমুদ্র থেকে দূরত্ব, সমুদ্রস্রোত, বায়ুপ্রবাহ, পর্বতের অবস্থান, ভূমির ঢাল।
প্রশ্ন: ভূপৃষ্ঠ থেকে প্রতি কিলোমিটার উচ্চতা বৃদ্ধির সাথে গড় তাপমাত্রা হ্রাসের হার কত?
উত্তর: ৬.৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস।
প্রশ্ন: উচ্চতা বৃদ্ধি পাবার সাথে তাপমাত্রা হ্রাস না পেয়ে বৃদ্ধি পেলে তাকে কী বলে?
উত্তর: তাপমাত্রার উৎক্রম (Temperature Inversion)।
প্রশ্ন: সমুদ্রের নিকটবর্তী স্থানে দিনরাত্রির তাপের পার্থক্য খুব কম হয় কেন?
উত্তর: বায়ুতে বেশি জলীয় বাষ্প থাকায়।
প্রশ্ন: আবহাওয়া সংক্রান্ত যাবতীয় ঘটনাবলি বায়ুমণ্ডলের কোন স্তরে সংঘটিত হয়?
উত্তর: ট্রপোস্ফিয়ার।
প্রশ্ন: ঝড়, বৃষ্টি, বজ্রপাত, মেঘ প্রভৃতি বায়ুমণ্ডলের কোন স্তরে বিদ্যমান?
উত্তর: ট্রপোস্ফিয়ারে।
প্রশ্ন: ট্রপোমণ্ডলের বৈশিষ্ট্য কোনটি?
উত্তর: উচ্চতা বৃদ্ধির সাথে তাপের হ্রাস।
প্রশ্ন: ভূপৃষ্ঠ থেকে পাঠানো বেতার তরঙ্গ কোন স্তরে বাধা পায়?
উত্তর: আয়নোস্ফিয়ারে।
প্রশ্ন: তাপ উৎক্রম বায়ুমণ্ডলের কোন স্তরে সংঘটিত হয়?
উত্তর: ট্রপোস্ফিয়ারে।
প্রশ্ন: ওজোন স্তর বায়ুমণ্ডলের কোন স্তরে অবস্থিত?
উত্তর: স্ট্র্যাটোস্ফিয়ারে, প্রায় ১৫ থেকে ৩৫ কিমি উচ্চতায়।
প্রশ্ন: ওজোন হোল কোন স্তরে অবস্থিত?
উত্তর: স্ট্র্যাটোস্ফিয়ার।
প্রশ্ন: বিমান বায়ুমণ্ডলের কোন স্তর দিয়ে চলাচল করে?
উত্তর: স্ট্র্যাটোস্ফিয়ারের নিম্ন অংশে।
প্রশ্ন: বায়ু মণ্ডলের কোন স্তর সূর্যের অতিবেগুনি রশ্মি থেকে পৃথিবীর জীবমণ্ডলকে রক্ষা করে?
উত্তর: ওজোনস্ফিয়ার (স্ট্র্যাটোস্ফিয়ারের অংশ)।
প্রশ্ন: বায়ুর আর্দ্রতা কোনটি দ্বারা পরিমাপ করা হয়?
উত্তর: হাইগ্রোমিটার।
প্রশ্ন: বায়ুর চাপ মাপার যন্ত্রের নাম কী?
উত্তর: ব্যারোমিটার।
প্রশ্ন: বায়ুর গতি মাপার যন্ত্রের নাম কী?
উত্তর: অ্যানিমোমিটার।
প্রশ্ন: তাপমাত্রা মাপার যন্ত্রের নাম কী?
উত্তর: থার্মোমিটার।
প্রশ্ন: বৃষ্টিপাত মাপার যন্ত্রের নাম কী?
উত্তর: রেইন গজ।
প্রশ্ন: সমুদ্রের গভীরতা কোন যন্ত্রের সাহায্যে পরিমাপ করা হয়?
উত্তর: ফ্যাদোমিটার।
প্রশ্ন: বায়ু প্রবাহের প্রধান কারণ কী?
উত্তর: বায়ুর চাপের পার্থক্য।
প্রশ্ন: কী কারণে বায়ু একস্থান থেকে অন্যস্থানে প্রবাহিত হয়?
উত্তর: বায়ুর তাপ ও চাপের পার্থক্য।
প্রশ্ন: সমান বায়ুচাপ-বিশিষ্ট স্থানগুলো যে কাল্পনিক রেখা দ্বারা যুক্ত হয় তাকে কী বলে?
উত্তর: আইসোবার।
প্রশ্ন: সমান তাপমাত্রা-বিশিষ্ট স্থানগুলো যে রেখা দ্বারা যুক্ত হয় তাকে কী বলে?
উত্তর: আইসোথার্ম।
প্রশ্ন: সমান বৃষ্টিপাত-বিশিষ্ট স্থানগুলো যে রেখা দ্বারা যুক্ত হয় তাকে কী বলে?
উত্তর: আইসোহাইট।
প্রশ্ন: Isohyet দ্বারা মানচিত্রে কোন প্রপঞ্চটি প্রদর্শন করা হয়?
উত্তর: বৃষ্টিপাত।
প্রশ্ন: ভূপৃষ্ঠের সমোন্নত স্থানসমূহ সংযোগকারী রেখাকে কী বলে?
উত্তর: সমোন্নতি রেখা (Contour Line)।
প্রশ্ন: দক্ষিণ গোলার্ধে নিম্নচাপকে কেন্দ্র করে বাতাস কোন দিকে প্রবাহিত হয়?
উত্তর: ঘড়ির কাঁটার দিকে (clockwise)।
প্রশ্ন: ফেরেলের সূত্র অনুসারে বায়ু কোন দিকে প্রবাহিত হয়?
উত্তর: উত্তর গোলার্ধে ডান এবং দক্ষিণ গোলার্ধে বাম দিকে।
প্রশ্ন: মৌসুমি বায়ু কী ধরনের বায়ু?
উত্তর: সাময়িক বায়ু।
প্রশ্ন: আয়ন বায়ু কোন ধরনের বায়ু?
উত্তর: নিয়ত (Permanent) বায়ু।
প্রশ্ন: বর্ষাকালে বাংলাদেশে মৌসুমি বায়ু কোন দিক থেকে প্রবাহিত হয়?
উত্তর: দক্ষিণ-পশ্চিম দিক থেকে।
প্রশ্ন: বাংলাদেশে কালবৈশাখী ঝড় কোন দিক থেকে প্রবাহিত হয়?
উত্তর: উত্তর-পশ্চিম দিক থেকে।
প্রশ্ন: বাংলাদেশে কালবৈশাখী ঝড় কখন হয়?
উত্তর: প্রাক্-মৌসুমি বায়ু ঋতুতে (চৈত্র-বৈশাখ)।
প্রশ্ন: বাংলাদেশে ঘূর্ণিঝড় কখন হয়?
উত্তর: মৌসুমি বায়ু প্রবাহের পূর্বে ও পরে।
প্রশ্ন: স্থলবায়ু সাধারণত কখন প্রবাহিত হয়?
উত্তর: রাতের বেলা।
প্রশ্ন: সমুদ্রবায়ু কখন প্রবাহিত হয়?
উত্তর: দিনের বেলা।
প্রশ্ন: Land breeze কী?
উত্তর: স্থল থেকে সমুদ্রে প্রবাহিত এক ধরনের বায়ু।
প্রশ্ন: জাপান উপকূলে যে ঘূর্ণিঝড় হয় তার নাম কী?
উত্তর: টাইফুন।
প্রশ্ন: চীন-জাপান উপকূলে সংঘটিত ক্রান্তীয় ঘূর্ণিঝড়ের নাম কী?
উত্তর: টাইফুন।
প্রশ্ন: অস্ট্রেলিয়ায় সাইক্লোন কী নামে পরিচিত?
উত্তর: উইলি-উইলি।
প্রশ্ন: পশ্চিম ভারতীয় দ্বীপপুঞ্জের প্রবল ঘূর্ণিঝড়ের নাম কী?
উত্তর: হারিকেন।
প্রশ্ন: মেঘ বজ্রসহ বৃষ্টিপাত ঘটায় কোনটি?
উত্তর: কিউমুলোনিম্বাস মেঘ।
প্রশ্ন: সর্বাধিক উচ্চতায় কোন মেঘ থাকে?
উত্তর: সিরাস (Cirrus)।
প্রশ্ন: মেঘের শ্রেণিবিন্যাস প্রথম কে করেন?
উত্তর: লুক হাওয়ার্ড (Luke Howard), ১৮০৩।
প্রশ্ন: শীতকালে ভিজা কাপড় দ্রুত শুকায় কেন?
উত্তর: বাতাসে আর্দ্রতা কম থাকায়।
প্রশ্ন: ক্রান্তীয় ও নাতিশীতোষ্ণ অঞ্চলে কোন ধরনের বৃষ্টিপাত হয়?
উত্তর: ঘূর্ণিবৃষ্টি (Cyclonic Rain)।
প্রশ্ন: Frontal বৃষ্টিপাত কখন হয়?
উত্তর: শীতল ও গরম বায়ুর সংঘর্ষ হলে।
প্রশ্ন: কোন অঞ্চলে সাধারণত সারা বছর বৃষ্টিপাত হয়?
উত্তর: নিরক্ষীয় অঞ্চল।
প্রশ্ন: ভূমধ্যসাগরীয় জলবায়ুর প্রধান বৈশিষ্ট্য কী?
উত্তর: বৃষ্টিবহুল শীতকাল ও বৃষ্টিহীন গ্রীষ্মকাল।
প্রশ্ন: কোন জলবায়ু অঞ্চলে শীতকালে বৃষ্টিপাত হয়?
উত্তর: ভূমধ্যসাগরীয় জলবায়ু।
প্রশ্ন: সাহারা মরুভূমি সৃষ্টিতে কোন সমুদ্রস্রোতের প্রভাব রয়েছে?
উত্তর: ক্যানারি স্রোত (শীতল)।
প্রশ্ন: এশিয়ার পূর্ব উপকূল ঘেঁষে প্রবাহিত সমুদ্রস্রোতের নাম কী?
উত্তর: কুরোশিও স্রোত।
প্রশ্ন: কুরোশিও স্রোত কোন দেশের উপকূল ঘেঁষে প্রবাহিত হয়?
উত্তর: জাপান।
প্রশ্ন: সমুদ্রস্রোত কোন বায়ুর গতিপথ অনুসরণ করে?
উত্তর: নিয়ত বায়ু।
প্রশ্ন: সমুদ্রস্রোত সৃষ্টিতে প্রত্যক্ষভাবে প্রভাব বিস্তার করে না কোনটি?
উত্তর: শৈলশিরার অবস্থান।
প্রশ্ন: দুটি ভিন্নধর্মী সমুদ্রস্রোতের মধ্যবর্তী সীমারেখাকে কী বলে?
উত্তর: হিমপ্রাচীর (Cold Wall)।
প্রশ্ন: প্রশান্ত মহাসাগরের কোনটি শীতল স্রোত নয়?
উত্তর: কুরোশিও স্রোত (এটি উষ্ণ স্রোত)।
প্রশ্ন: আটলান্টিক মহাসাগরীয় স্রোতের অন্তর্ভুক্ত নয় কোনটি?
উত্তর: পেরু স্রোত (এটি প্রশান্ত মহাসাগরের)।
প্রশ্ন: গর্জনশীল চল্লিশার অক্ষাংশগত অবস্থান কত?
উত্তর: ৪০° থেকে ৪৭° দক্ষিণ অক্ষাংশ।
প্রশ্ন: কোন অক্ষাংশের মধ্যে পশ্চিমা বায়ু প্রবাহিত হয়?
উত্তর: ৩০° থেকে ৬০° অক্ষাংশের মধ্যে।
প্রশ্ন: অশ্ব অক্ষাংশের অবস্থান কোথায়?
উত্তর: ২৫° থেকে ৩৫° (উপ-ক্রান্তীয় উচ্চচাপ বলয়)।
প্রশ্ন: ITCZ-এর পূর্ণরূপ কী?
উত্তর: Inter-Tropical Convergence Zone।
প্রশ্ন: দুটি ভিন্ন বৈশিষ্ট্যের বায়ুপুঞ্জের মধ্যে অবস্থিত হয় কোনটি?
উত্তর: বায়ু প্রাচীর বা Front।
প্রশ্ন: মকরক্রান্তি রেখার মান কত?
উত্তর: ২৩.৫ ডিগ্রি দক্ষিণ অক্ষাংশ।
প্রশ্ন: কর্কটক্রান্তি রেখা কত ডিগ্রি অক্ষাংশ বরাবর?
উত্তর: ২৩.৫ ডিগ্রি উত্তর অক্ষাংশ।
প্রশ্ন: ২৩ জুন সূর্য লম্বভাবে কিরণ দেয় কোন রেখার উপর?
উত্তর: কর্কটক্রান্তি।
প্রশ্ন: কোন তারিখে পৃথিবীর সর্বত্র দিনরাত্রি সমান থাকে?
উত্তর: ২৩ মার্চ এবং ২৩ সেপ্টেম্বর (বিষুব)।
প্রশ্ন: উত্তর গোলার্ধের দীর্ঘতম দিন কোনটি?
উত্তর: ২২ জুন।
প্রশ্ন: কর্কটক্রান্তি রেখা বাংলাদেশের কোন জেলার ওপর দিয়ে গেছে?
উত্তর: রাঙ্গামাটি (চট্টগ্রাম বিভাগ) ও সিলেট বিভাগের কয়েকটি জেলা।
প্রশ্ন: বাংলাদেশের উপর দিয়ে কোন রেখাটি অতিক্রম করেছে?
উত্তর: কর্কটক্রান্তি রেখা।
প্রশ্ন: কোপেনের জলবায়ুর শ্রেণিবিন্যাস অনুযায়ী BW হল কোন জলবায়ু?
উত্তর: মরু জলবায়ু (Desert)।
প্রশ্ন: জলবায়ুর শ্রেণিবিন্যাস প্রথম কে করেন?
উত্তর: Wladimir Köppen, ১৯০০।
প্রশ্ন: আবহবিজ্ঞানের জনক কে?
উত্তর: অ্যারিস্টটল (Meteorologica গ্রন্থ, ৩৫০ খ্রিষ্টপূর্ব)।
প্রশ্ন: WMO-এর সদর দপ্তর কোথায়?
উত্তর: জেনেভা, সুইজারল্যান্ড।
প্রশ্ন: WMO কত সালে প্রতিষ্ঠিত?
উত্তর: ২৩ মার্চ ১৯৫০।
প্রশ্ন: বিশ্ব আবহাওয়া দিবস কবে?
উত্তর: ২৩ মার্চ।
প্রশ্ন: বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তর (BMD) কত সালে প্রতিষ্ঠিত?
উত্তর: ১৯৪৮ সালে।
প্রশ্ন: SPARRSO-এর পূর্ণরূপ কী?
উত্তর: Space Research and Remote Sensing Organization।
প্রশ্ন: SPARRSO কত সালে প্রতিষ্ঠিত?
উত্তর: ১৯৮০ সালে।
প্রশ্ন: বাংলাদেশের প্রথম স্যাটেলাইটের নাম কী?
উত্তর: বঙ্গবন্ধু-১, ১১ মে ২০১৮ উৎক্ষেপিত।
প্রশ্ন: বাংলাদেশের সর্বোচ্চ রেকর্ডকৃত তাপমাত্রা কত?
উত্তর: ৪৫.১ ডিগ্রি সেলসিয়াস, রাজশাহী, ১৯৭২।
প্রশ্ন: বাংলাদেশের সর্বনিম্ন রেকর্ডকৃত তাপমাত্রা কত?
উত্তর: ২.৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস, শ্রীমঙ্গল, ১৯৬৮।
প্রশ্ন: বাংলাদেশের সর্বাধিক বৃষ্টিপাত-অঞ্চল কোথায়?
উত্তর: সিলেটের লালাখাল ও সুনামগঞ্জ।
প্রশ্ন: বাংলাদেশের সর্বনিম্ন বৃষ্টিপাত-অঞ্চল কোথায়?
উত্তর: রাজশাহী-নাটোর অঞ্চল।
প্রশ্ন: বাংলাদেশের গড় বার্ষিক বৃষ্টিপাত কত?
উত্তর: প্রায় ২,৩০০ মিলিমিটার।
প্রশ্ন: বাংলাদেশে শৈলোৎক্ষেপ বৃষ্টিপাত কোথায় হয়?
উত্তর: সিলেট-সুনামগঞ্জ অঞ্চলে (মেঘালয়ের পাদদেশে)।
প্রশ্ন: বাংলাদেশের ছয় ঋতু কী কী?
উত্তর: গ্রীষ্ম, বর্ষা, শরৎ, হেমন্ত, শীত, বসন্ত।
প্রশ্ন: পৃথিবীর সর্বাধিক বৃষ্টিপাত-অঞ্চলের নাম কী?
উত্তর: মৌসিনরাম, মেঘালয়, ভারত (গড় ১১,৮৭২ মিমি/বছর)।
প্রশ্ন: পৃথিবীর সর্বনিম্ন বৃষ্টিপাত-অঞ্চল কোনটি?
উত্তর: আতাকামা মরুভূমি, চিলি।
প্রশ্ন: পৃথিবীর সর্বোচ্চ রেকর্ডকৃত তাপমাত্রা কত?
উত্তর: ৫৬.৭ ডিগ্রি সেলসিয়াস, ফার্নেস ক্রিক, ক্যালিফোর্নিয়া, ১৯১৩।
প্রশ্ন: পৃথিবীর সর্বনিম্ন রেকর্ডকৃত তাপমাত্রা কত?
উত্তর: –৮৯.২ ডিগ্রি সেলসিয়াস, ভোস্টক, অ্যান্টার্কটিকা, ১৯৮৩।
প্রশ্ন: গাঙ্গেয় বদ্বীপ এলাকায় শীতকালে কোন বায়ু প্রবাহিত হয়?
উত্তর: উত্তর-পূর্ব মৌসুমি বায়ু (শুষ্ক, স্থল থেকে সমুদ্রে)।
প্রশ্ন: জোয়ার-ভাটা প্রধানত কী কারণে হয়?
উত্তর: চাঁদের আকর্ষণে।
প্রশ্ন: প্রথম ব্যারোমিটার আবিষ্কার করেন কে?
উত্তর: ইভানজেলিস্তা টরিচেলি, ইতালি, ১৬৪৩ সালে।
প্রশ্ন: সমুদ্রপৃষ্ঠে গড় বায়ুচাপ কত?
উত্তর: ১,০১৩.২৫ মিলিবার বা ৭৬০ মিমি পারদ-স্তম্ভ।
প্রশ্ন: আপেক্ষিক আর্দ্রতা সর্বোচ্চ কত হতে পারে?
উত্তর: ১০০% (সম্পৃক্ত বায়ু)।
প্রশ্ন: শিশিরাঙ্ক বলতে কী বোঝায়?
উত্তর: যে তাপমাত্রায় বায়ুর জলীয় বাষ্প ঘনীভূত হয়ে শিশির বা মেঘ গঠন করে।
প্রশ্ন: চিনুক (Chinook) বায়ু কোথায় প্রবাহিত হয়?
উত্তর: উত্তর আমেরিকার রকি পর্বতমালার অনুবাত-ঢালে; এটি উষ্ণ ও শুষ্ক স্থানীয় বায়ু, 'তুষারভক্ষক' নামে পরিচিত।
প্রশ্ন: ফন (Föhn) বায়ু কোথায় প্রবাহিত হয়?
উত্তর: আল্পস পর্বতমালার অনুবাত-ঢালে; উষ্ণ ও শুষ্ক।
প্রশ্ন: লু (Loo) বায়ু কোথায় প্রবাহিত হয়?
উত্তর: উত্তর ভারতের সমভূমিতে গ্রীষ্মকালে; উষ্ণ ও শুষ্ক।
চটজলদি রিভিশন
শেষ মুহূর্তের রিভিশনের জন্য সকল মূল তথ্য এক নজরে।
আবহাওয়া: অল্প সময়ের (ঘণ্টা-দিন) বায়ুমণ্ডলীয় অবস্থা
জলবায়ু: ৩০ বা ৩৫ বছরের গড় আবহাওয়ার প্রবণতা
আবহাওয়ার ৬ উপাদান: তাপমাত্রা, বায়ুচাপ, বায়ুপ্রবাহ, আর্দ্রতা, মেঘাচ্ছন্নতা, বৃষ্টিপাত
জলবায়ুর ৭ নিয়ামক: অক্ষাংশ, উচ্চতা, সমুদ্র-দূরত্ব, সমুদ্রস্রোত, বায়ুপ্রবাহ, পর্বত, ভূমির ঢাল
জলবায়ুর নিয়ামক নয়: দ্রাঘিমাংশ, নগরায়ন
আবহাওয়ার উপাদান নয়: বন্যা, খরা, ঘূর্ণিঝড় (এগুলো দুর্যোগ)
বাংলাদেশের জলবায়ু: ক্রান্তীয় মৌসুমি (Köppen Aw/Am)
দক্ষিণ এশিয়ার জলবায়ু: মৌসুমি
Normal Lapse Rate: ৬.৫°C/কিমি (ট্রপোস্ফিয়ারে)
তাপীয় উৎক্রম (Inversion): উচ্চতার সাথে তাপমাত্রা বৃদ্ধি, ট্রপোস্ফিয়ারে
সমুদ্রপৃষ্ঠে গড় বায়ুচাপ: ১০১৩.২৫ mb বা ৭৬০ mm Hg
তাপমাত্রা: থার্মোমিটার (Thermometer)
বায়ুচাপ: ব্যারোমিটার (Barometer); আবিষ্কার Torricelli, ১৬৪৩
বায়ুপ্রবাহের গতি: অ্যানিমোমিটার (Anemometer)
বায়ুপ্রবাহের দিক: উইন্ড ভেন (Wind Vane)
আর্দ্রতা: হাইগ্রোমিটার (Hygrometer)
বৃষ্টিপাত: রেইন গজ (Rain Gauge)
মেঘ: ন্যাফোস্কোপ (Nephoscope)
সমুদ্রের গভীরতা: ফ্যাদোমিটার (Fathometer)
ভূমিকম্প: সিসমোগ্রাফ (Seismograph)
আইসোবার = সমান বায়ুচাপ
আইসোথার্ম = সমান তাপমাত্রা
আইসোহাইট = সমান বৃষ্টিপাত
আইসোনিফ = সমান মেঘাচ্ছন্নতা
আইসোহেল = সমান সূর্যকিরণ-সময়
সমোন্নতি রেখা (Contour) = সমান উচ্চতা
বায়ুমণ্ডলের ৫ স্তর: ট্রপো, স্ট্র্যাটো, মেসো, থার্মো, এক্সো-স্ফিয়ার
ট্রপোস্ফিয়ার (০-১২ কিমি): আবহাওয়া, মেঘ, বৃষ্টি
স্ট্র্যাটোস্ফিয়ার (১২-৫০ কিমি): ওজোন স্তর, বিমান চলাচল
ওজোন স্তর: ১৫-৩৫ কিমি স্ট্র্যাটোস্ফিয়ারে
আয়নোস্ফিয়ার: বেতার তরঙ্গ প্রতিফলন
নিয়ত বায়ু ৩ প্রকার: বাণিজ্য (০-৩০°), পশ্চিমা (৩০-৬০°), মেরুদেশীয় (৬০-৯০°)
সাময়িক বায়ু: মৌসুমি, সমুদ্র-স্থল বায়ু
স্থানীয় বায়ু: কালবৈশাখী, লু, খামসিন, ফন, চিনুক, সিরোক্কো, মিস্ট্রাল, বোরা
কালবৈশাখী: উত্তর-পশ্চিম থেকে, চৈত্র-বৈশাখ, প্রাক্-মৌসুমি
চিনুক: রকি পর্বতমালা, উষ্ণ শুষ্ক, 'তুষারভক্ষক'
ফন: আল্পস পর্বতমালা, উষ্ণ শুষ্ক
লু: উত্তর ভারত, গ্রীষ্মে উষ্ণ শুষ্ক
খামসিন: মিশর, সাহারা থেকে উষ্ণ শুষ্ক
সিরোক্কো: সাহারা থেকে দক্ষিণ ইউরোপে, উষ্ণ আর্দ্র
ক্রান্তীয় ঘূর্ণিঝড়ের আঞ্চলিক নাম: আমেরিকায় হারিকেন, জাপানে টাইফুন, ভারত-বাংলাদেশে সাইক্লোন, অস্ট্রেলিয়ায় উইলি-উইলি, ফিলিপাইনে বাগুইও
বৃষ্টিপাতের ৩ প্রকার: পরিচলন (নিরক্ষীয়), শৈলোৎক্ষেপ (পর্বত প্রতিবাত), ঘূর্ণি/সংঘর্ষ (ক্রান্তীয়-নাতিশীতোষ্ণ)
Frontal বৃষ্টি: শীতল ও গরম বায়ুর সংঘর্ষে
মেঘের ৪ শ্রেণি: উচ্চ, মধ্য, নিম্ন, উল্লম্ব-বিকশিত
মেঘ শ্রেণিবিন্যাস: Luke Howard, ১৮০৩
সর্বোচ্চ উচ্চতায়: সিরাস (নির্মল আবহাওয়া)
বজ্রসহ বৃষ্টি ঘটায়: কিউমুলোনিম্বাস
ফেরেলের সূত্র: উত্তর গোলার্ধে ডান, দক্ষিণ গোলার্ধে বাম
কোরিওলিস প্রভাবে নিম্নচাপের চারপাশে: উত্তরে anti-clockwise, দক্ষিণে clockwise
ITCZ: Inter-Tropical Convergence Zone
অশ্ব অক্ষাংশ: ২৫-৩৫° (উপ-ক্রান্তীয় উচ্চচাপ)
গর্জনশীল চল্লিশা: ৪০-৪৭° দক্ষিণ অক্ষাংশ
কর্কটক্রান্তি: ২৩.৫° উত্তর; ২৩ জুন সূর্য লম্বভাবে
মকরক্রান্তি: ২৩.৫° দক্ষিণ; ২২ ডিসেম্বর সূর্য লম্বভাবে
বিষুব: ২৩ মার্চ ও ২৩ সেপ্টেম্বর (দিনরাত্রি সমান)
সমুদ্রস্রোত: নিয়ত বায়ুর গতিপথ অনুসরণ
উষ্ণ স্রোত: গাল্ফ স্ট্রিম, কুরোশিও, ব্রাজিল, মোজাম্বিক, আগুলহাস
শীতল স্রোত: ক্যানারি, বেংগুয়েলা, ল্যাব্রাডর, ফকল্যান্ড, পেরু, ক্যালিফোর্নিয়া
গাল্ফ স্ট্রিম: আটলান্টিক, পশ্চিম ইউরোপকে উষ্ণ রাখে
ক্যানারি স্রোত: সাহারা মরুভূমি সৃষ্টিতে
পেরু (হামবোল্ট) স্রোত: আতাকামা মরুভূমি সৃষ্টিতে
ল্যাব্রাডর স্রোত: গ্র্যান্ড ব্যাংক মৎস্যক্ষেত্র (উষ্ণ-শীতল মিলন)
কুরোশিও: জাপান উপকূল ঘেঁষে
হিমপ্রাচীর: ভিন্নধর্মী সমুদ্রস্রোতের সীমারেখা
Köppen জলবায়ু-শ্রেণিবিন্যাস প্রবর্তক: Wladimir Köppen, ১৯০০
Köppen শ্রেণি: A (ক্রান্তীয়), B (শুষ্ক), C (মৃদু), D (মহাদেশীয় শীতপ্রধান), E (মেরু)
BW = মরু (Desert); BS = স্টেপ; Cs = ভূমধ্যসাগরীয়
ভূমধ্যসাগরীয় জলবায়ু: শীতে বৃষ্টি, গ্রীষ্মে শুষ্ক
WMO প্রতিষ্ঠা: ২৩ মার্চ ১৯৫০; সদর দপ্তর জেনেভা
বিশ্ব আবহাওয়া দিবস: ২৩ মার্চ
BMD প্রতিষ্ঠা: ১৯৪৮; সদর দপ্তর আগারগাঁও, ঢাকা
SPARRSO প্রতিষ্ঠা: ১৯৮০; সদর দপ্তর আগারগাঁও
বঙ্গবন্ধু-১ স্যাটেলাইট: ১১ মে ২০১৮
আবহবিজ্ঞানের জনক: অ্যারিস্টটল (Meteorologica, ৩৫০ BC)
ব্যারোমিটার আবিষ্কার: Torricelli, ১৬৪৩
বাংলাদেশ অবস্থান: ২০°৩৪'-২৬°৩৮' উত্তর; ৮৮°০১'-৯২°৪১' পূর্ব
বাংলাদেশে কর্কটক্রান্তি: ময়মনসিংহ-সিলেট অতিক্রম
বাংলাদেশের গড় বৃষ্টিপাত: প্রায় ২,৩০০ মিমি
বাংলাদেশের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা: ৪৫.১°C, রাজশাহী, ১৮ মে ১৯৭২
বাংলাদেশের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা: ২.৬°C, শ্রীমঙ্গল, ১৯৬৮
বাংলাদেশের সর্বাধিক বৃষ্টিপাত: লালাখাল (সিলেট), সুনামগঞ্জ; গড় ৫,৪৮০ মিমি
বাংলাদেশের সর্বনিম্ন বৃষ্টিপাত: রাজশাহী-নাটোর; গড় ১,৪০০ মিমি
বাংলাদেশের ছয় ঋতু: গ্রীষ্ম, বর্ষা, শরৎ, হেমন্ত, শীত, বসন্ত
বাংলাদেশে বর্ষায় ৮০% বৃষ্টিপাত হয়
বর্ষায় বাংলাদেশে: দক্ষিণ-পশ্চিম মৌসুমি বায়ু
পৃথিবীর সর্বাধিক বৃষ্টিপাত: মৌসিনরাম, মেঘালয়, ভারত (১১,৮৭২ মিমি)
পৃথিবীর দ্বিতীয় সর্বাধিক: চেরাপুঞ্জি, মেঘালয় (১১,৭৭৭ মিমি)
পৃথিবীর সর্বোচ্চ রেকর্ডকৃত তাপমাত্রা: ৫৬.৭°C, ফার্নেস ক্রিক, USA, ১৯১৩
পৃথিবীর সর্বনিম্ন রেকর্ডকৃত তাপমাত্রা: –৮৯.২°C, ভোস্টক, অ্যান্টার্কটিকা, ১৯৮৩
বাংলাদেশ সংবিধান অনুচ্ছেদ ১৮ক: পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ (১৫ম সংশোধনী, ২০১১)
সংশ্লিষ্ট SDG: SDG-৬, ১১, ১৩, ১৪, ১৫
BCCTF: Bangladesh Climate Change Trust Fund, ২০১০