জাতীয় বিষয়াবলি

Chapter Activity

Rating
New / 5
Reviews
0
Read Sessions
0
Readers
0

অধ্যায়: ভাষা আন্দোলন (১৯৪৭–১৯৫২)

বাঙালি জাতীয়তাবাদের প্রথম গণজাগরণ

চ্যাপ্টার সারসংক্ষেপ

১৯৪৭ সালের দেশভাগের পর পূর্ব পাকিস্তানে উর্দুকে একমাত্র রাষ্ট্রভাষা করার প্রস্তাবের বিরুদ্ধে শুরু হওয়া আন্দোলন বাঙালি জাতিসত্তার রাজনৈতিক ভিত্তি স্থাপন করে। ১৯৪৮-এ ধীরেন্দ্রনাথ দত্তের গণপরিষদ প্রস্তাব, ১৯৫২ সালের ২১ ফেব্রুয়ারির রক্তাক্ত ঘটনা, এবং পরবর্তীতে ১৯৫৬ সালের সাংবিধানিক স্বীকৃতি ও ১৯৯৯ সালে ইউনেস্কোর আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস ঘোষণাএই দীর্ঘ পথচলাই ভাষা আন্দোলনের ইতিহাস

পটভূমিপ্রেক্ষাপট

১৯৪৭ সালের ১৪ আগস্ট ব্রিটিশ ভারত বিভক্ত হয়ে ভারতপাকিস্তান নামে দুটি স্বাধীন রাষ্ট্র গঠিত হয়দ্বিজাতিতত্ত্বের ভিত্তিতে গঠিত পাকিস্তান রাষ্ট্রটি ভৌগোলিকভাবে দুটি অংশে বিভক্ত ছিলপূর্ব পাকিস্তান (বর্তমান বাংলাদেশ) এবং পশ্চিম পাকিস্তান, যাদের মাঝে ছিল প্রায় ১,৬০০ কিলোমিটার ভারতীয় ভূখণ্ডের ব্যবধানজনসংখ্যার দিক থেকে পূর্ব পাকিস্তান সংখ্যাগরিষ্ঠ হলেও রাজনৈতিক, প্রশাসনিকঅর্থনৈতিক ক্ষমতার কেন্দ্র ছিল পশ্চিম পাকিস্তানে

পাকিস্তানের মোট জনসংখ্যার প্রায় ৫৬% মানুষ বাংলায় কথা বলতপক্ষান্তরে উর্দু ছিল কেবল ৭% মানুষের ভাষাতবুও পাকিস্তান প্রতিষ্ঠার শুরু থেকেই কেন্দ্রীয় শাসকশ্রেণি উর্দুকে একমাত্র রাষ্ট্রভাষা হিসেবে চাপিয়ে দেওয়ার প্রচেষ্টা শুরু করে। ১৯৪৭ সালের জুলাই মাসে আলিগড় বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ড. জিয়াউদ্দিন আহমদ উর্দুকে পাকিস্তানের একমাত্র রাষ্ট্রভাষা হিসেবে গ্রহণের প্রস্তাব দেনএর প্রতিবাদে ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ্বাংলা ভাষাকে পূর্ব পাকিস্তানের রাষ্ট্রভাষা করার দাবি তোলেন

এই ভাষাগত বৈষম্যই ছিল ভাষা আন্দোলনের প্রকৃত উৎসভাষাই একটি জাতির আত্মপরিচয়, সংস্কৃতিঅর্থনৈতিক অধিকারের বাহনতাই বাংলাভাষীদের রাষ্ট্রভাষার দাবিকে কেবল ভাষার প্রশ্ন হিসেবে নয়, সাংস্কৃতিকরাজনৈতিক স্বাধিকারের প্রশ্ন হিসেবেও বিবেচনা করতে হবে

📘 সংজ্ঞা / মূল ধারণা

ভাষা আন্দোলন: ১৯৪৭ থেকে ১৯৫২ সাল পর্যন্ত পূর্ব পাকিস্তানে বাংলাকে পাকিস্তানের অন্যতম রাষ্ট্রভাষা হিসেবে প্রতিষ্ঠার দাবিতে পরিচালিত গণআন্দোলন

চূড়ান্ত পরিণতি: ১৯৫২ সালের ২১ ফেব্রুয়ারি ঢাকায় ছাত্র-জনতার ওপর গুলিবর্ষণকয়েকজন ভাষাশহীদের আত্মত্যাগ

রাজনৈতিক ফল: বাঙালি জাতীয়তাবাদের উন্মেষ, যা পরবর্তীতে ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধে রূপ নেয়

লাহোর প্রস্তাবদ্বিজাতিতত্ত্ব

পাকিস্তান রাষ্ট্রের ধারণা প্রথম আনুষ্ঠানিক রূপ পায় ১৯৪০ সালের ২৩ মার্চ অনুষ্ঠিত নিখিল ভারত মুসলিম লীগের লাহোর অধিবেশনেসেদিন শেরে বাংলা এ. কে. ফজলুল হক ঐতিহাসিক লাহোর প্রস্তাব উত্থাপন করেনপ্রস্তাবে ব্রিটিশ ভারতের মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ অঞ্চলসমূহকে নিয়ে স্বাধীন রাষ্ট্র গঠনের কথা বলা হয়উল্লেখ্য, মূল লাহোর প্রস্তাবেস্বাধীন রাষ্ট্রসমূহ (states)’ বহুবচনে উল্লেখ থাকলেও পরবর্তীতে ১৯৪৬ সালের দিল্লি কনভেনশনে তা একবচনে (state) পরিবর্তন করে একটি একক পাকিস্তান রাষ্ট্রের ধারণায় রূপান্তরিত হয়এই বিচ্যুতি পরবর্তীতে বাঙালির স্বাধিকারের পথ সংকুচিত করে

দ্বিজাতিতত্ত্বের ভিত্তিতে গঠিত পাকিস্তানে ধর্মই ছিল ঐক্যের একমাত্র সূত্র; ভাষা, সংস্কৃতিভৌগোলিক ভিন্নতাকে উপেক্ষা করা হয়েছিলভাষা আন্দোলনের মাধ্যমে এই দ্বিজাতিতত্ত্বের অসারতা প্রমাণিত হয় এবং বাঙালি জাতীয়তাবাদের ভাবাদর্শ ছড়িয়ে পড়ে

⚠️ সতর্কতা

লাহোর প্রস্তাব উত্থাপনকারীশেরে বাংলা এ. কে. ফজলুল হক (১৯৪০)। জিন্নাহ বা সোহরাওয়ার্দী নন

অনেক প্রশ্নে ‘১৯৪০’ ও ‘২৩ মার্চএকসাথে যাচাই করা হয়। ‘২২ মার্চবা ‘১৯৪১’ বিকল্পগুলো ভুল

পরিসংখ্যানে দ্বিভাষিক বাস্তবতা (১৯৪৭)

সূচক

পূর্ব পাকিস্তান

পশ্চিম পাকিস্তান

মোট জনসংখ্যার অংশ

প্রায় ৫৬%

প্রায় ৪৪%

বাংলাভাষী জনগোষ্ঠী

প্রায় সমগ্র অঞ্চল

প্রায় শূন্য

উর্দুভাষী জনগোষ্ঠী

সামান্য (অভিজাত শ্রেণি)

প্রায় ৭%

রাজধানী/প্রশাসনিক কেন্দ্র

ঢাকা (প্রাদেশিক)

করাচি (কেন্দ্রীয়)

মুদ্রা/স্ট্যাম্প/মুদ্রণ

শুধুমাত্র উর্দু-ইংরেজি

শুধুমাত্র উর্দু-ইংরেজি

📊 লাইভ আপডেট

তথ্যসূত্র: পাকিস্তান জনগণনা ১৯৫১; বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো (BBS) ঐতিহাসিক প্রতিবেদন

বর্তমান (২০২২ আদমশুমারি) বাংলাদেশের মোট জনসংখ্যা ১৬.৯৮ কোটি; বাংলাভাষী প্রায় ৯৮%।

বিশ্বে মাতৃভাষাভাষীর সংখ্যার দিক থেকে বাংলা ভাষার অবস্থান ৭ম (Ethnologue, ২০২৪)।

১৯৪৭: ভাষাবিতর্কের সূত্রপাত

দেশভাগের পরপরই পাকিস্তানে রাষ্ট্রভাষা প্রশ্নে বিতর্ক শুরু হয়। ১৯৪৭ সালের জুলাই মাসে আলিগড় বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ড. জিয়াউদ্দিন আহমদ একটি বিবৃতিতে উর্দুকে পাকিস্তানের একমাত্র রাষ্ট্রভাষা করার প্রস্তাব দেনজুলাই-আগস্ট মাস জুড়ে পূর্ব বাংলার বুদ্ধিজীবী মহলেনিয়ে তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা দেয়

১৯৪৭ সালের ২৯ জুলাই দৈনিকআজাদপত্রিকায় ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ্এক প্রবন্ধে বলেনপূর্ব পাকিস্তানের রাষ্ট্রভাষা হতে হবে বাংলা, এবং উর্দুর সঙ্গে বাংলাকেও পাকিস্তানের অন্যতম রাষ্ট্রভাষা হিসেবে স্বীকৃতি দিতে হবেএটিই ছিল রাষ্ট্রভাষা প্রশ্নে প্রথম যুক্তিনিষ্ঠ পাল্টা অবস্থান

তমদ্দুন মজলিস প্রতিষ্ঠা

১৯৪৭ সালেরসেপ্টেম্বর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের পদার্থবিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষক অধ্যাপক আবুল কাশেম-এর নেতৃত্বে গঠিত হয়তমদ্দুন মজলিস’। এটি ছিল একটি ইসলামি সাংস্কৃতিক সংগঠন যা ভাষা আন্দোলনের প্রথম সাংগঠনিক ভিত্তি গড়ে তোলেসংগঠনটি সেপ্টেম্বরেই প্রকাশ করে ঐতিহাসিক পুস্তিকাপাকিস্তানের রাষ্ট্রভাষা: বাংলা না উর্দু?’। পুস্তিকাটিতে তিনটি প্রবন্ধ ছিল—ড. কাজী মোতাহার হোসেন, অধ্যাপক আবুল কাশেমআবুল মনসুর আহমদেরএই পুস্তিকাই ভাষা আন্দোলনের প্রথম দলিল হিসেবে স্বীকৃত

📘 সংজ্ঞা / মূল ধারণা

তমদ্দুন মজলিসপ্রতিষ্ঠা: ১ সেপ্টেম্বর ১৯৪৭।

প্রতিষ্ঠাতা: অধ্যাপক আবুল কাশেম (ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের পদার্থবিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষক)।

মুখপত্র: ‘সৈনিকপত্রিকা

ভূমিকা: ভাষা আন্দোলনের প্রথম সাংগঠনিক কাঠামো; প্রথম রাষ্ট্রভাষা সংগ্রাম পরিষদ গঠনের পেছনে নেতৃস্থানীয়

এক্সাম-টিপ

একটি প্রশ্ন বারবার আসে: তমদ্দুন মজলিসের প্রতিষ্ঠাতা কে এবং তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কোন বিভাগের শিক্ষক ছিলেন?

উত্তর: অধ্যাপক আবুল কাশেম; পদার্থবিজ্ঞান (Physics) বিভাগ

বিকল্পেরসায়ন’, ‘ইসলামী শিক্ষা’, ‘অর্থনীতি’—এসব ভুল উত্তর

প্রথম রাষ্ট্রভাষা সংগ্রাম পরিষদ

১৯৪৭ সালের ডিসেম্বরে তমদ্দুন মজলিসের উদ্যোগে গঠিত হয় প্রথমরাষ্ট্রভাষা সংগ্রাম পরিষদ’। আহ্বায়ক ছিলেন অধ্যাপক নুরুল হক ভূঁইয়া। এ পরিষদ ১৯৪৮ সালের প্রথম দিকে আন্দোলনের রূপরেখা প্রণয়ন করেমনে রাখতে হবে—‘রাষ্ট্রভাষা সংগ্রাম পরিষদএকাধিক ধাপে গঠিত হয়েছিল; প্রথমটি ১৯৪৭-এ এবং পরে ১৯৪৮ ও ১৯৫২-তে নতুন কাঠামোয় পুনর্গঠিত হয়

⚠️ সতর্কতা

রাষ্ট্রভাষা সংগ্রাম পরিষদ’ ও ‘সর্বদলীয় কেন্দ্রীয় রাষ্ট্রভাষা সংগ্রাম পরিষদএক নয়

(ক) প্রথম রাষ্ট্রভাষা সংগ্রাম পরিষদ গঠিত হয় ডিসেম্বর ১৯৪৭।

(খ) ‘সর্বদলীয় কেন্দ্রীয় রাষ্ট্রভাষা সংগ্রাম পরিষদগঠিত হয় ৩১ জানুয়ারি ১৯৫২, যার আহ্বায়ক ছিলেন কাজী গোলাম মাহবুব

প্রশ্নে যদিসর্বদলীয়শব্দটি থাকেউত্তর ১৯৫২; না থাকলে সাধারণত ১৯৪৭।

১৯৪৮: আন্দোলনের প্রথম পর্যায়

১৯৪৮ সাল ভাষা আন্দোলনের সক্রিয় সূচনা বছরএই বছর ধীরেন্দ্রনাথ দত্তের গণপরিষদ প্রস্তাব, প্রথম হরতাল, মোহাম্মদ আলী জিন্নাহর ঢাকা সফরতাঁর বিরুদ্ধে ছাত্রপ্রতিরোধসবই সংঘটিত হয়এই বছরই বাঙালি প্রথমবার সংগঠিতভাবে রাষ্ট্রভাষা প্রশ্নে সরকারের মুখোমুখি দাঁড়ায়

ধীরেন্দ্রনাথ দত্তের ঐতিহাসিক প্রস্তাব

১৯৪৮ সালের ২৩ ফেব্রুয়ারি পাকিস্তান গণপরিষদের প্রথম অধিবেশনে কুমিল্লার কংগ্রেস সদস্য ধীরেন্দ্রনাথ দত্ত উর্দুইংরেজির পাশাপাশি বাংলাকেও গণপরিষদের অন্যতম ভাষা হিসেবে ব্যবহারের প্রস্তাব উত্থাপন করেনঅধিবেশন বসেছিল পাকিস্তানের তদানীন্তন রাজধানী করাচিতেতাঁর প্রস্তাব পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী লিয়াকত আলী খান, খাজা নাজিমুদ্দিন প্রমুখের তীব্র বিরোধিতায় প্রত্যাখ্যাত হয়এটিই গণপরিষদে রাষ্ট্রভাষা প্রশ্নে প্রথম আনুষ্ঠানিক দাবি

📌 মনে রাখুন

ধীরেন্দ্রনাথ দত্তকুমিল্লা; কংগ্রেস সদস্য; পেশায় আইনজীবী

প্রস্তাব উত্থাপনের তারিখ: ২৩ ফেব্রুয়ারি ১৯৪৮ (পাকিস্তান গণপরিষদের ১ম অধিবেশন, করাচি)।

তিনি ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধে পাকিস্তানি বাহিনীর হাতে শহীদ হন

এক্সাম-টিপ

পাকিস্তান গণপরিষদে / Constituent Assembly-তে বাংলা ভাষা ব্যবহারের দাবি প্রথম কে করেন?’ — ধীরেন্দ্রনাথ দত্ত

বিকল্পে শেখ মুজিবুর রহমান, আবুল হাশেম, ড. শহীদুল্লাহ্‌—এসব ভুল

প্রথম হরতাল (১১ মার্চ ১৯৪৮)

১৯৪৮ সালেরমার্চ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ফজলুল হক হলে অনুষ্ঠিত সর্বদলীয় সভায়রাষ্ট্রভাষা সংগ্রাম পরিষদপুনর্গঠিত হয়। এ সভাতেই ১১ মার্চকে রাষ্ট্রভাষা দিবস হিসেবে পালনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। ১১ মার্চ ১৯৪৮ পূর্ব বাংলায় বাংলাকে রাষ্ট্রভাষা করার দাবিতে প্রথম সাধারণ ধর্মঘট পালিত হয়ঢাকা সচিবালয়, রেডিও পাকিস্তান, পোস্ট অফিসসহ সরকারি প্রতিষ্ঠানে পিকেটিং চলেপুলিশের সাথে সংঘর্ষে শেখ মুজিবুর রহমান, শামসুল হক, অলি আহাদসহ অনেক ছাত্রনেতা গ্রেফতার হনএজন্যই ১৯৪৮-১৯৫২ পর্যন্ত প্রতি বছর ১১ মার্চকেভাষা দিবসহিসেবে পালন করা হতো

⚠️ সতর্কতা

ভাষা দিবসবনামশহীদ দিবস’ — দুটি ভিন্ন তারিখ

১১ মার্চ — ১৯৪৮ থেকে ১৯৫২ পর্যন্ত পালিতভাষা দিবস’।

২১ ফেব্রুয়ারি — ১৯৫৩ সাল থেকে পালিতশহীদ দিবস’।

বর্তমানে ২১ ফেব্রুয়ারিমহান শহীদ দিবসআন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস’।

জিন্নাহর ঢাকা সফরছাত্রপ্রতিরোধ

পাকিস্তানের গভর্নর জেনারেল মোহাম্মদ আলী জিন্নাহ ১৯৪৮ সালের ১৯ থেকে ২৪ মার্চ ঢাকা সফর করেন। ২১ মার্চ ১৯৪৮ ঢাকার রেসকোর্স ময়দানে (বর্তমান সোহরাওয়ার্দী উদ্যান) দেওয়া ভাষণে তিনি ঘোষণা করেন: ‘Urdu and Urdu alone shall be the state language of Pakistan’ অর্থাৎ ‘উর্দু এবং একমাত্র উর্দুই হবে পাকিস্তানের রাষ্ট্রভাষা’। উপস্থিত জনসমাবেশের একাংশনা, নাবলে প্রতিবাদ জানায়

২৪ মার্চ ১৯৪৮ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কার্জন হলে বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাবর্তন অনুষ্ঠানে জিন্নাহ পুনরায় একই বক্তব্য পুনরাবৃত্তি করেনউপস্থিত ছাত্ররা তৎক্ষণাদাঁড়িয়ে ‘No, No’ ধ্বনিতে প্রতিবাদ জানায়এটি ছিল রাষ্ট্রপ্রধানের মুখের ওপর বাঙালি ছাত্রসমাজের প্রথম সংগঠিত প্রতিরোধজিন্নাহ এর কিছু মাস পরই ১১ সেপ্টেম্বর ১৯৪৮ মৃত্যুবরণ করেন

📌 মনে রাখুন

জিন্নাহর ঢাকা সফর: ১৯-২৪ মার্চ ১৯৪৮।

রেসকোর্স ময়দানে ভাষণ: ২১ মার্চ ১৯৪৮ (উর্দু একমাত্র রাষ্ট্রভাষা ঘোষণা)।

কার্জন হলে ছাত্রপ্রতিবাদ: ২৪ মার্চ ১৯৪৮।

১৯৪৮ সালেরএপ্রিল পাকিস্তান গণপরিষদে নাজিমুদ্দিন-পরিষদ চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়, যাতে বাংলাকে পূর্ব বাংলার সরকারি ভাষা করার প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছিলকিন্তু সরকার পরে তা ভঙ্গ করে

১৯৪৯–১৯৫১: সাংগঠনিক ভিত্তি স্থাপন

১৯৪৮ সালের গণআন্দোলনের পর সরকার সাময়িকভাবে নিপীড়নমূলক পদক্ষেপ নিয়ে আন্দোলন স্তিমিত করতে চেষ্টা করেকিন্তু পূর্ব বাংলায় ভাষাস্বাধিকার প্রশ্নে সচেতনতা বাড়তেই থাকে। এ সময়কালে দুটি গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা ঘটেআওয়ামী মুসলিম লীগ গঠন এবং পাকিস্তান গণআজাদী লীগের তৎপরতা

আওয়ামী মুসলিম লীগ গঠন (২৩ জুন ১৯৪৯)

১৯৪৯ সালের ২৩ জুন ঢাকার রোজ গার্ডেনে গঠিত হয়পূর্ব পাকিস্তান আওয়ামী মুসলিম লীগ’। সভাপতি ছিলেন মাওলানা আবদুল হামিদ খান ভাসানী এবং সাধারণ সম্পাদক শামসুল হক। এ দলটিই পরবর্তীতে ১৯৫৫ সালেআওয়ামী লীগনামে অসাম্প্রদায়িক রূপ গ্রহণ করেআওয়ামী মুসলিম লীগ গঠন ভাষা আন্দোলনকে রাজনৈতিক প্ল্যাটফর্ম প্রদান করে

১৯৫২: প্রস্তুতি পর্ব

১৯৫২ সালের ২৭ জানুয়ারি পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী খাজা নাজিমুদ্দিন পল্টন ময়দানের জনসভায় ঘোষণা করেন: ‘উর্দুই হবে পাকিস্তানের একমাত্র রাষ্ট্রভাষা।’ এই ঘোষণা পূর্ব বাংলায় তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি করেউল্লেখ্য, নাজিমুদ্দিন নিজে ছিলেন ঢাকার অধিবাসী এবং ১৯৪৮ সালে তিনিই ছিলেন পূর্ব বাংলার মুখ্যমন্ত্রী, যিনি জিন্নাহ-পরবর্তী চুক্তিতে বাংলাকে সরকারি ভাষা করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন

৩০ জানুয়ারি ১৯৫২ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্ররা ধর্মঘট পালন করে। ৩১ জানুয়ারি ১৯৫২ আওয়ামী মুসলিম লীগের সভাপতি মাওলানা ভাসানীর সভাপতিত্বে ঢাকার বার লাইব্রেরি হলে অনুষ্ঠিত সভায় গঠিত হয়সর্বদলীয় কেন্দ্রীয় রাষ্ট্রভাষা সংগ্রাম পরিষদ’। আহ্বায়ক নির্বাচিত হন কাজী গোলাম মাহবুব। এ পরিষদই ২১ ফেব্রুয়ারি হরতালবিক্ষোভ মিছিলের ডাক দেয়

📘 সংজ্ঞা / মূল ধারণা

সর্বদলীয় কেন্দ্রীয় রাষ্ট্রভাষা সংগ্রাম পরিষদগঠিত: ৩১ জানুয়ারি ১৯৫২।

সভাপতিত্বকারী: মাওলানা আবদুল হামিদ খান ভাসানী

আহ্বায়ক: কাজী গোলাম মাহবুব

অন্যান্য সদস্য: অলি আহাদ, আবদুল মতিন, শামসুল হক, খালেক নেওয়াজ খান প্রমুখ

প্রধান কর্মসূচি: ২১ ফেব্রুয়ারি ১৯৫২ — সারা দেশে হরতাল, ছাত্র ধর্মঘটবিক্ষোভ মিছিল

১৪৪ ধারা জারি

১৯৫২ সালের ২০ ফেব্রুয়ারি বিকেলে সরকার ঢাকা শহরেমাসের জন্য ১৪৪ ধারা জারি করেএই ধারার ফলে ঢাকায় সভা, মিছিল, জমায়েত নিষিদ্ধ হয়। ১৪৪ ধারার মাধ্যমে সরকার ২১ ফেব্রুয়ারির ঘোষিত হরতালমিছিল বানচাল করতে চাচ্ছিল। ২০ ফেব্রুয়ারি রাতে সংগ্রাম পরিষদের সভায় ১৪৪ ধারা ভঙ্গ করা হবে কি না তা নিয়ে দীর্ঘ বিতর্কের পর ছাত্রনেতাদের চাপে ১৪৪ ধারা ভঙ্গের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়

📘 সংজ্ঞা / মূল ধারণা

১৪৪ ধারামূল আইন: ফৌজদারি কার্যবিধি (Code of Criminal Procedure, 1898)।

ধারা প্রয়োগকারী কর্তৃপক্ষকে অনুমতি দেয়বা ততোধিক ব্যক্তির জমায়েত নিষিদ্ধ করতে

১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলনে এই ধারা সবচেয়ে আলোচিত হয়

এক্সাম-টিপ

‘১৪৪ ধারাকোন আইনের অংশ? — ফৌজদারি কার্যবিধি (Criminal Procedure Code)।

এটি দণ্ডবিধি (Penal Code) বা সাক্ষ্য আইন (Evidence Act) নয়

১৯৭৩ সালের নতুন ফৌজদারি কার্যবিধিতেধারাটি যথারীতি বহাল রাখা হয়েছে

একুশে ফেব্রুয়ারি ১৯৫২ — রক্তঝরা দিন

ফাল্গুন ১৩৫৮ বঙ্গাব্দ, বৃহস্পতিবার

১৯৫২ সালের ২১ ফেব্রুয়ারি ছিল বৃহস্পতিবার, বাংলাফাল্গুন ১৩৫৮ বঙ্গাব্দএদিন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আমতলায় ছাত্রসমাবেশে সিদ্ধান্ত হয়—১৪৪ ধারা ভঙ্গ করে বিধানসভার দিকে মিছিল করা হবেছাত্ররা ১০ জনের ছোট ছোট দলে বিশ্ববিদ্যালয় প্রাঙ্গণ থেকে বের হয়ে আসেপুলিশ কাঁদানে গ্যাসলাঠিচার্জ করেবেলা সাড়ে তিনটার দিকে পুলিশ ঢাকা মেডিকেল কলেজ হোস্টেলের সামনে গুলিবর্ষণ করে

এই গুলিবর্ষণে ঘটনাস্থলে শহীদ হন আবুল বরকত, রফিকউদ্দিন আহমদ, আবদুল জব্বারআবদুস সালাম (সালাম পরবর্তীতে চিকিৎসাধীন অবস্থায়এপ্রিল মৃত্যুবরণ করেন)। ঘটনাস্থলে আরও মারা যানবছরের কিশোর অহিউল্লাহপরের দিন ২২ ফেব্রুয়ারি গায়েবানা জানাজাবিক্ষোভকালে পুলিশের গুলিতে শহীদ হন শফিউর রহমান

📌 মনে রাখুন

২১ ফেব্রুয়ারি ১৯৫২ = ৮ ফাল্গুন ১৩৫৮ বঙ্গাব্দ

বার: বৃহস্পতিবার

গুলিবর্ষণের স্থান: ঢাকা মেডিকেল কলেজ হোস্টেলের সামনে

সেদিন পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী: খাজা নাজিমুদ্দিন

পাকিস্তানের গভর্নর জেনারেল: খাজা নাজিমুদ্দিন (১৯৪৮-৫১ পরে), তবে ২১ ফেব্রুয়ারি ১৯৫২ তারিখে গভর্নর জেনারেল ছিলেন গোলাম মুহাম্মদ; পূর্ব বাংলার গভর্নর ছিলেন নুরুল আমিন (একইসঙ্গে মুখ্যমন্ত্রী)।

মুখ্যমন্ত্রী (পূর্ব বাংলা): নুরুল আমিন

⚠️ সতর্কতা

প্রশ্ন ১৯৫২-র ২১ ফেব্রুয়ারি পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী কে ছিলেন?’

উত্তর: খাজা নাজিমুদ্দিন

প্রশ্ন: ‘পূর্ব বাংলার মুখ্যমন্ত্রী কে ছিলেন?’

উত্তর: নুরুল আমিন

প্রশ্ন: ‘পাকিস্তানের গভর্নর জেনারেল কে ছিলেন?’

উত্তর: গোলাম মুহাম্মদ (১৯৫১-৫৫); তবে কিছু পাঠ্যেখাজা নাজিমুদ্দিন’ও দেখা যায়, যা মূলত ১৯৪৮-৫১ সময়কাল

তিন তথ্য গুলিয়ে ফেলবেন না

বঙ্গবন্ধুর ভূমিকা

ভাষা আন্দোলনের সময় বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বন্দি ছিলেন। ১৯৫২ সালের ২৬ জানুয়ারি পাকিস্তান সরকারের কারাগার বিধি ভঙ্গের অভিযোগে গ্রেফতার হয়ে তিনি ফরিদপুর জেলে বন্দি ছিলেন। ২১ ফেব্রুয়ারি ১৯৫২-র গুলিবর্ষণের খবর পেয়ে তিনি কারাগারের ভেতর থেকে অনশন শুরু করেন এবং কারারক্ষী মহিউদ্দিন আহমদের মাধ্যমে আন্দোলনকারীদের কাছে গোপন বার্তা পাঠান। ২৭ ফেব্রুয়ারি তাঁকে ঢাকার কেন্দ্রীয় কারাগারে স্থানান্তর করা হয়

২১ থেকে ২৬ ফেব্রুয়ারি: দিনপঞ্জি

তারিখ / সাল

ঘটনা

তাৎপর্য

২০ ফেব্রুয়ারি ১৯৫২

ঢাকায়মাসের জন্য ১৪৪ ধারা জারি; রাতে ছাত্রনেতাদের সভায় ১৪৪ ধারা ভঙ্গের সিদ্ধান্ত

রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে নাগরিক অবাধ্যতার সিদ্ধান্ত

২১ ফেব্রুয়ারি ১৯৫২

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আমতলায় ছাত্রসভা; ১০ জনের দলে মিছিল; ঢাকা মেডিকেল কলেজ হোস্টেলের সামনে পুলিশের গুলিবর্ষণ; বরকত, জব্বার, রফিক, অহিউল্লাহ শহীদ; সালাম গুরুতর আহত

ভাষার দাবিতে রক্তদান; বাঙালি জাতীয়তাবাদের জন্ম

২২ ফেব্রুয়ারি ১৯৫২

গায়েবানা জানাজাবিক্ষোভ মিছিল; কার্জন হল এলাকায় পুলিশের গুলিতে শফিউর রহমান শহীদ

প্রতিরোধের বিস্তৃতি; গ্রামাঞ্চলেও আন্দোলন ছড়ায়

২৩ ফেব্রুয়ারি ১৯৫২

রাতের অন্ধকারে ঢাকা মেডিকেল কলেজের ছাত্ররা নির্মাণ করেন প্রথম শহীদ মিনার

শহীদদের স্মৃতিরক্ষার প্রথম প্রতীক

২৪ ফেব্রুয়ারি ১৯৫২

শহীদ শফিউর রহমানের পিতা মাহবুব এলাহি প্রথম শহীদ মিনার উদ্বোধন করেন

প্রথম শহীদ মিনারের আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতি

২৬ ফেব্রুয়ারি ১৯৫২

পুলিশসেনাবাহিনী প্রথম শহীদ মিনার ভেঙে ফেলে; ‘দৈনিক আজাদপত্রিকা বন্ধ ঘোষিত

রাষ্ট্রীয় দমননীতি; কিন্তু আন্দোলন অপ্রতিরোধ্য

এপ্রিল ১৯৫২

ভাষাশহীদ আবদুস সালাম চিকিৎসাধীন অবস্থায় শহীদ হন

দীর্ঘস্থায়ী আঘাতের শেষ আত্মত্যাগ

📊 লাইভ আপডেট

তথ্যসূত্র: বদরুদ্দীন উমর রচিতপূর্ব-বাংলার ভাষা আন্দোলনতৎকালীন রাজনীতি’ (১৯৭০);

ভাষা আন্দোলন গবেষণা কেন্দ্র; বাংলাপিডিয়া

সরকারি হিসাব অনুযায়ী স্বীকৃত শহীদ: ৫ জন (সালাম, বরকত, রফিক, জব্বার, শফিউর)।

তবে অহিউল্লাহঅজ্ঞাত আরও অনেকে নিহত হন বলে গবেষকদের অভিমত

ভাষাশহীদদের সংক্ষিপ্ত পরিচিতি

সরকারিভাবে স্বীকৃত প্রধান ভাষাশহীদ পাঁচজনসালাম, বরকত, রফিক, জব্বারশফিউরতাঁদের পাশাপাশি অহিউল্লাহ নামের এক কিশোরের শাহাদাতও বহু গবেষকের গবেষণায় উঠে এসেছেনিচে তাঁদের সংক্ষিপ্ত পরিচিতি দেওয়া হলো

শহীদ

জন্ম / স্থান

পেশা / অবস্থা

শাহাদাতের তারিখ

আবদুস সালাম

১৯২৫, লক্ষ্মণপুর, ফেনী

ঢাকার সরকারি অফিসে কর্মরত পিয়ন

এপ্রিল ১৯৫২ (২১ ফেব্রুয়ারি গুরুতর আহত, পরে মৃত্যু)

আবুল বরকত

১৩ জুন ১৯২৭, মুর্শিদাবাদ (পশ্চিমবঙ্গ)

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের এমএ ছাত্র

২১ ফেব্রুয়ারি ১৯৫২

রফিকউদ্দিন আহমদ

৩০ অক্টোবর ১৯২৬, পাড়িল (সিংগাইর, মানিকগঞ্জ)

ঢাকা মানিকগঞ্জ-ভিত্তিক ছাপাখানার কর্মচারী

২১ ফেব্রুয়ারি ১৯৫২

আবদুল জব্বার

১৯১৯, পাঁচুয়া, গফরগাঁও, ময়মনসিংহ

কৃষক, সাবেক সেনাসদস্য (ব্রিটিশ আমলে)

২১ ফেব্রুয়ারি ১৯৫২

শফিউর রহমান

২৪ জানুয়ারি ১৯১৮, কোন্নগর, হুগলি

ঢাকা হাইকোর্টের হিসাবরক্ষক

২২ ফেব্রুয়ারি ১৯৫২

অহিউল্লাহ

১৯৪৩ (আনুমানিক), ঢাকা

বছরের কিশোর

২১ ফেব্রুয়ারি ১৯৫২

🧠 মনে রাখার কৌশল

সারজস’ — সংক্ষিপ্ত সূত্র মনে রাখার কৌশল:

সা = সালাম (ফেনী)

র = রফিক (মানিকগঞ্জ)

জ = জব্বার (গফরগাঁও, ময়মনসিংহ)

স = শফিউর (হুগলি, পশ্চিমবঙ্গ; কর্মস্থল ঢাকা)

ব = বরকত (মুর্শিদাবাদ, পশ্চিমবঙ্গ; পড়াশোনা ঢাকা)

অহিউল্লাহ আলাদাভাবে মনে রাখুনতিনি স্থানীয় কিশোর, ২১ ফেব্রুয়ারিতে শহীদ

জন্মস্থান নিয়ে কনফিউশন

একটি প্রিয় প্রশ্ন—‘অমুক ভাষাশহীদের জন্মস্থান কোন জেলা?’। মনে রাখুনপাঁচজনের তিনজনের জন্মকর্মস্থল ঢাকা/তৎকালীন পূর্ব বাংলায়; দুজনের জন্ম পশ্চিমবঙ্গে (বরকত মুর্শিদাবাদে; শফিউর হুগলিতে) হলেও পেশাগত জীবন ছিল ঢাকায়মানিকগঞ্জ জেলার ভাষাশহীদ হলেন রফিকউদ্দিন আহমদগফরগাঁও (ময়মনসিংহ) জেলার ভাষাশহীদ হলেন আবদুল জব্বার

⚠️ সতর্কতা

প্রশ্ন: ‘মানিকগঞ্জ জেলায় কোন ভাষাশহীদের জন্মস্থান?’ — রফিকউদ্দিন আহমদ

প্রশ্ন: ‘গফরগাঁও কার জন্মস্থান?’ — আবদুল জব্বার

প্রশ্ন: ‘ফেনী জেলার ভাষাশহীদ?’ — আবদুস সালাম

প্রশ্ন: ‘কে বায়ান্নর ভাষা আন্দোলনের শহীদ নন?’ — যদি বিকল্পেআসাদথাকে, উত্তর: আসাদ (আসাদ ১৯৬৯-এর গণঅভ্যুত্থানের শহীদ)।

শহীদ মিনার: স্মৃতিস্থাপত্য

প্রথম শহীদ মিনার (২৩-২৬ ফেব্রুয়ারি ১৯৫২)

১৯৫২ সালের ২৩ ফেব্রুয়ারি রাতে ঢাকা মেডিকেল কলেজের ছাত্ররা নিজস্ব উদ্যোগে গুলিবর্ষণের স্থানে একটি স্মৃতিস্তম্ভ নির্মাণ করেনএর নকশা প্রণয়ন করেন মেডিকেল কলেজের ছাত্র বদরুল আলমপ্রায় ১০-১২ ফুট উঁচু এই অস্থায়ী মিনারটির গায়ে লেখা ছিলশহীদ স্মৃতি স্তম্ভ’। শহীদ শফিউর রহমানের পিতা মাহবুব এলাহি ২৪ ফেব্রুয়ারি ১৯৫২ এটি উদ্বোধন করেন। ২৬ ফেব্রুয়ারি ১৯৫২ পুলিশসেনাবাহিনী মিনারটি ভেঙে ফেলে

📌 মনে রাখুন

প্রথম শহীদ মিনার নির্মাণ: ২৩ ফেব্রুয়ারি ১৯৫২ (রাতে)।

নকশাকার: মেডিকেল ছাত্র বদরুল আলম

উদ্বোধন: ২৪ ফেব্রুয়ারি ১৯৫২—শহীদ শফিউর রহমানের পিতা মাহবুব এলাহির হাতে

ধ্বংস: ২৬ ফেব্রুয়ারি ১৯৫২—পুলিশের অভিযানে

কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার

ভাষা শহীদদের স্মৃতিরক্ষায় ১৯৫৭ সালে স্থায়ী কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার নির্মাণের পরিকল্পনা গৃহীত হয়। ১৯৬০ সালের ২১ ফেব্রুয়ারি বর্তমান কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করা হয়মূল নকশাকার ছিলেন স্থপতি হামিদুর রহমান এবং সহযোগী হিসেবে ছিলেন ভাস্কর নভেরা আহমেদ। ১৯৬৩ সালের ২১ ফেব্রুয়ারি আংশিকভাবে সম্পন্ন কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার উদ্বোধন করেন শহীদ বরকতের মা হাসিনা বেগম। ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধের সময় পাকিস্তানি সেনাবাহিনীমিনার ভেঙে ফেলে; স্বাধীনতার পর তা পুনর্নির্মিত হয়

📘 সংজ্ঞা / মূল ধারণা

কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারের স্থপতি: হামিদুর রহমান

ভাস্কর (সহযোগী): নভেরা আহমেদবাংলাদেশের আধুনিক ভাস্কর্যশিল্পের পথিকৃৎ।

ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন: ২১ ফেব্রুয়ারি ১৯৬০।

প্রথম উদ্বোধন: ২১ ফেব্রুয়ারি ১৯৬৩—শহীদ বরকতের মা হাসিনা বেগম

১৯৭১ সালে ধ্বংসপ্রাপ্ত, পরবর্তীতে পুনর্নির্মিত

এক্সাম-টিপ

কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারের স্থপতি কে?’ — হামিদুর রহমান

জয়নুল আবেদিন, কামরুল হাসান, এস. এম. সুলতান, শামীম সিকদার, মৃণাল হকএসব বিকল্প ভুল

নভেরা আহমেদমূল স্থপতি নন; তিনি ছিলেন সহযোগী ভাস্কর

বিদেশে প্রথম শহীদ মিনার

বাংলাদেশের বাইরে প্রথম শহীদ মিনার নির্মিত হয় যুক্তরাজ্যের ওল্ডহ্যাম শহরে ১৯৯৭-৯৮ সালেতবে শহীদ মিনারের একটি বড়আনুষ্ঠানিক রূপ ১৯৯৯ সালে যুক্তরাজ্যের লন্ডনের আলটাব আলী পার্কে স্থাপিত হয়কানাডা, যুক্তরাষ্ট্র, জাপান, ইতালি, ফ্রান্স—এ ছাড়া বহু দেশেই প্রবাসী বাংলাদেশিরা শহীদ মিনার নির্মাণ করেছেনবর্তমানে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস উপলক্ষে বহু দেশে শহীদ মিনারের প্রতিরূপ স্থাপিত আছে

বিশেষ নোট

ভিন্ন উৎসেবিদেশে প্রথম শহীদ মিনারপ্রশ্নের উত্তরে কখনোযুক্তরাজ্যআবার কখনোজাপান (টোকিও, ২০০৬)’ উল্লেখ থাকে

যুক্তরাষ্ট্রে প্রথম শহীদ মিনার’ — হাইকেল্যান্ডটাউন (মেরিল্যান্ড) ১৯৯৬।

ভাষা আন্দোলনের পরবর্তী প্রভাব

১৯৫৪ যুক্তফ্রন্ট ও ২১ দফা

ভাষা আন্দোলনের রাজনৈতিক চেতনার প্রত্যক্ষ ফলাফল ছিল ১৯৫৪ সালের প্রাদেশিক নির্বাচনে যুক্তফ্রন্টের ভূমিধ্বস বিজয়। ১৯৫৩ সালেরডিসেম্বর কৃষক শ্রমিক পার্টি, আওয়ামী মুসলিম লীগ, নেজামে ইসলাম পার্টি এবং গণতন্ত্রী দল মিলে গঠিত হয়যুক্তফ্রন্ট’। শেরে বাংলা এ. কে. ফজলুল হক, মাওলানা ভাসানীহোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী ছিলেন প্রধান নেতা

যুক্তফ্রন্ট ২১ দফা কর্মসূচির ভিত্তিতে নির্বাচনী প্রচারণা পরিচালনা করেএই ২১ দফার প্রথম দফাই ছিলবাংলাকে পাকিস্তানের অন্যতম রাষ্ট্রভাষা হিসেবে স্বীকৃতি প্রদান। ১৯৫৪ সালের নির্বাচনে যুক্তফ্রন্ট ৩০৯টি আসনের মধ্যে ২২৩টি আসন লাভ করেমুসলিম লীগ পায় মাত্র ৯টি আসনপ্রতীক ছিলনৌকা’। জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ৩৪ বছর বয়সে যুক্তফ্রন্ট সরকারের কৃষিসমবায় মন্ত্রী হিসেবে শপথ নেন

📌 মনে রাখুন

যুক্তফ্রন্ট গঠন: ৪ ডিসেম্বর ১৯৫৩।

নির্বাচন: মার্চ ১৯৫৪।

মোট আসন: ৩০৯; যুক্তফ্রন্ট পায়: ২২৩।

প্রতীক: নৌকা

নির্বাচনী ইশতেহার: ২১ দফা

প্রথম দফা: বাংলাকে রাষ্ট্রভাষা হিসেবে স্বীকৃতি

প্রথম মুখ্যমন্ত্রী: শেরে বাংলা এ. কে. ফজলুল হক

বঙ্গবন্ধু: কৃষিসমবায় মন্ত্রী, বয়স ৩৪।

এক্সাম-টিপ

‘২১ দফার ১ম দফা কী ছিল?’ — বাংলাকে অন্যতম রাষ্ট্রভাষা হিসেবে স্বীকৃতি

প্রাদেশিক স্বায়ত্তশাসন’, ‘জমিদারি উচ্ছেদ’, ‘অর্থনৈতিক বৈষম্য দূরীকরণ’—এগুলো অন্যান্য দফায় ছিল, ১ম নয়

যুক্তফ্রন্টের প্রতীক?’ — নৌকা (ধানের শীষ বা লাঙল নয়)।

সাংবিধানিক স্বীকৃতি (১৯৫৬)

দীর্ঘ আন্দোলনের পর ১৯৫৬ সালের ২৯ ফেব্রুয়ারি পাকিস্তানের প্রথম সংবিধানে বাংলাউর্দুউভয়কেই পাকিস্তানের রাষ্ট্রভাষা হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া হয়সংবিধানের ২১৪ অনুচ্ছেদেস্বীকৃতি ছিলস্বাধীন বাংলাদেশের ১৯৭২ সালের সংবিধানের ৩নং অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে: ‘প্রজাতন্ত্রের রাষ্ট্রভাষা বাংলা।’

মাইলফলক

তারিখ

মূল তথ্য

পাকিস্তান সংবিধানে স্বীকৃতি

২৯ ফেব্রুয়ারি ১৯৫৬

বাংলাউর্দুউভয়ই রাষ্ট্রভাষা

বাংলাদেশ সংবিধানে স্বীকৃতি

নভেম্বর ১৯৭২ (গৃহীত)

৩নং অনুচ্ছেদ; কার্যকর ১৬ ডিসেম্বর ১৯৭২

সর্বস্তরে বাংলা প্রচলন আইন

মার্চ ১৯৮৭

এরশাদ সরকারের সময় প্রণীত

⚠️ সতর্কতা

সংবিধানের কোন অনুচ্ছেদে বাংলাকে রাষ্ট্রভাষা হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া হয়েছে?’ — ৩নং অনুচ্ছেদ

সর্বস্তরে বাংলা প্রচলন আইন কত সালে?’ — ১৯৮৭।

বাংলা ভাষায় সর্বপ্রথম জাতিসংঘে ভাষণ?’ — বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান; ২৫ সেপ্টেম্বর ১৯৭৪।

বাংলা একাডেমি প্রতিষ্ঠা

ভাষা আন্দোলনের অন্যতম স্থায়ী ফলাফল হলো বাংলা একাডেমি প্রতিষ্ঠাবাঙালির ভাষা, সাহিত্যসংস্কৃতি গবেষণার উদ্দেশ্যে ১৯৫৫ সালেরডিসেম্বর ঢাকার বর্ধমান হাউজে বাংলা একাডেমি প্রতিষ্ঠিত হয়বর্ধমান হাউজ ছিল তদানীন্তন পূর্ব পাকিস্তানের গভর্নরের বাসভবন; এর পূর্বনাম ছিলবর্ধমান হাউজযা এখন বাংলা একাডেমির মূল ভবন

বাংলা একাডেমি পুরস্কার চালু হয় ১৯৬০ সালে। ১৯৭২ সালে বদরুদ্দীন উমর ১৯৬৯ সালের জন্য ঘোষিত বাংলা একাডেমি পুরস্কার প্রত্যাখ্যান করেনবাংলা একাডেমি প্রাঙ্গণে অমর একুশে বইমেলা চালু হয় ১৯৭৮ সালে চিত্তরঞ্জন সাহার উদ্যোগে; আনুষ্ঠানিকভাবে বাংলা একাডেমি বইমেলাকে দায়িত্বে নেয় ১৯৮৩ সাল থেকে

📘 সংজ্ঞা / মূল ধারণা

বাংলা একাডেমি প্রতিষ্ঠা: ৩ ডিসেম্বর ১৯৫৫।

মূল ভবন: বর্ধমান হাউজ

বাংলা একাডেমি পুরস্কার চালু: ১৯৬০।

অমর একুশে বইমেলা সূচনা: ১৯৭৮ (চিত্তরঞ্জন সাহা)।

প্রথম মহাপরিচালক হিসেবে BCS পাঠ্যবইতে সর্বাধিক উল্লেখিত নাম: ড. মুহম্মদ এনামুল হক (১৯৫৬-৬৯ সময়কালে পরিচালক); তবে পরবর্তী মহাপরিচালক ছিলেন ড. মযহারুল ইসলাম

বিশেষ নোট

বাংলা একাডেমির প্রথম পরিচালক/মহাপরিচালক নিয়ে বিভিন্ন উৎসে ভিন্ন তথ্য আছে

ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ্ছিলেন প্রতিষ্ঠাতা পরামর্শদাতা; প্রকৃতপক্ষে তিনি পরিচালক পদ গ্রহণ করেননি

প্রথম পূর্ণকালীন পরিচালক: ড. মুহম্মদ এনামুল হক (১৯৫৬-১৯৬৯)।

পরবর্তীতেমহাপরিচালকপদ সৃষ্টির পর ড. মযহারুল ইসলামসহ একাধিক ব্যক্তি দায়িত্ব পালন করেছেন

আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস (UNESCO স্বীকৃতি)

কানাডা প্রবাসী রফিকুল ইসলামআবদুস সালামের প্রস্তাবে বাংলাদেশ সরকার ১৯৯৯ সালে ইউনেস্কোর কাছে ২১ ফেব্রুয়ারিকে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস হিসেবে ঘোষণার আবেদন পেশ করে। ১৯৯৯ সালের ১৭ নভেম্বর ইউনেস্কোর সাধারণ সম্মেলনের ৩০তম অধিবেশনে সর্বসম্মতিক্রমেপ্রস্তাব গৃহীত হয়। ২০০০ সাল থেকে বিশ্বের ১৮৮টিরও বেশি দেশে ২১ ফেব্রুয়ারিআন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসপালিত হচ্ছে

📌 মনে রাখুন

ইউনেস্কোর স্বীকৃতি প্রদানের তারিখ: ১৭ নভেম্বর ১৯৯৯।

প্রথম পালন: ২১ ফেব্রুয়ারি ২০০০।

প্রথম বছরে অংশগ্রহণকারী দেশ: ১৮৮+।

ইউনেস্কোর সদর দপ্তর: প্যারিস, ফ্রান্স

প্রস্তাবকারী: কানাডার বাংলা-প্রবাসী রফিকুল ইসলামআবদুস সালাম

আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা ইনস্টিটিউট

ঢাকার সেগুনবাগিচায় অবস্থিত আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা ইনস্টিটিউটের নির্মাণকাজের উদ্বোধন হয় ১৫ মার্চ ২০০১ সালে তদানীন্তন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার হাতেআনুষ্ঠানিক উদ্বোধন হয় ২০১০ সালের ২১ ফেব্রুয়ারিএটি বিশ্বের একমাত্র মাতৃভাষা বিষয়ক গবেষণা প্রতিষ্ঠান যা পৃথিবীর বিপন্ন ভাষাগুলো সংরক্ষণে কাজ করছে

📊 লাইভ আপডেট

আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা ইনস্টিটিউট অবস্থান: সেগুনবাগিচা, ঢাকা

নির্মাণকাজ উদ্বোধন: ১৫ মার্চ ২০০১।

আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন: ২১ ফেব্রুয়ারি ২০১০।

ইউনেস্কোর সদর দপ্তর: প্যারিস

বিশ্বে বাংলাকে রাষ্ট্রভাষার মর্যাদা প্রদানকারী একমাত্র বিদেশি দেশ: সিয়েরা লিওন (২০০২)।

ভাষা আন্দোলনের সাংস্কৃতিক প্রভাব

ভাষা আন্দোলন কেবল রাজনৈতিক ঘটনা নয়; এটি বাঙালির সাহিত্য, সংগীত, চিত্রকলানাট্যচর্চায় গভীর প্রভাব ফেলেছে। ১৯৫২-পরবর্তী বাংলা সাহিত্য মূলত ভাষা আন্দোলনের চেতনাকে ধারণ করে গড়ে উঠেছে

গানে ভাষা আন্দোলন

গান

রচয়িতা (গীতিকার)

সুরকার

বিশেষ তথ্য

আমার ভাইয়ের রক্তে রাঙানো একুশে ফেব্রুয়ারি

আবদুল গাফফার চৌধুরী

প্রথমে আবদুল লতিফ; পরে আলতাফ মাহমুদ (বর্তমান প্রচলিত সুর)

১৯৫২-তে রচিত; প্রথমেএকুশের গাননামে; সর্বাধিক জনপ্রিয় ভাষা-গান

ওরা আমার মুখের ভাষা কাইড়া নিতে চায়

আবদুল লতিফ

আবদুল লতিফ (নিজেই)

১৯৫২; গণসংগীত

সালাম সালাম হাজার সালাম

ফজল-এ-খোদা

আবদুল জব্বার (গায়ক)

মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক, তবে শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা; প্রথম গায়ক: আবদুল জব্বার

⚠️ সতর্কতা

আমার ভাইয়ের রক্তে রাঙানো একুশে ফেব্রুয়ারি’—

গীতিকার: আবদুল গাফফার চৌধুরী

মূল (প্রথম) সুরকার: আবদুল লতিফপরবর্তীতে আলতাফ মাহমুদের সুর বর্তমানে প্রচলিতপ্রশ্নেসুরকারচাইলে আলতাফ মাহমুদই BCS-গৃহীত উত্তর

সালাম সালাম হাজার সালামগানের গায়ক: আবদুল জব্বার

কবিতায় ভাষা আন্দোলন

কবিতা / প্রবন্ধ

কবি / রচয়িতা

বিশেষ তথ্য

কাঁদতে আসিনি, ফাঁসির দাবি নিয়ে এসেছি

মাহবুব-উল-আলম চৌধুরী

১৯৫২; ভাষা আন্দোলনের প্রথম রচিত কবিতা হিসেবে স্বীকৃত

বর্ণমালা, আমার দুঃখিনী বর্ণমালা

শামসুর রাহমান

বাঙালির ভাষাপ্রেমবেদনার প্রতীকী কবিতা

স্মৃতিস্তম্ভ (একুশের কবিতা)

আলাউদ্দিন আল আজাদ

শহীদ মিনারের প্রতীকী চিত্র

একুশে ফেব্রুয়ারি (সংকলন)

সম্পাদক: হাসান হাফিজুর রহমান

১৯৫৩-তে প্রকাশিত প্রথম সংকলন গ্রন্থ

আরেক ফাল্গুন (উপন্যাস)

জহির রায়হান

১৯৬৯-এ প্রকাশিত; ভাষা আন্দোলনভিত্তিক প্রথম প্রধান উপন্যাস

কবর (নাটক)

মুনীর চৌধুরী

১৯৫৩; ভাষা আন্দোলনভিত্তিক নাটক; কারাগারে রচিত

এক্সাম-টিপ

ভাষা আন্দোলনভিত্তিক প্রথম কবিতা?’ — ‘কাঁদতে আসিনি, ফাঁসির দাবি নিয়ে এসেছি’ (মাহবুব-উল-আলম চৌধুরী)।

ভাষা আন্দোলনভিত্তিক নাটক?’ — ‘কবর’ (মুনীর চৌধুরী)।

ভাষা আন্দোলনভিত্তিক উপন্যাস?’ — ‘আরেক ফাল্গুন’ (জহির রায়হান)।

ভাষা আন্দোলনের প্রথম সংকলন গ্রন্থের সম্পাদক?’ — হাসান হাফিজুর রহমান

চলচ্চিত্রে ভাষা আন্দোলন

ভাষা আন্দোলনভিত্তিক প্রথম চলচ্চিত্র জহির রায়হান নির্মিতজীবন থেকে নেয়া’ (১৯৭০)। এটি বাঙালি জাতির রাজনৈতিক প্রতিরোধভাষা-চেতনার রূপক হিসেবে নির্মিত। ১৯৭১-পরবর্তীতে বহু চলচ্চিত্রে ভাষা আন্দোলনের প্রভাব দেখা যায়চাষী নজরুল ইসলামেরওরা ১১ জন’ (১৯৭২), হুমায়ুন আহমেদেরআগুনের পরশমণি’ (১৯৯৪)।

একুশে পদক

ভাষা আন্দোলনজাতীয় গৌরবের প্রতীকএকুশে পদকপ্রথম প্রবর্তিত হয় ১৯৭৬ সালেবাংলাদেশ সরকার প্রতি বছর ২১ ফেব্রুয়ারি বিশিষ্ট নাগরিকদের সাহিত্য, সংস্কৃতি, ভাষা আন্দোলন, শিক্ষা, সমাজসেবা, ক্রীড়াঅন্যান্য ক্ষেত্রে অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপপদক প্রদান করে। ১৯৭৬ সালে প্রথম একুশে পদকপ্রাপ্ত মহিলা ছিলেন বেগম সুফিয়া কামাল

📌 মনে রাখুন

একুশে পদক প্রবর্তন: ১৯৭৬।

প্রথম মহিলা প্রাপক (১৯৭৬): বেগম সুফিয়া কামাল

ভাষা আন্দোলন ক্যাটাগরিতেপ্রতিবছর কয়েকজন ভাষাসৈনিকদের সম্মাননা দেওয়া হয়

২০১৮ সালের মরণোত্তর একুশে পদক প্রাপক: হুমায়ূন আহমেদ

মনে রাখার কৌশলট্রিকস

শহীদদের নাম মনে রাখার সূত্র

🧠 মনে রাখার কৌশল

সংক্ষিপ্ত রূপ: ‘সারজসব

সাসালাম (ফেনী)

র — রফিক (সিংগাইর, মানিকগঞ্জ)

জ — জব্বার (গফরগাঁও, ময়মনসিংহ)

স — শফিউর (হুগলি; কর্মস্থল ঢাকা)

ব — বরকত (মুর্শিদাবাদ; পড়াশোনা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়)

* কিশোর অহিউল্লাহকে আলাদাভাবে মনে রাখুন

তারিখ মনে রাখার ছন্দ

🧠 মনে রাখার কৌশল

ছন্দ — ‘তিপ্পান্নে শহীদ, পঞ্চান্নে একাডেমি, ছাপ্পান্নে স্বীকৃতি

১৯৫৩ → শহীদ দিবস হিসেবে ২১ ফেব্রুয়ারি প্রথম পালন

১৯৫৫ → বাংলা একাডেমি প্রতিষ্ঠা (৩ ডিসেম্বর)

১৯৫৬ → পাকিস্তান সংবিধানে বাংলা ভাষার রাষ্ট্রভাষা মর্যাদা (২৯ ফেব্রুয়ারি)

১৯৬০ → বাংলা একাডেমি পুরস্কার শুরু

১৯৭৬ → একুশে পদক প্রবর্তন

১৯৯৯ → ইউনেস্কোর আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস স্বীকৃতি (১৭ নভেম্বর)

২০০০ → প্রথম আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস উদযাপন

সংখ্যা-সূত্র

🧠 মনে রাখার কৌশল

১৪৪ ধারাফৌজদারি কার্যবিধি (Code of Criminal Procedure)

২১ দফাযুক্তফ্রন্ট (১৯৫৪)

দফাবঙ্গবন্ধু (১৯৬৬)

১১ দফাছাত্র সংগ্রাম পরিষদ (১৯৬৯)

১১ মার্চভাষা দিবস (১৯৪৮-৫২)

২১ ফেব্রুয়ারিশহীদ দিবস (১৯৫৩-৭০)

২১ ফেব্রুয়ারিমহান শহীদ দিবসআন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস (২০০০-)

প্রথম-প্রথম তথ্য

প্রথম

তথ্য

তারিখ / সাল

প্রথম রাষ্ট্রভাষা সংগ্রাম পরিষদ

তমদ্দুন মজলিসের উদ্যোগে

ডিসেম্বর ১৯৪৭

প্রথম পুস্তিকা

পাকিস্তানের রাষ্ট্রভাষা: বাংলা না উর্দু?’

সেপ্টেম্বর ১৯৪৭

গণপরিষদে প্রথম দাবি

ধীরেন্দ্রনাথ দত্ত (করাচি)

২৩ ফেব্রুয়ারি ১৯৪৮

প্রথম হরতাল

ভাষা দিবস

১১ মার্চ ১৯৪৮

প্রথম গুলিবর্ষণ

ঢাকা মেডিকেল কলেজ হোস্টেল

২১ ফেব্রুয়ারি ১৯৫২

প্রথম শহীদ মিনার নির্মাণ

ঢাকা মেডিকেল কলেজ ছাত্রদের হাতে

২৩ ফেব্রুয়ারি ১৯৫২ (রাতে)

প্রথম শহীদ মিনার উদ্বোধন

শহীদ শফিউরের পিতা মাহবুব এলাহি

২৪ ফেব্রুয়ারি ১৯৫২

প্রথম ভাষা আন্দোলনভিত্তিক কবিতা

কাঁদতে আসিনি, ফাঁসির দাবি নিয়ে এসেছি’ — মাহবুব-উল-আলম চৌধুরী

১৯৫২

প্রথম সংকলন গ্রন্থ

একুশে ফেব্রুয়ারি’ — সম্পাদক হাসান হাফিজুর রহমান

১৯৫৩

প্রথম শহীদ দিবস পালন

শহীদ দিবস

২১ ফেব্রুয়ারি ১৯৫৩

প্রথম সাংবিধানিক স্বীকৃতি

পাকিস্তান সংবিধান (২১৪ অনুচ্ছেদ)

২৯ ফেব্রুয়ারি ১৯৫৬

আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস

ইউনেস্কোর ৩০তম সাধারণ সম্মেলন

১৭ নভেম্বর ১৯৯৯

🌐 কী-ওয়ার্ডটার্মিনোলজি (Keywords)

বাংলা পরিভাষার পাশাপাশি ইংরেজি টার্মিনোলজি BCS লিখিতভাইভায় অপরিহার্যনিচের সারণিতে ভাষা আন্দোলন-সংক্রান্ত সর্বাপেক্ষা গুরুত্বপূর্ণ পরিভাষা সংকলিত হলো

English Term

বাংলা পরিভাষা

সংক্ষিপ্ত ব্যাখ্যা

Language Movement

ভাষা আন্দোলন

১৯৪৭-৫২ পর্যন্ত পরিচালিত রাষ্ট্রভাষার জন্য আন্দোলন

State Language

রাষ্ট্রভাষা

সরকারিভাবে স্বীকৃত প্রশাসনিক ভাষা

Mother Tongue / Mother Language

মাতৃভাষা

জন্ম থেকে যে ভাষায় কথা বলা হয়

International Mother Language Day

আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস

২১ ফেব্রুয়ারি; ইউনেস্কো স্বীকৃত (১৭ নভেম্বর ১৯৯৯)

Constituent Assembly

গণপরিষদ

সংবিধান প্রণয়নকারী পরিষদ

Two-Nation Theory

দ্বিজাতিতত্ত্ব

ধর্মের ভিত্তিতে আলাদা রাষ্ট্রের ধারণা

Section 144

১৪৪ ধারা

ফৌজদারি কার্যবিধির ধারা; জমায়েত নিষিদ্ধকরণ

Bengali Nationalism

বাঙালি জাতীয়তাবাদ

ভাষা, সংস্কৃতিভূখণ্ডভিত্তিক জাতিসত্তা

Tamaddun Majlish

তমদ্দুন মজলিস

ভাষা আন্দোলনের প্রথম সাংগঠনিক উদ্যোগ (১৯৪৭)

United Front (Jukto Front)

যুক্তফ্রন্ট

১৯৫৩-এ গঠিত নির্বাচনী জোট; ২১ দফা কর্মসূচি

Lahore Resolution

লাহোর প্রস্তাব

১৯৪০-এ ফজলুল হকের উত্থাপিত প্রস্তাব

UNESCO

ইউনেস্কো

জাতিসংঘের শিক্ষা, বিজ্ঞানসাংস্কৃতিক সংস্থা; সদর: প্যারিস

Bangla Academy

বাংলা একাডেমি

ভাষা-সাহিত্য গবেষণা প্রতিষ্ঠান (১৯৫৫)

Ekushey Padak

একুশে পদক

জাতীয় বেসামরিক পদক; প্রবর্তন ১৯৭৬

✍️ লিখিত পরীক্ষার জন্য (Critical View)

ভাষা আন্দোলন কেবল একটি ভাষার দাবি ছিল না; এটি ছিল রাষ্ট্রীয় পরিচয়ের প্রশ্ন। ১৯৪৭-এ ধর্মের ভিত্তিতে গঠিত পাকিস্তানে দুই অঞ্চলের জনগণের সাংস্কৃতিক, অর্থনৈতিকভাষাগত পার্থক্যকে অস্বীকার করা হয়েছিল। ১৯৫২-র রক্তদান প্রমাণ করেছিলভাষাসংস্কৃতির অধিকার রাষ্ট্রের ধর্মীয় ভিত্তির চেয়ে শক্তিশালীএই চেতনাই বাঙালি জাতীয়তাবাদের জন্ম দেয়, যা পরবর্তীতে ১৯৬৬-র ছয় দফা, ১৯৬৯-র গণঅভ্যুত্থান ও ১৯৭১-র মুক্তিযুদ্ধে পূর্ণতা লাভ করেভাষা আন্দোলন তাই বাংলাদেশের রাষ্ট্রসত্তার আদিম উৎসমুখ।”

প্রশ্নউত্তর (Q&A)

পটভূমিদেশভাগ

প্রশ্ন 1: ১৯৪০ সালের ঐতিহাসিক লাহোর প্রস্তাব কে উত্থাপন করেন?

উত্তর: শেরে বাংলা এ. কে. ফজলুল হক

প্রশ্ন 2: লাহোর প্রস্তাব কোন সালে গৃহীত হয়?

উত্তর: ১৯৪০ সালে (২৩ মার্চ)।

প্রশ্ন 3: লাহোর প্রস্তাব ১৯৪০-এর মূল বিষয় কী ছিল?

উত্তর: ব্রিটিশ ভারতের মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ অঞ্চলসমূহকে নিয়ে স্বাধীন রাষ্ট্র গঠন

প্রশ্ন 4: ১৯৪৭ সালে ভারত-পাকিস্তান সীমানা নির্ধারণের ভিত্তি কী ছিল?

উত্তর: র‍্যাডক্লিফ অ্যাওয়ার্ড / র‍্যাডক্লিফ কমিশন

প্রশ্ন 5: ১৯৪৭ সালে দেশভাগের সময় ভারতবর্ষের ভাইসরয় কে ছিলেন?

উত্তর: লর্ড মাউন্টব্যাটেন

তমদ্দুন মজলিসপ্রথম সংগ্রাম পরিষদ

প্রশ্ন 6: তমদ্দুন মজলিসকে প্রতিষ্ঠা করেন?

উত্তর: অধ্যাপক আবুল কাশেম

প্রশ্ন 7: তমদ্দুন মজলিসের প্রতিষ্ঠাতা অধ্যাপক আবুল কাশেম ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কোন বিভাগের শিক্ষক ছিলেন?

উত্তর: পদার্থবিজ্ঞান (Physics) বিভাগ

প্রশ্ন 8: তমদ্দুন মজলিসসংগঠনটি কিসের সাথে সম্পৃক্ত ছিল?

উত্তর: ভাষা আন্দোলন

প্রশ্ন 9: রাষ্ট্রভাষা আন্দোলনে কোন সংস্থা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে?

উত্তর: তমদ্দুন মজলিস

প্রশ্ন 10: রাষ্ট্রভাষা সংগ্রাম পরিষদকত সালে গঠিত হয়?

উত্তর: ১৯৪৭ সালে (ডিসেম্বরে)।

প্রশ্ন 11: সর্বদলীয় কেন্দ্রীয় রাষ্ট্রভাষা সংগ্রাম পরিষদগঠিত হয় কবে?

উত্তর: ৩১ জানুয়ারি ১৯৫২।

ধীরেন্দ্রনাথ দত্ত ও ১৯৪৮-এর আন্দোলন

প্রশ্ন 12: ১৯৪৮ সালে পাকিস্তান গণপরিষদে কে বাংলা ভাষাকে অন্যতম ভাষা হিসেবে ব্যবহারের প্রস্তাব করেন?

উত্তর: ধীরেন্দ্রনাথ দত্ত

প্রশ্ন 13: পাকিস্তান শাসনতান্ত্রিক পরিষদের (Constituent Assembly) ধারা বিবরণীতে বাংলা ভাষা ব্যবহারের দাবি প্রথম কে করেছিলেন?

উত্তর: ধীরেন্দ্রনাথ দত্ত

প্রশ্ন 14: পাকিস্তানের গণপরিষদের প্রথম অধিবেশনে রাষ্ট্রভাষা বাংলা করার দাবি জানান

উত্তর: কুমিল্লার ধীরেন্দ্রনাথ দত্ত

প্রশ্ন 15: ১৯৪৮-১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলনের সময়ভাষা দিবসহিসেবে কোন দিবসটি পালন করা হতো?

উত্তর: ১১ মার্চ

প্রশ্ন 16: ১৯৪৭ সালের জুলাই-আগস্ট মাসে দৈনিকআজাদপত্রিকায় বাংলা ভাষার পক্ষে প্রবন্ধ লিখে রাষ্ট্রভাষা প্রশ্নে প্রথম যুক্তিনিষ্ঠ অবস্থান নেন কে?

উত্তর: ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ্‌।

১২.৪ ১৯৫২-এর মূল ঘটনাতারিখ

প্রশ্ন 17: ১৯৫২ সালের ২১ ফেব্রুয়ারি তারিখে তৎকালীন পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী কে ছিলেন?

উত্তর: খাজা নাজিমুদ্দিন

প্রশ্ন 18: ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলনের সময় পাকিস্তানের গভর্নর জেনারেল কে ছিলেন?

উত্তর: মালিক গোলাম মুহম্মদ (১৯৫১-৫৫)।

প্রশ্ন 19: ১৯৫২ সালের ২১ ফেব্রুয়ারি বাংলা কত তারিখ ছিল?

উত্তর: ৮ ফাল্গুন ১৩৫৮ বঙ্গাব্দ

প্রশ্ন 20: ২১ ফেব্রুয়ারি, ১৯৫২ — বাংলা বঙ্গাব্দ কত ছিল?

উত্তর: ১৩৫৮।

প্রশ্ন 21: ১৯৫২ সালে তৎকালীন ভাষা আন্দোলন কীসের জন্ম দিয়েছিল?

উত্তর: এক নতুন জাতীয় চেতনার (বাঙালি জাতীয়তাবাদ)।

প্রশ্ন 22: ভাষা আন্দোলনের সূত্রপাত হয়

উত্তর: ১৯৪৮ সালে

প্রশ্ন 23: ভাষা আন্দোলনের সময় ছাত্রদের ওপর গুলি করা হয় কোথায়?

উত্তর: ঢাকা মেডিকেল কলেজের সামনে

প্রশ্ন 24: ভাষা আন্দোলনের সময় বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান কোথায় বন্দি ছিলেন?

উত্তর: ফরিদপুর কারাগারে; পরে ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে স্থানান্তরিত

প্রশ্ন 25: ১৪৪ ধারা সর্বাধিক পরিচিত কোন আইনে?

উত্তর: ফৌজদারি কার্যবিধি (Code of Criminal Procedure)।

প্রশ্ন 26: ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলনের ভিত্তি কী ছিল?

উত্তর: বাঙালি জাতীয়তাবাদ

ভাষাশহীদদের পরিচিতি

প্রশ্ন 27: বায়ান্নর ভাষা আন্দোলনের শহীদ নন কে?

উত্তর: আসাদ। (আসাদ ১৯৬৯-এর গণঅভ্যুত্থানের শহীদ।)

প্রশ্ন 28: বাংলা ভাষার জন্য প্রাণ দিয়েছেন নিচের কে?

উত্তর: সালাম

প্রশ্ন 29: মানিকগঞ্জ জেলায় কোন ভাষাশহীদের জন্মস্থান?

উত্তর: রফিকউদ্দিন আহমদ (সিংগাইর, মানিকগঞ্জ)।

প্রশ্ন 30: শহীদ আবদুল জব্বারের জন্মস্থান কোথায়?

উত্তর: পাঁচুয়া গ্রাম, গফরগাঁও থানা, ময়মনসিংহ জেলা

প্রশ্ন 31: শহীদ আবদুস সালামের জন্মস্থান কোথায়?

উত্তর: লক্ষ্মণপুর, ফেনী জেলা

প্রশ্ন 32: শহীদ বরকতের পূর্ণ নামজন্মস্থান কী?

উত্তর: আবুল বরকত; মুর্শিদাবাদ, পশ্চিমবঙ্গ

প্রশ্ন 33: শহীদ শফিউর রহমান কবে শহীদ হন?

উত্তর: ২২ ফেব্রুয়ারি ১৯৫২।

১২.৬ শহীদ মিনার (প্রথমকেন্দ্রীয়)

প্রশ্ন 34: ঢাকায় প্রথম শহীদ মিনার নির্মিত হয় কবে?

উত্তর: ২৩ ফেব্রুয়ারি ১৯৫২ (রাতে নির্মাণ; পরদিন ২৪ ফেব্রুয়ারি উদ্বোধন)।

প্রশ্ন 35: প্রথম শহীদ মিনারের উদ্বোধন করেন কে?

উত্তর: শহীদ শফিউর রহমানের পিতা মাহবুব এলাহী (২৪ ফেব্রুয়ারি ১৯৫২)।

প্রশ্ন 36: ঢাকার কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারের স্থপতি কে?

উত্তর: হামিদুর রহমান (Hamidur Rahman)।

প্রশ্ন 37: কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারের ভাস্কর্যশিল্পী (ভাস্কর) কে ছিলেন?

উত্তর: নভেরা আহমেদ

প্রশ্ন 38: কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপনউদ্বোধন কবে?

উত্তর: ভিত্তিপ্রস্তর: ২১ ফেব্রুয়ারি ১৯৫৭; উদ্বোধন: ২১ ফেব্রুয়ারি ১৯৬৩।

প্রশ্ন 39: কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার কে উদ্বোধন (উন্মোচন) করেন?

উত্তর: শহীদ বরকতের মা (হাসিনা বেগম)।

প্রশ্ন 40: বাংলাদেশের বাইরে প্রথম শহীদ মিনার নির্মিত হয় কোথায়?

উত্তর: যুক্তরাজ্যে (United Kingdom)—অল্ডহ্যাম শহরে (১৯৯৯)।

প্রশ্ন 41: বিশ্বের কতটি দেশে শহীদ মিনার রয়েছে?

উত্তর: ১২+ দেশ (যুক্তরাজ্য, যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা, অস্ট্রেলিয়া, জাপান, ইতালি, ফ্রান্স, ভারত প্রভৃতি)।

প্রশ্ন 42: কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারের কয়টি স্তম্ভ আছে এবং প্রতীকীভাবে কী বোঝায়?

উত্তর: ৫টি স্তম্ভমাঝখানের বড়টিমা’ (বাংলা ভাষা/বাংলা মা), ৪টি পাশের স্তম্ভ চার শহীদ (সালাম, বরকত, রফিক, জব্বার) এর প্রতীক

প্রশ্ন 43: আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস উপলক্ষে প্রথমবার বাংলাদেশের কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারের ছবি সম্বলিত ডাকটিকেট প্রকাশ করেছে কোন দেশ?

উত্তর: ভারত

বাংলা একাডেমি, সংবিধানরাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি

প্রশ্ন 44: বাংলা একাডেমি কত সালে প্রতিষ্ঠিত হয়?

উত্তর: ১৯৫৫ সালে (৩ ডিসেম্বর ১৯৫৫)।

প্রশ্ন 45: বাংলা একাডেমির মূল ভবনের পুরাতন নাম কী?

উত্তর: বর্ধমান হাউস (Burdwan House)।

প্রশ্ন 46: বাংলা একাডেমি পুরস্কার কবে থেকে প্রবর্তিত হয়?

উত্তর: ১৯৬০ সাল থেকে

প্রশ্ন 47: বাংলা একাডেমি প্রাঙ্গণে অমর একুশে বইমেলা চালু হয় কত সালে এবং কার উদ্যোগে?

উত্তর: ১৯৭৮ সালে; চিত্তরঞ্জন সাহা (মুক্তধারার প্রতিষ্ঠাতা)-র উদ্যোগে

প্রশ্ন 48: বাংলা একাডেমির প্রথম মহাপরিচালক কে?

উত্তর: ড. মাযহারুল ইসলাম (BCS-এ গৃহীত আদর্শ উত্তর)।

প্রশ্ন 49: বাংলা একাডেমির প্রথম মহিলা মহাপরিচালক কে?

উত্তর: ড. নীলিমা ইব্রাহিম

প্রশ্ন 50: পাকিস্তান শাসনতন্ত্রে (১৯৫৬) বাংলাকে কত নম্বর অনুচ্ছেদে রাষ্ট্রভাষার স্বীকৃতি দেওয়া হয়?

উত্তর: অনুচ্ছেদ ২১৪ (২৯ ফেব্রুয়ারি ১৯৫৬-এ পাকিস্তানের প্রথম সংবিধানে)।

প্রশ্ন 51: বাংলাদেশের সংবিধানের কোন অনুচ্ছেদে বাংলাকে রাষ্ট্রভাষা ঘোষণা করা হয়েছে?

উত্তর: অনুচ্ছেদ ৩ (Article 3)।

প্রশ্ন 52: বাংলা ভাষা প্রচলন আইনকত সালে পাস হয়?

উত্তর: ১৯৮৭ সালে (৮ মার্চ ১৯৮৭)।

প্রশ্ন 53: অমর একুশেকবিতাটি কার লেখা এবং এটি কোন গ্রন্থে স্থান পায়?

উত্তর: “কাঁদতে আসিনি, ফাঁসির দাবি নিয়ে এসেছি”—মাহবুব-উল-আলম চৌধুরীর কবিতাপ্রথম একুশের সংকলন: হাসান হাফিজুর রহমান সম্পাদিতএকুশে ফেব্রুয়ারি’ (১৯৫৩)।

প্রশ্ন 54: আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা ইনস্টিটিউটকোথায় অবস্থিত?

উত্তর: সেগুনবাগিচা, ঢাকা

যুক্তফ্রন্ট ও ২১ দফা (১৯৫৪)

প্রশ্ন 55: পূর্ব বাংলায় যুক্তফ্রন্ট কত সালে গঠিত হয়?

উত্তর: ১৯৫৩ সালে (৪ ডিসেম্বর ১৯৫৩)।

প্রশ্ন 56: ১৯৫৪ সালের নির্বাচনে যুক্তফ্রন্ট কতটি আসন লাভ করে?

উত্তর: ২২৩টি (মোট ৩০৯টির মধ্যে)।

প্রশ্ন 57: যুক্তফ্রন্টের নির্বাচনী প্রতীক কী ছিল?

উত্তর: নৌকা

প্রশ্ন 58: ১৯৫৪ সালে যুক্তফ্রন্টের নির্বাচনী ইশতেহার কত দফার ভিত্তিতে ছিল?

উত্তর: ২১ দফা

প্রশ্ন 59: ঐতিহাসিক ২১ দফার ১ম দফা কী ছিল?

উত্তর: বাংলাকে পাকিস্তানের অন্যতম রাষ্ট্রভাষা হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া

প্রশ্ন 60: পূর্ব বাংলায় যুক্তফ্রন্ট সরকারের প্রথম মুখ্যমন্ত্রী কে ছিলেন?

উত্তর: শেরে বাংলা এ. কে. ফজলুল হক

প্রশ্ন 61: ১৯৫৪ সালে যুক্তফ্রন্ট সরকারের মন্ত্রিসভায় বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান কত বছর বয়সে মন্ত্রী হন?

উত্তর: ৩৪ বছর বয়সে (কৃষিবন মন্ত্রী)।

প্রশ্ন 62: ১৯৫৪ সালে যুক্তফ্রন্ট সরকারের কৃষিমন্ত্রী কে ছিলেন?

উত্তর: শেখ মুজিবুর রহমান

প্রশ্ন 63: যুক্তফ্রন্ট গঠনকারী প্রধান তিনটি দল কোনগুলো?

উত্তর: (১) আওয়ামী মুসলিম লীগ (২) কৃষক শ্রমিক পার্টি (৩) নেজামে ইসলাম

আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস ও UNESCO স্বীকৃতি

প্রশ্ন 64: UNESCO কত তারিখে ২১ ফেব্রুয়ারিকে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস হিসেবে ঘোষণা করে?

উত্তর: ১৭ নভেম্বর ১৯৯৯।

প্রশ্ন 65: আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস প্রথম পালিত হয় কবে?

উত্তর: ২১ ফেব্রুয়ারি ২০০০।

প্রশ্ন 66: আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস প্রথম বছরে কয়টি দেশে পালিত হয়?

উত্তর: ১৮৮টি দেশে

প্রশ্ন 67: UNESCO-র সদর দপ্তর কোথায় অবস্থিত?

উত্তর: প্যারিস, ফ্রান্স

প্রশ্ন 68: UNESCO-তে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসের প্রস্তাবটি কে উত্থাপন করেন?

উত্তর: বাংলাদেশ; প্রস্তাবকারী রফিকুল ইসলামআবদুস সালাম (কানাডা প্রবাসী বাঙালি)।

প্রশ্ন 69: একুশে ফেব্রুয়ারি’কে UNESCO-র ‘Memory of the World’ রেজিস্টারে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে কোন দলিল হিসেবে?

উত্তর: UNESCO ২০১৭ সালে বঙ্গবন্ধুরমার্চের ভাষণকে Memory of the World-এ অন্তর্ভুক্ত করে; ২১ ফেব্রুয়ারি স্বতন্ত্রভাবে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস

প্রশ্ন 70: আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা ইনস্টিটিউটের নির্মাণ কাজের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপিত হয় কবে?

উত্তর: ১৫ মার্চ ২০০১।

সাংস্কৃতিক প্রতিক্রিয়া (গান, কবিতা, উপন্যাস, পদক)

প্রশ্ন 71: আমার ভাইয়ের রক্তে রাঙানো একুশে ফেব্রুয়ারিগানটির রচয়িতা কে?

উত্তর: আবদুল গাফ্‌ফার চৌধুরী

প্রশ্ন 72: আমার ভাইয়ের রক্তে রাঙানো একুশে ফেব্রুয়ারিগানটির বর্তমান সুরকার কে?

উত্তর: আলতাফ মাহমুদ

প্রশ্ন 73: গানটি প্রথম গাওয়া হয় কোন বছরকোথায়?

উত্তর: ১৯৫৪ সালে; ঢাকা কলেজের ছাত্র আতিকুল ইসলামের কণ্ঠে

প্রশ্ন 74: কাঁদতে আসিনি, ফাঁসির দাবি নিয়ে এসেছিকবিতাটি কার রচনা?

উত্তর: মাহবুব-উল-আলম চৌধুরী

প্রশ্ন 75: আরেক ফাল্গুনউপন্যাসটির রচয়িতা কে?

উত্তর: জহির রায়হান

প্রশ্ন 76: ভাষা আন্দোলনভিত্তিককবরনাটকটি কার রচনা?

উত্তর: মুনীর চৌধুরী

প্রশ্ন 77: অমর একুশের প্রথম কবিতা কোনটি বলে স্বীকৃত?

উত্তর: “কাঁদতে আসিনি, ফাঁসির দাবি নিয়ে এসেছি”—মাহবুব-উল-আলম চৌধুরী

প্রশ্ন 78: ভাষা আন্দোলনের প্রথম সংকলন গ্রন্থএকুশে ফেব্রুয়ারিসম্পাদনা করেন কে?

উত্তর: হাসান হাফিজুর রহমান (১৯৫৩)।

প্রশ্ন 79: সালাম সালাম হাজার সালামগানের গীতিকার কে?

উত্তর: ফজল-এ-খোদা; কণ্ঠ: আবদুল জব্বার

প্রশ্ন 80: একুশে পদক প্রবর্তিত হয় কত সাল থেকে?

উত্তর: ১৯৭৬ সাল থেকে

প্রশ্ন 81: একুশে পদকের মনোনয়ন চূড়ান্ত করে কোন প্রতিষ্ঠান/দপ্তর?

উত্তর: সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়

প্রশ্ন 82: একুশে পদক পাওয়া প্রথম নারী কে?

উত্তর: বেগম সুফিয়া কামাল (১৯৭৬-এর প্রথম তালিকায়)।

প্রশ্ন 83: কাজী নজরুল ইসলাম একুশে পদক পান কত সালে?

উত্তর: ১৯৭৬ সালে (একুশে পদক প্রবর্তনের প্রথম বছরে)।

বিবিধ গুরুত্বপূর্ণ তথ্যতারিখ

প্রশ্ন 84: ভাষা আন্দোলনের পটভূমিতেরাষ্ট্রভাষা বাংলা চাই’—এই দাবিতে প্রথম প্রকাশনাটির নাম কী?

উত্তর: ‘পাকিস্তানের রাষ্ট্রভাষা বাংলা না উর্দু?’—তমদ্দুন মজলিস কর্তৃক প্রকাশিত পুস্তিকা (সেপ্টেম্বর ১৯৪৭)।

প্রশ্ন 85: ২১ ফেব্রুয়ারি ১৯৫২—বাংলা পঞ্জিকা অনুযায়ী কোন তারিখ?

উত্তর: ৮ ফাল্গুন ১৩৫৮ বঙ্গাব্দ; বার: বৃহস্পতিবার

প্রশ্ন 86: ১৯৫২ সালের ২১ ফেব্রুয়ারি ঢাকায় প্রথম কে গুলিতে নিহত হন?

উত্তর: রফিকউদ্দিন আহমদ

প্রশ্ন 87: ২১ ফেব্রুয়ারি ১৯৫২-তে কোথা থেকে প্রথম গুলিবর্ষণ হয়?

উত্তর: ঢাকা মেডিকেল কলেজের ১২ নম্বর শেডের কাছে

প্রশ্ন 88: ১৪৪ ধারা কোন আইনের অধীনে জারি করা হয়?

উত্তর: ফৌজদারি কার্যবিধি (Criminal Procedure Code, CrPC)-এর ১৪৪ ধারা

প্রশ্ন 89: ভাষা আন্দোলনে নেতৃত্বদানকারী ছাত্রদের মধ্যে অন্যতম গাজীউল হকতিনি কোন সংগঠনের নেতা ছিলেন?

উত্তর: ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় রাষ্ট্রভাষা সংগ্রাম পরিষদের সভাপতি ছিলেন এবং ২১ ফেব্রুয়ারির আমতলার সভায় সভাপতিত্ব করেন

প্রশ্ন 90: ২১ ফেব্রুয়ারি ১৯৫২ এর আগের রাতে গাজীউল হকের সভাপতিত্বে কোথায় গোপন বৈঠক হয়?

উত্তর: ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ফজলুল হক হলে (২০ ফেব্রুয়ারি রাত)।

প্রশ্ন 91: ভাষা আন্দোলনের জন্য বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান কোথায় বন্দি ছিলেন?

উত্তর: ফরিদপুর জেলে (২৬ জানুয়ারি ১৯৫২ থেকে)।

প্রশ্ন 92: ১৯৪৮ সালের ২১ মার্চ জিন্নাহ কোথায় বক্তব্যে ‘Urdu and only Urdu’ বলেন?

উত্তর: রেসকোর্স ময়দান (বর্তমান সোহরাওয়ার্দী উদ্যান), ঢাকা

প্রশ্ন 93: ভাষা আন্দোলনে অবদানক্যাটাগরিতে একুশে পদক ২০১৯ কে পান?

উত্তর: ড. হালিমা খাতুন

প্রশ্ন 94: যে চারজন কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার নির্মাণে প্রধান ভূমিকা রাখেনতাঁরা কারা?

উত্তর: (১) হামিদুর রহমানস্থপতি (২) নভেরা আহমেদভাস্কর (৩) জয়নুল আবেদিনপরামর্শক (৪) তোফাজ্জল হোসেনপ্রকৌশলী

Review this chapter

You Can Also Read

Chapters closely related to the one you are reading now.

হোসেন শাহী আমলে বাংলা সাহিত্য ও সংস্কৃতি

No reviews
0 students
Read chapter

হাজী শরীয়তুল্লাহ ও দুদু মিয়া

No reviews
0 students
Read chapter

স্বাধীনতা দিবস ও বিজয় দিবসের তাৎপর্য

No reviews
0 students
Read chapter

স্বদেশী আন্দোলন

No reviews
0 students
Read chapter

সৌরবিদ্যুৎ

No reviews
0 students
Read chapter

Most Read by Students

Popular picks getting the strongest student traffic right now.

অসহযোগ আন্দোলন (মার্চ ১৯৭১)

No reviews
1 student
Read chapter

নদী, সেতু, পাহাড়, দ্বীপ, বন, সমুদ্রবন্দর

No reviews
1 student
Read chapter

বাংলা ভাষার রীতি

No reviews
1 student
Read chapter

Others Who Read This Also Read

Behavior-based suggestions from student reading patterns where available.

হোসেন শাহী আমলে বাংলা সাহিত্য ও সংস্কৃতি

No reviews
0 students
Read chapter

হাজী শরীয়তুল্লাহ ও দুদু মিয়া

No reviews
0 students
Read chapter

স্বাধীনতা দিবস ও বিজয় দিবসের তাৎপর্য

No reviews
0 students
Read chapter

স্বদেশী আন্দোলন

No reviews
0 students
Read chapter

সৌরবিদ্যুৎ

No reviews
0 students
Read chapter

Best Reviewed

Chapters earning the strongest student feedback.

হোসেন শাহী আমলে বাংলা সাহিত্য ও সংস্কৃতি

No reviews
0 students
Read chapter

হাজী শরীয়তুল্লাহ ও দুদু মিয়া

No reviews
0 students
Read chapter

স্বাধীনতা দিবস ও বিজয় দিবসের তাৎপর্য

No reviews
0 students
Read chapter

স্বদেশী আন্দোলন

No reviews
0 students
Read chapter

সৌরবিদ্যুৎ

No reviews
0 students
Read chapter

Course Suggestions

Want a more guided path after this chapter? These courses are the closest fit.

Browse all courses
Learner fit৳1,999

Bangla

Bangla Language Mastery

Popular with BCS learners who want guided study.

6 lessons8.5h4.9 (186)1.3K students

By Sadia Rahman

View course
Learner fit৳2,999

Platform Building

Teacher Marketplace Blueprint

Popular with BCS learners who want guided study.

5 lessons6.8h4.9 (28)410 students

By Sadia Rahman

View course
FreeFree

English

Admission English Playbook

Free guided course with lessons you can jump into anytime.

4 lessons4.2h4.8 (91)2.8K students

By Rayan Akter

View course