বাংলা ব্যাকরণ ভাষা ও বাংলা ভাষা |
০১ ভাষা: সংজ্ঞা, প্রকৃতি ও বৈশিষ্ট্য |
সংজ্ঞা | ভাষা হলো মানুষের মুখ-নিঃসৃত অর্থবোধক ধ্বনিসমষ্টি যার দ্বারা মানুষ তার মনের ভাব অপরের কাছে প্রকাশ করে এবং অপরের ভাব বুঝতে পারে। |
ভাষা মানুষের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ যোগাযোগের মাধ্যম। বাংলা ব্যাকরণবিদ ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহর মতে, 'ভাষা হলো মানব মনের ভাব প্রকাশের প্রধান বাহন।' ভাষার মাধ্যমে মানুষ সংস্কৃতি, জ্ঞান ও অভিজ্ঞতা পরবর্তী প্রজন্মের কাছে হস্তান্তর করে।
ক) ভাষার প্রধান বৈশিষ্ট্য |
বৈশিষ্ট্য | বিবরণ | উদাহরণ |
ধ্বনিময়তা | ভাষা ধ্বনি বা শব্দের মাধ্যমে প্রকাশিত হয় | বাংলায় ৫০টি ধ্বনি (মতান্তরে ৪৫/৪৮টি) |
অর্থবাহিতা | প্রতিটি ধ্বনি-সমষ্টি নির্দিষ্ট অর্থ বহন করে | 'বই' = পড়ার উপকরণ |
সামাজিকতা | ভাষা সমাজের সৃষ্টি, সমাজে ব্যবহৃত হয় | বাংলা একটি সামাজিক ভাষা |
পরিবর্তনশীলতা | ভাষা সময়ের সাথে পরিবর্তিত হয় | প্রাচীন বাংলা → আধুনিক বাংলা |
মানবিকতা | কেবল মানুষই ভাষা ব্যবহার করে | পশু-পাখির শব্দ ভাষা নয় |
সৃজনশীলতা | নতুন নতুন বাক্য ও ভাব তৈরি সম্ভব | প্রতিদিন নতুন বাক্য তৈরি হয় |
প্রতীকাত্মকতা | শব্দ বাস্তব জিনিসের প্রতীক | 'গাছ' শব্দ = একটি প্রতীক |
ব্যাকরণিক নিয়মবদ্ধতা | ভাষার নিজস্ব ব্যাকরণ ও নিয়ম থাকে | বাংলার কারক, বচন, বিভক্তি |
খ) ভাষার উপাদান |
উপাদান | সংজ্ঞা | বিশেষত্ব |
ধ্বনি (Phoneme) | ভাষার ক্ষুদ্রতম একক | বাংলায় স্বরধ্বনি ও ব্যঞ্জনধ্বনি |
রূপ / শব্দ (Morpheme) | অর্থবহ ক্ষুদ্রতম একক | 'বই', 'মানুষ', 'যা' |
পদ (Word) | বাক্যে ব্যবহারযোগ্য শব্দরূপ | বিশেষ্য, বিশেষণ, ক্রিয়া ইত্যাদি |
বাক্য (Sentence) | পূর্ণ ভাব প্রকাশের একক | 'সে বই পড়ে।' |
অনুচ্ছেদ (Paragraph) | সম্পর্কিত বাক্যের সমষ্টি | একটি ভাব-কেন্দ্রিক অংশ |
০২ ভাষার প্রকারভেদ |
ভেদ অনুযায়ী | প্রকার | উদাহরণ |
ব্যবহার অনুযায়ী | মাতৃভাষা, রাষ্ট্রভাষা, আন্তর্জাতিক ভাষা | বাংলা = মাতৃভাষা ও রাষ্ট্রভাষা; ইংরেজি = আন্তর্জাতিক |
লিখিত/মৌখিক | কথ্যভাষা (oral) ও লেখ্যভাষা (written) | মুখের বাংলা বনাম সাহিত্যিক বাংলা |
মান অনুযায়ী | প্রমিত ভাষা ও আঞ্চলিক ভাষা | ঢাকার বাংলা (প্রমিত) বনাম চট্টগ্রামের বাংলা |
উদ্দেশ্য অনুযায়ী | সাহিত্যিক, বৈজ্ঞানিক, প্রশাসনিক ভাষা | কাব্যভাষা বনাম আইনি ভাষা |
বিলুপ্তি অনুযায়ী | জীবিত ভাষা ও মৃত ভাষা | বাংলা = জীবিত; সংস্কৃত = মৃতপ্রায় |
ক) মাতৃভাষা ও রাষ্ট্রভাষার পার্থক্য |
বিষয় | মাতৃভাষা | রাষ্ট্রভাষা |
সংজ্ঞা | শৈশব থেকে অর্জিত প্রথম ভাষা | রাষ্ট্রীয়ভাবে স্বীকৃত সরকারি ভাষা |
অর্জন | প্রাকৃতিকভাবে পরিবার থেকে | সংবিধান বা আইন দ্বারা নির্ধারিত |
বাংলাদেশে | বাংলা = অধিকাংশের মাতৃভাষা | বাংলা = একমাত্র রাষ্ট্রভাষা (সংবিধানের ৩ নং অনুচ্ছেদ) |
ভারতে | হিন্দি, বাংলা, তামিল ইত্যাদি বিভিন্ন | হিন্দি = প্রধান; ইংরেজি = সহায়ক; ২২টি তফসিলি ভাষা |
উদাহরণ | বাংলা (বাংলাদেশিদের), তামিল (তামিলনাড়ুর) | হিন্দি (ভারত), বাংলা (বাংলাদেশ) |
০৩ বিশ্বের ভাষাপরিবার ও ইন্দো-ইউরোপীয় ভাষা |
ভাষাবিজ্ঞানীরা পৃথিবীর সমস্ত ভাষাকে উৎপত্তি ও গঠন-বৈশিষ্ট্য অনুযায়ী বিভিন্ন ভাষাপরিবারে বিভক্ত করেছেন।
ভাষাপরিবার | প্রধান ভাষাসমূহ | ভৌগোলিক বিস্তার |
ইন্দো-ইউরোপীয় | বাংলা, হিন্দি, সংস্কৃত, ইংরেজি, ফরাসি, জার্মান, রুশ | ইউরোপ, দক্ষিণ এশিয়া, পশ্চিম এশিয়া |
সেমিটিক | আরবি, হিব্রু, আমহারিক | মধ্যপ্রাচ্য, উত্তর আফ্রিকা |
সিনো-তিব্বতি | চীনা, তিব্বতি, বার্মিজ | চীন, দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া |
আলতাইক | তুর্কি, মঙ্গোলীয়, জাপানি (বিতর্কিত) | মধ্য এশিয়া, পূর্ব এশিয়া |
দ্রাবিড় | তামিল, তেলুগু, কন্নড়, মালায়ালাম | দক্ষিণ ভারত, শ্রীলঙ্কা |
অস্ট্রো-এশিয়াটিক | সাঁওতালি, মুণ্ডা, খাসি, ভিয়েতনামিজ | দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া, ভারত |
নাইজার-কঙ্গো | সোয়াহিলি, জুলু, ইওরুবা | সাব-সাহারান আফ্রিকা |
ক) ইন্দো-ইউরোপীয় ভাষাপরিবারে বাংলার অবস্থান |
✦ ইন্দো-ইউরোপীয় → ইন্দো-ইরানিয়ান → ইন্দো-আর্য → বাংলা ইন্দো-ইউরোপীয় ভাষাপরিবার (Indo-European Language Family) ↓ ইন্দো-ইরানিয়ান শাখা (Indo-Iranian Branch) ↓ ইন্দো-আর্য উপশাখা (Indo-Aryan Sub-branch) ↓ প্রাচীন ভারতীয় আর্য: বৈদিক সংস্কৃত → লৌকিক সংস্কৃত ↓ মধ্যভারতীয় আর্য: পালি → প্রাকৃত → অপভ্রংশ ↓ নব্যভারতীয় আর্য: বাংলা, হিন্দি, উর্দু, মারাঠি, গুজরাটি, অসমিয়া, ওড়িয়া |
০৪ ব্যাকরণ: সংজ্ঞা, উপকারিতা ও বিভাগ |
সংজ্ঞা | যে শাস্ত্র জানলে ভাষা শুদ্ধভাবে বলতে, পড়তে ও লিখতে পারা যায় তাকে ব্যাকরণ বলে। ব্যাকরণ = বি+আ+করণ (বিশেষভাবে আ-সম্পর্কিত করণ/বিশ্লেষণ)। |
ব্যাকরণের বিভাগ | আলোচ্য বিষয় | উদাহরণ |
ধ্বনিতত্ত্ব (Phonology) | ভাষার ধ্বনি, উচ্চারণ ও ধ্বনি পরিবর্তন | স্বরধ্বনি, ব্যঞ্জনধ্বনি, সন্ধি |
রূপতত্ত্ব (Morphology) | শব্দের গঠন, প্রত্যয়, সমাস | প্রত্যয়, উপসর্গ, সমাস |
বাক্যতত্ত্ব/পদক্রম (Syntax) | বাক্যের গঠন, পদবিন্যাস | কারক, বাচ্য, বাক্যের ধরন |
অর্থতত্ত্ব (Semantics) | শব্দের অর্থ ও অর্থ পরিবর্তন | সমার্থক, বিপরীত, অর্থ-বিবর্তন |
ছন্দ ও অলংকার | কাব্যের ছন্দ ও রীতি | মাত্রাবৃত্ত, সনেট, উপমা |
০৫ বাংলা ভাষার উৎপত্তি ও বিকাশ |
বাংলা ভাষার উৎপত্তি নিয়ে পণ্ডিতদের মধ্যে কিছু মতভেদ থাকলেও মূলধারার মত হলো — বাংলা ইন্দো-ইউরোপীয় ভাষাপরিবারের ইন্দো-আর্য শাখার একটি নব্যভারতীয় আর্য ভাষা। আনুমানিক ৯০০-১০০০ খ্রিষ্টাব্দ থেকে বাংলা একটি স্বতন্ত্র ভাষা হিসেবে বিকশিত হতে শুরু করে।
ক) বাংলা ভাষার বিকাশের ধারা |
স্তর | কাল | বৈশিষ্ট্য | প্রধান নিদর্শন |
প্রাচীন বাংলা | ৯০০–১২০০ খ্রি. | চর্যাপদের ভাষা; বাংলা-অসমিয়া-ওড়িয়ার পূর্বসূরি | চর্যাপদ (৪৬টি পদ) |
মধ্য বাংলা | ১২০০–১৮০০ খ্রি. | মুসলিম শাসনের প্রভাব; আরবি-ফারসি শব্দ গ্রহণ | শ্রীকৃষ্ণকীর্তন, মনসামঙ্গল, বৈষ্ণব পদাবলি |
আধুনিক বাংলা | ১৮০০ খ্রি. থেকে | ইউরোপীয় প্রভাব; মুদ্রণযন্ত্রের ভূমিকা | রামমোহন, বিদ্যাসাগর, রবীন্দ্রনাথ |
খ) বাংলা ভাষার উৎপত্তি সম্পর্কে পণ্ডিতদের মত |
পণ্ডিত | মত | বিশেষত্ব |
ড. সুনীতিকুমার চট্টোপাধ্যায় | মাগধী অপভ্রংশ থেকে বাংলার উৎপত্তি | 'The Origin and Development of Bengali Language' (ODBL) গ্রন্থে প্রমাণ |
ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ | গৌড়ীয় অপভ্রংশ বা শৌরসেনী অপভ্রংশ থেকে | মতটি ভিন্ন কিন্তু গুরুত্বপূর্ণ |
ড. মুহম্মদ এনামুল হক | মাগধী প্রাকৃত থেকে বাংলার উৎপত্তি | অধিকাংশ বাংলাদেশি পণ্ডিত এই মতে |
George A. Grierson | বাংলা পূর্ব-মধ্য ভারতীয় ভাষাগোষ্ঠীর | Linguistic Survey of India গ্রন্থে উল্লেখিত |
★ মনে রাখুন পরীক্ষার দিক থেকে গুরুত্বপূর্ণ: ড. সুনীতিকুমার চট্টোপাধ্যায়ের মতে বাংলা ভাষার উৎপত্তি 'মাগধী অপভ্রংশ' থেকে। তাঁর ODBL গ্রন্থটি ১৯২৬ সালে প্রকাশিত হয়। |
০৬ চর্যাপদ: বাংলা ভাষার প্রাচীনতম নিদর্শন |
চর্যাপদ | চর্যাপদ বাংলা সাহিত্যের প্রাচীনতম নিদর্শন এবং একই সাথে বাংলা ভাষার প্রাচীনতম লিখিত রূপ। এটি বৌদ্ধ সহজিয়া মতের সাধনসংগীত। |
বিষয় | বিবরণ |
রচনাকাল | আনু. ৬৫০–১২০০ খ্রিষ্টাব্দ |
আবিষ্কার | হরপ্রসাদ শাস্ত্রী কর্তৃক নেপালের রাজকীয় দরবারের পুঁথিশালা থেকে আবিষ্কার, ১৯০৭ সালে |
প্রকাশ | ১৯১৬ সালে 'হাজার বছরের পুরাণ বাঙ্গালা ভাষায় বৌদ্ধ গান ও দোহা' নামে প্রকাশিত |
পদ সংখ্যা | মোট সংকলিত পদ: ৪৭টি (মতান্তরে ৫১টি); সম্পূর্ণ পাওয়া গেছে ৪৬টি |
রচয়িতা | সর্বমোট ২৩ জন সিদ্ধাচার্য; সর্বাধিক ১৩টি পদ লিখেছেন কাহ্নপা |
ভাষা | প্রাচীন বাংলা, সংস্কৃতের প্রভাব; 'সন্ধ্যা ভাষা' নামেও পরিচিত |
বিষয়বস্তু | বৌদ্ধ সহজিয়া দর্শন ও সাধনার রূপক কবিতা |
ছন্দ | প্রধানত পাদাকুলক ছন্দ |
প্রথম পদকর্তা | লুইপা (১নং পদ) |
সংরক্ষণ | পুঁথি নেপালের গবেষণাগারে সংরক্ষিত |
"আপনা মাংসে হরিণা বৈরী" — চর্যাপদের বিখ্যাত পঙ্ক্তি — কাহ্নপা রচিত |
✦ চর্যাপদের প্রধান পদকর্তাগণ ও পদসংখ্যা কাহ্নপা / কৃষ্ণাচার্য — ১৩টি পদ (সর্বাধিক) ভুসুকপা — ৮টি পদ সরহপা — ৪টি পদ লুইপা — ২টি পদ (প্রথম পদ রচয়িতা) শবরপা — ২টি পদ আর্যদেব, কুক্কুরীপা, ডোম্বীপা, তান্তীপা — বিভিন্ন সংখ্যক |
০৭ বাংলা ভাষার বিকাশের ঐতিহাসিক কালক্রম |
সাল / কাল | ঘটনা / বিবরণ |
৯০০-১২০০ খ্রি. | প্রাচীন বাংলা যুগ — চর্যাপদের রচনাকাল; বাংলা স্বতন্ত্র ভাষা হিসেবে আত্মপ্রকাশ শুরু |
১২০১-১৩৫০ খ্রি. | মধ্য বাংলার প্রথম পর্ব — মুসলিম শাসন শুরু; আরবি-ফারসি শব্দ প্রবেশ; শ্রীকৃষ্ণকীর্তন রচনা |
১৩৫০-১৮০০ খ্রি. | মধ্য বাংলার দ্বিতীয় পর্ব — মঙ্গলকাব্য, বৈষ্ণব পদাবলি, রামায়ণ-মহাভারত অনুবাদ |
১৮০০-১৮৫০ খ্রি. | আধুনিক বাংলার প্রারম্ভ — ফোর্ট উইলিয়াম কলেজ প্রতিষ্ঠা (১৮০০); গদ্য সাহিত্যের সূচনা |
১৮০০ খ্রি. | বাংলায় প্রথম মুদ্রণযন্ত্র স্থাপিত হয় শ্রীরামপুরে (উইলিয়াম কেরি) |
১৮১৬ খ্রি. | বাংলা ভাষায় প্রথম সংবাদপত্র 'সমাচার দর্পণ' প্রকাশ |
১৮১৮ খ্রি. | বাংলা ভাষায় প্রথম সংবাদপত্র (বাংলায়) 'দিগদর্শন' — ফোর্ট উইলিয়াম কলেজ থেকে |
১৮২৩ খ্রি. | রামমোহন রায় 'গৌড়ীয় ব্যাকরণ' রচনা করেন |
১৮৫৫ খ্রি. | ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর 'বর্ণপরিচয়' প্রকাশ করেন |
১৮৫৭ খ্রি. | কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা; উচ্চশিক্ষায় বাংলার অবস্থান নির্ধারণ |
১৯১৩ খ্রি. | রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর নোবেল পুরস্কার পান — বাংলা সাহিত্যের বৈশ্বিক স্বীকৃতি |
১৯৪৭ খ্রি. | দেশবিভাগ — পূর্ব পাকিস্তান ও পশ্চিমবঙ্গে বাংলার বিকাশ আলাদা পথে |
১৯৫২, ২১ ফেব্রুয়ারি | ঐতিহাসিক ভাষা আন্দোলন — সালাম, বরকত, রফিক, জব্বার শহীদ হন |
১৯৫৬ খ্রি. | পাকিস্তানের সংবিধানে বাংলাকে অন্যতম রাষ্ট্রভাষা হিসেবে স্বীকৃতি |
১৯৭১ খ্রি. | বাংলাদেশ স্বাধীনতা লাভ — বাংলা একমাত্র রাষ্ট্রভাষা |
১৯৭২ খ্রি. | বাংলাদেশের সংবিধানের ৩নং অনুচ্ছেদে বাংলাকে রাষ্ট্রভাষা ঘোষণা |
১৯৯৯, ১৭ নভেম্বর | UNESCO ২১ ফেব্রুয়ারিকে 'আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস' ঘোষণা করে |
২০০০ খ্রি. | প্রথমবার আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস বিশ্বব্যাপী পালিত হয় |
০৮ বাংলা ভাষা আন্দোলন: ১৯৪৭–১৯৫৬ |
ভাষা আন্দোলন বাংলাদেশের ইতিহাসে একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা। পাকিস্তান প্রতিষ্ঠার পরপরই শুরু হওয়া এই আন্দোলন ১৯৫২ সালের ২১ ফেব্রুয়ারিতে চরমে পৌঁছায় এবং পরবর্তীকালে মুক্তিযুদ্ধের চেতনার বীজ বপন করে।
ক) ভাষা আন্দোলনের প্রেক্ষাপট |
সাল | ঘটনা |
১৯৪৭ | দেশভাগ; পাকিস্তান প্রতিষ্ঠা; উর্দুকে একমাত্র রাষ্ট্রভাষা করার উদ্যোগ |
১৯৪৭, সেপ্টেম্বর | তমদ্দুন মজলিশ প্রতিষ্ঠিত; বাংলাকে রাষ্ট্রভাষা করার দাবি উত্থাপিত |
১৯৪৮, মার্চ | মোহাম্মদ আলী জিন্নাহ ঢাকায় এসে বলেন 'Urdu and only Urdu shall be the state language' |
১৯৪৮ | রাষ্ট্রভাষা সংগ্রাম পরিষদ গঠন |
১৯৫২, ২৭ জানুয়ারি | খাজা নাজিমউদ্দিন পুনরায় উর্দু একমাত্র রাষ্ট্রভাষা ঘোষণা |
১৯৫২, ২১ ফেব্রুয়ারি | ১৪৪ ধারা ভেঙে মিছিল; পুলিশের গুলিতে সালাম, বরকত, রফিক, জব্বার শহীদ |
১৯৫২, ২২ ফেব্রুয়ারি | শহীদ মিনার নির্মাণ শুরু (প্রথম শহীদ মিনার) |
১৯৫৬ | পাকিস্তানের সংবিধানে বাংলাকে অন্যতম রাষ্ট্রভাষার মর্যাদা |
১৯৭১ | মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে বাংলাদেশ স্বাধীন; বাংলা একমাত্র রাষ্ট্রভাষা |
১৯৯৯ | UNESCO ২১ ফেব্রুয়ারিকে 'আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস' ঘোষণা করে |
✦ ভাষা শহীদদের তালিকা আবুল বরকত — ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের এমএ ছাত্র, রাজশাহী জেলার বাসিন্দা রফিকউদ্দিন আহমদ — মানিকগঞ্জের বাসিন্দা, প্রিন্টিং প্রেসের কর্মী আব্দুল জব্বার — ময়মনসিংহের বাসিন্দা, অসুস্থ মাকে দেখতে এসে নিহত আবুস সালাম — ফেনীর বাসিন্দা, পরে হাসপাতালে মৃত্যু শফিউর রহমান — গুলিতে আহত হয়ে পরের দিন মৃত্যু অহিউল্লাহ — শিশু, ভুল সময়ে ভুল জায়গায় থাকায় নিহত |
০৯ বাংলা ভাষার শব্দভান্ডার: শ্রেণি ও উৎস |
বাংলা ভাষার শব্দভান্ডার অত্যন্ত সমৃদ্ধ। বিভিন্ন উৎস থেকে শব্দ গ্রহণ করে বাংলা ভাষা আজ এত প্রাণবন্ত ও বৈচিত্র্যময় হয়ে উঠেছে।
শ্রেণি | সংজ্ঞা | উৎস | উদাহরণ |
তৎসম | সংস্কৃত থেকে সরাসরি গৃহীত অপরিবর্তিত শব্দ | সংস্কৃত | জল, নদী, বন, মানব, আকাশ, সূর্য |
অর্ধ-তৎসম | সংস্কৃত থেকে আংশিক পরিবর্তিত হয়ে গৃহীত | সংস্কৃত | গিন্নি (<গৃহিণী), ছেলে (<ছাত্র), বামুন (<ব্রাহ্মণ) |
তদ্ভব | সংস্কৃত থেকে বিবর্তিত হয়ে বাংলায় আসা | সংস্কৃত → প্রাকৃত → বাংলা | হাত (<হস্ত), চাঁদ (<চন্দ্র), দুধ (<দুগ্ধ) |
দেশি / খাঁটি বাংলা | অনার্য প্রাচীন বাসিন্দাদের ভাষা থেকে গৃহীত | মুণ্ডা, অস্ট্রিক ইত্যাদি | কুলা, চুলা, ডাব, ঢেঁকি, কাঁঠাল |
আরবি শব্দ | আরবি ভাষা থেকে গৃহীত | ইসলামের প্রভাবে | আল্লাহ, কোরআন, কিতাব, ওজু, নামাজ, দোয়া |
ফারসি শব্দ | ফারসি ভাষা থেকে গৃহীত | মুঘল শাসনের প্রভাবে | বাদশাহ, দরবার, নবাব, বেগম, খানসামা |
ইংরেজি শব্দ | ইংরেজি থেকে গৃহীত | ব্রিটিশ শাসনের প্রভাবে | স্কুল, কলেজ, টেবিল, চেয়ার, ডাক্তার |
পর্তুগিজ শব্দ | পর্তুগিজ থেকে গৃহীত | পর্তুগিজ বণিকদের মাধ্যমে | আনারস, পেঁপে, বালতি, তোয়ালে, পাদ্রি |
তুর্কি শব্দ | তুর্কি থেকে গৃহীত | তুর্কি শাসকদের মাধ্যমে | বাবা, কাঁচি, বারুদ, উজির |
হিন্দি/সংস্কৃতজ শব্দ | হিন্দি ও উর্দু থেকে গৃহীত | আধুনিক সংস্কৃতির প্রভাবে | পানি, আদমি, দোস্ত |
★ মনে রাখুন পরীক্ষায় সর্বাধিক আসে: তৎসম, তদ্ভব ও বিদেশি শব্দের উদাহরণ নির্ধারণ। মনে রাখুন — 'হাত' তদ্ভব (সংস্কৃত 'হস্ত' থেকে), 'চেয়ার' ইংরেজি, 'আনারস' পর্তুগিজ, 'বাবা' তুর্কি। |
১০ বাংলা লিপির উৎপত্তি ও বিকাশ |
বাংলা লিপি | বাংলা লিপি ব্রাহ্মী লিপি থেকে উদ্ভূত। এটি বাম থেকে ডানে লেখা হয় এবং প্রতিটি বর্ণের উপরে মাত্রা (শিরোরেখা) রয়েছে। |
সাল / কাল | ঘটনা / বিবরণ |
খ্রি.পূ. ৩য় শতাব্দী | ব্রাহ্মী লিপির আবির্ভাব — সম্রাট অশোকের শিলালিপিতে ব্যবহৃত |
৪র্থ-৫ম শতাব্দী | কুটিল লিপি — ব্রাহ্মী থেকে বিবর্তিত |
৮ম-৯ম শতাব্দী | প্রোটো-বাংলা বা পূর্ব-নাগরী লিপির উদ্ভব |
১০ম-১১শ শতাব্দী | বাংলা লিপি স্বতন্ত্র রূপ নিতে শুরু করে |
১৪শ-১৫শ শতাব্দী | বাংলা লিপির মোটামুটি প্রতিষ্ঠিত রূপ |
১৭৭৮ খ্রি. | চার্লস উইলকিন্স বাংলা হরফের প্রথম ধাতব টাইপ তৈরি করেন |
১৮০০ খ্রি. | শ্রীরামপুরে বাংলা মুদ্রণযন্ত্র প্রতিষ্ঠা (উইলিয়াম কেরি) |
১৮৫৫ খ্রি. | বিদ্যাসাগর 'বর্ণপরিচয়' প্রকাশ করে বাংলা বর্ণমালা সুষমবদ্ধ করেন |
আধুনিক কাল | ডিজিটাল বাংলা — ইউনিকোড, ডিজিটাল ফন্ট |
বাংলা বর্ণমালার সংখ্যা |
বর্ণের ধরন | সংখ্যা | বিশেষত্ব |
মোট বর্ণ | ৫০টি | স্বরবর্ণ + ব্যঞ্জনবর্ণ |
স্বরবর্ণ | ১১টি | অ, আ, ই, ঈ, উ, ঊ, ঋ, এ, ঐ, ও, ঔ |
ব্যঞ্জনবর্ণ | ৩৯টি | ক থেকে ড় পর্যন্ত |
হসন্ত বর্ণ | ১টি | ্ (বিশেষ চিহ্ন) |
অনুস্বার | ১টি | ং |
বিসর্গ | ১টি | ঃ |
চন্দ্রবিন্দু | ১টি | ঁ |
কার | ৯টি | আ-কার, ই-কার ইত্যাদি |
ফলা | ৫টি | য-ফলা, র-ফলা, ল-ফলা, ব-ফলা, ম-ফলা |
যুক্তবর্ণ | প্রায় ২৫০+ | দুই বা তিনটি বর্ণের সংযোগ |
১১ বাংলা ভাষার বৈশ্বিক অবস্থান ও ব্যাপ্তি |
বিষয় | তথ্য |
বিশ্বে ভাষার অবস্থান | মাতৃভাষীর সংখ্যার দিক থেকে বিশ্বের ৫ম থেকে ৭ম বৃহত্তম ভাষা (মত ভেদে) |
মোট বক্তা | প্রায় ২৭-৩০ কোটি মাতৃভাষী; দ্বিতীয় ভাষাসহ প্রায় ৩৫ কোটি |
বাংলাদেশে | বাংলাদেশে প্রায় ১৬ কোটি মানুষের মাতৃভাষা ও একমাত্র রাষ্ট্রভাষা |
ভারতে | পশ্চিমবঙ্গ, ত্রিপুরা, আসামের কিছু অংশে — ভারতের দ্বিতীয় সর্বাধিক প্রচলিত ভাষা |
বিশ্বের অন্যান্য দেশে | যুক্তরাজ্য, যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা, মধ্যপ্রাচ্যে প্রবাসী বাংলাভাষী |
সংবিধানিক মর্যাদা | বাংলাদেশ ও ভারতের পশ্চিমবঙ্গে সরকারি ভাষা |
নোবেল পুরস্কার | রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর ১৯১৩ সালে গীতাঞ্জলি (Gitanjali)-এর জন্য নোবেল পুরস্কার পান |
আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস | ২১ ফেব্রুয়ারি — UNESCO কর্তৃক ১৯৯৯ সালে ঘোষিত, ২০০০ সাল থেকে পালিত |
সিয়েরা লিওন | সিয়েরা লিওন বাংলাকে সম্মানসূচক সরকারি ভাষার মর্যাদা দিয়েছে |
★ মনে রাখুন সিয়েরা লিওনে বাংলা: ১৯৭১ সালের স্বাধীনতা যুদ্ধের পর শান্তিরক্ষা মিশনে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর অবদানের কারণে সিয়েরা লিওন বাংলাকে সরকারি মর্যাদা দেয়। |
১২ প্রমিত বাংলা ও আঞ্চলিক উপভাষা |
প্রমিত বাংলা | একটি ভাষার আদর্শ ও মানসম্পন্ন রূপ যা শিক্ষা, সাহিত্য, গণমাধ্যম ও সরকারি কাজে ব্যবহৃত হয় তাকে প্রমিত বা মানভাষা বলে। |
আঞ্চলিক উপভাষা | অঞ্চল | বৈশিষ্ট্য |
ঢাকাইয়া / মধ্যবঙ্গ | ঢাকা ও পার্শ্ববর্তী অঞ্চল | প্রমিত বাংলার নিকটতম; 'আমু', 'তুমু' ব্যবহার |
চট্টগ্রামের বাংলা | চট্টগ্রাম বিভাগ | স্বরধ্বনির বিশেষ পরিবর্তন; দ্রুত উচ্চারণ; 'আঁই', 'তুঁই' |
সিলেটি | সিলেট বিভাগ | 'আমি' এর স্থানে 'মুই'; বিশেষ স্বরধ্বনি |
রাজশাহীর বাংলা | রাজশাহী অঞ্চল | 'কথা' → 'কতা'; হ-বর্ণের প্রাধান্য |
বরিশালের বাংলা | বরিশাল অঞ্চল | 'ক' এর পরিবর্তে 'খ'; বিশেষ উচ্চারণ রীতি |
পশ্চিমবঙ্গের বাংলা | কলকাতা কেন্দ্রিক | কিছু উচ্চারণ পার্থক্য; ক্রিয়ার ভিন্নতা |
১৩ বাংলা সাহিত্যের যুগবিভাগ ও উল্লেখযোগ্য সাহিত্যিক |
যুগ | কাল | প্রধান সাহিত্যিক ও রচনা | বৈশিষ্ট্য |
প্রাচীন যুগ | ৬৫০-১২০০ খ্রি. | লুইপা, কাহ্নপা, ভুসুকপা (চর্যাপদ) | বৌদ্ধ ধর্মের প্রভাব; সন্ধ্যা ভাষা |
মধ্য যুগ | ১২০০-১৮০০ খ্রি. | বড়ু চণ্ডীদাস, কবীন্দ্র পরমেশ্বর, আলাওল | ধর্মীয় সাহিত্য; মঙ্গলকাব্য |
আধুনিক যুগ | ১৮০০-বর্তমান | রামমোহন রায়, বিদ্যাসাগর, রবীন্দ্রনাথ, নজরুল | গদ্য সাহিত্য; মানবতাবাদ; জাতীয়তাবাদ |
✦ মধ্যযুগের গুরুত্বপূর্ণ সাহিত্যকর্ম শ্রীকৃষ্ণকীর্তন (বড়ু চণ্ডীদাস) — ১৪শ শতাব্দী মনসামঙ্গল কাব্য (মানিক দত্ত, বিজয়গুপ্ত) — ভাসুয়েলিতে লেখা চণ্ডীমঙ্গল (মুকুন্দরাম চক্রবর্তী) পদ্মাবতী (আলাওল) — রোসাঙ্গ রাজসভার কবি রামায়ণ (কৃত্তিবাস ওঝা), মহাভারত (কাশীরাম দাস) বৈষ্ণব পদাবলি — বিদ্যাপতি, চণ্ডীদাস, জ্ঞানদাস |
১৪ পরীক্ষামূলক দ্রুত রেফারেন্স — গুরুত্বপূর্ণ তথ্যসারণি |
বিষয় | উত্তর/তথ্য |
বাংলা ভাষার উৎপত্তি (সুনীতিকুমারের মত) | মাগধী অপভ্রংশ থেকে |
বাংলা ভাষার উৎপত্তি (শহীদুল্লাহর মত) | গৌড়ীয় অপভ্রংশ থেকে |
বাংলা সাহিত্যের প্রাচীনতম নিদর্শন | চর্যাপদ |
চর্যাপদ আবিষ্কারক | হরপ্রসাদ শাস্ত্রী (১৯০৭ সালে) |
চর্যাপদ আবিষ্কৃত স্থান | নেপালের রাজকীয় গ্রন্থাগার |
চর্যাপদ প্রকাশকাল | ১৯১৬ সালে |
চর্যাপদের পদসংখ্যা | ৪৬টি (সম্পূর্ণ পাওয়া); মোট সংকলিত ৪৭টি |
সর্বাধিক পদ রচয়িতা | কাহ্নপা (১৩টি পদ) |
চর্যাপদের প্রথম পদ রচয়িতা | লুইপা |
বাংলাদেশে রাষ্ট্রভাষা সংবিধানের কোন অনুচ্ছেদ | ৩নং অনুচ্ছেদ |
ভাষা শহীদ দিবস | ২১ ফেব্রুয়ারি |
আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস ঘোষণা | ১৯৯৯ সালে UNESCO কর্তৃক |
প্রথম আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস পালন | ২০০০ সাল থেকে |
বাংলা লিপির উৎস | ব্রাহ্মী লিপি |
বাংলায় প্রথম ধাতব হরফ তৈরি | চার্লস উইলকিন্স (১৭৭৮ সালে) |
বাংলা 'বর্ণপরিচয়' রচয়িতা | ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর (১৮৫৫ সালে) |
ফোর্ট উইলিয়াম কলেজ প্রতিষ্ঠা | ১৮০০ সালে |
রবীন্দ্রনাথের নোবেল পুরস্কার | ১৯১৩ সালে, গীতাঞ্জলির জন্য |
বাংলা ভাষার বিশ্বে অবস্থান | মাতৃভাষীর সংখ্যায় ৫ম থেকে ৭ম |
কোন দেশে বাংলা সম্মানসূচক রাষ্ট্রভাষা | সিয়েরা লিওন |
বাংলা বর্ণমালার মোট সংখ্যা | ৫০টি (১১ স্বর + ৩৯ ব্যঞ্জন) |
ODBL গ্রন্থের লেখক | ড. সুনীতিকুমার চট্টোপাধ্যায় (১৯২৬) |
জিন্নাহর বিখ্যাত ঘোষণা | 'Urdu and only Urdu shall be the state language' (১৯৪৮) |
প্রথম বাংলা সংবাদপত্র | সমাচার দর্পণ (১৮১৮) |
শ্রীরামপুরে মুদ্রণযন্ত্র প্রতিষ্ঠাতা | উইলিয়াম কেরি (১৮০০ সালে) |
১৫ মূল নীতিসমূহ ও পরীক্ষার কৌশল |
কৌশল ১ | চর্যাপদ সম্পর্কিত ৫টি মূল তথ্য একসাথে মনে রাখুন: আবিষ্কারক (হরপ্রসাদ শাস্ত্রী), স্থান (নেপাল), সাল (১৯০৭), প্রকাশ (১৯১৬), পদসংখ্যা (৪৬টি সম্পূর্ণ)। |
কৌশল ২ | ভাষার উৎপত্তি প্রশ্নে মতভেদ: সুনীতিকুমার = মাগধী অপভ্রংশ; শহীদুল্লাহ = গৌড়ীয় অপভ্রংশ। পরীক্ষায় যেকোনো একটি চাইলেও — প্রশ্নে কার নাম উল্লেখ আছে সেই মত দিন। |
কৌশল ৩ | ভাষার শ্রেণিবিভাগে: তৎসম (অপরিবর্তিত সংস্কৃত), তদ্ভব (পরিবর্তিত), দেশি (অনার্য), বিদেশি (আরবি/ফারসি/ইংরেজি/পর্তুগিজ/তুর্কি)। |
কৌশল ৪ | ভাষা আন্দোলনের তারিখ: ১৯৪৮ (জিন্নাহর ঘোষণা) → ১৯৫২, ২১ ফেব্রুয়ারি (শহীদ দিবস) → ১৯৫৬ (সাংবিধানিক স্বীকৃতি) → ১৯৯৯ (UNESCO ঘোষণা)। |
কৌশল ৫ | বাংলা লিপির বিকাশ পথ: ব্রাহ্মী → কুটিল → প্রোটো-বাংলা → বাংলা। সংস্কৃতের লিপিও ব্রাহ্মী থেকে আসা দেবনাগরী। |