.বাংলা সাহিত্য
কবিতা
বাংলা কাব্যসাহিত্যের অনন্য জগৎ — প্রাচীন থেকে আধুনিক
❝ কবিতা হলো ভাষার সর্বোচ্চ শিল্পরূপ — যেখানে শব্দ কথা বলে, নীরবতাও কথা বলে ❞
প্রথম পর্ব: কবিতার সংজ্ঞা, বৈশিষ্ট্য ও ছন্দ
কবিতার সংজ্ঞা
কবিতা হলো ভাষার এমন একটি শিল্পরূপ যেখানে চিন্তা, অনুভূতি ও কল্পনাকে ছন্দ, ধ্বনিসাম্য ও বিশেষ শব্দচয়নের মাধ্যমে সংক্ষিপ্ত কিন্তু তীব্রভাবে প্রকাশ করা হয়। এটি সাহিত্যের প্রাচীনতম এবং সর্বোচ্চ শিল্পরূপ।
বাংলা কবিতার প্রধান ছন্দ
ছন্দের নাম | অন্য নাম | বৈশিষ্ট্য ও উদাহরণ |
স্বরবৃত্ত | মাত্রাবৃত্ত / ছড়ার ছন্দ | ৪ মাত্রার পর্ব। সাধারণ লোকছড়া ও শিশু সাহিত্যে ব্যবহার। রবীন্দ্রনাথের ছড়ায়। |
মাত্রাবৃত্ত | দলবৃত্ত | মুক্তাক্ষর ১ মাত্রা, বদ্ধাক্ষর ২ মাত্রা। রবীন্দ্রনাথের প্রিয় ছন্দ। |
অক্ষরবৃত্ত | পয়ার / মিশ্রকবিতার ছন্দ | সকল অক্ষর ১ মাত্রা। ১৪ মাত্রার পয়ার, ১৮ মাত্রার মহাপয়ার। মধ্যযুগের কাব্যে। |
অমিত্রাক্ষর | মুক্তক / ব্ল্যাংক ভার্স | মিল নেই, ছন্দ আছে। মাইকেল মধুসূদন দত্ত প্রবর্তন করেন (ইংরেজি Blank Verse অনুকরণে)। |
গদ্যকবিতা | গদ্যছন্দ | ছন্দ ও মিল নেই। রবীন্দ্রনাথ এই ধারা বাংলায় প্রবর্তন করেন। |
★ অমিত্রাক্ষর ছন্দের প্রবর্তক: মাইকেল মধুসূদন দত্ত। সনেটের প্রবর্তক: মাইকেল মধুসূদন দত্ত। গদ্যকবিতার প্রবর্তক: রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর।
দ্বিতীয় পর্ব: চর্যাপদ — বাংলা সাহিত্যের আদি নিদর্শন
চর্যাপদ: বাংলা সাহিত্যের প্রাচীনতম নিদর্শন | রচনাকাল: আনুমানিক ৭ম-১২শ শতাব্দী
চর্যাপদ বাংলা ভাষার প্রাচীনতম কাব্যসংকলন। এগুলো বৌদ্ধ সহজিয়া ধর্মের সাধনগীত। বাহ্যত প্রকৃতি ও সমাজের বর্ণনা থাকলেও আসলে এগুলো ধর্মীয় রূপকের আবরণে লেখা।
বিষয় | তথ্য |
আবিষ্কারক | হরপ্রসাদ শাস্ত্রী — নেপালের রাজদরবার পুস্তকালয় থেকে ১৯০৭ সালে আবিষ্কার করেন |
প্রকাশকাল | ১৯১৬ সালে বঙ্গীয় সাহিত্য পরিষদ থেকে 'হাজার বছরের পুরাণ বাংলা ভাষায় বৌদ্ধগান ও দোহা' নামে প্রকাশিত |
পদের সংখ্যা | মোট ৫১টি পদ পাওয়া গেছে (কোনো মতে ৪৭টি সম্পূর্ণ) |
কবির সংখ্যা | ২৩ জন সিদ্ধাচার্য। তবে কেউ বলেন ২৪ জন। |
সর্বাধিক রচয়িতা | কাহ্নপা (কৃষ্ণপাদ) — ১৩টি পদ রচনা করেছেন |
প্রথম পদকর্তা | লুইপা — চর্যাপদের প্রথম পদটি লুইপার রচনা |
ভাষা | সন্ধ্যাভাষা বা আলো-আঁধারি ভাষা (দ্ব্যর্থবোধক ভাষা) |
ধর্মীয় বিষয় | বৌদ্ধ বজ্রযানী ও সহজিয়া মতের সাধনা-সংগীত |
ছন্দ | পাদাকুলক ছন্দ |
★ চর্যাপদের আবিষ্কারক: হরপ্রসাদ শাস্ত্রী (১৯০৭)। সর্বাধিক পদ: কাহ্নপা (১৩টি)। প্রথম পদকর্তা: লুইপা।
চর্যাপদের বিখ্যাত কবি ও পদের সংখ্যা
কবির নাম | পদসংখ্যা | বিশেষ তথ্য |
কাহ্নপা (কৃষ্ণপাদ) | ১৩ | সর্বাধিক পদ রচয়িতা। তান্ত্রিক বৌদ্ধ সিদ্ধাচার্য। |
লুইপা | ২ | প্রথম পদকর্তা। তাঁর পদ দিয়েই চর্যাপদ শুরু। |
ভুসুকুপা | ৮ | দ্বিতীয় সর্বাধিক পদ। 'আজি ভুসুকু বঙালী ভইলী' — বিখ্যাত লাইন। |
শবরপা | ২ | শবর সম্প্রদায়ের জীবন নিয়ে পদ রচনা। |
সরহপা | ৪ | দোহাকোষের রচয়িতা। |
কুক্কুরীপা | ২ | রহস্যময় পদ রচয়িতা। |
ঢেন্ডণপা | ১ | |
শান্তিপা | ১ |
⚡ ট্রিকি: 'আজি ভুসুকু বঙালী ভইলী' — এই লাইনটি ভুসুকুপার চর্যাপদে আছে। 'বঙালী' শব্দটি এখানে প্রথম ব্যবহার।
⚡ চর্যাপদের ভাষাকে 'সন্ধ্যাভাষা' বলা হয় — এটি প্রত্যক্ষ অর্থ ও ধর্মীয় রূপক অর্থ দুটোই বহন করে।
আপনা মাংসে হরিণা বৈরী / খান-চন্দ পেচ্চালে মৃগ পিবই নারী। / — লুইপার চর্যাপদ
তৃতীয় পর্ব: মধ্যযুগের বাংলা কবিতা
মঙ্গলকাব্য
মঙ্গলকাব্য মধ্যযুগীয় বাংলা সাহিত্যের একটি বিশেষ ধারা। এসব কাব্যে দেব-দেবীর কাহিনি বর্ণিত হয়েছে এবং দেবী-মাহাত্ম্য প্রতিষ্ঠাই উদ্দেশ্য।
মঙ্গলকাব্যের ধারা | প্রধান কবি | বিশেষ তথ্য |
মনসামঙ্গল | বিজয়গুপ্ত, কানাহরি দত্ত, নারায়ণদেব | সাপের দেবী মনসার কাহিনি। বেহুলা-লখিন্দরের গল্প। |
চণ্ডীমঙ্গল | কবিকঙ্কণ মুকুন্দরাম চক্রবর্তী | দেবী চণ্ডীর মহিমা। শ্রেষ্ঠ মঙ্গলকাব্য। |
অন্নদামঙ্গল | ভারতচন্দ্র রায়গুণাকর | অন্নপূর্ণা দেবীর মহিমা। ১৭৫২ সালে রচিত। |
ধর্মমঙ্গল | ময়ূরভট্ট, রূপরাম চক্রবর্তী | ধর্মঠাকুরের কাহিনি। |
শিবমঙ্গল | রামকৃষ্ণ রায় | শিব ও চণ্ডী। |
★ মঙ্গলকাব্যের শ্রেষ্ঠ কবি: ভারতচন্দ্র রায়গুণাকর। তাঁর 'অন্নদামঙ্গল' মঙ্গলকাব্যের সর্বশ্রেষ্ঠ রচনা। চণ্ডীমঙ্গলের সেরা কবি: কবিকঙ্কণ মুকুন্দরাম।
⚡ ভারতচন্দ্র রায়গুণাকর 'রায়গুণাকর' উপাধি পেয়েছিলেন নবদ্বীপের রাজা কৃষ্ণচন্দ্র রায়ের কাছ থেকে। তিনি বলেছিলেন — 'নগর পুড়িলে দেবালয় কি এড়ায়।'
বৈষ্ণব পদাবলি
বৈষ্ণব পদাবলি মধ্যযুগীয় বাংলা সাহিত্যের এক অপূর্ব ধারা। রাধা-কৃষ্ণের প্রেমকে আধ্যাত্মিক প্রতীকে চিত্রিত করা হয়েছে।
কবি | আনুমানিক কাল | বিশেষ তথ্য |
বিদ্যাপতি | ১৩৫০-১৪৪৮ | মৈথিলি ভাষার কবি। তাঁর পদ বাংলায় সর্বাধিক জনপ্রিয়। |
চণ্ডীদাস | ১৪শ-১৫শ শতক | 'সবার উপরে মানুষ সত্য, তাহার উপরে নাই' — বিখ্যাত উক্তি। |
জ্ঞানদাস | ১৫শ-১৬শ শতক | 'রূপ লাগি আঁখি ঝুরে, গুণে মন ভোর'। |
গোবিন্দদাস | ১৫৪৭-১৬১৫ | 'অভিনব জয়দেব' নামে পরিচিত। |
বলরামদাস | ১৫শ শতক | বলরামদাসের পদ। |
★ চণ্ডীদাসের বিখ্যাত উক্তি: 'সবার উপরে মানুষ সত্য, তাহার উপরে নাই।' — এটি মানবতাবাদের এক অনন্য উচ্চারণ।
❝ সবার উপরে মানুষ সত্য, তাহার উপরে নাই ❞
— — চণ্ডীদাস
মুসলিম কবি ও সাহিত্যকর্ম
কবি | কাল | বিশেষ তথ্য |
শাহ মুহম্মদ সগীর | ১৪শ-১৫শ শতক | 'ইউসুফ-জুলেখা' — প্রথম বাংলা প্রণয়কাব্য। |
দৌলত কাজী | ১৭শ শতক | 'লোরচন্দ্রানী' বা 'সতীময়না' — অসম্পূর্ণ। |
আলাওল | ১৬০৭-১৬৭৩ | মধ্যযুগের শ্রেষ্ঠ মুসলিম কবি। 'পদ্মাবতী' তাঁর শ্রেষ্ঠ কাব্য। রোসাঙ্গ রাজ্যের কবি। |
সৈয়দ সুলতান | ১৬শ-১৭শ শতক | 'নবীবংশ' — প্রধান কাব্য। |
আব্দুল হাকিম | ১৬২০-১৬৯০ | 'বাঙ্গালা ভাষা বিদ্বেষীদের শাস্তি' — বিখ্যাত। |
★ আলাওল মধ্যযুগের শ্রেষ্ঠ মুসলিম কবি। 'পদ্মাবতী' (হিন্দি 'পদুমাবৎ' অবলম্বনে রচিত) তাঁর শ্রেষ্ঠ কাব্য।
⚡ আব্দুল হাকিম বলেছিলেন — 'যে সব বঙ্গেত জন্মি হিংসে বঙ্গবাণী / সে সব কাহার জন্ম নির্ণয় ন জানি।' — বাংলা ভাষার প্রতি ভালোবাসার এই উক্তি বিখ্যাত।
চতুর্থ পর্ব: মাইকেল মধুসূদন দত্ত — আধুনিক বাংলা কবিতার পথিকৃৎ
জন্ম: ২৫ জানুয়ারি ১৮২৪, যশোর | মৃত্যু: ২৯ জুন ১৮৭৩, কলকাতা
মাইকেল মধুসূদন দত্ত আধুনিক বাংলা সাহিত্যের প্রথম বিদ্রোহী প্রতিভা। তিনি বাংলা সাহিত্যে অমিত্রাক্ষর ছন্দ, বাংলা সনেট এবং প্রথম সার্থক বাংলা মহাকাব্য উপহার দিয়েছেন।
উপাধি / অর্জন | বিস্তারিত |
বাংলা সনেটের জনক | 'চতুর্দশপদী কবিতাবলি' (১৮৬৬) — প্রথম বাংলা সনেটগ্রন্থ |
অমিত্রাক্ষর ছন্দের প্রবর্তক | ইংরেজি Blank Verse অনুকরণে বাংলায় মিলহীন ছন্দ প্রবর্তন |
বাংলা মহাকাব্যের রচয়িতা | 'মেঘনাদবধ কাব্য' (১৮৬১) — প্রথম বাংলা মহাকাব্য |
বাংলা সাহিত্যে Renaissance | পুরনো ঐতিহ্য ভেঙে আধুনিক চেতনার সূচনা |
মাইকেলের কাব্যগ্রন্থ
কাব্যগ্রন্থ | প্রকাশকাল | বিশেষ তথ্য |
তিলোত্তমাসম্ভব কাব্য | ১৮৬০ | প্রথম অমিত্রাক্ষর ছন্দের কাব্য। |
মেঘনাদবধ কাব্য | ১৮৬১ | প্রথম বাংলা মহাকাব্য। ৯টি সর্গ। রামায়ণের বিপরীত দৃষ্টিভঙ্গিতে মেঘনাদকে নায়ক করা হয়েছে। |
ব্রজাঙ্গনা কাব্য | ১৮৬১ | বৈষ্ণব পদাবলির ঢঙে। |
বীরাঙ্গনা কাব্য | ১৮৬২ | ওভিডের 'হেরোইডেস' অনুসরণে পত্রকাব্য। |
চতুর্দশপদী কবিতাবলি | ১৮৬৬ | বাংলা সনেটের প্রথম সংকলন। |
◆ মেঘনাদবধ কাব্যের বিশেষ তথ্য
● রামায়ণের পাল্টা আখ্যান — মেঘনাদ (ইন্দ্রজিৎ) এখানে নায়ক, রামকে প্রতিপক্ষ হিসেবে দেখানো হয়েছে
● ৯টি সর্গ রয়েছে: অভিষেক, অস্ত্রলাভ, সমাগম, অশোকবন, উদ্যোগ, বধ, শক্তিনির্ভেদ, প্রেতপুরী, সংহার
● মেঘনাদকে দেশপ্রেমিক ও বীর হিসেবে চিত্রিত করা হয়েছে
● অমিত্রাক্ষর ছন্দে রচিত বাংলা সাহিত্যের সর্বশ্রেষ্ঠ মহাকাব্য
★ মেঘনাদবধ কাব্য (১৮৬১) — বাংলা সাহিত্যের প্রথম মহাকাব্য। ৯টি সর্গ। মেঘনাদ (রাবণপুত্র) এখানে ট্র্যাজিক নায়ক।
❝ হে বঙ্গ, ভান্ডারে তব বিবিধ রতন; — তা সবে, (অবোধ আমি!) অবহেলা করি, পর-ধন-লোভে মত্ত, করিনু ভ্রমণ পরদেশে, ভিক্ষাবৃত্তি কুক্ষণে আচরি। ❞
— মাইকেল মধুসূদন দত্ত — কপোতাক্ষ নদ সনেট
⚡ মাইকেল মধুসূদন দত্ত খ্রিস্টধর্ম গ্রহণ করেছিলেন — তাই নামের আগে 'মাইকেল'। তিনি ইংরেজ কবি হতে চেয়েছিলেন, কিন্তু বাংলায় ফিরে এসেই অমর হলেন।
⚡ 'কপোতাক্ষ নদ' সনেটটি মাইকেলের শ্রেষ্ঠ সনেট — মাতৃভূমি ও মাতৃভাষার প্রতি টান প্রকাশিত।
পঞ্চম পর্ব: রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর — বাংলা কবিতার সর্বোচ্চ শিখর
জন্ম: ৭ মে ১৮৬১ | মৃত্যু: ৭ আগস্ট ১৯৪১ | নোবেল পুরস্কার: ১৯১৩ | কাব্যগ্রন্থ: ৫০+
রবীন্দ্রনাথ বাংলা সাহিত্যের সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ কবি। ১৯১৩ সালে গীতাঞ্জলির ইংরেজি অনুবাদ Song Offerings-এর জন্য নোবেল পুরস্কার পান। তিনি বাংলাদেশের জাতীয় সংগীত 'আমার সোনার বাংলা' ও ভারতের জাতীয় সংগীত 'জন গণ মন' রচনা করেছেন।
রবীন্দ্রনাথের কাব্যগ্রন্থ
কাব্যগ্রন্থ | প্রকাশকাল | বিশেষ তথ্য |
কবিকাহিনী | ১৮৭৮ | প্রথম কাব্যগ্রন্থ। |
বনফুল | ১৮৮০ | প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের কবিতা। |
সন্ধ্যাসংগীত | ১৮৮২ | বিষণ্নতার সুর। |
মানসী | ১৮৯০ | প্রথম পরিপক্ব কাব্য। নারী ও সমাজের কবিতা। |
সোনার তরী | ১৮৯৪ | 'সোনার তরী' কবিতা বিখ্যাত। ক্ষণিকতার দর্শন। |
চিত্রা | ১৮৯৬ | বৈচিত্র্যময় বিষয়ের কাব্য। |
কল্পনা | ১৯০০ | রোমান্টিক কবিতা। |
গীতাঞ্জলি | ১৯১০ | সর্বশ্রেষ্ঠ কাব্য। নোবেল পুরস্কার (১৯১৩)। ইংরেজি 'Song Offerings'। |
বলাকা | ১৯১৬ | গতির কবিতা। 'বলাকা' মানে পরিযায়ী হাঁস। |
পলাতকা | ১৯১৮ | সামাজিক কবিতা। |
পুনশ্চ | ১৯৩২ | গদ্যকবিতার সংকলন। |
শেষ লেখা | ১৯৪১ | মৃত্যুর আগে শেষ কাব্যগ্রন্থ। |
★ রবীন্দ্রনাথের প্রথম কাব্যগ্রন্থ: কবিকাহিনী (১৮৭৮)। নোবেল পুরস্কার পান গীতাঞ্জলির ইংরেজি অনুবাদের জন্য (১৯১৩)।
রবীন্দ্রনাথের বিখ্যাত কবিতা ও বিষয়বস্তু
কবিতার নাম | বিষয়বস্তু ও বিশেষ তথ্য |
সোনার তরী | কৃষক ও নৌকার রূপকে শিল্পী ও তার সৃষ্টির বিচ্ছেদ। কাল কৃষককে নেবে না, শুধু ফসল নেবে। |
আমার সোনার বাংলা | বাংলাদেশের জাতীয় সংগীত। বাংলার প্রকৃতি ও মায়ের প্রতি গভীর ভালোবাসা। |
জন গণ মন | ভারতের জাতীয় সংগীত। |
বাংলার মাটি বাংলার জল | বাংলার প্রকৃতির প্রতি ভালোবাসা। |
আফ্রিকা | উপনিবেশবাদের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ। |
১৪০০ সাল | ভবিষ্যতের কবিকে উদ্দেশ্যে লেখা। |
নির্ঝরের স্বপ্নভঙ্গ | জীবনের জাগরণ ও মুক্তির গান। |
প্রশ্ন | ঈশ্বরের কাছে মানুষের প্রশ্ন। |
❝ আমার সোনার বাংলা, আমি তোমায় ভালোবাসি / চিরদিন তোমার আকাশ, তোমার বাতাস, আমার প্রাণে বাজায় বাঁশি। ❞
— রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর (বাংলাদেশের জাতীয় সংগীত)
⚡ রবীন্দ্রনাথ বাংলাদেশ ও ভারত — দুটি দেশের জাতীয় সংগীত রচনা করেছেন। তৃতীয় দেশ শ্রীলংকার জাতীয় সংগীতও রবীন্দ্রনাথ রচিত সুর থেকে অনুপ্রাণিত।
⚡ গীতাঞ্জলির ইংরেজি অনুবাদ 'Song Offerings' রবীন্দ্রনাথ নিজেই করেছিলেন এবং ইংরেজ কবি W.B. Yeats এর ভূমিকা লিখেছিলেন।
ষষ্ঠ পর্ব: কাজী নজরুল ইসলাম — বিদ্রোহী ও জাতীয় কবি
জন্ম: ২৫ মে ১৮৯৯, চুরুলিয়া, বর্ধমান | মৃত্যু: ২৯ আগস্ট ১৯৭৬, ঢাকা | বাংলাদেশের জাতীয় কবি
কাজী নজরুল ইসলাম বাংলাদেশের জাতীয় কবি ও বাংলা সাহিত্যের বিদ্রোহী কবি। তাঁর কবিতায় সাম্রাজ্যবাদ-বিরোধিতা, সাম্যবাদ, ধর্মীয় সম্প্রীতি এবং বিদ্রোহের আগুন একসাথে জ্বলেছে। ১৯৪২ সালে তিনি মানসিক রোগে আক্রান্ত হন এবং ১৯৭২ সালে বঙ্গবন্ধু তাঁকে বাংলাদেশে আনেন।
নজরুলের কাব্যগ্রন্থ
কাব্যগ্রন্থ | প্রকাশকাল | বিশেষ তথ্য |
অগ্নিবীণা | ১৯২২ | প্রথম কাব্যগ্রন্থ। 'বিদ্রোহী', 'ভাঙার গান', 'আনন্দময়ীর আগমনে' কবিতা আছে। |
দোলনচাঁপা | ১৯২৩ | প্রেমের কবিতা। |
বিষের বাঁশি | ১৯২৪ | ব্রিটিশ সরকার বাজেয়াপ্ত করেছিল। |
ভাঙার গান | ১৯২৪ | ব্রিটিশ সরকার বাজেয়াপ্ত করেছিল। |
সাম্যবাদী | ১৯২৫ | 'মানুষ' কবিতা এখানে। |
সর্বহারা | ১৯২৬ | শ্রমজীবী মানুষের কবিতা। |
ফণি-মনসা | ১৯২৭ | |
সিন্ধু-হিন্দোল | ১৯২৭ | |
চক্রবাক | ১৯২৯ | |
সঞ্চিতা | ১৯২৫ | নির্বাচিত কবিতার সংকলন। রবীন্দ্রনাথের নামে উৎসর্গিত। |
নতুন চাঁদ | ১৯৩১ | ইসলামি ভাব। |
★ নজরুলের 'বিষের বাঁশি' ও 'ভাঙার গান' কাব্যগ্রন্থ দুটি ব্রিটিশ সরকার বাজেয়াপ্ত করেছিল। 'সঞ্চিতা' রবীন্দ্রনাথকে উৎসর্গ করা হয়।
নজরুলের বিখ্যাত কবিতা
কবিতার নাম | বিষয়বস্তু ও গুরুত্ব |
বিদ্রোহী | ১৯২২ সালে 'বিজলী' পত্রিকায় প্রথম প্রকাশ। বিদ্রোহের মহাগান। ব্রিটিশ ঔপনিবেশিকতার বিরুদ্ধে অগ্নিঘোষণা। |
মানুষ | সাম্যবাদী কাব্যগ্রন্থে। মানুষের সমতা ও ধর্মের ঊর্ধ্বে মানবতার কথা। |
কামাল পাশা | তুরস্কের মুক্তি সংগ্রাম নিয়ে। |
আনন্দময়ীর আগমনে | ব্রিটিশ-বিরোধী। |
ভাঙার গান | বিপ্লবী গান। 'কারার ঐ লৌহকপাট / ভেঙে ফেল...' |
বিদ্রোহী | 'মহা-বিদ্রোহী রণ-ক্লান্ত / আমি সেই দিন হব শান্ত...' — বিখ্যাত লাইন। |
খুকী ও কাঠবিড়ালী | শিশুসাহিত্যের কবিতা। |
রণসঙ্গীত | যুদ্ধের গান। |
বাতায়ন পাশে গুবাক তরুর সারি | প্রকৃতি ও প্রেমের কবিতা। |
❝ আমি বিদ্রোহী ভৃগু, ভগবান বুকে এঁকে দিই পদ-চিহ্ন! / আমি স্রষ্টা-সূদন, শোক-তাপ-হানা খেয়ালী বিধির আমি বিদ্রোহী বিশ্ব-বিধাতার! ❞
— কাজী নজরুল ইসলাম — বিদ্রোহী
◆ বিদ্রোহী কবিতার বিশেষ তথ্য
● প্রকাশ: ১৯২২ সালের ৬ জানুয়ারি 'বিজলী' পত্রিকায়
● একই সপ্তাহে 'মোসলেম ভারত', 'প্রবাসী' ও 'বসুমতী' পত্রিকায়ও প্রকাশিত
● 'বিদ্রোহী' কবিতায় ৭০+ পৌরাণিক ও ঐতিহাসিক চরিত্রের উল্লেখ আছে
● 'মহা-বিদ্রোহী রণ-ক্লান্ত / আমি সেই দিন হব শান্ত' — বিখ্যাত সমাপ্তি
⚡ নজরুলের 'বিদ্রোহী' কবিতা ১৯২২ সালের ৬ জানুয়ারি 'বিজলী' পত্রিকায় প্রথম প্রকাশিত হয় — এটি বাংলা সাহিত্যের সবচেয়ে আলোচিত কবিতা।
⚡ নজরুল ১৯৭২ সালে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের আমন্ত্রণে বাংলাদেশে আসেন এবং ১৯৭৬ সালে ঢাকায় মারা যান।
⚡ নজরুল ১৯৪২ সালে মানসিক রোগে আক্রান্ত হন — এটি Pick's disease বলে ধারণা করা হয়।
সপ্তম পর্ব: জীবনানন্দ দাশ — রূপসী বাংলার কবি
জন্ম: ১৭ ফেব্রুয়ারি ১৮৯৯, বরিশাল | মৃত্যু: ২২ অক্টোবর ১৯৫৪, কলকাতা (ট্রামে কাটা পড়ে)
জীবনানন্দ দাশ আধুনিক বাংলা কবিতার এক অনন্য কণ্ঠস্বর। তাঁকে 'রূপসী বাংলার কবি' বলা হয়। তাঁর কবিতায় বাংলার প্রকৃতি, নির্জনতার দর্শন এবং পরাবাস্তবতা এক অদ্ভুত সৌন্দর্যে মিশে আছে।
কাব্যগ্রন্থ | প্রকাশকাল | বিশেষ তথ্য |
ঝরা পালক | ১৯২৭ | প্রথম কাব্যগ্রন্থ। |
ধূসর পাণ্ডুলিপি | ১৯৩৬ | পরিপক্ব কাব্য। |
বনলতা সেন | ১৯৪২ | শ্রেষ্ঠ কাব্যগ্রন্থ। 'বনলতা সেন' কবিতা অমর। |
মহাপৃথিবী | ১৯৪৪ | মহাযুদ্ধের প্রেক্ষাপটে। |
সাতটি তারার তিমির | ১৯৪৮ | |
রূপসী বাংলা | ১৯৫৭ | মরণোত্তর প্রকাশিত। বাংলার প্রকৃতির অপূর্ব চিত্র। |
বেলা অবেলা কালবেলা | ১৯৬১ | মরণোত্তর প্রকাশিত। |
★ জীবনানন্দ দাশের 'বনলতা সেন' (১৯৪২) তাঁর শ্রেষ্ঠ কাব্যগ্রন্থ। 'রূপসী বাংলা' মরণোত্তর প্রকাশিত এবং বাংলার প্রকৃতির অসাধারণ চিত্র এখানে।
❝ চুল তার কবেকার অন্ধকার বিদিশার নিশা, / মুখ তার শ্রাবস্তীর কারুকার্য; অতিদূর সমুদ্রের পর / হাল ভেঙে যে নাবিক হারিয়েছে দিশা / সব পাখি ঘরে আসে — সব নদী — ফুরায় এই জীবনের সব লেনদেন; / থাকে শুধু অন্ধকার, মুখোমুখি বসিবার বনলতা সেন। ❞
— জীবনানন্দ দাশ — বনলতা সেন
⚡ জীবনানন্দ দাশ কলকাতার রাস্তায় ট্রামে কাটা পড়ে মারা যান (১৯৫৪)। কেউ কেউ মনে করেন এটি আত্মহত্যা।
⚡ 'বনলতা সেন' কবিতায় নাটোরের বনলতা সেন আছেন। জীবনানন্দ বাস্তবে কোনো বনলতা সেনকে চিনতেন কিনা জানা যায় না।
অষ্টম পর্ব: অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ আধুনিক কবি
সুকান্ত ভট্টাচার্য (১৯২৬-১৯৪৭) — কিশোর বিপ্লবী কবি
সুকান্ত ভট্টাচার্য মাত্র ২১ বছর বয়সে মারা যান। তাঁকে বলা হয় 'কিশোর কবি' বা 'মার্কসবাদী কবি'। তাঁর কবিতায় শ্রমজীবী মানুষের সংগ্রাম ও সমাজতন্ত্রের স্বপ্ন।
কাব্যগ্রন্থ | প্রকাশকাল | বিশেষ তথ্য |
ছাড়পত্র | ১৯৪৭ | শ্রেষ্ঠ কাব্য। |
ঘুম নেই | ১৯৪৬ | বিপ্লবী কবিতা। |
পূর্বাভাস | ১৯৫০ | মরণোত্তর। |
অভিযান | ১৯৫৩ | মরণোত্তর। |
❝ এসেছে নতুন শিশু, তাকে ছেড়ে দিতে হবে স্থান; / জীর্ণ পৃথিবীতে ব্যর্থ সব স্বপ্ন রূপকথার মতো উড়িয়ে দিতে হবে। ❞
— সুকান্ত ভট্টাচার্য — ছাড়পত্র
⚡ সুকান্ত মাত্র ২১ বছরে মারা যান (যক্ষ্মায়)। 'ছাড়পত্র' কবিতায় বলেছেন 'ক্ষুধার রাজ্যে পৃথিবী গদ্যময়' — এটি বিখ্যাত উক্তি।
বিষ্ণু দে (১৯০৯-১৯৮২)
বিষ্ণু দে বাংলা কবিতায় পরাবাস্তববাদ ও মার্কসবাদ একসাথে মিলিয়েছেন।
● প্রথম কাব্যগ্রন্থ: উর্বশী ও আর্টেমিস (১৯৩৩)
● বিখ্যাত কাব্য: সাত ভাই চম্পা, নাম রেখেছি কোমল গান্ধার
বুদ্ধদেব বসু (১৯০৮-১৯৭৪)
বুদ্ধদেব বসু কবি, ঔপন্যাসিক ও সম্পাদক। 'কবিতা' পত্রিকার সম্পাদক।
● প্রথম কাব্য: বন্দীর বন্দনা (১৯৩০)
● শ্রেষ্ঠ কাব্য: দময়ন্তী, মরচে পড়া পেরেকের গান
সুধীন্দ্রনাথ দত্ত (১৯০১-১৯৬০)
সুধীন্দ্রনাথ দত্তকে বলা হয় 'বাংলা কবিতার রাজপুত্র'।
● প্রথম কাব্য: তন্বী (১৯৩০)
● বিখ্যাত কাব্য: অর্কেস্ট্রা, ক্রন্দসী
নবম পর্ব: বাংলাদেশের প্রধান কবি
ফররুখ আহমদ (১৯১৮-১৯৭৪) — মুসলিম রেনেসাঁর কবি
জন্ম: ১০ জুন ১৯১৮, মাগুরা | মৃত্যু: ১৯ অক্টোবর ১৯৭৪, ঢাকা
ফররুখ আহমদকে 'মুসলিম রেনেসাঁর কবি' বলা হয়। তাঁর কবিতায় ইসলামি ঐতিহ্য, মুসলিম বীরত্ব ও মানবিক মর্যাদার সংগ্রাম।
কাব্যগ্রন্থ | প্রকাশকাল | বিশেষ তথ্য |
সাত সাগরের মাঝি | ১৯৪৪ | শ্রেষ্ঠ কাব্যগ্রন্থ। মুসলিম নাবিকদের গৌরবগাথা। |
সিরাজাম মুনীরা | ১৯৫২ | আলোকবর্তিকার কবিতা। |
নৌফেল ও হাতেম | ১৯৬১ | মহাকাব্যিক ধারার কাব্য। |
মুহূর্তের কবিতা | ১৯৬৩ | |
হাতেম তাই | ১৯৬৬ |
★ ফররুখ আহমদের 'সাত সাগরের মাঝি' (১৯৪৪) তাঁর শ্রেষ্ঠ কাব্যগ্রন্থ।
আহসান হাবীব (১৯১৭-১৯৮৫) — আধুনিক বাংলাদেশি কবিতার পথিকৃৎ
কাব্যগ্রন্থ | প্রকাশকাল | বিশেষ তথ্য |
রাত্রিশেষ | ১৯৪৭ | প্রথম কাব্যগ্রন্থ। |
ছায়া হরিণ | ১৯৬২ | |
সারা দুপুর | ১৯৬৪ | |
আশায় বসতি | ১৯৭৪ |
শামসুর রাহমান (১৯২৯-২০০৬) — বাংলাদেশের প্রধান কবি
জন্ম: ২৩ অক্টোবর ১৯২৯, ঢাকা | মৃত্যু: ১৭ আগস্ট ২০০৬, ঢাকা
শামসুর রাহমান বাংলাদেশের সর্বাধিক স্বীকৃত আধুনিক কবি। ভাষা আন্দোলন, মুক্তিযুদ্ধ ও স্বাধীনতার চেতনা তাঁর কবিতার মূল উৎস।
কাব্যগ্রন্থ | প্রকাশকাল | বিশেষ তথ্য |
প্রথম গান দ্বিতীয় মৃত্যুর আগে | ১৯৬০ | প্রথম কাব্যগ্রন্থ। |
রৌদ্র করোটিতে | ১৯৬৩ | বাংলা একাডেমি পুরস্কার। |
বিধ্বস্ত নীলিমা | ১৯৬৭ | |
নিরালোকে দিব্যরথ | ১৯৬৮ | |
আদিগন্ত নগ্ন পদধ্বনি | ১৯৭৪ | মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক। |
বন্দী শিবির থেকে | ১৯৭২ | মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক কবিতা। |
বিখ্যাত কবিতা | বিষয়বস্তু |
স্বাধীনতা তুমি | স্বাধীনতার বহুমাত্রিক সংজ্ঞা — খাঁচার পাখি থেকে বইয়ের পাতা পর্যন্ত। |
বর্ণমালা আমার দুঃখিনী বর্ণমালা | বাংলা বর্ণমালাকে মায়ের প্রতীকে একুশের চেতনায় লেখা। |
ফেব্রুয়ারি ১৯৬৯ | ১৯৬৯ গণ-আন্দোলনের পটভূমিতে। 'আবার ফুটেছে দ্যাখো কৃষ্ণচূড়া...' |
তুমি বলেছিলে | প্রেমের কবিতা। |
উদ্ভট উটের পিঠে চলেছে স্বদেশ | সামরিক স্বৈরাচারের বিরুদ্ধে বিদ্রূপাত্মক। |
★ শামসুর রাহমানের সেরা তিনটি কবিতা: 'স্বাধীনতা তুমি', 'বর্ণমালা আমার দুঃখিনী বর্ণমালা', 'ফেব্রুয়ারি ১৯৬৯'।
আল মাহমুদ (১৯৩৬-২০১৯) — সোনালি কাবিনের কবি
জন্ম: ১১ জুলাই ১৯৩৬, ব্রাহ্মণবাড়িয়া | মৃত্যু: ১৫ ফেব্রুয়ারি ২০১৯, ঢাকা
কাব্যগ্রন্থ | প্রকাশকাল | বিশেষ তথ্য |
লোক লোকান্তর | ১৯৬৩ | প্রথম কাব্যগ্রন্থ। বাংলা একাডেমি পুরস্কার। |
কালের কলস | ১৯৬৬ | দ্বিতীয় কাব্যগ্রন্থ। |
সোনালি কাবিন | ১৯৭৩ | শ্রেষ্ঠ কাব্যগ্রন্থ। ১৪টি সনেট। |
মায়াবী পর্দা দুলে ওঠো | ১৯৭৬ | |
আরব্য রজনীর রাজহাঁস | ১৯৮১ |
★ আল মাহমুদের 'সোনালি কাবিন' (১৯৭৩) — ১৪টি সনেটের অসাধারণ সংকলন। এটি বাংলা কবিতার ইতিহাসে একটি মাইলফলক।
❝ সোনার দিনার নেই, দেনমোহর চেয়ো না হরিণী / যদি নেবে এই বুক, নাও সাথে রক্ত মাংস হাড়; / সোনালি সন্ধ্যায় তুমি ফুলের মতন আলিঙ্গনে / কাছে এসে বলো প্রিয়া, কী চাও আর কী চাও না। ❞
— আল মাহমুদ — সোনালি কাবিন
সৈয়দ শামসুল হক (১৯৩৫-২০১৬) — সব্যসাচী লেখক
কাব্যগ্রন্থ | প্রকাশকাল | বিশেষ তথ্য |
একদা এক রাজ্যে | ১৯৬১ | প্রথম কাব্য। |
বিরতিহীন উৎসব | ১৯৬৯ | |
পরানের গহীন ভেতর | ১৯৮০ | শ্রেষ্ঠ কাব্য। আঞ্চলিক ভাষায় লেখা — ময়মনসিংহের উপভাষা। |
প্রণীত জীবন | ১৯৮৬ |
★ সৈয়দ শামসুল হক 'সব্যসাচী লেখক' — একাধারে কবি, ঔপন্যাসিক, নাট্যকার, গল্পকার। 'পরানের গহীন ভেতর' আঞ্চলিক ভাষায় লেখা শ্রেষ্ঠ কাব্য।
আরো গুরুত্বপূর্ণ বাংলাদেশি কবি
কবি | জীবনকাল | বিখ্যাত কাব্য | বিশেষ তথ্য |
আবুল হাসান | ১৯৪৭-১৯৭৫ | রাজা যায় রাজা আসে | মাত্র ২৮ বছরে মৃত্যু। |
রুদ্র মুহম্মদ শহীদুল্লাহ | ১৯৫৬-১৯৯১ | উপদ্রুত উপকূল | মুক্তিযুদ্ধের চেতনার কবি। |
নির্মলেন্দু গুণ | ১৯৪৫-বর্তমান | প্রেমাংশুর রক্ত চাই | স্বাধীনতা-বিষয়ক কবিতা। |
মহাদেব সাহা | ১৯৪৪-বর্তমান | এই ঘর এই সংসার | জীবনঘনিষ্ঠ কবিতা। |
হুমায়ুন আজাদ | ১৯৪৭-২০০৪ | অলৌকিক ইস্টিমার | বিতর্কিত ও সাহসী কবিতা। |
আসাদ চৌধুরী | ১৯৪৩-বর্তমান | তবক দেওয়া পান | মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক। |
বেলাল চৌধুরী | ১৯৩৮-২০১৮ | নিষাদ প্রদেশ | আধুনিক কবি। |
দশম পর্ব: মুক্তিযুদ্ধের কবিতা
১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধ বাংলাদেশের কবিতায় এক নতুন অধ্যায় সূচনা করে। অনেক কবি মুক্তিযুদ্ধকালে এবং পরে অবিস্মরণীয় কবিতা লিখেছেন।
কবিতার নাম | কবি | বিষয়বস্তু |
স্বাধীনতা তুমি | শামসুর রাহমান | স্বাধীনতার বহুরূপী সংজ্ঞা। |
তোমাকে পাওয়ার জন্যে হে স্বাধীনতা | শামসুর রাহমান | মুক্তিযুদ্ধের ত্যাগ। |
সাহস করে বলুন | শামসুর রাহমান | |
একটি মানচিত্র | নির্মলেন্দু গুণ | বাংলাদেশের মানচিত্র। |
মুজিব মানে মুক্তি | নির্মলেন্দু গুণ | বঙ্গবন্ধুকে নিয়ে। |
স্বাধীনতা, এই শব্দটি কীভাবে আমাদের হলো | নির্মলেন্দু গুণ | বঙ্গবন্ধুর ৭ মার্চের ভাষণের পটভূমিতে। |
একুশের গান | আবদুল গাফফার চৌধুরী | 'আমার ভাইয়ের রক্তে রাঙানো...' |
সেই অস্ত্র চাই | আল মাহমুদ | মুক্তিযুদ্ধকালীন। |
★ নির্মলেন্দু গুণের 'স্বাধীনতা, এই শব্দটি কীভাবে আমাদের হলো' কবিতায় বঙ্গবন্ধুর ৭ই মার্চের ঐতিহাসিক ভাষণের কাব্যিক রূপ আছে।
একাদশ পর্ব: ট্রিকি ও অজানা তথ্
⚡ ট্রিক ১: চর্যাপদের আবিষ্কারক হরপ্রসাদ শাস্ত্রী (১৯০৭), প্রকাশক মহামহোপাধ্যায় হরপ্রসাদ শাস্ত্রী (১৯১৬)।
⚡ ট্রিক ২: চর্যাপদে সর্বাধিক পদ: কাহ্নপা (১৩টি)। প্রথম পদকর্তা: লুইপা। মোট পদকর্তা: ২৩ জন।
⚡ ট্রিক ৩: অমিত্রাক্ষর ছন্দের প্রবর্তক: মাইকেল মধুসূদন দত্ত। সনেটের প্রবর্তক: মাইকেল। গদ্যকবিতার প্রবর্তক: রবীন্দ্রনাথ।
⚡ ট্রিক ৪: মাইকেলের মেঘনাদবধ কাব্য (১৮৬১) প্রথম বাংলা মহাকাব্য। ৯ সর্গ। মেঘনাদ (ইন্দ্রজিৎ) হলো ট্র্যাজিক নায়ক।
⚡ ট্রিক ৫: রবীন্দ্রনাথ নোবেল পান ১৯১৩ সালে — গীতাঞ্জলির ইংরেজি অনুবাদ 'Song Offerings'-এর জন্য।
⚡ ট্রিক ৬: রবীন্দ্রনাথ বাংলাদেশের জাতীয় সংগীত ('আমার সোনার বাংলা') ও ভারতের জাতীয় সংগীত ('জন গণ মন') — দুটোই রচনা করেছেন।
⚡ ট্রিক ৭: নজরুলের 'বিদ্রোহী' প্রথম প্রকাশ 'বিজলী' পত্রিকায় (৬ জানুয়ারি ১৯২২)। 'বিষের বাঁশি' ও 'ভাঙার গান' ব্রিটিশ কর্তৃক বাজেয়াপ্ত।
⚡ ট্রিক ৮: নজরুলের 'সঞ্চিতা' রবীন্দ্রনাথকে উৎসর্গ করা হয়েছে। রবীন্দ্রনাথ 'বসন্ত' নাটক নজরুলকে উৎসর্গ করেছিলেন।
⚡ ট্রিক ৯: জীবনানন্দ দাশ ট্রামে কাটা পড়ে মারা যান (১৯৫৪)। তাঁর 'রূপসী বাংলা' মরণোত্তর প্রকাশিত। জন্ম ও মৃত্যু — দুটোই বরিশালের বাইরে।
⚡ ট্রিক ১০: 'বনলতা সেন' কবিতায় নাটোরের বনলতা সেনের কথা আছে। জীবনানন্দ দাশ বরিশালের মানুষ — নাটোরের নয়।
⚡ ট্রিক ১১: সুকান্ত ভট্টাচার্য মাত্র ২১ বছরে মারা যান। 'ছাড়পত্র' তাঁর শ্রেষ্ঠ কাব্য। 'ক্ষুধার রাজ্যে পৃথিবী গদ্যময়' — বিখ্যাত উক্তি।
⚡ ট্রিক ১২: আল মাহমুদের 'সোনালি কাবিন' ১৪টি সনেটের সংকলন — বাংলা কবিতার অন্যতম শ্রেষ্ঠ কাব্যগ্রন্থ।
⚡ ট্রিক ১৩: ফররুখ আহমদকে 'মুসলিম রেনেসাঁর কবি' বলা হয়। 'সাত সাগরের মাঝি' তাঁর শ্রেষ্ঠ কাব্য।
⚡ ট্রিক ১৪: সৈয়দ শামসুল হক 'সব্যসাচী লেখক' — একাধারে কবি, গল্পকার, ঔপন্যাসিক, নাট্যকার।
⚡ ট্রিক ১৫: আবদুল হাকিমের বিখ্যাত উক্তি: 'যে সব বঙ্গেত জন্মি হিংসে বঙ্গবাণী / সে সব কাহার জন্ম নির্ণয় ন জানি।'
⚡ ট্রিক ১৬: মধ্যযুগের শ্রেষ্ঠ মুসলিম কবি আলাওল। 'পদ্মাবতী' তাঁর শ্রেষ্ঠ কাব্য। তিনি রোসাঙ্গ (আরাকান) রাজ্যের কবি।
⚡ ট্রিক ১৭: 'নির্মলেন্দু গুণের স্বাধীনতা, এই শব্দটি কীভাবে আমাদের হলো' কবিতায় ৭ই মার্চের ভাষণের চিত্র আছে।
⚡ ট্রিক ১৮: রবীন্দ্রনাথের 'পুনশ্চ' (১৯৩২) — বাংলায় গদ্যকবিতার প্রথম সংকলন।
দ্বাদশ পর্ব: MCQ অনুশীলন
1. চর্যাপদ আবিষ্কার করেন কে?
(ক) রামনারায়ণ তর্করত্ন
(খ) দীনেশচন্দ্র সেন
(গ) হরপ্রসাদ শাস্ত্রী
(ঘ) সুনীতিকুমার চট্টোপাধ্যায়
✔ সঠিক উত্তর: (গ) হরপ্রসাদ শাস্ত্রী (১৯০৭, নেপালের রাজদরবার পুস্তকালয় থেকে)
2. চর্যাপদে সর্বাধিক পদ রচনা করেছেন কোন কবি?
(ক) লুইপা
(খ) ভুসুকুপা
(গ) কাহ্নপা
(ঘ) শবরপা
✔ সঠিক উত্তর: (গ) কাহ্নপা (কৃষ্ণপাদ) — ১৩টি পদ
3. চর্যাপদের প্রথম পদকর্তা কে?
(ক) কাহ্নপা
(খ) লুইপা
(গ) ভুসুকুপা
(ঘ) সরহপা
✔ সঠিক উত্তর: (খ) লুইপা
4. বাংলা সনেটের প্রবর্তক কে?
(ক) রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
(খ) বঙ্কিমচন্দ্র
(গ) মাইকেল মধুসূদন দত্ত
(ঘ) জীবনানন্দ দাশ
✔ সঠিক উত্তর: (গ) মাইকেল মধুসূদন দত্ত ('চতুর্দশপদী কবিতাবলি', ১৮৬৬)
5. প্রথম বাংলা মহাকাব্য কোনটি?
(ক) তিলোত্তমাসম্ভব
(খ) মেঘনাদবধ কাব্য
(গ) পদ্মাবতী
(ঘ) রামায়ণ
✔ সঠিক উত্তর: (খ) মেঘনাদবধ কাব্য (১৮৬১) — মাইকেল মধুসূদন দত্ত
6. মেঘনাদবধ কাব্যে কতটি সর্গ আছে?
(ক) ৬
(খ) ৭
(গ) ৮
(ঘ) ৯
✔ সঠিক উত্তর: (ঘ) ৯টি সর্গ
7. রবীন্দ্রনাথ কোন কাব্যের জন্য নোবেল পুরস্কার পেয়েছিলেন?
(ক) মানসী
(খ) সোনার তরী
(গ) গীতাঞ্জলি
(ঘ) বলাকা
✔ সঠিক উত্তর: (গ) গীতাঞ্জলির ইংরেজি অনুবাদ 'Song Offerings' (১৯১৩)
8. রবীন্দ্রনাথের প্রথম কাব্যগ্রন্থ কোনটি?
(ক) বনফুল
(খ) কবিকাহিনী
(গ) মানসী
(ঘ) সোনার তরী
✔ সঠিক উত্তর: (খ) কবিকাহিনী (১৮৭৮)
9. 'আমার সোনার বাংলা' গানটি কোন দেশের জাতীয় সংগীত?
(ক) ভারত
(খ) বাংলাদেশ
(গ) পশ্চিমবঙ্গ
(ঘ) শ্রীলংকা
✔ সঠিক উত্তর: (খ) বাংলাদেশের জাতীয় সংগীত — রবীন্দ্রনাথ রচিত
10. কাজী নজরুল ইসলামের প্রথম কাব্যগ্রন্থ কোনটি?
(ক) বিষের বাঁশি
(খ) দোলনচাঁপা
(গ) অগ্নিবীণা
(ঘ) সাম্যবাদী
✔ সঠিক উত্তর: (গ) অগ্নিবীণা (১৯২২)
11. নজরুলের 'বিদ্রোহী' কবিতা প্রথম কোন পত্রিকায় প্রকাশিত হয়?
(ক) সওগাত
(খ) মোসলেম ভারত
(গ) বিজলী
(ঘ) প্রবাসী
✔ সঠিক উত্তর: (গ) বিজলী পত্রিকায় (৬ জানুয়ারি ১৯২২)
12. নজরুলের কোন দুটি কাব্যগ্রন্থ ব্রিটিশ সরকার বাজেয়াপ্ত করেছিল?
(ক) অগ্নিবীণা ও সাম্যবাদী
(খ) বিষের বাঁশি ও ভাঙার গান
(গ) দোলনচাঁপা ও সর্বহারা
(ঘ) চক্রবাক ও সিন্ধুহিন্দোল
✔ সঠিক উত্তর: (খ) বিষের বাঁশি (১৯২৪) ও ভাঙার গান (১৯২৪)
13. জীবনানন্দ দাশের প্রথম কাব্যগ্রন্থ কোনটি?
(ক) ধূসর পাণ্ডুলিপি
(খ) বনলতা সেন
(গ) ঝরা পালক
(ঘ) রূপসী বাংলা
✔ সঠিক উত্তর: (গ) ঝরা পালক (১৯২৭)
14. 'বনলতা সেন' কবিতায় বনলতা সেন কোথাকার?
(ক) বরিশাল
(খ) রাজশাহী
(গ) নাটোর
(ঘ) ঢাকা
✔ সঠিক উত্তর: (গ) নাটোর
15. জীবনানন্দ দাশ কীভাবে মারা যান?
(ক) হৃদরোগে
(খ) ট্রামে কাটা পড়ে
(গ) নদীতে ডুবে
(ঘ) যক্ষ্মায়
✔ সঠিক উত্তর: (খ) কলকাতায় ট্রামে কাটা পড়ে (২২ অক্টোবর ১৯৫৪)
16. বাংলাদেশের জাতীয় কবি কে?
(ক) রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
(খ) কাজী নজরুল ইসলাম
(গ) শামসুর রাহমান
(ঘ) জীবনানন্দ দাশ
✔ সঠিক উত্তর: (খ) কাজী নজরুল ইসলাম
17. মধ্যযুগের শ্রেষ্ঠ মুসলিম কবি কে?
(ক) শাহ মুহম্মদ সগীর
(খ) দৌলত কাজী
(গ) আলাওল
(ঘ) সৈয়দ সুলতান
✔ সঠিক উত্তর: (গ) আলাওল। তাঁর শ্রেষ্ঠ কাব্য 'পদ্মাবতী'।
18. 'সবার উপরে মানুষ সত্য, তাহার উপরে নাই' — এই উক্তি কার?
(ক) বিদ্যাপতি
(খ) চণ্ডীদাস
(গ) জ্ঞানদাস
(ঘ) গোবিন্দদাস
✔ সঠিক উত্তর: (খ) চণ্ডীদাস
19. ফররুখ আহমদের শ্রেষ্ঠ কাব্যগ্রন্থ কোনটি?
(ক) সিরাজাম মুনীরা
(খ) নৌফেল ও হাতেম
(গ) সাত সাগরের মাঝি
(ঘ) হাতেম তাই
✔ সঠিক উত্তর: (গ) সাত সাগরের মাঝি (১৯৪৪)
20. শামসুর রাহমানের প্রথম কাব্যগ্রন্থ কোনটি?
(ক) রৌদ্র করোটিতে
(খ) বিধ্বস্ত নীলিমা
(গ) প্রথম গান দ্বিতীয় মৃত্যুর আগে
(ঘ) বন্দী শিবির থেকে
✔ সঠিক উত্তর: (গ) প্রথম গান দ্বিতীয় মৃত্যুর আগে (১৯৬০)
21. আল মাহমুদের 'সোনালি কাবিন' কাব্যে কতটি সনেট আছে?
(ক) ১০
(খ) ১২
(গ) ১৪
(ঘ) ১৬
✔ সঠিক উত্তর: (গ) ১৪টি সনেট
22. 'পরানের গহীন ভেতর' কাব্যের কবি কে?
(ক) আল মাহমুদ
(খ) শামসুর রাহমান
(গ) সৈয়দ শামসুল হক
(ঘ) নির্মলেন্দু গুণ
✔ সঠিক উত্তর: (গ) সৈয়দ শামসুল হক (১৯৮০) — ময়মনসিংহের আঞ্চলিক ভাষায় লেখা
23. 'মঙ্গলকাব্যের শ্রেষ্ঠ কবি' কে?
(ক) মুকুন্দরাম চক্রবর্তী
(খ) ভারতচন্দ্র রায়গুণাকর
(গ) বিজয়গুপ্ত
(ঘ) ময়ূরভট্ট
✔ সঠিক উত্তর: (খ) ভারতচন্দ্র রায়গুণাকর ('অন্নদামঙ্গল' রচয়িতা)
24. চর্যাপদের কবিদের সংখ্যা কত?
(ক) ১৮
(খ) ২০
(গ) ২৩
(ঘ) ২৫
✔ সঠিক উত্তর: (গ) ২৩ জন সিদ্ধাচার্য
25. অমিত্রাক্ষর ছন্দে কোন কাব্য প্রথম লেখা হয়?
(ক) মেঘনাদবধ
(খ) ব্রজাঙ্গনা
(গ) তিলোত্তমাসম্ভব কাব্য
(ঘ) চতুর্দশপদী কবিতাবলি
✔ সঠিক উত্তর: (গ) তিলোত্তমাসম্ভব কাব্য (১৮৬০)
26. রবীন্দ্রনাথের 'গীতাঞ্জলির' ইংরেজি অনুবাদের নাম কী?
(ক) The Crescent Moon
(খ) Song Offerings
(গ) Gitanjali
(ঘ) The Garden
✔ সঠিক উত্তর: (খ) Song Offerings
27. সুকান্ত ভট্টাচার্যের বিখ্যাত কাব্যগ্রন্থ কোনটি?
(ক) ঘুম নেই
(খ) ছাড়পত্র
(গ) পূর্বাভাস
(ঘ) অভিযান
✔ সঠিক উত্তর: (খ) ছাড়পত্র
28. 'ক্ষুধার রাজ্যে পৃথিবী গদ্যময়' — কার উক্তি?
(ক) কাজী নজরুল
(খ) রবীন্দ্রনাথ
(গ) সুকান্ত ভট্টাচার্য
(ঘ) জীবনানন্দ দাশ
✔ সঠিক উত্তর: (গ) সুকান্ত ভট্টাচার্য
29. 'বাংলার মুখ আমি দেখিয়াছি, তাই আমি পৃথিবীর রূপ খুঁজিতে যাই না আর' — এই কাব্যাংশ কার?
(ক) রবীন্দ্রনাথ
(খ) কাজী নজরুল
(গ) জীবনানন্দ দাশ
(ঘ) শামসুর রাহমান
✔ সঠিক উত্তর: (গ) জীবনানন্দ দাশ ('রূপসী বাংলা' কাব্যগ্রন্থ থেকে)
30. বৈষ্ণব পদাবলিতে সবচেয়ে বেশি পদ কোন ভাষায় রচিত?
(ক) সংস্কৃত
(খ) মৈথিলি
(গ) বাংলা
(ঘ) ব্রজবুলি
✔ সঠিক উত্তর: (গ) বাংলা — তবে বিদ্যাপতির পদ মৈথিলি ভাষায়
31. 'আজি ভুসুকু বঙালী ভইলী' — এই বিখ্যাত লাইনটি কার চর্যাপদ থেকে?
(ক) লুইপা
(খ) কাহ্নপা
(গ) ভুসুকুপা
(ঘ) শবরপা
✔ সঠিক উত্তর: (গ) ভুসুকুপা
32. মাইকেল মধুসূদন দত্তের জন্ম কোথায়?
(ক) কলকাতা
(খ) যশোর
(গ) ঢাকা
(ঘ) বরিশাল
✔ সঠিক উত্তর: (খ) যশোরের সাগরদাঁড়ি গ্রামে (২৫ জানুয়ারি ১৮২৪)
33. শামসুর রাহমানের কোন কবিতায় '৭ই মার্চের ভাষণ' আছে?
(ক) স্বাধীনতা তুমি
(খ) বর্ণমালা আমার দুঃখিনী
(গ) স্বাধীনতা এই শব্দটি কীভাবে আমাদের হলো
(ঘ) নির্মলেন্দু গুণের কবিতায়
✔ সঠিক উত্তর: (ঘ) নির্মলেন্দু গুণের 'স্বাধীনতা, এই শব্দটি কীভাবে আমাদের হলো' কবিতায়
34. চণ্ডীমঙ্গলের শ্রেষ্ঠ কবি কে?
(ক) বিজয়গুপ্ত
(খ) কবিকঙ্কণ মুকুন্দরাম চক্রবর্তী
(গ) ভারতচন্দ্র
(ঘ) আলাওল
✔ সঠিক উত্তর: (খ) কবিকঙ্কণ মুকুন্দরাম চক্রবর্তী
35. আল মাহমুদের প্রথম কাব্যগ্রন্থ কোনটি?
(ক) কালের কলস
(খ) সোনালি কাবিন
(গ) লোক লোকান্তর
(ঘ) মায়াবী পর্দা দুলে ওঠো
✔ সঠিক উত্তর: (গ) লোক লোকান্তর (১৯৬৩)
36. 'বিজলী' পত্রিকায় 'বিদ্রোহী' কবিতা প্রকাশিত হয় কখন?
(ক) ১৯২০
(খ) ৬ জানুয়ারি ১৯২২
(গ) ১৯২৩
(ঘ) ১৯২৪
✔ সঠিক উত্তর: (খ) ৬ জানুয়ারি ১৯২২
37. রবীন্দ্রনাথের 'বলাকা' কাব্যের মূল বিষয় কী?
(ক) প্রেম
(খ) গতি ও পরিবর্তন
(গ) বিরহ
(ঘ) ঈশ্বরভক্তি
✔ সঠিক উত্তর: (খ) গতি ও পরিবর্তন — 'বলাকা' মানে পরিযায়ী হাঁস
38. নজরুলের 'সঞ্চিতা' কাকে উৎসর্গ করা হয়?
(ক) বীরেন্দ্রনাথ শাসমল
(খ) রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
(গ) চিত্তরঞ্জন দাশ
(ঘ) দেশবন্ধু
✔ সঠিক উত্তর: (খ) রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরকে
39. 'অগ্নিবীণা' কার কাব্যগ্রন্থ?
(ক) রবীন্দ্রনাথ
(খ) কাজী নজরুল ইসলাম
(গ) জীবনানন্দ দাশ
(ঘ) সুকান্ত
✔ সঠিক উত্তর: (খ) কাজী নজরুল ইসলাম (১৯২২) — প্রথম কাব্যগ্রন্থ
40. 'ব্রজবুলি' কোন ভাষার মিশ্রণ?
(ক) বাংলা-সংস্কৃত
(খ) বাংলা-মৈথিলি
(গ) বাংলা-হিন্দি
(ঘ) মৈথিলি-সংস্কৃত
✔ সঠিক উত্তর: (খ) বাংলা-মৈথিলি মিশ্রণে তৈরি কৃত্রিম ভাষা — বৈষ্ণব পদাবলিতে ব্যবহৃত
ত্রয়োদশ পর্ব: সংক্ষিপ্ত প্রশ্ন ও উত্তর
প্র-1: চর্যাপদকে 'সন্ধ্যাভাষায়' লেখা বলা হয় কেন?
উ: চর্যাপদের ভাষা দ্ব্যর্থবোধক — বাহ্যিকভাবে প্রকৃতি ও সমাজের কথা মনে হলেও আসলে বৌদ্ধ সাধনতত্ত্বের কথা বলা হয়। যেমন সন্ধ্যার আলো-আঁধারি অবস্থায় পথ বোঝা কঠিন, তেমনি এই ভাষাও দুটি অর্থ বহন করে।
প্র-2: মাইকেল মধুসূদন দত্ত কেন বাংলা সাহিত্যে বিপ্লব ঘটালেন?
উ: মাইকেল পুরনো মিলযুক্ত কাব্যের ঐতিহ্য ভেঙে দিলেন। তিনি অমিত্রাক্ষর ছন্দ ও বাংলা সনেট প্রবর্তন করলেন। তাছাড়া মেঘনাদবধ কাব্যে রাবণ-পুত্র মেঘনাদকে নায়ক করে ভারতীয় পৌরাণিকতার বিরুদ্ধে দাঁড়ালেন — এটি তখন ছিল বিপ্লবী পদক্ষেপ।
প্র-3: রবীন্দ্রনাথের কবিতার বৈশিষ্ট্য কী?
উ: রবীন্দ্রনাথের কবিতায়: মানবিক ও ঐশ্বরিক প্রেমের সমন্বয়, বাংলার প্রকৃতির অপূর্ব চিত্র, দার্শনিক গভীরতা, সুরের মাধুর্য এবং মানবজীবনের নানা অনুভূতির সুক্ষ্ম প্রকাশ। তাঁর কবিতা একইসাথে সহজবোধ্য ও গভীর।
প্র-4: কাজী নজরুলকে কেন 'বিদ্রোহী কবি' বলা হয়?
উ: নজরুলের 'বিদ্রোহী' কবিতায় ব্রিটিশ ঔপনিবেশিকতা, ধর্মীয় কুসংস্কার ও সামাজিক শোষণের বিরুদ্ধে তীব্র প্রতিবাদ আছে। তাঁর কবিতায় বিদ্রোহের আগুন, সাম্যের স্বপ্ন ও মানবমুক্তির গান — তাই তাঁকে 'বিদ্রোহী কবি' বলা হয়।
প্র-5: জীবনানন্দ দাশকে 'রূপসী বাংলার কবি' বলা হয় কেন?
উ: জীবনানন্দের 'রূপসী বাংলা' কাব্যগ্রন্থে বাংলার নদী, মাঠ, পাখি, ফুল ও প্রকৃতির অসাধারণ চিত্র আছে। তিনি বাংলার রূপকে যেভাবে কবিতায় ধরেছেন, তা অতুলনীয় — তাই 'রূপসী বাংলার কবি'।
প্র-6: আল মাহমুদের 'সোনালি কাবিন' কাব্যের বৈশিষ্ট্য কী?
উ: ১৪টি সনেটের এই সংকলনে গ্রামবাংলার প্রেম, মাটি, নদী ও মানুষের জীবন সোনালি সূক্ষ্মতায় চিত্রিত। এখানে নারী ও প্রকৃতি একসাথে মিশে আছে। ভাষার শক্তি ও সৌন্দর্যে এই কাব্য অনন্য।
প্র-7: মঙ্গলকাব্যের সাধারণ বৈশিষ্ট্য কী?
উ: মঙ্গলকাব্যের বৈশিষ্ট্য: দেবী-মাহাত্ম্য প্রতিষ্ঠা, দেবতার সাথে মানুষের সংঘর্ষ-সমন্বয়, মানুষের জয় ও দেবতার প্রসন্নতা, পয়ার ও মহাপয়ার ছন্দের ব্যবহার।
প্র-8: শামসুর রাহমান কেন বাংলাদেশের প্রধান কবি?
উ: ভাষা আন্দোলন থেকে মুক্তিযুদ্ধ পর্যন্ত প্রতিটি ঐতিহাসিক মুহূর্তে শামসুর রাহমান কবিতায় সাড়া দিয়েছেন। 'স্বাধীনতা তুমি', 'বর্ণমালা আমার দুঃখিনী বর্ণমালা' — তাঁর কবিতা জাতির আত্মার কথা বলেছে।
চতুর্দশ পর্ব: মাস্টার রেফারেন্স সারণি
বাংলা কবিতার যুগ ও প্রধান কবি
যুগ | প্রধান কবি | শ্রেষ্ঠ কাব্য/রচনা |
প্রাচীন যুগ (৬৫০-১২০০) | লুইপা, কাহ্নপা, ভুসুকুপা | চর্যাপদ |
মধ্যযুগ (১২০০-১৮০০) | চণ্ডীদাস, বিদ্যাপতি, আলাওল, ভারতচন্দ্র | বৈষ্ণব পদাবলি, পদ্মাবতী, অন্নদামঙ্গল |
আধুনিক যুগ — মাইকেল | মাইকেল মধুসূদন দত্ত | মেঘনাদবধ কাব্য, চতুর্দশপদী |
রবীন্দ্র যুগ | রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর | গীতাঞ্জলি, সোনার তরী, বলাকা |
নজরুল যুগ | কাজী নজরুল ইসলাম | অগ্নিবীণা, সঞ্চিতা |
আধুনিক বাংলা | জীবনানন্দ, সুকান্ত, বিষ্ণু দে | বনলতা সেন, রূপসী বাংলা, ছাড়পত্র |
বাংলাদেশ যুগ | ফররুখ, শামসুর রাহমান, আল মাহমুদ | সাত সাগরের মাঝি, সোনালি কাবিন |
প্রথম কাব্যগ্রন্থ — এক নজরে
কবি | প্রথম কাব্যগ্রন্থ | প্রকাশকাল |
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর | কবিকাহিনী | ১৮৭৮ |
মাইকেল মধুসূদন দত্ত | তিলোত্তমাসম্ভব কাব্য | ১৮৬০ |
কাজী নজরুল ইসলাম | অগ্নিবীণা | ১৯২২ |
জীবনানন্দ দাশ | ঝরা পালক | ১৯২৭ |
সুকান্ত ভট্টাচার্য | ছাড়পত্র | ১৯৪৭ |
ফররুখ আহমদ | সাত সাগরের মাঝি | ১৯৪৪ |
আহসান হাবীব | রাত্রিশেষ | ১৯৪৭ |
শামসুর রাহমান | প্রথম গান দ্বিতীয় মৃত্যুর আগে | ১৯৬০ |
আল মাহমুদ | লোক লোকান্তর | ১৯৬৩ |
সৈয়দ শামসুল হক | একদা এক রাজ্যে | ১৯৬১ |
❝ কবিতা ভাষার সর্বোচ্চ রূপ — এখানে প্রতিটি শব্দ একটি মহাবিশ্ব ❞