সাধারণ বিজ্ঞান — জীববিজ্ঞান অর্গান ও অর্গান সিস্টেম Organs & Organ Systems |
টপিক ১ | জীবদেহের সংগঠন — কোষ থেকে অর্গান সিস্টেম |
অর্গান ও অর্গান সিস্টেম কী?
মানবদেহ (Human Body) অত্যন্ত জটিল এক জৈব যন্ত্র। এই দেহের সংগঠন সবচেয়ে ছোট একক — পরমাণু (Atom) থেকে শুরু হয়ে ধাপে ধাপে বড় হতে হতে পুরো জীব (Organism) পর্যন্ত পৌঁছায়। প্রতিটি স্তর নিচের স্তরের উপর নির্ভরশীল। এই পর্যায়ক্রমিক সংগঠনকে জীবদেহের সংগঠন স্তর (Levels of Organization) বলে।
অর্গান (Organ) হলো দুই বা তার বেশি ধরনের কলা (Tissue) নিয়ে গঠিত এমন একটি কাঠামো যা একটি নির্দিষ্ট কাজ করে। উদাহরণস্বরূপ হৃদযন্ত্র (Heart) হলো একটি অর্গান — এটি পেশি কলা, স্নায়ু কলা এবং যোজক কলা নিয়ে গঠিত এবং এর কাজ হলো সারা দেহে রক্ত পাম্প করা।
অর্গান সিস্টেম (Organ System) হলো কতগুলো অর্গান মিলে একটি বৃহৎ ও জটিল কাজ সম্পন্ন করার ব্যবস্থা। যেমন হৃদযন্ত্র + রক্তনালি + রক্ত মিলে রক্ত সংবহনতন্ত্র (Circulatory System) গঠন করে। মানবদেহে মোট ১১টি প্রধান অর্গান সিস্টেম আছে।
সংগঠন স্তর | সংজ্ঞা | উদাহরণ |
পরমাণু (Atom) | সকল পদার্থের মৌলিক একক | কার্বন (C), হাইড্রোজেন (H), অক্সিজেন (O) |
অণু (Molecule) | দুই বা তার বেশি পরমাণুর যৌগ | পানি (H₂O), গ্লুকোজ (C₆H₁₂O₆) |
কোষ (Cell) | জীবনের মৌলিক কার্যিক একক | নিউরন, লোহিত রক্তকণিকা |
কলা (Tissue) | একই ধরনের কোষের সমষ্টি | পেশিকলা, স্নায়ুকলা, আবরণী কলা |
অর্গান (Organ) | বিভিন্ন কলার সমন্বয়ে গঠিত কাঠামো | হৃদযন্ত্র, যকৃৎ, ফুসফুস, কিডনি |
অর্গান সিস্টেম (Organ System) | বিভিন্ন অর্গান মিলে বৃহৎ কার্য | রক্ত সংবহনতন্ত্র, পরিপাকতন্ত্র |
জীব (Organism) | সকল সিস্টেমের সমন্বয় | মানুষ, অন্যান্য প্রাণী |
মানবদেহের চার ধরনের কলা (Four Types of Tissues)
কলার প্রকার | ইংরেজি নাম | বৈশিষ্ট্য | উদাহরণ |
আবরণী কলা | Epithelial Tissue | দেহের আবরণ তৈরি করে; শোষণ ও নিঃসরণে ভূমিকা | ত্বকের বাইরের স্তর, অন্ত্রের আবরণ |
যোজক কলা | Connective Tissue | অন্য কলাকে সংযুক্ত ও সহায়তা করে | হাড়, রক্ত, তরুণাস্থি, চর্বি |
পেশি কলা | Muscle Tissue | সংকোচন-প্রসারণ করতে পারে; গতি তৈরি করে | হৃদপেশি, কঙ্কাল পেশি, মসৃণ পেশি |
স্নায়ু কলা | Nervous Tissue | বৈদ্যুতিক সংকেত পরিবহন করে | মস্তিষ্ক, সুষুম্নাকাণ্ড, স্নায়ু |
গুরুত্বপূর্ণ বিষয় (Key Takeaways) জীবদেহের সংগঠন স্তর: পরমাণু → অণু → কোষ → কলা → অর্গান → অর্গান সিস্টেম → জীব অর্গান = ২ বা তার বেশি ধরনের কলার সমন্বয়; একটি নির্দিষ্ট কাজ করে অর্গান সিস্টেম = একাধিক অর্গান মিলে একটি বৃহৎ কাজ সম্পন্ন করে মানবদেহে মোট ১১টি প্রধান অর্গান সিস্টেম আছে কলা চার প্রকার: আবরণী, যোজক, পেশি, স্নায়ু কলা |
টপিক ২ | পাঁচটি অত্যাবশ্যক অর্গান (Five Vital Organs) |
কোন অর্গান ছাড়া বাঁচা যায় না?
মানবদেহে মোট ৭৮টি অর্গান রয়েছে। এর মধ্যে পাঁচটিকে অত্যাবশ্যক অর্গান (Vital Organs) বলা হয় — কারণ এগুলোর যেকোনো একটি কাজ বন্ধ হলে মৃত্যু অনিবার্য। এই পাঁচটি অর্গান হলো: হৃদযন্ত্র (Heart), মস্তিষ্ক (Brain), কিডনি (Kidney), যকৃৎ (Liver) ও ফুসফুস (Lungs)।
একটু মনে রাখার ট্রিক: "হৃমকিযকু ফু" — হৃদযন্ত্র, মস্তিষ্ক, কিডনি, যকৃৎ, ফুসফুস। তবে অ্যাপেন্ডিক্স, পিত্তথলি বা একটি কিডনি ছাড়াও বাঁচা সম্ভব।
হৃদযন্ত্র (Heart) — দেহের পাম্প
হৃদযন্ত্র বুকের মাঝখানে কিছুটা বাঁদিকে অবস্থিত। এটি দেহের সবচেয়ে পরিশ্রমী অর্গান — প্রতিদিন প্রায় ১,০০,০০০ বার স্পন্দিত হয় এবং প্রায় ৭,৫০০ লিটার রক্ত পাম্প করে। হৃদযন্ত্রই ভ্রূণে সর্বপ্রথম তৈরি হওয়া অর্গান।
চারটি প্রকোষ্ঠ: ডান অলিন্দ (Right Atrium), বাম অলিন্দ (Left Atrium), ডান নিলয় (Right Ventricle), বাম নিলয় (Left Ventricle)
সবচেয়ে পুরু প্রকোষ্ঠ: বাম নিলয় (Left Ventricle) — সারা দেহে রক্ত পাঠায়
হৃদযন্ত্রের আবরণীর নাম: পেরিকার্ডিয়াম (Pericardium)
স্বাভাবিক হৃদস্পন্দন: ৭২ বার/মিনিট (প্রাপ্তবয়স্ক); ওজন: ২৫০–৩০০ গ্রাম
সবচেয়ে বড় ধমনি: মহাধমনি (Aorta)
"Heart of Heart" বা হৃদযন্ত্রের নিয়ন্ত্রক কেন্দ্র: SA Node (Sino-Atrial Node) বা হিজ বান্ডিল
রক্তচাপ: স্বাভাবিক ১২০/৮০ mmHg; রক্তচাপ মাপার যন্ত্র: স্ফিগমোম্যানোমিটার
মস্তিষ্ক (Brain) — দেহের নিয়ন্ত্রণকেন্দ্র
মস্তিষ্ক মাথার খুলির (Skull) ভেতরে থাকে এবং দেহের সকল কার্যক্রম নিয়ন্ত্রণ করে। এটি সিএনএস (CNS = Central Nervous System)-এর প্রধান অংশ। মস্তিষ্কের তিনটি প্রধান অংশ: গুরুমস্তিষ্ক (Cerebrum), লঘুমস্তিষ্ক (Cerebellum) ও মেডুলা অবলংগাটা (Medulla Oblongata)।
গুরুমস্তিষ্ক (Cerebrum): মস্তিষ্কের সবচেয়ে বড় অংশ; চিন্তা, স্মৃতি, ভাষা, ইচ্ছাশক্তি নিয়ন্ত্রণ করে
লঘুমস্তিষ্ক (Cerebellum): শরীরের ভারসাম্য ও গতির সমন্বয় করে
মেডুলা অবলংগাটা: শ্বাস-প্রশ্বাস, হৃদস্পন্দন ও রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণ করে
গুরুমস্তিষ্কের অন্তরভাগের নাম: সেরিব্রাল মেডুলা
মস্তিষ্কের মেনিনজেস: তিনটি আবরণ — ডুরামেটার, অ্যারাকনয়েড, পিয়ামেটার
মানুষের করোটি স্নায়ু: ১২ জোড়া; সুষুম্না স্নায়ু: ৩১ জোড়া
সবচেয়ে বড় স্নায়ু কোষ: নিউরন (Neuron); সবচেয়ে বড় স্নায়ু: ভেগাস (Vagus) স্নায়ু
যকৃৎ (Liver) — দেহের সবচেয়ে বড় গ্রন্থি
যকৃৎ উদরের উপরিভাগে ডানদিকে অবস্থিত এবং মানবদেহের সবচেয়ে বড় অন্তঃরীণ অর্গান এবং সবচেয়ে বড় গ্রন্থি (Gland)। এটি ৫০০-এরও বেশি কার্য সম্পাদন করে — তাই একে "দেহের রাসায়নিক কারখানা" বলা হয়।
পিত্তরস (Bile) তৈরি করে যা ছোট অন্ত্রে চর্বি হজমে সাহায্য করে
গ্লাইকোজেন হিসেবে গ্লুকোজ সঞ্চয় করে — তাৎক্ষণিক শক্তির উৎস হিসেবে কাজ করে
রক্ত থেকে বিষাক্ত পদার্থ অপসারণ করে (Detoxification)
রক্ত জমাট বাঁধার জন্য প্রোথ্রম্বিন ও ফিব্রিনোজেন তৈরি করে
ভিটামিন A ও D যকৃতে সঞ্চিত থাকে
ইউরিয়া তৈরি করে এবং পুরানো লোহিত রক্তকণিকা ভেঙে দেয়
ওজন: প্রায় ১.৫ কেজি; দেহের সবচেয়ে বড় অর্গান: ত্বক (Skin), সবচেয়ে বড় অন্তঃরীণ অর্গান: যকৃৎ
কিডনি বা বৃক্ক (Kidney) — দেহের পরিশোধক
কিডনি পিঠের দিকে মেরুদণ্ডের দুই পাশে অবস্থিত। মানবদেহে দুটি কিডনি আছে। প্রতিটি কিডনিতে প্রায় ১০ লক্ষ নেফ্রন (Nephron) থাকে, যা রক্ত ছেঁকে মূত্র তৈরি করে। কিডনিই রক্ত পরিষ্কার করে।
প্রতিদিন প্রায় ১–১.৫ লিটার মূত্র উৎপন্ন হয়
মানুষের মূত্রের pH মান: ৫–৮ (গড় ৬); মূত্র দুর্গন্ধের কারণ: ইউরিয়া
এরিথ্রোপয়েটিন হরমোন নিঃসরণ করে — লোহিত রক্তকণিকা উৎপাদনে সহায়তা করে
সবচেয়ে বড় লিম্ফ্যাটিক অর্গান: প্লীহা (Spleen); কিন্তু রক্ত পরিষ্কার করে কিডনি
কিডনি ব্যর্থ হলে ডায়ালাইসিস মেশিন রক্ত পরিষ্কার করে
ফুসফুস (Lungs) — শ্বাস-প্রশ্বাসের কেন্দ্র
ফুসফুস বুকের গহ্বরে (Thoracic Cavity) হৃদযন্ত্রের দুইপাশে অবস্থিত। এটিই একমাত্র অর্গান যা পানিতে ভাসতে পারে। মানুষের দুটি ফুসফুস থাকে — ডান ফুসফুসে তিনটি ও বাম ফুসফুসে দুটি লোব (Lobe) থাকে।
ফুসফুসে প্রায় ৩০ কোটি বায়ুথলি (Alveoli) আছে — গ্যাস বিনিময়ের স্থান
ফুসফুসের আবরণীর নাম: প্লুরা (Pleura)
শ্বাস-প্রশ্বাসের হার: স্বাভাবিক ১৬–২০ বার/মিনিট (প্রাপ্তবয়স্ক)
ফুসফুস দেহের প্রায় ২০% তাপ বিকিরণ করে
ফুসফুস দেহের তাপ নিয়ন্ত্রণে ভূমিকা রাখে
★ পাঁচটি অত্যাবশ্যক অর্গান মনে রাখুন "হৃ-মস্-কি-যকৃৎ-ফু" → হৃদযন্ত্র + মস্তিষ্ক + কিডনি + যকৃৎ + ফুসফুস অথবা: "Heart, Brain, Kidney, Liver, Lung" → HBK + LL → HBKLL মনে রাখুন: এই পাঁচটির যেকোনোটি ছাড়া বেঁচে থাকা সম্ভব নয় |
পরীক্ষার সম্ভাবনা (Exam Potential) "Heart of Heart" বা হৃদযন্ত্রের নিয়ন্ত্রক = SA Node বা হিজ বান্ডিল সবচেয়ে বড় গ্রন্থি = যকৃৎ | সবচেয়ে বড় অর্গান = ত্বক (Skin) হৃদযন্ত্রে সবচেয়ে পুরু প্রকোষ্ঠ = বাম নিলয় (Left Ventricle) মূত্রের pH = ৫–৮; রক্তের pH = ৭.৪ করোটি স্নায়ু = ১২ জোড়া; সুষুম্না স্নায়ু = ৩১ জোড়া |
টপিক ৩ | মানবদেহের ১১টি অর্গান সিস্টেম — পরিচয় |
১১টি সিস্টেম কীভাবে কাজ করে?
মানবদেহে ১১টি প্রধান অর্গান সিস্টেম (Organ System) রয়েছে। প্রতিটি সিস্টেম একটি নির্দিষ্ট প্রধান কাজ সম্পন্ন করে, কিন্তু সব সিস্টেম পরস্পর নির্ভরশীল। উদাহরণস্বরূপ — পরিপাকতন্ত্র খাদ্য থেকে পুষ্টি গ্রহণ করে, কিন্তু সেই পুষ্টি কোষে পৌঁছায় রক্ত সংবহনতন্ত্রের মাধ্যমে; এবং সব সিস্টেম নিয়ন্ত্রণ করে স্নায়ুতন্ত্র ও অন্তঃক্ষরা তন্ত্র।
নং | অর্গান সিস্টেম | ইংরেজি নাম | প্রধান অর্গানসমূহ | প্রধান কাজ |
১ | পরিপাকতন্ত্র | Digestive System | মুখ, অন্ননালি, পাকস্থলী, অন্ত্র, যকৃৎ, অগ্ন্যাশয় | খাদ্য পরিপাক ও পুষ্টি শোষণ |
২ | শ্বসনতন্ত্র | Respiratory System | নাক, শ্বাসনালি, ব্রঙ্কাস, ফুসফুস, ডায়াফ্রাম | O₂ গ্রহণ ও CO₂ বর্জন |
৩ | রক্ত সংবহনতন্ত্র | Circulatory System | হৃদযন্ত্র, ধমনি, শিরা, কৈশিক নালি, রক্ত | সারাদেহে রক্ত, O₂, পুষ্টি পরিবহন |
৪ | মূত্রতন্ত্র | Urinary System | কিডনি, মূত্রনালি, মূত্রথলি, ইউরেথ্রা | রক্ত পরিশোধন ও মূত্র নিষ্কাশন |
৫ | স্নায়ুতন্ত্র | Nervous System | মস্তিষ্ক, সুষুম্নাকাণ্ড, স্নায়ু, সংবেদী অর্গান | দেহের নিয়ন্ত্রণ ও সমন্বয় |
৬ | অন্তঃক্ষরা তন্ত্র | Endocrine System | পিটুইটারি, থাইরয়েড, অ্যাড্রিনাল, অগ্ন্যাশয় | হরমোন নিঃসরণ ও রাসায়নিক নিয়ন্ত্রণ |
৭ | কঙ্কাল তন্ত্র | Skeletal System | হাড়, তরুণাস্থি, অস্থিসন্ধি, লিগামেন্ট | দেহের কাঠামো, সুরক্ষা ও গতি |
৮ | পেশি তন্ত্র | Muscular System | কঙ্কাল পেশি, মসৃণ পেশি, হৃদপেশি | গতি ও তাপ উৎপাদন |
৯ | ইন্টেগুমেন্টারি তন্ত্র | Integumentary System | ত্বক, চুল, নখ, ঘামগ্রন্থি | সুরক্ষা, তাপ নিয়ন্ত্রণ, ভিটামিন D সংশ্লেষণ |
১০ | লিম্ফ্যাটিক তন্ত্র | Lymphatic System | প্লীহা, থাইমাস, লিম্ফ নোড, লিম্ফ নালি | রোগ প্রতিরোধ ও লিম্ফ পরিবহন |
১১ | প্রজনন তন্ত্র | Reproductive System | অণ্ডকোষ, ডিম্বাশয়, জরায়ু, যোনি | প্রজনন ও প্রজাতির ধারাবাহিকতা |
বিশেষ নোট: ইমিউন সিস্টেম (Immune System) ইমিউন সিস্টেম বা রোগ প্রতিরোধ তন্ত্র একটি বিশেষ ব্যবস্থা — কিন্তু এটি অর্গান সিস্টেম নয়, কারণ এটি কোনো নির্দিষ্ট অর্গান নিয়ে গঠিত নয়। তবে লিম্ফ্যাটিক সিস্টেম রোগ প্রতিরোধে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। কিছু অর্গান একাধিক সিস্টেমের অংশ — যেমন অগ্ন্যাশয় পরিপাকতন্ত্র ও অন্তঃক্ষরা তন্ত্র উভয়েরই অংশ। |
টপিক ৪ | পরিপাকতন্ত্র (Digestive System) |
খাদ্য থেকে শক্তি কীভাবে পাই?
পরিপাকতন্ত্র (Digestive System) হলো মুখ (Mouth) থেকে মলদ্বার (Anus) পর্যন্ত বিস্তৃত একটি টিউব-সদৃশ কাঠামো। এর মাধ্যমে খাদ্য ভেঙে পুষ্টি উপাদানে পরিণত হয়, যা শরীরের কোষে পৌঁছায়। পরিপাক প্রক্রিয়া মুখ থেকেই শুরু হয়।
পরিপাক দুই ধরনের: (১) যান্ত্রিক পরিপাক (Mechanical Digestion) — দাঁত দিয়ে চিবানো, পাকস্থলীতে গুলিয়ে মিশানো; (২) রাসায়নিক পরিপাক (Chemical Digestion) — এনজাইম দিয়ে রাসায়নিক বিভাজন।
পরিপাকতন্ত্রের অর্গান ও তাদের কাজ
অর্গান | বিশেষ এনজাইম/রস | পরিপাকের কাজ |
মুখগহ্বর (Mouth) | টায়ালিন (Ptyalin) / স্যালাইভারি অ্যামাইলেজ | শ্বেতসার (Starch) ভেঙে মাল্টোজে পরিণত করে; যান্ত্রিক পরিপাক শুরু |
অন্ননালি (Oesophagus) | — | পেরিস্টালসিস (তরঙ্গগতি) দ্বারা খাদ্য পাকস্থলীতে পাঠায় |
পাকস্থলী (Stomach) | পেপসিন (Pepsin), HCl | প্রোটিন হজম শুরু; HCl ব্যাকটেরিয়া ধ্বংস করে; পেপসিনোজেন → পেপসিন |
ছোট অন্ত্র (Small Intestine) | ট্রিপসিন, মাল্টেজ, ল্যাকটেজ, সুক্রেজ | প্রধান পরিপাক ও শোষণ এখানে হয়; দৈর্ঘ্য প্রায় ৭ মিটার |
ডিউডেনাম (Duodenum) | অগ্ন্যাশয়ের রস ও পিত্তরস | ছোট অন্ত্রের "C" আকৃতির প্রথম অংশ; ৮০% পরিপাক এখানে |
বড় অন্ত্র (Large Intestine) | — | পানি শোষণ; অপাচ্য পদার্থ মল হিসেবে সঞ্চয়; দৈর্ঘ্য ১.৫ মিটার |
যকৃৎ (Liver) | পিত্তরস (Bile) | চর্বি পরিপাকে সাহায্য; রক্ত পরিশোধন; গ্লাইকোজেন সঞ্চয় |
অগ্ন্যাশয় (Pancreas) | অ্যামাইলেজ, ট্রিপসিন, লাইপেজ | তিন ধরনের খাদ্যই (শ্বেতসার, প্রোটিন, চর্বি) হজম করে; ইনসুলিন তৈরি করে |
লালাগ্রন্থির সংখ্যা: ৩ জোড়া (প্যারোটিড, সাবম্যান্ডিবুলার, সাবলিঙ্গুয়াল)
পাকস্থলীতে HCl উৎপন্ন হয় — এটি জীবাণু ধ্বংস করে এবং পেপসিনোজেনকে সক্রিয় পেপসিনে রূপান্তরিত করে
ক্ষুদ্রান্ত্রের ভিলাই (Villi) পুষ্টি শোষণের ক্ষেত্রফল বাড়ায়
অ্যাপেন্ডিক্স: বৃহদন্ত্রের সঙ্গে যুক্ত ছোট আঙুলের মতো অর্গান; সম্পূর্ণ কার্য অজানা
★ এনজাইম মনে রাখার ট্রিক মুখে = টায়ালিন (শ্বেতসার ভাঙে) | পাকস্থলীতে = পেপসিন (প্রোটিন ভাঙে) অগ্ন্যাশয়ের = লাইপেজ (চর্বি) + অ্যামাইলেজ (শ্বেতসার) + ট্রিপসিন (প্রোটিন) — তিনটিই! "লাইপেজ = Lipid + ase" → চর্বি ভাঙে |
টপিক ৫ | রক্ত সংবহনতন্ত্র (Circulatory System) ও রক্ত |
রক্ত কী বহন করে?
রক্ত সংবহনতন্ত্র হৃদযন্ত্র + রক্তনালি + রক্ত নিয়ে গঠিত। এটি দেহের সকল কোষে অক্সিজেন, পুষ্টি, হরমোন পৌঁছে দেয় এবং বর্জ্য পদার্থ, CO₂ অপসারণ করে। হৃদযন্ত্র হলো পাম্প; ধমনি (Artery) হলো পরিষ্কার রক্তের নালি; শিরা (Vein) হলো কার্বন ডাই-অক্সাইডযুক্ত রক্তের নালি।
রক্তের উপাদান ও বৈশিষ্ট্য
উপাদান | বৈজ্ঞানিক নাম | বৈশিষ্ট্য ও কাজ |
লোহিত রক্তকণিকা | RBC (Erythrocyte) | হিমোগ্লোবিন থাকে; O₂ বহন করে; নিউক্লিয়াস নেই (উট ব্যতিক্রম); আয়ু ১২০ দিন; অস্থিমজ্জায় তৈরি |
শ্বেত রক্তকণিকা | WBC (Leukocyte) | রোগ প্রতিরোধ করে; রক্তের প্রহরী বলা হয়; নিউক্লিয়াস আছে; RBC-র চেয়ে বড় |
অণুচক্রিকা | Platelet (Thrombocyte) | রক্ত জমাট বাঁধাতে সাহায্য করে; সবচেয়ে ছোট রক্তকোষ |
রক্তরস | Plasma | ৯০–৯২% পানি; খাদ্য, হরমোন, বর্জ্য বহন করে |
রক্ত সম্পর্কিত গুরুত্বপূর্ণ তথ্য
রক্তের pH: ৭.৩৫–৭.৪৫ (গড় ৭.৪) — সামান্য ক্ষারীয়
রক্তের পরিমাণ: ৪–৬ লিটার (শরীরের ভারের প্রায় ৭–৮%)
রক্তের রং লাল কারণ: হিমোগ্লোবিনে আয়রন (Fe) আছে
হিমোগ্লোবিনের খনিজ উপাদান: লোহা (Iron, Fe)
সার্বজনীন দাতা রক্তের গ্রুপ: O (নেগেটিভ)
সার্বজনীন গ্রহীতা রক্তের গ্রুপ: AB (পজিটিভ)
রক্তের গ্রুপ আবিষ্কার করেন: কার্ল ল্যান্ডস্টেইনার (Karl Landsteiner)
RH ফ্যাক্টর আবিষ্কার করেন: ল্যান্ডস্টেইনার ও উইনার
রক্ত পরিষ্কার করে: কিডনি (বৃক্ক) | রক্ত ব্যাংক বলা হয়: প্লীহা (Spleen) কে
ব্লাড প্রেশার মাপার যন্ত্র: স্ফিগমোম্যানোমিটার
ধমনি (Artery) O₂যুক্ত রক্ত বহন করে (পালমোনারি ধমনি ব্যতিক্রম) হৃদযন্ত্র থেকে রক্ত বাইরে নিয়ে যায় দেয়াল পুরু ও탄탄 নাড়ি (Pulse) ধমনিতেই অনুভব হয় সবচেয়ে বড় ধমনি: মহাধমনি (Aorta) | শিরা (Vein) CO₂যুক্ত রক্ত বহন করে (পালমোনারি শিরা ব্যতিক্রম) অঙ্গ থেকে হৃদযন্ত্রে রক্ত ফেরত আনে দেয়াল পাতলা; ভালভ আছে সবচেয়ে বড় শিরা: ভেনা কাভা (Vena Cava) ভ্যারিকোজ ভেইন শিরার রোগ |
টপিক ৬ | শ্বসনতন্ত্র (Respiratory System) |
শ্বাস-প্রশ্বাস কীভাবে কাজ করে?
শ্বসনতন্ত্র বায়ু থেকে অক্সিজেন গ্রহণ করে এবং কার্বন ডাই-অক্সাইড বের করে দেয়। শ্বাস-প্রশ্বাসের পথ: নাক → ফ্যারিংস → ল্যারিংস → শ্বাসনালি (Trachea) → ব্রঙ্কাস → ব্রঙ্কিওল → অ্যালভিওলি। অ্যালভিওলিতে (বায়ুথলিতে) গ্যাস বিনিময় হয় — O₂ রক্তে ঢোকে ও CO₂ বের হয়।
অর্গান | কাজ / বিশেষ তথ্য |
নাক (Nose) | বায়ু ছাঁকে, উষ্ণ ও আর্দ্র করে; ঘ্রাণ গ্রাহক আছে |
ল্যারিংস (Larynx) | কণ্ঠস্বর বাক্স (Voice Box); কথা বলার অর্গান; এপিগ্লটিস দেয়া আছে |
শ্বাসনালি (Trachea) | C-আকৃতির তরুণাস্থি দিয়ে গঠিত; ফুসফুসে বায়ু পরিবহন |
ব্রঙ্কাস (Bronchi) | দুটি শাখায় বিভক্ত হয়ে দুই ফুসফুসে প্রবেশ করে |
অ্যালভিওলি (Alveoli) | ফুসফুসে ৩০ কোটি বায়ুথলি; গ্যাস বিনিময়ের প্রকৃত স্থান |
ডায়াফ্রাম (Diaphragm) | শ্বাস নেওয়ার সময় নিচে নামে; ছেড়ে দেওয়ার সময় উপরে ওঠে |
প্লুরা (Pleura) | ফুসফুসের দ্বিস্তরীয় আবরণ |
স্বাভাবিক শ্বাস-প্রশ্বাসের হার: ১৬–২০ বার/মিনিট (প্রাপ্তবয়স্ক), শিশুতে বেশি
ব্রঙ্কাইটিস = শ্বাসনালির (Bronchi) রোগ; নিউমোনিয়া = ফুসফুসের রোগ
কালো ফুসফুস রোগ (Black Lung Disease) = কয়লা কারখানার শ্রমিকদের হয়
ফুসফুসের আবরণের প্রদাহ = প্লুরিসি (Pleurisy)
অ্যাজমা (Asthma) = শ্বাসনালি সংকুচিত হওয়ার রোগ
টপিক ৭ | স্নায়ুতন্ত্র (Nervous System) |
দেহের টেলিযোগাযোগ ব্যবস্থা
স্নায়ুতন্ত্র দেহের সবচেয়ে দ্রুত সংযোগ ব্যবস্থা — এটি বিদ্যুৎ সংকেত পাঠিয়ে দেহের সব কার্যক্রম নিয়ন্ত্রণ করে। স্নায়ুতন্ত্রের মূল কার্যিক একক হলো নিউরন (Neuron) — দেহের সবচেয়ে বড় কোষ। একটি নিউরন থেকে আরেকটিতে সংকেত পাঠানোর সংযোগস্থলকে সিন্যাপ্স (Synapse) বলে।
কেন্দ্রীয় স্নায়ুতন্ত্র (CNS) মস্তিষ্ক (Brain) + সুষুম্নাকাণ্ড (Spinal Cord) দেহের নিয়ন্ত্রণ কেন্দ্র CNS = Central Nervous System মস্তিষ্ক খুলির (Skull) ভেতরে সুষুম্নাকাণ্ড মেরুদণ্ডের ভেতরে মেরুদণ্ডের অস্থির সংখ্যা: ৩৩টি | প্রান্তীয় স্নায়ুতন্ত্র (PNS) করোটি ও সুষুম্না স্নায়ুসমূহ PNS = Peripheral Nervous System করোটি স্নায়ু: ১২ জোড়া সুষুম্না স্নায়ু: ৩১ জোড়া দুই প্রকার: দেহজ ও স্বায়ত্তশাসিত স্বায়ত্তশাসিত: সিম্প্যাথেটিক ও প্যারাসিম্প্যাথেটিক |
স্নায়ুতন্ত্রের গুরুত্বপূর্ণ তথ্য
নিউরন: স্নায়ুকোষ — দেহের সবচেয়ে বড় কোষ; বিভাজনে অক্ষম
স্নায়বিক মূলক: নিউক্লিয়াস; দেহ থেকে বের হওয়া দীর্ঘ শাখা: অ্যাক্সন; ছোট শাখা: ডেনড্রাইট
সবচেয়ে বড় স্নায়ু: ভেগাস স্নায়ু; সায়াটিক স্নায়ু — দেহের সবচেয়ে দীর্ঘ স্নায়ু
রিফ্লেক্স ক্রিয়া (Reflex Action): সুষুম্নাকাণ্ড নিয়ন্ত্রণ করে; মস্তিষ্কের অংশগ্রহণ নেই
EEG (Electroencephalogram): মস্তিষ্কের তড়িৎ কার্যকলাপ পরিমাপ করে
ECG (Electrocardiogram): হৃদযন্ত্রের তড়িৎ কার্যকলাপ পরিমাপ করে
টপিক ৮ | অন্তঃক্ষরা তন্ত্র (Endocrine System) ও গুরুত্বপূর্ণ গ্রন্থি |
হরমোন কী এবং কীভাবে কাজ করে?
অন্তঃক্ষরা তন্ত্র (Endocrine System) হরমোন (Hormone) নামক রাসায়নিক বার্তাবাহক নিঃসরণ করে এবং রক্তের মাধ্যমে লক্ষ্য অর্গানে পাঠায়। হরমোন দেহের বৃদ্ধি, বিপাক, প্রজনন ও অন্যান্য দীর্ঘমেয়াদি প্রক্রিয়া নিয়ন্ত্রণ করে। স্নায়ুতন্ত্র দ্রুত কিন্তু স্বল্পস্থায়ী নিয়ন্ত্রণ দেয়; অন্তঃক্ষরা তন্ত্র ধীর কিন্তু দীর্ঘস্থায়ী নিয়ন্ত্রণ দেয়।
গ্রন্থির নাম | অবস্থান | নিঃসৃত হরমোন | কার্য / অভাবজনিত রোগ |
পিটুইটারি (Pituitary) | মস্তিষ্কের নিচে (প্রভু গ্রন্থি / Master Gland) | GH, TSH, FSH, LH, ADH, অক্সিটোসিন | বৃদ্ধি নিয়ন্ত্রণ; অন্যান্য গ্রন্থি নিয়ন্ত্রণ করে |
থাইরয়েড (Thyroid) | গলায় ট্র্যাকিয়ার সামনে | থাইরক্সিন (T₃, T₄), ক্যালসিটোনিন | বিপাক হার নিয়ন্ত্রণ; অভাব → ক্রিটিনিজম (শিশুতে), মিক্সিডিমা (বয়স্কে); আয়োডিনের অভাবে গলগণ্ড |
প্যারাথাইরয়েড (Parathyroid) | থাইরয়েডের পেছনে (৪টি) | PTH (প্যারাথরমোন) | রক্তে Ca²⁺ মাত্রা নিয়ন্ত্রণ |
অ্যাড্রিনাল (Adrenal) | কিডনির উপরে (২টি) | অ্যাড্রিনালিন, কর্টিসোল, অ্যালডোস্টেরন | জরুরি পরিস্থিতিতে "লড়াই বা পালাও" প্রতিক্রিয়া; রক্তচাপ বাড়ায় |
অগ্ন্যাশয় (Pancreas) | উদরে | ইনসুলিন, গ্লুকাগন | রক্তে গ্লুকোজ নিয়ন্ত্রণ; ইনসুলিনের অভাবে ডায়াবেটিস মেলিটাস |
থাইমাস (Thymus) | বুকে, শিশুতে বড় | থাইমোসিন | T-লিম্ফোসাইট পরিপক্ক করে; রোগ প্রতিরোধে |
পিনিয়াল (Pineal) | মস্তিষ্কে | মেলাটোনিন | ঘুম-জাগরণ চক্র নিয়ন্ত্রণ |
ডিম্বাশয় (Ovary) | নারী প্রজনন অর্গানে | ইস্ট্রোজেন, প্রোজেস্টেরন | নারীর যৌন বৈশিষ্ট্য ও মাসিক চক্র |
অণ্ডকোষ (Testis) | পুরুষ প্রজনন অর্গানে | টেস্টোস্টেরন | পুরুষের যৌন বৈশিষ্ট্য ও শুক্রাণু উৎপাদন |
বিশেষ নোট: গুরুত্বপূর্ণ হরমোন — মনে রাখার তথ্য সবচেয়ে ছোট গ্রন্থি = পিটুইটারি (মটর দানার মতো, ওজন ০.৫ গ্রাম); কিন্তু সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ — তাই "প্রভু গ্রন্থি" সবচেয়ে বড় অন্তঃক্ষরা গ্রন্থি = থাইরয়েড ইনসুলিন আবিষ্কার করেন: ব্যান্টিং ও বেস্ট (১৯২১) অ্যাড্রিনালিন = জরুরি হরমোন; রক্তচাপ বাড়ায়, হৃদস্পন্দন বাড়ায় ADH (অ্যান্টি-ডায়িউরেটিক হরমোন) মূত্র কমায়; অভাবে ডায়াবেটিস ইনসিপিডাস |
টপিক ৯ | কঙ্কাল তন্ত্র ও পেশি তন্ত্র (Skeletal & Muscular Systems) |
হাড় ও পেশি একসাথে গতি তৈরি করে
কঙ্কাল তন্ত্র (Skeletal System) দেহের কাঠামো প্রদান করে, অভ্যন্তরীণ অর্গান রক্ষা করে এবং অস্থিমজ্জায় রক্তকণিকা তৈরি করে। পেশি তন্ত্র (Muscular System) সংকোচন-প্রসারণের মাধ্যমে গতি তৈরি করে। এই দুই তন্ত্র একসাথে মাস্কুলোস্কেলেটাল সিস্টেম গঠন করে।
কঙ্কাল তন্ত্রের গুরুত্বপূর্ণ তথ্য
বিষয় | তথ্য |
পূর্ণবয়স্ক মানুষের হাড়ের সংখ্যা | ২০৬টি |
নবজাতক শিশুর হাড়ের সংখ্যা | ৩০০টি (বয়সের সাথে কিছু হাড় একত্রিত হয়) |
শরীরের সবচেয়ে বড় ও শক্তিশালী হাড় | ফিমার (Femur) — উরুর হাড় |
শরীরের সবচেয়ে ছোট হাড় | স্টেপিস (Stapes) — মধ্যকর্ণে; মাত্র ৩ মিলিমিটার |
পাঁজরের হাড়ের সংখ্যা | ২৪টি (১২ জোড়া) |
মেরুদণ্ডের অস্থির সংখ্যা | ৩৩টি |
গলায় (Cervical) মেরুদণ্ডীয় অস্থি | ৭টি |
হাতের হাড়ের সংখ্যা | ২৭টি (প্রতিটি হাতে) |
কব্জিতে হাড় | ৮টি |
মুখমণ্ডলের হাড় | ১৪টি |
মাথার খুলির হাড় | ২২টি |
দাঁতের গঠনকারী পদার্থ | ডেন্টিন; সবচেয়ে শক্ত অংশ: এনামেল (Enamel) |
অস্থিমজ্জার কাজ | RBC, WBC ও Platelet তৈরি করে |
হাড় গঠনে প্রয়োজনীয় খনিজ | ক্যালসিয়াম (Ca) ও ফসফরাস (P) |
সবচেয়ে শক্ত টিস্যু | এনামেল (Enamel) — দাঁতের বাইরের স্তর |
পেশি তন্ত্রের গুরুত্বপূর্ণ তথ্য
পেশির ধরন | বৈশিষ্ট্য | অবস্থান |
কঙ্কাল পেশি (Skeletal Muscle) | ঐচ্ছিক (Voluntary); দ্রুত সংকোচনশীল; রেখাযুক্ত | অঙ্গ-প্রত্যঙ্গে; গতির জন্য |
মসৃণ পেশি (Smooth Muscle) | অনৈচ্ছিক (Involuntary); ধীর সংকোচন; রেখাহীন | পাকস্থলী, অন্ত্র, রক্তনালির দেয়ালে |
হৃদপেশি (Cardiac Muscle) | অনৈচ্ছিক; কখনো ক্লান্ত হয় না; রেখাযুক্ত | শুধুমাত্র হৃদযন্ত্রে |
মোট পেশির সংখ্যা: প্রায় ৬৩৯টি
শরীরের সবচেয়ে বড় পেশি: গ্লুটিয়াস ম্যাক্সিমাস (Gluteus Maximus) — নিতম্বের পেশি
শরীরের সবচেয়ে শক্তিশালী পেশি: ম্যাসেটার (Masseter) — চোয়ালের পেশি (আকারের তুলনায়)
শরীরের সবচেয়ে ছোট পেশি: স্টেপেডিয়াস (Stapedius) — মধ্যকর্ণে
বাহুতে পেশির সংখ্যা: ৭২টি
মৃত্যুর পর পেশি শক্ত হয়ে যায় — রিগোর মর্টিস (Rigor Mortis); কারণ: ATP কমে যাওয়া
টপিক ১০ | ত্বক, মূত্রতন্ত্র ও লিম্ফ্যাটিক তন্ত্র |
তিনটি গুরুত্বপূর্ণ তন্ত্র
ত্বক (Skin) — দেহের সবচেয়ে বড় অর্গান
ত্বক (Skin) মানবদেহের সবচেয়ে বড় অর্গান — একজন পূর্ণবয়স্ক মানুষের ত্বকের ক্ষেত্রফল প্রায় ২ বর্গমিটার এবং ওজন প্রায় ৩–৪ কেজি। ত্বক তিনটি স্তরে গঠিত এবং ইন্টেগুমেন্টারি সিস্টেমের (Integumentary System) প্রধান অর্গান।
ত্বকের স্তর | বৈশিষ্ট্য | কার্য |
বহির্ত্বক (Epidermis) | সবচেয়ে বাইরের স্তর; মৃত কোষ দিয়ে গঠিত; কেরাটিন থাকে | জীবাণু ও আঘাত থেকে রক্ষা; মেলানিন তৈরি করে (রঙ) |
অন্তর্ত্বক (Dermis) | মধ্যবর্তী স্তর; রক্তনালি, স্নায়ু, ঘামগ্রন্থি, লোমকূপ আছে | স্পর্শ, তাপ, ব্যথার অনুভূতি; তাপ নিয়ন্ত্রণ (ঘাম) |
অধস্ত্বক (Hypodermis) | সবচেয়ে ভেতরের স্তর; চর্বি কোষ (Adipose) থাকে | তাপ সংরক্ষণ; শক্তি সঞ্চয়; কুশনের কাজ |
ত্বক ভিটামিন D সংশ্লেষণে সহায়তা করে — সূর্যালোকের (UV) সাহায্যে
প্রতিদিন ১০ লক্ষ ত্বক কোষ ঝরে পড়ে
স্তন গ্রন্থি আসলে পরিবর্তিত ঘর্মগ্রন্থি (Sweat Gland)
মূত্রতন্ত্র (Urinary System)
মূত্রতন্ত্র রক্ত পরিশোধন করে এবং বর্জ্য পদার্থ মূত্র আকারে বের করে দেয়। এটি কিডনি (২টি), মূত্রনালি (Ureter) (২টি), মূত্রথলি (Urinary Bladder) (১টি) ও ইউরেথ্রা (Urethra) নিয়ে গঠিত।
কিডনিতে নেফ্রন (Nephron) = পরিশোধনের মূল একক; প্রতিটি কিডনিতে ১০ লক্ষ নেফ্রন
প্রতিদিন মূত্র উৎপাদন: ১–১.৫ লিটার; মূত্রের pH: ৫–৮ (গড় ৬)
মূত্রের হলুদ রঙের কারণ: ইউরোক্রোম (Urochrome) — পুরানো RBC ভাঙলে তৈরি
মূত্র দুর্গন্ধের কারণ: ইউরিয়া (Urea)
মূত্রে গ্লুকোজ থাকলে = ডায়াবেটিস মেলিটাসের লক্ষণ
লিম্ফ্যাটিক তন্ত্র (Lymphatic System)
লিম্ফ্যাটিক তন্ত্র লিম্ফ (Lymph) নামক তরল পরিবহন করে এবং রোগ প্রতিরোধে বিশেষ ভূমিকা রাখে। প্লীহা (Spleen) হলো সবচেয়ে বড় লিম্ফ্যাটিক অর্গান — একে "রক্ত ব্যাংক" ও বলা হয়।
প্লীহা (Spleen): পুরানো RBC ধ্বংস করে; রক্ত ব্যাংক; হরমোন তৈরি করে না
থাইমাস (Thymus): T-লিম্ফোসাইট পরিপক্ক করে; শিশুতে বড়, বয়স্কে সংকুচিত
লিম্ফ নোড (Lymph Node): জীবাণু ছেঁকে ধ্বংস করে; সংক্রমণে ফুলে যায়
টপিক ১১ | মানবদেহের গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা ও পরিমাপ |
বিষয় | তথ্য / পরিমাণ |
মোট হাড়ের সংখ্যা | ২০৬টি (পূর্ণবয়স্ক); নবজাতকে ৩০০টি |
মোট পেশির সংখ্যা | ৬৩৯টি (আনুমানিক) |
ক্রোমোজোমের সংখ্যা | ৪৬টি (২৩ জোড়া); সেক্স ক্রোমোজোম: ১ জোড়া |
রক্তের পরিমাণ | ৪–৬ লিটার (শরীরের ভারের ৭–৮%) |
রক্তের pH | ৭.৩৫–৭.৪৫ (গড় ৭.৪) |
স্বাভাবিক রক্তচাপ | ১২০/৮০ mmHg |
স্বাভাবিক হৃদস্পন্দন | ৭২ বার/মিনিট |
স্বাভাবিক শ্বাস-প্রশ্বাস | ১৬–২০ বার/মিনিট |
স্বাভাবিক তাপমাত্রা | ৩৭°C / ৯৮.৬°F / ৩১০K |
RBC-র আয়ু | ১২০ দিন |
লোহিত রক্তকণিকা তৈরি হয় | অস্থিমজ্জায় (Bone Marrow) |
ছোট অন্ত্রের দৈর্ঘ্য | প্রায় ৭ মিটার |
বড় অন্ত্রের দৈর্ঘ্য | প্রায় ১.৫ মিটার |
মানুষের শুক্রাণু সংখ্যা | প্রতি মিলি বীর্যে ৪–৬ কোটি |
সবচেয়ে বড় অর্গান | ত্বক (Skin) |
সবচেয়ে বড় অন্তঃরীণ অর্গান | যকৃৎ (Liver) |
সবচেয়ে ছোট গ্রন্থি | পিটুইটারি (Pituitary) |
সবচেয়ে বড় লিম্ফ্যাটিক অর্গান | প্লীহা (Spleen) |
সবচেয়ে বড় হাড় | ফিমার (Femur) — উরুর হাড় |
সবচেয়ে ছোট হাড় | স্টেপিস (Stapes) — মধ্যকর্ণে, ৩ মিমি |
সবচেয়ে বড় পেশি | গ্লুটিয়াস ম্যাক্সিমাস (নিতম্ব) |
সবচেয়ে বড় কোষ | স্নায়ুকোষ (Neuron) |
সবচেয়ে ছোট কোষ | শুক্রাণু (Sperm Cell) |
ভ্রূণে প্রথম তৈরি হওয়া অর্গান | হৃদযন্ত্র (Heart) |
সবচেয়ে প্রয়োজনীয় খনিজ | সোডিয়াম (Na) |
গর্ভাবস্থার সময়কাল | ২৮০ দিন (৪০ সপ্তাহ) |
দিনে উৎপন্ন লালার পরিমাণ | ১ লিটার |
মানুষের অ্যামিনো অ্যাসিডের সংখ্যা | ২০টি |
টপিক ১২ | মনে রাখার ট্রিক ও নেমোনিক |
★ ১১টি অর্গান সিস্টেম মনে রাখুন "পশ্বসরক্তমূতস্নঅন্তকঙ্লিম্প্রজ" — কঠিন, তাই সহজে মনে রাখুন: "পাচন শ্বাস রক্ত মূত্র স্নায়ু অন্তঃক্ষরা কঙ্কাল পেশি ত্বক লিম্ফ প্রজনন" বা: DRES + NCE + MIR + P = Digestive, Respiratory, Excretory, Skeletal + Nervous, Circulatory, Endocrine + Muscular, Integumentary, Reproductive + Lymphatic |
★ পাঁচটি অত্যাবশ্যক অর্গান "হৃ-মস্-কি-য-ফু" → হৃদযন্ত্র, মস্তিষ্ক, কিডনি, যকৃৎ, ফুসফুস ইংরেজিতে: HBKLL → Heart, Brain, Kidney, Liver, Lung |
★ রক্তের গ্রুপ মনে রাখুন সার্বজনীন দাতা = O⁻ (সবচেয়ে মনে রাখা সহজ: O = Zero = দেয় সবাইকে) সার্বজনীন গ্রহীতা = AB⁺ (AB = All Bloods = সব ধরনের রক্ত নিতে পারে) |
★ ডাইজেস্টিভ এনজাইম মনে রাখুন মুখ → টায়ালিন (T for Teeth) | পাকস্থলী → পেপসিন (P for Protein) অগ্ন্যাশয় → LAT: Lipase + Amylase + Trypsin (তিনটিই করে!) "LAT" = অগ্ন্যাশয়ের তিন এনজাইম: L-Lipase, A-Amylase, T-Trypsin |
★ হাড়ের সংখ্যা মনে রাখুন পূর্ণবয়স্ক = ২০৬ | নবজাতক = ৩০০ → বয়স বাড়লে কিছু হাড় জোড়া লেগে কমে ছোট থেকে বড় হলে হাড় কমে — "বড় হলে কম হাড়!" সবচেয়ে বড় = ফিমার (F for Femur = Femoral = উরু) | সবচেয়ে ছোট = স্টেপিস (কানে) |
টপিক ১৩ | প্রশ্ন ও উত্তর |
প্রশ্ন 1: মানবদেহে অর্গান সিস্টেমের সংখ্যা কতটি?
উত্তর: ১১টি অর্গান সিস্টেম।
প্রশ্ন 2: মানবদেহের পাঁচটি অত্যাবশ্যক অর্গানের নাম কী?
উত্তর: হৃদযন্ত্র (Heart), মস্তিষ্ক (Brain), কিডনি (Kidney), যকৃৎ (Liver), ফুসফুস (Lungs)।
প্রশ্ন 3: মানবদেহের সবচেয়ে বড় অর্গান কোনটি?
উত্তর: ত্বক (Skin) — ক্ষেত্রফল প্রায় ২ বর্গমিটার।
প্রশ্ন 4: মানবদেহের সবচেয়ে বড় অন্তঃরীণ অর্গান কোনটি?
উত্তর: যকৃৎ (Liver) — ৫০০-এরও বেশি কার্য সম্পাদন করে।
প্রশ্ন 5: মানবদেহের সবচেয়ে ছোট গ্রন্থি কোনটি?
উত্তর: পিটুইটারি গ্রন্থি (Pituitary Gland) — প্রভু গ্রন্থি বা Master Gland।
প্রশ্ন 6: পূর্ণবয়স্ক মানুষের মোট হাড়ের সংখ্যা কত?
উত্তর: ২০৬টি।
প্রশ্ন 7: নবজাতক শিশুর হাড়ের সংখ্যা কত?
উত্তর: ৩০০টি।
প্রশ্ন 8: মানবদেহে মোট পেশির সংখ্যা কত?
উত্তর: প্রায় ৬৩৯টি।
প্রশ্ন 9: মানবদেহে ক্রোমোজোমের সংখ্যা কত?
উত্তর: ৪৬টি (২৩ জোড়া)।
প্রশ্ন 10: মানুষের রক্তের স্বাভাবিক pH কত?
উত্তর: ৭.৩৫–৭.৪৫ (গড় ৭.৪)।
প্রশ্ন 11: মানুষের স্বাভাবিক তাপমাত্রা কত?
উত্তর: ৩৭°C বা ৯৮.৬°F বা ৩১০K।
প্রশ্ন 12: স্বাভাবিক রক্তচাপ কত?
উত্তর: ১২০/৮০ mmHg।
প্রশ্ন 13: স্বাভাবিক হৃদস্পন্দনের হার কত?
উত্তর: ৭২ বার/মিনিট।
প্রশ্ন 14: লোহিত রক্তকণিকার (RBC) আয়ু কত দিন?
উত্তর: ১২০ দিন।
প্রশ্ন 15: লোহিত রক্তকণিকা কোথায় তৈরি হয়?
উত্তর: অস্থিমজ্জায় (Bone Marrow)।
প্রশ্ন 16: সার্বজনীন রক্তদাতার রক্তের গ্রুপ কোনটি?
উত্তর: O (নেগেটিভ)।
প্রশ্ন 17: সার্বজনীন রক্তগ্রহীতার রক্তের গ্রুপ কোনটি?
উত্তর: AB (পজিটিভ)।
প্রশ্ন 18: রক্তের গ্রুপ আবিষ্কার করেন কে?
উত্তর: কার্ল ল্যান্ডস্টেইনার (Karl Landsteiner)।
প্রশ্ন 19: হৃদযন্ত্রে কতটি প্রকোষ্ঠ আছে?
উত্তর: চারটি: ডান অলিন্দ, বাম অলিন্দ, ডান নিলয়, বাম নিলয়।
প্রশ্ন 20: হৃদযন্ত্রের কোন প্রকোষ্ঠের দেয়াল সবচেয়ে পুরু?
উত্তর: বাম নিলয় (Left Ventricle) — সারা দেহে রক্ত পাঠায়।
প্রশ্ন 21: মানবদেহের সবচেয়ে বড় ধমনির নাম কী?
উত্তর: মহাধমনি (Aorta)।
প্রশ্ন 22: রক্ত ব্যাংক কাকে বলা হয়?
উত্তর: প্লীহা (Spleen) কে।
প্রশ্ন 23: প্লীহার আরেকটি নাম কী?
উত্তর: সবচেয়ে বড় লিম্ফ্যাটিক অর্গান।
প্রশ্ন 24: মানুষের ছোট অন্ত্রের দৈর্ঘ্য কত?
উত্তর: প্রায় ৭ মিটার।
প্রশ্ন 25: "Heart of Heart" কাকে বলা হয়?
উত্তর: SA Node (সাইনো-অ্যাট্রিয়াল নোড) বা হিজ বান্ডিলকে।
প্রশ্ন 26: ইনসুলিন কোথায় তৈরি হয়?
উত্তর: অগ্ন্যাশয়ের (Pancreas) বিটা কোষে।
প্রশ্ন 27: ইনসুলিনের অভাবে কোন রোগ হয়?
উত্তর: ডায়াবেটিস মেলিটাস।
প্রশ্ন 28: সবচেয়ে বড় হাড় কোনটি?
উত্তর: ফিমার (Femur) — উরুর হাড়।
প্রশ্ন 29: সবচেয়ে ছোট হাড় কোনটি?
উত্তর: স্টেপিস (Stapes) — মধ্যকর্ণে, দৈর্ঘ্য ৩ মিলিমিটার।
প্রশ্ন 30: মানুষের করোটি স্নায়ুর সংখ্যা কত?
উত্তর: ১২ জোড়া।
প্রশ্ন 31: CNS-এর পূর্ণ নাম কী?
উত্তর: Central Nervous System (কেন্দ্রীয় স্নায়ুতন্ত্র)।
প্রশ্ন 32: দেহের সবচেয়ে বড় কোষ কোনটি?
উত্তর: স্নায়ুকোষ (Neuron)।
প্রশ্ন 33: থাইরয়েড হরমোনের অভাবে শিশুতে কোন রোগ হয়?
উত্তর: ক্রিটিনিজম (Cretinism)।
প্রশ্ন 34: আয়োডিনের অভাবে কোন রোগ হয়?
উত্তর: গলগণ্ড (Goitre) — থাইরয়েড গ্রন্থি বড় হয়।
প্রশ্ন 35: ত্বকে ভিটামিন D তৈরিতে কী সাহায্য করে?
উত্তর: সূর্যালোকের অতিবেগুনি রশ্মি (UV Ray)।
প্রশ্ন 36: দেহের তাপ নিয়ন্ত্রণকারী অর্গান কোনটি?
উত্তর: হাইপোথ্যালামাস (মস্তিষ্কে)।
প্রশ্ন 37: মূত্রের হলুদ রঙের কারণ কী?
উত্তর: ইউরোক্রোম (Urochrome) — পুরানো RBC ভাঙলে তৈরি।
প্রশ্ন 38: প্রভু গ্রন্থি কাকে বলা হয়?
উত্তর: পিটুইটারি গ্রন্থি (Pituitary Gland)।
প্রশ্ন 39: ভ্রূণে সর্বপ্রথম কোন অর্গান তৈরি হয়?
উত্তর: হৃদযন্ত্র (Heart)।
প্রশ্ন 40: মানুষের মুখে লালাগ্রন্থির সংখ্যা কত?
উত্তর: ৩ জোড়া = ৬টি (প্যারোটিড, সাবম্যান্ডিবুলার, সাবলিঙ্গুয়াল)।
প্রশ্ন 41: হৃদযন্ত্রের আবরণীর নাম কী?
উত্তর: পেরিকার্ডিয়াম (Pericardium)।
প্রশ্ন 42: ফুসফুসের আবরণীর নাম কী?
উত্তর: প্লুরা (Pleura)।
প্রশ্ন 43: রিগোর মর্টিস (Rigor Mortis) কী?
উত্তর: মৃত্যুর পর পেশি শক্ত হয়ে যাওয়া; কারণ ATP কমে যাওয়া।
প্রশ্ন 44: মানবদেহের স্বাভাবিক শ্বাস-প্রশ্বাসের হার কত?
উত্তর: ১৬–২০ বার/মিনিট।
বিশেষ নোট: পরীক্ষার আগে শেষ মুহূর্তের রিভিশন ১১টি অর্গান সিস্টেম: পরিপাক, শ্বসন, সংবহন, মূত্র, স্নায়ু, অন্তঃক্ষরা, কঙ্কাল, পেশি, ইন্টেগুমেন্টারি, লিম্ফ্যাটিক, প্রজনন ৫টি অত্যাবশ্যক: হৃদযন্ত্র, মস্তিষ্ক, কিডনি, যকৃৎ, ফুসফুস হাড়: পূর্ণবয়স্ক ২০৬ | নবজাতক ৩০০ | বড় = ফিমার | ছোট = স্টেপিস রক্ত: pH ৭.৪ | পরিমাণ ৪–৬L | সার্বজনীন দাতা O⁻ | গ্রহীতা AB⁺ সবচেয়ে বড় অর্গান = ত্বক | সবচেয়ে বড় অন্তঃরীণ অর্গান = যকৃৎ | সবচেয়ে ছোট গ্রন্থি = পিটুইটারি হরমোন: ইনসুলিনের অভাবে = ডায়াবেটিস | থাইরক্সিনের অভাবে = ক্রিটিনিজম বা গলগণ্ড তাপমাত্রা = ৩৭°C | রক্তচাপ = ১২০/৮০ | হৃদস্পন্দন = ৭২/মিনিট |