সাধারণ বিজ্ঞান — রসায়ন অজৈব যৌগ Inorganic Compounds |
টপিক ১ | অজৈব যৌগের পরিচয় ও শ্রেণিবিভাগ |
কেন পড়বেন এই টপিক?
রসায়নের (Chemistry) সবচেয়ে মৌলিক বিভাজন হলো পদার্থকে জৈব (Organic) ও অজৈব (Inorganic) — এই দুই ভাগে ভাগ করা। আমাদের দৈনন্দিন জীবনের প্রায় প্রতিটি জিনিস — রান্নার লবণ, বাড়ির চুন, ব্যাটারির অ্যাসিড, ওষুধের লবণ — সবকিছুই অজৈব যৌগ। বিসিএস ও বিশ্ববিদ্যালয় ভর্তি পরীক্ষায় এই টপিক থেকে প্রতি বছর কমপক্ষে ৫–৮টি প্রশ্ন আসে।
জৈব যৌগ (Organic Compound) হলো সেই যৌগ যেখানে কার্বন (Carbon) ও হাইড্রোজেনের (Hydrogen) মধ্যে সরাসরি বন্ধন (C–H Bond) থাকে। আর অজৈব যৌগ হলো সেই সব যৌগ যেখানে এই C–H বন্ধন নেই। সহজ কথায় — কার্বন পরমাণু বিহীন বা C–H বন্ধনহীন প্রায় সব যৌগই অজৈব।
অজৈব যৌগের সংজ্ঞা যেসব যৌগে কার্বন-হাইড্রোজেন (C–H) বন্ধন নেই, সেগুলোকে অজৈব যৌগ বলে। তবে ব্যতিক্রম হিসেবে CO (কার্বন মনোক্সাইড), CO₂ (কার্বন ডাই-অক্সাইড), CaCO₃ (চুনাপাথর), CS₂ (কার্বন ডাইসালফাইড) — এগুলোতে কার্বন থাকলেও অজৈব যৌগ বলে গণ্য করা হয়, কারণ এগুলোতে C–H বন্ধন নেই এবং এগুলো জীবন্ত প্রাণী থেকে উৎপন্ন হয়নি। |
অজৈব যৌগের প্রধান শ্রেণিবিভাগ
শ্রেণি | সংজ্ঞা | উদাহরণ (সংকেত) |
অ্যাসিড (Acid) | জলীয় দ্রবণে H⁺ আয়ন দেয়; pH < 7; নীল লিটমাস লাল করে | H₂SO₄, HCl, HNO₃ |
ক্ষার/ক্ষারক (Base/Alkali) | জলীয় দ্রবণে OH⁻ আয়ন দেয়; pH > 7; লাল লিটমাস নীল করে | NaOH, Ca(OH)₂, NH₃ |
লবণ (Salt) | অ্যাসিড ও ক্ষারের প্রশমন বিক্রিয়ায় তৈরি যৌগ | NaCl, CuSO₄, CaCO₃ |
অক্সাইড (Oxide) | একটি মৌল ও অক্সিজেনের যৌগ | CO₂, Fe₂O₃, CaO |
হাইড্রাইড (Hydride) | ধাতু ও হাইড্রোজেনের যৌগ | NaH, CaH₂ |
হ্যালাইড (Halide) | হ্যালোজেন (F,Cl,Br,I) ও ধাতুর যৌগ | NaCl, KI, AgBr |
সালফাইড (Sulphide) | সালফার ও ধাতুর যৌগ | FeS, ZnS, PbS |
গুরুত্বপূর্ণ বিষয় (Key Takeaways) অজৈব যৌগ চেনার মূল সূত্র: C–H বন্ধন নেই = অজৈব (কিছু ব্যতিক্রম ছাড়া) CO, CO₂, CaCO₃ — কার্বনযুক্ত হলেও অজৈব যৌগ জৈব যৌগের সংখ্যা অজৈব যৌগের চেয়ে অনেক বেশি (প্রায় ৭ গুণ) পানি (H₂O) হলো সবচেয়ে পরিচিত অজৈব যৌগ সকল আয়নিক যৌগই (Ionic Compound) অজৈব যৌগ |
টপিক ২ | অ্যাসিড (Acids) |
অ্যাসিড কী এবং কেন গুরুত্বপূর্ণ?
অ্যাসিড (Acid) শব্দটি এসেছে ল্যাটিন "Acidus" থেকে, যার অর্থ "টক"। অ্যাসিড হলো এমন একটি রাসায়নিক পদার্থ যা জলীয় দ্রবণে হাইড্রোজেন আয়ন (H⁺) বা প্রোটন মুক্ত করে। এটি আমাদের পাকস্থলীতে খাদ্য হজমে সাহায্য করে, শিল্পকারখানায় উৎপাদনে ব্যবহৃত হয় এবং প্রকৃতিতেও ফলমূলে স্বাভাবিকভাবে বিদ্যমান।
আরহেনিয়াসের (Arrhenius) তত্ত্ব অনুযায়ী — যে পদার্থ জলীয় দ্রবণে H⁺ আয়ন উৎপন্ন করে তাকে অ্যাসিড বলে। ব্রনস্টেড-লাওরি (Bronsted-Lowry) তত্ত্ব অনুযায়ী — যে পদার্থ অন্য পদার্থকে প্রোটন (H⁺) দান করে তাকে অ্যাসিড বলে। পরীক্ষার জন্য আরহেনিয়াসের সংজ্ঞাটি সবচেয়ে বেশি প্রয়োজনীয়।
অ্যাসিডের সাধারণ বৈশিষ্ট্য
স্বাদ: টক (যেমন লেবুর রস, ভিনেগার)
রঙ: নীল লিটমাস পেপারকে লাল রঙে পরিণত করে
pH মান: সবসময় ৭-এর কম (pH < 7)
তড়িৎ পরিবাহিতা: জলীয় দ্রবণে আয়নিত হয়ে বিদ্যুৎ পরিবহন করে
ধাতুর সাথে বিক্রিয়া: Zn + H₂SO₄ → ZnSO₄ + H₂↑ (হাইড্রোজেন গ্যাস উৎপন্ন করে)
ক্ষারের সাথে বিক্রিয়া (প্রশমন বিক্রিয়া): HCl + NaOH → NaCl + H₂O
ধাতব কার্বোনেটের সাথে বিক্রিয়া: CO₂ গ্যাস উৎপন্ন হয়
তীব্র অ্যাসিড (Strong Acids) সম্পূর্ণরূপে আয়নিত (Fully ionized) হয় HCl — হাইড্রোক্লোরিক অ্যাসিড H₂SO₄ — সালফিউরিক অ্যাসিড HNO₃ — নাইট্রিক অ্যাসিড HBr, HI, HClO₄ — তীব্র অ্যাসিড | দুর্বল অ্যাসিড (Weak Acids) আংশিকভাবে আয়নিত (Partially ionized) হয় CH₃COOH — অ্যাসিটিক অ্যাসিড (ভিনেগার) H₂CO₃ — কার্বনিক অ্যাসিড (কোমল পানীয়) H₃PO₄ — ফসফরিক অ্যাসিড HF — হাইড্রোফ্লুরিক অ্যাসিড |
গুরুত্বপূর্ণ অ্যাসিড
১. সালফিউরিক অ্যাসিড (Sulphuric Acid — H₂SO₄)
সালফিউরিক অ্যাসিড বিশ্বের সর্বাধিক উৎপাদিত রাসায়নিক পদার্থ এবং শিল্পের রানি (Queen of Chemicals) নামে পরিচিত। এটি একটি রঙহীন, তৈলাক্ত (Oily), ঘন তরল পদার্থ। গাঢ় H₂SO₄ এর ঘনত্ব প্রায় ১.৮৪ গ্রাম/মিলি।
অপর নাম: অয়েল অব ভিট্রিয়ল (Oil of Vitriol) — মধ্যযুগীয় আরবি রসায়নবিদরা এই নাম দিয়েছিলেন
গাঢ় H₂SO₄ তীব্র জল-শোষক (Dehydrating Agent): চিনিতে (C₁₂H₂₂O₁₁) গাঢ় H₂SO₄ যোগ করলে চিনির সব জলীয় উপাদান শোষণ করে কালো কার্বনে পরিণত হয়
ওলিয়াম/ধোঁয়াযুক্ত H₂SO₄: গাঢ় সালফিউরিক অ্যাসিডে SO₃ দ্রবীভূত করলে ওলিয়াম (Oleum) তৈরি হয়
গাঢ় H₂SO₄ → পাতলা করতে সবসময় অ্যাসিডে পানি যোগ করতে হয়, পানিতে অ্যাসিড নয় (এটি তীব্র তাপ উৎপন্ন করে)
ব্যবহার: যানবাহনের ব্যাটারি, সুপার ফসফেট সার, কৃত্রিম রেশম, রং তৈরি, পরিষ্কারক হিসেবে
২. হাইড্রোক্লোরিক অ্যাসিড (Hydrochloric Acid — HCl)
HCl গ্যাস পানিতে দ্রবীভূত হলে হাইড্রোক্লোরিক অ্যাসিড (Hydrochloric Acid) বা মিউরিয়েটিক অ্যাসিড তৈরি হয়। এটি একটি তীব্র অ্যাসিড এবং সম্পূর্ণরূপে আয়নিত হয়।
অপর নাম: মিউরিয়েটিক অ্যাসিড (Muriatic Acid) — শিল্পে এই নামে বেশি পরিচিত
মানুষের পাকস্থলীতে (Stomach) গ্যাস্ট্রিক জুসে HCl স্বাভাবিকভাবে উৎপন্ন হয়, যা খাদ্য হজমে পেপসিন এনজাইমকে সক্রিয় করে
অজারক (Non-oxidizing) অ্যাসিড — এই বৈশিষ্ট্যের কারণে কিছু ধাতু HCl-এ দ্রবীভূত হয়
ব্যবহার: বাথরুম পরিষ্কার, ধাতু শোধন (Pickling), চামড়া শিল্পে
৩. নাইট্রিক অ্যাসিড (Nitric Acid — HNO₃)
নাইট্রিক অ্যাসিড একটি তীব্র জারক অ্যাসিড (Oxidizing Acid)। এটি হলুদাভ রঙের কারণ হলো এতে দ্রবীভূত NO₂ গ্যাস। ত্বকে লাগলে হলুদ রঙ ধরে — এই বিক্রিয়ার নাম জ্যান্থোপ্রোটিক বিক্রিয়া (Xanthoproteic Reaction)।
অপর নাম: অ্যাকোয়াফর্টিস (Aqua Fortis) — ল্যাটিনে অর্থ "শক্তিশালী পানি"
শক্তিশালী জারক (Strong Oxidizing Agent): Cu, Ag-কে দ্রবীভূত করতে পারে (সাধারণ অ্যাসিড পারে না)
ব্যবহার: বিস্ফোরক তৈরি (TNT, ডিনামাইট, পিকরিক অ্যাসিড), নাইট্রো সার তৈরি, সোনা পরীক্ষায়
স্বর্ণকারের কারখানা থেকে NO₂ গ্যাস নির্গত হয়ে বায়ুমণ্ডলকে দূষিত করে
৪. অ্যাকোয়া রেজিয়া বা রাজ অম্ল (Aqua Regia)
অ্যাকোয়া রেজিয়া অ্যাকোয়া রেজিয়া (Aqua Regia) হলো ৩ আয়তন গাঢ় হাইড্রোক্লোরিক অ্যাসিড (HCl) এবং ১ আয়তন গাঢ় নাইট্রিক অ্যাসিড (HNO₃)-এর মিশ্রণ। ল্যাটিন ভাষায় Aqua Regia অর্থ "রাজকীয় জল" — কারণ এটি ধাতুর রাজা সোনা (Au) ও প্লাটিনাম (Pt)-কে দ্রবীভূত করতে পারে, যা কোনো একক অ্যাসিড পারে না। মিশ্রণে Cl₂ ও NOCl গঠিত হয় যা সোনাকে AuCl₄⁻ কমপ্লেক্সে পরিণত করে। |
★ অ্যাকোয়া রেজিয়া মনে রাখুন "তিন ক্লোরিক এক নাইট্রিক, সোনাকে গলায় এটিই ঠিক!" ৩HCl : ১HNO₃ — অনুপাতটি মনে রাখুন। "তিন এবং এক" — ৩ ও ১। অ্যাকোয়া রেজিয়া সদ্য তৈরি করতে হয়, বেশিক্ষণ রেখে দিলে কার্যকারিতা হারায়। |
পরীক্ষার সম্ভাবনা (Exam Potential) অ্যাকোয়া রেজিয়া সম্পর্কিত প্রশ্ন বিসিএসে ১৫+ বার এসেছে — এটি অত্যন্ত কমন H₂SO₄-এর অপর নাম কী? → অয়েল অব ভিট্রিয়ল (প্রতি বিসিএসেই আসে) মানুষের পাকস্থলীতে কোন এসিড? → HCl (প্রায় প্রতি বছর আসে) কোন এসিড অজারক? → HCl | কোনটি জারক? → HNO₃, H₂SO₄ |
সতর্কতা (Common Mistakes / Caution) H₂SO₄ পাতলা করতে সবসময় পানিতে অ্যাসিড যোগ করুন, অ্যাসিডে পানি নয়। "মিউরিয়েটিক অ্যাসিড" আর "মিউরিয়েটিক অক্সাইড" এক নয় — প্রথমটি HCl। অ্যাকোয়া রেজিয়ায় HCl আগে ও HNO₃ পরে — অনুপাত ৩:১ (HCl:HNO₃)। |
টপিক ৩ | ক্ষার ও ক্ষারক (Bases & Alkalis) |
ক্ষার ও ক্ষারকের পার্থক্য
ক্ষারক (Base) হলো এমন পদার্থ যা প্রোটন (H⁺) গ্রহণ করে বা হাইড্রোক্সাইড আয়ন (OH⁻) দেয়। সকল ক্ষারই ক্ষারক, কিন্তু সব ক্ষারক ক্ষার নয়। যে ক্ষারক পানিতে দ্রবীভূত হয় তাকে বিশেষভাবে ক্ষার (Alkali) বলে।
উদাহরণস্বরূপ — NaOH পানিতে দ্রবীভূত হয়, তাই এটি ক্ষারক এবং ক্ষার উভয়ই। কিন্তু CuO পানিতে দ্রবীভূত হয় না, তাই এটি ক্ষারক হলেও ক্ষার নয়। মনে রাখবেন — Alkalis are soluble bases (সব ক্ষার = পানিতে দ্রবণীয় ক্ষারক)।
ক্ষারের সাধারণ বৈশিষ্ট্য
স্বাদ: তেতো বা কষা (যেমন বেকিং সোডার দ্রবণ)
স্পর্শে: পিচ্ছিল, সাবানের মতো অনুভূতি
pH মান: সবসময় ৭-এর বেশি (pH > 7)
রঙ পরিবর্তন: লাল লিটমাস পেপারকে নীল করে; ফেনফথ্যালিন ইন্ডিকেটরকে গোলাপি করে
অ্যাসিডের সাথে প্রশমন বিক্রিয়া করে লবণ ও পানি তৈরি করে
তড়িৎ পরিবাহী — জলীয় দ্রবণে আয়নিত হয়
তীব্র ক্ষার (Strong Alkalis) NaOH — সোডিয়াম হাইড্রোক্সাইড (কস্টিক সোডা) KOH — পটাশিয়াম হাইড্রোক্সাইড (কস্টিক পটাশ) Ca(OH)₂ — ক্যালসিয়াম হাইড্রোক্সাইড (নিভানো চুন) Ba(OH)₂ — বেরিয়াম হাইড্রোক্সাইড | দুর্বল ক্ষার (Weak Alkalis) NH₃ — অ্যামোনিয়া (জলীয় দ্রবণ) Mg(OH)₂ — ম্যাগনেশিয়াম হাইড্রোক্সাইড Al(OH)₃ — অ্যালুমিনিয়াম হাইড্রোক্সাইড Zn(OH)₂ — জিংক হাইড্রোক্সাইড |
গুরুত্বপূর্ণ ক্ষার — বিশেষ তথ্য
NaOH (কস্টিক সোডা / Caustic Soda): সাবান তৈরি, কাগজ শিল্প, টেক্সটাইল শিল্পে ব্যবহৃত। অত্যন্ত ক্ষয়কারী — ত্বক ও চোখের ক্ষতি করে।
Ca(OH)₂ (নিভানো চুন / Slaked Lime): দেয়ালে চুনকাম করতে, কৃষিতে মাটির অম্লতা কমাতে, সিমেন্ট তৈরিতে ব্যবহৃত। চুনের পানি CO₂ পরীক্ষায় ব্যবহৃত হয় (দুধের মতো ঘোলা হয়)।
NH₃ (অ্যামোনিয়া): গ্যাসীয় অবস্থায় দুর্গন্ধযুক্ত; ঘরের পরিষ্কারক পণ্যে ব্যবহার; সার তৈরির কাঁচামাল (হেবার প্রক্রিয়া)। পোড়াচুন (CaO) দিয়ে শুষ্ক করা হয়।
Mg(OH)₂ (মিল্ক অব ম্যাগনেশিয়া / Milk of Magnesia): অ্যান্টাসিড হিসেবে পাকস্থলীর অতিরিক্ত অ্যাসিড প্রশমনে ব্যবহৃত। দেখতে দুধের মতো সাদা।
বিশেষ নোট: উভধর্মী পদার্থ (Amphoteric Substance) কিছু পদার্থ অ্যাসিড ও ক্ষার উভয় হিসেবে আচরণ করতে পারে — এদের উভধর্মী (Amphoteric) পদার্থ বলে। উদাহরণ: Al(OH)₃, Zn(OH)₂, জল (H₂O)। Al(OH)₃ + H₂SO₄ → Al₂(SO₄)₃ + H₂O (অ্যাসিড হিসেবে আচরণ করে) Al(OH)₃ + NaOH → NaAlO₂ + H₂O (ক্ষার হিসেবে আচরণ করে) |
টপিক ৪ | প্রশমন বিক্রিয়া ও লবণ (Neutralisation & Salts) |
লবণ কীভাবে তৈরি হয়?
যখন একটি অ্যাসিড ও একটি ক্ষার পরস্পরের সাথে বিক্রিয়া করে, তখন উভয়ের প্রভাব একে অপরকে বাতিল করে দেয় — এই বিক্রিয়াকে প্রশমন বিক্রিয়া (Neutralisation Reaction) বলে। এই বিক্রিয়ায় লবণ (Salt) ও পানি (Water) উৎপন্ন হয়। সমীকরণ: অ্যাসিড + ক্ষার → লবণ + পানি।
উদাহরণ: HCl + NaOH → NaCl + H₂O। এখানে HCl হলো অ্যাসিড, NaOH হলো ক্ষার, NaCl হলো লবণ এবং H₂O হলো পানি। আমাদের রান্নার লবণ (NaCl বা Table Salt) এভাবেই তৈরি হয়।
লবণের শ্রেণিবিভাগ
লবণের ধরন | গঠন | pH | উদাহরণ |
নিরপেক্ষ লবণ (Neutral Salt) | তীব্র অ্যাসিড + তীব্র ক্ষার | = 7 | NaCl, KNO₃ |
অম্লীয় লবণ (Acidic Salt) | তীব্র অ্যাসিড + দুর্বল ক্ষার | < 7 | NH₄Cl, (NH₄)₂SO₄ |
ক্ষারীয় লবণ (Basic Salt) | দুর্বল অ্যাসিড + তীব্র ক্ষার | > 7 | Na₂CO₃, CH₃COONa |
গুরুত্বপূর্ণ লবণ ও তাদের বিস্তারিত তথ্য
লবণের নাম | সংকেত | সাধারণ নাম | বিস্তারিত ব্যবহার |
সোডিয়াম ক্লোরাইড | NaCl | খাদ্য লবণ / Table Salt | রান্না, খাদ্য সংরক্ষণ, স্যালাইন তৈরি, বরফ গলাতে |
সোডিয়াম কার্বোনেট | Na₂CO₃·10H₂O | ধোয়ার সোডা / Washing Soda | কাপড় পরিষ্কার, কাচ ও সাবান তৈরি, কারখানায় |
সোডিয়াম বাই-কার্বোনেট | NaHCO₃ | বেকিং সোডা / খাবার সোডা | বেকিং, অগ্নিনির্বাপক, অ্যান্টাসিড, পেট ফাঁপায় |
ক্যালসিয়াম কার্বোনেট | CaCO₃ | চুনাপাথর / Limestone | টুথপেস্ট, অ্যান্টাসিড, নির্মাণ সামগ্রী |
ক্যালসিয়াম সালফেট | CaSO₄·2H₂O | জিপসাম | সিমেন্ট, POP, প্লাস্টারবোর্ড |
কপার সালফেট | CuSO₄·5H₂O | নীলকষেট / Blue Vitriol | কীটনাশক, ছত্রাকনাশক, মুদ্রণ, রং তৈরি |
ফেরাস সালফেট | FeSO₄·7H₂O | সবুজ কষেট / Green Vitriol | কালি প্রস্তুত, লৌহ সার, পানি পরিশোধন |
অ্যামোনিয়াম ক্লোরাইড | NH₄Cl | নিশাদল / Sal Ammoniac | ব্যাটারি (শুষ্ক কোষ), সোলডারিং |
পটাশিয়াম নাইট্রেট | KNO₃ | সোরা / Saltpetre | বারুদ তৈরি (KNO₃+C+S), সার, খাদ্য সংরক্ষণ |
জিংক সালফেট | ZnSO₄·7H₂O | সাদা কষেট / White Vitriol | চক্ষু ড্রপ, জিংক সার |
সোডিয়াম নাইট্রেট | NaNO₃ | চিলি সোরা | সার, বিস্ফোরক |
ফেরিক ক্লোরাইড | FeCl₃ | — | রক্ত জমাট বাঁধাতে, পানি পরিশোধন, খোদাই |
বিশেষ নোট: চুন সংক্রান্ত বিভ্রান্তি দূর করুন চুনাপাথর (Limestone) = CaCO₃ — প্রাকৃতিকভাবে পাওয়া যায় পোড়া চুন / কলি চুন (Quicklime) = CaO — চুনাপাথর গরম করলে তৈরি হয় (CaCO₃ → CaO + CO₂) নিভানো চুন / চুনের জল (Slaked Lime) = Ca(OH)₂ — পোড়া চুনে পানি মিশালে তৈরি হয় (CaO + H₂O → Ca(OH)₂) প্লাস্টার অব প্যারিস (POP) = CaSO₄·½H₂O — জিপসামকে ১৫০°C-এ গরম করলে তৈরি হয় (CaSO₄·2H₂O → CaSO₄·½H₂O + 1½H₂O) |
টপিক ৫ | pH স্কেল |
pH কী এবং কেন গুরুত্বপূর্ণ?
pH (Potential of Hydrogen বা পাওয়ার অব হাইড্রোজেন) হলো একটি দ্রবণে হাইড্রোজেন আয়নের ঘনত্ব (H⁺ concentration) পরিমাপের লগারিদমিক স্কেল। এটি ডেনিশ রসায়নবিদ সরেন সরেনসেন (Søren Sørensen) ১৯০৯ সালে প্রবর্তন করেন। pH = -log[H⁺]।
pH স্কেল ০ থেকে ১৪ পর্যন্ত বিস্তৃত। pH ৭ মানে নিরপেক্ষ (বিশুদ্ধ পানি); ৭-এর কম মানে অম্লীয়; ৭-এর বেশি মানে ক্ষারীয়। গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো — pH স্কেল লগারিদমিক, অর্থাৎ pH 1 এবং pH 2-এর মধ্যে পার্থক্য ১০ গুণ, pH 1 এবং pH 3-এর মধ্যে ১০০ গুণ।
বিভিন্ন পদার্থের pH মান
পদার্থ | pH মান | পদার্থ | pH মান |
ব্যাটারি অ্যাসিড (H₂SO₄) | ~1.0 | মানুষের রক্ত | 7.3–7.5 |
লেবুর রস | 2.2–2.4 | সমুদ্রের জল | 7.5–8.5 |
ফলের জেলি | 2.8–3.4 | মুরগির ডিমের সাদা অংশ | 7.6–8.0 |
ভিনেগার | 2.9 | বেকিং সোডার দ্রবণ | 8.3 |
আপেলের রস | 2.9–3.3 | সোহাগা (Borax) | 9.2 |
কমলার শরবত | 3.7 | ম্যাগনেশিয়া দুধ | 10.5 |
টমেটো | 4.0–4.5 | লন্ড্রির অ্যামোনিয়া | 11.0 |
কফি | 5.0 | চুনের জল (Ca(OH)₂) | 12.0 |
চা | 5.5 | ব্লিচিং পাউডার | 12–13 |
বৃষ্টির জল | 5.6–6.0 | গাঢ় NaOH | ~14 |
দুধ | 6.4 | মানুষের লালা | 6.5–7.5 |
বিশুদ্ধ পানি | 7.0 | মানুষের মূত্র | 5–8 (গড় 6) |
pH পরিমাপে ব্যবহৃত ইন্ডিকেটর
ইন্ডিকেটর (Indicator) | অম্লীয় দ্রবণে রঙ | নিরপেক্ষে রঙ | ক্ষারীয় দ্রবণে রঙ |
লিটমাস (Litmus) | লাল | বেগুনি | নীল |
ফেনফথ্যালিন (Phenolphthalein) | বর্ণহীন | বর্ণহীন | গোলাপি/লাল |
মিথাইল অরেঞ্জ (Methyl Orange) | লাল | কমলা | হলুদ |
মিথাইল রেড (Methyl Red) | লাল | কমলা | হলুদ |
অম্লবৃষ্টি (Acid Rain)
স্বাভাবিক বৃষ্টির পানির pH হলো ৫.৬–৬.০, কারণ বায়ুর CO₂ পানিতে দ্রবীভূত হয়ে দুর্বল কার্বনিক অ্যাসিড (H₂CO₃) তৈরি করে। কিন্তু বায়ুতে SO₂ ও NO₂ গ্যাসের মাত্রা বৃদ্ধি পেলে এই গ্যাসগুলো পানির সাথে বিক্রিয়া করে H₂SO₄ ও HNO₃ তৈরি করে। ফলে বৃষ্টির পানির pH ৫-এর নিচে নেমে যায় — এটিই অম্লবৃষ্টি (Acid Rain)।
অম্লবৃষ্টির প্রধান কারণ: SO₂ (কয়লা পোড়ানো, কলকারখানা) ও NO₂ (যানবাহনের ধোঁয়া)
তাজমহল (Taj Mahal) ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে SO₂ দ্বারা — মার্বেল পাথর (CaCO₃) SO₂-এর সাথে বিক্রিয়া করে
অম্লবৃষ্টির ক্ষতি: বনাঞ্চল ধ্বংস, জলাশয়ের মাছ মৃত্যু, ঐতিহাসিক স্থাপনা ক্ষয়
গুরুত্বপূর্ণ বিষয় (Key Takeaways) pH 7 = নিরপেক্ষ (বিশুদ্ধ পানি) — এটি মুখস্থ থাকতেই হবে pH কমলে অম্লতা বাড়ে; pH বাড়লে ক্ষারতা বাড়ে মানুষের রক্তের pH 7.35–7.45 — এর বাইরে গেলে মৃত্যুঝুঁকি pH স্কেল আবিষ্কার করেন ডেনিশ বিজ্ঞানী সরেনসেন (১৯০৯) অম্লবৃষ্টির pH সাধারণত ৪ থেকে ৫-এর মধ্যে থাকে |
★ pH মনে রাখুন "সাত মানেই সুন্দর ভারসাম্য" — বিশুদ্ধ পানির pH = 7 "৭-এর নিচে অ্যাসিড, ৭-এর উপরে ক্ষার" — এই একটি বাক্য মনে রাখুন লিটমাস দিয়ে মনে রাখুন: L = Litmus, রক্তের pH = ৭.৪ (7 point 4, সাতের বেশি তাই ক্ষারীয়) |
টপিক ৬ | ফলে কোন এসিড থাকে তালিকা |
প্রাকৃতিক এসিড কোথায় পাওয়া যায়?
আমাদের খাদ্য তালিকার বিভিন্ন ফলমূল ও সবজিতে বিভিন্ন জৈব অ্যাসিড স্বাভাবিকভাবে বিদ্যমান। এই অ্যাসিডগুলো ফলের টক স্বাদের জন্য দায়ী। যদিও এগুলো জৈব অ্যাসিড (Organic Acids), তবুও বিসিএস ও ভর্তি পরীক্ষায় এই প্রশ্নগুলো সাধারণ বিজ্ঞানের "অজৈব যৌগ ও অ্যাসিড" বিভাগেই জিজ্ঞেস করা হয়।
ফল / উৎস | অ্যাসিডের নাম (বাংলা ও English) | রাসায়নিক সংকেত | বিশেষ তথ্য |
লেবু, কমলা, টমেটো | সাইট্রিক অ্যাসিড (Citric Acid) | C₆H₈O₇ | ভিটামিন C (অ্যাসকরবিক অ্যাসিড)-এর সাথে গুলিয়ে ফেলবেন না |
আঁমলকি | অক্সালিক অ্যাসিড (Oxalic Acid) | C₂H₂O₄ | কচুতেও আছে (ক্যালসিয়াম অক্সালেট হিসেবে) |
তেঁতুল | টারটারিক অ্যাসিড (Tartaric Acid) | C₄H₆O₆ | আঙুরেও থাকে |
আপেল | ম্যালিক অ্যাসিড (Malic Acid) | C₄H₆O₅ | সবচেয়ে বেশি আপেলে পাওয়া যায় |
আঙুর | টারটারিক ও ম্যালিক অ্যাসিড | — | দুটি অ্যাসিডের মিশ্রণ |
দুধ / দই | ল্যাকটিক অ্যাসিড (Lactic Acid) | C₃H₆O₃ | দই টক হওয়ার কারণ এই অ্যাসিড |
কমলা, লেবু | অ্যাসকরবিক অ্যাসিড (Ascorbic Acid) | C₆H₈O₆ | এটিই ভিটামিন C |
পিঁপড়ার হুল, বিছুটি পাতা | ফর্মিক অ্যাসিড (Formic Acid) | HCOOH | পিঁপড়ার ল্যাটিন নাম Formica থেকে নামকরণ |
কচু খেলে গলা চুলকায় | ক্যালসিয়াম অক্সালেট (Calcium Oxalate) | CaC₂O₄ | এটি অ্যাসিড নয়, লবণ; তবু জ্বালা করে |
কাঁচা দুধ | ল্যাকটিক অ্যাসিড | C₃H₆O₃ | ব্যাকটেরিয়ার ক্রিয়ায় তৈরি হয় |
ভিনেগার | অ্যাসিটিক অ্যাসিড (Acetic Acid) | CH₃COOH | ৪–১০% জলীয় দ্রবণকে ভিনেগার বলে |
★ ফলে এসিড মনে রাখার ট্রিক — "লেতেতুআপডুকো" লে = লেবু → সাইট্রিক | তে = তেঁতুল → টারটারিক | তু = তুঁত/আমলকি → অক্সালিক আপ = আপেল → ম্যালিক | ডু = দুধ/দই → ল্যাকটিক | কো = কমলা → অ্যাসকরবিক (ভিটামিন C) পিঁপড়া → ফর্মিক (FORMICA = পিঁপড়া, FORMIC = ফর্মিক!) |
পরীক্ষার সম্ভাবনা (Exam Potential) ফলের এসিড থেকে প্রতি বিসিএসে ৩–৪টি প্রশ্ন আসে লেবুতে কোন এসিড? → পরীক্ষায় ৯৫% প্রার্থী ভুল করেন — সাইট্রিক, ভিটামিন C নয় দুধে কোন এসিড? → ল্যাকটিক (বিসিএস ২০১৮, ২০২০) কচু খেলে গলা চুলকায় কেন? → ক্যালসিয়াম অক্সালেটের কারণে |
টপিক ৭ | গুরুত্বপূর্ণ গ্যাস ও অক্সাইড |
গ্যাসের বৈশিষ্ট্য কেন জানা দরকার?
বায়ুমণ্ডলে অনেক ধরনের গ্যাস আছে যেগুলো আমাদের জীবনে সরাসরি প্রভাব ফেলে। কিছু গ্যাস জীবনদায়ী (অক্সিজেন), কিছু বিষাক্ত (কার্বন মনোক্সাইড), কিছু পরিবেশ নষ্ট করে (SO₂, CO₂)। পরীক্ষায় এই গ্যাসগুলোর নাম, সংকেত, বৈশিষ্ট্য ও ব্যবহার বারবার আসে।
কার্বন মনোক্সাইড (Carbon Monoxide — CO)
ডাকনাম: নীরব ঘাতক (Silent Killer) — রঙহীন, গন্ধহীন, বিষাক্ত গ্যাস
বিষাক্ততার কারণ: হিমোগ্লোবিনের সাথে O₂-এর চেয়ে ২৫০ গুণ বেশি মিলিত হয়, ফলে রক্ত অক্সিজেন বহন করতে পারে না
উৎপত্তি: বদ্ধ ঘরে কয়লা, কাঠ বা অপূর্ণভাবে পোড়ানো জ্বালানি থেকে তৈরি হয়
যানবাহনের ধোঁয়া থেকে CO তৈরি হয় — এটি বায়ু দূষণের প্রধান কারণ
প্রডিউসার গ্যাস = CO + N₂ (শিল্পে জ্বালানি হিসেবে ব্যবহৃত)
কার্বন ডাই-অক্সাইড (Carbon Dioxide — CO₂)
বায়ুতে পরিমাণ: ০.০৪% (বা ০.০৩%) — বর্তমানে বৃদ্ধি পাচ্ছে
সালোকসংশ্লেষণ (Photosynthesis): উদ্ভিদ CO₂ ও H₂O থেকে গ্লুকোজ তৈরি করে
গ্রিনহাউস গ্যাস (Greenhouse Gas): পৃথিবীর তাপমাত্রা বৃদ্ধির প্রধান কারণ
শুষ্ক বরফ (Dry Ice): কঠিন CO₂ — সরাসরি গ্যাসে পরিণত হয় (ঊর্ধ্বপাতন)
অগ্নিনির্বাপক (Fire Extinguisher): CO₂ অক্সিজেন সরিয়ে দেয়, তাই আগুন নেভায়
চুনের পানিকে দুধের মতো ঘোলা করে: Ca(OH)₂ + CO₂ → CaCO₃↓ + H₂O
সালফার ডাই-অক্সাইড (Sulphur Dioxide — SO₂)
তীক্ষ্ণ, ঝাঁজালো গন্ধযুক্ত বিষাক্ত গ্যাস
অম্লবৃষ্টির প্রধান কারণ: SO₂ + H₂O → H₂SO₄ (সালফিউরিক অ্যাসিড)
তাজমহলের মার্বেল পাথর ক্ষতিগ্রস্ত করছে: CaCO₃ + SO₂ → CaSO₄ + CO
উৎপত্তি: কয়লা পোড়ানো, আগ্নেয়গিরির অগ্ন্যুৎপাত, ম্যাচ কারখানা
ব্যবহার: ব্লিচিং এজেন্ট, খাদ্য সংরক্ষণ, কাগজ শিল্পে
অ্যামোনিয়া (Ammonia — NH₃)
তীব্র ঝাঁজালো গন্ধযুক্ত ক্ষারীয় গ্যাস
এটি একমাত্র ক্ষারীয় গ্যাস যা পানিতে দ্রবীভূত হয়ে NH₄OH তৈরি করে
হেবার প্রক্রিয়ায় (Haber Process) NH₃ উৎপাদন: N₂ + 3H₂ → 2NH₃ (উচ্চ চাপ ও তাপ)
সার তৈরিতে সবচেয়ে বেশি ব্যবহৃত হয় (ইউরিয়া = CO(NH₂)₂)
শুষ্ক করতে পোড়াচুন (CaO) ব্যবহার করা হয়
ওজোন (Ozone — O₃)
আবিষ্কার করেন: ক্রিশ্চিয়ান শনবাইন (Christian Schonbein) / কোনবিন
ওজোন স্তর (Ozone Layer): স্ট্র্যাটোস্ফিয়ারে ১৫–৩৫ কিমি উচ্চতায় অবস্থিত
কাজ: সূর্যের ক্ষতিকর অতিবেগুনি রশ্মি (UV-B) শোষণ করে পৃথিবীকে রক্ষা করে
ওজোন স্তর ধ্বংসের কারণ: CFC (ক্লোরোফ্লুরোকার্বন) গ্যাস — রেফ্রিজারেটর, এয়ার কন্ডিশনারে ব্যবহৃত
ওজোন গর্ত (Ozone Hole): অ্যান্টার্কটিকার উপর প্রথম আবিষ্কৃত হয়েছে
গ্যাসের নাম | সংকেত | বিশেষ নাম / ডাকনাম | প্রধান প্রভাব / ব্যবহার |
কার্বন মনোক্সাইড | CO | নীরব ঘাতক | বিষাক্ত; বদ্ধ ঘরে মৃত্যুর কারণ |
কার্বন ডাই-অক্সাইড | CO₂ | গ্রিনহাউস গ্যাস | উষ্ণায়ন; আগুন নেভানো; সালোকসংশ্লেষণ |
সালফার ডাই-অক্সাইড | SO₂ | — | অম্লবৃষ্টি; তাজমহল ক্ষতি; বায়ু দূষণ |
নাইট্রোজেন ডাই-অক্সাইড | NO₂ | — | বায়ু দূষণ; স্বর্ণকার কারখানা থেকে নির্গত |
অ্যামোনিয়া | NH₃ | — | সার শিল্প; ক্ষারীয় গ্যাস; তীব্র গন্ধ |
হাইড্রোজেন সালফাইড | H₂S | — | পচা ডিমের গন্ধ; বিষাক্ত |
ওজোন | O₃ | — | UV রশ্মি শোষণ; স্ট্র্যাটোস্ফিয়ারে সুরক্ষা |
ক্লোরিন | Cl₂ | — | জীবাণুনাশক; পানি বিশুদ্ধকরণ; বিষাক্ত |
নাইট্রাস অক্সাইড | N₂O | লাফিং গ্যাস (Laughing Gas) | চেতনানাশক; গ্রিনহাউস গ্যাস |
কার্বন টেট্রাক্লোরাইড | CCl₄ | — | অগ্নিনির্বাপক; দ্রাবক |
সতর্কতা (Common Mistakes / Caution) CO আর CO₂ গুলিয়ে ফেলবেন না! CO = নীরব ঘাতক; CO₂ = গ্রিনহাউস গ্যাস তাজমহল ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে SO₂ দিয়ে — CO₂ নয় ওজোন স্তর ধ্বংস করে CFC — CO₂ একা এর জন্য দায়ী নয় অ্যামোনিয়া একটি ক্ষারীয় গ্যাস — এটি অ্যাসিডিক নয় |
টপিক ৮ | ধাতু ও অধাতু তুলনা |
ধাতু ও অধাতুর পার্থক্য
প্রকৃতিতে প্রাপ্ত মৌলসমূহকে (Elements) তাদের ভৌত ও রাসায়নিক ধর্মের ভিত্তিতে তিনটি ভাগে ভাগ করা হয়: ধাতু (Metals), অধাতু (Non-metals) এবং ধাতুকল্প (Metalloids)। ধাতু ও অধাতুর পার্থক্য জানা বিসিএস ও ভর্তি পরীক্ষায় অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
বৈশিষ্ট্য | ধাতু (Metals) | অধাতু (Non-metals) |
অবস্থা (সাধারণত) | কঠিন (Hg ব্যতিক্রম — তরল) | কঠিন, তরল বা গ্যাসীয় |
চকচকে ভাব | চকচকে (Lustrous) | সাধারণত অনুজ্জ্বল |
তড়িৎ পরিবাহিতা | ভালো পরিবাহী | সাধারণত অপরিবাহী (গ্রাফাইট ব্যতিক্রম) |
তাপ পরিবাহিতা | ভালো পরিবাহী | সাধারণত কুপরিবাহী |
নমনীয়তা | নমনীয় ও তন্যতা (Malleable & Ductile) | ভঙ্গুর (Brittle) |
ঘনত্ব | সাধারণত বেশি | সাধারণত কম |
অক্সাইড প্রকৃতি | ক্ষারীয় অক্সাইড (CaO, Na₂O) | অম্লীয় অক্সাইড (CO₂, SO₂) |
উদাহরণ | Fe, Cu, Au, Ag, Al, Na | C, S, O, N, H, Cl, P, Br |
গুরুত্বপূর্ণ ধাতু — বিশেষ তথ্য
সবচেয়ে হালকা ধাতু: লিথিয়াম (Li) — ঘনত্ব মাত্র ০.৫৩ g/cm³, পানিতে ভাসে
সবচেয়ে ভারী মৌল: ইউরেনিয়াম (U) — আণবিক ভর ২৩৮; তেজস্ক্রিয়
একমাত্র তরল ধাতু (স্বাভাবিক তাপমাত্রায়): পারদ (Mercury, Hg)
তড়িতের সর্বোত্তম পরিবাহী: রুপা (Silver, Ag) — তারপর তামা (Cu), সোনা (Au)
তড়িতের সবচেয়ে খারাপ পরিবাহী ধাতু: সীসা (Lead, Pb)
সবচেয়ে প্রচুর ধাতু (পৃথিবীর ভূত্বকে): অ্যালুমিনিয়াম (Al)
মানবদেহের হাড়ে সবচেয়ে বেশি: ক্যালসিয়াম (Ca) — দাঁত ও হাড় গঠনে সাহায্য করে
বিরল ধাতু: রেডিয়াম (Ra) — তেজস্ক্রিয়; ম্যাডাম কুরি আবিষ্কার করেন
গুরুত্বপূর্ণ অধাতু — বিশেষ তথ্য
সবচেয়ে হালকা মৌল: হাইড্রোজেন (H) — সব মৌলের মধ্যে সবচেয়ে হালকা
তড়িৎ পরিবাহী অধাতু: গ্রাফাইট (C) — একমাত্র অধাতু যা বিদ্যুৎ পরিবহন করে
তরল অধাতু: ব্রোমিন (Br) — ঘরের তাপমাত্রায় একমাত্র তরল অধাতু
সবচেয়ে বেশি তড়িৎ-ঋণাত্মক মৌল: ফ্লোরিন (F) — সবচেয়ে সক্রিয় অধাতু
বায়ুতে নাইট্রোজেন (N₂): ৭৮%, অক্সিজেন (O₂): ২১%, নিষ্ক্রিয় গ্যাস: ~০.৯%, CO₂: ~০.০৪%
গুরুত্বপূর্ণ বিষয় (Key Takeaways) সবচেয়ে হালকা ধাতু: লিথিয়াম (Li) | সবচেয়ে হালকা মৌল: হাইড্রোজেন (H) একমাত্র তরল ধাতু: পারদ (Hg) | একমাত্র তরল অধাতু: ব্রোমিন (Br) তড়িতের সেরা পরিবাহী ধাতু: রুপা (Ag) একমাত্র বিদ্যুৎ পরিবাহী অধাতু: গ্রাফাইট (C) পৃথিবীতে সবচেয়ে বেশি পাওয়া ধাতু: অ্যালুমিনিয়াম (Al) |
টপিক ৯ | সংকর ধাতু (Alloys) |
সংকর ধাতু কেন তৈরি করা হয়?
একটি বিশুদ্ধ ধাতু প্রায়ই তার সীমাবদ্ধতার কারণে সরাসরি ব্যবহার করা কঠিন। যেমন — খাঁটি সোনা খুব নরম, খাঁটি লোহা দ্রুত মরিচা ধরে, খাঁটি তামা ভঙ্গুর। তাই দুই বা ততোধিক ধাতুকে (বা একটি ধাতু ও একটি অধাতুকে) গলিত অবস্থায় মিশিয়ে ঠান্ডা করলে যে সমসত্ত্ব কঠিন মিশ্রণ পাওয়া যায় তাকে সংকর ধাতু বা অ্যালয় (Alloy) বলে।
সংকর ধাতুতে মূল ধাতুর চেয়ে ভালো বৈশিষ্ট্য পাওয়া যায় — যেমন বেশি কঠিনতা, মরিচা প্রতিরোধ, নির্দিষ্ট বৈদ্যুতিক রোধ, সৌন্দর্য। পরীক্ষায় কোন অ্যালয়ে কী উপাদান আছে সেটা সবচেয়ে বেশি জিজ্ঞেস করা হয়।
সংকর ধাতুর নাম | উপাদান (Composition) | বিশেষ বৈশিষ্ট্য ও ব্যবহার |
পিতল (Brass) | ৭০% তামা (Cu) + ৩০% দস্তা (Zn) | সোনার রঙের মতো উজ্জ্বল; বাদ্যযন্ত্র, কল-কব্জা, সাজসজ্জা |
ব্রোঞ্জ (Bronze) | ৮৮% তামা (Cu) + ১২% টিন (Sn) | প্রাচীন যুগের হাতিয়ার; মূর্তি, মেডেল, ঘণ্টা, জাহাজ |
ইস্পাত (Steel) | লোহা (Fe) + কার্বন (C) — ০.১৫–১.৫% | লোহার চেয়ে শক্ত ও মরিচা কম; নির্মাণ, যন্ত্রপাতি |
স্টেইনলেস স্টিল | লোহা + ১২–১৮% ক্রোমিয়াম + নিকেল | মরিচা প্রতিরোধী; চাকু, রান্নার পাত্র, চিকিৎসা সরঞ্জাম |
নাইক্রোম (Nichrome) | নিকেল (Ni) + ক্রোমিয়াম (Cr) + লোহা (Fe) | উচ্চ রোধ; বৈদ্যুতিক হিটার, টোস্টার |
জার্মান সিলভার | তামা ২৫–৩০% + দস্তা ২৫–৩৫% + নিকেল ১০–৩৫% | রুপার মতো দেখায়; বাসনকোসন, গহনা, মুদ্রা |
সোলডার (Solder) | টিন (Sn) ৬০% + সীসা (Pb) ৪০% | কম গলনাংক; ইলেকট্রনিক সার্কিট জোড়া লাগানো |
ম্যাগনালিয়াম (Magnalium) | অ্যালুমিনিয়াম + ম্যাগনেশিয়াম | হালকা ও শক্ত; বিমান নির্মাণ |
ডুরালুমিন (Duralumin) | Al ৯৫% + Cu ৪% + Mn + Mg | অ্যালুমিনিয়ামের চেয়ে শক্ত; বিমান কাঠামো |
ইনভার (Invar) | লোহা ৬৪% + নিকেল ৩৬% | তাপে প্রায় প্রসারিত হয় না; ঘড়ির স্প্রিং |
ব্যাবিট মেটাল | টিন + অ্যান্টিমনি + তামা | বেয়ারিং তৈরিতে ব্যবহৃত |
টাইপ মেটাল | সীসা + টিন + অ্যান্টিমনি | ছাপার হরফ তৈরিতে ব্যবহৃত |
★ সংকর ধাতু মনে রাখার ট্রিক পিতল (Brass) = তামা + দস্তা → "পি-তা" = পি+তা → P(িতল) + তামা+দস্তা ব্রোঞ্জ (Bronze) = তামা + টিন → "ব্রো-তাটি" = ব্রোঞ্জ+তামা+টিন ইস্পাত (Steel) = লোহা + কার্বন → "ইস-লো-কার" = ইস্পাত+লোহা+কার্বন স্টেইনলেস স্টিলে ক্রোমিয়াম = মরিচা থেকে রক্ষা করে (Cr = Corrosion Resistant) |
বিশেষ নোট: ঢালাই লোহা ও ইস্পাতের পার্থক্য ঢালাই লোহা (Cast Iron): কার্বনের পরিমাণ ৩–৫% — ভঙ্গুর, সস্তা, পাইপ ও ম্যানহোল ঢাকনায় ব্যবহার ইস্পাত (Steel): কার্বনের পরিমাণ ০.১৫–১.৫% — শক্ত, নমনীয়, নির্মাণ ও যন্ত্রপাতিতে ব্যবহার কার্বন যত কম, ইস্পাত তত উন্নত মানের হয় |
টপিক ১০ | কার্বনের বহুরূপতা (Allotropy of Carbon) |
বহুরূপতা কী?
একই মৌল (Element) প্রকৃতিতে ভিন্ন ভিন্ন ভৌত রূপে (Physical Form) বিদ্যমান থাকতে পারে — এই ঘটনাকে বহুরূপতা (Allotropy) বলে এবং এই বিভিন্ন রূপগুলোকে রূপভেদ (Allotropes) বলে। কার্বন (C) একটি বহুরূপী মৌল এবং এর রূপভেদগুলো অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
হীরক (Diamond) প্রকৃতিতে সবচেয়ে শক্ত পদার্থ (কঠিনতা = 10) প্রতিটি কার্বন পরমাণু চারটি অন্য C পরমাণুর সাথে টেট্রাহেড্রাল বন্ধনে কাচ কাটতে ব্যবহার; মূল্যবান গহনা তড়িৎ অপরিবাহী (কোনো মুক্ত ইলেকট্রন নেই) পূর্ণ অভ্যন্তরীণ প্রতিফলনের কারণে উজ্জ্বল দেখায় বোরোজেন (Borozen) হীরকের চেয়েও শক্ত — নতুন আবিষ্কার | গ্রাফাইট (Graphite) নরম, পিচ্ছিল, কালো রঙের পদার্থ স্তরে স্তরে সাজানো — স্তরগুলো দুর্বল ভ্যান ডার ওয়ালস বলে সংযুক্ত একমাত্র অধাতু যা বিদ্যুৎ পরিবহন করে পেন্সিলের "সীসা" আসলে গ্রাফাইট পারমাণবিক চুল্লিতে মডারেটর হিসেবে ব্যবহৃত লুব্রিকেন্ট (মসৃণকারক) হিসেবে ব্যবহৃত |
ফুলারিন (Fullerene) — কার্বনের নতুন রূপভেদ
C₆₀ — ৬০টি কার্বন পরমাণু দিয়ে গঠিত গোলাকার অণু
দেখতে ফুটবলের মতো — বাকমিনস্টারফুলারিন (Buckminsterfullerene) বা Buckyball নামেও পরিচিত
ন্যানোটেকনোলজিতে বিভিন্ন ব্যবহার রয়েছে
আবিষ্কারের জন্য ১৯৯৬ সালে রসায়নে নোবেল পুরস্কার পাওয়া যায়
রূপভেদ | গঠন | কঠিনতা | বিদ্যুৎ পরিবাহিতা | প্রধান ব্যবহার |
হীরক (Diamond) | ৩D নেটওয়ার্ক কাঠামো | ১০ (সর্বোচ্চ) | অপরিবাহী | গহনা, কাচ কাটা, শিল্পে কাটার যন্ত্র |
গ্রাফাইট (Graphite) | স্তরযুক্ত ২D কাঠামো | ১–২ (খুব নরম) | পরিবাহী | পেন্সিল, লুব্রিকেন্ট, পারমাণবিক চুল্লি |
ফুলারিন (Fullerene) | গোলাকার (C₆₀) | মাঝারি | অপরিবাহী | ন্যানোটেকনোলজি, ওষুধ বাহক |
কার্বন ন্যানোটিউব | নলাকার | অত্যন্ত শক্ত | পরিবাহী | ইলেকট্রনিক্স, উপাদান বিজ্ঞান |
পরীক্ষার সম্ভাবনা (Exam Potential) গ্রাফাইট বিদ্যুৎ পরিবাহী অধাতু — এই ব্যতিক্রমটি পরীক্ষায় প্রায়ই আসে প্রকৃতিতে সবচেয়ে শক্ত পদার্থ = হীরক → কঠিনতা স্কেলে ১০ পেন্সিলের "সীসা" আসলে গ্রাফাইট + মাটি — এই MCQ বারবার আসে হীরক উজ্জ্বল দেখায় কারণ: পূর্ণ অভ্যন্তরীণ প্রতিফলন (Total Internal Reflection) |
টপিক ১১ | দৈনন্দিন জীবনে অজৈব যৌগ |
অজৈব যৌগ কোথায় কোথায় আছে?
আমাদের প্রতিদিনের জীবনে অজৈব যৌগগুলো অপরিহার্য। সকালে ঘুম থেকে উঠে টুথপেস্ট ব্যবহার থেকে শুরু করে রাতে শোওয়ার আগে বৈদ্যুতিক বাল্ব বন্ধ করা পর্যন্ত — সবকিছুতেই অজৈব যৌগের ভূমিকা আছে।
অজৈব যৌগ | সংকেত | দৈনন্দিন জীবনে ব্যবহার | বিশেষ তথ্য |
ক্যালসিয়াম কার্বোনেট | CaCO₃ | টুথপেস্ট, অ্যান্টাসিড, চক, সিমেন্ট | সমুদ্রের শামুক-ঝিনুকের খোলে আছে |
সোডিয়াম ক্লোরাইড | NaCl | রান্না, খাদ্য সংরক্ষণ, স্যালাইন | শরীরে তরল ভারসাম্য রক্ষা করে |
সোডিয়াম বাই-কার্বোনেট | NaHCO₃ | বেকিং, অগ্নিনির্বাপক, পেট ফাঁপায় | গরম হলে CO₂ ছাড়ে — কেক ফোলে |
ক্যালসিয়াম সালফেট | CaSO₄·2H₂O | নির্মাণ, প্লাস্টার অব প্যারিস | পানি মিশালে শক্ত হয়ে যায় |
সিলভার ব্রোমাইড | AgBr | ফিল্ম ক্যামেরার ফিল্মে | আলোয় বিভাজিত হয় — ছবি তোলার নীতি |
ব্লিচিং পাউডার | Ca(ClO)Cl | কাপড় সাদা করা, জীবাণুনাশক | পানিতে ক্লোরিন মুক্ত করে |
ফটকিরি | KAl(SO₄)₂·12H₂O | পানি পরিশোধন, রক্ত জমাট, শেভিং | ঘোলা পানি পরিষ্কার করে |
সোডিয়াম হাইপোক্লোরাইট | NaClO | গৃহস্থালি ব্লিচ (Bleach) | জীবাণু ধ্বংস করে |
দস্তা / জিংক | Zn | লোহার গ্যালভানাইজিং, শুষ্ক ব্যাটারি | মরিচা থেকে লোহাকে রক্ষা করে |
অ্যামোনিয়াম নাইট্রেট | NH₄NO₃ | বিস্ফোরক, সার | অ্যাম্বুলেন্সের কোল্ড প্যাকে ব্যবহার |
কপার সালফেট | CuSO₄ | ছত্রাকনাশক, সুইমিং পুলে | নীল রঙের দ্রবণ — বর্ডো মিশ্রণে |
হাইড্রোজেন পারঅক্সাইড | H₂O₂ | চুল ব্লিচ, ক্ষতস্থান জীবাণুনাশক | ক্ষতস্থানে বুদবুদ হয় — O₂ মুক্ত হয় |
টপিক ১২ | মনে রাখার ট্রিক ও নেমোনিক (Tricks & Mnemonics) |
★ অ্যাসিডের নাম মনে রাখুন — "সা-হা-না-ফ" সা = সালফিউরিক (H₂SO₄) | হা = হাইড্রোক্লোরিক (HCl) | না = নাইট্রিক (HNO₃) | ফ = ফসফরিক (H₃PO₄) এই চারটি হলো শিল্পে সবচেয়ে বেশি ব্যবহৃত অজৈব অ্যাসিড |
★ ফলে এসিড — "লেতেতুআপডুকোপি" লে = লেবু → সাইট্রিক | তে = তেঁতুল → টারটারিক | তু = তুঁত/আমলকি → অক্সালিক আপ = আপেল → ম্যালিক | ডু = দুধ → ল্যাকটিক | কো = কমলা → ভিটামিন C (অ্যাসকরবিক) পি = পিঁপড়া → ফর্মিক (HCOOH) | ভি = ভিনেগার → অ্যাসিটিক (CH₃COOH) |
★ সংকর ধাতু মনে রাখার ট্রিক পিতল (Brass) = তামা + দস্তা → "ব্রাস বাজে তা(মা)-দ(স্তা)" ব্রোঞ্জ (Bronze) = তামা + টিন → "ব্রোঞ্জ ব্রোঞ্জ, তামা টিন" সোলডার = টিন + সীসা → "ইলেকট্রনিক জোড়, টিন সীসা" স্টেইনলেস স্টিল = লোহা + ক্রোমিয়াম + নিকেল → "ক্রোমিয়াম মরিচা ঠেকায়" (Cr = Corrosion Resistant) |
★ pH মনে রাখার ট্রিক "সাত মানেই সুন্দর ভারসাম্য" — বিশুদ্ধ পানির pH = 7 (নিরপেক্ষ) "রক্ত একটু ক্ষারীয়" — মানুষের রক্তের pH = 7.4 (7-এর বেশি তাই ক্ষারীয়) লেবু ৩টি বৈশিষ্ট্য: টক স্বাদ + সাইট্রিক অ্যাসিড + pH ≈ 2.4 বৃষ্টির পানি = pH 5.6 (স্বাভাবিক) | অম্লবৃষ্টি = pH < 5 |
★ লবণের নাম মনে রাখুন "নীলকষেট" = নীল রঙের কষেট = কপার সালফেট (CuSO₄·5H₂O) — নীল রঙ! "সবুজ কষেট" = ফেরাস সালফেট (FeSO₄·7H₂O) — সবুজ রঙ! "সাদা কষেট" = জিংক সালফেট (ZnSO₄·7H₂O) — সাদা রঙ! "সোরা" = পটাশিয়াম নাইট্রেট (KNO₃) = বারুদের উপাদান |
টপিক ১৩ | প্রশ্ন ও উত্তর |
প্রশ্ন 1: অ্যাসিড কী? আরহেনিয়াসের মতে অ্যাসিডের সংজ্ঞা দাও।
উত্তর: যে পদার্থ জলীয় দ্রবণে H⁺ আয়ন উৎপন্ন করে তাকে অ্যাসিড বলে (আরহেনিয়াস তত্ত্ব)।
প্রশ্ন 2: সালফিউরিক অ্যাসিডের অপর নাম কী?
উত্তর: অয়েল অব ভিট্রিয়ল (Oil of Vitriol)।
প্রশ্ন 3: গাড়ির ব্যাটারিতে সাধারণত কোন এসিড ব্যবহার হয়?
উত্তর: সালফিউরিক এসিড (H₂SO₄) — পাতলা হাইড্রোক্লোরিক অ্যাসিড নয়।
প্রশ্ন 4: হাইড্রোক্লোরিক এসিডের অপর নাম কী?
উত্তর: মিউরিয়েটিক এসিড (Muriatic Acid)।
প্রশ্ন 5: মানুষের পাকস্থলীতে কোন এসিড উৎপন্ন হয়?
উত্তর: হাইড্রোক্লোরিক এসিড (HCl) — গ্যাস্ট্রিক জুসের অংশ।
প্রশ্ন 6: অ্যাকোয়া রেজিয়া বা রাজ অম্ল কাকে বলে? অনুপাত কী?
উত্তর: তিন আয়তন গাঢ় HCl এবং এক আয়তন গাঢ় HNO₃-এর মিশ্রণকে অ্যাকোয়া রেজিয়া বলে।
প্রশ্ন 7: নাইট্রিক এসিডের অপর নাম কী?
উত্তর: অ্যাকোয়াফর্টিস (Aqua Fortis)।
প্রশ্ন 8: কোন গ্যাসকে নীরব ঘাতক গ্যাস বলা হয়?
উত্তর: কার্বন মনো-অক্সাইড (CO) — রঙহীন, গন্ধহীন, বিষাক্ত।
প্রশ্ন 9: তাজমহল কোন দূষিত পদার্থের দ্বারা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে?
উত্তর: সালফার ডাই-অক্সাইড (SO₂) — অম্লীয় বৃষ্টির মাধ্যমে মার্বেল ক্ষয় হচ্ছে।
প্রশ্ন 10: লোহাকে গ্যালভানাইজিং করতে কী ব্যবহৃত হয়?
উত্তর: দস্তা (Zinc, Zn) — মরিচা থেকে রক্ষার জন্য।
প্রশ্ন 11: টুথপেস্টে কোন অজৈব যৌগটি সবচেয়ে বেশি ব্যবহার হয়?
উত্তর: ক্যালসিয়াম কার্বোনেট (CaCO₃)।
প্রশ্ন 12: তড়িতের সর্বোত্তম পরিবাহী ধাতু কোনটি?
উত্তর: রুপা (Silver, Ag) — তারপর তামা (Cu)।
প্রশ্ন 13: ভিনেগার কাকে বলে?
উত্তর: ৪–১০% অ্যাসিটিক এসিড (CH₃COOH)-এর জলীয় দ্রবণকে ভিনেগার বলে।
প্রশ্ন 14: অম্লবৃষ্টির প্রধান কারণ কোন গ্যাস?
উত্তর: সালফার ডাই-অক্সাইড (SO₂) এবং নাইট্রোজেন ডাই-অক্সাইড (NO₂)।
প্রশ্ন 15: সবচেয়ে হালকা ধাতু কোনটি?
উত্তর: লিথিয়াম (Li) — ঘনত্ব ০.৫৩ g/cm³; পানিতে ভাসে।
প্রশ্ন 16: মিল্ক অব ম্যাগনেশিয়া কী?
উত্তর: ম্যাগনেশিয়াম হাইড্রোক্সাইড Mg(OH)₂-এর জলীয় দ্রবণ; অ্যান্টাসিড হিসেবে ব্যবহৃত।
প্রশ্ন 17: তড়িৎ বিয়োজন তত্ত্বের প্রবক্তা কে?
উত্তর: সুইডিশ রসায়নবিদ আরহেনিয়াস (Arrhenius), ১৮৮৭ সালে।
প্রশ্ন 18: স্বর্ণকারের কারখানা থেকে কোন গ্যাস নির্গত হয়?
উত্তর: নাইট্রোজেন ডাই-অক্সাইড (NO₂)।
প্রশ্ন 19: অ্যামোনিয়া গ্যাস শুষ্ক করতে কী ব্যবহার করা হয়?
উত্তর: পোড়াচুন (CaO / Quicklime) — H₂SO₄ ব্যবহার করা যায় না কারণ তারা বিক্রিয়া করে।
প্রশ্ন 20: লেবুতে কোন এসিড থাকে?
উত্তর: সাইট্রিক এসিড (Citric Acid, C₆H₈O₇)।
প্রশ্ন 21: দুধ ও দইতে কোন এসিড থাকে?
উত্তর: ল্যাকটিক এসিড (Lactic Acid, C₃H₆O₃)।
প্রশ্ন 22: তেঁতুলে কোন এসিড থাকে?
উত্তর: টারটারিক এসিড (Tartaric Acid, C₄H₆O₆)।
প্রশ্ন 23: আঁমলকিতে কোন এসিড থাকে?
উত্তর: অক্সালিক এসিড (Oxalic Acid, C₂H₂O₄)।
প্রশ্ন 24: আপেলে কোন এসিড থাকে?
উত্তর: ম্যালিক এসিড (Malic Acid, C₄H₆O₅)।
প্রশ্ন 25: গ্রিনহাউস গ্যাসের উদাহরণ দাও।
উত্তর: CO₂ (কার্বন ডাই-অক্সাইড), CH₄ (মিথেন), N₂O (নাইট্রাস অক্সাইড)।
প্রশ্ন 26: একটি বরযাতু (Noble Metal)-এর নাম লেখো।
উত্তর: প্লাটিনাম (Platinum, Pt) — সোনা (Au) ও রুপা (Ag)-ও নোবেল মেটাল।
প্রশ্ন 27: পিতল কোন কোন ধাতুর সংকর?
উত্তর: তামা (Cu) ও দস্তা (Zn)-এর সংকর ধাতু।
প্রশ্ন 28: ব্রোঞ্জ কোন কোন ধাতুর সংকর?
উত্তর: তামা (Cu) ও টিন (Sn)-এর সংকর ধাতু।
প্রশ্ন 29: ইস্পাতে কার্বনের পরিমাণ কত?
উত্তর: ০.১৫–১.৫% — ঢালাই লোহায় ৩–৫% কার্বন থাকে।
প্রশ্ন 30: প্রকৃতিতে সবচেয়ে শক্ত পদার্থ কোনটি?
উত্তর: হীরক (Diamond) — কঠিনতা স্কেলে ১০।
প্রশ্ন 31: গ্রাফাইট কোন বিষয়ে ব্যতিক্রমী?
উত্তর: গ্রাফাইট একটি অধাতু (Non-metal) হওয়া সত্ত্বেও বিদ্যুৎ পরিবহন করে।
প্রশ্ন 32: প্লাস্টার অব প্যারিস (POP)-এর রাসায়নিক সংকেত কী?
উত্তর: CaSO₄·½H₂O (ক্যালসিয়াম সালফেট হেমি-হাইড্রেট)।
প্রশ্ন 33: চুনাপাথর, পোড়া চুন ও নিভানো চুনের সংকেত লেখো।
উত্তর: চুনাপাথর = CaCO₃ | পোড়া চুন = CaO | নিভানো চুন = Ca(OH)₂।
প্রশ্ন 34: বায়ুতে নাইট্রোজেন ও অক্সিজেনের পরিমাণ কত?
উত্তর: নাইট্রোজেন ৭৮%, অক্সিজেন ২১%, নিষ্ক্রিয় গ্যাস ০.৯৫%, CO₂ ০.০৩–০.০৪%।
প্রশ্ন 35: একমাত্র তরল ধাতু কোনটি?
উত্তর: পারদ (Mercury, Hg) — স্বাভাবিক তাপমাত্রায় তরল অবস্থায় থাকে।
প্রশ্ন 36: একমাত্র তরল অধাতু কোনটি?
উত্তর: ব্রোমিন (Bromine, Br) — তীব্র লাল-বাদামি রঙের তরল।
প্রশ্ন 37: ওজোন স্তর কীভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে?
উত্তর: ক্লোরোফ্লুরোকার্বন (CFC) গ্যাসের কারণে — এটি রেফ্রিজারেটর ও এয়ার কন্ডিশনারে ব্যবহৃত হয়।
প্রশ্ন 38: pH-এর পূর্ণ রূপ কী?
উত্তর: Potential of Hydrogen (পটেনশিয়াল অব হাইড্রোজেন)। প্রবর্তন করেন সরেনসেন (১৯০৯)।
প্রশ্ন 39: মানুষের রক্তের pH কত?
উত্তর: ৭.৩–৭.৫ (গড় ৭.৪) — সামান্য ক্ষারীয়।
প্রশ্ন 40: অ্যামোনিয়াম ক্লোরাইডের সাধারণ নাম কী?
উত্তর: নিশাদল (Sal Ammoniac) — শুষ্ক কোষের ব্যাটারিতে ব্যবহৃত হয়।
বিশেষ নোট: পরীক্ষার আগে শেষ মুহূর্তের রিভিশন অ্যাসিড: H₂SO₄ (অয়েল অব ভিট্রিয়ল), HCl (মিউরিয়েটিক), HNO₃ (অ্যাকোয়াফর্টিস) অ্যাকোয়া রেজিয়া = ৩HCl + ১HNO₃ → সোনা গলায় ফলের এসিড: লেবু→সাইট্রিক, তেঁতুল→টারটারিক, আমলকি→অক্সালিক, আপেল→ম্যালিক, দুধ→ল্যাকটিক CO = নীরব ঘাতক | SO₂ = তাজমহল ক্ষতি + অম্লবৃষ্টি | O₃ = UV রক্ষা হীরক = সবচেয়ে শক্ত | গ্রাফাইট = বিদ্যুৎ পরিবাহী অধাতু পিতল = তামা+দস্তা | ব্রোঞ্জ = তামা+টিন | ইস্পাত = লোহা+কার্বন(০.১৫–১.৫%) pH ৭ = নিরপেক্ষ | রক্ত pH = ৭.৪ | লেবু pH ≈ 2.4 | চুনজল pH ≈ 12 |