সাধারণ বিজ্ঞান — জীববিজ্ঞান অ্যানিম্যাল ডাইভারসিটি Animal Diversity — প্রাণী বৈচিত্র্য শ্রেণিবিন্যাস | বৈজ্ঞানিক নাম | পর্ব বিশ্লেষণ | ট্রিক | বিগত প্রশ্ন |
টপিক ১ | শ্রেণিবিন্যাস ও ট্যাক্সোনমি (Taxonomy & Classification) |
শ্রেণিবিন্যাস কেন করা হয়?
পৃথিবীতে লক্ষ লক্ষ প্রজাতির প্রাণী রয়েছে। এদের নামকরণ, সনাক্তকরণ এবং পারস্পরিক সম্পর্ক নির্ণয়ের জন্য একটি সুশৃঙ্খল ব্যবস্থা প্রয়োজন — এই ব্যবস্থাই হলো শ্রেণিবিন্যাস বা ট্যাক্সোনমি (Taxonomy)। Taxonomy শব্দটি গ্রিক "Taxis" (সজ্জা) ও "Nomos" (নিয়ম) থেকে এসেছে।
আধুনিক শ্রেণিবিন্যাসের জনক সুইডিশ বিজ্ঞানী ক্যারোলাস লিনিয়াস (Carolus Linnaeus, 1707-1778)। তিনি ১৭৩৫ সালে "Systema Naturae" গ্রন্থ রচনা করেন এবং দ্বিপদ নামকরণ (Binomial Nomenclature) পদ্ধতি চালু করেন। তিনি সমগ্র উদ্ভিদজগতকে ২৪টি ভাগে বিভক্ত করেন।
৭ ধাপের শ্রেণিবিন্যাস — সবচেয়ে বড় থেকে ছোট জগৎ (Kingdom) → পর্ব (Phylum) → শ্রেণী (Class) → বর্গ (Order) → গোত্র (Family) → গণ (Genus) → প্রজাতি (Species) সর্ববৃহৎ একক: জগৎ (Kingdom) ক্ষুদ্রতম একক: প্রজাতি (Species) ICBN = উদ্ভিদের নামকরণ বিধি ICZN = প্রাণীর নামকরণ বিধি |
ধাপ | ইংরেজি নাম | মানুষ | রুই মাছ | আরশোলা |
জগৎ | Kingdom | Animalia | Animalia | Animalia |
পর্ব | Phylum | Chordata | Chordata | Arthropoda |
শ্রেণী | Class | Mammalia | Actinopterygii | Insecta |
বর্গ | Order | Primates | Cypriniformes | Blattodea |
গোত্র | Family | Hominidae | Cyprinidae | Blattidae |
গণ | Genus | Homo | Labeo | Periplaneta |
প্রজাতি | Species | sapiens | rohita | americana |
দ্বিপদ নামকরণের নিয়ম
নাম লাতিন ভাষায় হবে; মুদ্রণে ইটালিক, হাতে লেখায় আন্ডারলাইন
গণ নামের প্রথম অক্ষর Capital (বড় হাত); প্রজাতি নামের সব অক্ষর small (ছোট হাত)
উদাহরণ: মানুষ = Homo sapiens; সিংহ = Panthera leo
গুরুত্বপূর্ণ বৈজ্ঞানিক নামের তালিকা
সাধারণ নাম | বৈজ্ঞানিক নাম | বিশেষ তথ্য |
মানুষ | Homo sapiens | Homo = গণ (অর্থ: মানুষ) |
রুই মাছ | Labeo rohita | মিঠাপানির প্রধান মাছ |
কাতলা মাছ | Catla catla | — |
ইলিশ মাছ | Tenualosa ilisha | বাংলাদেশের জাতীয় মাছ |
সিংহ | Panthera leo | — |
রয়েল বেঙ্গল টাইগার | Panthera tigris | বাংলাদেশের জাতীয় পশু |
আরশোলা | Periplaneta americana | — |
মৌমাছি | Apis indica | — |
কুনোব্যাঙ / বাঙ | Duttaphrynus melanostictus | — |
দোয়েল | Copsychus saularis | বাংলাদেশের জাতীয় পাখি |
ম্যালেরিয়া জীবাণু | Plasmodium vivax | — |
কলেরা জীবাণু | Vibrio cholerae | — |
আম | Mangifera indica | — |
কাঁঠাল | Artocarpus heterophyllus | বাংলাদেশের জাতীয় ফল |
শাপলা | Nymphaea nouchali | বাংলাদেশের জাতীয় ফুল |
ধান | Oryza sativa | — |
গম | Triticum aestivum | — |
সুন্দরী গাছ | Heritiera fomes | সুন্দরবনের প্রধান উদ্ভিদ |
পাট | Corchorus capsularis | বাংলাদেশের জাতীয় পণ্য |
তারামাছ | Asterias rubens | — |
হাইড্রা | Hydra vulgaris | — |
কেঁচো | Lumbricus terrestris | কৃষকের বন্ধু |
★ শ্রেণিবিন্যাসের ধাপ মনে রাখার ট্রিক "জপশবগোপ্র" → জগৎ → পর্ব → শ্রেণী → বর্গ → গোত্র → গণ → প্রজাতি English: "King Philip Came Over For Good Soup" → Kingdom Phylum Class Order Family Genus Species বৈজ্ঞানিক নাম: "আগে বড় পরে ছোট" = গণ (Capital) + প্রজাতি (small) লাতিনে ইটালিকে |
টপিক ২ | মেরুদণ্ডী ও অমেরুদণ্ডী প্রাণীর পরিচয় |
কনসেপ্ট ক্লিয়ারিং — পৃথিবীর প্রাণীজগতের ৯৬% অমেরুদণ্ডী!
প্রাণীজগতকে মেরুদণ্ডের উপস্থিতি বা অনুপস্থিতির ভিত্তিতে দুই ভাগে ভাগ করা যায়: মেরুদণ্ডী (Vertebrates) ও অমেরুদণ্ডী (Invertebrates)। পৃথিবীর মোট প্রাণী প্রজাতির প্রায় ৯৬% অমেরুদণ্ডী — এরা সর্বত্র বিদ্যমান। মেরুদণ্ডীরা সংখ্যায় কম কিন্তু আকার-আকৃতি, বুদ্ধিমত্তা ও জটিলতায় এগিয়ে।
বৈশিষ্ট্য | মেরুদণ্ডী (Vertebrates) | অমেরুদণ্ডী (Invertebrates) |
মেরুদণ্ড | আছে | নেই |
অন্তঃকঙ্কাল | আছে (Endoskeleton) | নেই বা বহিঃকঙ্কাল |
প্রজাতি সংখ্যা | প্রায় ৬৪,০০০ | ১৩ লক্ষেরও বেশি |
মোট প্রাণীর % | প্রায় ৪% | প্রায় ৯৬% |
পর্ব | শুধু Chordata | ৩০টিরও বেশি পর্ব |
উদাহরণ | মাছ, ব্যাঙ, সাপ, পাখি, মানুষ | স্পঞ্জ, জেলিফিশ, কেঁচো, চিংড়ি, পতঙ্গ |
টপিক ৩ | অমেরুদণ্ডী প্রাণীর প্রধান পর্বসমূহ |
সরল থেকে জটিলের দিকে পর্ব বিন্যাস
অমেরুদণ্ডী প্রাণীদের ৩০টিরও বেশি পর্বে (Phyla) ভাগ করা হয়েছে। বিবর্তনের ধারায় সরল থেকে জটিলের দিকে — পরিফেরা সবচেয়ে সরল, আর্থ্রোপোডা সবচেয়ে জটিল। নিচে প্রতিটি পর্বের মূল বৈশিষ্ট্য ও পরীক্ষায় আসা তথ্য আলোচনা করা হলো।
পর্ব ১: পরিফেরা (Porifera) — স্পঞ্জ
পরিফেরা শব্দের অর্থ ছিদ্রযুক্ত (Porus = ছিদ্র, Ferre = বহনকারী)। এরা সবচেয়ে সরল বহুকোষী প্রাণী। এদের কোনো প্রকৃত কলা বা অর্গান নেই। দেহের ছিদ্র দিয়ে পানি টেনে কোয়ানোসাইট (Choanocyte) কোষের সাহায্যে খাদ্যকণা সংগ্রহ করে।
সিলিকা বা ক্যালসিয়াম কার্বোনেটের কাঁটা (Spicule) ও স্পঞ্জিন প্রোটিন দিয়ে কাঠামো গঠিত
দেহের উপরিভাগে বড় ছিদ্র = অস্কুলাম (Osculum) — পানি বেরোয় এখান দিয়ে
পুনরুৎপাদন: অযৌন (জেম্মিউল দিয়ে) ও যৌন উভয়ই
উদাহরণ: Sycon, Leucosolenia, Euspongia (স্নানের স্পঞ্জ)
পর্ব ২: নিডারিয়া / সিলেন্টেরেটা (Cnidaria / Coelenterata)
নিডারিয়া বা সিলেন্টেরেটা — জেলিফিশ, হাইড্রা, প্রবাল এই পর্বের প্রাণী। এদের বিশেষ বৈশিষ্ট্য হলো নিডোসাইট বা দংশক কোষ (Cnidocyte/Nematocyst) — এই কোষ শিকার ধরতে ও শত্রু তাড়াতে বিষ ছুঁড়ে মারে। পৃথিবীর সবচেয়ে বিষাক্ত প্রাণী Sea Wasp (সমুদ্র বোলতা) এই পর্বের।
দেহের প্রতিসাম্য: অরীয় (Radial symmetry)
দুটি রূপ — পলিপ (Polyp, সংলগ্ন/sessile) ও মেডুসা (Medusa, মুক্তভাসমান)
একটিমাত্র মুখছিদ্র — মুখ ও পায়ু একই ছিদ্র; অসম্পূর্ণ পরিপাক গহ্বর
শ্বাসঅঙ্গ: দেহতল দিয়ে শ্বাস নেয়
উদাহরণ: Hydra, Aurelia (জেলিফিশ), Physalia, প্রবাল (Coral)
পর্ব ৩: প্লাটিহেলমিনথেস (Platyhelminthes) — চ্যাপ্টাকৃমি
Platyhelminthes = চ্যাপ্টাকৃমি (Platys = চ্যাপ্টা, Helmis = কৃমি)। এদের দেহ চ্যাপ্টা; কোনো দেহগহ্বর নেই (Acoelomate)। পৃথক পায়ু নেই — মুখছিদ্র দিয়েই বর্জ্য বের হয়।
মুক্তজীবী রূপ: প্ল্যানেরিয়া (Planaria) — পুনরুৎপাদন ক্ষমতা অসাধারণ
পরজীবী রূপ: Taenia solium (শুয়োরের ফিতাকৃমি), Taenia saginata (গরুর ফিতাকৃমি)
যকৃতকৃমি: Fasciola hepatica — যকৃতে পরজীবী
মেহেলিস গ্রন্থি (Mehlis Gland): ফিতাকৃমিতে পাওয়া যায়
পর্ব ৪: নেমাটোডা (Nematoda) — গোলকৃমি
গোলকৃমি (Roundworm) — দেহ নলাকার ও গোলাকার। Pseudocoelom (অসম্পূর্ণ দেহগহ্বর) আছে। সম্পূর্ণ পরিপাক নালি আছে — পৃথক মুখ ও পায়ু।
Ascaris lumbricoides: মানুষের অন্ত্রে বাস করে; নিউমোনিয়ার পরোক্ষ কারণ (ফুসফুসে লার্ভা যায়)
Wuchereria bancrofti: ফাইলেরিয়া রোগ (Filariasis) ঘটায়; Culex মশার মাধ্যমে ছড়ায়; পা ফোলা হয়
Enterobius vermicularis: পিনওয়ার্ম — শিশুদের পায়ুতে চুলকানির কারণ
পর্ব ৫: অ্যানিলিডা (Annelida) — বলয়কৃমি
Annelida = বলয়কৃমি (Annellus = ছোট বলয়)। দেহ খণ্ডে বিভক্ত (Metamerism)। প্রকৃত দেহগহ্বর (True Coelom) আছে। সম্পূর্ণ পরিপাক নালি আছে।
কেঁচো (Earthworm): বৈজ্ঞানিক নাম Lumbricus terrestris; গমনাঙ্গ সিটা (Setae); শ্বাস দেহত্বক দিয়ে; "কৃষকের বন্ধু"
কেঁচোকে প্রথম কৃষকের বন্ধু বলেন: ডারউইন (Darwin)
জোঁক (Leech): বৈজ্ঞানিক নাম Hirudo medicinalis; রক্তচোষা পরজীবী; হিরুডিন নামক রক্ত জমাট বাঁধা বিরোধী পদার্থ নিঃসরণ করে
তারামাছের বিচ্ছিন্ন শরীর পুনরুদ্ধার করতে পারে — কিন্তু এটি এই পর্বের নয়, এটি একাইনোডার্মাটা
পর্ব ৬: মোলাস্কা (Mollusca) — নরম দেহী
Mollusca = নরম দেহী প্রাণী (Mollis = নরম)। প্রজাতির দিক থেকে আর্থ্রোপোডার পরেই সবচেয়ে বড় পর্ব। এদের নরম দেহ থাকে এবং অধিকাংশের খোলস (Shell) আছে। ত্বক দিয়ে জল শোষণ করে।
শামুক (Snail): ঘুরানো খোলস; মাংসল পদ দিয়ে হাঁটে (Creeping)
ঝিনুক (Oyster): দুটি খোলস; মুক্তা তৈরি করে; শ্বাস: ফুলকা / মান্টেল পর্দা
অক্টোপাস (Octopus): পৃথিবীর সবচেয়ে বড় অমেরুদণ্ডী; ৮টি বাহু; বুদ্ধিমান
ইলিশ মাছ নয় — ইলিশ মেরুদণ্ডী; শামুক-ঝিনুক মোলাস্কা
মুক্তায় ক্যালসিয়াম কার্বোনেট (CaCO₃) ৮৮-৯০ ভাগ থাকে
পর্ব ৭: আর্থ্রোপোডা (Arthropoda) — সন্ধিপদী
Arthropoda = সন্ধিপদী প্রাণী (Arthron = সন্ধি, Podos = পদ)। এটি প্রাণীজগতের সবচেয়ে বড় পর্ব — প্রায় ১০ লক্ষেরও বেশি প্রজাতি। এদের দেহে বহিঃকঙ্কাল (Exoskeleton) আছে এবং পা সন্ধিযুক্ত।
গলদা চিংড়ি: Arthropoda পর্বের প্রাণী; শ্বাস ফুলকায়
পতঙ্গ (Insect): ৬টি পা, ৩টি দেহখণ্ড; উদাহরণ: মৌমাছি, আরশোলা, প্রজাপতি
মাকড়সা (Spider): ৮টি পা, ২টি দেহখণ্ড; Arachnida শ্রেণীর
কাঁকড়া ও চিংড়ি: Crustacea উপশ্রেণীর; রাজ কাঁকড়ার বহিঃফুলকা
সবচেয়ে বেশি প্রজাতি: Insecta শ্রেণীতে — লক্ষাধিক পোকামাকড়
পর্ব ৮: একাইনোডার্মাটা (Echinodermata) — কণ্টকত্বকী
Echinodermata = কণ্টকত্বকী (Echinos = কাঁটা, Derma = ত্বক)। শুধুমাত্র সামুদ্রিক প্রাণী। এদের দেহে পঞ্চ-অরীয় প্রতিসাম্য (Pentaradial symmetry) এবং জলনালিতন্ত্র (Water vascular system) আছে।
তারামাছ (Starfish): টিউব ফিট (Tube feet) দিয়ে চলে; দেহখণ্ড কাটলে পুনরুৎপাদন করতে পারে
সমুদ্র শসা (Sea Cucumber): শ্বাস রেসপিরেটরি ট্রি দিয়ে
সমুদ্র আর্চিন (Sea Urchin): কাঁটাযুক্ত; চুনাপাথরের খোলস
কাঁটার মুকুট উপাধি: তারামাছকে দেওয়া হয়
পর্ব ৯: কর্ডাটা (Chordata)
Chordata পর্বে মেরুদণ্ডী ও কিছু অমেরুদণ্ডী প্রাণী রয়েছে। চারটি বৈশিষ্ট্য জীবনের কোনো না কোনো পর্যায়ে থাকতেই হবে: (১) নটোকর্ড (Notochord), (২) ডর্সাল ফাঁপা স্নায়ুরজ্জু, (৩) ফ্যারিঞ্জিয়াল ফুলকা ছিদ্র, (৪) পশ্চাদ লেজ।
অমেরুদণ্ডী কর্ডাটা: Balanoglossus — এর নটোকর্ডকে স্টোমোকর্ড বলে
অমেরুদণ্ডী প্রাণীর বৈশিষ্ট্য মেরুদণ্ডী থেকে আলাদা: অঙ্কীয় স্নায়ুরজ্জু (Ventral nerve cord) — মেরুদণ্ডীর পৃষ্ঠীয় (Dorsal)
পর্বের নাম | উদাহরণ | বিশেষ বৈশিষ্ট্য | শ্বাসঅঙ্গ |
পরিফেরা (Porifera) | Sycon, Leucosolenia | ছিদ্রযুক্ত দেহ; কলা নেই | দেহের ছিদ্র |
নিডারিয়া (Cnidaria) | Hydra, জেলিফিশ | নিডোসাইট; অরীয় প্রতিসাম্য | দেহতল |
প্লাটিহেলমিনথেস | ফিতাকৃমি, প্ল্যানেরিয়া | চ্যাপ্টা দেহ; কোনো দেহগহ্বর নেই | দেহতল |
নেমাটোডা | Ascaris, কেঁচো | নলাকার; সিউডোসিলোম | দেহতল |
অ্যানিলিডা (Annelida) | কেঁচো, জোঁক | খণ্ডিত দেহ; প্রকৃত সিলোম | দেহত্বক |
মোলাস্কা (Mollusca) | শামুক, ঝিনুক, অক্টোপাস | নরম দেহ; মান্টেল; খোলস | ফুলকা / মান্টেল পর্দা |
আর্থ্রোপোডা (Arthropoda) | চিংড়ি, পোকামাকড় | সন্ধিযুক্ত পা; বহিঃকঙ্কাল | ফুলকা / ট্র্যাকিয়া / বুককিট |
একাইনোডার্মাটা | তারামাছ, সমুদ্র শসা | পঞ্চ-অরীয়; জলনালিতন্ত্র | রেসপিরেটরি ট্রি / ত্বক |
পরীক্ষার সম্ভাবনা (Exam Potential) কোন পর্বে সবচেয়ে বেশি প্রজাতি? → আর্থ্রোপোডা (Arthropoda) পৃথিবীর সবচেয়ে বড় অমেরুদণ্ডী প্রাণী? → অক্টোপাস (Octopus) কেঁচোকে প্রথম কৃষকের বন্ধু বলেন কে? → ডারউইন সবচেয়ে বিষাক্ত প্রাণী? → Sea Wasp (জেলিফিশ জাতীয় নিডারিয়া) ফিতাকৃমি কোন পর্বের? → প্লাটিহেলমিনথেস (বিসিএসে বারবার এসেছে) |
টপিক ৪ | মেরুদণ্ডী প্রাণীর ৫টি শ্রেণী |
মেরুদণ্ডী প্রাণী ৫ শ্রেণীতে বিভক্ত
সকল মেরুদণ্ডী প্রাণী কর্ডাটা পর্বের (Phylum Chordata) ভার্টিব্রাটা উপপর্বের (Subphylum Vertebrata) অন্তর্গত। এদের ৫টি শ্রেণীতে ভাগ করা হয়: মাছ (Pisces), উভচর (Amphibia), সরীসৃপ (Reptilia), পাখি (Aves) এবং স্তন্যপায়ী (Mammalia)।
শ্রেণী | ইংরেজি নাম | তাপমাত্রা | শ্বাসঅঙ্গ | ত্বক | প্রজনন | উদাহরণ |
মাছ | Pisces | শীতলরক্ত | ফুলকা | আঁশ | ডিম্বাশয়ী | রুই, কাতলা, ইলিশ, হাঙর |
উভচর | Amphibia | শীতলরক্ত | ফুসফুস, ত্বক ও মুখ গহ্বর | আর্দ্র মসৃণ | ডিম্বাশয়ী (জলে) | ব্যাঙ, গেছোব্যাঙ, সালামান্ডার |
সরীসৃপ | Reptilia | শীতলরক্ত | ফুসফুস | শুষ্ক আঁশ | ডিম্বাশয়ী (স্থলে, খোলস) | সাপ, কুমির, কচ্ছপ, গিরগিটি |
পাখি | Aves | উষ্ণরক্ত | ফুসফুস + এয়ার স্যাক | পালক | ডিম্বাশয়ী | দোয়েল, ময়ূর, শকুন, পায়রা |
স্তন্যপায়ী | Mammalia | উষ্ণরক্ত | ফুসফুস | লোম / চুল / পশম | জরায়ুজ (ব্যতিক্রম: প্লাটিপাস) | মানুষ, বাঘ, তিমি, বাদুড় |
মাছ (Pisces)
মাছের দেহের সরলতম হৃদযন্ত্র: ২ প্রকোষ্ঠযুক্ত — ১ অলিন্দ + ১ নিলয়
মাছের বিশেষ পেশি: মায়োটোম (Myotome) — চলনে সাহায্য করে
মাছে যা থাকে না: শুকনো আঁশ (সরীসৃপে থাকে)
হাঙর (Shark): কার্টিলাজিনাস মাছ — হাড়ের পরিবর্তে তরুণাস্থি; প্লাকয়েড আঁশ (চোখে দেখা যায় না)
জিওল মাছ: কই, শিং, মাগুর — এদের অতিরিক্ত শ্বাসযন্ত্র আছে (ফুলকা ও অতিরিক্ত শ্বাসযন্ত্র)
উভচর (Amphibia)
ব্যাঙের বিশেষ বৈশিষ্ট্য: জলে ও স্থলে উভয়ে বাস করে; জলে ডিম পাড়ে
শ্বাস তিনভাবে: ফুসফুস + ত্বক + মুখের ভেতর দিয়ে
ব্যাঙের ব্যাটারি — এটি ভুল, ব্যাঙের লেজ (হিটেরোসারকাল নয়, হোমোসারকাল)
ব্যাঙের লেজ হয়: হোমোসারকাল (Homocercal) প্রকৃতির; রুই মাছের লেজ হেটেরোসারকাল (Heterocercal)
সরীসৃপ (Reptilia)
শীতলরক্ত — পরিবেশের তাপমাত্রার সাথে শরীরের তাপমাত্রা পরিবর্তন হয়
ডিম পাড়ে স্থলে — এমনিওটিক ডিম (Amniotic egg) — চামড়ার আবরণ থাকে
টিকটিকির লেজ ভয় পেলে খসে পড়ে — পরে আবার গজায়
সাপের পা নেই — কিন্তু কিছু সাপে অবশিষ্ট পা (Vestigial limb) থাকে
কুমির: সবচেয়ে বড় সরীসৃপ; ৪ প্রকোষ্ঠযুক্ত হৃদযন্ত্র — সরীসৃপদের মধ্যে ব্যতিক্রম
হৃদযন্ত্রের প্রকোষ্ঠ: মাছ ২ | উভচর ৩ | সরীসৃপ ৩ (সাধারণত) | কুমির ৪ | পাখি ৪ | স্তন্যপায়ী ৪
পাখি (Aves)
উষ্ণরক্ত (Warm-blooded / Endothermic) — নিজের শরীরের তাপমাত্রা নিজে নিয়ন্ত্রণ করে
পালক (Feather): কেরাটিন প্রোটিন দিয়ে তৈরি; উড়তে সাহায্য করে
বায়ুথলি (Air Sac): হাড়ের ভেতরে — হাড় হালকা করে; উড়তে সাহায্য করে
সবচেয়ে বড় পাখি: উটপাখি (Ostrich) — উড়তে পারে না; সবচেয়ে দ্রুতগামী ডাঙার পাখি
সবচেয়ে দ্রুত উড়তে পারে: সুইফট বার্ড (Swift bird)
সবচেয়ে বড় ডিম: উটপাখির
পাখির পাখা ও পোকার পাখা: সমবৃত্তি অঙ্গ (Analogous organ) — কাজ একই কিন্তু উৎপত্তি আলাদা
স্তন্যপায়ী (Mammalia)
স্তন্যপায়ী প্রাণী মাতৃদুগ্ধ পান করে বড় হয় এবং উষ্ণরক্তের। এদের শরীরে লোম বা পশম থাকে এবং সাধারণত জরায়ুতে বাচ্চা জন্ম দেয়।
উষ্ণরক্ত ৪ প্রকোষ্ঠ হৃদযন্ত্র; বেশি বুদ্ধিমান; মস্তিষ্কের সেরেব্রাম সবচেয়ে বড়
যে স্তন্যপায়ী ডিম পাড়ে: প্লাটিপাস (Platypus) ও ইকিডনা (Echidna) — মনোট্রেমাটা বর্গের
যে স্তন্যপায়ীর দেহে লোম নেই: তিমি (Whale)
যে স্তন্যপায়ীর RBC-তে নিউক্লিয়াস আছে: উট (Camel) — একমাত্র ব্যতিক্রম
চার পেটওয়ালা প্রাণী: গরু — রুমিনেন্ট (Ruminant)
শীতঘুম দেয়: বাদুড় ও কাঠবিড়ালি (Hibernation)
তিমি জলজ কিন্তু স্তন্যপায়ী — ফুসফুসে শ্বাস নেয়; বাতাসে নিঃশ্বাস ছাড়তে পানির উপরে আসে
বিশেষ নোট: হৃদযন্ত্রের প্রকোষ্ঠ তুলনা মাছ: ২ প্রকোষ্ঠ (১ অলিন্দ + ১ নিলয়) — সবচেয়ে সরল উভচর (ব্যাঙ): ৩ প্রকোষ্ঠ (২ অলিন্দ + ১ নিলয়) সরীসৃপ (বেশিরভাগ): ৩ প্রকোষ্ঠ | কুমির: ৪ প্রকোষ্ঠ (ব্যতিক্রম) পাখি ও স্তন্যপায়ী: ৪ প্রকোষ্ঠ (২ অলিন্দ + ২ নিলয়) — সবচেয়ে উন্নত |
★ মেরুদণ্ডী শ্রেণীর তাপমাত্রা মনে রাখুন "মা উস" — মাছ ও উভচর ও সরীসৃপ = শীতলরক্ত (Poikilotherm) = তাপ নিয়ন্ত্রণ করতে পারে না "পা স্ত" — পাখি ও স্তন্যপায়ী = উষ্ণরক্ত (Homeotherm) = তাপ নিয়ন্ত্রণ করে হৃদযন্ত্রের প্রকোষ্ঠ: মাছ(২) → ব্যাঙ(৩) → সাপ(৩) → কুমির(৪) → পাখি(৪) → মানুষ(৪) |
টপিক ৫ | প্রাণীর গমনাঙ্গ ও শ্বাসঅঙ্গ |
প্রাণীর নাম | গমনাঙ্গ (Locomotion organ) | গতির ধরন |
অ্যামিবা | ক্ষণপদ (Pseudopodia) | অ্যামিবয়েড গতি |
প্যারামেসিয়াম | সিলিয়া (Cilia) | সিলিয়ারি গতি |
ইউগ্লিনা | ফ্ল্যাজেলা (Flagella) | ফ্ল্যাজেলীয় গতি |
হাইড্রা | কর্ষিকা (Tentacle) | লুপিং, সামারসল্টিং |
তারামাছ | টিউব ফিট (Tube feet) | লুপিং |
কেঁচো | সিটা (Setae) | ক্রিপিং |
মাছ | পাখনা (Fins) | সাঁতার (Swimming) |
ব্যাঙ | পা (Legs) | লাফানো, সাঁতার, হাঁটা |
আরশোলা | পা ও ডানা | হাঁটা, উড়া |
পাখি | পা ও ডানা (Wings) | উড়া ও হাঁটা |
মানুষ | পা ও হাত | হাঁটা, দৌড়, সাঁতার |
হাঁস | লিপ্তপদ (Webbed feet) ও ডানা | উড়া ও সাঁতার |
শামুক | মাংসল পদ | ক্রিপিং |
প্রাণীর নাম | শ্বাসঅঙ্গ |
মাছ | ফুলকা (Gill) |
কেঁচো / জোঁক | দেহত্বক বা চর্ম (Skin) |
তারামাছ / হাইড্রা | দেহতল |
আরশোলা / পোকামাকড় | ট্র্যাকিয়া (Trachea) |
জিওল মাছ (কই, শিং, মাগুর) | ফুলকা + অতিরিক্ত শ্বাসযন্ত্র |
শামুক / ঝিনুক | ফুলকা / মান্টেল পর্দা |
মাকড়সা / কাঁকড়াবিছা | বুককিট (Book lung) |
ব্যাঙ / উভচর | ফুসফুস + ত্বক + মুখ গহ্বর |
সরীসৃপ / পাখি / স্তন্যপায়ী | ফুসফুস (Lungs) |
সামুদ্রিক কচ্ছপ | ফুসফুস + ক্লোয়েকাল অঙ্গ |
সমুদ্র শসা | রেসপিরেটরি ট্রি (Respiratory tree) |
অ্যামিবা / প্যারামেসিয়াম | সংকোচী গহ্বর (Contractile vacuole) |
টপিক ৬ | পরীক্ষায় বারবার আসা বিশেষ প্রাণী তথ্য |
বিষয় | তথ্য |
পৃথিবীর সবচেয়ে বিষাক্ত প্রাণী | Sea Wasp (সমুদ্র বোলতা) — নিডারিয়া পর্বের একটি জেলিফিশ |
পৃথিবীর সবচেয়ে বড় অমেরুদণ্ডী | অক্টোপাস (Octopus) — মোলাস্কা পর্ব |
পৃথিবীর সবচেয়ে বড় কোষ | উটপাখির ডিম |
পৃথিবীর সবচেয়ে বড় পাখি | উটপাখি (Ostrich) — উড়তে পারে না |
পৃথিবীর সবচেয়ে দ্রুততম পাখি | সুইফট বার্ড (Swift Bird) |
পৃথিবীর সবচেয়ে বড় প্রাণী | নীল তিমি (Blue Whale) — ৩৩ মিটার পর্যন্ত লম্বা |
কৃষকের বন্ধু প্রাণী | কেঁচো (Earthworm) — ডারউইন প্রথম বলেন |
বাইরের ফুলকাযুক্ত প্রাণী | রাজ কাঁকড়া (Horseshoe crab) |
রক্তহীন বা বর্ণহীন রক্তের প্রাণী | তেলাপোকা (Cockroach) |
শব্দ করতে পারে না | জিরাফ (Giraffe) |
মেরুদণ্ডহীন কিন্তু কর্ডাটা | Balanoglossus — হেমিকর্ডাটা উপপর্ব |
যে স্তন্যপায়ী ডিম পাড়ে | প্লাটিপাস (Platypus) ও ইকিডনা (Echidna) |
যে স্তন্যপায়ীর লোম নেই | তিমি (Whale) |
নিউক্লিয়াসযুক্ত RBC থাকে | উট (Camel) — একমাত্র স্তন্যপায়ী |
রাতের দৃষ্টিশক্তি ভালো | বাদুড় ও বিড়াল — Tapetum কোষের কারণে চোখ জ্বলজ্বল করে |
মাছের চলন পেশির নাম | মায়োটোম (Myotome) |
ঝিনুকের রক্তে নেই | হিমোগ্লোবিন |
গলদা চিংড়ির পর্ব | আর্থ্রোপোডা (Arthropoda) |
মৌমাছি কতদিন বাঁচে | গড়ে ৫০–৬০ দিন |
বানরের হাত | হাত নেই, আসলে চারটি পা |
টপিক ৭ | মনে রাখার ট্রিক ও নেমোনিক |
★ প্রধান পর্বসমূহ মনে রাখার ট্রিক "পনিপ্লান্যাআমই এককর্ডা" → পরিফেরা-নিডারিয়া-প্লাটিহেলমিনথেস-নেমাটোডা-অ্যানিলিডা-মোলাস্কা-আর্থ্রোপোডা-একাইনোডার্মাটা-কর্ডাটা ইংরেজিতে: "Perfectly Nice People Are Always Making Everyone Comfortable" → Porifera-Nidaria-Platyhelminthes-Aschelminthes-Annelida-Mollusca-Echinodermata-Chordata |
★ শীতল ও উষ্ণরক্ত মনে রাখুন "মা উস শীতল" → মাছ + উভচর + সরীসৃপ = শীতলরক্ত (Cold-blooded) "পা স্তন্যপায়ী উষ্ণ" → পাখি + স্তন্যপায়ী = উষ্ণরক্ত (Warm-blooded) |
★ মেরুদণ্ডী শ্রেণীর হৃদযন্ত্র মনে রাখুন মাছ(২) → ব্যাঙ(৩) → সাপ(৩) → কুমির(৪) → পাখি(৪) → মানুষ(৪) "বিবর্তনে ২ থেকে ৩ হয়ে ৪ — কুমির থেকে পাখি পর্যন্ত সবার ৪" |
★ বৈজ্ঞানিক নাম মনে রাখুন "ইলিশ = Tenualosa ilisha" → T.I. নামে মনে রাখুন "রুই = Labeo rohita" → L.R. — Labor rohita (লেবার রুই) "মানুষ = Homo sapiens" → Homo = মানবজাতি; sapiens = জ্ঞানী → জ্ঞানী মানুষ "দোয়েল = Copsychus saularis" → জাতীয় পাখি = জাতীয় বৈজ্ঞানিক নাম |
টপিক ৮ | প্রশ্ন ও উত্তর |
প্রশ্ন 1: আধুনিক শ্রেণিবিন্যাসের জনক কে?
উত্তর: ক্যারোলাস লিনিয়াস (Carolus Linnaeus) — সুইডিশ বিজ্ঞানী।
প্রশ্ন 2: শ্রেণিবিন্যাসের সর্বোচ্চ ও সর্বনিম্ন একক কী?
উত্তর: সর্বোচ্চ: জগৎ (Kingdom) | সর্বনিম্ন / মৌলিক একক: প্রজাতি (Species)।
প্রশ্ন 3: দ্বিপদ নামকরণ পদ্ধতি কে প্রবর্তন করেন?
উত্তর: ক্যারোলাস লিনিয়াস — ১৭৩৫ সালে Systema Naturae গ্রন্থে।
প্রশ্ন 4: মানুষের বৈজ্ঞানিক নাম কী?
উত্তর: Homo sapiens।
প্রশ্ন 5: ইলিশ মাছের বৈজ্ঞানিক নাম কী?
উত্তর: Tenualosa ilisha।
প্রশ্ন 6: রুই মাছের বৈজ্ঞানিক নাম কী?
উত্তর: Labeo rohita।
প্রশ্ন 7: বাংলাদেশের জাতীয় পাখি দোয়েলের বৈজ্ঞানিক নাম কী?
উত্তর: Copsychus saularis।
প্রশ্ন 8: রয়েল বেঙ্গল টাইগারের বৈজ্ঞানিক নাম কী?
উত্তর: Panthera tigris।
প্রশ্ন 9: প্রাণীজগতের সবচেয়ে বড় পর্ব কোনটি?
উত্তর: আর্থ্রোপোডা (Arthropoda) — প্রায় ১০ লক্ষেরও বেশি প্রজাতি।
প্রশ্ন 10: পৃথিবীর সবচেয়ে বড় অমেরুদণ্ডী প্রাণী কোনটি?
উত্তর: অক্টোপাস (Octopus) — মোলাস্কা পর্বের।
প্রশ্ন 11: পৃথিবীর সবচেয়ে বিষাক্ত প্রাণী কোনটি?
উত্তর: Sea Wasp (সমুদ্র বোলতা) — নিডারিয়া পর্বের একটি জেলিফিশ।
প্রশ্ন 12: কেঁচোকে প্রথম কৃষকের বন্ধু বলেন কে?
উত্তর: চার্লস ডারউইন (Charles Darwin)।
প্রশ্ন 13: ফিতাকৃমি কোন পর্বের প্রাণী?
উত্তর: প্লাটিহেলমিনথেস (Platyhelminthes) পর্বের।
প্রশ্ন 14: গলদা চিংড়ি কোন পর্বের প্রাণী?
উত্তর: আর্থ্রোপোডা (Arthropoda) পর্বের।
প্রশ্ন 15: কোন প্রাণীর বাইরের ফুলকা দেখা যায়?
উত্তর: রাজ কাঁকড়া (Horseshoe crab)।
প্রশ্ন 16: কোন প্রাণীর রক্ত বর্ণহীন?
উত্তর: তেলাপোকা (Cockroach) — তাদের রক্তে হিমোগ্লোবিন নেই।
প্রশ্ন 17: ঝিনুকের রক্তে কী নেই?
উত্তর: হিমোগ্লোবিন নেই।
প্রশ্ন 18: মাছের হৃদযন্ত্রে কতটি প্রকোষ্ঠ?
উত্তর: ২টি — ১টি অলিন্দ ও ১টি নিলয়।
প্রশ্ন 19: কুমিরের হৃদযন্ত্রে কতটি প্রকোষ্ঠ?
উত্তর: ৪টি — সরীসৃপদের মধ্যে ব্যতিক্রম।
প্রশ্ন 20: কোন স্তন্যপায়ী প্রাণী ডিম পাড়ে?
উত্তর: প্লাটিপাস (Platypus) ও ইকিডনা (Echidna)।
প্রশ্ন 21: কোন স্তন্যপায়ীর দেহে লোম নেই?
উত্তর: তিমি (Whale)।
প্রশ্ন 22: কোন স্তন্যপায়ীর RBC-তে নিউক্লিয়াস আছে?
উত্তর: উট (Camel)।
প্রশ্ন 23: কোন প্রাণী রাতে বাতাস দিয়ে শ্বাস নেয় কিন্তু জলে থাকে?
উত্তর: তিমি (Whale) — স্তন্যপায়ী, ফুসফুসে শ্বাস নেয়।
প্রশ্ন 24: ব্যাঙের শ্বাসঅঙ্গ কয়টি?
উত্তর: তিনটি — ফুসফুস, ত্বক ও মুখ গহ্বর।
প্রশ্ন 25: কোন মাছের অতিরিক্ত শ্বাসযন্ত্র আছে?
উত্তর: জিওল মাছ — কই, শিং, মাগুর।
প্রশ্ন 26: হাঙরের কঙ্কাল কী দিয়ে তৈরি?
উত্তর: তরুণাস্থি (Cartilage) — হাড় নয়।
প্রশ্ন 27: পাখির ডানা ও পোকার ডানার সম্পর্ক কী?
উত্তর: সমবৃত্তি অঙ্গ (Analogous organ) — কাজ একই কিন্তু উৎপত্তি আলাদা।
প্রশ্ন 28: বাংলাদেশের জাতীয় মাছ কোনটি?
উত্তর: ইলিশ (Tenualosa ilisha)।
প্রশ্ন 29: কোন পর্বের প্রাণীর পঞ্চ-অরীয় প্রতিসাম্য আছে?
উত্তর: একাইনোডার্মাটা (Echinodermata) পর্বের।
প্রশ্ন 30: Balanoglossus কোন পর্বের প্রাণী?
উত্তর: হেমিকর্ডাটা (Hemichordata) — তার নটোকর্ডকে স্টোমোকর্ড বলে।
প্রশ্ন 31: ICBN ও ICZN-এর পূর্ণ রূপ কী?
উত্তর: ICBN = International Code of Botanical Nomenclature | ICZN = International Code of Zoological Nomenclature।
প্রশ্ন 32: মৌমাছি কত দিন বাঁচে?
উত্তর: গড়ে ৫০–৬০ দিন।
প্রশ্ন 33: পাখির হাড় হালকা কেন?
উত্তর: হাড়ের ভেতরে বায়ুথলি (Air sac) থাকে।
প্রশ্ন 34: মাছের দেহে কোন বিশেষ পেশি আছে?
উত্তর: মায়োটোম (Myotome) — চলনে সাহায্য করে।
বিশেষ নোট: পরীক্ষার আগে শেষ মুহূর্তের রিভিশন শ্রেণিবিন্যাস: জ-প-শ-ব-গো-গণ-প্র | জনক: ক্যারোলাস লিনিয়াস (সুইডেন) সবচেয়ে বড় পর্ব: আর্থ্রোপোডা | সবচেয়ে বড় অমেরুদণ্ডী: অক্টোপাস হৃদযন্ত্র: মাছ(২) ব্যাঙ(৩) সাপ(৩) কুমির(৪) পাখি(৪) মানুষ(৪) শীতলরক্ত: মাছ + উভচর + সরীসৃপ | উষ্ণরক্ত: পাখি + স্তন্যপায়ী ডিম পাড়া স্তন্যপায়ী: প্লাটিপাস, ইকিডনা | লোমহীন স্তন্যপায়ী: তিমি কৃষকের বন্ধু: কেঁচো — ডারউইন প্রথম বলেন | বিষাক্ততম: Sea Wasp বৈজ্ঞানিক নাম মনে রাখুন: ইলিশ = Tenualosa ilisha | দোয়েল = Copsychus saularis |