সাধারণ বিজ্ঞান — জীববিজ্ঞান অ্যানিম্যাল টিস্যু Animal Tissue — প্রাণী কলা |
টপিক ১ | টিস্যু কী? — সংজ্ঞা ও অ্যানিম্যাল টিস্যুর শ্রেণিবিভাগ |
বহুকোষী জীবদেহে একই উৎস থেকে উদ্ভূত, একই গঠনবিশিষ্ট এবং একই কাজ সম্পাদনকারী কোষসমূহের সমষ্টিকে কলা বা টিস্যু (Tissue) বলে। "Tissue" শব্দটি ফরাসি "Tisser" থেকে এসেছে, যার অর্থ "বোনা"। কলা আবিষ্কার করেন ফরাসি জীববিজ্ঞানী মেরি ফ্রাঁসোয়া জেভিয়ার বিশা (Marie François Xavier Bichat) — তাই তাঁকে "Histology-র জনক" বলা হয়।
একই ধরনের কোষ মিলে কলা তৈরি করে, কলা মিলে অর্গান তৈরি করে, অর্গান মিলে অর্গান সিস্টেম তৈরি করে। তাই টিস্যু হলো জীবদেহের সংগঠন স্তরে কোষ ও অর্গানের মাঝের গুরুত্বপূর্ণ স্তর। বিসিএস ও বিশ্ববিদ্যালয় ভর্তি পরীক্ষায় প্রতি বছর এই অধ্যায় থেকে ৫–৮টি প্রশ্ন আসে।
অ্যানিম্যাল টিস্যু কত প্রকার? প্রাণীদেহে টিস্যু প্রধানত ৪ প্রকার: (১) আবরণী কলা (Epithelial Tissue), (২) যোজক কলা (Connective Tissue), (৩) পেশি কলা (Muscular Tissue) এবং (৪) স্নায়ু কলা (Nervous Tissue)। বিভিন্ন পিডিএফ ও পরীক্ষায় "পেশি কলা ৫ প্রকার" উল্লেখ পাওয়া গেছে — কিন্তু মূল শ্রেণিবিভাগ অনুযায়ী পেশি কলা ৩ প্রকার: কঙ্কাল পেশি, মসৃণ পেশি ও হৃদপেশি। |
ক্রমিক | টিস্যুর প্রকার | ইংরেজি নাম | প্রধান কাজ | উদাহরণ |
১ | আবরণী কলা | Epithelial Tissue | দেহের আবরণ, সুরক্ষা, নিঃসরণ, শোষণ | ত্বক, অন্ত্রের আবরণ, গ্রন্থি |
২ | যোজক কলা | Connective Tissue | অন্য কলাকে সংযুক্ত ও সহায়তা করে | হাড়, তরুণাস্থি, রক্ত, চর্বি |
৩ | পেশি কলা | Muscular Tissue | সংকোচন-প্রসারণ করে; গতি তৈরি করে | হৃদপেশি, কঙ্কাল পেশি, মসৃণ পেশি |
৪ | স্নায়ু কলা | Nervous Tissue | তড়িৎ সংকেত পরিবহন ও সমন্বয় | মস্তিষ্ক, সুষুম্নাকাণ্ড, স্নায়ু |
গুরুত্বপূর্ণ বিষয় (Key Takeaways) প্রাণীদেহে টিস্যু ৪ প্রকার — আবরণী, যোজক, পেশি ও স্নায়ু টিস্যু অধ্যয়নকে হিস্টোলজি (Histology) বলে; হিস্টোলজির জনক: বিশা (Bichat) রক্ত একটি যোজক কলা (Connective Tissue) — এটি পরীক্ষায় খুব বেশি আসে টিস্যু শব্দটি ফরাসি "Tisser" থেকে এসেছে, অর্থ "বোনা" কোষ → টিস্যু → অর্গান → অর্গান সিস্টেম → জীব — এই ক্রমটি মনে রাখুন |
টপিক ২ | আবরণী কলা (Epithelial Tissue) |
আবরণী কলা (Epithelial Tissue) হলো বিবর্তনের সময় প্রথম তৈরি হওয়া কলা। এটি দেহের বাইরের আবরণ (ত্বক), ভেতরের ফাঁপা অর্গানের আস্তরণ (পাকস্থলী, অন্ত্র), রক্তনালির আবরণ ও বিভিন্ন গ্রন্থি গঠন করে। আবরণী কলার কোষগুলো একে অপরের সাথে ঘনভাবে আবদ্ধ থাকে (tightly packed) এবং একটানা স্তর গঠন করে।
আবরণী কলার বৈশিষ্ট্য: (১) কোষগুলো পাশাপাশি ঘনভাবে সজ্জিত; (২) অন্তঃকোষীয় উপাদান প্রায় অনুপস্থিত; (৩) নিচে বেসমেন্ট মেমব্রেন (Basement Membrane) থাকে; (৪) কোনো রক্তনালি নেই (Avascular); (৫) পুনরুৎপাদন ক্ষমতা বেশি; (৬) মূলত তিনটি ভ্রূণীয় স্তর (Ectoderm, Mesoderm, Endoderm) থেকে উদ্ভূত হয়।
আবরণী কলার শ্রেণিবিভাগ
আকৃতি, অবস্থান ও কাজের প্রকৃতিভেদে আবরণী কলা ২ প্রধান ভাগে বিভক্ত: (১) সরল আবরণী (Simple Epithelium) এবং (২) যৌগিক বা স্তরিত আবরণী (Compound/Stratified Epithelium)।
ক. সরল আবরণী কলা (Simple Epithelium)
সরল আবরণী কলায় একটিমাত্র স্তর থাকে। এটি মূলত ছাঁকনি বা বিনিময়ের কাজ করে।
উপবিভাগ | বৈশিষ্ট্য | অবস্থান | প্রধান কাজ |
সরল শল্কাকার বা স্কোয়ামাস আবরণী (Simple Squamous Epithelium) | একস্তরীয়; চ্যাপ্টা ও অনিয়মিত সীমানাযুক্ত কোষ; মেঝের টাইলসের মতো | রক্তনালির অন্তঃআবরণ (এন্ডোথেলিয়াম), ফুসফুসের অ্যালভিওলির আবরণ, পেরিকার্ডিয়াম | গ্যাস বিনিময়; পদার্থের বিস্তার; ছাঁকনি |
সরল কিউবয়েড আবরণী (Simple Cuboidal Epithelium) | একস্তরীয়; ঘনকাকৃতি (cube-shaped) কোষ | কিডনির নালিকা (tubules), লালাগ্রন্থি, থাইরয়েড ফলিকল | নিঃসরণ (secretion) ও শোষণ (absorption) |
সরল স্তম্ভাকার আবরণী (Simple Columnar Epithelium) | একস্তরীয়; লম্বা ও সরু (pillar-like) কোষ; কোষের একদিকে নিউক্লিয়াস | পাকস্থলী, ক্ষুদ্রান্ত্র, বৃহদান্ত্রের আবরণ | খাদ্য শোষণ; শ্লেষ্মা নিঃসরণ |
সিলিয়াযুক্ত স্তম্ভাকার আবরণী (Ciliated Columnar Epithelium) | সরল স্তম্ভাকারের মতো, কিন্তু উপরিভাগে সিলিয়া আছে | শ্বাসনালি (Trachea), ব্রঙ্কাস, ফ্যালোপিয়ান টিউব | সিলিয়ার তরঙ্গ গতিতে পদার্থ পরিবহন |
সিউডোস্ট্র্যাটিফাইড (Pseudostratified Epithelium) | একস্তরীয় কিন্তু দেখতে বহুস্তরীয় মনে হয়; সব কোষ বেসমেন্টে লাগানো | উচ্চতর শ্বাসনালি | শ্লেষ্মা ও কণিকা পরিবহন |
খ. যৌগিক বা স্তরিত আবরণী কলা (Compound/Stratified Epithelium)
যৌগিক আবরণী কলায় দুই বা তার বেশি স্তর থাকে। এটি মূলত সুরক্ষামূলক কাজ করে। সবচেয়ে বাইরের স্তরের কোষের আকৃতি অনুসারে এদের নামকরণ করা হয়।
উপবিভাগ | বৈশিষ্ট্য | অবস্থান |
স্তরিত শল্কাকার (Stratified Squamous) | বহুস্তরীয়; সবচেয়ে বাইরের স্তরে চ্যাপ্টা কোষ | ত্বকের এপিডার্মিস (কেরাটিনযুক্ত), মুখগহ্বর, অন্ননালি (কেরাটিনবিহীন) |
স্তরিত কিউবয়েড (Stratified Cuboidal) | বহুস্তরীয়; ঘনকাকৃতি কোষ | বৃহৎ গ্রন্থির নালি (ঘর্মগ্রন্থি) |
স্তরিত স্তম্ভাকার (Stratified Columnar) | বহুস্তরীয়; লম্বা কোষ | কনজাংটিভা, কিছু গ্রন্থির নালি |
ট্রানজিশনাল (Transitional Epithelium) | বহুস্তরীয়; প্রসারিত হতে পারে; কোষ আকৃতি পরিবর্তনশীল | মূত্রথলি, মূত্রনালি (ureter) — প্রস্রাবের চাপে প্রসারিত হয় |
গ. গ্রন্থিময় আবরণী কলা (Glandular Epithelium)
আবরণী কলার বিশেষ রূপান্তর যা বিভিন্ন পদার্থ নিঃসরণ করে
এক্সোক্রাইন গ্রন্থি (Exocrine): নালির মাধ্যমে নিঃসরণ করে (যেমন: লালাগ্রন্থি, ঘর্মগ্রন্থি)
এন্ডোক্রাইন গ্রন্থি (Endocrine): নালিবিহীন; সরাসরি রক্তে হরমোন নিঃসরণ করে (যেমন: পিটুইটারি, থাইরয়েড)
পরীক্ষার সম্ভাবনা (Exam Potential) "সরল স্কোয়ামাস এপিথেলিয়াম কোথায় পাওয়া যায়?" → রক্তনালির আবরণ ও ফুসফুসের অ্যালভিওলি "ট্রানজিশনাল এপিথেলিয়াম কোথায় থাকে?" → মূত্রথলিতে — বিসিএসে বারবার আসে "কোন আবরণী কলায় নিউক্লিয়াস একপাশে থাকে?" → সরল স্তম্ভাকার আবরণী আবরণী কলার বৈশিষ্ট্য: অ্যাভাসকুলার (রক্তনালিবিহীন) — পরীক্ষায় কমন |
★ আবরণী কলা মনে রাখার ট্রিক "স্ক-কিউ-কল-সিলি" → স্কোয়ামাস (চ্যাপ্টা) + কিউবয়েড (ঘনক) + কলামার (লম্বা) + সিলিয়াযুক্ত স্কোয়ামাস = সমতল মেঝে (flat floor) | কিউবয়েড = ছোট বাক্স (cube box) | কলামার = লম্বা থাম (pillar) সরল = একস্তর = বিনিময় ও শোষণ | স্তরিত = বহুস্তর = সুরক্ষা |
সতর্কতা (Common Mistakes / Caution) ত্বকের আবরণী = স্তরিত শল্কাকার (Stratified Squamous) — সরল স্কোয়ামাস নয় রক্তনালির ভেতরের আবরণ = এন্ডোথেলিয়াম (Endothelium) — এটি সরল স্কোয়ামাস "কেরাটিনযুক্ত" (শুষ্ক ত্বক) ও "কেরাটিনবিহীন" (মুখের আবরণ) — পার্থক্য মনে রাখুন |
টপিক ৩ | যোজক কলা (Connective Tissue) |
যোজক কলা কেন সবচেয়ে বৈচিত্র্যময়?
যোজক কলা (Connective Tissue) হলো শরীরের সবচেয়ে বৈচিত্র্যময় এবং প্রচুর পরিমাণে পাওয়া যায় এমন কলা। এটি অন্য কলাগুলোকে একসাথে ধরে রাখে, সংযুক্ত করে এবং সহায়তা করে। যোজক কলার বিশেষ বৈশিষ্ট্য হলো এর ম্যাট্রিক্স (Matrix) — কোষের মাঝে অন্তঃকোষীয় উপাদান (extracellular matrix) থাকে যা কলার ধর্ম নির্ধারণ করে।
যোজক কলার গঠন তিনটি উপাদান নিয়ে: (১) কোষ (Cells), (২) তন্তু বা আঁশ (Fibers — Collagen, Elastic, Reticular) এবং (৩) ভূমি পদার্থ বা মাতৃদ্রব্য (Ground Substance — জৈব ও অজৈব পদার্থের মিশ্রণ)। যোজক কলার প্রধান কোষ হলো ফাইব্রোব্লাস্ট (Fibroblast)।
যোজক কলার প্রকার | উপাদান/বৈশিষ্ট্য | অবস্থান | কাজ |
অ্যারিওলার (Areolar Connective Tissue) | আলগা (loose); কোলাজেন, ইলাস্টিক, রেটিকুলার তন্তু; ফাইব্রোব্লাস্ট, ম্যাক্রোফেজ থাকে | ত্বকের নিচে, অঙ্গের মাঝে ফাঁকা জায়গায় | সংযোগ, সহায়তা, প্রদাহ প্রতিক্রিয়া |
অ্যাডিপোজ (Adipose Connective Tissue) | চর্বি কোষে (Adipocytes) পূর্ণ; নিউক্লিয়াস একপাশে | ত্বকের নিচে, কিডনির চারপাশে, অস্থিমজ্জায় | শক্তি সঞ্চয়, তাপ সংরক্ষণ, কুশন |
ঘন (Dense Connective Tissue) | কোলাজেন তন্তু বেশি; ফাইব্রোব্লাস্ট কম | টেন্ডন (পেশি ↔ হাড়), লিগামেন্ট (হাড় ↔ হাড়) | টান সহন; সংযোগ |
তরুণাস্থি (Cartilage) | কন্ড্রোব্লাস্ট ও কন্ড্রোসাইট কোষ; কন্ড্রিন ম্যাট্রিক্স; রক্তনালি ও স্নায়ু নেই | কান, নাক, ট্র্যাকিয়া, হাঁটু মেনিস্কাস | নমনীয় সহায়তা; ঘর্ষণ হ্রাস |
অস্থি (Bone) | অস্টিওসাইট, অস্টিওব্লাস্ট, অস্টিওক্লাস্ট কোষ; ক্যালসিয়াম ও ফসফরাস ভরা ম্যাট্রিক্স; হ্যাভারসিয়ান সিস্টেম | কঙ্কাল তন্ত্র | কঠিন কাঠামো; সুরক্ষা; চলাচল; রক্তকণিকা উৎপাদন |
রক্ত (Blood) | প্লাজমা (৫৫%) + RBC + WBC + প্লেটলেট (৪৫%) | সংবহনতন্ত্রে | O₂, CO₂, পুষ্টি, হরমোন, বর্জ্য পরিবহন |
লিম্ফ (Lymph) | প্লাজমার মতো; প্রোটিন কম; লিম্ফোসাইট বেশি | লিম্ফনালিতে | রোগ প্রতিরোধ; চর্বি পরিবহন (কাইলোমাইক্রন) |
তরুণাস্থি (Cartilage)
তরুণাস্থির প্রকার | বৈশিষ্ট্য | অবস্থান |
হায়ালিন তরুণাস্থি (Hyaline Cartilage) | সবচেয়ে সাধারণ; নীলাভ-সাদা; কোলাজেন আঁশ অদৃশ্য; মসৃণ পৃষ্ঠ | নাক, ট্র্যাকিয়া, পাঁজরের কার্টিলেজ, অস্থিসন্ধির পৃষ্ঠ |
তন্তুময় তরুণাস্থি (Fibrocartilage) | সবচেয়ে শক্ত; প্রচুর কোলাজেন তন্তু | ইন্টারভার্টিব্রাল ডিস্ক, হাঁটুর মেনিস্কাস, পিউবিক সিম্ফাইসিস |
ইলাস্টিক তরুণাস্থি (Elastic Cartilage) | হলুদ রঙের; প্রচুর ইলাস্টিক তন্তু; নমনীয় | বাইরের কান (পিনা), ইউস্টেচিয়ান টিউব, এপিগ্লটিস |
অস্থি (Bone)
অস্থিকোষ তিন ধরনের: Osteoblast (নতুন অস্থি তৈরি করে), Osteoclast (পুরানো অস্থি ভাঙে), Osteocyte (পরিপক্ক অস্থিকোষ, ল্যাকুনায় থাকে)
অস্থির একক: হ্যাভারসিয়ান সিস্টেম (Haversian System) বা অস্টিওন (Osteon)
হ্যাভারসিয়ান সিস্টেম: কেন্দ্রীয় হ্যাভারসিয়ান নালি + কেন্দ্রমুখী অস্টিওসাইটের ঘনকেন্দ্রিক বলয়
পেরিওস্টিয়াম (Periosteum) = অস্থির বাইরের আবরণ; ফ্র্যাকচার নিরাময়ে সহায়তা করে
হাড় গঠনে প্রয়োজনীয়: ক্যালসিয়াম (Ca) ও ফসফরাস (P)
রক্ত (Blood) — যোজক কলা হিসেবে
রক্ত একটি তরল যোজক কলা (Liquid Connective Tissue) — কারণ এতে কোষ (RBC, WBC, প্লেটলেট) এবং তরল ম্যাট্রিক্স (প্লাজমা) উভয়ই আছে। রক্তের pH ৭.৪ (সামান্য ক্ষারীয়), পরিমাণ ৪–৬ লিটার।
রক্তের উপাদান | পরিমাণ | কোষের নাম | বিশেষ তথ্য |
প্লাজমা (Plasma) | ৫৫–৬০% | — | ৯০–৯২% পানি; প্রোটিন, হরমোন, পুষ্টি, বর্জ্য বহন করে |
লোহিত রক্তকণিকা (RBC / Erythrocyte) | ৪৫% (রক্তকণিকার ৯৯%) | এরিথ্রোসাইট | নিউক্লিয়াসবিহীন; হিমোগ্লোবিনে লোহা; O₂ বহন; আয়ু ১২০ দিন; অস্থিমজ্জায় তৈরি |
শ্বেত রক্তকণিকা (WBC / Leukocyte) | অল্প পরিমাণ | লিউকোসাইট (নিউট্রোফিল, লিম্ফোসাইট, মনোসাইট, ইওসিনোফিল, বেসোফিল) | নিউক্লিয়াস আছে; রোগ প্রতিরোধ করে; "রক্তের প্রহরী" |
অণুচক্রিকা (Platelet / Thrombocyte) | অল্প | থ্রম্বোসাইট | রক্ত জমাট বাঁধায়; নিউক্লিয়াসবিহীন; সবচেয়ে ছোট রক্তকোষ |
বিশেষ নোট: রক্তসংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ তথ্য রক্তে RBC : WBC = ৫০০ : ১ রক্ত জমাট বাঁধলে যে তরল অবশিষ্ট থাকে = সিরাম (Serum) — প্লাজমা থেকে ফাইব্রিনোজেন বাদ দিলে সিরাম পাওয়া যায় পলিসাইথেমিয়া = রক্তে RBC বেশি | অলিগোসাইথেমিয়া = RBC কম | লিউকেমিয়া = WBC বেশি | লিউকোপেনিয়া = WBC কম | পারপিউরা = অণুচক্রিকা কম উটের RBC = নিউক্লিয়াসযুক্ত (ব্যতিক্রম — বাকি সকল স্তন্যপায়ীর RBC নিউক্লিয়াসবিহীন) |
পরীক্ষার সম্ভাবনা (Exam Potential) "রক্ত কোন ধরনের কলা?" → যোজক কলা (Connective Tissue) — সবচেয়ে বেশি আসা প্রশ্ন "অস্থিকোষ কয় প্রকার?" → তিন প্রকার: Osteoblast, Osteoclast, Osteocyte "কোন প্রাণীর RBC নিউক্লিয়াসযুক্ত?" → উট "সবচেয়ে শক্ত তরুণাস্থি কোনটি?" → ফাইব্রোকার্টিলেজ (Fibrocartilage) "টেন্ডন বনাম লিগামেন্ট পার্থক্য?" → টেন্ডন: পেশি-হাড় সংযোগ; লিগামেন্ট: হাড়-হাড় সংযোগ |
★ যোজক কলা মনে রাখার ট্রিক "তরুণাস্থি তিন H" → Hyaline (স্বচ্ছ, নাকে) + Fibro (শক্ত, মেরুদণ্ডে) + Elastic (নমনীয়, কানে) "অস্থিকোষ OBO" → O-steoblast (তৈরি) + B-reaks = O-steoclast (ভাঙে) + O-steocyte (থাকে) "রক্ত = তরল যোজক কলা" — প্লাজমা হলো এর ম্যাট্রিক্স "টেন্ডন পেশি টানে হাড় পর্যন্ত" → পেশি+হাড় | লিগামেন্ট হাড় মেলায় হাড়ে → হাড়+হাড় |
টপিক ৪ | পেশি কলা (Muscular Tissue) |
পেশি কীভাবে কাজ করে?
পেশি কলা (Muscular Tissue) সংকোচন (Contraction) ও প্রসারণ (Relaxation)-এর মাধ্যমে গতি তৈরি করে। পেশি কোষকে বলা হয় মায়োসাইট (Myocyte) বা পেশিতন্তু (Muscle Fiber)। পেশি কলায় মায়োফিলামেন্ট থাকে — অ্যাক্টিন (Actin) ও মায়োসিন (Myosin) — এদের পারস্পরিক সরণে পেশি সংকোচন হয়।
মৃত্যুর পর পেশি শক্ত হয়ে যায় — এটিকে রিগোর মর্টিস (Rigor Mortis) বলে। কারণ হলো ATP (Adenosine Triphosphate) কমে যাওয়া — ATP না থাকলে অ্যাক্টিন ও মায়োসিন আলাদা হতে পারে না।
বৈশিষ্ট্য | কঙ্কাল পেশি (Skeletal Muscle) | মসৃণ পেশি (Smooth Muscle) | হৃদপেশি (Cardiac Muscle) |
ইচ্ছাশক্তি | ঐচ্ছিক (Voluntary) | অনৈচ্ছিক (Involuntary) | অনৈচ্ছিক (Involuntary) — বিশেষ ধরনের |
রেখা উপস্থিতি | রেখাযুক্ত (Striated) | রেখাবিহীন (Non-striated) | রেখাযুক্ত (Striated) |
নিউক্লিয়াস | বহু নিউক্লিয়াস; পরিধিতে | এক নিউক্লিয়াস; কেন্দ্রে | এক বা দুটি নিউক্লিয়াস; কেন্দ্রে |
আকৃতি | লম্বা, বৃহৎ, নলাকার তন্তু | মাকুআকৃতি (Spindle-shaped) | শাখান্বিত (Branched), Y-আকৃতি |
বিভাজন ক্ষমতা | বিভাজনে অক্ষম (আঘাতে Satellite Cell দিয়ে পুনর্গঠন) | বিভাজনে সক্ষম | অত্যন্ত সীমিত বিভাজন |
ক্লান্তি | সহজে ক্লান্ত হয় | ধীরে সংকুচিত; ক্লান্তি কম | কখনো ক্লান্ত হয় না |
বিশেষ সংযোগ | — | — | ইন্টারক্যালেটেড ডিস্ক (Intercalated Disc) |
অবস্থান | কঙ্কালের সাথে সংলগ্ন হাড়ের পেশিতে | পাকস্থলী, অন্ত্র, রক্তনালির দেয়াল | শুধুমাত্র হৃদযন্ত্রে |
উদাহরণ | বাইসেপস, ট্রাইসেপস, গ্লুটিয়াস | পাকস্থলীর দেয়াল, জরায়ু | হৃদযন্ত্রের প্রাচীর |
বিশেষ নোট: ইন্টারক্যালেটেড ডিস্ক (Intercalated Disc) হৃদপেশির অনন্য বৈশিষ্ট্য হলো ইন্টারক্যালেটেড ডিস্ক — এটি প্রতিবেশী হৃদপেশি কোষের মধ্যে বিশেষ সংযোগ সৃষ্টি করে। এই ডিস্কের কারণে সব হৃদপেশি একসাথে সংকোচন করে — তাই হৃদযন্ত্র কার্যকরভাবে পাম্প করতে পারে। হৃদপেশির সংকোচন: ম্যাক্রোফেজ, মায়োটোম, ডেসমোসোম, গ্যাপ জাংশন দিয়ে সমন্বিত। হৃদপেশির অনৈচ্ছিক সংকোচন নিয়ন্ত্রণ করে SA Node (Sino-Atrial Node)। |
বিশেষ পেশি সম্পর্কিত গুরুত্বপূর্ণ তথ্য
তথ্য | বিবরণ |
মোট পেশির সংখ্যা | প্রায় ৬৩৯টি |
সবচেয়ে বড় পেশি | গ্লুটিয়াস ম্যাক্সিমাস (Gluteus Maximus) — নিতম্বের পেশি |
সবচেয়ে শক্তিশালী পেশি (আকারের তুলনায়) | ম্যাসেটার (Masseter) — চোয়ালের পেশি; কামড়ের শক্তি ৯০ kg পর্যন্ত |
সবচেয়ে দীর্ঘ পেশি | সার্টোরিয়াস (Sartorius) — উরু থেকে হাঁটু পর্যন্ত |
সবচেয়ে ছোট পেশি | স্টেপেডিয়াস (Stapedius) — মধ্যকর্ণে; মাত্র ১.২ মিমি |
বাহুতে পেশির সংখ্যা | ৭২টি |
মায়োটোম পেশি কোথায় | মাছের দেহে (Myotome = মাছের চলন পেশি) |
মৃত্যুর পর পেশি শক্ত হয় কেন | রিগোর মর্টিস (Rigor Mortis) — ATP কমে যাওয়ার কারণে |
★ তিন ধরনের পেশি মনে রাখার ট্রিক "কঙ্কাল = ইচ্ছেমতো নাড়াও" → ঐচ্ছিক, রেখাযুক্ত, ক্লান্তিকর "মসৃণ = আপনাআপনি চলে" → অনৈচ্ছিক, রেখাবিহীন (smooth = মসৃণ) "হৃদপেশি = কখনো থামে না" → অনৈচ্ছিক, রেখাযুক্ত, কখনো ক্লান্ত হয় না, ইন্টারক্যালেটেড ডিস্ক আছে S for Skeletal = Striated + Strong will | SM for Smooth Muscle = Spindle, Many layers | C for Cardiac = Compulsory, Continuous |
টপিক ৫ | স্নায়ু কলা (Nervous Tissue) |
স্নায়ু কলা কীভাবে সংকেত পাঠায়?
স্নায়ু কলা (Nervous Tissue) হলো সবচেয়ে বিশেষায়িত কলা — এটি বৈদ্যুতিক সংকেত (Nerve impulse) তৈরি ও পরিবহন করে। স্নায়ু কলার মূল কার্যিক একক হলো নিউরন (Neuron) — এটি দেহের সবচেয়ে দীর্ঘ কোষ এবং সাধারণত বিভাজনে অক্ষম।
নিউরনের গঠন ও প্রকারভেদ
নিউরনের অংশ | বিবরণ ও কাজ |
কোষদেহ / সোমা (Cell Body / Soma) | নিউক্লিয়াস ও সাইটোপ্লাজম আছে; নিসল দানা (Nissl Granules) থাকে — প্রোটিন সংশ্লেষণ করে |
ডেনড্রাইট (Dendrite) | কোষদেহ থেকে বের হওয়া ছোট শাখা; সংকেত গ্রহণ করে (Receptor) ও কোষদেহে পাঠায় |
অ্যাক্সন (Axon) | কোষদেহ থেকে বের হওয়া একটি দীর্ঘ তন্তু; সংকেত দূরে পাঠায় (Effector); মায়েলিন আবরণযুক্ত হতে পারে |
মায়েলিন আবরণ (Myelin Sheath) | অ্যাক্সনের চারপাশে লিপিড আবরণ; সংকেত পরিবহন দ্রুত করে (Saltatory Conduction) |
র্যানভিয়ের নোড (Node of Ranvier) | মায়েলিন আবরণের ফাঁক; এখানে সংকেত লাফ দেয় |
সিন্যাপ্স (Synapse) | দুটি নিউরনের মাঝের সংযোগস্থল; নিউরোট্রান্সমিটার দিয়ে সংকেত পাঠানো হয় |
স্নায়ুকোষের বর্তিত অংশ (Axon terminus) | অ্যাক্সনের শেষ প্রান্তে ফুলানো অংশ; নিউরোট্রান্সমিটার মুক্ত করে |
নিউরনের প্রকার | বৈশিষ্ট্য | কাজ |
সংবেদী নিউরন (Sensory / Afferent Neuron) | সংবেদী অর্গান থেকে CNS-এ সংকেত পাঠায় | স্পর্শ, ব্যথা, তাপ, দৃষ্টি, শ্রবণের সংকেত পাঠানো |
মোটর নিউরন (Motor / Efferent Neuron) | CNS থেকে সক্রিয় অর্গানে (পেশি/গ্রন্থি) সংকেত পাঠায় | পেশি সংকোচন বা গ্রন্থি নিঃসরণ ঘটানো |
ইন্টারনিউরন (Interneuron / Relay Neuron) | CNS-এর মধ্যে সংবেদী ও মোটর নিউরনের মাঝে সংযোগ করে | তথ্য প্রক্রিয়াকরণ ও সিদ্ধান্ত গ্রহণ |
নিউরোগ্লিয়া (Neuroglia / Glial Cells)
নিউরনের পাশাপাশি স্নায়ু কলায় নিউরোগ্লিয়া (Neuroglia) বা গ্লিয়াল কোষ থাকে। এরা তড়িৎ সংকেত তৈরি করে না — কিন্তু নিউরনকে সহায়তা, পুষ্টি ও সুরক্ষা দেয়।
গ্লিয়া কোষের প্রকার | কাজ |
অ্যাস্ট্রোসাইট (Astrocyte) | রক্ত-মস্তিষ্ক বাধা (Blood-Brain Barrier) গঠন করে; পুষ্টি সরবরাহ |
অলিগোডেন্ড্রোসাইট (Oligodendrocyte) | CNS-এ মায়েলিন আবরণ তৈরি করে |
শোয়ান কোষ (Schwann Cell) | PNS-এ মায়েলিন আবরণ তৈরি করে |
মাইক্রোগ্লিয়া (Microglia) | ম্যাক্রোফেজের মতো কাজ করে; জীবাণু ও মৃত কোষ ধ্বংস করে |
এপেন্ডাইমাল কোষ (Ependymal Cell) | মেরুদণ্ডীয় গহ্বরের আবরণ; সেরিব্রোস্পাইনাল ফ্লুইড তৈরি করে |
গুরুত্বপূর্ণ তথ্য | বিবরণ |
সবচেয়ে বড় কোষ | নিউরন (Neuron) |
নিউরনের বিভাজন ক্ষমতা | সাধারণত বিভাজনে অক্ষম — ক্ষতিগ্রস্ত হলে পুনরুৎপাদন হয় না (PNS-এ সামান্য সম্ভব) |
সবচেয়ে বড় স্নায়ু | ভেগাস স্নায়ু (Vagus Nerve) |
সবচেয়ে দীর্ঘ স্নায়ু | সায়াটিক স্নায়ু (Sciatic Nerve) |
করোটি স্নায়ু (Cranial Nerve) | ১২ জোড়া = ২৪টি |
সুষুম্না স্নায়ু (Spinal Nerve) | ৩১ জোড়া = ৬২টি |
রিফ্লেক্স আর্ক নিয়ন্ত্রণ | সুষুম্নাকাণ্ড (Spinal Cord) — মস্তিষ্ক জড়িত নয় |
সিন্যাপ্সের নিউরোট্রান্সমিটার | অ্যাসিটাইলকোলিন, ডোপামিন, সেরোটোনিন, নোরএপিনেফ্রিন |
মস্তিষ্কের মোট কোষ সংখ্যা (আনুমানিক) | ১০,০০০ মিলিয়ন (১ হাজার কোটি) |
★ স্নায়ু কলা মনে রাখার ট্রিক "নিউরনের তিন অংশ: D-C-A" → Dendrite (গ্রহণ) → Cell Body (প্রক্রিয়া) → Axon (প্রেরণ) "সংবেদী = সংকেত ঢোকে CNS-এ | মোটর = সংকেত বেরোয় CNS থেকে" → Afferent = Arrives | Efferent = Exits "মায়েলিন = দ্রুত পথ" → মায়েলিনযুক্ত স্নায়ু অনেক দ্রুত সংকেত পাঠায় র্যানভিয়ের নোড = লাফ দেওয়ার স্থান → Saltatory (ল্যাটিন: Saltare = লাফ) Conduction |
সতর্কতা (Common Mistakes / Caution) নিউরন বিভাজনে অক্ষম — কিন্তু পেশিকোষও নবায়নে সীমাবদ্ধ (Satellite Cell দিয়ে) মায়েলিন শিথ: CNS-এ = অলিগোডেন্ড্রোসাইট | PNS-এ = শোয়ান কোষ — এ দুটি গুলিয়ে ফেলবেন না "সিন্যাপ্স" একটি ফাঁক — এখানে সরাসরি বৈদ্যুতিক সংকেত যায় না, নিউরোট্রান্সমিটার দিয়ে যায় |
টপিক ৬ | চার ধরনের টিস্যুর তুলনামূলক মাস্টার চার্ট |
বৈশিষ্ট্য | আবরণী কলা | যোজক কলা | পেশি কলা | স্নায়ু কলা |
প্রধান কাজ | আবরণ, নিঃসরণ, শোষণ | সংযোগ, সহায়তা, পরিবহন | সংকোচন, গতি তৈরি | সংকেত পরিবহন, সমন্বয় |
কোষের মাঝে উপাদান | অতি সামান্য বা নেই | প্রচুর ম্যাট্রিক্স আছে | মায়োফিলামেন্ট | নিউরোপিল (তন্তু ও গ্লিয়া) |
রক্তনালি | নেই (Avascular) | সাধারণত আছে | আছে | আছে |
পুনরুৎপাদন | বেশি | মাঝারি | সীমিত | অত্যন্ত সীমিত (নিউরনে নেই) |
প্রধান কোষ | এপিথেলিয়াল কোষ | ফাইব্রোব্লাস্ট, কন্ড্রোসাইট, অস্টিওসাইট | মায়োসাইট (পেশিতন্তু) | নিউরন + নিউরোগ্লিয়া |
উদাহরণ | ত্বক, অন্ত্রের আবরণ, গ্রন্থি | হাড়, তরুণাস্থি, রক্ত, চর্বি | হৃদপেশি, কঙ্কাল পেশি | মস্তিষ্ক, সুষুম্নাকাণ্ড |
ভ্রূণীয় উৎস | Ectoderm, Mesoderm, Endoderm | Mesoderm (মূলত) | Mesoderm | Ectoderm |
টপিক ৭ | রক্তের রোগ, রক্তের গ্রুপ ও গুরুত্বপূর্ণ তথ্য |
রক্তের রোগসমূহ — পরীক্ষায় বারবার আসে
রোগের নাম | কারণ | বৈশিষ্ট্য |
অ্যানিমিয়া (Anaemia) | লোহা বা ভিটামিন B₁₂ এর অভাব; রক্তক্ষরণ | RBC বা হিমোগ্লোবিন কমে যাওয়া; ক্লান্তি, ফ্যাকাশে |
ম্যালেরিয়া (Malaria) | Plasmodium পরজীবী; Anopheles মশার দ্বারা | RBC ধ্বংস হয়; জ্বর, শীত লাগে |
লিউকেমিয়া (Leukaemia) | ক্যান্সার | WBC অনিয়ন্ত্রিতভাবে বৃদ্ধি পায় |
লিউকোপেনিয়া (Leucopenia) | ভাইরাস সংক্রমণ, বিকিরণ | WBC কমে যাওয়া; রোগ প্রতিরোধ কমে |
পলিসাইথেমিয়া (Polycythaemia) | অস্থিমজ্জার অতিক্রিয়া | RBC অতিরিক্ত বেশি |
থ্যালাসেমিয়া (Thalassaemia) | বংশগত — হিমোগ্লোবিনের ত্রুটি | হিমোগ্লোবিন অস্বাভাবিক; রক্তস্বল্পতা |
পারপুরা (Purpura) | অণুচক্রিকা কমে যাওয়া | ত্বকে বেগুনি দাগ; রক্তক্ষরণ বন্ধ হয় না |
হিমোফিলিয়া (Haemophilia) | বংশগত — ক্লটিং ফ্যাক্টর ত্রুটি | রক্ত জমাট বাঁধে না; পুরুষেই বেশি দেখা যায় |
রক্তের গ্রুপ ও আরএইচ ফ্যাক্টর
রক্তের গ্রুপ | অ্যান্টিজেন (RBC-তে) | অ্যান্টিবডি (প্লাজমায়) | কাকে রক্ত দিতে পারে | কার কাছ থেকে রক্ত নিতে পারে |
A | A অ্যান্টিজেন | Anti-B অ্যান্টিবডি | A ও AB | A ও O |
B | B অ্যান্টিজেন | Anti-A অ্যান্টিবডি | B ও AB | B ও O |
AB | A ও B উভয় অ্যান্টিজেন | কোনো অ্যান্টিবডি নেই | শুধু AB | A, B, AB, O (সার্বজনীন গ্রহীতা) |
O | কোনো অ্যান্টিজেন নেই | Anti-A ও Anti-B | A, B, AB, O (সার্বজনীন দাতা) | শুধু O |
রক্তের গ্রুপ আবিষ্কার করেন: কার্ল ল্যান্ডস্টেইনার (Karl Landsteiner), ১৯০১ সালে
ABO রক্তের শ্রেণিবিভাগ করেন: কার্ল ল্যান্ডস্টেইনার
Rh ফ্যাক্টর আবিষ্কার করেন: ল্যান্ডস্টেইনার ও উইনার (Landsteiner & Wiener)
Rh+ (positive): Rh অ্যান্টিজেন আছে | Rh- (negative): Rh অ্যান্টিজেন নেই
সার্বজনীন দাতা: O নেগেটিভ | সার্বজনীন গ্রহীতা: AB পজিটিভ
টপিক ৮ | মনে রাখার ট্রিক ও নেমোনিক |
★ চার ধরনের টিস্যু মনে রাখুন "আযোপস্না" → আবরণী + যোজক + পেশি + স্নায়ু = ৪ ধরনের অ্যানিম্যাল টিস্যু ইংরেজিতে: "ECMN" → Epithelial + Connective + Muscular + Nervous |
★ আবরণী কলার উপবিভাগ মনে রাখুন "স্ক-কিউ-কল-সিলি" = Squamous (চ্যাপ্টা) + Cuboidal (ঘনক) + Columnar (লম্বা) + Ciliated "স্কোয়ামাস" → চ্যাপ্টা মেঝের টাইলস → রক্তনালি ও অ্যালভিওলি "কিউবয়েড" → ছোট ঘনক → কিডনির নালিকা "কলামার" → লম্বা থাম → পাকস্থলী ও অন্ত্র "ট্রানজিশনাল" → মূত্রথলি (প্রসারিত হয়) → পরিবর্তনশীল আকৃতি |
★ যোজক কলার টিস্যু মনে রাখুন "রক্ত = যোজক কলা" — কারণ রক্তে কোষ + ম্যাট্রিক্স (প্লাজমা) উভয়ই আছে "টেন্ডন = পেশি থেকে হাড়" (T for Tendon = পেশি Ties হাড়ে) "লিগামেন্ট = হাড় থেকে হাড়" (L for Link = হাড়কে হাড়ের সাথে Link করে) "তরুণাস্থি H-F-E" → Hyaline (নাক, ট্র্যাকিয়া) + Fibro (মেরুদণ্ড) + Elastic (কান) |
★ পেশি কলার প্রকারভেদ "স্কে-মস-হৃদ" → কঙ্কাল (ঐচ্ছিক) + মসৃণ (অনৈচ্ছিক) + হৃদপেশি (অনৈচ্ছিক) Cardiac Muscle-এর UNIQUE বৈশিষ্ট্য = Intercalated Disc — শুধু হৃদপেশিতেই থাকে "মায়োটোম" মনে রাখুন: মাছের দেহে বিশেষ পেশি — চলনে ব্যবহৃত |
★ স্নায়ু কলা মনে রাখুন "D-C-A" = Dendrite (receive) → Cell body (process) → Axon (transmit) "Afferent = Arrive to CNS" (সংবেদী) | "Efferent = Exit from CNS" (মোটর) "র্যানভিয়ের = র্যান করার জায়গা" (লাফ দেওয়া = Saltatory Conduction) "মায়েলিন তৈরি করে: PNS-এ Schwann (শোয়ান) | CNS-এ Oligodendrocyte (Oligo = কম শাখা)" |
টপিক ৯ | প্রশ্ন ও উত্তর |
প্রশ্ন 1: প্রাণীদেহে টিস্যু কত প্রকার?
উত্তর: ৪ প্রকার: আবরণী কলা, যোজক কলা, পেশি কলা ও স্নায়ু কলা।
প্রশ্ন 2: টিস্যু অধ্যয়নের বিজ্ঞানকে কী বলে? টিস্যুর জনক কে?
উত্তর: হিস্টোলজি (Histology)। জনক: মেরি ফ্রাঁসোয়া জেভিয়ার বিশা (Marie François Xavier Bichat)।
প্রশ্ন 3: রক্ত কোন ধরনের কলা?
উত্তর: যোজক কলা (Connective Tissue) — কারণ রক্তে কোষ ও তরল ম্যাট্রিক্স (প্লাজমা) আছে।
প্রশ্ন 4: সরল স্কোয়ামাস এপিথেলিয়াম কোথায় পাওয়া যায়?
উত্তর: রক্তনালির অন্তঃআবরণ (এন্ডোথেলিয়াম) ও ফুসফুসের অ্যালভিওলির আবরণে।
প্রশ্ন 5: মূত্রথলিতে কোন আবরণী কলা থাকে?
উত্তর: ট্রানজিশনাল এপিথেলিয়াম (Transitional Epithelium) — প্রসারিত হতে পারে।
প্রশ্ন 6: আবরণী কলার বিশেষ বৈশিষ্ট্য কী?
উত্তর: অ্যাভাসকুলার (Avascular) — রক্তনালি নেই; কিন্তু পুনরুৎপাদন ক্ষমতা বেশি।
প্রশ্ন 7: তরুণাস্থি কত প্রকার? নাম কী?
উত্তর: তিন প্রকার: হায়ালিন (Hyaline), ফাইব্রোকার্টিলেজ (Fibrocartilage) ও ইলাস্টিক (Elastic)।
প্রশ্ন 8: কানের বাইরের অংশে কোন ধরনের তরুণাস্থি থাকে?
উত্তর: ইলাস্টিক তরুণাস্থি (Elastic Cartilage)।
প্রশ্ন 9: মেরুদণ্ডের ইন্টারভার্টিব্রাল ডিস্কে কোন তরুণাস্থি থাকে?
উত্তর: ফাইব্রোকার্টিলেজ (Fibrocartilage) — সবচেয়ে শক্ত তরুণাস্থি।
প্রশ্ন 10: অস্থিকোষ কয় ধরনের? কী কী?
উত্তর: তিন ধরনের: অস্টিওব্লাস্ট (নতুন হাড় তৈরি করে), অস্টিওক্লাস্ট (পুরনো হাড় ভাঙে), অস্টিওসাইট (পরিপক্ক হাড়কোষ)।
প্রশ্ন 11: টেন্ডন ও লিগামেন্টের পার্থক্য কী?
উত্তর: টেন্ডন: পেশি ও হাড় সংযুক্ত করে | লিগামেন্ট: হাড় ও হাড় সংযুক্ত করে।
প্রশ্ন 12: কঙ্কাল পেশি ও মসৃণ পেশির পার্থক্য কী?
উত্তর: কঙ্কাল পেশি: ঐচ্ছিক, রেখাযুক্ত | মসৃণ পেশি: অনৈচ্ছিক, রেখাবিহীন (মাকুআকৃতি কোষ)।
প্রশ্ন 13: হৃদপেশির অনন্য বৈশিষ্ট্য কী?
উত্তর: ইন্টারক্যালেটেড ডিস্ক (Intercalated Disc) — শুধু হৃদপেশিতেই থাকে; হৃদপেশি কখনো ক্লান্ত হয় না।
প্রশ্ন 14: রিগোর মর্টিস কী? কেন হয়?
উত্তর: মৃত্যুর পর পেশি শক্ত হয়ে যাওয়া। কারণ: ATP কমে যাওয়ায় অ্যাক্টিন ও মায়োসিন আলাদা হতে পারে না।
প্রশ্ন 15: মাছের দেহে বিশেষ পেশির নাম কী?
উত্তর: মায়োটোম (Myotome) — মাছের চলনে ব্যবহৃত পেশি।
প্রশ্ন 16: নিউরনের কোন অংশ সংকেত গ্রহণ করে? কোন অংশ পাঠায়?
উত্তর: সংকেত গ্রহণ: ডেনড্রাইট (Dendrite) | সংকেত পাঠানো: অ্যাক্সন (Axon)।
প্রশ্ন 17: নিউরনের বর্তিত অংশকে কী বলে?
উত্তর: অ্যাক্সন (Axon)।
প্রশ্ন 18: স্নায়ু কলার দুটি প্রধান উপাদান কী?
উত্তর: নিউরন (Neuron) এবং নিউরোগ্লিয়া (Neuroglia)।
প্রশ্ন 19: সংবেদী ও মোটর নিউরনের পার্থক্য কী?
উত্তর: সংবেদী (Afferent): সংবেদী অর্গান → CNS | মোটর (Efferent): CNS → পেশি/গ্রন্থি।
প্রশ্ন 20: CNS-এ মায়েলিন শিথ তৈরি করে কোন কোষ? PNS-এ?
উত্তর: CNS-এ: অলিগোডেন্ড্রোসাইট | PNS-এ: শোয়ান কোষ (Schwann Cell)।
প্রশ্ন 21: রক্তের সার্বজনীন দাতা ও গ্রহীতার গ্রুপ কী?
উত্তর: সার্বজনীন দাতা: O নেগেটিভ | সার্বজনীন গ্রহীতা: AB পজিটিভ।
প্রশ্ন 22: রক্তের গ্রুপ আবিষ্কার করেন কে?
উত্তর: কার্ল ল্যান্ডস্টেইনার (Karl Landsteiner), ১৯০১ সালে।
প্রশ্ন 23: উটের RBC কী কারণে বিশেষ?
উত্তর: উটের লোহিত রক্তকণিকায় নিউক্লিয়াস আছে — অন্য স্তন্যপায়ীর নেই।
প্রশ্ন 24: থ্যালাসেমিয়া কী ধরনের রোগ?
উত্তর: বংশগত রোগ (Genetic Disease) — হিমোগ্লোবিনের ত্রুটির কারণে রক্তস্বল্পতা হয়।
প্রশ্ন 25: হিমোফিলিয়া কী? এটি কাদের বেশি হয়?
উত্তর: রক্ত জমাট না বাঁধার বংশগত রোগ। পুরুষে বেশি হয় (X-linked রোগ)।
প্রশ্ন 26: লোহিত রক্তকণিকা (RBC) কোথায় তৈরি হয়? আয়ু কত?
উত্তর: অস্থিমজ্জায় তৈরি হয়। আয়ু ১২০ দিন।
প্রশ্ন 27: প্লেটলেট (অণুচক্রিকা) কী কাজ করে?
উত্তর: রক্ত জমাট বাঁধতে সাহায্য করে। নিউক্লিয়াসবিহীন এবং সবচেয়ে ছোট রক্তকোষ।
প্রশ্ন 28: আকৃতি, অবস্থান ও কাজের প্রকৃতিভেদে আবরণী টিস্যু কত ধরনের?
উত্তর: ৩ ধরনের — সরল স্কোয়ামাস, সরল কিউবয়েড, সরল কলামার (সরল আবরণী হিসেবে)।
প্রশ্ন 29: পেশি কলার কোষকে কী বলা হয়?
উত্তর: মায়োসাইট (Myocyte) বা পেশিতন্তু (Muscle Fiber)।
প্রশ্ন 30: রক্তে লোহিত ও শ্বেত রক্তকণিকার অনুপাত কত?
উত্তর: ৫০০ : ১ (প্রতি ৫০০টি RBC-তে ১টি WBC)।
প্রশ্ন 31: শ্বেত রক্তকণিকাকে "রক্তের প্রহরী" কেন বলা হয়?
উত্তর: কারণ WBC রোগ প্রতিরোধ করে — জীবাণু ও বিদেশী পদার্থ ধ্বংস করে।
প্রশ্ন 32: কোন স্নায়ু দেহের সবচেয়ে দীর্ঘ?
উত্তর: সায়াটিক স্নায়ু (Sciatic Nerve) — মেরুদণ্ড থেকে পায়ের আঙুল পর্যন্ত।
প্রশ্ন 33: কোন স্নায়ু দেহের সবচেয়ে বড় (বৃহৎ)?
উত্তর: ভেগাস স্নায়ু (Vagus Nerve)।
প্রশ্ন 34: রিফ্লেক্স ক্রিয়া কোথায় নিয়ন্ত্রিত হয়?
উত্তর: সুষুম্নাকাণ্ডে (Spinal Cord) — মস্তিষ্ক জড়িত থাকে না।
বিশেষ নোট: পরীক্ষার আগে শেষ মুহূর্তের রিভিশন ৪ ধরনের টিস্যু: আবরণী (Epithelial) + যোজক (Connective) + পেশি (Muscular) + স্নায়ু (Nervous) রক্ত = যোজক কলা | আবরণী কলা = অ্যাভাসকুলার (রক্তনালিবিহীন) তরুণাস্থি: হায়ালিন (নাক) + ফাইব্রো (মেরুদণ্ড) + ইলাস্টিক (কান) অস্থিকোষ: Osteoblast (তৈরি) + Osteoclast (ভাঙে) + Osteocyte (থাকে) পেশি: কঙ্কাল (ঐচ্ছিক, রেখাযুক্ত) + মসৃণ (অনৈচ্ছিক, রেখাবিহীন) + হৃদ (অনৈচ্ছিক, রেখাযুক্ত, ইন্টারক্যালেটেড ডিস্ক) নিউরন: Dendrite (গ্রহণ) → Cell Body → Axon (পাঠানো) সার্বজনীন দাতা = O⁻ | সার্বজনীন গ্রহীতা = AB⁺ | আবিষ্কারক: কার্ল ল্যান্ডস্টেইনার রিগোর মর্টিস = মৃত্যুর পর পেশি শক্ত হওয়া; কারণ: ATP কমে যাওয়া |