আলোর বিচ্ছুরণ
Dispersion of Light
সাদা আলো (White Light) আসলে একটি মিশ্র আলো। এতে বেগুনি থেকে লাল পর্যন্ত সাত রঙের আলো মিলেমিশে আছে। যখন এই মিশ্র আলো কোনো প্রতিসারক মাধ্যম (যেমন প্রিজম বা বৃষ্টির জলকণা) এর মধ্য দিয়ে যায়, তখন ভিন্ন বর্ণের আলো ভিন্ন কোণে বাঁকে — ফলে রঙগুলো আলাদা হয়ে পড়ে। এই ঘটনাকেই বলা হয় আলোর বিচ্ছুরণ (Dispersion of Light)।
বিচ্ছুরণ কেন ঘটে? কারণ প্রতিটি বর্ণের আলোর তরঙ্গদৈর্ঘ্য (Wavelength) আলাদা, তাই প্রতিটি বর্ণের প্রতিসরাঙ্কও (Refractive Index) ভিন্ন। বেগুনি আলোর তরঙ্গদৈর্ঘ্য সবচেয়ে কম ⇒ প্রতিসরাঙ্ক সবচেয়ে বেশি ⇒ সবচেয়ে বেশি বাঁকে। লাল আলোর তরঙ্গদৈর্ঘ্য সবচেয়ে বেশি ⇒ প্রতিসরাঙ্ক সবচেয়ে কম ⇒ সবচেয়ে কম বাঁকে।
📌 মূল সংজ্ঞাসমূহ: বিচ্ছুরণ (Dispersion): প্রিজমের মতো কোনো প্রতিসারক মাধ্যমের ভেতর দিয়ে যাওয়ার ফলে মিশ্র (বহুবর্ণী) আলো বিভক্ত হয়ে একাধিক একবর্ণী আলো উৎপন্ন হওয়াকে বিচ্ছুরণ বলে। বর্ণালী (Spectrum): বিচ্ছুরণের ফলে উৎপন্ন রঙের পটিকে বর্ণালী বলে। শুদ্ধ বর্ণালী (Pure Spectrum): যে বর্ণালীতে উপাদান বর্ণগুলো স্পষ্টভাবে একে অপর থেকে আলাদা করা যায়। অশুদ্ধ বর্ণালী (Impure Spectrum): যে বর্ণালীতে উপাদান বর্ণগুলো একে অন্যের ওপর আচ্ছাদিত — আলাদা করা যায় না। (উদা: রামধনু) |
② প্রিজম ও বিচ্ছুরণ (Prism & Dispersion)
প্রিজম (Prism) কী?
প্রিজম হলো একটি স্বচ্ছ কাচের তৈরি ত্রিভুজাকার বস্তু যার দুটি প্রতিসারক তল (Refracting Surface) রয়েছে। সাদা আলো প্রিজমের ভেতর দিয়ে গেলে বিচ্ছুরিত হয়ে সাত রঙে বিভক্ত হয়।
প্রিজমে বিচ্ছুরণের ধাপ: ধাপ ১: আলো প্রিজমের প্রথম তলে আঘাত করে প্রতিসরিত হয় (বাঁকে)। ধাপ ২: বিভিন্ন বর্ণ বিভিন্ন কোণে বাঁকে — বেগুনি সবচেয়ে বেশি, লাল সবচেয়ে কম। ধাপ ৩: দ্বিতীয় তলে বের হওয়ার সময় আবার প্রতিসরণ হয় — রঙের পার্থক্য আরও বাড়ে। ফলাফল: VIBGYOR ক্রমে সাত রঙের বর্ণালী তৈরি হয়। |
বর্ণ | তরঙ্গদৈর্ঘ্য (nm) | প্রতিসরাঙ্ক | বিচ্যুতি কোণ | পর্যবেক্ষণ |
বেগুনি (Violet) | 380–430 | সর্বোচ্চ | সর্বোচ্চ | সবচেয়ে বেশি বাঁকে |
আসমানি (Indigo) | 430–440 | — | — | — |
নীল (Blue) | 440–500 | — | — | — |
সবুজ (Green) | 500–565 | মধ্যম | মধ্যম | মধ্য বর্ণ |
হলুদ (Yellow) | 565–590 | — | — | মধ্য বর্ণ |
কমলা (Orange) | 590–625 | — | — | — |
লাল (Red) | 625–740 | সর্বনিম্ন | সর্বনিম্ন | সবচেয়ে কম বাঁকে |
বিচ্যুতি কোণ (Angle of Deviation): δ = (μ−1)A μ = প্রতিসরাঙ্ক, A = প্রিজমের শীর্ষ কোণ | বেগুনির δ সর্বোচ্চ, লালের δ সর্বনিম্ন |
③ নিউটনের পরীক্ষা (Newton's Experiment — 1666)
স্যার আইজ্যাক নিউটন ১৬৬৬ সালে একটি ঐতিহাসিক পরীক্ষা করেন:
নিউটনের পরীক্ষার ধাপ: পরীক্ষা ১: সাদা আলো একটি প্রিজমের ভেতর দিয়ে পাঠালে পর্দায় সাত রঙের বর্ণালী তৈরি হয়। পরীক্ষা ২: বর্ণালীর যেকোনো একটি রং (যেমন লাল) আরেকটি প্রিজমের ভেতর দিয়ে পাঠালে আর বিচ্ছুরণ হয় না — শুধু বাঁক খায়। পরীক্ষা ৩: দুটি প্রিজম বিপরীতমুখীভাবে রাখলে বর্ণালী পুনরায় সাদা আলোতে পরিণত হয়। উপসংহার: সাদা আলো সাত রঙের মিশ্রণ। রঙগুলো একবর্ণী — আর ভাঙে না। |
📌 নিউটনের গুরুত্বপূর্ণ আবিষ্কার: আলো সাতটি বর্ণের সমষ্টি — এটি প্রমাণ করেন নিউটন (১৬৬৬)। প্রিজম আলোর রং পরিবর্তন করে না, শুধু আলাদা করে। বিপরীতমুখী দুই প্রিজম দিয়ে সাদা আলো পুনরুদ্ধার করা যায়। একবর্ণী আলো (Monochromatic Light) আর বিচ্ছুরিত হয় না। |
④ রামধনু (Rainbow) — প্রকৃতির বিচ্ছুরণ
রামধনু তৈরির প্রক্রিয়া:
বৃষ্টির পর বাতাসে ভাসমান ক্ষুদ্র গোলাকার জলকণাগুলো প্রিজমের মতো কাজ করে। সূর্যের সাদা আলো এই জলকণায় তিনটি ধাপে বিচ্ছুরিত হয়:
রামধনু তৈরির তিনটি ধাপ: ধাপ ১ — প্রবেশের সময় প্রতিসরণ (Refraction on entry): আলো জলকণায় প্রবেশের সময় বাঁকে এবং বিভিন্ন বর্ণে বিচ্ছুরিত হয়। ধাপ ২ — পূর্ণ অভ্যন্তরীণ প্রতিফলন (Total Internal Reflection): জলকণার পেছনের দিকে আলো পূর্ণ প্রতিফলিত হয়। ধাপ ৩ — বের হওয়ার সময় প্রতিসরণ (Refraction on exit): বের হওয়ার সময় আবার প্রতিসরণ হয়, রঙগুলো আরও আলাদা হয়। |
বৈশিষ্ট্য | বিবরণ |
বর্ণালীর ধরন | অশুদ্ধ বর্ণালী (Impure Spectrum) — রঙগুলো পরস্পরের উপর পড়ে |
আবিষ্কারক | স্যার আইজ্যাক নিউটন (১৬৬৬) |
কখন দেখা যায় | বৃষ্টির পর — সূর্যের বিপরীত দিকে তাকালে |
প্রক্রিয়া | প্রতিসরণ + পূর্ণ অভ্যন্তরীণ প্রতিফলন + প্রতিসরণ |
রঙের ক্রম (বাইরে → ভেতরে) | লাল → কমলা → হলুদ → সবুজ → নীল → আসমানি → বেগুনি |
মুখ্য রামধনু (Primary) | একবার প্রতিফলন — বাইরে লাল, ভেতরে বেগুনি |
গৌণ রামধনু (Secondary) | দুইবার প্রতিফলন — ক্রম উলটো, ম্লান রং |
⑤ বর্ণালীর প্রকারভেদ (Types of Spectra)
১. নির্গমন বর্ণালী (Emission Spectrum):
উত্তপ্ত বস্তু থেকে নির্গত আলোর বর্ণালী। তিন ধরনের:
✦ ক) অবিচ্ছিন্ন বর্ণালী (Continuous Spectrum): কঠিন ও তরল পদার্থ উত্তপ্ত হলে — লাল থেকে বেগুনি পর্যন্ত সমস্ত তরঙ্গদৈর্ঘ্য।
✦ খ) রেখা বর্ণালী (Line Spectrum): গ্যাসীয় পদার্থ উত্তপ্ত হলে — নির্দিষ্ট কয়েকটি তরঙ্গদৈর্ঘ্যে উজ্জ্বল রেখা। প্রতিটি মৌলের নিজস্ব স্বতন্ত্র রেখা বর্ণালী আছে।
✦ গ) ব্যান্ড বর্ণালী (Band Spectrum): যৌগিক পদার্থের গ্যাস — আলোকিত ব্যান্ড দেখা যায়।
২. শোষণ বর্ণালী (Absorption Spectrum):
সাদা আলো ঠান্ডা গ্যাসের ভেতর দিয়ে গেলে গ্যাস নির্দিষ্ট তরঙ্গদৈর্ঘ্য শোষণ করে — বর্ণালীতে কালো রেখা দেখা যায়। সৌর বর্ণালীতে এই কালো রেখাকে বলা হয় ফ্রনহফার রেখা (Fraunhofer Lines)।
📌 সৌর বর্ণালী ও ফ্রনহফার রেখা: সূর্যের আলো পৃথিবীর বায়ুমণ্ডলে আসার পথে বিভিন্ন গ্যাস নির্দিষ্ট তরঙ্গদৈর্ঘ্য শোষণ করে। ফলে সৌর বর্ণালীতে কালো রেখা (শোষণ রেখা) দেখা যায় — এগুলোকে ফ্রনহফার রেখা বলে। এই রেখা বিশ্লেষণ করে সূর্যের বায়ুমণ্ডলে বিভিন্ন মৌলের উপস্থিতি জানা যায়। হিলিয়াম (He) প্রথমে সূর্যে আবিষ্কার হয় — পৃথিবীতে পাওয়ার আগেই। |
⑥ বিচ্ছুরণের বাস্তব প্রয়োগ (Real-Life Applications)
প্রয়োগক্ষেত্র | ব্যাখ্যা |
রামধনু (Rainbow) | বৃষ্টির জলকণায় বিচ্ছুরণ — প্রকৃতির সবচেয়ে সুন্দর উদাহরণ |
স্পেকট্রোস্কোপ (Spectroscope) | বর্ণালী পরীক্ষার যন্ত্র — মৌল শনাক্তকরণে ব্যবহৃত |
সাবানের বুদবুদ | সাবান ফিল্মে আলোর ব্যতিচারে (Interference) রঙিন দেখায় — বিচ্ছুরণ নয়, তবে প্রায়ই বিভ্রান্তি হয় |
জলের উপর তেলের রং | আলোর ব্যতিচার ধর্মের কারণে রঙিন দেখায় |
হীরার রঙিন ঝলক | হীরার উচ্চ প্রতিসরাঙ্কের কারণে বিচ্ছুরণ বেশি — বর্ণালী তৈরি হয় |
জ্যোতির্বিদ্যা (Astronomy) | নক্ষত্রের বর্ণালী বিশ্লেষণে মৌল, তাপমাত্রা, গতি নির্ণয় করা হয় |
স্পেকট্রোফটোমিটার | রাসায়নিক বিশ্লেষণে নমুনার গঠন নির্ধারণে ব্যবহৃত |
⑦ গুরুত্বপূর্ণ বিষয় (Key Takeaways)
✦ আলোর বিচ্ছুরণ ঘটে কারণ বিভিন্ন বর্ণের আলোর তরঙ্গদৈর্ঘ্য ও প্রতিসরাঙ্ক ভিন্ন।
✦ প্রিজমের প্রতিসারক তলের সংখ্যা = ২টি।
✦ বেগুনি আলো সবচেয়ে বেশি বাঁকে (সর্বোচ্চ বিচ্যুতি কোণ)।
✦ লাল আলো সবচেয়ে কম বাঁকে (সর্বনিম্ন বিচ্যুতি কোণ)।
✦ সাদা আলোর বর্ণালীতে মধ্য বর্ণ = হলুদ।
✦ নিউটন ১৬৬৬ সালে প্রিজম দিয়ে সাদা আলোর বিচ্ছুরণ প্রমাণ করেন।
✦ রামধনু হলো অশুদ্ধ বর্ণালীর উদাহরণ।
✦ রামধনুতে তিনটি ধাপ: প্রতিসরণ → পূর্ণ অভ্যন্তরীণ প্রতিফলন → প্রতিসরণ।
✦ রামধনু সূর্যের বিপরীত দিকে দেখা যায়।
✦ হিলিয়াম প্রথমে সূর্যের বর্ণালী বিশ্লেষণে আবিষ্কার হয়।
✦ সৌর বর্ণালীতে কালো রেখাকে ফ্রনহফার রেখা বলে।
✦ একবর্ণী (Monochromatic) আলো প্রিজমে বিচ্ছুরিত হয় না, শুধু বাঁকে।
✦ হীরার চকচকে ভাব — উচ্চ প্রতিসরাঙ্ক + পূর্ণ অভ্যন্তরীণ প্রতিফলন + বিচ্ছুরণ।
✦ বিচ্যুতি কোণ সূত্র: δ = (μ−1)A।
⑧ পরীক্ষার জন্য সম্ভাব্য (Exam Potential)
টপিক | বিসিএস | ভর্তি পরীক্ষা | প্রশ্নের ধরন |
নিউটনের আবিষ্কার | ★★★★★ | ★★★★★ | কে, কত সালে, কী প্রমাণ করেন |
রামধনু — ধাপ ও বৈশিষ্ট্য | ★★★★★ | ★★★★★ | শুদ্ধ/অশুদ্ধ, ধাপ, কখন দেখা যায় |
VIBGYOR ক্রম | ★★★★★ | ★★★★★ | ক্ষুদ্রতম/বৃহত্তম, মধ্যম বর্ণ |
প্রিজমের প্রতিসারক তল | ★★★★☆ | ★★★★☆ | সংখ্যা = ২ |
ফ্রনহফার রেখা | ★★★★☆ | ★★★★☆ | কোথায়, কেন কালো |
হীরার ঝলক | ★★★★☆ | ★★★★☆ | কারণ ব্যাখ্যা |
একবর্ণী আলো | ★★★★☆ | ★★★★★ | বিচ্ছুরিত হয় না |
⑨ মনে রাখার ট্রিক ও নেমোনিক (Tricks & Mnemonics)
🎯 ট্রিক ১: VIBGYOR ছন্দ — 'বেআনীসহকলা' V = Violet (বেগুনি) I = Indigo (আসমানি) B = Blue (নীল) G = Green (সবুজ) Y = Yellow (হলুদ) O = Orange (কমলা) R = Red (লাল) সংক্ষেপ: 'বেআনীসহকলা' — ৭ অক্ষর = ৭ রং তরঙ্গদৈর্ঘ্য: বেগুনি (কম) → লাল (বেশি) | বাঁক: বেগুনি (বেশি) → লাল (কম) |
🎯 ট্রিক ২: রামধনুর ধাপ — 'প-প্র-প' = তিনটি ঘটনা প = প্রতিসরণ (প্রবেশের সময়) প্র = পূর্ণ অভ্যন্তরীণ প্রতিফলন (জলকণার ভেতরে) প = প্রতিসরণ (বের হওয়ার সময়) মনে রাখো: রামধনুতে তিনটি আলোক ঘটনা ঘটে |
🎯 ট্রিক ৩: নিউটনের পরীক্ষা মনে রাখো ১৬৬৬ সালে → নিউটন → প্রিজম → সাদা আলো ভেঙে ৭ রং একটাই তথ্য যথেষ্ট: '১৬৬৬ সালে নিউটন প্রিজম দিয়ে বিচ্ছুরণ প্রমাণ করেন' |
🎯 ট্রিক ৪: প্রতিসরাঙ্ক ও বিচ্যুতি একই দিকে বেগুনি: সর্বোচ্চ প্রতিসরাঙ্ক → সর্বোচ্চ বিচ্যুতি → সবচেয়ে বেশি বাঁকে লাল: সর্বনিম্ন প্রতিসরাঙ্ক → সর্বনিম্ন বিচ্যুতি → সবচেয়ে কম বাঁকে সহজ কথা: ছোট তরঙ্গ = বেশি বাঁক = বেশি প্রতিসরাঙ্ক |
⑩ বিশেষ নোট (Special Notes)
💡 বিশেষ নোট ১: বিচ্ছুরণ বনাম বিচ্ছুরণ ছাড়া প্রতিসরণ একবর্ণী আলো (Monochromatic Light) যেমন সোডিয়ামের হলুদ আলো প্রিজমে বিচ্ছুরিত হয় না — শুধু বাঁক খায়। সাদা আলো (White Light = Polychromatic) প্রিজমে বিচ্ছুরিত হয়। LASER আলো একবর্ণী — তাই প্রিজমে বিচ্ছুরিত হয় না। |
💡 বিশেষ নোট ২: সাবানের বুদবুদ কেন রঙিন? সাবানের বুদবুদ বিচ্ছুরণের কারণে নয় — ব্যতিচার (Interference) ধর্মের কারণে রঙিন দেখায়। পরীক্ষায় এটি প্রায়ই ফাঁদ প্রশ্ন হিসেবে আসে। একইভাবে জলের উপর তেল বা পেট্রোলের রঙিন ছবিও ব্যতিচারের কারণে। |
💡 বিশেষ নোট ৩: হিলিয়ামের আবিষ্কার হিলিয়াম (Helium) প্রথমে পৃথিবীতে নয়, সূর্যের বর্ণালী বিশ্লেষণের মাধ্যমে আবিষ্কার হয়। সূর্যের গ্রিক নাম 'Helios' থেকে Helium নামকরণ। পরে পৃথিবীতেও হিলিয়াম পাওয়া যায়। |
💡 বিশেষ নোট ৪: প্রাথমিক ও গৌণ রামধনু প্রাথমিক রামধনু (Primary Rainbow): একবার পূর্ণ অভ্যন্তরীণ প্রতিফলন — বেশি উজ্জ্বল। গৌণ রামধনু (Secondary Rainbow): দুইবার পূর্ণ অভ্যন্তরীণ প্রতিফলন — কম উজ্জ্বল। গৌণ রামধনুতে রঙের ক্রম প্রাথমিকের বিপরীত। দুটো রামধনু একসাথে কখনো কখনো দেখা যায়। |
⑪ সতর্কতা — সাধারণ ভুল (Common Mistakes)
⚠ ভুল ১: রামধনু = শুদ্ধ বর্ণালী মনে করা রামধনু হলো অশুদ্ধ বর্ণালী (Impure Spectrum) — শুদ্ধ নয়। কারণ: জলকণাগুলো বিভিন্ন আকারের, তাই রঙের সীমানা স্পষ্ট নয়। |
⚠ ভুল ২: বিচ্ছুরণ = বিক্ষেপণ মনে করা বিচ্ছুরণ (Dispersion): প্রতিসরণের ফলে রঙ আলাদা হওয়া — প্রিজমে। বিক্ষেপণ (Scattering): আলো কণার সাথে সংঘর্ষে ছড়িয়ে পড়া — আকাশের নীল রং। দুটো সম্পূর্ণ আলাদা ঘটনা — গুলিয়ে ফেললে নম্বর কাটা যাবে। |
⚠ ভুল ৩: সাবানের বুদবুদ = বিচ্ছুরণ মনে করা সাবানের বুদবুদের রঙ → ব্যতিচার (Interference), বিচ্ছুরণ নয়। তেলের পাতলা ফিল্মের রঙ → ব্যতিচার (Interference)। পরীক্ষায় ফাঁদ প্রশ্ন হিসেবে প্রায়ই আসে। |
⚠ ভুল ৪: নিউটনের আবিষ্কারের সাল ভুল লেখা নিউটনের বিচ্ছুরণ পরীক্ষা: ১৬৬৬ সাল — এটি মনে রাখুন। এই সালটি পরীক্ষায় বারবার আসে। |
⑫ প্রশ্ন
প্রশ্ন: আলোর বিচ্ছুরণ কাকে বলে? উত্তর: মিশ্র আলো প্রতিসারক মাধ্যমে বিভক্ত হয়ে একাধিক একবর্ণী আলো উৎপন্ন হওয়াকে বিচ্ছুরণ বলে |
প্রশ্ন: আলো সাতটি বর্ণের সমষ্টি — এটি কে কত সালে প্রমাণ করেন? উত্তর: স্যার আইজ্যাক নিউটন, ১৬৬৬ সালে |
প্রশ্ন: দৃশ্যমান বর্ণালীর ক্ষুদ্রতম তরঙ্গদৈর্ঘ্যের আলো কোনটি? উত্তর: বেগুনি (Violet) |
প্রশ্ন: দৃশ্যমান বর্ণালীর বৃহত্তম তরঙ্গদৈর্ঘ্যের আলো কোনটি? উত্তর: লাল (Red |
প্রশ্ন: সাদা আলোর বর্ণালীতে মধ্য বর্ণ কোনটি? উত্তর: হলুদ (Yellow) |
প্রশ্ন: প্রিজমে কোন বর্ণের আলো সবচেয়ে বেশি বাঁকে? উত্তর: বেগুনি (Violet) আলো |
প্রশ্ন: প্রিজমে কোন বর্ণের আলো সবচেয়ে কম বাঁকে? উত্তর: লাল (Red) আলো |
প্রশ্ন: প্রিজমের প্রতিসারক তলের সংখ্যা কয়টি? উত্তর: ২টি |
প্রশ্ন: রামধনু কোন ধরনের বর্ণালীর উদাহরণ? উত্তর: অশুদ্ধ বর্ণালী (Impure Spectrum) |
প্রশ্ন: রামধনু তৈরিতে কয়টি আলোক ঘটনা ঘটে এবং কী কী? উত্তর: তিনটি — প্রতিসরণ + পূর্ণ অভ্যন্তরীণ প্রতিফলন + প্রতিসরণ |
প্রশ্ন: রামধনু কোথায় দেখা যায়? উত্তর: সূর্যের বিপরীত দিকে — বৃষ্টির পর |
প্রশ্ন: সৌর বর্ণালীতে কালো রেখাকে কী বলে? উত্তর: ফ্রনহফার রেখা (Fraunhofer Lines) |
প্রশ্ন: কোন মৌলটি পৃথিবীতে পাওয়ার আগেই সূর্যে আবিষ্কার হয়? উত্তর: হিলিয়াম (Helium) |
প্রশ্ন: একবর্ণী আলো প্রিজমে কী হয়? উত্তর: বিচ্ছুরিত হয় না, শুধু বাঁক খায় |
প্রশ্ন: সাবানের বুদবুদ রঙিন দেখায় কেন? উত্তর: আলোর ব্যতিচার (Interference) ধর্মের কারণে — বিচ্ছুরণ নয় |
প্রশ্ন: জলের উপর তেলের পাতলা স্তর রঙিন দেখায় কেন? উত্তর: আলোর ব্যতিচার (Interference) ধর্মের কারণে |
প্রশ্ন: বিচ্ছুরণ ও বিক্ষেপণের পার্থক্য কী? উত্তর: বিচ্ছুরণ = প্রতিসরণে রঙ আলাদা (প্রিজম); বিক্ষেপণ = কণার সাথে সংঘর্ষে আলো ছড়ানো (আকাশের নীল রং) |
প্রশ্ন: হীরা কেন চকচক করে ও রঙিন দেখায়? উত্তর: উচ্চ প্রতিসরাঙ্কে পূর্ণ অভ্যন্তরীণ প্রতিফলন ও বিচ্ছুরণের সমন্বয়ে |
প্রশ্ন: প্রাথমিক রামধনু ও গৌণ রামধনুর পার্থক্য কী? উত্তর: প্রাথমিক: একবার প্রতিফলন, উজ্জ্বল। গৌণ: দুইবার প্রতিফলন, ম্লান, রঙ উলটো ক্রমে |
প্রশ্ন: বিচ্যুতি কোণের সূত্র কী? উত্তর: δ = (μ−1)A যেখানে μ = প্রতিসরাঙ্ক, A = প্রিজমের শীর্ষ কোণ |
প্রশ্ন: নিউটন প্রমাণ করেন যে সাদা আলো কীভাবে পুনরুদ্ধার করা যায়? উত্তর: দুটি বিপরীতমুখী প্রিজম ব্যবহার করে |
প্রশ্ন: কোন বর্ণের আলোর প্রতিসরাঙ্ক সবচেয়ে বেশি? উত্তর: বেগুনি (Violet) বর্ণের |
প্রশ্ন: কোন বর্ণের আলোর প্রতিসরাঙ্ক সবচেয়ে কম? উত্তর: লাল (Red) বর্ণের |
প্রশ্ন: অবিচ্ছিন্ন বর্ণালী কোন ধরনের বস্তু থেকে পাওয়া যায়? উত্তর: উত্তপ্ত কঠিন ও তরল পদার্থ থেকে |
প্রশ্ন: রেখা বর্ণালী কোন ধরনের পদার্থ থেকে পাওয়া যায়? উত্তর: উত্তপ্ত গ্যাসীয় পদার্থ থেকে |