ইমুনাইজেশন ও ভ্যাক্সিনেশন
Immunization & Vaccination
①
মানবদেহে রোগজীবাণু প্রবেশ করলে শরীর নিজেকে রক্ষা করার জন্য একটি প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা চালু করে — এই ব্যবস্থাটিকে বলা হয় রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা (Immunity)। যখন কৃত্রিমভাবে নিরাপদ মাত্রায় জীবাণু বা তার উপাদান প্রয়োগ করে শরীরকে প্রস্তুত করা হয়, তখন সেটাকে বলা হয় ইমুনাইজেশন (Immunization) বা টিকাদান।
ভ্যাক্সিন (Vaccine) হলো একটি জৈবিক প্রস্তুতি যাতে মৃত, দুর্বল বা নিষ্ক্রিয় জীবাণু, বা তাদের প্রোটিন বা টক্সয়েড থাকে। এটি শরীরে প্রবেশ করালে ইমিউন সিস্টেম অ্যান্টিবডি (Antibody) তৈরি করে এবং ভবিষ্যতে ওই জীবাণু আক্রমণ করলে দ্রুত প্রতিক্রিয়া দিতে পারে।
📌 গুরুত্বপূর্ণ সংজ্ঞা: অ্যান্টিজেন (Antigen): বিদেশী পদার্থ বা জীবাণু যা শরীরে প্রবেশ করে ইমিউন প্রতিক্রিয়া উদ্দীপিত করে। অ্যান্টিবডি (Antibody): শ্বেতকণিকা কর্তৃক উৎপাদিত প্রোটিন যা অ্যান্টিজেনকে নিরপদ করে। ইমুনাইজেশন (Immunization): কৃত্রিম উপায়ে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা তৈরি করার প্রক্রিয়া। ভ্যাক্সিনেশন (Vaccination): ভ্যাক্সিন প্রয়োগ করার প্রক্রিয়া। এটি ইমুনাইজেশনের একটি পদ্ধতি। ইনফেকশন (Infection): জীবাণু দ্বারা শরীর আক্রান্ত হওয়া। ইন্টারফেরন (Interferon): কোষ নিঃসৃত রাসায়নিক পদার্থ যা ভাইরাসের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায়। |
② রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতার প্রকারভেদ (Types of Immunity)
ইমিউনিটির ধরন | উৎপত্তি | বৈশিষ্ট্য | উদাহরণ |
সহজাত (Innate) | জন্মগত | দ্রুত, অনির্দিষ্ট | চামড়া, শ্লেষ্মা, জ্বর |
অর্জিত (Acquired) | পরে অর্জিত | নির্দিষ্ট জীবাণুর বিরুদ্ধে | ভ্যাক্সিন, সংক্রমণ পরবর্তী |
সক্রিয় (Active) | নিজ শরীর তৈরি করে | দীর্ঘস্থায়ী | টিকা বা রোগ ভোগ |
নিষ্ক্রিয় (Passive) | বাইরে থেকে পাওয়া | স্বল্পস্থায়ী | মায়ের দুধ, অ্যান্টিসেরাম |
প্রাকৃতিক (Natural) | স্বাভাবিকভাবে | কোনো কৃত্রিম হস্তক্ষেপ নেই | রোগ ভোগের পর |
কৃত্রিম (Artificial) | মানুষের হস্তক্ষেপে | ভ্যাক্সিন প্রয়োগ | বিসিজি, ওপিভি, হেপাটাইটিস |
③ ভ্যাক্সিনের ইতিহাস ও আবিষ্কারক (History of Vaccines)
ভ্যাক্সিনের ইতিহাস শুরু হয় এডওয়ার্ড জেনারের (Edward Jenner) একটি সাহসী পর্যবেক্ষণ থেকে। তিনি লক্ষ্য করেন যে গরুর বসন্তে (Cowpox) আক্রান্ত দুধেল মহিলারা মানবিক বসন্ত (Smallpox) থেকে রক্ষা পাচ্ছেন। ১৭৯৬ সালে তিনি প্রথম ভ্যাক্সিন আবিষ্কার করেন।
বিজ্ঞানীর নাম | আবিষ্কার / অবদান | সাল | বিশেষ তথ্য |
এডওয়ার্ড জেনার (E. Jenner) | গুটিবসন্তের ভ্যাক্সিন (Smallpox Vaccine) | ১৭৯৬ | প্রথম ভ্যাক্সিন আবিষ্কারক |
লুই পাস্তুর (Louis Pasteur) | জলাতঙ্ক ভ্যাক্সিন (Rabies Vaccine) | ১৮৮৫ | জীবাণুতত্ত্বের জনক |
লুই পাস্তুর | অ্যান্থ্রাক্স ভ্যাক্সিন | ১৮৮১ | — |
রবার্ট কক (Robert Koch) | কলেরার জীবাণু আবিষ্কার | ১৮৮৩ | — |
জোনাস সক (Jonas Salk) | পোলিও ভ্যাক্সিন (Killed) | ১৯৫৫ | প্রথম পোলিও ভ্যাক্সিন |
অ্যালবার্ট সেবিন (A. Sabin) | ওরাল পোলিও ভ্যাক্সিন (OPV) | ১৯৬১ | মুখে খাওয়ার পোলিও |
আলেকজান্ডার ফ্লেমিং | পেনিসিলিন আবিষ্কার | ১৯২৮ | প্রথম অ্যান্টিবায়োটিক |
ইলায়া মেচনিকফ | ফ্যাগোসাইটোসিস তত্ত্ব | ১৮৮২ | শ্বেত রক্তকণিকার ভূমিকা |
📌 মনে রাখার গুরুত্বপূর্ণ তথ্য: প্রথম ভ্যাক্সিন → এডওয়ার্ড জেনার → গুটিবসন্ত → ১৭৯৬ সাল জলাতঙ্ক ভ্যাক্সিন → লুই পাস্তুর → ১৮৮৫ সাল পেনিসিলিন → আলেকজান্ডার ফ্লেমিং → ১৯২৮ সাল (প্রথম অ্যান্টিবায়োটিক) ওরাল পোলিও ভ্যাক্সিন (OPV) → অ্যালবার্ট সেবিন → মুখে খাওয়ানো হয় |
④ রোগ ও রোগজীবাণু (Diseases & Pathogens)
ভাইরাসজনিত রোগ (Viral Diseases):
রোগের নাম | জীবাণুর ধরন | বিশেষ তথ্য |
গুটিবসন্ত (Smallpox) | ভাইরাস | ভ্যাক্সিনে বিশ্ব থেকে নির্মূল (১৯৮০) |
পোলিও (Polio) | ভাইরাস | OPV / IPV টিকায় নির্মূলযোগ্য |
জলাতঙ্ক (Rabies) | ভাইরাস | কামড়ের পরেও ভ্যাক্সিন কার্যকর |
হাম (Measles) | ভাইরাস | MR/MMR ভ্যাক্সিনে প্রতিরোধ |
মাম্পস (Mumps) | ভাইরাস | MMR ভ্যাক্সিনে প্রতিরোধ |
হেপাটাইটিস B | DNA ভাইরাস | হেপাটাইটিস B ভ্যাক্সিন আছে |
এইডস (AIDS) | HIV (RNA ভাইরাস) | Acquired Immune Deficiency Syndrome |
ইনফ্লুয়েঞ্জা (Influenza) | ভাইরাস | প্রতি বছর নতুন স্ট্রেইন |
করোনা (COVID-19) | SARS-CoV-2 ভাইরাস | RNA ভাইরাস — mRNA ভ্যাক্সিন |
ব্যাকটেরিয়াজনিত রোগ (Bacterial Diseases):
রোগের নাম | জীবাণুর ধরন | বিশেষ তথ্য |
যক্ষ্মা (Tuberculosis) | ব্যাকটেরিয়া | BCG ভ্যাক্সিনে প্রতিরোধ |
কলেরা (Cholera) | ব্যাকটেরিয়া (দণ্ডাকার জীবাণু) | কলেরা ভ্যাক্সিন আছে |
ডিফথেরিয়া | ব্যাকটেরিয়া | DPT ভ্যাক্সিনে প্রতিরোধ |
ধনুষ্টংকার (Tetanus) | ব্যাকটেরিয়া | TT ভ্যাক্সিনে প্রতিরোধ |
হুপিং কাশি (Pertussis) | ব্যাকটেরিয়া | DPT ভ্যাক্সিনে প্রতিরোধ |
টাইফয়েড (Typhoid) | ব্যাকটেরিয়া (দণ্ডাকার) | Typhoid ভ্যাক্সিন আছে |
কুষ্ঠ (Leprosy) | ব্যাকটেরিয়া | BCG আংশিক সুরক্ষা দেয় |
নিউমোনিয়া | ব্যাকটেরিয়া | ফুসফুসে হয় |
⑤ গুরুত্বপূর্ণ টিকা ও সময়সূচি (Vaccines & Schedule)
🇧🇩 বাংলাদেশের সম্প্রসারিত টিকাদান কর্মসূচি (EPI — Expanded Programme on Immunization): BCG (Bacillus Calmette-Guérin): যক্ষ্মা প্রতিরোধ — জন্মের সময় OPV (Oral Polio Vaccine): পোলিও প্রতিরোধ — মুখে খাওয়ানো হয় DPT (Diphtheria, Pertussis, Tetanus): তিন রোগের সমন্বিত টিকা Hepatitis B: লিভার প্রদাহ প্রতিরোধ Hib (Haemophilus influenzae type b): মেনিনজাইটিস প্রতিরোধ MR (Measles & Rubella): হাম ও রুবেলা প্রতিরোধ — ৯ মাসে PCV (Pneumococcal Conjugate Vaccine): নিউমোনিয়া প্রতিরোধ Tetanus Toxoid (TT): গর্ভবতী মায়েদের জন্য ধনুষ্টংকার প্রতিরোধ |
ভ্যাক্সিনের নাম | প্রতিরোধকৃত রোগ | বিশেষ তথ্য |
BCG | যক্ষ্মা (Tuberculosis) | কুষ্ঠে আংশিক সুরক্ষা দেয় |
OPV | পোলিও | মুখে খাওয়ানো — অ্যালবার্ট সেবিন আবিষ্কার |
IPV | পোলিও | ইনজেকশন — জোনাস সক আবিষ্কার |
DPT | ডিফথেরিয়া + হুপিং কাশি + ধনুষ্টংকার | তিন রোগের সমন্বিত ভ্যাক্সিন |
MMR | হাম + মাম্পস + রুবেলা | তিনটি ভাইরাসের বিরুদ্ধে |
Hepatitis B | হেপাটাইটিস বি | DNA ভাইরাসজনিত রোগ |
Rabies | জলাতঙ্ক | কামড়ের পরেও দেওয়া যায় |
Smallpox (বসন্ত) | গুটিবসন্ত | ১৯৮০ সালে বিশ্ব থেকে নির্মূল |
Typhoid | টাইফয়েড | দণ্ডাকার ব্যাকটেরিয়া |
COVID-19 (mRNA) | করোনাভাইরাস | নতুন প্রজন্মের ভ্যাক্সিন |
⑥ ভ্যাক্সিন কীভাবে কাজ করে (Mechanism of Action)
ভ্যাক্সিন দেওয়ার পর শরীরে যা ঘটে:
ভ্যাক্সিনের কার্যপ্রণালী — ৪টি ধাপ: ধাপ ১ — অ্যান্টিজেন সনাক্তকরণ: ভ্যাক্সিনের দুর্বল/নিষ্ক্রিয় জীবাণু বা প্রোটিন শরীরে প্রবেশ করে। ইমিউন সিস্টেম এটিকে 'বিদেশী' হিসেবে চিহ্নিত করে। ধাপ ২ — অ্যান্টিবডি উৎপাদন: শ্বেত রক্তকণিকা (B-lymphocyte) নির্দিষ্ট অ্যান্টিবডি তৈরি করে যা ওই জীবাণুকে নিরপদ করতে পারে। ধাপ ৩ — মেমোরি কোষ গঠন: কিছু বিশেষ কোষ (Memory Cells) তৈরি হয় যা ভবিষ্যতে ওই জীবাণু আক্রমণ করলে তা মনে রাখে। ধাপ ৪ — দ্রুত প্রতিক্রিয়া: ভবিষ্যতে প্রকৃত জীবাণু আক্রমণ করলে মেমোরি কোষ দ্রুত বিশাল পরিমাণ অ্যান্টিবডি তৈরি করে — রোগ থেকে সুরক্ষা দেয়। |
ভ্যাক্সিনের প্রকারভেদ (Types of Vaccines):
ভ্যাক্সিনের ধরন | বৈশিষ্ট্য | উদাহরণ |
জীবিত দুর্বল (Live Attenuated) | দুর্বল জীবাণু — শক্তিশালী ইমিউনিটি | BCG, OPV, MMR |
নিহত/নিষ্ক্রিয় (Killed/Inactivated) | মৃত জীবাণু — নিরাপদ | IPV, Rabies, Hepatitis A |
টক্সয়েড (Toxoid) | নিষ্ক্রিয় টক্সিন | Tetanus (TT), Diphtheria |
উপইউনিট (Subunit) | জীবাণুর নির্দিষ্ট অংশ | Hepatitis B, Pertussis |
mRNA ভ্যাক্সিন | জিনগত নির্দেশ প্রেরণ | Pfizer/Moderna (COVID-19) |
⑦ গুরুত্বপূর্ণ পরিভাষা ও তথ্য (Key Terms & Facts)
✦ AIDS = Acquired Immune Deficiency Syndrome | HIV = Human Immunodeficiency Virus।
✦ HIV হলো RNA ভাইরাস (Retrovirus) — এটি CD4+ T কোষ আক্রমণ করে।
✦ ইন্টারফেরন (Interferon) হলো কোষ নিঃসৃত ছোট প্রোটিনের সমষ্টি যা শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায় — ক্যান্সার নিয়ন্ত্রণের প্রাথমিক পদক্ষেপ হিসেবে ইন্টারফেরন প্রয়োগ করা হয়।
✦ পেনিসিলিন আবিষ্কার করেন আলেকজান্ডার ফ্লেমিং — ১৯২৮ সালে।
✦ জলাতঙ্ক ভ্যাক্সিন তৈরি করেন লুই পাস্তুর — ১৮৮৫ সালে।
✦ প্রথম ভ্যাক্সিন (গুটিবসন্ত) আবিষ্কার করেন এডওয়ার্ড জেনার — ১৭৯৬ সালে।
✦ ওরাল পোলিও ভ্যাক্সিন (OPV) — অ্যালবার্ট সেবিন (Albert Sabin)।
✦ ইনজেকশন পোলিও ভ্যাক্সিন (IPV) — জোনাস সক (Jonas Salk), ১৯৫৫।
✦ গুটিবসন্ত ১৯৮০ সালে বিশ্ব থেকে সম্পূর্ণ নির্মূল হয় — WHO ঘোষণা।
✦ টাইফয়েড জীবাণুর আকৃতি দণ্ডাকার।
✦ কলেরার জীবাণুর আকৃতি কমাকৃতি।
✦ নিউমোনিয়ার জীবাণুর আকৃতি গোলাকার।
✦ DPT ভ্যাক্সিন একসাথে ডিফথেরিয়া, হুপিং কাশি ও ধনুষ্টংকার থেকে রক্ষা করে।
✦ মায়ের বুকের দুধ (Mother's Milk) — নিষ্ক্রিয় স্বাভাবিক ইমিউনিটি দেয় শিশুকে।
✦ ক্যাপসিড (Capsid) হলো ভাইরাসের প্রোটিন দিয়ে তৈরি আবরণ।
✦ হার্ড ইমিউনিটি (Herd Immunity): জনগোষ্ঠীর একটি বড় অংশ (৬০–৯০%) ইমিউন হলে রোগের বিস্তার থামে।
⑧ পরীক্ষার জন্য সম্ভাব্য (Exam Potential)
টপিক | বিসিএস | ভর্তি পরীক্ষা | প্রশ্নের ধরন |
এডওয়ার্ড জেনার ও প্রথম ভ্যাক্সিন | ★★★★★ | ★★★★★ | কে, কী, কত সালে |
পেনিসিলিন আবিষ্কার | ★★★★★ | ★★★★★ | ফ্লেমিং, ১৯২৮ |
AIDS/HIV | ★★★★★ | ★★★★★ | পূর্ণরূপ, ভাইরাসের ধরন |
ভাইরাসজনিত রোগ তালিকা | ★★★★★ | ★★★★★ | কোনটি ভাইরাস, কোনটি ব্যাকটেরিয়া |
ইন্টারফেরন | ★★★★☆ | ★★★★☆ | সংজ্ঞা, কাজ |
পোলিও ভ্যাক্সিন | ★★★★☆ | ★★★★★ | সক vs সেবিন |
জলাতঙ্ক ভ্যাক্সিন | ★★★★☆ | ★★★★☆ | পাস্তুর, ১৮৮৫ |
BCG ভ্যাক্সিন | ★★★★☆ | ★★★★☆ | যক্ষ্মা, BCG মানে কী |
রোগজীবাণুর আকৃতি | ★★★★☆ | ★★★★★ | কলেরা কমা, টাইফয়েড দণ্ড |
⑨ মনে রাখার ট্রিক ও নেমোনিক (Tricks & Mnemonics)
🎯 ট্রিক ১: প্রথম ভ্যাক্সিন মনে রাখো — 'জেনার জেতার আগে' জেনার (Jenner) → জেতার আগে = ১৭৯৬ সাল গুটিবসন্ত (Smallpox) → প্রথম ভ্যাক্সিন → এডওয়ার্ড জেনার মনে রাখো: 'জেনার ১৭৯৬-এ বসন্ত জয় করেন' |
🎯 ট্রিক ২: ভাইরাসজনিত রোগ — 'হাম-পোলিও-জলাতঙ্ক-বসন্ত-এইডস-হেপাটাইটিস' ভাইরাস রোগ: হাম, মাম্পস, পোলিও, জলাতঙ্ক, গুটিবসন্ত, AIDS, হেপাটাইটিস, ইনফ্লুয়েঞ্জা সহজ ছন্দ: 'হাপো জবসাইহে' = হাম+পোলিও+জলাতঙ্ক+বসন্ত+AIDS+হেপাটাইটিস |
🎯 ট্রিক ৩: ব্যাকটেরিয়া রোগ — 'কট-ডিকু-যনি' কলেরা, টাইফয়েড, ডিফথেরিয়া, কুষ্ঠ, যক্ষ্মা, নিউমোনিয়া সংক্ষেপ: 'কট-ডিকু-যনি' — ৬টি রোগ |
🎯 ট্রিক ৪: DPT = ৩ রোগ মনে রাখো D = Diphtheria (ডিফথেরিয়া) P = Pertussis (হুপিং কাশি) T = Tetanus (ধনুষ্টংকার) একটি ভ্যাক্সিন, তিনটি রোগ থেকে মুক্তি |
🎯 ট্রিক ৫: HIV মনে রাখো H = Human, I = Immunodeficiency, V = Virus A = Acquired, I = Immune, D = Deficiency, S = Syndrome HIV → AIDS → RNA ভাইরাস → Retrovirus |
⑩ বিশেষ নোট (Special Notes)
💡 বিশেষ নোট ১: গুটিবসন্তের নির্মূল গুটিবসন্ত (Smallpox) ১৯৮০ সালে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (WHO) বিশ্ব থেকে নির্মূল ঘোষণা করে। এটি একমাত্র মানব রোগ যা ভ্যাক্সিনের মাধ্যমে সম্পূর্ণ নির্মূল হয়েছে। গুটিবসন্তের ভাইরাস এখন শুধুমাত্র দুটি গবেষণাগারে সংরক্ষিত: রাশিয়া ও আমেরিকায়। |
💡 বিশেষ নোট ২: BCG ভ্যাক্সিন BCG = Bacillus Calmette-Guérin — যক্ষ্মার বিরুদ্ধে ব্যবহৃত। কুষ্ঠ রোগের বিরুদ্ধেও BCG আংশিক সুরক্ষা দেয়। জন্মের সময় বা জন্মের ৬ সপ্তাহের মধ্যে দেওয়া হয়। বাম হাতের উপরাংশে দেওয়া হয় — একটি ছোট দাগ থাকে। |
💡 বিশেষ নোট ৩: পেনিসিলিন ও অ্যান্টিবায়োটিক পেনিসিলিন আবিষ্কার করেন আলেকজান্ডার ফ্লেমিং (Alexander Fleming) — ১৯২৮ সালে। এটি প্রথম অ্যান্টিবায়োটিক — ব্যাকটেরিয়াজনিত রোগে ব্যবহৃত। পেনিসিলিন Penicillium নামক ছত্রাক থেকে পাওয়া যায়। অ্যান্টিবায়োটিক ভাইরাসের বিরুদ্ধে কাজ করে না। |
💡 বিশেষ নোট ৪: ইন্টারফেরন (Interferon) ইন্টারফেরন হলো ছোট ছোট অনেকগুলো প্রোটিনের সমষ্টি যা দেহের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায়। ভাইরাস সংক্রমিত কোষ থেকে ইন্টারফেরন নিঃসৃত হয়। ক্যান্সার নিয়ন্ত্রণের প্রাথমিক পদক্ষেপ হিসেবে ইন্টারফেরন প্রয়োগ করা হয়। এটি ভাইরাসের বিরুদ্ধে শরীরের প্রথম প্রতিরক্ষা। |
💡 বিশেষ নোট ৫: পোলিও দুই ধরনের ভ্যাক্সিন OPV (Oral Polio Vaccine) = মুখে খাওয়ানো → আলবার্ট সেবিন → ১৯৬১। IPV (Inactivated Polio Vaccine) = ইনজেকশন → জোনাস সক → ১৯৫৫। OPV-তে জীবিত দুর্বল ভাইরাস, IPV-তে মৃত ভাইরাস। বাংলাদেশের EPI কর্মসূচিতে OPV ব্যবহৃত হয়। |
⑪ সতর্কতা — সাধারণ ভুল (Common Mistakes)
⚠ ভুল ১: ভাইরাস ও ব্যাকটেরিয়া রোগ গুলিয়ে ফেলা হাম (Measles) = ভাইরাস — অনেকে ব্যাকটেরিয়া মনে করেন। কলেরা = ব্যাকটেরিয়া (কমাকৃতি) — ভাইরাস নয়। হেপাটাইটিস B = DNA ভাইরাস, হেপাটাইটিস C = RNA ভাইরাস। |
⚠ ভুল ২: HIV/AIDS তথ্যে ভুল HIV = RNA ভাইরাস (Retrovirus) — DNA ভাইরাস নয়। AIDS মানে রোগটি নয়, রোগের অবস্থা (Syndrome)। HIV পজিটিভ মানেই AIDS নয় — HIV ধীরে ধীরে AIDS-এ পরিণত হয়। |
⚠ ভুল ৩: অ্যান্টিবায়োটিক ও ভ্যাক্সিন গুলিয়ে ফেলা অ্যান্টিবায়োটিক = ব্যাকটেরিয়ার বিরুদ্ধে কাজ করে (ভাইরাসে নয়)। ভ্যাক্সিন = প্রতিরোধক, অ্যান্টিবায়োটিক = চিকিৎসক। ভাইরাল ফ্লু-তে অ্যান্টিবায়োটিক খাওয়া অকার্যকর ও ক্ষতিকর। |
⚠ ভুল ৪: BCG মানে শুধু যক্ষ্মা নয় BCG = Bacillus Calmette-Guérin — মূলত যক্ষ্মার জন্য। তবে কুষ্ঠ রোগের বিরুদ্ধেও আংশিক সুরক্ষা দেয় — এটি অনেকেই জানেন না। |
⑫ প্রশ্ন
প্রশ্ন: প্রথম ভ্যাক্সিন কে আবিষ্কার করেন এবং কোন রোগের জন্য? উত্তর: এডওয়ার্ড জেনার — গুটিবসন্ত (Smallpox), ১৭৯৬ সালে |
প্রশ্ন: পেনিসিলিন কে আবিষ্কার করেন এবং কত সালে? উত্তর: আলেকজান্ডার ফ্লেমিং — ১৯২৮ সালে |
প্রশ্ন: AIDS-এর পূর্ণরূপ কী? উত্তর: Acquired Immune Deficiency Syndrome |
প্রশ্ন: HIV-এর পূর্ণরূপ কী? উত্তর: Human Immunodeficiency Virus |
প্রশ্ন: HIV কোন ধরনের ভাইরাস? উত্তর: RNA ভাইরাস (Retrovirus) |
প্রশ্ন: জলাতঙ্কের ভ্যাক্সিন কে তৈরি করেন? উত্তর: লুই পাস্তুর (Louis Pasteur) — ১৮৮৫ সালে |
প্রশ্ন: ওরাল পোলিও ভ্যাক্সিন (OPV) কে আবিষ্কার করেন? উত্তর: অ্যালবার্ট সেবিন (Albert Sabin) — ১৯৬১ সালে |
প্রশ্ন: ইনজেকশন পোলিও ভ্যাক্সিন (IPV) কে আবিষ্কার করেন? উত্তর: জোনাস সক (Jonas Salk) — ১৯৫৫ সালে |
প্রশ্ন: গুটিবসন্ত কত সালে বিশ্ব থেকে নির্মূল হয়? উত্তর: ১৯৮০ সালে — WHO ঘোষণা করে |
প্রশ্ন: BCG ভ্যাক্সিনের পূর্ণরূপ কী? উত্তর: Bacillus Calmette-Guérin |
প্রশ্ন: BCG ভ্যাক্সিন কোন রোগ প্রতিরোধ করে? উত্তর: যক্ষ্মা (Tuberculosis) — কুষ্ঠেও আংশিক সুরক্ষা দেয় |
প্রশ্ন: DPT ভ্যাক্সিন কোন কোন রোগ প্রতিরোধ করে? উত্তর: ডিফথেরিয়া + হুপিং কাশি (Pertussis) + ধনুষ্টংকার (Tetanus) |
প্রশ্ন: ইন্টারফেরন কী? উত্তর: কোষ নিঃসৃত ছোট প্রোটিনের সমষ্টি যা শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায় |
প্রশ্ন: ক্যান্সার নিয়ন্ত্রণের প্রাথমিক পদক্ষেপ হিসেবে কী প্রয়োগ করা হয়? উত্তর: ইন্টারফেরন (Interferon) |
প্রশ্ন: ভাইরাসজনিত রোগগুলো কী কী? উত্তর: হাম, মাম্পস, পোলিও, জলাতঙ্ক, গুটিবসন্ত, AIDS, হেপাটাইটিস, ইনফ্লুয়েঞ্জা |
প্রশ্ন: ব্যাকটেরিয়াজনিত রোগগুলো কী কী? উত্তর: কলেরা, টাইফয়েড, কুষ্ঠ, যক্ষ্মা, ডিফথেরিয়া, নিউমোনিয়া |
প্রশ্ন: কলেরার জীবাণুর আকৃতি কেমন? উত্তর: কমাকৃতি (Comma-shaped) |
প্রশ্ন: টাইফয়েডের জীবাণুর আকৃতি কেমন? উত্তর: দণ্ডাকার (Rod-shaped) |
প্রশ্ন: নিউমোনিয়ার জীবাণুর আকৃতি কেমন? উত্তর: গোলাকার (Spherical) |
প্রশ্ন: হার্ড ইমিউনিটি কী? উত্তর: জনগোষ্ঠীর একটি বড় অংশ (৬০-৯০%) ইমিউন হলে রোগের বিস্তার থামে |
প্রশ্ন: মায়ের বুকের দুধ শিশুকে কোন ধরনের ইমিউনিটি দেয়? উত্তর: নিষ্ক্রিয় স্বাভাবিক ইমিউনিটি (Passive Natural Immunity) |
প্রশ্ন: অ্যান্টিবায়োটিক কোন ধরনের জীবাণুর বিরুদ্ধে কার্যকর? উত্তর: শুধু ব্যাকটেরিয়ার বিরুদ্ধে — ভাইরাসের বিরুদ্ধে কাজ করে না |
প্রশ্ন: ভ্যাক্সিনেশন ও ইমুনাইজেশনের পার্থক্য কী? উত্তর: ভ্যাক্সিনেশন = ভ্যাক্সিন প্রয়োগ। ইমুনাইজেশন = ইমিউন ক্ষমতা তৈরির বৃহত্তর প্রক্রিয়া (ভ্যাক্সিন এর একটি পদ্ধতি) |
প্রশ্ন: লুই পাস্তুরকে কী বলা হয়? উত্তর: জীবাণুতত্ত্বের জনক (Father of Microbiology) |
প্রশ্ন: পেনিসিলিন কোন ছত্রাক থেকে পাওয়া যায়? উত্তর: Penicillium ছত্রাক থেকে |
প্রশ্ন: Herd Immunity-তে কত শতাংশ মানুষ ইমিউন হতে হয়? উত্তর: ৬০ থেকে ৯০ শতাংশ (রোগের ধরন অনুযায়ী) |