স্থানীয়, আঞ্চলিক ও বৈশ্বিক প্রভাব ভূগোল, পরিবেশ ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ● অধ্যায় |
সারসংক্ষেপ
জলবায়ু পরিবর্তন ও পরিবেশগত পরিবর্তনের প্রভাব তিনটি ভৌগোলিক স্কেলে বিশ্লেষণ করা হয়: স্থানীয় (Local), যেমন গ্রাম, শহর বা ছোট বাস্তুতন্ত্র; আঞ্চলিক (Regional), যেমন দক্ষিণ এশিয়া, বঙ্গোপসাগর তীরবর্তী দেশ বা হিন্দুকুশ-হিমালয় (HKH) অঞ্চল; এবং বৈশ্বিক (Global), যেমন মেরু বরফ গলন, সমুদ্রপৃষ্ঠ বৃদ্ধি বা ওজোন স্তর ক্ষয়। প্রতিটি স্কেলে প্রভাবের প্রকৃতি, পরিমাণ ও প্রতিকার-কৌশল ভিন্ন এবং একে অন্যের সাথে পারস্পরিকভাবে যুক্ত। এই অধ্যায়ে তিনটি স্কেলকে আলাদাভাবে আলোচনা করার পর তাদের পারস্পরিক সংযোগ ও বাংলাদেশের অবস্থান বিশ্লেষণ করা হয়েছে।
প্রেক্ষাপট আলোচনা
IPCC AR6 প্রতিবেদন (২০২১-২০২৩) অনুযায়ী জলবায়ু পরিবর্তন একটি বৈশ্বিক ঘটনা হলেও এর প্রভাব ভৌগোলিক ও সামাজিকভাবে অসমভাবে বণ্টিত। বৈশ্বিক গড় তাপমাত্রা ১৮৫০-১৯০০ সালের তুলনায় ইতোমধ্যে ১.১° সেলসিয়াসের বেশি বৃদ্ধি পেয়েছে, কিন্তু আর্কটিক অঞ্চলে এই বৃদ্ধি তিনগুণেরও বেশি। সমুদ্রপৃষ্ঠ গত শতাব্দীতে গড়ে ২১-২৪ সেন্টিমিটার বেড়েছে, কিন্তু বাংলাদেশ ও মালদ্বীপের মতো নিম্ন উচ্চতার দেশগুলোতে এর আপেক্ষিক প্রভাব অনেক বেশি।
আঞ্চলিক স্তরে দক্ষিণ এশিয়া এক বিশেষ চ্যালেঞ্জের সম্মুখীন। হিন্দুকুশ-হিমালয় (HKH) অঞ্চল "পৃথিবীর তৃতীয় মেরু" নামে পরিচিত এবং এই অঞ্চলের হিমবাহ গলে গঙ্গা, ব্রহ্মপুত্র, সিন্ধু, মেকং সহ এশিয়ার দশটি প্রধান নদীর পানি সরবরাহ করে। ICIMOD-এর Hindu Kush Himalaya Assessment (২০১৯) অনুযায়ী, ১.৫° সেলসিয়াস বৃদ্ধিতেও HKH অঞ্চলে তাপমাত্রা ১.৮° সেলসিয়াস বাড়বে এবং শতাব্দী শেষে অন্তত দুই-তৃতীয়াংশ হিমবাহ গলে যাবে। এর প্রত্যক্ষ প্রভাব পড়বে দক্ষিণ এশিয়ার ১৬৫ কোটি মানুষের পানি, খাদ্য ও জীবিকার উপর।
স্থানীয় স্কেলে এই বৈশ্বিক ও আঞ্চলিক প্রবণতাগুলো নির্দিষ্ট গ্রাম, শহর বা বাস্তুতন্ত্রে আলাদা রূপ ধারণ করে। সাতক্ষীরার শ্যামনগরের একটি গ্রামে লবণাক্ততা যেভাবে পানীয় জলের সংকট তৈরি করে, ঢাকার মিরপুরে যেভাবে গ্রীষ্মে তাপদ্বীপ প্রভাব দেখা দেয়, কিংবা বান্দরবানের রুমা উপজেলায় যেভাবে আকস্মিক ভূমিধস ঘটে, এসবই স্থানীয় প্রকাশ। এই অধ্যায়ে তিনটি স্কেলকে স্বতন্ত্রভাবে বিশ্লেষণ করে প্রতিটির পারস্পরিক যোগসূত্র উপস্থাপন করা হয়েছে।
📘 স্কেল-ভিত্তিক প্রভাব সংজ্ঞা স্থানীয় প্রভাব (Local Impact): গ্রাম, ইউনিয়ন, উপজেলা, শহর বা ছোট বাস্তুতন্ত্রের স্তরে অনুভূত প্রভাব। সাধারণত মাইক্রো-জলবায়ু, স্থানীয় ভূমিরূপ ও জনগোষ্ঠীর জীবিকা নির্ভর। আঞ্চলিক প্রভাব (Regional Impact): একাধিক দেশ বা সাব-কন্টিনেন্টাল ভৌগোলিক অঞ্চলে যৌথভাবে অনুভূত প্রভাব। সাধারণত সীমান্ত-অতিক্রমী নদী, সমুদ্রস্রোত, পর্বতমালা বা যৌথ বাস্তুতন্ত্র জড়িত। বৈশ্বিক প্রভাব (Global Impact): পৃথিবীব্যাপী অনুভূত প্রভাব যা গ্রহের জলবায়ু ব্যবস্থা, সমুদ্রতল, বায়ুমণ্ডল ও জীববৈচিত্র্যের সামগ্রিক অবস্থাকে প্রভাবিত করে। |
তিনটি স্কেলের তুলনামূলক কাঠামো
প্রতিটি স্কেলের প্রভাব, কারণ ও প্রতিকার কৌশলের প্রকৃতি ভিন্ন। নিচের ছকে এই তিন স্তরের একটি তুলনামূলক চিত্র দেওয়া হলো যাতে প্রতিটি স্কেলের স্বাতন্ত্র্য এবং পারস্পরিক যোগসূত্র একনজরে বোঝা যায়।
বৈশিষ্ট্য | স্থানীয় (Local) | আঞ্চলিক (Regional) | বৈশ্বিক (Global) |
ভৌগোলিক পরিসর | গ্রাম, উপজেলা, শহর | একাধিক দেশ, সাব-কন্টিনেন্ট | সমগ্র পৃথিবী |
উদাহরণ এলাকা | শ্যামনগর, মিরপুর, রুমা | দক্ষিণ এশিয়া, HKH, বঙ্গোপসাগর | মেরু অঞ্চল, ট্রপোস্ফিয়ার |
প্রভাবের ধরন | লবণাক্ততা, তাপদ্বীপ, ভূমিধস | হিমবাহ গলন, মৌসুমি বায়ু ব্যাঘাত | উষ্ণায়ন, সমুদ্রপৃষ্ঠ বৃদ্ধি |
সময়কাল | মৌসুমি থেকে দশকীয় | দশকীয় থেকে শতাব্দীকাল | শতাব্দী থেকে সহস্রাব্দ |
সমাধানের পরিসর | অভিযোজন, কমিউনিটি | আঞ্চলিক চুক্তি, যৌথ ব্যবস্থা | UNFCCC, প্যারিস চুক্তি |
দায়িত্বশীল প্রতিষ্ঠান | ইউনিয়ন পরিষদ, পৌরসভা | SAARC, BIMSTEC, ICIMOD | UN, IPCC, UNEP, UNFCCC |
অর্থায়ন উৎস | বিসিসিটিএফ, স্থানীয় সরকার | এডিবি, বিশ্বব্যাংক আঞ্চলিক | GCF, Adaptation Fund, L&D |
বাংলাদেশের ভূমিকা | বাস্তবায়নকারী | অংশীদার ও আন্তর্জাতিক কণ্ঠ | CVF সভাপতি ২০২০-২০২২ |
স্থানীয় প্রভাব
বাংলাদেশের ভৌগোলিক বৈচিত্র্যের কারণে স্থানীয় স্কেলে জলবায়ু ও পরিবেশগত প্রভাবের প্রকাশ অঞ্চলভেদে ভিন্ন রূপ ধারণ করে। উপকূলীয় এলাকায় এটি প্রধানত লবণাক্ততা ও জলোচ্ছ্বাস; পার্বত্য অঞ্চলে ভূমিধস ও আকস্মিক বন্যা; বরেন্দ্র অঞ্চলে খরা ও ভূগর্ভস্থ পানির হ্রাস; এবং নগর এলাকায় তাপদ্বীপ ও বায়ুদূষণ। প্রতিটি স্থানীয় প্রভাব একটি নির্দিষ্ট ভৌগোলিক প্রক্রিয়া ও সামাজিক-অর্থনৈতিক বাস্তবতার সমন্বয়ে গঠিত।
উপকূলীয় স্থানীয় প্রভাব
সাতক্ষীরা, খুলনা, বাগেরহাট ও ভোলা জেলায় লবণাক্ততা সম্প্রসারণ বহুমাত্রিক স্থানীয় প্রভাব ফেলেছে। শ্যামনগর উপজেলায় ২০০৯ সালের আইলার পর গভীর নলকূপের পানিতে লবণাক্ততা ৫ থেকে ১৪ ডেসিসিমেন্স/মিটারে পৌঁছেছিল, যা পান-অযোগ্য পর্যায় ছাড়িয়ে গেছে (WHO পান-উপযোগী সীমা ০.৭৫ ডেসিসিমেন্স/মিটার)। স্থানীয় নারীদের প্রতিদিন ৪-৫ কিলোমিটার দূর থেকে পানি সংগ্রহ করতে হয়। ২০২৪ সালের রিমালের পর পার্শ্ববর্তী এলাকায় চিংড়ি ঘের ও ধানক্ষেত উভয়ই দীর্ঘমেয়াদি লবণাক্ততায় ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
পার্বত্য স্থানীয় প্রভাব
রাঙামাটি, বান্দরবান ও খাগড়াছড়িতে স্থানীয় ভূমিধস জলবায়ু পরিবর্তনের একটি দৃশ্যমান প্রভাব। ২০১৭ সালের ১৩ জুনের রাঙামাটি ভূমিধসে ১৫২ জন নিহত হন, যা ছিল দেশের ইতিহাসে সবচেয়ে প্রাণঘাতী ভূমিধসের ঘটনা। ২০২৪ সালের আগস্টে চট্টগ্রাম ও বান্দরবানে আকস্মিক বন্যা ও ভূমিধসে ৫৯ জন নিহত হন (DDM ২০২৪)। অপরিকল্পিত পাহাড় কর্তন, জুম চাষের পরিবর্তন এবং অস্বাভাবিক বৃষ্টিপাত এই স্থানীয় বিপর্যয়ের প্রধান কারণ।
নগর স্থানীয় প্রভাব: তাপদ্বীপ ও বায়ুদূষণ
শহুরে তাপদ্বীপ (Urban Heat Island, UHI) প্রভাবে ঢাকা মহানগরের কেন্দ্রস্থল গ্রামীণ আশেপাশের এলাকার তুলনায় গ্রীষ্মে ৪-৭° সেলসিয়াস উষ্ণ থাকে (BUET-UDR ২০২৩)। ২০২৪ সালের এপ্রিল-মে মাসে ঢাকায় তাপপ্রবাহ চলাকালে বহু এলাকায় বাস্তব অনুভূত তাপমাত্রা ৪৫° সেলসিয়াস ছাড়িয়েছিল। বায়ুদূষণ সূচকে (AQI) ঢাকা নিয়মিত বিশ্বের শীর্ষ পাঁচ দূষিত শহরের মধ্যে থাকে; IQAir ২০২৪ অনুযায়ী বাংলাদেশ বিশ্বের সবচেয়ে দূষিত বাতাসের দেশ। PM2.5-এর বার্ষিক গড় ঢাকায় WHO নির্দেশিকার ১৫ গুণ বেশি।
বরেন্দ্র স্থানীয় প্রভাব: খরা ও পানি সংকট
রাজশাহী, নওগাঁ, চাঁপাইনবাবগঞ্জ ও নাটোর জেলায় বরেন্দ্র অঞ্চলের ভূগর্ভস্থ পানির স্তর প্রতি বছর ০.৫ থেকে ১ মিটার নেমে যাচ্ছে (BMDA ২০২৩)। এই অঞ্চলের বার্ষিক গড় বৃষ্টিপাত দেশের সর্বনিম্ন এবং তাপমাত্রার চরম মান সর্বোচ্চ। ১৯৭২ সালে রাজশাহীতে রেকর্ডকৃত ৪৫.১° সেলসিয়াস তাপমাত্রা এখনো অপরিবর্তিত। স্থানীয় কৃষকরা বরেন্দ্র বহুমুখী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (BMDA) গভীর সেচ পাম্পের উপর নির্ভরশীল।
স্থানীয় অঞ্চল | প্রধান প্রভাব | প্রকাশের প্রকৃতি | প্রতিকার কৌশল |
উপকূলীয় গ্রাম | লবণাক্ততা, জলোচ্ছ্বাস | পানীয় জল সংকট, কৃষি ক্ষতি | লবণ-সহনশীল জাত, রেইনওয়াটার হার্ভেস্টিং |
পার্বত্য জনপদ | ভূমিধস, আকস্মিক বন্যা | জীবন ও সম্পদের আকস্মিক ক্ষতি | আগাম সতর্কীকরণ, পাহাড় সংরক্ষণ |
হাওর গ্রাম | অসময়ে বন্যা | বোরো ধান ডুবে যাওয়া | হাওর মাস্টার প্ল্যান, ফসল রক্ষা বাঁধ |
চর-অঞ্চল | নদীভাঙন | ভিটেছাড়া, কৃষি ক্ষতি | নদী শাসন, চর উন্নয়ন |
বরেন্দ্র গ্রাম | খরা, ভূগর্ভস্থ পানি হ্রাস | সেচ সংকট, পান-অযোগ্য পানি | BMDA সেচ, খরা-সহনশীল ফসল |
নগর কেন্দ্রস্থল | তাপদ্বীপ, বায়ুদূষণ | হিটস্ট্রোক, শ্বাসকষ্ট | সবুজ ছাদ, গাছ রোপণ, EV নীতি |
জলাভূমি/হাওর | ভরাট ও দূষণ | মৎস্য আবাস হ্রাস | ইসিএ ঘোষণা, রামসার সংরক্ষণ |
দ্বীপ ও কোস্টাল চর | জলোচ্ছ্বাস, ম্যানগ্রোভ ক্ষয় | বসতি বিলুপ্তি | উপকূলীয় বনায়ন, পোল্ডার মেরামত |
🏘️ স্থানীয় প্রভাব: পরিসংখ্যান নজর রাঙামাটি ভূমিধস ১৩ জুন ২০১৭: ১৫২ জন নিহত; দেশের ইতিহাসে সবচেয়ে প্রাণঘাতী ভূমিধস ২০২৪ আগস্ট চট্টগ্রাম-বান্দরবান বন্যা ও ভূমিধস: ৫৯ জন নিহত (DDM ২০২৪) ঢাকা UHI প্রভাব: কেন্দ্রস্থল গ্রামীণ আশেপাশের তুলনায় ৪-৭° সেলসিয়াস উষ্ণ (BUET-UDR ২০২৩) PM2.5 ঢাকা: WHO নির্দেশিকার ১৫ গুণ; IQAir ২০২৪-এ বাংলাদেশ বিশ্বে সবচেয়ে দূষিত বরেন্দ্র ভূগর্ভস্থ পানি: প্রতি বছর ০.৫-১ মিটার হ্রাস (BMDA ২০২৩) শ্যামনগর গভীর নলকূপ লবণাক্ততা (২০০৯-পরবর্তী): ৫-১৪ ডেসিসিমেন্স/মিটার; WHO সীমা ০.৭৫ |
আঞ্চলিক প্রভাব
আঞ্চলিক স্কেলে দক্ষিণ এশিয়া, বঙ্গোপসাগর অববাহিকা এবং হিন্দুকুশ-হিমালয় (HKH) অঞ্চল বাংলাদেশের সবচেয়ে প্রাসঙ্গিক ভৌগোলিক একক। এই অঞ্চলগুলোতে জলবায়ু পরিবর্তন প্রবাহিত হয় সীমান্ত-অতিক্রমী নদী, মৌসুমি বায়ু, সমুদ্রস্রোত ও পর্বত-পাদদেশীয় বায়ু প্রবাহের মাধ্যমে। ফলে কোনো একটি দেশের একক ভূমিকায় আঞ্চলিক প্রভাব মোকাবিলা সম্ভব নয়; প্রয়োজন বহুপাক্ষিক সহযোগিতা ও তথ্য বিনিময়।
দক্ষিণ এশিয়ার জলবায়ু-চাপ
দক্ষিণ এশিয়ায় ১৬৫ কোটি মানুষ বসবাস করে, যা বিশ্বের জনসংখ্যার এক-পঞ্চমাংশ। অঞ্চলটি IPCC AR6 অনুযায়ী জলবায়ু-পরিবর্তন-জনিত ঝুঁকির অন্যতম "হটস্পট"। মৌসুমি বায়ুর প্রকৃতি পরিবর্তন, অসামঞ্জস্যপূর্ণ বৃষ্টিপাত, খরা ও তাপপ্রবাহ এই অঞ্চলের কৃষি ও পানি সরবরাহকে চাপের মুখে ফেলেছে। ২০২২ সালে পাকিস্তানে ভয়াবহ বন্যায় ৩৩ মিলিয়ন মানুষ আক্রান্ত হয়েছিল এবং প্রায় ১,৭০০ জন নিহত হয়েছিল, যা আঞ্চলিক জলবায়ু-চাপের একটি দৃষ্টান্ত। ভারতের গ্যাঙ্গেস, ব্রহ্মপুত্র ও মেঘনা অববাহিকায় (GBM) বার্ষিক প্রবাহ ক্রমেই অনিয়মিত হয়ে উঠছে।
হিন্দুকুশ-হিমালয় (HKH) অঞ্চল
হিন্দুকুশ-হিমালয় (Hindu Kush Himalaya, HKH) অঞ্চল আট দেশ জুড়ে বিস্তৃত: আফগানিস্তান, পাকিস্তান, ভারত, নেপাল, ভুটান, চীন, মিয়ানমার ও বাংলাদেশ। এই অঞ্চলকে "পৃথিবীর তৃতীয় মেরু" (Third Pole) বলা হয় কারণ মেরু অঞ্চলের পর সবচেয়ে বেশি বরফ এখানেই জমা। HKH-এর হিমবাহ থেকে এশিয়ার দশটি প্রধান নদী উৎপন্ন: গঙ্গা, ব্রহ্মপুত্র, সিন্ধু, ইয়াংসি, মেকং, ইরাবতী, সালুইন, হলুদ নদী (হোয়াংহো), আমুদরিয়া ও তরিম। ICIMOD-এর HKH Assessment Report (২০১৯) অনুযায়ী, বৈশ্বিক উষ্ণতা ১.৫° সেলসিয়াসে সীমিত হলেও HKH-এ তা ১.৮° সেলসিয়াসে পৌঁছাবে এবং শতাব্দী শেষে অন্তত এক-তৃতীয়াংশ হিমবাহ অপরিবর্তনীয়ভাবে গলে যাবে।
🏔️ হিন্দুকুশ-হিমালয় (HKH) অঞ্চল: মূল তথ্য অন্তর্ভুক্ত দেশ (৮টি): আফগানিস্তান, পাকিস্তান, ভারত, নেপাল, ভুটান, চীন, মিয়ানমার, বাংলাদেশ বিস্তৃতি: প্রায় ৪.২ মিলিয়ন বর্গকিলোমিটার, ৩,৫০০ কিমি দীর্ঘ অপর নাম: পৃথিবীর তৃতীয় মেরু (Third Pole) উদ্ভূত নদী (১০টি প্রধান): গঙ্গা, ব্রহ্মপুত্র, সিন্ধু, ইয়াংসি, মেকং, ইরাবতী, সালুইন, হোয়াংহো, আমুদরিয়া, তরিম নির্ভরশীল জনসংখ্যা: প্রায় ১৬৫ কোটি (এশিয়ার পানি সরবরাহ) প্রক্ষেপণ (ICIMOD ২০১৯): বৈশ্বিক উষ্ণতা ১.৫°C-এ HKH-এ ১.৮°C; শতাব্দী শেষে এক-তৃতীয়াংশ হিমবাহ অপরিবর্তনীয়ভাবে গলবে সমন্বয়কারী সংস্থা: ICIMOD (International Centre for Integrated Mountain Development, প্রতিষ্ঠা ১৯৮৩, সদর দপ্তর কাঠমান্ডু, নেপাল) |
গঙ্গা-ব্রহ্মপুত্র-মেঘনা (GBM) অববাহিকা
গঙ্গা, ব্রহ্মপুত্র ও মেঘনা নদীর সমন্বিত অববাহিকাকে GBM Basin বলা হয়। এই অববাহিকা পাঁচটি দেশ জুড়ে বিস্তৃত: ভারত, নেপাল, ভুটান, চীন (তিব্বত) ও বাংলাদেশ। মোট আয়তন প্রায় ১৭.২ লক্ষ বর্গকিলোমিটার এবং বার্ষিক পানি প্রবাহ প্রায় ১,৩৬০ বিলিয়ন ঘনমিটার। বাংলাদেশের নদী ব্যবস্থাপনার অধিকাংশ চ্যালেঞ্জ এই অববাহিকার যৌথ ব্যবস্থাপনার সাথে যুক্ত। উজানে ভারত, নেপাল ও চীনের বাঁধ, পানি প্রত্যাহার ও জলবিদ্যুৎ প্রকল্প ভাটির প্রবাহকে সরাসরি প্রভাবিত করে।
সীমান্ত-অতিক্রমী নদী
বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে ৫৪টি সীমান্ত-অতিক্রমী নদী (Transboundary Rivers) আছে এবং বাংলাদেশ-মিয়ানমারের মধ্যে ৩টি। গঙ্গা পানি বণ্টন চুক্তি ১৯৯৬ সালে স্বাক্ষরিত হয় এবং ৩০ বছর মেয়াদি (২০২৬ সালে মেয়াদ শেষ হবে)। চুক্তি অনুযায়ী, পদ্মা নদীর পানি ফারাক্কা পয়েন্টে জানুয়ারি থেকে মে মাসের শুকনো মৌসুমে নির্দিষ্ট সূত্র অনুসারে বণ্টিত হয়। তিস্তা নদীর পানি বণ্টন নিয়ে ২০১১ সাল থেকে আলোচনা চলমান, তবে আজ পর্যন্ত আনুষ্ঠানিক চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়নি।
চুক্তি/সমঝোতা | পক্ষ | সাল | বিষয় |
গঙ্গা পানি বণ্টন চুক্তি | বাংলাদেশ-ভারত | ১৯৯৬ | ৩০ বছর মেয়াদি; ফারাক্কায় শুকনো মৌসুমের প্রবাহ বণ্টন |
তিস্তা পানি বণ্টন আলোচনা | বাংলাদেশ-ভারত | ২০১১ থেকে চলমান | আনুষ্ঠানিক চুক্তি অস্বাক্ষরিত |
বাংলাদেশ-ভারত সীমান্ত-অতিক্রমী নদী | বাংলাদেশ-ভারত | যৌথ নদী কমিশন ১৯৭২ | ৫৪টি সীমান্ত-অতিক্রমী নদী |
বাংলাদেশ-মিয়ানমার নদী | বাংলাদেশ-মিয়ানমার | যৌথ ব্যবস্থা | নাফ ও অন্যান্য ৩টি নদী |
সমুদ্র সীমা ITLOS | বাংলাদেশ-মিয়ানমার | ২০১২ | বঙ্গোপসাগরে সমুদ্র সীমা নির্ধারণ |
সমুদ্র সীমা PCA | বাংলাদেশ-ভারত | ২০১৪ | বঙ্গোপসাগরে সমুদ্র সীমা নির্ধারণ |
বঙ্গোপসাগর আঞ্চলিক বাস্তুতন্ত্র
বঙ্গোপসাগর (Bay of Bengal) ভারত মহাসাগরের উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় শাখা এবং পৃথিবীর বৃহত্তম উপসাগর। এর আঞ্চলিক বাস্তুতন্ত্রে বাংলাদেশ, ভারত, শ্রীলঙ্কা, মিয়ানমার ও থাইল্যান্ড একে অপরের সাথে সংযুক্ত। বঙ্গোপসাগরের পৃষ্ঠতলীয় তাপমাত্রা গত পাঁচ দশকে গড়ে ০.৬-০.৮° সেলসিয়াস বেড়েছে, যা ঘূর্ণিঝড়ের তীব্রতা বৃদ্ধির অন্যতম কারণ। ২০২০-২০২৪ সময়কালে বঙ্গোপসাগরে গঠিত পাঁচটি বড় ঘূর্ণিঝড় (আম্পান, ইয়াস, সিতরাং, মোখা, রিমাল) অস্বাভাবিকভাবে দ্রুত শক্তিশালী হয়েছে; এটি সমুদ্রপৃষ্ঠ তাপমাত্রা ও জলবায়ু পরিবর্তনের সম্মিলিত প্রভাব।
আঞ্চলিক সহযোগিতা সংস্থা
দক্ষিণ এশিয়ায় জলবায়ু ও পরিবেশ বিষয়ে কয়েকটি আঞ্চলিক সহযোগিতা সংস্থা সক্রিয়। দক্ষিণ এশিয়ান আঞ্চলিক সহযোগিতা সংস্থা (SAARC) ১৯৮৫ সালে গঠিত এবং এর Convention on Cooperation on Environment ২০১০ সালে স্বাক্ষরিত হয়। বে অব বেঙ্গল ইনিশিয়েটিভ ফর মাল্টি-সেক্টরাল টেকনিকাল অ্যান্ড ইকোনমিক কোঅপারেশন (BIMSTEC) ১৯৯৭ সালে প্রতিষ্ঠিত এবং পরিবেশ ও জলবায়ু পরিবর্তন এর ১৪টি অগ্রাধিকার ক্ষেত্রের একটি। ICIMOD ১৯৮৩ সালে কাঠমান্ডুতে প্রতিষ্ঠিত এবং HKH অঞ্চলের প্রধান জ্ঞান-ভিত্তিক সমন্বয়কারী সংস্থা।
সংস্থা | পূর্ণরূপ | প্রতিষ্ঠা | সদর দপ্তর | মূল ভূমিকা |
SAARC | South Asian Association for Regional Cooperation | ১৯৮৫ | কাঠমান্ডু, নেপাল | ৮ সদস্য; পরিবেশ কনভেনশন ২০১০ |
BIMSTEC | Bay of Bengal Initiative for Multi-Sectoral Technical and Economic Cooperation | ১৯৯৭ | ঢাকা, বাংলাদেশ | ৭ সদস্য; পরিবেশ ও জলবায়ু অগ্রাধিকার ক্ষেত্র |
ICIMOD | International Centre for Integrated Mountain Development | ১৯৮৩ | কাঠমান্ডু, নেপাল | HKH অঞ্চলের জ্ঞান-সমন্বয় |
Bay of Bengal LME | Bay of Bengal Large Marine Ecosystem | ২০০৯ | ভারত-নেতৃত্বাধীন | বঙ্গোপসাগরের সামুদ্রিক বাস্তুতন্ত্র ব্যবস্থাপনা |
BOBP-IGO | Bay of Bengal Programme Inter-Governmental Organisation | ২০০৩ | চেন্নাই, ভারত | বঙ্গোপসাগরের মৎস্য সম্পদ ব্যবস্থাপনা |
JCC | যৌথ নদী কমিশন (Joint Rivers Commission) | ১৯৭২ | ঢাকা | ৫৪টি অভিন্ন নদী ব্যবস্থাপনা |
CVF | Climate Vulnerable Forum | ২০০৯ | মালদ্বীপে প্রতিষ্ঠিত | ৫৮ সদস্য; বাংলাদেশ সভাপতি ২০২০-২০২২ |
দক্ষিণ এশিয়ার বায়ুদূষণ ও আঞ্চলিক ধোঁয়াশা
দক্ষিণ এশিয়ার বায়ুদূষণ একটি আঞ্চলিক সমস্যা। ইন্দো-গ্যাঙ্গেটিক প্লেইন (IGP) অর্থাৎ গাঙ্গেয় সমভূমিতে শীতকালে যে ধোঁয়াশা (Smog) তৈরি হয় তা ভারত-পাকিস্তান-বাংলাদেশ-নেপাল চারটি দেশ জুড়ে বিস্তৃত। ভারতের পাঞ্জাব ও হরিয়ানায় শস্যকণা পোড়ানো, দিল্লির বায়ুদূষণ এবং বাংলাদেশের শীতকালীন ধোঁয়াশা একটি সম্মিলিত আঞ্চলিক ঘটনা। UNEP ২০২২ অনুযায়ী, দক্ষিণ এশিয়ার মেগাসিটিগুলোর PM2.5 মাত্রা বিশ্বের শীর্ষে; ঢাকা, দিল্লি, লাহোর, করাচি, কলকাতা পাঁচটিই বিশ্বের ২০টি সর্বাধিক দূষিত শহরের তালিকায়।
বৈশ্বিক প্রভাব
বৈশ্বিক স্কেলে জলবায়ু পরিবর্তন ও পরিবেশগত পরিবর্তন একটি একক পৃথিবীব্যাপী ঘটনা হিসেবে প্রকাশ পায়। এর বিভিন্ন প্রকাশ-রূপ পারস্পরিকভাবে যুক্ত: বৈশ্বিক উষ্ণায়ন, সমুদ্রপৃষ্ঠ বৃদ্ধি, মেরু বরফ গলন, সমুদ্রের অম্লীকরণ, ওজোন স্তর ক্ষয়, জীববৈচিত্র্য বিলুপ্তি ও মরুকরণ সবগুলোই একই প্রক্রিয়ার বিভিন্ন বহিঃপ্রকাশ। এই বৈশ্বিক প্রভাবগুলো IPCC-এর Assessment Report এবং অন্যান্য আন্তর্জাতিক সংস্থার মাধ্যমে নিয়মিত পরিমাপ ও মূল্যায়ন করা হয়।
বৈশ্বিক উষ্ণায়ন ও তাপমাত্রার পরিবর্তন
IPCC AR6 Working Group I Report (২০২১) অনুযায়ী, ১৮৫০-১৯০০ সালের প্রাক-শিল্পযুগের গড় তাপমাত্রার তুলনায় ২০১১-২০২০ সালের বৈশ্বিক গড় তাপমাত্রা ১.০৯° সেলসিয়াস বেশি; ২০২৩ সালের হালনাগাদে এটি ১.১৪° সেলসিয়াসে পৌঁছেছে। WMO-এর State of the Global Climate ২০২৪ অনুযায়ী, ২০২৪ সাল ইতিহাসের সবচেয়ে উষ্ণ বছর; বৈশ্বিক গড় তাপমাত্রা প্রাক-শিল্পযুগের তুলনায় ১.৫৫° সেলসিয়াস বেশি ছিল, যা প্রথমবারের মতো প্যারিস চুক্তির ১.৫° সেলসিয়াস সীমা অতিক্রম করেছে (যদিও দীর্ঘমেয়াদি গড়ে এখনো সীমার মধ্যে)। আর্কটিক অঞ্চলে এই বৃদ্ধি ৪ গুণ বেশি, যা "Arctic Amplification" নামে পরিচিত।
সমুদ্রপৃষ্ঠ বৃদ্ধি
IPCC AR6 অনুযায়ী, ১৯০১-২০১৮ সময়কালে বৈশ্বিক গড় সমুদ্রপৃষ্ঠ ২০ সেন্টিমিটার বেড়েছে। বৃদ্ধির হার ২০০৬-২০১৮ সময়কালে প্রতি বছর ৩.৭ মিলিমিটার, যা ১৯০১-১৯৭১ সময়কালের (১.৩ মিমি/বছর) তুলনায় প্রায় তিনগুণ। শতাব্দী শেষে (২১০০ সাল) সমুদ্রপৃষ্ঠ আরও ০.৪৩ মিটার (নিম্ন নিঃসরণ পরিস্থিতিতে) থেকে ০.৮৪ মিটার (উচ্চ নিঃসরণ পরিস্থিতিতে) বাড়তে পারে। বাংলাদেশের জন্য এই বৃদ্ধি বিশেষ ঝুঁকির, কারণ দেশের ৮০ শতাংশের বেশি এলাকা সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে ১০ মিটারের কম উচ্চতায় অবস্থিত। সমুদ্রপৃষ্ঠ ১ মিটার বাড়লে বাংলাদেশের প্রায় ১৭ শতাংশ এলাকা ডুবে যেতে পারে।
মেরু বরফ গলন
আর্কটিক ও অ্যান্টার্কটিক উভয় অঞ্চলে বরফ আবরণ দ্রুত হ্রাস পাচ্ছে। NSIDC (National Snow and Ice Data Center) তথ্য অনুযায়ী, ১৯৭৯ সাল থেকে আর্কটিক সমুদ্র বরফের সর্বনিম্ন বিস্তার প্রতি দশকে ১২.৬ শতাংশ হারে কমছে। অ্যান্টার্কটিক বরফ চাদর প্রতি বছর প্রায় ১৫০ বিলিয়ন টন বরফ হারাচ্ছে। গ্রিনল্যান্ড বরফ চাদর ১৯৯২ সাল থেকে প্রায় ৪.৭ ট্রিলিয়ন টন বরফ হারিয়েছে। হিমালয় ও আল্পস পর্বতমালার হিমবাহও দ্রুত হ্রাস পাচ্ছে। বরফ গলনের ফলে সমুদ্রপৃষ্ঠ বৃদ্ধি, সমুদ্রস্রোতের পরিবর্তন এবং বৈশ্বিক জলবায়ু চক্রে দীর্ঘমেয়াদি ব্যাঘাত ঘটছে।
সমুদ্রের অম্লীকরণ
সমুদ্র বায়ুমণ্ডল থেকে প্রায় ২৫ শতাংশ মানব-নিঃসৃত কার্বন ডাই-অক্সাইড শোষণ করে। এই শোষণ সমুদ্র জলের pH মান হ্রাস করে, যা "সমুদ্রের অম্লীকরণ" (Ocean Acidification) নামে পরিচিত। প্রাক-শিল্পযুগ থেকে এ পর্যন্ত সমুদ্রের গড় pH ৮.২১ থেকে ৮.১০-এ নেমেছে, অর্থাৎ অম্লতা প্রায় ৩০ শতাংশ বেড়েছে। অম্লীকরণে প্রবাল প্রাচীর, ঝিনুক, শামুক ও অন্যান্য ক্যালসিয়াম-কার্বনেট গঠনকারী প্রাণী মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। অস্ট্রেলিয়ার গ্রেট ব্যারিয়ার রিফে ১৯৯৫ সাল থেকে অর্ধেকেরও বেশি প্রবাল ব্লিচিং (Coral Bleaching) ও মৃত্যুর শিকার হয়েছে।
ওজোন স্তর ক্ষয়
বায়ুমণ্ডলের স্ট্র্যাটোস্ফিয়ারে ১৫-৩০ কিলোমিটার উচ্চতায় অবস্থিত ওজোন স্তর সূর্যের অতিবেগুনি রশ্মি থেকে পৃথিবীকে রক্ষা করে। ক্লোরোফ্লুরোকার্বন (CFC) ও হ্যালনের মতো রাসায়নিক পদার্থের কারণে ১৯৮০-এর দশকে অ্যান্টার্কটিকার উপরে "ওজোন গর্ত" (Ozone Hole) আবিষ্কৃত হয়। এর প্রতিক্রিয়ায় ১৯৮৫ সালে ভিয়েনা কনভেনশন এবং ১৯৮৭ সালে মন্ট্রিয়েল প্রোটোকল গৃহীত হয়। UNEP ২০২৩ অনুযায়ী, মন্ট্রিয়েল প্রোটোকলের সফলতায় ওজোন স্তর ধীরে ধীরে পুনরুদ্ধার হচ্ছে এবং ২০৬৬ সাল নাগাদ ১৯৮০ পূর্ববর্তী অবস্থায় ফিরবে। মন্ট্রিয়েল প্রোটোকল বিশ্বের একমাত্র পরিবেশ চুক্তি যা সকল ১৯৮ সদস্য রাষ্ট্র অনুসমর্থন করেছে।
জীববৈচিত্র্য বিলুপ্তি
IPBES (Intergovernmental Science-Policy Platform on Biodiversity and Ecosystem Services) Global Assessment Report ২০১৯ অনুযায়ী, প্রায় ১০ লক্ষ প্রজাতি বর্তমানে বিলুপ্তির ঝুঁকিতে, যা মানব ইতিহাসে নজিরবিহীন। বিজ্ঞানীরা এই ঘটনাকে পৃথিবীর "ষষ্ঠ মহা-বিলুপ্তি" (Sixth Mass Extinction) বলে চিহ্নিত করেছেন; পূর্বের পাঁচটি ছিল প্রাকৃতিক ভূতাত্ত্বিক কারণে, কিন্তু বর্তমানটি প্রধানত মানব-জনিত। জলবায়ু পরিবর্তন, বনভূমি ধ্বংস, দূষণ ও অতি-শোষণ এই বিলুপ্তির প্রধান কারণ। বাংলাদেশে IUCN রেড লিস্ট অনুযায়ী ৩৯০টি প্রজাতি বিপন্ন।
বৈশ্বিক প্রভাব | পরিমাপ (সর্বশেষ) | উৎস | প্রভাব |
বৈশ্বিক উষ্ণায়ন | ১.১৪°C (২০২৩); ২০২৪-এ ১.৫৫°C | IPCC AR6, WMO ২০২৪ | তাপপ্রবাহ, খরা, বন্যা বৃদ্ধি |
সমুদ্রপৃষ্ঠ বৃদ্ধি | ২০ সেমি (১৯০১-২০১৮) | IPCC AR6 | উপকূলীয় ভূমি ক্ষয় |
বৃদ্ধির বর্তমান হার | ৩.৭ মিমি/বছর (২০০৬-২০১৮) | IPCC AR6 | ১৯০১-৭১ সময়ের তিনগুণ |
আর্কটিক বরফ | ১২.৬% প্রতি দশক হ্রাস | NSIDC | আলবেডো হ্রাস, উষ্ণায়ন |
গ্রিনল্যান্ড বরফ | ৪.৭ ট্রিলিয়ন টন হ্রাস ১৯৯২-২০২৩ | NASA, ESA | সমুদ্রপৃষ্ঠ বৃদ্ধি |
অ্যান্টার্কটিক বরফ | বার্ষিক ১৫০ বিলিয়ন টন হ্রাস | NASA GRACE | সমুদ্রপৃষ্ঠ বৃদ্ধি |
সমুদ্র pH | ৮.২১ → ৮.১০ (৩০% অম্লতা বৃদ্ধি) | IPCC | প্রবাল ব্লিচিং, শামুক ক্ষতি |
গ্রেট ব্যারিয়ার রিফ | অর্ধেকেরও বেশি ক্ষতিগ্রস্ত | AIMS, NOAA | প্রবাল ব্লিচিং |
বিলুপ্তির ঝুঁকিতে প্রজাতি | ১০ লক্ষ (IPBES ২০১৯) | IPBES | ষষ্ঠ মহা-বিলুপ্তি |
ওজোন স্তর | ২০৬৬-এ পুনরুদ্ধারের প্রক্ষেপণ | UNEP ২০২৩ | মন্ট্রিয়েল প্রোটোকল সাফল্য |
CO2 ঘনত্ব | ৪২৬ ppm (২০২৪) | NOAA, Mauna Loa | প্রাক-শিল্প ২৮০ ppm-এর তুলনায় ৫১% বৃদ্ধি |
বৈশ্বিক বনভূমি ক্ষতি | বার্ষিক ১০ মিলিয়ন হেক্টর | FAO FRA 2020 | কার্বন সিঙ্ক হ্রাস |
বৈশ্বিক পরিবেশ চুক্তি ও কনভেনশন
বৈশ্বিক পরিবেশ ও জলবায়ু সমস্যা মোকাবিলায় গত পাঁচ দশকে অসংখ্য আন্তর্জাতিক চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে। নিচের ছকে প্রতিটি চুক্তির স্থান, সাল, কার্যকর সাল, মূল বিধান ও বাংলাদেশের অনুসমর্থন এক জায়গায় দেওয়া হলো। এই ছকটি BCS প্রিলি ও লিখিত উভয় পরীক্ষায় সরাসরি কাজে লাগে।
চুক্তি/কনভেনশন | স্থান | গৃহীত সাল | কার্যকর সাল | মূল বিধান | বাংলাদেশ স্বাক্ষর |
রামসার কনভেনশন | রামসার, ইরান | ১৯৭১ | ১৯৭৫ | আন্তর্জাতিক গুরুত্বের জলাভূমি সংরক্ষণ | ১৯৯২ |
স্টকহোম কনফারেন্স | স্টকহোম, সুইডেন | ১৯৭২ | - | প্রথম আন্তর্জাতিক পরিবেশ সম্মেলন; UNEP প্রতিষ্ঠা | অংশগ্রহণকারী |
CITES | ওয়াশিংটন | ১৯৭৩ | ১৯৭৫ | বিপন্ন বন্যপ্রাণী ও উদ্ভিদের বাণিজ্য নিয়ন্ত্রণ | ১৯৮২ |
ভিয়েনা কনভেনশন | ভিয়েনা, অস্ট্রিয়া | ১৯৮৫ | ১৯৮৮ | ওজোন স্তর সংরক্ষণ | ১৯৯০ |
মন্ট্রিয়েল প্রোটোকল | মন্ট্রিয়েল, কানাডা | ১৯৮৭ | ১৯৮৯ | CFC, হ্যালন নিষিদ্ধকরণ | ১৯৯০ |
ব্যাসেল কনভেনশন | ব্যাসেল, সুইজারল্যান্ড | ১৯৮৯ | ১৯৯২ | বিপজ্জনক বর্জ্যের সীমান্ত-অতিক্রমী চলাচল নিয়ন্ত্রণ | ১৯৯৩ |
UNFCCC | রিও ডি জেনেইরো, ব্রাজিল | ১৯৯২ | ১৯৯৪ | জলবায়ু পরিবর্তন কাঠামো কনভেনশন | ১৯৯৪ |
CBD | রিও ডি জেনেইরো, ব্রাজিল | ১৯৯২ | ১৯৯৩ | জীববৈচিত্র্য কনভেনশন | ১৯৯৪ |
UNCCD | প্যারিস, ফ্রান্স | ১৯৯৪ | ১৯৯৬ | মরুকরণ প্রতিরোধ কনভেনশন | ১৯৯৬ |
কিয়োটো প্রোটোকল | কিয়োটো, জাপান | ১৯৯৭ | ২০০৫ | উন্নত দেশের নিঃসরণ বাধ্যবাধকতা | ২০০১ |
কার্টাজেনা প্রোটোকল | মন্ট্রিয়েল (দত্তক) | ২০০০ | ২০০৩ | GMO/Biosafety নিয়ন্ত্রণ | ২০০৪ |
স্টকহোম POPs কনভেনশন | স্টকহোম | ২০০১ | ২০০৪ | স্থায়ী জৈব দূষক নিয়ন্ত্রণ | ২০০৭ |
Hyogo Framework | কোবে, জাপান | ২০০৫ | ২০০৫ | দুর্যোগ ঝুঁকি হ্রাস ২০০৫-২০১৫ | অংশগ্রহণকারী |
Sendai Framework | সেনদাই, জাপান | ২০১৫ | ২০১৫ | দুর্যোগ ঝুঁকি হ্রাস ২০১৫-২০৩০ | অংশগ্রহণকারী |
প্যারিস চুক্তি | প্যারিস, ফ্রান্স (COP21) | ২০১৫ | ২০১৬ | ১.৫°C-এর নিচে উষ্ণতা সীমাবদ্ধ | ২০১৬ |
কিগালি সংশোধনী | কিগালি, রুয়ান্ডা | ২০১৬ | ২০১৯ | HFC নিষিদ্ধকরণ (মন্ট্রিয়েল সংশোধনী) | ২০১৯ |
Global Biodiversity Framework | মন্ট্রিয়েল (COP15 CBD) | ২০২২ | ২০২২ | ২০৩০ নাগাদ ৩০% সংরক্ষণ | অংশগ্রহণকারী |
High Seas Treaty (BBNJ) | নিউইয়র্ক, UN | ২০২৩ | অনুসমর্থন অব্যাহত | উন্মুক্ত সমুদ্রে জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ | ২০২৩ স্বাক্ষর |
COP সম্মেলনসমূহ
UNFCCC-এর Conference of the Parties (COP) প্রতি বছর অনুষ্ঠিত হয় এবং জলবায়ু পরিবর্তন বিষয়ে বিশ্বের শীর্ষ নীতিনির্ধারণী ফোরাম। নিচে গুরুত্বপূর্ণ COP সম্মেলনের তালিকা দেওয়া হলো যা পরীক্ষায় প্রায়শই বিকল্পে আসে।
COP | সাল | স্থান | প্রধান অর্জন |
COP1 | ১৯৯৫ | বার্লিন, জার্মানি | বার্লিন ম্যান্ডেট |
COP3 | ১৯৯৭ | কিয়োটো, জাপান | কিয়োটো প্রোটোকল গৃহীত |
COP11 | ২০০৫ | মন্ট্রিয়েল, কানাডা | কিয়োটো প্রোটোকল কার্যকর |
COP15 | ২০০৯ | কোপেনহেগেন, ডেনমার্ক | কোপেনহেগেন অ্যাকর্ড; ২°C লক্ষ্য |
COP21 | ২০১৫ | প্যারিস, ফ্রান্স | প্যারিস চুক্তি; ১.৫°C লক্ষ্য |
COP24 | ২০১৮ | কাটোভিচ, পোল্যান্ড | প্যারিস রুলবুক |
COP26 | ২০২১ | গ্লাসগো, যুক্তরাজ্য | গ্লাসগো প্যাক্ট; কয়লা phase-down |
COP27 | ২০২২ | শারম এল-শেখ, মিশর | Loss & Damage Fund ঘোষণা |
COP28 | ২০২৩ | দুবাই, UAE | প্রথম বৈশ্বিক স্টকটেক; L&D Fund কার্যকর; জীবাশ্ম জ্বালানি থেকে সরে আসার ঘোষণা |
COP29 | ২০২৪ | বাকু, আজারবাইজান | নতুন জলবায়ু অর্থায়ন লক্ষ্যমাত্রা NCQG; বছরে ৩০০ বিলিয়ন ডলার |
COP30 | ২০২৫ (নির্ধারিত) | বেলেম, ব্রাজিল | অ্যামাজনের কেন্দ্রে আয়োজন; বনাঞ্চল ফোকাস |
বৈশ্বিক পরিবেশ ও জলবায়ু প্রতিষ্ঠান
প্রতিষ্ঠান | পূর্ণরূপ | প্রতিষ্ঠা | সদর দপ্তর | ভূমিকা |
UNEP | United Nations Environment Programme | ১৯৭২ | নাইরোবি, কেনিয়া | জাতিসংঘের পরিবেশ কর্মসূচি; স্টকহোম সম্মেলনের ফল |
WMO | World Meteorological Organization | ১৯৫০ | জেনেভা, সুইজারল্যান্ড | আবহাওয়া ও জলবায়ু সমন্বয় |
IPCC | Intergovernmental Panel on Climate Change | ১৯৮৮ | জেনেভা | WMO ও UNEP-এর যৌথ; জলবায়ু বিজ্ঞান মূল্যায়ন |
IPBES | Intergovernmental Science-Policy Platform on Biodiversity | ২০১২ | বন, জার্মানি | জীববৈচিত্র্যের IPCC সমতুল্য |
UNFCCC | UN Framework Convention on Climate Change | ১৯৯২ | বন, জার্মানি | জলবায়ু সচিবালয় |
UNDRR | UN Office for Disaster Risk Reduction | ১৯৯৯ | জেনেভা | দুর্যোগ ঝুঁকি হ্রাস; Sendai Framework |
IUCN | International Union for Conservation of Nature | ১৯৪৮ | গ্ল্যান্ড, সুইজারল্যান্ড | রেড লিস্ট; প্রকৃতি সংরক্ষণ |
WWF | World Wide Fund for Nature | ১৯৬১ | গ্ল্যান্ড, সুইজারল্যান্ড | বৃহত্তম বেসরকারি সংরক্ষণ সংস্থা |
Greenpeace | Greenpeace International | ১৯৭১ | আমস্টারডাম, নেদারল্যান্ডস | পরিবেশ অ্যাকটিভিজম |
Earth Day Network | EarthDay.org | ১৯৭০ (পৃথিবী দিবস) | ওয়াশিংটন ডিসি | ২২ এপ্রিল পৃথিবী দিবস উদযাপন |
GEF | Global Environment Facility | ১৯৯১ | ওয়াশিংটন ডিসি | বহুপাক্ষিক পরিবেশ অর্থায়ন |
Bonn Challenge | Bonn Challenge for Forest Restoration | ২০১১ | বন, জার্মানি | ২০৩০-এ ৩৫০ মিলিয়ন হেক্টর বনায়ন |
পরিবেশ সংক্রান্ত আন্তর্জাতিক দিবস
দিবস | তারিখ | প্রতিষ্ঠা | উদ্দেশ্য |
বিশ্ব আর্দ্রভূমি দিবস | ২ ফেব্রুয়ারি | ১৯৯৭ | রামসার কনভেনশন ১৯৭১-এর স্মরণে |
আন্তর্জাতিক বন দিবস | ২১ মার্চ | ২০১২ | বন সংরক্ষণ ও সচেতনতা |
বিশ্ব পানি দিবস | ২২ মার্চ | ১৯৯৩ | পানি সম্পদের গুরুত্ব |
পৃথিবী দিবস (Earth Day) | ২২ এপ্রিল | ১৯৭০ | পরিবেশ আন্দোলনের সূচনা |
বিশ্ব পরিবেশ দিবস | ৫ জুন | ১৯৭৪ | স্টকহোম সম্মেলন ১৯৭২-এর স্মরণে; UNEP কর্তৃক |
বিশ্ব মহাসাগর দিবস | ৮ জুন | ২০০৮ | সামুদ্রিক জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ |
বিশ্ব মরুকরণ দিবস | ১৭ জুন | ১৯৯৫ | UNCCD-এর স্মরণে |
বিশ্ব জনসংখ্যা দিবস | ১১ জুলাই | ১৯৮৯ | জনসংখ্যা সচেতনতা |
বিশ্ব ওজোন দিবস | ১৬ সেপ্টেম্বর | ১৯৯৫ | মন্ট্রিয়েল প্রোটোকল ১৯৮৭-এর স্মরণে |
আন্তর্জাতিক দুর্যোগ প্রশমন দিবস | ১৩ অক্টোবর | ১৯৮৯ | দুর্যোগ ঝুঁকি হ্রাস সচেতনতা |
বিশ্ব মাটি দিবস | ৫ ডিসেম্বর | ২০১৪ | মাটি সংরক্ষণ |
আন্তর্জাতিক জীববৈচিত্র্য দিবস | ২২ মে | ২০০০ | CBD-এর স্মরণে |
বাংলাদেশের বৈশ্বিক ও আঞ্চলিক ভূমিকা
বাংলাদেশ জলবায়ু পরিবর্তনের সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ দেশগুলোর একটি হলেও বৈশ্বিক জলবায়ু-আলোচনায় দেশটি নেতৃত্বদানকারী কণ্ঠের ভূমিকা পালন করছে। ক্লাইমেট ভালনারেবল ফোরাম (CVF)-এর প্রতিষ্ঠাতা সদস্য বাংলাদেশ ২০২০-২০২২ সময়কালে এই ফোরামের সভাপতিত্ব করেছে এবং "মুজিব জলবায়ু সমৃদ্ধি পরিকল্পনা" (MCPP) ২০২২ সালে চালু করেছে। বাংলাদেশ V20 (Vulnerable Twenty) গ্রুপেরও সদস্য, যা ২০ ঝুঁকিপূর্ণ দেশের অর্থমন্ত্রীদের একটি প্ল্যাটফর্ম।
COP27 (২০২২) সম্মেলনে Loss & Damage তহবিল গঠনের আলোচনায় বাংলাদেশ অগ্রণী ভূমিকা রেখেছে। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ১৯৭২ সালের স্টকহোম পরিবেশ সম্মেলনে অংশগ্রহণকারী অল্প কয়েকজন রাষ্ট্রপ্রধানের একজন ছিলেন এবং সেখানে বাংলাদেশের অবস্থান উপস্থাপন করেছিলেন। ১৯৯৩ সালে বাংলাদেশ "চ্যাম্পিয়নস অফ দ্য আর্থ" পুরস্কার পেয়েছে (পরিবেশ সংরক্ষণে UNEP-এর সর্বোচ্চ পুরস্কার); ২০১৫ সালে শেখ হাসিনা এই পুরস্কার গ্রহণ করেছিলেন।
বাংলাদেশের সম্পৃক্ততা | সাল | বিবরণ |
স্টকহোম সম্মেলনে অংশগ্রহণ | ১৯৭২ | বঙ্গবন্ধু সরাসরি অংশগ্রহণ |
UNFCCC অনুসমর্থন | ১৯৯৪ | জলবায়ু কনভেনশনে যোগদান |
কিয়োটো প্রোটোকল অনুসমর্থন | ২০০১ | জলবায়ু প্রটোকলে যোগদান |
BCCSAP গৃহীত | ২০০৯ | প্রথম জাতীয় জলবায়ু কৌশল |
CVF-এর প্রতিষ্ঠা ও সদস্যপদ | ২০০৯ | বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠাতা সদস্য |
BCCTF আইন | ২০১০ | অভ্যন্তরীণ জলবায়ু তহবিল |
CVF সভাপতিত্ব | ২০১১-২০১২ | বাংলাদেশের প্রথম সভাপতিত্ব |
চ্যাম্পিয়নস অফ দ্য আর্থ | ২০১৫ | শেখ হাসিনার পুরস্কার গ্রহণ (UNEP) |
প্যারিস চুক্তি অনুসমর্থন | ২০১৬ | NDC জমা |
Vehicle for V20 | ২০১৫ | V20 গ্রুপ প্রতিষ্ঠাতা |
বাংলাদেশ ডেল্টা প্ল্যান ২১০০ | ২০১৮ | ১০০-বছরের পরিকল্পনা |
CVF সভাপতিত্ব (২য়) | ২০২০-২০২২ | COP26 ও COP27-এ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা |
MCPP চালু | ২০২২ | মুজিব জলবায়ু সমৃদ্ধি পরিকল্পনা |
Loss & Damage Fund-এ ভূমিকা | ২০২২-২০২৩ | COP27 ও COP28-এ অগ্রণী কণ্ঠ |
NAP (National Adaptation Plan) | ২০২২ | জাতীয় অভিযোজন পরিকল্পনা |
প্রথম-সর্বোচ্চ-সর্বনিম্ন তথ্যকোষ
🏆 স্কেল-ভিত্তিক প্রভাব: "সর্ব-" তথ্য বৈশ্বিক উষ্ণতা বর্তমান: ১.১৪° সেলসিয়াস (১৮৫০-১৯০০-এর তুলনায়, IPCC AR6 ২০২৩) ২০২৪ সালে বৈশ্বিক উষ্ণতা: ১.৫৫° সেলসিয়াস (WMO ২০২৪); প্রথম বছর প্যারিস ১.৫°C সীমা অতিক্রম সমুদ্রপৃষ্ঠ বৃদ্ধি (১৯০১-২০১৮): ২০ সেন্টিমিটার (IPCC AR6) বর্তমান বৃদ্ধি হার: ৩.৭ মিলিমিটার/বছর (২০০৬-২০১৮); পূর্বের তিনগুণ CO2 ঘনত্ব ২০২৪: ৪২৬ ppm (Mauna Loa, NOAA); প্রাক-শিল্প ২৮০-এর ৫১% বৃদ্ধি সমুদ্র অম্লীকরণ: pH ৮.২১ → ৮.১০; ৩০% অম্লতা বৃদ্ধি মেরু বরফ গলন: গ্রিনল্যান্ড ৪.৭ ট্রিলিয়ন টন (১৯৯২-২০২৩); অ্যান্টার্কটিকা বার্ষিক ১৫০ বিলিয়ন টন বিলুপ্তির ঝুঁকিতে প্রজাতি: ১০ লক্ষ (IPBES ২০১৯); ষষ্ঠ মহা-বিলুপ্তি ওজোন স্তর পুনরুদ্ধার প্রক্ষেপণ: ২০৬৬ সাল (UNEP ২০২৩) বৈশ্বিকভাবে সর্বজন-অনুসমর্থিত একমাত্র পরিবেশ চুক্তি: মন্ট্রিয়েল প্রোটোকল ১৯৮৭ (১৯৮ সদস্য রাষ্ট্র) বৈশ্বিক বনভূমি ক্ষতি: বার্ষিক ১০ মিলিয়ন হেক্টর (FAO FRA 2020) HKH অন্তর্ভুক্ত দেশ: ৮টি; পৃথিবীর তৃতীয় মেরু; ১০টি প্রধান এশীয় নদীর উৎস বাংলাদেশ-ভারত সীমান্ত-অতিক্রমী নদী: ৫৪টি; গঙ্গা চুক্তি ১৯৯৬ বাংলাদেশ সমুদ্র এলাকা: ১,১৮,৮১৩ বর্গকিমি (ITLOS ২০১২ ও PCA ২০১৪) বঙ্গোপসাগর তাপমাত্রা বৃদ্ধি: ০.৬-০.৮° সেলসিয়াস (গত পাঁচ দশকে) বাংলাদেশের চ্যাম্পিয়নস অফ দ্য আর্থ: ২০১৫ সালে শেখ হাসিনা প্রাপ্ত (UNEP) CVF প্রতিষ্ঠাতা সদস্য: বাংলাদেশ; সভাপতিত্ব ২০১১-১২ ও ২০২০-২০২২ বিশ্বের সবচেয়ে দূষিত বাতাসের দেশ ২০২৪: বাংলাদেশ (IQAir World Air Quality Report ২০২৪) |
সাংবিধানিক ও SDG সংযোগ
বাংলাদেশের সংবিধানের ১৮ক অনুচ্ছেদ (১৫তম সংশোধনী, ২০১১) অনুযায়ী রাষ্ট্র "বর্তমান ও ভবিষ্যৎ নাগরিকদের জন্য পরিবেশ সংরক্ষণ ও উন্নয়ন করিবে, এবং প্রাকৃতিক সম্পদ, জীববৈচিত্র্য, জলাভূমি, বন ও বন্যপ্রাণীর সংরক্ষণ ও নিরাপত্তা বিধান করিবে।" এই বিধানটি স্থানীয় ও বৈশ্বিক উভয় স্তরের পরিবেশগত দায়িত্ব নির্ধারণ করে। জাতিসংঘের টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা (SDG ২০১৫-২০৩০) এই অনুচ্ছেদের আন্তর্জাতিক রূপান্তর।
SDG লক্ষ্যমাত্রা | স্কেল-প্রাসঙ্গিকতা | বাংলাদেশের অবস্থান |
SDG ৬: বিশুদ্ধ পানি ও স্যানিটেশন | স্থানীয় ও আঞ্চলিক | সীমান্ত-অতিক্রমী পানি বণ্টন, আর্সেনিক, লবণাক্ততা |
SDG ১১: টেকসই শহর | স্থানীয় | ঢাকা UHI, বায়ুদূষণ, যানজট |
SDG ১৩: জলবায়ু কর্মসূচি | বৈশ্বিক | CVF সভাপতিত্ব; প্যারিস চুক্তি |
SDG ১৪: জলজ জীবন | আঞ্চলিক ও বৈশ্বিক | বঙ্গোপসাগর; ITLOS; PCA |
SDG ১৫: স্থলজ জীবন | স্থানীয় থেকে বৈশ্বিক | সুন্দরবন; পার্বত্য বন; জীববৈচিত্র্য |
SDG ১৭: অংশীদারিত্ব | বৈশ্বিক | SAARC, BIMSTEC, V20, CVF |
SDG ২: ক্ষুধামুক্তি | স্থানীয় থেকে আঞ্চলিক | খাদ্য নিরাপত্তা ও কৃষি |
SDG ৭: সাশ্রয়ী জ্বালানি | বৈশ্বিক | ২০৪১-এ ৪০% নবায়নযোগ্য |
মনে রাখার কৌশল ও ট্রিকস
📌 কৌশল ১: তিন স্কেলের পরিচিতি "স্থানীয় = গ্রাম/উপজেলা/শহর", "আঞ্চলিক = দক্ষিণ এশিয়া/HKH/বঙ্গোপসাগর", "বৈশ্বিক = পৃথিবী/মেরু/বায়ুমণ্ডল"। সমাধানের পরিসর: স্থানীয় = অভিযোজন (Adaptation); আঞ্চলিক = সহযোগিতা (Cooperation); বৈশ্বিক = প্রশমন (Mitigation)। সূত্র: "A-C-M"। |
📌 কৌশল ২: HKH-এর ১০টি নদী মনে রাখা সংক্ষিপ্ত সূত্র: "গ-ব্র-সি-ই-মে-ই-সা-হ-আ-ত" অর্থাৎ গঙ্গা, ব্রহ্মপুত্র, সিন্ধু, ইয়াংসি, মেকং, ইরাবতী, সালুইন, হোয়াংহো, আমুদরিয়া, তরিম। এর মধ্যে গঙ্গা ও ব্রহ্মপুত্র বাংলাদেশে প্রবেশ করেছে; অন্যগুলো অন্য দেশে। |
📌 কৌশল ৩: বড় পরিবেশ চুক্তির সালক্রম "৭১ রামসার, ৭২ স্টকহোম, ৮৫ ভিয়েনা, ৮৭ মন্ট্রিয়েল, ৯২ রিও (UNFCCC, CBD), ৯৪ মরুকরণ, ৯৭ কিয়োটো, ২০১৫ প্যারিস-Sendai-SDG"। ১৯৯২ "রিও বছর" তিনটি বড় চুক্তি (UNFCCC, CBD, Agenda 21) মনে রাখার মূল চাবি। |
📌 কৌশল ৪: বৈশ্বিক সংস্থার সদর দপ্তর UNEP = নাইরোবি (একমাত্র UN সংস্থা যার সদর আফ্রিকায়); IPCC ও WMO = জেনেভা; UNFCCC = বন; IUCN ও WWF = সুইজারল্যান্ডের গ্ল্যান্ড; UNDRR = জেনেভা; Greenpeace = আমস্টারডাম। নিয়ম: জাতিসংঘ-সম্পৃক্ত প্রায় সবই জেনেভায়, ব্যতিক্রম UNEP (নাইরোবি)। |
📌 কৌশল ৫: পরিবেশ দিবস তারিখ "২ ফেব আর্দ্রভূমি, ২২ মার্চ পানি, ২২ এপ্রিল পৃথিবী, ২২ মে জীববৈচিত্র্য, ৫ জুন পরিবেশ, ১৭ জুন মরুকরণ, ১৬ সেপ্ট ওজোন, ১৩ অক্টো দুর্যোগ, ৫ ডিসে মাটি"। "২২ তারিখ পরিবেশের সংখ্যা": পানি, পৃথিবী, জীববৈচিত্র্য তিনটি দিবস ২২ তারিখে। |
বিশেষ নোট: পরীক্ষায় বিভ্রান্তিকর তথ্য
⚡ বিশেষ নোট ১: IPCC বনাম UNFCCC বনাম IPBES IPCC (১৯৮৮) = জলবায়ু বিজ্ঞান মূল্যায়ন প্যানেল (WMO ও UNEP)। UNFCCC (১৯৯২) = জলবায়ু কাঠামো কনভেনশন/চুক্তি। IPBES (২০১২) = জীববৈচিত্র্যের IPCC সমতুল্য, "Biodiversity IPCC" নামেও পরিচিত। প্রশ্নে "জলবায়ু চুক্তি" এলে UNFCCC; "বৈজ্ঞানিক মূল্যায়ন" এলে IPCC; "জীববৈচিত্র্য বিজ্ঞান" এলে IPBES। |
⚡ বিশেষ নোট ২: রিও সম্মেলনে গৃহীত তিন চুক্তি ১৯৯২ সালের রিও আর্থ সামিটে তিনটি দলিল গৃহীত: UNFCCC (জলবায়ু), CBD (জীববৈচিত্র্য) এবং Agenda 21 (২১শ শতাব্দীর কর্মসূচি)। UNCCD (মরুকরণ) ১৯৯৪ সালে প্যারিসে আলাদাভাবে গৃহীত। বিভ্রান্তিকর প্রশ্নে UNCCD-কে রিওতে গৃহীত হিসেবে দেখানো হয়, যা ভুল। |
⚡ বিশেষ নোট ৩: মন্ট্রিয়েল প্রোটোকল বনাম কিয়োটো প্রোটোকল মন্ট্রিয়েল প্রোটোকল ১৯৮৭ = ওজোন স্তর রক্ষা; CFC ও হ্যালন নিষিদ্ধ। কিয়োটো প্রোটোকল ১৯৯৭ = গ্রিনহাউস গ্যাস নিঃসরণ; CO2 ও মিথেন। মন্ট্রিয়েল সফল (২০৬৬-এ ওজোন পুনরুদ্ধার প্রক্ষেপণ); কিয়োটো সীমিত সাফল্য, প্যারিস চুক্তি ২০১৫ দ্বারা প্রতিস্থাপিত। |
⚡ বিশেষ নোট ৪: WHO pH বনাম সমুদ্র pH সমুদ্র জলের প্রাকৃতিক pH সামান্য ক্ষারীয় (পূর্বে ৮.২১, বর্তমান ৮.১০)। অম্লীকরণ মানে pH ক্ষারীয় থেকে কম-ক্ষারীয় হওয়া, পুরোপুরি অম্লীয় হয়ে যাওয়া নয়। ফলে "সমুদ্র অম্লীয় হয়ে যাচ্ছে" বাক্যটি বৈজ্ঞানিকভাবে অসম্পূর্ণ; সঠিক বাক্য "সমুদ্রের অম্লতা বৃদ্ধি পাচ্ছে" বা "ক্ষারীয়তা হ্রাস পাচ্ছে"। |
⚡ বিশেষ নোট ৫: বাংলাদেশ বনাম মালদ্বীপ জলবায়ু পরিবর্তনে সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ দেশ হিসেবে বাংলাদেশ ও মালদ্বীপ দুই-ই উল্লেখিত হয়। মালদ্বীপ সমুদ্রপৃষ্ঠ বৃদ্ধিতে অস্তিত্ব-ঝুঁকিতে (গড় উচ্চতা ১.৫ মিটার); বাংলাদেশ ১.৩ কোটি অভিবাসন প্রক্ষেপণে দক্ষিণ এশিয়ার শীর্ষে। দুইটির ঝুঁকির প্রকৃতি ভিন্ন। |
সতর্কতা: পরীক্ষায় ফাঁদ হিসেবে আসা জোড়া তথ্য
বিভ্রান্তিকর জোড়া | সঠিক ব্যাখ্যা |
UNEP বনাম UNFCCC | UNEP জাতিসংঘের পরিবেশ কর্মসূচি (১৯৭২, নাইরোবি); UNFCCC জলবায়ু চুক্তি (১৯৯২, বন)। |
IPCC বনাম IPBES | IPCC = জলবায়ু (১৯৮৮); IPBES = জীববৈচিত্র্য (২০১২)। |
ভিয়েনা বনাম মন্ট্রিয়েল | ভিয়েনা (১৯৮৫) কাঠামো কনভেনশন; মন্ট্রিয়েল (১৯৮৭) কার্যকর প্রোটোকল। |
কিয়োটো বনাম প্যারিস | কিয়োটো (১৯৯৭) কেবল উন্নত দেশের বাধ্যবাধকতা; প্যারিস (২০১৫) সকল দেশ NDC। |
রিও সামিট বনাম রিও+২০ | রিও সামিট ১৯৯২ = UNFCCC, CBD; রিও+২০ ২০১২ = সবুজ অর্থনীতি। |
UNFCCC বনাম CBD | UNFCCC জলবায়ু কনভেনশন; CBD জীববৈচিত্র্য কনভেনশন; দুটিই ১৯৯২ রিওতে। |
Agenda 21 বনাম Agenda 2030 | Agenda 21 = ১৯৯২ রিও; Agenda 2030 = ২০১৫ SDG। |
মন্ট্রিয়েল প্রোটোকল বনাম কিগালি সংশোধনী | মন্ট্রিয়েল ১৯৮৭ মূল; কিগালি ২০১৬ HFC-যুক্ত সংশোধনী। |
Hyogo বনাম Sendai | Hyogo ২০০৫-২০১৫, কোবে জাপান; Sendai ২০১৫-২০৩০, সেনদাই জাপান। |
SAARC বনাম BIMSTEC | SAARC ৮ দেশ (১৯৮৫, কাঠমান্ডু); BIMSTEC ৭ দেশ (১৯৯৭, ঢাকা)। |
ICIMOD বনাম BIMSTEC | ICIMOD ১৯৮৩ HKH-ভিত্তিক জ্ঞান কেন্দ্র; BIMSTEC ১৯৯৭ বঙ্গোপসাগর সহযোগিতা। |
গঙ্গা চুক্তি ১৯৯৬ বনাম তিস্তা ২০১১ | গঙ্গা চুক্তি স্বাক্ষরিত (৩০ বছর); তিস্তা আলোচনা চলমান, চুক্তি অস্বাক্ষরিত। |
ITLOS ২০১২ বনাম PCA ২০১৪ | ITLOS = বাংলাদেশ-মিয়ানমার ২০১২; PCA = বাংলাদেশ-ভারত ২০১৪। |
Loss & Damage Fund: COP27 বনাম COP28 | COP27 (২০২২, শারম এল-শেখ) ঘোষণা; COP28 (২০২৩, দুবাই) কার্যকর। |
CVF প্রতিষ্ঠা বনাম V20 | CVF ২০০৯ মালদ্বীপে (৫৮ সদস্য); V20 ২০১৫ লিমা (২০ ঝুঁকিপূর্ণ অর্থমন্ত্রী)। |
কেস স্টাডি: একটি স্কেল-সংযোগের উদাহরণ
⚠ কেস স্টাডি: ২০২২ পাকিস্তান বন্যা ও দক্ষিণ এশিয়ার আঞ্চলিক জলবায়ু-চাপ বৈশ্বিক প্রেক্ষাপট: ২০২২ সাল উত্তর গোলার্ধে অস্বাভাবিক উষ্ণ; IPCC AR6 চিহ্নিত মৌসুমি বায়ুর তীব্রতা বৃদ্ধি আঞ্চলিক ঘটনা: ২০২২ সালের জুন-আগস্টে পাকিস্তানে ৩০ বছরের গড় বৃষ্টিপাতের প্রায় ৩ গুণ বৃষ্টি; দেশের ৩৩% এলাকা প্লাবিত মৃত্যু ও ক্ষতিগ্রস্ত: ১,৭০০+ নিহত; ৩৩ মিলিয়ন আক্রান্ত; ২২০ লক্ষ গৃহহীন (NDMA পাকিস্তান) অর্থনৈতিক ক্ষতি: ~৩০ বিলিয়ন মার্কিন ডলার (World Bank ২০২৩); GDP-এর ৪.৮% বাংলাদেশের সমান্তরাল ঘটনা: ২০২২ মে-জুনে সিলেট-সুনামগঞ্জে ১২২ বছরের রেকর্ড বৃষ্টিপাত ও বন্যা স্থানীয় প্রকাশ: পাকিস্তানে সিন্ধু ও বেলুচিস্তানের গ্রাম; বাংলাদেশে সিলেটের কোম্পানীগঞ্জ ও জৈন্তাপুর বৈশ্বিক প্রতিক্রিয়া: COP27-এ ক্ষতিগ্রস্ত দেশগুলোর সম্মিলিত দাবিতে Loss & Damage Fund ঘোষণা শিক্ষা: একটি বৈশ্বিক ঘটনা (উষ্ণায়ন) একটি আঞ্চলিক ঘটনায় (মৌসুমি বায়ুর বিপর্যয়) রূপান্তরিত হয় এবং স্থানীয় বিপর্যয়ে প্রকাশ পায়; প্রতিকার তিন স্তরেই প্রয়োজন |
লিখিত পরীক্ষার জন্য বিশ্লেষণ
✍ লিখিত পরীক্ষার জন্য জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব তিনটি ভৌগোলিক স্কেলে পারস্পরিকভাবে যুক্ত: বৈশ্বিকভাবে বায়ুমণ্ডলে গ্রিনহাউস গ্যাস ঘনত্বের বৃদ্ধি ১.১৪° সেলসিয়াস উষ্ণতা সৃষ্টি করেছে, যা আঞ্চলিকভাবে দক্ষিণ এশিয়ার মৌসুমি বায়ুকে অস্থিতিশীল করে তুলেছে এবং স্থানীয়ভাবে শ্যামনগরের লবণাক্ততা, রাঙামাটির ভূমিধস কিংবা ঢাকার তাপদ্বীপের আকারে প্রকাশ পেয়েছে। এই বহু-স্তরীয় চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় প্রতিটি স্কেলে ভিন্ন প্রতিকার-কৌশল প্রয়োজন: বৈশ্বিক স্তরে UNFCCC, প্যারিস চুক্তি ও মন্ট্রিয়েল প্রোটোকলের মাধ্যমে নিঃসরণ-প্রশমন; আঞ্চলিক স্তরে SAARC, BIMSTEC, ICIMOD ও যৌথ নদী কমিশনের মাধ্যমে সহযোগিতা; এবং স্থানীয় স্তরে BCCSAP, ডেল্টা প্ল্যান ২১০০, MCPP ও কমিউনিটি-ভিত্তিক অভিযোজন। বাংলাদেশের বিশেষ অবস্থান নৈতিক ও কৌশলগত উভয় দিক থেকে গুরুত্বপূর্ণ: বৈশ্বিক GHG নিঃসরণের মাত্র ০.৪% অংশীদার হয়েও দেশটি জলবায়ু-ঝুঁকিতে শীর্ষ দশের একটি, এবং একই সাথে CVF সভাপতিত্ব, COP27-এ Loss & Damage Fund-এ অগ্রণী ভূমিকা ও ২০১৫-এর "চ্যাম্পিয়নস অফ দ্য আর্থ" পুরস্কারের মাধ্যমে বাংলাদেশ "জলবায়ু সুবিচারের" আন্তর্জাতিক কণ্ঠস্বরে পরিণত হয়েছে। |
বিগত পরীক্ষার প্রশ্ন
স্থানীয়, আঞ্চলিক ও বৈশ্বিক প্রভাব সম্পর্কিত প্রশ্নসমূহ বিগত BCS, ব্যাংক জব ও বিশ্ববিদ্যালয় ভর্তি পরীক্ষায় বিভিন্ন আঙ্গিকে এসেছে। বিষয়বস্তুর প্রবাহ অনুসারে চারটি উপশিরোনামে প্রশ্নগুলো সাজানো হলো।
স্থানীয় প্রভাব ও বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ ভৌগোলিক চাপ
প্রশ্ন: বাংলাদেশের সবচেয়ে দূষিত বাতাসের শহর কোনটি?
উত্তর: ঢাকা; IQAir ২০২৪ অনুযায়ী বাংলাদেশ বিশ্বে সবচেয়ে দূষিত বাতাসের দেশ।
প্রশ্ন: ঢাকার শহুরে তাপদ্বীপ (UHI) প্রভাবে কেন্দ্রস্থল গ্রামীণ আশেপাশের তুলনায় কত উষ্ণ?
উত্তর: ৪-৭° সেলসিয়াস (BUET-UDR ২০২৩)।
প্রশ্ন: বরেন্দ্র অঞ্চলে ভূগর্ভস্থ পানির স্তর প্রতি বছর কত মিটার নেমে যাচ্ছে?
উত্তর: ০.৫-১ মিটার (BMDA ২০২৩)।
প্রশ্ন: রাঙামাটি ভূমিধস ২০১৭-তে কতজন নিহত হন?
উত্তর: ১৫২ জন; দেশের ইতিহাসে সবচেয়ে প্রাণঘাতী ভূমিধস।
প্রশ্ন: ২০২৪ সালের আগস্টে চট্টগ্রাম-বান্দরবান বন্যা ও ভূমিধসে কতজন নিহত হন?
উত্তর: ৫৯ জন (DDM ২০২৪)।
প্রশ্ন: বাংলাদেশের কোন এলাকায় সর্বোচ্চ তাপমাত্রার রেকর্ড?
উত্তর: রাজশাহী; ৪৫.১° সেলসিয়াস, ১৯৭২ সালে।
প্রশ্ন: বাংলাদেশের কোন এলাকায় সর্বনিম্ন তাপমাত্রার রেকর্ড?
উত্তর: শ্রীমঙ্গল (মৌলভীবাজার), ১৯৬৮ সালে ২.৬° সেলসিয়াস; ২০১৮-তে তেতুলিয়ায় (পঞ্চগড়)।
প্রশ্ন: বাংলাদেশের সর্বাধিক বৃষ্টিপ্রবণ অঞ্চল কোনটি?
উত্তর: সিলেট-সুনামগঞ্জ অঞ্চল; লালাখাল ও সুনামগঞ্জে প্রায় ৫,০০০ মিলিমিটার বার্ষিক।
প্রশ্ন: বাংলাদেশের সর্বনিম্ন বৃষ্টিপ্রবণ অঞ্চল কোনটি?
উত্তর: রাজশাহী ও নাটোর; প্রায় ১,৪০০ মিলিমিটার।
প্রশ্ন: বাংলাদেশের কোন এলাকায় আকস্মিক বন্যা হয়?
উত্তর: পার্বত্য এলাকা; বিশেষত চট্টগ্রাম পার্বত্য জেলা ও সিলেট।
প্রশ্ন: ঢাকার ভূগর্ভস্থ পানির স্তর বার্ষিক কত মিটার নেমে যাচ্ছে?
উত্তর: ২-৩ মিটার (WASA ২০২৩)।
আঞ্চলিক প্রভাব ও সীমান্ত-অতিক্রমী বিষয়াবলী
প্রশ্ন: হিন্দুকুশ-হিমালয় (HKH) অঞ্চলে মোট কতটি দেশ অন্তর্ভুক্ত?
উত্তর: ৮টি; আফগানিস্তান, পাকিস্তান, ভারত, নেপাল, ভুটান, চীন, মিয়ানমার, বাংলাদেশ।
প্রশ্ন: HKH অঞ্চলকে কী নামে অভিহিত করা হয়?
উত্তর: পৃথিবীর তৃতীয় মেরু (Third Pole)।
প্রশ্ন: HKH থেকে কয়টি প্রধান এশীয় নদী উৎপন্ন?
উত্তর: ১০টি; গঙ্গা, ব্রহ্মপুত্র, সিন্ধু, ইয়াংসি, মেকং, ইরাবতী, সালুইন, হোয়াংহো, আমুদরিয়া, তরিম।
প্রশ্ন: ICIMOD-এর সদর দপ্তর কোথায়?
উত্তর: কাঠমান্ডু, নেপাল; প্রতিষ্ঠা ১৯৮৩।
প্রশ্ন: দক্ষিণ এশিয়ান আঞ্চলিক সহযোগিতা সংস্থা (SAARC) কখন প্রতিষ্ঠিত?
উত্তর: ১৯৮৫ সালে; সদর দপ্তর কাঠমান্ডু।
প্রশ্ন: SAARC-এর সদস্য কতটি?
উত্তর: ৮টি; বাংলাদেশ, ভারত, পাকিস্তান, নেপাল, ভুটান, শ্রীলঙ্কা, মালদ্বীপ, আফগানিস্তান।
প্রশ্ন: BIMSTEC কখন প্রতিষ্ঠিত?
উত্তর: ১৯৯৭ সালে; সদর দপ্তর ঢাকা, বাংলাদেশ।
প্রশ্ন: BIMSTEC-এর সদস্য কতটি?
উত্তর: ৭টি; বাংলাদেশ, ভারত, মিয়ানমার, শ্রীলঙ্কা, থাইল্যান্ড, ভুটান, নেপাল।
প্রশ্ন: বাংলাদেশ-ভারতের মধ্যে কতটি সীমান্ত-অতিক্রমী নদী?
উত্তর: ৫৪টি।
প্রশ্ন: গঙ্গা পানি বণ্টন চুক্তি কখন স্বাক্ষরিত হয়?
উত্তর: ১৯৯৬ সালে; ৩০ বছর মেয়াদি (২০২৬ সালে শেষ)।
প্রশ্ন: বাংলাদেশ-মিয়ানমার সমুদ্র সীমা রায় কে দিয়েছে এবং কখন?
উত্তর: আন্তর্জাতিক সমুদ্র আইন ট্রাইব্যুনাল (ITLOS), ২০১২ সালে।
প্রশ্ন: বাংলাদেশ-ভারত সমুদ্র সীমা রায় কে দিয়েছে এবং কখন?
উত্তর: স্থায়ী সালিশি আদালত (PCA), ২০১৪ সালে।
প্রশ্ন: বাংলাদেশের সামুদ্রিক এলাকার আয়তন কত?
উত্তর: ১,১৮,৮১৩ বর্গকিলোমিটার।
প্রশ্ন: বঙ্গোপসাগরের পৃষ্ঠতলীয় তাপমাত্রা গত পাঁচ দশকে কত বৃদ্ধি পেয়েছে?
উত্তর: ০.৬-০.৮° সেলসিয়াস।
প্রশ্ন: যৌথ নদী কমিশন (JRC) কখন গঠিত?
উত্তর: ১৯৭২ সালে; বাংলাদেশ-ভারত।
প্রশ্ন: ২০২২ পাকিস্তান বন্যায় কতজন আক্রান্ত হন?
উত্তর: ৩৩ মিলিয়ন; ১,৭০০+ নিহত।
বৈশ্বিক প্রভাব ও জলবায়ু বিজ্ঞান
প্রশ্ন: IPCC কোন সালে প্রতিষ্ঠিত হয়?
উত্তর: ১৯৮৮ সালে; WMO ও UNEP-এর যৌথ উদ্যোগে।
প্রশ্ন: IPCC-এর সদর দপ্তর কোথায়?
উত্তর: জেনেভা, সুইজারল্যান্ড।
প্রশ্ন: UNFCCC কোন সালে গৃহীত ও কোন সালে কার্যকর হয়?
উত্তর: গৃহীত ১৯৯২ (রিও), কার্যকর ১৯৯৪।
প্রশ্ন: UNFCCC-এর সদর দপ্তর কোথায়?
উত্তর: বন, জার্মানি।
প্রশ্ন: UNEP কোন সালে প্রতিষ্ঠিত ও সদর দপ্তর কোথায়?
উত্তর: ১৯৭২ সালে স্টকহোম সম্মেলনের ফল; সদর দপ্তর নাইরোবি, কেনিয়া।
প্রশ্ন: IPBES-এর পূর্ণরূপ কী?
উত্তর: Intergovernmental Science-Policy Platform on Biodiversity and Ecosystem Services; ২০১২ প্রতিষ্ঠিত।
প্রশ্ন: বৈশ্বিক উষ্ণতা ১৮৫০-১৯০০-এর তুলনায় কত বেড়েছে?
উত্তর: প্রায় ১.১৪° সেলসিয়াস (IPCC AR6 ২০২৩); ২০২৪ সালে এই মান ১.৫৫° সেলসিয়াস ছুঁয়েছে (WMO)।
প্রশ্ন: বায়ুমণ্ডলে CO2-এর বর্তমান ঘনত্ব কত?
উত্তর: ৪২৬ ppm (২০২৪, Mauna Loa, NOAA); প্রাক-শিল্প ২৮০ ppm।
প্রশ্ন: IPCC AR6 অনুযায়ী ১৯০১-২০১৮-তে সমুদ্রপৃষ্ঠ কত বেড়েছে?
উত্তর: ২০ সেন্টিমিটার।
প্রশ্ন: বর্তমান সমুদ্রপৃষ্ঠ বৃদ্ধির হার কত?
উত্তর: ৩.৭ মিলিমিটার/বছর (২০০৬-২০১৮); ১৯০১-৭১ সময়ের তিনগুণ।
প্রশ্ন: সমুদ্রপৃষ্ঠ ১ মিটার বাড়লে বাংলাদেশের কত শতাংশ এলাকা ডুবে যেতে পারে?
উত্তর: প্রায় ১৭ শতাংশ।
প্রশ্ন: সমুদ্রের গড় pH মান কত ছিল ও বর্তমানে কত?
উত্তর: ৮.২১ → ৮.১০; ৩০% অম্লতা বৃদ্ধি।
প্রশ্ন: বিলুপ্তির ঝুঁকিতে কত প্রজাতি আছে (IPBES ২০১৯)?
উত্তর: প্রায় ১০ লক্ষ; ষষ্ঠ মহা-বিলুপ্তি।
প্রশ্ন: ওজোন স্তর কোন স্তরে অবস্থিত?
উত্তর: স্ট্র্যাটোস্ফিয়ারে; ১৫-৩০ কিলোমিটার উচ্চতায়।
প্রশ্ন: ওজোন স্তর ক্ষয়ের জন্য দায়ী প্রধান গ্যাস কোনটি?
উত্তর: ক্লোরোফ্লুরোকার্বন (CFC)।
প্রশ্ন: ওজোন স্তর কখন পুনরুদ্ধারের প্রক্ষেপণ?
উত্তর: ২০৬৬ সাল (UNEP ২০২৩)।
প্রশ্ন: UNCCD-এর পূর্ণরূপ কী এবং কখন গৃহীত?
উত্তর: UN Convention to Combat Desertification; ১৯৯৪ সালে প্যারিসে; কার্যকর ১৯৯৬।
প্রশ্ন: Earth Day (পৃথিবী দিবস) কখন থেকে পালিত হয় এবং তারিখ কত?
উত্তর: ১৯৭০ সাল থেকে; ২২ এপ্রিল।
প্রশ্ন: বিশ্ব পরিবেশ দিবস কত তারিখে পালিত হয়?
উত্তর: ৫ জুন; UNEP কর্তৃক ১৯৭৪ থেকে।
প্রশ্ন: বিশ্ব ওজোন দিবস কত তারিখে?
উত্তর: ১৬ সেপ্টেম্বর; মন্ট্রিয়েল প্রোটোকল ১৯৮৭-এর স্মরণে।
প্রশ্ন: আন্তর্জাতিক দুর্যোগ প্রশমন দিবস কত তারিখে?
উত্তর: ১৩ অক্টোবর।
প্রশ্ন: বিশ্ব আর্দ্রভূমি দিবস কত তারিখে?
উত্তর: ২ ফেব্রুয়ারি; রামসার কনভেনশন ১৯৭১-এর স্মরণে।
প্রশ্ন: বিশ্ব জীববৈচিত্র্য দিবস কত তারিখে?
উত্তর: ২২ মে; CBD-এর স্মরণে।
আন্তর্জাতিক চুক্তি ও বাংলাদেশের বৈশ্বিক ভূমিকা
প্রশ্ন: রামসার কনভেনশন কখন ও কোথায় গৃহীত?
উত্তর: ১৯৭১ সালে; ইরানের রামসার শহরে।
প্রশ্ন: বাংলাদেশের কোনটি প্রথম রামসার সাইট?
উত্তর: সুন্দরবন; ১৯৯২ সালে।
প্রশ্ন: বাংলাদেশের দ্বিতীয় রামসার সাইট কোনটি?
উত্তর: টাঙ্গুয়ার হাওর; ২০০০ সালে।
প্রশ্ন: CITES কনভেনশন কোথায় ও কখন গৃহীত?
উত্তর: ওয়াশিংটনে, ১৯৭৩ সালে।
প্রশ্ন: ভিয়েনা কনভেনশন কোথায় ও কখন গৃহীত?
উত্তর: ভিয়েনা, অস্ট্রিয়া, ১৯৮৫ সালে।
প্রশ্ন: মন্ট্রিয়েল প্রোটোকল কখন ও কোথায় গৃহীত?
উত্তর: ১৯৮৭ সালে; মন্ট্রিয়েল, কানাডায়।
প্রশ্ন: মন্ট্রিয়েল প্রোটোকল কত সালে কার্যকর হয়?
উত্তর: ১৯৮৯ সালে।
প্রশ্ন: মন্ট্রিয়েল প্রোটোকলের কিগালি সংশোধনী কখন গৃহীত?
উত্তর: ২০১৬ সালে; কিগালি, রুয়ান্ডায়।
প্রশ্ন: ব্যাসেল কনভেনশন কী বিষয়ে?
উত্তর: বিপজ্জনক বর্জ্যের সীমান্ত-অতিক্রমী চলাচল নিয়ন্ত্রণ; ১৯৮৯ সালে।
প্রশ্ন: জীববৈচিত্র্য কনভেনশন (CBD) কখন ও কোথায় গৃহীত?
উত্তর: ১৯৯২ সালে; রিও ডি জেনেইরোতে।
প্রশ্ন: কিয়োটো প্রোটোকল কখন গৃহীত ও কখন কার্যকর হয়?
উত্তর: গৃহীত ১৯৯৭, কার্যকর ২০০৫।
প্রশ্ন: প্যারিস চুক্তি কোন COP-এ গৃহীত হয়?
উত্তর: COP21-এ; ২০১৫ সালে।
প্রশ্ন: প্যারিস চুক্তির বৈশ্বিক উষ্ণতা সীমিত রাখার লক্ষ্যমাত্রা কত?
উত্তর: ২° সেলসিয়াসের অনেক নিচে এবং সম্ভব হলে ১.৫° সেলসিয়াসের নিচে।
প্রশ্ন: বাংলাদেশ প্যারিস চুক্তি কখন অনুসমর্থন করেছে?
উত্তর: ২০১৬ সালে।
প্রশ্ন: Loss & Damage Fund কোন COP-এ ঘোষণা ও কোন COP-এ কার্যকর হয়?
উত্তর: COP27 (২০২২, শারম এল-শেখ)-এ ঘোষণা; COP28 (২০২৩, দুবাই)-এ কার্যকর।
প্রশ্ন: COP29 কোথায় অনুষ্ঠিত হয়?
উত্তর: ২০২৪ সালে বাকু, আজারবাইজানে।
প্রশ্ন: COP30 কোথায় অনুষ্ঠিত হবে?
উত্তর: ২০২৫ সালে বেলেম, ব্রাজিল।
প্রশ্ন: Hyogo Framework কোথায় ও কখন গৃহীত?
উত্তর: কোবে, জাপান; ২০০৫ সালে।
প্রশ্ন: Sendai Framework কোথায় ও কখন গৃহীত?
উত্তর: সেনদাই, জাপান; ২০১৫ সালে।
প্রশ্ন: Sendai Framework-এর মেয়াদ কত?
উত্তর: ২০১৫-২০৩০।
প্রশ্ন: Climate Vulnerable Forum (CVF) কখন ও কোথায় প্রতিষ্ঠিত?
উত্তর: ২০০৯ সালে মালদ্বীপে।
প্রশ্ন: বাংলাদেশ CVF-এর সভাপতিত্ব কখন পালন করেছে?
উত্তর: ২০১১-১২ এবং ২০২০-২০২২ সালে।
প্রশ্ন: মুজিব জলবায়ু সমৃদ্ধি পরিকল্পনা (MCPP) কখন গৃহীত?
উত্তর: ২০২২ সালে; CVF সভাপতিত্বে।
প্রশ্ন: "চ্যাম্পিয়নস অফ দ্য আর্থ" পুরস্কার কোন সংস্থা প্রদান করে?
উত্তর: UNEP; পরিবেশ সংরক্ষণে সর্বোচ্চ আন্তর্জাতিক পুরস্কার।
প্রশ্ন: বাংলাদেশের কোন প্রধানমন্ত্রী "চ্যাম্পিয়নস অফ দ্য আর্থ" পুরস্কার পেয়েছেন এবং কখন?
উত্তর: শেখ হাসিনা; ২০১৫ সালে।
প্রশ্ন: বাংলাদেশ ডেল্টা প্ল্যান ২১০০ কখন গৃহীত?
উত্তর: ২০১৮ সালে; ১০০ বছর মেয়াদি ব-দ্বীপ পরিকল্পনা।
প্রশ্ন: Stockholm Conference কখন অনুষ্ঠিত হয়েছিল?
উত্তর: ১৯৭২ সালে; UNEP-এর জন্ম।
প্রশ্ন: Bangladesh কোন সালে UNFCCC অনুসমর্থন করে?
উত্তর: ১৯৯৪ সালে।
চটজলদি রিভিশন
পরীক্ষার আগে দ্রুত পুনরাবৃত্তির জন্য এই অধ্যায়ের সকল মূল তথ্য নিচে ঘন বুলেট আকারে সাজানো হলো।
জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব তিন স্কেলে: স্থানীয় (Local), আঞ্চলিক (Regional), বৈশ্বিক (Global)।
সমাধানের পরিসর: স্থানীয় = অভিযোজন, আঞ্চলিক = সহযোগিতা, বৈশ্বিক = প্রশমন।
স্থানীয় প্রভাবের উদাহরণ: লবণাক্ততা, তাপদ্বীপ, ভূমিধস, খরা, নদীভাঙন।
আঞ্চলিক প্রভাবের উদাহরণ: হিমবাহ গলন, মৌসুমি বায়ু পরিবর্তন, ট্রান্স-বাউন্ডারি বন্যা।
বৈশ্বিক প্রভাবের উদাহরণ: বৈশ্বিক উষ্ণায়ন, সমুদ্রপৃষ্ঠ বৃদ্ধি, ওজোন ক্ষয়, জীববৈচিত্র্য বিলুপ্তি।
ঢাকা UHI প্রভাব: কেন্দ্রস্থল গ্রামীণ আশেপাশের তুলনায় ৪-৭° সেলসিয়াস উষ্ণ।
IQAir ২০২৪: বাংলাদেশ বিশ্বের সবচেয়ে দূষিত বাতাসের দেশ।
রাঙামাটি ভূমিধস ১৩ জুন ২০১৭: ১৫২ জন নিহত; দেশের ইতিহাসে সবচেয়ে প্রাণঘাতী।
২০২৪ আগস্ট চট্টগ্রাম-বান্দরবান ভূমিধস: ৫৯ জন নিহত (DDM)।
বরেন্দ্র ভূগর্ভস্থ পানি প্রতি বছর ০.৫-১ মিটার হ্রাস।
হিন্দুকুশ-হিমালয় (HKH) অঞ্চল = পৃথিবীর তৃতীয় মেরু; ৮টি দেশে বিস্তৃত।
HKH অন্তর্ভুক্ত দেশ: আফগানিস্তান, পাকিস্তান, ভারত, নেপাল, ভুটান, চীন, মিয়ানমার, বাংলাদেশ।
HKH থেকে ১০টি প্রধান এশীয় নদী: গঙ্গা, ব্রহ্মপুত্র, সিন্ধু, ইয়াংসি, মেকং, ইরাবতী, সালুইন, হোয়াংহো, আমুদরিয়া, তরিম।
ICIMOD প্রতিষ্ঠা ১৯৮৩; সদর দপ্তর কাঠমান্ডু, নেপাল।
SAARC ১৯৮৫, সদর দপ্তর কাঠমান্ডু; ৮ সদস্য।
BIMSTEC ১৯৯৭, সদর দপ্তর ঢাকা; ৭ সদস্য (বঙ্গোপসাগর দেশগুলো)।
গঙ্গা-ব্রহ্মপুত্র-মেঘনা (GBM) অববাহিকা: ১৭.২ লক্ষ বর্গকিমি; বাংলাদেশ, ভারত, নেপাল, ভুটান, চীন (তিব্বত)।
বাংলাদেশ-ভারত সীমান্ত-অতিক্রমী নদী: ৫৪টি; বাংলাদেশ-মিয়ানমার: ৩টি।
গঙ্গা পানি বণ্টন চুক্তি ১৯৯৬; ৩০ বছর মেয়াদি, ২০২৬-এ শেষ।
তিস্তা চুক্তি ২০১১ থেকে আলোচনা চলমান; অস্বাক্ষরিত।
যৌথ নদী কমিশন (JRC) ১৯৭২; বাংলাদেশ-ভারত।
বঙ্গোপসাগর সমুদ্র সীমা: বাংলাদেশ-মিয়ানমার ITLOS ২০১২; বাংলাদেশ-ভারত PCA ২০১৪।
বাংলাদেশের সামুদ্রিক এলাকা ১,১৮,৮১৩ বর্গকিমি।
বঙ্গোপসাগর তাপমাত্রা গত পাঁচ দশকে ০.৬-০.৮° সেলসিয়াস বৃদ্ধি।
২০২২ পাকিস্তান বন্যা: ৩৩ মিলিয়ন আক্রান্ত, ১,৭০০+ নিহত, ৩০ বিলিয়ন ডলার ক্ষতি।
বৈশ্বিক উষ্ণতা ১.১৪° সেলসিয়াস (IPCC AR6 ২০২৩, ১৮৫০-১৯০০-এর তুলনায়)।
২০২৪ সালে বৈশ্বিক উষ্ণতা ১.৫৫° সেলসিয়াস (WMO); প্রথমবার প্যারিস ১.৫°C সীমা অতিক্রম।
সমুদ্রপৃষ্ঠ বৃদ্ধি ১৯০১-২০১৮: ২০ সেমি (IPCC AR6)।
বর্তমান বৃদ্ধি হার: ৩.৭ মিমি/বছর; পূর্বের তিনগুণ।
সমুদ্রপৃষ্ঠ ১ মিটার বাড়লে বাংলাদেশের ১৭% এলাকা ডুবতে পারে।
গ্রিনল্যান্ড বরফ ১৯৯২-২০২৩-এ ৪.৭ ট্রিলিয়ন টন হ্রাস।
অ্যান্টার্কটিকা বার্ষিক ১৫০ বিলিয়ন টন বরফ হ্রাস।
আর্কটিক সমুদ্র বরফ প্রতি দশকে ১২.৬% হ্রাস (NSIDC)।
CO2 ঘনত্ব ২০২৪: ৪২৬ ppm; প্রাক-শিল্প ২৮০ ppm-এর ৫১% বৃদ্ধি।
সমুদ্র অম্লীকরণ: pH ৮.২১ → ৮.১০; ৩০% অম্লতা বৃদ্ধি।
গ্রেট ব্যারিয়ার রিফে অর্ধেকেরও বেশি প্রবাল ক্ষতিগ্রস্ত।
IPBES ২০১৯: ১০ লক্ষ প্রজাতি বিলুপ্তির ঝুঁকিতে; ষষ্ঠ মহা-বিলুপ্তি।
বৈশ্বিক বনভূমি ক্ষতি বার্ষিক ১০ মিলিয়ন হেক্টর (FAO FRA 2020)।
ওজোন স্তর স্ট্র্যাটোস্ফিয়ারে ১৫-৩০ কিমি উচ্চতায়; পুনরুদ্ধার প্রক্ষেপণ ২০৬৬।
মন্ট্রিয়েল প্রোটোকল ১৯৮৭ = বিশ্বের একমাত্র সর্বজন-অনুসমর্থিত পরিবেশ চুক্তি (১৯৮ সদস্য)।
রামসার কনভেনশন ১৯৭১; কার্যকর ১৯৭৫; বাংলাদেশ স্বাক্ষর ১৯৯২।
স্টকহোম কনফারেন্স ১৯৭২; UNEP প্রতিষ্ঠার ভিত্তি; বঙ্গবন্ধু অংশগ্রহণ।
CITES ১৯৭৩, ওয়াশিংটনে; বিপন্ন বন্যপ্রাণী বাণিজ্য নিয়ন্ত্রণ।
ভিয়েনা কনভেনশন ১৯৮৫; মন্ট্রিয়েল প্রোটোকল ১৯৮৭।
ব্যাসেল কনভেনশন ১৯৮৯; বিপজ্জনক বর্জ্য সীমান্ত-অতিক্রমী চলাচল।
UNFCCC ও CBD উভয়ই রিও ১৯৯২-তে গৃহীত; কার্যকর ১৯৯৪ ও ১৯৯৩।
UNCCD ১৯৯৪ প্যারিসে গৃহীত; মরুকরণ প্রতিরোধ।
কিয়োটো প্রোটোকল ১৯৯৭, কার্যকর ২০০৫।
প্যারিস চুক্তি ২০১৫ (COP21); ১.৫°C লক্ষ্য।
কিগালি সংশোধনী ২০১৬; HFC নিষিদ্ধকরণ।
Global Biodiversity Framework ২০২২ (COP15 CBD); ৩০% সংরক্ষণ ২০৩০।
High Seas Treaty (BBNJ) ২০২৩; উন্মুক্ত সমুদ্রের জীববৈচিত্র্য।
Hyogo Framework ২০০৫-২০১৫, কোবে; Sendai Framework ২০১৫-২০৩০, সেনদাই।
IPCC ১৯৮৮; WMO ও UNEP যৌথ; সদর জেনেভা।
IPBES ২০১২; "জীববৈচিত্র্যের IPCC"; সদর বন, জার্মানি।
UNEP সদর নাইরোবি, কেনিয়া (একমাত্র UN সংস্থা যার সদর আফ্রিকায়)।
UNFCCC সদর বন, জার্মানি; UNDRR সদর জেনেভা।
IUCN ১৯৪৮, গ্ল্যান্ড সুইজারল্যান্ড; রেড লিস্ট প্রকাশক।
WWF ১৯৬১, গ্ল্যান্ড; বৃহত্তম বেসরকারি সংরক্ষণ সংস্থা।
Greenpeace ১৯৭১, আমস্টারডাম।
বিশ্ব আর্দ্রভূমি দিবস ২ ফেব্রু; পানি দিবস ২২ মার্চ; পৃথিবী দিবস ২২ এপ্রিল।
জীববৈচিত্র্য দিবস ২২ মে; পরিবেশ দিবস ৫ জুন; মহাসাগর দিবস ৮ জুন।
মরুকরণ দিবস ১৭ জুন; ওজোন দিবস ১৬ সেপ্ট; দুর্যোগ দিবস ১৩ অক্টো।
COP গুরুত্বপূর্ণ: কিয়োটো (৩, ১৯৯৭); কোপেনহেগেন (১৫, ২০০৯); প্যারিস (২১, ২০১৫)।
COP গ্লাসগো (২৬, ২০২১); শারম এল-শেখ (২৭, ২০২২); দুবাই (২৮, ২০২৩); বাকু (২৯, ২০২৪); বেলেম (৩০, ২০২৫)।
Loss & Damage Fund COP27 ঘোষণা, COP28 কার্যকর।
CVF প্রতিষ্ঠা ২০০৯ মালদ্বীপ; ৫৮ সদস্য; বাংলাদেশ সভাপতি ২০১১-১২ ও ২০২০-২০২২।
V20 গ্রুপ ২০১৫; ২০ ঝুঁকিপূর্ণ অর্থমন্ত্রী; বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠাতা।
চ্যাম্পিয়নস অফ দ্য আর্থ ২০১৫; শেখ হাসিনা (UNEP)।
বাংলাদেশের প্যারিস চুক্তি অনুসমর্থন ২০১৬; NDC জমা।
বাংলাদেশ UNFCCC অনুসমর্থন ১৯৯৪; কিয়োটো অনুসমর্থন ২০০১।
BCCSAP গৃহীত ২০০৯; BCCTF আইন ২০১০; ডেল্টা প্ল্যান ২১০০ গৃহীত ২০১৮।
MCPP গৃহীত ২০২২; NAP গৃহীত ২০২২।
সংবিধান ১৮ক অনুচ্ছেদ (১৫তম সংশোধনী ২০১১) পরিবেশ সংরক্ষণ নির্দেশ দেয়।
সংশ্লিষ্ট SDG: ৬ (পানি), ১১ (শহর), ১৩ (জলবায়ু), ১৪ (জলজ), ১৫ (স্থলজ), ১৭ (অংশীদারিত্ব)।