✦ বাংলা সাহিত্য✦ শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় অপরাজেয় কথাশিল্পী — সমাজের দর্পণ |
১. জীবনী
মূল পরিচয়: • জন্ম: ১৫ সেপ্টেম্বর ১৮৭৬ — দেবানন্দপুর গ্রাম, হুগলি জেলা, পশ্চিমবঙ্গ • মৃত্যু: ১৬ জানুয়ারি ১৯৩৮ — কলকাতা (৬১ বছর বয়সে) • পিতা: মতিলাল চট্টোপাধ্যায় — লেখক কিন্তু আর্থিকভাবে অস্থির • মাতা: ভুবনমোহিনী দেবী • ছদ্মনাম: অনিলা দেবী — 'বড়দিদি' গল্প প্রথমে এই নামে প্রকাশিত • উপাধি: অপরাজেয় কথাশিল্পী • বার্মা প্রবাস: দীর্ঘদিন বার্মায় (রেঙ্গুন) বাস করেন — শ্রীকান্তের পটভূমি তৈরি হয়েছে এখান থেকে • রাজনৈতিক সংযোগ: স্বদেশী আন্দোলনে সক্রিয়। 'পথের দাবী' উপন্যাস ব্রিটিশ সরকার নিষিদ্ধ করেছিল • চলচ্চিত্র অবদান: তাঁর উপন্যাসগুলো সর্বাধিকবার ভারতীয় চলচ্চিত্রে রূপান্তরিত হয়েছে |
শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় বাংলা সাহিত্যের ইতিহাসে এক অনন্য মহীরুহ। তাঁর লেখায় বাংলার গ্রামীণ নারীর অন্তর্জীবন, তাদের বেদনা ও প্রতিরোধ, সমাজের অবিচার ও মানবিক মমতা — সব কিছু এত জীবন্ত যে পাঠক নিজেকে চরিত্রগুলোর সঙ্গে একাত্ম করে ফেলেন।
তাঁর সাহিত্যের বিশেষত্ব হলো — তিনি সমাজের প্রান্তিক মানুষদের — বিধবা নারী, গণিকা, দরিদ্র কৃষক — সকলকে মানবিক মর্যাদা দিয়েছেন। তাঁর কলম সর্বদা মানবতার পক্ষে।
সাহিত্যকর্মের পরিসংখ্যান: • উপন্যাস: ১৮টিরও বেশি (সম্পূর্ণ ও অসম্পূর্ণ সহ) • ছোটগল্প: প্রায় ৩০টি • প্রবন্ধ: নারী, সমাজ ও রাজনীতি বিষয়ক • নাটক: ময়নাপাগল, ষোড়শী • অনুবাদ: ভারতের ১৫টিরও বেশি ভাষায় — সর্বাধিক অনূদিত বাংলা লেখক • ১৯১৭ সালে একযোগে প্রকাশিত: দেবদাস, শ্রীকান্ত (১ম পর্ব), চরিত্রহীন, নিষ্কৃতি — একই বছরে! |
✦ বাংলা সাহিত্য ✦ উপন্যাস |
📖 বড়দিদি (১৯০৭) |
প্রকাশ: ভারতী পত্রিকা ১৯০৭ (ছদ্মনাম: অনিলা দেবী), গ্রন্থাকারে ১৯১৩ • মূলভাব: বৌদি-দেবরের পবিত্র সম্পর্ক ও সমাজের সন্দেহ |
👥 প্রধান চরিত্রসমূহ: • সুপ্রভা (বড়দিদি): কেন্দ্রীয় চরিত্র — বয়সে বড় বৌদি, দেবরকে মায়ের মতো ভালোবাসেন • সুরেন্দ্র: সুপ্রভার ছোট দেবর — সংবেদনশীল তরুণ • বিলাস: সুপ্রভার স্বামী — সন্দেহপ্রবণ, দুর্বলচিত্ত • সুরেশ: সুরেন্দ্রের বন্ধু |
'বড়দিদি' শরৎচন্দ্রের প্রথম প্রকাশিত উপন্যাস এবং তাঁর বাংলা সাহিত্যে প্রবেশের দরজা। প্রথমে 'অনিলা দেবী' ছদ্মনামে প্রকাশিত। এই উপন্যাসে সুপ্রভা নামের এক পরিণতবয়স্কা নারীর দেবর সুরেন্দ্রের প্রতি মাতৃসুলভ মমতার কথা বলা হয়েছে।
সুপ্রভা সুরেন্দ্রকে সন্তানের মতো স্নেহ করেন। কিন্তু সমাজ এই পবিত্র সম্পর্ককে সন্দেহের চোখে দেখে। সুপ্রভার স্বামী বিলাস নিজেও সন্দেহপ্রবণ — তিনি স্ত্রীর নিঃস্বার্থ মমতাকে বুঝতে পারেন না। সমাজের কুৎসা রটনা ও স্বামীর অবিশ্বাসের মাঝেও সুপ্রভা নিজের অবস্থানে অটল থাকেন।
উপন্যাসটির মূল বার্তা হলো — পারিবারিক সম্পর্কে মানবিক মমতাকে সমাজ সর্বদা সন্দেহের দৃষ্টিতে দেখে, কিন্তু সত্যিকারের স্নেহ কোনো সংজ্ঞায় আবদ্ধ নয়।
❝ সুরেন আমার ছেলের মতো। সমাজ যাই বলুক, মা কি সন্তানকে ভালোবাসতে পারে না? আমি যদি পারি, আমি বড়দিদি নই। ❞ — সুপ্রভা — বড়দিদি |
💡 মূলভাব ও থিম: • বৌদি-দেবরের পবিত্র পারিবারিক সম্পর্ক • সমাজের কুৎসা ও মিথ্যা সংশয় • মাতৃত্বের বিশালতা • স্বামীর অবিশ্বাস ও নারীর দৃঢ়তা |
🔥 ট্রিকি তথ্য ও বিশেষ নোট • প্রথম উপন্যাস: বড়দিদি (১৯০৭) = ছদ্মনাম অনিলা দেবী। • ভারতী পত্রিকায় প্রকাশ: ১৯০৭ সালে, গ্রন্থাকারে ১৯১৩। |
📖 বিরাজ বৌ (১৯১৪) |
প্রকাশ: যমুনা পত্রিকা ১৯১৪ • মূলভাব: স্বামীর অবিচার ও নারীর আত্মমর্যাদার লড়াই |
👥 প্রধান চরিত্রসমূহ: • বিরাজ: কেন্দ্রীয় চরিত্র — পতিভক্তা কিন্তু আত্মমর্যাদাসম্পন্ন নারী • নীলাম্বর: বিরাজের স্বামী — দুর্বলচিত্ত, অন্যের প্ররোচনায় প্রভাবিত • নন্দ: নীলাম্বরের বন্ধু — ষড়যন্ত্রকারী, বিরাজের শত্রু • অন্নদা: নীলাম্বরের মা — শাশুড়ি, বিরাজের প্রতি বিদ্বেষী |
'বিরাজ বৌ' নারীর আত্মসম্মান ও অনিচ্ছাকৃত বিচ্ছেদের বেদনার অসাধারণ উপাখ্যান। বিরাজ স্বামী নীলাম্বরের প্রতি একনিষ্ঠ ও পতিব্রতা। কিন্তু বন্ধু নন্দের ষড়যন্ত্র ও শাশুড়ি অন্নদার বিদ্বেষে তিনি সংসার থেকে বিতাড়িত হন।
নীলাম্বর দুর্বলচিত্ত — তিনি সত্য জানেন, কিন্তু বাইরের চাপে নতি স্বীকার করেন। বিরাজ গৃহ ছেড়ে যান, কিন্তু স্বামীর প্রতি ভালোবাসা বিসর্জন দেন না। তিনি নিজের মর্যাদাও রক্ষা করেন।
উপন্যাসের শেষে বিরাজের পরিণতি ট্র্যাজিক। তিনি সমাজ ও পরিবারের অবিচারের শিকার হয়ে নিজের জীবনের সুখ থেকে বঞ্চিত হন। শরৎচন্দ্র এখানে স্পষ্ট দেখিয়েছেন — নারীর কোনো অপরাধ না থাকলেও সমাজ তাকে দণ্ড দেয়।
❝ আমি মাথা নোয়াব না। যে অন্যায় আমি করিনি, তার জন্য ক্ষমা চাইব না। স্বামীকে ভালোবাসি, কিন্তু মিথ্যা মেনে নেব না। ❞ — বিরাজ — বিরাজ বৌ |
❝ তুমি তোমার স্ত্রীকে চিনলে না, নীলাম্বর। এই অপরাধের শাস্তি তুমি পাবে। কিন্তু আমি নই। ❞ — বিরাজ — বিরাজ বৌ |
💡 মূলভাব ও থিম: • পতিভক্তি ও আত্মমর্যাদার সহাবস্থান • শ্বশুরকুলের অবিচার • পুরুষের দুর্বলতা • অন্যায়ের বিরুদ্ধে নারীর নীরব প্রতিবাদ |
📖 পরিণীতা (১৯১৪) |
প্রকাশ: ভারতবর্ষ পত্রিকা ১৯১৪ • মূলভাব: বাল্যপ্রেম, দারিদ্র্য ও হৃদয়ের স্থায়ী বন্ধন |
👥 প্রধান চরিত্রসমূহ: • শৈলবালা (শৈলী): নায়িকা — প্রতিবেশী দরিদ্র পরিবারের মেয়ে, শেখরের শৈশবের সাথী • শেখর: নায়ক — উচ্চমধ্যবিত্ত পরিবারের ছেলে, শৈলকে হৃদয় দিয়ে ভালোবাসে • গুরুচরণ: শৈলর পিতা — দরিদ্র কিন্তু মর্যাদাসম্পন্ন মানুষ • নবীনচন্দ্র: ধনী প্রতিবেশী — অর্থের বিনিময়ে শৈলকে বিয়ে করেন • চন্দ্রার মা: শেখরের মা — শ্রেণিসচেতন, শৈলর বিয়েতে বাধা |
'পরিণীতা' শরৎচন্দ্রের সবচেয়ে জনপ্রিয় ও বহুলচর্চিত উপন্যাসগুলোর একটি। শেখর ও শৈলর শৈশবের প্রেম — এই মিষ্টি সম্পর্ক থেকেই উপন্যাসের শুরু।
শেখরের পরিবার উচ্চমধ্যবিত্ত, শৈলর পরিবার দরিদ্র। শ্রেণিবৈষম্যের কারণে শেখরের পক্ষে শৈলকে বিয়ে করা সামাজিকভাবে সম্ভব নয়। অর্থের প্রয়োজনে শৈলর বাবা গুরুচরণ বাধ্য হন মেয়েকে ধনী নবীনচন্দ্রের কাছে বিয়ে দিতে।
নবীনচন্দ্রের মৃত্যুর পর শৈল বিধবা হন। শেখর এখন শৈলকে বিয়ে করতে চান, কিন্তু সমাজের মিথ্যা নৈতিকতা তাদের পথ আটকে দাঁড়ায়। শৈল নিজে কখনো নিজেকে নবীনচন্দ্রের স্ত্রী মনে করেননি — তিনি সবসময় হৃদয়ে শেখরকে ধরে রেখেছেন।
শেষ পর্যন্ত শেখর বুঝতে পারেন — 'পরিণীতা' মানে প্রকৃত অর্থে বিবাহিতা নারী। শৈল তার মন দিয়ে সেই থেকেই তার পরিণীতা। সামাজিক বিবাহ তার পরিচয় নির্ধারণ করে না।
❝ শেখরদা, আমি তোমার। যেদিন থেকে তুমি আমার মনে ঢুকেছ, সেদিন থেকে আমি পরিণীতা। নবীনচন্দ্রের বাড়িতে ছিলাম, কিন্তু তোমার ছিলাম। ❞ — শৈলবালা — পরিণীতা |
❝ সমাজ বলছে তুমি অন্যের। কিন্তু আমার হৃদয় বলছে — শৈল শুধু আমার। কার কথা মানব? ❞ — শেখর — পরিণীতা |
💡 মূলভাব ও থিম: • শ্রেণিবৈষম্য ও প্রেমের সংঘাত • বাল্যপ্রেমের স্থায়িত্ব ও অবিনশ্বরতা • সামাজিক বিবাহ বনাম হৃদয়ের প্রকৃত বন্ধন • বিধবা নারীর অধিকার ও পুনর্বিবাহ |
🔥 ট্রিকি তথ্য ও বিশেষ নোট • পরিণীতা অর্থ: বিবাহিতা নারী। শৈল হৃদয়ে শেখরের পরিণীতা। • চলচ্চিত্র: বলিউডে একাধিকবার 'পরিণীতা' চলচ্চিত্র হয়েছে। • প্রকাশ: ১৯১৪ — বিরাজ বৌ-র মতো একই বছরে। |
📖 পল্লীসমাজ (১৯১৬) |
প্রকাশ: ভারতবর্ষ পত্রিকা ১৯১৫-১৬ • মূলভাব: গ্রামীণ সমাজের শোষণ ও পরিবর্তনের স্বপ্ন |
👥 প্রধান চরিত্রসমূহ: • রমেশ: নায়ক — শহরে লেখাপড়া শেষে গ্রামে ফেরা, পরিবর্তনের স্বপ্নদ্রষ্টা • রমা: নায়িকা — গ্রামের মেয়ে, বেণীর বোন, রমেশকে ভালোবাসে • বেণী ঘোষাল: রমার দাদা — স্বার্থান্বেষী জমিদার, গ্রামের প্রধান অত্যাচারী • রামলাল: গরিব মানুষের প্রতিনিধি • গ্রামের অন্যান্যরা: পল্লী জীবনের বিভিন্ন স্তরের মানুষ |
'পল্লীসমাজ' শরৎচন্দ্রের সামাজিক সচেতনতামূলক উপন্যাসগুলোর মধ্যে বিশেষ স্থান অধিকারী। রমেশ শহরে উচ্চশিক্ষা শেষ করে নিজের গ্রামে ফেরে। সে দেখতে পায় গ্রামের মানুষ কীভাবে জমিদার বেণীর শোষণে পিষ্ট হচ্ছে।
রমেশ গ্রামে পরিবর্তন আনতে চায়। রমার সাথে তার প্রেম জন্মায়। কিন্তু রমার দাদা বেণী ঘোষাল — ক্ষমতাধর ও স্বার্থান্বেষী জমিদার — এই সম্পর্কে বাধা দেন। পল্লীসমাজের অভ্যন্তরীণ রাজনীতি, জাতিভেদ, শোষণ এবং এর বিরুদ্ধে প্রতিরোধ উপন্যাসের মূল বিষয়।
উপন্যাসে শরৎচন্দ্র দেখিয়েছেন — গ্রামীণ সমাজকে বদলাতে হলে ভেতর থেকে শুরু করতে হয়। বাইরে থেকে কেবল সমালোচনা করলে হয় না।
❝ এই সমাজকে বদলাতে হবে, কিন্তু ভেতর থেকে বদলাতে হবে। বাইরে থেকে আঘাত করলে সমাজ ভাঙে, বদলায় না। ❞ — রমেশ — পল্লীসমাজ |
💡 মূলভাব ও থিম: • গ্রামীণ সমাজের শোষণ ও বিভেদ • জমিদারি প্রথার নিষ্ঠুরতা • শিক্ষিত তরুণের গ্রামসংস্কারের স্বপ্ন • পল্লিজীবনের জীবন্ত ও বিশ্বস্ত চিত্র |
📖 বৈকুণ্ঠের উইল (১৯১৬) |
প্রকাশ: ভারতবর্ষ পত্রিকা ১৯১৬ • মূলভাব: সম্পত্তির উইল ঘিরে পারিবারিক প্রহসন |
'বৈকুণ্ঠের উইল' শরৎচন্দ্রের হাস্যরসাত্মক উপন্যাস। বৈকুণ্ঠ নামক এক ব্যক্তির মৃত্যুর পর তার সম্পত্তির উইল নিয়ে পরিবারে এক মহা বিভ্রান্তি ও দ্বন্দ্বের সৃষ্টি হয়। শরৎচন্দ্র এখানে বাঙালি মধ্যবিত্ত পরিবারের সম্পত্তি-লালসা ও ভণ্ডামির তীক্ষ্ণ ব্যঙ্গচিত্র এঁকেছেন।
উপন্যাসে যারা বৈকুণ্ঠের জীবদ্দশায় তাকে সামান্য মনে করত, মৃত্যুর পর তারাই তার সম্পত্তির জন্য লড়াই করে। এই হাস্যকর কিন্তু তীব্র বাস্তবতার চিত্রণে শরৎচন্দ্রের সমাজ-পর্যবেক্ষণ শক্তির প্রমাণ মেলে।
💡 মূলভাব ও থিম: • সম্পত্তি-লালসার বিরুদ্ধে হাস্যরসাত্মক সমালোচনা • মধ্যবিত্ত পরিবারের ভণ্ডামি ও স্বার্থপরতা • মৃত্যুর পর মানুষের প্রকৃত রূপ |
📖 অরক্ষণীয়া (১৯১৬) |
প্রকাশ: যমুনা পত্রিকা ১৯১৬ • মূলভাব: নিরাপত্তাহীন নারীর অসহায়ত্ব ও সংগ্রাম |
👥 প্রধান চরিত্রসমূহ: • কুন্তী: নায়িকা — 'অরক্ষণীয়া' অর্থাৎ যে নারীর কোনো রক্ষক নেই, অনাথপ্রায় • জগদীশ: কুন্তীর দেবর — সহানুভূতিশীল, সাহায্যকারী • শ্বশুর-শাশুড়ি: পরিবারের বয়োজ্যেষ্ঠরা — কুন্তীর প্রতি নিষ্ঠুর |
'অরক্ষণীয়া' শব্দের অর্থ — যে নারীকে রক্ষা করা যায় না বা যার কোনো রক্ষক নেই। কুন্তী একজন বিধবা নারী যিনি শ্বশুরবাড়িতে অনাদর ও অবহেলার মধ্যে দিন কাটান।
সমাজ তাঁকে 'অরক্ষণীয়া' বলে — অর্থাৎ এমন নারী যাকে রাখা বা রক্ষা করা সম্ভব নয়। শরৎচন্দ্র এই উপন্যাসে দেখিয়েছেন সমাজ কীভাবে বিধবা নারীকে বোঝা মনে করে এবং তার অসহায়তার সুযোগ নেয়। কুন্তীর সংগ্রাম এবং পরিশেষে তার পরিস্থিতি পাঠককে গভীরভাবে ভাবায়।
💡 মূলভাব ও থিম: • বিধবা নারীর নিরাপত্তাহীনতা • পরিবারের নিষ্ঠুরতা • সমাজের প্রান্তিক নারীর অস্তিত্বের লড়াই |
📖 দেবদাস (১৯১৭) |
প্রকাশ: যমুনা পত্রিকা ১৯১৭ • মূলভাব: প্রেম-বিচ্ছেদ ও আত্মধ্বংসের কালজয়ী ট্র্যাজেডি |
👥 প্রধান চরিত্রসমূহ: • দেবদাস: নায়ক — ধনী জমিদার পরিবারের সন্তান, প্রেম হারিয়ে মদের দিকে ঝোঁকে • পার্বতী (পারো): নায়িকা — দেবদাসের শৈশবের প্রেমিকা, দরিদ্র কিন্তু মানবী • চন্দ্রমুখী: গণিকা — দেবদাসের শেষ আশ্রয়, নিঃস্বার্থ ভালোবাসার প্রতীক • ধর্মদাস: দেবদাসের পিতা — কঠোর, শ্রেণিসচেতন • মুরারি: দেবদাসের বন্ধু |
'দেবদাস' বাংলা সাহিত্যের সবচেয়ে বিখ্যাত, বহুলচর্চিত ও বহুবার চলচ্চিত্রায়িত উপন্যাস। শরৎচন্দ্র অল্প বয়সে এটি লেখেন, কিন্তু প্রকাশিত হয় অনেক পরে।
দেবদাস ও পারোর শৈশবের প্রেম গভীর ও সত্যিকারের। কিন্তু দেবদাসের ধনী পরিবার দরিদ্র পারোকে পুত্রবধূ হিসেবে মেনে নিতে রাজি নয়। পারো অন্যত্র বিয়ে হয়ে চলে যান। দেবদাস এই আঘাত সামলাতে পারে না।
মদের আশ্রয় নেয় দেবদাস। কলকাতায় গিয়ে গণিকা চন্দ্রমুখীর সাথে পরিচিত হয়। চন্দ্রমুখী দেবদাসকে নিঃস্বার্থভাবে ভালোবাসেন। তিনি গণিকা হলেও তার হৃদয়ে এক মহান মানবী বাস করেন।
দেবদাস ক্রমশ মদের নেশায় ডুবে যায়, স্বাস্থ্য নষ্ট হয়। মৃত্যুর আগে সে শেষবারের মতো পারোকে দেখতে চায়। পারোর দরজার সামনে সে মৃত্যুবরণ করে — এই ট্র্যাজিক পরিণতি বাংলা সাহিত্যের অন্যতম হৃদয়বিদারক দৃশ্য।
❝ পারো, তুমি কি জানো — তোমাকে ভুলতে চেষ্টা করেছি। পারিনি। তোমার স্মৃতিকে মদ দিয়ে ডুবিয়ে দিতে চেয়েছি। পারিনি। হয়তো এটাই আমার শাস্তি। ❞ — দেবদাস |
❝ আমি গণিকা, কিন্তু আমার হৃদয় আছে। দেবদাস, তুমি ধনীর ঘরের ছেলে, কিন্তু তোমার চেয়ে আমি বেশি ভালোবাসতে পারি। ❞ — চন্দ্রমুখী — দেবদাস |
❝ আমি নষ্ট হয়ে গেছি, পারো। কিন্তু তোমাকে নষ্ট করিনি। এইটুকু গর্ব আমার বাকি আছে। ❞ — দেবদাস |
💡 মূলভাব ও থিম: • শ্রেণিবৈষম্যের কারণে প্রেম-বিচ্ছেদ • দুর্বল ইচ্ছাশক্তির আত্মধ্বংস • গণিকার মানবিক ভালোবাসা — সমাজের প্রচলিত ধারণার বিরুদ্ধে • পারো (সংসারী প্রেম) বনাম চন্দ্রমুখী (নিঃস্বার্থ প্রেম) • মাতাল বুদ্ধিজীবীর ট্র্যাজেডি |
🔥 ট্রিকি তথ্য ও বিশেষ নোট • দেবদাস ট্রিক: পারো (সত্যিকার প্রেম) + চন্দ্রমুখী (নিঃস্বার্থ প্রেম) + মদ = ধ্বংস। • চলচ্চিত্রে সর্বাধিক: দেবদাস = ভারতীয় চলচ্চিত্রের সর্বাধিক রূপান্তরিত বাংলা উপন্যাস। • পারোর পূর্ণ নাম: পার্বতী — 'পারো' ডাকনাম। • লেখার বয়স: মাত্র ১৭-১৮ বছর বয়সে লেখা, প্রকাশিত ১৯১৭-তে। |
📖 চরিত্রহীন (১৯১৭) |
প্রকাশ: ভারতবর্ষ পত্রিকা ১৯১৭ • মূলভাব: 'চরিত্রহীন' কে — ব্যক্তি না সমাজ? |
👥 প্রধান চরিত্রসমূহ: • সতীশ: নায়ক — ভালো মনের মানুষ, কিন্তু সমাজের ভয়ে কাপুরুষ • সাবিত্রী: নায়িকা — বিধবা, সমাজ তাকে 'চরিত্রহীন' বলে • দিবাকর: সাবিত্রীর জীবনে আসা অন্য পুরুষ • কিরণ: সতীশের সামাজিকভাবে মনোনীত স্ত্রী |
'চরিত্রহীন' শরৎচন্দ্রের সবচেয়ে সাহসী ও সামাজিকভাবে সমালোচিত উপন্যাস। এর প্রশ্নটি মৌলিক — 'চরিত্রহীন' কে? সমাজ যাকে চরিত্রহীন বলে, সে কি সত্যিই চরিত্রহীন? নাকি সেই সমাজটাই চরিত্রহীন?
সাবিত্রী বিধবা নারী। সমাজ তাঁকে ঘৃণা করে এবং 'চরিত্রহীন' তকমা দেয়। কিন্তু সাবিত্রীর ভেতরে আছে একজন পূর্ণ মানুষের হৃদয় — স্বপ্ন, আকাঙ্ক্ষা ও ভালোবাসার অধিকার।
সতীশ তাঁকে ভালোবাসে, কিন্তু সমাজের ভয়ে পিছিয়ে যায়। এই পুরুষের কাপুরুষতাই উপন্যাসের মূল ট্র্যাজেডির কারণ। শরৎচন্দ্র দেখান — সমাজের মিথ্যা নৈতিকতা মানুষকে কতটা ক্ষুদ্র করে দেয়।
❝ তুমি সমাজকে ভয় পাও। আমি না। সমাজ আমাকে চরিত্রহীন বলে? তাহলে আমি জানতে চাই — সমাজের চরিত্র কতটুকু? ❞ — সাবিত্রী — চরিত্রহীন |
💡 মূলভাব ও থিম: • সমাজের মিথ্যা নৈতিকতার বিরুদ্ধে প্রতিবাদ • বিধবা নারীর মানবিক অধিকার • পুরুষের কাপুরুষতা ও নৈতিক দুর্বলতা • 'চরিত্র' ধারণার পুনর্বিচার |
📖 শ্রীকান্ত (১৯১৭-১৯৩৩ (চার পর্বে)) |
প্রকাশ: যমুনা পত্রিকা ও অন্যান্য — চার পর্বে দীর্ঘ যাত্রা • মূলভাব: বাংলা সাহিত্যের শ্রেষ্ঠ আত্মজৈবনিক পরিব্রাজক উপন্যাস |
চার পর্বের প্রকাশসাল: • ১ম পর্ব: ১৯১৭ — ইন্দ্রনাথের সঙ্গে পরিচয়, অভিমান্যু বৈরাগীর আশ্রম, রাজলক্ষ্মীর সঙ্গে প্রথম দেখা। • ২য় পর্ব: ১৯১৮ — বার্মায় গমন, রাজলক্ষ্মীর সঙ্গে পুনর্মিলন, সুনন্দার সঙ্গে পরিচয়। • ৩য় পর্ব: ১৯২৭ — পরিব্রাজক শ্রীকান্তের ভারতময় ভ্রমণ, নানা চরিত্রের সঙ্গে পরিচয়। • ৪র্থ পর্ব: ১৯৩৩ — পরিপূর্ণতার সন্ধান, রাজলক্ষ্মীর কাছে প্রত্যাবর্তন। |
👥 প্রধান চরিত্রসমূহ: • শ্রীকান্ত: বর্ণনাকারী ও নায়ক — পরিব্রাজক, জীবনের সন্ধানী; শরৎচন্দ্রের নিজের প্রতিচ্ছবি • ইন্দ্রনাথ: শ্রীকান্তের শৈশবের দুঃসাহসী বন্ধু — অ্যাডভেঞ্চারের প্রতীক • রাজলক্ষ্মী (পিয়ারী): সবচেয়ে জটিল চরিত্র — গণিকা থেকে বৈরাগিণী, শ্রীকান্তের জীবনের কেন্দ্রবিন্দু • অন্নদাদিদি: শ্রীকান্তের শৈশবের প্রেম — প্রথম হৃদয়স্পর্শী স্মৃতি • সুনন্দা: দ্বিতীয় পর্বের গুরুত্বপূর্ণ সংবেদনশীল নারীচরিত্র • অভিমান্যু বৈরাগী: সন্ন্যাসী — জীবনদর্শনের শিক্ষক |
'শ্রীকান্ত' শরৎচন্দ্রের সবচেয়ে দীর্ঘ, সবচেয়ে আত্মজৈবনিক এবং বহু পণ্ডিতের মতে সবচেয়ে শ্রেষ্ঠ রচনা। এটি চার পর্বে রচিত — ১৬ বছরের দীর্ঘ রচনা-যাত্রা। শ্রীকান্ত একজন পরিব্রাজক — সে জীবনে নানা জায়গায় ঘুরে, নানা মানুষের সাথে পরিচিত হয়, বিচিত্র অভিজ্ঞতা সঞ্চয় করে।
রাজলক্ষ্মী বা পিয়ারী এই উপন্যাসের সবচেয়ে জটিল ও আকর্ষণীয় চরিত্র। সমাজে তিনি গণিকা হিসেবে পরিচিত, কিন্তু তার ভেতরে আছে এক মহৎ মানবিক সত্তা। তিনি পরবর্তীতে গভীরভাবে ধার্মিক হয়ে ওঠেন।
শ্রীকান্তের সাথে রাজলক্ষ্মীর সম্পর্ক বহু মাত্রার — প্রেম, বন্ধুত্ব, মাতৃত্ব, আধ্যাত্মিক সংযোগ। এই জটিল সম্পর্কের স্বরূপ নির্ণয় পাঠকের কাছে এক অনন্য সাহিত্যিক অভিজ্ঞতা।
শরৎচন্দ্র এই উপন্যাসে তাঁর নিজের বার্মা-প্রবাসের অভিজ্ঞতা, সেখানকার মানুষ ও পরিবেশ, জীবনের নানা দর্শন — সব কিছু শ্রীকান্তের মাধ্যমে ঢেলে দিয়েছেন।
❝ জীবন মানে কেবল বেঁচে থাকা নয়। জীবন মানে অনুভব করা, ভালোবাসা, কষ্ট পাওয়া। যে মানুষ এই তিনটি জানে না, সে কি সত্যিই বেঁচে আছে? ❞ — শ্রীকান্ত — শ্রীকান্ত |
❝ রাজলক্ষ্মী, তুমি যাই হও না কেন। সমাজ তোমাকে যা-ই বলুক না কেন। তুমি আমার কাছে তুমিই। এর বেশি আর কিছু জানতে চাই না। ❞ — শ্রীকান্ত — শ্রীকান্ত |
❝ ইন্দ্রনাথ বলত — পৃথিবীতে ভয় পাওয়ার কিছু নেই। শুধু ভয় পেলে হয়। আমি তখন বুঝিনি। এখন বুঝি — সে ঠিকই বলেছিল। ❞ — শ্রীকান্ত — শ্রীকান্ত |
💡 মূলভাব ও থিম: • আত্মজৈবনিক পরিব্রাজকের জীবন-অনুসন্ধান • গণিকা ও সাধুর মানবিক মিলন — সামাজিক বাধার বাইরে • প্রেম, বন্ধুত্ব, মাতৃত্ব — একটি সম্পর্কের বহু মাত্রা • বার্মা ও ভারতের জীবন্ত চিত্র • জীবন-দর্শনের গভীর অনুসন্ধান |
🔥 ট্রিকি তথ্য ও বিশেষ নোট • শ্রীকান্ত = শরৎচন্দ্রের সর্বশ্রেষ্ঠ: অনেকের মতে সর্বশ্রেষ্ঠ রচনা। • চার পর্ব ট্রিক: ১৭ — ১৮ — ২৭ — ৩৩ (১৯১৭, ১৯১৮, ১৯২৭, ১৯৩৩)। • রাজলক্ষ্মী: গণিকা → বৈরাগিণী = সমাজের লেবেলের বাইরে প্রকৃত মানুষ। • আত্মজৈবনিক: শরৎচন্দ্রের বার্মা-প্রবাসের ছায়া। |
📖 নিষ্কৃতি (১৯১৭) |
প্রকাশ: ভারতবর্ষ পত্রিকা ১৯১৭ • মূলভাব: পারিবারিক বন্ধন থেকে মুক্তির পথ |
👥 প্রধান চরিত্রসমূহ: • রমেশ: নায়ক — পারিবারিক দায়বদ্ধতায় আবদ্ধ • বিনোদিনী: নারীচরিত্র — মুক্তির অন্বেষণী |
'নিষ্কৃতি' শব্দের অর্থ মুক্তি বা ছাড়া পাওয়া। উপন্যাসে শরৎচন্দ্র দেখিয়েছেন পারিবারিক ও সামাজিক বন্ধন থেকে মুক্তির আকাঙ্ক্ষা। কিন্তু সত্যিকারের নিষ্কৃতি কি সম্ভব? নাকি মানুষ পারিবারিক সম্পর্কের জালে চিরতরে আবদ্ধ? এই প্রশ্নের অনুসন্ধানই উপন্যাসের মূল সুর।
💡 মূলভাব ও থিম: • পারিবারিক দায়িত্ব বনাম ব্যক্তিস্বাধীনতা • মুক্তির অন্বেষণ • বন্ধন ও মুক্তির দ্বন্দ্ব |
📖 দত্তা (১৯১৮) |
প্রকাশ: ভারতবর্ষ পত্রিকা ১৯১৮ • মূলভাব: উত্তরাধিকার ও নারীর স্বনির্ভরতার আখ্যান |
👥 প্রধান চরিত্রসমূহ: • বিজয়া: নায়িকা — শক্তিশালী, স্বনির্ভর নারী, সম্পদের অধিকারিণী • নরেন: নায়ক — বিজয়ার প্রেমিক, দরিদ্র কিন্তু উদার • ভুবনেশ্বরী: বিজয়ার মা — পরিবারের কর্তী |
'দত্তা' উপন্যাসে বিজয়া একটি অনন্য শক্তিশালী নারীচরিত্র। সে সম্পত্তির উত্তরাধিকারী এবং নিজের সিদ্ধান্ত নিজে নেওয়ার ক্ষমতা রাখে। নরেনকে সে ভালোবাসে, কিন্তু কারো চাপে পড়ে সিদ্ধান্ত পরিবর্তন করার পাত্রী নয়।
শরৎচন্দ্র এই উপন্যাসে দেখিয়েছেন — যে নারী নিজের পথ বেছে নিতে পারে, সমাজ তাকে সম্মান করুক বা না করুক, সে আত্মসম্মান হারায় না।
❝ আমার সম্পত্তি আমার। আমার ভালোবাসাও আমার। কাউকে তা অনুমতি নিয়ে বিলোতে হবে না। ❞ — বিজয়া — দত্তা |
💡 মূলভাব ও থিম: • নারীর সম্পদ-অধিকার ও স্বনির্ভরতা • প্রেম ও ব্যক্তিত্বের সহাবস্থান • সমাজের চাপের বিরুদ্ধে নারীর স্বাধীন সিদ্ধান্ত |
📖 গৃহদাহ (১৯২০) |
প্রকাশ: উপাসনা পত্রিকা ১৯২০ • মূলভাব: প্রেম-ত্রিভুজ ও গৃহসংসারের আগুন |
👥 প্রধান চরিত্রসমূহ: • অচলা: কেন্দ্রীয় নারীচরিত্র — সুরেশকে ভালোবেসে মহিমকে বিয়ে করেন • সুরেশ: অচলার প্রাক্তন প্রেমিক — ধনী, আত্মকেন্দ্রিক, ভোগবাদী • মহিম: অচলার স্বামী — দরিদ্র কিন্তু মহানুভব ও উদার হৃদয়ের মানুষ |
'গৃহদাহ' শরৎচন্দ্রের একটি মনস্তাত্ত্বিকভাবে সমৃদ্ধ উপন্যাস। 'গৃহদাহ' অর্থ গৃহে আগুন লাগা — শারীরিক ও মানসিক উভয় অর্থেই।
অচলা সুরেশকে ভালোবাসেন, কিন্তু সুরেশ আত্মকেন্দ্রিক ও ভোগবাদী। পরিস্থিতির চাপে অচলা দরিদ্র মহিমকে বিয়ে করেন। কিন্তু বিয়ের পরও সুরেশ অচলার জীবনে হস্তক্ষেপ করতে থাকে।
মহিম সত্য জানেন — তাঁর স্ত্রীর মন অন্যত্র। কিন্তু তিনি অচলাকে ভালোবাসেন, তাই তাঁকে আশ্রয় দেন। মহিমের এই উদারতা তাঁকে উপন্যাসের সবচেয়ে মহৎ চরিত্র করে তোলে।
শেষমেশ অচলা বুঝতে পারেন — আত্মকেন্দ্রিক সুরেশ নয়, মহানুভব মহিমই তাঁর প্রকৃত আশ্রয়। গৃহের আগুন নেভে, কিন্তু অনেক কিছু পুড়ে ছাই হয়ে যায়।
❝ তুমি ধনী, সুন্দর, শিক্ষিত। কিন্তু মহিমের মতো হৃদয় তোমার নেই। হৃদয়হীন মানুষ দিয়ে সংসার হয় না। ❞ — অচলা — গৃহদাহ |
❝ আমি জানি তোমার মন অন্যত্র। তবুও তুমি আমার। আমি তোমাকে ভালোবাসি — এটাই সত্য। ❞ — মহিম — গৃহদাহ |
💡 মূলভাব ও থিম: • প্রেম-ত্রিভুজের মনস্তাত্ত্বিক বিশ্লেষণ • স্বার্থপর প্রেম বনাম নিঃস্বার্থ ভালোবাসা • গার্হস্থ্য সংকট ও নারীর অবস্থান • মহানুভবতার জয় |
📖 দেনাপাওনা (১৯২৩) |
প্রকাশ: পত্রিকায় ১৯২৩ • মূলভাব: সমাজের দেনা ও পাওনার অসম হিসেব |
👥 প্রধান চরিত্রসমূহ: • ষোড়শী: নায়িকা — অবহেলিত কিন্তু মর্যাদাসম্পন্ন নারী • জিতেন্দ্র: নায়ক — দ্বিচারী, নিজের স্বার্থে মত্ত • হারান বাবু: সমাজের প্রতিনিধি চরিত্র |
'দেনাপাওনা' উপন্যাসে শরৎচন্দ্র সমাজের একটি মৌলিক অসাম্যকে সামনে আনেন। সমাজ নারীর কাছে কতটা নেয় আর কতটুকু ফিরিয়ে দেয়? ষোড়শী একজন নারী যিনি সমাজকে সব দিয়েছেন — নিজের যৌবন, শক্তি, সেবা — কিন্তু বিনিময়ে পেয়েছেন অবজ্ঞা।
জিতেন্দ্র দ্বিচারী — একদিকে ষোড়শীর কাছ থেকে উপকার নেন, অন্যদিকে তাকে সামাজিকভাবে স্বীকার করেন না। এই দেনা ও পাওনার অসম হিসেবই উপন্যাসের মূল বার্তা।
💡 মূলভাব ও থিম: • নারীর শ্রম ও ত্যাগের অস্বীকৃতি • সমাজের দ্বিচারী মনোভাব • প্রাপ্তি ও বঞ্চনার অসম সম্পর্ক |
📖 পথের দাবী (১৯২৬) |
প্রকাশ: গ্রন্থাকারে ১৯২৬ (ব্রিটিশ সরকার কর্তৃক নিষিদ্ধ) • মূলভাব: স্বদেশপ্রেম, বিপ্লব ও জাতীয় জাগরণের আখ্যান |
👥 প্রধান চরিত্রসমূহ: • সব্যসাচী মল্লিক (ডক্টর রায়): কেন্দ্রীয় চরিত্র — আদর্শবাদী বিপ্লবী, বৈদ্যনাথ ভট্টাচার্যের ছদ্মনামে পরিচিত • অপূর্ব: নায়ক — রেঙ্গুনে চাকরিরত সাধারণ বাঙালি, সব্যসাচীর সংস্পর্শে বদলে যায় • সুমিত্রা: নায়িকা — দেশপ্রেমিক পরিবারের মেয়ে • গিরীশ মহাপাত্র: অপূর্বর সহকর্মী • রামদাস তলোয়ারকর: বিপ্লবী দলের সক্রিয় সদস্য |
'পথের দাবী' শরৎচন্দ্রের একমাত্র রাজনৈতিক উপন্যাস এবং তাঁর সবচেয়ে বিতর্কিত রচনা। ব্রিটিশ সরকার এটি নিষিদ্ধ করেছিল। উপন্যাসের মূল বিষয় — স্বাধীনতার জন্য বিপ্লবের পথ।
সব্যসাচী একজন আদর্শবাদী বিপ্লবী। তিনি দেশের স্বাধীনতার জন্য সব ছেড়েছেন। বিভিন্ন ছদ্মনামে ঘুরে বেড়াচ্ছেন, ব্রিটিশ পুলিশ তাঁকে খুঁজছে।
বার্মায় (রেঙ্গুন) কর্মরত সাধারণ সরকারি কর্মচারী অপূর্ব সব্যসাচীর সংস্পর্শে আসে। ধীরে ধীরে সে বুঝতে পারে — দেশের স্বাধীনতার জন্য কাজ করাই জীবনের সত্যিকারের 'পথের দাবী'।
উপন্যাসে রহস্য, রোমাঞ্চ ও দেশপ্রেমের অপূর্ব মিশেল। সব্যসাচী কেবল বিপ্লবী নন — তিনি একজন দার্শনিকও। তাঁর চিন্তাভাবনা কেবল দেশ নয়, মানুষের প্রতি গভীর মমতাকেও অন্তর্ভুক্ত করে।
❝ দেশকে ভালোবাসাটা বড় কথা নয়। দেশের জন্য কিছু করাটা বড় কথা। বড় বড় কথা বলা সহজ। কিন্তু পথে নামা কঠিন। সেই কঠিন পথের দাবীটাই আমি মানি। ❞ — সব্যসাচী — পথের দাবী |
❝ আমরা বিপ্লবী। কিন্তু আমরা মানুষ। মানুষের রক্ত ঝরানো আমাদের লক্ষ্য নয়। মানুষের মুক্তিই আমাদের পথের দাবী। ❞ — সব্যসাচী — পথের দাবী |
💡 মূলভাব ও থিম: • ব্রিটিশবিরোধী স্বাধীনতা আন্দোলন • আদর্শবাদী বিপ্লবীর অনন্য চিত্রণ • সাধারণ মানুষের দেশপ্রেম জাগ্রত হওয়ার কাহিনি • রহস্য ও রোমাঞ্চের আবরণে গভীর সামাজিক বার্তা |
🔥 ট্রিকি তথ্য ও বিশেষ নোট • নিষিদ্ধ উপন্যাস: পথের দাবী — ব্রিটিশ সরকার ১৯২৬ সালে নিষিদ্ধ ঘোষণা করে। • একমাত্র রাজনৈতিক: শরৎচন্দ্রের একমাত্র রাজনৈতিক উপন্যাস। • সব্যসাচী: বিপ্লবীর ছদ্মনাম = বৈদ্যনাথ ভট্টাচার্য বা ডক্টর রায়। • পটভূমি: বার্মা (রেঙ্গুন) — শরৎচন্দ্রের নিজস্ব অভিজ্ঞতার ক্ষেত্র। |
📖 শেষ প্রশ্ন (১৯৩১) |
প্রকাশ: উপাসনা পত্রিকা ১৯৩০-৩১ • মূলভাব: আধুনিক নারীর স্বাধীন সত্তার জয়গান |
👥 প্রধান চরিত্রসমূহ: • কমল: নায়িকা — অসাধারণ ব্যক্তিত্বসম্পন্ন স্বাধীনচেতা আধুনিক নারী • অজিত: নায়ক — শিক্ষিত কিন্তু প্রচলিত সংস্কারে আবদ্ধ • শিবনাথ: অজিতের বন্ধু — বিদ্যান্বেষী, কমলের দর্শনে আগ্রহী |
'শেষ প্রশ্ন' শরৎচন্দ্রের অন্যতম আধুনিক ও দার্শনিক উপন্যাস। কমল একটি অনন্য চরিত্র — স্বাধীনচেতা, মেধাবী, সমাজের প্রচলিত নিয়মকে প্রশ্ন করতে দ্বিধাহীন।
উপন্যাসে মূল প্রশ্ন — প্রেম ও স্বাধীনতা কি একসাথে থাকতে পারে? কমল মনে করেন পারে। অজিত মনে করে প্রেম মানে সমর্পণ। কমলের কাছে প্রেম মানে দুজন স্বাধীন মানুষের সমমর্যাদার সম্পর্ক।
'শেষ প্রশ্ন' কী? জীবনের শেষ পর্যন্ত এই প্রশ্নটি থেকেই যায় — মানুষ কি সত্যিকারের ভালোবাসায় নিজেকে বিলিয়ে দিতে পারে, নাকি নিজেকে রক্ষা করতেই থাকে?
❝ প্রেম যদি স্বাধীনতা কেড়ে নেয়, তাহলে তা প্রেম নয় — শৃঙ্খল। আমি ভালোবাসি, কিন্তু নিজেকে হারাই না। এই পার্থক্যটুকু না বুঝলে তুমি আমার 'শেষ প্রশ্নের' উত্তর পাবে না। ❞ — কমল — শেষ প্রশ্ন |
💡 মূলভাব ও থিম: • আধুনিক নারীর স্বাধীন সত্তা ও আত্মপরিচয় • প্রেম ও ব্যক্তিস্বাধীনতার সহাবস্থান • প্রচলিত সমাজকাঠামোকে প্রশ্নোচ্চারণ • সমমর্যাদার প্রেমের দাবি |
📖 বিপ্রদাস (১৯৩৫) |
প্রকাশ: পত্রিকায় ১৯৩৫ • মূলভাব: আদর্শ ও বাস্তবতার চিরন্তন সংঘাত |
'বিপ্রদাস' উপন্যাসে একজন আদর্শবাদী মানুষের সংগ্রামের কথা। বিপ্রদাস সততা ও নৈতিকতার পথে চলতে গিয়ে বারবার প্রতিবন্ধকতার মুখে পড়েন। কিন্তু তিনি আপোষ করেন না। শরৎচন্দ্রের জীবনের শেষ দিকের দার্শনিক পরিপক্কতার ছাপ এই উপন্যাসে স্পষ্ট।
💡 মূলভাব ও থিম: • আদর্শ ও বাস্তবতার দ্বন্দ্ব • নৈতিকতার পথে অটুট থাকার সংগ্রাম • সমাজের সাথে আপোষহীনতা |
📖 শেষের পরিচয় (১৯৩৯ (মরণোত্তর, অসম্পূর্ণ)) |
প্রকাশ: শরৎচন্দ্রের মৃত্যুর পর প্রকাশিত • মূলভাব: জীবনের শেষ প্রান্তে পরিচয়ের সন্ধান |
'শেষের পরিচয়' শরৎচন্দ্রের মরণোত্তর প্রকাশিত অসম্পূর্ণ উপন্যাস। ১৯৩৮ সালের জানুয়ারিতে লেখকের মৃত্যু হওয়ায় তিনি এটি শেষ করতে পারেননি। ১৯৩৯ সালে প্রকাশিত হয়।
উপন্যাসে জীবনের শেষ পর্যায়ে মানুষ যে পরিচয় খোঁজে — তার সত্যিকারের পরিচয় কী, জীবনে সে কতটুকু অর্জন করেছে, কাদের কাছে সে কতটুকু পরিচিত — এই অন্বেষণই মূল সুর।
🔥 ট্রিকি তথ্য ও বিশেষ নোট • মরণোত্তর: শেষের পরিচয় (১৯৩৯) = মৃত্যুর পর প্রকাশিত + অসম্পূর্ণ। |
✦ বাংলা সাহিত্য ✦ MCQ প্রশ্নব্যাংক শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় |
অংশ-১: জীবনী ও পরিচয়
নং | প্রশ্ন | উত্তর |
1 | শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের জন্ম কত সালে? | ১৫ সেপ্টেম্বর ১৮৭৬ |
2 | শরৎচন্দ্রের জন্মস্থান কোথায়? | দেবানন্দপুর, হুগলি জেলা, পশ্চিমবঙ্গ |
3 | শরৎচন্দ্রের মৃত্যু কত সালে? | ১৬ জানুয়ারি ১৯৩৮ |
4 | শরৎচন্দ্রের উপাধি কী? | অপরাজেয় কথাশিল্পী |
5 | শরৎচন্দ্রের ছদ্মনাম কী? | অনিলা দেবী |
6 | 'অনিলা দেবী' ছদ্মনামে কোন উপন্যাস প্রথম প্রকাশিত? | বড়দিদি |
7 | শরৎচন্দ্রের প্রথম প্রকাশিত উপন্যাস কোনটি? | বড়দিদি (১৯০৭) |
8 | শরৎচন্দ্র কোন দেশে প্রবাসী জীবন কাটিয়েছিলেন? | বার্মায় (রেঙ্গুন) |
9 | শরৎচন্দ্রের পিতার নাম কী? | মতিলাল চট্টোপাধ্যায় |
10 | শরৎচন্দ্রের কোন উপন্যাস ব্রিটিশ সরকার নিষিদ্ধ করেছিল? | পথের দাবী |
অংশ-২: উপন্যাস
নং | প্রশ্ন | উত্তর |
1 | 'দেবদাস' কত সালে প্রকাশিত? | ১৯১৭ সাল (যমুনা পত্রিকায়) |
2 | দেবদাসের নায়িকার পূর্ণ নাম কী? | পার্বতী — ডাকনাম পারো |
3 | দেবদাস উপন্যাসে গণিকা চরিত্রের নাম কী? | চন্দ্রমুখী |
4 | 'শ্রীকান্ত' কত পর্বে রচিত? | চার পর্বে (১৯১৭, ১৯১৮, ১৯২৭, ১৯৩৩) |
5 | 'পথের দাবী' কত সালে প্রকাশিত? | ১৯২৬ সাল |
6 | 'পথের দাবী'-র কেন্দ্রীয় বিপ্লবী চরিত্রের নাম? | সব্যসাচী মল্লিক (ডক্টর রায়) |
7 | 'পরিণীতা'-র নায়িকার নাম কী? | শৈলবালা (শৈলী) |
8 | 'পরিণীতা'-র নায়কের নাম কী? | শেখর |
9 | 'গৃহদাহ'-র কেন্দ্রীয় নারীচরিত্র কে? | অচলা |
10 | 'শেষের পরিচয়' কত সালে প্রকাশিত? | ১৯৩৯ (মরণোত্তর) |
11 | শরৎচন্দ্রের একমাত্র রাজনৈতিক উপন্যাস কোনটি? | পথের দাবী |
12 | 'বৈকুণ্ঠের উইল' কোন ধরনের উপন্যাস? | হাস্যরসাত্মক |
13 | 'বিরাজ বৌ'-র নায়িকার স্বামীর নাম কী? | নীলাম্বর |
14 | 'পল্লীসমাজ'-এ বিরোধী চরিত্র কে? | বেণী ঘোষাল |
15 | 'শেষ প্রশ্ন'-র নায়িকার নাম কী? | কমল |
অংশ-৩: চরিত্র ও উক্তি সম্পর্কিত
নং | প্রশ্ন | উত্তর |
1 | 'অরক্ষণীয়া' শব্দের অর্থ কী? | যে নারীর রক্ষক নেই / যাকে রক্ষা করা সম্ভব নয় |
2 | শ্রীকান্ত উপন্যাসে রাজলক্ষ্মীর অপর নাম কী? | পিয়ারী |
3 | দেবদাস উপন্যাসে পারোর পূর্ণ নাম কী? | পার্বতী |
4 | 'গৃহদাহ'-এ মহিমের চরিত্রের বৈশিষ্ট্য কী? | দরিদ্র কিন্তু মহানুভব ও উদার হৃদয়ের মানুষ |
5 | সব্যসাচী 'পথের দাবী'-তে কোন কোন ছদ্মনামে পরিচিত? | ডক্টর রায়, বৈদ্যনাথ ভট্টাচার্য |
6 | 'চরিত্রহীন'-এ সমাজ কার বিরুদ্ধে 'চরিত্রহীন' তকমা দেয়? | সাবিত্রীর বিরুদ্ধে (বিধবা নারী) |
7 | 'পরিণীতা'-তে শৈলের বিয়ে কার সাথে হয়? | ধনী নবীনচন্দ্রের সাথে |
8 | 'বড়দিদি'-তে সুপ্রভার দেবরের নাম কী? | সুরেন্দ্র |
9 | 'দত্তা' উপন্যাসের নায়িকার নাম কী? | বিজয়া |
10 | শরৎচন্দ্রের মরণোত্তর উপন্যাস কোনটি? | শেষের পরিচয় (১৯৩৯) |
✦ বাংলা সাহিত্য✦ বিখ্যাত উক্তি ও চূড়ান্ত সারসংক্ষেপ শরৎচন্দ্রের অমর বাণী |
শরৎচন্দ্রের বিখ্যাত উক্তিসমূহ
❝ মানুষ কখনো ছোট হয় না। সমাজ মানুষকে ছোট করে। ❞ — শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় |
❝ ভালোবাসা কাউকে ছোট করে না। যে ভালোবাসা মানুষকে ছোট করে, সে ভালোবাসা নয় — সেটা দাসত্ব। ❞ — শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় |
❝ নারীকে অবমাননা করা মানে মানবতাকে অবমাননা করা। ❞ — শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় |
❝ যে সমাজ নারীকে অন্যায়ভাবে দণ্ড দেয়, সেই সমাজের নৈতিকতা নিয়ে প্রশ্ন উঠবেই। ❞ — শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় |
উপন্যাস ও প্রকাশসাল
• বড়দিদি → ১৯০৭ (ভারতী পত্রিকা) → ছদ্মনাম: অনিলা দেবী → প্রথম উপন্যাস • বিরাজ বৌ → ১৯১৪ (যমুনা পত্রিকা) → নীলাম্বর ও বিরাজ • পরিণীতা → ১৯১৪ (ভারতবর্ষ পত্রিকা) → শেখর ও শৈলী • পল্লীসমাজ → ১৯১৬ (ভারতবর্ষ পত্রিকা) → রমেশ, রমা, বেণী ঘোষাল • বৈকুণ্ঠের উইল → ১৯১৬ (ভারতবর্ষ পত্রিকা) → হাস্যরসাত্মক • অরক্ষণীয়া → ১৯১৬ (যমুনা পত্রিকা) → কুন্তী • চরিত্রহীন → ১৯১৭ (ভারতবর্ষ পত্রিকা) → সতীশ ও সাবিত্রী • দেবদাস → ১৯১৭ (যমুনা পত্রিকা) → পারো ও চন্দ্রমুখী • শ্রীকান্ত (১ম) → ১৯১৭ → ২য়:১৯১৮ → ৩য়:১৯২৭ → ৪র্থ:১৯৩৩ • নিষ্কৃতি → ১৯১৭ (ভারতবর্ষ পত্রিকা) • দত্তা → ১৯১৮ (ভারতবর্ষ পত্রিকা) → বিজয়া • গৃহদাহ → ১৯২০ (উপাসনা পত্রিকা) → অচলা, সুরেশ, মহিম • দেনাপাওনা → ১৯২৩ → ষোড়শী • পথের দাবী → ১৯২৬ (নিষিদ্ধ) → সব্যসাচী • শেষ প্রশ্ন → ১৯৩১ (উপাসনা পত্রিকা) → কমল • বিপ্রদাস → ১৯৩৫ • শেষের পরিচয় → ১৯৩৯ (মরণোত্তর, অসম্পূর্ণ) |
🔥 ট্রিকি তথ্য ও বিশেষ নোট ★ চূড়ান্ত ট্রিক শীট: • জন্ম-মৃত্যু: ১৮৭৬-১৯৩৮ — ৬১ বছর বয়সে মৃত্যু। • প্রথম উপন্যাস: বড়দিদি (১৯০৭) = অনিলা দেবী ছদ্মনামে। • উপাধি: অপরাজেয় কথাশিল্পী। • নিষিদ্ধ উপন্যাস: পথের দাবী (১৯২৬) = ব্রিটিশ সরকার নিষিদ্ধ করে। • দেবদাস ট্রিক: পারো (শৈশবের প্রেম) + চন্দ্রমুখী (গণিকা) + মদ = আত্মধ্বংস। • শ্রীকান্ত পর্ব: ১৭-১৮-২৭-৩৩ (১৯১৭, ১৯১৮, ১৯২৭, ১৯৩৩)। • মরণোত্তর: শেষের পরিচয় (১৯৩৯) = অসম্পূর্ণ। • ১৯১৭ সাল: দেবদাস + শ্রীকান্ত + চরিত্রহীন + নিষ্কৃতি — সব একই বছরে! • ১৯১৪ সাল: বিরাজ বৌ + পরিণীতা — দুটিই ১৯১৪। • সর্বাধিক চলচ্চিত্র: দেবদাস = ভারতীয় চলচ্চিত্রে সর্বাধিকবার রূপান্তরিত। • একমাত্র রাজনৈতিক: পথের দাবী = শরৎচন্দ্রের একমাত্র রাজনৈতিক উপন্যাস। |
অজানা কিন্তু গুরুত্বপূর্ণ তথ্য: ১. দেবদাস রচনার বয়স: মাত্র ১৭-১৮ বছর বয়সে লেখা, প্রকাশিত হয় অনেক পরে ১৯১৭ সালে। ২. চলচ্চিত্র রেকর্ড: 'দেবদাস' ভারতীয় চলচ্চিত্রে সর্বাধিকবার রূপান্তরিত বাংলা উপন্যাস। ৩. পথের দাবী নিষেধাজ্ঞায় শরৎচন্দ্রের প্রতিক্রিয়া: বলেছিলেন — 'এটাই প্রমাণ করে বইটি সত্য।' ৪. সর্বাধিক অনূদিত: শরৎচন্দ্রের রচনা ভারতের সর্বাধিক ভাষায় অনূদিত। ৫. ১৯১৭ সালের সোনালি ফসল: একই বছরে দেবদাস, শ্রীকান্ত, চরিত্রহীন ও নিষ্কৃতি প্রকাশিত। ৬. শেষের পরিচয় অসম্পূর্ণ: ১৯৩৮ সালের মৃত্যুতে শেষ করতে পারেননি; ১৯৩৯-এ মরণোত্তর প্রকাশিত। ৭. বিধবা নারীর চ্যাম্পিয়ন: প্রায় প্রতিটি উপন্যাসে বিধবা নারীর অধিকার ও মর্যাদার কথা আছে। |
❀ অপরাজেয় কথাশিল্পীর চিরন্তন কলম ❀
শরৎচন্দ্রের উপন্যাস পড়লে মানুষকে ভালোবাসতে শেখা যায়