ব্যঞ্জনবর্ণ

Chapter Activity

Rating
New / 5
Reviews
0
Read Sessions
0
Readers
0

ব্যঞ্জনবর্ণ

১. ভূমিকা

বাংলা বর্ণমালার দ্বিতীয়বৃহত্তম অংশ হলো ব্যঞ্জনবর্ণস্বরবর্ণ যদি হয় ভাষার প্রাণ, তাহলে ব্যঞ্জনবর্ণ হলো ভাষার কাঠামোবাংলায় মোট ৩৯টি ব্যঞ্জনবর্ণ আছে যেগুলো উচ্চারণস্থান, শ্বাসের মাত্রা, কণ্ঠের ব্যবহারঅন্যান্য বৈশিষ্ট্যে একে অপরের থেকে আলাদাব্যঞ্জনবর্ণের সংখ্যা, শ্রেণিবিভাগ, বর্গ পরিচিতিউচ্চারণের নিয়ম জানা BCS ও ব্যাংক পরীক্ষায় সর্বোচ্চ মার্ক পেতে অপরিহার্য

২. ব্যঞ্জনধ্বনিব্যঞ্জনবর্ণের সংজ্ঞা

২.১ ব্যঞ্জনধ্বনির সংজ্ঞা

যে ধ্বনি উচ্চারণের সময় ফুসফুস থেকে নির্গত বায়ু মুখবিবরের কোনো না কোনো স্থানে বাধা পায় এবং স্বরধ্বনির সাহায্য ছাড়া স্বাধীনভাবে উচ্চারিত হতে পারে না, তাকে ব্যঞ্জনধ্বনি বলে

২.২ ব্যঞ্জনবর্ণের সংজ্ঞা

ব্যঞ্জনধ্বনির লিখিত বা মুদ্রিত প্রতীককে ব্যঞ্জনবর্ণ বলেবাংলায় প্রতিটি ব্যঞ্জনবর্ণের নিজস্ব আকার আছে এবং প্রতিটিতে অন্তর্নিহিত 'অ' ধ্বনি থাকে

সংজ্ঞার উদাহরণ

ক্ = ক্ + অ। খ্ = খ্ + অ। গ্ = গ্ + অ।

বিশ্লেষণ

প্রতিটি ব্যঞ্জনবর্ণে একটি হলন্ত (্) এবং একটি অন্তর্নিহিত 'অ' থাকে। ক লিখলে বোঝায় 'ক্+অ = ক'।

২.৩ স্বরবর্ণব্যঞ্জনবর্ণের তুলনা

স্বরবর্ণ

ব্যঞ্জনবর্ণ

স্বাধীনভাবে উচ্চারণযোগ্যবায়ু মুখবিবরে বাধা পায় নাসংখ্যা ১১টি। নিজেই সম্পূর্ণ ধ্বনি তৈরি করেউদাহরণ: অ, আ, ই, ঈ, উ, ঊ, ঋ, এ, ঐ, ও, ঔ

স্বরের সাহায্যে উচ্চারণযোগ্যবায়ু মুখবিবরে বাধা পায়সংখ্যা ৩৯টি। একা সম্পূর্ণ ধ্বনি তৈরি করতে পারে নাউদাহরণ: ক, খ, গ, ঘ, ঙ ইত্যাদি

৩. বাংলা ব্যঞ্জনবর্ণের সম্পূর্ণ তালিকা

বাংলা বর্ণমালায় মোট ৩৯টি ব্যঞ্জনবর্ণ আছেএগুলোকে প্রধানত তিনটি বিভাগে ভাগ করা হয়: (১) স্পর্শ বর্ণ বা বর্গীয় ব্যঞ্জন (২৫টি), (২) অন্তঃস্থ বর্ণ (৪টি) ও (৩) উষ্মবর্ণ (৪টি)। এছাড়া কিছু অতিরিক্ত বর্ণ আছে

বর্গ

মহাপ্রাণ অঘোষ

অল্পপ্রাণ অঘোষ

মহাপ্রাণ ঘোষ

অল্পপ্রাণ ঘোষ

নাসিক্য

ক-বর্গ (কণ্ঠ্য)

চ-বর্গ (তালব্য)

ট-বর্গ (মূর্ধন্য)

ত-বর্গ (দন্ত্য)

প-বর্গ (ওষ্ঠ্য)

📝 বিশেষ দ্রষ্টব্য: উপরের সারণিতে প্রতিটি বর্গের বর্ণগুলো দেওয়া হয়েছে: খ/ক = অঘোষ (মহাপ্রাণ/অল্পপ্রাণ), ঘ/গ = ঘোষ (মহাপ্রাণ/অল্পপ্রাণ), ঙ = নাসিক্য

অন্তঃস্থ বর্ণ (৪টি) — য, র, ল, ব

উষ্মবর্ণ (৪টি) — শ, ষ, স, হ

অতিরিক্ত বর্ণ (৬টি) — ড়, ঢ়, য়, ৎ, ং, ঃ, ঁ

ড়

ঢ়

য়

মোট ব্যঞ্জনবর্ণের সংখ্যা

স্পর্শবর্ণ ২৫টি + অন্তঃস্থ ৪টি + উষ্মবর্ণ ৪টি = ৩৩টি (মূল ব্যঞ্জন)। ড়, ঢ়, য়, ৎ যোগ করলে ৩৭টি। অনুস্বার (ং) ও বিসর্গ (ঃ) যোগ করলে ৩৯টি। চন্দ্রবিন্দু (ঁ) নিয়ে মোট ৪০টি বর্ণ ব্যঞ্জনমালায় আছে বলেও অনেকে গণনা করেন

৪. ব্যঞ্জনবর্ণের শ্রেণিবিভাগ

উচ্চারণের বৈশিষ্ট্য অনুযায়ী ব্যঞ্জনবর্ণকে বিভিন্নভাবে শ্রেণিবদ্ধ করা হয়প্রধান শ্রেণিবিভাগগুলো হলো: (১) উচ্চারণস্থান অনুযায়ী, (২) শ্বাসের পরিমাণ অনুযায়ী, (৩) কণ্ঠের ব্যবহার অনুযায়ী এবং (৪) নাসিক্যতা অনুযায়ী

৪.১ উচ্চারণস্থান অনুযায়ী শ্রেণিবিভাগ

উচ্চারণকালে বায়ু মুখের কোন স্থানে বাধা পায়, তার উপর ভিত্তি করে ব্যঞ্জনবর্ণকে নিম্নলিখিতভাবে ভাগ করা হয়:

স্থান

পরিচয়

ব্যঞ্জনবর্ণ

উদাহরণ শব্দ

কণ্ঠ্য (Velar)

জিহ্বার পেছনভাগ নরম তালুতে স্পর্শ করে

ক, খ, গ, ঘ, ঙ

কলম, খেলা, গান, ঘর, বাংলা

তালব্য (Palatal)

জিহ্বার মধ্যভাগ শক্ত তালুতে স্পর্শ করে

চ, ছ, জ, ঝ, ঞ, য, শ

চাঁদ, ছায়া, জল, ঝড়, জঞ্জাল, শিশু

মূর্ধন্য (Retroflex)

জিহ্বার ডগা মুখের উপরের দিকে বাঁকিয়ে তালুতে স্পর্শ করে

ট, ঠ, ড, ঢ, ণ, ড়, ঢ়, ষ

টাকা, ঠান্ডা, ডাল, ঢাকা, পাণ্ডা

দন্ত্য (Dental)

জিহ্বার ডগা ওপরের দাঁতের গোড়ায় স্পর্শ করে

ত, থ, দ, ধ, ন, স

তালা, থালা, দিন, ধান, নদী, সাগর

দন্তমূলীয় (Alveolar)

জিহ্বার ডগা দাঁতের মূলদেশে স্পর্শ করে

র, ল

রং, লাল, বর, বলা

ওষ্ঠ্য (Labial)

দুটি ঠোঁট একত্রিত হয়

প, ফ, ব, ভ, ম

পাখি, ফুল, বই, ভালো, মাঠ

কণ্ঠনালীয় (Glottal)

কণ্ঠনালীতে ঘর্ষণ তৈরি হয়

হাত, হাসি, বাহু

💡 পরীক্ষার টিপস: উচ্চারণস্থান মনে রাখার সূত্র: 'ক-চ-ট-ত-প' — এই পাঁচটি বর্গের নামেই বর্গের পরিচয়। ক-বর্গ = কণ্ঠ্য, চ-বর্গ = তালব্য, ট-বর্গ = মূর্ধন্য, ত-বর্গ = দন্ত্য, প-বর্গ = ওষ্ঠ্য

৪.২ শ্বাসের পরিমাণ অনুযায়ী: অল্পপ্রাণমহাপ্রাণ

অল্পপ্রাণ (Unaspirated)

মহাপ্রাণ (Aspirated)

উচ্চারণে বায়ু (শ্বাস) কম বের হয়প্রতিটি বর্গের ১ম ও ৩য় বর্ণ অল্পপ্রাণবর্ণ: ক, গ, চ, জ, ট, ড, ত, দ, প, ব উদাহরণ: কলম, গান, চাঁদ, জল, পাখি

উচ্চারণে বায়ু (শ্বাস) বেশি বের হয়প্রতিটি বর্গের ২য় ও ৪র্থ বর্ণ মহাপ্রাণবর্ণ: খ, ঘ, ছ, ঝ, ঠ, ঢ, থ, ধ, ফ, ভ উদাহরণ: খেলা, ঘর, ছায়া, ঝড়, ফুল

📝 বিশেষ দ্রষ্টব্য: অন্তঃস্থ (য, র, ল, ব) ও উষ্মবর্ণ (শ, ষ, স, হ) অল্পপ্রাণ-মহাপ্রাণে বিভক্ত হয় না

বর্গ

অল্পপ্রাণ অঘোষ

মহাপ্রাণ অঘোষ

অল্পপ্রাণ ঘোষ

মহাপ্রাণ ঘোষ

নাসিক্য

ক-বর্গ

চ-বর্গ

ট-বর্গ

ত-বর্গ

প-বর্গ

৪.৩ কণ্ঠের ব্যবহার অনুযায়ী: ঘোষঅঘোষ

অঘোষ (Voiceless)

ঘোষ (Voiced)

উচ্চারণে কণ্ঠস্বর (vocal cord) কম্পিত হয় নাফিসফিসিয়ে বললেও শোনা যায়বর্ণ: ক, খ, চ, ছ, ট, ঠ, ত, থ, প, ফ, শ, ষ, স উদাহরণ: কলম, খেলা, চাঁদ

উচ্চারণে কণ্ঠস্বর (vocal cord) কম্পিত হয়ফিসফিসিয়ে বললে শোনা যায় নাবর্ণ: গ, ঘ, জ, ঝ, ড, ঢ, দ, ধ, ব, ভ, হ, য, র, ল উদাহরণ: গান, ঘর, জল

💡 পরীক্ষার টিপস: মনে রাখুন: প্রতিটি বর্গের ১ম ও ২য় বর্ণ অঘোষ, ৩য় ও ৪র্থ বর্ণ ঘোষ, ৫ম বর্ণ নাসিক্য-ঘোষ

৪.৪ নাসিক্যতা অনুযায়ী

নাসিক্য ব্যঞ্জন (Nasal)

অনাসিক্য ব্যঞ্জন (Oral)

উচ্চারণে বায়ু নাকমুখ উভয় দিয়ে বের হয়বর্ণ: ঙ, ঞ, ণ, ন, ম — ৫টি উদাহরণ: বাংলা (ঙ), জঞ্জাল (ঞ), পণ (ণ), নদী (ন), মাঠ (ম)।

উচ্চারণে বায়ু কেবল মুখ দিয়ে বের হয়বর্ণ: বাকি সব ব্যঞ্জনবর্ণ উদাহরণ: ক, খ, গ, ঘ, চ, ছ, জ, ঝ, ট, ঠ... ইত্যাদি

৪.৫ উচ্চারণরীতি অনুযায়ী: স্পর্শ, উষ্ম, অন্তঃস্থতরল

শ্রেণি

সংজ্ঞা

বর্ণ

উদাহরণ

স্পর্শ বর্ণ (Stop/Plosive)

উচ্চারণে বাগযন্ত্রের কোথাও সম্পূর্ণ বন্ধ হয়ে আবার খুলে যায়

থেকেপর্যন্ত ২৫টি বর্গবর্ণ

কলম, ঠান্ডা, দিন, পাখি

অন্তঃস্থ (Semivowel)

স্বরব্যঞ্জনের মাঝামাঝি বৈশিষ্ট্য; আধা-স্বর

য, র, ল, ব

যাওয়া, রাত, লাল, বাড়ি

উষ্মবর্ণ (Fricative)

উচ্চারণে বায়ু সরু পথে বের হয়ে ঘর্ষণ তৈরি করে

শ, ষ, স, হ

শিশু, ষণ্ড, সাগর, হাত

তরলবর্ণ (Liquid)

প্রবাহিত, তরঙ্গায়িত উচ্চারণ

র, ল

রং, লাল, বর, বলা

কম্পিত (Trill)

জিহ্বা দ্রুত কম্পিত হয়

রাত, বর, ধর, মর

৫. পাঁচটি বর্গের বিস্তারিত পরিচয়

৫.১ ক-বর্গ (কণ্ঠ্য বর্ণ)

ক-বর্গ পরিচয়

উচ্চারণস্থান: কণ্ঠ (নরম তালু বা ভেলাম)। বর্ণ: ক, খ, গ, ঘ, ঙ। বৈশিষ্ট্য: ক ও খ অঘোষ, গ ও ঘ ঘোষ, ঙ নাসিক্য। ক ও গ অল্পপ্রাণ, খ ও ঘ মহাপ্রাণ

বর্ণ

IPA

ধরন

উদাহরণ শব্দ

বিশেষ তথ্য

/k/

অল্পপ্রাণ অঘোষ

কলম, কাক, কাজ, কান

সবচেয়ে বেশি ব্যবহৃত ব্যঞ্জন

/kʰ/

মহাপ্রাণ অঘোষ

খেলা, খাবার, খোকা, খেত

ক-এর মহাপ্রাণ রূপ

/ɡ/

অল্পপ্রাণ ঘোষ

গান, গাছ, গরু, গোলাপ

ঘোষ কণ্ঠ্য

/ɡʱ/

মহাপ্রাণ ঘোষ

ঘর, ঘাস, ঘুম, ঘড়ি

গ-এর মহাপ্রাণ রূপ

/ŋ/

নাসিক্য ঘোষ

বাংলা, রং, ঢং, ফুং

শব্দের শুরুতে বিরল

📝 বিশেষ দ্রষ্টব্য: 'ঙ' বর্ণ বাংলায় শব্দের আদিতে বিরলসাধারণত শব্দের মধ্যে বা শেষে ব্যবহৃত হয় এবং অনুস্বার (ং) রূপে বেশি দেখা যায়

৫.২ চ-বর্গ (তালব্য বর্ণ)

চ-বর্গ পরিচয়

উচ্চারণস্থান: কঠিন তালু (শক্ত তালু)। বর্ণ: চ, ছ, জ, ঝ, ঞ। বৈশিষ্ট্য: চ ও ছ অঘোষ, জ ও ঝ ঘোষ, ঞ নাসিক্য। চ ও জ অল্পপ্রাণ, ছ ও ঝ মহাপ্রাণ

বর্ণ

IPA

ধরন

উদাহরণ শব্দ

বিশেষ তথ্য

/tʃ/

অল্পপ্রাণ অঘোষ

চাঁদ, চোখ, চিনি, চলো

তালব্য স্পর্শ-ঘর্ষণী

/tʃʰ/

মহাপ্রাণ অঘোষ

ছাতা, ছবি, ছায়া, ছেলে

চ-এর মহাপ্রাণ রূপ

/dʒ/

অল্পপ্রাণ ঘোষ

জল, জাহাজ, জানালা, জীবন

তালব্য ঘোষ

/dʒʱ/

মহাপ্রাণ ঘোষ

ঝড়, ঝরনা, ঝুড়ি, ঝিল

জ-এর মহাপ্রাণ রূপ

/ɲ/

নাসিক্য ঘোষ

জঞ্জাল, ঞ সহ শব্দ বিরল

শব্দের আদিতে আসে না

৫.৩ ট-বর্গ (মূর্ধন্য বর্ণ)

ট-বর্গ পরিচয়

উচ্চারণস্থান: মূর্ধা (তালুর পেছনভাগ)। বর্ণ: ট, ঠ, ড, ঢ, ণ। বৈশিষ্ট্য: ট ও ঠ অঘোষ, ড ও ঢ ঘোষ, ণ নাসিক্যজিহ্বার ডগা বাঁকানো অবস্থায় উচ্চারণ হয়

বর্ণ

IPA

ধরন

উদাহরণ শব্দ

বিশেষ তথ্য

/ʈ/

অল্পপ্রাণ অঘোষ

টাকা, টেবিল, টমেটো, টিকিট

মূর্ধন্যজিহ্বা পেছনে ওঠে

/ʈʰ/

মহাপ্রাণ অঘোষ

ঠান্ডা, ঠোঁট, ঠাকুর, ঠিক

ট-এর মহাপ্রাণ রূপ

/ɖ/

অল্পপ্রাণ ঘোষ

ডাক, ডাল, ডাক্তার, ডিম

মূর্ধন্য ঘোষ

/ɖʱ/

মহাপ্রাণ ঘোষ

ঢাকা, ঢাল, ঢাক, ঢেউ

ড-এর মহাপ্রাণ রূপ

/ɳ/

নাসিক্য ঘোষ

কারণ, বর্ণ, পণ, ঘণ্টা

ণ-ত্ব বিধানে গুরুত্বপূর্ণ

📝 বিশেষ দ্রষ্টব্য: 'ড়' ও 'ঢ়' হলো ট-বর্গের পরিবর্তিত রূপএগুলো মূলত ড ও ঢ-এর নিচে 'নুকতা' দিয়ে তৈরিএদের উচ্চারণ তরঙ্গায়িত

৫.৪ ত-বর্গ (দন্ত্য বর্ণ)

ত-বর্গ পরিচয়

উচ্চারণস্থান: দন্ত্য (দাঁতের গোড়া)। বর্ণ: ত, থ, দ, ধ, ন। বৈশিষ্ট্য: ত ও থ অঘোষ, দ ও ধ ঘোষ, ন নাসিক্যএই বর্গের বর্ণগুলো বাংলায় সবচেয়ে বেশি ব্যবহৃত

বর্ণ

IPA

ধরন

উদাহরণ শব্দ

বিশেষ তথ্য

/t/

অল্পপ্রাণ অঘোষ

তালা, তারা, তিনি, তুমি

দন্ত্য অঘোষসবচেয়ে বেশি ব্যবহৃত

/tʰ/

মহাপ্রাণ অঘোষ

থালা, থাকা, থেমে, থোকা

ত-এর মহাপ্রাণ রূপ

/d/

অল্পপ্রাণ ঘোষ

দিন, দেশ, দাদা, দুধ

দন্ত্য ঘোষ

/dʱ/

মহাপ্রাণ ঘোষ

ধান, ধারা, ধরা, ধূলো

দ-এর মহাপ্রাণ রূপ

/n/

নাসিক্য ঘোষ

নদী, নাম, নিল, নতুন

দন্ত্য নাসিক্যসর্বাধিক ব্যবহৃত নাসিক্য

৫.৫ প-বর্গ (ওষ্ঠ্য বর্ণ)

প-বর্গ পরিচয়

উচ্চারণস্থান: ওষ্ঠ (ঠোঁট)। বর্ণ: প, ফ, ব, ভ, ম। বৈশিষ্ট্য: প ও ফ অঘোষ, ব ও ভ ঘোষ, ম নাসিক্যএই বর্গে ঠোঁট মিলিয়ে উচ্চারণ হয়

বর্ণ

IPA

ধরন

উদাহরণ শব্দ

বিশেষ তথ্য

/p/

অল্পপ্রাণ অঘোষ

পাখি, পথ, পানি, পড়া

ওষ্ঠ্য অঘোষ

/pʰ/ বা /f/

মহাপ্রাণ অঘোষ

ফুল, ফল, ফসল, ফাঁকি

বিদেশি শব্দে /f/ উচ্চারণ

/b/

অল্পপ্রাণ ঘোষ

বই, বাড়ি, বন, বেলা

ওষ্ঠ্য ঘোষ

/bʱ/

মহাপ্রাণ ঘোষ

ভালো, ভোর, ভয়, ভাত

ব-এর মহাপ্রাণ রূপ

/m/

নাসিক্য ঘোষ

মাঠ, মেলা, মানুষ, মা

ওষ্ঠ্য নাসিক্য

৬. অন্তঃস্থ বর্ণ (য, র, ল, ব)

যে ব্যঞ্জনবর্ণগুলো স্বরবর্ণব্যঞ্জনবর্ণের মাঝামাঝি বৈশিষ্ট্য ধারণ করে এবং শব্দের মধ্যবর্তী অবস্থানে বেশি ব্যবহৃত হয়, তাদের অন্তঃস্থ বর্ণ বলেএগুলো হলো: য, র, ল, ব।

বর্ণ

IPA

বৈশিষ্ট্য

উদাহরণ শব্দ

বিশেষ তথ্য

/dʒ/ বা /j/

তালব্য, অর্ধ-স্বর

যাওয়া, যদি, যোগ, বায়ু

শব্দের আদিতে /dʒ/, মধ্যে /j/ উচ্চারণ

/r/

দন্তমূলীয়, তরল/কম্পিত

রাত, রং, বর, মরা

কম্পিত বা তরঙ্গায়িত উচ্চারণ

/l/

দন্তমূলীয়, পার্শ্বিক

লাল, লিখন, বলা, ফুল

পার্শ্বিকবায়ু জিহ্বার পাশ দিয়ে যায়

/b/ বা /w/

ওষ্ঠ্য, অর্ধ-স্বর

বাড়ি, বই, বেলা, বন

প-বর্গেও আছে, দুটি আলাদা

📝 বিশেষ দ্রষ্টব্য: 'য' বর্ণের উচ্চারণ: শব্দের প্রথমে 'জ'-এর মতো (যাওয়া জাওয়া), শব্দের মধ্যে বা শেষে 'য়'-এর মতো (বায়ু বায়ু)।

৭. উষ্মবর্ণ (শ, ষ, স, হ)

যে ব্যঞ্জনবর্ণ উচ্চারণকালে বায়ু সরু পথ দিয়ে বের হয়ে ঘর্ষণ বা উষ্মা তৈরি করে, তাদের উষ্মবর্ণ বলেএগুলো হলো: শ, ষ, স, হ।

বর্ণ

IPA

উচ্চারণস্থান

উদাহরণ শব্দ

বিশেষ তথ্য

/ʃ/

তালব্য উষ্ম (অঘোষ)

শিশু, শিক্ষা, শাখা, শিল

ইংরেজি 'sh'-এর মতো

/ʂ/

মূর্ধন্য উষ্ম (অঘোষ)

ষণ্ড, বিষ, কষ্ট, পাষাণ

বাংলায় শ-এর মতো উচ্চারিত; ষ-ত্ব বিধানে গুরুত্বপূর্ণ

/s/

দন্ত্য উষ্ম (অঘোষ)

সাগর, সুন্দর, সময়, সত্য

ইংরেজি 's'-এর মতো

/h/ বা /ɦ/

কণ্ঠনালীয় উষ্ম (ঘোষ)

হাত, হাসি, হাওয়া, হাঁটা

একমাত্র ঘোষ উষ্মবর্ণ

শ, ষ, স — উচ্চারণব্যবহারের পার্থক্য

বাংলায় শ, ষ, স তিনটির উচ্চারণ প্রায় একই (/ʃ/ বা /s/)। কিন্তু বানানে পার্থক্য আছে এবং পরীক্ষায় এই তিনটির ব্যবহার নিয়ে প্রচুর প্রশ্ন আসে। ষ-ত্ব বিধান ও ণ-ত্ব বিধান জানা অপরিহার্য

৮. বিশেষ ব্যঞ্জনবর্ণ

৮.১ ড়ঢ় (নুকতাযুক্ত বর্ণ)

'ড়' ও 'ঢ়' হলো ড ও ঢ বর্ণের নিচে একটি বিন্দু (নুকতা) দিয়ে তৈরিএগুলো মূল বর্ণ থেকে আলাদা ধ্বনি প্রকাশ করে

বর্ণ

উচ্চারণ

উদাহরণ

মূল বর্ণ থেকে পার্থক্য

ড়

/ɾ/ — তরঙ্গায়িত

গাড়ি, বাড়ি, ঘোড়া, পাড়া, ড়িল

ড-এর নুকতা রূপ; তরঙ্গায়িত উচ্চারণ

ঢ়

/ɾʱ/ — মহাপ্রাণ তরঙ্গায়িত

ঢ়াক, পাঢ়া (বিরল)

ঢ-এর নুকতা রূপ; বিরল ব্যবহার

৮.২ য় (অন্তঃস্থ য)

'য়' হলো একটি বিশেষ বর্ণ যা মূলত আরবি/ফারসি থেকে বাংলায় এসেছে এবং স্বরধ্বনি হিসেবে কাজ করেউচ্চারণ '/j/' বা ইংরেজি 'y'-এর মতো

য়-এর উদাহরণ

যায়, খায়, দেয়, নেয়, পায়, আয়, যাওয়া

বিশ্লেষণ

'য' ও 'য়' আলাদা বর্ণ। য = /dʒ/ বা /j/; য় = /j/ সবসময়

৮.৩ ৎ (খণ্ড-ত)

'ৎ' হলো 'ত'-এর একটি বিশেষ রূপ যা কেবল শব্দের শেষে ব্যবহৃত হয়এটি হলন্ত-ত বা অসম্পূর্ণ-ত।

ৎ-এর উদাহরণ

জগৎ, বৎসর, তৎকালীন, পরৎপর, সৎ।

বিশ্লেষণ

'ৎ' শব্দের আদিতে বা মধ্যে কখনো আসে নাকেবল শেষে

৮.৪ অনুস্বার (ং), বিসর্গ (ঃ) ও চন্দ্রবিন্দু (ঁ)

বর্ণ

নাম

ব্যবহার

উদাহরণ

অনুস্বার

নাসিক্য ধ্বনি প্রকাশে; কণ্ঠ্য-নাসিক্য ঙ-এর পরিবর্তে

বাংলা, রং, ঢং, গং, সংস্কার

বিসর্গ

কিছু তৎসম শব্দে; শ্বাসধ্বনি প্রকাশে

দুঃখ, সুঃখ, প্রাতঃ, নিঃশ্বাস

চন্দ্রবিন্দু

নাসিক্য স্বর প্রকাশে

চাঁদ, আঁখি, হাঁস, বাঁশি, কাঁদা

৯. হসন্ত (্) ও যুক্তবর্ণ

৯.১ হসন্ত

ব্যঞ্জনবর্ণের নিচে যে চিহ্ন (্) দিয়ে অন্তর্নিহিত 'অ'-কে বাদ দেওয়া হয়, তাকে হসন্ত বা হলন্ত বলেএটি ব্যঞ্জনের হ্রস্বতা নির্দেশ করে

হসন্তের উদাহরণ

ক্ = ক (হসন্তযুক্ত)। জগৎ = জ+গ+ৎ (শেষে হসন্ত)। মৎস্য = ম+ৎ+স+্য

বিশ্লেষণ

হসন্ত দেওয়া মানেবর্ণে কোনো স্বর নেই

৯.২ যুক্তবর্ণ (Conjunct Consonant)

দুই বা ততোধিক ব্যঞ্জনবর্ণ হসন্ত দিয়ে পরস্পর যুক্ত হলে যে নতুন বর্ণরূপ তৈরি হয়, তাকে যুক্তবর্ণ বলেযুক্তবর্ণে সবার শেষেরটি ছাড়া বাকিগুলো হসন্তযুক্ত

যুক্তবর্ণ

বিশ্লেষণ

উদাহরণ শব্দ

ক্ষ

ক্ + ষ

ক্ষমা, ক্ষতি, পক্ষ, লক্ষ্য

জ্ঞ

জ্ + ঞ

জ্ঞান, বিজ্ঞান, অজ্ঞ, বিজ্ঞ

ত্র

ত্ + র

ত্রিভুজ, রাষ্ট্র, তন্ত্র, মন্ত্র

স্ত

স্ + ত

বস্তু, অস্ত, স্তম্ভ, রস্তো

ন্দ

ন্ + দ

আনন্দ, বন্দর, মন্দির, চন্দ্র

ম্ব

ম্ + ব

অম্বর, শম্বু, লম্বা, ডম্বরু

ষ্ঠ

ষ্ + ঠ

শ্রেষ্ঠ, কণ্ঠ্য, ওষ্ঠ, দুষ্ট

ক্ত

ক্ + ত

রক্ত, শক্তি, ভক্তি, মুক্তি

📝 বিশেষ দ্রষ্টব্য: বাংলায় যুক্তবর্ণের সংখ্যা অনেক বেশিসবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ যুক্তবর্ণগুলো পরীক্ষায় বারবার আসে

ণ-ত্ব বিধান ও ষ-ত্ব বিধানপরীক্ষামুখী আলোচনা

১০. ণ-ত্ব বিধান ও ষ-ত্ব বিধান

১০.১ ণ-ত্ব বিধান

তৎসম বা সংস্কৃত শব্দে মূর্ধন্য-ণ কোথায় ব্যবহার হবে তার নিয়মকে ণ-ত্ব বিধান বলেদেশি, বিদেশিতদ্ভব শব্দে এই নিয়ম প্রযোজ্য নয়

ণ-ত্ব বিধানের নিয়ম

উদাহরণ

ঋ, র, ষ-এর পরে দন্ত্য-ন মূর্ধন্য-ণ হয়

কারণ (র+ণ), বর্ণ (র+ণ), ঘর্ণ, চরণ

ঋ-কারের পরে

ঋণ, তৃণ, কৃণাল, বৃণ

র-ফলার পরে

ব্রণ, প্রণাম, দ্রুণ, তরণ

ষ-এর পরে

কষ্ণ, বিষ্ণু, কৃষ্ণ

ট-বর্গের আগেহয়

কণ্টক, লণ্ঠন, ঘণ্টা, খণ্ড

প্র, পরি, পরা উপসর্গের পরে

প্রণাম, পরিণাম, পরাণ

ণ-ত্ব বিধান ব্যতিক্রম

দেশি শব্দে: নাক, নদী, নৌকাএগুলোতে দন্ত্য-ন থাকেআরবি-ফারসি শব্দে: দান, নামাজএগুলোতেও দন্ত্য-ন।

বিশ্লেষণ

ণ-ত্ব বিধান শুধু তৎসম শব্দে প্রযোজ্য

১০.২ ষ-ত্ব বিধান

তৎসম বা সংস্কৃত শব্দে মূর্ধন্য-ষ কোথায় ব্যবহার হবে তার নিয়মকে ষ-ত্ব বিধান বলে

ষ-ত্ব বিধানের নিয়ম

উদাহরণ

ই, উ-কারের পর দন্ত্য-স মূর্ধন্য-ষ হয়

বিষ (বি+ষ), ভিষক, বিষম, পরিষ্কার

ক, র-এর পরে দন্ত্য-স মূর্ধন্য-ষ হয়

বর্ষ (র+ষ), কর্ষণ, বিকর্ষণ, বক্ষ

অ, আ, এ-কারের পরে দন্ত্য-স থাকে

বাস, মাস, এস, দাস

নি, বি, অভি উপসর্গের পরে প্রায়ইহয়

নিষেধ, বিষয়, অভিষেক, নিষ্পন্ন

সু-উপসর্গের পরেহয়

সুষম, সুষ্ঠু

ণ-ত্ব ও ষ-ত্বসহজ মনে রাখার উপায়

ণ-ত্ব: 'ঋ-র-ষ-এর পরে ণ' — ঋণ, বর্ণ, ষণ্ডমনে রাখুন: 'ঋ-র-ষ পেলে ন্ থাকে না, ণ হয়।' ষ-ত্ব: 'ই-উ-কার বা ক-র-এর পরে ষ' — বিষ, বর্ষমনে রাখুন: 'ই-উ পেলে, বা ক-র পেলে, স থাকে না, ষ হয়।'

১১. ব্যঞ্জনসন্ধি (Consonant Sandhi)

পাশাপাশি দুটি ব্যঞ্জনধ্বনি বা ব্যঞ্জন-স্বর মিলিত হলে যে সন্ধি হয় তাকে ব্যঞ্জনসন্ধি বলে

১১.১ ব্যঞ্জনসন্ধির প্রধান নিয়ম

নিয়ম

উদাহরণ

অঘোষ বর্ণের পরে ঘোষ বর্ণ এলে পূর্ব বর্ণ ঘোষ হয়

সৎ + জন = সজ্জন, বিপদ্ + জাল = বিপজ্জাল

ঘোষ বর্ণের পরে অঘোষ বর্ণ এলে পূর্ব বর্ণ অঘোষ হয়

দিক্ + গজ = দিগ্গজ পরে পরিবর্তন

ক্ বর্গের সাথেমিলিত হলে

দিক্ + সূচক = দিক্সূচক বা দিগ্সূচক

ত্ + চ/ছ = চ্চ/চ্ছ

উৎ + চারণ = উচ্চারণ, উৎ + ছেদ = উচ্ছেদ

ত্ + জ/ঝ = জ্জ/জ্ঝ

উৎ + জ্বল = উজ্জ্বল, উৎ + ঝামেলা = উজ্ঝামেলা

ত্ + শ = চ্ছ

উৎ + শাস = উচ্ছাস

১১.২ বিসর্গসন্ধি

নিয়ম

উদাহরণ

বিসর্গ + ক,প,শ,ষ,স = স+পরবর্তী

নিঃ + কলঙ্ক = নিষ্কলঙ্ক

বিসর্গ + ঘোষ বর্ণ = র্

নিঃ + ধন = নির্ধন, দুঃ + গম = দুর্গম

বিসর্গ + স্বর = র্+স্বর

নিঃ + অর্থ = নিরর্থ

১২. ব্যঞ্জনধ্বনির পরিবর্তন

পরিবর্তনের ধরন

সংজ্ঞা

উদাহরণ

সমীভবন (Assimilation)

পাশাপাশি দুটি ভিন্ন ধ্বনি একই রকম হওয়া

সত্য সত্ত, পদ্ম পদ্দ

ব্যঞ্জনচ্যুতি (Consonant Deletion)

যুক্তব্যঞ্জন থেকে একটি বাদ পড়া

আলতা আলতা, কর্ণ কান

ব্যঞ্জনাগম (Consonant Addition)

শব্দে অতিরিক্ত ব্যঞ্জন যোগ

নামাজ নামাজি নামাজী

মেটাথেসিস (Metathesis)

ব্যঞ্জনের স্থান পরিবর্তন

বাক্স বাস্ক, রিক্সা রিক্সা

অন্তর্ধান (Elision)

ব্যঞ্জন বাদ পড়া

লাল + হলুদ লালহলুদ লাল্লুদ

পরীক্ষামুখী গুরুত্বপূর্ণ সারসংক্ষেপ

১৩. পরীক্ষামুখী গুরুত্বপূর্ণ তথ্য

১৩.১ একনজরে সব গুরুত্বপূর্ণ তথ্য

বিষয়

তথ্য

বাংলায় মোট ব্যঞ্জনবর্ণ

৩৯টি (মতভেদে ৪০টি)

স্পর্শবর্ণ (বর্গীয় ব্যঞ্জন)

২৫টি (ক থেকে ম)

অন্তঃস্থ বর্ণ

৪টি: য, র, ল, ব

উষ্মবর্ণ

৪টি: শ, ষ, স, হ

অতিরিক্ত বর্ণ

ড়, ঢ়, য়, ৎ, ং (অনুস্বার), ঃ (বিসর্গ)

অল্পপ্রাণ ব্যঞ্জন

প্রতিটি বর্গের ১ম ও ৩য় বর্ণ (ক, গ, চ, জ, ট, ড, ত, দ, প, ব)

মহাপ্রাণ ব্যঞ্জন

প্রতিটি বর্গের ২য় ও ৪র্থ বর্ণ (খ, ঘ, ছ, ঝ, ঠ, ঢ, থ, ধ, ফ, ভ)

নাসিক্য ব্যঞ্জন

৫টি: ঙ, ঞ, ণ, ন, ম (প্রতিটি বর্গের ৫ম বর্ণ)

অঘোষ ব্যঞ্জন

প্রতিটি বর্গের ১ম ও ২য় বর্ণ

ঘোষ ব্যঞ্জন

প্রতিটি বর্গের ৩য়, ৪র্থ ও ৫ম বর্ণ + হ, য, র, ল

কণ্ঠ্য বর্ণ

ক, খ, গ, ঘ, ঙ (ক-বর্গ)

তালব্য বর্ণ

চ, ছ, জ, ঝ, ঞ, য, শ (চ-বর্গ)

মূর্ধন্য বর্ণ

ট, ঠ, ড, ঢ, ণ, ড়, ঢ়, ষ (ট-বর্গ)

দন্ত্য বর্ণ

ত, থ, দ, ধ, ন, স (ত-বর্গ)

ওষ্ঠ্য বর্ণ

প, ফ, ব, ভ, ম (প-বর্গ)

১৩.২ BCS ও ব্যাংক পরীক্ষায় বারবার আসা প্রশ্ন

প্রশ্ন

উত্তর

বাংলায় ব্যঞ্জনবর্ণ কয়টি?

৩৯টি (মতান্তরে ৩৭ বা ৪০টিও বলা হয়)

অল্পপ্রাণ বর্ণ কোনগুলো?

প্রতিটি বর্গের ১ম ও ৩য় বর্ণ: ক, গ, চ, জ, ট, ড, ত, দ, প, ব

নাসিক্য ব্যঞ্জন কয়টি?

৫টি: ঙ, ঞ, ণ, ন, ম

উষ্মবর্ণ কোনগুলো?

শ, ষ, স, হ — ৪টি

কোন বর্ণটি ঘোষ উষ্মবর্ণ?

'হ' — একমাত্র ঘোষ উষ্মবর্ণ

মূর্ধন্য বর্ণ কোনগুলো?

ট, ঠ, ড, ঢ, ণ, ড়, ঢ়, ষ

'ঙ' বর্ণের উচ্চারণ?

/ŋ/ — শব্দের আদিতে বিরল, প্রধানত অনুস্বাররূপে ব্যবহৃত

ণ-ত্ব বিধান কোথায় প্রযোজ্য?

কেবল তৎসম শব্দে

ষ-ত্ব বিধানেকখন হয়?

ই/উ-কারের পরে এবং ক/র-এর পরে

'র' ও 'ড়'-এর পার্থক্য?

র = দন্তমূলীয় তরল; ড় = মূর্ধন্য তরঙ্গায়িত

১৩.৩ বর্গের ক্রমঅল্পপ্রাণ-মহাপ্রাণ-নাসিক্য মনে রাখার সূত্র

সহজে মনে রাখুন — ৫ বর্গের কাঠামো

প্রতিটি বর্গে ৫টি বর্ণক্রম: অল্পপ্রাণ-অঘোষ / মহাপ্রাণ-অঘোষ / অল্পপ্রাণ-ঘোষ / মহাপ্রাণ-ঘোষ / নাসিক্য-ঘোষ। ক-বর্গ: ক (অল্প-অঘোষ) খ (মহা-অঘোষ) গ (অল্প-ঘোষ) ঘ (মহা-ঘোষ) ঙ (নাসিক্য)। এই একই কাঠামো চ-বর্গ, ট-বর্গ, ত-বর্গ ও প-বর্গের জন্যও প্রযোজ্য

💡 পরীক্ষার টিপস: মনে রাখুন: শেষ বর্ণে শ্বাস বেশি = মহাপ্রাণ (খ, ঘ)। শ্বাস কম = অল্পপ্রাণ (ক, গ)। নাক দিয়ে = নাসিক্য (ঙ)। কণ্ঠ কাঁপলে = ঘোষ (গ, ঘ, ঙ)। না কাঁপলে = অঘোষ (ক, খ)।

Review this chapter

You Can Also Read

Chapters closely related to the one you are reading now.

বর্ণ ও লিপি

No reviews
0 students
Read chapter

উচ্চারণের স্থান ও প্রকৃতি

No reviews
0 students
Read chapter

Most Read by Students

Popular picks getting the strongest student traffic right now.

বাংলা ভাষার রীতি

No reviews
1 student
Read chapter

অসহযোগ আন্দোলন (মার্চ ১৯৭১)

No reviews
1 student
Read chapter

নদী, সেতু, পাহাড়, দ্বীপ, বন, সমুদ্রবন্দর

No reviews
1 student
Read chapter

Others Who Read This Also Read

Behavior-based suggestions from student reading patterns where available.

বর্ণ ও লিপি

No reviews
0 students
Read chapter

উচ্চারণের স্থান ও প্রকৃতি

No reviews
0 students
Read chapter

Best Reviewed

Chapters earning the strongest student feedback.

বর্ণ ও লিপি

No reviews
0 students
Read chapter

উচ্চারণের স্থান ও প্রকৃতি

No reviews
0 students
Read chapter

Course Suggestions

Want a more guided path after this chapter? These courses are the closest fit.

Browse all courses
Best match৳1,999

Bangla

Bangla Language Mastery

A structured Bangla Language path to continue after this chapter.

6 lessons8.5h4.9 (186)1.3K students

By Sadia Rahman

View course
Good fit৳2,999

Platform Building

Teacher Marketplace Blueprint

A structured Bangla Language path to continue after this chapter.

5 lessons6.8h4.9 (28)410 students

By Sadia Rahman

View course
FreeFree

English

Admission English Playbook

Free guided course with lessons you can jump into anytime.

4 lessons4.2h4.8 (91)2.8K students

By Rayan Akter

View course