স্বরধ্বনি |
১. ভূমিকা |
ভাষার সবচেয়ে মৌলিক উপাদান হলো ধ্বনি। আর ধ্বনির দুটি প্রধান বিভাগের মধ্যে স্বরধ্বনি হলো সেই ধ্বনিসমূহ যেগুলো অন্য কোনো ধ্বনির সাহায্য ছাড়াই উচ্চারিত হতে পারে। মানুষের কণ্ঠস্বর থেকে উৎপন্ন এই ধ্বনিগুলো ভাষার সৌন্দর্য ও প্রবাহের মূল ভিত্তি। বাংলা ভাষায় স্বরধ্বনির সংখ্যা, শ্রেণিবিভাগ এবং উচ্চারণের বিশেষত্ব জানা প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষার জন্য অপরিহার্য। |
২. ধ্বনি: প্রাথমিক ধারণা |
২.১ ধ্বনির সংজ্ঞা |
মানুষের বাক্প্রত্যঙ্গ থেকে নির্গত বায়ুর সাহায্যে যে শব্দ উৎপন্ন হয় এবং যা ভাষার অর্থ প্রকাশে ব্যবহৃত হয়, তাকে ধ্বনি বলে। ধ্বনি ভাষার ক্ষুদ্রতম একক। |
২.২ ধ্বনি ও বর্ণের পার্থক্য |
ধ্বনি (Sound / Phone) | বর্ণ (Letter / Grapheme) |
ধ্বনি উচ্চারিত হয় এবং কানে শোনা যায়। এটি বায়ুকম্পনের মাধ্যমে সৃষ্ট। ধ্বনির কোনো দৃশ্যমান রূপ নেই। ধ্বনি হলো মৌখিক ভাষার উপাদান। উদাহরণ: 'অ' ধ্বনিটি মুখ দিয়ে উচ্চারণ করা হয়। | বর্ণ চোখে দেখা যায় এবং লেখা যায়। এটি ধ্বনির লিখিত প্রতীক। বর্ণের দৃশ্যমান আকার আছে। বর্ণ হলো লিখিত ভাষার উপাদান। উদাহরণ: 'অ' বর্ণটি কাগজে লেখা হয়। |
২.৩ ধ্বনির প্রকারভেদ |
বাংলা ভাষায় ধ্বনিকে প্রধানত দুই ভাগে ভাগ করা হয়:
ধ্বনির প্রকার | সংজ্ঞা | সংখ্যা | উদাহরণ |
স্বরধ্বনি (Vowel) | যে ধ্বনি উচ্চারণে অন্য ধ্বনির সাহায্য লাগে না এবং মুখবিবর উন্মুক্ত থাকে | ১১টি | অ, আ, ই, ঈ, উ, ঊ, ঋ, এ, ঐ, ও, ঔ |
ব্যঞ্জনধ্বনি (Consonant) | যে ধ্বনি উচ্চারণে স্বরধ্বনির সাহায্য প্রয়োজন হয় এবং কোনো না কোনো স্থানে বাধা পড়ে | ৩৯টি | ক, খ, গ, ঘ, ঙ ইত্যাদি |
৩. স্বরধ্বনির সংজ্ঞা |
৩.১ বিভিন্ন ব্যাকরণবিদের সংজ্ঞা |
◈ ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ্-র মতে
যে ধ্বনি উচ্চারণের সময় ফুসফুস থেকে নির্গত বায়ু মুখবিবরের কোথাও কোনো বাধা না পেয়ে বেরিয়ে আসে এবং কণ্ঠনালির সাহায্যে উচ্চারিত হয়, তাকে স্বরধ্বনি বলে। |
◈ ড. সুনীতিকুমার চট্টোপাধ্যায়ের মতে
যে ধ্বনি উচ্চারণকালে বায়ু বিনা বাধায় মুখ দিয়ে বেরিয়ে আসে এবং যার উচ্চারণের জন্য অন্য ধ্বনির সাহায্য প্রয়োজন হয় না, তাকে স্বরধ্বনি বলে। |
◈ বাংলা একাডেমির সংজ্ঞা
যে ধ্বনি উচ্চারণকালে বাগযন্ত্রের কোনো অংশে বায়ুপ্রবাহ সম্পূর্ণ বা আংশিকভাবে বাধাপ্রাপ্ত হয় না এবং স্বতন্ত্রভাবে উচ্চারিত হতে পারে, তাকে স্বরধ্বনি বলে। |
⚡ পরীক্ষার জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ |
স্বরধ্বনির সংক্ষিপ্ত সংজ্ঞা: 'যে ধ্বনি উচ্চারণে অন্য কোনো ধ্বনির সাহায্য প্রয়োজন হয় না এবং ফুসফুস থেকে আগত বায়ু মুখবিবরে কোনো বাধা না পেয়ে নির্গত হয়, তাকে স্বরধ্বনি বলে।' — এই সংজ্ঞাটি মুখস্থ রাখুন। |
৪. বাংলা স্বরধ্বনির সম্পূর্ণ তালিকা |
বাংলা ভাষায় মোট ১১টি স্বরধ্বনি আছে। এগুলো হলো: অ, আ, ই, ঈ, উ, ঊ, ঋ, এ, ঐ, ও, ঔ। বাংলায় স্বরবর্ণের সংখ্যাও ১১টি — কারণ প্রতিটি স্বরধ্বনির একটি করে বর্ণরূপ আছে। |
৪.১ প্রতিটি স্বরধ্বনির বিস্তারিত পরিচয় |
নিচে প্রতিটি স্বরধ্বনির বর্ণ, নাম, IPA প্রতীক, উচ্চারণের স্থান এবং শব্দে ব্যবহারের উদাহরণ দেওয়া হলো:
বর্ণ | নাম ও IPA | উচ্চারণ অবস্থান | উদাহরণ ও অর্থ |
অ | হ্রস্ব অ (স্বভাবতন্ত্র) IPA: /ɔ/ বা /o/ | কণ্ঠ্য, নিম্ন-মধ্য | অতল (নাই তল), অন্ন (ভাত) শব্দের আদিতে, মধ্যে ও অন্তে ব্যবহৃত |
আ | দীর্ঘ আ (আ-কার) IPA: /a/ | কণ্ঠ্য, নিম্ন-উন্মুক্ত | আকাশ, মাঠ, বাড়ি, গান বাংলার সবচেয়ে প্রচলিত স্বর |
ই | হ্রস্ব ই (ই-কার) IPA: /i/ | তালব্য, উচ্চ-সম্মুখ | ইচ্ছা, নদী, বিদ্যা, দিন হ্রস্ব — উচ্চারণ সংক্ষিপ্ত |
ঈ | দীর্ঘ ঈ (ঈ-কার) IPA: /iː/ | তালব্য, উচ্চ-সম্মুখ (দীর্ঘ) | ঈগল, দীঘি, নীল, পৃথিবী দীর্ঘ — উচ্চারণ দীর্ঘায়িত |
উ | হ্রস্ব উ (উ-কার) IPA: /u/ | ওষ্ঠ্য, উচ্চ-পশ্চাৎ | উপর, ধূলো, তুলো, মুখ হ্রস্ব — সংক্ষিপ্ত উচ্চারণ |
ঊ | দীর্ঘ ঊ (ঊ-কার) IPA: /uː/ | ওষ্ঠ্য, উচ্চ-পশ্চাৎ (দীর্ঘ) | ঊষা, ভূমি, সূর্য, পূজা দীর্ঘ — বিস্তৃত উচ্চারণ |
ঋ | স্বরবর্ণ ঋ (ঋ-কার) IPA: /ri/ | দন্তমূলীয়, বিশেষ | ঋণ, ঋতু, কৃষি, বৃষ্টি তৎসম শব্দে ব্যবহৃত, বাংলায় 'রি' উচ্চারণ |
এ | স্বরধ্বনি এ (এ-কার) IPA: /e/ বা /ɛ/ | তালব্য, মধ্য-সম্মুখ | এক, মেলা, দেশ, খেলা উচ্চ-মধ্য তালব্য স্বর |
ঐ | দ্বৈত স্বর ঐ (ঐ-কার) IPA: /oi̯/ | যৌগিক স্বর (দ্বিস্বর) | ঐক্য, বৈঠক, কৈ মাছ এ+ই মিলে যৌগিক স্বর |
ও | স্বরধ্বনি ও (ও-কার) IPA: /o/ বা /ɔ/ | কণ্ঠ্য-ওষ্ঠ্য, মধ্য-পশ্চাৎ | ওষুধ, ভোর, গোলাপ, বোন গোলাকার ঠোঁটে উচ্চারিত |
ঔ | দ্বৈত স্বর ঔ (ঔ-কার) IPA: /ou̯/ | যৌগিক স্বর (দ্বিস্বর) | ঔষধ, নৌকা, মৌসুম ও+উ মিলে যৌগিক স্বর |
📝 বিশেষ দ্রষ্টব্য: বাংলায় ই/ঈ এবং উ/ঊ উচ্চারণে কোনো পার্থক্য নেই — শুধু দৈর্ঘ্যের পার্থক্য সংস্কৃতে ছিল। বর্তমান বাংলায় এগুলো একইভাবে উচ্চারিত হয়। |
৫. স্বরধ্বনির শ্রেণিবিভাগ |
উচ্চারণের বৈশিষ্ট্য ও প্রকৃতির উপর ভিত্তি করে স্বরধ্বনিকে বিভিন্নভাবে শ্রেণিবিভাগ করা হয়। প্রধান শ্রেণিবিভাগগুলো হলো: (১) দৈর্ঘ্য অনুযায়ী, (২) উচ্চারণস্থান অনুযায়ী, (৩) জিহ্বার অবস্থান অনুযায়ী, (৪) ঠোঁটের অবস্থান অনুযায়ী, এবং (৫) মৌলিক ও যৌগিক ভেদে। |
৫.১ দৈর্ঘ্য অনুযায়ী শ্রেণিবিভাগ |
উচ্চারণের সময়ের ব্যাপ্তি বা দৈর্ঘ্যের ভিত্তিতে স্বরধ্বনিকে দুই ভাগে ভাগ করা হয়:
◈ (ক) হ্রস্বস্বর (Short Vowel)
যে স্বরধ্বনি উচ্চারণে অপেক্ষাকৃত কম সময় লাগে বা সংক্ষিপ্তভাবে উচ্চারিত হয়, তাকে হ্রস্বস্বর বলে। |
হ্রস্বস্বর | অ, ই, উ, ঋ — মোট ৪টি হ্রস্বস্বর আছে। |
বিশ্লেষণ | এই ধ্বনিগুলো দ্রুত ও সংক্ষিপ্তভাবে উচ্চারিত হয়। |
স্বরধ্বনি | উদাহরণ শব্দ | উচ্চারণ-সময় |
অ | অতল, অন্ন, মন, পথ | সংক্ষিপ্ত |
ই | ইচ্ছা, নদী, বিদ্যা | সংক্ষিপ্ত |
উ | উপর, মুখ, তুলো | সংক্ষিপ্ত |
ঋ | ঋণ, ঋতু, কৃষি | সংক্ষিপ্ত |
◈ (খ) দীর্ঘস্বর (Long Vowel)
যে স্বরধ্বনি উচ্চারণে অপেক্ষাকৃত বেশি সময় লাগে বা দীর্ঘভাবে উচ্চারিত হয়, তাকে দীর্ঘস্বর বলে। |
দীর্ঘস্বর | আ, ঈ, ঊ, এ, ঐ, ও, ঔ — মোট ৭টি দীর্ঘস্বর আছে। |
বিশ্লেষণ | এই ধ্বনিগুলো দীর্ঘায়িতভাবে উচ্চারিত হয়। |
স্বরধ্বনি | উদাহরণ শব্দ | উচ্চারণ-সময় |
আ | আকাশ, মাঠ, বাড়ি | দীর্ঘ |
ঈ | ঈগল, নীল, দীঘি | দীর্ঘ |
ঊ | ঊষা, সূর্য, ভূমি | দীর্ঘ |
এ | একুশ, মেলা, দেশ | দীর্ঘ |
ঐ | ঐক্য, বৈঠক, কৈ মাছ | দীর্ঘ (যৌগিক) |
ও | ওষুধ, ভোর, নৌকো | দীর্ঘ |
ঔ | ঔষধ, নৌকা, মৌসুম | দীর্ঘ (যৌগিক) |
💡 পরীক্ষার টিপস: হ্রস্বস্বর মনে রাখার সূত্র: 'অ-ই-উ-ঋ' — এই চারটিই হ্রস্বস্বর। বাকি ৭টি (আ, ঈ, ঊ, এ, ঐ, ও, ঔ) সবই দীর্ঘস্বর। |
৫.২ মৌলিক ও যৌগিক স্বরধ্বনি |
◈ (ক) মৌলিক স্বরধ্বনি (Simple / Monophthong)
যে স্বরধ্বনি উচ্চারণে কেবল একটিমাত্র কণ্ঠস্বরের ব্যবহার হয় এবং উচ্চারণকালে জিহ্বা বা অন্য কোনো বাগযন্ত্রের অবস্থান পরিবর্তন হয় না, তাকে মৌলিক স্বরধ্বনি বলে। |
মৌলিক স্বরধ্বনি | অ, আ, ই, ঈ, উ, ঊ, ঋ, এ, ও — মোট ৯টি। |
বিশ্লেষণ | এগুলো এককভাবে উচ্চারিত, মাঝে বাগযন্ত্রের কোনো পরিবর্তন নেই। |
◈ (খ) যৌগিক স্বরধ্বনি / দ্বিস্বর (Diphthong)
যে স্বরধ্বনি উচ্চারণকালে দুটি স্বরের একত্রিত উচ্চারণ থাকে এবং উচ্চারণকালে জিহ্বার অবস্থান পরিবর্তন হয়, তাকে যৌগিক স্বরধ্বনি বা দ্বিস্বর বলে। |
যৌগিক স্বর | উপাদান স্বর | উচ্চারণের ধরন | উদাহরণ |
ঐ | এ + ই (অই) | মুখবিবর মধ্য থেকে সম্মুখ-উচ্চে সরে আসে | ঐক্য, কৈ, বৈঠক, পৈতৃক |
ঔ | ও + উ (অউ) | মুখবিবর মধ্য থেকে পশ্চাৎ-উচ্চে সরে যায় | ঔষধ, নৌকা, ঔদার্য, মৌসুম |
📝 বিশেষ দ্রষ্টব্য: বাংলায় ঐ ও ঔ — এই দুটি যৌগিক স্বরধ্বনি (দ্বিস্বর)। তৎসম শব্দে এগুলো বেশি ব্যবহৃত হয়। |
৫.৩ উচ্চারণস্থান অনুযায়ী শ্রেণিবিভাগ |
জিহ্বার সম্মুখ-পশ্চাৎ অবস্থান অনুযায়ী স্বরধ্বনিকে তিন ভাগে ভাগ করা হয়:
শ্রেণি | সংজ্ঞা | স্বরধ্বনি | উদাহরণ |
সম্মুখ স্বর (Front Vowel) | উচ্চারণে জিহ্বার সম্মুখভাগ উঁচু হয় | ই, ঈ, এ | ইচ্ছা, একুশ, নীল |
কেন্দ্রীয় স্বর (Central Vowel) | উচ্চারণে জিহ্বা মাঝামাঝি অবস্থানে থাকে | অ, আ, ঋ | অন্ন, আকাশ, ঋণ |
পশ্চাৎ স্বর (Back Vowel) | উচ্চারণে জিহ্বার পশ্চাৎভাগ উঁচু হয় | উ, ঊ, ও, ঐ, ঔ | উপর, সূর্য, ভোর |
৫.৪ জিহ্বার উচ্চতা অনুযায়ী শ্রেণিবিভাগ |
উচ্চারণের সময় জিহ্বার উচ্চতার ভিত্তিতে স্বরধ্বনিকে চার ভাগে ভাগ করা হয়:
শ্রেণি | সংজ্ঞা | স্বরধ্বনি |
উচ্চ স্বর (High Vowel) | জিহ্বা সর্বোচ্চ উঁচুতে থাকে | ই, ঈ, উ, ঊ |
উচ্চ-মধ্য স্বর (High-Mid Vowel) | জিহ্বা উচ্চ ও মধ্যের মাঝে থাকে | এ, ও |
নিম্ন-মধ্য স্বর (Low-Mid Vowel) | জিহ্বা মধ্য ও নিম্নের মাঝে থাকে | অ |
নিম্ন স্বর (Low Vowel) | জিহ্বা সর্বনিম্নে থাকে, মুখ সর্বাধিক খোলা | আ |
৫.৫ ঠোঁটের গোলাকারতা অনুযায়ী শ্রেণিবিভাগ |
গোলাকার (Rounded) স্বর | অগোলাকার (Unrounded) স্বর |
উচ্চারণে ঠোঁট গোলাকার হয়। এই ধ্বনিগুলো উচ্চারণের সময় ঠোঁট সামান্য বৃত্তাকারে গোল হয়ে থাকে। স্বরধ্বনি: উ, ঊ, ও, ঔ উদাহরণ: উপর, সূর্য, ভোর, নৌকা | উচ্চারণে ঠোঁট গোলাকার হয় না। এগুলো ঠোঁট টান-টান রেখে বা উন্মুক্তভাবে উচ্চারিত হয়। স্বরধ্বনি: অ, আ, ই, ঈ, ঋ, এ, ঐ উদাহরণ: অন্ন, আকাশ, ইচ্ছা, ঋণ |
৫.৬ নাসিক্য ও অনাসিক্য স্বরধ্বনি |
নাসিক্য স্বর (Nasal Vowel) | অনাসিক্য স্বর (Oral Vowel) |
উচ্চারণে বায়ু নাক দিয়ে বের হয়। অনুস্বার (ং) বা চন্দ্রবিন্দু (ঁ) যুক্ত হলে স্বর নাসিক্য হয়। উদাহরণ: আঁখি, চাঁদ, বাঁশি — এখানে 'আঁ' নাসিক্য স্বর। | উচ্চারণে বায়ু কেবল মুখ দিয়ে বের হয়। সাধারণ স্বরধ্বনিগুলো অনাসিক্য। উদাহরণ: আকাশ, ইচ্ছা, উপর — এগুলো অনাসিক্য স্বর। |
৬. স্বরধ্বনির উচ্চারণের বিশেষ নিয়ম |
৬.১ 'অ' ধ্বনির উচ্চারণ |
বাংলায় 'অ' ধ্বনির উচ্চারণ দুই ধরনের: (১) স্বাভাবিক 'অ' উচ্চারণ ও (২) 'ও'-এর মতো উচ্চারণ। শব্দের অবস্থান অনুযায়ী এই পার্থক্য তৈরি হয়। |
◈ (ক) 'অ' যখন 'ও'-এর মতো উচ্চারিত হয়
শব্দের প্রথম 'অ' সাধারণত 'ও'-এর মতো উচ্চারিত হয়।
শব্দ | বাস্তব উচ্চারণ | ব্যাখ্যা |
কমল | কোমল | শব্দের আদিতে 'ক'-এর 'অ' = 'ও' |
মন | মোন | শব্দের আদিতে 'ম'-এর 'অ' = 'ও' |
গম | গোম | শব্দের আদিতে 'গ'-এর 'অ' = 'ও' |
শব | শোব | শব্দের আদিতে 'শ'-এর 'অ' = 'ও' |
◈ (খ) 'অ' যখন স্বাভাবিক উচ্চারিত হয়
শব্দের অন্তে বা কোনো কোনো মধ্যে 'অ' স্বাভাবিকভাবে উচ্চারিত হয়।
উদাহরণ | অক্টোপাস, প্রণব, মনন — এখানে 'অ' স্বাভাবিক উচ্চারণে। |
বিশ্লেষণ | শব্দের অবস্থান ও ধ্বনিপরিবেশ অনুযায়ী 'অ'-এর উচ্চারণ পরিবর্তিত হয়। |
৬.২ ই-ঈ ও উ-ঊ-এর উচ্চারণ |
ই/ঈ ও উ/ঊ-এর উচ্চারণ বিভ্রম |
বাংলা ভাষায় 'ই' ও 'ঈ' এবং 'উ' ও 'ঊ'-এর মধ্যে উচ্চারণগত কোনো পার্থক্য নেই। সংস্কৃতে হ্রস্ব-দীর্ঘের পার্থক্য ছিল, কিন্তু আধুনিক বাংলায় উভয়ই একইভাবে উচ্চারিত হয়। পার্থক্য শুধু বানানে। তাই 'নদী' ও 'নদি' একই উচ্চারণ। পরীক্ষায় এই বিষয়টি প্রায়ই আসে। |
৬.৩ 'এ' ধ্বনির উচ্চারণ |
বাংলায় 'এ' ধ্বনির উচ্চারণ দুই রকম হয়:
প্রকার | উচ্চারণ | উদাহরণ |
সংবৃত এ (Close-e) | উচ্চ 'এ' উচ্চারণ, ইংরেজি 'e' এর মতো | এক, দেশ, মেলা, খেলা |
বিবৃত এ (Open-e) | নিম্ন 'এ' উচ্চারণ, ইংরেজি 'air' এর 'a' এর মতো | এলো, দেওয়া, নেওয়া |
৬.৪ 'ঋ' ধ্বনির উচ্চারণ |
সংস্কৃতে 'ঋ' একটি স্বতন্ত্র স্বরধ্বনি ছিল। কিন্তু আধুনিক বাংলায় 'ঋ'-এর উচ্চারণ 'রি'-এর মতো হয়। তাই ঋণ → 'রিণ', ঋতু → 'রিতু', কৃষি → 'ক্রিষি' ইত্যাদি উচ্চারিত হয়। |
ঋ-এর উচ্চারণ | ঋণ = রিণ। বৃষ্টি = ব্রিষ্টি। কৃষি = ক্রিষি। ঋতু = রিতু। |
বিশ্লেষণ | বাংলায় 'ঋ' বর্ণ স্বরবর্ণ হলেও উচ্চারণে 'রি' হিসেবে গণ্য হয়। |
৭. স্বরবর্ণের কারচিহ্ন (স্বরচিহ্ন) |
বাক্যে বা শব্দে ব্যঞ্জনবর্ণের সাথে স্বরধ্বনি যুক্ত করতে স্বরবর্ণের সংক্ষিপ্ত রূপ ব্যবহার করা হয়, যাকে কারচিহ্ন বা স্বরচিহ্ন বলে। |
স্বরবর্ণ | কারচিহ্ন | নাম | ব্যঞ্জনের সাথে উদাহরণ | শব্দ উদাহরণ |
অ | (কোনো চিহ্ন নেই) | — | ক | কলম, পথ |
আ | া | আ-কার | কা | কাক, বাড়ি |
ই | ি | হ্রস্ব ই-কার | কি | কিছু, দিন |
ঈ | ী | দীর্ঘ ঈ-কার | কী | কী (সর্বনাম), নদী |
উ | ু | হ্রস্ব উ-কার | কু | কুল, মুখ |
ঊ | ূ | দীর্ঘ ঊ-কার | কূ | কূল, ভূমি |
ঋ | ৃ | ঋ-কার | কৃ | কৃষি, বৃষ্টি |
এ | ে | এ-কার | কে | কে (সর্বনাম), দেশ |
ঐ | ৈ | ঐ-কার | কৈ | কৈ মাছ, বৈঠক |
ও | ো | ও-কার | কো | কোথায়, ভোর |
ঔ | ৌ | ঔ-কার | কৌ | কৌতুক, নৌকা |
📝 বিশেষ দ্রষ্টব্য: 'অ' স্বরের কোনো কারচিহ্ন নেই। ব্যঞ্জনবর্ণের পরে 'অ' ধ্বনি থাকলে কোনো চিহ্ন দেওয়া হয় না, যেমন: ক = ক্+অ। |
৮. স্বরধ্বনির পরিবর্তন |
ভাষার ব্যবহারিক বিকাশে স্বরধ্বনি বিভিন্নভাবে পরিবর্তিত হয়। এই পরিবর্তনগুলো বাংলা ভাষার ঐতিহাসিক বিবর্তনের অংশ। পরীক্ষায় এই বিষয়গুলো থেকে প্রশ্ন আসে। |
৮.১ স্বরসংগতি (Vowel Harmony) |
শব্দের একটি স্বরধ্বনি পাশের অন্য স্বরধ্বনির প্রভাবে পরিবর্তিত হলে তাকে স্বরসংগতি বলে। |
পরিবর্তনের ধরন | মূল শব্দ | পরিবর্তিত রূপ | ব্যাখ্যা |
প্রগত স্বরসংগতি | মুলো | মুলু | আদিস্বর 'উ'-এর প্রভাবে অন্তস্বর 'উ' হয় |
পরাগত স্বরসংগতি | বিলাতি | বিলিতি | অন্তস্বর 'ই'-এর প্রভাবে মধ্যস্বর 'ই' হয় |
অন্যোন্য স্বরসংগতি | দেশি | দিশি | উভয় স্বরের পারস্পরিক প্রভাব |
৮.২ অপিনিহিতি (Epenthesis) |
শব্দের মধ্যে অতিরিক্ত 'ই' বা 'উ' ধ্বনি আগমনকে অপিনিহিতি বলে। সাধারণত ই-কার বা উ-কার যুক্ত বর্ণের আগেই অতিরিক্ত ধ্বনিটি আসে। |
মূল রূপ | অপিনিহিতিযুক্ত রূপ | পরিবর্তন |
আজি | আইজ | মধ্যে 'ই' আগমন |
রাখিয়া | রাইখ্যা | মধ্যে 'ই' আগমন |
করিয়া | কইর্যা | মধ্যে 'ই' আগমন |
বলিয়া | বইল্যা | মধ্যে 'ই' আগমন |
৮.৩ অভিশ্রুতি (Umlaut) |
শব্দের মধ্যে পরবর্তী 'ই' বা 'উ' ধ্বনির প্রভাবে আগের স্বরধ্বনি পরিবর্তিত হলে তাকে অভিশ্রুতি বলে। মূলত ক্রিয়ার সাধু থেকে চলিত রূপে যাওয়ার সময় এটি ঘটে। |
সাধুরূপ | চলিতরূপ | পরিবর্তন |
করিয়া | করে | ইয়া → এ |
বলিয়া | বলে | ইয়া → এ |
দেখিয়া | দেখে | ইয়া → এ |
খাইয়া | খেয়ে | আইয়া → এয়ে |
যাইয়া | গিয়ে | আইয়া → ইয়ে |
৮.৪ স্বরলোপ (Vowel Deletion) |
শব্দের কোনো স্বরধ্বনি বাদ পড়লে তাকে স্বরলোপ বলে। স্বরলোপ তিন প্রকার: আদিস্বরলোপ, মধ্যস্বরলোপ ও অন্ত্যস্বরলোপ। |
স্বরলোপের প্রকার | সংজ্ঞা | উদাহরণ |
আদিস্বরলোপ (Apheresis) | শব্দের আদিস্বর বাদ পড়া | অলাবু > লাবু, উদর > ডর |
মধ্যস্বরলোপ (Syncope) | শব্দের মাঝের স্বর বাদ পড়া | বসতি > বস্তি, সুবর্ণ > স্বর্ণ |
অন্ত্যস্বরলোপ (Apocope) | শব্দের শেষের স্বর বাদ পড়া | আজি > আজ, রাতি > রাত, নদী > নদ |
৮.৫ স্বরভক্তি (Anaptyxis) |
দুটি ব্যঞ্জনের মাঝে একটি স্বর প্রবেশ করে উচ্চারণ সহজ করা হলে তাকে স্বরভক্তি বলে। |
উদাহরণ | ধর্ম > ধরম। গর্ত > গরত। দর্প > দরপ। মর্ম > মরম। |
বিশ্লেষণ | যুক্তব্যঞ্জন ভেঙে মাঝে স্বর প্রবেশ করে উচ্চারণ সহজ হয়। |
❖ স্বরসন্ধি — গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় ❖ |
৯. স্বরসন্ধি (Vowel Sandhi) |
দুটি স্বরধ্বনির মিলনকে স্বরসন্ধি বলে। পাশাপাশি দুটি শব্দের শেষ স্বর ও পরের শব্দের আদিস্বর মিলিত হলে স্বরসন্ধি হয়। |
৯.১ স্বরসন্ধির প্রধান নিয়মসমূহ |
◈ নিয়ম ১: অ/আ + অ/আ = আ
পূর্বপদ + পরপদ | সন্ধিজাত রূপ | ব্যাখ্যা |
হিম + আলয় | হিমালয় | অ + আ = আ |
দেশ + অন্তর | দেশান্তর | অ + অ = আ |
রাজ + অর্থ | রাজার্থ | অ + অ = আ |
মহা + আশয় | মহাশয় | আ + আ = আ |
শিক্ষা + আলয় | শিক্ষালয় | আ + আ = আ |
◈ নিয়ম ২: অ/আ + ই/ঈ = এ
পূর্বপদ + পরপদ | সন্ধিজাত রূপ | ব্যাখ্যা |
নর + ইন্দ্র | নরেন্দ্র | অ + ই = এ |
সুর + ইন্দ্র | সুরেন্দ্র | অ + ই = এ |
রাজ + ঈশ্বর | রাজেশ্বর | অ + ঈ = এ |
মহা + ইন্দ্র | মহেন্দ্র | আ + ই = এ |
◈ নিয়ম ৩: অ/আ + উ/ঊ = ও
পূর্বপদ + পরপদ | সন্ধিজাত রূপ | ব্যাখ্যা |
সূর্য + উদয় | সূর্যোদয় | অ + উ = ও |
জল + উচ্ছ্বাস | জলোচ্ছ্বাস | অ + উ = ও |
মহা + উৎসব | মহোৎসব | আ + উ = ও |
গঙ্গা + উদক | গঙ্গোদক | আ + উ = ও |
◈ নিয়ম ৪: অ/আ + এ/ঐ = ঐ
পূর্বপদ + পরপদ | সন্ধিজাত রূপ | ব্যাখ্যা |
মত + ঐক্য | মতৈক্য | অ + ঐ = ঐ |
সর্ব + ঐশ্বর্য | সর্বৈশ্বর্য | অ + ঐ = ঐ |
◈ নিয়ম ৫: অ/আ + ও/ঔ = ঔ
পূর্বপদ + পরপদ | সন্ধিজাত রূপ | ব্যাখ্যা |
মহা + ঔষধ | মহৌষধ | আ + ঔ = ঔ |
বন + ওষধি | বনৌষধি | অ + ও = ঔ |
◈ নিয়ম ৬: ই/ঈ + একই বা ভিন্ন স্বর
পূর্বপদ + পরপদ | সন্ধিজাত রূপ | নিয়ম |
অতি + অন্ত | অত্যন্ত | ই + অ = য্ + অ |
অতি + আচার | অত্যাচার | ই + আ = য্ + আ |
প্রতি + এক | প্রত্যেক | ই + এ = য্ + এ |
অভি + উদয় | অভ্যুদয় | ই + উ = য্ + উ |
◈ নিয়ম ৭: উ/ঊ + ভিন্ন স্বর
পূর্বপদ + পরপদ | সন্ধিজাত রূপ | নিয়ম |
সু + অল্প | স্বল্প | উ + অ = ব্ + অ |
সু + আগত | স্বাগত | উ + আ = ব্ + আ |
মনু + অন্তর | মন্বন্তর | উ + অ = ব্ + অ |
৯.২ নিপাতনে সিদ্ধ স্বরসন্ধি |
নিপাতনে সিদ্ধ সন্ধি |
কিছু সন্ধি আছে যেগুলো নিয়ম মেনে হয় না — এগুলোকে নিপাতনে সিদ্ধ সন্ধি বলে। এগুলো মুখস্থ রাখতে হয়। উদাহরণ: কুল + অটা = কুলটা (নিয়ম মতে হওয়ার কথা 'কুলাটা')। গো + অক্ষ = গবাক্ষ। প্র + ঊঢ় = প্ররূঢ়। |
১০. স্বরধ্বনি ও ছন্দ |
কবিতায় ছন্দের মাত্রা গণনায় স্বরধ্বনি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। মুক্তাক্ষর ও বদ্ধাক্ষরের ধারণা স্বরধ্বনির সাথে সম্পর্কিত। |
মুক্তাক্ষর | বদ্ধাক্ষর |
যে অক্ষরের শেষে স্বরধ্বনি থাকে তাকে মুক্তাক্ষর বলে। মুক্তাক্ষর সাধারণত ১ মাত্রার। উদাহরণ: 'আমার' শব্দে — আ, মা, র — তিনটি মুক্তাক্ষর। | যে অক্ষরের শেষে ব্যঞ্জনধ্বনি থাকে তাকে বদ্ধাক্ষর বলে। বদ্ধাক্ষর সাধারণত ২ মাত্রার। উদাহরণ: 'বাংলা' শব্দে — বাং (বদ্ধ), লা (মুক্ত)। |
❖ পরীক্ষামুখী গুরুত্বপূর্ণ সারসংক্ষেপ ❖ |
১১. পরীক্ষামুখী গুরুত্বপূর্ণ তথ্য |
১১.১ একনজরে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য |
বিষয় | তথ্য |
বাংলায় মোট স্বরধ্বনি | ১১টি (অ, আ, ই, ঈ, উ, ঊ, ঋ, এ, ঐ, ও, ঔ) |
হ্রস্বস্বর | ৪টি: অ, ই, উ, ঋ |
দীর্ঘস্বর | ৭টি: আ, ঈ, ঊ, এ, ঐ, ও, ঔ |
মৌলিক স্বর | ৯টি: অ, আ, ই, ঈ, উ, ঊ, ঋ, এ, ও |
যৌগিক/দ্বিস্বর | ২টি: ঐ, ঔ |
গোলাকার স্বর | ৪টি: উ, ঊ, ও, ঔ |
অগোলাকার স্বর | ৭টি: অ, আ, ই, ঈ, ঋ, এ, ঐ |
কারচিহ্নের সংখ্যা | ১০টি (অ-এর কোনো কারচিহ্ন নেই) |
'ঋ'-এর উচ্চারণ বাংলায় | 'রি'-এর মতো |
সংবৃত স্বর | উচ্চ স্বর: ই, ঈ, উ, ঊ |
বিবৃত স্বর | নিম্ন স্বর: আ, এবং বিস্তৃত 'এ' |
⚡ BCS ও ব্যাংক পরীক্ষায় সর্বাধিক জিজ্ঞাসিত |
১. বাংলায় স্বরধ্বনির সংখ্যা কয়টি? → ১১টি। ২. হ্রস্বস্বর কোনগুলো? → অ, ই, উ, ঋ (৪টি)। ৩. দীর্ঘস্বর কোনগুলো? → আ, ঈ, ঊ, এ, ঐ, ও, ঔ (৭টি)। ৪. যৌগিক স্বর কোনগুলো? → ঐ ও ঔ। ৫. বাংলায় স্বরবর্ণের কারচিহ্ন কতটি? → ১০টি। ৬. 'অ'-এর কোনো কারচিহ্ন নেই — কারণ ব্যঞ্জনে স্বতঃই 'অ' আছে। ৭. স্বরসংগতি, অপিনিহিতি, অভিশ্রুতির সংজ্ঞা ও উদাহরণ। |
১১.২ মনে রাখার সহজ সূত্র |
স্মৃতিসহায়ক সূত্র |
হ্রস্বস্বর মনে রাখুন: 'অ-ই-উ-ঋ' (AIUR) — এই ৪টিই হ্রস্বস্বর। বাকি ৭টি দীর্ঘস্বর। যৌগিক স্বর: 'ঐ = এ+ই', 'ঔ = ও+উ' — এভাবে মনে রাখুন। গোলাকার স্বর: 'উ-ঊ-ও-ঔ' — এই ৪টিতে ঠোঁট গোল হয়। স্বরসন্ধি: 'সমবর্ণে দীর্ঘ, অসমবর্ণে গুণ বা বৃদ্ধি' — এই সূত্রটি মনে রাখুন। |
💡 পরীক্ষার টিপস: পরীক্ষায় 'বাংলায় স্বরধ্বনির সংখ্যা' জিজ্ঞেস করা হলে উত্তর ১১টি। কিন্তু 'ব্যবহারিক স্বরধ্বনি' বা 'কার্যকর স্বরধ্বনি' জিজ্ঞেস করলে — ই/ঈ এবং উ/ঊ একই উচ্চারণ বিধায় ৭টি বলা হয় কোনো কোনো ক্ষেত্রে। প্রশ্নের প্রসঙ্গ ভালো করে বুঝুন। |
১১.৩ গুরুত্বপূর্ণ স্বরসন্ধির তালিকা |
সন্ধি | ফলাফল | উদাহরণ |
অ/আ + অ/আ | আ | হিমালয়, দেশান্তর, শিক্ষালয়, মহাশয় |
অ/আ + ই/ঈ | এ | নরেন্দ্র, রাজেশ্বর, মহেন্দ্র, গণেশ |
অ/আ + উ/ঊ | ও | সূর্যোদয়, মহোৎসব, জলোচ্ছ্বাস |
অ/আ + ঐ | ঐ | মতৈক্য, সর্বৈশ্বর্য |
অ/আ + ঔ | ঔ | মহৌষধ, বনৌষধি |
ই/ঈ + ভিন্ন স্বর | য্ + স্বর | অত্যন্ত, অত্যাচার, প্রত্যেক |
উ/ঊ + ভিন্ন স্বর | ব্ + স্বর | স্বল্প, স্বাগত, মন্বন্তর |