অধ্যায়: বাক্য ও বাক্যের শ্রেণিবিভাগ |
১. ভূমিকা
ভাষার মূল উদ্দেশ্য হলো মনের ভাব প্রকাশ করা। মানুষ যখন কোনো কিছু বলতে বা লিখতে চায়, তখন সে বিভিন্ন শব্দ ব্যবহার করে। কিন্তু বিচ্ছিন্ন শব্দ মনের পূর্ণ ভাব প্রকাশ করতে পারে না। শব্দগুলো যখন সুশৃঙ্খলভাবে সজ্জিত হয়ে সম্পূর্ণ অর্থ প্রকাশ করে, তখনই তা বাক্যে পরিণত হয়। এজন্য বাক্য হলো ভাষার মৌলিক ও সম্পূর্ণ একক। |
২. বাক্যের সংজ্ঞা ও স্বরূপ
◈ ২.১ বিভিন্ন ব্যাকরণবিদের সংজ্ঞা
বিভিন্ন ব্যাকরণবিদ বিভিন্ন দৃষ্টিকোণ থেকে বাক্যের সংজ্ঞা দিয়েছেন। নিচে গুরুত্বপূর্ণ সংজ্ঞাগুলো আলোচনা করা হলো:
ব্যাকরণবিদ | সংজ্ঞা |
ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ্ | যে পদ বা পদসমষ্টি দ্বারা মনের ভাব সম্পূর্ণরূপে প্রকাশ পায় তাকে বাক্য বলে। |
ড. মুহম্মদ এনামুল হক | এক বা একাধিক পদের দ্বারা যদি বক্তার মনের সম্পূর্ণ ভাব প্রকাশিত হয়, তবে সেই পদ বা পদসমষ্টিকে বাক্য বলে। |
ড. সুনীতিকুমার চট্টোপাধ্যায় | যে সুবিন্যস্ত পদসমষ্টি দ্বারা কোনো বিষয়ে বক্তার মনোভাব সম্পূর্ণরূপে প্রকাশিত হয়, তাকে বাক্য বলে। |
পাণিনি (সংস্কৃত) | আকাঙ্ক্ষা, আসত্তি ও যোগ্যতা — এই তিনটি গুণ থাকলে পদসমষ্টি বাক্যে পরিণত হয়। |
বাংলা একাডেমি | এক বা একাধিক পদ নিয়ে গঠিত যে ভাষিক একক মানুষের মনের সম্পূর্ণ ভাব প্রকাশ করে তাকে বাক্য বলে। |
📝 বিশেষ দ্রষ্টব্য: পরীক্ষায় প্রায়ই ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ্ ও ড. সুনীতিকুমার চট্টোপাধ্যায়ের সংজ্ঞা থেকে প্রশ্ন আসে। উভয় সংজ্ঞাই মুখস্থ রাখা জরুরি। |
৩. বাক্যের অপরিহার্য গুণ
একটি পদসমষ্টি বাক্য হিসেবে গণ্য হতে হলে তাতে তিনটি অপরিহার্য গুণ বা বৈশিষ্ট্য থাকা আবশ্যক। এই তিনটি গুণের যেকোনো একটির অভাবে বাক্য গঠিত হয় না। গুণ তিনটি হলো: (১) আকাঙ্ক্ষা, (২) আসত্তি ও (৩) যোগ্যতা। |
◈ ৩.১ আকাঙ্ক্ষা (Expectancy)
বাক্যের অর্থ পরিষ্কারভাবে বোঝার জন্য একটি পদ শুনলে বা পড়লে মনে যে আরও পদ শোনার বা পড়ার আগ্রহ বা প্রত্যাশা জাগে তাকে আকাঙ্ক্ষা বলে। অর্থাৎ, বাক্যের একটি অংশ শুনলে পরবর্তী অংশ জানার যে স্বাভাবিক আকাঙ্ক্ষা থাকে তা-ই আকাঙ্ক্ষা।
উদাহরণ ১ | রহিম বই পড়ে। |
ব্যাখ্যা | এখানে 'রহিম' বললে 'রহিম কী করে?' জানার আকাঙ্ক্ষা জন্মে। 'রহিম বই' বললে 'বই কী করে?' জানার আকাঙ্ক্ষা থাকে। শেষে 'পড়ে' যুক্ত হলে আকাঙ্ক্ষা পূর্ণ হয়। |
আকাঙ্ক্ষার অভাব | গরু ঘোড়া পড়া বই ঘুম। |
ব্যাখ্যা | এখানে শব্দগুলোর মধ্যে কোনো সম্পর্ক নেই, আকাঙ্ক্ষার পূর্ণতা নেই। তাই এটি বাক্য নয়। |
◈ ৩.২ আসত্তি / সন্নিধি (Proximity)
বাক্যের পদগুলো পরস্পরের কাছাকাছি অবস্থিত হওয়া প্রয়োজন। সংশ্লিষ্ট পদগুলোর মধ্যে যদি অনেক দূরত্ব বা বিরতি থাকে তাহলে আসত্তির অভাব হয় এবং বাক্যটি ত্রুটিপূর্ণ হয়। পদগুলোর এই পারস্পরিক নৈকট্যই আসত্তি।
উদাহরণ (আসত্তি আছে) | আমি স্কুলে যাই। |
ব্যাখ্যা | পদগুলো ধারাবাহিকভাবে উচ্চারিত হয়েছে, মাঝে কোনো অস্বাভাবিক বিরতি নেই। |
উদাহরণ (আসত্তির অভাব) | আমি ... (দীর্ঘ বিরতি) ... স্কুলে ... (দীর্ঘ বিরতি) ... যাই। |
ব্যাখ্যা | দীর্ঘ বিরতির কারণে বাক্যের অর্থ বোঝা কঠিন হয়ে পড়ে। এটি আসত্তির অভাবের উদাহরণ। |
◈ ৩.৩ যোগ্যতা (Consistency)
বাক্যের অর্থ যদি পরস্পরবিরোধী না হয় এবং বাস্তব বা সামাজিক প্রেক্ষাপটে গ্রহণযোগ্য হয়, তাহলে বলা হয় বাক্যে যোগ্যতা আছে। অর্থাৎ, বাক্যের পদগুলো অর্থের দিক থেকে সামঞ্জস্যপূর্ণ হলেই বাক্যে যোগ্যতা থাকে।
যোগ্যতা আছে | তিনি প্রতিদিন বই পড়েন। |
ব্যাখ্যা | অর্থটি স্বাভাবিক ও গ্রহণযোগ্য। বাস্তবে এটি সম্ভব। |
যোগ্যতার অভাব | আগুন জল পান করে। |
ব্যাখ্যা | আগুন জলপান করতে পারে না — এটি বাস্তবের বিরোধী। তাই এই বাক্যে যোগ্যতার অভাব। (তবে রূপক অর্থে ব্যবহার হলে ভিন্ন কথা।) |
⚡ পরীক্ষার জন্য মনে রাখুন |
আকাঙ্ক্ষা = পদের মধ্যে প্রত্যাশা থাকা। আসত্তি = পদগুলো কাছাকাছি থাকা। যোগ্যতা = অর্থের সামঞ্জস্য থাকা। — এই তিনটি গুণকে একসাথে 'বাক্যের ত্রিগুণ' বলা হয়। |
৪. বাক্যের উপাদান বা অংশ
প্রতিটি বাক্য সাধারণত দুটি প্রধান অংশে বিভক্ত: (১) উদ্দেশ্য (Subject) ও (২) বিধেয় (Predicate)। এছাড়া বাক্যে কর্ম (Object) থাকতে পারে। |
◈ ৪.১ উদ্দেশ্য (Subject)
বাক্যে যার সম্পর্কে কিছু বলা হয় তাকে উদ্দেশ্য বলে। সাধারণত বাক্যের শুরুতে থাকে।
উদ্দেশ্যের উদাহরণ: • রহিম বই পড়ে। → রহিম (উদ্দেশ্য) • পাখিটি গান গায়। → পাখিটি (উদ্দেশ্য) • সকলে সুখী হোক। → সকলে (উদ্দেশ্য) | উদ্দেশ্যের বিস্তার: • বিশেষ গুণের অধিকারী সুন্দর রহিম বই পড়ে। (বিশেষণ যোগে বিস্তার) • পাখিটি আর সেই ছোট্ট পাখিটি গান গায়। |
◈ ৪.২ বিধেয় (Predicate)
বাক্যে উদ্দেশ্য সম্পর্কে যা বলা হয় তাকে বিধেয় বলে। বিধেয়ে সাধারণত ক্রিয়া থাকে।
উদাহরণ | রহিম মনোযোগ দিয়ে বই পড়ে। |
ব্যাখ্যা | এখানে 'রহিম' উদ্দেশ্য এবং 'মনোযোগ দিয়ে বই পড়ে' বিধেয়। |
◈ ৪.৩ উদ্দেশ্য ও বিধেয়ের বিস্তার
উদ্দেশ্য ও বিধেয় উভয়েরই বিস্তার ঘটতে পারে। বিশেষণ, ক্রিয়া-বিশেষণ বা সম্বন্ধপদ দিয়ে এই বিস্তার সাধিত হয়।
বাক্য | উদ্দেশ্য | উদ্দেশ্যের বিস্তার | বিধেয় | বিধেয়ের বিস্তার |
মেধাবী ছাত্র রহিম ভালো পড়ে। | রহিম | মেধাবী ছাত্র | পড়ে | ভালো |
ছোট্ট পাখিটি মিষ্টি সুরে গান গায়। | পাখিটি | ছোট্ট | গান গায় | মিষ্টি সুরে |
বৃদ্ধ লোকটি ধীরে হাঁটেন। | লোকটি | বৃদ্ধ | হাঁটেন | ধীরে |
৫. গঠন অনুযায়ী বাক্যের শ্রেণিবিভাগ
গঠন বা কাঠামোগত বৈশিষ্ট্যের দিক থেকে বাক্যকে তিন ভাগে ভাগ করা হয়: (১) সরল বাক্য, (২) জটিল বা মিশ্র বাক্য ও (৩) যৌগিক বাক্য। |
◈ ৫.১ সরল বাক্য (Simple Sentence)
যে বাক্যে একটিমাত্র সমাপিকা ক্রিয়া থাকে এবং বাক্যের মধ্যে কোনো অধীন বাক্য বা সমান্তরাল বাক্য থাকে না, তাকে সরল বাক্য বলে। সরল বাক্যে শুধু একটি কর্তা ও একটি সমাপিকা ক্রিয়া থাকে। |
▶ সরল বাক্যের উদাহরণ
সরল বাক্য ১ | রহিম পড়ে। |
ব্যাখ্যা | একটি কর্তা (রহিম) + একটি সমাপিকা ক্রিয়া (পড়ে)। |
সরল বাক্য ২ | পাখিরা আকাশে উড়ে। |
ব্যাখ্যা | একটি কর্তা (পাখিরা) + একটি সমাপিকা ক্রিয়া (উড়ে)। |
সরল বাক্য ৩ | সূর্য পূর্বদিকে ওঠে। |
ব্যাখ্যা | একটি কর্তা (সূর্য) + একটি সমাপিকা ক্রিয়া (ওঠে)। স্থানীয় বিশেষণ থাকলেও সরল বাক্য। |
সরল বাক্য ৪ | মেধাবী ও পরিশ্রমী রহিম ক্লাসে প্রথম হয়েছে। |
ব্যাখ্যা | কর্তার বিস্তার থাকলেও ক্রিয়া একটি — তাই সরল বাক্য। |
📝 বিশেষ দ্রষ্টব্য: সরল বাক্যে অসমাপিকা ক্রিয়া থাকতে পারে, কিন্তু সমাপিকা ক্রিয়া একটিমাত্র থাকবে। যেমন: 'সে গান গেয়ে চলে গেল' — এখানে 'গেয়ে' অসমাপিকা, 'গেল' সমাপিকা। |
◈ ৫.২ জটিল বা মিশ্র বাক্য (Complex Sentence)
যে বাক্যে একটি প্রধান বা স্বাধীন খণ্ডবাক্য এবং এক বা একাধিক আশ্রিত বা অধীন খণ্ডবাক্য থাকে, তাকে জটিল বা মিশ্র বাক্য বলে। আশ্রিত খণ্ডবাক্যগুলো প্রধান বাক্যের উপর নির্ভরশীল। |
▶ সংযোজক শব্দ
জটিল বাক্যে সাধারণত যে, যদি, যখন, যেহেতু, কারণ, যদিও, যতক্ষণ, যত, তত ইত্যাদি অধীনতাসূচক সংযোজক শব্দ ব্যবহৃত হয়।
▶ জটিল বাক্যের উদাহরণ
জটিল বাক্য ১ | যে পরিশ্রম করে, সে সফল হয়। |
ব্যাখ্যা | 'যে পরিশ্রম করে' — অধীন খণ্ডবাক্য। 'সে সফল হয়' — প্রধান খণ্ডবাক্য। |
জটিল বাক্য ২ | যদি বৃষ্টি হয়, তাহলে আমরা যাব না। |
ব্যাখ্যা | 'যদি বৃষ্টি হয়' — শর্তমূলক অধীন খণ্ডবাক্য। 'আমরা যাব না' — প্রধান খণ্ডবাক্য। |
জটিল বাক্য ৩ | যখন সকাল হলো, তখন পাখিরা ডাকতে শুরু করল। |
ব্যাখ্যা | 'যখন সকাল হলো' — কালবাচক অধীন খণ্ডবাক্য। 'পাখিরা ডাকতে শুরু করল' — প্রধান খণ্ডবাক্য। |
জটিল বাক্য ৪ | যেহেতু সে অসুস্থ, সেহেতু সে আসতে পারেনি। |
ব্যাখ্যা | 'যেহেতু সে অসুস্থ' — কারণবাচক অধীন খণ্ডবাক্য। 'সে আসতে পারেনি' — প্রধান খণ্ডবাক্য। |
অধীন খণ্ডবাক্যের ধরন | সংযোজক শব্দ | উদাহরণ |
কালবাচক | যখন ... তখন | যখন সন্ধ্যা হলো, তখন বাড়ি ফিরলাম। |
শর্তবাচক | যদি ... তাহলে/তবে | যদি পড়, তাহলে পাস করবে। |
কারণবাচক | যেহেতু ... সেহেতু | যেহেতু মিথ্যা বলেছ, সেহেতু শাস্তি পাবে। |
স্থানবাচক | যেখানে ... সেখানে | যেখানে জ্ঞান, সেখানে আলো। |
সম্বন্ধবাচক | যে/যিনি ... সে/তিনি | যে পড়াশোনা করে, সে সফল হয়। |
◈ ৫.৩ যৌগিক বাক্য (Compound Sentence)
যে বাক্যে দুই বা ততোধিক স্বাধীন বা সমান খণ্ডবাক্য সমন্বয়সূচক অব্যয় দ্বারা যুক্ত থাকে, তাকে যৌগিক বাক্য বলে। প্রতিটি খণ্ডবাক্য স্বতন্ত্রভাবে অর্থপূর্ণ। |
▶ সমন্বয়সূচক অব্যয়
যৌগিক বাক্যে ব্যবহৃত সমন্বয়সূচক অব্যয়গুলো হলো: এবং, ও, কিন্তু, তবে, তথাপি, অথবা, বা, কারণ, তাই, সুতরাং, নতুবা, অন্যথা ইত্যাদি।
▶ যৌগিক বাক্যের উদাহরণ
যৌগিক বাক্য ১ | রহিম পড়ে এবং করিম লেখে। |
ব্যাখ্যা | 'রহিম পড়ে' + 'করিম লেখে' — দুটি স্বাধীন বাক্য 'এবং' দিয়ে যুক্ত। |
যৌগিক বাক্য ২ | সে চেষ্টা করেছিল, কিন্তু সফল হয়নি। |
ব্যাখ্যা | বৈপরীত্যসূচক 'কিন্তু' দিয়ে দুটি স্বাধীন বাক্য যুক্ত। |
যৌগিক বাক্য ৩ | তুমি পড়, নতুবা পরীক্ষায় ফেল করবে। |
ব্যাখ্যা | বিকল্পসূচক 'নতুবা' দিয়ে দুটি স্বাধীন বাক্য যুক্ত। |
যৌগিক বাক্য ৪ | আকাশ মেঘলা, তাই বৃষ্টি হবে। |
ব্যাখ্যা | পরিণামবাচক 'তাই' দিয়ে দুটি স্বাধীন বাক্য যুক্ত। |
অব্যয়ের ধরন | অব্যয় শব্দ | উদাহরণ |
সংযোজক | এবং, ও, আর | রহিম গান গায় এবং করিম নাচে। |
বিভাজক | অথবা, বা, কিংবা | সত্য বলো অথবা চুপ করো। |
বিরোধমূলক | কিন্তু, তবে, তথাপি | ধনী হয়েছে কিন্তু সুখী হয়নি। |
কারণসূচক | কারণ, যেহেতু | সে আসেনি, কারণ সে অসুস্থ। |
ফলাত্মক | তাই, সুতরাং, অতএব | পরিশ্রম করেছ, তাই সফল হয়েছ। |
⚡ তিন ধরনের বাক্যের তুলনা |
সরল বাক্য: একটি সমাপিকা ক্রিয়া, কোনো অধীন বা সমান্তরাল বাক্য নেই। | জটিল বাক্য: একটি প্রধান বাক্য + এক বা একাধিক অধীন বাক্য, অধীনতাসূচক অব্যয় ব্যবহৃত হয়। | যৌগিক বাক্য: দুই বা তার বেশি স্বাধীন বাক্য, সমন্বয়সূচক অব্যয় ব্যবহৃত হয়। |
৬. বাক্যের রূপান্তর (Transformation of Sentences)
গঠন পরিবর্তন করে একটি বাক্যকে অন্য ধরনের বাক্যে রূপান্তরিত করা যায়। এই প্রক্রিয়াকে বাক্যের রূপান্তর বলে। পরীক্ষায় এটি একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বিষয়।
◈ ৬.১ সরল থেকে জটিল বাক্যে রূপান্তর
সরল বাক্য | জটিল বাক্য |
পরিশ্রমী ছেলেটি সফল হয়েছে। | যে ছেলেটি পরিশ্রম করে, সে সফল হয়েছে। |
দরিদ্র হয়েও সে সৎ। | যদিও সে দরিদ্র, তবুও সে সৎ। |
রাত হওয়ায় আমরা থেমে গেলাম। | যেহেতু রাত হয়েছিল, সেহেতু আমরা থেমে গেলাম। |
সকালে উঠে সে ব্যায়াম করে। | যখন সে সকালে ওঠে, তখন ব্যায়াম করে। |
◈ ৬.২ সরল থেকে যৌগিক বাক্যে রূপান্তর
সরল বাক্য | যৌগিক বাক্য |
পরিশ্রম করে সে সফল হয়েছে। | সে পরিশ্রম করেছে এবং সফল হয়েছে। |
দরিদ্র হয়েও সে সুখী। | সে দরিদ্র, কিন্তু সুখী। |
ভালো পড়লে পাস করবে। | ভালো পড়ো, তাহলে পাস করবে। |
◈ ৬.৩ জটিল থেকে সরল বাক্যে রূপান্তর
জটিল বাক্য | সরল বাক্য |
যে পরিশ্রমী, সে সফল হয়। | পরিশ্রমীরা সফল হয়। |
যখন বৃষ্টি থামল, তখন আমরা বের হলাম। | বৃষ্টি থামলে আমরা বের হলাম। |
যদিও সে অসুস্থ, তবুও এসেছে। | অসুস্থ হয়েও সে এসেছে। |
৭. অর্থ অনুযায়ী বাক্যের শ্রেণিবিভাগ
অর্থের দিক থেকে বাংলা বাক্যকে পাঁচ ভাগে ভাগ করা যায়: (১) বিবৃতিমূলক বাক্য, (২) প্রশ্নবোধক বাক্য, (৩) অনুজ্ঞামূলক বাক্য, (৪) বিস্ময়বোধক বাক্য ও (৫) ইচ্ছামূলক বাক্য। কেউ কেউ আরও কিছু উপভাগ করেন। |
◈ ৭.১ বিবৃতিমূলক বাক্য (Assertive / Declarative Sentence)
যে বাক্যে কোনো বিষয়ে সাধারণভাবে বর্ণনা বা বিবৃতি দেওয়া হয়, তাকে বিবৃতিমূলক বাক্য বলে। এটি দুই প্রকার: (ক) অনুজ্ঞামূলক (Affirmative) ও (খ) নেতিবাচক (Negative)।
▶ (ক) হ্যাঁ-বাচক বিবৃতিমূলক বাক্য (Affirmative)
উদাহরণ ১ | সূর্য পূর্ব দিকে ওঠে। |
ব্যাখ্যা | একটি সাধারণ তথ্য বিবৃতি করা হয়েছে। |
উদাহরণ ২ | বাংলাদেশ একটি স্বাধীন দেশ। |
ব্যাখ্যা | একটি সত্য তথ্য প্রকাশিত হয়েছে। |
▶ (খ) না-বাচক বিবৃতিমূলক বাক্য (Negative)
উদাহরণ ১ | সূর্য পশ্চিম দিকে ওঠে না। |
ব্যাখ্যা | অস্বীকৃতিমূলক বিবৃতি। |
উদাহরণ ২ | আমি কখনো মিথ্যা বলি না। |
ব্যাখ্যা | 'না' ব্যবহার করে নেতিবাচক বিবৃতি। |
◈ ৭.২ প্রশ্নবোধক বাক্য (Interrogative Sentence)
যে বাক্যে প্রশ্ন করা হয় বা কিছু জানতে চাওয়া হয়, তাকে প্রশ্নবোধক বাক্য বলে। বাক্যের শেষে প্রশ্নচিহ্ন (?) ব্যবহার করা হয়।
▶ প্রশ্নবোধক বাক্যের প্রকারভেদ
প্রকার | বৈশিষ্ট্য | উদাহরণ |
সাধারণ প্রশ্ন | হ্যাঁ/না উত্তর প্রত্যাশিত | তুমি কি স্কুলে যাবে? |
বিশেষ প্রশ্ন | কে, কী, কোথায়, কখন, কেন, কীভাবে | তুমি কোথায় যাচ্ছ? |
বিকল্পমূলক প্রশ্ন | না-কি/অথবা দিয়ে বিকল্প | তুমি চা খাবে, না-কি কফি? |
পরোক্ষ প্রশ্ন | প্রশ্নের মধ্যে প্রশ্ন | জানি না সে আসবে কিনা। |
◈ ৭.৩ অনুজ্ঞামূলক বাক্য (Imperative Sentence)
যে বাক্যে আদেশ, অনুরোধ, উপদেশ, নিষেধ বা অনুমতি প্রকাশ করা হয়, তাকে অনুজ্ঞামূলক বাক্য বলে। এই বাক্যে সাধারণত কর্তা উহ্য থাকে।
প্রকার | উদাহরণ |
আদেশ | এখনই বই খোলো। |
অনুরোধ | অনুগ্রহ করে একটু বসুন। |
উপদেশ | সত্য কথা বলো। |
নিষেধ | মিথ্যা বলো না। |
অনুমতি | তুমি এখন যেতে পারো। |
◈ ৭.৪ বিস্ময়বোধক বাক্য (Exclamatory Sentence)
যে বাক্যে আনন্দ, বেদনা, বিস্ময়, ঘৃণা, ভয় বা আক্ষেপ প্রভৃতি তীব্র অনুভূতি প্রকাশ পায়, তাকে বিস্ময়বোধক বাক্য বলে। বাক্যের শেষে বিস্ময়চিহ্ন (!) ব্যবহার করা হয়।
অনুভূতির ধরন | উদাহরণ |
আনন্দ | আহা, কী সুন্দর ফুল! |
বেদনা / দুঃখ | হায়! সে আর নেই! |
বিস্ময় | কী অদ্ভুত কথা! |
ঘৃণা | ছিঃ! এমন কাজ করলে! |
ভয় | বাঘ! বাঘ! পালাও! |
আক্ষেপ | হায় রে! কপাল আমার! |
◈ ৭.৫ ইচ্ছামূলক বাক্য (Optative / Exclamatory Sentence)
যে বাক্যে বক্তার কোনো ইচ্ছা, আকাঙ্ক্ষা, আশীর্বাদ বা প্রার্থনা প্রকাশ পায়, তাকে ইচ্ছামূলক বাক্য বলে।
প্রকার | উদাহরণ |
আশীর্বাদ | তুমি দীর্ঘজীবী হও। |
প্রার্থনা | ঈশ্বর তোমার মঙ্গল করুন। |
শুভেচ্ছা | তোমার পরীক্ষা ভালো হোক। |
অভিশাপ | তোর সর্বনাশ হোক। |
৮. বাচ্য অনুযায়ী বাক্যের শ্রেণিবিভাগ
ক্রিয়ার সঙ্গে কর্তা, কর্ম বা ভাব কোনটি প্রাধান্য পাচ্ছে তার উপর ভিত্তি করে বাক্যকে বিভিন্ন বাচ্যে ভাগ করা হয়। বাচ্য মূলত চার প্রকার: (১) কর্তৃবাচ্য, (২) কর্মবাচ্য, (৩) ভাববাচ্য ও (৪) কর্মকর্তৃবাচ্য। |
◈ ৮.১ কর্তৃবাচ্য (Active Voice)
যে বাক্যে ক্রিয়ার সঙ্গে কর্তার প্রাধান্য থাকে এবং ক্রিয়াটি কর্তার অনুসারী হয়, তাকে কর্তৃবাচ্য বলে।
উদাহরণ ১ | রহিম একটি বই পড়ছে। |
ব্যাখ্যা | কর্তা 'রহিম' প্রধান — ক্রিয়া কর্তার অনুসারী। |
উদাহরণ ২ | মা রান্না করেন। |
ব্যাখ্যা | কর্তা 'মা' প্রধান। |
◈ ৮.২ কর্মবাচ্য (Passive Voice)
যে বাক্যে ক্রিয়ার সঙ্গে কর্মের প্রাধান্য থাকে এবং ক্রিয়াটি কর্মের অনুসারী হয়, তাকে কর্মবাচ্য বলে।
উদাহরণ ১ | রহিম কর্তৃক বইটি পড়া হচ্ছে। |
ব্যাখ্যা | কর্ম 'বইটি' প্রধান। 'কর্তৃক' ব্যবহৃত হয়েছে। |
উদাহরণ ২ | মা কর্তৃক রান্না করা হচ্ছে। |
ব্যাখ্যা | কর্মবাচ্যে কর্তা 'কর্তৃক' বিভক্তি পায়। |
◈ ৮.৩ ভাববাচ্য (Impersonal Voice)
যে বাক্যে ক্রিয়ার সঙ্গে ভাবের প্রাধান্য থাকে এবং কর্তাও কর্মও প্রধান নয়, ক্রিয়াটি ভাবের অনুসারী হয়, তাকে ভাববাচ্য বলে। এতে সাধারণত কর্তা ও কর্ম উভয়ই গৌণ।
উদাহরণ ১ | রহিম কর্তৃক এখন যাওয়া হবে। |
ব্যাখ্যা | ক্রিয়ার ভাব প্রধান। |
উদাহরণ ২ | এখন আর বাইরে যাওয়া যাচ্ছে না। |
ব্যাখ্যা | ভাবটি প্রধান — 'বাইরে যাওয়া' ভাবটি বক্তব্যের কেন্দ্রে। |
◈ ৮.৪ কর্মকর্তৃবাচ্য (Middle Voice)
যে বাক্যে কর্মই কর্তার কাজ করে এবং কর্মটিই ক্রিয়ার উৎস হিসেবে কাজ করে, তাকে কর্মকর্তৃবাচ্য বলে।
উদাহরণ ১ | ডাল রান্না হয়। |
ব্যাখ্যা | কর্ম 'ডাল' নিজে রান্না হচ্ছে — কর্তার ভূমিকা পালন করছে। |
উদাহরণ ২ | বাঁশি বাজে। |
ব্যাখ্যা | বাঁশি নিজেই বাজছে — কর্মকর্তৃবাচ্যের বৈশিষ্ট্য। |
বাচ্য | প্রধান উপাদান | ক্রিয়ার অনুসারী | উদাহরণ |
কর্তৃবাচ্য | কর্তা | কর্তা | রহিম বই পড়ে। |
কর্মবাচ্য | কর্ম | কর্ম | রহিম কর্তৃক বই পড়া হয়। |
ভাববাচ্য | ভাব/ক্রিয়া | ভাব | রহিম কর্তৃক পড়া হচ্ছে। |
কর্মকর্তৃবাচ্য | কর্ম (কর্তা হিসেবে) | কর্ম/কর্তা | বইটি পড়া হয়ে গেছে। |
৯. বাক্যের ক্রিয়াপদ: সমাপিকা ও অসমাপিকা
◈ ৯.১ সমাপিকা ক্রিয়া (Finite Verb)
যে ক্রিয়া দ্বারা বাক্যের অর্থ সম্পূর্ণ হয় এবং কাল, পুরুষ ও বচন অনুযায়ী রূপান্তরিত হয়, তাকে সমাপিকা ক্রিয়া বলে। |
উদাহরণ | রহিম পড়ে। সে যায়। তারা খেলল। |
ব্যাখ্যা | পড়ে, যায়, খেলল — এগুলো সমাপিকা ক্রিয়া। প্রতিটি বাক্যের অর্থ পূর্ণ করেছে। |
◈ ৯.২ অসমাপিকা ক্রিয়া (Non-Finite Verb)
যে ক্রিয়া দ্বারা বাক্যের অর্থ সম্পূর্ণ হয় না, তাকে অসমাপিকা ক্রিয়া বলে। এটি বাক্যে থাকে কিন্তু একা বাক্যের অর্থ শেষ করে না। |
অসমাপিকা ক্রিয়ার শেষে সাধারণত: -ইয়া/-ে, -ইতে/-তে, -ইলে/-লে, -ইয়া/-য়ে প্রভৃতি বিভক্তি যুক্ত হয়।
অসমাপিকার রূপ | উদাহরণ বাক্য | বিশ্লেষণ |
-ইয়া / -ে বিভক্তি | সে হেসে কথা বলল। | 'হেসে' অসমাপিকা, 'বলল' সমাপিকা। |
-ইতে / -তে বিভক্তি | সে পড়তে ভালোবাসে। | 'পড়তে' অসমাপিকা, 'ভালোবাসে' সমাপিকা। |
-ইলে / -লে বিভক্তি | বৃষ্টি হলে আসব না। | 'হলে' অসমাপিকা, 'আসব না' সমাপিকা। |
১০. খণ্ডবাক্য (Clause)
কোনো বাক্যের অভ্যন্তরে যে অংশটি নিজের মধ্যে উদ্দেশ্য ও বিধেয় থাকে কিন্তু সম্পূর্ণ স্বাধীন বাক্য হিসেবে দাঁড়াতে পারে না বা পারে, তাকে খণ্ডবাক্য বলে। |
◈ ১০.১ প্রধান খণ্ডবাক্য (Main / Principal Clause)
যে খণ্ডবাক্য অন্য কোনো খণ্ডবাক্যের উপর নির্ভরশীল নয় এবং স্বাধীনভাবে অর্থপূর্ণ, তাকে প্রধান খণ্ডবাক্য বলে।
উদাহরণ | যখন বৃষ্টি আসে, তখন আমরা ঘরে থাকি। |
ব্যাখ্যা | 'আমরা ঘরে থাকি' — প্রধান খণ্ডবাক্য (স্বাধীনভাবে অর্থপূর্ণ)। |
◈ ১০.২ আশ্রিত খণ্ডবাক্য (Subordinate Clause)
যে খণ্ডবাক্য প্রধান খণ্ডবাক্যের উপর নির্ভরশীল এবং স্বাধীনভাবে সম্পূর্ণ অর্থ প্রকাশ করতে পারে না, তাকে আশ্রিত খণ্ডবাক্য বলে।
উদাহরণ | যখন বৃষ্টি আসে, তখন আমরা ঘরে থাকি। |
ব্যাখ্যা | 'যখন বৃষ্টি আসে' — আশ্রিত খণ্ডবাক্য (স্বাধীনভাবে সম্পূর্ণ নয়)। |
◈ ১০.৩ আশ্রিত খণ্ডবাক্যের প্রকারভেদ
প্রকার | কাজ | উদাহরণ |
বিশেষ্য আশ্রিত খণ্ডবাক্য | বিশেষ্যের কাজ করে | আমি জানি যে সে সৎ। |
বিশেষণ আশ্রিত খণ্ডবাক্য | বিশেষণের কাজ করে | যে ছেলেটি পড়াশোনা করে, সে পাস করবে। |
ক্রিয়া-বিশেষণ আশ্রিত খণ্ডবাক্য | ক্রিয়া-বিশেষণের কাজ করে | যখন বৃষ্টি থামল, আমরা বের হলাম। |
১১. বাক্যের অন্যান্য শ্রেণিবিভাগ
◈ ১১.১ ক্রিয়ার ভিত্তিতে শ্রেণিবিভাগ
প্রকার | সংজ্ঞা | উদাহরণ |
সকর্মক বাক্য | যে বাক্যের ক্রিয়ার কর্ম আছে। | রহিম বই পড়ে। (বই = কর্ম) |
অকর্মক বাক্য | যে বাক্যের ক্রিয়ার কর্ম নেই। | পাখিরা উড়ে। |
দ্বিকর্মক বাক্য | যে বাক্যের ক্রিয়ার দুটি কর্ম আছে। | শিক্ষক ছাত্রকে অঙ্ক শেখান। |
◈ ১১.২ হ্যাঁ-বাচক ও না-বাচক বাক্য
হ্যাঁ-বাচক বাক্য: • সে পরীক্ষায় পাস করেছে। • আমি সত্য বলি। • পাখিরা গান গায়। | না-বাচক বাক্য: • সে পরীক্ষায় ফেল করেনি। • আমি মিথ্যা বলি না। • পাখিরা গান গায় না। |
◈ ১১.৩ বাক্যের উক্তি অনুযায়ী শ্রেণিবিভাগ
প্রকার | সংজ্ঞা | উদাহরণ |
প্রত্যক্ষ উক্তি | বক্তার কথা হুবহু উদ্ধৃত করা হয়। | রহিম বলল, 'আমি যাব।' |
পরোক্ষ উক্তি | বক্তার কথা পরিবর্তিত রূপে বলা হয়। | রহিম বলল যে সে যাবে। |
১২. বাক্য বিশ্লেষণ (Sentence Analysis)
বাক্য বিশ্লেষণ হলো একটি বাক্যকে তার উপাদান ও সম্পর্কের ভিত্তিতে বিভিন্ন অংশে বিভক্ত করা। এর মাধ্যমে বাক্যের গঠন, কর্তা, কর্ম, ক্রিয়া এবং অন্যান্য উপাদান শনাক্ত করা হয়। |
◈ ১২.১ সরল বাক্য বিশ্লেষণ
বাক্য | মেধাবী ছাত্র রহিম মনোযোগ দিয়ে বই পড়ে। |
ব্যাখ্যা | নিচে সম্পূর্ণ বিশ্লেষণ দেওয়া হলো। |
বিশ্লেষণের বিষয় | বিশ্লেষণ |
উদ্দেশ্য | রহিম |
উদ্দেশ্যের বিস্তার | মেধাবী ছাত্র |
বিধেয় | মনোযোগ দিয়ে বই পড়ে |
বিধেয়ের সমাপিকা ক্রিয়া | পড়ে |
কর্ম | বই |
বিধেয়ের বিস্তার (ক্রিয়া-বিশেষণ) | মনোযোগ দিয়ে |
বাক্যের ধরন (গঠন অনুযায়ী) | সরল বাক্য |
বাক্যের ধরন (অর্থ অনুযায়ী) | হ্যাঁ-বাচক বিবৃতিমূলক |
◈ ১২.২ জটিল বাক্য বিশ্লেষণ
বাক্য | যে পরিশ্রম করে, সে সফল হয়। |
ব্যাখ্যা | নিচে সম্পূর্ণ বিশ্লেষণ দেওয়া হলো। |
বিশ্লেষণের বিষয় | বিশ্লেষণ |
প্রধান খণ্ডবাক্য | সে সফল হয়। |
আশ্রিত খণ্ডবাক্য | যে পরিশ্রম করে |
অধীনতাসূচক সংযোজক | যে |
প্রধান বাক্যের উদ্দেশ্য | সে |
প্রধান বাক্যের বিধেয় | সফল হয় |
আশ্রিত বাক্যের উদ্দেশ্য | যে (= পরিশ্রমী ব্যক্তি) |
আশ্রিত বাক্যের বিধেয় | পরিশ্রম করে |
বাক্যের ধরন (গঠন অনুযায়ী) | জটিল/মিশ্র বাক্য |
১৩. বাক্যের সাধারণ ভুল ও শুদ্ধিকরণ
বাক্য লেখার সময় নানা ধরনের ত্রুটি হতে পারে। এই ত্রুটিগুলো শনাক্ত করে শুদ্ধ করার বিষয়কে বাক্যশুদ্ধি বলে। পরীক্ষায় বাক্যশুদ্ধির প্রশ্ন প্রায়ই আসে। |
◈ ১৩.১ সাধারণ ভুল ও শুদ্ধ রূপ
ভুল বাক্য | ত্রুটির কারণ | শুদ্ধ বাক্য |
আমার বড় দরকার আছে। | 'বড়' এর পরিবর্তে 'খুব' ব্যবহার করা উচিত। | আমার খুব দরকার আছে। |
সে অনেক পরিশ্রমী ব্যক্তি। | বাহুল্য দোষ — 'ব্যক্তি' অপ্রয়োজনীয়। | সে অনেক পরিশ্রমী। |
তার জন্মস্থান রাজশাহী শহর। | 'জন্মস্থান' মানে স্থান, 'শহর' বাহুল্য। | তার জন্মস্থান রাজশাহী। |
প্রতিটি মানুষেরই মরতে হবে। | দ্বৈত বিভক্তি — 'মানুষেরই' ও 'হবে' সংঘাত। | প্রতিটি মানুষকে মরতে হবে। |
আমি এই কাজ করিতে অক্ষম। | অসমাপিকার অসংগত ব্যবহার। | আমি এই কাজ করতে অক্ষম। |
গৃহস্থালির কাজকর্ম করা মেয়েরা। | উদ্দেশ্য-বিধেয় বিপর্যয়। | মেয়েরা গৃহস্থালির কাজকর্ম করে। |
◈ ১৩.২ বাক্যের সাধারণ দোষসমূহ
দোষের নাম | সংজ্ঞা | উদাহরণ |
বাহুল্য দোষ | একই অর্থের দুটি শব্দের ব্যবহার। | ফিরে আসা প্রত্যাবর্তন (ফিরে আসা = প্রত্যাবর্তন) |
গুরুচণ্ডালী দোষ | তৎসম ও দেশি/বিদেশি শব্দের অসংগত মিশ্রণ। | মরদেহ শব (মৃতদেহ শব বা মড়া শব হওয়া উচিত) |
দুর্বোধ্যতা দোষ | অস্পষ্ট বা অপরিষ্কার অর্থের বাক্য। | সে উহার নিকটে যায়। |
অসংগতি দোষ | বাক্যের অর্থ পরস্পরবিরোধী। | জীবিত মৃত মানুষ। |
✦ পরীক্ষা-প্রস্তুতিমূলক বিশেষ আলোচনা ✦ |
১৪. পরীক্ষায় বারবার আসা গুরুত্বপূর্ণ বিষয়
◈ ১৪.১ একই বাক্য বিভিন্ন রূপে
নিচে একটি ভাবকে গঠন ও অর্থ অনুযায়ী বিভিন্ন বাক্যে প্রকাশ করা হলো:
বাক্যের ধরন | উদাহরণ |
সরল বিবৃতিমূলক (হ্যাঁ-বাচক) | পরিশ্রমী মানুষ জীবনে সফল হয়। |
সরল বিবৃতিমূলক (না-বাচক) | অলস মানুষ জীবনে সফল হয় না। |
জটিল বিবৃতিমূলক | যে পরিশ্রম করে, সে সফল হয়। |
যৌগিক বিবৃতিমূলক | পরিশ্রম করো, তাহলে সফল হবে। |
প্রশ্নবোধক | কি পরিশ্রম ছাড়া সফল হওয়া সম্ভব? |
অনুজ্ঞামূলক | পরিশ্রম করো, সফল হবে। |
বিস্ময়বোধক | কী অদ্ভুত! পরিশ্রম না করেও সে সফল! |
ইচ্ছামূলক | পরিশ্রমী সবাই সফল হোক। |
◈ ১৪.২ বিভিন্ন বাচ্যে রূপান্তর
বাচ্য | উদাহরণ |
কর্তৃবাচ্য | রহিম বইটি পড়ে। |
কর্মবাচ্য | রহিম কর্তৃক বইটি পড়া হয়। |
ভাববাচ্য | রহিম কর্তৃক বইটি পড়া হচ্ছে। |
কর্মকর্তৃবাচ্য | বইটি পড়া হয়ে যাচ্ছে। |
⚡ BCS পরীক্ষার জন্য বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ |
১. বাক্যের গুণ তিনটি: আকাঙ্ক্ষা, আসত্তি, যোগ্যতা। ২. গঠন অনুযায়ী বাক্য তিন প্রকার: সরল, জটিল, যৌগিক। ৩. অর্থ অনুযায়ী বাক্য পাঁচ প্রকার: বিবৃতিমূলক, প্রশ্নবোধক, অনুজ্ঞামূলক, বিস্ময়বোধক, ইচ্ছামূলক। ৪. বাচ্য চার প্রকার: কর্তৃ, কর্ম, ভাব, কর্মকর্তৃ। ৫. খণ্ডবাক্য দুই প্রকার: প্রধান ও আশ্রিত। ৬. আশ্রিত খণ্ডবাক্য তিন প্রকার: বিশেষ্য, বিশেষণ ও ক্রিয়া-বিশেষণ। |
১৫. মনে রাখার সহজ কৌশল
◈ ১৫.১ সংযোজক শব্দ দিয়ে বাক্যের ধরন চেনা
সংযোজক / অব্যয় | বাক্যের ধরন |
যে, যদি, যখন, যেহেতু, যদিও, যতক্ষণ, কারণ | জটিল বাক্য (অধীনতাসূচক) |
এবং, ও, কিন্তু, তবে, অথবা, তাই, সুতরাং, নতুবা | যৌগিক বাক্য (সমন্বয়সূচক) |
কোনো সংযোজক নেই, একটি সমাপিকা ক্রিয়া | সরল বাক্য |
◈ ১৫.২ স্মৃতিসহায়ক তালিকা
বাক্যের গুণ স্মরণের সূত্র: 'আ-আ-যো' → আকাঙ্ক্ষা - আসত্তি - যোগ্যতা। বাচ্যের প্রকার স্মরণের সূত্র: 'কর-কর-ভা-কর্মকর্তা' → কর্তৃ - কর্ম - ভাব - কর্মকর্তৃ। গঠন অনুযায়ী বাক্যের প্রকার: 'স-জ-য' → সরল - জটিল - যৌগিক। |
১৬. বাক্যের শ্রেণিবিভাগ — সংক্ষিপ্ত চার্ট
শ্রেণিবিভাগের ভিত্তি | প্রকারভেদ | সংক্ষিপ্ত পরিচয় |
গঠন | সরল বাক্য | একটি সমাপিকা ক্রিয়া, কোনো খণ্ডবাক্য নেই। |
গঠন | জটিল বাক্য | প্রধান + আশ্রিত খণ্ডবাক্য। |
গঠন | যৌগিক বাক্য | দুই বা তার বেশি স্বাধীন খণ্ডবাক্য। |
অর্থ | বিবৃতিমূলক | কোনো তথ্য বা বিবৃতি প্রকাশ করে। |
অর্থ | প্রশ্নবোধক | প্রশ্ন করা হয়। |
অর্থ | অনুজ্ঞামূলক | আদেশ, অনুরোধ, উপদেশ। |
অর্থ | বিস্ময়বোধক | তীব্র অনুভূতি প্রকাশ। |
অর্থ | ইচ্ছামূলক | ইচ্ছা, আশীর্বাদ, প্রার্থনা। |
বাচ্য | কর্তৃবাচ্য | কর্তা প্রধান। |
বাচ্য | কর্মবাচ্য | কর্ম প্রধান। |
বাচ্য | ভাববাচ্য | ভাব/ক্রিয়া প্রধান। |
বাচ্য | কর্মকর্তৃবাচ্য | কর্ম কর্তার কাজ করে। |