সরল বাক্য
১. বাক্য - ভূমিকা ও মূল ধারণা
ভাষার মূল প্রকাশ মাধ্যম হলো বাক্য। মানুষ যখন কোনো সম্পূর্ণ মনোভাব প্রকাশ করতে চায়, তখন বাক্য ব্যবহার করে। বাংলা ব্যাকরণে বাক্যকে গঠনগতভাবে তিন ভাগে ভাগ করা হয়:
গঠন অনুযায়ী বাক্যের প্রকারভেদ
সরল বাক্য (Simple Sentence) একটি মাত্র সমাপিকা ক্রিয়া রাহেলা বই পড়ে।
মিশ্র / জটিল বাক্য (Complex Sentence) একটি প্রধান + এক বা একাধিক অধীন খণ্ডবাক্য যদি বৃষ্টি হয়, তাহলে যাব না।
যৌগিক বাক্য (Compound Sentence) দুই বা ততোধিক স্বাধীন বাক্য সমন্বয়কারী অব্যয়ে যুক্ত সে গান করে এবং আমি শুনি।
এই অধ্যায়ে কেবল সরল বাক্য নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হবে।
২. সরল বাক্য - সংজ্ঞা ও মূল পরিচয়
'সরল' অর্থ সহজ বা একরৈখিক। সরল বাক্য হলো সেই বাক্য যাতে কেবল একটি স্বাধীন ও মূল উদ্দেশ্য-বিধেয় সম্পর্ক থাকে এবং একটিমাত্র সমাপিকা ক্রিয়া থাকে।
সংজ্ঞা: যে বাক্যে একটিমাত্র সমাপিকা ক্রিয়া (Finite Verb) থাকে এবং একটিমাত্র উদ্দেশ্য (Subject) ও বিধেয় (Predicate) থাকে, তাকে সরল বাক্য (Simple Sentence) বলে। এ বাক্যে কোনো অধীনস্থ বা সমন্বিত খণ্ডবাক্য থাকে না।
উপাদান সংজ্ঞা উদাহরণ
উদ্দেশ্য (Subject) যার সম্পর্কে কিছু বলা হচ্ছে ছেলেটি / রাহেলা / সে
বিধেয় (Predicate) উদ্দেশ্য সম্পর্কে যা বলা হচ্ছে বই পড়ে / খেলছে / যাবে
সমাপিকা ক্রিয়া বাক্যের মূল ক্রিয়া - একটিমাত্র পড়ে / খেলছে / এসেছে
মূল শর্ত: সরল বাক্যে একটিমাত্র সমাপিকা ক্রিয়া থাকবে। বাক্যে অসমাপিকা ক্রিয়া (যেমন: গিয়ে, করে, দেখে) যত খুশি থাকতে পারে - তাতে বাক্য সরল থাকে। কিন্তু একাধিক সমাপিকা ক্রিয়া থাকলে বাক্য আর সরল থাকে না।
৩. সরল বাক্যের গঠন - বিশদ বিশ্লেষণ
৩.১ উদ্দেশ্য (Subject)
বাক্যের যে অংশে কর্তা বা প্রধান বিষয় থাকে তাকে উদ্দেশ্য বলে। উদ্দেশ্য অংশে থাকতে পারে: বিশেষ্য, সর্বনাম, বিশেষণ বা ক্রিয়াবাচক বিশেষ্য।
উদ্দেশ্যের প্রকার উদাহরণ বাক্য উদ্দেশ্য পদ
বিশেষ্য কবিতা ভালো মেয়ে। কবিতা
সর্বনাম সে খুব ভালো। সে
যৌগিক উদ্দেশ্য রাহেলা ও সাজিয়া বন্ধু। রাহেলা ও সাজিয়া
বিশেষণ অলসরা কখনো সফল হয় না। অলসরা
ক্রিয়াবাচক বিশেষ্য পড়াশোনা করা ভালো কাজ। পড়াশোনা করা
সম্প্রসারিত উদ্দেশ্য আমাদের গ্রামের ছেলেটি পাস করেছে। আমাদের গ্রামের ছেলেটি
৩.২ বিধেয় (Predicate)
বাক্যের উদ্দেশ্য সম্পর্কে যা বলা হয় তার সমগ্র অংশকে বিধেয় বলে। বিধেয়তে থাকে সমাপিকা ক্রিয়া, কর্ম, পূরক, ক্রিয়া-বিশেষণ ইত্যাদি।
বিধেয়ের উপাদান ভূমিকা উদাহরণ
সমাপিকা ক্রিয়া বিধেয়ের প্রধান উপাদান পড়ে, খায়, গেছে
কর্ম ক্রিয়ার লক্ষ্যবস্তু বই পড়ে (বই=কর্ম)
পূরক বিশেষ্য/বিশেষণ যা কর্তাকে পরিচয় দেয় সে শিক্ষক (শিক্ষক=পূরক)
ক্রিয়া-বিশেষণ ক্রিয়াকে বিশেষায়িত করে সে দ্রুত ছোটে (দ্রুত=ক্রিয়া-বিশেষণ)
বিধেয় বিশেষণ বিধেয়ে কর্তা সম্পর্কে গুণ বলে আম মিষ্টি (মিষ্টি=বিধেয় বিশেষণ)
৩.৩ সরল বাক্যের গঠন সমীকরণ
গঠন সমীকরণ: সরল বাক্য = উদ্দেশ্য (Subject) + বিধেয় (Predicate)। এবং বিধেয়তে অবশ্যই একটিমাত্র সমাপিকা ক্রিয়া থাকবে।
৪. সমাপিকা ও অসমাপিকা ক্রিয়া - মূল পার্থক্য
সরল বাক্য বোঝার জন্য সমাপিকা ও অসমাপিকা ক্রিয়ার পার্থক্য বোঝা অপরিহার্য।
বৈশিষ্ট্য সমাপিকা ক্রিয়া (Finite Verb) অসমাপিকা ক্রিয়া (Non-Finite Verb)
সংজ্ঞা বাক্যের অর্থ সম্পূর্ণ করে বাক্যের অর্থ অসম্পূর্ণ রাখে
পুরুষ-বচন অনুযায়ী রূপান্তরিত হয় রূপ বদলায় না
বাক্যে সংখ্যা সরল বাক্যে ঠিক একটি একাধিক হতে পারে
রূপ যায়, করে, খেল, যাবে যেতে, করে, গিয়ে, খেয়ে
উদাহরণ (বাক্যে) রাহেলা বই পড়ে। খেয়ে গিয়ে সে পড়ে।
উদাহরণ: সে বই পড়ে। [সমাপিকা: পড়ে। বাক্য সরল।]
উদাহরণ: খেয়ে দেয়ে সে বাড়ি গেছে। [অসমাপিকা: খেয়ে, দেয়ে। সমাপিকা: গেছে। তবুও সরল - কারণ সমাপিকা একটিই।]
উদাহরণ: সে গান করে এবং সে নাচে। [সমাপিকা: করে + নাচে = দুটি। এটি সরল নয় - যৌগিক বাক্য।]
গুরুত্বপূর্ণ নিয়ম: একটি বাক্যে যতগুলো অসমাপিকা ক্রিয়া থাকুক না কেন, যদি মাত্র একটি সমাপিকা ক্রিয়া থাকে তাহলে বাক্যটি সরল বাক্য। সমাপিকা ক্রিয়ার সংখ্যাই নির্ধারণ করে বাক্যটি সরল কি না।
৫. সরল বাক্যের প্রকারভেদ - অর্থ অনুযায়ী
সরল বাক্য অর্থ ও উদ্দেশ্য অনুযায়ী পাঁচ প্রকার হতে পারে। এই প্রকারগুলি সব ধরনের বাক্যেই (সরল, মিশ্র, যৌগিক) প্রযোজ্য - তবে সরল বাক্যের প্রেক্ষিতে আলোচনা করা হলো:
৫.১ অনুজ্ঞাবাচক বাক্য (Declarative Sentence)
সাধারণ তথ্য, ঘটনা বা সত্য প্রকাশক সরল বাক্যকে বিবৃতিবাচক বা বর্ণনামূলক বাক্য বলে। এটি দুই রকম: ইতিবাচক ও নেতিবাচক।
❖ (ক) ইতিবাচক বিবৃতি (Affirmative Declarative)
উদাহরণ: সূর্য পূর্বদিকে ওঠে। [ইতিবাচক তথ্য]
উদাহরণ: রাহেলা ঢাকায় থাকে। [ইতিবাচক বিবৃতি]
উদাহরণ: পানি তরল পদার্থ। [সত্যকথন]
উদাহরণ: বাংলাদেশ একটি নদীমাতৃক দেশ। [বর্ণনামূলক]
উদাহরণ: রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর বিশ্বকবি। [পরিচয়মূলক বিবৃতি]
❖ (খ) নেতিবাচক বিবৃতি (Negative Declarative)
উদাহরণ: সে বাড়িতে নেই। [নেতিবাচক বিবৃতি]
উদাহরণ: আমি এটি জানি না। [নেতিবাচক]
উদাহরণ: মিথ্যা কথা বলা উচিত নয়। [নিষেধমূলক নেতিবাচক]
উদাহরণ: তারা আর আসবে না। [ভবিষ্যৎ নেতিবাচক]
৫.২ প্রশ্নবাচক বাক্য (Interrogative Sentence)
যে সরল বাক্যে প্রশ্ন করা হয়, তাকে প্রশ্নবাচক বাক্য বলে। বাক্যের শেষে প্রশ্নচিহ্ন (?) থাকে।
❖ (ক) সাধারণ প্রশ্নবাচক (Yes/No Question)
উদাহরণ: তুমি কি বাড়ি যাবে? [হ্যাঁ/না উত্তর প্রত্যাশিত]
উদাহরণ: সে কি পরীক্ষায় পাস করেছে? [হ্যাঁ/না প্রশ্ন]
উদাহরণ: আপনি কি শিক্ষক? [পরিচয়-প্রশ্ন]
❖ (খ) বিশেষ প্রশ্নবাচক (Wh-Question)
উদাহরণ: তুমি কোথায় যাচ্ছ? [কোথায় - স্থানপ্রশ্ন]
উদাহরণ: কে এই কাজ করেছে? [কে - ব্যক্তি প্রশ্ন]
উদাহরণ: কখন পরীক্ষা শুরু হবে? [কখন - কালপ্রশ্ন]
উদাহরণ: কেন তুমি কাঁদছ? [কেন - কারণপ্রশ্ন]
উদাহরণ: এটা কীভাবে করতে হয়? [কীভাবে - পদ্ধতিপ্রশ্ন]
৫.৩ অনুজ্ঞাবাচক বাক্য (Imperative Sentence)
আদেশ, নির্দেশ, অনুরোধ, উপদেশ বা নিষেধ প্রকাশক সরল বাক্যকে অনুজ্ঞাবাচক বাক্য বলে। এই বাক্যে সাধারণত কর্তা উহ্য থাকে।
উপপ্রকার উদাহরণ বাক্য বৈশিষ্ট্য
আদেশ এখনই যাও। কঠোর নির্দেশ
অনুরোধ একটু বসুন। বিনম্র প্রার্থনা
উপদেশ সত্য কথা বলো। পরামর্শমূলক
নিষেধ মিথ্যা বলো না। নেতিবাচক আদেশ
প্রার্থনা দয়া করে সাহায্য করুন। বিনয়ী অনুরোধ
আহ্বান এদিকে এসো। আমন্ত্রণমূলক
৫.৪ আবেগবাচক বাক্য (Exclamatory Sentence)
তীব্র আনন্দ, দুঃখ, বিস্ময়, ঘৃণা বা ভয় প্রকাশক সরল বাক্যকে আবেগবাচক বাক্য বলে। বাক্যের শেষে বিস্ময়চিহ্ন (!) থাকে।
উদাহরণ: আহা, কী সুন্দর দৃশ্য! [আনন্দ প্রকাশ]
উদাহরণ: হায়, সে আর নেই! [দুঃখ প্রকাশ]
উদাহরণ: বাহ! কী অসাধারণ গান! [বিস্ময়-মুগ্ধতা]
উদাহরণ: ছিঃ, এত নোংরা কাজ! [ঘৃণা প্রকাশ]
৫.৫ ইচ্ছাবাচক বাক্য (Optative Sentence)
কামনা, প্রার্থনা বা আশীর্বাদ প্রকাশক সরল বাক্যকে ইচ্ছাবাচক বাক্য বলে। এতে সাধারণত 'হোক', 'যাক', 'করুক' ইত্যাদি অনুজ্ঞাসূচক ক্রিয়া থাকে।
উদাহরণ: তোমার মঙ্গল হোক। [আশীর্বাদ - ইচ্ছাবাচক]
উদাহরণ: সে যেন সুস্থ হয়। [কামনা]
উদাহরণ: ঈশ্বর তোমাকে রক্ষা করুন। [প্রার্থনা]
উদাহরণ: দেশের মানুষ সুখী হোক। [শুভকামনা]
৬. সরল বাক্যের বিস্তারিত উদাহরণ সমূহ
৬.১ দৈনন্দিন জীবনের সরল বাক্য
বাক্য উদ্দেশ্য সমাপিকা ক্রিয়া বিভক্তি / বিশেষত্ব
আমি প্রতিদিন স্কুলে যাই। আমি যাই সরল বর্তমান
মা রান্না করছেন। মা করছেন ঘটমান বর্তমান
বাবা অফিসে গেছেন। বাবা গেছেন পুরাঘটিত বর্তমান
সে কাল আসবে। সে আসবে সাধারণ ভবিষ্যৎ
তারা মাঠে খেলছিল। তারা খেলছিল ঘটমান অতীত
ছেলেটি পরীক্ষায় পাস করেছে। ছেলেটি করেছে পুরাঘটিত বর্তমান
মেয়েটি গান শিখছে। মেয়েটি শিখছে ঘটমান বর্তমান
৬.২ প্রকৃতি ও পরিবেশ বিষয়ক সরল বাক্য
বাক্য উদ্দেশ্য বিধেয়ের মূল অংশ
সূর্য পূর্বে ওঠে। সূর্য পূর্বে ওঠে
বৃষ্টির পানি মাটিকে ভেজায়। বৃষ্টির পানি মাটিকে ভেজায়
পাখিরা দলবেঁধে উড়ে যায়। পাখিরা দলবেঁধে উড়ে যায়
শীতের সকালে কুয়াশা পড়ে। শীতের সকালে কুয়াশা পড়ে
নদীর জল সমুদ্রে মেশে। নদীর জল সমুদ্রে মেশে
বসন্তকালে ফুল ফোটে। ফুল বসন্তকালে ফোটে
৬.৩ অসমাপিকা ক্রিয়াসহ সরল বাক্য (অনেক ব্যাকরণ শিক্ষার্থী বিভ্রান্ত হন)
নিচের বাক্যগুলিতে একাধিক ক্রিয়া আছে - কিন্তু সমাপিকা একটিই বলে সবগুলোই সরল বাক্য:
বাক্য অসমাপিকা ক্রিয়া সমাপিকা ক্রিয়া বাক্যের ধরন
খেয়ে দেয়ে সে ঘুমাল। খেয়ে, দেয়ে ঘুমাল সরল বাক্য
দৌড়ে গিয়ে ছেলেটি থামল। দৌড়ে, গিয়ে থামল সরল বাক্য
গান গেয়ে সে মঞ্চে নামল। গেয়ে নামল সরল বাক্য
কাঁদতে কাঁদতে মা বললেন। কাঁদতে কাঁদতে বললেন সরল বাক্য
রান্না করে সে অফিসে গেল। করে গেল সরল বাক্য
হেসে কথা বলতে বলতে চলে গেল। হেসে, বলতে বলতে গেল সরল বাক্য
পড়ে পড়ে মুখস্থ করল। পড়ে পড়ে করল সরল বাক্য
মনে রাখুন: 'খেয়ে', 'গিয়ে', 'দৌড়ে' - এগুলো অসমাপিকা ক্রিয়া। এরা বাক্যকে সরল থেকে জটিল বানায় না। বাক্যের ধরন নির্ধারিত হয় কেবল সমাপিকা ক্রিয়ার সংখ্যা দিয়ে।
৭. সরল বাক্যের সম্প্রসারণ - বিস্তৃত গঠন
একটি মৌলিক সরল বাক্যকে বিভিন্ন উপায়ে সম্প্রসারিত করা যায়। সম্প্রসারণ করলেও বাক্য সরলই থাকে, যদি সমাপিকা ক্রিয়া একটিই থাকে:
সম্প্রসারণের উপায় মূল বাক্য সম্প্রসারিত বাক্য
উদ্দেশ্য সম্প্রসারণ ছেলেটি পড়ে। আমাদের পাড়ার মেধাবী ছেলেটি পড়ে।
কর্ম সংযোজন সে পড়ে। সে বাংলা ব্যাকরণের বই পড়ে।
স্থান সংযোজন সে পড়ে। সে রাতে ঘরে মনোযোগ দিয়ে পড়ে।
সময় সংযোজন সে পড়ে। সে প্রতিদিন রাত দশটায় পড়ে।
অসমাপিকা সংযোজন সে পড়ে। খেয়ে দেয়ে সে মনোযোগ দিয়ে পড়ে।
বিশেষণ সংযোজন সে পড়ে। নিরলস পরিশ্রমী ছেলেটি রাতভর পড়ে।
৮. সরল বাক্য চেনার পদ্ধতি
সহজ ধাপে সরল বাক্য শনাক্ত করুন:
ধাপ কাজ উদাহরণ
ধাপ ১ বাক্যের ক্রিয়াগুলো বের করুন 'সে খেয়ে গিয়ে পড়ে' → খেয়ে, গিয়ে, পড়ে
ধাপ ২ সমাপিকা ক্রিয়া শনাক্ত করুন পড়ে = সমাপিকা; খেয়ে, গিয়ে = অসমাপিকা
ধাপ ৩ সমাপিকা ক্রিয়া কয়টি গণুন একটি = সরল বাক্য; একাধিক = অন্য ধরন
ধাপ ৪ সংযোজক অব্যয় আছে কি দেখুন 'এবং', 'কিন্তু', 'তাই' থাকলে সম্ভবত যৌগিক
ধাপ ৫ অধীন বাক্যাংশ আছে কি দেখুন 'যদি', 'যখন', 'কারণ' থাকলে সম্ভবত মিশ্র
দ্রুত পরীক্ষা: বাক্যটিতে 'এবং', 'কিন্তু', 'অথবা', 'তাই', 'তবু' (সমন্বয়কারী অব্যয়) বা 'যদি', 'যখন', 'যদিও', 'কারণ', 'যে' (অধীনস্থকারী অব্যয়) না থাকলে - এবং সমাপিকা ক্রিয়া একটি হলে - বাক্যটি সরল।
৯. সরল, মিশ্র ও যৌগিক বাক্যের তুলনামূলক বিশ্লেষণ
বৈশিষ্ট্য সরল বাক্য মিশ্র/জটিল বাক্য যৌগিক বাক্য
সমাপিকা ক্রিয়া মাত্র একটি একাধিক (প্রধান+অধীন) দুই বা ততোধিক স্বাধীন
খণ্ডবাক্য নেই প্রধান+অধীন দুটো স্বাধীন খণ্ড
সংযোজক নেই অধীনকারী অব্যয় সমন্বয়কারী অব্যয়
অব্যয়ের উদাহরণ - যদি, যখন, কারণ, যদিও এবং, কিন্তু, অথবা, তাই
উদাহরণ বাক্য রাহেলা বই পড়ে। যদি বৃষ্টি হয় তাহলে যাব না। সে পড়ে এবং লেখে।
৯.১ রূপান্তর - সরল থেকে অন্য ধরনে
একই তথ্য সরল, মিশ্র ও যৌগিক বাক্যে প্রকাশ করা যায়:
বাক্যের ধরন বাক্য বিশ্লেষণ
সরল তার অসুস্থতার কারণে সে আসেনি। একটি সমাপিকা: আসেনি
মিশ্র সে অসুস্থ ছিল বলে আসেনি। প্রধান: আসেনি; অধীন: ছিল
যৌগিক সে অসুস্থ ছিল, তাই আসেনি। দুই সমাপিকা: ছিল + আসেনি
- - -
সরল বৃষ্টিতে ভিজে সে জ্বরে পড়ল। একটি সমাপিকা: পড়ল
মিশ্র যেহেতু সে ভিজেছিল, তাই জ্বর হলো। দুই সমাপিকা: ভিজেছিল + হলো
যৌগিক সে ভিজল এবং জ্বরে পড়ল। দুই সমাপিকা: ভিজল + পড়ল
১০. বাংলা সাহিত্যে সরল বাক্যের প্রয়োগ
বাংলা সাহিত্যে সরল বাক্যের অনেক চমৎকার উদাহরণ রয়েছে। সরল বাক্য প্রায়শই শক্তিশালী বক্তব্য প্রকাশে ব্যবহৃত হয়:
উদ্ধৃতি / বাক্য লেখক/উৎস সমাপিকা ক্রিয়া উদ্দেশ্য
আমার সোনার বাংলা আমি তোমায় ভালোবাসি। রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর ভালোবাসি আমি
আমি বাংলায় গান গাই। সাধারণ কাব্যবাক্য গাই আমি
শিশু ঘুমাও। অনুজ্ঞা বাক্য ঘুমাও শিশু (উহ্য)
জীবন মানেই সংগ্রাম। বিবৃতিবাচক মানেই (অন্তর্নিহিত) জীবন
পাখি ডাকে। সরল অর্থপূর্ণ ডাকে পাখি
সত্য কথা বলো। উপদেশমূলক অনুজ্ঞা বলো তুমি (উহ্য)
১১. বিভ্রান্তিকর বাক্য - সরল না অন্য ধরন?
পরীক্ষায় প্রায়ই এমন বাক্য দেওয়া হয় যা দেখতে জটিল মনে হলেও আসলে সরল, বা সরল মনে হলেও আসলে জটিল। নিচে বিভ্রান্তিকর বাক্য বিশ্লেষণ করা হলো:
বাক্য সমাপিকা ক্রিয়া বাক্যের ধরন কারণ
হেসে খেলে জীবন কাটাও। কাটাও (১টি) সরল হেসে, খেলে = অসমাপিকা
সে গান করে এবং নাচে। করে + নাচে (২টি) যৌগিক দুটি সমাপিকা ক্রিয়া
যদিও সে অসুস্থ, তবু এসেছে। আসেনি (১টি মূল) মিশ্র অধীন খণ্ড: যদিও সে অসুস্থ
কাঁদতে কাঁদতে সে চলে গেল। গেল (১টি) সরল কাঁদতে কাঁদতে = অসমাপিকা
সে গেল কিন্তু ফিরল না। গেল + ফিরল (২টি) যৌগিক 'কিন্তু' = সমন্বয়কারী অব্যয়
তাকে দেখে আমি অবাক হলাম। হলাম (১টি) সরল দেখে = অসমাপিকা
যে পরিশ্রম করে, সে সফল হয়। করে + হয় (২টি) মিশ্র 'যে' = অধীনস্থকারী
রাত হলে চাঁদ ওঠে। হলে + ওঠে (২টি) মিশ্র 'হলে' সাপেক্ষ ক্রিয়া
খেয়ে গিয়ে ঘুমিয়ে পড়ো। পড়ো (১টি) সরল খেয়ে, গিয়ে, ঘুমিয়ে = অসমাপিকা
সর্বোচ্চ গুরুত্বপূর্ণ সূত্র: সরল বাক্য = ১টি উদ্দেশ্য + ১টি বিধেয় + ১টি সমাপিকা ক্রিয়া । অসমাপিকা ক্রিয়া যতই থাকুক, সমাপিকা যদি একটি হয় তবে বাক্য সরল।
সরল বাক্য
Chapter Activity
- Rating
- New / 5
- Reviews
- 0
- Read Sessions
- 0
- Readers
- 0
You Can Also Read
Chapters closely related to the one you are reading now.
Most Read by Students
Popular picks getting the strongest student traffic right now.
Others Who Read This Also Read
Behavior-based suggestions from student reading patterns where available.
Best Reviewed
Chapters earning the strongest student feedback.
Course Suggestions
Want a more guided path after this chapter? These courses are the closest fit.