মুনীর চৌধুরী

Chapter Activity

Rating
New / 5
Reviews
0
Read Sessions
0
Readers
0

বাংলা সাহিত্য

মুনীর চৌধুরী

শহীদ বুদ্ধিজীবী | নাট্যকার | ভাষাবিজ্ঞানী | শিক্ষাবিদ

২৭ নভেম্বর ১৯২৫ — ১৪ ডিসেম্বর ১৯৭১

পুরো নাম: আবু নয়ীম মোহাম্মদ মুনীর চৌধুরী

পরিচয়: বাংলাদেশের আধুনিক নাটকের পথিকৃ

শহীদ হন: ১৪ ডিসেম্বর ১৯৭১ — বুদ্ধিজীবী হত্যাকাণ্ডে

জন্ম: ২৭ নভেম্বর ১৯২৫

শহীদ: ১৪ ডিসেম্বর ১৯৭১

শ্রেষ্ঠ নাটক: কবর (১৯৫৩)

উদ্ভাবন: মুনীর অপটিমা

ভূমিকা: একটি অসম্পূর্ণ জীবনের অসাধারণ কীর্তি

১৯৭১ সালের ১৪ ডিসেম্বরবিজয়ের মাত্র দুইদিন আগেপাকিস্তানি হানাদার বাহিনীতাদের দোসর আলবদর বাহিনী বাংলাদেশকে চিরতরে মেধাশূন্য করে দেওয়ার শেষ নৃশংস চেষ্টায় মেতে উঠেছেসেইদিন ঢাকার একটি বাড়ি থেকে অপহৃত হলেন বাংলাদেশের শ্রেষ্ঠ নাট্যকার, অসাধারণ শিক্ষক, অক্লান্ত ভাষা-সৈনিক মুনীর চৌধুরীতাঁর আর খোঁজ মেলেনিমাত্র ছেচল্লিশ বছর বয়সে শহীদ হলেন এমন একজন মানুষ, যিনি আরও অনেক কিছু দিতে পারতেন এই দেশকে

কিন্তু যা দিয়ে গেছেন, তাই-ই অমূল্য। 'কবর' নাটকবাংলাদেশের প্রথম প্রতিবাদী নাটক। 'রক্তাক্ত প্রান্তর' — ইতিহাসের পটভূমিতে যুদ্ধবিরোধী মহাকাব্যিক নাটক। 'মুনীর অপটিমা' — বাংলা টাইপরাইটারের কী-বোর্ড উদ্ভাবনসমালোচনাসাহিত্যে নতুন পথভাষাবিজ্ঞানে অগ্রণী ভূমিকাএকটি ছোট্ট জীবনে কী বিপুল কীর্তি!

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগে তাঁর ক্লাস করার জন্য শিক্ষার্থীরা হুড়োহুড়ি করতযাদের ক্লাস নেই, তারাও ভিড় করত বাইরেতিনি ক্লাসে ঢুকলে মুহূর্তেই পিনপতন নীরবতাএকবার এক সাহিত্যসভায় কবি আব্দুল কাদির বলেছিলেন, 'ও মুনীর স্যার, আপনি পরে বলবেনআমরা আগে বলে নিইআপনি আগে বললে আর কেউ শুনতে থাকবে না।' এই ছিলেন মুনীর চৌধুরী

জীবন পরিচিতি: একজন অদম্য মানুষের গল্প

জন্মপরিবার

১৯২৫ সালের ২৭ নভেম্বর তৎকালীন ঢাকা জেলার মানিকগঞ্জ শহরে জন্মগ্রহণ করেন মুনীর চৌধুরীতাঁর পুরো নাম 'আবু নয়ীম মোহাম্মদ মুনীর চৌধুরী'। পৈতৃক নিবাস ছিল নোয়াখালী জেলার চাটখিল উপজেলার গোপাইরবাগ গ্রামেপিতা খানবাহাদুর আবদুল হালিম চৌধুরী ছিলেন ব্রিটিশ আমলের একজন জেলা ম্যাজিস্ট্রেটসরকারি চাকরিতে উচ্চপদস্থ, বদলির চাকরি

চৌদ্দ সন্তানের মধ্যে মুনীর চৌধুরী ছিলেন দ্বিতীয়তাঁর বড় ভাই ছিলেন অধ্যাপক কবীর চৌধুরীপরবর্তীতে বাংলাদেশের খ্যাতিমান সাহিত্যিকশিক্ষাবিদছোট বোন ফেরদৌসী মজুমদারবাংলাদেশের কিংবদন্তি অভিনেত্রীএই পরিবারেরই দ্বিতীয় সন্তান মুনীর চৌধুরী নিজেও হলেন তাঁর প্রজন্মের অন্যতম শ্রেষ্ঠ বাঙালি

পরীক্ষার জন্য: মুনীর চৌধুরীর বড় ভাই: কবীর চৌধুরী (সাহিত্যিকশিক্ষাবিদ)। ছোট বোন: ফেরদৌসী মজুমদার (অভিনেত্রী)। পিতা: খানবাহাদুর আবদুল হালিম চৌধুরী (জেলা ম্যাজিস্ট্রেট)।

শিক্ষাজীবন: এক অসাধারণ মেধার গল্প

পিতার চাকরির বদলির কারণে মুনীর চৌধুরীর স্কুলজীবন কেটেছিল বিভিন্ন স্থানেবগুড়া, পিরোজপুর। ১৯৩৬ সালে পিতা ঢাকায় বদলি হলে তিনি ভর্তি হলেন ঢাকা কলেজিয়েট স্কুলেসেখান থেকে ১৯৪১ সালে প্রথম বিভাগে ম্যাট্রিকুলেশন পাস করলেনএরপর আলীগড় মুসলিম বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ১৯৪৩ সালে আই.এস.সি পাস করলেন

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ইংরেজি বিভাগে ভর্তি হলেনএখানেই বিশ্ববিদ্যালয়জীবনের প্রথম বছরেই তাঁর বাগ্মিতা প্রমাণিত হলোসলিমুল্লাহ হলের সেরা বক্তা হিসেবে প্রোভোস্টস কাপ জিতলেন। ১৯৪৬ সালে ইংরেজিতে স্নাতক (সম্মান) এবং ১৯৪৭ সালে স্নাতকোত্তর পাস করলেন

কিন্তু এখানেই শেষ নয়মুনীর চৌধুরীর শিক্ষাজীবনের সবচেয়ে বিস্ময়কর অধ্যায় হলো তাঁর কারাগারে পরীক্ষা দেওয়া। ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলনে সক্রিয় ভূমিকার কারণে গ্রেফতার হয়ে জেলে থাকাকালীন তিনি বাংলায় এমএ পরীক্ষা দেনশুধু পরীক্ষাই দেননি — ১৯৫৩ সালে প্রথম শ্রেণীতে প্রথম স্থান অধিকার করলেন! ১৯৫৪ সালে বাংলায় এমএ ডিগ্রি লাভ করলেনপরে ১৯৫৮ সালে হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ভাষাতত্ত্বে এমএ ডিগ্রি নিলেন

পরীক্ষার জন্য: কারাগারে বন্দী থেকে বাংলায় এমএ পরীক্ষায় প্রথম শ্রেণীতে প্রথম! এই তথ্যটি BCS পরীক্ষায় আসেমুনীর চৌধুরী ছিলেন কারাবন্দী অধ্যাপক অজিত গুহের কাছ থেকে প্রাচীনমধ্যযুগের বাংলা সাহিত্যের পাঠ নিয়েছিলেন

সাল

শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান

ডিগ্রি / বিশেষ ঘটনা

১৯৪১

ঢাকা কলেজিয়েট স্কুল

প্রথম বিভাগে ম্যাট্রিক

১৯৪৩

আলীগড় মুসলিম বিশ্ববিদ্যালয়

আই.এস.সি; বক্তৃতায় প্রোভোস্টস কাপ জয় (১৯৪৩)

১৯৪৬

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়

ইংরেজিতে বিএ অনার্স; নিখিল বঙ্গ প্রতিযোগিতায় সর্বোচ্চ পুরস্কার

১৯৪৭

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়

ইংরেজিতে এমএ

১৯৫৩–৫৪

ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগার

কারাবন্দী থেকে বাংলায় এমএপ্রথম শ্রেণীতে প্রথম!

১৯৫৮

হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়, যুক্তরাষ্ট্র

ভাষাতত্ত্বে এমএ

কর্মজীবন: শিক্ষাদীক্ষাপ্রতিরোধ

মুনীর চৌধুরীর কর্মজীবন শুরু হয়েছিল ১৯৪৯ সালে খুলনার ব্রজলাল কলেজে ইংরেজি বিভাগের প্রভাষক হিসেবেকিন্তু সেখানেও রাজনৈতিক কার্যকলাপের কারণে ওই বছরই গ্রেফতার হলেনরাজনীতি না করার প্রতিশ্রুতিতে ছাড়া পেলেনএরপর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে যোগ দিলেনপ্রথমে ইংরেজি বিভাগে, পরে বাংলা বিভাগে। ১৯৬২ সালে রিডার, ১৯৬৪ সালে বাংলা বিভাগের রিডার। ১৯৬৯ সালে বাংলা বিভাগের প্রধান হলেনমুহম্মদ আবদুল হাই-এর আকস্মিক মৃত্যুর পর

১৯৭১ সালের মার্চে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র থেকে ফিরে এসেই যুদ্ধের মধ্যে পড়লেনতাঁর কিশোর ছেলে মুক্তিযুদ্ধে চলে গেলপাকিস্তানি সরকার তাঁকে সতর্ক করেছিলরাষ্ট্রবিরোধী কাজ না করতেকিন্তু মুনীর চৌধুরী থেমে থাকেননিতিনি পাকিস্তানের দেওয়া সিতারা-ই-ইমতিয়াজ পুরস্কার বর্জন করেছিলেন ১৯৭১ সালের মার্চেইঅসহযোগ আন্দোলনের সমর্থনে

১৯৭১ সালের ১৪ ডিসেম্বরবাংলাদেশের বিজয়ের মাত্র দুইদিন আগেআল-বদর বাহিনী মুনীর চৌধুরীকে তাঁর বাবার বাড়ি থেকে অপহরণ করেসম্ভবত সেইদিনই তাঁকে হত্যা করা হয়তিনি শহীদ বুদ্ধিজীবী

ব্যক্তিজীবনরাজনৈতিক প্রতিজ্ঞা

১৯৪৯ সালে মুনীর চৌধুরী বিবাহ করেন লিলি চৌধুরীকেবিশ্ববিদ্যালয়জীবন থেকেই তিনি বামপন্থী রাজনীতিতে যুক্ত হয়েছিলেন। ১৯৪৮ সালে কলকাতায় কমিউনিস্ট পার্টির সম্মেলনে গিয়েছিলেনপ্রগতি লেখকশিল্পী সংঘের সম্পাদক হয়েছিলেনবামপন্থী রাজনীতিতে অতিমাত্রায় সক্রিয়তার কারণে সলিমুল্লাহ হল থেকে বহিষ্কৃত হয়েছিলেন, পিতার আর্থিক সহায়তা বন্ধ হয়ে গিয়েছিলতখন ঢাকা বেতারে নাটক লিখে অর্থোপার্জন করতেন

ভাষা আন্দোলনের সাথে তাঁর সম্পর্ক ছিল আত্মার। ১৯৪৭ সালেরডিসেম্বর রাষ্ট্রভাষার দাবিতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে যে প্রথম ছাত্রসভা হয়েছিল, সেখানে বক্তৃতা করেছিলেন মুনীর চৌধুরী। ১৯৫২ সালের ২১ ফেব্রুয়ারির পরের দিন, ২২ ফেব্রুয়ারি আবারও গুলি চলার প্রতিবাদে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে সভা ডাকলেন। ২৬ ফেব্রুয়ারি গ্রেফতার হয়ে দিনাজপুরঢাকা কারাগারে প্রায় দুই বছর কাটালেন

নাট্যসাহিত্য: বাংলাদেশের নবনাটকের পথিকৃ

মুনীর চৌধুরীর নাট্যচর্চার কাল ১৯৪২ থেকে ১৯৭১ — প্রায় তিন দশকএই সময়ে তিনি রচনা করেছেন মৌলিক নাটক, একাঙ্কিকা এবং বিদেশি নাটকের অনুবাদবাংলাপিডিয়া সুস্পষ্টভাবে বলেছে: '১৯৪৭-পরবর্তী বাংলাদেশের সাহিত্যে মুনীর চৌধুরী ছিলেন নবনাটকের উদ্গাতা।' অর্থাআধুনিক বাংলাদেশের নাটকের যাত্রা শুরু মুনীর চৌধুরীর হাত ধরেই

তাঁর নাটকের বিশেষত্ব কী? প্রথমত, রাজনৈতিক সচেতনতাতিনি নাটককে শুধু বিনোদনের মাধ্যম মনে করেননিবরং সমাজ পরিবর্তনের হাতিয়ার হিসেবে দেখেছেনদ্বিতীয়ত, বুদ্ধিদীপ্ত সংলাপমুনীর চৌধুরীর সংলাপে একটা তীক্ষ্ণতা আছে, একটা ধার আছে, যা পাঠককে ভাবায়তৃতীয়ত, কমেডিট্র্যাজেডির মিশেলতিনি হাসাতেও পারতেন, কাঁদাতেও পারতেনএকই নাটকে

কবরবাংলাদেশের প্রথম প্রতিবাদী নাটক

প্রকাশকাল: রচনাকাল: ১৯৫৩ | প্রকাশকাল: ১৯৬৬

জন্ম কারাগারেইতিহাসের এক অভূতপূর্ব ঘটনা

১৯৫৩ সালের জানুয়ারি মাসঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারভাষা আন্দোলনে সক্রিয় থাকার অপরাধে রাজবন্দী হিসেবে বন্দী মুনীর চৌধুরীঅলস কারাজীবনে একদিন হাতে এল একটি গোপন চিঠিপ্রেরক আরেক রাজবন্দী রণেশ দাশগুপ্তচিঠিতে অনুরোধ: প্রথম শহীদ দিবস উপলক্ষে একটি নাটক লিখে দিন

মুনীর চৌধুরী রাজি হলেনলিখতে বসলেন। ১৯৫৩ সালের ১৭ ফেব্রুয়ারি নাটক লেখা শেষ হলো। ২১ ফেব্রুয়ারি রাত ১০টায় — আলো নেভার পরেকারাবন্দীরাই অভিনেতা সেজে অভিনয় করলেন! ফণী চক্রবর্তীর পরিচালনায়, হারিকেনের আলোয়, জেলের অন্ধকার ঘরে অভিনীত হলো বাংলাদেশের সাহিত্যের অন্যতম শ্রেষ্ঠ নাটক 'কবর'। এই ঘটনাটি পৃথিবীর নাট্যইতিহাসেও অনন্য

পরীক্ষার জন্য: কবর নাটকের প্রথম অভিনয়: ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে, ১৯৫৩ সালের ২১ ফেব্রুয়ারি রাত ১০টায়। পরিচালক: ফণী চক্রবর্তীঅভিনেতা: কারাবন্দীরা

কবর-এর কাহিনীসার

নাটকটির পটভূমি হলো ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলনএকটি কবরস্থানের পাশের রাস্তায় রাত কাটাচ্ছেন 'নেতা' ও তাঁর চাটুকার সহকারী 'হাফিজ'। সেখানে হাজির এক মুর্দাফকিরএকটু উন্মাদ, কিন্তু আসলে সত্যের প্রতীক

নেতাহাফিজ অর্ধমাতাল, অপ্রকৃতিস্থতারা ভাষা আন্দোলনে নিহত শহীদদের কবরের পাশে যেতে ভয় পাচ্ছেনকবর থেকে যদি আওয়াজ আসে! এই দুজন একসময় আন্দোলনের কথা বলেছিলেন, কিন্তু শেষ পর্যন্ত শহীদদের পাশে দাঁড়াননিএখন তারা মৃতদের সামনে দাঁড়ানোর সাহস পাচ্ছেন না

মুর্দাফকির এসে বলেন, 'মাটিচাপা দেওয়া লাশগুলোর দেহে এখনও প্রাণ আছে।' অর্থাশহীদরা মরেনিতারা ইতিহাসে চিরজীবিতআসলে মরেছেন নেতাহাফিজের মতো মানুষযারা বিবেক বিসর্জন দিয়েছেন, নিজেদের স্বার্থের জন্য শহীদদের পিঠে ছুরি মেরেছেন

কবর নাটকটিতে শুধু একুশের তাৎপর্য খোঁজা হলে খানিকটা ভুলই বরং করা হবেহয়তো আরও বেশি কিছু বলার চেষ্টা করেছি আমিমুনীর চৌধুরী, 'কবর' সম্পর্কে

কবর-এর চরিত্র পরিচয়

চরিত্র

পরিচয়প্রতীকী অর্থ

নেতা

রাজনৈতিক সুবিধাভোগী নেতার প্রতীকআন্দোলনের কথা বলেন কিন্তু শহীদদের পাশে থাকেননিহঠকারীকাপুরুষ

হাফিজ

নেতার চাটুকার পুলিশ কর্মকর্তাস্বার্থপরধূর্তনিজের সুবিধার জন্য যেকোনো কাজ করতে তৈরি

মুর্দাফকির

পাগলের ছদ্মবেশে সত্যের প্রতীককারও মৃত সন্তানের লাশ শেয়াল টেনে নিয়েছিল বলে পাগল হয়েছেনবলেনশহীদরা মরেনি, মরেছেন নেতারা

কবর নাটকের তথ্য: রচনাকাল ১৯৫৩ | প্রকাশ ১৯৬৬ | 'কবর' গ্রন্থে সংকলিত | পূর্ব বাংলার প্রথম প্রতিবাদী নাটক | প্রথম ছাপা: দৈনিক সংবাদের 'আজাদী সংখ্যা' (আগস্ট ১৯৫৫) | প্রকাশ্য মঞ্চায়ন: ১৯৫৬ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় সংস্কৃতি সংসদের একুশে উদযাপনে

রক্তাক্ত প্রান্তর

প্রকাশকাল: প্রকাশ ১৯৬২ | বাংলা একাডেমি পুরস্কার ১৯৬২

রক্তাক্ত প্রান্তর: পানিপথের মাঠে মানবতার কান্না

মুনীর চৌধুরীর প্রথম প্রকাশিত পূর্ণাঙ্গ মৌলিক নাটক 'রক্তাক্ত প্রান্তর'। ১৭৬১ সালের পানিপথের তৃতীয় যুদ্ধের ঐতিহাসিক পটভূমিতে রচিত এই নাটককিন্তু ইতিহাস শুধু পর্দামূল কথা হলো মানবতার জয় এবং যুদ্ধের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ

পানিপথের তৃতীয় যুদ্ধে আহমদ শাহ আবদালির মুসলিম বাহিনী মারাঠা হিন্দু বাহিনীকে পরাজিত করেছিলমুনীর চৌধুরী এই যুদ্ধকে ব্যবহার করেছেন সাম্প্রদায়িক ভেদাভেদের ঊর্ধ্বে মানবীয় প্রেমের বার্তা দিতেযুদ্ধ হয় মুসলমান বনাম হিন্দুতে, কিন্তু এই নাটকে একজন মুসলিম সেনাএকজন মারাঠা নারীর মানবীয় সম্পর্ক সেই বিভাজনকে অতিক্রম করে যায়

নাটকের কেন্দ্রীয় চরিত্র ইব্রাহিম কার্দিএকজন প্রশিক্ষিত মুসলিম যোদ্ধা, যিনি মুসলিম শিবিরে চাকরি না পেয়ে মারাঠাদের কাছে চাকরি নিয়েছেনযুদ্ধের মাঠে তিনি পড়লেন এক অদ্ভুত সংকটেমারাঠা পক্ষে থেকে তাঁকে মুসলমানদের বিরুদ্ধে লড়তে হবেধর্মীয় পরিচয় বনাম নিজের বেছে নেওয়া পক্ষের আনুগত্যএই দ্বন্দ্বই নাটকের মূল টান

মুনীর চৌধুরী এই নাটকে দেখিয়েছেনযুদ্ধ মানুষকে নষ্ট করে, মানবীয় সম্পর্ক ছিঁড়ে দেয়ধর্ম নয়, রাজনীতি নয়মানুষই আসল পরিচয়

রক্তাক্ত প্রান্তরমুনীর চৌধুরীর প্রথম প্রকাশিত পূর্ণাঙ্গ মৌলিক নাটক। ১৭৬১ সালের পানিপথের তৃতীয় যুদ্ধের পটভূমিতে রচিত। ১৯৬২ সালে বাংলা একাডেমি পুরস্কার লাভ করেন

চিঠি

প্রকাশকাল: প্রকাশ ১৯৬৬

চিঠি: আন্দোলনের আবরণে স্বার্থপরতার উন্মোচন

'চিঠি' নাটকে মুনীর চৌধুরী এক গভীর সত্য উন্মোচন করেছেনআন্দোলনের নামে এক শ্রেণীর মানুষ কীভাবে নিজেদের স্বার্থ হাসিল করে, কীভাবে অগণতান্ত্রিক আচরণ করেসামাজিক আন্দোলনের আড়ালে লুকিয়ে থাকা মানুষের ক্ষমতালিপ্সাআত্মকেন্দ্রিকতাকে তিনি এখানে তীক্ষ্ণভাবে তুলে ধরেছেন

একাঙ্কিকাসমূহ: মুনীর চৌধুরীর প্রিয় শিল্পমাধ্যম

মুনীর চৌধুরীর প্রধান আকর্ষণ ছিল একাঙ্কিকার প্রতিছোটগল্পের মতো করে জীবনের একটি মুহূর্তকে ধরে রাখার এই শিল্পমাধ্যমে তিনি ছিলেন অসাধারণ দক্ষতাঁর বারোটি একাঙ্কিকা তিনটি সংকলনে প্রকাশিত হয়েছে

সংকলনের নাম

প্রকাশ

নাটকসমূহ

কবর

১৯৬৬

কবর, মানুষ, নষ্ট ছেলে

দণ্ডকারণ্য

১৯৬৬

দণ্ড, দণ্ডধর, দণ্ডকারণ্য

পলাশী ব্যারাকঅন্যান্য

১৯৬৯

পলাশী ব্যারাকসহ মোট ছয়টি নাটক

মানুষ নাটকটির বিষয়বস্তু: অসাম্প্রদায়িকতাএটি 'কবর' সংকলনে আছে

অনুবাদ নাটক: বিশ্বসাহিত্যের সেতু নির্মাণ

মুনীর চৌধুরী কেবল মৌলিক নাটক লিখেননিবিদেশি নাটক বাংলায় অনুবাদ করে বাংলার নাট্যমঞ্চকে বিশ্বমানের করে তুলতে চেয়েছিলেনশেক্সপিয়ার, বার্নার্ড শ, গলসওয়ার্দি, স্ট্রিন্ডবার্গপাশ্চাত্যের শ্রেষ্ঠ নাট্যকারদের রচনা তিনি বাংলায় এনেছিলেন

একটি মজার তথ্য হলোমুনীর চৌধুরী ট্র্যাজেডির চেয়ে কমেডির প্রতি বেশি আগ্রহী ছিলেনতাঁর অনুবাদে কমেডির আধিক্য এই রুচির প্রমাণ

অনুবাদ নাটক

প্রকাশ

মূল নাটক

মূল নাট্যকার

কেউ কিছু বলতে পারে না

১৯৬৭

Candida

জর্জ বার্নার্ড

রূপার কৌটা

১৯৬৯

The Silver Box

জন গলসওয়ার্দি

মুখরা রমণী বশীকরণ

১৯৭০

The Taming of the Shrew

উইলিয়াম শেক্সপিয়ার

রূপার কৌটা নাটকটির মূল বিষয়: সামাজিক শ্রেণীবিভেদএকই অপরাধ করলে ধনী বেকসুর খালাস পায়, আর গরিব দণ্ডিত হয়নাটকের শেষে গরিব চিৎকার করে বলে: 'এই তোমাদের ন্যায়বিচার, না?'

পরীক্ষার জন্য: মুখরা রমণী বশীকরণশেক্সপিয়ারের 'The Taming of the Shrew'-এর অনুবাদরূপার কৌটাগলসওয়ার্দির 'The Silver Box'-এর অনুবাদকেউ কিছু বলতে পারে নাবার্নার্ড শ-এর 'Candida'-র অনুবাদ

সমালোচনাসাহিত্যভাষাবিজ্ঞান: নতুন পথের সন্ধানী

মুনীর চৌধুরী শুধু নাট্যকার ছিলেন নাসাহিত্য সমালোচনার ক্ষেত্রেও তিনি নতুন পথ দেখিয়েছেনতাঁর সমালোচনার মূল পদ্ধতি তিনটি: (১) কোনো রচনার নিরাসক্ত মূল্যায়ন, (২) দুটি ভাষার সাহিত্যকর্মের তুলনামূলক বিচার, (৩) একই চরিত্র বিভিন্ন নাট্যকারের হাতে কীভাবে রূপ নেয় তার বিশ্লেষণ

গ্রন্থ

প্রকাশ

বিষয়বিশেষত্ব

মীর মানস

১৯৬৫

মীর মশাররফ হোসেন সম্পর্কে প্রবন্ধ সংকলন; দাউদ পুরস্কার ১৯৬৫

তুলনামূলক সমালোচনা

১৯৬৯

তুলনামূলক সাহিত্য সমালোচনার বই

বাংলা গদ্যরীতি

১৯৭০

বাংলা গদ্যের বিবর্তনপূর্ব বাংলার গদ্যশৈলী আলোচনা

ড্রাইডেনডি মত (তুলনামূলক সমালোচনা)

১৯৬৩

ড্রাইডেনডি. এর তুলনামূলক আলোচনা

রণাঙ্গন

১৯৬৬

পাক-ভারত যুদ্ধ বিষয়ক সাংবাদিকতামূলক রচনা (সহলেখক: সৈয়দ শামসুল হক, রফিকুল ইসলাম); সিতারা-ই-ইমতিয়াজ ১৯৬৬

পরীক্ষার জন্য: 'মীর মানস' গ্রন্থের জন্য দাউদ পুরস্কার (১৯৬৫) পেয়েছিলেন। 'রণাঙ্গন' গ্রন্থের জন্য সিতারা-ই-ইমতিয়াজ (১৯৬৬) পেয়েছিলেনকিন্তু ১৯৭১ সালের মার্চে অসহযোগ আন্দোলনের সমর্থনে এটি বর্জন করেন!

মুনীর অপটিমা: বাংলা প্রযুক্তির পথিকৃ

মুনীর চৌধুরীর প্রতিভা শুধু সাহিত্যে সীমাবদ্ধ ছিল না। ১৯৬৫ সালে কেন্দ্রীয় বাঙলা উন্নয়ন বোর্ডের উদ্যোগে তিনি বাংলা টাইপরাইটারের জন্য উন্নতমানের কী-বোর্ড উদ্ভাবন করলেনএই কী-বোর্ডের নাম 'মুনীর অপটিমা'।

বাংলা টাইপরাইটার তখন ছিল অত্যন্ত অসুবিধাজনকবাংলার অসংখ্য যুক্তাক্ষর, মাত্রা এবং বিভিন্ন বর্ণকে টাইপরাইটারে ধরার কোনো ভালো পদ্ধতি ছিল নামুনীর চৌধুরী বৈজ্ঞানিকভাবে বাংলা বর্ণমালা বিশ্লেষণ করে এমন একটি কী-বোর্ড তৈরি করলেন, যা সবচেয়ে বেশি ব্যবহৃত বর্ণগুলোকে সবচেয়ে সুবিধাজনক স্থানে রাখে। 'অপটিমা' অর্থ সর্বোত্তমসত্যিই এটি তখনকার জন্য সর্বোত্তম পদ্ধতি ছিল

এই উদ্ভাবনের জন্য তিনি বেশ কয়েকবার তৎকালীন পূর্ব জার্মানিতে গিয়েছিলেন। 'অ্যান ইলাস্ট্রেটেড ব্রোশিওর অন বেঙ্গলি টাইপরাইটার' (১৯৬৫) নামে একটি পুস্তিকায় তিনি তাঁর পরিকল্পনা বিস্তারিত ব্যাখ্যা করেছিলেন

মুনীর অপটিমা (১৯৬৫): মুনীর চৌধুরী উদ্ভাবিত বাংলা টাইপরাইটারের কী-বোর্ড। 'অপটিমা' মানে সর্বোত্তমবাংলা প্রযুক্তির ইতিহাসে এটি একটি মাইলফলক

পরীক্ষার জন্য: মুনীর অপটিমাবাংলা টাইপরাইটারের কী-বোর্ড। ১৯৬৫ সালে উদ্ভাবিত। BCS পরীক্ষায় এই তথ্যটি প্রায়ই আসে

ভাষা আন্দোলনসংগ্রামী জীবন

মুনীর চৌধুরীর ভাষা আন্দোলনের সাথে সম্পর্ক ছিল অনেক গভীর। ১৯৪৭ সালে প্রথম ছাত্রসভায় বক্তৃতা থেকে শুরু করে ১৯৫২ সালে গ্রেফতার পর্যন্ত তিনি ভাষা আন্দোলনের একজন সক্রিয় যোদ্ধা ছিলেনকিন্তু শুধু আন্দোলনে সক্রিয় থাকাই নয়কারাগারে বসে তিনি লিখলেন ভাষা আন্দোলনের সবচেয়ে শক্তিশালী সাহিত্যিক দলিল 'কবর' নাটক

পরবর্তী জীবনেও তিনি বাংলা ভাষার সংরক্ষণবিকাশে অক্লান্ত লড়াই করেছেন। ১৯৫৮ সালে পূর্ববঙ্গ সরকারের ভাষা-সংস্কার কমিটির সাম্প্রদায়িক রিপোর্টের বিরুদ্ধে প্রবন্ধ লিখে সামরিক সরকারের কৈফিয়পেয়েছিলেন। ১৯৬৭ সালে রেডিও-টেলিভিশনে রবীন্দ্রসঙ্গীতে নিষেধাজ্ঞার প্রতিবাদ করেছিলেন। ১৯৬৮ সালে বাংলা বর্ণমালাকে রোমান হরফে বদলানোর চেষ্টার বিরুদ্ধে লড়েছিলেন

মুনীর চৌধুরী তিনবার কারাবরণ করেছেন: প্রথম ১৯৪৯ সালে খুলনায়; দ্বিতীয়বার ১৯৫২-৫৪ সালে ভাষা আন্দোলনে (সবচেয়ে দীর্ঘ); তৃতীয়বার আরও একবার

পুরস্কারস্বীকৃতি

সাল

পুরস্কার

বিশেষ তথ্য

১৯৪৬

নিখিল বঙ্গ সাহিত্য প্রতিযোগিতা

সর্বাধিক সংখ্যক পুরস্কার একজনের হাতে

১৯৬২

বাংলা একাডেমি পুরস্কার (নাটক)

রক্তাক্ত প্রান্তর নাটকের জন্য

১৯৬৫

দাউদ পুরস্কার

মীর মানস প্রবন্ধ সংকলনের জন্য

১৯৬৬

সিতারা-ই-ইমতিয়াজ

রণাঙ্গন গ্রন্থের জন্য — ১৯৭১ সালের মার্চে বর্জন করেন!

১৯৮০

স্বাধীনতা পুরস্কার (সাহিত্য)

বাংলাদেশ সরকার প্রদত্ত (মরণোত্তর)

পরীক্ষার জন্য: মুনীর চৌধুরী সিতারা-ই-ইমতিয়াজ পুরস্কার পেয়েছিলেন ১৯৬৬ সালে কিন্তু ১৯৭১ সালের মার্চে অসহযোগ আন্দোলনের সমর্থনে এটি বর্জন করেনএই ঘটনাটি BCS পরীক্ষায় আসে

সম্পূর্ণ রচনাতালিকা

মৌলিক নাটক

নাটক

প্রকাশ

বিশেষত্ব

রাজার জন্মদিন

ছাত্রাবস্থায় রচিত প্রথম নাটক

রক্তাক্ত প্রান্তর

১৯৬২

প্রথম প্রকাশিত পূর্ণাঙ্গ নাটক; বাংলা একাডেমি পুরস্কার

কবর

রচনা ১৯৫৩; প্রকাশ ১৯৬৬

ভাষা আন্দোলনের পটভূমিতে; শ্রেষ্ঠ নাটক

চিঠি

১৯৬৬

আন্দোলনের আড়ালে স্বার্থপরতার উন্মোচন

মানুষ

কবর সংকলনে

অসাম্প্রদায়িকতার নাটক

নষ্ট ছেলে

কবর সংকলনে

একাঙ্কিকা

দণ্ড, দণ্ডধর, দণ্ডকারণ্য

দণ্ডকারণ্য সংকলন ১৯৬৬

তিনটি একাঙ্কিকা

পলাশী ব্যারাক

পলাশী ব্যারাক সংকলন ১৯৬৯

ছয়টি একাঙ্কিকার সংকলন

অনুবাদ নাটক

অনুবাদ নাটক

প্রকাশ

মূল নাটকনাট্যকার

কেউ কিছু বলতে পারে না

১৯৬৭

Candida — জর্জ বার্নার্ড

রূপার কৌটা

১৯৬৯

The Silver Box — জন গলসওয়ার্দি

মুখরা রমণী বশীকরণ

১৯৭০

The Taming of the Shrew — উইলিয়াম শেক্সপিয়ার

সমালোচনাঅন্যান্য গ্রন্থ

গ্রন্থ

প্রকাশ

বিষয়

ড্রাইডেনডি (তুলনামূলক সমালোচনা)

১৯৬৩

সাহিত্য সমালোচনা

মীর মানস

১৯৬৫

প্রবন্ধ সংকলন; দাউদ পুরস্কার প্রাপ্ত

রণাঙ্গন

১৯৬৬

পাক-ভারত যুদ্ধ বিষয়ক (সহলেখক)

তুলনামূলক সমালোচনা

১৯৬৯

সাহিত্য সমালোচনা

বাংলা গদ্যরীতি

১৯৭০

বাংলা গদ্যের ইতিহাসবিশ্লেষণ

প্রশ্নোত্তর

জীবনী সংক্রান্ত প্রশ্নোত্তর

প্রশ্ন: মুনীর চৌধুরীর পুরো নাম?

উত্তর: আবু নয়ীম মোহাম্মদ মুনীর চৌধুরী

প্রশ্ন: জন্ম কবে, কোথায়?

উত্তর: ২৭ নভেম্বর ১৯২৫; মানিকগঞ্জ শহরে (পৈতৃক নিবাস নোয়াখালীর গোপাইরবাগ)

প্রশ্ন: পিতার নামপেশা?

উত্তর: খানবাহাদুর আবদুল হালিম চৌধুরীজেলা ম্যাজিস্ট্রেট

প্রশ্ন: বড় ভাইছোট বোন কে?

উত্তর: বড় ভাই: কবীর চৌধুরী; ছোট বোন: ফেরদৌসী মজুমদার

প্রশ্ন: মুনীর চৌধুরী কবে শহীদ হন?

উত্তর: ১৪ ডিসেম্বর ১৯৭১

প্রশ্ন: কে অপহরণ করেছিল?

উত্তর: আল-বদর বাহিনীপাকিস্তানি বাহিনীর দোসর

প্রশ্ন: ১৯৪৯ সালে কাকে বিয়ে করেন?

উত্তর: লিলি চৌধুরীকে

প্রশ্ন: কারাগারে বাংলায় এমএ পরীক্ষায় কত স্থান হয়েছিল?

উত্তর: প্রথম শ্রেণীতে প্রথম স্থান (১৯৫৩)

প্রশ্ন: কারাগারে কার কাছে বাংলা সাহিত্য শিখেছিলেন?

উত্তর: অধ্যাপক অজিত গুহের কাছে

প্রশ্ন: হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয় থেকে কোন বিষয়ে ডিগ্রি নিয়েছিলেন?

উত্তর: ভাষাতত্ত্বে এমএ (১৯৫৮)

সাহিত্যকর্ম সংক্রান্ত প্রশ্নোত্তর

প্রশ্ন: মুনীর চৌধুরীর শ্রেষ্ঠ নাটক কোনটি?

উত্তর: কবর (রচনাকাল ১৯৫৩, প্রকাশ ১৯৬৬)

প্রশ্ন: কবর নাটকের পটভূমি কী?

উত্তর: ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলন

প্রশ্ন: কবর নাটকটি প্রথম কোথায় অভিনীত হয়েছিল?

উত্তর: ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে — ১৯৫৩ সালের ২১ ফেব্রুয়ারি রাত ১০টায়

প্রশ্ন: কবর নাটকের প্রথম পরিচালক কে ছিলেন?

উত্তর: ফণী চক্রবর্তী

প্রশ্ন: কবর নাটক লেখার জন্য কে অনুরোধ করেছিলেন?

উত্তর: রণেশ দাশগুপ্তগোপন চিঠিতে

প্রশ্ন: কবর নাটক প্রথম ছাপা হয় কোথায়?

উত্তর: দৈনিক সংবাদের 'আজাদী সংখ্যা'য় (আগস্ট ১৯৫৫)

প্রশ্ন: কবর নাটকের প্রকাশ্য প্রথম অভিনয় কবে?

উত্তর: ১৯৫৬ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় সংস্কৃতি সংসদে

প্রশ্ন: কবর নাটকের মূল তিনটি চরিত্রের নাম?

উত্তর: নেতা, হাফিজ, মুর্দাফকির

প্রশ্ন: রক্তাক্ত প্রান্তর নাটকের ঐতিহাসিক পটভূমি?

উত্তর: ১৭৬১ সালের পানিপথের তৃতীয় যুদ্ধ

প্রশ্ন: রক্তাক্ত প্রান্তর নাটকের মূল থিম?

উত্তর: যুদ্ধবিরোধীসাম্প্রদায়িকতার ঊর্ধ্বে নরনারীর প্রেম

প্রশ্ন: রক্তাক্ত প্রান্তর নাটকের জন্য কোন পুরস্কার পেয়েছিলেন?

উত্তর: বাংলা একাডেমি পুরস্কার (১৯৬২)

প্রশ্ন: মুনীর অপটিমা কী?

উত্তর: মুনীর চৌধুরী উদ্ভাবিত বাংলা টাইপরাইটারের কী-বোর্ড (১৯৬৫)

প্রশ্ন: মীর মানস গ্রন্থের বিষয় কী?

উত্তর: মীর মশাররফ হোসেন সম্পর্কে প্রবন্ধ সংকলন

প্রশ্ন: কোন গ্রন্থের জন্য দাউদ পুরস্কার পেয়েছিলেন?

উত্তর: মীর মানস (১৯৬৫)

প্রশ্ন: সিতারা-ই-ইমতিয়াজ কবে, কিসের জন্য পেয়েছিলেন?

উত্তর: ১৯৬৬ সালে 'রণাঙ্গন' গ্রন্থের জন্যকিন্তু ১৯৭১ সালে বর্জন করেন

প্রশ্ন: মুখরা রমণী বশীকরণ কোন বিদেশি নাটকের অনুবাদ?

উত্তর: শেক্সপিয়ারের 'The Taming of the Shrew'

প্রশ্ন: রূপার কৌটা কোন নাটকের অনুবাদ?

উত্তর: গলসওয়ার্দির 'The Silver Box'

প্রশ্ন: কেউ কিছু বলতে পারে না কোন নাটকের অনুবাদ?

উত্তর: বার্নার্ড শ-এর 'Candida'

প্রশ্ন: মুনীর চৌধুরীর মৌলিক একাঙ্কিকা কোন তিনটি সংকলনে আছে?

উত্তর: কবর (১৯৬৬), দণ্ডকারণ্য (১৯৬৬), পলাশী ব্যারাকঅন্যান্য (১৯৬৯)

প্রশ্ন: মুনীর চৌধুরীর কোন পরিচয়টি BCS-এ বারবার আসে?

উত্তর: বাংলাদেশের আধুনিক নাটকের পথিকৃৎ / নবনাটকের উদ্গাতা

ট্রিকিবিশেষ প্রশ্নোত্তর

প্রশ্ন: মুনীর চৌধুরীর প্রথম নাটক কোনটি?

উত্তর: রাজার জন্মদিন (ছাত্রাবস্থায় লেখা; বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্র সংসদ মঞ্চস্থ করেছিল)

প্রশ্ন: কবর নাটকটি পূর্ব বাংলার প্রথম কী?

উত্তর: পূর্ব বাংলার প্রথম প্রতিবাদী নাটক

প্রশ্ন: মুনীর চৌধুরীর রচনাবলি কত খণ্ডে প্রকাশিত?

উত্তর: চার খণ্ডে (১৯৮২–১৯৮৬); সম্পাদক: আনিসুজ্জামান

প্রশ্ন: কোন পত্রিকায় নাটক লিখে টাকা রোজগার করতেন?

উত্তর: ঢাকা বেতার কেন্দ্রের জন্য নাটক লিখতেন

প্রশ্ন: মুনীর চৌধুরীর বাংলায় এমএ পরীক্ষার বিশেষত্ব?

উত্তর: কারাগারে বন্দী থেকে পরীক্ষা দিয়ে প্রথম শ্রেণীতে প্রথম

প্রশ্ন: 'মানুষ' নাটকটির বিষয়বস্তু কী?

উত্তর: অসাম্প্রদায়িকতা

প্রশ্ন: ১৯৪৬ সালে নিখিল বঙ্গ সাহিত্য প্রতিযোগিতায় কী হয়েছিল?

উত্তর: মুনীর চৌধুরী সর্বাধিক সংখ্যক পুরস্কার জিতেছিলেন

প্রশ্ন: মুনীর চৌধুরী বাংলা বিভাগের প্রধান কখন হন?

উত্তর: ১৯৬৯ সালেমুহম্মদ আবদুল হাই-এর মৃত্যুর পর

━━━━━━━━━━━━━━━━━━━━━━━━━━━━━━━━━━━━━━━━

শহীদ মুনীর চৌধুরীর স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা

১৪ ডিসেম্বরশহীদ বুদ্ধিজীবী দিবস

Review this chapter

You Can Also Read

Chapters closely related to the one you are reading now.

মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক সাহিত্য

No reviews
0 students
Read chapter

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর

No reviews
0 students
Read chapter

মীর মশাররফ হোসেন

No reviews
0 students
Read chapter

রোমান্টিক প্রণয়োপখ্যান

No reviews
0 students
Read chapter

মাইকেল মধুসূদন দত্ত

No reviews
0 students
Read chapter

লেখকদের ছদ্মনাম ও উপাধি

No reviews
0 students
Read chapter

Most Read by Students

Popular picks getting the strongest student traffic right now.

অসহযোগ আন্দোলন (মার্চ ১৯৭১)

No reviews
1 student
Read chapter

নদী, সেতু, পাহাড়, দ্বীপ, বন, সমুদ্রবন্দর

No reviews
1 student
Read chapter

বাংলা ভাষার রীতি

No reviews
1 student
Read chapter

Others Who Read This Also Read

Behavior-based suggestions from student reading patterns where available.

মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক সাহিত্য

No reviews
0 students
Read chapter

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর

No reviews
0 students
Read chapter

মীর মশাররফ হোসেন

No reviews
0 students
Read chapter

রোমান্টিক প্রণয়োপখ্যান

No reviews
0 students
Read chapter

মাইকেল মধুসূদন দত্ত

No reviews
0 students
Read chapter

লেখকদের ছদ্মনাম ও উপাধি

No reviews
0 students
Read chapter

Best Reviewed

Chapters earning the strongest student feedback.

মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক সাহিত্য

No reviews
0 students
Read chapter

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর

No reviews
0 students
Read chapter

মীর মশাররফ হোসেন

No reviews
0 students
Read chapter

রোমান্টিক প্রণয়োপখ্যান

No reviews
0 students
Read chapter

মাইকেল মধুসূদন দত্ত

No reviews
0 students
Read chapter

লেখকদের ছদ্মনাম ও উপাধি

No reviews
0 students
Read chapter

Course Suggestions

Want a more guided path after this chapter? These courses are the closest fit.

Browse all courses
Learner fit৳1,999

Bangla

Bangla Language Mastery

Popular with BCS learners who want guided study.

6 lessons8.5h4.9 (186)1.3K students

By Sadia Rahman

View course
Learner fit৳2,999

Platform Building

Teacher Marketplace Blueprint

Popular with BCS learners who want guided study.

5 lessons6.8h4.9 (28)410 students

By Sadia Rahman

View course
FreeFree

English

Admission English Playbook

Free guided course with lessons you can jump into anytime.

4 lessons4.2h4.8 (91)2.8K students

By Rayan Akter

View course