জীবনানন্দ দাশ

Chapter Activity

Rating
New / 5
Reviews
0
Read Sessions
0
Readers
0

বাংলা সাহিত্য

জীবনানন্দ দাশ

রূপসী বাংলার কবি | নিসর্গের কবি | বিষণ্নতার কবি | আধুনিকতার পথিকৃ

জীবন পরিচয়পটভূমি

জন্মশৈশব

১৮৯৯ সালের ১৭ ফেব্রুয়ারি বরিশাল শহরে জন্মগ্রহণ করেন জীবনানন্দ দাশতাঁর পুরো নাম জীবনানন্দ দাশযদিও প্রথম জীবনে তাঁর নাম ছিল 'মিলু'। বাংলা সাহিত্যে তিনি 'রূপসী বাংলার কবি' নামে পরিচিত

পিতার নাম সত্যানন্দ দাশবরিশালের ব্রজমোহন স্কুলের শিক্ষক ও 'ব্রহ্মবাদী' পত্রিকার সম্পাদকমাতার নাম কুসুমকুমারী দাশতিনি নিজেও একজন কবিতাঁর বিখ্যাত কবিতা 'আদর্শ ছেলে' — যার প্রথম লাইন 'আমাদের দেশে হবে সেই ছেলে কবে' পাঠ্যপুস্তকে পড়ানো হয়

বরিশালের সবুজ প্রকৃতিনদী, মাঠ, বন, শিশির-ভেজা ঘাস, কাশফুলএই সব তাঁর শৈশবকে ঘিরে ছিলপরবর্তীতে এই বরিশালের প্রকৃতিই তাঁর কবিতার প্রধান উপাদান হয়ে ওঠে

জীবনানন্দ দাশের মাতা কুসুমকুমারী দাশ নিজেও কবি — 'আদর্শ ছেলে' কবিতার রচয়িতা

জীবনানন্দ দাশের শৈশবের ডাকনাম ছিল 'মিলু'।

শিক্ষাজীবনকর্মজীবন

বরিশালের ব্রজমোহন স্কুল থেকে ম্যাট্রিক পাস করেন ১৯১৫ সালেব্রজমোহন কলেজ থেকে আইএ পাস করেন ১৯১৭ সালেকলকাতা প্রেসিডেন্সি কলেজ থেকে ইংরেজি সাহিত্যে বিএ অনার্স করেন ১৯১৯ সালেকলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে এমএ পাস করেন ১৯২১ সালে

শিক্ষকতাই ছিল তাঁর পেশাকলকাতার সিটি কলেজ, দিল্লির রামযশ কলেজ, বরিশালের ব্রজমোহন কলেজবিভিন্ন জায়গায় ইংরেজিবাংলার শিক্ষক হিসেবে কাজ করেছেনকিন্তু কোথাও স্থায়িত্ব ছিল নাবারবার চাকরি গেছে, বারবার নতুন করে শুরু করতে হয়েছে

১৯৩০ সালে বরিশালের ব্রজমোহন কলেজে শিক্ষকতার সময় একটি কারণে তাঁর চাকরি যায়তাঁর কবিতাকে 'অশ্লীল' বলে অভিযোগ করা হয়পরে প্রমাণ হয় এই অভিযোগ ভিত্তিহীনকিন্তু সেই সময়ের মানসিক আঘাত তাঁকে দীর্ঘদিন তাড়িয়ে বেরিয়েছে

জীবনানন্দ দাশের কবিতাকে একসময় 'অশ্লীল' বলা হয়েছিলপরে মিথ্যা প্রমাণিত

দাম্পত্যব্যক্তিজীবন

১৯৩০ সালে লাবণ্য গুপ্তের সাথে তাঁর বিবাহ হয়দুটি সন্তানমঞ্জুশ্রী দাশ (কন্যা) ও সমরানন্দ দাশ (পুত্র)। দাম্পত্যজীবন সুখের ছিল নাঅর্থকষ্ট, সামাজিক অস্বীকৃতি, এবং একাকীত্ব ছিল তাঁর নিত্যসঙ্গী

জীবনানন্দ স্বভাবে অন্তর্মুখী, নিঃসঙ্গবিষণ্ন ছিলেনসাহিত্যিক মহলে মেলামেশা করতেন না, আড্ডায় যেতেন নাএকা একা ঘুরে বেড়াতেন, নদীর ধারে বসে থাকতেনএই একাকীত্বই তাঁর কবিতার মূল সুর

মৃত্যুট্রামের দুর্ঘটনা

১৯৫৪ সালের ১৪ অক্টোবর কলকাতায় একটি ট্রাম দুর্ঘটনায় গুরুতর আহত হন জীবনানন্দ দাশট্রামের সামনে পড়ে যান তিনিকেউ কেউ মনে করেন ইচ্ছাকৃত, কেউ মনে করেন দুর্ঘটনাকিন্তু সত্যটা রহস্যময়

আহত অবস্থায় কলকাতার শম্ভুনাথ পণ্ডিত হাসপাতালে নেওয়া হয়মাত্র আট দিন বেঁচে ছিলেন — ২২ অক্টোবর ১৯৫৪ সালে মৃত্যুবরণ করেনমৃত্যুর সময় তাঁর বয়স ছিল মাত্র ৫৫ বছর

মর্মান্তিক বিষয় হলোমৃত্যুর পর তাঁর ঘরে পাওয়া যায় অসংখ্য অপ্রকাশিত পাণ্ডুলিপিকবিতার খাতা, উপন্যাসের পাণ্ডুলিপিযা তিনি কাউকে দেখাননি, প্রকাশ করেননিএই পাণ্ডুলিপিগুলো পরে প্রকাশিত হলে বাংলা সাহিত্য এক নতুন জীবনানন্দকে আবিষ্কার করে

জীবনানন্দ দাশের মৃত্যু — ২২ অক্টোবর ১৯৫৪, ট্রাম দুর্ঘটনায় আহত হয়ে

মৃত্যুর পর তাঁর ঘরে পাওয়া যায় অসংখ্য অপ্রকাশিত পাণ্ডুলিপি!

বিষয়

তথ্য

পূর্ণ নাম

জীবনানন্দ দাশ

ডাকনাম

মিলু

জন্ম

১৭ ফেব্রুয়ারি ১৮৯৯

জন্মস্থান

বরিশাল শহর

মৃত্যু

২২ অক্টোবর ১৯৫৪ (ট্রাম দুর্ঘটনা)

পিতা

সত্যানন্দ দাশ (শিক্ষকসম্পাদক)

মাতা

কুসুমকুমারী দাশ (কবি — 'আদর্শ ছেলে' রচয়িতা)

স্ত্রী

লাবণ্য গুপ্ত (বিবাহ ১৯৩০)

শিক্ষা

এমএ, ইংরেজি, কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় (১৯২১)

পেশা

কবি, ঔপন্যাসিক, গল্পকার, শিক্ষক

উপাধি

রূপসী বাংলার কবি, নিসর্গের কবি

বিখ্যাত কাব্য

বনলতা সেন, রূপসী বাংলা

পুরস্কার

রবীন্দ্র পুরস্কার (১৯৫২) — মরণোত্তর নয়

কাব্যগ্রন্থ

ঝরা পালক (১৯২৭) [প্রথম কাব্যগ্রন্থ]

পটভূমিবিষয়বস্তু

১৯২৭ সালে প্রকাশিত 'ঝরা পালক' জীবনানন্দ দাশের প্রথম কাব্যগ্রন্থনামটিই বলে দেয়ঝরে পড়া পালক, যা একসময় পাখির ডানায় ছিল, এখন মাটিতে

এই কাব্যগ্রন্থে রবীন্দ্রনাথনজরুলের প্রভাব স্পষ্টপরিপক্ব জীবনানন্দের স্বতন্ত্র কণ্ঠস্বর এখনও সম্পূর্ণরূপে গড়ে ওঠেনিতবে কিছু কবিতায় ভবিষ্যতের জীবনানন্দের ইঙ্গিত আছে

ঝরা পালক মানে হারিয়ে যাওয়া কিছুযৌবনের স্বপ্ন, প্রেমের স্মৃতি, অতীতের সুখএই হারানোর বেদনাই এই গ্রন্থের মূলসুর

ঝরা পালকজীবনানন্দ দাশের প্রথম কাব্যগ্রন্থ (১৯২৭)।

ধূসর পাণ্ডুলিপি (১৯৩৬) [দ্বিতীয় কাব্যগ্রন্থ]

বিষয়বস্তুগুরুত্ব

'ধূসর পাণ্ডুলিপি' — ধূসর রঙের পাণ্ডুলিপি, যেন পুরনো কাগজে লেখা বিষণ্ন কথাএই কাব্যগ্রন্থে জীবনানন্দ দাশের স্বতন্ত্র কণ্ঠস্বর স্পষ্ট হতে শুরু করে

এই গ্রন্থে প্রেম, বিরহমৃত্যুর অনুভূতি নতুন ভাষায় প্রকাশ পায়কবিতাগুলোতে ইন্দ্রিয়-সংবেদনশীলতা (sensory imagery) প্রবলশব্দ দিয়ে দৃশ্য, গন্ধ, স্পর্শ তৈরি করার এই কৌশল জীবনানন্দের বৈশিষ্ট্য

ধূসর পাণ্ডুলিপিজীবনানন্দের দ্বিতীয় কাব্যগ্রন্থ (১৯৩৬)।

বনলতা সেন (১৯৪২) — সর্বকালের অন্যতম শ্রেষ্ঠ কাব্যগ্রন্থ

ঐতিহাসিক গুরুত্ব

'বনলতা সেন' জীবনানন্দ দাশের সবচেয়ে বিখ্যাত কাব্যগ্রন্থ এবং বাংলা সাহিত্যের সর্বকালের অন্যতম শ্রেষ্ঠ কাব্যগ্রন্থ। ১৯৪২ সালে প্রকাশিতকাব্যগ্রন্থের নামকবিতা 'বনলতা সেন' বাংলা সাহিত্যের সবচেয়ে প্রিয় কবিতাগুলোর একটি

এই গ্রন্থে জীবনানন্দের পরিপক্ব কাব্যভাষা সম্পূর্ণরূপে প্রকাশ পেয়েছেপ্রকৃতির অসাধারণ ব্যবহার, ইতিহাসপুরাণের সংমিশ্রণ, বিষণ্নতাসৌন্দর্যের অপূর্ব মেলবন্ধন

বনলতা সেন কবিতাসম্পূর্ণ ভাবার্থ

'বনলতা সেন' কবিতাটি বাংলা সাহিত্যের সবচেয়ে বেশি আলোচিত কবিতাগুলোর একটিকবিতায় কবি বলেনতিনি হাজার বছর ধরে পৃথিবীর পথে পথে ঘুরছেনসিংহল সমুদ্রে গেছেন, মালয়ের সাগরে গেছেন, বিম্বিসারঅশোকের ধূসর জগতে গেছেন, বিদর্ভ নগরে গেছেন

এই দীর্ঘ, ক্লান্তিকর যাত্রার পর কবি ফিরে আসেন নাটোরের বনলতা সেনের কাছেবনলতা সেন একজন নারীকিন্তু শুধু একজন নারী নয়, সে হলো বিশ্রামের প্রতীক, শান্তির প্রতীক, ঘরে ফেরার প্রতীক

কবি বনলতা সেনের চোখের বর্ণনা দেন অসাধারণভাবে — 'চুল তার কবেকার অন্ধকার বিদিশার নিশা, মুখ তার শ্রাবস্তীর কারুকার্য।' বিদিশাশ্রাবস্তী হলো প্রাচীন ভারতের দুটি শহরকবি বলছেনবনলতার সৌন্দর্য প্রাচীন সভ্যতার মতো গভীররহস্যময়

কবিতার শেষে সন্ধ্যা নামেদিনের আলো ফুরিয়ে আসেপাখিরা ঘরে ফেরেনদীর ঢেউ থেমে যায়সব প্রান্তে অন্ধকারতখন কবি বনলতা সেনের কাছে বসেন — 'সব পাখি ঘরে আসে, সব নদী ফুরায়জীবনের সব লেনদেন; / থাকে শুধু অন্ধকার, মুখোমুখি বসিবার বনলতা সেন।'

বনলতা সেন কবিতায় জীবনের সমস্ত পরিশ্রম, ঘোরাঘুরি, যুদ্ধসব শেষ হয়ে যায় সন্ধ্যার অন্ধকারেতখন একমাত্র সত্য হলো বনলতা সেনের সাথে মুখোমুখি বসে থাকাএটাই জীবনের শেষ প্রশান্তি

বনলতা সেন = হাজার বছরের ক্লান্তির পর শান্তির আশ্রয়বনলতা = প্রশান্তিঘরে ফেরার প্রতীক

চুল তার কবেকার অন্ধকার বিদিশার নিশা, / মুখ তার শ্রাবস্তীর কারুকার্য।”

সব পাখি ঘরে আসে, সব নদী ফুরায়জীবনের সব লেনদেন; / থাকে শুধু অন্ধকার, মুখোমুখি বসিবার বনলতা সেন।”

হাজার বছর ধরে আমি পথ হাঁটিতেছি পৃথিবীর পথে, / সিংহল সমুদ্র থেকে নিশীথের অন্ধকারে মালয় সাগরে।”

বনলতা সেন কবিতায় উল্লিখিত স্থানসমূহ: সিংহল, মালয়, বিম্বিসার, অশোক, বিদর্ভ, বিদিশা, শ্রাবস্তী, নাটোর

বনলতা সেনের বাড়ি নাটোরেপশ্চিমবঙ্গে নয়, বর্তমান বাংলাদেশের নাটোরে

প্রশ্ন: বনলতা সেনের বাড়ি কোথায়? নাটোরে (বাংলাদেশ)

প্রশ্ন: বনলতা সেন কাব্যগ্রন্থের প্রকাশকাল? ১৯৪২ সালে

প্রশ্ন: 'চুল তার কবেকার অন্ধকার বিদিশার নিশা' — এটি কোন কবিতার লাইন? বনলতা সেন

রূপসী বাংলা (১৯৫৭) — মরণোত্তর প্রকাশিত মাস্টারপিস

প্রকাশের ইতিহাসগুরুত্ব

'রূপসী বাংলা' কাব্যগ্রন্থটি জীবনানন্দ দাশের জীবদ্দশায় প্রকাশিত হয়নিতাঁর মৃত্যুর তিন বছর পর, ১৯৫৭ সালে প্রকাশিত হয়কিন্তু এই কাব্যগ্রন্থই তাঁকে চিরকালের জন্য 'রূপসী বাংলার কবি' উপাধি দিয়েছে

কাব্যগ্রন্থটি আসলে সনেট-সংকলনবাংলার প্রকৃতির বিভিন্ন রূপকে সনেটের আকারে ধারণ করা হয়েছেবরিশালের নদী, মাঠ, গ্রাম, পাখি, ঘাস, শিশিরএই সব কবিতার উপাদান

রূপসী বাংলার কবিতার ভাবার্থ

রূপসী বাংলার কবিতাগুলোতে বাংলার প্রকৃতিকে দেখা হয়েছে এক অপরূপ দৃষ্টিতেকবি বলছেনবাংলার এই মাঠ, এই নদী, এই আকাশএর সৌন্দর্য পৃথিবীর আর কোথাও নেই

বাংলার শীতের সকাল যখন কুয়াশায় ঢাকা থাকে, নদীর ধারে কাশফুল দুলছে, ধানের মাঠে সোনালি রঙএই দৃশ্যগুলো কবির কাছে স্বর্গের চেয়ে সুন্দর। 'আবার আসিব ফিরে ধানসিঁড়িটির তীরেএই বাংলায়' — এই লাইনে কবির বাংলার প্রতি অপরিসীম ভালোবাসা

'রূপসী বাংলা'র কবিতায় পাখির কথা বারবার আসেশালিক, দোয়েল, ঘুঘু, বকএই পাখিরা শুধু পাখি নয়এরা বাংলার আত্মার অংশকবি যদি মরেও যান, তিনি আবার ফিরে আসতে চানহয়তো একটি শালিক হয়ে, হয়তো একটি দোয়েল হয়ে

আবার আসিব ফিরে ধানসিঁড়িটির তীরেএই বাংলায়, / হয়তো মানুষ নয়, হয়তো বা শালিক হয়ে।”

বাংলার মুখ আমি দেখিয়াছি, তাই আমি পৃথিবীর রূপ / খুঁজিতে যাই না আর।”

আকাশে সাতটি তারা, ধানের গন্ধ ভরা শীতের রাত।”

রূপসী বাংলা = বাংলার প্রকৃতির প্রতি কবির অফুরন্ত ভালোবাসার সনেট-সংকলন

রূপসী বাংলা মরণোত্তর প্রকাশিত — ১৯৫৭ সালে (মৃত্যু ১৯৫৪)।

এই গ্রন্থই জীবনানন্দকে 'রূপসী বাংলার কবি' উপাধি দিয়েছে

প্রশ্ন: রূপসী বাংলার প্রকাশকাল? ১৯৫৭ সালে (মরণোত্তর)

প্রশ্ন: 'আবার আসিব ফিরে ধানসিঁড়িটির তীরে' — কোন কাব্যগ্রন্থ? রূপসী বাংলা

মহাপৃথিবী (১৯৪৪) [কাব্যগ্রন্থ]

বিষয়বস্তুভাবার্থ

'মহাপৃথিবী' — মহান পৃথিবীএই কাব্যগ্রন্থে জীবনানন্দ পৃথিবীকে এক বিশাল, রহস্যময় সত্তা হিসেবে দেখেছেনমানুষ এই মহাপৃথিবীর তুলনায় অতি ক্ষুদ্রতবু সে স্বপ্ন দেখে, ভালোবাসে, কাঁদে

এই গ্রন্থে ইতিহাসকালের প্রবাহ একটি বড় বিষয়হাজার বছরের মানব সভ্যতাতার উত্থানপতনএই বৃহপটভূমিতে একটি মানুষের ব্যক্তিগত জীবন কতটুকু গুরুত্বপূর্ণ?

সাতটি তারার তিমির (১৯৪৮) [কাব্যগ্রন্থ]

বিষয়বস্তুভাবার্থ

'সাতটি তারার তিমির' — সাতটি তারার অন্ধকাররাতের আকাশে সাতটি তারার আলোতেও অন্ধকার কাটে নাজীবনের অন্ধকার কাটে না

এই কাব্যগ্রন্থটি জীবনানন্দের সবচেয়ে পরিপক্বজটিল রচনাগুলোর একটিএখানে তাঁর দার্শনিক চিন্তা সবচেয়ে গভীরভাবে প্রকাশ পেয়েছেঅস্তিত্বের অর্থ খোঁজা, মৃত্যুর সামনে দাঁড়ানো, নিসর্গের মাঝে মানুষের স্থানএই সব প্রশ্ন

জীবন দোলনা, মৃত্যু দোলনা, দুটোই দুলছে একসাথে।”

কাব্যগ্রন্থ তালিকা

কাব্যগ্রন্থ

প্রকাশকালবিষয়

ঝরা পালক

১৯২৭ — প্রথম কাব্যগ্রন্থ

ধূসর পাণ্ডুলিপি

১৯৩৬ — স্বতন্ত্র কণ্ঠস্বরের শুরু

বনলতা সেন

১৯৪২ — শ্রেষ্ঠ কাব্যগ্রন্থ, নামকবিতা বিখ্যাত

মহাপৃথিবী

১৯৪৪ — পৃথিবীকালের কাব্য

সাতটি তারার তিমির

১৯৪৮ — দার্শনিক কাব্য

জীবনানন্দ দাশের শ্রেষ্ঠ কবিতা

১৯৫৪ — জীবদ্দশায় শেষ সংকলন

রূপসী বাংলা

১৯৫৭ — মরণোত্তর, বাংলার প্রকৃতির সনেট

বেলা অবেলা কালবেলা

১৯৬১ — মরণোত্তর

বিখ্যাত কবিতা

বনলতা সেন (১৯৩৫) [বাংলা সাহিত্যের সেরা কবিতা]

(বনলতা সেন কবিতাটি প্রথম প্রকাশিত হয় 'কবিতা' পত্রিকায় ১৯৩৫ সালেপরে ১৯৪২ সালে 'বনলতা সেন' কাব্যগ্রন্থে অন্তর্ভুক্ত।)

প্রথম প্রকাশ ১৯৩৫ সালে 'কবিতা' পত্রিকায়পরে কাব্যগ্রন্থে ১৯৪২।

বনলতা সেন কবিতা প্রথম প্রকাশ ১৯৩৫ সালেকাব্যগ্রন্থ ১৯৪২। এই পার্থক্যটি গুরুত্বপূর্ণ!

হায় চিল [বিখ্যাত কবিতা]

সম্পূর্ণ ভাবার্থ

'হায় চিল' জীবনানন্দ দাশের অন্যতম বিখ্যাত কবিতাএকটি চিলের উড়ে যাওয়ার দৃশ্যকে কেন্দ্র করে কবি মানুষের জীবনের একাকীত্বহারানোর বেদনা প্রকাশ করেছেন

কবিতায় একটি চিল সোনালি আকাশে উড়ে যাচ্ছেকোথায় যাচ্ছে? কে জানেচিলের সেই উড়ে যাওয়া কবিকে মনে করিয়ে দেয় কোনো প্রিয়জনের চলে যাওয়া

'হায় চিল, সোনালি ডানার চিল, এই ভিজে মেঘের দুপুরে / তুমি আর কেঁদো না কো উড়ে উড়ে ধানসিঁড়ি নদীর কিনারে।' — এই লাইনে চিলের কান্না আসলে কবির নিজের কান্নাধানসিঁড়ি নদী বরিশালের নদীকবির শৈশবের নদী

হায় চিল, সোনালি ডানার চিল, এই ভিজে মেঘের দুপুরে / তুমি আর কেঁদো না কো উড়ে উড়ে ধানসিঁড়ি নদীর কিনারে।”

হায় চিল = বিচ্ছেদহারানোর বেদনার কবিতাধানসিঁড়ি = বরিশালের নদী

ধানসিঁড়ি নদী বরিশালের নদীজীবনানন্দের শৈশবের স্মৃতিবাহী

শকুন [সমাজ-সমালোচনার কবিতা]

সম্পূর্ণ ভাবার্থ

'শকুন' জীবনানন্দের একটি তীক্ষ্ণ সমাজ-সমালোচনামূলক কবিতাশকুন পাখি মৃত দেহ খায়এই সহজ সত্যটিকে কবি রূপক হিসেবে ব্যবহার করেছেন

কবিতায় মানুষের সমাজকে শকুনের সাথে তুলনা করা হয়েছেসমাজের শকুনেরা সুযোগ পেলেই দুর্বলদের শেষ করে দেয়মানুষের মৃত্যুর পরেও শকুনেরা অপেক্ষা করেসম্পত্তির জন্য, সুযোগের জন্য

ক্যাম্পে [যুদ্ধবিরোধী কবিতা]

সম্পূর্ণ ভাবার্থ

'ক্যাম্পে' কবিতায় দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের প্রেক্ষাপটে মানুষের জীবনের ক্ষণস্থায়িত্বযুদ্ধের নিষ্ঠুরতা তুলে ধরা হয়েছেএকটি সামরিক ক্যাম্পে সৈনিকরা রাত কাটাচ্ছেজানে না কালকে বেঁচে থাকবে কিনা

কবিতায় আছে যুদ্ধের অর্থহীনতার কথামানুষ মানুষকে মারছেকিসের জন্য? ক্ষমতার জন্য, ভূখণ্ডের জন্যএই হত্যাকাণ্ডের মাঝে একটি সৈনিকের মনে পড়ে তার গ্রামের কথা, মায়ের কথা, প্রেমিকার কথা

আকাশলীনা [প্রকৃতিবিষণ্নতার কবিতা]

সম্পূর্ণ ভাবার্থ

'আকাশলীনা' কবিতায় এক নিসর্গ-প্রতিমার মধ্যে দিয়ে কবি প্রকাশ করেছেন এক বিষণ্ন নারীর গল্পকারো জন্য অপেক্ষা করতে করতে যে নারী আকাশের মতো উদাস হয়ে গেছেন

আকাশলীনা মানে আকাশে লীন হয়ে যাওয়াযেন এই পৃথিবীতে নেই, আকাশেই মিলিয়ে গেছেযে মানুষ অপেক্ষায় থাকতে থাকতে বাস্তব থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়সেই অনুভূতি

পাখিরা [প্রকৃতির কবিতা]

সম্পূর্ণ ভাবার্থ

'পাখিরা' কবিতায় জীবনানন্দ পাখিকে মানুষের বিপরীতে দাঁড় করিয়েছেনপাখিরা স্বাধীনআকাশে উড়তে পারে, যেখানে খুশি যেতে পারেমানুষ পারে না

পাখিরা প্রকৃতির সাথে একবৃষ্টি হলে তারা ভিজে, রোদ উঠলে তারা গান গায়কিন্তু মানুষ প্রকৃতি থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে কৃত্রিম জীবন যাপন করছেএই বিচ্ছিন্নতাই মানুষের দুঃখের কারণ

সুরঞ্জনা [বিখ্যাত প্রেমের কবিতা]

সম্পূর্ণ ভাবার্থ

'সুরঞ্জনা' জীবনানন্দের একটি বিখ্যাত প্রেমের কবিতাসুরঞ্জনা একটি নারীর নামকিন্তু সে শুধু একটি নারী নয়, সে হলো সৌন্দর্যের প্রতীক, জীবনের প্রতীক

'সুরঞ্জনা, অইখানে যেওনা তুমি, / বলো না তাহাদের কথা।' — কবি তাঁর প্রিয়তমাকে বলছেনসেই পুরনো দুঃখের জায়গায় যেও না, পুরনো কষ্টের কথা মনে করো না

কবিতায় প্রেমবিচ্ছেদ একসাথে আছেভালোবাসা আছে, কিন্তু সেই ভালোবাসার সাথে মিশে আছে বেদনা

সুরঞ্জনা, অইখানে যেওনা তুমি, বলো না তাহাদের কথা।”

অদ্ভুত আঁধার এক [বিখ্যাত কবিতা]

সম্পূর্ণ ভাবার্থ

'অদ্ভুত আঁধার এক এসেছে এই পৃথিবীতে আজ' — এই লাইনটি দিয়ে শুরু হওয়া কবিতায় জীবনানন্দ সভ্যতার সংকটের কথা বলেছেনপৃথিবীতে একটি অদ্ভুত অন্ধকার এসেছেমানবিকতার অন্ধকার, মূল্যবোধের অন্ধকার

যারা অন্ধকারে আলো দিতে পারতশিল্পী, কবি, দার্শনিকতারা কোথায়? তারা হয়তো আছেন, কিন্তু সমাজ তাদের চেনে না, মানে নাএই কবিতা আধুনিক সভ্যতার আত্মিক দেউলিয়াত্বের বিরুদ্ধে একটি প্রতিবাদ

অদ্ভুত আঁধার এক এসেছে এই পৃথিবীতে আজ, / যারা অন্ধ সবচেয়ে বেশি আলো তারা দেখে।”

উপন্যাস

জীবনানন্দ দাশ শুধু কবি ননতিনি একজন ঔপন্যাসিকওকিন্তু তাঁর উপন্যাসগুলো জীবদ্দশায় প্রকাশিত হয়নিমৃত্যুর পর পাণ্ডুলিপি থেকে প্রকাশিত হয়

জীবনানন্দ দাশের উপন্যাসগুলো জীবদ্দশায় প্রকাশিত হয়নিমৃত্যুর পর পাণ্ডুলিপি থেকে বের হয়েছে

মাল্যবান (১৯৭৩) — বিখ্যাত উপন্যাস

সম্পূর্ণ কাহিনি

'মাল্যবান' জীবনানন্দের সবচেয়ে বিখ্যাত উপন্যাসলেখা হয়েছিল ১৯৪০-এর দশকে, প্রকাশিত হয় ১৯৭৩ সালেমৃত্যুর ১৯ বছর পর

মাল্যবান একজন কবি-স্বভাবের মানুষসে একটি সংবেদনশীল আত্মাসৌন্দর্য অনুভব করতে পারে, কিন্তু জীবনের কঠিন বাস্তবতার সাথে মানিয়ে নিতে পারে না

তার স্ত্রীর নাম উৎপলাদুজনের মধ্যে গভীর দূরত্বউৎপলা বাস্তববাদীসংসার সামলানো, অর্থ উপার্জন, সামাজিক মর্যাদাএগুলো তার কাছে গুরুত্বপূর্ণমাল্যবান এসব নিয়ে চিন্তিত নয়সে রাতের আকাশ দেখতে ভালোবাসে, কবিতা লিখতে ভালোবাসে

এই দুজনের মাঝে প্রায়ই বিবাদ হয়উৎপলা মনে করে মাল্যবান অকর্মণ্য, অপদার্থমাল্যবান মনে করে উৎপলা তার আত্মার ভাষা বোঝে না

কিন্তু মাল্যবান কখনো রাগ করে চলে যায় নাসে এই সম্পর্কের মধ্যেই থাকেকারণ উৎপলার কাছেই তার ঘরএই ঘরে সুখ নেই, কিন্তু এটাই তার পৃথিবী

উপন্যাসটি আসলে একটি বিবাহিত দম্পতির মধ্যকার অসম্পূর্ণ বোঝাপড়ার গল্পদুজন দুজনকে ভালোবাসে, কিন্তু একে অপরকে বুঝতে পারে নাএই না-বোঝার ট্র্যাজেডি

মাল্যবান উপন্যাসটি আত্মজীবনীমূলক বলে মনে করা হয়জীবনানন্দের নিজের জীবনের সাথে মিল আছে

মাল্যবান = কবি-মনের মাল্যবান + বাস্তববাদী উৎপলা = দাম্পত্যের অসম্পূর্ণ বোঝাপড়া

মাল্যবান ১৯৭৩ সালে প্রকাশিতজীবনানন্দের মৃত্যুর ১৯ বছর পর

প্রশ্ন: মাল্যবান উপন্যাসের কেন্দ্রীয় চরিত্র? মাল্যবান (কবি-মনের মানুষ) ও উৎপলা (স্ত্রী)

প্রশ্ন: মাল্যবানের প্রকাশকাল? ১৯৭৩ সালে (মরণোত্তর)

সুতীর্থ (১৯৭৭)

সম্পূর্ণ কাহিনি

'সুতীর্থ' জীবনানন্দের আরেকটি মরণোত্তর প্রকাশিত উপন্যাসসুতীর্থ মানে একই তীর্থে যাত্রীএকসাথে পথ চলা মানুষ

উপন্যাসে দুজন বন্ধুযারা একসময় একই আদর্শ, একই স্বপ্ন নিয়ে চলেছিলকিন্তু জীবনের পথে তারা আলাদা হয়ে যায়একজন আপোস করে, অন্যজন করে নাএই দুজনের মাঝে আদর্শ বনাম বাস্তবতার দ্বন্দ্ব

উপন্যাস তালিকা

উপন্যাস

প্রকাশকালবিষয়

মাল্যবান

১৯৭৩ — মরণোত্তরকবি-মনের মানুষদাম্পত্যের গল্প

সুতীর্থ

১৯৭৭ — মরণোত্তরদুই বন্ধুর ভিন্ন পথের গল্প

জলপাইহাটি

মরণোত্তর প্রকাশিত

কারুবাসনা

মরণোত্তর প্রকাশিত

বাসমতীর উপাখ্যান

মরণোত্তর প্রকাশিত

প্রবন্ধ

কবিতার কথা (১৯৫৫) [বিখ্যাত প্রবন্ধগ্রন্থ]

প্রবন্ধের বিষয়বস্তু

'কবিতার কথা' জীবনানন্দ দাশের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রবন্ধগ্রন্থএতে তিনি কবিতার স্বরূপ, কবিতার কাজ, কবির দায়িত্বএই সব বিষয়ে তাঁর নিজস্ব দর্শন উপস্থাপন করেছেন

এই গ্রন্থে একটি বিখ্যাত উক্তি আছে — 'সকলেই কবি নয়, কেউ কেউ কবি।' এই একটি লাইনে জীবনানন্দ বলেছেনকবিতা লেখা মানেই কবি নয়, প্রকৃত কবি হওয়া একটি বিশেষ প্রতিভার বিষয়

সকলেই কবি নয়, কেউ কেউ কবি।”

কবিতার কথাজীবনানন্দের প্রবন্ধগ্রন্থ। 'সকলেই কবি নয়, কেউ কেউ কবি' — বিখ্যাত উক্তি

'সকলেই কবি নয়, কেউ কেউ কবি' — জীবনানন্দ দাশ, 'কবিতার কথা' প্রবন্ধ থেকে

পুরস্কারস্বীকৃতি

পুরস্কার / সম্মান

বিশেষ তথ্য

রবীন্দ্র পুরস্কার

১৯৫২ — 'বনলতা সেন' কাব্যগ্রন্থের জন্য

সাহিত্য একাডেমি পুরস্কার

১৯৫৫ — মরণোত্তর (পশ্চিমবঙ্গ)

রবীন্দ্র পুরস্কার (মরণোত্তর)

পশ্চিমবঙ্গ সরকার প্রদত্ত

একুশে পদক

বাংলাদেশ সরকারমরণোত্তর

জীবনানন্দ দাশ জীবদ্দশায় রবীন্দ্র পুরস্কার পান ১৯৫২ সালেএটি মরণোত্তর নয়

কাব্যশৈলীর বৈশিষ্ট্য

জীবনানন্দের কবিতার বিশেষ বৈশিষ্ট্য

জীবনানন্দ দাশের কবিতার সবচেয়ে বড় বৈশিষ্ট্য হলো ইন্দ্রিয়-সংবেদনশীলতাতিনি শব্দ দিয়ে দৃশ্য, গন্ধ, স্পর্শ, শব্দ তৈরি করেন। 'ধানসিঁড়ির তীরে', 'শিশিরের শব্দের মতন', 'ভোরের কাক' — এই শব্দগুলো শুধু দৃশ্য নয়, অনুভূতি তৈরি করে

দ্বিতীয় বৈশিষ্ট্য হলো বিষণ্নতাজীবনানন্দের কবিতায় সুখ নেই বললেই চলেআছে বিষণ্নতা, একাকীত্ব, হারানোর বেদনাকিন্তু এই বিষণ্নতা সৌন্দর্যময়এটি পড়তে ভালো লাগে

তৃতীয় বৈশিষ্ট্য হলো ইতিহাসপুরাণের ব্যবহার। 'বনলতা সেন' কবিতায় বিম্বিসার, অশোক, বিদিশা, শ্রাবস্তীহাজার বছরের ইতিহাস এক কবিতায়এই ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট কবিতাকে অনেক গভীর করে দেয়

চতুর্থ বৈশিষ্ট্য হলো প্রকৃতির অসাধারণ চিত্রণবরিশালের নদী, মাঠ, পাখিএগুলো তাঁর কবিতায় এতটাই জীবন্ত যে পাঠক নিজেও সেই নিসর্গে মিশে যান

পঞ্চম বৈশিষ্ট্য হলো অ্যালুসিভ বা ইঙ্গিতময় কাব্যভাষাতিনি সরাসরি কিছু বলেন নারূপকের মাধ্যমে, প্রতীকের মাধ্যমে বলেনএই কারণে তাঁর কবিতা বারবার পড়ার দাবি রাখে

ইন্দ্রিয়-সংবেদনশীলতাশব্দে দৃশ্য, গন্ধ, অনুভূতি তৈরি

বিষণ্নতাএকাকীত্বের সৌন্দর্যময় প্রকাশ

ইতিহাসপুরাণের সংমিশ্রণ

বাংলার নিসর্গের অতুলনীয় চিত্রণ

ইঙ্গিতময়রূপকধর্মী কাব্যভাষা

আধুনিক বাংলা কবিতার পথিকৃৎ।

প্রশ্নোত্তর

প্রশ্ন: জীবনানন্দ দাশের জন্মতারিখ?

১৭ ফেব্রুয়ারি ১৮৯৯

প্রশ্ন: জীবনানন্দের জন্মস্থান?

বরিশাল শহর

প্রশ্ন: জীবনানন্দের ডাকনাম?

মিলু

প্রশ্ন: জীবনানন্দের পিতার নাম?

সত্যানন্দ দাশ

প্রশ্ন: জীবনানন্দের মাতার নাম?

কুসুমকুমারী দাশ

প্রশ্ন: জীবনানন্দের মাতার বিখ্যাত কবিতা?

আদর্শ ছেলে ('আমাদের দেশে হবে সেই ছেলে কবে')

প্রশ্ন: জীবনানন্দের মৃত্যুতারিখ?

২২ অক্টোবর ১৯৫৪

প্রশ্ন: জীবনানন্দ কীভাবে মারা যান?

ট্রাম দুর্ঘটনায় আহত হয়ে

প্রশ্ন: জীবনানন্দের উপাধি?

রূপসী বাংলার কবি, নিসর্গের কবি

প্রশ্ন: জীবনানন্দের প্রথম কাব্যগ্রন্থ?

ঝরা পালক (১৯২৭)

প্রশ্ন: বনলতা সেন কাব্যগ্রন্থের প্রকাশকাল?

১৯৪২ সালে

প্রশ্ন: বনলতা সেন কবিতা প্রথম প্রকাশ?

১৯৩৫ সালে, 'কবিতা' পত্রিকায়

প্রশ্ন: বনলতা সেনের বাড়ি কোথায়?

নাটোরে

প্রশ্ন: রূপসী বাংলা কাব্যগ্রন্থের প্রকাশকাল?

১৯৫৭ সালে (মরণোত্তর)

প্রশ্ন: 'আবার আসিব ফিরে ধানসিঁড়িটির তীরে' — কোন কাব্যগ্রন্থ?

রূপসী বাংলা

প্রশ্ন: 'সকলেই কবি নয়, কেউ কেউ কবি' — কোথায়?

কবিতার কথা প্রবন্ধগ্রন্থে

প্রশ্ন: জীবনানন্দের শ্রেষ্ঠ উপন্যাস?

মাল্যবান (১৯৭৩ — মরণোত্তর)

প্রশ্ন: মাল্যবানের কেন্দ্রীয় চরিত্র?

মাল্যবানউৎপলা

প্রশ্ন: ধানসিঁড়ি কোন নদী?

বরিশালের নদী

প্রশ্ন: জীবনানন্দের রবীন্দ্র পুরস্কার কত সালে?

১৯৫২ সালে (বনলতা সেনের জন্য)

প্রশ্ন: কবিতার কথা প্রবন্ধগ্রন্থ কত সালে?

১৯৫৫ সালে

প্রশ্ন: সাতটি তারার তিমির কাব্যগ্রন্থ?

১৯৪৮ সালে

প্রশ্ন: 'চুল তার কবেকার অন্ধকার বিদিশার নিশা' — কোন কবিতা?

বনলতা সেন

প্রশ্ন: মহাপৃথিবী কাব্যগ্রন্থের প্রকাশকাল?

১৯৪৪ সালে

প্রশ্ন: জীবনানন্দ দাশের বিখ্যাত প্রবন্ধ উক্তি?

'সকলেই কবি নয়, কেউ কেউ কবি'

প্রশ্ন: জীবনানন্দের প্রেমের বিখ্যাত কবিতা?

সুরঞ্জনা

প্রশ্ন: জীবনানন্দের স্ত্রীর নাম?

লাবণ্য গুপ্ত

প্রশ্ন: 'হায় চিল' কবিতায় কোন নদীর কথা?

ধানসিঁড়ি নদী

প্রশ্ন: জীবনানন্দ কোন কলেজে পড়েন?

প্রেসিডেন্সি কলেজ, কলকাতা

প্রশ্ন: জীবনানন্দের এমএ কোথা থেকে?

কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় (১৯২১)

ট্রিকিঅজানা তথ্য

জীবনানন্দ দাশের মাতা কুসুমকুমারী দাশ নিজেও কবি — 'আদর্শ ছেলে' ('আমাদের দেশে হবে সেই ছেলে কবে') রচয়িতা

বনলতা সেন কবিতা প্রথম প্রকাশ ১৯৩৫ সালে 'কবিতা' পত্রিকায়কাব্যগ্রন্থ ১৯৪২ সালে

বনলতা সেনের বাড়ি নাটোরেকলকাতায় নয়, বর্তমান বাংলাদেশের নাটোরে

রূপসী বাংলা মরণোত্তর প্রকাশিত ১৯৫৭ সালেজীবনানন্দের মৃত্যু ১৯৫৪ সালে

মাল্যবান উপন্যাস মরণোত্তর প্রকাশিত ১৯৭৩ সালেমৃত্যুর ১৯ বছর পর

জীবনানন্দের রবীন্দ্র পুরস্কার মরণোত্তর নয়জীবদ্দশায় পেয়েছেন ১৯৫২ সালে

জীবনানন্দ দাশের প্রথম কাব্যগ্রন্থ 'ঝরা পালক' (১৯২৭) — 'বনলতা সেন' নয়

'সকলেই কবি নয়, কেউ কেউ কবি' — এটি 'কবিতার কথা' প্রবন্ধগ্রন্থ থেকে

জীবনানন্দ দাশের মৃত্যু ট্রাম দুর্ঘটনায়মৃত্যুর কারণ নিয়ে রহস্য আছে

মৃত্যুর পর তাঁর ঘরে অসংখ্য অপ্রকাশিত পাণ্ডুলিপি পাওয়া যায়

ধানসিঁড়ি বরিশালের নদী — 'আবার আসিব ফিরে ধানসিঁড়িটির তীরে' — রূপসী বাংলায়

জীবনানন্দ দাশের একসময় কবিতাকে 'অশ্লীল' বলা হয়েছিলপরে মিথ্যা প্রমাণিত

জীবনানন্দ দাশের ডাকনাম 'মিলু' — বিসিএসে আসে!

বনলতা সেন কবিতায় ইতিহাসের স্থান: বিম্বিসার, অশোক, বিদর্ভ, বিদিশা, শ্রাবস্তী

'হায় চিল' কবিতায় ধানসিঁড়ি নদীর উল্লেখবরিশালের নদী

জীবনানন্দ আধুনিক বাংলা কবিতার পথিকৃৎ — রবীন্দ্রোত্তর যুগের সবচেয়ে প্রভাবশালী কবি

জীবনানন্দের মাতা কুসুমকুমারী দাশএটি প্রায়ই MCQ-তে আসে পিতার নামের সাথে গুলিয়ে ফেলানোর জন্য

চূড়ান্ত সারসংক্ষেপ

বিষয়

উত্তর

পূর্ণ নাম

জীবনানন্দ দাশ (ডাকনাম: মিলু)

জন্ম

১৭ ফেব্রুয়ারি ১৮৯৯, বরিশাল

মৃত্যু

২২ অক্টোবর ১৯৫৪ (ট্রাম দুর্ঘটনা)

মাতা

কুসুমকুমারী দাশ ('আদর্শ ছেলে' কবিতার রচয়িতা)

উপাধি

রূপসী বাংলার কবি, নিসর্গের কবি

প্রথম কাব্যগ্রন্থ

ঝরা পালক (১৯২৭)

শ্রেষ্ঠ কাব্যগ্রন্থ

বনলতা সেন (১৯৪২)

বিখ্যাত কবিতা

বনলতা সেন (প্রথম প্রকাশ ১৯৩৫)

বনলতা সেনের বাড়ি

নাটোরে (বাংলাদেশ)

মরণোত্তর কাব্য

রূপসী বাংলা (১৯৫৭)

বিখ্যাত লাইন

আবার আসিব ফিরে ধানসিঁড়িটির তীরে (রূপসী বাংলা)

শ্রেষ্ঠ উপন্যাস

মাল্যবান (১৯৭৩, মরণোত্তর)

বিখ্যাত প্রবন্ধ উক্তি

সকলেই কবি নয়, কেউ কেউ কবি (কবিতার কথা)

রবীন্দ্র পুরস্কার

১৯৫২ সালে (জীবদ্দশায়, বনলতা সেনের জন্য)

ধানসিঁড়ি নদী

বরিশালের নদী

Review this chapter

You Can Also Read

Chapters closely related to the one you are reading now.

জহির রায়হান

No reviews
0 students
Read chapter

জীবনী সাহিত্য

No reviews
0 students
Read chapter

জসীমউদ্দীন

No reviews
0 students
Read chapter

নাথ সাহিত্য

No reviews
0 students
Read chapter

Most Read by Students

Popular picks getting the strongest student traffic right now.

অসহযোগ আন্দোলন (মার্চ ১৯৭১)

No reviews
1 student
Read chapter

নদী, সেতু, পাহাড়, দ্বীপ, বন, সমুদ্রবন্দর

No reviews
1 student
Read chapter

বাংলা ভাষার রীতি

No reviews
1 student
Read chapter

Others Who Read This Also Read

Behavior-based suggestions from student reading patterns where available.

জহির রায়হান

No reviews
0 students
Read chapter

জীবনী সাহিত্য

No reviews
0 students
Read chapter

জসীমউদ্দীন

No reviews
0 students
Read chapter

নাথ সাহিত্য

No reviews
0 students
Read chapter

Best Reviewed

Chapters earning the strongest student feedback.

জহির রায়হান

No reviews
0 students
Read chapter

জীবনী সাহিত্য

No reviews
0 students
Read chapter

জসীমউদ্দীন

No reviews
0 students
Read chapter

নাথ সাহিত্য

No reviews
0 students
Read chapter

Course Suggestions

Want a more guided path after this chapter? These courses are the closest fit.

Browse all courses
Learner fit৳1,999

Bangla

Bangla Language Mastery

Popular with BCS learners who want guided study.

6 lessons8.5h4.9 (186)1.3K students

By Sadia Rahman

View course
Learner fit৳2,999

Platform Building

Teacher Marketplace Blueprint

Popular with BCS learners who want guided study.

5 lessons6.8h4.9 (28)410 students

By Sadia Rahman

View course
FreeFree

English

Admission English Playbook

Free guided course with lessons you can jump into anytime.

4 lessons4.2h4.8 (91)2.8K students

By Rayan Akter

View course