জসীমউদ্দীন

Chapter Activity

Rating
New / 5
Reviews
0
Read Sessions
0
Readers
0

বাংলা সাহিত্য

জসীমউদ্দীন

পল্লিকবি | বাংলার মাটির কবি

জীবন পরিচয়পটভূমি

জন্মশৈশব

১৯০৩ সালেরজানুয়ারি ফরিদপুর জেলার তাম্বুলখানা গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন জসীমউদ্দীনতাঁর পুরো নাম মোহাম্মদ জসীমউদ্দীন মোল্লাবাংলা সাহিত্যে তিনি 'পল্লিকবি' নামে অমর হয়ে আছেনগ্রামবাংলার হৃদয়ের কবি

তাঁর পিতার নাম আনসারউদ্দীন মোল্লা এবং মাতার নাম আমিনা খাতুনপরিবার ছিল মধ্যবিত্ত মুসলিমশৈশবকৈশোর কেটেছে ফরিদপুরের গ্রামীণ পরিবেশেনদী, মাঠ, পাখি, নৌকা, ধানের শীষএই সব কিছুই তাঁর মনে গেঁথে গেছে গভীরভাবেপরবর্তী জীবনে এই অভিজ্ঞতাই হয়েছে তাঁর কবিতার মূল উপাদান

ফরিদপুর জেলার পদ্মা নদীর তীরের সংস্কৃতি, মানুষের জীবনযাত্রা, বিচ্ছেদের কান্না, বিবাহের আনন্দ, মৃত্যুর বেদনাএই সব তাঁর কবিতায় এতটাই জীবন্ত যে মনে হয় পাঠক নিজেই সেই গ্রামে বসে আছেন

জসীমউদ্দীনের জন্মস্থানতাম্বুলখানা গ্রাম, ফরিদপুরজন্ম — ১ জানুয়ারি ১৯০৩।

শিক্ষাজীবন

ফরিদপুর জেলা স্কুল থেকে ম্যাট্রিক পাস করেন ১৯২১ সালেফরিদপুর রাজেন্দ্র কলেজ থেকে ১৯২৪ সালে আইএ পাস করেনএরপর কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হন

কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার সময়ই একটি ঐতিহাসিক ঘটনা ঘটেতিনি ১৯২৫ সালে বিএ পরীক্ষায় থাকাকালীন 'কবর' কবিতাটি রচনা করেনতাঁর শিক্ষক ড. দীনেশচন্দ্র সেন এই কবিতাটি পাঠ্যপুস্তকে অন্তর্ভুক্ত করেনতখন জসীমউদ্দীন এখনও ছাত্র! এটি বাংলা সাহিত্যের ইতিহাসে অভূতপূর্ব ঘটনা

১৯২৯ সালে কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বাংলা ভাষাসাহিত্যে এমএ পাস করেনএরপর ড. দীনেশচন্দ্র সেনের গবেষণা সহকারী হিসেবে কাজ শুরু করেনপল্লিগীতিলোকসাহিত্য সংগ্রহ করার কাজে বেরিয়ে পড়েন বাংলার গ্রামে গ্রামে

ছাত্রাবস্থায় 'কবর' কবিতা পাঠ্যপুস্তকে স্থান পায়বাংলা সাহিত্যের ইতিহাসে অভূতপূর্ব!

কর্মজীবনবিবাহ

১৯৩৮ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে বাংলা বিভাগে শিক্ষক হিসেবে যোগ দেনদীর্ঘ কর্মজীবন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়েই কাটানবিশ্ববিদ্যালয়ের লোকসাহিত্য বিভাগে তিনি বিশেষ অবদান রাখেন

তাঁর স্ত্রীর নাম মমতাজ বেগমযিনি কবির কবিতায় 'মুজনু পাগলা'র মেয়ে হিসেবে উল্লিখিততাঁদের বিবাহ হয় ১৯৪৩ সালেস্ত্রীর প্রতি তাঁর ভালোবাসা তাঁর অনেক কবিতায় প্রকাশ পেয়েছে

১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধে জসীমউদ্দীন বাংলাদেশের পক্ষে সক্রিয় ভূমিকা পালন করেনতিনি মুক্তিযোদ্ধাদের মনোবল চাঙা রাখতে কাজ করেন

মৃত্যুউত্তরাধিকার

১৯৭৬ সালের ১৩ মার্চ ঢাকায় মৃত্যুবরণ করেন জসীমউদ্দীনতাঁর বয়স হয়েছিল ৭৩ বছরতাঁকে সমাহিত করা হয় ফরিদপুরের গোবিন্দপুর গ্রামেতাঁর নিজ জেলায়, মাটির কাছে

জসীমউদ্দীন মারা গেছেন, কিন্তু 'নকশীকাঁথার মাঠ' আর 'সোজন বাদিয়ার ঘাট' বেঁচে আছেবাংলার প্রতিটি গ্রামে, প্রতিটি কৃষকের হৃদয়ে তিনি আজও জীবন্ত

জসীমউদ্দীনের মৃত্যু — ১৩ মার্চ ১৯৭৬। কবরস্থানফরিদপুর

বিষয়

তথ্য

পূর্ণ নাম

মোহাম্মদ জসীমউদ্দীন মোল্লা

জন্ম

জানুয়ারি ১৯০৩

জন্মস্থান

তাম্বুলখানা গ্রাম, ফরিদপুর

মৃত্যু

১৩ মার্চ ১৯৭৬, ঢাকা

পিতা

আনসারউদ্দীন মোল্লা

মাতা

আমিনা খাতুন

স্ত্রী

মমতাজ বেগম (বিবাহ ১৯৪৩)

শিক্ষা

এমএ, বাংলা, কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় (১৯২৯)

পেশা

কবি, অধ্যাপক, লোকসাহিত্য গবেষক

কর্মক্ষেত্র

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, বাংলা বিভাগ

উপাধি

পল্লিকবি

বিখ্যাত রচনা

নকশীকাঁথার মাঠ, সোজন বাদিয়ার ঘাট, কবর

পুরস্কার

একুশে পদক (১৯৭৬), প্রেসিডেন্ট পুরস্কার (১৯৫৮)

কাব্যগ্রন্থ

রাখালী (১৯২৭) [প্রথম কাব্যগ্রন্থ]

প্রকাশবিষয়বস্তু

১৯২৭ সালে প্রকাশিত 'রাখালী' জসীমউদ্দীনের প্রথম কাব্যগ্রন্থ। 'রাখাল' মানে গরুর রাখালযে মাঠে মাঠে গরু চরায়সেই রাখালের জীবন, তার আনন্দ, তার একাকীত্ব, তার প্রেমএই সবই এই কাব্যগ্রন্থের বিষয়

গ্রন্থটিতে বাংলার গ্রামীণ জীবনের যে ছবি আঁকা হয়েছে, তা অতুলনীয়ধানের মাঠ, নদীর পাড়, গরুর পাল, মেঘলা আকাশপ্রতিটি চিত্র এতটাই জীবন্ত যে পাঠক নিজেকে সেই মাঠে অনুভব করেনএই গ্রন্থ প্রকাশের পরেই জসীমউদ্দীন 'পল্লিকবি' হিসেবে স্বীকৃতি পেতে শুরু করেন

রাখালীর ভাষা একেবারে সরলগ্রামের মানুষের কথ্য ভাষার মতোকোনো জটিলতা নেই, কোনো দুর্বোধ্যতা নেইকিন্তু সেই সরলতার মধ্যে আছে গভীর জীবনদর্শন

রাখালীজসীমউদ্দীনের প্রথম কাব্যগ্রন্থ (১৯২৭)।

রাখালী প্রকাশের পরই জসীমউদ্দীন 'পল্লিকবি' উপাধি পান

নকশীকাঁথার মাঠ (১৯২৯) — মাস্টারপিস

ঐতিহাসিক গুরুত্বপ্রকাশ

'নকশীকাঁথার মাঠ' জসীমউদ্দীনের সর্বশ্রেষ্ঠ রচনা এবং বাংলা সাহিত্যের অমর কীর্তিগুলোর একটি। ১৯২৯ সালে প্রকাশিত এই কাব্যকাহিনি বাংলা সাহিত্যে 'গীতিকাব্য' ধারার সবচেয়ে উজ্জ্বল উদাহরণ

'নকশীকাঁথা' হলো গ্রামীণ বাংলার নারীদের হাতে বোনা রঙিন নকশার কাঁথাপ্রতিটি কাঁথায় থাকে একটি গল্প, একটি স্বপ্ন, একটি ভালোবাসাজসীমউদ্দীন এই কাঁথার মতোই তাঁর কাহিনি বুনেছেনপ্রতিটি লাইনে একটি রঙ, প্রতিটি স্তবকে একটি ছবি

সম্পূর্ণ কাহিনিপড়লেই পুরো কাহিনি জানা হয়ে যাবে

রুপাই একজন তরুণ কৃষকবাংলার এক সবুজ গ্রামে তার বাসসে অত্যন্ত সুন্দর, সরলমনের দিক থেকে পরিষ্কারগ্রামের সবাই তাকে ভালোবাসে

সাজু একটি মেয়েরুপাইয়ের গ্রামেরই মেয়েসে-ও সুন্দরী, কোমলমতিছোটবেলা থেকেই রুপাই আর সাজুর মধ্যে একটা নিবিড় সম্পর্ক গড়ে ওঠেপ্রতিবেশী থেকে শুরু হয়ে সেটা ধীরে ধীরে প্রেমে পরিণত হয়

গ্রামের মাঠে রুপাই চাষ করে, সাজু ঘরে বসে নকশীকাঁথা বোনেরুপাইয়ের জন্য কাঁথা বুনতে বুনতে সাজু তার ভালোবাসার কথা প্রতিটি সুতায় বুনে দেয়প্রতিটি ফুলে, প্রতিটি পাখিতে থাকে তার মনের কথা

দুজনের বিবাহ হয়এরপর শুরু হয় সুখের সংসারকিন্তু সেই সুখ দীর্ঘস্থায়ী হয় নাএকদিন রুপাই কৃষিকাজ করতে গিয়ে আঘাত পায়, অথবা অসুখে পড়েঅবস্থা ক্রমে খারাপ হতে থাকে

সাজু দিনরাত সেবা করে রুপাইকেকিন্তু রুপাই আর সুস্থ হয় নাএকদিন রুপাই মারা যায়সাজুর জীবন হয়ে যায় শূন্যযে নকশীকাঁথা সে বুনেছিল প্রিয়তমের জন্য, সেই কাঁথা এখন তার একমাত্র সঙ্গী

সাজু বিধবা হয়ে বাঁচতে থাকে রুপাইয়ের স্মৃতি নিয়েপ্রতিদিন সে রুপাইয়ের কবরের কাছে যায়কবরের মাটিতে হাত রাখে, কথা বলেধীরে ধীরে সে নিজেও অসুস্থ হয়ে পড়ে

অবশেষে সাজুও মারা যায়রুপাইয়ের কবরের পাশেতাকে সমাহিত করা হয় রুপাইয়ের পাশেইদুটি প্রেমিক হৃদয় মৃত্যুতেও আলাদা হয়নিতাদের কবরের উপর দিয়ে বয়ে যায় নকশীকাঁথার মাঠের বাতাস

নকশীকাঁথার মাঠ = রুপাইসাজুর প্রেম + বিবাহ + মৃত্যু + চিরন্তন বিচ্ছেদের বেদনা

কাব্যটির শেষে কবি বলেনএই কবরের উপর শুধু ঘাস নয়, জমে আছে দুটি প্রাণের ভালোবাসানকশীকাঁথার মাঠে আজও সেই প্রেম কাঁদে

এইখানে তোর দাদির কবর ডালিম গাছের তলে, / তিরিশ বছর ভিজায়ে রেখেছি দু'নয়নের জলে।”

“ও বাছা, তোমার দাদারকবরএই তার বুকের ভার, / এই মাটিতে মিশায়ে আছে তার সারাটি জীবনের প্রেম সার।”

নকশীকাঁথার মাঠ জুড়িয়া দুটি প্রেমের কবর শুয়ে, / কেঁদে কেঁদে পাখি ডাকিছে ওই দুটি নামের ধুয়ে।”

নকশীকাঁথার মাঠ = রুপাই + সাজুমূলভাব = প্রেম, বিরহমৃত্যু

নকশীকাঁথার মাঠ বাংলা সাহিত্যের শ্রেষ্ঠ গীতিকাব্যগুলোর একটি

প্রশ্ন: নকশীকাঁথার মাঠের কেন্দ্রীয় চরিত্র? রুপাই (পুরুষ) ও সাজু (নারী)

প্রশ্ন: নকশীকাঁথার মাঠ প্রথম প্রকাশ? ১৯২৯ সালে

প্রশ্ন: নকশীকাঁথার মাঠের ধরন? গীতিকাব্য বা কাব্যকাহিনি

সোজন বাদিয়ার ঘাট (১৯৩৩) — দ্বিতীয় মাস্টারপিস

পটভূমিগুরুত্ব

'সোজন বাদিয়ার ঘাট' জসীমউদ্দীনের আরেকটি অমর গীতিকাব্য। ১৯৩৩ সালে প্রকাশিত। 'বাদিয়া' মানে বেদেভাসমান জীবনযাপনকারী মানুষ যারা নৌকায় থাকেসাপের খেলা, ওষুধ বিক্রি করে জীবিকা নির্বাহ করে

সম্পূর্ণ কাহিনি

সোজন একজন বেদে যুবকতার পরিবার নৌকায় বাস করেনদী থেকে নদীতে ভেসে বেড়ায়এই ভ্রাম্যমাণ জীবনেই তার বড় হওয়াসোজন অত্যন্ত সুন্দরসাহসী

দুলি একটি হিন্দু মেয়েসে এক গ্রামে থাকে যেখানে সোজনের নৌকা একবার নোঙর করেদুলির সৌন্দর্যসরলতায় মুগ্ধ হয়ে যায় সোজনদুলিও সোজনের সাহসস্নেহে আকৃষ্ট হয়

কিন্তু এই প্রেমে বাধা আসে ধর্মের দেয়ালসোজন মুসলিম, দুলি হিন্দুউভয় পরিবারই এই সম্পর্ক মানতে নারাজসমাজ তাদের একত্রে মিলতে দেবে না

এরপর শুরু হয় বিচ্ছেদের কাহিনিসোজনের নৌকা চলে যায়, দুলি পড়ে থাকেদুলির বিবাহ হয়ে যায় অন্য জায়গায়সোজন বিভিন্ন ঘাটে ঘাটে ঘুরে বেড়ায়কিন্তু দুলিকে ভুলতে পারে না

একদিন ঘুরতে ঘুরতে সোজন আবার সেই পুরনো ঘাটে আসেযেখানে প্রথম দুলিকে দেখেছিলকিন্তু দুলি আর নেইতার বিবাহ হয়ে গেছে, সে চলে গেছেসোজন সেই ঘাটে বসে থাকেএকা, নিঃসঙ্গ

কাব্যটিতে হিন্দু-মুসলিম প্রেমের ব্যর্থতার গল্পের মাধ্যমে আসলে সাম্প্রদায়িক বিভেদের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করা হয়েছেদুটি মানুষ পরস্পরকে ভালোবাসে, কিন্তু সমাজের ধর্মীয় বিভেদ তাদের আলাদা করে দেয়

সোজন বাদিয়ার ঘাট = সোজন (মুসলিম) + দুলি (হিন্দু) — হিন্দু-মুসলিম প্রেমের ব্যর্থতার গল্প

সোজন বাদিয়া ভাসিছে নদীতে, দুলি কাঁদে একেলা, / কার জন্য সে অপেক্ষা করে, কোন ঘাটে হবে মেলা!”

ধর্মের নামে দেয়াল উঠেছে, প্রেম করে রে কান্না, / দুটি হৃদয় দুটি নদী পাশে তবু দেখা নাই জানা।”

সোজন = মুসলিম বেদেদুলি = হিন্দু মেয়েবিষয় = ধর্মীয় বিভেদে প্রেম বিফল

প্রশ্ন: সোজন বাদিয়ার ঘাটের প্রকাশকাল? ১৯৩৩ সালে

প্রশ্ন: সোজনদুলির ধর্মীয় পরিচয়? সোজন = মুসলিম, দুলি = হিন্দু

বালুচর (১৯৩০) [কাব্যগ্রন্থ]

বিষয়বস্তুভাবার্থ

'বালুচর' মানে বালির চরনদীর বুকে জেগে ওঠা চরএই চর যেমন নদীর মাঝে একাকী দাঁড়িয়ে থাকে, তেমনি মানুষও জীবনে একাকী হয়ে পড়ে

এই কাব্যগ্রন্থে গ্রামীণ বাংলার নানা দৃশ্য আছেনদীর বালুচরে বসে মেছো কবিরা গান গায়, জেলেরা মাছ ধরে, কিশোররা খেলেকিন্তু এই আনন্দের নিচে আছে একটি বিষণ্নতাসময় চলে যাচ্ছে, জীবন ফুরিয়ে যাচ্ছে

'বালুচর' কাব্যে জসীমউদ্দীন প্রকৃতিমানুষের সম্পর্কটিকে অত্যন্ত কোমলভাবে তুলে ধরেছেননদী শুধু জল নয়, সে জীবনের প্রতীকবালু শুধু বালু নয়, সে স্মৃতির প্রতীক

বালুচরগ্রামীণ জীবননদীর কাব্যকথন

ধানখেত (১৯৩৩) [কাব্যগ্রন্থ]

বিষয়বস্তুভাবার্থ

'ধানখেত' — বাংলার সবচেয়ে পরিচিত দৃশ্যসোনালি ধানের মাঠ, বাতাসে ধানের শীষের দোল, কৃষকের পরিশ্রমফসলের আনন্দএই সব নিয়ে তৈরি এই কাব্যগ্রন্থ

জসীমউদ্দীন ধানখেতকে শুধু শস্যক্ষেত্র হিসেবে দেখেননিতিনি দেখেছেন এটিকে জীবনের মেটাফর হিসেবেধান যেমন মাটি থেকে জন্ম নিয়ে ফুলে-ফেঁপে ওঠে, তারপর কাটা পড়েমানুষের জীবনও তেমনি

কৃষকতার পরিবারের জীবনকাহিনি, তাদের আনন্দ-বেদনাএই সব মিলিয়ে 'ধানখেত' হয়ে উঠেছে গ্রামীণ বাংলার একটি কাব্যিক দলিল

রঙিলা নায়ের মাঝি (১৯৩৫) [কাব্যগ্রন্থ]

বিষয়বস্তুভাবার্থ

'রঙিলা নায়ের মাঝি' — রঙিন নৌকার মাঝিবাংলার নদীতে যে মাঝি নৌকা চালায়, সে শুধু নৌকার চালক নয়সে একজন কবি, একজন দার্শনিক, একজন জীবনের যাত্রী

এই কাব্যগ্রন্থে নদীর জীবন, মাঝির গান (ভাটিয়ালি), নৌকার যাত্রাএই সব অনুষঙ্গ ব্যবহার করে কবি জীবনের গভীর কথা বলেছেনজীবনটাও তো একটা নদীর যাত্রাকোথা থেকে আসছি, কোথায় যাচ্ছি জানি না

রঙিলা নায়ের মাঝি, কোথায় যাবি তুই, / কোন সুদূরের ডাকে পালটি ভাঁজ দুই!”

অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ কাব্যগ্রন্থ

কাব্যগ্রন্থ

প্রকাশকালবিষয়

মাটির কান্না

১৯৫১ — মাটিমানুষের অবিচ্ছেদ্য সম্পর্ক

এক পয়সার বাঁশি

১৯৫৬ — শিশু কাব্যগ্রন্থ

সকিনা

১৯৫৯ — গ্রামীণ নারীজীবনের কাব্য

সুচয়নী

১৯৬১ — প্রেমপ্রকৃতির কবিতা

ভয়াবহ সেই দিনগুলিতে

১৯৭১ — মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক

মা যে জননী কান্দে

১৯৬৩ — মায়ের ভালোবাসার কবিতা

হলুদ বরণী

১৯৬৬ — গ্রামীণ বিবাহের উৎসবের কবিতা

জলের লেখন

১৯৬৯ — নদীজীবনের কবিতা

বিখ্যাত কবিতা

কবরসর্বকালের শ্রেষ্ঠ কবিতাগুলোর একটি

রচনার ইতিহাসপটভূমি

'কবর' কবিতাটি জসীমউদ্দীনের সবচেয়ে বিখ্যাত কবিতাএবং বাংলা সাহিত্যের সর্বকালের শ্রেষ্ঠ কবিতাগুলোর একটিরচিত হয় ১৯২৫ সালেযখন জসীমউদ্দীন কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র

এই কবিতাটি তাঁর শিক্ষক ড. দীনেশচন্দ্র সেনের এতটাই মুগ্ধ করে যে তিনি এটি পাঠ্যপুস্তকে অন্তর্ভুক্ত করেনযখন কবি এখনও ছাত্র! বাংলা সাহিত্যের ইতিহাসে এটি একটি অভূতপূর্ব ঘটনা

সম্পূর্ণ কাহিনিভাবার্থ

কবিতায় একজন বৃদ্ধ দাদা তার নাতিকে নিয়ে গ্রামের কবরস্থানে যায়কবরস্থানে একটি ডালিম গাছের তলে আছে তার স্ত্রীর কবরনাতির দাদির কবর

বৃদ্ধ দাদা নাতিকে দেখায়এই যে কবর, এখানে ঘুমিয়ে আছেন তোমার দাদিতিরিশ বছর ধরে আমি এখানে আসি, কাঁদিতাঁকে ছাড়া আমার কোনো সুখ নেই

তারপর দাদা গল্প বলেনতোমার দাদি কেমন ছিলেনকত সুন্দর ছিলেন, কত মায়াময় ছিলেনতাঁর হাতের রান্না, তাঁর স্নেহের কথাসব মনে পড়ে

এরপর দাদা দেখান আরেকটি কবরতার ছেলের কবরতার ছেলে মারা গেছে অকালেবৃদ্ধ পিতার কাছে এই দুটি কবরস্ত্রীর কবরছেলের কবরতার জীবনের সব থেকে বড় শোক

কবিতার শেষে বৃদ্ধ দাদা তার নাতিকে বুকে জড়িয়ে ধরে বলেনতুমিই এখন আমার সবতোমাকে নিয়েই আমার বাকি জীবন

এই কবিতায় মৃত্যু, বিচ্ছেদ, স্মৃতি এবং পরিবারের প্রতি ভালোবাসা অত্যন্ত সংবেদনশীলতার সাথে উপস্থাপিত হয়েছেপাঠক পড়তে পড়তে নিজেই কান্নায় ভেঙে পড়েন

কবর কবিতায় ৩টি কবর: দাদির কবর + ছেলের কবর + ভবিষ্যতে দাদার কবর

এইখানে তোর দাদির কবর ডালিম গাছের তলে, / তিরিশ বছর ভিজায়ে রেখেছি দু'নয়নের জলে।”

এই কবরের পাশে বসিয়া একদিন / কাঁদিয়াছিনু আমি অঝোর নয়নে।”

কোথা গেল সে দিন, কোথা গেল সে কাল, / কোথা গেল সে মায়া, কোথা হলো হাল!”

কবর কবিতা পড়ানো হয় জসীমউদ্দীন এখনও ছাত্র থাকাকালীন — ১৯২৫ সালে

'কবর' কবিতার কেন্দ্রীয় চরিত্রবৃদ্ধ দাদাতার নাতি

প্রশ্ন: কবর কবিতায় কবরটি কার? বৃদ্ধ দাদার স্ত্রীর (দাদির) কবর

প্রশ্ন: কবর কবিতা কোন গাছের নিচে? ডালিম গাছের তলে

প্রশ্ন: কবর কবিতা রচনার সময় জসীমউদ্দীন কোথায় পড়তেন? কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ে (ছাত্রাবস্থায়)

প্রশ্ন: কবর কবিতা কার পাঠ্যপুস্তকে স্থান পায়? ড. দীনেশচন্দ্র সেনের সম্পাদিত পাঠ্যপুস্তকে

আসমানী [বিখ্যাত কবিতা]

সম্পূর্ণ কাহিনিভাবার্থ

'আসমানী' জসীমউদ্দীনের আরেকটি বিখ্যাত কবিতাআসমানী একটি দরিদ্র মেয়ের নামআসমান মানে আকাশআকাশের মতো স্বপ্নের মেয়ে আসমানী

কবিতায় আসমানী একটি অত্যন্ত দরিদ্র পরিবারের মেয়েতার ঘর নেই, ভালো কাপড় নেই, পেটভরে খাবার নেইতবু তার চোখে স্বপ্ন আছে, মুখে হাসি আছে

কবি আসমানীকে দেখেন ভাঙা ঘরের মধ্যে শুয়ে থাকতেবৃষ্টির রাতে ছাদ চুঁইয়ে পানি পড়ছে, কিন্তু আসমানী তবু ঘুমাচ্ছে নিশ্চিন্তেতার এই সারল্যঅজ্ঞতা কবিকে কাঁদায়

কবিতার শেষে কবি প্রশ্ন করেনআসমানী কি জানে সে কতটা দরিদ্র? সে কি জানে পৃথিবীতে আরও ভালো জীবন আছে? এই না-জানাটাই কি তার সুখ? এই দার্শনিক প্রশ্নে কবিতা শেষ হয়

আসমানীর বাপের ঘর, কান্দে আসমানী, / তার সে ঘরের ছাদ বেয়ে পড়ে বৃষ্টির পানি।”

পেটে নাই ভাত, গায়ে নাই কাপড়, / তবু সে হাসে, তবু সে জাগে আলোর মতো উজ্জ্বল।”

আসমানী = গ্রামীণ দরিদ্র মেয়ের সরলতাদারিদ্র্যের মর্মস্পর্শী চিত্র

পল্লী জননী [বিখ্যাত কবিতা]

সম্পূর্ণ কাহিনিভাবার্থ

'পল্লী জননী' একটি মায়ের কবিতাগ্রামের এক মা তার অসুস্থ শিশুকে নিয়ে রাত জাগছেনবাইরে ঝড়-বৃষ্টি, ঘরে অন্ধকারকোলের শিশু কাঁদছে

মা শিশুকে বুকে চাপ দিয়ে বসে আছেনঘরে ওষুধ নেই, ডাক্তার ডাকার পয়সা নেইশুধু আছে মায়ের দোয়াভালোবাসামা প্রার্থনা করছেনহে আল্লাহ, আমার শিশুকে ভালো করে দাও

কবিতায় মায়ের যন্ত্রণা, তার অসহায়ত্ব এবং শিশুর প্রতি অপরিসীম ভালোবাসা অত্যন্ত জীবন্তভাবে উপস্থাপিত হয়েছেপাঠক মায়ের সেই রাত-জাগানোর বেদনা নিজে অনুভব করতে পারেন

রাত নিশিতে ঝড় বৃষ্টিতে, কোলের ছেলে কাঁদে, / মা বসিয়া বুকে চাপিয়া দোলায় তারে কাঁদে।”

পল্লী জননী = গ্রামীণ মায়ের রাত-জাগাশিশুর প্রতি অসীম ভালোবাসার কবিতা

কুঁজো বুড়ির গল্প [শিশু-কিশোর কবিতা]

ভাবার্থ

একটি কুঁজো বুড়ির জীবনকাহিনিসমাজে যাকে কেউ পাত্তা দেয় না, যাকে সবাই উপেক্ষা করেসেই বুড়ির দৃষ্টি থেকে জীবনকে দেখাবুড়ির সংগ্রাম, তার স্বপ্নবাস্তবতার টানাপোড়েন

কবিতাটি শিশু-কিশোরদের জন্য লেখা হলেও এর মধ্যে গভীর সামাজিক বার্তা আছেসমাজের প্রান্তিক মানুষের প্রতি কবির সংবেদনশীলতা এখানে স্পষ্ট

মামার বাড়ি [বিখ্যাত শিশু কবিতা]

ভাবার্থ

'মামার বাড়ি' জসীমউদ্দীনের সবচেয়ে জনপ্রিয় শিশু-কবিতাএকটি ছেলে মামার বাড়ি যাবেএই আনন্দে সে নাচছে, গাইছে

মামার বাড়িতে কী কী আছেআম, কাঁঠাল, লিচু, পুকুরে মাছ ধরা, মামির হাতের রান্নাএই সব ভাবতে ভাবতে ছেলেটি পথ হাঁটেকবিতাটিতে শিশুর নির্মল আনন্দউত্তেজনা জীবন্তভাবে ধরা আছে

আমার মামার বাড়ি যাবো / নাইওর নিতে আইসে।”

মামার বাড়িবাংলার সবচেয়ে প্রিয় শিশু কবিতাগুলোর একটি

নাটক

বেদের মেয়ে (১৯৫১) — বিখ্যাত নাটক

পটভূমিগুরুত্ব

'বেদের মেয়ে' জসীমউদ্দীনের সবচেয়ে বিখ্যাত নাটক। ১৯৫১ সালে প্রকাশিতএই নাটকটি পরে চলচ্চিত্রেও রূপান্তরিত হয়েছে এবং বিশাল জনপ্রিয়তা পেয়েছে

সম্পূর্ণ কাহিনি

চাঁপাই একটি বেদে মেয়েবেদে পরিবার নৌকায় বাস করে, নদীতে ভেসে বেড়ায়চাঁপাই অত্যন্ত সুন্দরীসাহসীসাপের খেলা দেখিয়েওষুধ বিক্রি করে পরিবারের সাথে জীবিকা নির্বাহ করে

আলম একজন জমিদারের ছেলেসে গ্রামীণ রাজপুত্রের মতোসুন্দর, শিক্ষিত, কিন্তু একটু অহংকারীএকদিন নদীর ঘাটে চাঁপাইকে দেখে সে মুগ্ধ হয়ে যায়

দুজনের মধ্যে প্রেম শুরু হয়কিন্তু এই প্রেমে বাধা আসে শ্রেণিবৈষম্যের কারণেআলমের পরিবার মানতে নারাজএকটি বেদে মেয়ে তাদের বংশে আসবে? জমিদার পরিবার কি কখনো একটি যাযাবর মেয়েকে পুত্রবধূ করতে পারে?

চাঁপাই-এর পরিবারও প্রথমে রাজি ছিল নাকিন্তু চাঁপাই তার প্রেমের জন্য সব বাধা অতিক্রম করতে রাজি

নানা টানাপোড়েন, বাধা-বিপত্তি, ভুল-বোঝাবুঝি পার হয়ে শেষ পর্যন্ত দুজনের মিলন হয়শ্রেণিবৈষম্যের দেয়াল ভেঙে প্রেমের জয় হয়

বেদের মেয়ে = চাঁপাই (বেদে মেয়ে) + আলম (জমিদারপুত্র) — শ্রেণিবৈষম্যের বিরুদ্ধে প্রেমের জয়

'বেদের মেয়ে' পরে চলচ্চিত্রে রূপান্তরিত হয়ে বিশাল জনপ্রিয়তা পায়

প্রশ্ন: বেদের মেয়ে নাটকের কেন্দ্রীয় চরিত্র? চাঁপাই (বেদে মেয়ে) ও আলম (জমিদারপুত্র)

প্রশ্ন: বেদের মেয়ে প্রথম প্রকাশ? ১৯৫১ সালে

পদ্মাপার (১৯৫০) — নাটক

সম্পূর্ণ কাহিনি

'পদ্মাপার' পদ্মা নদীর পাড়ের মানুষদের জীবনকাহিনিপদ্মা কেবল নদী নয়সে একটি চরিত্রপ্রতি বছর ভাঙন দেয়, গ্রাম ডুবিয়ে দেয়, আবার নতুন চর জাগায়

নাটকে একটি পরিবারের গল্প আছে যারা পদ্মার পাড়ে বাস করেপ্রতি বছর বন্যায় তাদের বাড়ি ডুবে যায়, আবার নতুন করে গড়ে তোলেএই পরিবারের মধ্য দিয়ে ফরিদপুর অঞ্চলের পদ্মাপারের মানুষের সংগ্রাম তুলে ধরা হয়েছে

পদ্মার মতোই মানুষের জীবনকখনো ভরা যৌবন, কখনো শুকনোকখনো বন্যা, কখনো শান্তএই নিরন্তর পরিবর্তনের মাঝেই মানুষ বেঁচে থাকে

পদ্মাপার = পদ্মার পাড়ের মানুষের সংগ্রামজীবনকাহিনি

অন্যান্য নাটক

নাটকের নাম

প্রকাশকালবিষয়

গ্রামের মেয়ে

১৯৫৯ — গ্রামীণ নারীজীবনের নাটক

ওগো পুস্পধনু

১৯৬৮ — প্রেম বিষয়ক নাটক

মধুমালা

১৯৫১ — রূপকথার নাটক

গদ্য সাহিত্যলোকসাহিত্য গবেষণা

জসীমউদ্দীনের স্মৃতিকথাভ্রমণকাহিনি

যাদের দেখেছি (১৯৫১)

'যাদের দেখেছি' জসীমউদ্দীনের বিখ্যাত স্মৃতিকথাগ্রন্থএতে তিনি সেইসব মানুষদের কথা লিখেছেন যাদের তিনি জীবনে দেখেছেনরবীন্দ্রনাথ, নজরুল, বিভিন্ন সাহিত্যিকরাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব

রবীন্দ্রনাথের সাথে জসীমউদ্দীনের সাক্ষাতের বিবরণ এই বইয়ে আছেরবীন্দ্রনাথ তাঁর কবিতা পড়ে মুগ্ধ হয়েছিলেন এবং বলেছিলেন — 'এ কবি আমাদের আশা।'

রবীন্দ্রনাথ জসীমউদ্দীনকে 'আমাদের আশা' বলেছিলেন

ঠাকুর বাড়ির আঙিনায় (১৯৬১)

রবীন্দ্রনাথের ঠাকুর পরিবারের সাথে জসীমউদ্দীনের স্মৃতিকথাশান্তিনিকেতনে যাওয়ার অভিজ্ঞতা, রবীন্দ্রনাথের সাথে কথোপকথন, ঠাকুর পরিবারের অন্যান্য সদস্যদের কথা

যে দেশে মানুষ বড় (১৯৬৮) — ভ্রমণকাহিনি

ইউরোপ ভ্রমণের কাহিনিপাশ্চাত্য সভ্যতার সাথে পরিচয়, সেখানকার মানুষসংস্কৃতির বিবরণএকজন গ্রামের কবির চোখে আধুনিক ইউরোপ কেমন দেখায়সেই অভিজ্ঞতা

চলে মুসাফির (১৯৫২) — ভ্রমণকাহিনি

পাকিস্তান ভ্রমণের কাহিনিবিভাগ-উত্তর পাকিস্তানের বিভিন্ন অঞ্চলে ঘুরে বেড়ানোর অভিজ্ঞতা

লোকসাহিত্য গবেষণা

জসীমউদ্দীন শুধু কবি নন, একজন নিষ্ঠাবান লোকসাহিত্য গবেষকও। ড. দীনেশচন্দ্র সেনের সহকারী হিসেবে বাংলার গ্রামে গ্রামে ঘুরে পল্লীগীতিলোকগল্প সংগ্রহ করেছেন

'বাংলাদেশের হাসির গল্প' — লোকগল্প সংকলন

'বাংলাদেশের পল্লীগীতি' — লোকগান সংকলন

'জারি গান' — বাংলার জারি গানের সংকলনগবেষণা

মুর্শিদী, ভাটিয়ালিবাউল গানের সংগ্রহগবেষণা

জসীমউদ্দীন বাংলার লোকসাহিত্য সংগ্রহগবেষণায় অতুলনীয় অবদান রেখেছেন

পল্লীগীতিজসীমউদ্দীনের গান

জসীমউদ্দীনের গানতাঁর বৈশিষ্ট্য

জসীমউদ্দীন শুধু কবিতা লেখেননি, গানও লিখেছেনতাঁর গানে পল্লীগীতির ঢং আছেভাটিয়ালি, মুর্শিদী, বাউল সুরের প্রভাব

আমার সোনার ময়না পাখি [বিখ্যাত গান]

গানের পূর্ণ ভাবার্থ

এই গানটি বাংলাদেশের অন্যতম জনপ্রিয় পল্লীগীতি। 'সোনার ময়না পাখি' — এটি প্রিয়তমার রূপককবি তাঁর প্রিয়তমাকে সোনার ময়না পাখির সাথে তুলনা করেছেন

গানে বলা হচ্ছেহে সোনার ময়না পাখি, তুমি কোথায় আছ? তোমার ডাক শুনতে পাচ্ছি নাতোমার বিরহে আমার মন উদাসপ্রেমের বিরহবিচ্ছেদের বেদনা এই গানের মূল বিষয়

আমার সোনার ময়না পাখি, কোথায় গেলি উড়ে, / তোরে খুঁজি আমি দেশ বিদেশ, ঘুরি ঘুরে ঘুরে।”

বাজাও বাজাও প্রেমের বাঁশি [বিখ্যাত গান]

গানের পূর্ণ ভাবার্থ

এই গানে প্রেমের আহ্বান আছেবাঁশির সুর হলো প্রেমের সুরযে সুর শুনলে মন উদাস হয়, চোখে জল আসেকবি বলছেনবাজাও সেই বাঁশি, আসুক প্রেম, আসুক ভালোবাসা

জারি গানমুর্শিদী

জসীমউদ্দীন কর্তৃক সংগ্রহিতলেখা জারি গানমুর্শিদী বাংলার লোকসংগীতের গুরুত্বপূর্ণ অংশজারি গান সাধারণত কারবালার শোকগাথা নিয়েইমাম হুসেনের শাহাদতের স্মরণেমুর্শিদী হলো মুর্শিদ বা গুরুর প্রতি ভক্তিগীত

জসীমউদ্দীন বাংলার লোকগান সংরক্ষণে অতুলনীয় ভূমিকা রেখেছেন

পুরস্কারআন্তর্জাতিক স্বীকৃতি

পুরস্কার / সম্মান

বিশেষ তথ্য

প্রেসিডেন্ট পুরস্কার

১৯৫৮ — পাকিস্তান সরকার প্রদত্ত

বাংলা একাডেমি পুরস্কার

১৯৬০

একুশে পদক

১৯৭৬ — বাংলাদেশ সরকারের সর্বোচ্চ পুরস্কার

রবীন্দ্র পুরস্কার

পশ্চিমবঙ্গ সরকার প্রদত্ত

মুক্তধারা পুরস্কার

কলকাতা থেকে প্রদত্ত

সোভিয়েত ল্যান্ড নেহেরু পুরস্কার

আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি

রবীন্দ্রনাথের প্রশংসা

রবীন্দ্রনাথ জসীমউদ্দীনকে 'আমাদের আশা' বলেছিলেন

আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি

জসীমউদ্দীনের 'নকশীকাঁথার মাঠ' ইংরেজি, উর্দু, হিন্দি সহ বিভিন্ন ভাষায় অনূদিত হয়েছেইংরেজিতে অনূদিত হয়েছে 'Field of the Embroidered Quilt' নামেতাঁর কবিতা পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে পঠিতপ্রশংসিত

নকশীকাঁথার মাঠের ইংরেজি অনুবাদ — 'Field of the Embroidered Quilt'।

কাব্যশৈলীর বৈশিষ্ট্য

জসীমউদ্দীনের সাহিত্যের বিশেষ বৈশিষ্ট্য

জসীমউদ্দীনের কবিতার সবচেয়ে বড় বৈশিষ্ট্য হলো তাঁর পল্লিগ্রামের প্রতি গভীর ভালোবাসানগরজীবনের কোনো ছোঁয়া নেই তাঁর কবিতায়তিনি একেবারে গ্রামের মাটির কবি

দ্বিতীয় বৈশিষ্ট্য হলো কাহিনিকবিতা বা narrative poetry। তাঁর কবিতায় গল্প আছেশুরু আছে, মাঝ আছে, শেষ আছেএই বৈশিষ্ট্যই তাঁকে রবীন্দ্রনাথনজরুল থেকে আলাদা করে

তৃতীয় বৈশিষ্ট্য হলো সরল ভাষাজসীমউদ্দীনের কবিতা পড়তে শিক্ষিত হওয়া লাগে নাগ্রামের অশিক্ষিত মানুষও পড়তে বোঝেএই সার্বজনীনতাই তাঁর সবচেয়ে বড় শক্তি

চতুর্থ বৈশিষ্ট্য হলো গ্রামীণ নারীর প্রতি সংবেদনশীলতাতাঁর কবিতায় নারী শুধু প্রেমের পাত্রী নয়সে একজন সংগ্রামী মানুষ, একজন মা, একজন কন্যা

পঞ্চম বৈশিষ্ট্য হলো লোকজ উপাদানের ব্যবহারভাটিয়ালি, মুর্শিদী, জারির সুর তাঁর কবিতায় মিশে আছেপল্লীগীতির মেজাজ তাঁর কবিতাকে সংগীতময় করে তুলেছে

পল্লীজীবনের অপার ভালোবাসা

কাহিনিকবিতা (Narrative Poetry) রচনায় দক্ষতা

সহজ, সরলকথ্য ভাষার ব্যবহার

গ্রামীণ নারীজীবনের প্রতি সংবেদনশীলতা

লোকজ সুরসংগীতের প্রভাব

প্রকৃতিকে মানবজীবনের রূপক হিসেবে ব্যবহার

হিন্দু-মুসলিম সম্প্রীতির বার্তা

প্রশ্নোত্তর

প্রশ্ন: জসীমউদ্দীনের পূর্ণ নাম?

মোহাম্মদ জসীমউদ্দীন মোল্লা

প্রশ্ন: জসীমউদ্দীনের জন্মতারিখ?

জানুয়ারি ১৯০৩

প্রশ্ন: জসীমউদ্দীনের জন্মস্থান?

তাম্বুলখানা গ্রাম, ফরিদপুর

প্রশ্ন: জসীমউদ্দীনের মৃত্যুতারিখ?

১৩ মার্চ ১৯৭৬

প্রশ্ন: জসীমউদ্দীনের উপাধি কী?

পল্লিকবি

প্রশ্ন: জসীমউদ্দীনের প্রথম কাব্যগ্রন্থ?

রাখালী (১৯২৭)

প্রশ্ন: নকশীকাঁথার মাঠ প্রথম প্রকাশ?

১৯২৯ সালে

প্রশ্ন: নকশীকাঁথার মাঠের কেন্দ্রীয় চরিত্র?

রুপাইসাজু

প্রশ্ন: সোজন বাদিয়ার ঘাটের প্রকাশকাল?

১৯৩৩ সালে

প্রশ্ন: সোজনদুলির ধর্ম?

সোজন = মুসলিম, দুলি = হিন্দু

প্রশ্ন: 'কবর' কবিতা কোথায় আছে?

রাখালী কাব্যগ্রন্থে

প্রশ্ন: 'কবর' কবিতায় কবর কার?

বৃদ্ধ দাদার স্ত্রীর (দাদির)

প্রশ্ন: 'কবর' কবিতায় গাছটির নাম?

ডালিম গাছ

প্রশ্ন: 'কবর' পাঠ্যপুস্তকে রাখেন কে?

ড. দীনেশচন্দ্র সেন

প্রশ্ন: জসীমউদ্দীন কখন 'কবর' লেখেন?

১৯২৫ সালেছাত্রাবস্থায়

প্রশ্ন: নকশীকাঁথার মাঠের ইংরেজি নাম?

Field of the Embroidered Quilt

প্রশ্ন: বেদের মেয়ে নাটকের প্রকাশকাল?

১৯৫১ সালে

প্রশ্ন: বেদের মেয়ে নাটকের কেন্দ্রীয় চরিত্র?

চাঁপাই (বেদে মেয়ে) ও আলম (জমিদারপুত্র)

প্রশ্ন: জসীমউদ্দীন কোথায় অধ্যাপনা করেন?

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, বাংলা বিভাগ

প্রশ্ন: জসীমউদ্দীনের এমএ ডিগ্রি কোথা থেকে?

কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় (১৯২৯)

প্রশ্ন: রবীন্দ্রনাথ জসীমউদ্দীনকে কী বলেছিলেন?

'আমাদের আশা'

প্রশ্ন: জসীমউদ্দীনের বিখ্যাত স্মৃতিকথাগ্রন্থ?

যাদের দেখেছি (১৯৫১)

প্রশ্ন: জসীমউদ্দীনের বাংলা একাডেমি পুরস্কার?

১৯৬০ সালে

প্রশ্ন: জসীমউদ্দীনের একুশে পদক?

১৯৭৬ সালে

প্রশ্ন: জসীমউদ্দীনের স্ত্রীর নাম?

মমতাজ বেগম

প্রশ্ন: জসীমউদ্দীনের শিক্ষক ছিলেন কে?

ড. দীনেশচন্দ্র সেন

প্রশ্ন: পল্লী জননী কবিতায় কার কথা?

রাত জাগা গ্রামীণ মায়ের কথা

প্রশ্ন: 'আসমানী' কবিতার বিষয়?

দরিদ্র গ্রামীণ মেয়ের জীবন

প্রশ্ন: জসীমউদ্দীন কোন লোকসাহিত্য সংগ্রহ করেছেন?

পল্লীগীতি, জারি গান, মুর্শিদী

প্রশ্ন: জসীমউদ্দীন কার সহকারী ছিলেন?

ড. দীনেশচন্দ্র সেনের গবেষণা সহকারী

ট্রিকিঅজানা তথ্য

জসীমউদ্দীনের পূর্ণ নাম 'মোহাম্মদ জসীমউদ্দীন মোল্লা' — শুধু 'জসীমউদ্দীন' নয়

'কবর' কবিতা রচনার সময় জসীমউদ্দীন কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রপরীক্ষার আগেই পাঠ্যবই!

নকশীকাঁথার মাঠের কেন্দ্রীয় চরিত্র রুপাইসাজুসোজনদুলি নয় (ওটা সোজন বাদিয়ার ঘাটে)।

সোজন = মুসলিম বেদে, দুলি = হিন্দু মেয়েধর্মীয় বিভেদে প্রেম বিফল

নকশীকাঁথার মাঠের ইংরেজি নাম 'Field of the Embroidered Quilt'।

জসীমউদ্দীনের প্রথম কাব্যগ্রন্থ 'রাখালী' (১৯২৭) — 'নকশীকাঁথার মাঠ' নয়

রবীন্দ্রনাথ জসীমউদ্দীনকে 'আমাদের আশা' বলেছিলেন

বেদের মেয়ে = চাঁপাই (বেদে মেয়ে) + আলমশ্রেণিবৈষম্যের বিরুদ্ধে প্রেম

জসীমউদ্দীন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগে দীর্ঘদিন অধ্যাপনা করেছেন

জসীমউদ্দীনের কবরস্থান ফরিদপুরেঢাকায় নয়

'কবর' কবিতায় কবর ডালিম গাছের তলেকোনো ফুল গাছের তলে নয়

জসীমউদ্দীনের একুশে পদক মৃত্যুর বছরেই পান — ১৯৭৬।

জসীমউদ্দীনের শিক্ষক ড. দীনেশচন্দ্র সেনএঁর অধীনেই পল্লীগীতি সংগ্রহ করেন

জসীমউদ্দীন বাউল, ভাটিয়ালি, মুর্শিদীজারি গান সংগ্রহগবেষণা করেছেন

'আসমানী' কবিতা শিশু-কিশোর পাঠ্যক্রমে পড়ানো হয়কিন্তু এটি আসলে দারিদ্র্যের গুরুগম্ভীর চিত্র

চূড়ান্ত সারসংক্ষেপ

বিষয়

উত্তর

পূর্ণ নাম

মোহাম্মদ জসীমউদ্দীন মোল্লা

জন্ম

জানুয়ারি ১৯০৩, তাম্বুলখানা, ফরিদপুর

মৃত্যু

১৩ মার্চ ১৯৭৬, ঢাকা

উপাধি

পল্লিকবি

প্রথম কাব্যগ্রন্থ

রাখালী (১৯২৭)

শ্রেষ্ঠ কাব্যকাহিনি

নকশীকাঁথার মাঠ (১৯২৯) — রুপাইসাজু

দ্বিতীয় বিখ্যাত কাব্য

সোজন বাদিয়ার ঘাট (১৯৩৩) — সোজনদুলি

বিখ্যাত কবিতা

কবর, আসমানী, পল্লী জননী, মামার বাড়ি

বিখ্যাত নাটক

বেদের মেয়ে (১৯৫১)

বিখ্যাত স্মৃতিকথা

যাদের দেখেছি (১৯৫১)

বাংলা একাডেমি

১৯৬০ সালে

একুশে পদক

১৯৭৬ সালে (মৃত্যুর বছর)

শিক্ষক

ড. দীনেশচন্দ্র সেন

রবীন্দ্রনাথের মন্তব্য

'আমাদের আশা'

ইংরেজি অনুবাদ

Field of the Embroidered Quilt

কর্মস্থান

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, বাংলা বিভাগ

কবরস্থান

ফরিদপুর (নিজ জেলায়)

শুভকামনা!

Review this chapter

You Can Also Read

Chapters closely related to the one you are reading now.

জহির রায়হান

No reviews
0 students
Read chapter

গল্পগ্রন্থ

No reviews
0 students
Read chapter

জীবনানন্দ দাশ

No reviews
0 students
Read chapter

কাব্যগ্রন্থ

No reviews
0 students
Read chapter

জীবনী সাহিত্য

No reviews
0 students
Read chapter

Most Read by Students

Popular picks getting the strongest student traffic right now.

অসহযোগ আন্দোলন (মার্চ ১৯৭১)

No reviews
1 student
Read chapter

নদী, সেতু, পাহাড়, দ্বীপ, বন, সমুদ্রবন্দর

No reviews
1 student
Read chapter

বাংলা ভাষার রীতি

No reviews
1 student
Read chapter

Others Who Read This Also Read

Behavior-based suggestions from student reading patterns where available.

জহির রায়হান

No reviews
0 students
Read chapter

গল্পগ্রন্থ

No reviews
0 students
Read chapter

জীবনানন্দ দাশ

No reviews
0 students
Read chapter

কাব্যগ্রন্থ

No reviews
0 students
Read chapter

জীবনী সাহিত্য

No reviews
0 students
Read chapter

Best Reviewed

Chapters earning the strongest student feedback.

জহির রায়হান

No reviews
0 students
Read chapter

গল্পগ্রন্থ

No reviews
0 students
Read chapter

জীবনানন্দ দাশ

No reviews
0 students
Read chapter

কাব্যগ্রন্থ

No reviews
0 students
Read chapter

জীবনী সাহিত্য

No reviews
0 students
Read chapter

Course Suggestions

Want a more guided path after this chapter? These courses are the closest fit.

Browse all courses
Learner fit৳1,999

Bangla

Bangla Language Mastery

Popular with BCS learners who want guided study.

6 lessons8.5h4.9 (186)1.3K students

By Sadia Rahman

View course
Learner fit৳2,999

Platform Building

Teacher Marketplace Blueprint

Popular with BCS learners who want guided study.

5 lessons6.8h4.9 (28)410 students

By Sadia Rahman

View course
FreeFree

English

Admission English Playbook

Free guided course with lessons you can jump into anytime.

4 lessons4.2h4.8 (91)2.8K students

By Rayan Akter

View course