জহির রায়হান

Chapter Activity

Rating
New / 5
Reviews
0
Read Sessions
0
Readers
0

বাংলা সাহিত্য

জহির রায়হান

ঔপন্যাসিক | চলচ্চিত্রকার | মুক্তিযুদ্ধের সৈনিক | অমর শহিদ

জীবন পরিচয়পটভূমি

জন্মশৈশব

১৯৩৫ সালের ১৯ আগস্ট ফেনী জেলার মজুপুর গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন জহির রায়হানতাঁর প্রকৃত নাম আবু আবদার মোহাম্মদ জহিরুল্লাহসাহিত্যচলচ্চিত্র জগতে তিনি 'জহির রায়হান' নামেই পরিচিত

তাঁর পিতার নাম মোহাম্মদ হাবিবুল্লাহ এবং মাতার নাম সৈয়দা সুফিয়া খাতুনপরিবার ছিল শিক্ষিত মধ্যবিত্তবড় ভাই শহীদুল্লাহ কায়সারযিনি নিজেও একজন বিখ্যাত ঔপন্যাসিকসাংবাদিক

শৈশব কেটেছে ফেনীর গ্রামে, পরে কলকাতায় কিছুকাল থেকে ঢাকায় চলে আসেনমুক্তিযুদ্ধের আগ পর্যন্ত ঢাকাই ছিল তাঁর কর্মক্ষেত্র

জহির রায়হানের প্রকৃত নামআবু আবদার মোহাম্মদ জহিরুল্লাহ

বড় ভাইশহীদুল্লাহ কায়সার (বিখ্যাত ঔপন্যাসিকবুদ্ধিজীবী)।

শিক্ষাজীবনসাহিত্যচর্চার শুরু

ঢাকায় এসে আবেদিন হাইস্কুল থেকে ম্যাট্রিক পাস করেনএরপর ঢাকা কলেজ থেকে আইএ পাস করেনঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগ থেকে বিএ পাস করেন ১৯৫৮ সালে

ছাত্রাবস্থায়ই সাহিত্যচর্চা শুরু করেন। ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলনে সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করেনতখন তাঁর বয়স মাত্র ১৭ বছরএই আন্দোলনের অভিজ্ঞতা পরবর্তীতে তাঁর বিখ্যাত উপন্যাস 'আরেক ফাল্গুন'-এর ভিত্তি হয়ে ওঠে

জহির রায়হান ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলনে সরাসরি অংশগ্রহণ করেছিলেনতখন বয়স মাত্র ১৭!

সাংবাদিকতাচলচ্চিত্রজীবন

পেশা হিসেবে জহির রায়হান বেছে নেন সাংবাদিকতা। 'প্রবাহ', 'চিত্রালী', 'সিনেমা', 'যুগান্তর' সহ বিভিন্ন পত্রিকায় কাজ করেছেনচলচ্চিত্র সাংবাদিকতায় বিশেষ আগ্রহ ছিল তাঁর

ষাটের দশকে বাংলাদেশের চলচ্চিত্র শিল্পে তিনি একজন অগ্রদূত হিসেবে আবির্ভূত হনবহুভাষিক চলচ্চিত্র নির্মাতা হিসেবে তিনি বাংলা, উর্দুইংরেজি ভাষায় চলচ্চিত্র নির্মাণ করেছেন

১৯৬৪ সালে নির্মাণ করেন বাংলাদেশের প্রথম রঙিন চলচ্চিত্র 'সঙ্গম'। ১৯৭০ সালে নির্মাণ করেন 'জীবন থেকে নেওয়া' — যা মুক্তিযুদ্ধের আগে মুক্তিযুদ্ধের চেতনাকে জাগ্রত করা চলচ্চিত্র হিসেবে বিখ্যাত

বাংলাদেশের প্রথম রঙিন চলচ্চিত্র 'সঙ্গম' — নির্মাতা জহির রায়হান (১৯৬৪)।

ব্যক্তিজীবন

জহির রায়হানের প্রথম স্ত্রী সুমিতা দেবীএকজন অভিনেত্রীদ্বিতীয় স্ত্রী সুচন্দাবাংলাদেশের বিখ্যাত চলচ্চিত্র অভিনেত্রীসুচন্দার সাথে তাঁর বিবাহ হয় ১৯৬৭ সালে

মুক্তিযুদ্ধনিখোঁজ হওয়া

১৯৭১ সালের ২৫ মার্চ পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর গণহত্যার পর জহির রায়হান ঢাকা ছেড়ে কলকাতায় চলে যানসেখানে গিয়ে মুক্তিযুদ্ধের পক্ষে চলচ্চিত্র নির্মাণ শুরু করেন

কলকাতায় থাকাকালীন তিনি নির্মাণ করেন ঐতিহাসিক প্রামাণ্যচিত্র 'Stop Genocide' (১৯৭১)। এটি পাকিস্তানি বাহিনীর গণহত্যার দলিলযা বিশ্বের দরবারে বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের সত্য তুলে ধরে

দেশ স্বাধীন হওয়ার পর ১৯৭২ সালের ৩০ জানুয়ারি জহির রায়হান তাঁর বড় ভাই শহীদুল্লাহ কায়সারকে খুঁজতে মিরপুর যানপাকিস্তানি সহযোগীরা সেখানে অনেক বুদ্ধিজীবীকে হত্যা করে রেখেছিলমিরপুর যাওয়ার পর জহির রায়হান আর ফিরে আসেননিতাঁকে কোথাও খুঁজে পাওয়া যায়নি

ধারণা করা হয় পাকিস্তানি দোসররাজাকাররা তাঁকে হত্যা করে গুম করে দেয়বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের সবচেয়ে মর্মান্তিক শোকের একটিজহির রায়হানের নিখোঁজ হয়ে যাওয়া

জহির রায়হান ১৯৭২ সালের ৩০ জানুয়ারি মিরপুরে নিখোঁজ হনআর ফেরেননি

জহির রায়হানের বড় ভাই শহীদুল্লাহ কায়সারতাঁকে খুঁজতে গিয়েই জহির নিখোঁজ হন!

বিষয়

তথ্য

প্রকৃত নাম

আবু আবদার মোহাম্মদ জহিরুল্লাহ

জন্ম

১৯ আগস্ট ১৯৩৫

জন্মস্থান

মজুপুর গ্রাম, ফেনী জেলা

নিখোঁজ

৩০ জানুয়ারি ১৯৭২, মিরপুর, ঢাকা

পিতা

মোহাম্মদ হাবিবুল্লাহ

মাতা

সৈয়দা সুফিয়া খাতুন

বড় ভাই

শহীদুল্লাহ কায়সার (ঔপন্যাসিকবুদ্ধিজীবী)

প্রথম স্ত্রী

সুমিতা দেবী (অভিনেত্রী)

দ্বিতীয় স্ত্রী

সুচন্দা (অভিনেত্রী, বিবাহ ১৯৬৭)

শিক্ষা

বিএ, বাংলা, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় (১৯৫৮)

পেশা

ঔপন্যাসিক, গল্পকার, চলচ্চিত্রকার, সাংবাদিক

বিখ্যাত উপন্যাস

হাজার বছর ধরে, আরেক ফাল্গুন

বিখ্যাত চলচ্চিত্র

জীবন থেকে নেওয়া, Stop Genocide

পুরস্কার

একুশে পদক (১৯৭৭, মরণোত্তর), স্বাধীনতা পদক (১৯৭৭, মরণোত্তর)

উপন্যাস

হাজার বছর ধরে (১৯৬৪) — শ্রেষ্ঠ উপন্যাস

পটভূমিঐতিহাসিক গুরুত্ব

'হাজার বছর ধরে' জহির রায়হানের সর্বশ্রেষ্ঠ রচনা এবং বাংলাদেশের উপন্যাস সাহিত্যের অন্যতম মাইলফলক। ১৯৬৪ সালে প্রকাশিত এই উপন্যাসটি বাংলাদেশের গ্রামীণ জীবনের এক অসাধারণ দলিল

উপন্যাসের পটভূমি বৃহত্তর ফরিদপুর অঞ্চলের একটি গ্রামপদ্মা নদীর পাড়ের সেই গ্রামের মানুষযারা হাজার বছর ধরে এই মাটিতে বাস করছে, হাজার বছর ধরে একই জীবনযাপন করছে, হাজার বছর ধরে একই কষ্ট বহন করছে

সম্পূর্ণ কাহিনি

মকবুল একজন তরুণ কৃষকসে বাংলার মাটিতে জন্মেছে, মাটিতে বড় হয়েছে, মাটিতেই তার জীবনগ্রামের একটি মেয়ে টুনিকে সে ভালোবাসেটুনিও মকবুলকে ভালোবাসে

কিন্তু এই প্রেম পথ পায় নাসামাজিক বাধা, আর্থিক বৈষম্য, পারিবারিক চাপসবকিছু মিলিয়ে তাদের প্রেম থেমে যায়টুনির বিবাহ হয়ে যায় অন্যত্র

মকবুলের জীবনে আসে আরেকটি নারীরাহেলারাহেলার সাথে মকবুলের সম্পর্ক গড়ে ওঠে, কিন্তু সেখানেও সুখ নেইদারিদ্র্য, অজ্ঞানতা, কুসংস্কারএই তিন শত্রু তাদের জীবনকে নরক করে দেয়

গ্রামে আরও অনেক চরিত্র আছেজমিদার, মহাজন, মোড়ল, মসজিদের মৌলভিপ্রত্যেকেই সাধারণ মানুষের জীবনকে আরও কঠিন করে তোলেশোষণবঞ্চনার এই ব্যবস্থাটি হাজার বছর ধরে চলে আসছে

উপন্যাসে গ্রামীণ সমাজের সব স্তর উঠে আসেহিন্দু-মুসলমান উভয় সম্প্রদায়ের মানুষ পাশাপাশি বাস করে, কিন্তু তাদের জীবনে মিলঅমিল দুটোই আছেনদীভাঙন, বন্যা, দুর্ভিক্ষপ্রকৃতির সাথে সংগ্রাম চলছে

উপন্যাসের নামটি বিশেষভাবে তাৎপর্যপূর্ণ — 'হাজার বছর ধরে'। এই মানুষগুলো হাজার বছর ধরে এই একই মাটিতে বাস করছে, হাজার বছর ধরে একই কষ্ট সহ্য করছেতাদের জীবন বদলায় নাশুধু প্রজন্মের পর প্রজন্ম এই কষ্টের ধারা বহন করে চলেছে

শেষ পর্যন্ত মকবুলের জীবনে কোনো পরিবর্তন আসে নাসে যেখানে ছিল, সেখানেই থাকেএই অপরিবর্তনীয়তাই উপন্যাসের সবচেয়ে বড় বার্তাপরিবর্তন না আনলে হাজার বছর পরেও এই অবস্থা একই থাকবে

হাজার বছর ধরে = মকবুল + টুনি + রাহেলামূলভাব = গ্রামীণ শোষণবঞ্চনার হাজার বছরের ইতিহাস

এই মাটিতে জন্ম, এই মাটিতে মৃত্যুহাজার বছর ধরে একই কাহিনি।”

পরিবর্তন না এলে হাজার বছর পরেও এই অবস্থা একই থাকবে।”

হাজার বছর ধরেজহির রায়হানের প্রথমশ্রেষ্ঠ উপন্যাস (১৯৬৪)।

এই উপন্যাস পরে চলচ্চিত্রেও রূপান্তরিত হয়

প্রশ্ন: হাজার বছর ধরের কেন্দ্রীয় চরিত্র? মকবুল (কৃষক), টুনিরাহেলা

প্রশ্ন: হাজার বছর ধরের প্রকাশকাল? ১৯৬৪ সালে

প্রশ্ন: হাজার বছর ধরের পটভূমি? পদ্মা নদীর তীরের গ্রামীণ বাংলা

আরেক ফাল্গুন (১৯৬৯) — ভাষা আন্দোলনের উপন্যাস

পটভূমিগুরুত্ব

'আরেক ফাল্গুন' ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলনের উপর রচিত বাংলাদেশের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ উপন্যাসগুলোর একটি। ১৯৬৯ সালে প্রকাশিতনামটিই ইঙ্গিতপূর্ণ — 'আরেক ফাল্গুন' মানে আরেকটি ফাল্গুন মাস আসুক, আরেকটি বিপ্লব আসুক

ফাল্গুন মাসেই ১৯৫২ সালের ২১ ফেব্রুয়ারি ভাষার জন্য প্রাণ দিয়েছিলেন সালাম, বরকত, রফিক, শফিকজব্বারসেই ফাল্গুনের স্মৃতি এবং আরেকটি ফাল্গুনের প্রত্যাশাএই দুটি অনুভূতি মিলিয়েই উপন্যাসের নাম

সম্পূর্ণ কাহিনি

কেন্দ্রীয় চরিত্র সালমাএকজন তরুণী ছাত্রী। ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলনের সময় সে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রীতার মনে আছে দেশপ্রেম, মাতৃভাষার প্রতি ভালোবাসা

সালমার সাথে আছে বেশ কয়েকজন তরুণআনোয়ার তাদের মধ্যে অন্যতমদেশপ্রেমিক, সাহসী তরুণসে ভাষা আন্দোলনে নেতৃস্থানীয় ভূমিকা পালন করে

১৯৫২ সালের ২১ ফেব্রুয়ারির দিনটির বিবরণ এই উপন্যাসে জীবন্তভাবে উঠে এসেছেপুলিশের গুলি, ছাত্রদের বুক পেতে দেওয়া, শহীদদের রক্তে ভেজা রাস্তাএই সব দৃশ্য পাঠকের চোখের সামনে দেখা যায়

সালমা দেখে তার বন্ধু শহীদ হয়েছেসে দেখে রাস্তায় রক্তকিন্তু শোকে ভেঙে না পড়ে সে আরও শক্ত হয়ে ওঠেসে বুঝতে পারেএই আন্দোলন শেষ হয়নি, এটি কেবল শুরু

উপন্যাসের শেষে সালমা এবং আনোয়ার বুঝতে পারেএই ফাল্গুনে শহীদরা যে স্বপ্ন দেখেছিল, সেই স্বপ্ন পূরণ করতে হলে আরও অনেক ফাল্গুন পার করতে হবে। 'আরেক ফাল্গুন' আসবেআরও বড় বিজয় আসবে

আরেক ফাল্গুন = ১৯৫২-এর ভাষা আন্দোলনের প্রেক্ষাপটে রচিতসালমাআনোয়ার কেন্দ্রীয় চরিত্র

একটি ফাল্গুন গেছে, আরেকটি ফাল্গুন আসবেএই প্রতিজ্ঞা বুকে নিয়ে বাঁচতে হবে।”

আরেক ফাল্গুন = ভাষা আন্দোলনের উপন্যাসকেন্দ্রীয় চরিত্র = সালমাআনোয়ার

প্রশ্ন: আরেক ফাল্গুনের কেন্দ্রীয় চরিত্র? সালমা (ছাত্রী) ও আনোয়ার

প্রশ্ন: আরেক ফাল্গুনের বিষয়বস্তু? ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলন

প্রশ্ন: আরেক ফাল্গুনের প্রকাশকাল? ১৯৬৯ সালে

বরফ গলা নদী (১৯৬৯)

সম্পূর্ণ কাহিনি

'বরফ গলা নদী' — বরফ যেমন জমে থাকে এবং একদিন গলে নদী হয়ে বয়, তেমনি মানুষের মনেও জমে থাকা ক্ষোভ, বেদনা একদিন প্রবল বেগে বেরিয়ে আসে

উপন্যাসের কেন্দ্রে আছে শহরের মধ্যবিত্ত জীবনকলকারখানার শ্রমিক, ছোট চাকুরিজীবী, গৃহিণীএই সব মানুষের জীবনতাদের স্বপ্ন আছে, কিন্তু সেই স্বপ্ন পূরণের সুযোগ নেই

কাহিনির কেন্দ্রে এক মধ্যবিত্ত পরিবারস্বামী একজন ছোট চাকুরে, স্ত্রী গৃহিণীসংসারে টানাটানি, কিন্তু দুজনের মধ্যে গভীর ভালোবাসা আছেএই ভালোবাসাই তাদের বাঁচিয়ে রাখে

কিন্তু বাইরের পৃথিবী নির্মমঅফিসে বস নিষ্ঠুর, পাড়ায় অশান্তি, রাজনৈতিক অস্থিরতাধীরে ধীরে চরিত্রগুলোর ভেতরে জমে থাকা বরফ গলতে শুরু করেতারা প্রতিবাদী হয়ে ওঠে

বরফ গলা নদী = মধ্যবিত্ত জীবনের সংগ্রামভেতরে জমে থাকা ক্ষোভের বিস্ফোরণ

শেষ বিকেলের মেয়ে (১৯৬০) — প্রথম উপন্যাস

সম্পূর্ণ কাহিনি

'শেষ বিকেলের মেয়ে' জহির রায়হানের প্রথম উপন্যাস। ১৯৬০ সালে প্রকাশিতশিরোনামটি রোমান্টিকবিকেলের শেষ আলোয় দাঁড়িয়ে থাকা একটি মেয়ের ছবি

উপন্যাসের কেন্দ্রে একটি প্রেমের গল্পএকজন তরুণ এবং একটি মেয়েদুজন দুজনকে ভালোবাসেকিন্তু সমাজের বিধিনিষেধ, পারিবারিক বাধা এবং নিজেদের সিদ্ধান্তহীনতা তাদের মিলতে দেয় না

উপন্যাসে শহুরে মধ্যবিত্ত জীবনের ছবি আছেষাটের দশকের ঢাকার পরিবেশবিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যাম্পাস, চা-এর দোকান, রিকশায় ঘোরা, সন্ধ্যার আড্ডাএই সব অনুষঙ্গ উপন্যাসটিকে তার সময়ের দলিলে পরিণত করেছে

শেষ বিকেলের মেয়েজহির রায়হানের প্রথম উপন্যাস (১৯৬০)।

প্রশ্ন: জহির রায়হানের প্রথম উপন্যাস? শেষ বিকেলের মেয়ে (১৯৬০)

আর কতদিন (১৯৭০)

সম্পূর্ণ কাহিনি

'আর কতদিন' — এই প্রশ্নটিই উপন্যাসের মূল সুরআর কতদিন এই অবিচার চলবে? আর কতদিন মানুষ এই শোষণ মেনে নেবে?

১৯৭০ সালে প্রকাশিত এই উপন্যাস মুক্তিযুদ্ধের ঠিক আগের রাজনৈতিক পরিস্থিতিকে ধারণ করেপশ্চিম পাকিস্তানের শাসকগোষ্ঠীর শোষণ, বাংলাদেশের মানুষের ক্রমবর্ধমান ক্ষোভ, স্বাধীনতার দিকে এগিয়ে যাওয়াএই সব উপন্যাসের পটভূমি

কেন্দ্রীয় চরিত্র একজন তরুণ যে রাজনৈতিকভাবে সচেতনসে দেখছে তার চারপাশে অবিচার, শোষণ, বৈষম্যসে প্রশ্ন করছেআর কতদিন? কখন এই অবস্থার পরিবর্তন হবে?

আর কতদিন = মুক্তিযুদ্ধের প্রাক্কালের রাজনৈতিক উপন্যাস

তৃষ্ণা (১৯৬২)

সম্পূর্ণ কাহিনি

'তৃষ্ণা' মানে পিপাসাকিছু পাওয়ার তীব্র আকাঙ্ক্ষাকিন্তু কী পাওয়ার তৃষ্ণা? প্রেমের তৃষ্ণা, স্বীকৃতির তৃষ্ণা, জীবনের অর্থ খোঁজার তৃষ্ণা

উপন্যাসে এক তরুণীর গল্প আছে যে জীবনে সুখ খুঁজছেসে বিবাহিত, কিন্তু স্বামীর সাথে মানসিক সম্পর্ক নেইঅন্য একজনের প্রতি তার টান আছেকিন্তু সমাজের নিয়মের কারণে সে সেই টানকে দমন করে

তৃষ্ণার শেষ পর্যন্ত কোনো সমাধান হয় নাতৃষ্ণা থেকেই যায়অপূর্ণ, যন্ত্রণাদায়ক

তৃষ্ণা = নারীর অপূর্ণ আকাঙ্ক্ষাসমাজের বিধিনিষেধের দ্বন্দ্ব

উপন্যাস তালিকা

উপন্যাস

প্রকাশকালবিষয়

শেষ বিকেলের মেয়ে

১৯৬০ — প্রথম উপন্যাসশহুরে প্রেমের গল্প

তৃষ্ণা

১৯৬২ — নারীর অপূর্ণ আকাঙ্ক্ষার গল্প

হাজার বছর ধরে

১৯৬৪ — শ্রেষ্ঠ উপন্যাসগ্রামীণ শোষণ

আরেক ফাল্গুন

১৯৬৯ — ভাষা আন্দোলনের উপন্যাস

বরফ গলা নদী

১৯৬৯ — মধ্যবিত্ত জীবনের সংগ্রাম

আর কতদিন

১৯৭০ — মুক্তিযুদ্ধের প্রাক্কালের উপন্যাস

গল্পগ্রন্থ

সূর্যগ্রহণ (১৯৫৫) — প্রথম গল্পগ্রন্থ

গ্রন্থ পরিচয়

'সূর্যগ্রহণ' জহির রায়হানের প্রথম গল্পগ্রন্থ। ১৯৫৫ সালে প্রকাশিতসূর্যগ্রহণ যেমন আলোকে ঢেকে দেয় অন্ধকারে, তেমনি সমাজের অন্যায় মানুষের জীবনের আলো নিভিয়ে দেয়এই প্রতীকে গ্রন্থটি রচিত

একুশের গল্প [বিখ্যাত গল্প]

সম্পূর্ণ কাহিনি

'একুশের গল্প' ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলনের উপর লেখা জহির রায়হানের সবচেয়ে বিখ্যাত ছোটগল্পএটি 'সূর্যগ্রহণ' গ্রন্থে সংকলিত

গল্পের কেন্দ্রে একজন তরুণ ছাত্র। ২১ ফেব্রুয়ারির দিনে সে রাস্তায় নামে ভাষার দাবিতেপুলিশ গুলি চালায়তার সামনে তার বন্ধু মাটিতে পড়ে যায়মাথায় গুলি লেগেছে

সেই তরুণ তার মৃত বন্ধুর কাছে বসে থাকেচোখে জল নেইশুধু একটা শক্ত সংকল্পসে বুঝতে পারেএই মৃত্যু বৃথা যাবে নাএই রক্তের বিনিময়ে বাংলা ভাষা তার অধিকার পাবে

গল্পের শেষে সেই তরুণ উঠে দাঁড়ায়শোকে নয়, বরং শক্তিতেসে প্রতিজ্ঞা করেবাংলাকে রাষ্ট্রভাষার মর্যাদা না দেওয়া পর্যন্ত সংগ্রাম চলবে

একুশের গল্প = ভাষা আন্দোলনের সবচেয়ে মর্মস্পর্শী ছোটগল্পগুলোর একটি

'একুশের গল্প' — ভাষা আন্দোলনের সেরা ছোটগল্প, সূর্যগ্রহণ গ্রন্থে

কয়েকটি মৃত্যু [বিখ্যাত গল্প]

সম্পূর্ণ কাহিনি

'কয়েকটি মৃত্যু' একটি বহু-আলোচিত গল্পগল্পে একাধিক মৃত্যুর ঘটনা ঘটেকিন্তু প্রতিটি মৃত্যু ভিন্ন ধরনেরএকজনের মৃত্যু হয় শরীরের, আরেকজনের মৃত্যু হয় স্বপ্নের, আরেকজনের মৃত্যু হয় সম্পর্কের

গল্পটিতে জহির রায়হান দেখিয়েছেনমানুষ কীভাবে প্রতিদিন একটু একটু করে মারা যায়শরীরের মৃত্যুর চেয়ে আত্মার মৃত্যু বেশি ভয়াবহ

হাজার বছর ধরে (গল্প) [ছোটগল্প]

একই নামে একটি ছোটগল্পও আছেযা পরে উপন্যাসে রূপান্তরিত হয়েছেগল্পে বাংলার গ্রামীণ জীবনের ক্ষুদ্র চিত্র

গল্পগ্রন্থ তালিকা

গল্পগ্রন্থ

প্রকাশকালবিষয়

সূর্যগ্রহণ

১৯৫৫ — প্রথম গল্পগ্রন্থ। 'একুশের গল্প' অন্তর্ভুক্ত

সময়ের প্রয়োজনে

১৯৬৩ — রাজনৈতিকসামাজিক গল্প

আমি তোমাকে ভালোবাসি

১৯৭১ — প্রেমদেশপ্রেমের গল্প

চলচ্চিত্র

জীবন থেকে নেওয়া (১৯৭০) — ঐতিহাসিক চলচ্চিত্র

চলচ্চিত্রটির ইতিহাসগুরুত্ব

'জীবন থেকে নেওয়া' বাংলাদেশের চলচ্চিত্রের ইতিহাসে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ চলচ্চিত্র। ১৯৭০ সালে মুক্তি পায়মুক্তিযুদ্ধের আগে এই চলচ্চিত্রই বাঙালির মনে স্বাধীনতার চেতনা জাগিয়ে তুলেছিল

সম্পূর্ণ কাহিনি

চলচ্চিত্রটির কাহিনি একটি পরিবারকে কেন্দ্র করেএকটি পরিবারে মা হলেন পরিবারের প্রধানতিনি শাসন করেনকিন্তু তার শাসন ন্যায়সংগত নয়তিনি স্বেচ্ছাচারী, তিনি পরিবারকে দমন করে রাখেন

পরিবারটি আসলে তৎকালীন পাকিস্তান রাষ্ট্রের রূপকমা হলেন পশ্চিম পাকিস্তানের শাসকগোষ্ঠীপরিবারের অন্যান্য সদস্যরা হলেন বাংলাদেশের মানুষযারা নানাভাবে নিপীড়িত

চলচ্চিত্রে একটি বিশেষ দৃশ্য আছেপরিবারের একটি ঘরে তালা দিয়ে রাখা হয়েছেকেউ সেই ঘরে যেতে পারে নাসেই তালাবদ্ধ ঘরটি হলো বাংলাদেশযাকে পাকিস্তান বন্দী করে রেখেছে

চলচ্চিত্রে জাতীয় সংগীত 'আমার সোনার বাংলা' পরিবেশিত হয়সিনেমা হলে দর্শকরা দাঁড়িয়ে হাততালি দেনএই একটি দৃশ্য মুক্তিযুদ্ধের আগেই বাঙালির হৃদয়ে স্বাধীনতার আগুন জ্বালিয়ে দেয়

জীবন থেকে নেওয়া = পাকিস্তানি শাসনের বিরুদ্ধে রূপক চলচ্চিত্র

এই চলচ্চিত্রে 'আমার সোনার বাংলা' গানটি বাজলে সিনেমা হলে দর্শকরা দাঁড়িয়ে যেতেন।”

জীবন থেকে নেওয়ামুক্তিযুদ্ধের আগে স্বাধীনতার চেতনা জাগানো চলচ্চিত্র

এই চলচ্চিত্রে রবীন্দ্রনাথের 'আমার সোনার বাংলা' গানটি ব্যবহার করা হয়

প্রশ্ন: জীবন থেকে নেওয়া চলচ্চিত্রের নির্মাতা? জহির রায়হান

প্রশ্ন: জীবন থেকে নেওয়ার মুক্তির সাল? ১৯৭০ সালে

Stop Genocide (১৯৭১) — প্রামাণ্যচিত্র

চলচ্চিত্রের ইতিহাসগুরুত্ব

'Stop Genocide' বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের সময় নির্মিত সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রামাণ্যচিত্রজহির রায়হান ১৯৭১ সালে কলকাতায় থেকে এটি নির্মাণ করেন

চলচ্চিত্রের বিষয়বস্তু

এই প্রামাণ্যচিত্রে ১৯৭১ সালের ২৫ মার্চের গণহত্যার ভয়াবহতা তুলে ধরা হয়েছেপাকিস্তানি সেনাবাহিনীর নৃশংসতা, নিরীহ বাংলাদেশিদের হত্যা, ধর্ষণলুটপাটসব কিছু এই চলচ্চিত্রে দলিলবদ্ধ

চলচ্চিত্রটি বিশ্বের বিভিন্ন দেশে প্রদর্শিত হয়এটি দেখে বিশ্ববাসী প্রথমবারের মতো বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের সত্যিকারের চিত্র দেখতে পানআন্তর্জাতিক জনমত বাংলাদেশের পক্ষে সংগঠিত করতে এই চলচ্চিত্র বিশাল ভূমিকা রাখে

এই চলচ্চিত্রের শিরোনাম 'Stop Genocide' — গণহত্যা বন্ধ করোনিজেই একটি আহ্বানশুধু দলিল নয়, এটি একটি প্রতিবাদ

Stop Genocide = পাকিস্তানি গণহত্যার বিশ্ব-দরবারে দলিলবাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসের অংশ

Stop Genocide — ১৯৭১ সালে কলকাতায় বসে নির্মিতবিশ্বে মুক্তিযুদ্ধের সত্য তুলে ধরে

প্রশ্ন: Stop Genocide প্রামাণ্যচিত্র কে নির্মাণ করেন? জহির রায়হান (১৯৭১)

প্রশ্ন: Stop Genocide-এর বিষয়বস্তু? ১৯৭১ সালের পাকিস্তানি গণহত্যার দলিল

সঙ্গম (১৯৬৪) — প্রথম রঙিন চলচ্চিত্র

ঐতিহাসিক গুরুত্ব

'সঙ্গম' ১৯৬৪ সালে মুক্তি পাওয়া বাংলাদেশের প্রথম রঙিন চলচ্চিত্রএটি নির্মাণ করেন জহির রায়হানএই একটি কৃতিত্বেই তিনি বাংলাদেশের চলচ্চিত্র ইতিহাসে অমর হয়ে থাকতেন

সঙ্গম মানে মিলনদুটি নদীর মিলন, দুটি হৃদয়ের মিলনচলচ্চিত্রটিতে প্রেমমানবিক সম্পর্কের কাহিনি আছে

সঙ্গম = বাংলাদেশের প্রথম রঙিন চলচ্চিত্রনির্মাতা = জহির রায়হান (১৯৬৪)।

প্রশ্ন: বাংলাদেশের প্রথম রঙিন চলচ্চিত্র কোনটি? সঙ্গম (১৯৬৪)

প্রশ্ন: সঙ্গম চলচ্চিত্রের নির্মাতা? জহির রায়হান

চলচ্চিত্র তালিকা

চলচ্চিত্র

মুক্তির সালবিশেষ তথ্য

কখনো আসেনি

১৯৬১ — প্রথম চলচ্চিত্র পরিচালনা

সোনার কাজল

১৯৬২

কাঁচের দেয়াল

১৯৬৩ — জাতীয় পুরস্কার প্রাপ্ত

সঙ্গম

১৯৬৪ — বাংলাদেশের প্রথম রঙিন চলচ্চিত্র

বাহানা

১৯৬৫

আনোয়ারা

১৯৬৭

জীবন থেকে নেওয়া

১৯৭০ — স্বাধীনতার চেতনার চলচ্চিত্র

Stop Genocide

১৯৭১ — গণহত্যার প্রামাণ্যচিত্র

A State Is Born

১৯৭১ — মুক্তিযুদ্ধের দ্বিতীয় প্রামাণ্যচিত্র

Liberation Fighters

১৯৭২ — মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক

পুরস্কারসাহিত্যকীর্তি

পুরস্কার / সম্মান

বিশেষ তথ্য

একুশে পদক

১৯৭৭ — মরণোত্তর, বাংলাদেশ সরকার

স্বাধীনতা পদক

১৯৭৭ — মরণোত্তর, বাংলাদেশ সরকার

বাংলা একাডেমি পুরস্কার

সাহিত্যে অবদানের জন্য

নিগার পুরস্কার

কাঁচের দেয়াল চলচ্চিত্রের জন্য

শ্রেষ্ঠ পরিচালক পুরস্কার

পাকিস্তান চলচ্চিত্র উৎসবে

জহির রায়হানের একুশে পদকস্বাধীনতা পদক উভয়ই মরণোত্তর — ১৯৭৭ সালে

সাহিত্যিকচলচ্চিত্রিক বৈশিষ্ট্য

জহির রায়হানের সাহিত্যের বিশেষ বৈশিষ্ট্য

জহির রায়হানের সাহিত্যের প্রথম বৈশিষ্ট্য হলো রাজনৈতিক সচেতনতাতাঁর প্রতিটি উপন্যাসগল্পে সমসাময়িক রাজনৈতিক বাস্তবতার প্রতিফলন আছেভাষা আন্দোলন, পাকিস্তানি শোষণ, মুক্তিযুদ্ধের চেতনাএগুলো তাঁর সাহিত্যের কেন্দ্রে

দ্বিতীয় বৈশিষ্ট্য হলো সহজপ্রাঞ্জল ভাষাতাঁর উপন্যাস পড়তে সহজজটিল শব্দ নেই, দুর্বোধ্য বাক্য নেইকিন্তু সেই সহজ ভাষার মধ্যে আছে গভীর অর্থ

তৃতীয় বৈশিষ্ট্য হলো গ্রামীণশহুরে উভয় জীবনের চিত্রণ। 'হাজার বছর ধরে'তে গ্রামীণ জীবন, 'শেষ বিকেলের মেয়ে'তে শহুরে জীবনতিনি উভয় জগতকেই সমানভাবে চেনেন

চলচ্চিত্র নির্মাতা হিসেবে তাঁর বৈশিষ্ট্য হলো সামাজিকরাজনৈতিক বার্তা রূপকের আড়ালে পৌঁছে দেওয়া। 'জীবন থেকে নেওয়া' এর সেরা উদাহরণ

রাজনৈতিক সচেতনতাভাষা আন্দোলনমুক্তিযুদ্ধ

সহজ, প্রাঞ্জল ভাষা

সাহিত্যচলচ্চিত্র উভয় মাধ্যমে দক্ষতা

রূপকের মাধ্যমে রাজনৈতিক বার্তা প্রদান

গ্রামীণশহুরে জীবনের সমান চিত্রণ

প্রশ্নোত্তর

প্রশ্ন: জহির রায়হানের প্রকৃত নাম?

আবু আবদার মোহাম্মদ জহিরুল্লাহ

প্রশ্ন: জহির রায়হানের জন্মতারিখ?

১৯ আগস্ট ১৯৩৫

প্রশ্ন: জহির রায়হানের জন্মস্থান?

মজুপুর গ্রাম, ফেনী জেলা

প্রশ্ন: জহির রায়হান কখন নিখোঁজ হন?

৩০ জানুয়ারি ১৯৭২, মিরপুরে

প্রশ্ন: জহির রায়হান কেন মিরপুরে গিয়েছিলেন?

বড় ভাই শহীদুল্লাহ কায়সারকে খুঁজতে

প্রশ্ন: জহির রায়হানের বড় ভাইয়ের নাম?

শহীদুল্লাহ কায়সার

প্রশ্ন: জহির রায়হানের প্রথম উপন্যাস?

শেষ বিকেলের মেয়ে (১৯৬০)

প্রশ্ন: জহির রায়হানের শ্রেষ্ঠ উপন্যাস?

হাজার বছর ধরে (১৯৬৪)

প্রশ্ন: হাজার বছর ধরের কেন্দ্রীয় চরিত্র?

মকবুল, টুনিরাহেলা

প্রশ্ন: আরেক ফাল্গুনের বিষয়বস্তু?

১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলন

প্রশ্ন: আরেক ফাল্গুনের কেন্দ্রীয় চরিত্র?

সালমাআনোয়ার

প্রশ্ন: জহির রায়হানের প্রথম গল্পগ্রন্থ?

সূর্যগ্রহণ (১৯৫৫)

প্রশ্ন: সূর্যগ্রহণের বিখ্যাত গল্প?

একুশের গল্প

প্রশ্ন: বাংলাদেশের প্রথম রঙিন চলচ্চিত্র?

সঙ্গম (১৯৬৪) — নির্মাতা জহির রায়হান

প্রশ্ন: জীবন থেকে নেওয়া চলচ্চিত্রের মুক্তি?

১৯৭০ সালে

প্রশ্ন: জীবন থেকে নেওয়ায় কোন গান?

আমার সোনার বাংলা (রবীন্দ্রনাথ রচিত)

প্রশ্ন: Stop Genocide প্রামাণ্যচিত্র নির্মাণ?

জহির রায়হান, ১৯৭১ সালে কলকাতায়

প্রশ্ন: Stop Genocide-এর বিষয়?

১৯৭১ সালের পাকিস্তানি গণহত্যার দলিল

প্রশ্ন: জহির রায়হানের প্রথম চলচ্চিত্র পরিচালনা?

কখনো আসেনি (১৯৬১)

প্রশ্ন: জহির রায়হানের একুশে পদক কত সালে?

১৯৭৭ সালে (মরণোত্তর)

প্রশ্ন: জহির রায়হানের স্বাধীনতা পদক?

১৯৭৭ সালে (মরণোত্তর)

প্রশ্ন: জহির রায়হানের দ্বিতীয় স্ত্রীর নাম?

সুচন্দা (অভিনেত্রী)

প্রশ্ন: জহির রায়হান ভাষা আন্দোলনে কত সালে অংশ নেন?

১৯৫২ সালে (বয়স ১৭ বছর)

প্রশ্ন: হাজার বছর ধরের পটভূমি?

পদ্মা নদীর তীরের গ্রামীণ বাংলা

প্রশ্ন: 'আর কতদিন' উপন্যাসের প্রকাশকাল?

১৯৭০ সালে

প্রশ্ন: জহির রায়হানের মুক্তিযুদ্ধকালীন অবস্থান?

কলকাতায় থেকে মুক্তিযুদ্ধের পক্ষে কাজ

প্রশ্ন: জহির রায়হান কোন বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র ছিলেন?

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, বাংলা বিভাগ

প্রশ্ন: কাঁচের দেয়াল চলচ্চিত্রের নির্মাতা?

জহির রায়হান (১৯৬৩, নিগার পুরস্কার)

ট্রিকিঅজানা তথ্য

MCQ পরীক্ষায় সবচেয়ে বেশি ফাঁদ হিসেবে আসে!

জহির রায়হানের প্রকৃত নাম 'আবু আবদার মোহাম্মদ জহিরুল্লাহ' — শুধু 'জহির রায়হান' নয়

জহির রায়হান মারা যাননিতিনি ১৯৭২ সালের ৩০ জানুয়ারি নিখোঁজ হন

জহির রায়হান মিরপুরে গিয়েছিলেন বড় ভাই শহীদুল্লাহ কায়সারকে খুঁজতে

শহীদুল্লাহ কায়সার জহির রায়হানের বড় ভাইনিজেও বিখ্যাত ঔপন্যাসিক

বাংলাদেশের প্রথম রঙিন চলচ্চিত্র 'সঙ্গম' — নির্মাতা জহির রায়হান (১৯৬৪)।

জহির রায়হানের প্রথম উপন্যাস 'শেষ বিকেলের মেয়ে' (১৯৬০) — 'হাজার বছর ধরে' নয়

আরেক ফাল্গুন = ভাষা আন্দোলনের উপন্যাসহাজার বছর ধরে = গ্রামীণ জীবনের উপন্যাস

জীবন থেকে নেওয়া চলচ্চিত্রে 'আমার সোনার বাংলা' — রবীন্দ্রনাথের গান

Stop Genocide একটি প্রামাণ্যচিত্রকথাসাহিত্যের চলচ্চিত্র নয়

জহির রায়হান ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলনে অংশ নিয়েছিলেনমাত্র ১৭ বছর বয়সে!

জহির রায়হানের একুশে পদকস্বাধীনতা পদক উভয়ই মরণোত্তর (১৯৭৭)।

জহির রায়হানের দ্বিতীয় স্ত্রী সুচন্দাবাংলাদেশের বিখ্যাত অভিনেত্রী

জহির রায়হানের প্রথম গল্পগ্রন্থ 'সূর্যগ্রহণ' (১৯৫৫) — এতেই 'একুশের গল্প' আছে

হাজার বছর ধরে পরে চলচ্চিত্রেও রূপান্তরিত হয়েছে

জহির রায়হান বাংলা, উর্দুইংরেজিতিন ভাষায় চলচ্চিত্র নির্মাণ করেছেন

জীবন থেকে নেওয়া চলচ্চিত্রে পরিবারটি হলো বাংলাদেশের রূপকমা হলো পাকিস্তান

A State Is Born (১৯৭১) — Stop Genocide-এর পর জহির রায়হানের দ্বিতীয় প্রামাণ্যচিত্র

চূড়ান্ত সারসংক্ষেপ

বিষয়

উত্তর

প্রকৃত নাম

আবু আবদার মোহাম্মদ জহিরুল্লাহ

জন্ম

১৯ আগস্ট ১৯৩৫, মজুপুর, ফেনী

নিখোঁজ

৩০ জানুয়ারি ১৯৭২, মিরপুর, ঢাকা

বড় ভাই

শহীদুল্লাহ কায়সার (ঔপন্যাসিক)

দ্বিতীয় স্ত্রী

সুচন্দা (অভিনেত্রী)

প্রথম উপন্যাস

শেষ বিকেলের মেয়ে (১৯৬০)

শ্রেষ্ঠ উপন্যাস

হাজার বছর ধরে (১৯৬৪)

ভাষা আন্দোলনের উপন্যাস

আরেক ফাল্গুন (১৯৬৯)

প্রথম গল্পগ্রন্থ

সূর্যগ্রহণ (১৯৫৫)

বিখ্যাত গল্প

একুশের গল্প (সূর্যগ্রহণ গ্রন্থে)

প্রথম চলচ্চিত্র

কখনো আসেনি (১৯৬১)

প্রথম রঙিন চলচ্চিত্র

সঙ্গম (১৯৬৪) — বাংলাদেশের প্রথম রঙিন চলচ্চিত্র

মুক্তিযুদ্ধের চলচ্চিত্র

জীবন থেকে নেওয়া (১৯৭০)

মুক্তিযুদ্ধের প্রামাণ্যচিত্র

Stop Genocide (১৯৭১)

একুশে পদক

১৯৭৭ — মরণোত্তর

স্বাধীনতা পদক

১৯৭৭ — মরণোত্তর

ভাষা আন্দোলনে অংশগ্রহণ

১৯৫২ সালেবয়স ১৭ বছর

Review this chapter

You Can Also Read

Chapters closely related to the one you are reading now.

জসীমউদ্দীন

No reviews
0 students
Read chapter

জীবনানন্দ দাশ

No reviews
0 students
Read chapter

জীবনী সাহিত্য

No reviews
0 students
Read chapter

গল্পগ্রন্থ

No reviews
0 students
Read chapter

Most Read by Students

Popular picks getting the strongest student traffic right now.

অসহযোগ আন্দোলন (মার্চ ১৯৭১)

No reviews
1 student
Read chapter

নদী, সেতু, পাহাড়, দ্বীপ, বন, সমুদ্রবন্দর

No reviews
1 student
Read chapter

বাংলা ভাষার রীতি

No reviews
1 student
Read chapter

Others Who Read This Also Read

Behavior-based suggestions from student reading patterns where available.

জসীমউদ্দীন

No reviews
0 students
Read chapter

জীবনানন্দ দাশ

No reviews
0 students
Read chapter

জীবনী সাহিত্য

No reviews
0 students
Read chapter

গল্পগ্রন্থ

No reviews
0 students
Read chapter

Best Reviewed

Chapters earning the strongest student feedback.

জসীমউদ্দীন

No reviews
0 students
Read chapter

জীবনানন্দ দাশ

No reviews
0 students
Read chapter

জীবনী সাহিত্য

No reviews
0 students
Read chapter

গল্পগ্রন্থ

No reviews
0 students
Read chapter

Course Suggestions

Want a more guided path after this chapter? These courses are the closest fit.

Browse all courses
Learner fit৳1,999

Bangla

Bangla Language Mastery

Popular with BCS learners who want guided study.

6 lessons8.5h4.9 (186)1.3K students

By Sadia Rahman

View course
Learner fit৳2,999

Platform Building

Teacher Marketplace Blueprint

Popular with BCS learners who want guided study.

5 lessons6.8h4.9 (28)410 students

By Sadia Rahman

View course
FreeFree

English

Admission English Playbook

Free guided course with lessons you can jump into anytime.

4 lessons4.2h4.8 (91)2.8K students

By Rayan Akter

View course