মঙ্গলকাব্য

Chapter Activity

Rating
New / 5
Reviews
0
Read Sessions
0
Readers
0

বাংলা সাহিত্য

মঙ্গলকাব্য

মধ্যযুগীয় বাংলা সাহিত্যের সর্বশ্রেষ্ঠ ধারার সম্পূর্ণ আলোচনা

━━━━━━━━━━━━━━━━━━━━━━━━━━━━━━━━━━━━━━━━

মঙ্গলকাব্যসার্বিক পরিচিতিপটভূমি

মঙ্গলকাব্য হলো মধ্যযুগীয় বাংলা সাহিত্যের এক অপূর্ব ধারাএই ধারার কাব্যগুলিতে বাংলার লোকদেবতাদের মাহাত্ম্য, তাঁদের পূজা প্রচারের সংগ্রাম এবং ভক্তদের বিজয়গাথা কাব্যাকারে বর্ণিত হয়েছে। 'মঙ্গল' শব্দটির অর্থ শুভ বা কল্যাণএই কাব্যগুলি পাঠ বা শ্রবণে পুণ্যলাভ হয় বলে লোকবিশ্বাস ছিলবিসিএস পরীক্ষায় মঙ্গলকাব্য অধ্যায় থেকে সবচেয়ে বেশি প্রশ্ন আসে, তাই এই অধ্যায়টি গভীরভাবে আয়ত্ত করা অপরিহার্য

মঙ্গলকাব্যের উৎপত্তিঐতিহাসিক পটভূমি

মধ্যযুগীয় বাংলায় বৈদিক দেব-দেবীর পাশাপাশি বেশ কিছু লোকদেবতা জনসমাজে ব্যাপক জনপ্রিয়তা পেয়েছিলেনমনসা (সর্পদেবী), চণ্ডী (অভয়া), ধর্মঠাকুর (লোকদেবতা), অন্নদা (কালী) প্রভৃতি দেবতার পূজা বাংলার বিভিন্ন অঞ্চলে বিপুল জনপ্রিয়তা অর্জন করেএই দেবতাদের পূজা প্রচারের প্রয়োজনে কবিরা তাঁদের কাহিনি কাব্যিক রূপ দেনএটিই মঙ্গলকাব্যের উৎস

মঙ্গলকাব্যের বিকাশ মূলত ত্রয়োদশ শতক থেকে অষ্টাদশ শতকের মধ্যে ঘটেছেসুলতানি শাসনামলে হিন্দু ধর্মসংস্কৃতি কিছুটা চাপের মুখে পড়লেও লোকদেবতাদের পূজা বরং আরও শক্তিশালী হয়ে ওঠে এবং মঙ্গলকাব্যের মাধ্যমে তা সংরক্ষিত হয়

মঙ্গলকাব্যের গঠনবৈশিষ্ট্য

মঙ্গলকাব্যের প্রধান বৈশিষ্ট্যসমূহ

দেবখণ্ড: দেব-দেবীর মহিমা, উৎপত্তিদেবকাহিনি বর্ণিত হয়

নরখণ্ড: মানব চরিত্রদের কাহিনিসমাজজীবনের বাস্তব চিত্র

লৌকিক দেবতার পূজা প্রচারের সংগ্রামই কেন্দ্রীয় বিষয়

কাব্যপাঠ বা শ্রবণে পুণ্যলাভ হয়এই বিশ্বাস সংযুক্ত

তৎকালীন সমাজ, অর্থনীতি, বাণিজ্যপারিবারিক জীবনের দুর্লভ চিত্র

বাংলার নানা আঞ্চলিক উপাদান, লোকবিশ্বাসসংস্কৃতির সমৃদ্ধ উপস্থাপনা

প্রধানত পয়ারমাত্রাবৃত্ত ছন্দে রচিত

মঙ্গলকাব্যের ধারা

দেব-দেবী

প্রধান কবি

বিশেষ পরিচয়

মনসামঙ্গল

মনসা (পদ্মা, সর্পদেবী)

বিজয়গুপ্ত; ক্ষেমানন্দ

সর্বপ্রাচীন ধারা; পদ্মাপুরাণ নামেও পরিচিত

চণ্ডীমঙ্গল

চণ্ডী (অভয়া, দুর্গা)

মুকুন্দরাম চক্রবর্তী (কবিকঙ্কণ)

সর্বশ্রেষ্ঠ ধারা; অভয়ামঙ্গল/কবিকঙ্কণ চণ্ডী

ধর্মমঙ্গল

ধর্মঠাকুর (লোকদেবতা)

ঘনরাম চক্রবর্তী; রূপরাম

বৌদ্ধ ধর্মরাজের রূপান্তর; লাউসেনের কাহিনি

অন্নদামঙ্গল

অন্নদা / কালী

ভারতচন্দ্র রায়গুণাকর

মঙ্গলকাব্যের সর্বশেষশেষ শ্রেষ্ঠ কাব্য; ১৭৫২

শিবমঙ্গল / শীতলামঙ্গল

শিব / শীতলা

বিভিন্ন কবি

অপেক্ষাকৃত কম প্রচলিত ধারা

মনসামঙ্গল

মঙ্গলকাব্যের প্রাচীনতম ধারা · সর্পদেবী মনসার মাহাত্ম্যকাব্য

মনসামঙ্গলবিস্তারিত আলোচনা

মনসামঙ্গল মঙ্গলকাব্যধারার সর্বপ্রাচীন শাখা দেবী মনসা হলেন সর্পদেবীসাপের কামড় থেকে মানুষকে রক্ষা করেন এই দেবীমনসার আরেক নাম 'পদ্মা'তাই এই কাব্য 'পদ্মাপুরাণ' নামেও পরিচিতমনসামঙ্গলের কাহিনিতে মূলত দুটি শক্তির দ্বন্দ্বদেবী মনসার পূজা প্রচারের ইচ্ছা এবং শিবভক্ত চাঁদ সদাগরের অস্বীকৃতিএই দ্বন্দ্বই মনসামঙ্গলের মূল নাটকীয় বিষয়বস্তু

মনসামঙ্গলের কবিগণ

কবির নাম

কাল

কাব্যের নাম

বিশেষত্ব

কানাহরি দত্ত

আনু. ১৪ শতক

মনসাবিজয়

প্রাচীনতম মনসামঙ্গল কবি

বিজয়গুপ্ত

১৪৯৪/৯৫

পদ্মাপুরাণ

প্রধান কবি; পৃষ্ঠপোষক: হোসেন শাহ; জন্মস্থান: ফুল্লশ্রী, বরিশাল

নারায়ণদেব

১৫ শতক

পদ্মাপুরাণ

পূর্ববঙ্গীয় কবি

দ্বিজ বংশীদাস

১৬ শতক

পদ্মাপুরাণ

বেহুলার অসাধারণ বর্ণনার জন্য বিখ্যাত

ক্ষেমানন্দ (কেতকাদাস)

১৬ শতক

মনসামঙ্গল

বাংলাদেশ অঞ্চলে বিশেষ জনপ্রিয়; উপাধি: কেতকাদাস

ট্রিকি তথ্যমনসামঙ্গল

মনসামঙ্গলের প্রাচীনতম কবি = কানাহরি দত্তবিজয়গুপ্ত নন; বিজয়গুপ্ত প্রধানসর্বাধিক পরিচিত

মনসার আরও নাম: পদ্মা, বিষহরি, জগৎগৌরী, বিষমহারী, নিত্যা

মনসা শিবের মানসকন্যাতাই নাম 'মনসা'।

বিজয়গুপ্তের কাব্যের আরেক নাম 'মনসার ভাসান'।

চাঁদ সদাগর শিবভক্ত ছিলেনএটি শৈব-শাক্ত দ্বন্দ্বের প্রতীক

চাঁদ সদাগর বাম হাতে মনসার পূজা দেনঅনিচ্ছুক পূজার প্রতীক

ক্ষেমানন্দের উপাধি 'কেতকাদাস'।

মনসামঙ্গলের মূল চরিত্র

দেবী মনসা

সর্পদেবীশিবের মানসকন্যাপদ্মা, বিষহরি ইত্যাদি নামে পরিচিততাঁর একমাত্র লক্ষ্য পূজার স্বীকৃতি আদায় করাচাঁদ সদাগরের অস্বীকৃতিতে তিনি বারবার বিপদ পাঠানতবে শেষে বেহুলার ভক্তিতে মুগ্ধ হয়ে সব দুঃখ দূর করেনমনসার চরিত্রে দেবীয় রোষ এবং অনুগ্রহদুটো দিকই সমানভাবে প্রতিফলিত

চাঁদ সদাগর

চম্পাইনগরের ধনী ব্যাপারীপরম শিবভক্তমনসার পূজা করতে তিনি বারবার অস্বীকার করেন এমনকি যখন তাঁর ছয় পুত্র সাপের কামড়ে মারা যায়, তখনওতিনি বাংলা সাহিত্যের এক অদ্ভুত নায়কএকদিকে জেদি, অন্যদিকে গভীর আত্মসম্মানসম্পন্নশেষে বাম হাতে পূজা দেওয়া তাঁর আপসহীনতার চূড়ান্ত প্রকাশ

বেহুলা

মনসামঙ্গলের সবচেয়ে মহৎ ও অমর চরিত্রস্বামী লখিন্দর সাপের কামড়ে মৃত হলে বেহুলা মৃত স্বামীকে কলার ভেলায় রেখে দেবলোকে যাত্রা করেনদীর্ঘ বিপদসঙ্কুল পথ পাড়ি দিয়ে দেবলোকে পৌঁছান এবং নৃত্যগানে দেবতাদের মুগ্ধ করে স্বামীর প্রাণ ফিরিয়ে আনেনবেহুলা বাংলা সাহিত্যের শ্রেষ্ঠ পতিব্রতাসাহসী নারী চরিত্রগুলোর একটি

লখিন্দর

চাঁদ সদাগরের সপ্তমএকমাত্র জীবিত পুত্রবেহুলার স্বামীমনসার ক্রোধে বিয়ের রাতেই লোহার বাসর ঘরেও সাপ ঢুকে তাকে দংশন করেলখিন্দর চরিত্রটি বেহুলার সংগ্রামের পটভূমি তৈরি করেসে নিজে সক্রিয় নয়, বরং তার মৃত্যুই কাহিনির মূল চালিকাশক্তি

সনকা

চাঁদ সদাগরের স্ত্রীলখিন্দরের মামাতৃস্নেহে পূর্ণ এই চরিত্রটি পুত্রের মৃত্যুতে ভেঙে পড়েনবেহুলার সাহসদৃঢ়তার পাশে সনকার ব্যথাতুর মাতৃহৃদয়ের চিত্র কাব্যে গভীর মানবিক মাত্রা যোগ করেছে

📖 কাহিনি-সংক্ষেপ: মনসামঙ্গলবেহুলা-লখিন্দরের অমর উপাখ্যান

━━━━━━━━━━━━━━━━━━━━━━━━━━━━━━━━━━━━━━━━━━━━━━━━━━━━━━━

চম্পাইনগরের ধনাঢ্য ব্যাপারী চাঁদ সদাগর ছিলেন পরম শিবভক্তএকদিন সর্পদেবী মনসা তাঁর কাছে পূজা প্রার্থনা করলেনকিন্তু চাঁদ সদাগর শিবের একনিষ্ঠ ভক্ত হওয়ায় অন্য কোনো দেবতাকে পূজা দিতে রাজি হলেন নাফলে দেবী মনসা ক্রোধে অগ্নিশর্মা হলেন

মনসার প্রতিশোধে একের পর এক বিপদ নেমে আসতে লাগলোচাঁদ সদাগরের ছয় পুত্র পর্যায়ক্রমে সাপের কামড়ে প্রাণ হারালেনবাণিজ্যতরী ডুবে গেলসর্বস্বান্ত হয়েও চাঁদ তাঁর সিদ্ধান্তে অটল রইলেন

চাঁদ সদাগরের একমাত্র সপ্তম পুত্র লখিন্দরের সাথে উজানিনগরের সুন্দরী মেয়ে বেহুলার বিবাহ হলোবিয়ের আগেই জ্যোতিষীরা বলেছিলেনলখিন্দর বাসর ঘরে সাপের কামড়ে মারা যাবেতাই লোহার বাসর ঘর তৈরি করা হলোকিন্তু মনসার কৌশলে একটি ক্ষুদ্র সাপ সেই লোহার ঘরেও প্রবেশ করল এবং বিয়ের রাতেই লখিন্দরকে দংশন করল

ভোর হতেই বেহুলা দেখলেন তাঁর নবপরিণীত স্বামী মৃতশ্বশুরবাড়ি থেকে পরিজনেরা মৃতদেহ দাহ করতে চাইলেন, কিন্তু বেহুলা অটলতিনি মৃত স্বামীকে নিয়ে দেবলোকে যাবেনকলার ভেলায় মৃত স্বামীকে শুইয়ে বেহুলা ভাসতে ভাসতে যাত্রা শুরু করলেন

দীর্ঘ নদীপথে বেহুলা অনেক দুর্বিপাকের মুখে পড়লেনধোপানী তাঁকে প্রলোভন দেখালেন, নানা বিপদ এলোকিন্তু বেহুলা পথ ছাড়লেন নাশেষপর্যন্ত দেবলোকে পৌঁছালেনসেখানে দেবতাদের দরবারে বেহুলা তাঁর অপূর্ব নৃত্যগান পরিবেশন করলেনদেবতারা মুগ্ধ হলেন

দেবতারা শর্ত দিলেনযদি চাঁদ সদাগর মনসার পূজা করেন, তাহলে লখিন্দরছয় পুত্র সবাই জীবিত হবেন এবং হারানো সম্পদ ফিরে আসবেবেহুলা পৃথিবীতে ফিরে এলেনশ্বশুর চাঁদ সদাগরকে বোঝালেনচাঁদ সদাগর অবশেষে রাজি হলেনতবে বাম হাতে মনসার পূজা দিলেনমনসা পূজা পেলেন, লখিন্দরছয় ভাই জীবন ফিরে পেলেন

মনসামঙ্গলের এই কাহিনি শুধু ধর্মীয় নয়এখানে নারীর অদম্য মনোবল, পতিভক্তি, দেবতামানুষের দ্বন্দ্ব, এবং বাংলার লোকজীবনের অপূর্ব চিত্র একসাথে পাওয়া যায়

বিজয়গুপ্তের বিখ্যাত উক্তিপঙক্তি

বেহুলা সুন্দরী নারী লক্ষ্মীর অবতারপতিব্রতা সাধ্বী নারী সতীর আচার।”

বিজয়গুপ্তপদ্মাপুরাণ (মনসামঙ্গল)

নমো নমো দেবী মনসা পদ্মাবতীবিষহরা জগতের মঙ্গলদাত্রী।”

মনসামঙ্গলের বন্দনা

🎯 MCQ প্রশ্নোত্তর

1. মনসামঙ্গলের প্রধান কবি কে?

বিজয়গুপ্ত

📝 পদ্মাপুরাণ বা মনসার ভাসান নামেও পরিচিত

2. মনসামঙ্গলের প্রাচীনতম কবি কে?

কানাহরি দত্ত (১৪ শতক)

📝 বিজয়গুপ্ত ননএই পার্থক্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ

3. বিজয়গুপ্তের পৃষ্ঠপোষক কোন সুলতান?

সুলতান হোসেন শাহ

📝 ইলিয়াস শাহি বংশের পরবর্তী হোসেন শাহি বংশের সুলতান

4. বিজয়গুপ্তের কাব্যের রচনাকাল?

✓ ১৪৯৪ / ১৪৯৫ খ্রিস্টাব্দ

5. বিজয়গুপ্তের জন্মস্থান?

ফুল্লশ্রী গ্রাম, বরিশাল

6. মনসার আরেক নাম কী?

পদ্মা (এবং বিষহরি, জগৎগৌরী)

📝 মনসা শিবের মানসকন্যা

7. বেহুলার স্বামীর নাম?

লখিন্দর

📝 লক্ষ্মীন্দর নয়বিভ্রান্তি থেকে সাবধান

8. চাঁদ সদাগর কোন হাতে মনসার পূজা দেন?

বাম হাতে (অনিচ্ছায়)

📝 এটি তাঁর অনিচ্ছুক পূজার প্রতীক

9. ক্ষেমানন্দের উপাধি?

কেতকাদাস

10. চাঁদ সদাগর কোন ধর্মের অনুসারী?

শিবভক্ত (শৈব)

11. মনসামঙ্গলের আরেক নাম?

পদ্মাপুরাণ (মনসা = পদ্মা)

12. বেহুলা-লখিন্দরের বাসর ঘর কীসের তৈরি ছিল?

লোহার (তবু সাপ ঢুকেছিল)

📝 মনসার কৌশলে ক্ষুদ্র ফাঁকে সাপ ঢোকে

চণ্ডীমঙ্গল

মঙ্গলকাব্যের সর্বশ্রেষ্ঠ ধারা · মুকুন্দরাম চক্রবর্তী (কবিকঙ্কণ)

চণ্ডীমঙ্গ

চণ্ডীমঙ্গল মঙ্গলকাব্যধারার সর্বোৎকৃষ্টসর্বশ্রেষ্ঠ শাখা দেবী চণ্ডী বাংলার সর্বশক্তিমান দেবীতিনি একই সাথে মাতৃরূপিণীরণরঙ্গিণীচণ্ডীমঙ্গলে সমাজের বিভিন্ন স্তরের মানুষের জীবনচিত্রদরিদ্র শিকারি থেকে ধনী বণিকঅত্যন্ত বাস্তবসম্মতভাবে উপস্থাপিত হয়েছেএই কাব্যকে মধ্যযুগীয় বাংলার সমাজজীবনের এনসাইক্লোপিডিয়া বলা যায়

চণ্ডীমঙ্গলের দুটি প্রধান খণ্ড

আখেটিক খণ্ড: শিকারি কালকেতুতাঁর স্ত্রী ফুল্লারার কাহিনিদেবীর কৃপায় কালকেতু গুজরাটের রাজা হন

বণিক খণ্ড: ধনপতি সদাগরের সমুদ্রযাত্রা, দুই স্ত্রী লহনাখুল্লনার দ্বন্দ্ব এবং পুত্র শ্রীমন্তের অভিযানের কাহিনি

চণ্ডীমঙ্গলের কবিগণ

কবির নাম

কাল

কাব্যের নাম

বিশেষত্ব

মানিক দত্ত

১৪ শতক

প্রাচীনতম চণ্ডীমঙ্গল কবি

দ্বিজমাধব

১৫ শতক

চণ্ডীমঙ্গল

কালকেতু কাহিনির বিকাশ

মুকুন্দরাম চক্রবর্তী

১৬শ শতকের শেষ

অভয়ামঙ্গল (কবিকঙ্কণ চণ্ডী)

চণ্ডীমঙ্গলের শ্রেষ্ঠ কবি; উপাধি: কবিকঙ্কণ; জন্মস্থান: দামুন্যা, বর্ধমান

মুকুন্দরাম চক্রবর্তী (কবিকঙ্কণ) — বিশেষ আলোচনা

মুকুন্দরাম সম্পর্কে সকল গুরুত্বপূর্ণ তথ্য

জন্মস্থান: দামুন্যা গ্রাম, বর্ধমান জেলা

উপাধি: 'কবিকঙ্কণ' — প্রদান করেছিলেন রাজা রঘুনাথ রায়

পৃষ্ঠপোষক: রাজা রঘুনাথ রায়

কাব্যের আসল নাম: 'অভয়ামঙ্গল' — 'কবিকঙ্কণ চণ্ডী' নামটি পরে প্রচলিত হয়

কাল: ১৬ শতকের শেষ ভাগমুঘল সম্রাট আকবরের শাসনকালে

বিখ্যাত 'অষ্টাদশ বর্ণনা' — নগর, গ্রাম, বাজার ইত্যাদির সমাজচিত্র

মুকুন্দরাম তাঁর কাব্যে নিজের দারিদ্র্যের কথা বিস্তারিত লিখেছেনআত্মজীবনীমূলক মূল্য রয়েছে

চণ্ডীমঙ্গলের মূল চরিত্র

দেবী চণ্ডী (অভয়া)

বাংলার সর্বশক্তিমান দেবীতিনি একই সাথে মাতৃস্নেহময়ীদুর্জয় যোদ্ধাতাঁর বাহন সিংহদরিদ্র কালকেতুকে রাজা বানান, ধনপতির পুত্র শ্রীমন্তকে বিপদ থেকে উদ্ধার করেনচণ্ডী মানুষের কষ্ট দেখেন এবং ভক্তের পাশে থাকেনএই মাতৃরূপই তাঁকে বাংলার সবচেয়ে প্রিয় দেবী করে তুলেছে

কালকেতু

আখেটিক খণ্ডের নায়কদরিদ্র শিকারি। সৎ, পরিশ্রমী কিন্তু একটু সরলদেবীর কৃপায় গুজরাটের রাজা হনতাঁর চরিত্রে মধ্যযুগীয় বাংলার সাধারণ মানুষের স্বপ্ন, আশাদেবীর ওপর নির্ভরশীলতার প্রতিফলন ঘটেছে

ফুল্লারা

কালকেতুর স্ত্রীচণ্ডীমঙ্গলের অন্যতম শ্রেষ্ঠ নারী চরিত্রঅত্যন্ত বুদ্ধিমতী, বাস্তববুদ্ধিসম্পন্নসাহসীস্বামীর যেকোনো বিপদে সে পাশে থাকে এবং বুদ্ধি দিয়ে সমস্যার সমাধান করেমুকুন্দরামের হাতে ফুল্লারা মধ্যযুগীয় বাংলার জীবন্ত নারীচরিত্রের প্রতীক হয়ে উঠেছে

ধনপতি সদাগর

বণিক খণ্ডের মূল চরিত্রধনী সদাগরতাঁর দুই স্ত্রী লহনাখুল্লনাসমুদ্রযাত্রায় সিংহলে গিয়ে তৃতীয় বিয়ে করেনতিনি মধ্যযুগীয় বাংলার বণিকশ্রেণির প্রতিনিধিতাঁর চরিত্রে তৎকালীন বাণিজ্যজীবনপারিবারিক জটিলতার বাস্তব চিত্র আঁকা

লহনাখুল্লনা

ধনপতির দুই স্ত্রীলহনা ধনপতির প্রথমা স্ত্রীঅভিজ্ঞা, কিছুটা কর্তৃত্বপরায়ণাখুল্লনা কনিষ্ঠাকোমল স্বভাবেরএই দুই চরিত্রের মাধ্যমে মধ্যযুগীয় বাংলার বহুবিবাহ প্রথাতার ফলে নারীর জীবনের সংকট চিত্রিত হয়েছে

শ্রীমন্ত

ধনপতির পুত্রবণিক খণ্ডের তরুণ নায়কপিতার সন্ধানে সমুদ্রে পাড়ি দেননানা বিপদ অতিক্রম করে দেবীর কৃপায় পিতাকে খুঁজে পানশ্রীমন্তের চরিত্রে মধ্যযুগীয় বাংলার তরুণ উদ্যোগী বণিকের প্রতিকৃতি আঁকা

📖 কাহিনি-সংক্ষেপ: আখেটিক খণ্ডকালকেতুফুল্লারার কাহিনি

━━━━━━━━━━━━━━━━━━━━━━━━━━━━━━━━━━━━━━━━━━━━━━━━━━━━━━━

কলিঙ্গ রাজ্যের এক দরিদ্র শিকারি কালকেতুতাঁর স্ত্রী ফুল্লারাদারিদ্র্যে জর্জরিত তাঁদের জীবনকিন্তু সংসারে তাঁদের ভালোবাসা অটুটপ্রতিদিন কালকেতু শিকারে যান, ফুল্লারা সেই শিকার বিক্রি করে সংসার চালান

দেবী চণ্ডী কালকেতুকে পরীক্ষা করতে চাইলেনদেবী একটি মায়াবী শিয়ালের রূপ ধরে কালকেতুর ফাঁদে ধরা দিলেনকালকেতু শিয়ালটিকে ধরলেন কিন্তু সহজে ছাড়তে রাজি হলেন নাদেবী তখন নিজের পরিচয় দিলেন

দেবীর আশীর্বাদে কালকেতু হঠাবিশাল সম্পদ পেলেনদেবী নির্দেশ দিলেন এক নতুন নগর গড়তে — 'গুজরাট' নগরকালকেতু সেই নগর গড়ে তুললেন এবং গুজরাটের রাজা হলেন

কিন্তু ঈর্ষান্বিত কলিঙ্গরাজ ষড়যন্ত্র করলেনকালকেতুকে বন্দী করা হলোফুল্লারা বুদ্ধিসাহস দিয়ে স্বামীকে মুক্ত করতে চেষ্টা করলেনদেবী চণ্ডীর হস্তক্ষেপে কালকেতু মুক্তি পেলেন এবং গুজরাটে তাঁর রাজত্ব সুপ্রতিষ্ঠিত হলো

মুকুন্দরামের এই কাহিনিতে দরিদ্র মানুষের সংগ্রাম, স্বামী-স্ত্রীর পারস্পরিক নির্ভরতা এবং দেবীর করুণার অপূর্ব চিত্র ফুটে উঠেছে

📖 কাহিনি-সংক্ষেপ: বণিক খণ্ডধনপতিশ্রীমন্তের কাহিনি

━━━━━━━━━━━━━━━━━━━━━━━━━━━━━━━━━━━━━━━━━━━━━━━━━━━━━━━

সিহাই গ্রামের ধনী ব্যাপারী ধনপতির দুই স্ত্রীপ্রথমা লহনাদ্বিতীয়া খুল্লনাদুই স্ত্রীর মধ্যে সম্পর্ক স্বাভাবিকভাবেই কিছুটা জটিলধনপতি সমুদ্রযাত্রার সিদ্ধান্ত নিলেন

সমুদ্রযাত্রায় ধনপতি সিংহলদ্বীপে পৌঁছালেনসেখানে রাজা বিক্রমাদিত্যের কন্যা সীতার সাথে ধনপতির পরিচয় হলো এবং বিয়ে হলোএভাবে ধনপতির তৃতীয় স্ত্রী হলেন সীতা

অনেক বছর পরেও ধনপতি ফিরে না আসায় উদ্বিগ্ন হলো সবাইধনপতির পুত্র শ্রীমন্ত পিতার সন্ধানে সমুদ্রযাত্রা করলেন

সমুদ্রপথে শ্রীমন্ত নানা বিপদের মুখে পড়লেনজলদস্যু, ঝড়-ঝঞ্ঝা, নানা প্রলোভনসব মোকাবেলা করলেনদেবী চণ্ডীর আশীর্বাদে শ্রীমন্ত সিংহলে গিয়ে পিতাকে খুঁজে পেলেন

পিতা-পুত্র একসাথে দেশে ফিরলেনদেবী চণ্ডীর মহিমায় পরিবারে আবার সুখ ফিরে এলোমুকুন্দরামের এই কাহিনিতে মধ্যযুগীয় বাণিজ্যজীবন, পারিবারিক সম্পর্কের জটিলতা এবং সমুদ্রযাত্রার রোমাঞ্চকর বর্ণনা অসাধারণ বাস্তবতায় চিত্রিত হয়েছে

মুকুন্দরামের বিখ্যাত উক্তিপঙক্তি

ধনপতি বলে তারে কহিলাম সত্য কথাআর নাহি বলিব আমি মিথ্যা কথা ব্যথা।”

মুকুন্দরাম চক্রবর্তীকবিকঙ্কণ চণ্ডী (বণিক খণ্ড)

আমার সন্তান যেন থাকে দুধে ভাতে।”

কবিকঙ্কণ চণ্ডীতে উল্লিখিতপরে ভারতচন্দ্রের অন্নদামঙ্গলে ঈশ্বরী পাটনীর মুখে বিখ্যাত হয়

🎯 MCQ প্রশ্নোত্তর

1. চণ্ডীমঙ্গলের শ্রেষ্ঠ কবি কে?

মুকুন্দরাম চক্রবর্তী (কবিকঙ্কণ)

2. চণ্ডীমঙ্গলের প্রাচীনতম কবি কে?

মানিক দত্ত (১৪ শতক)

📝 মুকুন্দরাম ননঅত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ পার্থক্য

3. মুকুন্দরামের উপাধি কী?

কবিকঙ্কণ

4. 'কবিকঙ্কণ চণ্ডী'-র আসল নাম কী?

অভয়ামঙ্গল

📝 'কবিকঙ্কণ চণ্ডী' নামটি পরে প্রচলিত

5. মুকুন্দরামের পৃষ্ঠপোষক?

রাজা রঘুনাথ রায়

6. মুকুন্দরামের জন্মস্থান?

দামুন্যা গ্রাম, বর্ধমান

7. আখেটিক খণ্ডের নায়কনায়িকার নাম?

কালকেতু (শিকারি) ও ফুল্লারা

8. বণিক খণ্ডের মূল চরিত্র?

ধনপতি সদাগর

9. ধনপতির দুই স্ত্রীর নাম?

লহনাখুল্লনা

10. ধনপতির পুত্রের নাম?

শ্রীমন্ত

11. কালকেতু দেবীর কৃপায় কোথায় রাজা হন?

গুজরাটে

12. মঙ্গলকাব্যের সর্বশ্রেষ্ঠ ধারা কোনটি?

চণ্ডীমঙ্গল

ধর্মমঙ্গল

ধর্মঠাকুরের মাহাত্ম্যকাব্য · লাউসেনের বীরত্বগাথা · বৌদ্ধ-হিন্দু সংমিশ্রণের প্রমাণ

ধর্মমঙ্গল

ধর্মমঙ্গল বাংলার পশ্চিমাঞ্চলের লোকদেবতা ধর্মঠাকুরের মাহাত্ম্যকাব্যবাঁকুড়া, মেদিনীপুর, বীরভূম অঞ্চলে ধর্মঠাকুরের পূজা বিশেষ প্রচলিতঅনেক পণ্ডিত মনে করেন ধর্মঠাকুর মূলত বৌদ্ধ 'ধর্মরাজ'-এর হিন্দু রূপান্তরএটি বাংলায় হিন্দু-বৌদ্ধ সংস্কৃতির মিলনের একটি দুর্লভ প্রমাণধর্মমঙ্গলের প্রধান নায়ক লাউসেনএকজন বীর যোদ্ধা যিনি ধর্মঠাকুরের বরপুত্র

কবির নাম

কাল

কাব্যের নাম

বিশেষত্ব

ময়ূর ভট্ট

আনু. ১৪ শতক

প্রাচীনতম ধর্মমঙ্গল কবি

রূপরাম চক্রবর্তী

১৭ শতক

ধর্মমঙ্গল

প্রধান কবি

ঘনরাম চক্রবর্তী

১৭-১৮ শতক

শ্রীধর্মমঙ্গল

সর্বাধিক পরিচিত ধর্মমঙ্গল কবি

ধর্মঠাকুর

বাংলার পশ্চিমাঞ্চলের লোকদেবতাবৌদ্ধ ধর্মরাজের হিন্দু রূপান্তর বলে বিশেষজ্ঞরা মনে করেনতিনি মূলত সৌভাগ্য, ধর্মন্যায়বিচারের দেবতাতাঁর পূজায় বৌদ্ধ আচারের কিছু উপাদান এখনও রয়েছেযা হিন্দু-বৌদ্ধ মিলনের প্রমাণ

লাউসেন

ধর্মমঙ্গলের প্রধান মানব চরিত্রধর্মঠাকুরের বরপুত্র বলে পরিচিত এই বীর যোদ্ধাতাঁর জীবনে ধর্মঠাকুরের আশীর্বাদে অলৌকিক ঘটনা ঘটেলাউসেনের সংগ্রামের মধ্য দিয়ে ধর্মঠাকুরের মাহাত্ম্য প্রকাশিত হয়চরিত্রটি মধ্যযুগীয় বাংলার বীরগাথার এক উজ্জ্বল নিদর্শন

📖 কাহিনি-সংক্ষেপ: ধর্মমঙ্গললাউসেনের বীরত্বগাথা

━━━━━━━━━━━━━━━━━━━━━━━━

ধর্মমঙ্গলের কাহিনি মূলত পশ্চিম বাংলার লোককাহিনির উপর ভিত্তি করে গড়ে উঠেছেধর্মঠাকুরের বরপুত্র লাউসেন জন্মগতভাবেই অসাধারণ শক্তিশালী

লাউসেনের জীবনে নানা বিপদ আসেশত্রুরা তাঁকে বারবার পরাজিত করতে চায়কিন্তু ধর্মঠাকুরের আশীর্বাদে তিনি প্রতিবার জয়ী হন

লাউসেনের বীরত্বের কাহিনি প্রজারা গল্পের মতো বলে বেড়াততাঁর বিজয়ের মধ্য দিয়ে ধর্মঠাকুরের মাহাত্ম্য সারা বাংলায় ছড়িয়ে পড়ে

ধর্মমঙ্গলে ধর্মঠাকুরের মাহাত্ম্যের পাশাপাশি পশ্চিম বাংলার লোকজীবন, যুদ্ধবিদ্যাগ্রামীণ সংস্কৃতির অপূর্ব চিত্র পাওয়া যায়

🎯 MCQ প্রশ্নোত্তর

1. ধর্মমঙ্গলের সর্বাধিক পরিচিত কবি?

ঘনরাম চক্রবর্তী

2. ঘনরামের কাব্যের নাম?

শ্রীধর্মমঙ্গল

3. ধর্মমঙ্গলের প্রধান নায়ক?

লাউসেন

4. ধর্মঠাকুর মূলত কোন ধর্মের রূপান্তর?

বৌদ্ধ ধর্মরাজ

📝 হিন্দু-বৌদ্ধ সংমিশ্রণের প্রমাণ

5. ধর্মঠাকুর কোন অঞ্চলের দেবতা?

বাঁকুড়া-মেদিনীপুর-বীরভূম

6. ধর্মমঙ্গলের প্রাচীনতম কবি?

ময়ূর ভট্ট

অন্নদামঙ্গল

ভারতচন্দ্র রায়গুণাকর · মঙ্গলকাব্যের সর্বশেষমহত্তম নিদর্শন · ১৭৫২-৫৩ খ্রিস্টাব্দ

অন্নদামঙ্গলভারতচন্দ্র রায়গুণাকরবিস্তারিত আলোচনা

অন্নদামঙ্গল মঙ্গলকাব্যধারার সর্বশেষ এবং একই সাথে সর্বোচ্চ শিল্পমানের কাব্যএটি রচনা করেছেন ভারতচন্দ্র রায়গুণাকরমধ্যযুগীয় বাংলা সাহিত্যের সর্বশেষসর্বশ্রেষ্ঠ কবিতাঁর কাব্যে মঙ্গলকাব্যের ঐতিহ্য বহন করার পাশাপাশি আধুনিকতার নতুন হাওয়াও অনুভূত হয়অন্নদামঙ্গলে তিনটি আলাদা খণ্ড রয়েছেপ্রতিটি স্বতন্ত্র কিন্তু পরস্পর সম্পর্কিত

ভারতচন্দ্র সম্পর্কে সকল গুরুত্বপূর্ণ তথ্য

জন্মসাল: ১৭১২ খ্রিস্টাব্দ

মৃত্যুসাল: ১৭৬০ খ্রিস্টাব্দ

জন্মস্থান: পেঁড়ো গ্রাম, হুগলি জেলা (মতান্তরে ভূরশুট পরগনা)।

উপাধি: 'রায়গুণাকর' — প্রদান করেছিলেন মহারাজ কৃষ্ণচন্দ্র রায়

পৃষ্ঠপোষক: নদিয়ার মহারাজ কৃষ্ণচন্দ্র রায়

প্রধান কাব্য: অন্নদামঙ্গল (রচনাকাল ১৭৫২/৫৩ খ্রি.)।

তিনি মধ্যযুগের শেষ শ্রেষ্ঠ কবিমঙ্গলকাব্যের শ্রেষ্ঠ কবি নন (সেটি মুকুন্দরাম)।

তাঁর কাব্যে শৃঙ্গার রস, রসিকতাআধুনিক চিন্তার মিশ্রণ ঘটেছে

অন্নদামঙ্গলের তিনটি খণ্ড

অন্নদামঙ্গলের তিন খণ্ডের পরিচয়

প্রথম খণ্ড (অন্নদামঙ্গল): দেবী অন্নদার মাহাত্ম্য বর্ণনাশিবঅন্নদার কথোপকথনপূজা প্রচারের কাহিনি

দ্বিতীয় খণ্ড (বিদ্যাসুন্দর / কালিকামঙ্গল): বিদ্যাসুন্দরের প্রেমকাহিনিদেবী কালিকার সহায়তায় মিলনশৃঙ্গাররসের শ্রেষ্ঠ উদাহরণ

তৃতীয় খণ্ড (মানসিংহ-ভবানন্দ উপাখ্যান): ঐতিহাসিক চরিত্র মানসিংহ (আকবরের সেনাপতি) ও ভবানন্দ মজুমদারের কাহিনি

অন্নদামঙ্গলের মূল চরিত্র বিশ্লেষণ

দেবী অন্নদা (কালী)

বাংলার শক্তিরূপিণী দেবী। 'অন্নদা' মানে যিনি অন্ন দেনমাতৃরূপে ভক্তের ক্ষুধা মেটানতিনি কালীদুর্গার আরেক রূপভারতচন্দ্রের কাব্যে অন্নদার ভূমিকা মাতৃস্নেহময়ী দেবী হিসেবে

ঈশ্বরী পাটনী

অন্নদামঙ্গলের অন্যতম মর্মস্পর্শী চরিত্রদরিদ্র মাঝি মহিলাদেবীর কাছে তাঁর একটাই প্রার্থনা — 'আমার সন্তান যেন থাকে দুধে ভাতে।' এই সহজ কিন্তু গভীর প্রার্থনা বাংলার চিরন্তন মাতৃহৃদয়ের প্রতীক হয়ে উঠেছেসাধারণ মানুষের স্বপ্নের এত সুন্দর প্রকাশ বাংলা সাহিত্যে বিরল

বিদ্যা

বিদ্যাসুন্দর খণ্ডের নায়িকাকাঞ্চিনগরের রাজা বীরসিংহের কন্যাঅসাধারণ রূপবতীবুদ্ধিমতীতিনি প্রতিজ্ঞা করেছিলেন যদি কেউ তাঁর শয্যায় তিন রাত লুকিয়ে থাকতে পারেন তবেই বিয়ে করবেনপ্রেমে সাহসী এই নায়িকা মধ্যযুগীয় বাংলার নারীচরিত্রে ব্যতিক্রমী

সুন্দর

বিদ্যাসুন্দর খণ্ডের নায়ককান্যকুব্জের রাজকুমারদেবী কালিকার ভক্তবিদ্যার পণ শুনে দেবীর আশীর্বাদ নিয়ে পরীক্ষায় অবতীর্ণ হনতিন রাত বিদ্যার কক্ষে লুকিয়ে থেকে পণ জিতে বিয়ে করেনরোমান্টিক প্রেমের চরিত্র হিসেবে সুন্দর মধ্যযুগীয় বাংলার অনন্য সৃষ্টি

মানসিংহ

তৃতীয় খণ্ডের ঐতিহাসিক চরিত্রআকবরের প্রধান সেনাপতিতাঁর মাধ্যমে মুঘল ইতিহাসবাংলার ইতিহাস এই কাব্যে যুক্ত হয়েছেমানসিংহ চরিত্রের উপস্থিতি অন্নদামঙ্গলকে একটি ঐতিহাসিক মাত্রা দিয়েছে

📖 কাহিনি-সংক্ষেপ: বিদ্যাসুন্দরপ্রেমরোমাঞ্চের কাহিনি

━━━━━━━━━━━━━━━━━━━━━━━━━━━━━━━━━━━━━━━━━━━━━━━━━━━━━━━

কাঞ্চিনগরের রাজা বীরসিংহের কন্যা বিদ্যা অসাধারণ সুন্দরীমেধাবীতিনি একটি পণ করলেনযে যুবক তিন রাত তাঁর শয্যার পাশে অদৃশ্য থাকতে পারবে, তাকেই বিয়ে করবেনঅনেক রাজপুত্র চেষ্টা করে ব্যর্থ হয়েছেন

কান্যকুব্জের রাজকুমার সুন্দর এই পণের কথা শুনলেনতিনি দেবী কালিকার পরম ভক্তদেবীর আশীর্বাদ নিয়ে তিনি কাঞ্চিনগরে পৌঁছালেন

দেবী কালিকার কৃপায় সুন্দর তিন রাত অদৃশ্য থেকে বিদ্যার কাছে থাকলেনবিদ্যা প্রথমে বিরক্ত হলেন, তারপর কৌতূহলী হলেন এবং শেষে সুন্দরের প্রেমে পড়লেন

চতুর্থ দিন বিদ্যা নিজেই সুন্দরকে ধরা দেওয়ার সুযোগ দিলেনপণ পূর্ণ হলোরাজার সামনে সুন্দর নিজের পরিচয় দিলেন এবং বিদ্যা-সুন্দরের বিবাহ হলো

ভারতচন্দ্রের এই কাব্যাংশ শৃঙ্গার রসের শ্রেষ্ঠ নিদর্শনরোমান্টিক প্রেমের এই চিত্রে মধ্যযুগীয় বাংলার সাহিত্যে এক নতুন মাত্রা যোগ হয়েছে

📖 কাহিনি-সংক্ষেপ: অন্নদামঙ্গলদেবীঈশ্বরী পাটনীর কথা

━━━━━━━━━━━━━━━━━━━━━━━━━━━━━━━━━━━━━━━━━━━━━━━━━━━━━━━

দেবী অন্নদা ভক্তের মঙ্গলের জন্য পৃথিবীতে তাঁর মাহাত্ম্য প্রচার করতে চানশিব-অন্নদার কথোপকথনে দেবীর মহিমা বর্ণিত হয়

গল্পে আসেন ঈশ্বরী পাটনীএক দরিদ্র মাঝি মহিলাতিনি নদীতে মাঝি হয়ে যাত্রী পারাপার করেনদেবী একদিন যাত্রী হিসেবে তাঁর নৌকায় উঠলেন

ঈশ্বরী পাটনী দেবীকে চিনতে পারলেন এবং ভক্তিভরে নৌকা বাইলেনদেবী সন্তুষ্ট হয়ে তাঁকে বর দিতে চাইলেন

ঈশ্বরী পাটনী কোনো রাজত্ব, ধন-সম্পদ চাইলেন নাতিনি শুধু বললেন — 'আমার সন্তান যেন থাকে দুধে ভাতে।' এই সহজ, আন্তরিক প্রার্থনায় দেবী মুগ্ধ হলেন

দেবী বর দিলেনঈশ্বরী পাটনীর সন্তান সুখে-সমৃদ্ধিতে রইলোএই ক্ষুদ্র ঘটনাটিই ভারতচন্দ্রের হাতে বাংলা সাহিত্যের সবচেয়ে মর্মস্পর্শী দৃশ্যে পরিণত হয়েছে

ভারতচন্দ্রের বিখ্যাত উক্তিপঙক্তি

আমার সন্তান যেন থাকে দুধে ভাতে।”

ঈশ্বরী পাটনীঅন্নদামঙ্গল (ভারতচন্দ্র রায়গুণাকর)

নগর পুড়িলে দেবালয় কি এড়ায়।”

ভারতচন্দ্র রায়গুণাকরঅন্নদামঙ্গল

বিদ্যার সাগর তুমি বিখ্যাত ভারতেকরুণার সিন্ধু তুমি সেই পরিচিতে।”

ভারতচন্দ্র রচিত বন্দনা

🎯 MCQ প্রশ্নোত্তর

1. 'অন্নদামঙ্গল'-এর রচয়িতা?

ভারতচন্দ্র রায়গুণাকর

2. ভারতচন্দ্রের উপাধি?

রায়গুণাকর

📝 মহারাজ কৃষ্ণচন্দ্র রায় প্রদত্ত

3. ভারতচন্দ্রের পৃষ্ঠপোষক?

মহারাজ কৃষ্ণচন্দ্র রায় (নদিয়া)

4. ভারতচন্দ্রের জন্মসাল?

✓ ১৭১২ খ্রিস্টাব্দ

5. ভারতচন্দ্রের মৃত্যুসাল?

✓ ১৭৬০ খ্রিস্টাব্দ

6. অন্নদামঙ্গলের রচনাকাল?

✓ ১৭৫২ / ১৭৫৩ খ্রিস্টাব্দ

7. 'আমার সন্তান যেন থাকে দুধে ভাতে' — কার কথা?

ঈশ্বরী পাটনীর

📝 ভারতচন্দ্রের নিজের নয়অন্নদামঙ্গলের চরিত্র

8. অন্নদামঙ্গলে কোন ঐতিহাসিক চরিত্র আছেন?

মানসিংহ (আকবরের সেনাপতি)

9. 'বিদ্যাসুন্দর' কোন কাব্যের খণ্ড?

অন্নদামঙ্গল (কালিকামঙ্গল খণ্ড)

📝 বিদ্যাসুন্দর = কালিকামঙ্গলএকই খণ্ডের দুটি নাম

10. মধ্যযুগের শেষ শ্রেষ্ঠ কবি কে?

ভারতচন্দ্র রায়গুণাকর

📝 মঙ্গলকাব্যের শ্রেষ্ঠ কবি ননসেটি মুকুন্দরাম

11. বিদ্যাসুন্দরের নায়িকার নাম?

বিদ্যা (রাজকন্যা)

12. বিদ্যাসুন্দরের নায়কের নাম?

সুন্দর (রাজকুমার)

পরীক্ষায় বিভ্রান্তিকর তথ্য

Most Confusing Facts · Traps · সর্বোচ্চ সতর্কতা প্রয়োজন

পরীক্ষায় সবচেয়ে বেশি ভুল হয় যেসব তথ্যে

সর্বোচ্চ বিভ্রান্তিকর তথ্যমনে রাখুন

মনসামঙ্গলের প্রাচীনতম কবি = কানাহরি দত্ত; প্রধান কবি = বিজয়গুপ্তদুটো আলাদা প্রশ্ন!

চণ্ডীমঙ্গলের প্রাচীনতম কবি = মানিক দত্ত; শ্রেষ্ঠ কবি = মুকুন্দরামদুটো আলাদা প্রশ্ন!

মুকুন্দরামের কাব্যের আসল নাম 'অভয়ামঙ্গল' — 'কবিকঙ্কণ চণ্ডী' পরে প্রচলিত হয়

মঙ্গলকাব্যের শ্রেষ্ঠ ধারা = চণ্ডীমঙ্গল; শ্রেষ্ঠ কবি = মুকুন্দরাম

ভারতচন্দ্র মঙ্গলকাব্যের শ্রেষ্ঠ কবি ননতিনি মধ্যযুগের শেষ শ্রেষ্ঠ কবি

▸ 'আমার সন্তান যেন থাকে দুধে ভাতে' — ভারতচন্দ্রের নিজের কথা নয়, 'ঈশ্বরী পাটনী' চরিত্রের

বেহুলার স্বামীর নাম 'লখিন্দর' — 'লক্ষ্মীন্দর' নয়

বিদ্যাসুন্দর = কালিকামঙ্গলদুটি নাম একই খণ্ডের

ধর্মঠাকুর = বৌদ্ধ ধর্মরাজের রূপান্তর

মনসার পিতা = শিবমনসা শিবের মানসকন্যা তাই নাম 'মনসা'।

চাঁদ সদাগর বাম হাতে পূজা দেনডান হাতে নয়

▸ 'পদ্মাপুরাণ' = মনসামঙ্গলকারণ মনসার আরেক নাম পদ্মা

MCQ

🎯 MCQ প্রশ্নোত্তর

1. মঙ্গলকাব্যের সর্বপ্রাচীন ধারা কোনটি?

মনসামঙ্গল

2. মঙ্গলকাব্যের সর্বশ্রেষ্ঠ ধারা কোনটি?

চণ্ডীমঙ্গল

3. মঙ্গলকাব্যের সর্বশেষ নিদর্শন কোনটি?

অন্নদামঙ্গল (ভারতচন্দ্র, ১৭৫২)

4. 'মঙ্গল' শব্দের অর্থ?

শুভ বা কল্যাণ

5. মঙ্গলকাব্যে 'দেবখণ্ড' কী?

দেব-দেবীর মহিমা বর্ণনার অংশ

6. মঙ্গলকাব্যে 'নরখণ্ড' কী?

মানব চরিত্রদের কাহিনিসমাজজীবনের চিত্র

7. মনসামঙ্গলের প্রধান কবি?

বিজয়গুপ্ত

8. মনসামঙ্গলের প্রাচীনতম কবি?

কানাহরি দত্ত

9. বিজয়গুপ্তের কাব্যের নাম?

পদ্মাপুরাণ

📝 মনসার ভাসান নামেও পরিচিত

10. বিজয়গুপ্তের পৃষ্ঠপোষক?

সুলতান হোসেন শাহ

11. বিজয়গুপ্তের রচনাকাল?

✓ ১৪৯৪/৯৫ খ্রিস্টাব্দ

12. বিজয়গুপ্তের জন্মস্থান?

ফুল্লশ্রী গ্রাম, বরিশাল

13. মনসার আরেক নাম?

পদ্মা (এবং বিষহরি, জগৎগৌরী)

14. মনসার পিতা কে?

শিব

📝 মনসা = শিবের মানসকন্যা

15. বেহুলার স্বামীর নাম?

লখিন্দর

📝 লক্ষ্মীন্দর নয়

16. চাঁদ সদাগর কোন হাতে পূজা দেন?

বাম হাতে

17. চাঁদ সদাগর কোন ধর্মের অনুসারী?

শিবভক্ত (শৈব)

18. ক্ষেমানন্দের উপাধি?

কেতকাদাস

19. মনসামঙ্গলের আরেক নাম?

পদ্মাপুরাণ

20. চণ্ডীমঙ্গলের শ্রেষ্ঠ কবি?

মুকুন্দরাম চক্রবর্তী (কবিকঙ্কণ)

21. চণ্ডীমঙ্গলের প্রাচীনতম কবি?

মানিক দত্ত

22. মুকুন্দরামের উপাধি?

কবিকঙ্কণ

📝 রাজা রঘুনাথ রায় প্রদত্ত

23. 'কবিকঙ্কণ চণ্ডী'-র আসল নাম?

অভয়ামঙ্গল

24. মুকুন্দরামের পৃষ্ঠপোষক?

রাজা রঘুনাথ রায়

25. মুকুন্দরামের জন্মস্থান?

দামুন্যা গ্রাম, বর্ধমান

26. আখেটিক খণ্ডের নায়ক?

কালকেতু (দরিদ্র শিকারি)

27. কালকেতুর স্ত্রীর নাম?

ফুল্লারা

28. কালকেতু দেবীর কৃপায় কোথায় রাজা হন?

গুজরাটে

29. বণিক খণ্ডের মূল চরিত্র?

ধনপতি সদাগর

30. ধনপতির দুই স্ত্রীর নাম?

লহনাখুল্লনা

31. ধনপতির পুত্রের নাম?

শ্রীমন্ত

32. ধনপতি সিংহলে কার কন্যাকে বিয়ে করেন?

রাজা বিক্রমাদিত্যের কন্যা সীতাকে

33. মুকুন্দরামের বিখ্যাত 'অষ্টাদশ বর্ণনা' কী?

নগর, গ্রাম, বাজার ইত্যাদির সমাজচিত্র

34. ধর্মমঙ্গলের সর্বাধিক পরিচিত কবি?

ঘনরাম চক্রবর্তী

35. ঘনরামের কাব্যের নাম?

শ্রীধর্মমঙ্গল

36. ধর্মমঙ্গলের প্রধান নায়ক?

লাউসেন

37. ধর্মঠাকুর কোন ধর্মের রূপান্তর?

বৌদ্ধ ধর্মরাজ

38. ধর্মঠাকুরের পূজা কোন অঞ্চলে বেশি?

বাঁকুড়া-মেদিনীপুর-বীরভূম

39. ধর্মমঙ্গলের প্রাচীনতম কবি?

ময়ূর ভট্ট

40. 'অন্নদামঙ্গল'-এর রচয়িতা?

ভারতচন্দ্র রায়গুণাকর

41. ভারতচন্দ্রের উপাধি?

রায়গুণাকর

42. ভারতচন্দ্রের পৃষ্ঠপোষক?

মহারাজ কৃষ্ণচন্দ্র রায়, নদিয়া

43. ভারতচন্দ্রের জন্মসাল?

✓ ১৭১২ খ্রিস্টাব্দ

44. ভারতচন্দ্রের মৃত্যুসাল?

✓ ১৭৬০ খ্রিস্টাব্দ

45. ভারতচন্দ্রের জন্মস্থান?

পেঁড়ো গ্রাম, হুগলি

46. অন্নদামঙ্গলের রচনাকাল?

✓ ১৭৫২/৫৩ খ্রিস্টাব্দ

47. 'আমার সন্তান যেন থাকে দুধে ভাতে' কার কথা?

ঈশ্বরী পাটনীর

📝 ভারতচন্দ্রের নিজের নয়

48. অন্নদামঙ্গলে ঐতিহাসিক চরিত্র কে?

মানসিংহ (আকবরের সেনাপতি)

49. 'বিদ্যাসুন্দর' কোন কাব্যের অংশ?

অন্নদামঙ্গল (কালিকামঙ্গল খণ্ড)

50. মধ্যযুগের শেষ শ্রেষ্ঠ কবি কে?

ভারতচন্দ্র রায়গুণাকর

51. বিদ্যাসুন্দরের নায়িকা?

বিদ্যা

52. বিদ্যাসুন্দরের নায়ক?

সুন্দর

53. বিদ্যাসুন্দরের অন্য নাম?

কালিকামঙ্গল

54. চণ্ডীমঙ্গলে দেবীর বাহন?

সিংহ

55. মনসার বাহন কী?

পদ্ম বা সাপ

56. কোন কাব্যে শিব-অন্নদার কথোপকথন আছে?

অন্নদামঙ্গল

57. মঙ্গলকাব্যে মানব চরিত্রের কাহিনি কোন খণ্ডে?

নরখণ্ডে

58. বিজয়গুপ্তের কাব্য কোন সুলতানের আমলে রচিত?

সুলতান হোসেন শাহ

📝 হোসেন শাহি বংশ

59. মুকুন্দরামের কাব্য কোন সম্রাটের আমলে রচিত?

মুঘল সম্রাট আকবরের আমলে

60. ভারতচন্দ্রের কাব্য কোন নবাবের আমলে?

আলিবর্দি খানের সমসাময়িক

61. 'কবিকঙ্কণ' উপাধি কে দিয়েছিলেন?

রাজা রঘুনাথ রায়

62. 'রায়গুণাকর' উপাধি কে দিয়েছিলেন?

মহারাজ কৃষ্ণচন্দ্র রায়

63. বেহুলা কীভাবে দেবলোকে গেলেন?

কলার ভেলায় মৃত স্বামীকে নিয়ে ভাসতে ভাসতে

64. বেহুলা দেবলোকে কীভাবে দেবতাদের মুগ্ধ করলেন?

অপূর্ব নৃত্যগান পরিবেশন করে

65. কোন মঙ্গলকাব্যে তৎকালীন সমাজজীবনের সবচেয়ে সমৃদ্ধ চিত্র?

চণ্ডীমঙ্গল (মুকুন্দরামের)

66. মনসামঙ্গলের কেন্দ্রীয় দ্বন্দ্ব কী?

শিবভক্ত চাঁদমনসার দ্বন্দ্ব

67. মনসামঙ্গলে চাঁদ সদাগরের কতজন পুত্র ছিলেন?

সাতজন (ছয়জন মৃত, লখিন্দর সপ্তম)

68. বেহুলার বাসর ঘর কীসের তৈরি ছিল?

লোহার

69. মনসামঙ্গলে মনসার আরেক নাম কী?

পদ্মা, বিষহরি, জগৎগৌরী

সারসংক্ষেপদ্রুত পর্যালোচনা

মঙ্গলকাব্য

প্রাচীনতম কবি

প্রধান/শ্রেষ্ঠ কবি

পৃষ্ঠপোষক

বিশেষ তথ্য

মনসামঙ্গল (পদ্মাপুরাণ)

কানাহরি দত্ত

বিজয়গুপ্ত

হোসেন শাহ

১৪৯৪; বরিশাল; বেহুলা-লখিন্দর

চণ্ডীমঙ্গল (অভয়ামঙ্গল)

মানিক দত্ত

মুকুন্দরাম (কবিকঙ্কণ)

রঘুনাথ রায়

বর্ধমান; কালকেতু-ফুল্লারা; ধনপতি

ধর্মমঙ্গল

ময়ূর ভট্ট

ঘনরাম (শ্রীধর্মমঙ্গল)

লাউসেন; বৌদ্ধ প্রভাব

অন্নদামঙ্গল (বিদ্যাসুন্দর)

ভারতচন্দ্র (রায়গুণাকর)

কৃষ্ণচন্দ্র রায়

১৭৫২; ঈশ্বরী পাটনী; মানসিংহ

মুখ্য সূত্রপরীক্ষার আগে মনে করুন

মনসামঙ্গল (প্রাচীনতম): কানাহরি দত্ত (প্রথম) → বিজয়গুপ্ত (প্রধান) → ক্ষেমানন্দ (কেতকাদাস)

চণ্ডীমঙ্গল (শ্রেষ্ঠ): মানিক দত্ত (প্রথম) → মুকুন্দরাম কবিকঙ্কণ (শ্রেষ্ঠ) → অভয়ামঙ্গল = কবিকঙ্কণ চণ্ডী

ধর্মমঙ্গল: ময়ূর ভট্ট (প্রথম) → ঘনরাম (শ্রীধর্মমঙ্গল) → লাউসেন (নায়ক)

অন্নদামঙ্গল (সর্বশেষ): ভারতচন্দ্র রায়গুণাকরকৃষ্ণচন্দ্র রায় → ১৭৫২

মনসামঙ্গলের চরিত্র: চাঁদ সদাগর + মনসা + বেহুলা + লখিন্দর + সনকা

চণ্ডীমঙ্গলের চরিত্র: কালকেতু + ফুল্লারা (আখেটিক) / ধনপতি + লহনা + খুল্লনা + শ্রীমন্ত (বণিক)

অন্নদামঙ্গলের চরিত্র: বিদ্যা + সুন্দর + ঈশ্বরী পাটনী + মানসিংহ

বিখ্যাত উক্তি: 'আমার সন্তান যেন থাকে দুধে ভাতে' → ঈশ্বরী পাটনীঅন্নদামঙ্গল

অধ্যায় সমাপ্ত

Review this chapter

You Can Also Read

Chapters closely related to the one you are reading now.

ভাষা আন্দোলনভিত্তিক সাহিত্য

No reviews
0 students
Read chapter

বৈষ্ণব পদাবলি

No reviews
0 students
Read chapter

মাইকেল মধুসূদন দত্ত

No reviews
0 students
Read chapter

বেগম রোকেয়া

No reviews
0 students
Read chapter

মীর মশাররফ হোসেন

No reviews
0 students
Read chapter

Most Read by Students

Popular picks getting the strongest student traffic right now.

অসহযোগ আন্দোলন (মার্চ ১৯৭১)

No reviews
1 student
Read chapter

নদী, সেতু, পাহাড়, দ্বীপ, বন, সমুদ্রবন্দর

No reviews
1 student
Read chapter

বাংলা ভাষার রীতি

No reviews
1 student
Read chapter

Others Who Read This Also Read

Behavior-based suggestions from student reading patterns where available.

ভাষা আন্দোলনভিত্তিক সাহিত্য

No reviews
0 students
Read chapter

বৈষ্ণব পদাবলি

No reviews
0 students
Read chapter

মাইকেল মধুসূদন দত্ত

No reviews
0 students
Read chapter

বেগম রোকেয়া

No reviews
0 students
Read chapter

মীর মশাররফ হোসেন

No reviews
0 students
Read chapter

Best Reviewed

Chapters earning the strongest student feedback.

ভাষা আন্দোলনভিত্তিক সাহিত্য

No reviews
0 students
Read chapter

বৈষ্ণব পদাবলি

No reviews
0 students
Read chapter

মাইকেল মধুসূদন দত্ত

No reviews
0 students
Read chapter

বেগম রোকেয়া

No reviews
0 students
Read chapter

মীর মশাররফ হোসেন

No reviews
0 students
Read chapter

Course Suggestions

Want a more guided path after this chapter? These courses are the closest fit.

Browse all courses
Learner fit৳1,999

Bangla

Bangla Language Mastery

Popular with BCS learners who want guided study.

6 lessons8.5h4.9 (186)1.3K students

By Sadia Rahman

View course
Learner fit৳2,999

Platform Building

Teacher Marketplace Blueprint

Popular with BCS learners who want guided study.

5 lessons6.8h4.9 (28)410 students

By Sadia Rahman

View course
FreeFree

English

Admission English Playbook

Free guided course with lessons you can jump into anytime.

4 lessons4.2h4.8 (91)2.8K students

By Rayan Akter

View course