ব্যঞ্জনধ্বনি (Consonants)
যেসব ধ্বনি উচ্চারণের সময় ফুসফুস-তাড়িত বাতাস মুখগহ্বরের কোথাও না কোথাও বাধা পায়, তাদের ব্যঞ্জনধ্বনি বলা হয়।
স্পর্শ বা সৃষ্ট ধ্বনি (২৫টি)
'ক' থেকে 'ম' পর্যন্ত ২৫টি ব্যঞ্জনধ্বনি উচ্চারণের সময় বাগযন্ত্রের বিভিন্ন স্থানে স্পর্শ করতে হয় বলে এগুলোর আরেক নাম স্পর্শ ধ্বনি। উচ্চারণস্থান অনুযায়ী এদের ৫টি গুচ্ছে বা বর্গে ভাগ করা হয়:
| বর্গের নাম | উচ্চারণ স্থান | অল্পপ্রাণ | মহাপ্রাণ | অল্পপ্রাণ | মহাপ্রাণ | নাসিক্য |
|---|---|---|---|---|---|---|
| অঘোষ (নাদহীন) | ঘোষ (গম্ভীর নাদ) | |||||
| ক-বর্গ | কণ্ঠ বা জিহ্বামূল | ক | খ | গ | ঘ | ঙ |
| চ-বর্গ | তালু (তালব্য) | চ | ছ | জ | ঝ | ঞ |
| ট-বর্গ | মূর্ধা (পশ্চাৎ দন্তমূল) | ট | ঠ | ড | ঢ | ণ |
| ত-বর্গ | দন্ত (দাঁত) | ত | থ | দ | ধ | ন |
| প-বর্গ | ওষ্ঠ (ঠোঁট) | প | ফ | ব | ভ | ম |
অঘোষ বনাম घोष ধ্বনি
- অঘোষ ধ্বনি:
- যে ধ্বনি উচ্চারণের সময় স্বরতন্ত্রি অনুরণিত হয় না বা কাঁপে না। (বর্গের ১ম ও ২য় ধ্বনি: ক, খ, চ, ছ...)
- ঘোষ ধ্বনি:
- যে ধ্বনি উচ্চারণে স্বরতন্ত্রি অনুরণিত হয় বা কাঁপে এবং গম্ভীর নাদ তৈরি হয়। (বর্গের ৩য়, ৪র্থ, ও ৫ম ধ্বনি: গ, ঘ, ঙ...)
অল্পপ্রাণ বনাম মহাপ্রাণ ধ্বনি
- অল্পপ্রাণ ধ্বনি:
- যে ধ্বনি উচ্চারণে বাতাসের আধিক্য থাকে না (শ্বাস কম লাগে)। (বর্গের ১ম ও ৩য় ধ্বনি: ক, গ, চ, জ...)
- মহাপ্রাণ ধ্বনি:
- যে ধ্বনি উচ্চারণে বাতাসের আধিক্য থাকে (জোরে শ্বাস বের হয়)। (বর্গের ২য় ও ৪র্থ ধ্বনি: খ, ঘ, ছ, ঝ...)
বিবিধ ও বিশেষ ব্যঞ্জনধ্বনি
উচ্চারণের সময় শিস দিয়ে বাতাস বের হয়ে যায় বলে এদের উষ্ম বা শিস ধ্বনি বলে। 'হ' ঘোষ মহাপ্রাণ উষ্ম ধ্বনি।
উচ্চারণের সময় জিহ্বার অগ্রভাগ দন্তমূল বা তালুর ঠিক সামনের অংশকে একাধিকবার দ্রুত আঘাত করে কাঁপিয়ে তোলে।
জিহ্বার সামনের অংশ উল্টিয়ে তালুতে একপ্রকার তাড়না বা এক ঝটকায় যে ধ্বনি উচ্চারিত হয়।
উচ্চারণের সময় বাতাস জিহ্বার দুই পাশ দিয়ে বের হয়ে যায়। এটি দন্তমূলীয় ঘোষ ধ্বনি।
পরাশ্রয়ী ধ্বনি (৩টি)
ং (অনুস্বার), ঃ (বিসর্গ), ঁ (চন্দ্রবিন্দু)। এগুলো অন্য কোনো ধ্বনির আশ্রয় ছাড়া স্বাধীনভাবে উচ্চারিত হতে পারে না।