ধ্বনি ও বর্ণ (Sound and Letter)
বিসিএস, ব্যাংক, প্রাইমারি এবং অন্যান্য প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষার জন্য সর্বাঙ্গীণ ও পূর্ণাঙ্গ লেকচার শিট।
১ ধ্বনি কী?
ভাষার সবচেয়ে ক্ষুদ্রতম একক হলো ধ্বনি (Sound)। মানুষের বাক্যন্ত্রের (ফুসফুস, গলনালি, তালু, দাঁত, ঠোঁট ইত্যাদি) সাহায্যে উচ্চারিত অর্থবোধক আওয়াজকেই ধ্বনি বলে।
অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ পার্থক্য
- ধ্বনি: দৃশ্যমান নয়, কেবল উচ্চারণীয় ও শ্রবণীয়।
- বর্ণ: ধ্বনির লিখিত বা দৃশ্যমান রূপকে বর্ণ (Letter) বলে।
- অক্ষর (Syllable): এক নিঃশ্বাসে বা স্বল্পতম প্রয়াসে শব্দের যেটুকু অংশ উচ্চারণ করা যায়। (যেমন: 'বন্ধন' শব্দে দুটি অক্ষর: বন্ + ধন)।
স্বরধ্বনি (Vowels)
মৌলিক স্বরধ্বনি
বাংলা বর্ণমালায় স্বরবর্ণ ১১টি হলেও, মৌলিক স্বরধ্বনি ৭টি।
যৌগিক স্বরধ্বনি
বাংলা ভাষায় যৌগিক স্বরধ্বনি ২৫টি। তবে এর লিখিত বর্ণ আছে মাত্র ২টি।
- ঐ ও / অ + ই
- ঔ ও / অ + উ
ব্যঞ্জনধ্বনি ও বর্গীয় বর্ণ
ক থেকে ম পর্যন্ত ২৫টি বর্ণকে বর্গীয় বর্ণ বা স্পর্শ বর্ণ বলা হয়। এদের ৫টি বর্গে ভাগ করা হয়।
| বর্গ | উচ্চারণ স্থান | অঘোষ অল্পপ্রাণ (১ম) |
অঘোষ মহাপ্রাণ (২য়) |
ঘোষ অল্পপ্রাণ (৩য়) |
ঘোষ মহাপ্রাণ (৪র্থ) |
নাসিক্য ঘোষ (৫ম) |
|---|---|---|---|---|---|---|
| ক-বর্গ | কণ্ঠ বা জিহ্বামূল | ক | খ | গ | ঘ | ঙ |
| চ-বর্গ | তালু (তালব্য) | চ | ছ | জ | ঝ | ঞ |
| ট-বর্গ | মূর্ধা (মূর্ধন্য) | ট | ঠ | ড | ঢ | ণ |
| ত-বর্গ | দাঁত (দন্ত্য) | ত | থ | দ | ধ | ন |
| প-বর্গ | ঠোঁট (ওষ্ঠ্য) | প | ফ | ব | ভ | ম |
ঘোষ ও অঘোষ
অঘোষ: উচ্চারণের সময় স্বরতন্ত্রী কাঁপে না। (বর্গের ১ম ও ২য় ধ্বনি)।
ঘোষ: উচ্চারণের সময় স্বরতন্ত্রী কাঁপে। (বর্গের ৩য় ও ৪র্থ এবং নাসিক্য ধ্বনি)।
অল্পপ্রাণ ও মহাপ্রাণ
অল্পপ্রাণ: উচ্চারণে বাতাসের চাপ কম থাকে। (বর্গের ১ম ও ৩য় ধ্বনি)।
মহাপ্রাণ: উচ্চারণে বাতাসের চাপ বেশি থাকে। (বর্গের ২য় ও ৪র্থ ধ্বনি)।
উচ্চারণের সময় শ্বাস যতক্ষণ খুশি ধরে রাখা যায়। এর মধ্যে 'হ' হলো ঘোষ মহাপ্রাণ।
জিহ্বার অগ্রভাগ কম্পিত করে 'র' উচ্চারিত হয়।
উচ্চারণের সময় বাতাস জিহ্বার দুই পাশ দিয়ে বেরিয়ে যায়।
ধ্বনি পরিবর্তন
উচ্চারণের সুবিধা, দ্রুততা বা আঞ্চলিকতার কারণে শব্দের ধ্বনির পরিবর্তন ঘটে থাকে। বিসিএস পরীক্ষায় এখান থেকে নিশ্চিত ১/২ মার্কস পাওয়া যায়।
অপিনিহিতি
পরের 'ই-কার' বা 'উ-কার' আগেই উচ্চারিত হলে তাকে অপিনিহিতি বলে।
অভিশ্রুতি
অপিনিহিতির ফলে উৎপন্ন স্বরধ্বনিটি লোপ পেয়ে পূর্ববর্তী স্বরধ্বনির সাথে মিশে গেলে তাকে অভিশ্রুতি বলে। সাধু ভাষা থেকে চলিত ভাষায় রূপান্তর মূলত অভিশ্রুতি।
বিপ্রকর্ষ বা স্বরভক্তি
যুক্ত ব্যঞ্জনধ্বনির মাঝখানে স্বরধ্বনির আগমন ঘটলে তাকে বিপ্রকর্ষ বলে।
সমীভবন ও বিসমীভবন
সমীভবন: দুটি ভিন্ন ধ্বনি একে অপরের প্রভাবে একই রকম হয়ে যাওয়া।
জন্ম > জম্ম, পক্ব > পক্ক
বিসমীভবন: দুটো সমধ্বনির একটি পরিবর্তিত হওয়া।
লাল > নাল, শরীর > শরীল
ধ্বনি বিপর্যয় ও ব্যঞ্জনচ্যুতি
ধ্বনি বিপর্যয়: শব্দের মধ্যে দুটি ব্যঞ্জনের পরস্পর স্থান পরিবর্তন।
বাক্স > বাস্ক, পিশাচ > পিচাশ
ব্যঞ্জনচ্যুতি: পাশাপাশি দুটি সমোচ্চারিত ব্যঞ্জনের একটি লোপ পাওয়া।
বড়দাদা > বর্দা, বউদিদি > বউদি
চটজলদি প্রশ্নোত্তর
বিগত বছরের বিসিএস ও প্রাইমারি সরকারি শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষায় বারবার আসা গুরুত্বপূর্ণ কিছু প্রশ্ন।
বর্ণ হলো ধ্বনির লিখিত রূপ, আর অক্ষর হলো এক নিঃশ্বাসে উচ্চারিত অংশ।
মাঝখানের ব্যঞ্জনধ্বনি 'প' লোপ পাওয়ায় এটি অন্তর্হতি।
বর্গের ১ম ও ২য় ধ্বনি সবসময় অঘোষ ধ্বনি হয়।
বর্গের প্রথম বর্ণ (ক, চ, ট, ত, প) অঘোষ অল্পপ্রাণ।
✨ নিয়মিত অনুশীলন করুন। সফলতা আসবেই! ✨