বাচ্য |
১. বাচ্য কী — মূল ধারণা
'বাচ্য' শব্দটি এসেছে সংস্কৃত 'বচ্' ধাতু থেকে, যার অর্থ বলা। বাক্যে ক্রিয়ার সাথে কর্তা বা কর্মের যে সম্পর্ক প্রকাশিত হয়, তার উপর ভিত্তি করে বাক্যের যে বিশেষ গঠনরীতি গড়ে ওঠে, তাকেই বাচ্য বলে। সহজভাবে বলতে গেলে, বাচ্য হলো বাক্যে ক্রিয়া কার অনুসরণ করছে — কর্তার, নাকি কর্মের, নাকি ভাবের — তার রূপান্তর পদ্ধতি।
বাচ্যের সংজ্ঞা |
বাক্যে ক্রিয়াপদের সঙ্গে কর্তা, কর্ম বা ভাবের যে সম্পর্ক প্রকাশিত হয় এবং সেই সম্পর্ক অনুযায়ী ক্রিয়া যে বিশেষ রূপ গ্রহণ করে, তাকে বাচ্য (Voice) বলে। |
বাচ্য মূলত নির্ধারণ করে: বাক্যে কার প্রাধান্য — কর্তার নাকি কর্মের নাকি ক্রিয়ার ভাবের? এই প্রাধান্যের পরিবর্তনেই বাচ্যের পরিবর্তন ঘটে। |
বাচ্যের মাধ্যমে আমরা একই অর্থ বিভিন্ন দৃষ্টিভঙ্গি থেকে প্রকাশ করতে পারি। যেমন:
একই ঘটনা — তিন ধরনের বাচ্যে প্রকাশ |
কর্তৃবাচ্য: রাহেলা ভাত রান্না করে। → কর্তা (রাহেলা) প্রধান |
কর্মবাচ্য: রাহেলা কর্তৃক ভাত রান্না করা হয়। → কর্ম (ভাত) প্রধান |
ভাববাচ্য: রাহেলার ভাত রান্না করা হয়। → ক্রিয়ার ভাব প্রধান |
২. বাচ্যের শ্রেণিবিভাগ
বাংলা ব্যাকরণে বাচ্যকে প্রধানত চার ভাগে ভাগ করা হয়। প্রতিটি বাচ্যে ক্রিয়ার সম্পর্ক এবং বাক্যের কেন্দ্রবিন্দু ভিন্ন হয়।
বাচ্য | ইংরেজি নাম | কেন্দ্রবিন্দু | উদাহরণ |
কর্তৃবাচ্য | Active Voice | কর্তা | সে ভাত খায়। |
কর্মবাচ্য | Passive Voice | কর্ম | তার দ্বারা ভাত খাওয়া হয়। |
ভাববাচ্য | Impersonal Voice | ক্রিয়ার ভাব | তার ঘুমানো হয় না। |
কর্মকর্তৃবাচ্য | Middle Voice | কর্তা নিজেই কর্ম | কলমটি লেখে। |
৩. কর্তৃবাচ্য (Active Voice)
৩.১ সংজ্ঞা ও বৈশিষ্ট্য
কর্তৃবাচ্যের সংজ্ঞা |
যে বাচ্যে বাক্যের ক্রিয়াপদ কর্তার অনুসারী হয় — অর্থাৎ ক্রিয়া কর্তার পুরুষ, বচন ও কাল অনুযায়ী রূপান্তরিত হয় এবং বাক্যে কর্তাই প্রধান থাকে, তাকে কর্তৃবাচ্য বলে। |
ইংরেজিতে এটিকে Active Voice বলা হয়। এটি সবচেয়ে স্বাভাবিক ও বহুল ব্যবহৃত বাচ্য। |
কর্তৃবাচ্যে সাধারণত কর্তা 'কে' বা 'রা' বিভক্তিযুক্ত হয় এবং ক্রিয়া সেই কর্তার অনুগামী। |
৩.২ কর্তৃবাচ্যের বৈশিষ্ট্যসমূহ
➤ বাক্যে কর্তা স্পষ্ট ও প্রধান ভূমিকায় থাকে।
➤ ক্রিয়া কর্তার পুরুষ ও বচন অনুযায়ী পরিবর্তিত হয়।
➤ কর্ম থাকলে তা গৌণ ভূমিকায় থাকে।
➤ বাক্যের গঠন সাধারণত: কর্তা + ক্রিয়া বা কর্তা + কর্ম + ক্রিয়া।
➤ এটিই সবচেয়ে সরল ও প্রাকৃতিক বাচ্য।
৩.৩ কর্তৃবাচ্যের উদাহরণ ও বিশ্লেষণ
কর্তৃবাচ্যের উদাহরণ (কালভেদে) |
[বর্তমান কাল] সে প্রতিদিন বই পড়ে। → কর্তা: সে | ক্রিয়া: পড়ে (সে-র অনুগামী) |
[অতীত কাল] রাহেলা চিঠি লিখল। → কর্তা: রাহেলা | ক্রিয়া: লিখল |
[ভবিষ্যৎ কাল] তারা কাজ করবে। → কর্তা: তারা | ক্রিয়া: করবে |
[সাধারণ বর্তমান] শিক্ষক পড়ান। → কর্তা: শিক্ষক | ক্রিয়া: পড়ান |
[নেতিবাচক] সে কাজ করে না। → কর্তা: সে | নেতিবাচক ক্রিয়া |
[বহুবচন কর্তা] ছাত্ররা গান গায়। → কর্তা: ছাত্ররা | ক্রিয়া: গায় (বহুবচনানুগামী) |
[প্রশ্নবাচক] তুমি কি বাজারে যাবে? → কর্তা: তুমি | প্রশ্নবাচক ক্রিয়া |
৪. কর্মবাচ্য (Passive Voice)
৪.১ সংজ্ঞা ও বৈশিষ্ট্য
কর্মবাচ্যের সংজ্ঞা |
যে বাচ্যে বাক্যের ক্রিয়াপদ কর্মের অনুসারী হয় — অর্থাৎ ক্রিয়া কর্মের পুরুষ ও বচন অনুযায়ী রূপান্তরিত হয় এবং বাক্যে কর্মই প্রধান থাকে, তাকে কর্মবাচ্য বলে। |
ইংরেজিতে এটিকে Passive Voice বলা হয়। কর্তৃবাচ্যের বাক্যকে কর্মবাচ্যে রূপান্তরিত করা পরীক্ষায় সবচেয়ে বেশি আসা বিষয়। |
কর্মবাচ্যে কর্তা 'কর্তৃক', 'দ্বারা', 'দিয়ে' ইত্যাদি অনুসর্গযুক্ত হয়ে গৌণ হয়ে পড়ে এবং কখনো কখনো কর্তা অনুপস্থিত থাকে। |
৪.২ কর্মবাচ্যের বৈশিষ্ট্যসমূহ
➤ বাক্যে কর্ম প্রধান ভূমিকায় আসে, কর্তা গৌণ বা অনুপস্থিত হয়।
➤ ক্রিয়া কর্মের পুরুষ ও বচন অনুযায়ী পরিবর্তিত হয়।
➤ কর্তাকে প্রকাশ করতে 'কর্তৃক', 'দ্বারা', 'দিয়ে' অনুসর্গ ব্যবহৃত হয়।
➤ কর্মবাচ্যে ক্রিয়ার সাথে 'হওয়া' ধাতুর সংযোগ ঘটে (হয়, হলো, হবে)।
➤ মূল ক্রিয়ার ভূতকালীন কৃদন্ত রূপ (যেমন: করা, খাওয়া, লেখা) ব্যবহৃত হয়।
➤ গঠন: কর্ম + ক্রিয়ামূল+আ/ওয়া + হওয়া ধাতুর রূপ।
৪.৩ কর্তৃবাচ্য থেকে কর্মবাচ্যে রূপান্তরের সূত্র
কর্মবাচ্য গঠনের সূত্র |
ধাপ ১ → কর্তৃবাচ্যের কর্মপদটি কর্মবাচ্যের কর্তায় পরিণত হয় (বিভক্তি পরিবর্তিত হয়)। |
ধাপ ২ → কর্তৃবাচ্যের কর্তাপদটি 'কর্তৃক' / 'দ্বারা' / 'দিয়ে' যোগ করে গৌণ কর্তায় পরিণত হয়। |
ধাপ ৩ → মূল ক্রিয়াটিকে কৃদন্ত রূপে (ক্রিয়ামূল + আ/ওয়া) রূপান্তর করুন। |
ধাপ ৪ → 'হওয়া' ধাতুর উপযুক্ত কালীন ও পুরুষানুগ রূপ যোগ করুন। |
ধাপ ৫ → নতুন কর্তা (পুরোনো কর্ম) অনুযায়ী 'হওয়া' ধাতুর রূপ নির্ধারণ করুন। |
৪.৪ পুরুষ ও কালভেদে কর্মবাচ্যের ক্রিয়ারূপ
কর্মবাচ্যে ক্রিয়া নতুন কর্তার (পুরোনো কর্মের) পুরুষ ও কাল অনুসারে পরিবর্তিত হয়। নিচে কাল ও পুরুষ অনুযায়ী রূপ দেওয়া হলো:
কাল | উত্তম পুরুষ (আমি/আমরা) | মধ্যম পুরুষ (তুমি/তোমরা) | প্রথম পুরুষ (সে/তারা/তিনি) |
সাধারণ বর্তমান | করা হয় / লেখা হয় | করা হয় / খাওয়া হয় | করা হয় / পড়া হয় |
ঘটমান বর্তমান | করা হচ্ছে | করা হচ্ছে | করা হচ্ছে |
পুরাঘটিত বর্তমান | করা হয়েছে | করা হয়েছে | করা হয়েছে |
সাধারণ অতীত | করা হলো / করা হয়েছিল | করা হলে / হয়েছিল | করা হলো / করা হয়েছিল |
ঘটমান অতীত | করা হচ্ছিল | করা হচ্ছিল | করা হচ্ছিল |
সাধারণ ভবিষ্যৎ | করা হবে | করা হবে | করা হবে |
অনুজ্ঞা (আদেশ) | করা হোক / হোক না | করা হোক | করা হোক |
৪.৫ কর্মবাচ্যের উদাহরণ ও কর্তৃবাচ্যের সাথে তুলনা
কর্তৃবাচ্য | কর্মবাচ্য |
সে ভাত খায়। | তার দ্বারা ভাত খাওয়া হয়। |
রাহেলা চিঠি লিখল। | রাহেলা কর্তৃক চিঠি লেখা হলো। |
শিক্ষক বইটি পড়াবেন। | শিক্ষক কর্তৃক বইটি পড়ানো হবে। |
তারা গান গাইছে। | তাদের দ্বারা গান গাওয়া হচ্ছে। |
আমি চিঠি লিখেছি। | আমার দ্বারা চিঠি লেখা হয়েছে। |
তুমি কাজটি করবে। | তোমার দ্বারা কাজটি করা হবে। |
পুলিশ চোরটিকে ধরল। | পুলিশ কর্তৃক চোরটিকে ধরা হলো। |
মা শিশুটিকে ঘুম পাড়াল। | মা কর্তৃক শিশুটিকে ঘুম পাড়ানো হলো। |
ছেলেটি বলটি ছুঁড়ল। | ছেলেটি কর্তৃক বলটি ছোঁড়া হলো। |
সরকার আইনটি পাস করেছে। | সরকার কর্তৃক আইনটি পাস করা হয়েছে। |
💡 মনে রাখুন: কর্মবাচ্যে কর্তা সবসময় উপস্থিত থাকে না। অজানা বা অপ্রাসঙ্গিক কর্তার ক্ষেত্রে 'কর্তৃক' বাদ দিয়ে বলা যায়। যেমন: 'চোরটি ধরা পড়ল' বা 'কাজটি করা হলো'। এ ধরনের বাক্যও কর্মবাচ্য। |
৫. ভাববাচ্য (Impersonal Voice)
৫.১ সংজ্ঞা ও বৈশিষ্ট্য
ভাববাচ্যের সংজ্ঞা |
যে বাচ্যে বাক্যের ক্রিয়াপদ কর্তা বা কর্ম কারোর অনুগামী না হয়ে ক্রিয়ার ভাব বা অর্থের প্রাধান্য প্রকাশ করে এবং ক্রিয়া সবসময় একটি নির্দিষ্ট অপরিবর্তিত রূপে থাকে, তাকে ভাববাচ্য বলে। |
ভাববাচ্যে সাধারণত ক্রিয়ার একটি সাধারণ ভাব প্রকাশ পায়, কর্তার পরিচয় গৌণ হয়ে যায়। |
এই বাচ্যে সাধারণত অনিচ্ছা, অসামর্থ্য, অনুমতি বা স্বাভাবিকতা প্রকাশ পায়। |
ভাববাচ্যে ক্রিয়া নপুংসক-একবচন প্রথম পুরুষের মতো থাকে: করা হয়, যাওয়া হয়, ঘুমানো হয়। |
৫.২ ভাববাচ্যের বৈশিষ্ট্যসমূহ
➤ কর্তা থাকলে সে সম্প্রদান কারকে ('র', 'এর') থাকে।
➤ ক্রিয়াপদ কোনো পুরুষ-বচন অনুসরণ করে না — সর্বদা একই রূপে থাকে।
➤ ক্রিয়ার রূপ: ক্রিয়ামূল + আ/ওয়া + হয়/হলো/হবে/হচ্ছে।
➤ সাধারণত অকর্মক ক্রিয়ায় ভাববাচ্য বেশি ব্যবহৃত হয়।
➤ অনিচ্ছা, অক্ষমতা, বা স্বাভাবিক অবস্থা বোঝাতে ভাববাচ্য বেশি প্রযোজ্য।
৫.৩ ভাববাচ্যের উদাহরণ ও বিশ্লেষণ
ভাববাচ্যের উদাহরণ |
বাক্য: আমার ঘুমানো হয় না। |
বিশ্লেষণ: কর্তা 'আমার' সম্প্রদান কারকে আছে; ক্রিয়া 'ঘুমানো হয় না' ভাবপ্রধান — কোনো পুরুষ-বচন অনুসরণ করছে না। |
বাক্য: তার খাওয়া হয়নি। |
বাক্য: আজ যাওয়া হবে না। (কর্তা অনুপস্থিত) |
বাক্য: তোমার বসা হোক। |
বাক্য: এখন ঘুমানো যাচ্ছে না। |
বাক্য: আমাদের এখানে থাকা হবে না। |
বাক্য: ছেলেটির পড়া হচ্ছে না। |
বাক্য: তার কান্না থামানো যাচ্ছে না। |
বাক্য: আজ রান্না করা হয়নি। (কর্তাহীন ভাববাচ্য) |
৫.৪ কর্মবাচ্য বনাম ভাববাচ্য — পার্থক্য
কর্মবাচ্য | ভাববাচ্য |
সকর্মক ক্রিয়ায় ব্যবহার বেশি | অকর্মক ক্রিয়ায় ব্যবহার বেশি |
ক্রিয়া কর্মের পুরুষ-বচন মানে | ক্রিয়া কোনো পুরুষ-বচন মানে না |
কর্তা 'কর্তৃক' / 'দ্বারা' যোগে আসে | কর্তা 'র' / 'এর' বিভক্তিযুক্ত হয় |
কর্ম স্পষ্টভাবে বিদ্যমান থাকে | কর্ম অনুপস্থিত (অকর্মক ক্রিয়া) |
উদাহরণ: তার দ্বারা বই পড়া হয়। | উদাহরণ: তার পড়া হয়। |
৬. কর্মকর্তৃবাচ্য (Middle Voice)
৬.১ সংজ্ঞা ও বৈশিষ্ট্য
কর্মকর্তৃবাচ্যের সংজ্ঞা |
যে বাচ্যে বাক্যের কর্মপদটিই কর্তার ভূমিকা পালন করে — অর্থাৎ কর্মটি নিজেই ক্রিয়া সম্পাদনের কর্তায় পরিণত হয় এবং মূল কর্তা (মানুষ বা প্রাণী) অনুপস্থিত থাকে, তাকে কর্মকর্তৃবাচ্য বলে। |
এই বাচ্যে ক্রিয়ার কর্তা কোনো মানুষ বা প্রাণী নয়, বরং নির্জীব বস্তু বা ধারণা। |
ইংরেজিতে Middle Voice-এর নিকটতম সমতুল্য হলো এই বাচ্য। যেমন: The pen writes well. |
গুরুত্বপূর্ণ: এই বাচ্যে ক্রিয়া নতুন কর্তার (পুরোনো কর্মের) অনুগামী হয়। |
৬.২ কর্মকর্তৃবাচ্যের উদাহরণ ও বিশ্লেষণ
কর্মকর্তৃবাচ্যের উদাহরণ |
বাক্য: কলমটি ভালো লেখে। |
বিশ্লেষণ: 'কলমটি' আসলে কর্ম, কিন্তু এখানে কর্তার ভূমিকা পালন করছে। মূল কর্তা (মানুষ) অনুপস্থিত। |
বাক্য: বইটি ভালো পড়া যায়। |
বাক্য: ধানটি ভালো জন্মায়। |
বাক্য: গানটি শুনতে ভালো লাগে। |
বাক্য: ছুরিটি ভালো কাটে। |
বাক্য: গাড়িটি দ্রুত চলে। |
বাক্য: দরজাটি সহজে খোলে। |
৭. চার বাচ্যের তুলনামূলক বিশ্লেষণ
বৈশিষ্ট্য | কর্তৃবাচ্য | কর্মবাচ্য | ভাববাচ্য |
কেন্দ্রবিন্দু | কর্তা | কর্ম | ক্রিয়ার ভাব |
ক্রিয়া অনুসরণ করে | কর্তাকে | কর্মকে | কাউকে নয় |
কর্তার বিভক্তি | শূন্য / 'রা' | 'কর্তৃক' / 'দ্বারা' | 'র' / 'এর' |
ক্রিয়ার রূপ | স্বাভাবিক | ক্রিয়ামূল+আ + হওয়া | ক্রিয়ামূল+আ + হওয়া |
ক্রিয়ার ধরন | সকর্মক/অকর্মক | সকর্মক | সাধারণত অকর্মক |
উদাহরণ | সে বই পড়ে। | তার দ্বারা বই পড়া হয়। | তার পড়া হয় না। |
৮. বাচ্য পরিবর্তন — রূপান্তর কৌশল
বাচ্য পরিবর্তন (Voice Change) পরীক্ষায় সবচেয়ে বেশি আসা বিষয়। নিচে প্রতিটি রূপান্তরের সূত্র এবং প্রচুর উদাহরণ দেওয়া হলো।
৮.১ কর্তৃবাচ্য → কর্মবাচ্য
রূপান্তরের ধাপ |
ধাপ ১ → কর্তৃবাচ্যের কর্মপদ → কর্মবাচ্যের কর্তাপদ (শূন্য বিভক্তি/প্রথমা বিভক্তি)। |
ধাপ ২ → কর্তৃবাচ্যের কর্তাপদ → কর্মবাচ্যে 'কর্তৃক'/'দ্বারা'/'দিয়ে' যোগে গৌণ কর্তা। |
ধাপ ৩ → মূল ক্রিয়া → ক্রিয়ামূল + আ/ওয়া (কৃদন্ত রূপ)। |
ধাপ ৪ → 'হওয়া' ধাতুর কাল ও পুরুষানুগ রূপ যোগ করুন। |
ধাপ ৫ → নতুন কর্তার পুরুষ ও বচন অনুযায়ী 'হওয়া' ধাতু পরিবর্তন করুন। |
কর্তৃবাচ্য → কর্মবাচ্য রূপান্তর |
কর্তৃবাচ্য: আমি বই পড়ি। |
কর্মবাচ্য: আমার দ্বারা বই পড়া হয়। |
কর্তৃবাচ্য: সে চিঠি লিখল। |
কর্মবাচ্য: তার দ্বারা চিঠি লেখা হলো। |
কর্তৃবাচ্য: তারা গান গাইবে। |
কর্মবাচ্য: তাদের দ্বারা গান গাওয়া হবে। |
কর্তৃবাচ্য: শিক্ষক বইটি পড়াচ্ছেন। |
কর্মবাচ্য: শিক্ষক কর্তৃক বইটি পড়ানো হচ্ছে। |
কর্তৃবাচ্য: আমরা দেশকে ভালোবাসি। |
কর্মবাচ্য: আমাদের দ্বারা দেশকে ভালোবাসা হয়। |
কর্তৃবাচ্য: মা শিশুটিকে খাওয়াল। |
কর্মবাচ্য: মা কর্তৃক শিশুটিকে খাওয়ানো হলো। |
কর্তৃবাচ্য: সরকার নতুন আইন পাস করেছে। |
কর্মবাচ্য: সরকার কর্তৃক নতুন আইন পাস করা হয়েছে। |
৮.২ কর্মবাচ্য → কর্তৃবাচ্য
রূপান্তরের ধাপ |
ধাপ ১ → কর্মবাচ্যের 'কর্তৃক'/'দ্বারা' সহ গৌণ কর্তাকে → কর্তৃবাচ্যের প্রধান কর্তায় পরিণত করুন। |
ধাপ ২ → কর্মবাচ্যের কর্তাপদকে (নতুন) → কর্তৃবাচ্যের কর্মপদে পরিণত করুন। |
ধাপ ৩ → 'হওয়া' ধাতু বাদ দিন এবং মূল ক্রিয়াটিকে কর্তার পুরুষ ও কাল অনুসারে রূপান্তর করুন। |
কর্মবাচ্য → কর্তৃবাচ্য রূপান্তর |
কর্মবাচ্য: আমার দ্বারা কাজটি করা হয়েছে। |
কর্তৃবাচ্য: আমি কাজটি করেছি। |
কর্মবাচ্য: পুলিশ কর্তৃক চোরটি ধরা হলো। |
কর্তৃবাচ্য: পুলিশ চোরটিকে ধরল। |
কর্মবাচ্য: তার দ্বারা গানটি গাওয়া হচ্ছে। |
কর্তৃবাচ্য: সে গানটি গাচ্ছে। |
৮.৩ কর্তৃবাচ্য → ভাববাচ্য
রূপান্তরের ধাপ |
ধাপ ১ → কর্তৃবাচ্যের কর্তাকে → ভাববাচ্যে সম্প্রদান কারকে ('র' / 'এর' বিভক্তি) রূপান্তর করুন। |
ধাপ ২ → মূল ক্রিয়া → ক্রিয়ামূল + আ/ওয়া। |
ধাপ ৩ → 'হওয়া' ধাতুর উপযুক্ত কালীন রূপ যোগ করুন (কর্তা নির্বিশেষে অপরিবর্তিত)। |
বিশেষ নোট: ভাববাচ্যে সাধারণত অকর্মক ক্রিয়া (ঘুমানো, যাওয়া, আসা, বসা) বেশি ব্যবহৃত হয়। |
কর্তৃবাচ্য → ভাববাচ্য রূপান্তর |
কর্তৃবাচ্য: আমি ঘুমাই না। |
ভাববাচ্য: আমার ঘুমানো হয় না। |
কর্তৃবাচ্য: সে যেতে পারেনি। |
ভাববাচ্য: তার যাওয়া হয়নি। |
কর্তৃবাচ্য: আমরা থাকব না। |
ভাববাচ্য: আমাদের থাকা হবে না। |
কর্তৃবাচ্য: তুমি খাওনি। |
ভাববাচ্য: তোমার খাওয়া হয়নি। |
কর্তৃবাচ্য: সে বসতে পারছে না। |
ভাববাচ্য: তার বসা হচ্ছে না। |
৯. বাচ্য পরিবর্তনে বিশেষ নিয়ম ও ব্যতিক্রম
৯.১ দ্বিকর্মক ক্রিয়ার বাচ্য পরিবর্তন
কিছু ক্রিয়ায় দুটি কর্ম থাকে (গৌণ কর্ম ও মুখ্য কর্ম)। এসব ক্ষেত্রে কর্মবাচ্যে সাধারণত মুখ্য কর্মটিকে নতুন কর্তায় পরিণত করা হয়।
দ্বিকর্মক ক্রিয়ার বাচ্য পরিবর্তন |
কর্তৃবাচ্য: শিক্ষক ছাত্রদের বাংলা পড়ান। (ছাত্রদের = গৌণ কর্ম; বাংলা = মুখ্য কর্ম) |
কর্মবাচ্য: শিক্ষক কর্তৃক ছাত্রদের বাংলা পড়ানো হয়। |
কর্তৃবাচ্য: বাবা ছেলেকে টাকা দিলেন। |
কর্মবাচ্য: বাবা কর্তৃক ছেলেকে টাকা দেওয়া হলো। |
৯.২ অনুজ্ঞা বা আদেশমূলক বাক্যের বাচ্য পরিবর্তন
আদেশবাচক বাক্যে কর্তৃবাচ্যকে কর্মবাচ্যে রূপান্তর করার সময় 'হোক' বা 'করা হোক' ব্যবহৃত হয়।
অনুজ্ঞামূলক বাক্যের বাচ্য পরিবর্তন |
কর্তৃবাচ্য: দরজাটি খোলো। |
কর্মবাচ্য: দরজাটি খোলা হোক। |
কর্তৃবাচ্য: কাজটি করো। |
কর্মবাচ্য: কাজটি করা হোক। |
কর্তৃবাচ্য: সত্য বলো। |
কর্মবাচ্য: সত্য বলা হোক। |
৯.৩ প্রশ্নবাচক বাক্যের বাচ্য পরিবর্তন
প্রশ্নবাচক বাক্যের বাচ্য পরিবর্তন |
কর্তৃবাচ্য: তুমি কি বইটি পড়েছ? |
কর্মবাচ্য: তোমার দ্বারা কি বইটি পড়া হয়েছে? |
কর্তৃবাচ্য: সে কি এসেছে? |
ভাববাচ্য: তার কি আসা হয়েছে? |
৯.৪ নেতিবাচক বাক্যের বাচ্য পরিবর্তন
নেতিবাচক বাক্যের বাচ্য পরিবর্তন |
কর্তৃবাচ্য: সে কাজটি করেনি। |
কর্মবাচ্য: তার দ্বারা কাজটি করা হয়নি। |
কর্তৃবাচ্য: আমি যাব না। |
ভাববাচ্য: আমার যাওয়া হবে না। |
১০. BCS ও ব্যাংক পরীক্ষা-কেন্দ্রিক বিশেষ আলোচনা
১০.১ বাচ্য নির্ণয়ের দ্রুত পদ্ধতি
পরীক্ষায় বাচ্য চেনার সহজ উপায় |
ধাপ ১ → বাক্যে ক্রিয়া কার অনুসরণ করছে তা দেখুন। |
ধাপ ২ → কর্তা স্বাভাবিক ও ক্রিয়া তাকে অনুসরণ করছে → কর্তৃবাচ্য। |
ধাপ ৩ → 'কর্তৃক / দ্বারা' আছে এবং ক্রিয়ায় 'হওয়া' যুক্ত → কর্মবাচ্য। |
ধাপ ৪ → কর্তায় 'র / এর' আছে এবং ক্রিয়া অপরিবর্তিত → ভাববাচ্য। |
ধাপ ৫ → নির্জীব বস্তু কর্তার ভূমিকায় কাজ করছে → কর্মকর্তৃবাচ্য। |
১০.২ পরীক্ষায় ঘন ঘন আসা বাচ্য নির্ণয় প্রশ্ন
বাক্য | বাচ্য | মূল কারণ |
সে ভাত খায়। | কর্তৃবাচ্য | ক্রিয়া কর্তা 'সে'-র অনুগামী |
তার দ্বারা ভাত খাওয়া হয়। | কর্মবাচ্য | 'দ্বারা' + 'হওয়া' যুক্ত ক্রিয়া |
তার খাওয়া হয় না। | ভাববাচ্য | কর্তায় 'র' + ক্রিয়া অপরিবর্তিত |
কলমটি ভালো লেখে। | কর্মকর্তৃবাচ্য | নির্জীব বস্তু কর্তা হয়েছে |
আমার ঘুমানো হয় না। | ভাববাচ্য | অকর্মক ক্রিয়া; কর্তায় 'র' |
পুলিশ কর্তৃক চোর ধরা হলো। | কর্মবাচ্য | 'কর্তৃক' + 'হওয়া' ধাতুর ব্যবহার |
শিক্ষক পড়াচ্ছেন। | কর্তৃবাচ্য | ক্রিয়া সরাসরি কর্তার অনুগামী |
ছুরিটি ভালো কাটে। | কর্মকর্তৃবাচ্য | ছুরি (নির্জীব) কর্তার ভূমিকায় |
তার যাওয়া হয়নি। | ভাববাচ্য | কর্তায় 'র'; ক্রিয়া অপরিবর্তিত |
বই পড়া হচ্ছে। | কর্মবাচ্য | কর্তাহীন কর্মবাচ্য; 'হওয়া' যুক্ত |
আমরা দেশ ভালোবাসি। | কর্তৃবাচ্য | ক্রিয়া কর্তার অনুগামী |
রাস্তা ভালো চলে। | কর্মকর্তৃবাচ্য | নির্জীব 'রাস্তা' কর্তার ভূমিকায় |
১১. বিভ্রান্তিকর বাক্য ও সাধারণ ভুলের সংশোধন
ভুল ধারণা ১: 'কর্তৃক' থাকলেই কর্মবাচ্য। সংশোধন: 'কর্তৃক' শব্দটি সম্বন্ধ পদেও ব্যবহৃত হতে পারে। কর্মবাচ্যের আসল চিহ্ন হলো 'কর্তৃক/দ্বারা' + ক্রিয়ামূল+আ + 'হওয়া' ধাতু — তিনটি একসাথে। |
ভুল ধারণা ২: 'হওয়া' যুক্ত ক্রিয়া মানেই কর্মবাচ্য। সংশোধন: 'তার খাওয়া হয়নি' — এখানে 'হওয়া' আছে কিন্তু এটি ভাববাচ্য কারণ অকর্মক ক্রিয়া এবং কর্তায় 'র' বিভক্তি। |
ভুল ধারণা ৩: ভাববাচ্য ও কর্মবাচ্যের মধ্যে পার্থক্য নেই। সংশোধন: কর্মবাচ্যে সকর্মক ক্রিয়া + কর্তায় 'কর্তৃক'/'দ্বারা' + কর্ম নতুন কর্তা। ভাববাচ্যে অকর্মক ক্রিয়া + কর্তায় 'র'/'এর' + কোনো কর্ম নেই। |
ভুল ধারণা ৪: 'কলমটি ভালো লেখে' — এটি কর্তৃবাচ্য। সংশোধন: এটি কর্মকর্তৃবাচ্য। 'কলমটি' আসলে কর্ম, কিন্তু এখানে কর্তার ভূমিকায় আছে। মূল কর্তা (মানুষ) অনুপস্থিত। |
১২. পরীক্ষায় কমন আসা ৪০টি বাচ্য পরিবর্তনের উদাহরণ
কর্তৃবাচ্য → কর্মবাচ্য ও ভাববাচ্য — ৪০টি উদাহরণ |
১. সে বই পড়ে। → তার দ্বারা বই পড়া হয়। [কর্মবাচ্য] |
২. রাহেলা রান্না করে। → রাহেলা কর্তৃক রান্না করা হয়। [কর্মবাচ্য] |
৩. তারা গান গাইল। → তাদের দ্বারা গান গাওয়া হলো। [কর্মবাচ্য] |
৪. আমি ঘুমাই না। → আমার ঘুমানো হয় না। [ভাববাচ্য] |
৫. সে যেতে পারেনি। → তার যাওয়া হয়নি। [ভাববাচ্য] |
৬. পুলিশ চোরকে ধরল। → পুলিশ কর্তৃক চোরকে ধরা হলো। [কর্মবাচ্য] |
৭. শিক্ষক বোর্ডে লিখছেন। → শিক্ষক কর্তৃক বোর্ডে লেখা হচ্ছে। [কর্মবাচ্য] |
৮. আমরা থাকব না। → আমাদের থাকা হবে না। [ভাববাচ্য] |
৯. সরকার আইন পাস করেছে। → সরকার কর্তৃক আইন পাস করা হয়েছে। [কর্মবাচ্য] |
১০. তুমি খাওনি। → তোমার খাওয়া হয়নি। [ভাববাচ্য] |
১১. মা শিশুকে দুধ খাওয়াল। → মা কর্তৃক শিশুকে দুধ খাওয়ানো হলো। [কর্মবাচ্য] |
১২. ছাত্ররা পরীক্ষা দিচ্ছে। → ছাত্রদের দ্বারা পরীক্ষা দেওয়া হচ্ছে। [কর্মবাচ্য] |
১৩. সে বসতে পারছে না। → তার বসা হচ্ছে না। [ভাববাচ্য] |
১৪. বাবা আমাকে টাকা দিলেন। → বাবা কর্তৃক আমাকে টাকা দেওয়া হলো। [কর্মবাচ্য] |
১৫. আমি চিঠি লিখব। → আমার দ্বারা চিঠি লেখা হবে। [কর্মবাচ্য] |
১৬. তুমি কাজটি করো। → কাজটি করা হোক। [কর্মবাচ্য — আদেশ] |
১৭. সে কথা বলছে না। → তার কথা বলা হচ্ছে না। [ভাববাচ্য] |
১৮. ডাক্তার রোগীকে দেখলেন। → ডাক্তার কর্তৃক রোগীকে দেখা হলো। [কর্মবাচ্য] |
১৯. আমরা দেশ ভালোবাসি। → আমাদের দ্বারা দেশ ভালোবাসা হয়। [কর্মবাচ্য] |
২০. তোমার আসা হয়নি। → তুমি আসোনি। [কর্মবাচ্য → কর্তৃবাচ্য] |
২১. কলমটি ভালো লেখে। → কর্মকর্তৃবাচ্য (পরিবর্তন সম্ভব নয়) |
২২. রান্না করা হয়েছে। → কেউ রান্না করেছে। [কর্মবাচ্য → কর্তৃবাচ্য — কর্তাহীন] |
২৩. দরজাটি খোলো। → দরজাটি খোলা হোক। [কর্মবাচ্য — আদেশ] |
২৪. তার ঘুমানো হয়েছে। → সে ঘুমিয়েছে। [ভাববাচ্য → কর্তৃবাচ্য] |
২৫. শ্রমিকরা কাজ করছে। → শ্রমিকদের দ্বারা কাজ করা হচ্ছে। [কর্মবাচ্য] |
২৬. ছেলেটি স্কুলে যায়। → ছেলেটির স্কুলে যাওয়া হয়। [ভাববাচ্য] |
২৭. সে কি বাজারে গেছে? → তার কি বাজারে যাওয়া হয়েছে? [ভাববাচ্য — প্রশ্নবাচক] |
২৮. শিল্পী ছবি এঁকেছেন। → শিল্পী কর্তৃক ছবি আঁকা হয়েছে। [কর্মবাচ্য] |
২৯. ছুরিটি ভালো কাটে। → কর্মকর্তৃবাচ্য |
৩০. আমাদের দ্বারা বই পড়া হয়েছে। → আমরা বই পড়েছি। [কর্মবাচ্য → কর্তৃবাচ্য] |
৩১. সত্য বলো। → সত্য বলা হোক। [কর্মবাচ্য — আদেশ] |
৩২. তার কান্না থামছে না। → ভাববাচ্য (সরাসরি ভাব প্রকাশ) |
৩৩. কৃষক ধান কাটছে। → কৃষক কর্তৃক ধান কাটা হচ্ছে। [কর্মবাচ্য] |
৩৪. বইটি ভালো পড়া যায়। → কর্মকর্তৃবাচ্য |
৩৫. সে আসতে পারেনি। → তার আসা হয়নি। [ভাববাচ্য] |
৩৬. সভা আহ্বান করা হয়েছে। → কর্মবাচ্য (কর্তাহীন) |
৩৭. আমি তাকে ভালোবাসি। → আমার দ্বারা তাকে ভালোবাসা হয়। [কর্মবাচ্য] |
৩৮. ডাকঘর থেকে চিঠি পাঠানো হলো। → কর্মবাচ্য (কর্তাহীন) |
৩৯. সে রাত জেগে পড়েছে। → তার রাত জেগে পড়া হয়েছে। [ভাববাচ্য] |
৪০. পরিশ্রম করো, ফল পাবে। → পরিশ্রম করা হোক, ফল পাওয়া যাবে। [কর্মবাচ্য] |
১৩. অধ্যায়-সারসংক্ষেপ ও মনে রাখার সূত্র
বাচ্য — মূল সূত্রসমূহ |
✔ কর্তৃবাচ্য = ক্রিয়া কর্তাকে অনুসরণ করে → সবচেয়ে স্বাভাবিক বাচ্য। |
✔ কর্মবাচ্য = কর্তৃক/দ্বারা + ক্রিয়ামূল+আ + হওয়া → ক্রিয়া কর্মের অনুগামী। |
✔ ভাববাচ্য = কর্তায় 'র/এর' + ক্রিয়ামূল+আ + হওয়া → ক্রিয়া কারো অনুগামী নয়। |
✔ কর্মকর্তৃবাচ্য = নির্জীব বস্তু কর্তার ভূমিকায় → কলমটি লেখে, ছুরিটি কাটে। |
✔ ভাববাচ্যে সাধারণত অকর্মক ক্রিয়া (ঘুমানো, যাওয়া, বসা, কাঁদা) ব্যবহৃত হয়। |
✔ কর্মবাচ্যে সাধারণত সকর্মক ক্রিয়া (পড়া, লেখা, খাওয়া, দেখা) ব্যবহৃত হয়। |
✔ আদেশবাচক বাক্যের কর্মবাচ্যে 'হোক' বা 'করা হোক' ব্যবহৃত হয়। |
কর্মবাচ্য চেনার চিহ্ন ✔ | ভাববাচ্য চেনার চিহ্ন ✔ |
কর্তায় 'কর্তৃক' / 'দ্বারা' / 'দিয়ে' | কর্তায় 'র' / 'এর' বিভক্তি |
সকর্মক ক্রিয়া (কর্ম আছে) | অকর্মক ক্রিয়া (কর্ম নেই) |
ক্রিয়া কর্মের পুরুষ-বচন মানে | ক্রিয়া অপরিবর্তিত (পুরুষ নিরপেক্ষ) |
উদা: তার দ্বারা বই পড়া হয়। | উদা: তার পড়া হয় না। |