∗ ∗ ∗ ∗ ∗ ∗ ∗ ∗ ∗ ∗ ∗ বাংলা সাহিত্য ❝ বিখ্যাত পংক্তি ও উক্তি ❞ ∗ ∗ ∗ ∗ ∗ ∗ ∗ ∗ ∗ ∗ ∗ |
❝ রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের পংক্তি ও উক্তি কবিগুরু — ১৮৬১ থেকে ১৯৪১ |
◈ রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর (১৮৬১ – ১৯৪১) নোবেলজয়ী কবি, ঔপন্যাসিক, নাট্যকার, সংগীতজ্ঞ; বাংলা সাহিত্যের সর্বকালের শ্রেষ্ঠ প্রতিভা। |
০১ নং | “ চিত্ত যেথা ভয়শূন্য, উচ্চ যেথা শির, জ্ঞান যেথা মুক্ত, যেথা গৃহের প্রাচীর আপন প্রাঙ্গণ তলে দিবসশর্বরী বসুধারে রাখে নাই খণ্ড ক্ষুদ্র করি। — রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর ∣ গীতাঞ্জলি |
০২ নং | “ আমার সোনার বাংলা, আমি তোমায় ভালোবাসি। চিরদিন তোমার আকাশ, তোমার বাতাস, আমার প্রাণে বাজায় বাঁশি। — রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর ∣ আমার সোনার বাংলা — বাংলাদেশের জাতীয় সংগীত |
❝ মরিতে চাহি না আমি সুন্দর ভুবনে, মানবের মাঝে আমি বাঁচিবারে চাই। ❞ — রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর ∣ প্রার্থনা |
“ বিপদে মোরে রক্ষা করো, এ নহে মোর প্রার্থনা, বিপদে আমি না যেন করি ভয়। — রবীন্দ্রনাথ ∣ গীতাঞ্জলি | “ মহাবিশ্বের মহাকাশ ফাড়ি চন্দ্র সূর্য গ্রহ তারা ছাড়ি ভূলোক দ্যুলোক গোলোক ভেদিয়া। — রবীন্দ্রনাথ ∣ নমস্কার |
০৩ নং | “ সংকোচের বিহ্বলতা নিজেরে অপমান; সংকটে সংশয়ে করো না কান্না ক্রন্দন। — রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর ∣ কবিতা |
❝ সার্থক জনম আমার জন্মেছি এই দেশে। ❞ — রবীন্দ্রনাথ (আমার সোনার বাংলা) ❝ আমার মাথা নত করে দাও হে তোমার চরণ-ধুলার তলে। ❞ — রবীন্দ্রনাথ (গীতাঞ্জলি) ❝ যখন পড়বে না মোর পায়ের চিহ্ন এই বাটে। ❞ — রবীন্দ্রনাথ (গীতাঞ্জলি) ❝ ক্লান্তি আমার ক্ষমা করো হে প্রভু। ❞ — রবীন্দ্রনাথ (গীতাঞ্জলি) ❝ আমাদের ছোট নদী চলে বাঁকে বাঁকে। ❞ — রবীন্দ্রনাথ (শিশু) ❝ সত্য যদি সুন্দর হয়, সুন্দর সত্য। ❞ — রবীন্দ্রনাথ (সাহিত্য প্রবন্ধ) ❝ দাও ফিরে সে অরণ্য, লও এ নগর। ❞ — রবীন্দ্রনাথ (কবিতা) ❝ জীবন যখন শুকায়ে যায়, মেঘ হয়ে আসে হৃদয় মাঝে। ❞ — রবীন্দ্রনাথ (গান) ❝ আমি চিনি গো চিনি তোমারে, ওগো বিদেশিনী। ❞ — রবীন্দ্রনাথ (ভানুসিংহের পদাবলী) ❝ এখানে আলোর মেলা। ❞ — রবীন্দ্রনাথ (গীতাঞ্জলি) |
❝ কাজী নজরুল ইসলামের পংক্তি ও উক্তি বিদ্রোহী কবি — জাতীয় কবি — ১৮৯৯ থেকে ১৯৭৬ |
◈ কাজী নজরুল ইসলাম (১৮৯৯ – ১৯৭৬) বাংলাদেশের জাতীয় কবি। বিদ্রোহী, মানবতাবাদী, সাম্যবাদী কবি। তাঁর 'বিদ্রোহী' কবিতা বাংলা সাহিত্যের অন্যতম শ্রেষ্ঠ রচনা। |
❝ বল বীর — বল উন্নত মম শির! শির নেহারি আমারি, নত-শির ওই শিখর হিমাদ্রির! ❞ — কাজী নজরুল ইসলাম ∣ বিদ্রোহী (বিজলী পত্রিকা, ৬ জানুয়ারি ১৯২২) |
০৪ নং | “ মহা-বিদ্রোহী রণক্লান্ত আমি সেই দিন হব শান্ত, যবে উৎপীড়িতের ক্রন্দন-রোল আকাশে বাতাসে ধ্বনিবে না। — কাজী নজরুল ∣ বিদ্রোহী |
“ মানুষের চেয়ে বড় কিছু নাই, নহে কিছু মহীয়ান। — নজরুল ইসলাম ∣ মানুষ | “ হে দারিদ্র্য, তুমি মোরে করেছ মহান। তুমি মোরে দানিয়াছ খ্রীস্টের সম্মান। — নজরুল ∣ আমার কৈফিয়ৎ |
০৫ নং | “ গাহি সাম্যের গান — যেখানে আসিয়া এক হয়ে গেছে সব বাধা-ব্যবধান। যেখানে মিশেছে হিন্দু-বৌদ্ধ-মুসলিম-ক্রিশ্চান। — কাজী নজরুল ∣ সাম্যবাদী |
❝ কারার ওই লৌহকপাট, ভেঙে ফেল কর রে লোপাট। ❞ — নজরুল (ভাঙার গান) ❝ আমি বাংলার গান গাই। ❞ — নজরুল (দেশাত্মবোধক গান) ❝ জাতের নামে বজ্জাতি সব জাত-জালিয়াত খেলছ জুয়া। ❞ — নজরুল (মানুষ) ❝ চল্ চল্ চল্! ঊর্ধ্বগগনে বাজে মাদল। ❞ — নজরুল (জাতীয় মার্চ) ❝ দুর্গম গিরি, কান্তার মরু, দুস্তর পারাবার। ❞ — নজরুল (দুর্গম গিরি) ❝ আমি চির বিদ্রোহী বীর — বিশ্ব ছাড়ায়ে উঠিয়াছি একা। ❞ — নজরুল (বিদ্রোহী) ❝ আমি সৃষ্টি, আমি ধ্বংস, আমি মহাজগতের প্রলয়। ❞ — নজরুল (বিদ্রোহী) ❝ ওরে ভাই, ফাগুন লেগেছে বনে বনে। ❞ — নজরুল (বসন্তের গান) |
❝ মাইকেল মধুসূদন দত্তের পংক্তি আধুনিক বাংলা কবিতার জনক — ১৮২৪ থেকে ১৮৭৩ |
◈ মাইকেল মধুসূদন দত্ত (১৮২৪ – ১৮৭৩) বাংলা সনেটের প্রবর্তক, অমিত্রাক্ষর ছন্দের স্রষ্টা, বাংলার প্রথম মহাকাব্য 'মেঘনাদবধ কাব্য'-র কবি। |
❝ হে বঙ্গ, ভাণ্ডারে তব বিবিধ রতন; তা সবে, (অবোধ আমি!) অবহেলা করি, পরদেশে ভিক্ষা করি নিজ মান হারি। ❞ — মাইকেল মধুসূদন দত্ত ∣ বঙ্গভাষা — বাংলার প্রথম সনেট (১৮৬০) |
“ রেখো, মা, দাসেরে মনে, এ মিনতি করি পদে। — মধুসূদন ∣ বঙ্গভাষা | “ জন্মিলে মরিতে হবে, অমর কে কোথা কবে? — মধুসূদন ∣ মেঘনাদবধ কাব্য |
❝ সুন্দর বাংলাদেশ মায়ের মুখ। ❞ — মধুসূদন (কপোতাক্ষ নদ) ❝ সতত হে নদ, তুমি পড়ো মোর মনে। ❞ — মধুসূদন (কপোতাক্ষ নদ) ❝ আর কি হে হবে মোর কপোতাক্ষ জলে ভেসে। ❞ — মধুসূদন (কপোতাক্ষ নদ) ❝ এল মেঘ, মেঘ-রথে যুদ্ধে ইন্দ্রজিত। ❞ — মধুসূদন (মেঘনাদবধ কাব্য) |
❝ জীবনানন্দ দাশের পংক্তি রূপসী বাংলার কবি — ১৮৯৯ থেকে ১৯৫৪ |
◈ জীবনানন্দ দাশ (১৮৯৯ – ১৯৫৪) বাংলা আধুনিক কবিতার অন্যতম শ্রেষ্ঠ কবি। 'বনলতা সেন' বাংলা সাহিত্যের সর্বকালের শ্রেষ্ঠ কবিতাগুলির একটি। |
০৬ নং | “ চুল তার কবেকার অন্ধকার বিদিশার নিশা, মুখ তার শ্রাবস্তীর কারুকার্য; অতিদূর সমুদ্রের পর হাল ভেঙে যে নাবিক হারায়েছে দিশা সকল দেশের রাণী সে যে জানে, সব নাবিকের। — জীবনানন্দ দাশ ∣ বনলতা সেন — নাটোরের বনলতা সেন |
❝ সব পাখি ঘরে আসে — সব নদী — ফুরায় এ জীবনের সব লেনদেন; থাকে শুধু অন্ধকার, মুখোমুখি বসিবার বনলতা সেন। ❞ — জীবনানন্দ দাশ ∣ বনলতা সেন |
“ আবার আসিব ফিরে ধানসিঁড়িটির তীরে — এই বাংলায় হয়তো মানুষ নয় — হয়তো বা শঙ্খচিল শালিকের বেশে। — জীবনানন্দ ∣ আবার আসিব ফিরে | “ বাংলার মুখ আমি দেখিয়াছি, তাই আমি পৃথিবীর রূপ খুঁজিতে যাই না আর। — জীবনানন্দ ∣ রূপসী বাংলা |
❝ শিশিরের শব্দের মতন সন্ধ্যা আসে। ❞ — জীবনানন্দ (রূপসী বাংলা) ❝ হায় হায় — মানুষ কেন আরও সুন্দর হলো না। ❞ — জীবনানন্দ (কবিতা) ❝ আকাশ নীল — এই রাতের মতন কারো মুখ। ❞ — জীবনানন্দ (রূপসী বাংলা) ❝ অনেক দিন ধরে, অনেক ক্রোশ দূরে, অনেক ব্যয় করে। ❞ — জীবনানন্দ (বনলতা সেন (প্রেক্ষাপট)) |
❝ বঙ্কিমচন্দ্র ও শরৎচন্দ্রের পংক্তি ও উক্তি সাহিত্যসম্রাট ও অপরাজেয় কথাশিল্পী |
❝ বন্দে মাতরম্ — সুজলাং সুফলাং মলয়জশীতলাম্ শস্যশ্যামলাং মাতরম্! ❞ — বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় ∣ আনন্দমঠ উপন্যাস (১৮৮২) — ভারতের জাতীয় স্তোত্র |
“ পথিক, তুমি পথ হারাইয়াছ! — বঙ্কিমচন্দ্র ∣ কপালকুণ্ডলা উপন্যাস | “ কামিনী-কাঞ্চনই মানুষের সকল পতনের মূল। — বঙ্কিমচন্দ্র ∣ কৃষ্ণকান্তের উইল |
❝ ভারতের ইতিহাসে এক নতুন পরিচ্ছেদ রচিত হইল। ❞ — বঙ্কিমচন্দ্র (আনন্দমঠ) ❝ সংসারে সকলের প্রতি সহানুভূতি থাকা মানুষের কর্তব্য। ❞ — শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় (বিভিন্ন উপন্যাস) ❝ মেয়েদের মনের কথা মেয়েরাই বোঝে। ❞ — শরৎচন্দ্র (দেবদাস) ❝ আমি রইলাম না, তোকে রাখিয়া গেলাম। ❞ — শরৎচন্দ্র (দেবদাস) ❝ মানুষ ভুল করে, কিন্তু তার পাশে কেউ থাকলে ভুল শুধরানো যায়। ❞ — শরৎচন্দ্র (বিভিন্ন উপন্যাস) |
❝ লালন শাহ ও হাসন রাজার পংক্তি বাউল সম্রাট ও মরমি কবি |
◈ ফকির লালন শাহ (আনু. ১৭৭২ – ১৮৯০) বাউল সাধক, মানবতাবাদী দার্শনিক কবি। জাতপাত, ধর্মবিভেদের বিরুদ্ধে মানবতার বাণী প্রচার করেছেন। |
❝ সবার উপরে মানুষ সত্য, তাহার উপরে নাই। ❞ — লালন শাহ ∣ লালনগীতি — মানবতার বাণী |
“ মানুষ ভজলে সোনার মানুষ হবি। — লালন শাহ ∣ লালনগীতি | “ জাত গেল, জাত গেল বলে কি জাত, সংসারে। — লালন শাহ ∣ জাত বিষয়ক |
০৭ নং | “ আমার সোনার মানুষ কোথায় পাব তারে? ডুবিয়া আছে সংসার-সাগরে। — লালন শাহ ∣ লালনগীতি |
❝ পাখি কখন জানি উড়ে যাবে। ❞ — লালন শাহ (মৃত্যুবিষয়ক গান) ❝ আমার আপন ঘরের খবর লই নে। ❞ — লালন শাহ (আধ্যাত্মিক গান) ❝ মিলন হবে কত দিনে, আমার মনের মানুষের সনে। ❞ — লালন শাহ (মনের মানুষ) ❝ যে বেটা যত বড় পণ্ডিত হয়, লালন কয় সেয়ানে। ❞ — লালন শাহ (লালনগীতি) ❝ লালন ফকির বলে, অনুমানের কথা। ❞ — লালন শাহ (লালনের আত্মউক্তি) |
❝ লোকে বলে লোকে বলে রে ঘর বাড়ি ভালা নায় আমার। ❞ — হাসন রাজা ∣ হাসনরাজার গান — মরমি গান |
❝ জসীমউদ্দীন ও সুফিয়া কামালের পংক্তি পল্লিকবি ও জননী সাহসিকা |
❝ এইখানে তোর দাদির কবর ডালিম গাছের তলে, তিরিশ বছর ভিজায়ে রেখেছি দুই নয়নের জলে। ❞ — জসীমউদ্দীন ∣ কবর কবিতা (১৯২৫) — ছাত্রাবস্থায় রচিত |
“ আমার বাড়ি যাইও বন্ধু বইলো কইয়া। — জসীমউদ্দীন ∣ নকশিকাঁথার মাঠ | “ আমি যদি হতাম বনহংসী, মেঘলা দিনে। — সুফিয়া কামাল ∣ সাঁঝের মায়া |
❝ কবর দিলাম মাটির নিচে, আলোর মাঝে আলো। ❞ — জসীমউদ্দীন (কবর) ❝ নদীর কূলে কূলে ঢেউ খেলে যায়। ❞ — জসীমউদ্দীন (লোকসংগীত) ❝ আমার ছেলেহারা শূন্য বুকে কী দিলে আজ হে বাংলাদেশ। ❞ — সুফিয়া কামাল (একাত্তরের কবিতা) ❝ এই দেশ এই মানুষ আমাদের। ❞ — সুফিয়া কামাল (দেশাত্মবোধক কবিতা) ❝ মায়ের ভাষায় কথা বলার আনন্দ কী, বোঝাব কীভাবে। ❞ — সুফিয়া কামাল (বিভিন্ন রচনা) |
❝ আল মাহমুদ • শামসুর রাহমান • নির্মলেন্দু গুণ আধুনিক বাংলা কবিতার তিন স্তম্ভ |
❝ স্বাধীনতা তুমি রবিঠাকুরের অজর কবিতা, অবিনাশী গান। স্বাধীনতা তুমি কাজী নজরুলের ঝাঁকড়া চুলের বাবরি দোলানো মাথা। ❞ — শামসুর রাহমান ∣ স্বাধীনতা তুমি |
“ তোমাকে পাওয়ার জন্য হে স্বাধীনতা, তোমাকে পাওয়ার জন্য। — শামসুর রাহমান | “ একটি ফুলকে বাঁচাব বলে যুদ্ধ করি। — গোবিন্দ হালদার | “ আমার হৃদয় তোমার আপন হাতের দোলনা। — আল মাহমুদ |
০৮ নং | “ সোনালি কাবিনের স্বপ্নে বিমূর্ত হয়ে থাকি, তোমার চোখের গহনে চারুপ্রভ পাখি। — আল মাহমুদ ∣ সোনালি কাবিন (১৯৭৩) |
“ আসাদের শার্ট আজ আমাদের প্রানের পতাকা। — শামসুর রাহমান ∣ আসাদের শার্ট | “ হুলিয়া নামে বিষাদের গল্প ছিল আমার বাল্যকালে। — নির্মলেন্দু গুণ ∣ হুলিয়া |
❝ আমাকে তুমি দাঁড়াতে দাও নিজের মতো করে। ❞ — শামসুর রাহমান (বিভিন্ন কবিতা) ❝ ফেব্রুয়ারি ১৯৬৯ এর হাড়কাঁপানো শীতে। ❞ — শামসুর রাহমান (ফেব্রুয়ারি ১৯৬৯) ❝ স্বাধীনতা তুমি মাথা তোলার ডাক। ❞ — শামসুর রাহমান (স্বাধীনতা তুমি) ❝ প্রাণের উৎসব জ্বলুক প্রতিটি ঘরে। ❞ — আল মাহমুদ (কবিতা) ❝ আমি মেঘ হয়ে ভাসব, বৃষ্টি হয়ে ঝরব। ❞ — নির্মলেন্দু গুণ (কবিতা) ❝ মানুষের মুখই প্রকৃতির সর্বোচ্চ সৌন্দর্য। ❞ — নির্মলেন্দু গুণ (বিভিন্ন রচনা) |
❝ হেলাল হাফিজ • আবুল হাসান • অন্যান্য কবি ৬০–৭০ দশকের আধুনিক কবিতা |
❝ এখন যৌবন যার, মিছিলে যাবার তার শ্রেষ্ঠ সময়, এখন যৌবন যার, যুদ্ধে যাবার তার শ্রেষ্ঠ সময়। ❞ — হেলাল হাফিজ ∣ নিষিদ্ধ সম্পাদকীয় — যে জলে আগুন জ্বলে |
“ বৈশাখ, আমি বৈশাখ চাই। নববর্ষের মতো নতুন হতে চাই। — হেলাল হাফিজ ∣ বৈশাখ | “ একটি ফুলও ফোটে না এই বন্দরে যে ফুল তুমি ছুঁয়ে না দাও। — আবুল হাসান ∣ কবিতা |
❝ আমার ভেতরে একটা বাংলাদেশ আছে। ❞ — হেলাল হাফিজ (বিভিন্ন কবিতা) ❝ ফুলের মতো কোমল তোমার মুখ। ❞ — রফিক আজাদ (ভাত দে হারামজাদা) ❝ ভাত দে হারামজাদা, নইলে মানচিত্র খাব। ❞ — রফিক আজাদ (বিখ্যাত কবিতার পংক্তি) ❝ আমি রাত দেখেছি, দেখেছি ভোর। ❞ — মহাদেব সাহা (কবিতা) ❝ আমার মৃত্যুর পরে আমি নই, তুমি থাকবে। ❞ — আবুল হাসান (কবিতা) |
❝ বিখ্যাত গদ্য-উক্তি ও বিচ্ছিন্ন মন্তব্য বিদ্যাসাগর • রামমোহন • শহীদুল্লাহ • রোকেয়া |
“ আমরা হিন্দু বা মুসলমান যেমন সত্য, তার চেয়ে বেশি সত্য আমরা বাঙালি। — ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ | “ নিজে না করিলে নিজের উদ্ধার নাই। — ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর | “ আমরা ঘুমাইয়া আছি — জাগিব কখন? — বেগম রোকেয়া |
❝ অন্ধকারে থেকে সংগ্রাম করার চেয়ে একটি মোমবাতি জ্বালানো শ্রেয়। ❞ — বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন ∣ নারীমুক্তি ও শিক্ষা প্রসঙ্গে |
❝ স্বাধীনতা মানুষের জন্মগত অধিকার। ❞ — বেগম রোকেয়া (মতিচূর) ❝ নারী ও পুরুষ পাশাপাশি চলবে — এটাই প্রকৃতির নিয়ম। ❞ — বেগম রোকেয়া (মতিচূর) ❝ সর্বশক্তিমানের সৃষ্ট মানুষ প্রত্যেকেই সমান। ❞ — রামমোহন রায় (ব্রাহ্মসমাজ প্রসঙ্গ) ❝ বাংলা ভাষাকে রাষ্ট্রভাষা করা বাঙালির অধিকার। ❞ — ড. শহীদুল্লাহ (পাকিস্তানের রাষ্ট্রভাষা (১৯৪৮)) ❝ বই মানুষের শ্রেষ্ঠ বন্ধু। ❞ — ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর (বিখ্যাত উক্তি) |
❝ জাতীয় সংগীত • জাতীয় স্তোত্র • একুশের গান বাংলার তিন মহাগান |
❝ আমার সোনার বাংলা, আমি তোমায় ভালোবাসি। ❞ — রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর ∣ বাংলাদেশের জাতীয় সংগীত — প্রথম ১০ লাইন |
❝ বন্দে মাতরম্ — সুজলাং সুফলাং মলয়জশীতলাম্। ❞ — বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় ∣ ভারতের জাতীয় স্তোত্র — আনন্দমঠ উপন্যাস |
❝ আমার ভাইয়ের রক্তে রাঙানো একুশে ফেব্রুয়ারি, আমি কি ভুলিতে পারি? ❞ — আব্দুল গাফফার চৌধুরী ∣ একুশের গান — সুর: আলতাফ মাহমুদ |
❝ বাংলা সাহিত্যের বিখ্যাত চরিত্রের উক্তি উপন্যাস ও নাটক থেকে |
চরিত্র কপালকুণ্ডলা | “পথিক, তুমি পথ হারাইয়াছ! — উৎস: কপালকুণ্ডলা উপন্যাস — বঙ্কিমচন্দ্র |
চরিত্র হিমু | “আমি হিমু। পৃথিবীতে আমার অনেক পরিচয়। — উৎস: হিমু সিরিজ — হুমায়ূন আহমেদ |
চরিত্র মিসির আলি | “যুক্তি দিয়ে সব কিছু ব্যাখ্যা করা যায় না। — উৎস: মিসির আলি সিরিজ — হুমায়ূন আহমেদ |
চরিত্র মিসির আলি | “ভাইয়া, আপনি কি সত্যিই বিশ্বাস করেন? — উৎস: মিসির আলি সিরিজ |
❝ MCQ প্রশ্নোত্তর পংক্তি চিনুন, উৎস বলুন |
প্রশ্ন: 'চিত্ত যেথা ভয়শূন্য' — কোন গ্রন্থের পংক্তি? | উত্তর: গীতাঞ্জলি (রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর) |
প্রশ্ন: 'আমার সোনার বাংলা' গানটি কার লেখা? | উত্তর: রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর — বাংলাদেশের জাতীয় সংগীত |
প্রশ্ন: 'বল বীর — বল উন্নত মম শির' কোন কবিতার পংক্তি? | উত্তর: বিদ্রোহী (কাজী নজরুল ইসলাম, ১৯২২) |
প্রশ্ন: 'বিদ্রোহী' কবিতা প্রথম কোন পত্রিকায় ছাপা হয়? | উত্তর: বিজলী পত্রিকা (৬ জানুয়ারি ১৯২২) |
প্রশ্ন: 'মানুষের চেয়ে বড় কিছু নাই' — কোন কবিতা? | উত্তর: মানুষ (কাজী নজরুল ইসলাম) |
প্রশ্ন: 'বন্দেমাতরম' গানটি কার লেখা ও কোন গ্রন্থে? | উত্তর: বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় — আনন্দমঠ উপন্যাস (১৮৮২) |
প্রশ্ন: 'বন্দেমাতরম' ভারতের কী হিসেবে স্বীকৃত? | উত্তর: জাতীয় স্তোত্র (National Song) — জাতীয় সংগীত নয় |
প্রশ্ন: 'জন গণ মন' কার লেখা? | উত্তর: রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর — ভারতের জাতীয় সংগীত |
প্রশ্ন: 'হে বঙ্গ, ভাণ্ডারে তব বিবিধ রতন' কোন কবিতা? | উত্তর: বঙ্গভাষা (মাইকেল মধুসূদন দত্ত, ১৮৬০) — বাংলার প্রথম সনেট |
প্রশ্ন: 'পথিক, তুমি পথ হারাইয়াছ' — কোন উপন্যাসের উক্তি? | উত্তর: কপালকুণ্ডলা (বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়) |
প্রশ্ন: 'চুল তার কবেকার অন্ধকার বিদিশার নিশা' — কোন কবিতা? | উত্তর: বনলতা সেন (জীবনানন্দ দাশ) |
প্রশ্ন: 'আবার আসিব ফিরে ধানসিঁড়িটির তীরে' — কার পংক্তি? | উত্তর: জীবনানন্দ দাশ |
প্রশ্ন: 'এইখানে তোর দাদির কবর ডালিম গাছের তলে' — কোন কবিতা? | উত্তর: কবর (জসীমউদ্দীন, ১৯২৫) |
প্রশ্ন: 'স্বাধীনতা তুমি রবিঠাকুরের অজর কবিতা' — কার কবিতা? | উত্তর: শামসুর রাহমান ('স্বাধীনতা তুমি') |
প্রশ্ন: 'আমার ভাইয়ের রক্তে রাঙানো' — কার রচনা? | উত্তর: আব্দুল গাফফার চৌধুরী (একুশের গান) |
প্রশ্ন: 'একুশের গান'-এ পরিচিত সুর কে করেছেন? | উত্তর: আলতাফ মাহমুদ (১৯৬৯) |
প্রশ্ন: 'সোনালি কাবিন' কার রচনা? | উত্তর: আল মাহমুদ |
প্রশ্ন: 'এখন যৌবন যার, মিছিলে যাবার তার শ্রেষ্ঠ সময়' — কোন কবিতা? | উত্তর: নিষিদ্ধ সম্পাদকীয় (হেলাল হাফিজ) |
প্রশ্ন: 'আমরা হিন্দু বা মুসলমান... আমরা বাঙালি' — কার উক্তি? | উত্তর: ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ |
প্রশ্ন: 'সবার উপরে মানুষ সত্য' — কার বাণী? | উত্তর: ফকির লালন শাহ |
প্রশ্ন: 'হুলিয়া' কবিতার রচয়িতা কে? | উত্তর: নির্মলেন্দু গুণ |
প্রশ্ন: 'ভাত দে হারামজাদা' পংক্তিটি কার? | উত্তর: রফিক আজাদ |
প্রশ্ন: 'নিষিদ্ধ সম্পাদকীয়' কার কবিতাগ্রন্থ? | উত্তর: হেলাল হাফিজ (যে জলে আগুন জ্বলে — ১৯৮৬) |
প্রশ্ন: 'আসাদের শার্ট' কবিতার কবি কে? | উত্তর: শামসুর রাহমান |
প্রশ্ন: 'আমার কৈফিয়ৎ' কার কবিতা? | উত্তর: কাজী নজরুল ইসলাম |
প্রশ্ন: 'কারার ওই লৌহকপাট' — কোন গানের পংক্তি? | উত্তর: ভাঙার গান (কাজী নজরুল ইসলাম) |
প্রশ্ন: বনলতা সেন কোথাকার মেয়ে? | উত্তর: নাটোরের (নাটোরের বনলতা সেন) |
প্রশ্ন: 'কবর' কবিতাটি জসীমউদ্দীন কখন রচনা করেন? | উত্তর: ছাত্রাবস্থায়, ১৯২৫ সালে |
প্রশ্ন: 'সাম্যবাদী' কোন কবির বিখ্যাত কবিতা? | উত্তর: কাজী নজরুল ইসলাম |
প্রশ্ন: লালন শাহ কোন ধর্মের সাধক ছিলেন? | উত্তর: বাউল — মানবতাবাদী — নির্দিষ্ট ধর্মের ঊর্ধ্বে |
❝ ট্রিকি ও বিভ্রান্তিকর তথ্য অত্যন্ত সতর্কতার সাথে মনে রাখুন |
⚡ জাতীয় সংগীত ও স্তোত্র নিয়ে বিভ্রান্তি বাংলাদেশের জাতীয় সংগীত: 'আমার সোনার বাংলা' — রবীন্দ্রনাথ। প্রথম ১০ লাইন গাওয়া হয়। ভারতের জাতীয় সংগীত (National Anthem): 'জন গণ মন' — রবীন্দ্রনাথ। ভারতের জাতীয় স্তোত্র (National Song): 'বন্দেমাতরম' — বঙ্কিমচন্দ্র। জাতীয় সংগীত ≠ জাতীয় স্তোত্র। দুটো আলাদা — পরীক্ষায় বিভ্রান্তি তৈরি হয়। |
⚡ পংক্তি-লেখক বিভ্রান্তি 'চিত্ত যেথা ভয়শূন্য' = রবীন্দ্রনাথ। নজরুলের নয়। 'বল বীর, বল উন্নত মম শির' = নজরুল। রবীন্দ্রনাথের নয়। 'পথিক, তুমি পথ হারাইয়াছ' = বঙ্কিম (কপালকুণ্ডলা)। রবীন্দ্রনাথের নয়। 'বনলতা সেন' = জীবনানন্দ দাশ। রবীন্দ্রনাথের নয়। 'এখন যৌবন যার...' = হেলাল হাফিজ। নজরুলের নয়। 'সবার উপরে মানুষ সত্য' = লালন শাহ। রবীন্দ্রনাথের নয়। 'নিজে না করিলে নিজের উদ্ধার নাই' = বিদ্যাসাগর। |
⚡ প্রকাশনা ও সুর বিষয়ক বিভ্রান্তি 'বিদ্রোহী' প্রকাশ: বিজলী পত্রিকায় ৬ জানুয়ারি ১৯২২। রচনা হয় ১৯২১ সালের ডিসেম্বরে। 'আমার ভাইয়ের রক্তে রাঙানো' গানে প্রথম সুর আব্দুল লতিফের (১৯৫২)। পরিচিত সুর আলতাফ মাহমুদের (১৯৬৯)। 'বনলতা সেন' নাটোরের — বরিশাল নয়, রাজশাহী বিভাগে। 'সোনালি কাবিন' ১৪টি সনেটের সমষ্টি — আল মাহমুদের শ্রেষ্ঠ রচনা। |
★ অতি গুরুত্বপূর্ণ — প্রায়ই ভুল হয় বন্দেমাতরম ভারতের 'জাতীয় স্তোত্র' — 'জাতীয় সংগীত' নয়। জাতীয় সংগীত = জন গণ মন। 'কবর' কবিতা জসীমউদ্দীনের ছাত্রাবস্থায় লেখা (১৯২৫) — পরে বিএ পাঠ্যসূচিতে অন্তর্ভুক্ত। লালন শাহ কোনো নির্দিষ্ট ধর্মের নন — বাউল মতের সাধক, মানবতাবাদী। হেলাল হাফিজের প্রথম কাব্যগ্রন্থ 'যে জলে আগুন জ্বলে' (১৯৮৬) — প্রকাশে দীর্ঘ সময় লেগেছে। নির্মলেন্দু গুণের 'হুলিয়া' কবিতা — এটি তাঁর বিখ্যাত কবিতা, কাব্যগ্রন্থের নাম নয়। |
❝ সারসংক্ষেপ একনজরে সব গুরুত্বপূর্ণ পংক্তি |
★ পংক্তি থেকে কবি চিনুন ★ ◆ “চিত্ত যেথা ভয়শূন্য” → রবীন্দ্রনাথ (গীতাঞ্জলি) ◆ “আমার সোনার বাংলা” → রবীন্দ্রনাথ (বাংলাদেশের জাতীয় সংগীত) ◆ “বল বীর — বল উন্নত মম শির” → নজরুল ইসলাম (বিদ্রোহী) ◆ “মানুষের চেয়ে বড় কিছু নাই” → নজরুল ইসলাম (মানুষ) ◆ “হে বঙ্গ, ভাণ্ডারে তব বিবিধ রতন” → মধুসূদন দত্ত (বঙ্গভাষা (১ম সনেট)) ◆ “চুল তার কবেকার অন্ধকার বিদিশার নিশা” → জীবনানন্দ দাশ (বনলতা সেন) ◆ “আবার আসিব ফিরে ধানসিঁড়িটির তীরে” → জীবনানন্দ দাশ (আবার আসিব ফিরে) ◆ “বন্দে মাতরম্ — সুজলাং সুফলাং” → বঙ্কিমচন্দ্র (আনন্দমঠ (ভারতের স্তোত্র)) ◆ “পথিক, তুমি পথ হারাইয়াছ!” → বঙ্কিমচন্দ্র (কপালকুণ্ডলা) ◆ “এইখানে তোর দাদির কবর” → জসীমউদ্দীন (কবর (১৯২৫)) ◆ “স্বাধীনতা তুমি রবিঠাকুরের অজর কবিতা” → শামসুর রাহমান (স্বাধীনতা তুমি) ◆ “আমার ভাইয়ের রক্তে রাঙানো” → আব্দুল গাফফার চৌধুরী (একুশের গান) ◆ “এখন যৌবন যার, মিছিলে যাবার তার” → হেলাল হাফিজ (নিষিদ্ধ সম্পাদকীয়) ◆ “সবার উপরে মানুষ সত্য” → লালন শাহ (লালনগীতি) ◆ “আমরা হিন্দু বা মুসলমান... আমরা বাঙালি” → ড. শহীদুল্লাহ (বিখ্যাত উক্তি) ◆ “নিজে না করিলে নিজের উদ্ধার নাই” → ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর (বিখ্যাত উক্তি) |
━━━━━━━━━━━ অধ্যায় সমাপ্ত ━━━━━━━━━━━