বাংলা সাহিত্য সংকলন
বাংলা সাময়িক পত্র-পত্রিকা
বাংলা সাময়িক পত্র-পত্রিকার ইতিহাস বাংলা সাহিত্যের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়। পত্র-পত্রিকার মাধ্যমেই বাংলা গদ্যের বিকাশ ঘটে, সাহিত্যিকরা তাঁদের মেধা বিকাশের সুযোগ পান এবং জাতীয় চেতনা, সমাজ সংস্কার ও স্বাধীনতার আকাঙ্ক্ষা প্রকাশ পায়।
★ মনে রাখুন: বাংলার প্রথম সংবাদপত্র বের হয় ১৮১৮ সালে। এই বছরটি বাংলা সাংবাদিকতার ইতিহাসে 'মাইলফলক বছর' হিসেবে পরিচিত। এ বছর একসঙ্গে দুটি গুরুত্বপূর্ণ পত্রিকা প্রকাশিত হয় — দিগদর্শন ও সমাচার দর্পণ।
◆ বাংলা সাময়িকপত্রের উৎপত্তি ও ক্রমবিকাশ
বাংলা সাময়িকপত্রের যাত্রা শুরু হয় উনিশ শতকের গোড়ায়, শ্রীরামপুর মিশনারিদের হাত ধরে। ইংরেজ ব্যাপটিস্ট মিশনারিরা বাংলার মানুষের কাছে খ্রিস্টধর্ম প্রচার এবং শিক্ষা বিস্তারের উদ্দেশ্যে পত্রিকা প্রকাশ করেন। তবে এই পত্রিকাগুলোই পরবর্তীতে বাংলা সাহিত্য, ভাষা ও সংস্কৃতির মূল ধারা নির্মাণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
▶ বাংলা সাময়িকপত্রের তিনটি প্রধান পর্যায়
পর্যায় | সময়কাল | বৈশিষ্ট্য | উল্লেখযোগ্য পত্রিকা |
প্রথম পর্যায় | ১৮১৮–১৮৫০ | ধর্মীয় ও শিক্ষামূলক চেতনা | দিগদর্শন, সমাচার দর্পণ, বঙ্গদূত |
দ্বিতীয় পর্যায় | ১৮৫০–১৯০০ | সাহিত্য ও সমাজ সংস্কার | সংবাদ প্রভাকর, বঙ্গদর্শন, ভারতী |
তৃতীয় পর্যায় | ১৯০০–১৯৪৭ | জাতীয়তা ও রাজনৈতিক চেতনা | কল্লোল, সবুজপত্র, ধূমকেতু, সওগাত |
◆ দ্বিতীয় অধ্যায়: ঐতিহাসিক প্রথম পত্রিকাসমূহ
▶ ১. দিগদর্শন (১৮১৮)
দিগদর্শন — বাংলা ভাষায় প্রকাশিত প্রথম সাময়িক পত্রিকা। এটি মাসিক পত্রিকা হিসেবে প্রকাশিত হয়।
বিষয় | তথ্য |
প্রকাশকাল | এপ্রিল, ১৮১৮ |
প্রকাশস্থান | শ্রীরামপুর (সেরামপুর) |
সম্পাদক | জন ক্লার্ক মার্শম্যান (Joshua Marshman-এর পুত্র) |
প্রকৃতি | মাসিক সাময়িকপত্র |
ভাষা | বাংলা ও ইংরেজি (দ্বিভাষিক) |
প্রকাশক | শ্রীরামপুর মিশন প্রেস |
বিষয়বস্তু | ইতিহাস, ভূগোল, বিজ্ঞান, ধর্মীয় শিক্ষা |
স্থায়িত্ব | ১৮১৮–১৮৩১ (মতান্তরে ১৮২০) |
🔴 পরীক্ষায় আসে: দিগদর্শন প্রকাশিত হয় ১৮১৮ সালের এপ্রিল মাসে। এটি বাংলা ভাষায় প্রকাশিত প্রথম সাময়িকপত্র। সম্পাদক ছিলেন জন ক্লার্ক মার্শম্যান। এটি মূলত শিশুদের জন্য প্রকাশিত হয়েছিল।
🔮 ট্রিকি তথ্য: অনেকে 'সমাচার দর্পণ'কে প্রথম বাংলা পত্রিকা মনে করেন। কিন্তু 'দিগদর্শন' প্রকাশিত হয় এপ্রিল মাসে এবং 'সমাচার দর্পণ' প্রকাশিত হয় মে মাসে — তাই 'দিগদর্শন'ই প্রথম। দিগদর্শন বাংলা ভাষায় প্রথম মাসিক পত্রিকা, আর সমাচার দর্পণ প্রথম সাপ্তাহিক সংবাদপত্র।
▶ ২. সমাচার দর্পণ (১৮১৮)
সমাচার দর্পণ — বাংলা ভাষায় প্রকাশিত প্রথম সাপ্তাহিক সংবাদপত্র। এটি বাংলা সংবাদপত্রের ইতিহাসে এক যুগান্তকারী পদক্ষেপ।
বিষয় | তথ্য |
প্রকাশকাল | ২৩ মে, ১৮১৮ (মতান্তরে মে ১৮১৮) |
প্রকাশস্থান | শ্রীরামপুর মিশন প্রেস |
সম্পাদক | জেসুয়া মার্শম্যান (Joshua Marshman) |
প্রকৃতি | সাপ্তাহিক সংবাদপত্র |
ভাষা | বাংলা |
স্থায়িত্ব | ১৮১৮–১৮৫১ (প্রায় ৩৩ বছর) |
পরবর্তী সম্পাদক | জন মার্শম্যান (পুত্র) |
বিশেষত্ব | বাংলাদেশে প্রকাশিত প্রথম দীর্ঘস্থায়ী সংবাদপত্র |
🔴 বিশেষ তথ্য: সমাচার দর্পণে রামমোহন রায় নিয়মিত লিখতেন। এই পত্রিকায় সর্বপ্রথম সতীদাহ প্রথার বিরুদ্ধে সংবাদ প্রকাশিত হয়। এই পত্রিকাটি বাংলা সাংবাদিকতার মূল ভিত্তি নির্মাণ করে।
▶ ৩. বঙ্গদূত (১৮২৯) — প্রথম বাংলা দৈনিক
বিষয় | তথ্য |
প্রকাশকাল | ১৮২৯ |
বিশেষত্ব | বাংলা ভাষায় প্রথম দৈনিক সংবাদপত্র |
প্রকাশক | নীলরতন হালদার |
ভাষা | বাংলা, ইংরেজি, ফার্সি (ত্রিভাষিক) |
প্রকাশস্থান | কলকাতা |
🔮 ট্রিকি: বঙ্গদূত ছিল বাংলা, ইংরেজি ও ফার্সি — এই তিনটি ভাষায় প্রকাশিত। এটিই প্রথম দৈনিক বাংলা পত্রিকা।
▶ ৪. সংবাদ প্রভাকর (১৮৩১)
বিষয় | তথ্য |
প্রকাশকাল | ১৮৩১ (সাপ্তাহিক হিসেবে শুরু) |
দৈনিক হয় | ১৮৩৯ সালে |
সম্পাদক | ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্ত |
বিশেষত্ব | প্রথম সফল বাংলা দৈনিক পত্রিকা |
গুরুত্ব | বাংলা কবিতার বিকাশে ভূমিকা রেখেছিল |
মাইকেল মধুসূদন | এই পত্রিকায় লিখতেন |
বঙ্কিমচন্দ্র | এই পত্রিকায় লিখতেন |
স্থায়িত্ব | ১৮৩১–১৮৭৫ |
★ সংবাদ প্রভাকর সম্পর্কে বিশেষ তথ্য: ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্ত এই পত্রিকায় মাইকেল মধুসূদন দত্ত, বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় প্রমুখ তরুণ লেখকদের লেখা প্রথম প্রকাশ করেন। তিনি ছিলেন তাদের প্রথম সাহিত্যিক গুরু।
◆ বিখ্যাত পত্রিকা
▶ ৫. তত্ত্ববোধিনী পত্রিকা (১৮৪৩)
তত্ত্ববোধিনী পত্রিকা ব্রাহ্ম সমাজের মুখপত্র হিসেবে প্রকাশিত হয়। এটি বাংলা গদ্যের বিকাশে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
বিষয় | তথ্য |
প্রকাশকাল | ১৬ আগস্ট, ১৮৪৩ |
প্রতিষ্ঠাতা | দেবেন্দ্রনাথ ঠাকুর (রবীন্দ্রনাথের পিতা) |
প্রথম সম্পাদক | অক্ষয়কুমার দত্ত |
প্রকৃতি | মাসিক পত্রিকা |
মুখপত্র | তত্ত্ববোধিনী সভা ও ব্রাহ্ম সমাজ |
বিষয়বস্তু | ধর্ম, দর্শন, সমাজ সংস্কার, বিজ্ঞান |
গুরুত্ব | বাংলা গদ্য সাহিত্যের মূল ভিত্তি নির্মাণ |
রবীন্দ্রনাথ | এই পত্রিকায় প্রথম লেখেন |
🔮 ট্রিকি তথ্য: তত্ত্ববোধিনী পত্রিকার সম্পাদক ছিলেন অক্ষয়কুমার দত্ত। এই পত্রিকায় রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের প্রথম কবিতা 'অভিলাষ' প্রকাশিত হয়েছিল বলে মনে করা হয়। তত্ত্ববোধিনী পত্রিকায় ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগরও নিয়মিত লিখতেন।
▶ ৬. বঙ্গদর্শন (১৮৭২) — বঙ্কিমচন্দ্রের পত্রিকা
বঙ্গদর্শন বাংলা সাহিত্যের ইতিহাসে একটি বিপ্লব ঘটিয়েছিল। বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় এই পত্রিকার মাধ্যমে বাংলা সাহিত্যকে একটি নতুন গতিপথ দেন। বঙ্গদর্শনে প্রকাশিত উপন্যাস, প্রবন্ধ ও সাহিত্য সমালোচনা আজও বাংলা সাহিত্যের মূল্যবান সম্পদ।
বিষয় | তথ্য |
প্রকাশকাল | এপ্রিল ১৮৭২ |
প্রতিষ্ঠাতা-সম্পাদক | বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় |
প্রকৃতি | মাসিক সাহিত্য পত্রিকা |
প্রথম সংখ্যায় প্রকাশিত | বিষবৃক্ষ (উপন্যাসের প্রথম কিস্তি) |
পুনঃপ্রকাশ | রবীন্দ্রনাথের সম্পাদনায় (১৯০০–১৯০২) |
প্রধান লেখক | বঙ্কিমচন্দ্র, হেমচন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায় |
স্থায়িত্ব | ১৮৭২–১৮৭৬ (প্রথম পর্যায়) |
★ বঙ্গদর্শনের বিশেষ গুরুত্ব: বঙ্গদর্শনে বঙ্কিমচন্দ্রের বিখ্যাত উপন্যাসগুলো ধারাবাহিকভাবে প্রকাশিত হয়। 'বিষবৃক্ষ', 'কৃষ্ণকান্তের উইল', 'আনন্দমঠ' প্রভৃতি উপন্যাস এই পত্রিকায় প্রথম প্রকাশিত হয়। ১৯০০ সালে রবীন্দ্রনাথ এই পত্রিকা পুনরায় সম্পাদনা করেন।
▶ ৭. ভারতী (১৮৭৭) — ঠাকুর পরিবারের পত্রিকা
বিষয় | তথ্য |
প্রকাশকাল | ১৮৭৭ |
প্রতিষ্ঠাতা সম্পাদক | দ্বিজেন্দ্রনাথ ঠাকুর |
পরবর্তী সম্পাদক | স্বর্ণকুমারী দেবী, হিরণ্ময়ী দেবী, সরলাদেবী চৌধুরানী |
রবীন্দ্রনাথের সম্পর্ক | নিয়মিত লেখক ও পরে সম্পাদক |
প্রকৃতি | মাসিক সাহিত্য পত্রিকা |
বিশেষত্ব | ঠাকুর পরিবারের পারিবারিক পত্রিকা |
স্থায়িত্ব | ১৮৭৭–১৯২৯ |
🔮 ট্রিকি: ভারতী পত্রিকার প্রথম সম্পাদক ছিলেন দ্বিজেন্দ্রনাথ ঠাকুর (রবীন্দ্রনাথের দাদা ভাই)। পরে স্বর্ণকুমারী দেবী (রবীন্দ্রনাথের দিদি) এই পত্রিকা সম্পাদনা করেন। এটি ছিল বাংলার প্রথম নারী-সম্পাদিত পত্রিকাগুলোর একটি।
◆ রবীন্দ্রনাথ-সম্পর্কিত পত্রিকাসমূহ
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর বাংলা পত্রিকা জগতে এক বিশেষ স্থান অধিকার করেছেন। তিনি নিজেই সম্পাদক ছিলেন, লেখক ছিলেন এবং পত্রিকার মান নিয়ন্ত্রণকারী ছিলেন। রবীন্দ্রনাথের পত্রিকাগুলো বাংলা সাহিত্যের মানচিত্র পরিবর্তন করে দেয়।
পত্রিকার নাম | প্রকাশকাল | রবীন্দ্রনাথের ভূমিকা | বিশেষ তথ্য |
ভারতী | ১৮৭৭ | লেখক, পরে সম্পাদক | ঠাকুর পরিবারের পত্রিকা |
বালক | ১৮৮৫ | সম্পাদক | শিশু সাহিত্যের পত্রিকা |
সাধনা | ১৮৯১ | সম্পাদক | গল্পগুচ্ছের অনেক গল্প এখানে |
বঙ্গদর্শন | ১৯০০ | সম্পাদক (পুনঃসম্পাদনা) | বঙ্কিমের পত্রিকা পুনর্জীবন |
সবুজপত্র | ১৯১৪ | পৃষ্ঠপোষক ও লেখক | প্রমথ চৌধুরী সম্পাদিত |
● সাধনা (১৮৯১) — রবীন্দ্রনাথের নিজস্ব পত্রিকা
বিষয় | তথ্য |
প্রকাশকাল | ১৮৯১ |
সম্পাদক | রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর |
প্রকৃতি | মাসিক সাহিত্য পত্রিকা |
গুরুত্ব | গল্পগুচ্ছের বহু গল্প এখানে প্রথম প্রকাশিত |
স্থায়িত্ব | ১৮৯১–১৮৯৫ |
বিষয়বস্তু | গল্প, কবিতা, প্রবন্ধ, নাটক |
★ সাধনা পত্রিকার বিশেষত্ব: রবীন্দ্রনাথের বিখ্যাত ছোটগল্পগুলো — 'পোস্টমাস্টার', 'দেনাপাওনা', 'সমাপ্তি', 'ছুটি' প্রভৃতি — এই পত্রিকায় প্রথম প্রকাশিত হয়েছিল।
● সবুজপত্র (১৯১৪) — বাংলা গদ্যের বিপ্লব
বিষয় | তথ্য |
প্রকাশকাল | ১৯১৪ |
সম্পাদক | প্রমথ চৌধুরী (বীরবল) |
রবীন্দ্রনাথের ভূমিকা | প্রধান লেখক ও পৃষ্ঠপোষক |
বিশেষত্ব | চলিত ভাষার প্রচলনে অগ্রণী ভূমিকা |
গুরুত্ব | বাংলা গদ্যে সাধু থেকে চলিত ভাষার রূপান্তরে মূল ভূমিকা |
স্থায়িত্ব | ১৯১৪–১৯২৬ |
🔮 ট্রিকি ও গুরুত্বপূর্ণ: সবুজপত্র পত্রিকা বাংলা গদ্যে চলিত ভাষার আন্দোলন গড়ে তোলে। প্রমথ চৌধুরীর ছদ্মনাম ছিল 'বীরবল'। রবীন্দ্রনাথ এই পত্রিকায় তাঁর 'বলাকা' কাব্যগ্রন্থের অনেক কবিতা প্রথম প্রকাশ করেন।
◆ কল্লোল যুগের পত্রিকাসমূহ
১৯২০-এর দশকে বাংলা সাহিত্যে এক নতুন বিপ্লব ঘটে — যা 'কল্লোল যুগ' নামে পরিচিত। এই সময়ে প্রকাশিত পত্রিকাগুলো রবীন্দ্র-প্রভাবের বাইরে গিয়ে আধুনিকতার সন্ধান করে।
● কল্লোল (১৯২৩)
বিষয় | তথ্য |
প্রকাশকাল | ১৯২৩ |
সম্পাদক | দীনেশরঞ্জন দাশ |
প্রতিষ্ঠাতা | গোকুলচন্দ্র নাগ |
বিশেষত্ব | আধুনিক বাংলা সাহিত্যের সূচনাকারী |
প্রধান লেখক | প্রেমেন্দ্র মিত্র, বুদ্ধদেব বসু, অচিন্ত্যকুমার সেনগুপ্ত |
স্লোগান | রবীন্দ্র-প্রভাবমুক্ত আধুনিক সাহিত্য |
স্থায়িত্ব | ১৯২৩–১৯৩০ |
★ কল্লোলের গুরুত্ব: কল্লোল পত্রিকা বাংলা সাহিত্যে আধুনিকতার দরজা উন্মুক্ত করে। এই পত্রিকার লেখকরা 'কল্লোল গোষ্ঠী' নামে পরিচিত। নগর জীবন, যৌনতা, মনোবিশ্লেষণ প্রভৃতি বিষয় বাংলা সাহিত্যে প্রথম এই পত্রিকার মাধ্যমে আসে।
● প্রগতি (১৯২৭)
বিষয় | তথ্য |
প্রকাশকাল | ১৯২৭ |
সম্পাদক | বুদ্ধদেব বসু ও অজিতকুমার দত্ত (পরে কাজী আব্দুল ওদুদ) |
প্রতিষ্ঠাতা | বুদ্ধদেব বসু |
প্রকাশস্থান | ঢাকা |
বিশেষত্ব | ঢাকা থেকে প্রকাশিত আধুনিক সাহিত্য পত্রিকা |
● পরিচয় (১৯৩১)
বিষয় | তথ্য |
প্রকাশকাল | ১৯৩১ |
সম্পাদক | সুধীন্দ্রনাথ দত্ত |
বিশেষত্ব | প্রগতিশীল সাহিত্য আন্দোলনের মুখপত্র |
প্রধান লেখক | সুধীন্দ্রনাথ দত্ত, বিষ্ণু দে, অমিয় চক্রবর্তী |
স্থায়িত্ব | ১৯৩১–১৯৪৭ |
● কবিতা (১৯৩৫)
বিষয় | তথ্য |
প্রকাশকাল | ১৯৩৫ |
সম্পাদক | বুদ্ধদেব বসু |
বিশেষত্ব | বাংলা কবিতার একমাত্র পত্রিকা |
গুরুত্ব | আধুনিক বাংলা কবিতার প্রধান মঞ্চ |
স্থায়িত্ব | ১৯৩৫–১৯৬০ |
◆ নজরুল-সম্পর্কিত পত্রিকাসমূহ
কাজী নজরুল ইসলাম বাংলা সাংবাদিকতায় এক উজ্জ্বল নাম। তিনি বেশ কয়েকটি পত্রিকা সম্পাদনা ও প্রকাশ করেছেন, যেগুলো তাঁর বিদ্রোহী সত্তার প্রতিফলন ঘটায়।
পত্রিকা | প্রকাশকাল | প্রকৃতি | বিশেষ তথ্য |
নবযুগ | ১৯২০ | সান্ধ্য দৈনিক | মুজফ্ফর আহমদের সাথে সম্পাদনা |
ধূমকেতু | ১৯২২ | অর্ধ-সাপ্তাহিক | বিদ্রোহী ও স্বাধীনতার দাবি |
লাঙল | ১৯২৫ | সাপ্তাহিক | শ্রমজীবী মানুষের পত্রিকা |
গণবাণী | ১৯২৬ | দৈনিক | মুজফ্ফর আহমদ সম্পাদিত |
● ধূমকেতু (১৯২২) — বিদ্রোহের পত্রিকা
ধূমকেতু পত্রিকার যাত্রা শুরু হয় ১২ আগস্ট, ১৯২২ তারিখে। নজরুলের বিদ্রোহী চেতনার মূর্ত প্রকাশ এই পত্রিকাটি। পত্রিকার নামেই স্পষ্ট — যেন একটি ধূমকেতু আকাশে জ্বলছে, সবকিছু পুড়িয়ে দিচ্ছে।
বিষয় | তথ্য |
প্রকাশকাল | ১২ আগস্ট, ১৯২২ |
সম্পাদক | কাজী নজরুল ইসলাম |
প্রকৃতি | অর্ধ-সাপ্তাহিক (সপ্তাহে দুইবার) |
বিশেষত্ব | ব্রিটিশ শাসনের বিরুদ্ধে সরাসরি আক্রমণ |
নিষিদ্ধ | ১৯২২ সালেই ব্রিটিশ সরকার কর্তৃক নিষিদ্ধ |
কারণ | 'আনন্দময়ীর আগমনে' কবিতার জন্য নজরুলের কারাবাস |
রবীন্দ্রনাথের আশীর্বাদ | রবীন্দ্রনাথ এই পত্রিকায় আশীর্বাদ বাণী দেন |
🔴 অতি গুরুত্বপূর্ণ: ধূমকেতু পত্রিকার জন্য নজরুল 'আনন্দময়ীর আগমনে' কবিতা লেখার কারণে ব্রিটিশ সরকার তাঁকে রাজদ্রোহের অপরাধে গ্রেফতার করে। রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর ধূমকেতুকে আশীর্বাদ করে লিখেছিলেন — 'আয় চলে আয়, রে ধূমকেতু / আঁধারে বাধ অগ্নিসেতু'।
● নবযুগ (১৯২০)
বিষয় | তথ্য |
প্রকাশকাল | ১৯২০ |
সম্পাদক | কাজী নজরুল ইসলাম ও মুজফ্ফর আহমদ (যৌথভাবে) |
প্রকৃতি | সান্ধ্য দৈনিক |
পৃষ্ঠপোষক | শেরে বাংলা এ কে ফজলুল হক |
গুরুত্ব | নজরুলের সাংবাদিক জীবনের শুরু |
🔮 ট্রিকি: নবযুগ পত্রিকার পৃষ্ঠপোষক ছিলেন শেরে বাংলা এ. কে. ফজলুল হক। এটি অনেকের কাছে অজানা তথ্য। নজরুল ও মুজফ্ফর আহমদ এই পত্রিকা যৌথভাবে সম্পাদনা করতেন।
◆ মুসলিম সাহিত্য ও মুসলিম-সম্পর্কিত পত্রিকাসমূহ
বাংলা সাহিত্যে মুসলিম লেখকদের অবদান এবং মুসলিম সমাজের চেতনা জাগ্রত করতে যেসব পত্রিকা প্রকাশিত হয়েছিল, সেগুলো BCS পরীক্ষায় অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
পত্রিকা | প্রকাশকাল | সম্পাদক | বিশেষত্ব |
সুধাকর | ১৮৯৪ | শেখ আব্দুর রহিম | প্রথম মুসলিম সম্পাদিত পত্রিকাগুলোর একটি |
ইসলাম প্রচারক | ১৮৯১ | মুহম্মদ রেয়াজুদ্দীন আহমদ | ধর্মীয় ও সামাজিক পত্রিকা |
মিহির ও সুধাকর | ১৮৯৪ | শেখ আব্দুর রহিম | মিহির ও সুধাকর একীভূত |
নবনূর | ১৯০৩ | সৈয়দ এমদাদ আলী | প্রথম মুসলিম সাহিত্য পত্রিকা (মতান্তরে) |
মাসিক মোহাম্মদী | ১৯০৩ | মোহাম্মদ আকরম খাঁ | ধর্মীয় ও রাজনৈতিক |
বঙ্গীয় মুসলমান সাহিত্য পত্রিকা | ১৯১৮ | মোহাম্মদ শহীদুল্লাহ | মুসলিম সাহিত্যের মূল প্ল্যাটফর্ম |
সওগাত | ১৯১৮ | মোহাম্মদ নাসিরউদ্দীন | মুসলিম নারী মুক্তির পত্রিকা |
শিখা | ১৯২৭ | আবুল হুসেন | মুসলিম সাহিত্য সমাজের মুখপত্র |
মোহাম্মদী | ১৯২৭ | মোহাম্মদ আকরম খাঁ | ধর্মীয় ও সংস্কারমূলক |
আজাদ | ১৯৩৬ | মোহাম্মদ আকরম খাঁ | রাজনৈতিক দৈনিক |
বেগম | ১৯৪৭ | নূরজাহান বেগম | মুসলিম নারীদের পত্রিকা |
● সওগাত (১৯১৮) — মুসলিম নারী মুক্তির পথিকৃৎ
বিষয় | তথ্য |
প্রকাশকাল | ১৯১৮ |
সম্পাদক | মোহাম্মদ নাসিরউদ্দীন |
প্রকাশস্থান | কলকাতা (পরে ঢাকা) |
বিশেষত্ব | মুসলিম সমাজে নারী অধিকার ও শিক্ষার কথা বলে |
গুরুত্ব | বেগম রোকেয়ার লেখা প্রকাশ করে |
স্থায়িত্ব | ১৯১৮ থেকে দীর্ঘকাল |
● শিখা (১৯২৭) — বুদ্ধির মুক্তি আন্দোলনের মুখপত্র
বিষয় | তথ্য |
প্রকাশকাল | ১৯২৭ |
সম্পাদক | আবুল হুসেন |
সংগঠন | মুসলিম সাহিত্য সমাজ (ঢাকা) |
স্লোগান | জ্ঞান যেখানে সীমাবদ্ধ, বুদ্ধি যেখানে আড়ষ্ট, মুক্তি সেখানে অসম্ভব |
প্রধান লেখক | কাজী আব্দুল ওদুদ, আব্দুল কাদির, কাজী মোতাহার হোসেন |
গুরুত্ব | মুসলিম সমাজে যুক্তিবাদ ও প্রগতিশীলতার প্রচার |
স্থায়িত্ব | ১৯২৭–১৯৩১ |
★ শিখা পত্রিকার বিশেষত্ব: শিখা পত্রিকার মূল লক্ষ্য ছিল 'বুদ্ধির মুক্তি'। এই পত্রিকার স্লোগান ছিল — 'জ্ঞান যেখানে সীমাবদ্ধ, বুদ্ধি যেখানে আড়ষ্ট, মুক্তি সেখানে অসম্ভব'। এটি ঢাকার মুসলিম সাহিত্য সমাজর মুখপত্র ছিল।
● বঙ্গীয় মুসলমান সাহিত্য পত্রিকা (১৯১৮)
বিষয় | তথ্য |
প্রকাশকাল | ১৯১৮ |
সম্পাদক | মোহাম্মদ শহীদুল্লাহ (ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ) |
সংগঠন | বঙ্গীয় মুসলমান সাহিত্য সমিতি |
গুরুত্ব | মুসলিম সাহিত্যকে মূল ধারায় আনা |
প্রধান লেখক | কাজী নজরুল ইসলাম, ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ |
● বেগম (১৯৪৭) — নারীদের পত্রিকা
বিষয় | তথ্য |
প্রকাশকাল | ২০ জুলাই ১৯৪৭ |
প্রতিষ্ঠাতা সম্পাদক | নূরজাহান বেগম (মোহাম্মদ নাসিরউদ্দীনের কন্যা) |
প্রকাশস্থান | কলকাতা (পরে ঢাকা) |
বিশেষত্ব | মুসলিম নারীদের জন্য প্রকাশিত প্রথম পত্রিকা |
সুফিয়া কামাল | প্রথম সম্পাদক হিসেবে কাজ করেন (মতান্তরে) |
🔮 ট্রিকি: বেগম পত্রিকার প্রতিষ্ঠাতা ছিলেন মোহাম্মদ নাসিরউদ্দীন এবং প্রথম সম্পাদক ছিলেন তাঁরই কন্যা নূরজাহান বেগম। এটি বাংলাদেশের সর্বপ্রাচীন মহিলা পত্রিকা হিসেবে এখনও প্রকাশিত হচ্ছে।
◆ অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ পত্রিকাসমূহ
▶ প্রবাসী (১৯০১)
বিষয় | তথ্য |
প্রকাশকাল | ১৯০১ |
সম্পাদক | রামানন্দ চট্টোপাধ্যায় |
প্রকৃতি | মাসিক সাহিত্য পত্রিকা |
প্রকাশস্থান | এলাহাবাদ (পরে কলকাতা) |
গুরুত্ব | বাংলা সাহিত্যের অন্যতম মানসম্পন্ন পত্রিকা |
রবীন্দ্রনাথ | নিয়মিত লেখক ও গুরুত্বপূর্ণ সহযোগী |
স্থায়িত্ব | ১৯০১–১৯৪৭ |
▶ ভারতবর্ষ (১৯১৩)
বিষয় | তথ্য |
প্রকাশকাল | ১৯১৩ |
সম্পাদক | জলধর সেন (প্রথম সম্পাদক) |
প্রকৃতি | মাসিক সাহিত্য পত্রিকা |
গুরুত্ব | ব্যাপক পাঠকপ্রিয়তা পাওয়া পত্রিকা |
▶ শনিবারের চিঠি (১৯২৪)
বিষয় | তথ্য |
প্রকাশকাল | ১৯২৪ |
সম্পাদক | সজনীকান্ত দাস |
বিশেষত্ব | রবীন্দ্রনাথের বিরোধিতার জন্য বিখ্যাত |
প্রকৃতি | সাহিত্যিক সাপ্তাহিক |
গুরুত্ব | বাংলা সাহিত্য সমালোচনার ইতিহাসে গুরুত্বপূর্ণ |
🔮 ট্রিকি তথ্য: 'শনিবারের চিঠি' পত্রিকাটি রবীন্দ্রনাথের সমালোচনার জন্য বিশেষভাবে পরিচিত। সজনীকান্ত দাস রবীন্দ্রনাথের সাহিত্যের কঠোর সমালোচনা করতেন। এই পত্রিকাটি রবীন্দ্র-বিরোধী আন্দোলনের কেন্দ্র হয়ে ওঠে।
▶ বামাবোধিনী পত্রিকা (১৮৬৩) — নারী পত্রিকা
বিষয় | তথ্য |
প্রকাশকাল | ১৮৬৩ |
সম্পাদক | উমেশচন্দ্র দত্ত |
বিশেষত্ব | বাংলা ভাষায় প্রথম নারী পত্রিকা |
লক্ষ্য | নারী শিক্ষা ও নারী মুক্তি |
স্থায়িত্ব | ১৮৬৩–১৯২২ (প্রায় ৫৯ বছর) |
★ বামাবোধিনী: বাংলা ভাষায় প্রথম নারী পত্রিকা হিসেবে বামাবোধিনীর নাম চিরস্মরণীয়। ১৮৬৩ সালে প্রকাশিত এই পত্রিকা প্রায় ৫৯ বছর ধরে নারী অধিকারের কথা বলে গেছে।
▶ হিন্দু প্যাট্রিয়ট (১৮৫৩)
বিষয় | তথ্য |
প্রকাশকাল | ১৮৫৩ |
বিখ্যাত সম্পাদক | হরিশচন্দ্র মুখোপাধ্যায় |
বিশেষত্ব | নীলচাষীদের দুর্দশার কথা প্রকাশ করে |
গুরুত্ব | দীনবন্ধু মিত্রের 'নীলদর্পণ' নাটকের বিজ্ঞাপন এখানে প্রকাশিত |
রাজনৈতিক অবস্থান | ব্রিটিশ শাসনের সমালোচক |
◆ সকল গুরুত্বপূর্ণ পত্রিকা
পত্রিকা | প্রকাশকাল | সম্পাদক/প্রতিষ্ঠাতা | বিশেষত্ব |
দিগদর্শন | এপ্রিল ১৮১৮ | জন ক্লার্ক মার্শম্যান | প্রথম বাংলা সাময়িকপত্র (মাসিক) |
সমাচার দর্পণ | মে ১৮১৮ | জেসুয়া মার্শম্যান | প্রথম বাংলা সাপ্তাহিক সংবাদপত্র |
সম্বাদ কৌমুদী | ১৮২১ | রামমোহন রায় | রামমোহনের নিজস্ব পত্রিকা |
মিরাৎ-উল-আখবার | ১৮২২ | রামমোহন রায় | ফার্সি ভাষায় প্রথম পত্রিকা |
বঙ্গদূত | ১৮২৯ | নীলরতন হালদার | প্রথম বাংলা দৈনিক (ত্রিভাষিক) |
সংবাদ প্রভাকর | ১৮৩১ | ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্ত | প্রথম সফল বাংলা দৈনিক (১৮৩৯ থেকে) |
তত্ত্ববোধিনী | ১৮৪৩ | অক্ষয়কুমার দত্ত | ব্রাহ্ম সমাজের মুখপত্র |
মাসিক পত্রিকা | ১৮৫৪ | প্যারীচাঁদ মিত্র | বাংলা গদ্যের বিকাশে ভূমিকা |
হিন্দু প্যাট্রিয়ট | ১৮৫৩ | হরিশচন্দ্র মুখোপাধ্যায় | নীলকর বিরোধী আন্দোলন |
বামাবোধিনী | ১৮৬৩ | উমেশচন্দ্র দত্ত | প্রথম বাংলা নারী পত্রিকা |
বঙ্গদর্শন | ১৮৭২ | বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় | বঙ্কিমের উপন্যাস প্রকাশ |
ভারতী | ১৮৭৭ | দ্বিজেন্দ্রনাথ ঠাকুর | ঠাকুর পরিবারের পত্রিকা |
বালক | ১৮৮৫ | রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর | শিশু সাহিত্য পত্রিকা |
সুধাকর | ১৮৯৪ | শেখ আব্দুর রহিম | মুসলিম সম্পাদিত পত্রিকা |
সাধনা | ১৮৯১ | রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর | রবীন্দ্রনাথের গল্পগুচ্ছ এখানে |
প্রবাসী | ১৯০১ | রামানন্দ চট্টোপাধ্যায় | দীর্ঘস্থায়ী সাহিত্য পত্রিকা |
নবনূর | ১৯০৩ | সৈয়দ এমদাদ আলী | মুসলিম সাহিত্য পত্রিকা |
ভারতবর্ষ | ১৯১৩ | জলধর সেন | জনপ্রিয় মাসিক পত্রিকা |
সবুজপত্র | ১৯১৪ | প্রমথ চৌধুরী | চলিত ভাষার আন্দোলন |
বঙ্গীয় মুসলমান সাহিত্য পত্রিকা | ১৯১৮ | মুহম্মদ শহীদুল্লাহ | মুসলিম সাহিত্যের মঞ্চ |
সওগাত | ১৯১৮ | মোহাম্মদ নাসিরউদ্দীন | মুসলিম নারী মুক্তির পত্রিকা |
নবযুগ | ১৯২০ | নজরুল ও মুজফ্ফর | নজরুলের প্রথম পত্রিকা |
ধূমকেতু | ১৯২২ | কাজী নজরুল ইসলাম | বিদ্রোহের পত্রিকা |
কল্লোল | ১৯২৩ | দীনেশরঞ্জন দাশ | আধুনিক সাহিত্যের সূচনা |
শনিবারের চিঠি | ১৯২৪ | সজনীকান্ত দাস | রবীন্দ্র-বিরোধী সাহিত্য সমালোচনা |
লাঙল | ১৯২৫ | কাজী নজরুল ইসলাম | শ্রমজীবীদের পত্রিকা |
শিখা | ১৯২৭ | আবুল হুসেন | বুদ্ধির মুক্তি আন্দোলন |
মোহাম্মদী | ১৯২৭ | মোহাম্মদ আকরম খাঁ | ধর্মীয় ও সংস্কারমূলক |
প্রগতি | ১৯২৭ | বুদ্ধদেব বসু | ঢাকার আধুনিক পত্রিকা |
পরিচয় | ১৯৩১ | সুধীন্দ্রনাথ দত্ত | প্রগতিশীল সাহিত্য আন্দোলন |
কবিতা | ১৯৩৫ | বুদ্ধদেব বসু | বাংলা কবিতার পত্রিকা |
আজাদ | ১৯৩৬ | মোহাম্মদ আকরম খাঁ | মুসলিম রাজনৈতিক দৈনিক |
বেগম | ১৯৪৭ | নূরজাহান বেগম | বাংলাদেশের প্রাচীনতম মহিলা পত্রিকা |
◆ প্রশ্নোত্তর
প্র. বাংলা ভাষায় প্রথম প্রকাশিত সাময়িকপত্রের নাম কী?
উ. দিগদর্শন (এপ্রিল ১৮১৮)।
প্র. দিগদর্শন পত্রিকার সম্পাদক কে ছিলেন?
উ. জন ক্লার্ক মার্শম্যান।
প্র. বাংলা ভাষায় প্রথম সাপ্তাহিক সংবাদপত্রের নাম কী?
উ. সমাচার দর্পণ (২৩ মে ১৮১৮)।
প্র. সমাচার দর্পণের সম্পাদক কে ছিলেন?
উ. জেসুয়া মার্শম্যান (Joshua Marshman)।
প্র. বাংলা ভাষায় প্রথম দৈনিক সংবাদপত্রের নাম কী?
উ. বঙ্গদূত (১৮২৯)।
প্র. বঙ্গদূত কতটি ভাষায় প্রকাশিত হতো?
উ. তিনটি (বাংলা, ইংরেজি ও ফার্সি)।
প্র. সংবাদ প্রভাকরের সম্পাদক কে ছিলেন?
উ. ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্ত।
প্র. সংবাদ প্রভাকর কত সালে দৈনিকে পরিণত হয়?
উ. ১৮৩৯ সালে।
প্র. তত্ত্ববোধিনী পত্রিকার প্রথম সম্পাদক কে ছিলেন?
উ. অক্ষয়কুমার দত্ত।
প্র. তত্ত্ববোধিনী পত্রিকা কার উদ্যোগে প্রকাশিত হয়?
উ. দেবেন্দ্রনাথ ঠাকুরের উদ্যোগে।
প্র. বঙ্গদর্শন পত্রিকার প্রতিষ্ঠাতা-সম্পাদক কে?
উ. বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়।
প্র. বঙ্গদর্শন পত্রিকা কত সালে প্রথম প্রকাশিত হয়?
উ. ১৮৭২ সালে।
প্র. কে বঙ্গদর্শন পত্রিকা পুনরায় সম্পাদনা করেন?
উ. রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর (১৯০০–১৯০২ সালে)।
প্র. সবুজপত্র পত্রিকার সম্পাদক কে ছিলেন?
উ. প্রমথ চৌধুরী (বীরবল)।
প্র. সবুজপত্র পত্রিকার বিশেষ অবদান কী?
উ. বাংলা গদ্যে চলিত ভাষার আন্দোলন গড়ে তোলে।
প্র. কল্লোল পত্রিকা কত সালে প্রকাশিত হয়?
উ. ১৯২৩ সালে।
প্র. কল্লোল পত্রিকার সম্পাদক কে ছিলেন?
উ. দীনেশরঞ্জন দাশ।
প্র. ধূমকেতু পত্রিকার সম্পাদক কে?
উ. কাজী নজরুল ইসলাম।
প্র. ধূমকেতু পত্রিকা প্রথম কবে প্রকাশিত হয়?
উ. ১২ আগস্ট ১৯২২।
প্র. কোন পত্রিকায় লেখার কারণে নজরুলকে কারাদণ্ড ভোগ করতে হয়?
উ. ধূমকেতু পত্রিকায়।
প্র. নবযুগ পত্রিকার পৃষ্ঠপোষক কে ছিলেন?
উ. শেরে বাংলা এ. কে. ফজলুল হক।
প্র. শিখা পত্রিকা কোন সংগঠনের মুখপত্র ছিল?
উ. মুসলিম সাহিত্য সমাজের।
প্র. শিখা পত্রিকার সম্পাদক কে?
উ. আবুল হুসেন।
প্র. বাংলা ভাষায় প্রথম নারী পত্রিকা কোনটি?
উ. বামাবোধিনী পত্রিকা (১৮৬৩)।
প্র. বামাবোধিনী পত্রিকার সম্পাদক কে ছিলেন?
উ. উমেশচন্দ্র দত্ত।
প্র. সওগাত পত্রিকার সম্পাদক কে ছিলেন?
উ. মোহাম্মদ নাসিরউদ্দীন।
প্র. বেগম পত্রিকার প্রথম সম্পাদক কে?
উ. নূরজাহান বেগম।
প্র. কবিতা পত্রিকার সম্পাদক কে ছিলেন?
উ. বুদ্ধদেব বসু।
প্র. ভারতী পত্রিকার প্রথম সম্পাদক কে ছিলেন?
উ. দ্বিজেন্দ্রনাথ ঠাকুর।
প্র. প্রবাসী পত্রিকার সম্পাদক কে ছিলেন?
উ. রামানন্দ চট্টোপাধ্যায়।
প্র. রামমোহন রায় কোন পত্রিকা সম্পাদনা করতেন?
উ. সম্বাদ কৌমুদী ও মিরাৎ-উল-আখবার।
প্র. মিরাৎ-উল-আখবার কোন ভাষায় প্রকাশিত হতো?
উ. ফার্সি ভাষায় — রামমোহন রায় কর্তৃক ১৮২২ সালে।
প্র. রবীন্দ্রনাথ কোন পত্রিকা সম্পাদনা করেন?
উ. সাধনা, বালক এবং বঙ্গদর্শন (পুনঃসম্পাদনা)।
প্র. শনিবারের চিঠি পত্রিকার সম্পাদক কে?
উ. সজনীকান্ত দাস।
প্র. বঙ্গীয় মুসলমান সাহিত্য পত্রিকার সম্পাদক কে?
উ. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ।
◆ ট্রিকি ও অজানা তথ্য সংগ্রহ
১. দিগদর্শন ও সমাচার দর্পণ — দুটোই একই বছরে (১৮১৮) প্রকাশিত। দিগদর্শন এপ্রিলে এবং সমাচার দর্পণ মে মাসে প্রকাশিত। তাই দিগদর্শনই প্রথম।
২. বঙ্গদূত প্রথম দৈনিক হলেও সংবাদ প্রভাকর-কেই 'প্রথম সফল দৈনিক' বলা হয়, কারণ বঙ্গদূত বেশিদিন টিকেনি।
৩. রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর 'ধূমকেতু' পত্রিকার নামকরণে অনুপ্রেরণা দিয়েছিলেন এবং এতে আশীর্বাণী লিখেছিলেন।
৪. 'কল্লোল' পত্রিকার প্রতিষ্ঠাতা ছিলেন গোকুলচন্দ্র নাগ, কিন্তু সম্পাদক ছিলেন দীনেশরঞ্জন দাশ। পরীক্ষায় উভয়ই আসে।
৫. সবুজপত্রের সম্পাদক প্রমথ চৌধুরীর ছদ্মনাম ছিল 'বীরবল'। রবীন্দ্রনাথ ছিলেন এই পত্রিকার প্রধান লেখক।
৬. তত্ত্ববোধিনী পত্রিকায় রবীন্দ্রনাথের প্রথম কবিতা 'অভিলাষ' প্রকাশিত হয়েছিল বলে মনে করা হয়।
৭. ভারতী পত্রিকার প্রথম সম্পাদক দ্বিজেন্দ্রনাথ ঠাকুর — রবীন্দ্রনাথের দাদা ভাই। পরে স্বর্ণকুমারী দেবী (রবীন্দ্রনাথের দিদি) সম্পাদনা করেন।
৮. নবযুগ পত্রিকার পৃষ্ঠপোষক ছিলেন শেরে বাংলা এ. কে. ফজলুল হক — যা অনেকেই জানেন না।
৯. বেগম পত্রিকার প্রতিষ্ঠাতা ছিলেন মোহাম্মদ নাসিরউদ্দীন (সওগাত পত্রিকারও প্রতিষ্ঠাতা)। প্রথম সম্পাদক ছিলেন তাঁর কন্যা নূরজাহান বেগম।
১০. মিরাৎ-উল-আখবার ছিল ফার্সি ভাষায় প্রকাশিত — রামমোহন রায়ের সম্পাদনায় (১৮২২)। এটি ভারতের প্রথম ফার্সি পত্রিকাগুলোর একটি।
১১. হরিশচন্দ্র মুখোপাধ্যায় হিন্দু প্যাট্রিয়টের সম্পাদক থাকাকালীন নীলচাষীদের পক্ষে লেখার কারণে তাঁকে 'নীলকরদের শত্রু' বলা হতো।
১২. শনিবারের চিঠির সম্পাদক সজনীকান্ত দাস রবীন্দ্রনাথের কঠোর সমালোচক ছিলেন। কিন্তু পরে রবীন্দ্রনাথ নিজেই তাঁকে সম্মান করতেন।
১৩. বঙ্গীয় মুসলমান সাহিত্য পত্রিকার সম্পাদক ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ পরবর্তীতে বাংলা ভাষার বিশিষ্ট ভাষাবিজ্ঞানী হিসেবে খ্যাত হন।
১৪. 'লাঙল' পত্রিকার মূল স্লোগান ছিল 'কৃষকের লাঙল' — শ্রমজীবী ও কৃষকদের জন্য প্রকাশিত।
১৫. দিগদর্শন পত্রিকাটি মূলত শিশু-কিশোরদের জন্য উপযুক্ত পাঠ্যবিষয় নিয়ে প্রকাশিত হতো।
১৬. কল্লোল পত্রিকার লেখকরা সিগমুন্ড ফ্রয়েডের মনোবিশ্লেষণ তত্ত্ব প্রথমবার বাংলা সাহিত্যে আনেন।
◆ বিশেষ আলোচনা — পত্রিকার সাথে ঘটনা
▶ ধূমকেতু ও নজরুলের কারাবাস — সংক্ষিপ্ত কাহিনি
১৯২২ সালের ১২ আগস্ট। কলকাতার আকাশে যেন এক ধূমকেতু জ্বলে উঠল। কাজী নজরুল ইসলাম প্রকাশ করলেন 'ধূমকেতু' — অর্ধ-সাপ্তাহিক পত্রিকা। প্রথম সংখ্যাতেই রবীন্দ্রনাথ তাঁকে আশীর্বাদ দিলেন: 'আয় চলে আয় রে ধূমকেতু...'। পত্রিকার প্রতিটি সংখ্যায় ব্রিটিশ শাসনের বিরুদ্ধে আগুনঝরা লেখা। তারপর এলো সেই ঐতিহাসিক মুহূর্ত — 'আনন্দময়ীর আগমনে' কবিতা। কবিতায় নজরুল লিখলেন দেশমাতৃকার মুক্তির কথা, ব্রিটিশের বিরুদ্ধে সরাসরি বিদ্রোহের ডাক। ব্রিটিশ সরকার আর সহ্য করতে পারল না। পত্রিকা বাজেয়াপ্ত হলো, নজরুলকে গ্রেফতার করা হলো। আদালতে নজরুল বললেন — 'আমার বিচার করবেন না, আমাকে মুক্তি দিন। ভারতমাতার স্বাধীনতাই আমার কামনা।' এই কারাবাসকালীন নজরুল রচনা করলেন বিখ্যাত 'রাজবন্দীর জবানবন্দী'।
★ মনে রাখুন: ধূমকেতু → 'আনন্দময়ীর আগমনে' কবিতা → নজরুলের কারাদণ্ড → 'রাজবন্দীর জবানবন্দী' রচনা — এই পুরো ঘটনাক্রমটি পরীক্ষায় আসে।
▶ কল্লোল যুগের আবির্ভাব — বাংলা সাহিত্যের নতুন মোড়
১৯২০-এর দশক। রবীন্দ্রনাথ তখন বাংলা সাহিত্যের মহীরুহ — তাঁর প্রভাব থেকে মুক্তি পাওয়া যেন অসম্ভব। সেই সময়ে একদল তরুণ লেখক উঠে এলেন নতুন স্বপ্ন নিয়ে। ১৯২৩ সালে গোকুলচন্দ্র নাগের পৃষ্ঠপোষকতায় এবং দীনেশরঞ্জন দাশের সম্পাদনায় প্রকাশিত হলো কল্লোল পত্রিকা। প্রেমেন্দ্র মিত্র, বুদ্ধদেব বসু, অচিন্ত্যকুমার সেনগুপ্তরা এই পত্রিকার মাধ্যমে নগর জীবন, যৌন সম্পর্ক, মনোবিশ্লেষণ — এসব বিষয় বাংলা সাহিত্যে নিয়ে এলেন। রক্ষণশীলরা বললেন, 'অশ্লীল!' কিন্তু তরুণ সমাজ বললেন, 'এটাই সত্য সাহিত্য।' কল্লোলই আধুনিক বাংলা সাহিত্যের প্রকৃত সূচনা ঘটায়।
▶ সবুজপত্র ও চলিত ভাষার বিপ্লব
১৯১৪ সালে প্রমথ চৌধুরী (ছদ্মনাম বীরবল) প্রকাশ করলেন সবুজপত্র। লক্ষ্য একটাই — সাধু ভাষার জায়গায় চলিত ভাষায় সাহিত্য রচনা। রবীন্দ্রনাথ সহ বিভিন্ন লেখকরা এই পত্রিকায় চলিত ভাষায় লিখতে শুরু করলেন। পাঠকরা অবাক হলেন — সাহিত্যের ভাষা কি মুখের ভাষার মতো হতে পারে? পারে। সবুজপত্র তা প্রমাণ করল। আজকে আমরা যে চলিত বাংলায় গদ্য লিখি, তার পথিকৃৎ হলো এই পত্রিকা।
◆ দ্রুত স্মরণের জন্য
বিষয় | পত্রিকা | সাল |
প্রথম বাংলা মাসিক সাময়িকপত্র | দিগদর্শন | এপ্রিল ১৮১৮ |
প্রথম বাংলা সাপ্তাহিক সংবাদপত্র | সমাচার দর্পণ | মে ১৮১৮ |
প্রথম বাংলা দৈনিক | বঙ্গদূত | ১৮২৯ |
প্রথম সফল বাংলা দৈনিক | সংবাদ প্রভাকর | ১৮৩১ (দৈনিক ১৮৩৯) |
প্রথম বাংলা নারী পত্রিকা | বামাবোধিনী | ১৮৬৩ |
প্রথম মুসলিম নারী পত্রিকা | বেগম | ১৯৪৭ |
প্রথম ত্রিভাষিক পত্রিকা | বঙ্গদূত | ১৮২৯ |
প্রথম ফার্সি পত্রিকা (ভারতে) | মিরাৎ-উল-আখবার | ১৮২২ |
চলিত ভাষার আন্দোলনকারী পত্রিকা | সবুজপত্র | ১৯১৪ |
আধুনিক সাহিত্যের সূচনাকারী পত্রিকা | কল্লোল | ১৯২৩ |
বিদ্রোহের পত্রিকা | ধূমকেতু | ১৯২২ |
মুসলিম বুদ্ধির মুক্তির পত্রিকা | শিখা | ১৯২৭ |
বাংলা কবিতার একমাত্র পত্রিকা | কবিতা | ১৯৩৫ |
ব্রাহ্মসমাজের মুখপত্র | তত্ত্ববোধিনী | ১৮৪৩ |
◆ অতিরিক্ত গুরুত্বপূর্ণ তথ্য
▶ বিভিন্ন পত্রিকা ও তাদের সাথে সম্পর্কিত সাহিত্যকর্ম
পত্রিকা | প্রথম প্রকাশিত গুরুত্বপূর্ণ রচনা | লেখক |
বঙ্গদর্শন | বিষবৃক্ষ (ধারাবাহিক) | বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় |
সাধনা | পোস্টমাস্টার, সমাপ্তি, ছুটি | রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর |
তত্ত্ববোধিনী | অভিলাষ (প্রথম কবিতা) | রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর |
ধূমকেতু | আনন্দময়ীর আগমনে | কাজী নজরুল ইসলাম |
সংবাদ প্রভাকর | প্রথম কবিতাসমূহ | মাইকেল মধুসূদন দত্ত |
সবুজপত্র | চলিত ভাষায় লেখা প্রবন্ধ | রবীন্দ্রনাথ ও প্রমথ চৌধুরী |
কল্লোল | আধুনিক কবিতা ও গল্প | প্রেমেন্দ্র মিত্র, বুদ্ধদেব বসু |
▶ পত্রিকা ও সাহিত্য আন্দোলনের সম্পর্ক
আন্দোলন / যুগ | সংশ্লিষ্ট পত্রিকা | মূল বিষয় |
ব্রাহ্মসমাজ আন্দোলন | তত্ত্ববোধিনী | ধর্ম সংস্কার |
নীলবিদ্রোহ সংশ্লিষ্ট | হিন্দু প্যাট্রিয়ট | নীলকর বিরোধী |
নারী মুক্তি আন্দোলন | বামাবোধিনী, সওগাত, বেগম | নারী অধিকার |
চলিত ভাষা আন্দোলন | সবুজপত্র | ভাষা সংস্কার |
কল্লোল যুগ (আধুনিকতা) | কল্লোল, পরিচয়, কবিতা | সাহিত্য আধুনিকতা |
বুদ্ধির মুক্তি আন্দোলন | শিখা | যুক্তিবাদ, প্রগতিশীলতা |
স্বাধীনতা আন্দোলন | ধূমকেতু, লাঙল, নবযুগ | রাজনৈতিক বিদ্রোহ |
◆ কৌশল ও সংক্ষিপ্ত স্মৃতিসূত্র
▶ স্মৃতিসূত্র: মার্শম্যান পরিবার
মার্শম্যান পরিবার = শ্রীরামপুর মিশন = প্রথম বাংলা পত্রিকা জেসুয়া মার্শম্যান → সমাচার দর্পণ (বাবা) জন ক্লার্ক মার্শম্যান → দিগদর্শন (ছেলে) বাবা-ছেলে মিলে বাংলা সাংবাদিকতার জন্মদাতা।
▶ স্মৃতিসূত্র: ঠাকুর পরিবার ও পত্রিকা
দ্বিজেন্দ্রনাথ ঠাকুর → ভারতী (রবীন্দ্রনাথের দাদাভাই) স্বর্ণকুমারী দেবী → ভারতী (রবীন্দ্রনাথের দিদি) দেবেন্দ্রনাথ ঠাকুর → তত্ত্ববোধিনী প্রতিষ্ঠা (রবীন্দ্রনাথের পিতা) রবীন্দ্রনাথ → সাধনা, বালক, বঙ্গদর্শন (পুনঃসম্পাদনা)
▶ স্মৃতিসূত্র: নজরুল ও পত্রিকা
নবযুগ (১৯২০) → মুজফ্ফর আহমদের সাথে ধূমকেতু (১৯২২) → একা, বিদ্রোহী, নিষিদ্ধ লাঙল (১৯২৫) → কৃষক ও শ্রমজীবী পৃষ্ঠপোষক: নবযুগ-এ ফজলুল হক, ধূমকেতুতে রবীন্দ্রনাথের আশীর্বাদ
▶ স্মৃতিসূত্র: মোহাম্মদ নাসিরউদ্দীন
মোহাম্মদ নাসিরউদ্দীন → সওগাত (১৯১৮) + বেগম (১৯৪৭) একই ব্যক্তি দুটি গুরুত্বপূর্ণ পত্রিকার প্রতিষ্ঠাতা! বেগম পত্রিকার প্রথম সম্পাদক → নূরজাহান বেগম (নাসিরউদ্দীনের কন্যা)
▶ স্মৃতিসূত্র: মোহাম্মদ আকরম খাঁ
মোহাম্মদ আকরম খাঁ → মাসিক মোহাম্মদী (১৯০৩) + মোহাম্মদী (১৯২৭) + আজাদ (১৯৩৬) তিনটি পত্রিকার সম্পাদক! মুসলিম সাংবাদিকতার পথিকৃৎ।
▶ পরীক্ষায় সবচেয়ে বেশি আসা ৫টি প্রশ্নের সঠিক উত্তর
প্রশ্ন | সঠিক উত্তর |
প্রথম বাংলা সাময়িকপত্র | দিগদর্শন (এপ্রিল ১৮১৮) |
প্রথম বাংলা সংবাদপত্র | সমাচার দর্পণ (মে ১৮১৮) |
প্রথম বাংলা দৈনিক | বঙ্গদূত (১৮২৯) |
প্রথম বাংলা নারী পত্রিকা | বামাবোধিনী (১৮৬৩) |
চলিত ভাষার পত্রিকা | সবুজপত্র (১৯১৪, সম্পাদক প্রমথ চৌধুরী) |