বাংলা সাহিত্য
প্যারীচাঁদ মিত্র
ছদ্মনাম: টেকচাঁদ ঠাকুর
বাংলা সাহিত্যের প্রথম ঔপন্যাসিক | ইয়ং বেঙ্গল নেতা | নবজাগরণের পথিকৃৎ
জীবন পরিচয় ও পটভূমি
◆ জন্ম ও পারিবারিক পটভূমি
১৮১৪ সালের ২২ জুলাই কলকাতায় জন্মগ্রহণ করেন প্যারীচাঁদ মিত্র। তাঁর পিতার নাম রামনারায়ণ মিত্র — যিনি একজন সফল ব্যবসায়ী ছিলেন। কাগজ ও হুন্ডির ব্যবসা করে রামনারায়ণ মিত্র প্রচুর অর্থ উপার্জন করেছিলেন। পরিবারের আদিনিবাস ছিল হুগলী জেলার পাণিসেহালা গ্রামে।
প্যারীচাঁদ মিত্রের ভ্রাতা ছিলেন কিশোরীচাঁদ মিত্র — যিনি নিজেও একজন বিখ্যাত সমাজকর্মী ও লেখক। এই পরিবারটি উনিশ শতকের বাংলার নবজাগরণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে।
⚡ প্যারীচাঁদ মিত্রের জন্ম — ২২ জুলাই ১৮১৪, কলকাতায়।
⚡ তাঁর ভ্রাতার নাম কিশোরীচাঁদ মিত্র।
◆ শিক্ষাজীবন ও হিন্দু কলেজ
শৈশবে প্যারীচাঁদ মিত্র একজন গুরুমহাশয়ের কাছে বাংলা শিক্ষা নেন। তারপর একজন মুন্সির কাছে ফারসি ভাষা শেখেন। ইংরেজি শিক্ষার জন্য ১৮২৭ সালে হিন্দু কলেজে ভর্তি হন।
হিন্দু কলেজে তাঁর জীবন বদলে যায় — কারণ সেখানে তিনি পরিচিত হন বিখ্যাত অধ্যাপক হেনরি লুই ভিভিয়ান ডিরোজিওর সাথে। ডিরোজিও একজন বিপ্লবী শিক্ষক যিনি তাঁর ছাত্রদের স্বাধীনভাবে চিন্তা করতে শেখাতেন, ধর্মীয় কুসংস্কারের বিরুদ্ধে প্রশ্ন তুলতে শেখাতেন।
ডিরোজিওর শিক্ষায় প্রভাবিত হয়ে প্যারীচাঁদ মিত্র 'ইয়ং বেঙ্গল' আন্দোলনে যুক্ত হন। এই আন্দোলন ছিল ঊনবিংশ শতাব্দীর একটি যুগান্তকারী বুদ্ধিবৃত্তিক আন্দোলন — যা বাংলার তরুণ শিক্ষিত শ্রেণিকে সনাতনী রক্ষণশীলতার বিরুদ্ধে দাঁড় করিয়েছিল।
⚡ প্যারীচাঁদ মিত্র ১৮২৭ সালে হিন্দু কলেজে ভর্তি হন।
⚡ হেনরি ডিরোজিও তাঁর শিক্ষক ও আদর্শগত গুরু।
◆ কর্মজীবন — বৈচিত্র্যময় পেশা
১৮৩৬ সালে কলকাতা পাবলিক লাইব্রেরিতে ডেপুটি লাইব্রেরিয়ান হিসেবে কর্মজীবন শুরু করেন। ক্রমশ তিনি লাইব্রেরিয়ান এবং পরে সেক্রেটারি পদে উন্নীত হন।
একই সাথে তিনি ব্যবসায়ী হিসেবেও সফল হন। আমদানি-রপ্তানি ও চালের ব্যবসা করে প্রচুর অর্থ উপার্জন করেন। গ্রেট ইস্টার্ন হোটেল কোম্পানি, পোর্ট ক্যানিং গ্র্যান্ড ইনভেস্টমেন্ট কোম্পানি এবং হাওড়া ডকিং কোম্পানির অংশীদার ও পরিচালক ছিলেন।
সাংবাদিক হিসেবেও তিনি উল্লেখযোগ্য। দ্য ইংলিশম্যান, ইন্ডিয়ান ফিল্ড, হিন্দু প্যাট্রিয়ট, ফ্রেন্ড অব ইন্ডিয়া — বিভিন্ন পত্রিকায় নিয়মিত ইংরেজিতে লিখতেন।
⚡ প্যারীচাঁদ মিত্রের কর্মজীবন শুরু ১৮৩৬ সালে — কলকাতা পাবলিক লাইব্রেরিতে।
◆ সামাজিক কার্যক্রম ও সংগঠন
প্যারীচাঁদ মিত্র শুধু লেখক নন — একজন সক্রিয় সমাজ সংস্কারকও। নারীশিক্ষা, বিধবাবিবাহ, বাল্যবিবাহ বিরোধ — এই সব বিষয়ে তিনি সোচ্চার ছিলেন।
তিনি বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ সংগঠন প্রতিষ্ঠা ও পরিচালনা করেছেন। জ্ঞানোপার্জিকা সভা (১৮৩০), বেঙ্গল ব্রিটিশ ইন্ডিয়া সোসাইটি (১৮৪৩), ডেভিড হেয়ার মেমোরিয়াল সোসাইটি (১৮৪৪), বেথুন সোসাইটি (১৮৫১) প্রভৃতিতে সক্রিয় ভূমিকা রাখেন।
মহিলাদের জন্য একটি মাসিক পত্রিকা সম্পাদনা করেন — সহযোগী ছিলেন বিখ্যাত গণিতবিদ রাধানাথ শিকদার (যিনি এভারেস্টের উচ্চতা মাপেন)।
তিনি পুলিশি অত্যাচারের বিরুদ্ধেও সংগ্রাম করেছিলেন এবং সফল হয়েছিলেন। কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের সিনেট সদস্য, জাস্টিস অব পিস (১৮৬৩), কলকাতা হাইকোর্টের গ্র্যান্ড জুরি (১৮৬৮-৭০) ছিলেন।
⚡ মহিলা পত্রিকার সহযোগী ছিলেন রাধানাথ শিকদার — এভারেস্টের উচ্চতা নির্ণয়কারী গণিতবিদ।
◆ মৃত্যু
১৮৮৩ সালের ২৩ নভেম্বর কলকাতায় মৃত্যুবরণ করেন প্যারীচাঁদ মিত্র। তাঁর বয়স হয়েছিল ৬৯ বছর। বাংলা সাহিত্যের এই পথিকৃৎ চলে যান, কিন্তু 'আলালের ঘরের দুলাল' ও 'আলালী ভাষা' রেখে যান — যা বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস বদলে দিয়েছে।
⚡ প্যারীচাঁদ মিত্রের মৃত্যু — ২৩ নভেম্বর ১৮৮৩, কলকাতায়।
বিষয় | তথ্য |
পূর্ণ নাম | প্যারীচাঁদ মিত্র |
ছদ্মনাম | টেকচাঁদ ঠাকুর |
জন্ম | ২২ জুলাই ১৮১৪, কলকাতা |
মৃত্যু | ২৩ নভেম্বর ১৮৮৩, কলকাতা |
পিতা | রামনারায়ণ মিত্র (ব্যবসায়ী) |
ভ্রাতা | কিশোরীচাঁদ মিত্র |
আদিনিবাস | পাণিসেহালা গ্রাম, হুগলী জেলা |
শিক্ষা | হিন্দু কলেজ (১৮২৭) |
শিক্ষক | হেনরি লুই ভিভিয়ান ডিরোজিও |
পেশা | লেখক, সাংবাদিক, লাইব্রেরিয়ান, ব্যবসায়ী, সমাজকর্মী |
আন্দোলন | ইয়ং বেঙ্গল আন্দোলন |
বিখ্যাত রচনা | আলালের ঘরের দুলাল |
পরিচিতি | বাংলা সাহিত্যের প্রথম ঔপন্যাসিক |
সহযোগী | রাধানাথ শিকদার (মাসিক পত্রিকা) |
আলালের ঘরের দুলাল
আলালের ঘরের দুলাল — বাংলা সাহিত্যের প্রথম উপন্যাস
◆ ঐতিহাসিক গুরুত্ব ও প্রকাশের ইতিহাস
'আলালের ঘরের দুলাল' বাংলা সাহিত্যের প্রথম উপন্যাস — এই একটি পরিচয়েই প্যারীচাঁদ মিত্র বাংলা সাহিত্যে অমর হয়ে আছেন। টেকচাঁদ ঠাকুর ছদ্মনামে রচিত এই উপন্যাস বাংলা গদ্যসাহিত্যে একটি নতুন যুগের সূচনা করে।
১৮৫৪ সালে 'মাসিক পত্রিকা'য় ধারাবাহিকভাবে প্রকাশিত হয়। রাধানাথ শিকদার ছিলেন এই মাসিক পত্রিকার সম্পাদক। চার বছর ধারাবাহিক প্রকাশের পর ১৮৫৮ সালে গ্রন্থাকারে প্রকাশিত হয়।
প্রকাশের সাথে সাথে গোটা কলকাতায় হৈচৈ পড়ে যায়। পাঠকরা মুগ্ধ হয়ে পড়েন। কারণ এর আগে কেউ এইভাবে সাধারণ মানুষের মুখের ভাষায় এতটা জীবন্ত কাহিনি লেখেননি।
⚡ আলালের ঘরের দুলাল প্রথমে 'মাসিক পত্রিকা'য় ধারাবাহিক প্রকাশ ১৮৫৪ — গ্রন্থ প্রকাশ ১৮৫৮।
⚡ উপন্যাসটি লেখা হয়েছিল 'টেকচাঁদ ঠাকুর' ছদ্মনামে — পরে জানা যায় প্যারীচাঁদ মিত্রই লেখক।
◆ সম্পূর্ণ কাহিনি — পড়লেই পুরো উপন্যাস জানা হবে
বাবুরাম একজন ধনী ব্যবসায়ী। কলকাতায় তাঁর বিস্তর সম্পত্তি ও ব্যবসা। জমিদারি ও ব্যবসা থেকে প্রচুর অর্থ আসে। কিন্তু এই অর্থের মালিক হতে গিয়ে তিনি ভুলে গেছেন তাঁর একমাত্র পুত্র মতিলালকে মানুষ করার দায়িত্ব।
মতিলাল হলো উপন্যাসের কেন্দ্রীয় চরিত্র — সে সত্যিকারের 'আলালের ঘরের দুলাল' — অর্থাৎ অতি আদরে লালিত, মাথায় তোলা, কোনো শাসন না পাওয়া ধনীর ছেলে। বাবুরাম মতিলালের প্রতি একেবারে উদার — যা চাইবে দেবেন, কোনো না নেই। কিন্তু নৈতিকতা ও চরিত্রগঠনের শিক্ষার কোনো ব্যবস্থা করেননি।
মতিলালকে প্রথমে সংস্কৃত পণ্ডিতের কাছে পাঠানো হয় পড়তে। কিন্তু মতিলালের দুষ্টুমি ও বাজে ব্যবহারে পণ্ডিত মহাশয় পালিয়ে বাঁচেন। এরপর মুসলমান মৌলানা সাহেবকে নিয়োগ করা হয় ফারসি শেখাতে — একই ফলাফল।
তারপর মতিলালকে কলকাতায় পাঠানো হয় ইংরেজি স্কুলে পড়তে। আত্মীয় বেচারামবাবুর বাড়িতে থেকে স্কুলে যাওয়ার কথা। কিন্তু কলকাতার খোলামেলা পরিবেশে মতিলাল পথভ্রষ্ট হয়। কুসঙ্গীদের সাথে মেলামেশা শুরু করে।
এখানেই উপন্যাসের সবচেয়ে বিখ্যাত চরিত্র 'ঠকচাচা' বা মোকাজান মিয়ার প্রবেশ। ঠকচাচা একজন ধূর্ত, চালাক মানুষ। তার আসল নাম মোকাজান মিয়া, কিন্তু সকলে 'ঠকচাচা' বলে চেনে — কারণ সে মানুষকে ঠকিয়ে জীবন চালায়। মামলার জাল কাগজ তৈরি, মিথ্যা সাক্ষ্য দেওয়া, অন্যদের শিখিয়ে-পড়িয়ে মিথ্যা বলানো — এসব তার পেশা। সে বলে: 'দুনিয়া সাচ্চা নয়, মুই একা সাচ্চা হয়ে কি করবো?'
ঠকচাচা মতিলালকে পেয়ে তাকে পথে টেনে আনে। টাকার বিনিময়ে মিথ্যা কাজ, জুয়া, ভোগবিলাস — সবই শেখায়। মতিলালের বাবা বিবাহ দিলেও তাতে কাজ হয় না।
বাবার মৃত্যুর পর মতিলাল পুরো সম্পত্তির মালিক হয়। এরপর তার অধঃপতন আরও দ্রুত হয়। ভোগবিলাস ও অসৎ কাজে সব সম্পত্তি উড়িয়ে দেয়। মা ও বোন তাকে ত্যাগ করে চলে যায়।
মতিলালের অনুজ রামলাল সম্পূর্ণ বিপরীত চরিত্র। বরদাবাবুর স্নেহছায়ায় বড় হয়ে রামলাল আদর্শ মানুষ হয়েছে। পরিশ্রমী, সৎ, নিষ্ঠাবান — সবার প্রিয়।
একসময় মতিলালের চৈতন্য হয়। নিঃস্ব, একা, পরিবার-বিচ্ছিন্ন অবস্থায় কাশী গিয়ে মাতার সাথে দেখা হয়। মায়ের সাথে মিলনে মতিলালের অন্তরে পরিবর্তন আসে। সে বুঝতে পারে — যে জীবন সে কাটিয়েছে তা অর্থহীন ও ধ্বংসকর।
উপন্যাসের শেষে মতিলালের হৃদয়ের পরিবর্তন ঘটে এবং সে আদর্শ জীবনের দিকে আকৃষ্ট হয়। তৎকালীন কলকাতা ও গ্রামীণ সমাজের নানা চিত্র, পুলিশের দুর্নীতি, মিথ্যা মামলা, ইংরেজি শিক্ষার সুবিধা-অসুবিধা — সব কিছু এই উপন্যাসে জীবন্তভাবে উঠে এসেছে।
★ মূলবিষয়: ধর্ম ও নীতিহীন পালনপোষণে সন্তানের অধঃপতন, এবং সংশোধনের মাধ্যমে মুক্তি।
◆ চরিত্রসমূহ — বিশ্লেষণ
চরিত্র | বর্ণনা ও ভূমিকা |
মতিলাল | প্রধান চরিত্র। ধনী বাবুরামের একমাত্র পুত্র। অতি আদরে বখে যাওয়া 'দুলাল'। |
বাবুরাম | মতিলালের পিতা। ধনী ব্যবসায়ী। পুত্রকে নৈতিক শিক্ষা না দেওয়াই তাঁর ভুল। |
ঠকচাচা (মোকাজান মিয়া) | উপন্যাসের সবচেয়ে জীবন্ত চরিত্র। ধূর্ত, মিথ্যাবাদী, প্রতারক। |
রামলাল | মতিলালের অনুজ। আদর্শ চরিত্র — সৎ ও পরিশ্রমী। |
বরদাবাবু | মূর্তিমান নীতিপাঠ। রামলালের পথপ্রদর্শক। |
বেচারামবাবু | কলকাতার আত্মীয় — মতিলাল যাঁর বাড়িতে থাকতে যায়। |
◆ আলালী ভাষা — বাংলা সাহিত্যের নতুন দিগন্ত
আলালের ঘরের দুলালের সবচেয়ে বড় কৃতিত্ব হলো এর ভাষা। প্যারীচাঁদ মিত্রের আগে বাংলা গদ্য লেখা হতো সংস্কৃতঘেঁষা সাধু ভাষায় — যা সাধারণ মানুষের বোঝার বাইরে ছিল। বিদ্যাসাগর ও অক্ষয়কুমার দত্তও সংস্কৃতঘেঁষা গদ্য লিখতেন।
প্যারীচাঁদ মিত্র প্রথমবারের মতো সাধারণ মানুষের মুখের কথ্যভাষাকে সাহিত্যের ভাষা করলেন। তদ্ভব শব্দ, চলিত বাংলা শব্দ এবং আরবি-ফারসি-ইংরেজি শব্দ — সব মিলিয়ে একটি সজীব, প্রাণবন্ত গদ্যভাষা তৈরি করলেন।
এই ভাষাই পরিচিত হলো 'আলালী ভাষা' নামে। ছোট ছোট সরল বাক্যে ভাব প্রকাশ — এটি প্যারীচাঁদের বৈশিষ্ট্য। এই ভাষারীতি তৎকালীন পাঠকের কাছে অত্যন্ত আকর্ষণীয় ছিল।
উপন্যাসটি পরে নাট্যরূপে মঞ্চস্থ হয়। হীরালাল মিত্র এর নাট্যরূপ দেন — ১৮৭৫ সালের জানুয়ারিতে বেঙ্গল থিয়েটারে প্রথম মঞ্চস্থ হয়।
উপন্যাসটি ইংরেজিতে অনূদিত হয় 'The Spoiled Child' নামে।
★ আলালী ভাষা = কথ্যভাষা + তদ্ভব শব্দ + আরবি-ফারসি-ইংরেজি শব্দ = প্যারীচাঁদের অনন্য গদ্যরীতি।
“তিনিই প্রথম দেখাইলেন যে, সাহিত্যের দ্বারা যদি বাঙ্গালা দেশকে উন্নত করিতে হয়, তবে বাঙ্গালা দেশের কথা লইয়াই সাহিত্য গড়িতে হইবে। — বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়”
⚡ ঠকচাচার আসল নাম মোকাজান মিয়া — বিসিএস ট্রিকি প্রশ্ন!
⚡ আলালের ঘরের দুলাল ধারাবাহিক প্রকাশ ১৮৫৪ — গ্রন্থ প্রকাশ ১৮৫৮। উভয় তারিখ গুরুত্বপূর্ণ।
⚡ আলালী ভাষার প্রতিদ্বন্দ্বী ভাষা — হুতোমী ভাষা (কালীপ্রসন্ন সিংহের)।
প্রশ্ন: আলালের ঘরের দুলালের কেন্দ্রীয় চরিত্র? ► মতিলাল (বাবুরামের পুত্র)
প্রশ্ন: ঠকচাচার আসল নাম? ► মোকাজান মিয়া
প্রশ্ন: আলালী ভাষা কী? ► প্যারীচাঁদ মিত্রের কথ্যরীতির গদ্যভাষা — তদ্ভব ও চলিত শব্দের ব্যবহার
প্রশ্ন: আলালের ঘরের দুলাল ইংরেজিতে অনূদিত নাম? ► The Spoiled Child
প্রশ্ন: আলালের ঘরের দুলালের নাট্যরূপ কে করেন? ► হীরালাল মিত্র (বেঙ্গল থিয়েটারে ১৮৭৫)
অন্যান্য গ্রন্থ
❖ মদ খাওয়া বড় দায় জাত থাকার কি উপায় (১৮৫৯) [ব্যঙ্গ-রচনা]
◆ সম্পূর্ণ কাহিনি ও বিষয়বস্তু
শিরোনামটিই বলে দেয় বিষয়বস্তু — মদ্যপান ও জাতিরক্ষার দ্বন্দ্ব। উনিশ শতকের বাংলায় ইয়ং বেঙ্গল আন্দোলনের প্রভাবে শিক্ষিত সমাজে মদ্যপান ও সামাজিক বিধি লঙ্ঘনের প্রবণতা দেখা দেয়।
এই গ্রন্থে প্যারীচাঁদ উদ্ভট কল্পনা ও হাস্যরসের মাধ্যমে তৎকালীন সমাজের অসংগতি তুলে ধরেছেন। মদ খাওয়া কি ঠিক? না মদ খেলে জাত যাবে? এই দ্বন্দ্বের মধ্য দিয়ে সামাজিক কুসংস্কার ও ধর্মীয় গোঁড়ামির বিরুদ্ধে ব্যঙ্গ করা হয়েছে।
এই রচনায় কল্পনার প্রাচুর্য আছে। উদ্ভট পরিস্থিতি সৃষ্টি করে হাসির মধ্য দিয়ে গভীর সামাজিক সমালোচনা — এটি প্যারীচাঁদের একটি অনন্য কৌশল।
★ মদ খাওয়া বড় দায় = সমাজের দ্বৈততা ও কুসংস্কারের বিরুদ্ধে হাস্যরসাত্মক ব্যঙ্গ।
❖ রামারঞ্জিকা (১৮৬০) [গ্রন্থ]
◆ বিষয়বস্তু
'রামারঞ্জিকা' নারী-বিষয়ক রচনা। 'রামা' মানে নারী — তাই রামারঞ্জিকা মানে নারীকে আনন্দিত করার গ্রন্থ বা নারীর জন্য রঞ্জিত রচনা।
এই গ্রন্থে প্যারীচাঁদ নারীর জীবন, নারীর শিক্ষার প্রয়োজনীয়তা এবং নারী-সমাজের উন্নতির বিষয়ে আলোচনা করেছেন। নারীর মর্যাদা প্রতিষ্ঠায় তাঁর দৃষ্টিভঙ্গি সে যুগের তুলনায় অত্যন্ত প্রগতিশীল ছিল।
★ রামারঞ্জিকা = নারীর জন্য রচিত — নারীশিক্ষা ও মর্যাদার পক্ষে।
❖ কৃষিপাঠ (১৮৬১) [প্রবন্ধগ্রন্থ]
কৃষি বিষয়ক শিক্ষামূলক গ্রন্থ। বাংলার কৃষক সমাজকে আধুনিক কৃষিজ্ঞান দিতে রচিত। সহজ ভাষায় কৃষিবিজ্ঞানের কথা বলা হয়েছে।
❖ আধ্যাত্মিকা [আধ্যাত্মিক গ্রন্থ]
আধ্যাত্মিক বিষয়ক রচনা। জীবনের শেষভাগে প্যারীচাঁদ আধ্যাত্মবাদের দিকে ঝুঁকেছিলেন। এই গ্রন্থে আত্মা, ঈশ্বর ও মুক্তির বিষয়ে তাঁর ভাবনা প্রকাশ পেয়েছে।
❖ বামাতোষিণী (১৮৮১) [নারীবিষয়ক গ্রন্থ]
'বামা' মানে নারী — 'বামাতোষিণী' মানে নারীকে তুষ্ট করার রচনা। এটিও নারী-বিষয়ক রচনা।
এই গ্রন্থে নারীর শিক্ষা, স্বাধীনতা ও সমাজে নারীর সমান মর্যাদার দাবি জানানো হয়েছে। বর্তমান নারীবাদী চিন্তার বীজ প্যারীচাঁদ মিত্রের এই রচনায় রোপিত।
★ বামাতোষিণী = নারীর সমান মর্যাদার দাবি। নারীবাদের শতবছর আগের কথা!
❖ ডেভিড হেয়ারের জীবনচরিত (১৮৭৮) [জীবনীগ্রন্থ]
ডেভিড হেয়ার ছিলেন কলকাতার একজন মহান শিক্ষানুরাগী স্কটিশ ব্যক্তি যিনি হিন্দু কলেজ প্রতিষ্ঠায় সাহায্য করেছিলেন। প্যারীচাঁদ মিত্র তাঁর এই শিক্ষকের প্রতি শ্রদ্ধাঞ্জলি স্বরূপ এই জীবনীগ্রন্থ রচনা করেন।
বাংলা ও ইংরেজি উভয় ভাষায় এই জীবনী লিখেছেন। ইংরেজিতে নাম: 'A Biographical Sketch of David Hare' (১৮৭৭)।
▸ সম্পূর্ণ সাহিত্যকর্ম তালিকা
গ্রন্থের নাম | প্রকাশকাল ও বিষয় |
আলালের ঘরের দুলাল | ১৮৫৮ (ধারাবাহিক ১৮৫৪) — বাংলার প্রথম উপন্যাস |
মদ খাওয়া বড় দায় জাত থাকার কি উপায় | ১৮৫৯ — ব্যঙ্গ-রচনা, সামাজিক সমালোচনা |
রামারঞ্জিকা | ১৮৬০ — নারীবিষয়ক রচনা |
কৃষিপাঠ | ১৮৬১ — কৃষিবিজ্ঞান শিক্ষা |
আধ্যাত্মিকা | — আধ্যাত্মিক ভাবনার প্রকাশ |
যৎ কিঞ্চিৎ | — বিবিধ রচনা সংগ্রহ |
ডেভিড হেয়ারের জীবনচরিত | ১৮৭৮ — জীবনীগ্রন্থ |
বামাতোষিণী | ১৮৮১ — নারীবিষয়ক গ্রন্থ |
▸ ইংরেজি গ্রন্থ
গ্রন্থের নাম | প্রকাশকাল ও বিষয় |
A Biographical Sketch of David Hare | ১৮৭৭ |
The Spiritual Stray Leaves | ১৮৭৯ |
Stray Thought of Spiritualism | ১৮৭৯ |
Life of Dewan Ramkamal Sen | ১৮৮০ |
Life of Colesworthy Grant | — |
ইয়ং বেঙ্গল আন্দোলন ও প্যারীচাঁদ
◆ ইয়ং বেঙ্গল আন্দোলন কী?
ঊনবিংশ শতাব্দীর প্রথমভাগে হিন্দু কলেজে শিক্ষক হেনরি ডিরোজিওর নেতৃত্বে 'ইয়ং বেঙ্গল' আন্দোলনের সূচনা হয়। এটি ছিল বাংলার নবজাগরণের একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়।
ইয়ং বেঙ্গলের তরুণরা ধর্মীয় কুসংস্কার, জাতিভেদ প্রথা, মূর্তিপূজা, হিন্দু রক্ষণশীলতার বিরুদ্ধে প্রশ্ন তুলতেন। তারা যুক্তি, বিজ্ঞান ও স্বাধীন চিন্তার পক্ষে ছিলেন।
তারা প্রকাশ্যে গোমাংস ভক্ষণ করতেন, মন্দিরে ঢুকে কুসংস্কারের প্রতিবাদ করতেন। এতে সনাতন হিন্দু সমাজ প্রচণ্ড ক্ষুব্ধ হয়েছিল।
প্যারীচাঁদ মিত্র ইয়ং বেঙ্গলের অন্যতম নেতা ছিলেন। তিনি ডিরোজিওর ছাত্র ও ভাবশিষ্য ছিলেন।
★ ইয়ং বেঙ্গল = ডিরোজিওর ছাত্ররা + হিন্দু কলেজ + কুসংস্কারবিরোধী আন্দোলন।
⚡ প্যারীচাঁদ মিত্র ইয়ং বেঙ্গল আন্দোলনের অন্যতম নেতা ছিলেন।
◆ বাংলার নবজাগরণে অবদান
• ভাষা: আলালী ভাষার মাধ্যমে কথ্য বাংলাকে সাহিত্যের ভাষায় রূপান্তর।
• সাহিত্য: বাংলায় প্রথম উপন্যাস রচনা।
• নারী: নারীশিক্ষা ও নারীমুক্তির পক্ষে লেখালেখি।
• সমাজ: বাল্যবিবাহ ও বহুবিবাহের বিরোধিতা, বিধবাবিবাহের সমর্থন।
• প্রতিষ্ঠান: একাধিক সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠন গড়ে তোলা।
• সংবাদপত্র: মহিলা বিষয়ক মাসিক পত্রিকা সম্পাদনা।
বাংলার প্রথম উপন্যাস বিতর্ক
◆ আলালের ঘরের দুলাল না দুর্গেশনন্দিনী?
বাংলা সাহিত্যে একটি বিতর্ক আছে — 'আলালের ঘরের দুলাল' না বঙ্কিমচন্দ্রের 'দুর্গেশনন্দিনী' (১৮৬৫) বাংলার প্রথম উপন্যাস?
আলালের ঘরের দুলাল ১৮৫৮ সালে প্রকাশিত, দুর্গেশনন্দিনী ১৮৬৫ সালে। তারিখের দিক থেকে আলালের ঘরের দুলালই আগে।
তবে কেউ কেউ বলেন আলালের ঘরের দুলাল 'সার্থক উপন্যাস' নয় — এটি উপন্যাসের লক্ষণাক্রান্ত। দুর্গেশনন্দিনীকে তারা 'প্রথম সার্থক উপন্যাস' বলেন। বঙ্কিমচন্দ্রকে বলা হয় 'বাংলার প্রথম সার্থক উপন্যাসিক'।
মূলত প্যারীচাঁদকে বলা হয় 'বাংলার প্রথম ঔপন্যাসিক' এবং বঙ্কিমচন্দ্রকে বলা হয় 'বাংলার প্রথম সার্থক উপন্যাসিক'।
★ প্যারীচাঁদ = বাংলার প্রথম ঔপন্যাসিক। বঙ্কিমচন্দ্র = বাংলার প্রথম সার্থক উপন্যাসিক।
⚡ বিসিএস পরীক্ষায় এই পার্থক্যটি জানা অত্যন্ত জরুরি!
⚡ আলালের ঘরের দুলাল (১৮৫৮) = বাংলার প্রথম উপন্যাস। দুর্গেশনন্দিনী (১৮৬৫) = বাংলার প্রথম সার্থক উপন্যাস।
প্রশ্নোত্তর
প্রশ্ন: প্যারীচাঁদ মিত্রের ছদ্মনাম?
► টেকচাঁদ ঠাকুর
প্রশ্ন: প্যারীচাঁদ মিত্রের জন্মতারিখ?
► ২২ জুলাই ১৮১৪
প্রশ্ন: প্যারীচাঁদ মিত্রের মৃত্যুতারিখ?
► ২৩ নভেম্বর ১৮৮৩
প্রশ্ন: প্যারীচাঁদ মিত্রের পিতার নাম?
► রামনারায়ণ মিত্র
প্রশ্ন: প্যারীচাঁদ মিত্রের ভ্রাতার নাম?
► কিশোরীচাঁদ মিত্র
প্রশ্ন: প্যারীচাঁদ মিত্র কোন কলেজে পড়েন?
► হিন্দু কলেজ (১৮২৭)
প্রশ্ন: প্যারীচাঁদ মিত্রের শিক্ষক?
► হেনরি লুই ভিভিয়ান ডিরোজিও
প্রশ্ন: প্যারীচাঁদ মিত্র কোন আন্দোলনের নেতা?
► ইয়ং বেঙ্গল আন্দোলন
প্রশ্ন: প্যারীচাঁদ মিত্রের কর্মজীবন শুরু?
► ১৮৩৬ সালে, কলকাতা পাবলিক লাইব্রেরিতে
প্রশ্ন: বাংলা সাহিত্যের প্রথম উপন্যাস?
► আলালের ঘরের দুলাল (১৮৫৮)
প্রশ্ন: আলালের ঘরের দুলালের লেখক?
► প্যারীচাঁদ মিত্র (ছদ্মনাম টেকচাঁদ ঠাকুর)
প্রশ্ন: আলালের ঘরের দুলাল ধারাবাহিক প্রকাশ?
► ১৮৫৪ সালে মাসিক পত্রিকায়
প্রশ্ন: আলালের ঘরের দুলাল গ্রন্থ প্রকাশ?
► ১৮৫৮ সালে
প্রশ্ন: আলালের ঘরের দুলালের কেন্দ্রীয় চরিত্র?
► মতিলাল
প্রশ্ন: মতিলালের পিতার নাম?
► বাবুরাম
প্রশ্ন: ঠকচাচার আসল নাম?
► মোকাজান মিয়া
প্রশ্ন: আলালী ভাষা কী?
► প্যারীচাঁদ মিত্রের কথ্য গদ্যরীতি
প্রশ্ন: আলালের ঘরের দুলালের ইংরেজি নাম?
► The Spoiled Child
প্রশ্ন: আলালের ঘরের দুলালের নাট্যরূপ কে করেন?
► হীরালাল মিত্র
প্রশ্ন: নাট্যরূপটি কোথায় মঞ্চস্থ হয়?
► বেঙ্গল থিয়েটারে (জানুয়ারি ১৮৭৫)
প্রশ্ন: বঙ্কিমচন্দ্র প্যারীচাঁদ সম্পর্কে কী বলেছেন?
► তিনিই প্রথম দেখাইলেন বাঙ্গালা দেশের কথা লইয়েই সাহিত্য গড়িতে হইবে।
প্রশ্ন: মাসিক পত্রিকার সম্পাদক কে ছিলেন?
► রাধানাথ শিকদার
প্রশ্ন: প্যারীচাঁদের প্রথম বাংলা উপন্যাস?
► আলালের ঘরের দুলাল
প্রশ্ন: বাংলার প্রথম সার্থক উপন্যাসিক কে?
► বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
প্রশ্ন: বাংলার প্রথম ঔপন্যাসিক কে?
► প্যারীচাঁদ মিত্র
প্রশ্ন: প্যারীচাঁদ মিত্রের নারীবিষয়ক গ্রন্থ?
► রামারঞ্জিকা (১৮৬০), বামাতোষিণী (১৮৮১)
প্রশ্ন: ডেভিড হেয়ার জীবনচরিত প্রকাশকাল?
► ১৮৭৮ (বাংলা), ১৮৭৭ (ইংরেজি)
প্রশ্ন: প্যারীচাঁদের মহিলা পত্রিকার সহযোগী?
► রাধানাথ শিকদার
প্রশ্ন: প্যারীচাঁদ মিত্র কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ে কোন পদে?
► সিনেটের সদস্য
প্রশ্ন: 'আলালের ঘরের দুলাল' অর্থ?
► অতি আদরে লালিত বখা সন্তান
⚡ ট্রিকি ও অজানা তথ্য
পরীক্ষায় বারবার ফাঁদ হিসেবে আসে — সাবধান!
⚡ প্যারীচাঁদ মিত্রের ছদ্মনাম 'টেকচাঁদ ঠাকুর' — 'টেকচাঁদ মিত্র' নয়।
⚡ আলালের ঘরের দুলাল ধারাবাহিক প্রকাশ ১৮৫৪ — গ্রন্থ প্রকাশ ১৮৫৮। উভয় তারিখই পরীক্ষায় আসে।
⚡ বাংলার প্রথম উপন্যাসিক প্যারীচাঁদ মিত্র — প্রথম সার্থক উপন্যাসিক বঙ্কিমচন্দ্র। এই পার্থক্য জানা জরুরি।
⚡ ঠকচাচার আসল নাম মোকাজান মিয়া — 'ঠকচাচা' তার ডাকনাম।
⚡ আলালের ঘরের দুলাল = ইংরেজিতে 'The Spoiled Child' — 'The Foolish Child' নয়।
⚡ মাসিক পত্রিকার সম্পাদক রাধানাথ শিকদার — যিনি এভারেস্টের উচ্চতা মাপেন।
⚡ হীরালাল মিত্র আলালের ঘরের দুলালের নাট্যরূপ করেন — প্যারীচাঁদ মিত্র নিজে নয়।
⚡ নাট্যরূপ বেঙ্গল থিয়েটারে মঞ্চস্থ হয় জানুয়ারি ১৮৭৫ — ১৮৭৪ বা ১৮৭৬ নয়।
⚡ প্যারীচাঁদের ভ্রাতার নাম কিশোরীচাঁদ মিত্র — এটি পরীক্ষায় আসতে পারে।
⚡ আলালী ভাষার প্রতিদ্বন্দ্বী হুতোমী ভাষা — কালীপ্রসন্ন সিংহের রচনায় ব্যবহৃত।
⚡ প্যারীচাঁদ মিত্র কলকাতায় জন্মেছিলেন — বাংলাদেশে নয়।
⚡ প্যারীচাঁদ মিত্রের পিতা রামনারায়ণ মিত্র — রামনারায়ণ দাস নয়।
⚡ ইয়ং বেঙ্গলের শিক্ষক ডিরোজিও — হেনরি লুই ভিভিয়ান ডিরোজিও (পুরো নাম)।
⚡ প্যারীচাঁদ মিত্র ১৮৩৬ সালে লাইব্রেরিতে যোগ দেন — ১৮৩০ বা ১৮৪০ নয়।
⚡ আলালের ঘরের দুলালের মূল কেন্দ্রীয় চরিত্র মতিলাল — ঠকচাচা নয় (ঠকচাচা গৌণ কিন্তু বিখ্যাত চরিত্র)।
⚡ বঙ্কিমচন্দ্র প্যারীচাঁদের ভাষার 'উচ্ছ্বসিত প্রশংসা' করেছিলেন।
⚡ প্যারীচাঁদ মিত্র জাস্টিস অব পিস হন ১৮৬৩ সালে।
চূড়ান্ত সারসংক্ষেপ
বিষয় | উত্তর |
পূর্ণ নাম | প্যারীচাঁদ মিত্র |
ছদ্মনাম | টেকচাঁদ ঠাকুর |
জন্ম | ২২ জুলাই ১৮১৪, কলকাতা |
মৃত্যু | ২৩ নভেম্বর ১৮৮৩, কলকাতা |
পিতা | রামনারায়ণ মিত্র |
ভ্রাতা | কিশোরীচাঁদ মিত্র |
আদিনিবাস | পাণিসেহালা, হুগলী |
শিক্ষা | হিন্দু কলেজ (১৮২৭) |
শিক্ষক | হেনরি ডিরোজিও |
আন্দোলন | ইয়ং বেঙ্গল আন্দোলন |
কর্মজীবন শুরু | ১৮৩৬, কলকাতা পাবলিক লাইব্রেরি |
প্রথম উপন্যাস | আলালের ঘরের দুলাল |
ধারাবাহিক প্রকাশ | ১৮৫৪ (মাসিক পত্রিকায়) |
গ্রন্থ প্রকাশ | ১৮৫৮ |
কেন্দ্রীয় চরিত্র | মতিলাল (পিতা: বাবুরাম) |
বিখ্যাত চরিত্র | ঠকচাচা (আসল নাম: মোকাজান মিয়া) |
আলালী ভাষা | কথ্যরীতির গদ্যভাষা — প্যারীচাঁদের অবদান |
ইংরেজি নাম | The Spoiled Child |
নাট্যরূপ | হীরালাল মিত্র, বেঙ্গল থিয়েটার ১৮৭৫ |
পার্থক্য | প্রথম ঔপন্যাসিক = প্যারীচাঁদ | প্রথম সার্থক ঔপন্যাসিক = বঙ্কিমচন্দ্র |
মাসিক পত্রিকা সহযোগী | রাধানাথ শিকদার |
বঙ্কিমচন্দ্রের মন্তব্য | 'বাঙ্গালা দেশের কথা লইয়েই সাহিত্য গড়িতে হইবে' |