বাংলা সাহিত্য
বাংলা প্রবন্ধ সাহিত্য
বঙ্কিমচন্দ্র • রবীন্দ্রনাথ • রামেন্দ্রসুন্দর • প্রমথ চৌধুরী • মোতাহের হোসেন • আবুল ফজল
১. প্রবন্ধ — সংজ্ঞা, প্রকারভেদ ও ইতিহাস
প্রবন্ধ গদ্যসাহিত্যের একটি গুরুত্বপূর্ণ শাখা। যে রচনায় লেখক কোনো একটি বিষয়ে তাঁর নিজস্ব চিন্তা, মতামত ও অভিজ্ঞতা সুশৃঙ্খলভাবে প্রকাশ করেন তাকে প্রবন্ধ বলে। ইংরেজি 'Essay' শব্দটির বাংলা প্রতিশব্দ হলো 'প্রবন্ধ'।
★ প্রবন্ধের সংজ্ঞা: 'প্রবন্ধ' শব্দের উৎপত্তি 'প্র + বন্ধ' থেকে — অর্থাৎ সুন্দরভাবে বাঁধা রচনা। ইংরেজি Essay শব্দের উৎপত্তি ফরাসি 'Essai' থেকে।
প্রবন্ধের প্রকারভেদ
প্রকার | বৈশিষ্ট্য | উদাহরণ |
ব্যক্তিগত প্রবন্ধ | লেখকের ব্যক্তিগত অনুভূতি ও বিশ্বাস প্রকাশিত | মন্তেইনের প্রবন্ধ, বঙ্কিমের কমলাকান্তের দপ্তর |
আলোচনামূলক প্রবন্ধ | কোনো বিষয়ে তথ্যনির্ভর আলোচনা | রামেন্দ্রসুন্দর ত্রিবেদীর বৈজ্ঞানিক প্রবন্ধ |
সমালোচনামূলক প্রবন্ধ | সাহিত্য বা সমাজের বিশ্লেষণ ও মূল্যায়ন | রবীন্দ্রনাথের 'সাহিত্য', প্রমথ চৌধুরীর প্রবন্ধ |
বিতর্কমূলক প্রবন্ধ | কোনো বিষয়ে পক্ষে বা বিপক্ষে যুক্তি উপস্থাপন | প্রমথ চৌধুরীর 'বই পড়া', 'আমাদের শিক্ষা' |
প্রাসঙ্গিক প্রবন্ধ | সমসাময়িক বিষয়ে লেখকের মন্তব্য | বঙ্কিমের বাঙালির ইতিহাস বিষয়ক প্রবন্ধ |
বাংলা প্রবন্ধ সাহিত্যের ইতিহাস
পর্যায় | বিবরণ |
প্রথম পর্ব (১৮১৫-১৮৫০) | রাজা রামমোহন রায়, ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগরের গদ্য রচনা — ধর্ম ও সমাজ সংস্কারের হাতিয়ার হিসেবে প্রবন্ধ |
দ্বিতীয় পর্ব (১৮৫০-১৯০০) | বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের হাতে বাংলা প্রবন্ধ সাহিত্যের পূর্ণ বিকাশ — বঙ্গদর্শন পত্রিকায় প্রকাশিত |
তৃতীয় পর্ব (১৯০০-১৯৫০) | রবীন্দ্রনাথ, রামেন্দ্রসুন্দর, প্রমথ চৌধুরীর স্বর্ণযুগ — প্রবন্ধ সাহিত্যের সর্বোচ্চ বিকাশ |
চতুর্থ পর্ব (১৯৫০-) | আবুল ফজল, মোতাহের হোসেন চৌধুরী, হুমায়ুন আজাদ, সৈয়দ মুজতবা আলী — আধুনিক যুগ |
★ বাংলা প্রবন্ধ সাহিত্যের জনক বা প্রতিষ্ঠাতা — বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়।
★ বাংলা প্রবন্ধ সাহিত্যের ইতিহাসে তিনটি মহান প্রতিভা: বঙ্কিম (প্রতিষ্ঠা), রবীন্দ্রনাথ (বিস্তার), প্রমথ চৌধুরী (পরিমার্জন ও নবায়ন)।
২. বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় — প্রবন্ধ সাহিত্যের জনক
বঙ্কিমচন্দ্র বাংলা প্রবন্ধ সাহিত্যকে শুধু উপস্থিত করেননি — সেটিকে একটি সার্থক শিল্পমাধ্যমে রূপান্তরিত করেছেন। উপন্যাসের পাশাপাশি তাঁর প্রবন্ধ রচনা বাংলা সাহিত্যের একটি অনন্য অধ্যায়।
জন্ম | ২৬ জুন ১৮৩৮ — হুগলি জেলার কাঁঠালপাড়া গ্রামে |
মৃত্যু | ৮ এপ্রিল ১৮৯৪ |
প্রধান পত্রিকা | বঙ্গদর্শন (১৮৭২ — তাঁর নিজের পত্রিকা) |
উপাধি | 'সাহিত্যসম্রাট', 'বাংলা প্রবন্ধ সাহিত্যের জনক' |
▶ কমলাকান্তের দপ্তর (১৮৭৫)
বঙ্কিমচন্দ্রের সর্বোৎকৃষ্ট প্রবন্ধ সংকলন। 'কমলাকান্ত' নামক একজন আফিমখোর, খ্যাপাটে কিন্তু অত্যন্ত চিন্তাশীল ও কবিপ্রতিভাসম্পন্ন চরিত্রের জবানিতে প্রবন্ধগুলো লেখা হয়েছে। মনে করা হয় কমলাকান্ত স্বয়ং বঙ্কিমচন্দ্র।
★ বিষয়বস্তু
ব্রিটিশ শাসনের অন্যায় ও সাধারণ মানুষের কষ্টের ব্যঙ্গাত্মক চিত্র
ধর্মান্ধতা, কুসংস্কার ও শিক্ষাব্যবস্থার বিকৃতির বিরুদ্ধে তীব্র সমালোচনা
শোষক ও অত্যাচারীদের ঢেঁকির সাথে তুলনা করে সমাজের স্বরূপ উন্মোচন
আফিমের নেশায় আচ্ছন্ন কমলাকান্তের মুখে দার্শনিক সত্য — গভীর ব্যঙ্গ ও সামাজিক বিশ্লেষণ
★ বিখ্যাত উক্তি ও চিন্তা
"আমি কখনও সমাজের অনিষ্ট করতে চাই নি, কিন্তু সমাজ আমার কী ক্ষতি করেছে তা আমি জানি।"
"যে হাসায়, সে-ই সবচেয়ে গভীর সত্য বলার সাহস রাখে।"
★ কমলাকান্তের দপ্তর — ইংরেজ ডি-কুইন্সির 'Confessions of an English Opium-Eater' দ্বারা অনুপ্রাণিত। প্রথম প্রকাশ ১৮৭৫।
★ কমলাকান্তের দপ্তরকে বঙ্কিমচন্দ্রের 'শ্রেষ্ঠ প্রবন্ধ সংকলন' বলা হয়। মোট ১৪টি প্রবন্ধ।
▶ লোকরহস্য (১৮৭৪)
বঙ্কিমচন্দ্রের দ্বিতীয় প্রধান প্রবন্ধ সংকলন। এটি কমলাকান্তের দপ্তরের আগে প্রকাশিত। এখানে সমাজের নানা স্তরের অসঙ্গতির ব্যঙ্গাত্মক চিত্র তুলে ধরা হয়েছে।
★ বিষয়বস্তু
সমাজের বিভিন্ন শ্রেণির মানুষের জীবন ও আচার-আচরণের হাস্যরসমূলক চিত্র
তৎকালীন শিক্ষিত মধ্যবিত্ত শ্রেণির ভণ্ডামি ও উচ্চাভিলাষের সমালোচনা
মানব চরিত্রের দুর্বলতা ও বিচিত্রতার চিত্রণ
★ 'লোকরহস্য' বঙ্কিমচন্দ্রের শ্রেষ্ঠ ব্যঙ্গ প্রবন্ধ সংকলন।
▶ বিজ্ঞানরহস্য (১৮৭৫)
বাংলা ভাষায় পাশ্চাত্য বিজ্ঞানকে সাধারণ মানুষের কাছে পৌঁছে দেওয়ার প্রচেষ্টা। বিজ্ঞানের নানা বিষয়কে বাংলায় রসালোভাবে উপস্থাপন করেছেন।
▶ বাঙ্গালার ইতিহাস বিষয়ক প্রবন্ধ
বঙ্কিমচন্দ্র বাংলা ভাষায় ইতিহাস লেখার প্রয়োজনীয়তা অনুভব করেছিলেন। তিনি লিখেছেন এই অমর উক্তি —
"বাঙ্গালার ইতিহাস চাই। নহিলে বাঙ্গালী কখন মানুষ হইবে না।"
★ এই উক্তিটি বঙ্কিমচন্দ্রের 'বাঙ্গালার ইতিহাস' বিষয়ক প্রবন্ধ থেকে
▶ বাঙ্গালা ভাষা প্রবন্ধ
সাহিত্যের ভাষা কেমন হওয়া উচিত সে বিষয়ে বঙ্কিমচন্দ্রের মত প্রকাশিত এই প্রবন্ধে।
"বলিবার কথাগুলি পরিস্ফুট করিয়া বলিতে হইবে — যতটুকু বলিবার আছে, সবটুকু বলিবে। তজ্জন্য ইংরেজি, ফার্সি, আরবি, সংস্কৃত, গ্রাম্য, বন্য — যে ভাষার শব্দ প্রয়োজন, তাহা গ্রহণ করিবে।"
▶ কৃষ্ণচরিত্র (১৮৮৬)
শ্রীকৃষ্ণের জীবন ও দর্শনের বিশ্লেষণমূলক প্রবন্ধ। বঙ্কিম এই গ্রন্থে কৃষ্ণকে একজন পূর্ণ মানুষ হিসেবে উপস্থাপন করেছেন।
★ বিষয়বস্তু
কৃষ্ণকে মিথ নয়, একজন ঐতিহাসিক ব্যক্তিত্ব হিসেবে উপস্থাপন
গীতার দর্শন ও কর্মযোগের ব্যাখ্যা
মহাভারতের ঘটনাসমূহের যুক্তিনিষ্ঠ পর্যালোচনা
▶ ধর্মতত্ত্ব (১৮৮৮)
বঙ্কিমচন্দ্রের ধর্মতাত্ত্বিক প্রবন্ধ সংকলন। ধর্ম ও নৈতিকতার মধ্যে সম্পর্ক নিয়ে গভীর আলোচনা।
"ধর্ম মানবচিত্তের সর্বোচ্চ প্রবৃত্তির বিষয়। পরম সত্যের সন্ধানই ধর্ম।"
▶ সাম্য (১৮৭৯)
সামাজিক সাম্য ও মানবিক অধিকারের পক্ষে লেখা প্রবন্ধ। নারী স্বাধীনতা ও সমাজের নানা অসাম্যের কথা বলা হয়েছে।
"সাম্য মানুষের স্বাভাবিক অধিকার।"
বঙ্কিমচন্দ্রের প্রধান প্রবন্ধ সংকলন — সারসংক্ষেপ
প্রবন্ধগ্রন্থ | বছর | মূল বিষয় ও বৈশিষ্ট্য |
লোকরহস্য | ১৮৭৪ | সমাজের ব্যঙ্গাত্মক চিত্র; মানব চরিত্রের বিচিত্রতা; হাস্যরস |
বিজ্ঞানরহস্য | ১৮৭৫ | পাশ্চাত্য বিজ্ঞান বাংলায় উপস্থাপন; বিজ্ঞান জনপ্রিয়করণ |
কমলাকান্তের দপ্তর | ১৮৭৫ | আফিমখোর কমলাকান্তের জবানে গভীর সমাজ ব্যঙ্গ; শ্রেষ্ঠ প্রবন্ধ সংকলন |
সাম্য | ১৮৭৯ | সমাজে সাম্য ও নারীর অধিকার; উদার মানবতাবাদ |
কৃষ্ণচরিত্র | ১৮৮৬ | কৃষ্ণকে পূর্ণ মানুষ হিসেবে দেখা; ঐতিহাসিক বিশ্লেষণ |
ধর্মতত্ত্ব | ১৮৮৮ | ধর্ম ও নৈতিকতার সম্পর্ক; হিন্দুধর্মের নতুন ব্যাখ্যা |
শ্রীমদ্ভগবদ্গীতা | ১৮৮৮ | গীতার দার্শনিক ব্যাখ্যা; কর্মযোগ ও জ্ঞানযোগ আলোচনা |
৩. রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর — প্রবন্ধের মহাকবি
রবীন্দ্রনাথ প্রবন্ধ সাহিত্যে তাঁর কাব্যিক মনের প্রকাশ ঘটিয়েছেন। তাঁর প্রবন্ধের বিষয় বিস্তৃত — সাহিত্য, শিক্ষা, ধর্ম, রাজনীতি, সমাজ সব কিছুই। তাঁর প্রবন্ধের গদ্যরীতি 'ভাবের গদ্য' — জ্ঞানের গদ্য নয়।
প্রধান প্রবন্ধ সংকলন
▶ সাহিত্য (১৯০৭)
রবীন্দ্রনাথের সবচেয়ে বিখ্যাত সাহিত্যতত্ত্বমূলক প্রবন্ধ সংকলন। সাহিত্যের স্বরূপ, উদ্দেশ্য ও মূল্য নিয়ে গভীর আলোচনা।
★ বিষয়বস্তু
সাহিত্যের সার্বজনীনতা — কোনো বিশেষ সামাজিক উদ্দেশ্যের দাসত্ব করলে সাহিত্য সংকীর্ণ হয়
সাহিত্যের উদ্দেশ্য হলো আনন্দ দেওয়া — তার মধ্য দিয়ে জ্ঞান দেওয়া
লেখকের ব্যক্তিত্ব সাহিত্যে ফুটে ওঠে — সাহিত্যের নিত্যবস্তু আছে
★ বিখ্যাত উক্তি
"সাহিত্যকে কোনো একটি বিশেষ সামাজিক উদ্দেশ্যসাধনের উপায়স্বরূপ করে তুললে তাকে সংকীর্ণ করে ফেলা অনিবার্য।"
"যে দেশে সাহিত্যের অভাব সে দেশের লোক পরস্পর সজীব বন্ধনে আবদ্ধ নহে, তাহারা বিচ্ছিন্ন।"
▶ আধুনিক সাহিত্য (১৯০৭)
বাংলা ও আন্তর্জাতিক সাহিত্যের তুলনামূলক আলোচনা। রবীন্দ্রনাথ সমকালীন ও পূর্বসূরি বিখ্যাত লেখকদের কাব্য ও উপন্যাস নিয়ে আলোচনা করেছেন।
★ বিষয়বস্তু
বঙ্কিমচন্দ্র ও মাইকেল মধুসূদনের সাহিত্যের বিশ্লেষণ
আধুনিক সাহিত্যের বৈশিষ্ট্য ও পশ্চিমের প্রভাব
গ্রন্থের প্রথম প্রবন্ধ 'বঙ্কিমচন্দ্র', শেষ প্রবন্ধ 'জুবেয়ার'; মোট ১৭টি প্রবন্ধ
▶ শিক্ষা (১৯০৮)
শিক্ষা বিষয়ে রবীন্দ্রনাথের মতামত। শান্তিনিকেতনের শিক্ষাভাবনার তাত্ত্বিক ভিত্তি এই প্রবন্ধে।
★ বিষয়বস্তু
আনন্দময় শিক্ষা — শিশুর স্বাভাবিক বিকাশের অনুকূল পরিবেশ
প্রকৃতির কোলে শিক্ষা — তপোবন শিক্ষার আদর্শ
মুখস্থবিদ্যার বিরোধিতা; বিদ্যার আনন্দকে গুরুত্ব দেওয়া
★ বিখ্যাত উক্তি
"শিক্ষার উদ্দেশ্য তথ্য পরিবেশন নয়, বিশ্বের সঙ্গে সামঞ্জস্যবিধান করা।"
"শিক্ষা হলো সেই জিনিস যা মানুষের মধ্যে যা সত্য তাকে প্রকাশ করে।"
▶ স্বদেশ (১৯০৮)
স্বদেশ আন্দোলনের প্রেক্ষাপটে রবীন্দ্রনাথের রাজনৈতিক ও সামাজিক মত প্রকাশিত প্রবন্ধ সংকলন।
★ বিষয়বস্তু
বঙ্গভঙ্গ আন্দোলন ও রবীন্দ্রনাথের প্রতিক্রিয়া
ভারতীয় জাতীয়তাবাদের স্বরূপ বিশ্লেষণ
হিন্দু-মুসলিম ঐক্যের প্রয়োজনীয়তা
▶ রাজা ও প্রজা (১৯০৮)
রাজনীতি ও সমাজের সম্পর্ক নিয়ে রবীন্দ্রনাথের ভাবনা। রাজার কর্তব্য ও প্রজার অধিকারের দার্শনিক আলোচনা।
"সমাজের ঐক্য অর্থের ঐক্য নয়, আত্মার ঐক্য।"
▶ গল্পগুচ্ছের ভূমিকা ও বিভিন্ন প্রবন্ধ
রবীন্দ্রনাথ তাঁর উপন্যাস ও গল্পের ভূমিকায় যে সাহিত্যতত্ত্ব বলেছেন সেগুলোও প্রবন্ধ হিসেবে বিবেচিত। এই গ্রন্থে মোট ১৭টি প্রবন্ধ রয়েছে।
রবীন্দ্রনাথের প্রবন্ধ গ্রন্থসমূহ
গ্রন্থ | বছর | মূল বিষয় |
প্রাচীন সাহিত্য | ১৯০৭ | পুরনো বাংলা ও সংস্কৃত সাহিত্যের আলোচনা |
সাহিত্য | ১৯০৭ | সাহিত্যের স্বরূপ, উদ্দেশ্য ও মূল্য |
আধুনিক সাহিত্য | ১৯০৭ | সমকালীন সাহিত্যের বিশ্লেষণ; ১৭টি প্রবন্ধ |
লোকসাহিত্য | ১৯০৭ | লোকগান, লোককথা ও লোকসাহিত্যের মূল্যায়ন |
বিচিত্র প্রবন্ধ | ১৯০৭ | বিভিন্ন বিষয়ের প্রবন্ধ সংকলন |
শিক্ষা | ১৯০৮ | শিক্ষাভাবনা; আনন্দময় শিক্ষা; প্রকৃতি-শিক্ষা |
স্বদেশ | ১৯০৮ | স্বদেশ আন্দোলন; জাতীয়তাবাদ; বঙ্গভঙ্গ |
রাজা ও প্রজা | ১৯০৮ | রাজনীতি ও সমাজ; রাজার কর্তব্য ও প্রজার অধিকার |
সংস্কৃত শিক্ষা | ১৯১১ | সংস্কৃত শিক্ষার গুরুত্ব ও পদ্ধতি |
শিক্ষার হেরফের | প্রবন্ধ | বাংলার শিক্ষাব্যবস্থার ত্রুটি; মাতৃভাষায় শিক্ষার দাবি |
★ রবীন্দ্রনাথ তাঁর প্রবন্ধে ব্যঙ্গ কম, কিন্তু গভীর দার্শনিকতা বেশি। বঙ্কিম যুক্তি দিতেন, রবীন্দ্রনাথ কবিতার মতো প্রবন্ধ লিখতেন।
★ 'শিক্ষার হেরফের' — রবীন্দ্রনাথের শিক্ষাতত্ত্বের মূল প্রবন্ধ
৪. রামেন্দ্রসুন্দর ত্রিবেদী — বিজ্ঞান ও দর্শনের প্রাবন্ধিক
জন্ম | ১৮৬৪ সালে — পশ্চিমবঙ্গের হুগলি জেলায় |
মৃত্যু | ১৯১৯ সালে |
পেশা | কৃষ্ণনাথ কলেজের অধ্যক্ষ; বিজ্ঞান অধ্যাপক |
উপাধি | 'বিজ্ঞান-প্রাবন্ধিক', বঙ্গীয় সাহিত্য পরিষদের কর্ণধার |
বিশেষত্ব | বিজ্ঞান ও দর্শনকে সাহিত্যের ভাষায় বাংলায় উপস্থাপন; বাংলায় বৈজ্ঞানিক পরিভাষা তৈরি |
রামেন্দ্রসুন্দরের প্রধান রচনা
জিজ্ঞাসা — বিজ্ঞান ও দর্শনের প্রশ্নমালা
মায়াবাদ — দার্শনিক মায়াবাদের বিশ্লেষণ
প্রকৃতি — প্রকৃতিবিজ্ঞান বিষয়ক প্রবন্ধ
পরিচয় — সাহিত্যিক ও দার্শনিক প্রবন্ধ সংকলন
★ বিখ্যাত উক্তি
"বিজ্ঞানের পাশাপাশি ইতিহাসকেও জানার প্রয়োজন আছে।"
★ রামেন্দ্রসুন্দর ত্রিবেদী বাংলায় বৈজ্ঞানিক পরিভাষা তৈরিতে অগ্রণী ভূমিকা পালন করেন।
★ তাঁকে বলা হয় বাংলা প্রবন্ধে 'বিজ্ঞানমনস্ক দৃষ্টিভঙ্গির' প্রথম প্রতিনিধি।
৫. প্রমথ চৌধুরী (বীরবল) — চলিত রীতির প্রবর্তক
জন্ম | ৭ আগস্ট ১৮৬৮ — যশোরে; পৈতৃক নিবাস পাবনায় |
মৃত্যু | ২ সেপ্টেম্বর ১৯৪৬ — শান্তিনিকেতন |
ছদ্মনাম | 'বীরবল' |
সম্পাদিত পত্রিকা | সবুজপত্র (১৯১৪), বিশ্বভারতী (ত্রৈমাসিক), অলকা |
সম্পর্ক | রবীন্দ্রনাথের ভ্রাতুষ্পুত্রী জামাতা (সত্যেন্দ্রনাথ ঠাকুরের কন্যা ইন্দিরা দেবীকে বিবাহ করেন) |
পুরস্কার | কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের 'জগত্তারিণী স্বর্ণপদক' (১৯৩৮) |
অবদান | বাংলা চলিত গদ্যরীতির প্রবর্তক; ইতালীয় সনেটের প্রবর্তক; চলিত রীতির মুখপাত্র |
★ 'সবুজপত্র' (১৯১৪) — বাংলা চলিত ভাষারীতির মুখপত্র। রবীন্দ্রনাথের জন্মদিন ২৫ বৈশাখে প্রথম প্রকাশিত।
★ প্রমথ চৌধুরী ফরাসি প্রাবন্ধিক মঁতেইনের অনুগামী।
▶ বই পড়া — প্রমথ চৌধুরীর বিখ্যাত প্রবন্ধ
'বই পড়া' প্রমথ চৌধুরীর সবচেয়ে বিখ্যাত ও বহুলপঠিত প্রবন্ধ। এটি 'সবুজপত্র' পত্রিকায় প্রকাশিত হয়েছিল।
★ বিষয়বস্তু
বই পড়া শুধু শখ নয়, এটি মনের হাসপাতাল
লাইব্রেরি হাসপাতালের চেয়েও বেশি গুরুত্বপূর্ণ — কারণ লাইব্রেরি মানুষের মনকে সুস্থ রাখে
স্কুল-কলেজের শিক্ষা বিদ্যা 'গেলানোর' মতো — সত্যিকার শিক্ষা নয়
পাস করা আর শিক্ষিত হওয়া এক জিনিস নয়
ডেমোক্রেসি সফল হতে হলে সুশিক্ষিত নাগরিক দরকার
★ বিখ্যাত উক্তি
"রুটি মদ ফুরিয়ে যাবে, প্রিয়ার কালো চোখ ঘোলাটে হয়ে যাবে, কিন্তু একখানা বই অনন্ত যৌবনা — যদি তেমন বই হয়।"
"সুশিক্ষিত লোক মাত্রই স্বশিক্ষিত।"
"লাইব্রেরি হাসপাতালের চেয়ে কম দরকারি নয়, বরং বেশি।"
"সাহিত্যের মধ্যে আমাদের জাত মানুষ হবে।"
▶ সাহিত্যে খেলা
সাহিত্যের আনন্দময় দিক নিয়ে আলোচনা। সাহিত্য কোনো গুরুগম্ভীর কাজ নয় — এটি খেলার মতো আনন্দের বিষয়।
★ বিষয়বস্তু
সাহিত্যে নির্মলতার দাবি — নীতিশাস্ত্রের বাধ্যবাধকতা থেকে সাহিত্যকে মুক্ত করা
শ্লীলতা-অশ্লীলতা সুরুচির বিষয়, সুনীতির বিষয় নয়
"শ্লীলতা-অশ্লীলতা সুরুচির কথা, সুনীতির কথা নয়।"
▶ আমাদের শিক্ষা (১৯২০)
বাংলার শিক্ষাব্যবস্থার সংস্কারের দাবিতে লেখা প্রবন্ধ সংকলন।
★ বিষয়বস্তু
বাংলায় উচ্চশিক্ষার সমস্যা
মাতৃভাষায় শিক্ষার প্রয়োজনীয়তা
সত্যিকার জ্ঞান ও পরীক্ষাপাসের মধ্যে ফারাক
"যে জাতি মনে বড় নয়, সে জাতি জ্ঞানে বড় নয়।"
প্রমথ চৌধুরীর প্রধান প্রবন্ধ গ্রন্থ
গ্রন্থ | বছর | মূল বিষয় |
তেল-নুন-লকড়ি | ১৯০৬ | প্রথম প্রবন্ধগ্রন্থ; সামাজিক ব্যঙ্গ ও বিদ্রুপ |
বীরবলের হালখাতা | ১৯১৬ | চলিত রীতিতে প্রথম গদ্য রচনা; বিদ্রুপাত্মক প্রবন্ধ |
নানা কথা | ১৯১৯ | বিভিন্ন বিষয়ের প্রবন্ধ সংকলন |
আমাদের শিক্ষা | ১৯২০ | শিক্ষাব্যবস্থার সংস্কারের দাবি; মাতৃভাষায় শিক্ষা |
রায়াতের কথা | ১৯২৬ | কৃষক ও প্রজার কথা; সমাজ ও অর্থনীতি |
নানাচর্চা | ১৯৩২ | বিভিন্ন বিষয়ের আলোচনামূলক প্রবন্ধ |
★ প্রমথ চৌধুরীর বিখ্যাত উক্তি: 'ভাষা মানুষের মুখ থেকে কলমের মুখে আসে, উল্টোটা করতে গেলে মুখে শুধু কালি পড়ে।'
★ 'জীবনে জ্যাঠামি ও সাহিত্যে ন্যাকামি' — প্রমথ চৌধুরী এটি সহ্য করতে পারতেন না।
৬. মোতাহের হোসেন চৌধুরী — মানবতাবাদী প্রাবন্ধিক
জন্ম | ১৯০৩ সালে — কুমিল্লায়; পৈতৃক নিবাস নোয়াখালির কাঞ্চনপুর |
মৃত্যু | ১৯৫৬ সালে (১৮ সেপ্টেম্বর) |
পেশা | বাংলা বিভাগের অধ্যাপক; চট্টগ্রাম কলেজ ও অন্যান্য প্রতিষ্ঠানে অধ্যাপনা |
পত্রিকা | 'শিখা' পত্রিকার সাথে যুক্ত ছিলেন |
প্রবন্ধ গ্রন্থ | সংস্কৃতি কথা |
▶ শিক্ষা ও মনুষ্যত্ব (প্রবন্ধ)
মোতাহের হোসেন চৌধুরীর সর্বোচ্চ আলোচিত প্রবন্ধ। এটি তাঁর 'সংস্কৃতি কথা' গ্রন্থের অন্তর্গত।
★ বিখ্যাত উপমা — দোতলা ঘরের উপমা
মানুষের জীবনকে একটি দোতলা ঘরের সঙ্গে তুলনা করা যেতে পারে:
▸ নিচের তলা = জীবসত্তা (মৌলিক চাহিদা — অন্ন, বস্ত্র, বাসস্থান)
▸ উপরের তলা = মানবসত্তা বা মনুষ্যত্ব (আত্মিক ও নৈতিক উন্নতি)
▸ দুই তলার সংযোগের মই = শিক্ষা
★ বিষয়বস্তু
শিক্ষার দুটি দিক: (ক) প্রয়োজনের দিক — মৌলিক চাহিদা পূরণ; (খ) অপ্রয়োজনের দিক — জীবনকে উপভোগ করা; শ্রেষ্ঠ দিক = অপ্রয়োজনের দিক
অন্নবস্ত্রের সমস্যা মানুষকে মনুষ্যত্বের পথে বাধা দেয়
শিক্ষার আসল কাজ মানুষকে লোভ, পাপ ও আত্মিক মৃত্যু থেকে মুক্তি দেওয়া
স্বশিক্ষাই প্রকৃত শিক্ষা — প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা একা যথেষ্ট নয়
★ বিখ্যাত উক্তি
"মানুষের জীবনকে একটি দোতলা ঘরের সঙ্গে তুলনা করা যেতে পারে। জীবসত্তা সেই ঘরের নিচের তলা, আর মানবসত্তা বা মনুষ্যত্ব ওপরের তলা। জীবসত্তার ঘর থেকে মানবসত্তার ঘরে উঠবার মই হচ্ছে শিক্ষা।"
"শিক্ষার যেমন প্রয়োজনের দিক আছে, তেমনি অপ্রয়োজনীয় দিকও আছে। আর অপ্রয়োজনের দিকই তার শ্রেষ্ঠ দিক।"
▶ সংস্কৃতি কথা
মোতাহের হোসেন চৌধুরীর প্রধান প্রবন্ধ গ্রন্থ। সংস্কৃতির অর্থ ও তাৎপর্য নিয়ে গভীর আলোচনা।
★ বিখ্যাত উক্তি — সংস্কৃতির সংজ্ঞা
"সংস্কৃতি মানে সুন্দরভাবে, বিচিত্রভাবে, মহৎভাবে বাঁচা; প্রকৃতি-সংসার ও মানব-সংসারের মধ্যে অসংখ্য অনুভূতির শিকড় চালিয়ে দিয়ে বিচিত্র রস টেনে নিয়ে বাঁচা; বিচিত্র দেশ ও বিচিত্র জাতির অন্তরঙ্গ সঙ্গী হয়ে বাঁচা; প্রচুরভাবে গভীরভাবে বাঁচা, বিশ্বের বুকে বুক মিলিয়ে বাঁচা।"
"ধর্ম সাধারণ লোকের কালচার আর কালচার শিক্ষিত-মার্জিত লোকের ধর্ম।"
▶ জীবন ও বৃক্ষ
বৃক্ষের প্রতীকে জীবনের অর্থ ও সংস্কৃতির সাধনা বর্ণিত হয়েছে।
★ বিষয়বস্তু
সমাজের কাজ কেবল টিকে থাকার সুবিধা দেওয়া নয়, মানুষকে বড় করে তোলা
সৃজনশীল মানুষ ও বৃক্ষ — 'যা তার প্রাপ্তি তাই তার দান'
বৃক্ষ কেবল বৃদ্ধির ইশারা নয় — প্রশান্তিরও ইঙ্গিত
★ মোতাহের হোসেন চৌধুরীর বিখ্যাত উক্তি: 'ধর্ম সাধারণ লোকের কালচার আর কালচার শিক্ষিত-মার্জিত লোকের ধর্ম।'
★ 'শিক্ষা ও মনুষ্যত্ব' প্রবন্ধে — জীবসত্তা = নিচের তলা, মানবসত্তা = উপরের তলা, শিক্ষা = মই।
৭. আবুল ফজল — বাংলাদেশের প্রধান প্রাবন্ধিক
জন্ম | ১ জুলাই ১৯০৩ — চট্টগ্রামে |
মৃত্যু | ৪ মে ১৯৮৩ |
উপাধি | 'বাংলাদেশের প্রধান প্রাবন্ধিক' |
প্রধান রচনা | রেখাচিত্র, শ্রেষ্ঠ প্রবন্ধ, মুক্তচিন্তা, মানব সংসার, চিন্তার হদিস |
আবুল ফজলের প্রধান প্রবন্ধের বিষয়বস্তু
▶ রেখাচিত্র
সমাজ ও মানুষের চরিত্র রেখাচিত্রের মাধ্যমে উপস্থাপন। ব্যক্তিস্বাতন্ত্র্য ও মুক্তমনার মতামতের সমন্বয়।
▶ মুক্তচিন্তা
ধর্ম, সমাজ ও রাজনীতি সম্পর্কে মুক্তমনার যুক্তিনিষ্ঠ আলোচনা। কুসংস্কার ও ধর্মান্ধতার বিরোধিতা।
★ বিখ্যাত উক্তি
"মানুষ জন্মগতভাবে স্বাধীন — এই সত্য প্রতিষ্ঠাই মানব সভ্যতার মূল লক্ষ্য।"
★ আবুল ফজলকে বাংলাদেশের প্রাবন্ধিক সাহিত্যে মোতাহের হোসেন চৌধুরীর উত্তরসূরি বলা হয়।
৮. অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ প্রাবন্ধিক ও তাদের বিখ্যাত প্রবন্ধ
প্রাবন্ধিক | বিখ্যাত প্রবন্ধ/গ্রন্থ | বিষয়বস্তু ও বিখ্যাত উক্তি |
ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর | বিধবাবিবাহ প্রচলিত হওয়া উচিত কিনা (১৮৫৫) | বিধবাবিবাহের পক্ষে যুক্তি; সমাজসংস্কারমূলক প্রবন্ধ; তথ্য ও যুক্তিনির্ভর |
রাজা রামমোহন রায় | সতীদাহ বিষয়ক প্রবন্ধ | সতীদাহ প্রথার বিরুদ্ধে যুক্তি; ধর্মীয় সংস্কারের আলোচনা |
ভূদেব মুখোপাধ্যায় | পারিবারিক প্রবন্ধ (১৮৮২) | পরিবার ও সমাজ সম্পর্কে রক্ষণশীল দৃষ্টিভঙ্গি; বাংলার ঐতিহ্যের রক্ষার দাবি |
বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় | বাঙালার ইতিহাস | 'বাঙ্গালার ইতিহাস চাই। নহিলে বাঙ্গালী কখন মানুষ হইবে না।' |
স্বামী বিবেকানন্দ | বাঙালা ভাষা | চলিত ভাষায় লেখার উপর জোর; বাংলা সাহিত্যে চলিত রীতির পক্ষে প্রথম যুক্তি |
সৈয়দ মুজতবা আলী | পঞ্চতন্ত্র, দেশে-বিদেশে | রসিকতামূলক ভ্রমণ প্রবন্ধ; হাস্যরস ও গভীর জ্ঞানের সমন্বয় |
মীর মশাররফ হোসেন | বিষাদসিন্ধু (গদ্য-প্রবন্ধ) | কারবালার ঘটনার বর্ণনা; মুসলিম প্রেমকাহিনি |
হুমায়ুন আজাদ | আমার অবিশ্বাস, নারী | নারী অধিকার ও সমাজের কুসংস্কারের বিরুদ্ধে তীব্র প্রবন্ধ |
শওকত ওসমান | মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক প্রবন্ধ | বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ ও সাহিত্যের সম্পর্ক |
৯. বিখ্যাত প্রাবন্ধিক ও তাদের অমর উক্তি — এক নজরে
★ পরীক্ষায় প্রায়ই এই উক্তিগুলো দিয়ে প্রশ্ন করা হয় 'কার উক্তি' বলে।
উক্তিকর্তা | বিখ্যাত উক্তি |
বঙ্কিমচন্দ্র | 'বাঙ্গালার ইতিহাস চাই। নহিলে বাঙ্গালী কখন মানুষ হইবে না।' |
রবীন্দ্রনাথ | 'যে দেশে সাহিত্যের অভাব সে দেশের লোক পরস্পর সজীব বন্ধনে আবদ্ধ নহে, তাহারা বিচ্ছিন্ন।' |
রবীন্দ্রনাথ | 'সাহিত্যকে কোনো একটি বিশেষ সামাজিক উদ্দেশ্যসাধনের উপায়স্বরূপ করে তুললে তাকে সংকীর্ণ করে ফেলা অনিবার্য।' |
প্রমথ চৌধুরী | 'সুশিক্ষিত লোক মাত্রই স্বশিক্ষিত।' |
প্রমথ চৌধুরী | 'ভাষা মানুষের মুখ থেকে কলমের মুখে আসে, উল্টোটা করতে গেলে মুখে শুধু কালি পড়ে।' |
প্রমথ চৌধুরী | 'রুটি মদ ফুরিয়ে যাবে, প্রিয়ার কালো চোখ ঘোলাটে হয়ে যাবে, কিন্তু একখানা বই অনন্ত যৌবনা — যদি তেমন বই হয়।' |
প্রমথ চৌধুরী | 'শ্লীলতা-অশ্লীলতা সুরুচির কথা, সুনীতির কথা নয়।' |
মোতাহের হোসেন চৌধুরী | 'ধর্ম সাধারণ লোকের কালচার আর কালচার শিক্ষিত-মার্জিত লোকের ধর্ম।' |
মোতাহের হোসেন চৌধুরী | 'শিক্ষার যেমন প্রয়োজনের দিক আছে, তেমনি অপ্রয়োজনীয় দিকও আছে। আর অপ্রয়োজনের দিকই তার শ্রেষ্ঠ দিক।' |
মোতাহের হোসেন চৌধুরী | 'সংস্কৃতি মানে সুন্দরভাবে, বিচিত্রভাবে, মহৎভাবে বাঁচা।' |
১০. ট্রিকি ও অজানা তথ্য — পরীক্ষায় বারবার আসে
★ ১. বাংলা প্রবন্ধ সাহিত্যের জনক বা প্রতিষ্ঠাতা — বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়।
★ ২. 'কমলাকান্তের দপ্তর' — বঙ্কিমচন্দ্রের শ্রেষ্ঠ প্রবন্ধ সংকলন। মোট ১৪টি প্রবন্ধ। ইংরেজ লেখক ডি-কুইন্সির 'Confessions of an English Opium-Eater' দ্বারা অনুপ্রাণিত।
★ ৩. 'বাঙ্গালার ইতিহাস চাই। নহিলে বাঙ্গালী কখন মানুষ হইবে না।' — বঙ্কিমচন্দ্রের উক্তি।
★ ৪. 'সুশিক্ষিত লোক মাত্রই স্বশিক্ষিত' এবং 'ভাষা মানুষের মুখ থেকে কলমের মুখে আসে' — প্রমথ চৌধুরীর উক্তি।
★ ৫. সবুজপত্র পত্রিকা — প্রমথ চৌধুরী সম্পাদিত (১৯১৪); রবীন্দ্রনাথের জন্মদিন ২৫ বৈশাখে প্রকাশিত; বাংলা চলিত ভাষারীতির মুখপত্র।
★ ৬. প্রমথ চৌধুরীর ছদ্মনাম 'বীরবল'। বীরবলের হালখাতা — চলিত রীতিতে প্রথম গদ্য রচনা।
★ ৭. মোতাহের হোসেন চৌধুরীর 'শিক্ষা ও মনুষ্যত্ব' — জীবসত্তা = নিচের তলা, মানবসত্তা = উপরের তলা, শিক্ষা = মই।
★ ৮. 'ধর্ম সাধারণ লোকের কালচার আর কালচার শিক্ষিত-মার্জিত লোকের ধর্ম।' — মোতাহের হোসেন চৌধুরীর উক্তি।
★ ৯. রবীন্দ্রনাথের 'আধুনিক সাহিত্য' গ্রন্থ — প্রথম প্রবন্ধ 'বঙ্কিমচন্দ্র', শেষ প্রবন্ধ 'জুবেয়ার', মোট ১৭টি প্রবন্ধ।
★ ১০. প্রমথ চৌধুরী রবীন্দ্রনাথের ভ্রাতুষ্পুত্রী জামাতা (সত্যেন্দ্রনাথ ঠাকুরের কন্যা ইন্দিরা দেবীকে বিবাহ করেন)।
★ ১১. প্রমথ চৌধুরী ইতালীয় সনেটের বাংলায় প্রবর্তক। তিনি কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের জগত্তারিণী স্বর্ণপদক পান (১৯৩৮)।
★ ১২. রামেন্দ্রসুন্দর ত্রিবেদী — বাংলায় বৈজ্ঞানিক পরিভাষা তৈরিতে অগ্রণী; বঙ্গীয় সাহিত্য পরিষদের কর্ণধার।
★ ১৩. প্রমথ চৌধুরীর 'বই পড়া' প্রবন্ধ — 'রুটি মদ ফুরিয়ে যাবে, প্রিয়ার কালো চোখ ঘোলাটে হয়ে যাবে...' — এই বিখ্যাত উদ্ধৃতিটি বিসিএসে আসে।
★ ১৪. মোতাহের হোসেন চৌধুরীর প্রবন্ধ গ্রন্থ — 'সংস্কৃতি কথা'। তিনি 'শিখা' পত্রিকার সাথে যুক্ত ছিলেন।
★ ১৫. 'লাইব্রেরি হাসপাতালের চেয়ে কম দরকারি নয়, বরং বেশি।' — প্রমথ চৌধুরীর 'বই পড়া' প্রবন্ধ থেকে।
১১. প্রশ্নোত্তর
প্রশ্ন ১: বাংলা প্রবন্ধ সাহিত্যের জনক কাকে বলা হয়?
✔ উত্তর: বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় → তিনি বাংলা প্রবন্ধকে সাহিত্যধর্মী করেছেন
প্রশ্ন ২: 'কমলাকান্তের দপ্তর' কার রচনা?
✔ উত্তর: বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় → ১৮৭৫ সালে প্রথম প্রকাশিত
প্রশ্ন ৩: কমলাকান্ত কী ছিলেন?
✔ উত্তর: আফিমখোর, খ্যাপাটে কিন্তু চিন্তাশীল কাল্পনিক চরিত্র → বঙ্কিমচন্দ্র নিজেই কমলাকান্ত বলে মনে করা হয়
প্রশ্ন ৪: কমলাকান্তের দপ্তর কোন ইংরেজ লেখকের দ্বারা অনুপ্রাণিত?
✔ উত্তর: ডি-কুইন্সির 'Confessions of an English Opium-Eater' → ডি-কুইন্সি = ইংরেজ লেখক
প্রশ্ন ৫: 'বাঙ্গালার ইতিহাস চাই, নহিলে বাঙ্গালী কখন মানুষ হইবে না' — কার উক্তি?
✔ উত্তর: বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় → বাংলা সাহিত্যের অন্যতম বিখ্যাত প্রবন্ধ উক্তি
প্রশ্ন ৬: রবীন্দ্রনাথের 'আধুনিক সাহিত্য' গ্রন্থে মোট কয়টি প্রবন্ধ?
✔ উত্তর: ১৭টি → প্রথম প্রবন্ধ 'বঙ্কিমচন্দ্র', শেষ প্রবন্ধ 'জুবেয়ার'
প্রশ্ন ৭: 'সাহিত্যকে কোনো একটি বিশেষ সামাজিক উদ্দেশ্যসাধনের উপায়স্বরূপ করে তুললে তাকে সংকীর্ণ করে ফেলা অনিবার্য।' — কার উক্তি?
✔ উত্তর: রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর → 'সাহিত্য' প্রবন্ধ সংকলন থেকে
প্রশ্ন ৮: 'যে দেশে সাহিত্যের অভাব সে দেশের লোক বিচ্ছিন্ন।' — কার উক্তি?
✔ উত্তর: রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর → রবীন্দ্রনাথের প্রবন্ধ থেকে
প্রশ্ন ৯: 'সবুজপত্র' পত্রিকার সম্পাদক কে?
✔ উত্তর: প্রমথ চৌধুরী → ১৯১৪ সালে ২৫ বৈশাখে প্রথম প্রকাশিত
প্রশ্ন ১০: 'সবুজপত্র' পত্রিকাটি কিসের মুখপত্র ছিল?
✔ উত্তর: বাংলা চলিত ভাষারীতির মুখপত্র → চলিত গদ্যরীতির প্রচার-প্রসারে
প্রশ্ন ১১: বাংলা সাহিত্যে চলিত গদ্যরীতির প্রবর্তক কে?
✔ উত্তর: প্রমথ চৌধুরী → 'বীরবল' ছদ্মনামে লিখতেন
প্রশ্ন ১২: প্রমথ চৌধুরীর ছদ্মনাম কী?
✔ উত্তর: বীরবল → এই নামে পত্রিকায় লিখতেন
প্রশ্ন ১৩: প্রমথ চৌধুরীর প্রথম প্রবন্ধগ্রন্থ কোনটি?
✔ উত্তর: তেল-নুন-লকড়ি (১৯০৬) → প্রথম বই
প্রশ্ন ১৪: 'সুশিক্ষিত লোক মাত্রই স্বশিক্ষিত।' — কার উক্তি?
✔ উত্তর: প্রমথ চৌধুরী → 'বই পড়া' প্রবন্ধ থেকে
প্রশ্ন ১৫: 'ভাষা মানুষের মুখ থেকে কলমের মুখে আসে, উল্টোটা করতে গেলে মুখে শুধু কালি পড়ে।' — কার উক্তি?
✔ উত্তর: প্রমথ চৌধুরী → বাংলা গদ্যরীতি সম্পর্কে
প্রশ্ন ১৬: প্রমথ চৌধুরী বাংলায় কিসের প্রবর্তক?
✔ উত্তর: ইতালীয় সনেটের প্রবর্তক → চলিত গদ্যরীতি ছাড়াও সনেটে অবদান
প্রশ্ন ১৭: 'চলিত রীতিতে প্রথম গদ্য রচনা' প্রমথ চৌধুরীর কোন গ্রন্থ?
✔ উত্তর: বীরবলের হালখাতা (১৯১৬) → চলিত রীতিতে প্রথম বই
প্রশ্ন ১৮: প্রমথ চৌধুরী কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে কোন পদক পান?
✔ উত্তর: জগত্তারিণী স্বর্ণপদক (১৯৩৮) → বাংলা সাহিত্যে অবদানের জন্য
প্রশ্ন ১৯: প্রমথ চৌধুরীর 'বই পড়া' প্রবন্ধের বিখ্যাত উক্তিটি কী?
✔ উত্তর: 'রুটি মদ ফুরিয়ে যাবে, প্রিয়ার কালো চোখ ঘোলাটে হয়ে যাবে...' → বই পড়ার মূল্য সম্পর্কে
প্রশ্ন ২০: মোতাহের হোসেন চৌধুরীর প্রবন্ধ গ্রন্থের নাম কী?
✔ উত্তর: সংস্কৃতি কথা → একমাত্র প্রবন্ধ গ্রন্থ
প্রশ্ন ২১: মোতাহের হোসেন চৌধুরী কোথায় জন্মগ্রহণ করেন?
✔ উত্তর: কুমিল্লায় → পৈতৃক নিবাস নোয়াখালির কাঞ্চনপুর
প্রশ্ন ২২: 'শিক্ষা ও মনুষ্যত্ব' প্রবন্ধে জীবসত্তাকে কীসের সাথে তুলনা করা হয়েছে?
✔ উত্তর: দোতলা ঘরের নিচের তলার সাথে → মানবসত্তা = উপরের তলা, শিক্ষা = মই
প্রশ্ন ২৩: 'ধর্ম সাধারণ লোকের কালচার আর কালচার শিক্ষিত-মার্জিত লোকের ধর্ম।' — কার উক্তি?
✔ উত্তর: মোতাহের হোসেন চৌধুরী → 'সংস্কৃতি কথা' গ্রন্থ থেকে
প্রশ্ন ২৪: 'সংস্কৃতি মানে সুন্দরভাবে, বিচিত্রভাবে, মহৎভাবে বাঁচা।' — কার উক্তি?
✔ উত্তর: মোতাহের হোসেন চৌধুরী → সংস্কৃতির সংজ্ঞা
প্রশ্ন ২৫: মোতাহের হোসেন চৌধুরী কোন পত্রিকার সাথে যুক্ত ছিলেন?
✔ উত্তর: শিখা পত্রিকা → ঢাকা থেকে প্রকাশিত
প্রশ্ন ২৬: রামেন্দ্রসুন্দর ত্রিবেদী কোন বিষয়ের প্রবন্ধ লিখে বিখ্যাত?
✔ উত্তর: বিজ্ঞান ও দর্শন বিষয়ক প্রবন্ধ → বাংলায় বিজ্ঞানের প্রবর্তক
প্রশ্ন ২৭: বঙ্কিমচন্দ্রের 'লোকরহস্য' কত সালে প্রকাশিত হয়?
✔ উত্তর: ১৮৭৪ সালে → কমলাকান্তের দপ্তরের আগে
প্রশ্ন ২৮: প্রমথ চৌধুরীর কাকে ফরাসি প্রাবন্ধিক মঁতেইনের অনুগামী বলা হয়?
✔ উত্তর: প্রমথ চৌধুরীকে → ব্যক্তিগত প্রবন্ধ রচনায় মঁতেইনের প্রভাব
প্রশ্ন ২৯: 'জীবনে জ্যাঠামি ও সাহিত্যে ন্যাকামি' সহ্য করতে পারতেন না কে?
✔ উত্তর: প্রমথ চৌধুরী → তাঁর সাহিত্য দর্শনের অংশ
প্রশ্ন ৩০: 'শ্লীলতা-অশ্লীলতা সুরুচির কথা, সুনীতির কথা নয়।' — কার উক্তি?
✔ উত্তর: প্রমথ চৌধুরী → 'সাহিত্যে খেলা' প্রবন্ধ থেকে
প্রশ্ন ৩১: রবীন্দ্রনাথের 'শিক্ষা' প্রবন্ধে কোন আদর্শের কথা বলা হয়েছে?
✔ উত্তর: তপোবন শিক্ষার আদর্শ — প্রকৃতির কোলে আনন্দময় শিক্ষা → শান্তিনিকেতনের শিক্ষাভাবনার ভিত্তি
প্রশ্ন ৩২: বঙ্কিমচন্দ্রের 'কৃষ্ণচরিত্র' কত সালে প্রকাশিত?
✔ উত্তর: ১৮৮৬ সালে → কৃষ্ণকে ঐতিহাসিক ব্যক্তিত্ব হিসেবে দেখা
প্রশ্ন ৩৩: 'সাম্য' প্রবন্ধ কার রচনা এবং এর বিষয়বস্তু কী?
✔ উত্তর: বঙ্কিমচন্দ্র; সামাজিক সাম্য ও নারী অধিকার → ১৮৭৯ সালে প্রকাশিত
প্রশ্ন ৩৪: প্রমথ চৌধুরী কোন পরিবারের সাথে সম্পর্কিত?
✔ উত্তর: রবীন্দ্রনাথের পরিবারের সাথে — ভ্রাতুষ্পুত্রী জামাতা → সত্যেন্দ্রনাথ ঠাকুরের কন্যা ইন্দিরা দেবীকে বিবাহ করেন
প্রশ্ন ৩৫: 'শিক্ষার হেরফের' কার প্রবন্ধ?
✔ উত্তর: রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর → বাংলার শিক্ষাব্যবস্থার ত্রুটি ও মাতৃভাষায় শিক্ষার দাবি
প্রশ্ন ৩৬: বাংলা প্রবন্ধ সাহিত্যে রামেন্দ্রসুন্দর ত্রিবেদীর বিশেষত্ব কী?
✔ উত্তর: বিজ্ঞান ও দর্শনকে সাহিত্যের ভাষায় বাংলায় উপস্থাপন → বাংলায় বৈজ্ঞানিক পরিভাষা তৈরি করেছেন
প্রশ্ন ৩৭: 'বিজ্ঞানরহস্য' কার রচনা?
✔ উত্তর: বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় → পাশ্চাত্য বিজ্ঞান বাংলায় উপস্থাপন
প্রশ্ন ৩৮: প্রমথ চৌধুরীর আত্মজীবনীমূলক প্রবন্ধ কোনটি?
✔ উত্তর: আত্মকথা → ব্যক্তিগত প্রবন্ধ
প্রশ্ন ৩৯: 'লাইব্রেরি হাসপাতালের চেয়ে কম দরকারি নয়' — এই কথা কোন প্রবন্ধে?
✔ উত্তর: প্রমথ চৌধুরীর 'বই পড়া' প্রবন্ধে → লাইব্রেরি = মনের হাসপাতাল
প্রশ্ন ৪০: মোতাহের হোসেন চৌধুরীর মতে শিক্ষার 'শ্রেষ্ঠ দিক' কোনটি?
✔ উত্তর: অপ্রয়োজনের দিক — জীবনকে উপভোগ করা → জীবিকা নয়, জীবনের সূক্ষ্মচেতনা
প্রশ্ন ৪১: বঙ্কিমচন্দ্র প্রবন্ধ রচনায় মূলত কোন পত্রিকা ব্যবহার করতেন?
✔ উত্তর: বঙ্গদর্শন (১৮৭২) → বঙ্কিমচন্দ্র নিজে সম্পাদিত পত্রিকা
প্রশ্ন ৪২: রবীন্দ্রনাথের প্রবন্ধগ্রন্থ 'লোকসাহিত্য'-র বিষয় কী?
✔ উত্তর: লোকগান, লোককথা ও লোকসাহিত্যের মূল্যায়ন → মৌখিক সাহিত্যের তাৎপর্য
প্রশ্ন ৪৩: 'জিজ্ঞাসা' কার রচনা?
✔ উত্তর: রামেন্দ্রসুন্দর ত্রিবেদী → বিজ্ঞান ও দর্শনের প্রশ্নমালা
প্রশ্ন ৪৪: প্রমথ চৌধুরীর 'তেল-নুন-লকড়ি' কত সালে প্রকাশিত?
✔ উত্তর: ১৯০৬ সালে → প্রমথ চৌধুরীর প্রথম প্রবন্ধগ্রন্থ
প্রশ্ন ৪৫: বঙ্কিমচন্দ্রের 'ধর্মতত্ত্ব' গ্রন্থের বিষয় কী?
✔ উত্তর: ধর্ম ও নৈতিকতার সম্পর্ক; হিন্দুধর্মের নতুন ব্যাখ্যা → ১৮৮৮ সালে প্রকাশিত
প্রশ্ন ৪৬: রবীন্দ্রনাথের 'স্বদেশ' প্রবন্ধ সংকলনের মূল বিষয় কী?
✔ উত্তর: স্বদেশ আন্দোলন, বঙ্গভঙ্গ, জাতীয়তাবাদ → ১৯০৮ সালে প্রকাশিত
প্রশ্ন ৪৭: 'আমাদের শিক্ষা' প্রবন্ধগ্রন্থটি কার?
✔ উত্তর: প্রমথ চৌধুরী (১৯২০) → শিক্ষাব্যবস্থার সংস্কারের দাবি
প্রশ্ন ৪৮: সবুজপত্র পত্রিকা প্রথম প্রকাশিত হয় কত সালে?
✔ উত্তর: ১৯১৪ সালে (১৩২১ বঙ্গাব্দ, ২৫ বৈশাখ) → রবীন্দ্রনাথের জন্মদিনে প্রকাশিত
প্রশ্ন ৪৯: 'নানা কথা' কার রচনা?
✔ উত্তর: প্রমথ চৌধুরী (১৯১৯) → বিভিন্ন বিষয়ের প্রবন্ধ সংকলন
প্রশ্ন ৫০: বাংলাদেশের প্রধান প্রাবন্ধিক হিসেবে কাকে বিবেচনা করা হয়?
✔ উত্তর: আবুল ফজল → ১৯০৩-১৯৮৩; চট্টগ্রামে জন্ম
সারসংক্ষেপ
বাংলা প্রবন্ধ সাহিত্য বঙ্কিমচন্দ্রের হাতে জন্ম নিয়েছে, রবীন্দ্রনাথের হাতে বিস্তার পেয়েছে, প্রমথ চৌধুরীর হাতে নতুন রূপ পেয়েছে এবং মোতাহের হোসেন চৌধুরীসহ আরও অনেকের হাতে আরও সমৃদ্ধ হয়েছে। প্রতিটি প্রাবন্ধিক তাঁর যুগের সমস্যা ও চিন্তাকে নিজস্ব ভঙ্গিতে প্রকাশ করেছেন।
★ মনে রাখুন: বঙ্কিম = প্রতিষ্ঠাতা | রবীন্দ্রনাথ = বিস্তারকারী | প্রমথ চৌধুরী = নবায়নকারী | মোতাহের হোসেন = মানবতাবাদী।
— অধ্যায় সমাপ্ত —