ফররুখ আহমদ

Chapter Activity

Rating
New / 5
Reviews
0
Read Sessions
0
Readers
0

ফররুখ আহমদ

সৈয়দ ফররুখ আহমদ

মুসলি রেনেসাঁর কবি | সাত সাগরের মাঝি | পাঞ্জেরীর কবি

জীবন পরিচয়পটভূমি

জন্মপারিবারিক পরিবেশ

১৯১৮ সালের ১০ জুন মাগুরা জেলার শ্রীপুর উপজেলার মাঝআইল গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন সৈয়দ ফররুখ আহমদপিতার নাম খান সাহেব সৈয়দ হাতেম আলীপুলিশ ইন্সপেক্টরমাতার নাম বেগম রওশন আখতারপরিবারটি ছিল সম্ভ্রান্ত মুসলিম পরিবার, সৈয়দ বংশীয়

শৈশব কেটেছে মাগুরার গ্রামীণ পরিবেশেপরে কলকাতায় এসে তালতলা মডেল এম.ই স্কুলে ভর্তি হনতারপর খুলনা জেলা স্কুল থেকে ১৯৩৭ সালে ম্যাট্রিক পাস করেনকলকাতার রিপন কলেজ থেকে ১৯৩৯ সালে আইএ পাস করেনএরপর স্কটিশ চার্চ কলেজে দর্শনইংরেজি সাহিত্যে অনার্স নিয়ে ভর্তি হন, কিন্তু পরীক্ষা না দিয়েই কর্মজীবনে প্রবেশ করেন

পিতা সৈয়দ হাতেম আলী পুলিশ ইন্সপেক্টরজন্ম মাঝআইল গ্রাম, মাগুরা

বামপন্থী থেকে ইসলামি চেতনায়আদর্শিক বিবর্তন

ছাত্রজীবনে ফররুখ আহমদ বামপন্থী রাজনীতিতে আকৃষ্ট হনভারতের বিখ্যাত কমরেড এম এন রায়ের র‌্যাডিক্যাল মানবতাবাদের প্রতি আকৃষ্ট হয়ে বামপন্থী রাজনীতিতে জড়িয়ে পড়েন

কিন্তু চল্লিশের দশকে তাঁর রাজনৈতিক বিশ্বাসে বড় পরিবর্তন আসেজন্মসূত্রে ইসলামি আদর্শঐতিহ্যের অধিকারী কবি একসময় ধর্মীয় চিন্তায় সম্পূর্ণ নিমজ্জিত হয়ে পড়েনমুসলিম রেনেসাঁর সমর্থক হন এবং কলম তুলে নেন মুসলিম জাতির পুনর্জাগরণের লক্ষ্যে

এই আদর্শিক বিবর্তনই তাঁর কবিতার মূল চালিকাশক্তিএম এন রায়ের শিষ্য থেকে মুসলিম রেনেসাঁর কবিএই রূপান্তর তাঁর সাহিত্যজীবনকে দিয়েছে অনন্য গভীরতা

ফররুখ প্রথম জীবনে এম এন রায়ের শিষ্য ছিলেনপরে মুসলিম রেনেসাঁর কবি

কর্মজীবনঢাকা বেতার

১৯৪৮ সালে কলকাতা থেকে সদ্য স্বাধীন পাকিস্তানের ঢাকায় চলে আসেনঢাকা বেতারে স্টাফ আর্টিস্ট হিসেবে যোগ দেন। ১৯৭২ সাল পর্যন্ত এখানেই কর্মরত ছিলেনঢাকা বেতারে তিনি শিশুদের জন্য 'ছোটদের খেলাঘর' অনুষ্ঠান পরিচালনা করতেনযা শিশুমহলে অত্যন্ত জনপ্রিয় ছিল

ভাষা আন্দোলনমুক্তিযুদ্ধ

১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলনে ফররুখ আহমদ সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করেনইসলামি চেতনার কবি হলেও বাংলা ভাষার প্রতি তাঁর গভীর ভালোবাসা ছিলপাকিস্তান প্রতিষ্ঠার পরপরই তিনি 'সওগাত' পত্রিকায় লেখেনরাষ্ট্রভাষা হিসেবে বাংলার সমর্থনে

১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধের প্রতিও তাঁর অকুণ্ঠ সমর্থন ছিলমুক্তিযুদ্ধকালীন সময়ে ধর্মীয় কুসংস্কারপাকিস্তানের অপরিণামদর্শী রাজনীতিবিদদের বিরুদ্ধেও তিনি কলম পরিচালনা করেছেন

করুণ শেষ জীবনমৃত্যু

ফররুখ আহমদের শেষ জীবন ছিল অকল্পনীয় দুঃখময়। ১৯৭২ সালে ঢাকা বেতার থেকে চাকরি চলে যায়আর্থিক সংকট প্রকট হয়ে পড়েছেলে ডাক্তারি পড়ছিল, কিন্তু টাকার অভাবে পড়াশোনা ছেড়ে দিতে হয়চিকিৎসার অভাবে একটি মেয়ে মারা যায়

১৯৭৪ সালের রমজান মাসে শারীরিক অসুস্থতাদারিদ্র্যের কারণে না খেয়েই রোজা রাখতেন। ২৭শে রমজান (১৯ অক্টোবর ১৯৭৪) ঢাকায় ইন্তেকাল করেনকোথায় দাফন হবে তা নিয়েও সমস্যা হয়সরকারিভাবে জায়গা পাওয়া যায়নিঅবশেষে কবি বেনজীর আহমদ শাহজাহানপুরের পারিবারিক গোরস্থানে জায়গা দান করেন

আজকের সমগ্র বাংলা সাহিত্যে ফররুখ আহমদের মত একজনও শক্তিশালী স্রষ্টা নেইএমন একজন স্রষ্টা অনাহারে রেখে তিলে তিলে মরতে বাধ্য করেছি আমরাভবিষ্যত বংশধর আমাদের ক্ষমা করবে না। — আহমদ ছফা

২৭শে রমজান মৃত্যু, শাহজাহানপুর কবরস্থান

বিষয়

তথ্য

পূর্ণ নাম

সৈয়দ ফররুখ আহমদ

জন্ম

১০ জুন ১৯১৮

জন্মস্থান

মাঝআইল গ্রাম, শ্রীপুর, মাগুরা জেলা

মৃত্যু

১৯ অক্টোবর ১৯৭৪ (২৭শে রমজান)

পিতা

সৈয়দ হাতেম আলী (পুলিশ ইন্সপেক্টর)

মাতা

বেগম রওশন আখতার

স্ত্রী

সৈয়দা তৈয়বা খাতুন লিলি (বিবাহ ১৯৪২)

শিক্ষা

রিপন কলেজ, স্কটিশ চার্চ কলেজ

কর্মস্থান

ঢাকা বেতার (১৯৪৮-১৯৭২)

উপাধি

মুসলিম রেনেসাঁর কবি

বিশেষ পরিচয়

বাংলা কাব্যজগতের সর্বাধিক সনেট রচয়িতা

সাত সাগরের মাঝি

সাত সাগরের মাঝি (ডিসেম্বর ১৯৪৪) — প্রথমশ্রেষ্ঠ কাব্যগ্রন্থ

রচনার পটভূমিদুর্ভিক্ষের কালো রাত

১৯৪৩ সালে বাংলায় এক ভয়াবহ দুর্ভিক্ষ নেমে আসেলক্ষ লক্ষ মানুষ অনাহারে মরছেকলকাতার রাস্তায় প্রতিদিন লাশ পড়ে থাকেএই কালো অধ্যায়ের পটভূমিতে ফররুখ আহমদ লিখলেন তাঁর বিখ্যাত কবিতাগুলো। ১৯৪৩-৪৪ সালে বিভিন্ন পত্রিকায় কবিতাগুলো প্রকাশিত হয়পাঠকমহলে তাৎক্ষণিক আলোড়ন পড়ে যায়

ডিসেম্বর ১৯৪৪ সালে গ্রন্থাকারে প্রকাশিত হয় 'সাত সাগরের মাঝি'। প্রকাশের পরেই ফররুখ আহমদ স্বীকৃতি পান অনন্যসাধারণ কবি হিসেবে

কাব্যগ্রন্থের মূল ভাবনাকাঠামো

'সাত সাগরের মাঝি' কাব্যগ্রন্থের কেন্দ্রীয় প্রতীক হলো আরব্য রজনীর বিখ্যাত নাবিক সিন্দাবাদসিন্দাবাদ শুধু একটি কাহিনির চরিত্র নয়সে হলো মুসলিম জাতির প্রতীকযে জাতি একসময় সাত সমুদ্রে বিচরণ করত, দিকজয় করততারা আজ পথভ্রষ্ট, নিষ্প্রভ

কবি এই কাব্যগ্রন্থে বলতে চেয়েছেনহে মুসলিম জাতি, তোমার পূর্বপুরুষেরা সিন্দাবাদের মতো সাহসী ছিলসেই সাহস, সেই ঐতিহ্য ফিরিয়ে আনোঅন্ধকারের রাত শেষ হবেঊষার আলো আসবে

কাব্যগ্রন্থটি মূলত দুটি প্রবাহে রচিতএকদিকে সিন্দাবাদের রোমান্টিক সমুদ্রযাত্রা, অন্যদিকে দুর্ভিক্ষের নির্মম বাস্তবতাএই দুটি প্রবাহের মিলনে তৈরি হয়েছে এক অনন্য কাব্যজগৎ।

সাত সাগরের মাঝি = সিন্দাবাদ প্রতীক + মুসলিম পুনর্জাগরণ + দুর্ভিক্ষের বাস্তবতা

পাঞ্জেরীসর্বাধিক বিখ্যাত কবিতা

রচনার প্রেক্ষাপট:

'পাঞ্জেরী' শব্দটি এসেছে আরবি-ফারসি থেকেযার অর্থ হলো জাহাজের চালক বা পথপ্রদর্শকরাতের অন্ধকারে যিনি জাহাজের হাল ধরে থাকেন, পথ দেখানতিনিই পাঞ্জেরী

কবিতার পূর্ণ ভাবার্থ:

কবিতায় একটি নৌকা বা জাহাজ গভীর রাতের অন্ধকার সমুদ্রে ভাসছেচারদিকে ঘন কালো মেঘঝড়ের পূর্বাভাসনাবিকরা ভয়ে কাঁপছেকেউ জানে না সামনে কী আছেএই ভয়াবহ মুহূর্তে একজন নাবিক পাঞ্জেরীকে প্রশ্ন করছে — 'রাত পোহাবার কত দেরী পাঞ্জেরী?'

এই প্রশ্নটি আসলে একটি জাতির প্রশ্নমুসলিম জাতি অন্ধকারে ডুবে আছেপরাধীনতার অন্ধকারে, দারিদ্র্যের অন্ধকারে, শিক্ষাহীনতার অন্ধকারেকবে এই রাত শেষ হবে? কবে ঊষার আলো আসবে?

পাঞ্জেরী উত্তর দেন না সরাসরিকিন্তু কবির বিশ্বাসএই রাত শেষ হবেইসিন্দাবাদের উত্তরসূরিরা আবার পাল তুলবেসাহসের সাথে এগিয়ে যাবে

কবিতায় ব্যবহৃত চিত্রকল্পগুলো অসাধারণআসমান ভরা মেঘ, পশুর হাওয়া, মওতের না করি ডরপ্রতিটি শব্দ যেন একটি দৃশ্য তৈরি করে পাঠকের মনে

রাত পোহাবার কত দেরী পাঞ্জেরী? / এখনো তোমার আসমান ভরা মেঘে।”

মোরা মুসলিম দরিয়ার মাঝি, মওতের না করি ডর।”

পাঞ্জেরী = মুসলিম জাতির দুর্দশায় আলোর প্রতীক্ষা + পুনর্জাগরণের আহ্বান

পাঞ্জেরী = জাহাজের চালক/পথপ্রদর্শকএটি আরবি-ফারসি শব্দ

লাশদুর্ভিক্ষের সাক্ষ্য

রচনার পটভূমি:

১৯৪৩-৪৪ সালের ভয়াবহ বাংলার দুর্ভিক্ষের পটভূমিতে লেখা এই কবিতাকলকাতার রাস্তায় লাশ পড়ে আছে, মানুষ অনাহারে মরছেএই দৃশ্য দেখে ফররুখ আহমদ লিখেছেন 'লাশ'।

কবিতার পূর্ণ ভাবার্থ:

কবিতায় অনাহারে মৃত মানুষের লাশের চিত্র অঙ্কিত হয়েছে অতি তীক্ষ্ণভাবেএকজন মৃত মানুষের পাশ দিয়ে সবাই হেঁটে যাচ্ছেকেউ থামছে না, কেউ দেখছে নাএই সমাজের উদাসীনতা, মানবিকতার মৃত্যুএটাই 'লাশ' কবিতার মূল বিষয়

শুধু শরীরের লাশ নয়মানবতার লাশ, সহমর্মিতার লাশযে সমাজে মানুষ না খেয়ে মরে আর পাশের মানুষ উদাসীন থাকেসেই সমাজের হৃদয়ও মৃত

এই কবিতা লিখেই ফররুখ আহমদ সাহিত্যজগতে প্রথম খ্যাতি পান

লাশ কবিতা = দুর্ভিক্ষের মর্মান্তিক চিত্র + সমাজের উদাসীনতার বিরুদ্ধে প্রতিবাদ

ডাহুকপ্রকৃতিবিরহের কবিতা

কবিতার ভাবার্থ:

ডাহুক একটি জলের পাখিরাতের বেলা একাকী ডাকেতার ডাক রোমান্টিক বিষণ্নতায় ভরাকবিতায় এই পাখির একাকী রাতের ডাকের মধ্য দিয়ে মানুষের অপেক্ষাবিরহের অনুভূতি প্রকাশ পেয়েছে

ডাহুকের ডাক যেন বলছেকে আছো, কোথায় আছো? আমি একারাত অনেক গভীরকেউ কি শুনছ আমার ডাক?

'সাত সাগরের মাঝি' গ্রন্থের সবচেয়ে রোমান্টিককোমল কবিতা এটিঅন্য কবিতাগুলোর তেজস্বী ভাষার বিপরীতে ডাহুক কবিতায় আছে কোমলতাবিষণ্নতা

সিন্দাবাদআরব্য বীরের কবিতা

চরিত্র পরিচয়:

সিন্দাবাদ আরব্য রজনীর বিখ্যাত নাবিকসাত সমুদ্র পার হওয়া এই বীরের কাহিনি পৃথিবীজুড়ে পরিচিতপ্রতিটি সমুদ্রযাত্রায় সে ভয়ংকর বিপদের মুখে পড়ে, কিন্তু সাহসবুদ্ধি দিয়ে উতরে যায়

কবিতার ভাবার্থ:

ফররুখ সিন্দাবাদকে প্রতীক হিসেবে ব্যবহার করেছেনসিন্দাবাদের মতো মুসলিম জাতিও একসময় সাহসী ছিল, সমুদ্রজয়ী ছিলতারা জ্ঞান-বিজ্ঞান, শিল্প-সংস্কৃতিতে দুনিয়াকে নেতৃত্ব দিয়েছে

কিন্তু আজ সেই জাতি অলস, পিছিয়ে পড়াকবি বলছেনসিন্দাবাদের ঐতিহ্য মনে করো, আবার জেগে ওঠোআবার পাল তোলো সাত সমুদ্রে

শাহরিয়াররাজার প্রতিকৃতি

শাহরিয়ার আরব্য রজনীর রাজাযিনি প্রতিদিন রাতে নতুন গল্প শুনতেন শেহেরজাদের কাছ থেকেএই কবিতায় শাহরিয়ারকে প্রতীকী চরিত্র হিসেবে ব্যবহার করে ইসলামি সভ্যতার গৌরবময় অতীতের ছবি আঁকা হয়েছে

আকাশ নাবিকস্বপ্নের পাখা

আকাশ নাবিক কবিতায় এক অদৃশ্য নাবিকের কথাযে আকাশে পাল তুলে উড়ে বেড়ায়এটি স্বপ্নআদর্শের প্রতীকমানুষ যখন মাটিতে আটকে থাকে, তখনও তার স্বপ্ন আকাশে উড়তে পারে

বন্দরে সন্ধ্যাদিন শেষের মেলোড্রামা

বন্দরে সন্ধ্যা নামছেজাহাজগুলো ফিরে আসছে সমুদ্র থেকেদিনের কাজ শেষে বিশ্রাম নিচ্ছে নাবিকরাএই শান্ত সন্ধ্যার দৃশ্যকে কেন্দ্র করে কবি বলেছেনদিনের শেষে ঘরে ফেরা, বিশ্রাম নেওয়াএটাই জীবনের ছন্দ

কবিতার নাম

বিষয়বস্তুবিশেষত্ব

পাঞ্জেরী

মুসলিম জাতির পুনর্জাগরণের আহ্বানসবচেয়ে বিখ্যাত

লাশ

দুর্ভিক্ষের করুণ চিত্রএই কবিতায় প্রথম খ্যাতি

ডাহুক

প্রকৃতিবিরহসবচেয়ে রোমান্টিক কবিতা

সিন্দাবাদ

আরব্য নাবিকের প্রতীকে জাতির জাগরণ

শাহরিয়ার

ইসলামি সভ্যতার গৌরবময় অতীত

আকাশ নাবিক

স্বপ্নআদর্শের প্রতীকী কবিতা

বন্দরে সন্ধ্যা

সমুদ্রজীবনের সন্ধ্যাচিত্র

দরিয়ায়

সমুদ্রের মহিমানাবিকের সাহস

হে নিশানবাহী

পতাকাবাহকের প্রতি আহ্বান

তুফান

ঝড়ের মাঝে সাহসিকতার গান

দরিয়ার শেষ রাত্রি

রাত শেষে ভোরের প্রতীক্ষা

সাত সাগরের মাঝি

কাব্যগ্রন্থের নামকবিতাসামগ্রিক থিম

স্বর্ণমঙ্গল

সোনালি ভবিষ্যতের স্বপ্ন

নিশান

পতাকাস্বাধীনতার প্রতীক

সিরাজাম মুনীরা

সিরাজাম মুনীরা (১৯৫২) — দ্বিতীয় কাব্যগ্রন্থ

নামের অর্থগুরুত্ব

'সিরাজাম মুনীরা' একটি আরবি বিশেষণঅর্থ হলো 'প্রদীপ্ত প্রদীপ'। এটি পবিত্র কোরআনে হযরত মুহাম্মদ (স.)-কে দেওয়া বিশেষণ — 'ওয়া দাআইয়ান ইলাল্লাহি বিইযনিহি ওয়া সিরাজাম মুনীরা' (আল-আহযাব: ৪৬)। অর্থানবীজি হলেন আলো দানকারী প্রদীপ্ত প্রদীপ

এই নামটি বেছে নেওয়ার মধ্য দিয়েই ফররুখ আহমদ বলে দিয়েছেনএই কাব্যগ্রন্থ ইসলামের আলোতে উদ্ভাসিত

কাব্যগ্রন্থের সম্পূর্ণ ভাবার্থ

'সিরাজাম মুনীরা' কাব্যগ্রন্থে ফররুখ আহমদ ইসলামের শাশ্বত আলোর কথা বলেছেনদুনিয়ার তামাম অন্ধকারপাপ, শোষণ, অবিচারএসবের বিপরীতে ইসলামের প্রদীপ্ত আলো

এই কাব্যগ্রন্থে আরবিফারসি শব্দের প্রয়োগ সবচেয়ে বেশিইসলামি ইতিহাসের বিভিন্ন মহান ব্যক্তিত্বনবী, সাহাবা, আউলিয়াতাঁদের জীবনআদর্শ কবিতার বিষয় হয়ে উঠেছে

কাব্যগ্রন্থটি ১৯৫২ সালে প্রকাশিতভাষা আন্দোলনের সেই বছরেই প্রকাশিত এই গ্রন্থটি বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণকারণ ফররুখ আহমদ ভাষা আন্দোলনের পক্ষে ছিলেন

আলো যার নাম সিরাজাম মুনীরা, / দুনিয়াকে করে আলোকিত ফিরা।”

সিরাজাম মুনীরা = প্রদীপ্ত প্রদীপনবীজির কোরআনিক বিশেষণদ্বিতীয় কাব্যগ্রন্থ

সিরাজাম মুনীরা আরবি শব্দকোরআনের সূরা আল-আহযাবের বিশেষণ

নৌফেলহাতেম / হাতেমতায়ী

নৌফেলহাতেম (১৯৬১) — তৃতীয় কাব্যগ্রন্থ

চরিত্র পরিচয়

হাতেম তায়ীইসলামপূর্ব যুগের আরবের সবচেয়ে বিখ্যাত দানশীল মানুষইয়েমেনের তায়ী গোত্রের এই ব্যক্তি দানের জন্য এতটাই বিখ্যাত যে 'হাতেমতায়ী' শব্দটি দানশীলতার প্রতিশব্দ হয়ে গেছে

নৌফেলহাতেমের সমসাময়িক একজন চরিত্রদুজনের মধ্যে কখনো প্রতিযোগিতা, কখনো বন্ধুত্ব

কাব্যগ্রন্থের সম্পূর্ণ ভাবার্থ

এই কাব্যগ্রন্থে দুটি চরিত্রের মাধ্যমে ফররুখ বলেছেনআরব সংস্কৃতির মহত্তম গুণ হলো উদারতাদানশীলতাহাতেমের দানের কাহিনি যেন মুসলিম জাতির মূল্যবোধের প্রতীক

কবিতাগুলোতে আরব মরুভূমির প্রাকৃতিক পরিবেশ জীবন্ত হয়ে উঠেছেঘোড়ার ছুটে যাওয়া, মরুর বালিঝড়, তাঁবুর আলো, মেহমানদারিএই সব অনুষঙ্গ কবিতাকে দিয়েছে বিশেষ রঙ

হাতেমতায়ী (১৯৬৬) — কাহিনিকাব্য

কাহিনিচরিত্র

'হাতেমতায়ী' ফররুখ আহমদের একটি কাহিনিকাব্যআরবের ঐতিহাসিক দানবীর হাতেম তায়ীর জীবনকে ভিত্তি করে রচিত

প্রধান চরিত্রসমূহ:

হাতেম তায়ীকেন্দ্রীয় চরিত্রআরবের দানবীরমানবতার প্রতীক

হুসনা বানুকাব্যের একটি গুরুত্বপূর্ণ নারী চরিত্রমানুষের সততায় বিশ্বাস হারিয়েছেন

নৌফেলহাতেমের বিপরীত চরিত্রসংকীর্ণমনা

সম্পূর্ণ কাহিনি

হাতেম তায়ী আরবের মরুভূমিতে বাস করেনতার বাড়িতে প্রতিদিন অতিথি আসে, হাতেম সবাইকে আদর করে খাওয়ানতার কাছে কেউ খালি হাতে যায় না

এই কাহিনিকাব্যে একটি প্রেমের উপাদানও আছেহুসনা বানু একজন রাজকন্যা বা অভিজাত নারীহাতেমের সাথে তার পরিচয় হয়হুসনা বানু মানুষের সততাউদারতায় বিশ্বাস হারিয়েছেনতাঁর মতে মানুষ স্বার্থান্ধ

কিন্তু হাতেমকে দেখে তিনি বিস্মিত হনহাতেমের উদারতা, নিঃস্বার্থতা, মানবপ্রেমএসব দেখে হুসনার মানুষের প্রতি বিশ্বাস ফিরে আসে

কাব্যটির শেষ পরিণতি মিলনে না গেলেও এটি মানবতার জয়গানহাতেম প্রমাণ করেনমানুষ পশু নয়, মানুষ হতে পারে মহৎ।

মানুষের সততায় হারায়েছি আমি যে বিশ্বাস। — হুসনা বানু

হাতেমতায়ী = দান + মানবতা + হারানো বিশ্বাসের পুনরুদ্ধার

হাতেমতায়ী কাহিনিকাব্যউপন্যাস বা নাটক নয়

মুহূর্তের কবিতাঅন্যান্য কাব্যগ্রন্থ

মুহূর্তের কবিতা (১৯৬৩) ★

কাব্যগ্রন্থের বিস্তারিত ভাবার্থ

'মুহূর্তের কবিতা' — এই নামটিই বলে দেয় এই কাব্যগ্রন্থের বিশেষত্বজীবনের প্রতিটি মুহূর্ত থেকে কুড়িয়ে নেওয়া অনুভূতি, প্রতিটি ক্ষণের আবেগ

এই কাব্যগ্রন্থে ফররুখ আহমদ তাঁর ব্যক্তিগত জীবনের নানা অভিজ্ঞতাকে কবিতায় রূপ দিয়েছেনআগের কাব্যগ্রন্থগুলোতে যে ঐতিহাসিক-পৌরাণিক প্রেক্ষাপট ছিল, এখানে সেটা কমবরং আছে ব্যক্তিগত আবেগচিন্তার প্রকাশ

এই গ্রন্থে সনেটের সংখ্যাও বেশিফররুখের সনেট রচনার দক্ষতা এই গ্রন্থে পরিপূর্ণভাবে প্রকাশ পেয়েছে

ধোলাই কাব্য (জানুয়ারি ১৯৬৩) — ব্যঙ্গকবিতা

কাব্যগ্রন্থের বিস্তারিত

'ধোলাই কাব্য' ফররুখ আহমদের ব্যঙ্গকবিতার সংকলন। 'ধোলাই' শব্দটি মারধর বা শাস্তির রূপকযাঁরা সমাজে অন্যায় করছেন, তাঁদের ব্যঙ্গের মাধ্যমে 'ধোলাই' দেওয়া

এই কাব্যগ্রন্থে রাজনৈতিক নেতাদের দুর্নীতি, ধর্মব্যবসা, সামাজিক অসংগতিএই সব বিষয়ে তীক্ষ্ণ ব্যঙ্গ আছেফররুখ দেখান যে সমাজের 'বড়' মানুষরাই আসলে সবচেয়ে ছোট

বাংলা ব্যঙ্গকবিতার ধারায় এটি একটি উল্লেখযোগ্য সংযোজন

হাবেদা মরুর কাহিনী (১৯৮১) — মরণোত্তর

কাব্যগ্রন্থের বিস্তারিত

এই কাব্যগ্রন্থ ফররুখ আহমদের মৃত্যুর পর ১৯৮১ সালে প্রকাশিত হয়। 'হাবেদা' হলো আরবি শব্দউপাসনাকারিণী নারী

কাব্যগ্রন্থটি আরবের মরুভূমির পটভূমিতে রচিতএক পুণ্যবতী নারীর জীবনের কাহিনিযিনি মরুর কঠিন পরিবেশেও ঈমানআদর্শ ধরে রেখেছেন

এটি ফররুখ আহমদের সবচেয়ে আধ্যাত্মিক কাব্যগ্রন্থজীবনের শেষ পর্যায়ের রচনায় কবির গভীর ধর্মীয় অনুভূতি প্রতিফলিত

হাবেদা মরুর কাহিনী = মরণোত্তর প্রকাশিত (১৯৮১) + আধ্যাত্মিক ভাবনার শেষ কাব্য

হাবেদা মরুর কাহিনী মরণোত্তর প্রকাশিত — ১৯৮১ সালে

হে বন্য স্বপ্নেরাপ্রথম দিকের কবিতা

'হে বন্য স্বপ্নেরা' ফররুখ আহমদের প্রাথমিক পর্বের কবিতার সংকলনএই কবিতাগুলো 'সাত সাগরের মাঝি'-র আগে লেখা

বিখ্যাত সাহিত্যিক জিল্লুর রহমান সিদ্দিকী এই গ্রন্থের ভূমিকায় লিখেছেন — 'ফররুখ আহমদ যে একজন অসামান্য কবিবিষয়ে অনেকের মতো আমিও নিঃসন্দেহ।'

প্রথমত সেই কবিকে অবশ্যই একজন অসামান্য কবি হতে হবে... ফররুখ আহমদ যে একজন অসামান্য কবিবিষয়ে নিঃসন্দেহ। — জিল্লুর রহমান সিদ্দিকী

শিশুসাহিত্য

পাখির বাসা (১৯৬৫) — শিশু কাব্যগ্রন্থ

গ্রন্থের বিস্তারিত ভাবার্থ

'পাখির বাসা' ফররুখ আহমদের সবচেয়ে বিখ্যাত শিশু কাব্যগ্রন্থঢাকা বেতারে 'ছোটদের খেলাঘর' পরিচালনার অভিজ্ঞতা থেকে তিনি শিশুমনের গভীরে প্রবেশ করতে পারতেন

এই গ্রন্থের কবিতাগুলো পাখির জীবন, তাদের বাসা তৈরি, তাদের গানএই সব নিয়েকিন্তু পাখির কাহিনির আড়ালে আছে শিশুর মন, তার স্বপ্ন, তার কল্পনার জগৎ।

প্রতিটি কবিতা সহজ ভাষায় লেখাছন্দমিলে সমৃদ্ধশিশুরা পড়তে পড়তে মনে মনে ছবি আঁকতে পারে

হরফের ছড়া (১৯৭০) — বর্ণমালা শিক্ষার ছড়া

গ্রন্থের বিস্তারিত

'হরফের ছড়া' — বাংলা হরফ শেখার জন্য বিশেষভাবে রচিত ছড়া সংকলনবাংলা বর্ণমালার প্রতিটি হরফকে কেন্দ্র করে একটি করে মজার ছড়া

'অ' দিয়ে অতসী — 'আ' দিয়ে আমএইভাবে প্রতিটি বর্ণের সাথে পরিচিত শব্দমজার ছবি দিয়ে শিশুরা সহজে বর্ণমালা শিখতে পারে

এই গ্রন্থটি শিশু শিক্ষায় ফররুখ আহমদের বিশেষ অবদানছড়ার মাধ্যমে শিক্ষাএই পদ্ধতি শিশুদের কাছে বর্ণমালাকে আনন্দময় করে তোলে

ছড়ার আসর (১৯৭০) — শিশু ছড়া সংকলন

গ্রন্থের বিস্তারিত

'ছড়ার আসর' ফররুখ আহমদের আরেকটি শিশু ছড়া সংকলনবিভিন্ন বিষয়ে বিভিন্ন ধরনের ছড়া

এই গ্রন্থে প্রকৃতি, প্রাণী, উৎসব, ঋতুনানা বিষয়ে ছড়া আছেপ্রতিটি ছড়া শিশুর কল্পনাকে উদ্দীপিত করে

ফররুখ আহমদ বিশ্বাস করতেনশিশুকাল থেকে সাহিত্যের সাথে পরিচয় হলে মানুষ পরিপূর্ণ মানুষ হয়

শিশু গ্রন্থ

প্রকাশকালবিষয়

পাখির বাসা

১৯৬৫ — পাখির জীবনপ্রকৃতি নিয়ে শিশু কাব্য

হরফের ছড়া

১৯৭০ — বাংলা বর্ণমালা শিক্ষার ছড়া

ছড়ার আসর

১৯৭০ — বিভিন্ন বিষয়ের শিশু ছড়া সংকলন

বিখ্যাত কবিতা

পাঞ্জেরীসম্পূর্ণ বিশ্লেষণ (বিস্তারিত) ★

পাঞ্জেরী কবিতাটি বাংলা সাহিত্যের সবচেয়ে শক্তিশালী জাতিসত্তামূলক কবিতাগুলোর একটিপুরো কবিতাটিকে ভাগ করা যায় কয়েকটি অংশে:

প্রথম অংশপ্রশ্ন

কবিতার শুরুতে একটি সরল কিন্তু গভীর প্রশ্ন — 'রাত পোহাবার কত দেরী পাঞ্জেরী?' এই প্রশ্নে আছে একটি জাতির হাজার বছরের যন্ত্রণামুসলিম জাতি কতকাল অপেক্ষা করবে আলোর জন্য?

দ্বিতীয় অংশবর্তমান পরিস্থিতির চিত্র

আসমান ভরা মেঘচারদিক আঁধারপশুর হাওয়ামানুষের মধ্যে পাশবিকতার রাজত্বনাবিকরা দিশাহারাকোনো আলো নেই, কোনো পথ নেই

তৃতীয় অংশমুসলিম পরিচয়ের ঘোষণা

'মোরা মুসলিম দরিয়ার মাঝি' — এই ঘোষণায় কবি বলছেনআমরা ইতিহাসের সাগরের মাঝিআমাদের পূর্বপুরুষেরা সমুদ্রজয় করেছেসেই পরিচয়কে মনে রাখতে হবে

চতুর্থ অংশমওতের না করি ডর

মৃত্যুকে ভয় পাই নাএই সাহসের ঘোষণা পাঞ্জেরী কবিতার সবচেয়ে শক্তিশালী অংশঝড়ে বুক পেতে থাকার সাহস, মৃত্যুকে উপেক্ষা করে এগিয়ে যাওয়ার শপথ

রাত পোহাবার কত দেরী পাঞ্জেরী? / এখনো তোমার আসমান ভরা মেঘে।”

মোরা মুসলিম দরিয়ার মাঝি, মওতের না করি ডর।”

লাশদুর্ভিক্ষের আয়নায় সমাজ

কবিতার সম্পূর্ণ ভাবার্থবিশ্লেষণ:

১৯৪৩ সালের দুর্ভিক্ষ বাংলার ইতিহাসে অন্যতম ভয়াবহব্রিটিশ সরকারের উদাসীনতাযুদ্ধের কারণে বাংলায় ৩০-৪০ লক্ষ মানুষ মারা যায়

'লাশ' কবিতায় কবি এই মৃত্যুমিছিলের একটি খণ্ডচিত্র তুলে ধরেছেনরাস্তায় পড়ে আছে একটি লাশকে এই মানুষ? কোথা থেকে এসেছে? কারো কি পরোয়া আছে?

পথচারীরা লাশের পাশ দিয়ে হেঁটে যাচ্ছেথামছে না, দেখছে না, ভাবছে নাএই দৃশ্যটি আসলে আমাদের সমাজের আত্মার মৃত্যুর চিত্র

কবি প্রশ্ন তোলেনযে সমাজে একটি লাশ পড়ে থাকে আর কেউ তাকায় না, সে সমাজ কি বেঁচে আছে? মানুষের শরীর বেঁচে থাকতে পারে, কিন্তু তার হৃদয় কি মরে যায়নি?

ডাহুকরাতের একাকী পাখির গান

ডাহুক পাখি বাংলাদেশের হাওর-বিল অঞ্চলে পাওয়া যায়এই পাখির বৈশিষ্ট্য হলো সে রাতের বেলা একা একা ডাকে — 'ডাহুক ডাহুক' করেএই ডাক শুনলে মনে হয় কেউ একা কাঁদছে

ফররুখ আহমদ এই পাখির ডাককে মানুষের একাকীত্বের রূপক হিসেবে ব্যবহার করেছেনডাহুকের মতো মানুষও কখনো কখনো একা থাকে, একা কাঁদেকেউ শোনে না

কবিতায় প্রকৃতির বর্ণনা অনুপমরাতের নদী, জলার ধারের গাছপালা, চাঁদের আলোএই নিসর্গের মাঝে ডাহুকের একাকী ডাক

মধুর চেয়েও মধুরভাষার গান

১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলনের সময় ফররুখ আহমদ লিখেছিলেন এই বিখ্যাত গানইসলামি আদর্শের কবি হয়েও তিনি বাংলা ভাষার প্রতি গভীর ভালোবাসা পোষণ করতেন

গানে কবি বলছেনবাংলা ভাষা মধুর চেয়েও মধুরএই ভাষায় মায়ের কণ্ঠস্বর, এই ভাষায় শিশুর হাসি, এই ভাষায় প্রেমের কথা

মধুর চেয়েও মধুর যে ভাই আমার দেশের ভাষা।”

এই গানটি ফররুখের ভাষা-প্রেমের প্রমাণইসলামি কবি হয়েও বাংলার পক্ষে

কাব্যশৈলীভাষার বৈশিষ্ট্য

ফররুখ আহমদের অনন্য কাব্যভাষা

আরবি-ফারসি শব্দের প্রয়োগনৈপুণ্য

ফররুখ আহমদের কবিতার সবচেয়ে আলোচিত বৈশিষ্ট্য হলো বাংলায় আরবিফারসি শব্দের অনায়াস ব্যবহারপাঞ্জেরী, মওত, দরিয়া, সিরাজ, আসমান, মুনীরএই শব্দগুলো তাঁর কবিতায় সম্পূর্ণ স্বাভাবিক মনে হয়

এই শব্দগুলো শুধু সাজসজ্জার জন্য নয়এগুলো মুসলিম সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের বাহকএই শব্দগুলো ব্যবহার করে কবি বলতে চানএই সংস্কৃতি আমাদের, এই ইতিহাস আমাদের

সনেট রচনায় শ্রেষ্ঠত্ব

ফররুখ আহমদ বাংলা কাব্যজগতের সর্বাধিক সনেট রচয়িতাইতালীয়শেক্সপিরিয়ান সনেটের ঐতিহ্য বাংলায় এনে তিনি নতুন মাত্রা যোগ করেছেন

সনেট ১৪ লাইনের একটি বিশেষ ছন্দোবদ্ধ কবিতাপ্রথমলাইনে সমস্যা বা পরিস্থিতি উপস্থাপন, শেষলাইনে সমাধান বা উপসংহার

রোমান্টিকতাবাস্তবতার সমন্বয়

ফররুখ আহমদের কবিতায় একই সাথে আছে রোমান্টিক আবেগ এবং কঠোর বাস্তবতাসিন্দাবাদের রোমান্টিক সাহসিকতা আছে, আবার 'লাশ' কবিতার নির্মম বাস্তবতাও আছে

ছন্দের বৈচিত্র্য

ফররুখ আহমদের কবিতায় ছন্দের বিচিত্র প্রয়োগ দেখা যায়মাত্রাবৃত্ত, স্বরবৃত্ত, অক্ষরবৃত্তবিভিন্ন ছন্দে তিনি সমান দক্ষতায় লিখতে পারেন

আরবি-ফারসি শব্দের অনায়াস প্রয়োগ

আরব্য পুরাণইতিহাসের প্রতীকী ব্যবহার

সনেট রচনায় সর্বোচ্চ দক্ষতা

রোমান্টিকতাবাস্তবতার অনন্য সমন্বয়

মুসলিম পুনর্জাগরণের প্রেরণাদায়ী কাব্য

ছন্দের বৈচিত্র্যশব্দচয়নের স্বাতন্ত্র্য

ব্যঙ্গকবিতায় বিশেষ দক্ষতা

পুরস্কারসম্মাননা

পুরস্কার

সালবিশেষ তথ্য

বাংলা একাডেমি পুরস্কার

১৯৬০

প্রেসিডেন্ট পদক (প্রাইড অব পারফরমেন্স)

১৯৬৫ — পাকিস্তান সরকার

আদমজী সাহিত্য পুরস্কার

১৯৬৬

ইউনেস্কো পুরস্কার

১৯৬৬

একুশে পদক

১৯৭৭ — মরণোত্তর

স্বাধীনতা পদক

১৯৮০ — মরণোত্তর

বাংলা একাডেমি ১৯৬০, একুশে পদক ১৯৭৭ (মরণোত্তর), স্বাধীনতা পদক ১৯৮০ (মরণোত্তর)।

প্রশ্নোত্তর

ফররুখ আহমদের পূর্ণ নাম?

সৈয়দ ফররুখ আহমদ

ফররুখ আহমদের জন্মতারিখ?

১০ জুন ১৯১৮

ফররুখ আহমদের জন্মস্থান?

মাঝআইল গ্রাম, শ্রীপুর, মাগুরা জেলা

ফররুখ আহমদের মৃত্যুতারিখ?

১৯ অক্টোবর ১৯৭৪ (২৭শে রমজান)

ফররুখ আহমদের উপাধি?

মুসলিম রেনেসাঁর কবি

ফররুখ আহমদের পিতার পেশা?

পুলিশ ইন্সপেক্টর

ফররুখ আহমদের পিতার নাম?

সৈয়দ হাতেম আলী

ফররুখ আহমদের মাতার নাম?

বেগম রওশন আখতার

ফররুখ আহমদ কোথায় বিএ পড়েছিলেন?

স্কটিশ চার্চ কলেজ, কলকাতা

ফররুখ আহমদের স্ত্রীর নাম?

সৈয়দা তৈয়বা খাতুন লিলি

ফররুখ আহমদের বিবাহ কত সালে?

১৯৪২ সালের নভেম্বরে

ফররুখের প্রথম কাব্যগ্রন্থ?

সাত সাগরের মাঝি (ডিসেম্বর ১৯৪৪)

সাত সাগরের মাঝির কবিতার রচনাকাল?

১৯৪৩-৪৪ সাল

সাত সাগরের মাঝির বিখ্যাত কবিতা?

পাঞ্জেরী, লাশ, ডাহুক, সিন্দাবাদ

পাঞ্জেরী শব্দের অর্থ?

জাহাজের চালক বা পথপ্রদর্শক

পাঞ্জেরী কবিতার বিখ্যাত লাইন?

রাত পোহাবার কত দেরী পাঞ্জেরী?

'লাশ' কবিতার পটভূমি?

১৯৪৩-৪৪ সালের বাংলার দুর্ভিক্ষ

সিরাজাম মুনীরা অর্থ?

প্রদীপ্ত প্রদীপ

সিরাজাম মুনীরা কোন ভাষার শব্দ?

আরবি (কোরআনের বিশেষণ)

সিরাজাম মুনীরা প্রকাশকাল?

১৯৫২ সালে

নৌফেলহাতেম প্রকাশকাল?

১৯৬১ সালে

হাতেমতায়ী কী?

কাহিনিকাব্য (১৯৬৬)

হাতেমতায়ীর নারী চরিত্র?

হুসনা বানু

মুহূর্তের কবিতা প্রকাশকাল?

সেপ্টেম্বর ১৯৬৩

ধোলাই কাব্য কোন ধরনের রচনা?

ব্যঙ্গকবিতা সংকলন (জানুয়ারি ১৯৬৩)

হাবেদা মরুর কাহিনী কত সালে?

১৯৮১ সালে (মরণোত্তর)

ফররুখের বিখ্যাত শিশু গ্রন্থ?

পাখির বাসা (১৯৬৫)

হরফের ছড়া কত সালে?

১৯৭০ সালে

ছড়ার আসর কত সালে?

১৯৭০ সালে

বাংলায় সর্বাধিক সনেট রচয়িতা?

ফররুখ আহমদ

ফররুখ কোথায় কর্মরত ছিলেন?

ঢাকা বেতার (১৯৪৮-১৯৭২)

ঢাকা বেতারে কোন অনুষ্ঠান করতেন?

ছোটদের খেলাঘর

ফররুখের বাংলা একাডেমি পুরস্কার?

১৯৬০ সালে

একুশে পদক (ফররুখ)?

১৯৭৭ — মরণোত্তর

স্বাধীনতা পদক (ফররুখ)?

১৯৮০ — মরণোত্তর

ফররুখের ভাষার গান?

মধুর চেয়েও মধুর যে ভাই আমার দেশের ভাষা

ফররুখ আহমদ কোথায় সমাহিত?

শাহজাহানপুর, ঢাকা

আহমদ ছফা ফররুখ সম্পর্কে কী বলেছেন?

সমগ্র বাংলা সাহিত্যে এমন শক্তিশালী স্রষ্টা নেই

ফররুখের প্রথম জীবনের আদর্শ?

এম এন রায়ের র‌্যাডিক্যাল মানবতাবাদ

ফররুখ আহমদের আরেকটি বিশেষ পরিচয়?

ভাষা আন্দোলনের সৈনিক

ট্রিকিঅজানা তথ্য

বিসিএসের গভীর সমুদ্র থেকে তুলে আনা বিরল তথ্য

ফররুখ আহমদের পূর্ণ নাম 'সৈয়দ ফররুখ আহমদ' — 'মোহাম্মদ ফররুখ' নয়

সাত সাগরের মাঝি প্রকাশ ডিসেম্বর ১৯৪৪ — ১৯৪৩ বা ১৯৪৫ নয়

ফররুখ প্রথম জীবনে এম এন রায়ের শিষ্য ছিলেনডিরোজিওর শিষ্য নয়

সিরাজাম মুনীরা = আরবি শব্দকোরআনের সূরা আল-আহযাবে নবীজির বিশেষণ

বাংলায় সর্বাধিক সনেট রচয়িতা ফররুখ আহমদএটি বিসিএসে আসে

পাঞ্জেরী = জাহাজের চালক/পথপ্রদর্শক — 'পাঞ্জাবের নাগরিক' নয়

হাতেমতায়ী কাহিনিকাব্যউপন্যাস বা নাটক নয়

হুসনা বানু হাতেমতায়ীর নারী চরিত্রহাতেমতায়ী নিজে নয়

'লাশ' কবিতায় ফররুখ প্রথম খ্যাতি পান — ১৯৪৪ সালে, দুর্ভিক্ষের পটভূমিতে

ফররুখ ২৭শে রমজান মারা যানএটি বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য

ফররুখের একুশেস্বাধীনতা পদক উভয়ই মরণোত্তর

হাবেদা মরুর কাহিনী প্রকাশ ১৯৮১ — মৃত্যুরবছর পর

ফররুখ আহমদের পিতা পুলিশ ইন্সপেক্টর ছিলেনব্যবসায়ী নয়

ফররুখ স্কটিশ চার্চ কলেজে পড়েন কিন্তু পরীক্ষা না দিয়েই কর্মজীবনে

ধোলাই কাব্য ব্যঙ্গকবিতা সংকলনইসলামি কাব্য নয়

ফররুখ আহমদ ১৯৫২-এর ভাষা আন্দোলনে অংশগ্রহণ করেনসমর্থন দেন

আহমদ ছফা বলেছেন — 'সমগ্র বাংলায় ফররুখের মত শক্তিশালী স্রষ্টা নেই।'

ফররুখের বিয়ে হয় ১৯৪২ সালের নভেম্বরেবিয়ে উপলক্ষে 'উপহার' কবিতা লেখেন

ফররুখ আহমদ বাংলার পক্ষে ছিলেনসওগাত পত্রিকায় রাষ্ট্রভাষা বাংলার সমর্থন করেন

ফররুখ আহমদের কবরের জায়গা দেন কবি বেনজীর আহমদ

চূড়ান্ত সারসংক্ষেপ

এক পলকে ফররুখ আহমদ

বিষয়

উত্তর

পূর্ণ নাম

সৈয়দ ফররুখ আহমদ

জন্ম

১০ জুন ১৯১৮, মাঝআইল, মাগুরা

মৃত্যু

১৯ অক্টোবর ১৯৭৪ (২৭শে রমজান)

পিতা

সৈয়দ হাতেম আলী (পুলিশ ইন্সপেক্টর)

উপাধি

মুসলিম রেনেসাঁর কবি

প্রথম কাব্যগ্রন্থ

সাত সাগরের মাঝি (ডিসেম্বর ১৯৪৪)

বিখ্যাত কবিতা

পাঞ্জেরী (রাত পোহাবার কত দেরী)

প্রথম খ্যাতি

লাশ কবিতায় (১৯৪৪, দুর্ভিক্ষ পটভূমি)

দ্বিতীয় কাব্যগ্রন্থ

সিরাজাম মুনীরা (১৯৫২) = প্রদীপ্ত প্রদীপ

তৃতীয় কাব্যগ্রন্থ

নৌফেলহাতেম (১৯৬১)

কাহিনিকাব্য

হাতেমতায়ী (১৯৬৬), নারী চরিত্র: হুসনা বানু

ব্যঙ্গকাব্য

ধোলাই কাব্য (১৯৬৩)

মরণোত্তর কাব্য

হাবেদা মরুর কাহিনী (১৯৮১)

শিশু গ্রন্থ

পাখির বাসা (১৯৬৫), হরফের ছড়া (১৯৭০), ছড়ার আসর (১৯৭০)

সনেট রচনায়

বাংলায় সর্বাধিক সনেট রচয়িতা

কর্মস্থান

ঢাকা বেতার (১৯৪৮-১৯৭২), 'ছোটদের খেলাঘর'

ভাষার গান

মধুর চেয়েও মধুর যে ভাই আমার দেশের ভাষা

বাংলা একাডেমি

১৯৬০

একুশে পদক

১৯৭৭ — মরণোত্তর

স্বাধীনতা পদক

১৯৮০ — মরণোত্তর

কবরস্থান

শাহজাহানপুর, ঢাকা

Review this chapter

You Can Also Read

Chapters closely related to the one you are reading now.

প্রাচীন যুগ

No reviews
0 students
Read chapter

ফোর্ট উইলিয়াম কলেজ

No reviews
0 students
Read chapter

বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়

No reviews
0 students
Read chapter

প্যারীচাঁদ মিত্র

No reviews
0 students
Read chapter

বাংলা একাডেমি ও পুরস্কার

No reviews
0 students
Read chapter

Most Read by Students

Popular picks getting the strongest student traffic right now.

অসহযোগ আন্দোলন (মার্চ ১৯৭১)

No reviews
1 student
Read chapter

নদী, সেতু, পাহাড়, দ্বীপ, বন, সমুদ্রবন্দর

No reviews
1 student
Read chapter

বাংলা ভাষার রীতি

No reviews
1 student
Read chapter

Others Who Read This Also Read

Behavior-based suggestions from student reading patterns where available.

প্রাচীন যুগ

No reviews
0 students
Read chapter

ফোর্ট উইলিয়াম কলেজ

No reviews
0 students
Read chapter

বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়

No reviews
0 students
Read chapter

প্যারীচাঁদ মিত্র

No reviews
0 students
Read chapter

বাংলা একাডেমি ও পুরস্কার

No reviews
0 students
Read chapter

Best Reviewed

Chapters earning the strongest student feedback.

প্রাচীন যুগ

No reviews
0 students
Read chapter

ফোর্ট উইলিয়াম কলেজ

No reviews
0 students
Read chapter

বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়

No reviews
0 students
Read chapter

প্যারীচাঁদ মিত্র

No reviews
0 students
Read chapter

বাংলা একাডেমি ও পুরস্কার

No reviews
0 students
Read chapter

Course Suggestions

Want a more guided path after this chapter? These courses are the closest fit.

Browse all courses
Learner fit৳1,999

Bangla

Bangla Language Mastery

Popular with BCS learners who want guided study.

6 lessons8.5h4.9 (186)1.3K students

By Sadia Rahman

View course
Learner fit৳2,999

Platform Building

Teacher Marketplace Blueprint

Popular with BCS learners who want guided study.

5 lessons6.8h4.9 (28)410 students

By Sadia Rahman

View course
FreeFree

English

Admission English Playbook

Free guided course with lessons you can jump into anytime.

4 lessons4.2h4.8 (91)2.8K students

By Rayan Akter

View course