প্রাচীন যুগ

Chapter Activity

Rating
New / 5
Reviews
0
Read Sessions
0
Readers
0

বাংলা সাহিত্য

───────────────────────────

প্রাচীন যুগ

(৬৫০ – ১২০০ খ্রিস্টাব্দ)

───────────────────────────

বাংলা সাহিত্যের যুগবিভাগ

বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস রচনায় পণ্ডিতগণ বিভিন্নভাবে যুগবিভাগ করেছেনসাধারণত তিনটি প্রধান যুগে বাংলা সাহিত্যকে ভাগ করা হয়

যুগ

সময়কাল

প্রধান সাহিত্য

বিশেষ টীকা

প্রাচীন যুগ

৬৫০ – ১২০০ খ্রি.

চর্যাপদ

বৌদ্ধ সহজিয়া মত

মধ্যযুগ

১২০১ – ১৮০০ খ্রি.

মঙ্গলকাব্য, বৈষ্ণব পদাবলী

অন্ধকার যুগ সহ

আধুনিক যুগ

১৮০১ খ্রি. – বর্তমান

উপন্যাস, নাটক, প্রবন্ধ

বাংলা গদ্যের বিকাশ

গুরুত্বপূর্ণ সতর্কতা

ডক্টর মুহম্মদ শহীদুল্লাহর মতে প্রাচীন যুগের সময়কাল: ৬৫০ – ১২০০ খ্রিস্টাব্দ

ডক্টর সুনীতিকুমার চট্টোপাধ্যায়ের মতে বাংলা ভাষার উদ্ভব: ৯০০ – ১০০০ খ্রিস্টাব্দের মধ্যে

ড. সুকুমার সেনের মতে বাংলা সাহিত্যের সূচনাকাল: আনুমানিক ৯৫০ খ্রিস্টাব্দ

অন্ধকার যুগ: ১২০১ – ১৩৫০ খ্রি. পর্যন্ত (মধ্যযুগের প্রথম অংশ)।

প্রাচীন যুগের পরিচিতি

ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট

প্রাচীন যুগে বঙ্গদেশে পাল রাজবংশের শাসন ছিল (৭৫০ – ১১৫০ খ্রি. প্রায়)। এই যুগে বৌদ্ধ ধর্মের বজ্রযানসহজিয়া মতবাদ ব্যাপকভাবে বিস্তৃত হয়েছিলবাংলাদেশের বিভিন্ন অঞ্চলে বৌদ্ধ সিদ্ধাচার্যরা গুরু-শিষ্য পরম্পরায় গূঢ় সাধনতত্ত্ব প্রচার করতেনতাঁদের সাধনার গানই হলো চর্যাপদবাংলা সাহিত্যের প্রথম নিদর্শন

পাল রাজারা বৌদ্ধ ধর্মের পৃষ্ঠপোষক ছিলেনতাঁদের রাজত্বকালে বিক্রমশীলা, নালন্দা, সোমপুরওদন্তপুরী মহাবিহার সমৃদ্ধ হয়েছিলএই পরিবেশে বৌদ্ধ সিদ্ধাচার্যরা তাঁদের তান্ত্রিক সাধনতত্ত্বকে গানের আকারে প্রকাশ করেছিলেন, যা পরবর্তীতে 'চর্যাচর্যবিনিশ্চয়' নামে সংকলিত হয়

প্রাচীন যুগের সংক্ষিপ্ত পরিচয়

সময়কাল: ৬৫০ – ১২০০ খ্রিস্টাব্দ (প্রায় ৫৫০ বছর)

শাসক: পাল রাজবংশ (পরবর্তীতে সেন রাজারা)

ধর্ম: বজ্রযানসহজিয়া বৌদ্ধধর্ম

সাহিত্য: চর্যাপদ (একমাত্র নিদর্শন)

ভাষা: প্রাচীন বাংলা (সন্ধ্যা/আলো-আঁধারি ভাষা)

সাহিত্যরীতি: গীতিকবিতা / পদ

রচনাকারী: বৌদ্ধ সিদ্ধাচার্যগণ

আবিষ্কারক: মহামহোপাধ্যায় হরপ্রসাদ শাস্ত্রী (১৯০৭ সালে)

চর্যাপদবাংলা সাহিত্যের আদি নিদর্শন

চর্যাপদের বিভিন্ন নামসংখ্যাতত্ত্ব

নাম / বিষয়

বিবরণ

চর্যাচর্যবিনিশ্চয়

পুঁথির মূল নাম / পণ্ডিত হরপ্রসাদ শাস্ত্রী প্রদত্ত

চর্যাগীতিকোষ

ড. প্রবোধচন্দ্র বাগচী প্রদত্ত নাম

চর্যাপদ

বর্তমানে সর্বাধিক প্রচলিত নাম

চর্যাগীত

ড. সুনীতিকুমার চট্টোপাধ্যায়ের ব্যবহৃত নাম

আহ্নিক পদ

মুনিদত্ত রচিত টীকায় ব্যবহৃত নাম

মোট পদসংখ্যা

সাড়ে ছেচল্লিশটি (৪৬½টি) — একটি পদের অর্ধেক পাওয়া গেছে

পদকর্তার সংখ্যা

২৩ জন সিদ্ধাচার্য

ভাষা

প্রাচীন বাংলা (পণ্ডিতদের মতে)

ছন্দ

দোহা (অনুষ্টুপ জাতীয়)

ট্রিকি তথ্যচর্যাপদের নামকরণ

চর্যাপদের নাম 'চর্যাচর্যবিনিশ্চয়' কারণ: চর্য (আচরণীয়) + অচর্য (অনাচরণীয়) + বিনিশ্চয় (নির্ণয়)।

পদের সংখ্যা 'সাড়ে ছেচল্লিশ' — এটি একটি স্বতন্ত্র পরীক্ষা প্রশ্ন। ৪৭টি নয়, সঠিক উত্তর ৪৬½।

২৩ জন পদকর্তার মধ্যে সর্বাধিক পদ রচনা করেছেন কাহ্নপা (কাহ্নু/কৃষ্ণপাদ) — ১৩টি পদ

'চর্যাগীতিকোষ' নামটি দিয়েছেন প্রবোধচন্দ্র বাগচীঅনেকে ভুলে শাস্ত্রীর নাম বলেন

চর্যাপদ আবিষ্কারের ইতিহাস

হরপ্রসাদ শাস্ত্রীনেপাল অভিযান

বাংলা সাহিত্যের ইতিহাসে চর্যাপদের আবিষ্কার একটি যুগান্তকারী ঘটনামহামহোপাধ্যায় হরপ্রসাদ শাস্ত্রী (১৮৫৩–১৯৩১) বাংলার হারিয়ে যাওয়া প্রাচীন সাহিত্যের সন্ধানে নেপালের রাজদরবারের গ্রন্থাগারে পুরনো পুঁথি খুঁজে বের করতেনতিনি মোট চারবার নেপালে যান

আবিষ্কারের কালানুক্রমএকটি অনুসন্ধানের গল্প

১৮৭৭ সালে হরপ্রসাদ শাস্ত্রী প্রথমবার নেপাল সফর করেন এবং কিছু পুঁথির সন্ধান পানতিনি অনুভব করেন যে এখানে আরও অনেক মূল্যবান নিদর্শন লুকিয়ে আছে

১৮৯৭ সালে দ্বিতীয়বার নেপাল গিয়ে তিনি বৌদ্ধ গ্রন্থের বেশ কিছু পুঁথি সংগ্রহ করেন

১৯০৭ সালে তৃতীয়সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সফরে তিনি নেপালের রাজদরবারের গ্রন্থাগার থেকে চারটি মূল্যবান পুঁথি সংগ্রহ করেনএই সফরেই তিনি 'চর্যাচর্যবিনিশ্চয়', 'সরহপাদের দোহাকোষ', 'কৃষ্ণাচার্যের দোহাকোষ' ও 'ডাকার্ণব' পুঁথিগুলি খুঁজে পানএটি বাংলা সাহিত্যের ইতিহাসের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ আবিষ্কার

১৯১৬ সালে বঙ্গীয় সাহিত্য পরিষদ থেকে 'হাজার বছরের পুরান বাঙ্গালা ভাষায় বৌদ্ধ গানদোহা' শিরোনামে চার বছর সম্পাদনা করে গ্রন্থটি প্রকাশ করেন

হরপ্রসাদ শাস্ত্রী সম্পর্কিত গুরুত্বপূর্ণ তথ্য

পুরো নাম: হরপ্রসাদ ভট্টাচার্য। 'শাস্ত্রী' উপাধি পরে যুক্ত হয়

জন্ম: ৬ ডিসেম্বর ১৮৫৩, নৈহাটি (উত্তর চব্বিশ পরগনা)।

মৃত্যু: ১৭ নভেম্বর ১৯৩১।

প্রকাশিত গ্রন্থের পূর্ণ নাম: 'হাজার বছরের পুরান বাঙ্গালা ভাষায় বৌদ্ধ গানদোহা' (১৯১৬)।

প্রকাশক: বঙ্গীয় সাহিত্য পরিষদ, কলকাতা

তিনি মোট চারবার নেপালে যান — ১৮৭৭, ১৮৯৭, ১৯০৭ এবং ১৯২৩ সালে

উপাধি: 'মহামহোপাধ্যায়' — বাংলার পণ্ডিতদের সর্বোচ্চ উপাধি

চর্যাপদের পদকর্তাগণ

চর্যাপদে মোট ২৩ জন সিদ্ধাচার্যের রচিত পদ পাওয়া গেছেএঁরা সবাই বৌদ্ধ সহজিয়া সম্প্রদায়ের গুরু বা সিদ্ধপুরুষতাঁদের অনেকে ৮৪ জন মহাসিদ্ধের তালিকায় স্থান পেয়েছেন

ক্রম

পদকর্তা

পদসংখ্যা

বিশেষ তথ্য

কাহ্নপা (কাহ্নু/কৃষ্ণপাদ)

১৩টি

সর্বাধিক পদরচয়িতা; সর্বোচ্চ পদসংখ্যা

ভুসুকুপা (ভুসুকু)

৮টি

দ্বিতীয় সর্বাধিক; শান্তিদেব বলে মত আছে

সরহপা (সরহ)

৪টি

আদি সিদ্ধ; দোহাকোষের রচয়িতা

শবরপা (শবর)

৪টি

শিকারি বেশে সাধনা করতেন

লুইপা

২টি

সর্বপ্রথম পদকর্তা; ১ম পদটি লুইপার

কুক্কুরীপা

২টি

কুক্কুর অর্থ কুকুর; ব্যতিক্রমী পদকর্তা

চাটিলপা

১টি

ভাদেপা

১টি

তাড়কপা

১টি

১০

কম্বলাম্বরপা

১টি

১১

ডোম্বিপা

২টি

ডোম জাতির সাধক

১২

মহিত্তাপা

১টি

১৩

বীণাপা

১টি

বীণাবাদক সাধক

১৪

সান্তিপা

১টি

১৫

আজদেবপা

১টি

১৬

ঢেণ্ঢণপা

১টি

বাংলাদেশি সাধক বলে মত

১৭

দারিকপা

১টি

১৮

ভোটপা

১টি

১৯

তন্তীপা

১টি

তাঁতি; শ্রমজীবী সাধক

২০

লাড়ীডোম্বিপা

১টি

২১

কঙ্কণপা

১টি

২২

জয়নন্দিপা

১টি

২৩

ধামপা

১টি (অর্ধ)

অসম্পূর্ণ পদ

পদকর্তা বিষয়ক ট্রিকি তথ্য

প্রথম পদটি লুইপারএটি চর্যাপদের ১নং পদলুইপাকে আদি সিদ্ধ বলা হয়

কাহ্নপার অন্য নাম কৃষ্ণপাদ, কানুপা, কাহ্নুপাসবই একই ব্যক্তি

ভুসুকুপার পরিচয় বিতর্কিতকেউ বলেন তিনি শান্তিদেব (বৌদ্ধ দার্শনিক)।

সরহপা = সরহ = সরোজবজ্রতিনটি নামেই পরিচিত

শবরপার পদে বনের প্রতীকী চিত্র বেশি — 'শবর' মানে শিকারি

তন্তীপা = তাঁতিচর্যাপদে শ্রমজীবী পদকর্তার উপস্থিতি সমাজচিত্র সম্পর্কে প্রমাণ দেয়

২৩ জন পদকর্তা হলেও কারও কারও পদ একাধিক বার দেখা যায়

চর্যাপদের ভাষাবিতর্কমতবাদ

চর্যাপদ কোন ভাষায় রচিত তা নিয়ে বিদ্বানদের মধ্যে বহুকাল ধরে বিতর্ক চলে আসছেএই বিতর্কটি বাংলা ভাষার উদ্ভবপরিচয় সংক্রান্ত একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নের সাথে সম্পৃক্ত

পণ্ডিত

মত

যুক্তি

ড. সুনীতিকুমার চট্টোপাধ্যায়

প্রাচীন বাংলা ভাষা

ধ্বনিতাত্ত্বিকব্যাকরণগত বিশ্লেষণে বাংলার প্রাচীন রূপ

ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ

প্রাচীন বাংলা ভাষা

বাংলা ভাষার ব্যাকরণশব্দভাণ্ডার বিশ্লেষণ

ড. সুকুমার সেন

পুরানো বাংলা

এটিই বাংলা সাহিত্যের আদি নিদর্শন

জয়চন্দ্র সরকার

অপভ্রংশ ভাষা

সংস্কৃত থেকে বিবর্তিত অপভ্রংশের রূপ

রাহুল সাংকৃত্যায়ন

হিন্দি ভাষার আদি রূপ

হিন্দি সাহিত্যের প্রথম নমুনা দাবি

শশিভূষণ দাশগুপ্ত

প্রাচীন বাংলা

বাংলার আদি রূপ নিয়ে বিস্তারিত গবেষণা

প্রবোধচন্দ্র বাগচী

বাংলা ভাষা

'চর্যাগীতিকোষ' প্রকাশক; বাংলা মতের সমর্থক

সন্ধ্যা ভাষাচর্যাপদের বিশেষ ভাষারীতি

চর্যাপদের ভাষাকে 'সন্ধ্যাভাষা' বলা হয়এই শব্দটি প্রথম ব্যবহার করেন মুনিদত্তচর্যাপদের সংস্কৃত টীকাকার

সন্ধ্যাভাষার বৈশিষ্ট্য:

শব্দের আক্ষরিক অর্থগূঢ় অর্থদুটি স্তরে বিদ্যমান

বাহ্যিক অর্থে: সাধারণ জীবনের দৃশ্য, প্রকৃতি, লোকজীবন

গূঢ় অর্থে: বৌদ্ধ সহজিয়া সাধনার রহস্যময় আধ্যাত্মিক তত্ত্ব

'সন্ধ্যা' শব্দের অর্থ: আলোআঁধারের সন্ধিক্ষণযে ভাষা সরাসরি বোঝা যায় না

ড. সুনীতিকুমার এই ভাষাকে 'আলো-আঁধারি ভাষা'ও বলেছেন

চর্যাপদের টীকাকারমুনিদত্ত

চর্যাপদের পদগুলির অর্থ উদ্ধারে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছেন সংস্কৃত টীকাকার মুনিদত্ততিনি সংস্কৃত ভাষায় প্রতিটি পদের অর্থ ব্যাখ্যা করেছেনতাঁর টীকাটি না থাকলে চর্যাপদের গূঢ় অর্থ উদ্ধার করা অত্যন্ত কঠিন হতো

মুনিদত্ত সম্পর্কে জানুন

তিনি একাদশ বা দ্বাদশ শতকের বৌদ্ধ পণ্ডিত

তিনি সংস্কৃত ভাষায় চর্যাপদের টীকা রচনা করেন

তিনিই প্রথম চর্যাপদের ভাষাকে 'সন্ধ্যাভাষা' বলে অভিহিত করেন

তাঁর টীকার নাম: 'চর্যাগীতিকোষবৃত্তি'।

মুনিদত্তের টীকা হরপ্রসাদ শাস্ত্রী নেপাল থেকে এনেছিলেন

টীকার মাধ্যমে পদের গূঢ় বৌদ্ধ দার্শনিক অর্থ বোঝা যায়

চর্যাপদের বিষয়বস্তু, বৈশিষ্ট্যসামাজিক চিত্র

বিষয়বস্তু

চর্যাপদের পদগুলিতে একটি বিচিত্র দ্বৈততা রয়েছেবাহ্যিকভাবে এগুলি সাধারণ মানুষের জীবনের দৃশ্যনৌকা বাওয়া, মাছ ধরা, হাটে যাওয়া, প্রেম, বনে যাওয়া ইত্যাদির কথা বলেকিন্তু প্রতিটি পদের অন্তরালে রয়েছে বজ্রযান বৌদ্ধ সাধনার গভীর তাত্ত্বিক রহস্য

বাহ্যিক বিষয়বস্তু

নৌকানদীর চিত্র

বনে শিকারপশুপাখির বর্ণনা

হাট-বাজারলোকজীবন

নারী-পুরুষের প্রেম

ডোম, চণ্ডাল, তাঁতিনিম্নবর্গের মানুষ

গৃহস্থালির কাজকর্ম

প্রকৃতির রূপবর্ণনা

গূঢ় আধ্যাত্মিক অর্থ

শূন্যতার দর্শন (বৌদ্ধ)

বোধিচিত্তের সাধনা

গুরু-শিষ্য সম্পর্ক

মহাসুখনির্বাণ প্রাপ্তি

তান্ত্রিক সাধনারীতি

দেহকেন্দ্রিক সাধনা (কায়সাধনা)

সহজ পথে মুক্তিলাভ

সামাজিক চিত্র

চর্যাপদ কেবল ধর্মীয় রচনা নয়এটি তৎকালীন বাংলার সমাজজীবনের একটি অমূল্য দলিলএই পদগুলিতে আমরা প্রাচীন বাংলার সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার বাস্তব চিত্র পাই

চর্যাপদে সমাজচিত্র

বর্ণজাতিভেদ: ডোম, চণ্ডাল, ব্রাহ্মণসব শ্রেণির মানুষের উল্লেখ

নারীর অবস্থান: কাপড় বোনা, গৃহকাজ করা নারীর চিত্র

জীবিকা: মাছ ধরা, নৌকা বাওয়া, তাঁত বোনা, শিকার করা

বাণিজ্য: হাটে পণ্য বেচাকেনার উল্লেখ

বাসস্থান: নদীর তীরে, জঙ্গলে বাস

পোশাক: গলায় হাড়ের মালা, সাদামাটা জীবন

উৎসব: গান, নাচসামাজিক অনুষ্ঠানের আভাস

অর্থনীতি: কৃষিমৎস্যজীবী সমাজের চিত্র

উল্লেখযোগ্য চর্যাপদগল্পের আকারে বিশ্লেষণ

চর্যা ১ — লুইপার পদ (বাংলা সাহিত্যের প্রথম পদ)

মূল পদ (প্রথম কলি):

"কাআ তরুবর পাঞ্চ বি ডালচঞ্চল চীএ পৈঠা কাল॥"

গল্পাকারে ব্যাখ্যা

বাহ্যিক অর্থে একটি গাছ আছে পাঁচটি ডাল নিয়েসেই চঞ্চল গাছে কাল (মৃত্যু) প্রবেশ করেছেমানুষ যেন সেই গাছের নিচে বাস করছে

গূঢ় আধ্যাত্মিক অর্থ — 'কাআ' = কায়া বা দেহ। 'পাঞ্চ বি ডাল' = পঞ্চেন্দ্রিয় (চোখ, কান, নাক, জিভ, ত্বক)। দেহ হলো সেই গাছ। 'চঞ্চল চীএ' = চঞ্চল চিত্তএই চঞ্চল চিত্তে কালের বা মৃত্যুর প্রবেশ ঘটেছেলুইপা সাধককে বলছেনপঞ্চেন্দ্রিয়ের এই নশ্বর শরীরে আটকে থেকো নাদেহের মধ্যে দিয়েই সহজ সাধনায় মুক্তির পথ খোঁজো

পরীক্ষার জন্য গুরুত্বপূর্ণ: এটি চর্যাপদের ১নং পদ এবং সমগ্র বাংলা সাহিত্যের প্রথম পদপদকর্তা লুইপা

ভুসুকুপার বিখ্যাত পদ — 'আজি ভুসুকু বাঙালি ভইলি'

মূল পদের অংশ:

"আজি ভুসুকু বাঙালি ভইলিনিঅ ঘরিণি চণ্ডালেঁ লেলি॥"

গল্পাকারে ব্যাখ্যাবিশেষ তাৎপর্য

এই পদটি অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ কারণ এতে 'বাঙালি' শব্দের প্রথম সাহিত্যিক ব্যবহার পাওয়া যায়ভুসুকু বলছেন — 'আজ আমি বাঙালি হলাম।' এই 'বাঙালি হওয়া' মানে ভৌগোলিক পরিচয় নয়, বরং বৌদ্ধ সহজিয়া সাধনায় মুক্তির একটি স্তর অতিক্রম করা

বাহ্যিক অর্থ: একজন মানুষ হাঁস শিকার করছেন, তাঁর ঘরের মেয়ে বা স্ত্রীকে চণ্ডাল নিয়ে গেছে

গূঢ় অর্থ: 'চণ্ডালে' = গুরু বা জ্ঞান। 'ঘরিণি' = মন বা চিত্তমন যখন গুরুর কাছে সমর্পিত হয়, তখন প্রকৃত মুক্তি লাভ হয়সেই মুহূর্তেই ভুসুকু 'বাঙালি' (আলোকিত) হলেন

পরীক্ষার জন্য: এই পদে 'বাঙালি' শব্দের প্রথম লিখিত প্রমাণ পাওয়া যায়অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ MCQ তথ্য

শবরপার পদবনের শিকারির আধ্যাত্মিক চিত্র

মূল পদের অংশ:

"উঁচা উঁচা পাবত তহিঁ বসই সবরী বালীমোরঙ্গি পীচ্ছ পরহিণ সবরী গীবত গুঞ্জরী মালী॥"

অর্থব্যাখ্যা: উঁচু পাহাড়ের চূড়ায় শবরী মেয়ে বাস করেতার মাথায় ময়ূরের পালক, গলায় গুঞ্জার মালাবাহ্যত এটি একটি বনের নারীর চিত্রকিন্তু গূঢ়ার্থে 'পাবত' = দেহ বা মেরুদণ্ড, 'শবরী' = সাধনার মাধ্যমে জাগ্রত চেতনা বা প্রজ্ঞাপাহাড়ের উচ্চতায় সাধনা করে মুক্তির পথে এগিয়ে যাওয়ার কথা বলা হয়েছে

চর্যাপদ সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ বিতর্কমতভেদ

বিতর্ক ১: রচনাকাল

পণ্ডিত / মত

রচনাকাল

ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ

৬৫০ – ১২০০ খ্রি. (প্রশস্ততম ব্যাপ্তি)

ড. সুনীতিকুমার চট্টোপাধ্যায়

৯৫০ – ১২০০ খ্রি.

ড. সুকুমার সেন

৯০০ – ১১০০ খ্রি. (আনুমানিক)

রাহুল সাংকৃত্যায়ন

৮ম – ১২শ শতাব্দী

সাধারণভাবে গৃহীত মত

৭ম – ১২শ শতাব্দীর মধ্যে

বিতর্ক ২: চর্যাপদ কি বাংলা সাহিত্য?

চর্যাপদ নিয়ে একটি বড় বিতর্ক হলো এটি কোন ভাষার সাহিত্যবাংলাদেশপশ্চিমবঙ্গের পণ্ডিতরা দাবি করেন এটি বাংলা সাহিত্যের প্রথম নিদর্শনওড়িয়া পণ্ডিতরা এটিকে ওড়িয়া ভাষার, হিন্দি পণ্ডিতরা হিন্দির আদি রূপ বলেনতবে ভাষাবৈজ্ঞানিক বিচারে ড. সুনীতিকুমার, ড. শহীদুল্লাহসহ অধিকাংশ পণ্ডিত একমত যে এটি প্রাচীন বাংলা ভাষার নিদর্শন

MCQ প্রশ্নোত্তর

চর্যাপদপ্রশ্নোত্তর পর্ব

প্রশ্ন: বাংলা সাহিত্যের প্রাচীনতম নিদর্শন কোনটি?

উত্তর: চর্যাপদ

প্রশ্ন: চর্যাপদ কত সালে আবিষ্কৃত হয়?

উত্তর: ১৯০৭ সালে

প্রশ্ন: চর্যাপদ কে আবিষ্কার করেন?

উত্তর: হরপ্রসাদ শাস্ত্রী

প্রশ্ন: হরপ্রসাদ শাস্ত্রী চর্যাপদ কোথায় আবিষ্কার করেন?

উত্তর: নেপালের রাজদরবারের গ্রন্থাগারে

প্রশ্ন: চর্যাপদ কত সালে প্রকাশিত হয়?

উত্তর: ১৯১৬ সালে

প্রশ্ন: চর্যাপদ প্রকাশক কোন প্রতিষ্ঠান?

উত্তর: বঙ্গীয় সাহিত্য পরিষদ

প্রশ্ন: চর্যাপদের মোট পদসংখ্যা কত?

উত্তর: সাড়ে ছেচল্লিশটি (৪৬½)

প্রশ্ন: চর্যাপদে পদকর্তার সংখ্যা কত?

উত্তর: ২৩ জন

প্রশ্ন: চর্যাপদে সর্বাধিক পদ কার?

উত্তর: কাহ্নপার (১৩টি)

প্রশ্ন: চর্যাপদের প্রথম পদকর্তা কে?

উত্তর: লুইপা

প্রশ্ন: চর্যাপদের ভাষাকে 'সন্ধ্যাভাষা' কে বলেছেন?

উত্তর: মুনিদত্ত

প্রশ্ন: চর্যাপদের টীকাকার কে?

উত্তর: মুনিদত্ত

প্রশ্ন: 'হাজার বছরের পুরান বাঙ্গালা ভাষায় বৌদ্ধ গানদোহা' — এটি কার রচনা?

উত্তর: হরপ্রসাদ শাস্ত্রী (সম্পাদিত)

প্রশ্ন: চর্যাপদের মূল নাম কী?

উত্তর: চর্যাচর্যবিনিশ্চয়

প্রশ্ন: 'চর্যাগীতিকোষ' নামটি কে দিয়েছেন?

উত্তর: প্রবোধচন্দ্র বাগচী

প্রশ্ন: 'বাঙালি' শব্দের প্রথম সাহিত্যিক ব্যবহার কোথায়?

উত্তর: ভুসুকুপার চর্যাপদে

প্রশ্ন: চর্যাপদের ধর্মীয় পটভূমি কী?

উত্তর: বজ্রযান বৌদ্ধধর্ম / সহজিয়া মত

প্রশ্ন: চর্যাপদ কোন রাজবংশের আমলে রচিত?

উত্তর: পাল রাজবংশের আমলে

প্রশ্ন: কাহ্নপার অন্য নাম কী?

উত্তর: কৃষ্ণপাদ / কানুপা / কাহ্নুপা

প্রশ্ন: ভুসুকুপাকে কারও কারও মতে কে বলা হয়?

উত্তর: শান্তিদেব

প্রশ্ন: চর্যাপদের ছন্দের নাম কী?

উত্তর: দোহা (অনুষ্টুপ জাতীয়)

প্রশ্ন: ড. সুনীতিকুমার চট্টোপাধ্যায়ের মতে বাংলা ভাষার উদ্ভব কখন?

উত্তর: ৯০০ – ১০০০ খ্রিস্টাব্দ

প্রশ্ন: মুনিদত্তের টীকার নাম কী?

উত্তর: চর্যাগীতিকোষবৃত্তি

প্রশ্ন: হরপ্রসাদ শাস্ত্রী কতবার নেপাল গিয়েছিলেন?

উত্তর: চারবার (১৮৭৭, ১৮৯৭, ১৯০৭, ১৯২৩)

প্রশ্ন: চর্যাপদ বিষয়ক প্রথম গবেষণা পুস্তক কোনটি?

উত্তর: 'বাংলা ভাষার ইতিহাস' — ড. সুনীতিকুমার চট্টোপাধ্যায় (ODBL)

প্রশ্ন: ODBL গ্রন্থটি প্রকাশিত হয় কত সালে?

উত্তর: ১৯২৬ সালে

প্রশ্ন: চর্যাপদে 'ডোম্বিপা' কতটি পদ রচনা করেছেন?

উত্তর: দুটি পদ

প্রশ্ন: শবরপার পদে কোন পেশার মানুষের চিত্র?

উত্তর: শিকারি (বনচারী) জীবন

প্রশ্ন: 'আজি ভুসুকু বাঙালি ভইলি' — কোন পদকর্তার উক্তি?

উত্তর: ভুসুকুপার

প্রশ্ন: চর্যাপদ কোন লিপিতে লেখা?

উত্তর: বাংলা লিপির পূর্বরূপ / প্রাচীন বঙ্গলিপি (কুটিল লিপি)

ট্রিকিঅজানা তথ্য

সংখ্যা-বিষয়ক ট্রিকি তথ্য

পদসংখ্যা 'সাড়ে ছেচল্লিশ' মানে ৪৬.৫টি — শেষ পদটি অসম্পূর্ণ

২৩ জন পদকর্তা — ২৪ বা ২৫ নয়

কাহ্নপার ১৩টি পদভুসুকুর ৮টি — সরহপার ৪টি।

হরপ্রসাদ শাস্ত্রী ১৯০৭ সালে আবিষ্কার করেন, ১৯১৬ সালে প্রকাশ করেন

শাস্ত্রীবার নেপাল গিয়েছিলেন — ৩ বার নয়

নাম-বিভ্রান্তি বিষয়ক ট্রিকি তথ্য

চর্যাপদের মূল নাম 'চর্যাচর্যবিনিশ্চয়' — 'চর্যাপদ' নামটি পরবর্তী প্রচলিত নাম

'চর্যাগীতিকোষ' নাম দিয়েছেন প্রবোধচন্দ্র বাগচীহরপ্রসাদ শাস্ত্রী নন

সরহপা = সরহ = সরোজবজ্রতিনটি নাম একই ব্যক্তির

কাহ্নপা = কৃষ্ণপাদ = কানুপাএগুলি একই ব্যক্তি

হরপ্রসাদ শাস্ত্রীর আসল পদবি 'ভট্টাচার্য' — 'শাস্ত্রী' উপাধি

বিতর্কমতভেদ বিষয়ক ট্রিকি তথ্য

রাহুল সাংকৃত্যায়ন দাবি করেছিলেন চর্যাপদ হিন্দি সাহিত্যের প্রথম নমুনা

ওড়িয়া পণ্ডিতরাও দাবি করেন চর্যাপদ তাঁদের ভাষার

সন্ধ্যাভাষার ধারণাটি বৌদ্ধ তন্ত্রসাহিত্যে বহু আগে থেকেই ছিল

চর্যাপদে অপভ্রংশের প্রভাব থাকলেও এটি মূলত প্রাচীন বাংলা

ড. শহীদুল্লাহ এবং ড. সুনীতিকুমার দুজনেই একে বাংলা ভাষার নিদর্শন বলেছেন

প্রথমশেষ বিষয়ক ট্রিকি তথ্য

বাংলা সাহিত্যের প্রথম গ্রন্থ: চর্যাপদ

বাংলা সাহিত্যের প্রথম কবি: লুইপা (চর্যা ১-এর রচয়িতা)।

'বাঙালি' শব্দের প্রথম লিখিত ব্যবহার: ভুসুকুপার পদে

বাংলা ভাষার প্রথম ব্যাকরণ গ্রন্থ: 'ব্রজবুলি ব্যাকরণ' — অনেকে বলেন সংস্কৃতে

চর্যাপদের প্রথম টীকা লিখেছেন মুনিদত্তসংস্কৃত ভাষায়

সাহিত্যিক তাৎপর্য

চর্যাপদের সাহিত্যিক মূল্য

চর্যাপদকে কেবল ধর্মীয় রচনা হিসেবে দেখলে তার প্রকৃত সাহিত্যগুণ উপলব্ধি করা সম্ভব নয়এই পদগুলি একদিকে যেমন বৌদ্ধ দর্শনের জটিল তত্ত্বের সরল প্রকাশ, অন্যদিকে এগুলি অসাধারণ কাব্যিক সৌন্দর্যে পূর্ণ

চর্যাপদে রয়েছে সমৃদ্ধ প্রতীকী ভাষা, অনুপ্রাসের সুষমা, গেয়তার মধুরতা এবং চিত্রকল্পের অপূর্ব ব্যবহারএকটি সাধারণ শিকারির জীবনচিত্র থেকে শুরু করে নদীর ঢেউয়ের বর্ণনাসব কিছুতেই রয়েছে দুটি সমান্তরাল অর্থস্তরএই দ্বিমাত্রিক ভাষাপ্রকাশের কৌশল চর্যাপদকে শিল্পসাহিত্যের বিচারেও একটি অনন্য রচনায় পরিণত করে

বাংলা সাহিত্যের ধারায় চর্যাপদের প্রভাব

চর্যাপদের সহজিয়া দর্শন পরবর্তীকালে বাংলার বৈষ্ণব সহজিয়া এবং বাউল সাধনার ধারাকে প্রভাবিত করেছেবাউল গানের দেহতত্ত্ব, মনের মানুষের অন্বেষণএই ধারণাগুলির সাথে চর্যাপদের সহজযান দর্শনের গভীর মিল রয়েছেরবীন্দ্রনাথ পর্যন্ত চর্যাপদের এই সহজ-সাধনার ধারায় প্রভাবিত হয়েছিলেন বলে অনেক পণ্ডিত মনে করেন

চর্যাপদ বিষয়ক গুরুত্বপূর্ণ গ্রন্থপ্রকাশনা

গ্রন্থের নাম

লেখক / সম্পাদক

প্রকাশকাল

হাজার বছরের পুরান বাঙ্গালা ভাষায় বৌদ্ধ গানদোহা

হরপ্রসাদ শাস্ত্রী

১৯১৬

The Origin and Development of the Bengali Language (ODBL)

সুনীতিকুমার চট্টোপাধ্যায়

১৯২৬

বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস (১ম খণ্ড)

সুকুমার সেন

১৯৪০

দোহাকোষ

সরহপা (সম্পাদনা: প্র. বাগচী)

চর্যাগীতি পরিচয়

শশিভূষণ দাশগুপ্ত

১৯৫৬

চর্যাপদ (টীকাসহ)

নীলরতন সেন

বৌদ্ধ গানদোহা

প্রবোধচন্দ্র বাগচী

সব মনে রাখুন

সোনালি সারসংক্ষেপ

১. চর্যাপদ আবিষ্কার: হরপ্রসাদ শাস্ত্রী, ১৯০৭, নেপাল

২. প্রকাশকাল: ১৯১৬, বঙ্গীয় সাহিত্য পরিষদ

৩. পদ: সাড়ে ছেচল্লিশটি (৪৬½)।

৪. পদকর্তা: ২৩ জন সিদ্ধাচার্য

৫. সর্বাধিক পদ: কাহ্নপা (১৩টি)।

৬. প্রথম পদ: লুইপার (চর্যা ১)।

৭. মূল নাম: চর্যাচর্যবিনিশ্চয়

৮. টীকাকার: মুনিদত্ত (সন্ধ্যাভাষা শব্দটি তাঁর)।

৯. ভাষা: প্রাচীন বাংলা (সন্ধ্যাভাষা)।

১০. প্রথম বাঙালির উল্লেখ: ভুসুকুপার পদে 'আজি ভুসুকু বাঙালি ভইলি'।

১১. রচনাকাল: ৬৫০ – ১২০০ খ্রি. (ড. শহীদুল্লাহ)।

১২. ধর্মীয় পটভূমি: বজ্রযানসহজিয়া বৌদ্ধধর্ম

📝 পরীক্ষার্থীদের জন্য পরামর্শ

চর্যাপদ বিষয়ক প্রশ্নে সবচেয়ে বেশি বিভ্রান্তি হয় সংখ্যাগত তথ্যেমনে রাখুন:

পদ: সাড়ে ছেচল্লিশ (৪৬½), পদকর্তা: ২৩ জন, কাহ্নপার পদ: ১৩টি

আবিষ্কার: ১৯০৭, প্রকাশ: ১৯১৬ — এই দুটো সাল আলাদা রাখুন

'চর্যাগীতিকোষ' নাম দিয়েছেন প্রবোধচন্দ্র বাগচী, হরপ্রসাদ শাস্ত্রী নন

সন্ধ্যাভাষা শব্দটি মুনিদত্তের — ড. সুনীতিকুমারের নয়

━━━━━━━━━━━ অধ্যায় সমাপ্ত ━━━━━━━━━━━

Review this chapter

You Can Also Read

Chapters closely related to the one you are reading now.

ফররুখ আহমদ

No reviews
0 students
Read chapter

প্যারীচাঁদ মিত্র

No reviews
0 students
Read chapter

ফোর্ট উইলিয়াম কলেজ

No reviews
0 students
Read chapter

পুঁথি সাহিত্য

No reviews
0 students
Read chapter

বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়

No reviews
0 students
Read chapter

Most Read by Students

Popular picks getting the strongest student traffic right now.

অসহযোগ আন্দোলন (মার্চ ১৯৭১)

No reviews
1 student
Read chapter

নদী, সেতু, পাহাড়, দ্বীপ, বন, সমুদ্রবন্দর

No reviews
1 student
Read chapter

বাংলা ভাষার রীতি

No reviews
1 student
Read chapter

Others Who Read This Also Read

Behavior-based suggestions from student reading patterns where available.

ফররুখ আহমদ

No reviews
0 students
Read chapter

প্যারীচাঁদ মিত্র

No reviews
0 students
Read chapter

ফোর্ট উইলিয়াম কলেজ

No reviews
0 students
Read chapter

পুঁথি সাহিত্য

No reviews
0 students
Read chapter

বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়

No reviews
0 students
Read chapter

Best Reviewed

Chapters earning the strongest student feedback.

ফররুখ আহমদ

No reviews
0 students
Read chapter

প্যারীচাঁদ মিত্র

No reviews
0 students
Read chapter

ফোর্ট উইলিয়াম কলেজ

No reviews
0 students
Read chapter

পুঁথি সাহিত্য

No reviews
0 students
Read chapter

বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়

No reviews
0 students
Read chapter

Course Suggestions

Want a more guided path after this chapter? These courses are the closest fit.

Browse all courses
Learner fit৳1,999

Bangla

Bangla Language Mastery

Popular with BCS learners who want guided study.

6 lessons8.5h4.9 (186)1.3K students

By Sadia Rahman

View course
Learner fit৳2,999

Platform Building

Teacher Marketplace Blueprint

Popular with BCS learners who want guided study.

5 lessons6.8h4.9 (28)410 students

By Sadia Rahman

View course
FreeFree

English

Admission English Playbook

Free guided course with lessons you can jump into anytime.

4 lessons4.2h4.8 (91)2.8K students

By Rayan Akter

View course