বাংলা ব্যাকরণ বাংলা ভাষার ইতিহাস উৎপত্তি থেকে আধুনিক যুগ — সাহিত্য, লিপি, আন্দোলন ও বৈশ্বিক প্রেক্ষাপট |
০১ বাংলা ভাষার উৎপত্তি ও ভাষাতাত্ত্বিক অবস্থান |
বাংলা ভাষার ইতিহাস অন্তত চোদ্দশো বছরের পুরনো। ইন্দো-ইউরোপীয় ভাষাপরিবারের ইন্দো-আর্য শাখার একটি নব্যভারতীয় আর্য ভাষা হিসেবে বাংলার যাত্রা শুরু। আর্যদের আগমনের আগে এই অঞ্চলে অস্ট্রিক, দ্রাবিড় ও মঙ্গোলয় জাতির মানুষ বাস করত যাদের ভাষার প্রভাবও বাংলায় পড়েছে।
ক) বাংলা ভাষার উৎপত্তি: পণ্ডিতদের মতামত |
পণ্ডিত | গ্রন্থ/মত | বাংলার উৎস |
ড. সুনীতিকুমার চট্টোপাধ্যায় | The Origin and Development of Bengali Language (ODBL), ১৯২৬ | মাগধী অপভ্রংশ — সর্বাধিক গৃহীত মত |
ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ | বাংলা ভাষার ইতিবৃত্ত | গৌড়ীয় অপভ্রংশ (মতান্তরে শৌরসেনী অপভ্রংশ) |
ড. মুহম্মদ এনামুল হক | বঙ্গভাষার ইতিহাস | মাগধী প্রাকৃত থেকে সরাসরি |
জর্জ গ্রিয়ার্সন | Linguistic Survey of India | পূর্ব-মধ্য ভারতীয় ভাষাগোষ্ঠী |
রালফ লিলি টার্নার | A Comparative Dictionary of Indo-Aryan Languages | ইন্দো-আর্য ভাষার বিবর্তনধারায় বাংলা |
★ মনে রাখুন বাংলা ভাষার উৎপত্তি সম্পর্কে প্রশ্ন হলে — সুনীতিকুমারের মত = 'মাগধী অপভ্রংশ'; শহীদুল্লাহর মত = 'গৌড়ীয় অপভ্রংশ'। ODBL গ্রন্থটি ১৯২৬ সালে প্রকাশিত। |
খ) বিবর্তনের ধারা: সংস্কৃত থেকে বাংলা |
স্তর | ভাষার নাম | সময়কাল | বৈশিষ্ট্য |
প্রাচীন ভারতীয় আর্য | বৈদিক সংস্কৃত | খ্রিপূ. ১৫০০-৬০০ | ঋগ্বেদের ভাষা; সবচেয়ে প্রাচীন |
লৌকিক সংস্কৃত | খ্রিপূ. ৬০০-৩০০ | পাণিনির ব্যাকরণ দ্বারা নিয়ন্ত্রিত | |
মধ্যভারতীয় আর্য | পালি | খ্রিপূ. ৩০০–খ্রি. ৫০০ | বৌদ্ধ ধর্মের ভাষা; অশোকের শিলালিপি |
প্রাকৃত | খ্রিপূ. ৫০০–খ্রি. ১০০০ | জনসাধারণের ভাষা; মাগধী প্রাকৃত অন্যতম | |
অপভ্রংশ | ৬০০–১২০০ খ্রি. | প্রাকৃতের বিবর্তিত রূপ; মাগধী অপভ্রংশ → বাংলা | |
নব্যভারতীয় আর্য | বাংলা | ৯০০ খ্রি. থেকে | স্বতন্ত্র ভাষা হিসেবে আত্মপ্রকাশ |
প্রথম পর্ব: প্রাচীন যুগ আনুমানিক ৬৫০ – ১২০০ খ্রিষ্টাব্দ |
০২ প্রাচীন যুগের বাংলা ভাষা ও সাহিত্য |
বাংলা ভাষার ইতিহাসের প্রথম পর্বকে প্রাচীন যুগ বলা হয়। এই যুগের একমাত্র পরিচিত নিদর্শন হলো চর্যাপদ। প্রাচীন যুগের বাংলা ভাষায় সংস্কৃতের ব্যাপক প্রভাব ছিল, কিন্তু আলাদা ভাষারূপ স্পষ্টতই চেনা যেত।
ক) চর্যাপদ — বাংলার প্রথম আলো |
বিষয় | বিস্তারিত তথ্য |
সম্পূর্ণ নাম | চর্যাচর্যবিনিশ্চয় / চর্যাগীতিকোষ |
রচনাকাল | আনুমানিক ৬৫০ – ১২০০ খ্রিষ্টাব্দ |
আবিষ্কারক | মহামহোপাধ্যায় হরপ্রসাদ শাস্ত্রী |
আবিষ্কার স্থান | নেপালের রাজকীয় দরবারের পুঁথিশালা / গ্রন্থাগার |
আবিষ্কারের বছর | ১৯০৭ সালে (আবিষ্কার), ১৯১৬ সালে প্রকাশিত |
প্রকাশিত গ্রন্থের নাম | হাজার বছরের পুরাণ বাঙ্গালা ভাষায় বৌদ্ধ গান ও দোহা |
মোট পদ সংখ্যা | সংকলিত ৪৭টি; সম্পূর্ণ পাওয়া গেছে ৪৬টি; ২৩টি অর্ধাংশে পাওয়া গেছে |
মোট পদকর্তা | ২৩ জন সিদ্ধাচার্য |
ভাষা | 'সন্ধ্যা ভাষা' বা 'আলো-আঁধারির ভাষা' |
বিষয়বস্তু | বজ্রযান বৌদ্ধ ধর্মের সহজিয়া সাধনার রূপক গান |
ছন্দ | প্রধানত পাদাকুলক ছন্দ; কিছু মাত্রাবৃত্ত ছন্দও আছে |
লিপি | রঞ্জনা বা মোড়ি লিপিতে লেখা পুঁথি |
ধর্মীয় মত | বজ্রযান / সহজযান বৌদ্ধধর্ম |
খ) প্রধান পদকর্তা ও পদ সংখ্যা |
পদকর্তার নাম | পদ সংখ্যা | বিশেষ তথ্য |
কাহ্নপা / কৃষ্ণাচার্য | ১৩টি | সর্বাধিক পদের রচয়িতা; শবরপার শিষ্য |
ভুসুকপা | ৮টি | দ্বিতীয় সর্বাধিক; অনেকে শান্তিদেব বলেন |
সরহপা | ৪টি | আদি সিদ্ধাচার্য; বজ্রযানের প্রবর্তক |
লুইপা | ২টি | প্রথম পদের রচয়িতা (১নং পদ); চর্যার আদি পদকর্তা |
শবরপা | ২টি | কাহ্নপার গুরু |
কুক্কুরীপা | ২টি | নারী সিদ্ধাচার্য |
ডোম্বীপা, তান্তীপা, আর্যদেব প্রমুখ | ১টি করে | অন্যান্য সিদ্ধাচার্যগণ |
"কাআ তরুবর পঞ্চ বি ডাল। চঞ্চল চীএ পইঠো কাল।" — চর্যাপদ ১নং পদ — লুইপা রচিত (অর্থ: শরীর একটি বৃক্ষ, পঞ্চ ইন্দ্রিয় পাঁচটি শাখা) |
✦ চর্যাপদের ভাষার বৈশিষ্ট্য প্রাচীন বাংলা — কিন্তু সংস্কৃতের ব্যাপক প্রভাব বিদ্যমান 'সন্ধ্যা ভাষা' — রূপকের আড়ালে গূঢ় ধর্মীয় অর্থ লুকানো বাংলা, অসমিয়া, মৈথিলি, ওড়িয়া — সবার পূর্বসূরি এই ভাষা সর্বনাম: 'আঁই' (আমি), 'তোহ্' (তোমার), 'জই' (যে) ক্রিয়া: 'কর' (করো), 'যাই' (যাই/যাচ্ছি) বাংলার চর্যাপদের সাথে সংস্কৃত ও তিব্বতি পাঠান্তরও পাওয়া গেছে |
দ্বিতীয় পর্ব: মধ্য যুগ আনুমানিক ১২০০ – ১৮০০ খ্রিষ্টাব্দ |
০৩ মধ্য যুগ: বিভাগ ও সাধারণ বৈশিষ্ট্য |
মধ্য যুগ বাংলা ভাষা ও সাহিত্যের অন্যতম বিকাশকাল। এই যুগে বাংলা ভাষায় তুর্কি-আফগান ও পরে মুঘল শাসকদের প্রভাবে আরবি-ফারসি শব্দ ব্যাপকভাবে প্রবেশ করে। হিন্দু-মুসলিম দুই ধারার সাহিত্য এই যুগে সমান্তরালে বিকশিত হয়।
উপযুগ | কাল | প্রধান বৈশিষ্ট্য | মূল সাহিত্য |
প্রথম মধ্য যুগ | ১২০১–১৩৫০ | তুর্কি আক্রমণ; মুসলিম শাসন প্রতিষ্ঠা; বাংলা সাহিত্যের বিরতিকাল | শ্রীকৃষ্ণকীর্তন (বড়ু চণ্ডীদাস) |
মধ্যবর্তী মধ্য যুগ | ১৩৫০–১৬০০ | সুলতানি শাসনে সাহিত্যের পুনর্জাগরণ; মঙ্গলকাব্যের বিকাশ | মনসামঙ্গল, চণ্ডীমঙ্গল, ধর্মমঙ্গল |
শেষ মধ্য যুগ | ১৬০০–১৮০০ | মুঘল শাসন; বৈষ্ণব পদাবলি; রোসাঙ্গ সাহিত্য | বৈষ্ণব পদাবলি, পদ্মাবতী |
০৪ শ্রীকৃষ্ণকীর্তন — মধ্য যুগের প্রথম নিদর্শন |
বিষয় | বিবরণ |
রচয়িতা | বড়ু চণ্ডীদাস |
রচনাকাল | আনু. চতুর্দশ শতাব্দী (১৪শ শতক) |
আবিষ্কার | বসন্তরঞ্জন রায় বিদ্বদ্বল্লভ কর্তৃক ১৯০৯ সালে বাঁকুড়া জেলার কাঁকিল্যা গ্রামে |
প্রকাশিত | ১৯১৬ সালে কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃক |
বিষয়বস্তু | রাধা-কৃষ্ণের প্রেমকাহিনি; মোট ১৩টি খণ্ডে বিভক্ত |
ভাষা | প্রাক-চৈতন্য মধ্য বাংলা; সংস্কৃতের প্রভাব কম |
বৈশিষ্ট্য | মধ্যযুগের বাংলা ভাষার সবচেয়ে বড় ও গুরুত্বপূর্ণ নিদর্শন |
গুরুত্ব | চর্যাপদ ও আধুনিক বাংলার মধ্যবর্তী সেতুবন্ধ |
"বড়ায়ি! তোহার কথা শুনি মোর মন নাহি মানে।" — শ্রীকৃষ্ণকীর্তন — বড়ু চণ্ডীদাস |
০৫ মঙ্গলকাব্য — মধ্য যুগের মূল স্রোত |
সংজ্ঞা | মঙ্গলকাব্য হলো মধ্যযুগের বাংলা সাহিত্যের একটি বিশেষ ধারা যেখানে লৌকিক দেব-দেবীর মাহাত্ম্য বর্ণনা করা হয়। এগুলো মূলত পাঠ করা হতো, গান গাওয়া হতো। |
মঙ্গলকাব্যের ধরন | প্রধান কবি | রচনাকাল | বৈশিষ্ট্য |
মনসামঙ্গল | মানিক দত্ত, বিজয়গুপ্ত, নারায়ণদেব | ১৪শ–১৬শ শতক | সর্পদেবী মনসার কাহিনি; সর্বাধিক রচিত মঙ্গলকাব্য |
চণ্ডীমঙ্গল | মুকুন্দরাম চক্রবর্তী (কবিকঙ্কণ) | ১৬শ শতক | দেবী চণ্ডীর মাহাত্ম্য; 'অভয়ামঙ্গল'-ও বলা হয় |
ধর্মমঙ্গল | ময়ূর ভট্ট, রূপরাম চক্রবর্তী | ১৫শ–১৭শ শতক | ধর্মঠাকুরের পূজার কাহিনি |
অন্নদামঙ্গল | ভারতচন্দ্র রায়গুণাকর | ১৮শ শতক | দেবী অন্নদার কাহিনি; মঙ্গলকাব্যের সমাপ্তি-পর্ব |
কালিকামঙ্গল / বিদ্যাসুন্দর | ভারতচন্দ্র রায়গুণাকর | ১৮শ শতক | দেবী কালীর মাহাত্ম্য; 'রায়গুণাকর' উপাধি পান |
শীতলামঙ্গল | বিভিন্ন কবি | ১৬শ–১৮শ শতক | দেবী শীতলার কাহিনি |
★ মনে রাখুন ভারতচন্দ্র রায়গুণাকর (১৭১২–১৭৬০) — মহারাজ কৃষ্ণচন্দ্রের সভাকবি; 'অন্নদামঙ্গল' তাঁর শ্রেষ্ঠ কীর্তি; রাজকৃষ্ণচন্দ্র তাঁকে 'রায়গুণাকর' উপাধি দেন। |
০৬ বৈষ্ণব পদাবলি |
বৈষ্ণব পদাবলি মধ্যযুগের বাংলা সাহিত্যের অন্যতম শ্রেষ্ঠ অবদান। শ্রীচৈতন্যদেবের (১৪৮৬–১৫৩৩) প্রভাবে এই ধারা পূর্ণ বিকাশ লাভ করে। রাধা-কৃষ্ণের প্রেম ও বিরহ এই পদাবলির মূল বিষয়।
পদকর্তা | পরিচিতি | বিখ্যাত পদ / বৈশিষ্ট্য |
বিদ্যাপতি | মৈথিলি কবি; বাংলায় অতীব প্রিয় | মৈথিলি ভাষায় রচিত; 'মৈথিল কোকিল' উপাধি |
বড়ু চণ্ডীদাস | চতুর্দশ শতকের প্রাচীনতম পদকর্তা | 'সই কেবা শুনাইল শ্যাম নাম' — বিখ্যাত পদ |
জ্ঞানদাস | চৈতন্যোত্তর; 'রূপের পাথারে' রচয়িতা | 'রূপের পাথারে আঁখি ডুবে যায়' — বিখ্যাত |
গোবিন্দদাস | চৈতন্যের সমসাময়িক | 'কুলবধূ শৈলজার' — বিখ্যাত পদ |
চণ্ডীদাস | আরেক চণ্ডীদাস (দ্বিন্দ্বিত নিয়ে বিতর্ক) | 'সবার উপরে মানুষ সত্য তাহার উপরে নাই' — বিখ্যাত উক্তি |
"সবার উপরে মানুষ সত্য তাহার উপরে নাই" — চণ্ডীদাস — বৈষ্ণব পদকর্তা (মানবতার শ্রেষ্ঠ উক্তি) |
০৭ রামায়ণ ও মহাভারতের বাংলা অনুবাদ |
গ্রন্থ | অনুবাদক | কাল | বিশেষত্ব |
বাংলা রামায়ণ | কৃত্তিবাস ওঝা | ১৫শ শতক | 'কৃত্তিবাসী রামায়ণ'; সবচেয়ে জনপ্রিয় বাংলা রামায়ণ |
বাংলা মহাভারত | কাশীরাম দাস | ১৭শ শতক | 'কাশীদাসী মহাভারত'; অনুবাদকৃত মহাভারত |
ভাগবত | মালাধর বসু | ১৫শ শতক | 'শ্রীকৃষ্ণবিজয়' নামে রচিত; সুলতান রুকনউদ্দিনের পৃষ্ঠপোষকতায় |
০৮ মধ্য যুগে মুসলিম কবিদের অবদান ও রোসাঙ্গ সাহিত্য |
মধ্যযুগে মুসলিম শাসকদের পৃষ্ঠপোষকতায় বাংলা সাহিত্য অভূতপূর্বভাবে বিকশিত হয়। বাংলাদেশের রাজ দরবারে (আরাকান বা রোসাঙ্গ রাজসভায়) বিশেষ উৎকর্ষ সাধিত হয়।
কবি | গ্রন্থ | কাল | বিশেষত্ব |
শাহ মুহম্মদ সগীর | ইউসুফ-জুলেখা | ১৪শ শতক | বাংলা সাহিত্যের প্রাচীনতম মুসলিম কবি |
আলাওল | পদ্মাবতী, সতীময়না-লোরচন্দ্রাণী | ১৭শ শতক | রোসাঙ্গ রাজসভার শ্রেষ্ঠ কবি; হিন্দু-মুসলিম সমন্বয় |
দৌলত উজির বাহরাম খান | লায়লী-মজনু | ১৭শ শতক | আরাকান রাজসভার কবি |
মরদন | নসীহতনামা | ১৭শ শতক | নীতিকাব্যের কবি |
মুহম্মদ কবীর | মধুমালতী | ১৫শ শতক | রোমান্টিক কাব্যের কবি |
সৈয়দ সুলতান | নবীবংশ | ১৬শ-১৭শ শতক | ইসলামি ইতিহাস রচনা |
তৃতীয় পর্ব: আধুনিক যুগ আনুমানিক ১৮০০ খ্রিষ্টাব্দ থেকে বর্তমান |
০৯ আধুনিক যুগের সূচনা ও মুদ্রণ বিপ্লব |
আধুনিক বাংলা ভাষার যুগ শুরু হয় মূলত মুদ্রণযন্ত্রের আগমনের সাথে সাথে। ইউরোপীয় ব্রিটিশ শাসন এবং খ্রিষ্টান মিশনারিদের প্রভাবে বাংলায় গদ্য সাহিত্যের বিকাশ শুরু হয়। ফোর্ট উইলিয়াম কলেজ প্রতিষ্ঠা এই যুগকে একটি নতুন দিশা দেয়।
সাল / কাল | ঘটনা / তথ্য |
১৭৭৮ | চার্লস উইলকিন্স বাংলা ধাতব হরফ তৈরি করেন — মুদ্রণের ভিত্তি স্থাপন |
১৭৮০ | জেমস অগাস্টাস হিকি 'Bengal Gazette' (ইংরেজি) প্রকাশ শুরু করেন |
১৭৯৮ | শ্রীরামপুরে উইলিয়াম কেরির নেতৃত্বে মিশনারি কাজ শুরু |
১৮০০ | ফোর্ট উইলিয়াম কলেজ প্রতিষ্ঠা — বাংলা গদ্য সাহিত্যের কেন্দ্রবিন্দু |
১৮০০ | শ্রীরামপুরে বাংলা মুদ্রণযন্ত্র স্থাপিত (উইলিয়াম কেরি) |
১৮০১ | উইলিয়াম কেরি কর্তৃক বাংলা ব্যাকরণ (ইংরেজিতে) প্রকাশ |
১৮০৩ | 'বাইবেল' প্রথম বাংলায় অনুবাদ ও মুদ্রণ — শ্রীরামপুর মিশন |
১৮১৬ | সমাচার দর্পণ — বাংলায় প্রথম সংবাদপত্র প্রকাশ শুরু (শ্রীরামপুর মিশন) |
১৮১৮ | দিগদর্শন — প্রথম বাংলা মাসিক পত্রিকা (মার্শম্যান সম্পাদিত) |
১৮১৮ | সংবাদ কৌমুদী — রামমোহন রায় কর্তৃক প্রকাশিত |
১৮২৩ | রামমোহন রায় 'গৌড়ীয় ব্যাকরণ' প্রণয়ন করেন |
১৮৩৫ | ইংরেজিকে শিক্ষার মাধ্যম করার সিদ্ধান্ত (Macaulay Minute) |
১৮৪৭ | বিদ্যাসাগর সংস্কৃত কলেজের অধ্যক্ষ নিযুক্ত হন |
১৮৫৫ | বিদ্যাসাগর 'বর্ণপরিচয়' প্রকাশ করেন — বাংলা শিক্ষার ভিত্তি |
১৮৫৭ | কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা |
১৮৬০ | মাইকেল মধুসূদন দত্ত 'মেঘনাদবধ কাব্য' রচনা করেন |
১৮৭৬ | বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের 'বন্দে মাতরম' রচনা |
১৯১৩ | রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর নোবেল পুরস্কার পান — বাংলা সাহিত্যের বৈশ্বিক স্বীকৃতি |
১৯২১ | ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা |
১৯২৬ | সুনীতিকুমার চট্টোপাধ্যায়ের ODBL প্রকাশিত |
১০ ফোর্ট উইলিয়াম কলেজ ও বাংলা গদ্যের বিকাশ |
ফোর্ট উইলিয়াম কলেজ | ১৮০০ সালে লর্ড ওয়েলেসলির উদ্যোগে কলকাতায় প্রতিষ্ঠিত এই কলেজ ব্রিটিশ কর্মকর্তাদের ভারতীয় ভাষা শেখানোর জন্য তৈরি হলেও বাংলা গদ্য সাহিত্যের বিকাশে অসামান্য ভূমিকা রাখে। |
লেখক | রচিত গ্রন্থ | ভূমিকা |
উইলিয়াম কেরি | বাংলা ব্যাকরণ, ইতিহাসমালা, বাংলা বাইবেল | বাংলা গদ্যের আদি প্রবর্তক; শ্রীরামপুর মিশনারি |
মৃত্যুঞ্জয় বিদ্যালংকার | প্রবোধচন্দ্রিকা, বত্রিশ সিংহাসন | প্রথম বাংলাভাষী গদ্য লেখক |
রামরাম বসু | রাজা প্রতাপাদিত্য চরিত্র | প্রথম মৌলিক বাংলা গদ্যগ্রন্থ |
চণ্ডীচরণ মুন্সি | তোতা ইতিহাস | ফারসি থেকে অনুবাদ |
হরপ্রসাদ রায় | লিপিমালা | বাংলা পত্রসংকলন |
১১ রামমোহন রায় ও বিদ্যাসাগর: বাংলা গদ্যের রূপকার |
ব্যক্তিত্ব | জন্ম-মৃত্যু | অবদান | উপাধি |
রামমোহন রায় | ১৭৭২–১৮৩৩ | গৌড়ীয় ব্যাকরণ, বেদান্তগ্রন্থ রচনা; সতীদাহ প্রথা বিলোপ আন্দোলন; ব্রাহ্মসমাজ প্রতিষ্ঠা | রাজা রামমোহন রায়; 'বাংলা গদ্যের জনক' |
ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর | ১৮২০–১৮৯১ | বর্ণপরিচয়, শকুন্তলা, সীতার বনবাস; বিধবা বিবাহ আইন প্রণয়ন; বাংলা গদ্যকে পরিমার্জিত করেন | 'বাংলা গদ্যের যথার্থ জনক'; 'দয়ার সাগর' |
✦ বিদ্যাসাগরের বাংলা ভাষায় অবদান বর্ণপরিচয় (১৮৫৫) — বাংলা শিক্ষার ভিত্তি গ্রন্থ; এখনো অনুসরণীয় বাংলা বর্ণমালাকে পরিমার্জন ও সুশৃঙ্খল করেন যতিচিহ্নের ব্যাপক প্রচলন করেন বাংলা গদ্যে সরল, প্রাঞ্জল ও সুষমবদ্ধ বাংলা গদ্যরীতি প্রতিষ্ঠা করেন মেয়েদের শিক্ষার জন্য বিদ্যালয় স্থাপন করেন সংস্কৃত কলেজের অধ্যক্ষ হিসেবে শিক্ষার আধুনিকীকরণ |
১২ রবীন্দ্রনাথ ও নজরুল: আধুনিক বাংলার দুই মহাকবি |
বিষয় | রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর | কাজী নজরুল ইসলাম |
জন্ম-মৃত্যু | ১৮৬১–১৯৪১ | ১৮৯৯–১৯৭৬ |
জন্মস্থান | জোড়াসাঁকো, কলকাতা | চুরুলিয়া, বর্ধমান, পশ্চিমবঙ্গ |
উপাধি | 'বিশ্বকবি', 'কবিগুরু' | 'বিদ্রোহী কবি', 'জাতীয় কবি' (বাংলাদেশ) |
নোবেল পুরস্কার | ১৯১৩ সালে (গীতাঞ্জলির জন্য) | পাননি |
শ্রেষ্ঠ কীর্তি | গীতাঞ্জলি, গোরা, ঘরে বাইরে, রক্তকরবী | বিদ্রোহী কবিতা, অগ্নিবীণা, চক্রবাক |
বাংলাদেশ সংযোগ | জাতীয় সংগীতের রচয়িতা ('আমার সোনার বাংলা') | জাতীয় কবি |
ভাষায় অবদান | আধুনিক বাংলা সাহিত্যের পূর্ণ বিকাশ; ছন্দ বিপ্লব | বাংলায় ইসলামি ও বিপ্লবী ভাবধারার সমন্বয় |
★ মনে রাখুন রবীন্দ্রনাথের নোবেল পুরস্কার: ১৯১৩ সালে সাহিত্যে নোবেল পান। গীতাঞ্জলির ইংরেজি অনুবাদ 'Song Offerings' নামে প্রকাশিত হলে পাশ্চাত্য বিশ্বে প্রশংসিত হয়। তিনি প্রথম এশিয়ান নোবেলজয়ী। |
চতুর্থ পর্ব: ভাষা আন্দোলন ও মুক্তিযুদ্ধ ১৯৪৭ – ১৯৭১ খ্রিষ্টাব্দ |
১৩ ১৯৫২-র ভাষা আন্দোলন: বিস্তারিত ইতিহাস |
১৯৪৭ সালে পাকিস্তান প্রতিষ্ঠার পর থেকেই পশ্চিম পাকিস্তানের শাসকগোষ্ঠী উর্দুকে একমাত্র রাষ্ট্রভাষা হিসেবে চাপিয়ে দিতে চেয়েছিল। পূর্ব পাকিস্তানের ৫৬% মানুষের মাতৃভাষা বাংলাকে উপেক্ষা করার এই সিদ্ধান্ত বাঙালির মধ্যে প্রচণ্ড প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করে।
সাল / কাল | ঘটনা / তথ্য |
১৯৪৭, আগস্ট | পাকিস্তান স্বাধীন; শুরু থেকেই উর্দুকে রাষ্ট্রভাষা করার উদ্যোগ |
১৯৪৭, সেপ্টেম্বর | তমদ্দুন মজলিশ গঠন; বাংলাকে রাষ্ট্রভাষা দাবি |
১৯৪৭, ডিসেম্বর | প্রথম রাষ্ট্রভাষা সংগ্রাম পরিষদ গঠন |
১৯৪৮, ২ মার্চ | রাষ্ট্রভাষা সংগ্রাম পরিষদ পুনর্গঠিত; বাংলার দাবিতে আন্দোলন |
১৯৪৮, ১১ মার্চ | প্রথম ভাষা আন্দোলনের দিন — হরতাল ও সংগ্রাম; শেখ মুজিব গ্রেফতার |
১৯৪৮, ১৯ মার্চ | মোহাম্মদ আলী জিন্নাহ ঢাকায় আসেন |
১৯৪৮, ২১ মার্চ | রেসকোর্স ময়দানে জিন্নাহ বলেন: 'Urdu and only Urdu shall be the state language of Pakistan' |
১৯৪৮, ২৪ মার্চ | কার্জন হলে জিন্নাহ আবার উর্দুর পক্ষে বক্তব্য দেন; ছাত্ররা প্রতিবাদ করেন |
১৯৪৮ | আন্দোলন সাময়িক স্থগিত |
১৯৫২, ২৭ জানুয়ারি | প্রধানমন্ত্রী খাজা নাজিমউদ্দিন পল্টনের জনসভায় উর্দুকে রাষ্ট্রভাষা ঘোষণা দেন |
১৯৫২, ৩০ জানুয়ারি | ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে সর্বদলীয় রাষ্ট্রভাষা সংগ্রাম পরিষদ গঠন |
১৯৫২, ২০ ফেব্রুয়ারি | সরকার ১৪৪ ধারা জারি করে ঢাকায় সমাবেশ নিষিদ্ধ করে |
১৯৫২, ২১ ফেব্রুয়ারি | ছাত্ররা ১৪৪ ধারা ভেঙে মিছিল বের করেন; পুলিশের গুলিতে সালাম, বরকত, রফিক নিহত |
১৯৫২, ২২ ফেব্রুয়ারি | জব্বার ও শফিউর মৃত্যুবরণ করেন; মেডিকেল কলেজ হোস্টেলে প্রথম শহীদ মিনার নির্মিত |
১৯৫২, ২৩ ফেব্রুয়ারি | সরকার শহীদ মিনার ভেঙে দেয় |
১৯৫৩ | প্রথমবার ২১ ফেব্রুয়ারি শহীদ দিবস হিসেবে পালিত |
১৯৫৬ | পাকিস্তানের সংবিধানে বাংলাকে উর্দুর পাশাপাশি রাষ্ট্রভাষার মর্যাদা দেওয়া হয় |
১৯৭১ | মুক্তিযুদ্ধে স্বাধীন বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠা; বাংলা একমাত্র রাষ্ট্রভাষা |
১৯৭২ | বাংলাদেশ সংবিধানের ৩ নং অনুচ্ছেদে বাংলাকে রাষ্ট্রভাষা ঘোষণা |
১৯৯৯, ১৭ নভেম্বর | UNESCO ২১ ফেব্রুয়ারিকে 'আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস' ঘোষণা করে |
২০০০ | প্রথমবার সারাবিশ্বে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস পালিত |
✦ ভাষা শহীদগণ আবুল বরকত — ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের MA ছাত্র, রাজশাহী জেলার বাসিন্দা; ২১ ফেব্রুয়ারি নিহত রফিকউদ্দিন আহমদ — মানিকগঞ্জ, সিনিয়র প্রিন্টার; ২১ ফেব্রুয়ারি নিহত আব্দুল জব্বার — ময়মনসিংহ, অসুস্থ মাকে দেখতে এসে নিহত; ২১ ফেব্রুয়ারি আবুস সালাম — ফেনী জেলার বাসিন্দা, সরকারি কর্মচারী; ১৭ এপ্রিল ১৯৫২ মৃত্যু শফিউর রহমান — ঢাকার হোসনি দালান এলাকার বাসিন্দা; ২২ ফেব্রুয়ারি মৃত্যু অহিউল্লাহ — ৮-৯ বছরের শিশু; ২২ ফেব্রুয়ারি নিহত |
১৪ স্বাধীনতার পর বাংলা ভাষার বিকাশ |
১৯৭১ সালে স্বাধীন বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠার পর বাংলা ভাষার বিকাশ নতুন মাত্রা পায়। বাংলা একাডেমি প্রতিষ্ঠা, বাংলা ভাষা ও সাহিত্যের গবেষণা, এবং ডিজিটাল বাংলা — সব মিলিয়ে এই যুগে বাংলা ভাষা বিশ্বে আরও মর্যাদার আসনে অধিষ্ঠিত হয়।
সাল / কাল | ঘটনা / তথ্য |
১৯৫৫ | বাংলা একাডেমি প্রতিষ্ঠা — বাংলা ভাষা ও সাহিত্যের গবেষণা কেন্দ্র |
১৯৭১ | বাংলাদেশ স্বাধীন; বাংলা একমাত্র রাষ্ট্রভাষা হিসেবে প্রতিষ্ঠিত |
১৯৭২ | বাংলাদেশ সংবিধান রচিত; ৩নং অনুচ্ছেদে বাংলা রাষ্ট্রভাষা |
১৯৭৩ | বাংলা একাডেমি পুরস্কার প্রবর্তন |
১৯৮৭ | বাংলাদেশে সর্বস্তরে বাংলা ভাষা প্রচলন আইন পাস |
১৯৯৪ | আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসের প্রস্তাব — রফিকুল ইসলাম ও আবদুস সালাম কানাডা থেকে UNESCO-তে আবেদন করেন |
১৯৯৯ | UNESCO ২১ ফেব্রুয়ারিকে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস ঘোষণা করে |
২০০০ | প্রথম আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস বিশ্বব্যাপী পালিত |
২০০২ | আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা ইনস্টিটিউট প্রতিষ্ঠা, ঢাকা |
সাম্প্রতিক | ইউনিকোড বাংলা, বাংলা কম্পিউটিং, ডিজিটাল বাংলাদেশে বাংলার বিকাশ |
১৫ বাংলা ভাষার বৈশ্বিক মর্যাদা ও অবস্থান |
বিষয় | তথ্য |
বিশ্বে অবস্থান | মাতৃভাষীর সংখ্যায় বিশ্বের ৫ম থেকে ৭ম বৃহত্তম ভাষা |
মোট বক্তা | প্রায় ২৭–৩০ কোটি মাতৃভাষী; দ্বিতীয় ভাষাসহ প্রায় ৩৫ কোটি |
নোবেল পুরস্কার | রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর — ১৯১৩ (এশিয়ার প্রথম নোবেলজয়ী) |
আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস | ২১ ফেব্রুয়ারি — UNESCO ঘোষিত (১৯৯৯) |
সিয়েরা লিওন | বাংলাকে সম্মানসূচক সরকারি ভাষার মর্যাদা দিয়েছে |
বাংলাদেশে | একমাত্র রাষ্ট্রভাষা (সংবিধান, ৩নং অনুচ্ছেদ) |
ভারতে | পশ্চিমবঙ্গ ও ত্রিপুরায় সরকারি ভাষা; আসামে সংখ্যালঘু ভাষা |
বাংলা লিপি | ব্রাহ্মী থেকে উদ্ভূত; বাম থেকে ডানে লেখা হয় |
ডিজিটাল বাংলা | ইউনিকোড সমর্থিত; Google, Microsoft-এ বাংলা সমর্থন |
বিশ্বকবির ভাষা | রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর বাংলায় লিখে বিশ্বসাহিত্যে অমর |
১৬ BCS ও ব্যাংক পরীক্ষার দ্রুত রেফারেন্স সারণি |
★ পরীক্ষা-কেন্দ্রিক তথ্য নিচের তথ্যগুলো BCS ৩৫তম থেকে ৪৫তম এবং বিভিন্ন ব্যাংক নিয়োগ পরীক্ষায় বারবার জিজ্ঞেস করা হয়েছে। |
প্রশ্ন | উত্তর |
বাংলা ভাষার উৎস (সুনীতিকুমার মতে) | মাগধী অপভ্রংশ |
বাংলা ভাষার উৎস (শহীদুল্লাহ মতে) | গৌড়ীয় অপভ্রংশ |
ODBL গ্রন্থের লেখক ও প্রকাশকাল | ড. সুনীতিকুমার চট্টোপাধ্যায়, ১৯২৬ |
বাংলা সাহিত্যের প্রাচীনতম নিদর্শন | চর্যাপদ |
চর্যাপদের আবিষ্কারক | হরপ্রসাদ শাস্ত্রী |
চর্যাপদ আবিষ্কারের সাল | ১৯০৭ সাল (নেপালের গ্রন্থাগারে) |
চর্যাপদ প্রকাশের সাল | ১৯১৬ সাল |
চর্যাপদে সম্পূর্ণ পাওয়া পদসংখ্যা | ৪৬টি |
চর্যাপদের সর্বাধিক পদ রচয়িতা | কাহ্নপা (১৩টি পদ) |
চর্যাপদের প্রথম পদ রচয়িতা | লুইপা |
চর্যাপদের ভাষার নাম | সন্ধ্যা ভাষা / আলো-আঁধারির ভাষা |
মধ্যযুগের প্রথম নিদর্শন | শ্রীকৃষ্ণকীর্তন (বড়ু চণ্ডীদাস) |
শ্রীকৃষ্ণকীর্তনের আবিষ্কারক | বসন্তরঞ্জন রায় বিদ্বদ্বল্লভ |
মনসামঙ্গলের বিখ্যাত কবি | বিজয়গুপ্ত, মানিক দত্ত |
চণ্ডীমঙ্গলের শ্রেষ্ঠ কবি | মুকুন্দরাম চক্রবর্তী (কবিকঙ্কণ) |
অন্নদামঙ্গলের রচয়িতা | ভারতচন্দ্র রায়গুণাকর |
বাংলা রামায়ণের রচয়িতা | কৃত্তিবাস ওঝা |
বাংলা মহাভারতের রচয়িতা | কাশীরাম দাস |
রোসাঙ্গ সাহিত্যের শ্রেষ্ঠ কবি | আলাওল |
বাংলা গদ্যের জনক | রামমোহন রায় (সাধারণ মত); বিদ্যাসাগর (উন্নততর গদ্যের) |
বর্ণপরিচয়ের রচয়িতা ও প্রকাশকাল | ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর, ১৮৫৫ |
ফোর্ট উইলিয়াম কলেজ প্রতিষ্ঠা | ১৮০০ সাল |
রবীন্দ্রনাথের নোবেল পুরস্কার | ১৯১৩ সাল, গীতাঞ্জলির জন্য |
জিন্নাহর বিখ্যাত উক্তি | 'Urdu and only Urdu shall be the state language' |
২১ ফেব্রুয়ারির পুলিশের গুলি | প্রথম নিহত: বরকত, রফিক, সালাম |
আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস ঘোষণা | ১৭ নভেম্বর ১৯৯৯, UNESCO |
বাংলা একাডেমি প্রতিষ্ঠা | ১৯৫৫ সাল |
সংবিধানের কোন অনুচ্ছেদে বাংলা রাষ্ট্রভাষা | ৩নং অনুচ্ছেদ |
সিয়েরা লিওনে বাংলা | সম্মানসূচক সরকারি ভাষার মর্যাদা দিয়েছে |
বাংলা লিপির মূল উৎস | ব্রাহ্মী লিপি |
১৭ মূল নীতিসমূহ ও পরীক্ষার চূড়ান্ত কৌশল |
কৌশল ১ | তিনটি যুগ আলাদা করে মনে রাখুন: প্রাচীন (৬৫০–১২০০) = চর্যাপদ; মধ্য (১২০০–১৮০০) = শ্রীকৃষ্ণকীর্তন, মঙ্গলকাব্য, বৈষ্ণব পদাবলি; আধুনিক (১৮০০–বর্তমান) = গদ্য সাহিত্য, রবীন্দ্রনাথ, নজরুল। |
কৌশল ২ | চর্যাপদ সংক্রান্ত সব তথ্য একসাথে: আবিষ্কারক = হরপ্রসাদ শাস্ত্রী; স্থান = নেপাল; সাল = ১৯০৭; প্রকাশ = ১৯১৬; পদ = ৪৬টি সম্পূর্ণ; সর্বাধিক = কাহ্নপা (১৩)। |
কৌশল ৩ | মঙ্গলকাব্য মনে রাখার ছড়া: মনসা (বিজয়গুপ্ত) + চণ্ডী (মুকুন্দরাম) + ধর্ম (রূপরাম) + অন্নদা (ভারতচন্দ্র)। |
কৌশল ৪ | ভাষা আন্দোলনের সংখ্যাগুলো: ১৯৪৮ (জিন্নাহর ঘোষণা) → ১৯৫২, ২১ ফেব্রু (শহীদ) → ১৯৫৬ (পাক. সংবিধানে স্বীকৃতি) → ১৯৭১ (স্বাধীনতা) → ১৯৯৯ (UNESCO)। |
কৌশল ৫ | 'বাংলা গদ্যের জনক' প্রশ্নে দুটি উত্তর আছে: রামমোহন রায় (প্রথম উদ্যোক্তা) ও বিদ্যাসাগর (প্রথম পরিশীলিত গদ্যলেখক)। প্রশ্নের ধরন বুঝে উত্তর দিন। |