বাংলা ব্যাকরণ অল্পপ্রাণ ও মহাপ্রাণ ধ্বনি |
প্রাণ (Aspiration) কী? |
বাংলা ধ্বনিতত্ত্বে 'প্রাণ' বলতে বোঝায় ব্যঞ্জনধ্বনি উচ্চারণের সময় মুখ থেকে নির্গত বায়ুর পরিমাণ বা শ্বাসবায়ুর চাপ। এই বায়ুপ্রবাহের তীব্রতার ওপর ভিত্তি করে ব্যঞ্জনধ্বনিকে দুই ভাগে ভাগ করা হয় — অল্পপ্রাণ ও মহাপ্রাণ।
সংজ্ঞা: প্রাণত্ব (Aspiration) ব্যঞ্জনধ্বনি উচ্চারণের সময় ফুসফুস থেকে নির্গত বায়ু গলনালি (glottis) দিয়ে বেরিয়ে আসার যে বিশেষ ধরন, তাকে ধ্বনিবিজ্ঞানে 'প্রাণত্ব' বা Aspiration বলে। যে ধ্বনিতে বায়ুর চাপ কম তা অল্পপ্রাণ এবং যে ধ্বনিতে বায়ুর চাপ বেশি তা মহাপ্রাণ। |
★ পরীক্ষায় আসে বাংলা ব্যঞ্জনবর্ণের শ্রেণিবিভাগে 'অল্পপ্রাণ ও মহাপ্রাণ' একটি মৌলিক ধারণা। BCS প্রিলিমিনারিতে এই বিষয় থেকে প্রায় প্রতিবারই প্রশ্ন আসে। বিশেষ করে কোনটি অল্পপ্রাণ, কোনটি মহাপ্রাণ — এই ধরনের সনাক্তকরণ প্রশ্ন সবচেয়ে বেশি আসে। |
অল্পপ্রাণ ও মহাপ্রাণ ধ্বনির সংজ্ঞা |
◆ অল্পপ্রাণ ধ্বনি (Unaspirated Sound) |
সংজ্ঞা: অল্পপ্রাণ ধ্বনি যে ব্যঞ্জনধ্বনি উচ্চারণের সময় ফুসফুস থেকে বায়ু অল্প চাপে বা স্বাভাবিকভাবে বের হয় এবং মুখবিবর থেকে বায়ু তীব্রভাবে নির্গত হয় না, তাকে অল্পপ্রাণ ধ্বনি বলে। অর্থাৎ এই ধ্বনিগুলো উচ্চারণে শ্বাসবায়ুর প্রবাহ কম। |
সহজ ভাষায়: যে ব্যঞ্জনধ্বনি উচ্চারণে কম বাতাস বের হয় = অল্পপ্রাণ। হাত মুখের সামনে ধরলে বাতাসের ঝাপটা কম অনুভূত হবে।
ইংরেজিতে: Unaspirated Sound
◆ মহাপ্রাণ ধ্বনি (Aspirated Sound) |
সংজ্ঞা: মহাপ্রাণ ধ্বনি যে ব্যঞ্জনধ্বনি উচ্চারণের সময় ফুসফুস থেকে বায়ু অধিক চাপে বা তীব্রভাবে বের হয় এবং মুখবিবর থেকে বায়ু জোরে নির্গত হয়, তাকে মহাপ্রাণ ধ্বনি বলে। এই ধ্বনিগুলো উচ্চারণে 'হ'-এর মতো একটি অতিরিক্ত শ্বাসবায়ু যুক্ত থাকে। |
সহজ ভাষায়: যে ব্যঞ্জনধ্বনি উচ্চারণে বেশি বাতাস বের হয় = মহাপ্রাণ। হাত মুখের সামনে ধরলে বাতাসের ঝাপটা স্পষ্ট অনুভূত হবে।
ইংরেজিতে: Aspirated Sound
মনে রাখার কৌশল: 'মহা' = বড়/বেশি, 'প্রাণ' = বায়ু/শ্বাস → মহাপ্রাণ = বেশি বায়ু।
অল্পপ্রাণ ও মহাপ্রাণ ধ্বনির মূল পার্থক্য |
বিষয় | অল্পপ্রাণ | মহাপ্রাণ |
বায়ুপ্রবাহ | কম / স্বাভাবিক | বেশি / তীব্র |
উচ্চারণ কৌশল | সাধারণ শ্বাসে উচ্চারিত | অতিরিক্ত শ্বাসবায়ু সহ উচ্চারিত ('হ' যোগ) |
হাত-পরীক্ষা | হাতে বাতাস কম লাগে | হাতে বাতাসের ঝাপটা স্পষ্ট |
বর্গের অবস্থান | প্রতিটি বর্গের ১ম ও ৩য় ধ্বনি | প্রতিটি বর্গের ২য় ও ৪র্থ ধ্বনি |
ইংরেজি পরিভাষা | Unaspirated | Aspirated |
সংখ্যা | ১৮টি ব্যঞ্জনধ্বনি | ১২টি ব্যঞ্জনধ্বনি (+ হ) |
উদাহরণ | ক, গ, চ, জ, ট, ড, ত, দ, প, ব | খ, ঘ, ছ, ঝ, ঠ, ঢ, থ, ধ, ফ, ভ |
⚠ গুরুত্বপূর্ণ পার্থক্য অল্পপ্রাণ ও মহাপ্রাণের পার্থক্য শুধু বায়ুপ্রবাহের তীব্রতায়, উচ্চারণ স্থানে নয়। একই বর্গের অল্পপ্রাণ ও মহাপ্রাণ ধ্বনি একই স্থান থেকে উচ্চারিত হয়। যেমন: 'ক' ও 'খ' উভয়ই কণ্ঠ্য ধ্বনি — শুধু 'খ'-তে বায়ুচাপ বেশি। |
বর্গভিত্তিক অল্পপ্রাণ ও মহাপ্রাণ ধ্বনি |
বাংলা ব্যঞ্জনবর্ণমালায় পাঁচটি বর্গ আছে। প্রতিটি বর্গে ৫টি করে ধ্বনি থাকে। এর মধ্যে ১ম ও ৩য় ধ্বনি অল্পপ্রাণ এবং ২য় ও ৪র্থ ধ্বনি মহাপ্রাণ। ৫ম ধ্বনি নাসিক্য ধ্বনি।
বর্গ | ১ম ধ্বনি (অল্পপ্রাণ) | ২য় ধ্বনি (মহাপ্রাণ) | ৩য় ধ্বনি (অল্পপ্রাণ) | ৪র্থ ধ্বনি (মহাপ্রাণ) | ৫ম ধ্বনি (নাসিক্য) |
ক-বর্গ (কণ্ঠ্য) | ক | খ | গ | ঘ | ঙ |
চ-বর্গ (তালব্য) | চ | ছ | জ | ঝ | ঞ |
ট-বর্গ (মূর্ধন্য) | ট | ঠ | ড | ঢ | ণ |
ত-বর্গ (দন্ত্য) | ত | থ | দ | ধ | ন |
প-বর্গ (ওষ্ঠ্য) | প | ফ | ব | ভ | ম |
★ পরীক্ষায় আসে মনে রাখুন: প্রতিটি বর্গে ১ম + ৩য় = অল্পপ্রাণ, ২য় + ৪র্থ = মহাপ্রাণ, ৫ম = নাসিক্য। এই প্যাটার্ন মুখস্থ করলে যেকোনো ধ্বনি চিহ্নিত করা সহজ হবে। |
অল্পপ্রাণ ও মহাপ্রাণ ধ্বনি |
◆ অল্পপ্রাণ ধ্বনিসমূহ (১৮টি) |
ধ্বনি | উচ্চারণ স্থান | বৈশিষ্ট্য | উদাহরণ |
ক | কণ্ঠ্য | অঘোষ অল্পপ্রাণ | কলম, কাক, বাক |
গ | কণ্ঠ্য | ঘোষ অল্পপ্রাণ | গরু, গান, বাগ |
চ | তালব্য | অঘোষ অল্পপ্রাণ | চাঁদ, চোখ, বাচ |
জ | তালব্য | ঘোষ অল্পপ্রাণ | জল, জন, রাজ |
ট | মূর্ধন্য | অঘোষ অল্পপ্রাণ | টাকা, ঘট |
ড | মূর্ধন্য | ঘোষ অল্পপ্রাণ | ডাক, বাড |
ত | দন্ত্য | অঘোষ অল্পপ্রাণ | তারা, তীর, হাত |
দ | দন্ত্য | ঘোষ অল্পপ্রাণ | দিন, দেশ, নদ |
প | ওষ্ঠ্য | অঘোষ অল্পপ্রাণ | পাখি, পানি, সাপ |
ব | ওষ্ঠ্য | ঘোষ অল্পপ্রাণ | বই, বন, শব |
শ | তালব্য | অঘোষ অল্পপ্রাণ | শিশু, শাখা |
ষ | মূর্ধন্য | অঘোষ অল্পপ্রাণ | ষাঁড়, কষ্ট |
স | দন্ত্য | অঘোষ অল্পপ্রাণ | সকাল, সাপ |
ঙ | কণ্ঠ্য | ঘোষ অল্পপ্রাণ (নাসিক্য) | বাংলা, রং |
ঞ | তালব্য | ঘোষ অল্পপ্রাণ (নাসিক্য) | মিঞা, চাঞ্চল্য |
ণ | মূর্ধন্য | ঘোষ অল্পপ্রাণ (নাসিক্য) | বাণ, গণ |
ন | দন্ত্য | ঘোষ অল্পপ্রাণ (নাসিক্য) | নদী, নাম, বন |
ম | ওষ্ঠ্য | ঘোষ অল্পপ্রাণ (নাসিক্য) | মাছ, মন, নাম |
◆ মহাপ্রাণ ধ্বনিসমূহ (১৩টি) |
ধ্বনি | উচ্চারণ স্থান | বৈশিষ্ট্য | উদাহরণ |
খ | কণ্ঠ্য | অঘোষ মহাপ্রাণ | খবর, খাতা, মুখ |
ঘ | কণ্ঠ্য | ঘোষ মহাপ্রাণ | ঘর, ঘোড়া, মেঘ |
ছ | তালব্য | অঘোষ মহাপ্রাণ | ছবি, ছাতা, গাছ |
ঝ | তালব্য | ঘোষ মহাপ্রাণ | ঝড়, ঝরনা |
ঠ | মূর্ধন্য | অঘোষ মহাপ্রাণ | ঠাণ্ডা, কাঠ |
ঢ | মূর্ধন্য | ঘোষ মহাপ্রাণ | ঢাকা, ঢোল |
থ | দন্ত্য | অঘোষ মহাপ্রাণ | থালা, হাথ |
ধ | দন্ত্য | ঘোষ মহাপ্রাণ | ধান, ধরা, নদ |
ফ | ওষ্ঠ্য | অঘোষ মহাপ্রাণ | ফুল, ফল |
ভ | ওষ্ঠ্য | ঘোষ মহাপ্রাণ | ভাত, ভোর, সভা |
ড় | মূর্ধন্য | ঘোষ মহাপ্রাণ (তাড়নজাত) | আড়, বাড়ি |
ঢ় | মূর্ধন্য | ঘোষ মহাপ্রাণ (তাড়নজাত) | গাঢ়, আষাঢ় |
হ | কণ্ঠ্য | অঘোষ মহাপ্রাণ (ঊষ্ম) | হাত, হাওয়া |
★ পরীক্ষায় আসে ড় ও ঢ় তাড়নজাত মহাপ্রাণ ধ্বনি। 'হ' ধ্বনিটি ঊষ্ম মহাপ্রাণ। নাসিক্য ধ্বনিগুলো (ঙ, ঞ, ণ, ন, ম) সবসময় অল্পপ্রাণ — কারণ নাসিক্য ধ্বনিতে বায়ু নাক দিয়ে বের হয়, মুখ দিয়ে তীব্র বায়ু বের হয় না। |
উচ্চারণ কৌশল ও চিনবার উপায় |
অল্পপ্রাণ ও মহাপ্রাণ ধ্বনি চিনতে হলে উচ্চারণ অনুশীলন খুবই গুরুত্বপূর্ণ। নিচের কৌশলগুলো অনুসরণ করুন:
কৌশল ১: হাত-পরীক্ষা (Aspiration Test) একটি হাত মুখের সামনে ৩-৪ ইঞ্চি দূরে রাখুন। এবার ধ্বনিটি জোরে উচ্চারণ করুন। • অল্পপ্রাণ (ক, গ, চ, ত, প...): হাতে বায়ুর ঝাপটা কম বা নেই। • মহাপ্রাণ (খ, ঘ, ছ, থ, ফ...): হাতে স্পষ্ট বায়ুর ঝাপটা অনুভূত হবে। |
কৌশল ২: 'হ' যোগ পরীক্ষা প্রতিটি মহাপ্রাণ ধ্বনিকে তার অল্পপ্রাণ রূপ + 'হ' হিসেবে ভাবুন: খ = ক + হ, ঘ = গ + হ, ছ = চ + হ, ঝ = জ + হ ঠ = ট + হ, ঢ = ড + হ, থ = ত + হ, ধ = দ + হ ফ = প + হ, ভ = ব + হ অর্থাৎ মহাপ্রাণ = অল্পপ্রাণ + অতিরিক্ত বায়ু ('হ'-কার) |
কৌশল ৩: বর্গ-প্যাটার্ন মুখস্থ করুন প্রতিটি বর্গে ৫টি ধ্বনির ক্রম একই: ১ম (অঘোষ অল্পপ্রাণ) → ২য় (অঘোষ মহাপ্রাণ) → ৩য় (ঘোষ অল্পপ্রাণ) → ৪র্থ (ঘোষ মহাপ্রাণ) → ৫ম (নাসিক্য) মনে রাখুন: বিজোড় (১ম, ৩য়, ৫ম) = অল্পপ্রাণ; জোড় (২য়, ৪র্থ) = মহাপ্রাণ |
ঘোষত্ব ও প্রাণত্বের সম্মিলিত শ্রেণিবিভাগ |
ব্যঞ্জনধ্বনির শ্রেণিবিভাগে দুটি বৈশিষ্ট্য একসাথে কাজ করে: (১) ঘোষত্ব (Voicing) — স্বরতন্ত্রী কম্পিত হয় কি না এবং (২) প্রাণত্ব (Aspiration) — বায়ুপ্রবাহ কম না বেশি। এই দুটি বৈশিষ্ট্যের সংমিশ্রণে চারটি শ্রেণি তৈরি হয়:
শ্রেণি | বৈশিষ্ট্য | ধ্বনিসমূহ |
অঘোষ অল্পপ্রাণ | স্বরতন্ত্রী কম্পিত হয় না + কম বায়ু | ক, চ, ট, ত, প |
অঘোষ মহাপ্রাণ | স্বরতন্ত্রী কম্পিত হয় না + বেশি বায়ু | খ, ছ, ঠ, থ, ফ |
ঘোষ অল্পপ্রাণ | স্বরতন্ত্রী কম্পিত হয় + কম বায়ু | গ, জ, ড, দ, ব |
ঘোষ মহাপ্রাণ | স্বরতন্ত্রী কম্পিত হয় + বেশি বায়ু | ঘ, ঝ, ঢ, ধ, ভ |
ঘোষ ও অঘোষ কী? ধ্বনি উচ্চারণের সময় স্বরতন্ত্রী (vocal cords) কম্পিত হলে সেই ধ্বনিকে ঘোষ (Voiced) ধ্বনি বলে। যেমন: গ, জ, ড, দ, ব। আর স্বরতন্ত্রী কম্পিত না হলে তাকে অঘোষ (Voiceless) ধ্বনি বলে। যেমন: ক, চ, ট, ত, প। গলায় হাত রেখে উচ্চারণ করলে ঘোষ ধ্বনিতে কম্পন অনুভূত হয়। |
অন্তঃস্থ ও ঊষ্ম ধ্বনির প্রাণত্ব |
পাঁচটি বর্গের বাইরে যে ব্যঞ্জনধ্বনিগুলো আছে সেগুলোর প্রাণত্ব নিম্নরূপ:
ধ্বনি | শ্রেণি | বৈশিষ্ট্য | প্রাণত্ব | উদাহরণ |
য | অন্তঃস্থ | তালব্য, ঘোষ | অল্পপ্রাণ | যাওয়া, যম |
র | অন্তঃস্থ | দন্ত্য, ঘোষ | অল্পপ্রাণ | রাত, নর |
ল | অন্তঃস্থ | দন্ত্য, ঘোষ | অল্পপ্রাণ | লাল, ফল |
শ | ঊষ্ম | তালব্য, অঘোষ | অল্পপ্রাণ | শিশু, আশ |
ষ | ঊষ্ম | মূর্ধন্য, অঘোষ | অল্পপ্রাণ | ষাঁড়, কষ্ট |
স | ঊষ্ম | দন্ত্য, অঘোষ | অল্পপ্রাণ | সূর্য, বাস |
হ | ঊষ্ম | কণ্ঠ্য, অঘোষ | মহাপ্রাণ | হাত, হাওয়া |
ড় | তাড়নজাত | মূর্ধন্য, ঘোষ | মহাপ্রাণ | বাড়ি, আড় |
ঢ় | তাড়নজাত | মূর্ধন্য, ঘোষ | মহাপ্রাণ | গাঢ়, আষাঢ় |
য় | অর্ধস্বর | তালব্য, ঘোষ | অল্পপ্রাণ | যায়, নয় |
⚠ বিশেষ মনে রাখুন 'হ' ধ্বনিটি ঊষ্ম বর্গের হলেও মহাপ্রাণ — কারণ এটি উচ্চারণে প্রচুর বায়ু নির্গত হয়। অন্যদিকে শ, ষ, স — এরা ঊষ্ম ধ্বনি হলেও অল্পপ্রাণ। ড় ও ঢ় তাড়নজাত মহাপ্রাণ ধ্বনি — পরীক্ষায় এদের নিয়ে প্রশ্ন আসে। |
এক নজরে সারসংক্ষেপ |
অল্পপ্রাণ ধ্বনি (১৮টি) | মহাপ্রাণ ধ্বনি (১৩টি) |
ক, গ, চ, জ, ট, ড, ত, দ, প, ব শ, ষ, স ঙ, ঞ, ণ, ন, ম য, র, ল, য় | খ, ঘ, ছ, ঝ, ঠ, ঢ, থ, ধ, ফ, ভ হ ড়, ঢ় |
মনে রাখার সূত্র বর্গীয় ব্যঞ্জনে: বিজোড় অবস্থান (১ম, ৩য়, ৫ম) = অল্পপ্রাণ; জোড় অবস্থান (২য়, ৪র্থ) = মহাপ্রাণ। বর্গবহির্ভূত: শ, ষ, স = অল্পপ্রাণ; হ, ড়, ঢ় = মহাপ্রাণ। নাসিক্য ধ্বনি (ঙ, ঞ, ণ, ন, ম) সবসময় অল্পপ্রাণ। |
প্রশ্ন ও অনুশীলনী |
1. নিচের কোনটি মহাপ্রাণ ধ্বনি?
ক) ক
খ) খ
গ) গ
ঘ) ঙ
✔ উত্তর: খ) খ
ব্যাখ্যা: 'খ' ক-বর্গের ২য় ধ্বনি, অর্থাৎ অঘোষ মহাপ্রাণ। 'ক' অল্পপ্রাণ, 'গ' অল্পপ্রাণ, 'ঙ' নাসিক্য অল্পপ্রাণ।
2. অল্পপ্রাণ ধ্বনি কোনটি?
ক) ঘ
খ) ঝ
গ) ড
ঘ) ঢ
✔ উত্তর: গ) ড
ব্যাখ্যা: 'ড' ট-বর্গের ৩য় ধ্বনি, অর্থাৎ ঘোষ অল্পপ্রাণ। ঘ, ঝ, ঢ সবই মহাপ্রাণ (বর্গের ৪র্থ/২য় ধ্বনি)।
3. 'ভ' ধ্বনিটি কোন শ্রেণির?
ক) অঘোষ অল্পপ্রাণ
খ) অঘোষ মহাপ্রাণ
গ) ঘোষ অল্পপ্রাণ
ঘ) ঘোষ মহাপ্রাণ
✔ উত্তর: ঘ) ঘোষ মহাপ্রাণ
ব্যাখ্যা: 'ভ' প-বর্গের ৪র্থ ধ্বনি — ঘোষ ও মহাপ্রাণ উভয়ই।
4. মহাপ্রাণ ধ্বনি উচ্চারণে কোনটি বেশি থাকে?
ক) নাসিক্যতা
খ) বায়ুপ্রবাহ
গ) ঘোষত্ব
ঘ) কম্পন
✔ উত্তর: খ) বায়ুপ্রবাহ
ব্যাখ্যা: মহাপ্রাণ ধ্বনিতে অতিরিক্ত বায়ুপ্রবাহ তীব্র হয়।
5. নাসিক্য ধ্বনি কোন ধরনের?
ক) মহাপ্রাণ
খ) অল্পপ্রাণ
গ) ঊষ্ম
ঘ) তাড়নজাত
✔ উত্তর: খ) অল্পপ্রাণ
ব্যাখ্যা: সকল নাসিক্য ধ্বনি (ঙ, ঞ, ণ, ন, ম) অল্পপ্রাণ কারণ নাক দিয়ে বায়ু বের হয়।
6. 'হ' ধ্বনিটি কোন শ্রেণির?
ক) অল্পপ্রাণ
খ) মহাপ্রাণ
গ) নাসিক্য
ঘ) তাড়নজাত
✔ উত্তর: খ) মহাপ্রাণ
ব্যাখ্যা: 'হ' ঊষ্ম ধ্বনি হলেও মহাপ্রাণ — কারণ এতে প্রচুর বায়ু নির্গত হয়।
7. ঊষ্ম ধ্বনিগুলোর মধ্যে কোনটি মহাপ্রাণ?
ক) শ
খ) ষ
গ) স
ঘ) হ
✔ উত্তর: ঘ) হ
ব্যাখ্যা: শ, ষ, স — তিনটিই অল্পপ্রাণ। শুধু 'হ' ঊষ্ম ধ্বনিদের মধ্যে মহাপ্রাণ।
8. বর্গীয় ব্যঞ্জনে মহাপ্রাণ ধ্বনি কোন অবস্থানে থাকে?
ক) ১ম ও ২য়
খ) ২য় ও ৪র্থ
গ) ৩য় ও ৫ম
ঘ) ১ম ও ৫ম
✔ উত্তর: খ) ২য় ও ৪র্থ
ব্যাখ্যা: প্রতিটি বর্গে ২য় ও ৪র্থ ধ্বনি মহাপ্রাণ, ১ম ও ৩য় অল্পপ্রাণ।
9. 'ড়' ও 'ঢ়' কোন ধরনের ধ্বনি?
ক) অল্পপ্রাণ
খ) মহাপ্রাণ
গ) নাসিক্য
ঘ) অন্তঃস্থ
✔ উত্তর: খ) মহাপ্রাণ
ব্যাখ্যা: ড় ও ঢ় তাড়নজাত মহাপ্রাণ ধ্বনি।
10. 'থ' ধ্বনিটি কোন বর্গের কততম ধ্বনি?
ক) ক-বর্গ, ২য়
খ) ত-বর্গ, ২য়
গ) ত-বর্গ, ৪র্থ
ঘ) ট-বর্গ, ২য়
✔ উত্তর: খ) ত-বর্গ, ২য়
ব্যাখ্যা: 'থ' ত-বর্গের ২য় ধ্বনি (অঘোষ মহাপ্রাণ)।
11. নিচের কোনটি 'ঘোষ অল্পপ্রাণ' ধ্বনি?
ক) ক
খ) খ
গ) গ
ঘ) ঘ
✔ উত্তর: গ) গ
ব্যাখ্যা: 'গ' ক-বর্গের ৩য় ধ্বনি — ঘোষ ও অল্পপ্রাণ।
12. অল্পপ্রাণ ধ্বনি মোট কতটি?
ক) ১০টি
খ) ১৩টি
গ) ১৫টি
ঘ) ১৮টি
✔ উত্তর: ঘ) ১৮টি
ব্যাখ্যা: বর্গীয় ১০ + নাসিক্য ৫ + ঊষ্ম ৩ (শ, ষ, স) = ১৮ (+ অন্তঃস্থ য, র, ল ধরলে আরও বেশি)।
13. মহাপ্রাণ ধ্বনি চেনার সবচেয়ে সহজ উপায় কী?
ক) উচ্চারণে ঠোঁট গোল হয়
খ) উচ্চারণে বায়ু বেশি নির্গত হয়
গ) উচ্চারণে নাক দিয়ে বায়ু বের হয়
ঘ) উচ্চারণে জিভ উল্টায়
✔ উত্তর: খ) উচ্চারণে বায়ু বেশি নির্গত হয়
ব্যাখ্যা: মহাপ্রাণ ধ্বনির মূল বৈশিষ্ট্যই হলো অতিরিক্ত বায়ুপ্রবাহ।
14. 'প্রাণ' শব্দটি ধ্বনিবিজ্ঞানে কী অর্থে ব্যবহৃত?
ক) জীবন
খ) বায়ুপ্রবাহ/শ্বাসবায়ু
গ) শব্দ
ঘ) কম্পন
✔ উত্তর: খ) বায়ুপ্রবাহ/শ্বাসবায়ু
ব্যাখ্যা: ধ্বনিবিজ্ঞানে 'প্রাণ' বলতে উচ্চারণকালীন বায়ুপ্রবাহকে বোঝায়।
15. কোনটি সঠিক জোড়া?
ক) ক-খ: দুটোই অল্পপ্রাণ
খ) গ-ঘ: দুটোই মহাপ্রাণ
গ) চ-ছ: অল্পপ্রাণ-মহাপ্রাণ
ঘ) ট-ণ: দুটোই মহাপ্রাণ
✔ উত্তর: গ) চ-ছ: অল্পপ্রাণ-মহাপ্রাণ
ব্যাখ্যা: 'চ' অল্পপ্রাণ (১ম), 'ছ' মহাপ্রাণ (২য়) — সঠিক জোড়া।