শব্দ ও শব্দের শ্রেণিবিভাগ
১. ভূমিকা
ভাষার মূল উপাদান হলো শব্দ। আমরা প্রতিদিন যেসব শব্দ ব্যবহার করি, সেগুলোর রয়েছে বিচিত্র উৎপত্তি, ভিন্ন গঠনপ্রকৃতি এবং আলাদা অর্থ-বৈশিষ্ট্য। বাংলা ভাষায় শব্দের সংখ্যা অগণিত-কিছু শব্দ সংস্কৃত থেকে, কিছু আরবি-ফারসি থেকে, কিছু ইংরেজি থেকে, আবার কিছু সম্পূর্ণ দেশীয় উৎস থেকে এসেছে। এই বিচিত্র শব্দভাণ্ডারকে সুশৃঙ্খলভাবে বোঝার জন্য ব্যাকরণ বিভিন্ন দৃষ্টিকোণ থেকে শব্দের শ্রেণিবিভাগ করে।
২. শব্দ কী
এক বা একাধিক বর্ণ মিলে যদি কোনো অর্থ প্রকাশ পায়, তবে তাকে শব্দ বলে।
সংজ্ঞা | অর্থপূর্ণ ধ্বনি বা ধ্বনিসমষ্টিকে শব্দ বলে। 📝 একটি বর্ণও শব্দ হতে পারে যদি তার অর্থ থাকে। যেমন: 'আ' (ব্যথার শব্দ)। |
বিষয় | বিবরণ |
শব্দের উপাদান | ধ্বনি বা বর্ণ |
শব্দের বৈশিষ্ট্য | অর্থবোধকতা |
শব্দ ও বাক্যের পার্থক্য | শব্দ অর্থ প্রকাশ করে; বাক্য পূর্ণ মনোভাব প্রকাশ করে |
শব্দ ও পদের পার্থক্য | শব্দ বাক্যে ব্যবহৃত হলে পদ হয় |
৩. শব্দের শ্রেণিবিভাগের ভিত্তি
বাংলা ব্যাকরণে শব্দকে মূলত তিনটি দৃষ্টিকোণ থেকে শ্রেণিবদ্ধ করা হয়:
দৃষ্টিকোণ ১-উৎপত্তি বা উৎস অনুযায়ী (Origin-based) → তৎসম, অর্ধতৎসম, তদ্ভব, দেশি, বিদেশি দৃষ্টিকোণ ২-গঠন অনুযায়ী (Structure-based) → মৌলিক শব্দ, সাধিত শব্দ দৃষ্টিকোণ ৩-অর্থ অনুযায়ী (Meaning-based) → যোগরূঢ়, রূঢ়ি, যৌগিক |
বিভাগ ক: উৎপত্তি বা উৎস অনুযায়ী শব্দের শ্রেণিবিভাগ |
৪. উৎপত্তি অনুযায়ী শব্দের শ্রেণিবিভাগ
উৎপত্তির ভিত্তিতে বাংলা শব্দকে পাঁচটি প্রধান শ্রেণিতে ভাগ করা হয়:
শ্রেণি | সংক্ষিপ্ত পরিচয় | উদাহরণ |
তৎসম | সংস্কৃত থেকে সরাসরি | চন্দ্র, সূর্য, জল, নদী |
অর্ধতৎসম | সংস্কৃত থেকে আংশিক পরিবর্তিত | জ্যোছনা, ছেরাদ্দ, কুচ্ছিত |
তদ্ভব | সংস্কৃত থেকে পুরোপুরি পরিবর্তিত | চাঁদ, সোনা, হাত, মাথা |
দেশি | দেশীয় (অসংস্কৃত) উৎস | কুড়া, ঢেঁকি, চুলা, পেট |
বিদেশি | আরবি, ফারসি, ইংরেজি ইত্যাদি | কলম, জানালা, টেবিল, চেয়ার |
৪.১ তৎসম শব্দ
যে সমস্ত শব্দ সংস্কৃত ভাষা থেকে সরাসরি কোনো পরিবর্তন ছাড়াই বাংলায় গৃহীত হয়েছে, তাদের তৎসম শব্দ বলে। 'তৎসম' শব্দের অর্থ 'তার সমান' অর্থাৎ সংস্কৃতের সমান।
তৎসম | সংস্কৃত থেকে সরাসরি অপরিবর্তিতভাবে গৃহীত শব্দ 📝 এই শব্দগুলো সংস্কৃত ব্যাকরণের নিয়ম মেনে চলে-তাই ণ-ত্ব বিধান ও ষ-ত্ব বিধান প্রযোজ্য হয়। |
তৎসম শব্দ-উদাহরণ | |
চন্দ্র | সংস্কৃত চন্দ্র → বাংলা চন্দ্র (moon) |
সূর্য | সংস্কৃত সূর্য → বাংলা সূর্য (sun) |
জল | সংস্কৃত জল → বাংলা জল (water) |
নদী | সংস্কৃত নদী → বাংলা নদী (river) |
পুষ্প | সংস্কৃত পুষ্প → বাংলা পুষ্প (flower) |
আকাশ | সংস্কৃত আকাশ → বাংলা আকাশ (sky) |
বায়ু | সংস্কৃত বায়ু → বাংলা বায়ু (air/wind) |
মানব | সংস্কৃত মানব → বাংলা মানব (human) |
ধর্ম | সংস্কৃত ধর্ম → বাংলা ধর্ম (religion) |
কর্ম | সংস্কৃত কর্ম → বাংলা কর্ম (work/deed) |
গৃহ | সংস্কৃত গৃহ → বাংলা গৃহ (home) |
বিদ্যা | সংস্কৃত বিদ্যা → বাংলা বিদ্যা (knowledge) |
তৎসম শব্দের বৈশিষ্ট্য: ● ণ-ত্ব বিধান ও ষ-ত্ব বিধান প্রযোজ্য ● বানান সংস্কৃতের মতোই থাকে ● সাহিত্যিক ও আনুষ্ঠানিক ভাষায় বেশি ব্যবহৃত ● এগুলোকে 'খাঁটি সংস্কৃত শব্দ'ও বলা হয় |
৪.২ অর্ধতৎসম শব্দ
যে শব্দগুলো সংস্কৃত থেকে এসেছে কিন্তু বাংলায় আসার পথে আংশিকভাবে পরিবর্তিত হয়েছে, তাদের অর্ধতৎসম শব্দ বলে। এগুলো তৎসম ও তদ্ভব-এর মাঝামাঝি অবস্থানে।
অর্ধতৎসম | সংস্কৃত থেকে আংশিক পরিবর্তনের মধ্য দিয়ে আগত শব্দ 📝 'অর্ধতৎসম' মানে 'অর্ধেক সংস্কৃত সমান'-পুরোপুরি সংস্কৃত নয়, আবার তদ্ভবও নয়। |
অর্ধতৎসম শব্দ-উদাহরণ | |
জ্যোছনা | সংস্কৃত জ্যোৎস্না → অর্ধতৎসম জ্যোছনা |
ছেরাদ্দ | সংস্কৃত শ্রাদ্ধ → অর্ধতৎসম ছেরাদ্দ |
কেষ্ট | সংস্কৃত কৃষ্ণ → অর্ধতৎসম কেষ্ট |
বোষ্টম | সংস্কৃত বৈষ্ণব → অর্ধতৎসম বোষ্টম |
গিন্নি | সংস্কৃত গৃহিণী → অর্ধতৎসম গিন্নি |
কুচ্ছিত | সংস্কৃত কুৎসিত → অর্ধতৎসম কুচ্ছিত |
পিরিত | সংস্কৃত প্রীতি → অর্ধতৎসম পিরিত |
নেমন্তন্ন | সংস্কৃত নিমন্ত্রণ → অর্ধতৎসম নেমন্তন্ন |
৪.৩ তদ্ভব শব্দ
যে শব্দগুলো সংস্কৃত থেকে উদ্ভূত কিন্তু দীর্ঘকাল ধরে ব্যবহারের ফলে উচ্চারণ ও বানানে ব্যাপকভাবে পরিবর্তিত হয়ে বাংলায় এসেছে, তাদের তদ্ভব শব্দ বলে। 'তদ্ভব' মানে 'তা থেকে জাত'।
তদ্ভব | সংস্কৃত থেকে ব্যাপক পরিবর্তনের মধ্য দিয়ে বাংলায় আগত শব্দ 📝 এই শব্দগুলো দেখে আর বোঝা যায় না যে সংস্কৃত থেকে এসেছে। মূল শব্দের সাথে বেশ দূরত্ব তৈরি হয়েছে। |
সংস্কৃত (তৎসম) | বাংলা (তদ্ভব) | পরিবর্তনের ধরন |
চন্দ্র | চাঁদ | ব্যাপক পরিবর্তন |
হস্ত | হাত | ব্যাপক পরিবর্তন |
দুগ্ধ | দুধ | ব্যাপক পরিবর্তন |
কর্ণ | কান | ব্যাপক পরিবর্তন |
নাসিকা | নাক | ব্যাপক পরিবর্তন |
স্বর্ণ | সোনা | ব্যাপক পরিবর্তন |
রাত্রি | রাত | সংক্ষেপণ |
মস্তক | মাথা | ব্যাপক পরিবর্তন |
গ্রাম | গাঁ/গ্রাম | দুটোই চলে |
নয়ন | নয়ন→চোখ | তদ্ভব বহুল |
ক্ষীর | খির | পরিবর্তন |
বধূ | বউ | সংক্ষেপণ ও পরিবর্তন |
৪.৪ দেশি শব্দ
যে শব্দগুলো বাংলাদেশ বা ভারতের আদি অধিবাসীদের ভাষা (মুণ্ডা, কোল, অস্ট্রিক ইত্যাদি) থেকে এসেছে, তাদের দেশি শব্দ বলে। এগুলোর সংস্কৃত বা বিদেশি কোনো উৎস নেই।
দেশি | বাংলাদেশের আদি ভাষাগোষ্ঠী (অস্ট্রিক, মুণ্ডা, দ্রাবিড়) থেকে আগত শব্দ 📝 এই শব্দগুলোর সংস্কৃত উৎস খোঁজে পাওয়া যায় না। বাংলার নিজস্ব ঐতিহ্যবাহী শব্দ। |
দেশি শব্দ-উদাহরণ | |
কুড়া | কুড়ানো (to pick up)-দেশি উৎস |
ঢেঁকি | ধান ভানার যন্ত্র-দেশি উৎস |
চুলা | রান্নার চুলা-দেশি উৎস |
পেট | উদর-দেশি উৎস |
ডাব | কচি নারকেল-দেশি উৎস |
কলা | banana-দেশি উৎস |
চাল | rice grain-দেশি উৎস |
ডাল | lentil-দেশি উৎস |
মাছ | fish-দেশি উৎস |
কুকুর | dog-দেশি উৎস |
ঝোল | thin curry-দেশি উৎস |
নেংটি | loincloth-দেশি উৎস |
৪.৫ বিদেশি শব্দ
বাংলাদেশের ইতিহাস ও বাণিজ্যিক সম্পর্কের সুবাদে অনেক বিদেশি ভাষার শব্দ বাংলায় ঢুকে পড়েছে এবং ব্যাপকভাবে ব্যবহৃত হচ্ছে। এগুলোকে বিদেশি শব্দ বলে।
বিদেশি | আরবি, ফারসি, তুর্কি, পর্তুগিজ, ইংরেজি, ফরাসি ইত্যাদি বিদেশি ভাষা থেকে আগত শব্দ |
আরবি শব্দ (Arabic)
আরবি শব্দ-উদাহরণ | |
আল্লাহ | God (আরবি: আল্লাহ) |
কলম | pen (আরবি: কলম) |
কিতাব | book (আরবি: কিতাব) |
হিসাব | account (আরবি: হিসাব) |
মসজিদ | mosque (আরবি: মসজিদ) |
আদালত | court (আরবি: আদালত) |
ওকিল | lawyer (আরবি: উকিল) |
দোয়াত | inkpot (আরবি: দাওয়াত) |
এলেম | knowledge (আরবি: ইলম) |
জমিন | land (আরবি: জমিন) |
ফারসি শব্দ (Persian)
ফারসি শব্দ-উদাহরণ | |
জানালা | window (ফারসি: জানালা) |
দরজা | door (ফারসি: দরওয়াজা) |
বাদশাহ | king (ফারসি: বাদশাহ) |
নামাজ | prayer (ফারসি: নামাজ) |
রুটি | bread (ফারসি: রোটি) |
দোকান | shop (ফারসি: দুকান) |
কারখানা | factory (ফারসি: কারখানা) |
খামার | farm (ফারসি: খামার) |
বাগান | garden (ফারসি: বাগান) |
পোশাক | dress (ফারসি: পোশাক) |
তুর্কি শব্দ (Turkish)
তুর্কি শব্দ-উদাহরণ | |
তোপ | cannon (তুর্কি: তোপ) |
চাকু | knife (তুর্কি: চাকু) |
বন্দুক | gun (তুর্কি: বন্দুক) |
উজির | minister (তুর্কি: ওজির) |
বাবুর্চি | cook (তুর্কি: বাবুর্চি) |
দারোগা | police officer (তুর্কি: দারোগা) |
পর্তুগিজ শব্দ (Portuguese)
পর্তুগিজ শব্দ-উদাহরণ | |
আলপিন | pin (পর্তুগিজ: আলফিনেতে) |
আনারস | pineapple (পর্তুগিজ: আনানাস) |
গির্জা | church (পর্তুগিজ: ইগ্রেজা) |
পাদরি | priest (পর্তুগিজ: পাদ্রি) |
বালতি | bucket (পর্তুগিজ: বালদে) |
সাবান | soap (পর্তুগিজ: সাবাঁও) |
তামাক | tobacco (পর্তুগিজ: তাবাকো) |
মিস্ত্রি | craftsman (পর্তুগিজ: মেস্ত্রে) |
ইংরেজি শব্দ (English)
ইংরেজি শব্দ-উদাহরণ | |
টেবিল | table (ইংরেজি: table) |
চেয়ার | chair (ইংরেজি: chair) |
স্কুল | school (ইংরেজি: school) |
কলেজ | college (ইংরেজি: college) |
ডাক্তার | doctor (ইংরেজি: doctor) |
হাসপাতাল | hospital (ইংরেজি: hospital) |
রেলগাড়ি | railway train (ইংরেজি: rail) |
বাস | bus (ইংরেজি: bus) |
অফিস | office (ইংরেজি: office) |
ফোন | phone (ইংরেজি: phone) |
অন্যান্য বিদেশি শব্দ
ভাষা | শব্দ | অর্থ |
ফরাসি (French) | রেস্তোরাঁ | restaurant |
ফরাসি (French) | ব্যালে | ballet |
ডাচ (Dutch) | ইস্কাপন | spade (তাস) |
জাপানি | রিকশা | rickshaw |
চিনা | চা | tea |
চিনা | লিচু | lychee |
মালয় | সাগু | sago |
হিন্দি | লাড্ডু | sweet ball |
বিভাগ খ: গঠন অনুযায়ী শব্দের শ্রেণিবিভাগ |
৫. গঠন অনুযায়ী শব্দের শ্রেণিবিভাগ
গঠনগত দিক থেকে বাংলা শব্দকে দুটি প্রধান ভাগে ভাগ করা হয়:
৫.১ মৌলিক শব্দ
যে শব্দকে বিশ্লেষণ করলে আর কোনো অর্থপূর্ণ অংশ পাওয়া যায় না, তাকে মৌলিক শব্দ বলে। এগুলো ভাষার ক্ষুদ্রতম অর্থপূর্ণ একক।
মৌলিক শব্দ | যে শব্দকে আর ভাঙা যায় না বা ভাঙলে অর্থ পাওয়া যায় না, তাই মৌলিক শব্দ। 📝 মৌলিক শব্দ = ভাষার বীজ। এ থেকেই নতুন শব্দ তৈরি হয়। |
মৌলিক শব্দ-উদাহরণ | |
মা | ভাঙলে অর্থ নেই-মৌলিক |
গাছ | ভাঙলে অর্থ নেই-মৌলিক |
হাত | ভাঙলে অর্থ নেই-মৌলিক |
মুখ | ভাঙলে অর্থ নেই-মৌলিক |
বই | ভাঙলে অর্থ নেই-মৌলিক |
পাখি | ভাঙলে অর্থ নেই-মৌলিক |
জল | ভাঙলে অর্থ নেই-মৌলিক |
ভাত | ভাঙলে অর্থ নেই-মৌলিক |
নাম | ভাঙলে অর্থ নেই-মৌলিক |
ঘর | ভাঙলে অর্থ নেই-মৌলিক |
৫.২ সাধিত শব্দ
যে শব্দ মৌলিক শব্দ বা ধাতুর সাথে উপসর্গ, প্রত্যয় বা অন্য শব্দ যুক্ত করে গঠিত হয়, তাকে সাধিত শব্দ বলে। এগুলো বিশ্লেষণ করলে একাধিক অর্থপূর্ণ অংশ পাওয়া যায়।
সাধিত শব্দ | মৌলিক শব্দ বা ধাতু থেকে উপসর্গ, প্রত্যয় বা সমাসের মাধ্যমে গঠিত শব্দ |
সাধিত শব্দ তিনটি উপায়ে গঠিত হয়:
পদ্ধতি | সংজ্ঞা | উদাহরণ |
উপসর্গযোগে | শব্দের আগে উপসর্গ যুক্ত করে | প্র+তাপ = প্রতাপ; বি+জয় = বিজয় |
প্রত্যয়যোগে | শব্দের পরে প্রত্যয় যুক্ত করে | ধন+ী = ধনী; বাংলা+দেশ+ই = বাংলাদেশি |
সমাসের মাধ্যমে | দুটি বা বেশি শব্দ একত্রিত করে | মা+বাবা = মা-বাবা; দেশ+প্রেম = দেশপ্রেম |
সাধিত শব্দ-উদাহরণ | |
গাছপালা | গাছ + পালা → সমাসের মাধ্যমে সাধিত |
বাগান | বাগ (বাগ = বাগান) + আন → প্রত্যয়যোগে |
প্রতিদিন | প্রতি + দিন → উপসর্গযোগে সাধিত |
শিক্ষক | শিক্ষা + ক → প্রত্যয়যোগে সাধিত |
লেখক | লেখ + অক → প্রত্যয়যোগে সাধিত |
পড়াশোনা | পড়া + শোনা → সমাসের মাধ্যমে |
বিজয় | বি + জয় → উপসর্গযোগে সাধিত |
অসুখ | অ + সুখ → উপসর্গযোগে সাধিত |
দেশপ্রেম | দেশ + প্রেম → সমাসের মাধ্যমে |
সুখী | সুখ + ই → প্রত্যয়যোগে সাধিত |
৫.৩ মৌলিক ও সাধিত শব্দের পার্থক্য
বিষয় | মৌলিক শব্দ | সাধিত শব্দ |
সংজ্ঞা | ভাঙা যায় না | ভাঙলে অংশ পাওয়া যায় |
গঠন | একক ধ্বনিসমষ্টি | উপসর্গ+মূল বা মূল+প্রত্যয় |
উদাহরণ | মা, গাছ, হাত, জল | লেখক, শিক্ষক, প্রতিদিন |
উৎস | ভাষার ভিত্তি | মৌলিক শব্দ থেকে তৈরি |
সংখ্যা | তুলনায় কম | অনেক বেশি |
বিভাগ গ: অর্থ অনুযায়ী শব্দের শ্রেণিবিভাগ |
৬. অর্থ অনুযায়ী শব্দের শ্রেণিবিভাগ
অর্থের ভিত্তিতে বাংলা শব্দকে তিনটি ভাগে ভাগ করা হয়:
শ্রেণি | সংজ্ঞা | উদাহরণ |
যৌগিক শব্দ | প্রতিটি অংশের অর্থ মিলিয়ে মূল অর্থ পাওয়া যায় | বাঁশি, গায়ক, মৎস্যজীবী |
রূঢ়ি শব্দ | অংশের অর্থ ছাপিয়ে একটি বিশেষ অর্থ পায় | সন্দেশ, পাঞ্জাবি, হস্তী |
যোগরূঢ় শব্দ | অংশের অর্থ সংকুচিত হয়ে বিশেষ অর্থ পায় | পঙ্কজ, রাজপুত, জলধি |
৬.১ যৌগিক শব্দ
যে শব্দের প্রতিটি অর্থপূর্ণ অংশের সম্মিলিত অর্থই সেই শব্দের মূল অর্থ, তাকে যৌগিক শব্দ বলে। অর্থাৎ যোগফল = প্রতিটি অংশের অর্থ।
যৌগিক শব্দ | শব্দের প্রতিটি অংশের যোগফলই মূল অর্থ 📝 যৌগিক = অংশ ১ এর অর্থ + অংশ ২ এর অর্থ = মূল অর্থ |
যৌগিক শব্দ-উদাহরণ | |
বাঁশি | বাঁশ+ই → বাঁশের তৈরি বাদ্যযন্ত্র (অংশের অর্থেই মূল অর্থ) |
গায়ক | গাই+অক → যে গায় (অংশের অর্থেই মূল অর্থ) |
মৎস্যজীবী | মৎস্য+জীবী → মাছ ধরে যে জীবিকা নির্বাহ করে |
শিক্ষক | শিক্ষা+ক → যে শিক্ষা দেয় |
পাঠক | পাঠ+অক → যে পড়ে |
দর্শক | দৃশ+অক → যে দেখে |
কৃষক | কৃষি+অক → যে কৃষি করে |
সাঁতারু | সাঁতার+উ → যে সাঁতার কাটে |
রান্নাঘর | রান্না+ঘর → যে ঘরে রান্না হয় |
পাঠশালা | পাঠ+শালা → যেখানে পড়াশোনা হয় |
৬.২ রূঢ়ি শব্দ
যে শব্দের অংশগুলোর আক্ষরিক অর্থ থাকলেও সামগ্রিকভাবে শব্দটি একটি সম্পূর্ণ ভিন্ন বিশেষ অর্থ বহন করে, তাকে রূঢ়ি শব্দ বলে। এখানে শব্দের ব্যুৎপত্তিগত অর্থ ও প্রচলিত অর্থের মধ্যে পার্থক্য থাকে।
রূঢ়ি শব্দ | অংশের অর্থ থাকলেও প্রচলনের ফলে শব্দটি বিশেষ অর্থ পেয়েছে-সেটাই গ্রাহ্য 📝 রূঢ়ি = প্রচলিত। যুগে যুগে ব্যবহারের ফলে শব্দের অর্থ নির্দিষ্ট হয়ে যায়। |
রূঢ়ি শব্দ-উদাহরণ | |
হস্তী | হস্ত (হাত)+ই → 'যার হাত আছে'-কিন্তু বিশেষভাবে 'হাতি' বোঝায় |
সন্দেশ | সন্+দেশ → 'সংবাদ/খবর' অর্থে, কিন্তু বাংলায় মিষ্টান্ন বিশেষ বোঝায় |
পাঞ্জাবি | পাঞ্জাব+ই → 'পাঞ্জাবের লোক' অর্থে, কিন্তু একটি পোশাক বোঝায় |
বাঁশি | বাঁশ+ই → বাঁশের তৈরি যেকোনো জিনিস হতে পারত, কিন্তু বিশেষভাবে বাদ্যযন্ত্র |
গবেষণা | গো+অন্বেষণ → 'গরু খোঁজা' অর্থ থেকে এখন 'research' অর্থ পেয়েছে |
তৈল | তিল+অ → তিল থেকে তৈরি তেল বোঝাত, এখন যেকোনো তেল |
মধুর | মধু+র → মধুর মতো মিষ্টি, কিন্তু সংগীতে 'সুরেলা' অর্থে প্রচলিত |
কুশল | কু+শল → আক্ষরিক অর্থ ছাপিয়ে 'দক্ষ/ভালো' অর্থে প্রচলিত |
৬.৩ যোগরূঢ় শব্দ
যে শব্দ যৌগিক হলেও সামগ্রিকভাবে একটি বিশেষ সংকুচিত অর্থ বহন করে, তাকে যোগরূঢ় শব্দ বলে। অর্থাৎ অংশগুলোর অর্থ বোঝা গেলেও মূল শব্দটি একটি নির্দিষ্ট বিশেষ বস্তু বা ব্যক্তিকে বোঝায়।
যোগরূঢ় শব্দ | যৌগিক শব্দ হলেও অর্থ সংকুচিত হয়ে একটি বিশেষ অর্থ পেয়েছে 📝 যোগরূঢ় = যৌগিক + রূঢ়ি-র মিশ্রণ। অংশের অর্থ থেকে বিশেষ অর্থে সীমাবদ্ধ। |
যোগরূঢ় শব্দ-উদাহরণ | |
পঙ্কজ | পঙ্ক (কাদা)+জ (জাত) → যা কাদায় জন্মে-কিন্তু বিশেষভাবে শুধু 'পদ্মফুল' বোঝায় |
রাজপুত | রাজা+পুত্র → রাজার পুত্র → কিন্তু বিশেষ একটি জাতি বোঝায় |
জলধি | জল+ধি (ধারণ করে) → সব জলাশয় নয়, বিশেষভাবে 'সমুদ্র' বোঝায় |
পাষাণ | পা (পান করা)+ষাণ → শুধু 'পাথর' বোঝায় |
মহাযান | মহা+যান → বড় যানবাহন নয়, বৌদ্ধধর্মের একটি শাখা বোঝায় |
দশানন | দশ+আনন (মুখ) → দশ মুখওয়ালা-শুধু রাবণকে বোঝায় |
চতুষ্পদ | চার+পদ (পা) → যার চার পা → বিশেষভাবে চতুষ্পদী প্রাণী |
চন্দ্রমুখী | চন্দ্র+মুখ → চাঁদের মতো মুখ-একটি জাতের পদ্মফুলও বোঝায় |
৬.৪ যৌগিক, রূঢ়ি ও যোগরূঢ়-তুলনামূলক আলোচনা
বিষয় | যৌগিক | রূঢ়ি | যোগরূঢ় |
অংশের অর্থ | স্পষ্ট থাকে | থাকে, কিন্তু গ্রাহ্য নয় | স্পষ্ট থাকে |
মূল অর্থ | অংশের যোগফল | সম্পূর্ণ নতুন অর্থ | সংকুচিত বিশেষ অর্থ |
অর্থ নির্ধারণ | বিশ্লেষণ করে | প্রচলন থেকে | বিশেষ সীমাবদ্ধতায় |
উদাহরণ | গায়ক, শিক্ষক | সন্দেশ, হস্তী | পঙ্কজ, জলধি |
মনে রাখার সূত্র | যোগ = অর্থের যোগ | রূঢ় = কঠোর, বদলায় না | যোগ+রূঢ় = দুয়ের মিশেল |
৭. শব্দ ও পদ-পার্থক্য
শব্দ ও পদ নিয়ে অনেকে বিভ্রান্তিতে পড়েন। এই দুটি আলাদা ধারণা:
❌ ভুল / বিভ্রান্তি | ✔ শুদ্ধ / স্পষ্টীকরণ |
শব্দ বাক্যে না থাকলেও অর্থ বহন করে | পদ সর্বদা বাক্যের অংশ হিসেবে ব্যবহৃত হয় |
শব্দ = অর্থপূর্ণ ধ্বনিসমষ্টি (isolated unit) | পদ = বাক্যে ব্যবহৃত শব্দ (used in sentence) |
উদাহরণ: 'মানুষ' একটি শব্দ | উদাহরণ: 'মানুষটি হাঁটছে'-এখানে 'মানুষটি' একটি পদ |
শব্দের বিভক্তি নাও থাকতে পারে | পদে বিভক্তি যুক্ত হয় |
৮. বিভিন্ন শ্রেণির তুলনামূলক সারণি
শ্রেণিবিভাগের ভিত্তি | শ্রেণি | উদাহরণ |
উৎপত্তি | তৎসম | চন্দ্র, সূর্য, জল, বিদ্যা |
উৎপত্তি | অর্ধতৎসম | জ্যোছনা, গিন্নি, কেষ্ট |
উৎপত্তি | তদ্ভব | চাঁদ, হাত, দুধ, কান |
উৎপত্তি | দেশি | কুড়া, ঢেঁকি, পেট, কুকুর |
উৎপত্তি | বিদেশি (আরবি) | কলম, হিসাব, মসজিদ |
উৎপত্তি | বিদেশি (ফারসি) | জানালা, দরজা, বাদশাহ |
উৎপত্তি | বিদেশি (ইংরেজি) | টেবিল, স্কুল, ডাক্তার |
গঠন | মৌলিক | মা, গাছ, হাত, বই |
গঠন | সাধিত | লেখক, প্রতিদিন, অসুখ |
অর্থ | যৌগিক | গায়ক, শিক্ষক, রান্নাঘর |
অর্থ | রূঢ়ি | সন্দেশ, হস্তী, পাঞ্জাবি |
অর্থ | যোগরূঢ় | পঙ্কজ, জলধি, রাজপুত |
৯. বহুনির্বাচনি প্রশ্ন (MCQ)
০১. 'চন্দ্র' কোন শ্রেণির শব্দ?
ক) তদ্ভব
খ) তৎসম
গ) দেশি
ঘ) বিদেশি
উত্তর: খ)-চন্দ্র-সংস্কৃত থেকে সরাসরি গৃহীত, কোনো পরিবর্তন নেই → তৎসম।
০২. 'চাঁদ' কোন শ্রেণির শব্দ?
ক) তৎসম
খ) অর্ধতৎসম
গ) তদ্ভব
ঘ) দেশি
উত্তর: গ)-চাঁদ-সংস্কৃত 'চন্দ্র' থেকে ব্যাপকভাবে পরিবর্তিত → তদ্ভব।
০৩. 'জ্যোছনা' কোন শ্রেণির শব্দ?
ক) তৎসম
খ) অর্ধতৎসম
গ) তদ্ভব
ঘ) দেশি
উত্তর: খ)-'জ্যোছনা'-সংস্কৃত 'জ্যোৎস্না' থেকে আংশিক পরিবর্তনে এসেছে → অর্ধতৎসম।
০৪. 'কুড়া' কোন শ্রেণির শব্দ?
ক) তদ্ভব
খ) বিদেশি
গ) দেশি
ঘ) অর্ধতৎসম
উত্তর: গ)-'কুড়া'-আদি দেশীয় ভাষা থেকে আগত, সংস্কৃত বা বিদেশি উৎস নেই → দেশি।
০৫. 'জানালা' কোন বিদেশি ভাষা থেকে এসেছে?
ক) আরবি
খ) তুর্কি
গ) পর্তুগিজ
ঘ) ফারসি
উত্তর: ঘ)-'জানালা'-ফারসি 'জানালা' থেকে বাংলায় এসেছে।
০৬. 'আনারস' কোন ভাষার শব্দ?
ক) আরবি
খ) ফারসি
গ) পর্তুগিজ
ঘ) ইংরেজি
উত্তর: গ)-'আনারস'-পর্তুগিজ 'আনানাস' থেকে বাংলায় এসেছে।
০৭. 'তোপ' কোন ভাষার শব্দ?
ক) আরবি
খ) ফারসি
গ) তুর্কি
ঘ) পর্তুগিজ
উত্তর: গ)-'তোপ' (cannon)-তুর্কি ভাষা থেকে বাংলায় আগত।
০৮. গঠনের দিক থেকে 'মা' কোন শ্রেণির শব্দ?
ক) সাধিত
খ) মৌলিক
গ) যৌগিক
ঘ) রূঢ়ি
উত্তর: খ)-'মা'-আর ভাঙা যায় না, আলাদা অর্থ পাওয়া যায় না → মৌলিক শব্দ।
০৯. 'লেখক' শব্দটি গঠনের দিক থেকে কী?
ক) মৌলিক
খ) সাধিত
গ) যোগরূঢ়
ঘ) রূঢ়ি
উত্তর: খ)-'লেখক' = লেখ + অক (প্রত্যয়) → সাধিত শব্দ।
১০. 'পঙ্কজ' কোন শ্রেণির শব্দ?
ক) যৌগিক
খ) রূঢ়ি
গ) যোগরূঢ়
ঘ) মৌলিক
উত্তর: গ)-'পঙ্কজ'-পঙ্ক+জ অর্থ 'কাদায় জন্মে এমন' কিন্তু বিশেষভাবে শুধু পদ্মফুল বোঝায় → যোগরূঢ়।
১১. 'সন্দেশ' কোন শ্রেণির শব্দ?
ক) যৌগিক
খ) রূঢ়ি
গ) যোগরূঢ়
ঘ) তৎসম
উত্তর: খ)-'সন্দেশ'-মূল অর্থ 'সংবাদ', কিন্তু প্রচলনে মিষ্টান্ন বিশেষ বোঝায় → রূঢ়ি।
১২. 'গায়ক' অর্থের দিক থেকে কোন শ্রেণির শব্দ?
ক) রূঢ়ি
খ) যোগরূঢ়
গ) যৌগিক
ঘ) মৌলিক
উত্তর: গ)-'গায়ক' = গাই+অক → যে গায়, প্রতিটি অংশের অর্থে মূল অর্থ পাওয়া যায় → যৌগিক।
১৩. 'জলধি' কোন শ্রেণির শব্দ?
ক) যৌগিক
খ) রূঢ়ি
গ) যোগরূঢ়
ঘ) তদ্ভব
উত্তর: গ)-'জলধি'-জল+ধি (ধারণ করে), সব জলাশয় নয় শুধু 'সমুদ্র' → যোগরূঢ়।
১৪. 'দুধ' কোন শ্রেণির শব্দ?
ক) তৎসম
খ) অর্ধতৎসম
গ) তদ্ভব
ঘ) দেশি
উত্তর: গ)-'দুধ'-সংস্কৃত 'দুগ্ধ' থেকে ব্যাপকভাবে পরিবর্তিত → তদ্ভব।
১৫. 'সাবান' কোন ভাষার শব্দ?
ক) আরবি
খ) পর্তুগিজ
গ) ফারসি
ঘ) তুর্কি
উত্তর: খ)-'সাবান'-পর্তুগিজ 'সাবাঁও' থেকে বাংলায় এসেছে।
১৬. 'কলম' কোন ভাষার শব্দ?
ক) ফারসি
খ) তুর্কি
গ) আরবি
ঘ) পর্তুগিজ
উত্তর: গ)-'কলম'-আরবি 'কলম' থেকে বাংলায় গৃহীত।
১৭. 'হস্তী' কোন শ্রেণির শব্দ অর্থের দিক থেকে?
ক) যৌগিক
খ) রূঢ়ি
গ) যোগরূঢ়
ঘ) মৌলিক
উত্তর: খ)-'হস্তী'-হস্ত+ই (যার হাত আছে), কিন্তু প্রচলিতভাবে শুধু 'হাতি' বোঝায় → রূঢ়ি।
১৮. উৎপত্তি অনুযায়ী শব্দ কত ধরনের?
ক) তিন
খ) চার
গ) পাঁচ
ঘ) ছয়
উত্তর: গ)-তৎসম, অর্ধতৎসম, তদ্ভব, দেশি ও বিদেশি-মোট পাঁচ ধরনের।
১৯. গঠন অনুযায়ী শব্দ কত ধরনের?
ক) দুই
খ) তিন
গ) চার
ঘ) পাঁচ
উত্তর: ক)-মৌলিক ও সাধিত-মোট দুই ধরনের।
২০. অর্থ অনুযায়ী শব্দ কত ধরনের?
ক) দুই
খ) তিন
গ) চার
ঘ) পাঁচ
উত্তর: খ)-যৌগিক, রূঢ়ি ও যোগরূঢ়-মোট তিন ধরনের।
১০. অনুশীলনী
ক) শূন্যস্থান পূরণ করুন
উৎপত্তির ভিত্তিতে বাংলা শব্দ ______ প্রকার।
সংস্কৃত থেকে সরাসরি গৃহীত শব্দকে ______ বলে।
সংস্কৃত 'চন্দ্র' থেকে পরিবর্তিত 'চাঁদ' হলো ______ শব্দ।
'কুড়া', 'ঢেঁকি', 'পেট'-এগুলো ______ শব্দ।
যে শব্দকে আর ভাঙা যায় না তাকে ______ শব্দ বলে।
অংশের অর্থে মূল অর্থ পাওয়া গেলে তাকে ______ শব্দ বলে।
'পঙ্কজ' একটি ______ শব্দ।
'আনারস' হলো ______ ভাষার শব্দ।
খ) সঠিক শ্রেণি চিহ্নিত করুন
শব্দ | উৎপত্তি অনুযায়ী | গঠন অনুযায়ী | অর্থ অনুযায়ী |
চন্দ্র | |||
চাঁদ | |||
গায়ক | |||
পঙ্কজ | |||
সন্দেশ | |||
জানালা | |||
গাছ | |||
লেখক |
১১. অনুশীলনীর উত্তর
ক) শূন্যস্থানের উত্তর
পাঁচ প্রকার
তৎসম
তদ্ভব
দেশি
মৌলিক
যৌগিক
যোগরূঢ়
পর্তুগিজ
খ) শ্রেণি চিহ্নিত করার উত্তর
শব্দ | উৎপত্তি অনুযায়ী | গঠন অনুযায়ী | অর্থ অনুযায়ী |
চন্দ্র | তৎসম | মৌলিক | — |
চাঁদ | তদ্ভব | মৌলিক | — |
গায়ক | তৎসম | সাধিত | যৌগিক |
পঙ্কজ | তৎসম | সাধিত | যোগরূঢ় |
সন্দেশ | তৎসম | সাধিত | রূঢ়ি |
জানালা | বিদেশি (ফারসি) | মৌলিক | — |
গাছ | দেশি | মৌলিক | — |
লেখক | তৎসম | সাধিত | যৌগিক |
১২. সারসংক্ষেপ
★ উৎপত্তি অনুযায়ী: তৎসম → অর্ধতৎসম → তদ্ভব → দেশি → বিদেশি (৫ প্রকার) ★ গঠন অনুযায়ী: মৌলিক (ভাঙা যায় না) ও সাধিত (উপসর্গ/প্রত্যয়/সমাস যোগে) (২ প্রকার) ★ অর্থ অনুযায়ী: যৌগিক (অর্থের যোগ) | রূঢ়ি (প্রচলিত নতুন অর্থ) | যোগরূঢ় (সংকুচিত অর্থ) (৩ প্রকার) ★ মনে রাখুন: চন্দ্র=তৎসম, চাঁদ=তদ্ভব, জ্যোছনা=অর্ধতৎসম ★ মনে রাখুন: পঙ্কজ=যোগরূঢ়, সন্দেশ=রূঢ়ি, গায়ক=যৌগিক |
১৩. উপসংহার
বাংলা শব্দের শ্রেণিবিভাগ ভাষার ইতিহাস ও বৈচিত্র্যকে প্রতিফলিত করে। সংস্কৃত, আরবি, ফারসি, পর্তুগিজ, ইংরেজিসহ বিভিন্ন ভাষার শব্দ বাংলার শব্দভাণ্ডারকে সমৃদ্ধ করেছে। উৎপত্তি, গঠন ও অর্থ-এই তিন দৃষ্টিকোণ থেকে শব্দকে ভালোভাবে বোঝা গেলে বাংলা ভাষা সম্পর্কে গভীর ধারণা তৈরি হয়।
পরীক্ষার জন্য সংক্ষিপ্ত নোট: উৎপত্তিতে পাঁচ প্রকার-তৎসম (চন্দ্র), অর্ধতৎসম (জ্যোছনা), তদ্ভব (চাঁদ), দেশি (ঢেঁকি), বিদেশি (জানালা)। গঠনে দুই প্রকার-মৌলিক (মা) ও সাধিত (লেখক)। অর্থে তিন প্রকার-যৌগিক (গায়ক), রূঢ়ি (সন্দেশ), যোগরূঢ় (পঙ্কজ)।
★ সমাপ্ত ★