অর্ধ-তৎসম শব্দ

Chapter Activity

Rating
New / 5
Reviews
0
Read Sessions
0
Readers
0

অর্ধ-তৎসম শব্দ

বাংলা ভাষার সংস্কৃতজাত শব্দসম্ভারের আলোচনায় ‘অর্ধ-তৎসম’ একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ কিন্তু তুলনামূলকভাবে বিতর্কিত স্তর। এই শ্রেণির শব্দগুলোর মধ্যে একদিকে সংস্কৃতমূলের পরিচয় থাকে, অন্যদিকে বাংলার চলিত উচ্চারণ, লোকভাষা, আঞ্চলিক ব্যবহারে সেগুলো আংশিক রূপান্তরিত হয়। ফলে এরা না পুরোপুরি তৎসম, না পুরোপুরি তদ্ভব। ভাষার জীবন্ত রূপ, উচ্চারণগত স্বাভাবিকতা এবং ঐতিহাসিক রূপান্তর-এই তিনটির মিলিত সাক্ষ্য বহন করে অর্ধ-তৎসম শব্দ।

১. অর্ধ-তৎসম শব্দের সংজ্ঞা

অর্ধ-তৎসম শব্দ হলো সেই সব সংস্কৃতমূলক শব্দ, যেগুলো বাংলা ভাষায় প্রবেশের পরে মূল তৎসম রূপ পুরোপুরি অক্ষুণ্ণ রাখেনি, কিন্তু এত বেশি পরিবর্তিতও হয়নি যে সেগুলোকে নিশ্চিতভাবে তদ্ভব বলা যায়। অন্যভাবে বললে, শব্দটির দিকে তাকালে বা উচ্চারণ শুনলে সংস্কৃত উৎস অনুমান করা যায়, কিন্তু তা আর আদর্শ তৎসম বানান বা ধ্বনিতে অবশিষ্ট থাকে না।

‘অর্ধ-তৎসম’ শব্দেঅর্ধঅংশটি বোঝায়-শব্দটি তৎসমের সঙ্গে আংশিক সাদৃশ্য বজায় রেখেছে। তাই একে তৎসমের একটি মধ্যবর্তী বা সংক্রমণধর্মী স্তরও বলা যায়।

২. ব্যাকরণিক অবস্থান ও শ্রেণিবিন্যাস

বাংলা শব্দতত্ত্বে সংস্কৃতজাত শব্দ সাধারণত তৎসম, অর্ধ-তৎসমতদ্ভব-এই তিন স্তরে আলোচনা করা হয়। তবে মনে রাখতে হবে, অর্ধ-তৎসম ধারণাটি সর্বজনস্বীকৃত নয়; অনেক ভাষাবিদ কিছু শব্দকে তদ্ভবের ভেতরেই রাখতে চান। তবু ব্যবহারিক ও শিক্ষণগত সুবিধার জন্য এই শ্রেণি অত্যন্ত কার্যকর।

তৎসম: মূল সংস্কৃতরূপ প্রায় অপরিবর্তিত। যেমন: জ্যোৎস্না, নিমন্ত্রণ, গৃহিণী, রাত্রি।

অর্ধ-তৎসম: মূল রূপ আংশিক পরিবর্তিত, কিন্তু উৎস চেনা যায়। যেমন: জোছনা, নেমন্তন্ন, গিন্নি, রাত্তির।

তদ্ভব: দীর্ঘ ঐতিহাসিক রূপান্তরে মূল সংস্কৃতরূপ থেকে অনেক দূরে সরে যাওয়া শব্দ। যেমন: দুয়ার/দুয়ার, গাঁ, খিদে-কিছু ক্ষেত্রে বিতর্কিত

৩. তৎসম, অর্ধ-তৎসম ও তদ্ভবের তুলনা

দিক

তৎসম

অর্ধ-তৎসম

তদ্ভব

রূপগত সম্পর্ক

মূল সংস্কৃতরূপ প্রায় অবিকৃত

আংশিক রূপান্তরিত

দীর্ঘ রূপান্তরে অধিক পরিবর্তিত

উচ্চারণ

পুস্তকভিত্তিক/প্রমিত

চলিত লোকউচ্চারণঘন

ঐতিহাসিক বিবর্তনজাত

ব্যবহারক্ষেত্র

প্রাতিষ্ঠানিক, একাডেমিক, সাহিত্যিক

কথ্য, লোকসাহিত্য, সংলাপ, আঞ্চলিক

স্বাভাবিক লোকভাষা সাধারণ ব্যবহার

চেনার সুবিধা

উৎস সহজে ধরা যায়

উৎস অনুমান করা যায়

উৎস সবসময় স্পষ্ট নয়

উদাহরণ

জ্যোৎস্না, নিমন্ত্রণ, গৃহিণী

জোছনা, নেমন্তন্ন, গিন্নি

খিদে, গাঁ, দুয়ার (বিতর্কিত)

এই তুলনা থেকে বোঝা যায়, অর্ধ-তৎসম শব্দ এক ধরনের মধ্যবর্তী সোপান। তবে সব শব্দকে কঠোরভাবে এই তিন ঘরে রাখা সবসময় সম্ভব নয়।

৪. অর্ধ-তৎসম শব্দ সৃষ্টির কারণ

উচ্চারণের সহজীকরণ: বাংলাভাষীর মুখে সংস্কৃতের বহু যুক্তব্যঞ্জন, জটিল ধ্বনি বা দীর্ঘ গঠন সহজ রূপ নেয়।

লোকভাষার প্রভাব: পণ্ডিতসমাজের ভাষা ও সাধারণ মানুষের ভাষার ব্যবধান থেকে পরিবর্তিত রূপ জন্ম নেয়।

চলিতরীতির গ্রহণযোগ্যতা: মুখে সহজ যে রূপ, সেটিই বেশি ব্যবহার হতে হতে গ্রহণযোগ্য হয়ে ওঠে।

ধর্মীয় ও সামাজিক ব্যবহার: আচার, পারিবারিক সম্বোধন, উৎসব ও লোকাচারের মাধ্যমে কিছু রূপ আলাদা পরিচিতি পায়।

আঞ্চলিক উচ্চারণ: ভৌগোলিক অঞ্চলভেদে ধ্বনির তারতম্য শব্দকে অর্ধ-তৎসম রূপে প্রতিষ্ঠা করতে পারে।

৫. অর্ধ-তৎসম শব্দের প্রধান বৈশিষ্ট্য

বৈশিষ্ট্য

ব্যাখ্যা

উদাহরণ

আংশিক ধ্বনি-বিকৃতি

মূল শব্দের এক বা একাধিক ধ্বনি বদলায়, কিন্তু শব্দচেহারা সম্পূর্ণ ভেঙে পড়ে না

জ্যোৎস্নাজোছনা; নিমন্ত্রণনেমন্তন্ন

যুক্তাক্ষর সরলীকরণ

জটিল যুক্তব্যঞ্জন বা ব্যঞ্জনগুচ্ছ সহজ রূপ নেয়

পুত্রপুত্তুর; মিত্রমিত্তির

স্বরপরিবর্তন

উচ্চারণে স্বরধ্বনি বদলে যায় বা সংযুক্ত হয়

বৈষ্ণববোষ্টম; প্রণামপেন্নাম/পণাম

কথ্যঘন ব্যবহার

কথ্য, লোকগাথা, সংলাপ, গ্রামীণ পরিবেশে বেশি প্রচলিত

গিন্নি, গেরস্ত, রাত্তির

প্রমিত-চলিত টানাপোড়েন

সব অর্ধ-তৎসম রূপ প্রাতিষ্ঠানিক লেখায় সমানভাবে মান্য নয়

খমা, গেরাম, পসাদ-আঞ্চলিক/বিতর্কিত

৬. অর্ধ-তৎসম শব্দের ঐতিহাসিক বিকাশ

অর্ধ-তৎসম শব্দের উৎপত্তি ও বিকাশ নিয়ে ভাষাবিদদের মধ্যে নানা মত রয়েছে। তবু ভাষার ইতিহাস বিচার করলে দেখা যায়, সংস্কৃত শব্দ বাংলার মুখে প্রবেশ করে ধীরে ধীরে রূপান্তরিত হতে হতে এই বিশেষ স্তর তৈরি করেছে।

৬.১ প্রাচীন বাংলা যুগ

প্রাচীন বাংলা যুগে, আনুমানিক চর্যাপদের সময় থেকে, সংস্কৃত ও প্রাকৃত উৎসের শব্দ বাংলায় ভিন্নমাত্রিক রূপ পেতে শুরু করে। ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক পরিমণ্ডলে সংস্কৃত প্রভাব প্রবল থাকলেও লোকমুখে উচ্চারণ ছিল সহজতর। এই পর্যায়ে অর্ধ-তৎসম রূপের প্রাথমিক ইঙ্গিত পাওয়া যায়।

৬.২ মধ্য বাংলা যুগ

মধ্য বাংলা যুগে বৈষ্ণব আন্দোলন, মঙ্গলকাব্য, পদাবলি, আখ্যানসাহিত্য ও লোকসঙ্গীতের ভাষায় সংস্কৃতমূলক শব্দ ব্যাপকভাবে প্রবেশ করে; কিন্তু সাধারণ মানুষের মুখে সেগুলো পরিবর্তিত রূপে প্রচলিত হয়। শ্রীকৃষ্ণকীর্তন, কৃত্তিবাসী রামায়ণ, বৈষ্ণব পদাবলি ইত্যাদির ভাষায় এমন রূপের প্রাবল্য দেখা যায়।

৬.৩ আধুনিক বাংলা যুগ

ঊনবিংশ শতকে প্রমিত গদ্যের বিকাশের সঙ্গে তৎসম শব্দের মর্যাদা বাড়লেও অর্ধ-তৎসম রূপ কথ্যভাষায় টিকে থাকে। প্রমিত লিখিত ভাষায় অনেক ক্ষেত্রে তৎসম রূপ বেশি ব্যবহৃত হলেও নাটক, উপন্যাস, সংলাপ, লোকবর্ণনা ও আঞ্চলিক ভাষা-চিত্রণে অর্ধ-তৎসম রূপ এখনও গুরুত্বপূর্ণ।

৬.৪ ধ্বনি-পরিবর্তনের পেছনের কারণ

বাংলাভাষীর উচ্চারণ-প্রক্রিয়ার স্বাতন্ত্র্য

সংস্কৃতের জটিল ধ্বনির সহজীকরণের প্রবণতা

লোকমুখে প্রচলিত হতে হতে রূপান্তর

পারিবারিক ও সামাজিক পরিবেশে কথ্যরীতির প্রাধান্য

আঞ্চলিক উপভাষার প্রভাব

৭. অর্ধ-তৎসম শব্দের তালিকা ও বিশ্লেষণ

নিচে প্রচলিত কিছু অর্ধ-তৎসম শব্দ সারণি আকারে দেওয়া হলো। এদের অনেককে ব্যাকরণে অর্ধ-তৎসম বলে গ্রহণ করা হলেও, কয়েকটি শব্দ নিয়ে ভাষাবিদদের মধ্যে মতভেদ রয়েছে-সেই তথ্য মন্তব্য কলামে উল্লেখ করা হয়েছে।

সংস্কৃত/তৎসম রূপ

অর্ধ-তৎসম রূপ

মন্তব্য

প্রসাদ

পসাদ

কথ্য/প্রাচীন ব্যবহার; সর্বত্র প্রমিত নয়

প্রণাম

পণাম / পেন্নাম

আঞ্চলিক লোকব্যবহার

স্থির

থির

পূর্ববঙ্গীয় কথ্যরূপে দেখা যায়

স্নেহ

নেহ

পুরোনো কাব্য লোকভাষায় ব্যবহৃত

ক্ষমা

খমা

অত্যন্ত আঞ্চলিক হলে প্রমিত গদ্যে বর্জনীয়

প্রেম

পেম

লোকগীতি আঞ্চলিক রূপ

ক্রিয়া

কিরিয়া

প্রাচীন লোকধর্মী ব্যবহার

ত্রিশ

তিরিশ

অনেকে তদ্ভব বলেন; বিতর্কিত

দ্বার

দুয়ার / দুয়ার

অনেকে তদ্ভব হিসেবে গণ্য করেন

গ্রাম

গেরাম

গ্রাম্যরসাত্মক বা আঞ্চলিক রূপ

শ্রাদ্ধ

স্রাদ্ধ / ছেরাদ্দ

ধর্মীয় আচার-সংক্রান্ত কথ্যরূপ

বর্ষা

বরষা

কবিতা গানে বহুল পরিচিত

স্মরণ

সমরণ

লোকব্যবহার; সর্বত্র মান্য নয়

হৃদয়

হৃদ

সাহিত্যিক সংক্ষিপ্ত রূপ

দ্রষ্টব্য: ‘তিরিশ’, ‘দুয়ার/দুয়ার’, ‘গেরাম’ প্রভৃতি রূপকে অনেক ভাষাবিদ তদ্ভব বা আঞ্চলিক চলিত রূপ বলেও বিবেচনা করেন। ফলে অর্ধ-তৎসম শ্রেণিবিন্যাস এখানে কিছুটা নমনীয়।

৮. অর্ধ-তৎসম শব্দের ব্যবহারিক ক্ষেত্র

৮.১ কথ্য ও আঞ্চলিক ভাষা

গ্রামবাংলার দৈনন্দিন কথাবার্তায় অর্ধ-তৎসম শব্দের প্রাচুর্য আছে। এগুলো ভাষাকে আপন, মুখের কাছাকাছি এবং পরিবেশসম্মত করে তোলে।

“তোর পণামটা নিলাম।” (প্রণাম)

“একটু পসাদ দাও।” (প্রসাদ)

“এত রাত্তিরে কোথায় যাস?” (রাত্রি)

“আজ গিন্নি খুব ব্যস্ত।” (গৃহিণী)

৮.২ সাহিত্যে প্রয়োগ

মধ্যযুগের পদাবলি, লোককাব্য, আঞ্চলিক উপন্যাস, সংলাপভিত্তিক নাটক এবং আধুনিক কথ্যঘন গদ্যে অর্ধ-তৎসম শব্দ ব্যবহৃত হয়। এর ফলে ভাষায় স্বাভাবিকতা, লোকজ রং, আবেগের নিবিড়তা এবং চরিত্রের মুখের ভাষা ফুটে ওঠে

যেমন:

বরষা ও গান সবে মিলে যায়” – এখানে ‘বরষা’ অর্ধ-তৎসম।

হৃদ মাঝারে রাখিব তোমায়” – ‘হৃদ’ অর্ধ-তৎসম।

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর: “জোছনা রাতে ফুল ফোটে, মনে পড়ে পুরনো গান।” (জোছনা)

শরৎচন্দ্র: “গিন্নি ডেকে বললেন, ‘খাওয়া দাওয়া সারো আগে।’” (গিন্নি)

বিভূতিভূষণ: “রোদ্দুরে মাঠ শুকিয়ে যাচ্ছে, তবুও পাখিরা ডাকে।” (রোদ্দুর)

মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়: “নেমন্তন্ন এল, কিন্তু যাওয়ার ইচ্ছে হলো না।” (নেমন্তন্ন)

. উচ্চারণগত রূপান্তর চার্ট

ধ্বনিগত প্রক্রিয়া

নিয়ম/ব্যাখ্যা

উদাহরণ

য্/ৎস্ন/জটিল ব্যঞ্জনগুচ্ছের সরলীকরণ

জটিল ব্যঞ্জনগুচ্ছ সহজ হয়

জ্যোৎস্না → জোছনা

যুক্তাক্ষর বিচ্ছেদ ও দ্বিত্ব

সহজ উচ্চারণে ব্যঞ্জন দ্বিত্ব বা ভাঙন ঘটে

মিত্র → মিত্তির; পুত্র → পুত্তুর

ষ/শ/স ধ্বনির সরলীকরণ

উচ্চারণে কম জটিল ধ্বনি ব্যবহৃত হয়

শ্রাদ্ধ → ছেরাদ্দ / স্রাদ্ধ

স্বরসংযোগ বা স্বরবদল

অতিরিক্ত স্বরধ্বনি যুক্ত হয় বা স্বর পাল্টায়

বৈষ্ণব → বোষ্টম; স্বাদ → সোয়াদ

বিসর্গ/ব্যঞ্জন লোপ

কিছু ধ্বনি বাদ পড়ে বা সংকুচিত হয়

রৌদ্র → রোদ্দুর; গৃহিণী → গিন্নি

১০. উদাহরণভিত্তিক বিস্তৃত সারণি

শ্রেণি

সংস্কৃত রূপ

অর্ধ-তৎসম রূপ

অর্থ

ব্যবহার প্রসঙ্গ

ধ্বনি-বিকৃত

জ্যোৎস্না

জ্যোছনা / জোছনা

চাঁদের আলো

কাব্য, লোকগাথা

ধ্বনি-বিকৃত

কৃষ্ণ

কেষ্ট

ভগবান কৃষ্ণ

ভক্তি সাহিত্য

ধ্বনি-বিকৃত

বিষ্ণু

বিষ্টু

ভগবান বিষ্ণু

লোকধর্ম

ধ্বনি-বিকৃত

সূর্য

সূয্যি

সূর্য

গ্রামীণ সংলাপ

স্বর-পরিবর্তন

ইচ্ছা

ইচ্ছে

অভিলাষ

কথ্য, সাহিত্য

স্বর-পরিবর্তন

ঘৃণা

ঘেন্না

অরুচি/বিরাগ

কথ্য

স্বর-পরিবর্তন

স্বাদ

সোয়াদ

স্বাদ

খাদ্য-আলোচনা

যুক্তাক্ষর-সরল

নিমন্ত্রণ

নেমন্তন্ন

আমন্ত্রণ

সামাজিক

যুক্তাক্ষর-সরল

মিত্র

মিত্তির

ব্যক্তিনাম/উপাধি

আঞ্চলিক

যুক্তাক্ষর-সরল

পুত্র

পুত্তুর

সন্তান

লোকগাথা

সামাজিক

গৃহিণী

গিন্নি

গৃহকর্ত্রী

পারিবারিক

সামাজিক

গৃহস্থ

গেরস্ত

সংসারী

গ্রামীণ

সামাজিক

বৈষ্ণব

বোষ্টম

ভক্ত

ধর্মীয়

পারিভাষিক

মহোৎসব

মোচ্ছব / উচ্ছব

উৎসব

লোকউৎসব

পারিভাষিক

ফলাহার

ফলার

উপবাসোত্তর খাদ্য

ধর্মীয়

পারিভাষিক

রৌদ্র

রোদ্দুর

সূর্যালোক

প্রকৃতিবর্ণনা

পারিভাষিক

প্রণাম

পেন্নাম

সম্ভাষণ

ধর্মীয়/আঞ্চলিক

পারিভাষিক

রাত্রি

রাত্তির

রাত

দৈনন্দিন

পারিভাষিক

মিথ্যা

মিছা

অসত্য

কথ্য

পারিভাষিক

কবিরাজ

কোবরেজ

লোকচিকিৎসক

লোকচিকিৎসা

১১. অর্ধ-তৎসম নিয়ে কিছু প্রচলিত মতভেদ ও সতর্কতা

১১.১ শ্রেণিবিন্যাসের জটিলতা

অনেক শব্দ-যেমনদুয়ার/দুয়ার’, ‘তিরিশ’, ‘খিদে’, ‘গেরাম-তৎসম, অর্ধ-তৎসমতদ্ভবের সীমারেখায় এসে দাঁড়ায়। কোনো কোনো ব্যাকরণে এদের তদ্ভব হিসেবেই চিহ্নিত করা হয়। তাই অর্ধ-তৎসম ধারণা একটি শিক্ষণোপযোগী কিন্তু নমনীয় শ্রেণি; একে সর্বজনস্বীকৃত ও অচল বিধান মনে করা ঠিক নয়।

১১.২ ব্যবহারের সময় সতর্কতা

অত্যন্ত আঞ্চলিক অর্ধ-তৎসম শব্দ-যেমন খমা, গেরাম, পসাদ-প্রমিত লিখিত ভাষায় সাধারণত পরিহার করাই ভালো।

সাহিত্যিক প্রয়োজনে, চরিত্রের মুখের ভাষা দেখাতে বা ছন্দ-সৌন্দর্য রক্ষায় এ ধরনের রূপ ব্যবহার করা যেতে পারে।

প্রাতিষ্ঠানিক, একাডেমিক বা পরীক্ষাভিত্তিক লেখায় তৎসম রূপ অধিকতর নিরাপদ ও সার্বজনীন।

সতর্কতা: তৎসম ও অর্ধ-তৎসমের মধ্যে দ্বিধায় পড়লে তৎসম রূপটিই অধিকতর নিরাপদ ও সার্বজনীন।

১২. অর্ধ-তৎসম শব্দ চেনার কৌশল

শব্দটির একটি সুপরিচিত তৎসম রূপ আছে কি না দেখুন।

চলিত রূপটি মূল শব্দের সঙ্গে ধ্বনিগত সম্পর্ক রাখছে কি না পরীক্ষা করুন।

পরিবর্তন আংশিক হলে অর্ধ-তৎসম হওয়ার সম্ভাবনা বেশি।

লোকভাষা, পারিবারিক ভাষা, লোকসাহিত্য বা সংলাপে ব্যবহৃত হয় কি না বিবেচনা করুন।

যদি শব্দটি মূল উৎস থেকে অনেক দূরে সরে যায়, তবে তা তদ্ভবও হতে পারে-অতএব তড়িঘড়ি সিদ্ধান্ত না নেওয়াই ভালো।

১৩. পসংহার

অর্ধ-তৎসম শব্দ বাংলা ভাষার ইতিহাস, লোকউচ্চারণ, ধ্বনি-রূপান্তর এবং প্রমিত-চলিত দ্বৈততার একটি চমৎকার দলিল। এগুলো দেখায় যে ভাষা শুধু ব্যাকরণ-নিয়ন্ত্রিত নয়; বরং মুখের ব্যবহার, সমাজ, সংস্কৃতি এবং সময়ের স্রোতে শব্দের রূপ পাল্টায়। বাংলা শব্দতত্ত্ব, সাহিত্যভাষা, আঞ্চলিক ভাষা এবং পরীক্ষাভিত্তিক ব্যাকরণচর্চা-সব ক্ষেত্রেই অর্ধ-তৎসম শব্দের সঠিক ধারণা বিশেষ প্রয়োজনীয়।

তবে মনে রাখতে হবে, এই শ্রেণিবিভাগ সব ক্ষেত্রে কঠোর চূড়ান্ত নয় তাই অর্ধ-তৎসম শব্দ আলোচনা করতে গেলে ভাষার ইতিহাস, অভিধান, প্রচলিত ব্যবহার এবং প্রসঙ্গ-সবকিছুকে একসঙ্গে বিবেচনা করতে হয়

Review this chapter

You Can Also Read

Chapters closely related to the one you are reading now.

তদ্ভব শব্দ

No reviews
0 students
Read chapter

শব্দ ও শব্দের শ্রেণিবিভাগ

No reviews
0 students
Read chapter

বিদেশি শব্দ

No reviews
0 students
Read chapter

ষ-ত্ব বিধান

No reviews
0 students
Read chapter

Most Read by Students

Popular picks getting the strongest student traffic right now.

বাংলা ভাষার রীতি

No reviews
1 student
Read chapter

অসহযোগ আন্দোলন (মার্চ ১৯৭১)

No reviews
1 student
Read chapter

নদী, সেতু, পাহাড়, দ্বীপ, বন, সমুদ্রবন্দর

No reviews
1 student
Read chapter

Others Who Read This Also Read

Behavior-based suggestions from student reading patterns where available.

তদ্ভব শব্দ

No reviews
0 students
Read chapter

শব্দ ও শব্দের শ্রেণিবিভাগ

No reviews
0 students
Read chapter

বিদেশি শব্দ

No reviews
0 students
Read chapter

ষ-ত্ব বিধান

No reviews
0 students
Read chapter

Best Reviewed

Chapters earning the strongest student feedback.

তদ্ভব শব্দ

No reviews
0 students
Read chapter

শব্দ ও শব্দের শ্রেণিবিভাগ

No reviews
0 students
Read chapter

বিদেশি শব্দ

No reviews
0 students
Read chapter

ষ-ত্ব বিধান

No reviews
0 students
Read chapter

Course Suggestions

Want a more guided path after this chapter? These courses are the closest fit.

Browse all courses
Best match৳1,999

Bangla

Bangla Language Mastery

A structured Bangla Language path to continue after this chapter.

6 lessons8.5h4.9 (186)1.3K students

By Sadia Rahman

View course
Good fit৳2,999

Platform Building

Teacher Marketplace Blueprint

A structured Bangla Language path to continue after this chapter.

5 lessons6.8h4.9 (28)410 students

By Sadia Rahman

View course
FreeFree

English

Admission English Playbook

Free guided course with lessons you can jump into anytime.

4 lessons4.2h4.8 (91)2.8K students

By Rayan Akter

View course