ধাতু, প্রকৃতি ও প্রত্যয় |
১. ভূমিকা
বাংলা শব্দগঠনের আলোচনায় ‘ধাতু’, ‘প্রকৃতি’ এবং ‘প্রত্যয়’ - এই তিনটি পদ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। একটি শব্দ কীভাবে গঠিত হলো, কোন অংশটি মূল অর্থ বহন করছে, আর কোন অংশটি নতুন অর্থ বা নতুন পদরূপ সৃষ্টি করছে - এসব বুঝতে হলে এই তিনটি ধারণা পরিষ্কার হওয়া আবশ্যক।
বাংলা ব্যাকরণে অনেক প্রশ্ন সরাসরি সংজ্ঞা থেকে আসে, আবার অনেক প্রশ্ন আসে বিশ্লেষণধর্মী উপায়ে - যেমন কোনো শব্দে প্রকৃতি কোনটি, প্রত্যয় কোনটি, ধাতু আছে কি না, কৃত্প্রত্যয় নাকি তদ্ধিতপ্রত্যয়, উপসর্গ ও প্রত্যয়ের কাজ এক কি না, বিভক্তি ও প্রত্যয়ের পার্থক্য কী ইত্যাদি। তাই এই অধ্যায়ে কেবল বর্ণনা নয়; বরং পর্যাপ্ত তথ্য, ছক, উদাহরণ ও তুলনামূলক আলোচনা রাখা হয়েছে।
• ধাতু বলতে সাধারণত ক্রিয়ার মূল অর্থবোধক অংশকে বোঝায়।
• প্রকৃতি বলতে শব্দগঠনের সেই মূল অংশকে বোঝায়, যার সঙ্গে প্রত্যয় যুক্ত হয়ে নতুন শব্দ সৃষ্টি হয়।
• প্রত্যয় হলো এমন বর্ণ বা বর্ণসমষ্টি, যা নিজে স্বাধীনভাবে অর্থ প্রকাশ না করলেও প্রকৃতির সঙ্গে যুক্ত হয়ে নতুন শব্দ, নতুন রূপ বা নতুন পদ সৃষ্টি করে।
• সব ধাতু প্রকৃতি হতে পারে, কিন্তু সব প্রকৃতি ধাতু নয়; কারণ নাম-প্রকৃতিও আছে।
• প্রত্যয়ের কাজ শব্দগঠন; বিভক্তির কাজ বাক্যে পদকে সম্পর্কযুক্ত করা।
২. ধাতু: সংজ্ঞা, প্রকৃতি ও গুরুত্ব
২.১ ধাতুর সংজ্ঞা
যে মূল অর্থবোধক অংশ থেকে ক্রিয়ার সৃষ্টি হয়, তাকে ধাতু বলে। সহজভাবে বলা যায়, ধাতু হলো ক্রিয়ার বীজরূপ। যেমন - ‘কর’, ‘লিখ’, ‘খা’, ‘যা’, ‘দে’, ‘নাচ’, ‘হাস’, ‘পড়’, ‘বল’ ইত্যাদি। এগুলোর সঙ্গে প্রয়োজনীয় প্রত্যয়, কালচিহ্ন, পুরুষচিহ্ন বা বিভক্তিরূপ যুক্ত হয়ে বিভিন্ন ক্রিয়াপদ গঠিত হয় - যেমন কর+ি = করি, লিখ+ল = লিখল, খা+বে = খাবে।
২.২ ধাতুর বৈশিষ্ট্য
• ধাতু মূলত ক্রিয়ার্থক।
• ধাতু সাধারণত শব্দের মৌলিক কর্ম বা অবস্থা নির্দেশ করে।
• ধাতুর সঙ্গে বিভিন্ন প্রত্যয় বা চিহ্ন যোগে ক্রিয়ার নানা রূপ তৈরি হয়।
• ধাতু থেকে কৃত্প্রত্যয় যোগে বিশেষ্য ও বিশেষণও গঠিত হতে পারে।
• ধাতু-নির্ভর শব্দগঠনে অর্থের পরিবর্তন, পদশ্রেণির পরিবর্তন এবং রূপগত সম্প্রসারণ - সবই ঘটতে পারে।
২.৩ ধাতু ও ক্রিয়ামূল
অনেক সময় ধাতু ও ক্রিয়ামূলকে একই অর্থে ব্যবহার করা হয়; তবে ব্যাকরণিক বিশ্লেষণে ‘ধাতু’ হলো প্রাথমিক ক্রিয়ামূল, আর বাস্তব ব্যবহারে যে রূপ থেকে বিভিন্ন ক্রিয়ারূপ তৈরি হয়, তাকে অনেক ক্ষেত্রে ক্রিয়ামূল বলা হয়। প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষায় সাধারণত ধাতু বলতে ক্রিয়ার মূল অংশই বোঝানো হয়।
মনে রাখুন ‘করছি’, ‘করেছিল’, ‘করবে’ - এই সব রূপে মূল ধাতু ‘কর’। একইভাবে ‘খাচ্ছি’, ‘খেয়েছে’, ‘খাবে’ - এখানে ধাতু ‘খা’। |
২.৪ ধাতুর শ্রেণিবিভাগ
বাংলা ব্যাকরণে ধাতুর শ্রেণিবিভাগ বিভিন্ন গ্রন্থে কিছুটা ভিন্নভাবে উপস্থাপিত হলেও পরীক্ষামুখী দৃষ্টিকোণ থেকে নিচের ভাগগুলো সবচেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ।
ক) মৌলিক ধাতু
যে ধাতু অন্য কোনো বাংলা পদ বা ধাতু থেকে গঠিত নয়, তাকে মৌলিক ধাতু বলা হয়। যেমন - খা, যা, দে, নে, কর, বল, চল, নাচ, হাস, পড়, লিখ।
খ) সাধিত ধাতু
যে ধাতু অন্য কোনো ধাতু, বিশেষ্য, বিশেষণ বা ধ্বনিমূল থেকে গঠিত হয়, তাকে সাধিত ধাতু বলে। বাংলা ভাষায় বহু ক্রিয়া নামপদ বা বিশেষণ থেকে ক্রিয়ায় রূপান্তরিত হয়ে ব্যবহৃত হয়। যেমন - লাঠি → লাঠিপেটা করা, হাত → হাতানো, জমা → জমা করা, পাক → পাকানো, লাল → লালানো, ঠাণ্ডা → ঠাণ্ডা হওয়া/ঠাণ্ডা করা।
গ) নামধাতু
বিশেষ্য বা নামধর্মী কোনো পদ থেকে যে ধাতুর সৃষ্টি হয়, তাকে নামধাতু বলে। যেমন - হাত → হাতানো, গালি → গালাগালি করা (ব্যবহারগত), ঘা → ঘা মারা, বৃষ্টি → বৃষ্টি হওয়া। স্কুল-কলেজের ব্যাকরণে ‘নামধাতু’ আলাদাভাবে উল্লেখ করা হয়।
ঘ) অনুকারধাতু / ধ্বন্যানুকারধাতু
ধ্বনির অনুকরণে গঠিত কিছু ধাতুও বাংলায় প্রচলিত। যেমন - ঝনঝন করা, টুপ করে পড়া, ঠকঠক করা, কটমট করা। এগুলো সবসময় বিশুদ্ধ ধাতু-শ্রেণির উদাহরণ না হলেও শব্দগঠনের আলোচনায় গুরুত্বপূর্ণ।
২.৫ ধাতু থেকে গঠিত কিছু সাধারণ ক্রিয়ারূপ
ধাতু | ক্রিয়ারূপ | অর্থগত ইঙ্গিত |
কর | করি, করে, করল, করবে, করানো | কর্ম সম্পাদন |
লিখ | লিখি, লিখল, লিখছে, লিখিত, লিখন | লেখা সম্পর্কিত কাজ |
খা | খাই, খেল, খাবে, খাওয়া | ভোজন |
যা | যাই, গেল, যাবে, যাওয়া | গমন |
হাস | হাসি, হাসল, হাসছে, হাস্য | হাসা |
নাচ | নাচে, নাচল, নাচন, নাচনো | নৃত্যক্রিয়া |
দেখ | দেখি, দেখল, দেখানো, দেখনদারি | দৃষ্টি/প্রদর্শন |
২.৬ ধাতু চিনবার কৌশল
১. ক্রিয়াপদটিকে বিশ্লেষণ করুন - যে অংশটি কর্ম বা অবস্থার মূল অর্থ প্রকাশ করছে, সেটিই ধাতু।
২. কাল, পুরুষ, বচন, ভাব, সহায়ক অংশ বাদ দিন।
৩. ‘করছি, করতাম, করবে, করানো’ - সবগুলোতেই যে অংশটি অভিন্ন, সেটি ধাতু ‘কর’।
৪. ‘খেয়েছিলাম’ রূপে ধ্বনিগত পরিবর্তন থাকলেও মূল ধাতু ‘খা’।
৫. প্রত্যয়যুক্ত বিশেষ্য বা বিশেষণেও ধাতু লুকিয়ে থাকতে পারে - যেমন ‘লিখন’, ‘পাঠ্য’, ‘গম্য’, ‘করণ’, ‘ভোজ্য’ ইত্যাদি।
৩. প্রকৃতি: সংজ্ঞা, প্রকারভেদ ও বিশ্লেষণ
৩.১ প্রকৃতির সংজ্ঞা
যে মূল অর্থবোধক অংশের সঙ্গে প্রত্যয় যুক্ত হয়ে নতুন শব্দ গঠিত হয়, তাকে প্রকৃতি বলে। প্রকৃতি হলো শব্দগঠনের ভিত্তি। ধাতু যেমন ক্রিয়ার মূল, তেমনি প্রকৃতি হলো আরও বিস্তৃত ধারণা; কারণ প্রকৃতি কেবল ধাতু নয়, নামপদও হতে পারে।
৩.২ প্রকৃতির দুই প্রধান প্রকার
প্রকার | সংজ্ঞা | উদাহরণ |
নাম-প্রকৃতি | যে প্রকৃতি মূলত নামপদ বা নামধর্মী শব্দ | লজ্জা, পাগল, বন্ধু, বালক, গুণ, দয়া |
ধাতু-প্রকৃতি | যে প্রকৃতি মূলত ধাতু বা ক্রিয়ামূল | কর, লিখ, পড়, গা, দে, নাচ |
৩.৩ নাম-প্রকৃতি
যে প্রকৃতি নিজে একটি নামবাচক বা গুণবাচক ভিত্তি বহন করে এবং তার সঙ্গে তদ্ধিত বা অন্য উপযোগী প্রত্যয় যুক্ত হয়ে নতুন শব্দ গঠিত হয়, তাকে নাম-প্রকৃতি বলে।
• লজ্জা + শীল = লজ্জাশীল
• দয়া + লু = দয়ালু
• গুণ + ই = গুণী
• বালক + ত্ব = বালকত্ব
• শিশু + ত্ব = শিশুত্ব
• পাগল + আমি = পাগলামি
• বন্ধু + ত্ব = বন্ধুত্ব
৩.৪ ধাতু-প্রকৃতি
যে প্রকৃতি মূলত ধাতু, অর্থাৎ ক্রিয়ার মূল অংশ, তাকে ধাতু-প্রকৃতি বলে। এর সঙ্গে কৃত্প্রত্যয় যোগে নতুন বিশেষ্য, বিশেষণ বা অন্য শব্দরূপ গঠিত হয়।
• লিখ + অন = লিখন
• কর + তা = কর্তা
• ভজ + ন = ভজন
• পাঠ + য = পাঠ্য
• গম + য = গম্য
• ভোজ + য = ভোজ্য
• দা/দে + ন = দান
৩.৫ প্রকৃতি ও মূল শব্দের সম্পর্ক
প্রকৃতি সবসময় অভিধানগত পূর্ণ শব্দ হবে - এমন নয়। কোনো কোনো ক্ষেত্রে প্রকৃতি একটি ধাতু, কোনো ক্ষেত্রে একটি মূল নাম, আবার কোনো ক্ষেত্রে ধ্বনিগত পরিবর্তনের ফলে সামান্য রূপভেদ দেখা যায়। ব্যাকরণিক বিশ্লেষণে লক্ষ্য থাকে - প্রত্যয় যুক্ত হওয়ার আগে কোন ভিত্তির ওপর শব্দটি দাঁড়িয়ে আছে।
গুরুত্বপূর্ণ পার্থক্য ধাতু একটি বিশেষ ধরনের প্রকৃতি। অর্থাৎ ধাতু-প্রকৃতি আছে, কিন্তু নাম-প্রকৃতিও আছে। তাই ‘সব প্রকৃতি ধাতু’ - এ কথা ভুল; ‘সব ধাতু প্রকৃতি’ - এ কথাটি শর্তসাপেক্ষে সঠিক। |
৪. প্রত্যয়: সংজ্ঞা, কাজ ও স্বরূপ
৪.১ প্রত্যয়ের সংজ্ঞা
প্রকৃতির পরে যে বর্ণ বা বর্ণসমষ্টি যুক্ত হয়ে নতুন শব্দ গঠন করে, তাকে প্রত্যয় বলে। প্রত্যয়ের নিজস্ব স্বতন্ত্র অর্থ সাধারণত থাকে না; কিন্তু এটি প্রকৃতির অর্থ, পদশ্রেণি, রূপ ও ব্যবহার পরিবর্তন করতে পারে।
৪.২ প্রত্যয়ের প্রধান কাজ
• নতুন শব্দ সৃষ্টি করা
• এক পদ থেকে অন্য পদ তৈরি করা
• অর্থে বিশেষত্ব বা সম্প্রসারণ আনা
• গুণ, অবস্থা, কর্মফল, করণীয়, যোগ্যতা, স্বভাব, সম্প্রদায়, পেশা ইত্যাদি প্রকাশ করা
• ধাতু থেকে বিশেষ্য ও বিশেষণ গঠন করা
• নামপদ থেকে ভাববাচক, গুণবাচক, সম্প্রদায়বাচক, ব্যক্তি-বাচক বা অবস্থা-বাচক শব্দ তৈরি করা
৪.৩ প্রত্যয়ের বৈশিষ্ট্য
• প্রত্যয় প্রকৃতির পরে বসে; উপসর্গ বসে আগে।
• প্রত্যয় সাধারণত স্বাধীনভাবে ব্যবহৃত হয় না।
• প্রত্যয়যুক্ত নতুন শব্দ অনেক সময় মূল প্রকৃতি থেকে ভিন্ন পদশ্রেণিতে চলে যায়।
• প্রত্যয় ও বিভক্তি এক জিনিস নয়।
• সব প্রত্যয় সব প্রকৃতির সঙ্গে যুক্ত হয় না; কিছু নির্দিষ্ট রীতির শব্দগঠন আছে।
৪.৪ প্রত্যয়ের প্রধান প্রকার
প্রকার | কিসের সঙ্গে যুক্ত হয় | কী ধরনের শব্দ গঠন করে | উদাহরণ |
কৃত্প্রত্যয় | ধাতু-প্রকৃতি | বিশেষ্য/বিশেষণ/ক্রিয়াবাচক রূপ | লিখন, পাঠ্য, ভোজ্য, কর্তা |
তদ্ধিতপ্রত্যয় | নাম-প্রকৃতি | নতুন নাম/বিশেষণ/ভাব/সম্পর্কবাচক রূপ | গুণী, দয়ালু, বালকত্ব, বন্ধুত্ব |
স্ত্রীপ্রত্যয় | পুংলিঙ্গ/মূল পদ | স্ত্রীলিঙ্গ রূপ | শিক্ষকী/শিক্ষিকা, গায়িকা |
বাংলা প্রচলিত রূপকারক প্রত্যয় | নাম/ধাতু | চলিত ও দেশীয় শব্দরূপ | পাগলামি, খেলোয়াড়, দেখানো |
৫. কৃত্প্রত্যয়
যে প্রত্যয় ধাতু-প্রকৃতির সঙ্গে যুক্ত হয়ে নতুন শব্দ গঠন করে, তাকে কৃত্প্রত্যয় বলে। কৃত্প্রত্যয়ের সাহায্যে ক্রিয়া থেকে বিশেষ্য, বিশেষণ, কখনও কখনও ভাববাচক বা কর্তাবাচক শব্দ তৈরি হয়।
৫.১ কৃত্প্রত্যয়ের কাজ
• কর্ম বা কাজকে বিশেষ্য রূপ দেওয়া - লিখন, পাঠন, গমন
• যোগ্যতা বা কর্তব্য বোঝানো - পাঠ্য, ভোজ্য, গম্য
• কর্তা বা করণকারী বোঝানো - কর্তা, দাতা, বক্তা
• অবস্থা বা সম্পন্নতা বোঝানো - লিখিত, গঠিত, কৃত
• করণীয়তা বা সম্পাদনযোগ্যতা বোঝানো - করণীয়, স্মরণীয়, গ্রহণীয়
৫.২ কিছু বহুলপ্রচলিত কৃত্প্রত্যয় ও উদাহরণ
প্রত্যয় | ধাতু-প্রকৃতি | গঠিত শব্দ | অর্থগত ইঙ্গিত |
-অন / -ন | লিখ | লিখন | লেখার কাজ |
-অন / -ন | পাঠ | পাঠন | পড়ার কাজ |
-তা | কর | কর্তা | যে করে |
-তা | দা/দে | দাতা | যে দেয় |
-য | ভোজ | ভোজ্য | খাওয়ার যোগ্য |
-য | গম | গম্য | যাওয়া যায় এমন |
-য | পাঠ | পাঠ্য | পড়বার বিষয় |
-ইত | লিখ | লিখিত | লেখা হয়েছে এমন |
-ইত | গঠ | গঠিত | গঠিত/সৃষ্টি হয়েছে এমন |
-ণীয় | করণ | করণীয় | যা করা উচিত |
-ণীয় | স্মর | স্মরণীয় | যা স্মরণ করা উচিত/যোগ্য |
-তব্য | কৃ/কর | কর্তব্য | যা করা দরকার |
৫.৩ কৃত্প্রত্যয়যুক্ত শব্দ বিশ্লেষণ
১. লিখন = লিখ (ধাতু-প্রকৃতি) + অন/ন (কৃত্প্রত্যয়)
২. পাঠ্য = পাঠ (ধাতু-প্রকৃতি) + য (কৃত্প্রত্যয়)
৩. গম্য = গম (ধাতু-প্রকৃতি) + য (কৃত্প্রত্যয়)
৪. ভোজ্য = ভোজ (ধাতু-প্রকৃতি) + য (কৃত্প্রত্যয়)
৫. কর্তা = কর (ধাতু-প্রকৃতি) + তা (কৃত্প্রত্যয়)
৬. লিখিত = লিখ (ধাতু-প্রকৃতি) + ইত (কৃত্প্রত্যয়)
৭. স্মরণীয় = স্মর (ধাতু-প্রকৃতি) + ণীয় (কৃত্প্রত্যয়)
৬. তদ্ধিতপ্রত্যয়
যে প্রত্যয় নাম-প্রকৃতির সঙ্গে যুক্ত হয়ে নতুন শব্দ গঠন করে, তাকে তদ্ধিতপ্রত্যয় বলে। তদ্ধিতপ্রত্যয়ের সাহায্যে গুণ, অবস্থা, ভাব, সম্প্রদায়, সম্পর্ক, পেশা, স্বভাব, অধিকার, ধর্ম, পক্ষ, গোষ্ঠী প্রভৃতি অর্থবোধক বহু শব্দ গঠিত হয়।
৬.১ তদ্ধিতপ্রত্যয়ের কাজ
• ভাব বা অবস্থা প্রকাশ - বালকত্ব, শিশুত্ব, বন্ধুত্ব
• গুণ বা বৈশিষ্ট্য প্রকাশ - গুণী, দয়ালু, লজ্জাশীল
• স্বভাব বা প্রবণতা প্রকাশ - পাগলামি, ছেলেমি
• সম্পর্ক বা গোষ্ঠী বোঝানো - পৌর, জাতীয়, গ্রামীণ
• পেশা বা পরিচয় নির্দেশ - খেলোয়াড়, ব্যবসায়ী, বিদ্বান
৬.২ কিছু বহুলপ্রচলিত তদ্ধিতপ্রত্যয়
প্রত্যয় | নাম-প্রকৃতি | গঠিত শব্দ | অর্থ/ব্যবহার |
-ত্ব | বন্ধু | বন্ধুত্ব | অবস্থা/সম্পর্ক |
-ত্ব | বালক | বালকত্ব | বালক-হওয়ার অবস্থা |
-ত্ব | শিশু | শিশুত্ব | শিশুসুলভ অবস্থা |
-ই | গুণ | গুণী | গুণসম্পন্ন ব্যক্তি |
-ই | জ্ঞান | জ্ঞানী | জ্ঞানসম্পন্ন ব্যক্তি |
-লু | দয়া | দয়ালু | দয়া আছে এমন |
-শীল | লজ্জা | লজ্জাশীল | লজ্জা আছে এমন |
-আমি | পাগল | পাগলামি | পাগলসুলভ আচরণ |
-এমি/মি | ছেলে | ছেলেমি | ছেলেমানুষি আচরণ |
-ীয় | জাতি | জাতীয় | জাতিসংক্রান্ত |
-ীণ | গ্রাম | গ্রামীণ | গ্রাম-সম্পর্কিত |
-ওয়াড় / -য়াড় | খেল | খেলোয়াড় | যে খেলায় অংশ নেয় |
-ী | ব্যবসা | ব্যবসায়ী | ব্যবসা করে এমন ব্যক্তি |
৬.৩ তদ্ধিতপ্রত্যয়যুক্ত শব্দ বিশ্লেষণ
১. বন্ধুত্ব = বন্ধু (নাম-প্রকৃতি) + ত্ব (তদ্ধিতপ্রত্যয়)
২. গুণী = গুণ (নাম-প্রকৃতি) + ঈ/ই (তদ্ধিতপ্রত্যয়)
৩. দয়ালু = দয়া (নাম-প্রকৃতি) + লু (তদ্ধিতপ্রত্যয়)
৪. লজ্জাশীল = লজ্জা (নাম-প্রকৃতি) + শীল (তদ্ধিতপ্রত্যয়)
৫. পাগলামি = পাগল (নাম-প্রকৃতি) + আমি/ামি (তদ্ধিতপ্রত্যয়)
৬. জাতীয় = জাতি (নাম-প্রকৃতি) + ইয়/ীয় (তদ্ধিতপ্রত্যয়)
৭. স্ত্রীপ্রত্যয় ও অন্যান্য উল্লেখযোগ্য প্রত্যয়
কিছু পাঠ্যপুস্তক ও ব্যাকরণে স্ত্রীপ্রত্যয়কে তদ্ধিতপ্রত্যয়ের অন্তর্গত বা আলাদা করে আলোচনা করা হয়। পরীক্ষায় সাধারণত স্ত্রীলিঙ্গ-গঠনসম্পর্কিত প্রত্যয় সম্পর্কে ধারণা থাকা দরকার।
মূল শব্দ | প্রত্যয় | গঠিত শব্দ | মন্তব্য |
গায়ক | ইকা | গায়িকা | স্ত্রীলিঙ্গ নির্দেশ |
শিক্ষক | ইকা | শিক্ষিকা | স্ত্রীলিঙ্গ নির্দেশ |
নর্তক | ঈ/ইকা | নর্তকী/নর্তকীকা নয় | চলিত রীতি লক্ষ্যণীয় |
সেবক | ইকা | সেবিকা | প্রচলিত রূপ |
অভিনেতা | ত্রী | অভিনেত্রী | তৎসম রূপ |
৮. প্রত্যয় বনাম বিভক্তি
এটি পরীক্ষার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ তুলনামূলক বিষয়। অনেক শিক্ষার্থী প্রত্যয় ও বিভক্তিকে গুলিয়ে ফেলে। অথচ এদের কাজ ভিন্ন।
বিষয় | প্রত্যয় | বিভক্তি |
অবস্থান | প্রকৃতির পরে বসে | পদের পরে বসে |
মূল কাজ | নতুন শব্দ গঠন | বাক্যে পদকে অন্য পদের সঙ্গে সম্পর্কিত করা |
ফল | নতুন পদ বা নতুন শব্দরূপ | শব্দ বাক্যগত ভূমিকা পায় |
উদাহরণ | বন্ধু+ত্ব = বন্ধুত্ব | বন্ধু+কে = বন্ধুকে |
পদশ্রেণি পরিবর্তন | প্রায়ই ঘটায় | সাধারণত ঘটায় না |
অর্থ | নতুন অর্থ/ধারণা যোগ করে | কারক/বচন/সম্পর্ক বোঝায় |
উদাহরণভিত্তিক পার্থক্য ‘ছাত্রত্ব’ শব্দে ‘ত্ব’ প্রত্যয়; কারণ এটি নতুন ভাববাচক শব্দ গঠন করেছে। কিন্তু ‘ছাত্রকে’ শব্দে ‘কে’ বিভক্তি; কারণ এটি বাক্যে কর্মকারক বা সম্পর্কসূচক ভূমিকা দিচ্ছে। |
৯. প্রত্যয় বনাম উপসর্গ
বিষয় | প্রত্যয় | উপসর্গ |
অবস্থান | প্রকৃতির পরে | প্রকৃতির আগে |
কাজ | নতুন শব্দরূপ সৃষ্টি | মূল শব্দের অর্থে পরিবর্তন বা বিশেষতা আনা |
স্বাধীন ব্যবহার | না | না |
উদাহরণ | গুণ+ী = গুণী | অ+যোগ্য = অযোগ্য |
বিশ্লেষণ | প্রকৃতি + প্রত্যয় | উপসর্গ + প্রকৃতি |
যেমন - ‘অকর্মণ্য’ শব্দে ‘অ’ উপসর্গ; কিন্তু ‘কর্মণ্যতা’ শব্দে ‘তা’ প্রত্যয়। তাই অবস্থানই পার্থক্যের একমাত্র ভিত্তি নয়; কী কাজ করছে, সেটিও দেখতে হবে।
১০. প্রকৃতি, ধাতু ও প্রত্যয়ের আন্তঃসম্পর্ক
এই তিনটি ধারণাকে একসঙ্গে বুঝলে ব্যাকরণিক বিশ্লেষণ সহজ হয়।
১. ধাতু হলো ক্রিয়ার মূল অংশ।
২. ধাতু নিজে একটি প্রকৃতি হতে পারে - তখন তাকে ধাতু-প্রকৃতি বলা হয়।
৩. নামপদও প্রকৃতি হতে পারে - তখন তাকে নাম-প্রকৃতি বলা হয়।
৪. ধাতু-প্রকৃতির সঙ্গে কৃত্প্রত্যয় যুক্ত হয়।
৫. নাম-প্রকৃতির সঙ্গে তদ্ধিতপ্রত্যয় যুক্ত হয়।
৬. প্রত্যয়যুক্ত গঠিত শব্দ আবার নতুন প্রকৃতি হিসেবেও কাজ করতে পারে।
ধারাবাহিক গঠন লিখ → লিখন → লিখনশৈলী। এখানে প্রথমে ‘লিখ’ ধাতু-প্রকৃতি; ‘লিখন’ কৃত্প্রত্যয়যুক্ত গঠিত শব্দ; পরে সেটিই আবার নতুন প্রকৃতি হিসেবে ‘শৈলী’ বা অন্য শব্দের সঙ্গে যৌগিক সম্পর্ক গড়তে পারে। |
১১. ধ্বনিগত পরিবর্তন ও রূপভেদ
প্রত্যয় যুক্ত হওয়ার সময় অনেক শব্দে ধ্বনিগত বা রূপগত পরিবর্তন ঘটে। পরীক্ষায় সরাসরি না এলেও বিশ্লেষণধর্মী প্রশ্নে এটি কাজে লাগে।
• খা → খাদ্য : ধাতু ও প্রত্যয়ের সংযোগে রূপের পরিবর্তন লক্ষণীয়
• দা/দে → দাতা, দান : ধাতুমূলে রূপবদল দেখা যায়
• স্মর → স্মরণ, স্মরণীয় : একই ধাতু থেকে একাধিক রূপ
• গুণ → গুণী : সংক্ষিপ্ত প্রত্যয়ে গুণবাচক ব্যক্তি
• পাগল → পাগলামি : চলিত রীতিতে অর্থের সম্প্রসারণ
বাংলা ব্যাকরণে অনেক রূপ সংস্কৃতমূল, তৎসম, তদ্ভব ও দেশজ ব্যবহারের প্রভাবে স্থির হয়েছে। তাই কেবল যান্ত্রিকভাবে ভাঙলেই হবে না; প্রচলিত শুদ্ধ রূপও জানতে হবে।
১২. সাধারণ বিশ্লেষণ-পদ্ধতি
১২.১ কোনো শব্দে প্রকৃতি ও প্রত্যয় নির্ণয়ের ধাপ
১. শব্দটি আগে চিনুন - এটি বিশেষ্য, বিশেষণ, নাকি অন্য কোনো পদ?
২. নতুন শব্দটি কোন মূল শব্দ বা ধাতু থেকে এসেছে, তা ভাবুন।
৩. প্রকৃতিটি নাম-প্রকৃতি না ধাতু-প্রকৃতি, তা নির্ধারণ করুন।
৪. শেষাংশটি নতুন শব্দ গঠনের কাজ করছে কি না দেখুন।
৫. যদি ধাতু-প্রকৃতির সঙ্গে যুক্ত হয়, সাধারণত কৃত্প্রত্যয়; যদি নাম-প্রকৃতির সঙ্গে যুক্ত হয়, সাধারণত তদ্ধিতপ্রত্যয়।
৬. প্রয়োজনে উপসর্গ, বিভক্তি, সমাস বা রূপান্তর - এসব থেকে আলাদা করুন।
১২.২ উদাহরণভিত্তিক বিশ্লেষণ
শব্দ | বিশ্লেষণ | শ্রেণি |
বন্ধুত্ব | বন্ধু + ত্ব | নাম-প্রকৃতি + তদ্ধিতপ্রত্যয় |
গুণী | গুণ + ই | নাম-প্রকৃতি + তদ্ধিতপ্রত্যয় |
লিখন | লিখ + ন | ধাতু-প্রকৃতি + কৃত্প্রত্যয় |
পাঠ্য | পাঠ + য | ধাতু-প্রকৃতি + কৃত্প্রত্যয় |
স্মরণীয় | স্মর + ণীয় | ধাতু-প্রকৃতি + কৃত্প্রত্যয় |
পাগলামি | পাগল + আমি/ামি | নাম-প্রকৃতি + তদ্ধিতপ্রত্যয় |
দয়ালু | দয়া + লু | নাম-প্রকৃতি + তদ্ধিতপ্রত্যয় |
লিখিত | লিখ + ইত | ধাতু-প্রকৃতি + কৃত্প্রত্যয় |
১৩. পরীক্ষায় আসা গুরুত্বপূর্ণ জুটি ও শ্রেণি
নিচের শব্দগুলো বহু পরীক্ষায় সরাসরি বা পরোক্ষভাবে এসেছে। তাই শ্রেণিবিভাগসহ মনে রাখা দরকার।
শব্দ | প্রকৃতি | প্রত্যয় | ধরন |
বন্ধুত্ব | বন্ধু | ত্ব | তদ্ধিত |
শিশুত্ব | শিশু | ত্ব | তদ্ধিত |
গুণী | গুণ | ই | তদ্ধিত |
দয়ালু | দয়া | লু | তদ্ধিত |
লজ্জাশীল | লজ্জা | শীল | তদ্ধিত |
পাগলামি | পাগল | আমি/ামি | তদ্ধিত |
লিখন | লিখ | ন | কৃত্ |
পাঠ্য | পাঠ | য | কৃত্ |
গম্য | গম | য | কৃত্ |
ভোজ্য | ভোজ | য | কৃত্ |
কর্তা | কর | তা | কৃত্ |
লিখিত | লিখ | ইত | কৃত্ |
স্মরণীয় | স্মর | ণীয় | কৃত্ |
কর্তব্য | কর/কৃ | তব্য | কৃত্ |
১৪. ভুল হওয়ার সাধারণ জায়গা
• ‘প্রত্যয়’ ও ‘বিভক্তি’কে এক মনে করা।
• সব প্রকৃতিকে ধাতু ভেবে নেওয়া।
• ধাতু-প্রকৃতি ও নাম-প্রকৃতির পার্থক্য না বোঝা।
• উপসর্গকে প্রত্যয় বলে ফেলা।
• তদ্ধিতপ্রত্যয়যুক্ত শব্দকে কৃত্প্রত্যয়যুক্ত বলে দেওয়া।
• প্রচলিত বাংলা রূপ ও সংস্কৃত রূপের মধ্যে গুলিয়ে ফেলা।
• শেষাংশ দেখেই সিদ্ধান্ত নেওয়া; অথচ মূল প্রকৃতি কী, তা না দেখা।
১৫. অতিগুরুত্বপূর্ণ পার্থক্যসমূহ একনজরে
তুলনা | প্রথম পদ | দ্বিতীয় পদ | মূল পার্থক্য |
ধাতু বনাম প্রকৃতি | ধাতু ক্রিয়ার মূল | প্রকৃতি শব্দগঠনের মূল | সব ধাতু প্রকৃতি হতে পারে; সব প্রকৃতি ধাতু নয় |
নাম-প্রকৃতি বনাম ধাতু-প্রকৃতি | নামভিত্তিক | ক্রিয়াভিত্তিক | প্রত্যয়ের ধরন নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ |
কৃত্ বনাম তদ্ধিত | ধাতু-প্রকৃতির সঙ্গে | নাম-প্রকৃতির সঙ্গে | শ্রেণি নির্ণয়ের মূল সূত্র |
প্রত্যয় বনাম বিভক্তি | শব্দ গঠন | বাক্যগত সম্পর্ক | কাজ সম্পূর্ণ ভিন্ন |
প্রত্যয় বনাম উপসর্গ | পরে বসে | আগে বসে | অবস্থান ও কাজ উভয়েই আলাদা |
১৬. দ্রুত পুনরাবৃত্তি (Rapid Revision)
• ধাতু = ক্রিয়ার মূল অর্থবোধক অংশ।
• প্রকৃতি = যে মূল অংশের সঙ্গে প্রত্যয় যুক্ত হয়।
• প্রকৃতি দুই রকম - নাম-প্রকৃতি ও ধাতু-প্রকৃতি।
• ধাতু-প্রকৃতির সঙ্গে কৃত্প্রত্যয় যুক্ত হয়।
• নাম-প্রকৃতির সঙ্গে তদ্ধিতপ্রত্যয় যুক্ত হয়।
• প্রত্যয় নতুন শব্দ গঠন করে; বিভক্তি বাক্যে সম্পর্ক স্থাপন করে।
• উপসর্গ আগে, প্রত্যয় পরে।
• বিশ্লেষণের সময় শেষাংশ নয়, আগে মূল প্রকৃতি নির্ণয় করতে হবে।
১৭. নির্বাচিত উদাহরণভাণ্ডার
পরীক্ষার সুবিধার্থে নিচে আরও কিছু শব্দ কেবল উদাহরণরূপে দেওয়া হলো। সবগুলো সব ব্যাকরণে একইভাবে শ্রেণিবদ্ধ না-ও হতে পারে; তবে সাধারণ পরীক্ষামুখী বিশ্লেষণে এগুলো কার্যকর।
শব্দ | সম্ভাব্য বিশ্লেষণ | নোট |
জ্ঞানী | জ্ঞান + ই | তদ্ধিত; গুণ/অধিকারবাচক |
মানবতা | মানব + তা | ভাববাচক; নাম-প্রকৃতি নির্ভর |
শৈশব | শিশু/শৈশব-জাত রূপ | রূপগত ইতিহাসভিত্তিক |
চালক | চাল + ক | কর্তাবাচক; প্রমিত রূপজ্ঞান জরুরি |
পাঠক | পাঠ + ক | যে পড়ে |
লেখক | লেখ/লিখ + ক | রূপান্তরিত গঠন |
খেলোয়াড় | খেল + য়াড়/ওয়াড় | চলিত বাংলা গঠন |
দৌড়বিদ | দৌড় + বিদ | কার্যসম্পৃক্ত পরিচয় |
স্মৃতিময় | স্মৃতি + ময় | তদ্ধিতধর্মী বিশেষণরূপ |
বেদনাদায়ক | বেদনা + দায়ক | অর্থবর্ধক প্রত্যয়জাত রূপ |
১৮. উপসংহার
ধাতু, প্রকৃতি ও প্রত্যয় - এই তিনটি ধারণা বাংলা শব্দতত্ত্বের ভিত তৈরি করে। কোনো শব্দের গঠন বিশ্লেষণ করতে হলে প্রথমে তার মূল অংশ বা প্রকৃতি নির্ধারণ করতে হয়, তারপর দেখতে হয় সেটি ধাতু-প্রকৃতি না নাম-প্রকৃতি। এরপর যুক্ত অংশটি কৃত্প্রত্যয়, তদ্ধিতপ্রত্যয়, বিভক্তি না উপসর্গ - তা নির্ণয় করা সহজ হয়।
প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষায় সফল হতে হলে শুধু সংজ্ঞা মুখস্থ করলেই হবে না; উদাহরণ বিশ্লেষণের অভ্যাস গড়ে তুলতে হবে। একটি শব্দ দেখেই যদি আপনি বলতে পারেন - এর প্রকৃতি কী, প্রত্যয় কী, প্রত্যয়টি কৃত্ না তদ্ধিত, এবং কেন - তবে এই অধ্যায়ের মূল লক্ষ্য পূরণ হবে।