সমাস
■ সংজ্ঞা ■ প্রকারভেদ ■ বিগ্রহ ■ শনাক্তকরণ কৌশল ■ বিভ্রান্তিকর উদাহরণ ■
মনে রাখার মূল সূত্র সমাসে একাধিক পদের মধ্যে বিভক্তি বা অব্যয় লোপ পেয়ে এক পদ গঠিত হয়। ব্যাসবাক্য বা বিগ্রহ না করলে সমাসের প্রকৃতি নির্ণয় করা কঠিন। শুধু গঠন নয়, অর্থও সমাস নির্ণয়ের প্রধান চাবিকাঠি। | পরীক্ষায় যেগুলো বারবার আসে কর্মধারয় ও বহুব্রীহির পার্থক্য দ্বিগু ও কর্মধারয়ের বিভ্রান্তি তৎপুরুষের উপভেদ চিনে নেওয়ার সূত্র অব্যয়ীভাব ও নিত্যসমাসের উদাহরণ |
১. সমাসের ধারণা, সংজ্ঞা ও প্রয়োজনীয়তা
সমাস শব্দের আক্ষরিক অর্থ সংক্ষেপ বা একত্রকরণ। ব্যাকরণে যখন দুই বা ততোধিক পরস্পর-সম্পর্কযুক্ত পদ তাদের মধ্যবর্তী বিভক্তি, অনুসর্গ বা অব্যয় লোপ করে একটি সংক্ষিপ্ত পদে পরিণত হয়, তখন তাকে সমাস বলে। সমাসের ফলে ভাষা হয় সংহত, মার্জিত, গম্ভীর ও অর্থঘন। বাংলা সাহিত্য, প্রাতিষ্ঠানিক ভাষা, সংবাদভাষা, প্রশাসনিক রচনা এবং প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষার প্রশ্ন—সবখানেই সমাসবদ্ধ পদের ব্যাপক ব্যবহার রয়েছে।
উদাহরণ হিসেবে “রাজার পুত্র” থেকে “রাজপুত্র”, “হাতে করা” থেকে “হস্তকৃত”, “নীল যে পদ্ম” থেকে “নীলপদ্ম”, “দশের সমাহার” থেকে “দশক” বা “ত্রিলোক”, “দিন ও রাত” থেকে “দিনরাত”—এসব রূপ সমাসের প্রকৃতি বোঝাতে সাহায্য করে। তবে কেবল শব্দ জোড়া দেখেই সমাস নির্ণয় করলে ভুল হয়; ব্যাসবাক্য, লুপ্ত বিভক্তি এবং সমগ্র পদের অর্থ—এই তিনটি বিষয় একসাথে বিচার করতে হয়।
সমাস কেন গুরুত্বপূর্ণ ভাষাকে সংক্ষিপ্ত ও প্রাঞ্জল করে। লেখাকে মার্জিত, সাহিত্যিক ও পরীক্ষোপযোগী করে। একই অর্থ কম শব্দে প্রকাশ করা যায়। সমাস-সম্পর্কিত প্রশ্ন বাংলা ব্যাকরণের প্রায় সব প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষায় আসে। |
২. সমাসের সঙ্গে সম্পর্কিত প্রধান পরিভাষা
পরিভাষা | অর্থ | সংক্ষিপ্ত ব্যাখ্যা |
পূর্বপদ | সমাসবদ্ধ পদের প্রথম অংশ | যেমন “রাজপুত্র” শব্দে “রাজ” পূর্বপদ। |
উত্তরপদ | সমাসবদ্ধ পদের শেষ অংশ | যেমন “রাজপুত্র” শব্দে “পুত্র” উত্তরপদ। |
ব্যাসবাক্য / বিগ্রহ | সমাস ভেঙে মূল বাক্য বা সম্পর্ক প্রকাশ | যেমন “রাজপুত্র” = রাজার পুত্র। |
সমাসবদ্ধ পদ | সমাসের ফলে গঠিত নতুন পদ | যেমন “দিনরাত”, “নীলকমল”, “ত্রিভুজ”। |
বিভক্তিলোপ | দুই পদের মধ্যকার কারক-চিহ্ন বা অনুসর্গ লোপ | তৎপুরুষ প্রভৃতি সমাসে এটি খুব গুরুত্বপূর্ণ। |
মনে রাখতে হবে, সব সমাসে একই রকম লোপ ঘটে না। কোথাও কারকবিভক্তি লোপ পায়, কোথাও “ও”, “এবং”, “বা”, “কি” ধরনের সংযোজক ভাবটি লুপ্ত হয়, কোথাও আবার বাহ্যার্থ বা অন্যপদার্থ বোঝাতে গঠিত নতুন পদটির অর্থ মূল পদের বাইরে সরে যায়। এই কারণেই সমাস নির্ণয় করতে অর্থ বিশ্লেষণ অত্যন্ত জরুরি।
৩. সমাস, সন্ধি, উপসর্গ ও প্রত্যয়ের সঙ্গে পার্থক্য
বিষয় | কী ঘটে | উদাহরণ | মূল পার্থক্য |
সমাস | দুই বা ততোধিক পদের সংক্ষেপে এক পদ হয় | রাজপুত্র, নীলপদ্ম | অর্থগত সম্পর্ক মুখ্য; ব্যাসবাক্য করা যায়। |
সন্ধি | ধ্বনিগত মিলনে বর্ণপরিবর্তন ঘটে | দেব + আলয় = দেবালয় | এখানে শব্দসংক্ষেপ নয়, ধ্বনিসংযোগ প্রধান। |
উপসর্গ | শব্দের আগে যুক্ত হয়ে অর্থপরিবর্তন করে | অতি + মানব = অতিমানব | উপসর্গ নিজে স্বাধীন পদ নয়। |
প্রত্যয় | ধাতু বা শব্দের শেষে যুক্ত হয়ে নতুন শব্দ গঠন করে | কর্ম + ণ = কর্মণ | প্রত্যয়ও স্বাধীন পদ নয়; রূপগঠনমূলক উপাদান। |
দ্রুত শনাক্তের উপায় যদি ভেঙে “এর, কে, দিয়ে, থেকে, এ, ও” ইত্যাদি পাওয়া যায়, তবে সমাস হওয়ার সম্ভাবনা বেশি। যদি শুধু ধ্বনি-বদল দেখা যায়, তবে তা সাধারণত সন্ধি। যদি প্রথমাংশ স্বাধীন পদ না হয়ে অর্থবর্ধক উপাদান হয়, তবে উপসর্গের দিকে তাকাতে হবে। যদি শব্দের শেষে বসে নতুন পদ তৈরি হয়, তবে প্রত্যয়। |
৪. সমাসের প্রধান প্রকারভেদ
বাংলা ব্যাকরণে প্রচলিত দৃষ্টিতে সমাসের প্রধান প্রকার ছয়টি—দ্বন্দ্ব, তৎপুরুষ, কর্মধারয়, দ্বিগু, বহুব্রীহি ও অব্যয়ীভাব। কিছু ব্যাকরণে কর্মধারয় ও দ্বিগুকে তৎপুরুষের অন্তর্গত হিসেবে ধরা হয়; আবার নিত্যসমাস ও অলুক সমাসকে পৃথক আলোচ্য রূপে উপস্থাপন করা হয়। প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষার সুবিধার জন্য এখানে প্রধান সব রূপ আলাদা করে ব্যাখ্যা করা হলো।
সমাসের নাম | মূল বৈশিষ্ট্য | দ্রুত সূত্র |
দ্বন্দ্ব | দুই বা একাধিক পদের যোগফলধর্মী অর্থ | X ও Y → XY |
তৎপুরুষ | উত্তরপদের অর্থ প্রধান; পূর্বপদের বিভক্তি লোপ | X-এর/কে/দিয়ে/থেকে/এ Y |
কর্মধারয় | বিশেষণ + বিশেষ্য বা সমানাধিকরণভিত্তিক সমাস | যে Y, সে X / X-রূপ Y |
দ্বিগু | সংখ্যাবাচক পূর্বপদ; সাধারণত সমষ্টি অর্থ | সংখ্যা + পদ → দল/সমষ্টি/গুচ্ছ |
বহুব্রীহি | সমাসবদ্ধ পদ অন্য কোনো পদার্থ বোঝায় | X-Y আছে/যার, সে অন্য কেউ |
অব্যয়ীভাব | অব্যয় পূর্বপদ; সমগ্র পদ অব্যয়সদৃশ অর্থ দেয় | যথা-, উপ-, প্রতি-, অনু- ইত্যাদি |
৫. দ্বন্দ্ব সমাস
যে সমাসে দুই বা ততোধিক পদের সমান গুরুত্ব থাকে এবং যোগ, সমাবেশ বা বিকল্পের ভাব প্রকাশ পায়, তাকে দ্বন্দ্ব সমাস বলে। ব্যাসবাক্যে সাধারণত “ও”, “এবং”, “বা”, “কিংবা”, “কি…কি” ইত্যাদি থাকে। এখানে কোনো একটি পদ অন্যটির অধীন নয়; উভয় বা সকল পদই সমান মর্যাদাসম্পন্ন।
দ্বন্দ্ব সমাস চেনার মূল সংকেত ব্যাসবাক্যে “ও/এবং/আর” পাওয়া যায়। দুই পদের অর্থই বজায় থাকে। উত্তরপদ এককভাবে প্রধান নয়; সবগুলো পদই গুরুত্বপূর্ণ। |
উপভেদ | ব্যাখ্যা | উদাহরণ | বিগ্রহ |
ইতরেতর দ্বন্দ্ব | প্রত্যেক পদ পৃথকভাবে বোঝায় | মা-বাবা, দিনরাত, সুখদুঃখ | মা ও বাবা; দিন ও রাত; সুখ ও দুঃখ |
সমাহার দ্বন্দ্ব | সমষ্টিগত বা সামগ্রিক অর্থ প্রকাশ করে | হাটবাজার, ঘরদোর, ধানচাল | হাট ও বাজারের সমাহার; ঘর ও দোরের সমষ্টি |
একশেষ দ্বন্দ্ব | একাধিক সমজাতীয় পদের শেষে একটি অংশ মাত্র থাকে | ভাইবোন, ছেলেমেয়ে | ভাই ও বোন; ছেলে ও মেয়ে |
বিকল্প দ্বন্দ্ব | বা/কিংবা অর্থ নির্দেশ করে | জীবন্মৃত, ভালোমন্দ | জীবিত বা মৃত; ভালো বা মন্দ |
দ্বন্দ্ব সমাসে ক্রম কখনো অর্থবহ, কখনো প্রচলিত। যেমন “দিনরাত”, “ধনদৌলত”, “সাজসজ্জা”, “কর্মবাক্য”, “শান্তি-শৃঙ্খলা”—এসব ব্যবহারে প্রচলন গুরুত্বপূর্ণ। পরীক্ষায় অনেক সময় সমাহার দ্বন্দ্ব ও সাধারণ যুগ্মশব্দকে গুলিয়ে দেওয়া হয়; তাই দেখতে হবে শব্দটি কেবল যুগ্মরূপ কিনা, নাকি সত্যিই “ও/এবং”-এর ভাব নিয়ে গঠিত সমাসবদ্ধ পদ।
আরও উদাহরণ: রক্তমাংস, দোষগুণ, আচারব্যবহার, চাষবাস, নদীনালা, দুঃখকষ্ট, পাপপুণ্য, জীবনমরণ, পথঘাট, লেনদেন, রাগঅনুরাগ, কলাকৌশল, ফলমূল, বইখাতা, মানঅভিমান।
৬. তৎপুরুষ সমাস
যে সমাসে উত্তরপদের অর্থ প্রধান থাকে এবং পূর্বপদের সঙ্গে উত্তরপদের যে কারক-সম্পর্ক থাকে, সেই বিভক্তি লোপ পেয়ে সমাস গঠিত হয়, তাকে তৎপুরুষ সমাস বলে। “তৎ + পুরুষ” অর্থ—তার (উত্তরপদের) পুরুষ বা অধীন পদ। অর্থাৎ এখানে পূর্বপদ উত্তরপদের উপর নির্ভরশীল। তৎপুরুষ সমাস বাংলা পরীক্ষায় সবচেয়ে বেশি আলোচিত সমাসগুলোর একটি।
তৎপুরুষ সমাস শনাক্তের সূত্র বিগ্রহে “এর, কে, দিয়ে, জন্য, থেকে, এ, উপর, সম্পর্কিত” ইত্যাদি কারক-চিহ্ন পাওয়া যায়। উত্তরপদই সাধারণত মূল পদ হিসেবে কাজ করে। পূর্বপদ উত্তরপদকে বিশেষিত বা সীমাবদ্ধ করে। |
উপভেদ | বিগ্রহে লুপ্ত সম্পর্ক | উদাহরণ | বিগ্রহ |
কর্ম-তৎপুরুষ | কে | গ্রন্থপাঠ, শত্রুজয় | গ্রন্থকে পাঠ; শত্রুকে জয় |
করণ-তৎপুরুষ | দিয়ে/দ্বারা | হস্তলিখিত, তলোয়ারাহত | হাতে লিখিত; তলোয়ার দ্বারা আহত |
নিমিত্ত/উদ্দেশ্য তৎপুরুষ | জন্য/নিমিত্তে | পাঠশালা, যজ্ঞশালা | পাঠের জন্য শালা; যজ্ঞের জন্য শালা |
অপাদান তৎপুরুষ | থেকে | দেশান্তর, গৃহচ্যুত | দেশ থেকে অন্তর; গৃহ থেকে চ্যুত |
অধিকরণ তৎপুরুষ | এ/তে/উপরে | গৃহবাসী, শয্যাশায়ী | গৃহে বাসী; শয্যায় শায়ী |
সম্বন্ধ তৎপুরুষ | এর/র | রাজপুত্র, নদীতীর | রাজার পুত্র; নদীর তীর |
সম্প্রদান তৎপুরুষ | জন্যে/প্রতি | গুরुदক্ষিণা, দেবপূজা | গুরুকে দক্ষিণা; দেবকে পূজা |
উপপদ তৎপুরুষ | ধাতুর সঙ্গে পূর্বপদের যোগে | কৃষিকর্ম, জলপান | কৃষি করা কর্ম; জল পান করা |
নঞ্ তৎপুরুষ | না/নয় অর্থক “অ-, অন-, নি-” | অশান্তি, অনৈতিক | শান্তি নয়; নৈতিক নয় |
অনেক ক্ষেত্রে তৎপুরুষ নির্ণয়ে শুধু কারক চিহ্ন দেখলেই হবে না; দেখতে হবে সমাসবদ্ধ পদের অর্থ উত্তরপদের চারপাশে ঘোরে কি না। যেমন “রাজপুত্র” শব্দে মূল পদ “পুত্র”, “নদীতীর” শব্দে মূল পদ “তীর”, “গৃহবাসী” শব্দে মূল অর্থ “বাসী”—অর্থাৎ উত্তরপদ মুখ্য।
আরও উদাহরণ: করপীড়ন, পদদলিত, বায়ুচালিত, রণক্লান্ত, কেশাকর্ষণ, নখদন্ত, জলমগ্ন, শোকাতুর, বেদনাভারাক্রান্ত, রক্তরঞ্জিত, চক্ষুলজ্জা, বইপড়া, অন্নভিক্ষা, বৃক্ষরোপণ, ধর্মবিশ্বাস, কৃষিজীবী, দেশপ্রেম, নদীগর্ভ, গৃহপ্রবেশ, গলাবন্ধ।
৭. কর্মধারয় সমাস
যে সমাসে পূর্বপদ ও উত্তরপদ একই পদার্থকে নির্দেশ করে এবং সাধারণত পূর্বপদটি উত্তরপদের বিশেষণ, উপমা, রূপ বা গুণবাচক পরিচয় দেয়, তাকে কর্মধারয় সমাস বলে। অনেক ব্যাকরণে এটি তৎপুরুষের অন্তর্গত সমানাধিকরণ তৎপুরুষ হিসেবেও বিবেচিত; তবে পরীক্ষার প্রয়োজনে একে আলাদাভাবে জানা প্রয়োজন।
কর্মধারয় চেনার সহজ সূত্র বিগ্রহে “যে”, “যিনি”, “যাহা”, “রূপে”, “সদৃশ”, “নামক”, “বিশেষণ + বিশেষ্য” ধরনের গঠন পাওয়া যায়। পূর্বপদ ও উত্তরপদ একই বস্তুকে নির্দেশ করে। বিশেষণ-জাত পূর্বপদ খুব সাধারণ। |
রূপ | ব্যাখ্যা | উদাহরণ | বিগ্রহ |
সাধারণ কর্মধারয় | বিশেষণ + বিশেষ্য | নীলকমল, মহাপুরুষ | নীল যে কমল; মহান যিনি পুরুষ |
উপমিত কর্মধারয় | উপমা বা সদৃশতা | চন্দ্রমুখ, সিংহহৃদয় | চাঁদের ন্যায় মুখ; সিংহের ন্যায় হৃদয় |
রূপক কর্মধারয় | প্রকৃত উপমা মুছে সরাসরি রূপক অর্থ | মনমন্দির, জ্ঞানসূর্য | মন যেন মন্দির; জ্ঞান যেন সূর্য |
মধ্যপদলোপী কর্মধারয় | মাঝের পদ লোপ পায় | কাঁচাবাজার, লালসাগর | কাঁচা দ্রব্যের বাজার; লাল বর্ণের সাগর |
নামবাচক কর্মধারয় | নামক বা পরিচয়সূচক | রাজশাহী কলেজ, বাংলা ভাষা | রাজশাহী নামক কলেজ; বাংলা নামক ভাষা |
“নীলপদ্ম”, “শ্বেতপত্র”, “বৃহৎকার্য”, “ক্ষুদ্রমানব”, “সুকবি”, “কঠোরহৃদয়”, “সুধাবাক্য”, “রক্তগোলাপ”, “শুভদিন”, “মহাসমুদ্র”—এসব উদাহরণে পূর্বপদটি উত্তরপদকে গুণ, রূপ, স্বভাব, উপমা বা পরিচয়ে নির্দিষ্ট করছে।
কর্মধারয় ও বহুব্রীহি প্রায়ই বিভ্রান্তি তৈরি করে। “নীলকণ্ঠ” শব্দটি যদি শিবকে বোঝায়, তবে তা বহুব্রীহি; কিন্তু কোনো পাখির নীল কণ্ঠ বোঝালে কর্মধারয় ভাবেও ধরা যেতে পারে—অর্থাৎ চূড়ান্ত নির্ণয়ে অর্থই মুখ্য।
৮. দ্বিগু সমাস
যে সমাসে পূর্বপদ সংখ্যাবাচক হয় এবং সমগ্র পদে সমষ্টি, গুচ্ছ, পরিমাণ বা সমাবেশের ভাব প্রকাশ পায়, তাকে দ্বিগু সমাস বলে। অনেক ব্যাকরণে দ্বিগুকে তৎপুরুষের অন্তর্গত করা হলেও পরীক্ষাভিত্তিক আলোচনায় এটি আলাদা করে পড়া সুবিধাজনক।
দ্বিগু চেনার সূত্র প্রথম পদটি সাধারণত এক, দুই, ত্রি, চতুর, পঞ্চ, সপ্ত, নব, দশ, শত, সহস্র ইত্যাদি সংখ্যা। সমাসবদ্ধ পদে অনেক সময় সমষ্টি বা একটি শ্রেণি বোঝায়। শুধু সংখ্যা + বিশেষ্য হলেই দ্বিগু হবে না; সমষ্টিগত অর্থ আছে কি না দেখতে হবে। |
উদাহরণ | বিগ্রহ | অর্থগত দিক |
ত্রিভুজ | তিনটি ভুজের সমাহারবিশিষ্ট আকৃতি | সংখ্যা + আকৃতি |
ত্রিলোক | তিন লোকের সমষ্টি | সমষ্টি অর্থ স্পষ্ট |
দ্বিচক্র | দুই চক্রবিশিষ্ট | যন্ত্র/বস্তুর গঠন |
পঞ্চবট | পাঁচ বটের সমষ্টি | গুচ্ছ অর্থ |
সপ্তর্ষি | সাত ঋষির সমষ্টি | নির্দিষ্ট দল |
চতুষ্পদ | চার পা-যুক্ত / চার পায়ের | গঠন বা শ্রেণি-অর্থ |
শতাব্দী | শত বৎসরের সমষ্টি | পরিমাণ/কাল |
দ্বীপুঞ্জ | দুই বা একাধিক দ্বীপের গুচ্ছ | সমাবেশ |
দ্বিগু ও কর্মধারয়ের পার্থক্য মনে রাখা খুব প্রয়োজন। “ত্রিনয়ন” যদি “তিন নয়নবিশিষ্ট শিব” বোঝায়, তবে তা বহুব্রীহি; কিন্তু “তিনটি নয়নের সমষ্টি” বোঝালে দ্বিগু ভাব আসতে পারে। আবার “দ্বিচক্রযান” শব্দে “দুই চক্রবিশিষ্ট যান” অর্থে কর্মধারয়/বহুব্রীহির সঙ্গেও তুলনা হতে পারে। তাই ব্যাসবাক্য ও অর্থ—উভয়ই বিচার্য।
৯. বহুব্রীহি সমাস
যে সমাসে সমাসবদ্ধ পদটি নিজের উপাদান পদগুলোর কোনো একটিকেও সরাসরি বোঝায় না; বরং অন্য কোনো ব্যক্তি, বস্তু বা পদার্থকে নির্দেশ করে, তাকে বহুব্রীহি সমাস বলে। এটি “অন্যপদার্থ প্রধান” সমাস। বহুব্রীহি বুঝতে না পারলে সমাসের একটি বড় অংশ অপূর্ণ থেকে যায়।
বহুব্রীহি চেনার মূল বৈশিষ্ট্য সমগ্র পদটি বাইরের একটি পদার্থ বা ব্যক্তিকে নির্দেশ করে। ব্যাসবাক্যে প্রায়ই “যার…, সে …” বা “যিনি…, তিনি …” ধরনের গঠন পাওয়া যায়। সমাসবদ্ধ শব্দের আক্ষরিক অর্থের বাইরে গিয়ে বিশেষ ব্যক্তি/বস্তু বোঝায়। |
উদাহরণ | বিগ্রহ | আসল অর্থ |
দশানন | যার দশ আনন, তিনি | রাবণ |
পীতাম্বর | যার পীত অম্বর | শ্রীকৃষ্ণ / পীতবস্ত্রধারী ব্যক্তি |
নীলকণ্ঠ | যার কণ্ঠ নীল | শিব / বিশেষ পাখি |
চতুরানন | যার চার আনন | ব্রহ্মা |
ত্রিনয়ন | যার তিন নয়ন | শিব |
বহুশ্রুত | যিনি বহু শুনেছেন | পণ্ডিত/জ্ঞানী ব্যক্তি |
ক্ষীণদৃষ্টি | যার দৃষ্টি ক্ষীণ | কমদৃষ্টিসম্পন্ন ব্যক্তি |
রক্তচক্ষু | যার চক্ষু রক্তবর্ণ | ক্রুদ্ধ ব্যক্তি |
বহুব্রীহি সমাসে প্রায়ই গুণবাচক, দেহবাচক, অঙ্গবাচক, রূপবাচক বা সংখ্যাবাচক পদ ব্যবহৃত হয়। কিন্তু মনে রাখতে হবে—যদি সমাসবদ্ধ শব্দটি সরাসরি উপাদান পদের কোনো একটিকেই বোঝায়, তবে তা বহুব্রীহি নয়। যেমন “সুশীল” যদি শুধু শীলের গুণ বোঝায়, তবে তা বহুব্রীহি নয়; কিন্তু “দীর্ঘবাহু” যখন “দীর্ঘ বাহু আছে যে ব্যক্তি” বোঝায়, তখন বহুব্রীহি।
আরও উদাহরণ: কৃপণহৃদয়, সুবক্তা, ক্ষুরধার, দীনহীন, অল্পভাষী, দুঃসহ, বহুমুখী, শুভ্রকেশী, করালবদন, দিগম্বর, মৃগনয়নী, গজগামিনী, মধুময়, রক্তপদ, সদাশয়, কুটিলবুদ্ধি।
১০. অব্যয়ীভাব সমাস
যে সমাসে পূর্বপদ অব্যয় হয় এবং সমগ্র পদটি অব্যয়সদৃশ অর্থ প্রকাশ করে, তাকে অব্যয়ীভাব সমাস বলে। এ ধরনের সমাস বাংলা গদ্যে তুলনামূলক কম চর্চিত হলেও ব্যাকরণ ও পরীক্ষায় এর উদাহরণ গুরুত্ব পায়।
উদাহরণ | বিগ্রহ | অর্থ |
যথাশক্তি | শক্তি অনুযায়ী | সামর্থ্য অনুসারে |
যথাসম্ভব | যতদূর সম্ভব | সর্বোচ্চ চেষ্টামতো |
প্রতিদিন | প্রতি দিন | প্রত্যেক দিন |
উপর্যুপরি | উপরে উপরে / ধারাবাহিকভাবে | একটানা |
অনুপুঙ্খ | পুঙ্খানুপুঙ্খ রূপে | খুঁটিনাটি সহ |
সহসা | হঠাৎভাবে | আকস্মিকভাবে |
উপকূল | কূলের নিকটে | তীরসংলগ্ন অঞ্চল |
অবশেষে | শেষে এসে | শেষ পর্যন্ত |
অব্যয়ীভাব সমাসে সাধারণত সমগ্র পদটি বাক্যে ক্রিয়াবিশেষণ, অবস্থা বা উপায়বাচক রূপে কাজ করে। “যথাবিধি”, “যথাক্রমে”, “প্রতিক্ষণ”, “প্রতিপদে”, “উপশহর”, “অধোবাহিত” প্রভৃতি শব্দের প্রকৃতি ব্যাসবাক্যের সাহায্যে বুঝতে হবে।
১১. নিত্যসমাস ও অলুক সমাস
প্রচলিত ছয় সমাসের বাইরে পরীক্ষায় কখনো কখনো নিত্যসমাস ও অলুক সমাসের কথাও আসে। নিত্যসমাস বলতে এমন সমাসকে বোঝানো হয়, যার বিগ্রহ সাধারণভাবে করা গেলেও শব্দটি ব্যবহারিক ভাষায় একটি স্থিররূপে প্রতিষ্ঠিত; অর্থাৎ সমাসবদ্ধ রূপটি প্রায় অবিভাজ্য হয়ে গেছে। অন্যদিকে অলুক সমাসে বিভক্তি বা অনুসর্গ পুরোপুরি লোপ পায় না; কোনো কোনো চিহ্ন টিকে থাকে।
প্রকার | সংক্ষিপ্ত ব্যাখ্যা | উদাহরণ |
নিত্যসমাস | প্রচলিত স্থিররূপ; বিগ্রহ থাকলেও শব্দটি একক পদ হিসেবে প্রতিষ্ঠিত | রাজপথ, লোকসভা, আত্মজীবনী, কর্মচারী |
অলুক সমাস | বিভক্তি/চিহ্ন লোপ না পেয়ে আংশিকভাবে থেকে যায় | যুধিষ্ঠিরে-সদৃশ ধরনের সংস্কৃতঘেঁষা উদাহরণ; বাংলা ব্যাকরণে সীমিত ব্যবহার |
বাংলা প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষায় নিত্যসমাসের আলোচনা তুলনামূলক বেশি দেখা যায়। যেমন “লোকসভা”, “দৈনিকপত্র”, “আত্মসমর্পণ”, “স্বদেশপ্রেম”, “মহানগর”—এসব শব্দ এত বেশি ব্যবহৃত যে অনেক সময় ব্যবহারকারী আর বিগ্রহ ভেবে নেয় না।
১২. সমাসবিগ্রহ রচনার নিয়ম
প্রথমে সমাসবদ্ধ পদের অর্থ নির্ধারণ করতে হবে।
তারপর দেখতে হবে কোন পদটি মুখ্য—উত্তরপদ, উভয় পদ, না অন্যপদার্থ।
সম্ভাব্য লুপ্ত বিভক্তি বা সংযোজক চিহ্ন নির্ণয় করতে হবে—যেমন “এর, কে, দিয়ে, থেকে, এ, ও, বা”।
প্রয়োজনে “যে…, সে…”, “যার…, সে…”, “যিনি…, তিনি…” রীতি প্রয়োগ করতে হবে।
ব্যাসবাক্য যেন সমাসবদ্ধ পদের প্রকৃত অর্থকে বিকৃত না করে—এটি বিশেষভাবে খেয়াল রাখতে হবে।
বিগ্রহে সাধারণ ভুল “নীলকণ্ঠ” সব সময় কর্মধারয় ধরে “নীল যে কণ্ঠ” বলা। “দশানন” শব্দে রাবণ-অর্থ উপেক্ষা করে কেবল “দশ আনন” বলা। “দিনরাত” এ একটি পদকে প্রধান ধরা। “রাজপুত্র” এ “রাজা ও পুত্র” ধরনের ভুল বিগ্রহ করা। |
১৩. সমাস নির্ণয়ের ধাপে ধাপে কৌশল
ধাপ ১: শব্দ ভাঙুন পূর্বপদ ও উত্তরপদ শনাক্ত করুন। ব্যাসবাক্যে কোনো বিভক্তি বা “ও/বা” বসে কি না দেখুন। শব্দটি প্রচলিত বিশেষ ব্যক্তি/বস্তু বোঝায় কি না লক্ষ্য করুন। | ধাপ ২: অর্থ বিচার করুন উভয় পদ সমান? → দ্বন্দ্ব। উত্তরপদ প্রধান? → তৎপুরুষ/কর্মধারয়। অন্যপদার্থ বোঝায়? → বহুব্রীহি। সংখ্যাবাচক পূর্বপদ + সমষ্টি? → দ্বিগু। |
যদি এ রকম হয় | তবে সম্ভাব্য সমাস |
X ও Y | দ্বন্দ্ব |
X-এর Y / X-কে Y / X-দিয়ে Y | তৎপুরুষ |
X যে Y / X-রূপ Y / X-সদৃশ Y | কর্মধারয় |
যার X Y আছে, সে | বহুব্রীহি |
সংখ্যা + দল/সমষ্টি/গঠন | দ্বিগু |
অব্যয় + অব্যয়সদৃশ অর্থ | অব্যয়ীভাব |
১৪. তুলনামূলক পার্থক্য: যেখানে সবচেয়ে বেশি ভুল হয়
তুলনা | প্রথমটি | দ্বিতীয়টি | মূল পার্থক্য |
দ্বন্দ্ব বনাম তৎপুরুষ | উভয় পদ সমান | উত্তরপদ প্রধান | “মা-বাবা” ≠ “রাজপুত্র” |
তৎপুরুষ বনাম কর্মধারয় | কারক-সম্পর্ক | সমানাধিকরণ/বিশেষণ-সম্পর্ক | “রাজার পুত্র” ≠ “নীল যে পদ্ম” |
কর্মধারয় বনাম বহুব্রীহি | নিজের উপাদান পদার্থ বোঝায় | অন্যপদার্থ বোঝায় | “নীলপদ্ম” ≠ “নীলকণ্ঠ” (শিব) |
দ্বিগু বনাম বহুব্রীহি | সংখ্যা-সমষ্টি প্রধান | সংখ্যাগুণবিশিষ্ট অন্য ব্যক্তি/বস্তু | “ত্রিলোক” ≠ “ত্রিনয়ন” |
দ্বিগু বনাম কর্মধারয় | সংখ্যাবাচক + সমষ্টি/গঠন | গুণবাচক/পরিচয়সূচক | সব সংখ্যা-যুক্ত শব্দ দ্বিগু নয় |
মনে রাখুন একই শব্দ ভিন্ন প্রসঙ্গে ভিন্ন সমাস হিসেবে বিবেচিত হতে পারে। অর্থ পরিবর্তিত হলে সমাসের প্রকৃতিও বদলাতে পারে। প্রচলিত অর্থ, ব্যাকরণিক অর্থ ও প্রসঙ্গ—তিনটি একসাথে বিচার করাই নিরাপদ। |
১৫. বহুলপ্রচলিত উদাহরণসম্ভার
সমাস | সমাসবদ্ধ পদ | বিগ্রহ |
দ্বন্দ্ব | দিনরাত | দিন ও রাত |
দ্বন্দ্ব | সুখদুঃখ | সুখ ও দুঃখ |
দ্বন্দ্ব | ভাইবোন | ভাই ও বোন |
দ্বন্দ্ব | পাপপুণ্য | পাপ ও পুণ্য |
দ্বন্দ্ব | চাষবাস | চাষ ও বাস/কর্মাবলি |
তৎপুরুষ | রাজপুত্র | রাজার পুত্র |
তৎপুরুষ | নদীতীর | নদীর তীর |
তৎপুরুষ | হস্তলিখিত | হাতে লিখিত |
তৎপুরুষ | গৃহবাসী | গৃহে বাসী |
তৎপুরুষ | শত্রুজয় | শত্রুকে জয় |
কর্মধারয় | নীলপদ্ম | নীল যে পদ্ম |
কর্মধারয় | মহাপুরুষ | মহান যিনি পুরুষ |
কর্মধারয় | চন্দ্রমুখ | চাঁদের ন্যায় মুখ |
কর্মধারয় | রক্তগোলাপ | রক্তবর্ণ গোলাপ |
কর্মধারয় | সুকবি | সুন্দর/উৎকৃষ্ট কবি |
দ্বিগু | ত্রিভুজ | তিন ভুজের আকৃতি |
দ্বিগু | ত্রিলোক | তিন লোকের সমষ্টি |
দ্বিগু | সপ্তর্ষি | সাত ঋষির দল |
দ্বিগু | শতাব্দী | শত বছরের সমষ্টি |
দ্বিগু | চতুষ্পদ | চার পা-যুক্ত/বিশিষ্ট |
বহুব্রীহি | দশানন | যার দশ আনন, তিনি |
বহুব্রীহি | নীলকণ্ঠ | যার কণ্ঠ নীল, তিনি |
বহুব্রীহি | ত্রিনয়ন | যার তিন নয়ন |
বহুব্রীহি | পীতাম্বর | যার পীত অম্বর |
বহুব্রীহি | রক্তচক্ষু | যার চক্ষু রক্তবর্ণ |
অব্যয়ীভাব | যথাশক্তি | শক্তি অনুযায়ী |
অব্যয়ীভাব | যথাসম্ভব | যতদূর সম্ভব |
অব্যয়ীভাব | প্রতিদিন | প্রতি দিন |
অব্যয়ীভাব | প্রতিক্ষণ | প্রতি ক্ষণ |
অব্যয়ীভাব | যথাক্রমে | ক্রম অনুযায়ী |
১৬. পরীক্ষায় বিভ্রান্তিকর কিছু উদাহরণ
শব্দ | কেন বিভ্রান্তি হয় | সতর্ক মন্তব্য |
নীলকণ্ঠ | নীল + কণ্ঠ দেখে কর্মধারয় মনে হতে পারে | শিব বোঝালে বহুব্রীহি; শুধু নীল কণ্ঠ বোঝালে কর্মধারয় অর্থও সম্ভব। |
ত্রিনয়ন | সংখ্যাবাচক পূর্বপদ আছে | সমষ্টি নয়; “যার তিন নয়ন” হলে বহুব্রীহি। |
চতুষ্পদ | কখনও গঠন, কখনও শ্রেণি | প্রসঙ্গভেদে দ্বিগু/বিশেষণধর্মী বিশ্লেষণ বিবেচ্য। |
চন্দ্রমুখ | উপমা ও রূপক দুটোই থাকতে পারে | সাধারণত উপমিত কর্মধারয় হিসেবে ধরা হয়। |
সুবক্তা | উপসর্গযুক্ত মনে হতে পারে | প্রচলিত অর্থে গুণবিশিষ্ট ব্যক্তি বোঝালে বহুব্রীহি-ঘেঁষা আলোচনা আসে। |
রাজপথ | সম্বন্ধ তৎপুরুষ না নিত্যসমাস—দুটো আলোচনাই দেখা যায় | প্রচলিত স্থিররূপ হওয়ায় নিত্যসমাস প্রসঙ্গেও উল্লেখ করা হয়। |
১৭. দ্রুত পুনরাবৃত্তির জন্য সংক্ষিপ্ত সূত্র
দ্বন্দ্ব = যোগ বা সমাবেশ; “ও/এবং” ভাব।
তৎপুরুষ = উত্তরপদ প্রধান; কারকবিভক্তি লোপ।
কর্মধারয় = পূর্বপদ ও উত্তরপদ একই পদার্থ; বিশেষণধর্মী সম্পর্ক।
দ্বিগু = সংখ্যাবাচক পূর্বপদ; সমষ্টি/গুচ্ছ/গঠন।
বহুব্রীহি = অন্যপদার্থ প্রধান; “যার…, সে …”।
অব্যয়ীভাব = অব্যয় পূর্বপদ; সমগ্র পদ অব্যয়সদৃশ।
একই শব্দ প্রসঙ্গভেদে ভিন্নভাবে বিশ্লেষিত হতে পারে—অর্থ না দেখে সিদ্ধান্ত নেবেন না।
১৮. শেষকথা
সমাস কেবল মুখস্থ করার বিষয় নয়; এটি ভাষার সংকোচনশক্তি, অর্থঘনতা এবং ব্যাকরণিক বিশ্লেষণের এক অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়। যে শিক্ষার্থী ব্যাসবাক্য গঠন, অর্থনির্ণয় এবং পদের পারস্পরিক সম্পর্ক বুঝে সমাস পড়বে, তার জন্য এই অধ্যায় সহজ হয়ে যাবে। প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষার প্রস্তুতিতে সমাসের উদাহরণভিত্তিক চর্চা অত্যন্ত জরুরি; বিশেষ করে বিভ্রান্তিকর শব্দগুলো আলাদা করে দেখা উচিত। এই অধ্যায়টি সেই উদ্দেশ্যেই বিস্তৃতভাবে সাজানো হয়েছে।