তৎপুরুষ সমাস Tatpuruṣa / Determinative Compound |
১. সমাস — প্রাথমিক পুনরালোচনা
📘 সমাসের সংজ্ঞা দুই বা তার বেশি পদ মিলে একটি নতুন পদ তৈরি হলে সেই প্রক্রিয়াকে সমাস বলে। সমাসে পদগুলোর মাঝের বিভক্তি ও অনুসর্গ লুপ্ত হয় এবং একটি সংক্ষিপ্ত সমস্তপদ গঠিত হয়। |
সমাসে মিলিত পদগুলোকে 'সমস্যমান পদ' বলে। সমাসবদ্ধ পদটিকে 'সমস্তপদ' বলে। সমস্তপদকে বিশ্লেষণ করলে যে বাক্যাংশ পাওয়া যায় তাকে 'ব্যাসবাক্য' বা 'বিগ্রহবাক্য' বলে।
১.১ ছয় প্রকার সমাসের তুলনামূলক পরিচয়
সমাসের নাম | মূল বৈশিষ্ট্য | প্রধান উদাহরণ |
দ্বন্দ্ব | উভয় পদই প্রধান; 'ও/এবং/বা' দিয়ে যোগ হয় | মাতাপিতা, ভাইবোন, দিনরাত |
কর্মধারয় | পূর্বপদ বিশেষণ, উত্তরপদ বিশেষ্য; উত্তরপদ প্রধান | নীলাকাশ, মহাকবি, চাঁদমুখ |
তৎপুরুষ | উত্তরপদ প্রধান; পূর্বপদে কারকবিভক্তি বা অনুসর্গ লুপ্ত | রাজপুত্র, বিদ্যালয়, গৃহস্থ |
বহুব্রীহি | কোনো পদই প্রধান নয়; তৃতীয় অর্থ প্রকাশ পায় | নীলকণ্ঠ (মহাদেব), লম্বোদর |
দ্বিগু | পূর্বপদ সংখ্যাবাচক; সমষ্টি অর্থ প্রকাশ | ত্রিফলা, পঞ্চভূত, সপ্তাহ |
অব্যয়ীভাব | পূর্বপদ অব্যয়; অব্যয়ের অর্থ প্রধান | প্রতিদিন, যথাসময়, আজীবন |
২. তৎপুরুষ সমাসের সংজ্ঞা ও পরিচয়
📘 সংজ্ঞা যে সমাসে পূর্বপদের কারকবিভক্তি বা অনুসর্গ লুপ্ত হয়ে সমাস হয় এবং উত্তরপদের অর্থই সমস্তপদে প্রধানরূপে প্রতীয়মান হয়, তাকে তৎপুরুষ সমাস বলে। |
তৎপুরুষ শব্দের ব্যুৎপত্তি: তৎ (তার) + পুরুষ (দাস/সেবক) = তার পুরুষ/দাস। সংস্কৃত ব্যাকরণে এটি সবচেয়ে বিস্তৃত সমাস। ইংরেজিতে Determinative Compound বলা হয়। বাংলায় ছয় প্রকার সমাসের মধ্যে তৎপুরুষ সবচেয়ে বৈচিত্র্যময় ও বিস্তৃত।
তৎপুরুষ সমাসে পূর্বপদে কোনো কারকের বিভক্তি বা অনুসর্গ লুক্কায়িত থাকে। ব্যাসবাক্যে সেই বিভক্তি বা অনুসর্গ পুনরায় প্রকাশ পায়।
২.১ তৎপুরুষ সমাসের মূল বৈশিষ্ট্য
বৈশিষ্ট্য | বিস্তারিত ব্যাখ্যা | উদাহরণ |
উত্তরপদ প্রধান | উত্তরপদের অর্থই সমস্তপদে প্রধানভাবে প্রকাশিত হয় | রাজপুত্র = পুত্রের কথা বলছে |
পূর্বপদের বিভক্তি লুপ্ত | পূর্বপদে কারকের বিভক্তি থাকে কিন্তু সমাসে লুপ্ত হয় | রাজ+পুত্র = রাজার পুত্র ('র' লুপ্ত) |
কারকভেদে নামকরণ | কোন কারকের বিভক্তি লুপ্ত হয়েছে তার ভিত্তিতে নামকরণ | কর্মতৎপুরুষ, করণতৎপুরুষ ইত্যাদি |
ব্যাসবাক্যে বিভক্তি প্রকাশ | ব্যাসবাক্যে লুপ্ত বিভক্তি পুনরায় আসে | বিদ্যালয় = বিদ্যার আলয় ('র' ফিরে আসে) |
উভয় পদ বিশেষ্য হতে পারে | উভয় পদই সাধারণত বিশেষ্য জাতীয় | গৃহস্থ = গৃহে থাকে যে |
অনেক ধরন আছে | কারকভেদে ৬-৭টি উপভেদ এবং নঞ তৎপুরুষ ইত্যাদি | ৮ প্রকার মূল তৎপুরুষ বিদ্যমান |
২.২ তৎপুরুষ সমাস শনাক্তের পদ্ধতি
💡 শনাক্তের সহজ পদ্ধতি ধাপ ১: সমস্তপদটি দুটি ভাগে বিভক্ত করুন। ধাপ ২: পূর্বপদের পরে কোনো কারকবিভক্তি (কে, দিয়ে, থেকে, তে, র, জন্য ইত্যাদি) যোগ করুন। ধাপ ৩: যদি অর্থ সম্পূর্ণ হয় এবং উত্তরপদের অর্থ প্রধান থাকে → তৎপুরুষ। ধাপ ৪: কোন বিভক্তি যোগ হলো তা দেখে তৎপুরুষের উপভেদ নির্ণয় করুন। উদাহরণ: 'গৃহস্থ' → গৃহে+স্থ → 'তে' বিভক্তি → আধারতৎপুরুষ। উদাহরণ: 'রাজপুত্র' → রাজার+পুত্র → 'র' বিভক্তি → সম্বন্ধতৎপুরুষ। |
২.৩ তৎপুরুষ সমাসের শ্রেণিবিভাগ
শ্রেণি | লুপ্ত বিভক্তি / অনুসর্গ | ব্যাসবাক্যের রূপ | উদাহরণ |
কর্মতৎপুরুষ | কে / রে | পূর্বপদ + কে/রে + উত্তরপদ | বিপদ-আপন্ন, স্বর্গপ্রাপ্ত |
করণতৎপুরুষ | দিয়ে / দ্বারা | পূর্বপদ + দিয়ে + উত্তরপদ | রক্তরঞ্জিত, মধুমাখা |
নিমিত্ততৎপুরুষ | জন্য / নিমিত্তে | পূর্বপদ + জন্য + উত্তরপদ | গৃহকার্য, দেশসেবা |
অপাদানতৎপুরুষ | থেকে / হইতে | পূর্বপদ + থেকে + উত্তরপদ | বিদেশাগত, পথভ্রষ্ট |
সম্বন্ধতৎপুরুষ | র / এর / দের | পূর্বপদ + র/এর + উত্তরপদ | রাজপুত্র, বিদ্যালয় |
আধারতৎপুরুষ | তে / য়ে / এ | পূর্বপদ + তে/য়ে + উত্তরপদ | গৃহস্থ, জলচর, বনবাস |
নঞ তৎপুরুষ | অ/অন/না/বে/গর | না + উত্তরপদ অর্থে | অধর্ম, অচেনা, নাকচ |
উপপদ তৎপুরুষ | কৃৎ প্রত্যয়যুক্ত | উপপদ + ধাতুজ শব্দ | পঙ্কজ, জলদ, পথিক |
৩. কর্মতৎপুরুষ সমাস
যে তৎপুরুষ সমাসে পূর্বপদের কর্মকারকের বিভক্তি 'কে' বা 'রে' লুপ্ত হয়ে সমাস হয়, তাকে কর্মতৎপুরুষ বলে। ব্যাসবাক্যে পূর্বপদের পরে 'কে' বা 'রে' বিভক্তি থাকে।
সমস্তপদ | ব্যাসবাক্য (লুপ্ত বিভক্তিসহ) | কর্মকারক | উদাহরণ বাক্য |
বিপদাপন্ন | বিপদকে আপন্ন | বিপদকে | সে বিপদাপন্ন হয়ে পড়েছে। |
স্বর্গপ্রাপ্ত | স্বর্গকে প্রাপ্ত | স্বর্গকে | স্বর্গপ্রাপ্ত আত্মা শান্তিতে আছে। |
দুঃখপ্রাপ্ত | দুঃখকে প্রাপ্ত | দুঃখকে | সে দুঃখপ্রাপ্ত মানুষ। |
মনোযোগী | মনকে যোগ দেয় যে | মনকে | সে মনোযোগী ছাত্র। |
বলহীন | বলকে হীন | বলকে | বলহীন মানুষ অসহায়। |
কর্মঠ | কর্মকে ঠাকুর মানে যে | কর্মকে | সে অত্যন্ত কর্মঠ। |
ভয়প্রাপ্ত | ভয়কে প্রাপ্ত | ভয়কে | ভয়প্রাপ্ত মানুষ কাঁপছে। |
বিস্ময়াপন্ন | বিস্ময়কে আপন্ন | বিস্ময়কে | বিস্ময়াপন্ন দর্শকরা। |
মোহাবিষ্ট | মোহকে আবিষ্ট | মোহকে | সে মোহাবিষ্ট হয়ে পড়েছে। |
শরণাপন্ন | শরণকে আপন্ন | শরণকে | সে ঈশ্বরের শরণাপন্ন। |
কষ্টপ্রাপ্ত | কষ্টকে প্রাপ্ত | কষ্টকে | কষ্টপ্রাপ্ত মানুষ সাহায্য চায়। |
বিষণ্নমনা | বিষণ্নতাকে মনে ধারণকারী | বিষণ্নতাকে | বিষণ্নমনা কবি লিখছেন। |
৪. করণতৎপুরুষ সমাস
যে তৎপুরুষ সমাসে পূর্বপদের করণকারকের বিভক্তি 'দিয়ে', 'দ্বারা', 'কর্তৃক' লুপ্ত হয়ে সমাস হয়, তাকে করণতৎপুরুষ বলে। পূর্বপদ সাধারণত যন্ত্র বা উপকরণ বোঝায়।
সমস্তপদ | ব্যাসবাক্য (লুপ্ত বিভক্তিসহ) | লুপ্ত বিভক্তি | উদাহরণ বাক্য |
রক্তরঞ্জিত | রক্ত দিয়ে রঞ্জিত | দিয়ে | রণক্ষেত্র রক্তরঞ্জিত হলো। |
মধুমাখা | মধু দিয়ে মাখা | দিয়ে | মধুমাখা কণ্ঠে গাইলেন। |
ধূলিধূসর | ধূলি দিয়ে ধূসর | দিয়ে | ধূলিধূসর পথে হাঁটছি। |
ঘিভাজা | ঘি দিয়ে ভাজা | দিয়ে | ঘিভাজা লুচি খাচ্ছি। |
তেলমাখা | তেল দিয়ে মাখা | দিয়ে | তেলমাখা চুলে সুন্দর। |
শ্রমলব্ধ | শ্রম দ্বারা লব্ধ | দ্বারা | শ্রমলব্ধ অর্থ মূল্যবান। |
বাক্যবাণ | বাক্য দিয়ে বাণবিদ্ধ | দিয়ে | বাক্যবাণে আহত হলাম। |
চর্মবদ্ধ | চর্ম দিয়ে বদ্ধ | দিয়ে | চর্মবদ্ধ ঢাক বাজছে। |
সোনামোড়া | সোনা দিয়ে মোড়া | দিয়ে | সোনামোড়া কলস। |
জলসিক্ত | জল দিয়ে সিক্ত | দিয়ে | বৃষ্টিতে মাঠ জলসিক্ত। |
কণ্টকাকীর্ণ | কণ্টক দিয়ে আকীর্ণ | দিয়ে | কণ্টকাকীর্ণ পথে চলা কঠিন। |
মেঘমেদুর | মেঘে মেদুর (আচ্ছন্ন) | দিয়ে | মেঘমেদুর বর্ষার আকাশ। |
বায়ুচালিত | বায়ু দ্বারা চালিত | দ্বারা | বায়ুচালিত নৌকা। |
ছন্দোবদ্ধ | ছন্দ দিয়ে বদ্ধ | দিয়ে | ছন্দোবদ্ধ কবিতা লিখলেন। |
অশ্রুসিক্ত | অশ্রু দিয়ে সিক্ত | দিয়ে | অশ্রুসিক্ত চোখে বিদায় নিল। |
৫. নিমিত্ততৎপুরুষ সমাস
যে তৎপুরুষ সমাসে পূর্বপদের নিমিত্ত বা সম্প্রদান কারকের অনুসর্গ 'জন্য', 'নিমিত্তে', 'উদ্দেশ্যে' লুপ্ত হয়ে সমাস হয়, তাকে নিমিত্ততৎপুরুষ বলে।
সমস্তপদ | ব্যাসবাক্য (লুপ্ত অনুসর্গসহ) | লুপ্ত অনুসর্গ | উদাহরণ বাক্য |
গৃহকার্য | গৃহের জন্য কার্য | জন্য | গৃহকার্য সম্পাদন করো। |
দেশসেবা | দেশের জন্য সেবা | জন্য | দেশসেবায় আত্মনিয়োগ করো। |
বিদ্যার্থী | বিদ্যার জন্য অর্থী (প্রার্থী) | জন্য | বিদ্যার্থী শিক্ষা নিচ্ছে। |
মুক্তিসংগ্রাম | মুক্তির জন্য সংগ্রাম | জন্য | মুক্তিসংগ্রামে লক্ষ প্রাণ গেছে। |
পাত্রস্থ | পাত্রের জন্য স্থ (রাখা) | জন্য | পাত্রস্থ অর্থ নিরাপদ। |
যুদ্ধবিদ্যা | যুদ্ধের জন্য বিদ্যা | জন্য | যুদ্ধবিদ্যা শিখছে সৈনিক। |
ভ্রমণব্যয় | ভ্রমণের জন্য ব্যয় | জন্য | ভ্রমণব্যয় বেশি হয়েছে। |
শিক্ষাসফর | শিক্ষার জন্য সফর | জন্য | শিক্ষাসফরে গেলাম। |
ব্যায়ামাগার | ব্যায়ামের জন্য আগার | জন্য | ব্যায়ামাগারে প্রতিদিন যাই। |
ধর্মশালা | ধর্মের জন্য শালা | জন্য | ধর্মশালায় তীর্থযাত্রীরা থাকেন। |
জলপানি | জল পান করার জন্য | জন্য | বৃত্তি পেলে জলপানি পাওয়া যায়। |
সভাঘর | সভার জন্য ঘর | জন্য | সভাঘরে বৈঠক বসেছে। |
মামলামোকদ্দমা | মামলার জন্য মোকদ্দমা | জন্য | মামলামোকদ্দমায় জড়িও না। |
রাঁধুনি | রান্নার জন্য নিযুক্ত | জন্য | রাঁধুনি রান্না করছেন। |
৬. অপাদানতৎপুরুষ সমাস
যে তৎপুরুষ সমাসে পূর্বপদের অপাদান কারকের বিভক্তি 'থেকে', 'হইতে', 'হতে' লুপ্ত হয়ে সমাস হয়, তাকে অপাদানতৎপুরুষ বলে।
সমস্তপদ | ব্যাসবাক্য (লুপ্ত বিভক্তিসহ) | লুপ্ত বিভক্তি | উদাহরণ বাক্য |
বিদেশাগত | বিদেশ থেকে আগত | থেকে | বিদেশাগত পণ্য কিনছি। |
পথভ্রষ্ট | পথ থেকে ভ্রষ্ট | থেকে | পথভ্রষ্ট পথিক বিপদে পড়ল। |
ধর্মচ্যুত | ধর্ম থেকে চ্যুত | থেকে | ধর্মচ্যুত মানুষ দিশাহারা। |
মাতৃহীন | মাতা থেকে হীন (বঞ্চিত) | থেকে | মাতৃহীন শিশু কাঁদছে। |
ঋণমুক্ত | ঋণ থেকে মুক্ত | থেকে | ঋণমুক্ত হলাম অবশেষে। |
বনচ্যুত | বন থেকে চ্যুত | থেকে | বনচ্যুত পশু লোকালয়ে। |
স্থানচ্যুত | স্থান থেকে চ্যুত | থেকে | স্থানচ্যুত পরিবার আশ্রয়হীন। |
রাজদ্রোহী | রাজ্য থেকে দ্রোহী | থেকে | রাজদ্রোহী শাস্তি পেল। |
সংসারবিরাগী | সংসার থেকে বিরাগী | থেকে | সংসারবিরাগী সাধু বনে গেল। |
পতনোন্মুখ | পতন থেকে উন্মুখ | থেকে | পতনোন্মুখ সাম্রাজ্য। |
জন্মান্ধ | জন্ম থেকে অন্ধ | থেকে | জন্মান্ধ মানুষ অন্ধকারে। |
কারামুক্ত | কারা থেকে মুক্ত | থেকে | কারামুক্ত হলো বন্দী। |
নির্বাসিত | বাস থেকে নির্গত/নিষিদ্ধ | থেকে | নির্বাসিত কবি প্রবাসে। |
বিপথগামী | বিপথ থেকে গামী | থেকে | বিপথগামী তরুণ সাবধান। |
৭. সম্বন্ধতৎপুরুষ সমাস
যে তৎপুরুষ সমাসে পূর্বপদের সম্বন্ধ বিভক্তি 'র', 'এর', 'দের' লুপ্ত হয়ে সমাস হয়, তাকে সম্বন্ধতৎপুরুষ বলে। এটি তৎপুরুষের সবচেয়ে বহুল ব্যবহৃত শ্রেণি।
◆ ৭.১ মালিকানা বা স্বত্বসম্পর্কবাচক
সমস্তপদ | ব্যাসবাক্য | সমস্তপদ | ব্যাসবাক্য |
রাজপুত্র | রাজার পুত্র | রাজকন্যা | রাজার কন্যা |
রাজমহল | রাজার মহল | রাজপরিবার | রাজার পরিবার |
প্রধানমন্ত্রী | প্রধানের মন্ত্রী | জাতীয়পতাকা | জাতির পতাকা |
দেশনেতা | দেশের নেতা | সমাজনেতা | সমাজের নেতা |
গ্রামপ্রধান | গ্রামের প্রধান | দলনেতা | দলের নেতা |
মাতৃভাষা | মাতার ভাষা | পিতৃভূমি | পিতার ভূমি |
ছাত্রজীবন | ছাত্রের জীবন | কর্মজীবন | কর্মের জীবন |
শিক্ষাজীবন | শিক্ষার জীবন | পারিবারিক | পরিবারের |
◆ ৭.২ উপাদান বা বিষয়সম্পর্কবাচক
সমস্তপদ | ব্যাসবাক্য | সমস্তপদ | ব্যাসবাক্য |
বিদ্যালয় | বিদ্যার আলয় | কর্মশালা | কর্মের শালা |
গ্রন্থাগার | গ্রন্থের আগার | পাঠাগার | পাঠের আগার |
দেবালয় | দেবের আলয় | শয়নকক্ষ | শয়নের কক্ষ |
বায়ুকোল | বায়ুর কোল | জলভাণ্ড | জলের ভাণ্ড |
অর্থনীতি | অর্থের নীতি | রাষ্ট্রনীতি | রাষ্ট্রের নীতি |
ধর্মগ্রন্থ | ধর্মের গ্রন্থ | সাহিত্যচর্চা | সাহিত্যের চর্চা |
ইতিহাস | ইতির হাস | ভূগোল | ভূ-এর গোল |
সংস্কৃতি | সংস্কারের কৃতি | সমাজসেবা | সমাজের সেবা |
◆ ৭.৩ বৈশিষ্ট্য ও পরিচয়সম্পর্কবাচক
সমস্তপদ | ব্যাসবাক্য | সমস্তপদ | ব্যাসবাক্য |
মানবজাতি | মানবের জাতি | প্রাণিজগৎ | প্রাণির জগৎ |
বাংলাসাহিত্য | বাংলার সাহিত্য | বাংলাভাষা | বাংলার ভাষা |
সূর্যোদয় | সূর্যের উদয় | চন্দ্রালোক | চন্দ্রের আলোক |
সূর্যাস্ত | সূর্যের অস্ত | নদীতীর | নদীর তীর |
বৃক্ষশাখা | বৃক্ষের শাখা | পুষ্পগন্ধ | পুষ্পের গন্ধ |
শীতকাল | শীতের কাল | বর্ষাকাল | বর্ষার কাল |
গ্রীষ্মকাল | গ্রীষ্মের কাল | হেমন্তকাল | হেমন্তের কাল |
ঝড়ের রাত | ঝড়ের রাত | বৃষ্টির জল | বৃষ্টির জল |
◆ ৭.৪ ব্যক্তি ও পেশাসম্পর্কবাচক
সমস্তপদ | ব্যাসবাক্য | উদাহরণ বাক্য |
কবিগুরু | কবির গুরু | কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ বিশ্বখ্যাত। |
বিদ্যাসাগর | বিদ্যার সাগর | বিদ্যাসাগর ঈশ্বরচন্দ্রের উপাধি। |
ভাষাসৈনিক | ভাষার জন্য সৈনিক | ভাষাসৈনিকরা বুকের রক্ত দিলেন। |
মুক্তিযোদ্ধা | মুক্তির জন্য যোদ্ধা | মুক্তিযোদ্ধারা বীর। |
বাংলাদেশের মানুষ | বাংলাদেশের মানুষ | বাংলাদেশের মানুষ পরিশ্রমী। |
রবীন্দ্রসংগীত | রবীন্দ্রের সংগীত | রবীন্দ্রসংগীত অমর। |
নজরুলগীতি | নজরুলের গীতি | নজরুলগীতি বিদ্রোহী চেতনার। |
লালনগীতি | লালনের গীতি | লালনগীতি মরমী ভাবের। |
৮. আধারতৎপুরুষ সমাস
যে তৎপুরুষ সমাসে পূর্বপদের আধার বা অধিকরণ কারকের বিভক্তি 'তে', 'য়ে', 'এ' লুপ্ত হয়ে সমাস হয়, তাকে আধারতৎপুরুষ বলে।
সমস্তপদ | ব্যাসবাক্য (লুপ্ত বিভক্তিসহ) | লুপ্ত বিভক্তি | উদাহরণ বাক্য |
গৃহস্থ | গৃহে থাকে যে (স্থিত) | তে | গৃহস্থ মানুষ সংসার করে। |
জলচর | জলে চরে যে | এ | মাছ জলচর প্রাণী। |
নভোচর | নভে (আকাশে) চরে যে | এ | পাখি নভোচর। |
বনবাস | বনে বাস | এ | রাম বনবাসে গেলেন। |
জলমগ্ন | জলে মগ্ন | এ | জলমগ্ন এলাকায় ত্রাণ। |
দেশবাস | দেশে বাস | এ | দেশবাস সুখের। |
ভূপতিত | ভূতে (মাটিতে) পতিত | তে | ভূপতিত হলো বৃক্ষ। |
স্থলচর | স্থলে চরে যে | এ | মানুষ স্থলচর প্রাণী। |
আকাশচারী | আকাশে চরে যে | এ | পাখি আকাশচারী। |
গহনগামী | গহনে (গভীরে) গামী | এ | গহনগামী ডুবুরি। |
সমুদ্রগামী | সমুদ্রে গামী | এ | সমুদ্রগামী জাহাজ। |
বিদেশবাস | বিদেশে বাস | এ | বিদেশবাস কঠিন। |
মনোবল | মনে বল | এ | মনোবল হারিয়ো না। |
গৃহবন্দি | গৃহে বন্দি | এ | গৃহবন্দি রোগী শুয়ে আছে। |
৯. নঞ তৎপুরুষ সমাস
যে তৎপুরুষ সমাসে পূর্বপদ 'অ', 'অন', 'না', 'নি', 'বে', 'গর', 'বি', 'নির' ইত্যাদি নেতিবাচক উপসর্গ হয়, তাকে নঞ তৎপুরুষ সমাস বলে। পূর্বপদ উত্তরপদের অভাব বা বিপরীত অর্থ প্রকাশ করে।
📝 নঞ তৎপুরুষ ও নঞ কর্মধারয়ের পার্থক্য নঞ তৎপুরুষ: পূর্বপদের কারকসম্পর্ক বা বিশেষ্যসম্পর্ক আছে। 'অ + বিশেষ্য' → বিশেষণ। নঞ কর্মধারয়: পূর্বপদ বিশেষণের অভাব প্রকাশ করে। 'অ + বিশেষণ' → বিশেষণ। উদাহরণ: 'অবিশ্বাস' (বিশ্বাসের অভাব) = নঞ তৎপুরুষ; 'অসৎ' (সৎ নয়) = নঞ কর্মধারয়। তবে বাংলায় এই ভেদ অনেকসময় অস্পষ্ট — সামগ্রিকভাবে উভয়ই গুরুত্বপূর্ণ। |
◆ ৯.১ 'অ / অন' পূর্বক নঞ তৎপুরুষ
সমস্তপদ | ব্যাসবাক্য | অর্থ | উদাহরণ বাক্য |
অবিশ্বাস | বিশ্বাসের অভাব | অনাস্থা | অবিশ্বাস সম্পর্ক নষ্ট করে। |
অনাদর | আদরের অভাব | সম্মানহীনতা | অনাদরে শিশুটি কষ্ট পাচ্ছে। |
অবহেলা | হেলার (মনোযোগের) অভাব | উদাসীনতা | অবহেলায় কাজ নষ্ট হয়। |
অনুপস্থিত | উপস্থিতির অভাব | গরহাজির | সে অনুপস্থিত ছিল। |
অজ্ঞতা | জ্ঞানের অভাব | মূর্খতা | অজ্ঞতা মানুষকে পিছিয়ে রাখে। |
অনর্থক | অর্থহীন | বৃথা | অনর্থক কথা বলো না। |
অপরিচিত | পরিচিতির অভাব | অচেনা | অপরিচিত লোকটি সন্দেহজনক। |
অবৈধ | বৈধতার অভাব | অনুমোদনহীন | অবৈধ কাজ থেকে বিরত থাকো। |
অমানবিক | মানবিকতার অভাব | নৃশংস | অমানবিক নির্যাতন বন্ধ করো। |
অসম্পূর্ণ | সম্পূর্ণতার অভাব | অপূর্ণ | কাজটি অসম্পূর্ণ রয়েছে। |
অনাহার | আহারের অভাব | না খেয়ে থাকা | অনাহারে দিন কাটছে। |
অবৈজ্ঞানিক | বৈজ্ঞানিকতার অভাব | কুসংস্কারমূলক | অবৈজ্ঞানিক ধারণা ভুলে যাও। |
◆ ৯.২ 'না / নি / বে / গর / নির' পূর্বক নঞ তৎপুরুষ
সমস্তপদ | নেতিবাচক উপসর্গ | ব্যাসবাক্য | অর্থ ও উদাহরণ |
নাবালক | না | না + বালক = প্রাপ্তবয়স্ক নয় | অপ্রাপ্তবয়স্ক — নাবালকের সম্পদ রক্ষা। |
নামঞ্জুর | না | না + মঞ্জুর = অনুমোদিত নয় | আবেদন নামঞ্জুর হয়েছে। |
নাকচ | না | না + কচ = কাটা পড়েছে | আবেদন নাকচ করা হলো। |
নিখোঁজ | নি | নি + খোঁজ = খোঁজ নেই | শিশুটি নিখোঁজ হয়েছে। |
নিখুঁত | নি | নি + খুঁত = খুঁত নেই | নিখুঁত কাজ করলেন। |
বেকার | বে | বে + কার = কাজ নেই | বেকার যুবক কর্মসংস্থান চায়। |
বেআইনি | বে | বে + আইনি = আইন মানে না | বেআইনি কাজ থেকে দূরে থাকো। |
বেহিসাব | বে | বে + হিসাব = হিসাব নেই | বেহিসাব খরচ করো না। |
বেতার | বে | বে + তার = তার ছাড়া | বেতার যন্ত্রে গান শুনি। |
গরমিল | গর | গর + মিল = মিল নেই | হিসাবে গরমিল আছে। |
গরহাজির | গর | গর + হাজির = হাজির নয় | সভায় গরহাজির থাকা উচিত নয়। |
নির্দোষ | নির | নির + দোষ = দোষ নেই | নির্দোষ ব্যক্তি মুক্তি পেল। |
নিঃস্ব | নিঃ | নিঃ + স্ব = স্ব নেই | নিঃস্ব মানুষ সাহায্য চায়। |
১০. উপপদ তৎপুরুষ সমাস
যে তৎপুরুষ সমাসে উত্তরপদ একটি কৃৎ প্রত্যয়যুক্ত শব্দ (ক্রিয়াজাত বিশেষ্য) হয় এবং পূর্বপদটি সেই ক্রিয়ার কর্ম বা আধার হিসেবে ব্যবহৃত হয়, তাকে উপপদ তৎপুরুষ বলে। উত্তরপদটি পূর্বপদকে ধারণ করে কর্ম বা আধার হিসেবে।
📘 উপপদ তৎপুরুষ চেনার সূত্র উত্তরপদ সর্বদা কৃৎ প্রত্যয়যুক্ত: 'দ', 'চর', 'গ', 'পতি', 'ক', 'কর' ইত্যাদি। পূর্বপদ উত্তরপদের ক্রিয়ার কর্ম বা আধার। উদাহরণ: পঙ্কজ = পঙ্কে (কাদায়) জন্মায় যা — 'পঙ্কে' আধার, 'জ' কৃৎ প্রত্যয়। উদাহরণ: জলদ = জল দেয় যা — 'জল' কর্ম, 'দ' ধাতুজ প্রত্যয়। |
সমস্তপদ | ব্যাসবাক্য (বিশ্লেষণসহ) | কৃৎ প্রত্যয় | অর্থ ও উদাহরণ বাক্য |
পঙ্কজ | পঙ্কে (কাদায়) জন্মে যা | জ (জন্ম) | পদ্মফুল — পঙ্কজ ফুল। |
জলদ | জল দেয় যা | দ (দান) | মেঘ — জলদ মেঘ। |
পথিক | পথে ইক (যে যায়) | ইক | পথচারী — পথিক চলছে। |
জলচর | জলে চরে যে | চর (চরা) | জলজ প্রাণী — মাছ জলচর। |
মনোহর | মন হরণ করে যে | হর (হরণ) | আকর্ষণীয় — মনোহর দৃশ্য। |
নৃপতি | নৃ (মানুষ) দের পতি | পতি | রাজা — নৃপতি রাজ্য শাসন। |
গৃহপতি | গৃহের পতি | পতি | গৃহকর্তা — গৃহপতি আছেন। |
সেনাপতি | সেনার পতি | পতি | সেনাধিপতি — সেনাপতি যুদ্ধ। |
বায়ুভক্ষী | বায়ু ভক্ষণ করে যে | ক্ষী (ভক্ষণ) | বাতাস খায় যে — সর্প। |
নদীমাতৃক | নদী মাতা যার | মাতৃক | নদীকেন্দ্রিক — নদীমাতৃক দেশ। |
সূর্যোপাসক | সূর্যের উপাসনা করে যে | উপাসক | সূর্য পূজারী। |
সত্যবাদী | সত্য বলে যে | বাদী | সৎ মানুষ — সত্যবাদী হও। |
নীতিজ্ঞ | নীতি জানে যে | জ্ঞ | নীতিশাস্ত্রজ্ঞ মানুষ। |
অগ্নিগর্ভ | অগ্নি গর্ভে ধরে যা | গর্ভ | আগ্নেয়গিরি — অগ্নিগর্ভ পর্বত। |
মেঘদূত | মেঘকে দূত করে যে | দূত | কালিদাসের কাব্য নায়ক। |
১১. অলুক তৎপুরুষ সমাস
যে তৎপুরুষ সমাসে পূর্বপদের বিভক্তি লুপ্ত না হয়ে বজায় থাকে — অর্থাৎ বিভক্তি সমস্তপদে দৃশ্যমান থাকে — তাকে অলুক তৎপুরুষ বলে। 'অলুক' অর্থ 'লোপ নেই'।
📝 অলুক তৎপুরুষ চেনার সূত্র সমস্তপদে বিভক্তি স্পষ্ট দেখা যায় — লুপ্ত হয় না। সাধারণ তৎপুরুষ: 'রাজপুত্র' → 'র' লুপ্ত। অলুক তৎপুরুষ: 'হাতের লেখা' → 'র' বজায় আছে, 'মাথায় বেত' → 'য়' বজায় আছে। বাংলায় অলুক তৎপুরুষ সাধারণত মিশ্র বাক্যে বা বিশেষ প্রয়োগে দেখা যায়। |
সমস্তপদ | ব্যাসবাক্য | বজায় থাকা বিভক্তি | উদাহরণ বাক্য |
হাতের লেখা | হাতের লেখা | র (সম্বন্ধ) | হাতের লেখা সুন্দর। |
মাথার ব্যথা | মাথার ব্যথা | র (সম্বন্ধ) | মাথার ব্যথা সারছে না। |
মনের কথা | মনের কথা | র (সম্বন্ধ) | মনের কথা বলো। |
বুকের ব্যথা | বুকের ব্যথা | র (সম্বন্ধ) | বুকের ব্যথা লুকিয়ে। |
ঘরের কাজ | ঘরের কাজ | র (সম্বন্ধ) | ঘরের কাজ করছি। |
দেশের মানুষ | দেশের মানুষ | র (সম্বন্ধ) | দেশের মানুষ ভালো। |
রাতের ঘুম | রাতের ঘুম | র (সম্বন্ধ) | রাতের ঘুম ভালো হয়নি। |
পথের ধুলা | পথের ধুলা | র (সম্বন্ধ) | পথের ধুলা মাখো না। |
১২. বিষয়ভিত্তিক তৎপুরুষ সমাসের শব্দভাণ্ডার
◆ ১২.১ প্রকৃতি ও পরিবেশ
সমস্তপদ | ব্যাসবাক্য | সমস্তপদ | ব্যাসবাক্য |
সূর্যোদয় | সূর্যের উদয় | চন্দ্রোদয় | চন্দ্রের উদয় |
সূর্যাস্ত | সূর্যের অস্ত | ভোরের আলো | ভোরের আলো |
বনভূমি | বনের ভূমি | নদীতীর | নদীর তীর |
পাহাড়চূড়া | পাহাড়ের চূড়া | সমুদ্রতট | সমুদ্রের তট |
আকাশপথ | আকাশের পথ | জলপথ | জলের পথ |
ঘাসের মাঠ | ঘাসের মাঠ | ফুলবাগান | ফুলের বাগান |
বৃক্ষমূল | বৃক্ষের মূল | বনপথ | বনের পথ |
নীলাম্বর | নীলের অম্বর | ধূসরবালু | ধূসর বালুর |
◆ ১২.২ শিক্ষা ও সংস্কৃতি
সমস্তপদ | ব্যাসবাক্য | সমস্তপদ | ব্যাসবাক্য |
বিদ্যালয় | বিদ্যার আলয় | মহাবিদ্যালয় | মহান বিদ্যার আলয় |
বিশ্ববিদ্যালয় | বিশ্বের বিদ্যালয় | পাঠাগার | পাঠের আগার |
গ্রন্থাগার | গ্রন্থের আগার | ছাত্রাবাস | ছাত্রের আবাস |
শিক্ষাব্যবস্থা | শিক্ষার ব্যবস্থা | পরীক্ষাকেন্দ্র | পরীক্ষার কেন্দ্র |
শিক্ষার্থী | শিক্ষার অর্থী | বিদ্যার্থী | বিদ্যার অর্থী |
শিক্ষকতা | শিক্ষকের কাজ | অধ্যাপনা | অধ্যাপনার কাজ |
বাংলাসাহিত্য | বাংলার সাহিত্য | বাংলাভাষা | বাংলার ভাষা |
ইতিহাসচর্চা | ইতিহাসের চর্চা | বিজ্ঞানচর্চা | বিজ্ঞানের চর্চা |
◆ ১২.৩ রাষ্ট্র, সমাজ ও আইন
সমস্তপদ | ব্যাসবাক্য | সমস্তপদ | ব্যাসবাক্য |
রাষ্ট্রনীতি | রাষ্ট্রের নীতি | অর্থনীতি | অর্থের নীতি |
বিচারালয় | বিচারের আলয় | কারাগার | কারার আগার |
আইনশৃঙ্খলা | আইনের শৃঙ্খলা | দেশরক্ষা | দেশের রক্ষা |
সমাজসেবা | সমাজের সেবা | জনসেবা | জনের সেবা |
মানবাধিকার | মানবের অধিকার | শ্রমিকস্বার্থ | শ্রমিকের স্বার্থ |
প্রধানমন্ত্রী | প্রধানের মন্ত্রী | রাষ্ট্রপতি | রাষ্ট্রের পতি |
নির্বাচনী | নির্বাচনের | সংসদভবন | সংসদের ভবন |
মুক্তিযুদ্ধ | মুক্তির যুদ্ধ | স্বাধীনতা | স্বাধীনের তা |
◆ ১২.৪ মানবিক সম্পর্ক ও জীবন
সমস্তপদ | ব্যাসবাক্য | সমস্তপদ | ব্যাসবাক্য |
মাতৃভাষা | মাতার ভাষা | পিতৃভূমি | পিতার ভূমি |
মাতৃস্নেহ | মাতার স্নেহ | পিতৃদায় | পিতার দায় |
বন্ধুত্ব | বন্ধুর ত্ব | শত্রুতা | শত্রুর তা |
ছাত্রজীবন | ছাত্রের জীবন | যৌবনকাল | যৌবনের কাল |
শৈশবস্মৃতি | শৈশবের স্মৃতি | বার্ধক্য | বৃদ্ধের অবস্থা |
প্রেমপত্র | প্রেমের পত্র | বিচ্ছেদবেদনা | বিচ্ছেদের বেদনা |
সুখস্বপ্ন | সুখের স্বপ্ন | দুঃখস্মৃতি | দুঃখের স্মৃতি |
মৃত্যুশোক | মৃত্যুর শোক | জন্মদিন | জন্মের দিন |
১৩. তৎপুরুষ ও অন্যান্য সমাসের পার্থক্য
১৩.১ তৎপুরুষ ও কর্মধারয় সমাসের পার্থক্য
বিষয় | তৎপুরুষ সমাস | কর্মধারয় সমাস |
পূর্বপদের ধরন | বিশেষ্য — কারকবিভক্তিযুক্ত | বিশেষণ বা বিশেষণস্থানীয় |
লুপ্ত পদ | কারকের বিভক্তি লুপ্ত হয় | বিশেষণের 'যে...সে' লুপ্ত হয় |
ব্যাসবাক্যের রূপ | কারকবিভক্তি ফিরে আসে | 'যে...সে' বা 'যা...তা' ব্যবহৃত হয় |
উদাহরণ ১ | রাজপুত্র = রাজার পুত্র | মহাকবি = মহান যে কবি |
উদাহরণ ২ | গৃহস্থ = গৃহে থাকে যে | নীলাকাশ = নীল যে আকাশ |
মূল পার্থক্য | পূর্বপদ উত্তরপদের কারকীয় সম্পর্ক | পূর্বপদ উত্তরপদকে গুণায়িত করে |
১৩.২ তৎপুরুষ ও বহুব্রীহি সমাসের পার্থক্য
বিষয় | তৎপুরুষ সমাস | বহুব্রীহি সমাস |
প্রধান পদ | উত্তরপদ প্রধান | কোনো পদই প্রধান নয় |
অর্থের প্রসার | উত্তরপদের অর্থই সমস্তপদের অর্থ | তৃতীয় কোনো বিষয়ের অর্থ প্রকাশ |
ব্যাসবাক্য | কারকবিভক্তিসহ বিশ্লেষণ | 'যার...সে' দিয়ে বিশ্লেষণ |
উদাহরণ ১ | নীলকণ্ঠ = নীল কণ্ঠ (তৎপুরুষ নয়!) | নীলকণ্ঠ = নীল কণ্ঠ যার = মহাদেব |
উদাহরণ ২ | রাজপুত্র = রাজার পুত্র (পুত্রই প্রধান) | রাজপুত্র প্রসঙ্গে 'রাজার পুত্র যে' = বহুব্রীহি |
মূল পার্থক্য | সমস্তপদ = উত্তরপদের অর্থ | সমস্তপদ = তৃতীয় অর্থ (ব্যক্তি বা বস্তু) |
১৩.৩ তৎপুরুষ ও দ্বিগু সমাসের পার্থক্য
বিষয় | তৎপুরুষ সমাস | দ্বিগু সমাস |
পূর্বপদের ধরন | যেকোনো বিশেষ্য | সর্বদা সংখ্যাবাচক বিশেষণ |
অর্থ | কারকীয় সম্পর্ক প্রকাশ | সমষ্টি বা সমাহার অর্থ প্রকাশ |
উদাহরণ ১ | রাজপুত্র = রাজার পুত্র | ত্রিফলা = তিন ফলের সমাহার |
উদাহরণ ২ | শতবর্ষ = শত যে বর্ষ (কর্মধারয়) | সপ্তাহ = সাত দিনের সমাহার |
মূল পার্থক্য | পূর্বপদ বিশেষ্য জাতীয় | পূর্বপদ সর্বদা সংখ্যাবাচক |
⚠️ সতর্কতা — বিভ্রান্তিকর শব্দ 'রাজপুত্র' = তৎপুরুষ (রাজার পুত্র), কিন্তু 'রাজকুমার' = প্রায়ই বহুব্রীহি (রাজার কুমার)। 'বিদ্যালয়' = তৎপুরুষ (বিদ্যার আলয়), কিন্তু প্রায়ই মহাবিদ্যালয় = কর্মধারয়ও বলা যায়। 'পথিক' = উপপদ তৎপুরুষ, কিন্তু 'পথ-চারী' = সাধারণ তৎপুরুষ। সবসময় ব্যাসবাক্য দেখে নির্ণয় করুন — একই শব্দ প্রসঙ্গভেদে ভিন্ন সমাস হতে পারে। |
১৪. পরীক্ষার জন্য গুরুত্বপূর্ণ তথ্য ও কৌশল
১৪.১ বিসিএস ও ব্যাংক পরীক্ষায় প্রশ্নের ধরন
তৎপুরুষ সমাসের সংজ্ঞা ও শ্রেণিবিভাগ
কোন সমস্তপদ কোন ধরনের তৎপুরুষ — কারকভেদে নির্ণয়
সমস্তপদের ব্যাসবাক্য লেখা ও লুপ্ত বিভক্তি চিহ্নিত করা
তৎপুরুষ ও কর্মধারয় সমাসের পার্থক্য
তৎপুরুষ ও বহুব্রীহি সমাসের পার্থক্য
নঞ তৎপুরুষ চিহ্নিত করা
উপপদ তৎপুরুষ চিহ্নিত করা
অলুক তৎপুরুষ চিহ্নিত করা
১৪.২ বিভ্রান্তিকর শব্দ ও সমাধান
সমস্তপদ | তৎপুরুষের প্রকার | ব্যাসবাক্য | বিভ্রান্তির কারণ ও সমাধান |
রাজপুত্র | সম্বন্ধতৎপুরুষ | রাজার পুত্র | সম্বন্ধ 'র' লুপ্ত → সম্বন্ধ তৎপুরুষ |
গৃহস্থ | আধারতৎপুরুষ | গৃহে থাকে যে | 'তে' বিভক্তি লুপ্ত → আধার তৎপুরুষ |
রক্তরঞ্জিত | করণতৎপুরুষ | রক্ত দিয়ে রঞ্জিত | 'দিয়ে' লুপ্ত → করণ তৎপুরুষ |
দেশসেবা | নিমিত্ততৎপুরুষ | দেশের জন্য সেবা | 'জন্য' লুপ্ত → নিমিত্ত তৎপুরুষ |
পথভ্রষ্ট | অপাদানতৎপুরুষ | পথ থেকে ভ্রষ্ট | 'থেকে' লুপ্ত → অপাদান তৎপুরুষ |
পঙ্কজ | উপপদ তৎপুরুষ | পঙ্কে জন্মে যা | কৃৎ প্রত্যয় 'জ' → উপপদ তৎপুরুষ |
অবিশ্বাস | নঞ তৎপুরুষ | বিশ্বাসের অভাব | 'অ' নেতিবাচক → নঞ তৎপুরুষ |
বিপদাপন্ন | কর্মতৎপুরুষ | বিপদকে আপন্ন | 'কে' লুপ্ত → কর্ম তৎপুরুষ |
বিদ্যালয় | সম্বন্ধতৎপুরুষ | বিদ্যার আলয় | 'র' লুপ্ত → সম্বন্ধ তৎপুরুষ |
জলচর | উপপদ তৎপুরুষ | জলে চরে যে | 'চর' কৃৎ প্রত্যয় → উপপদ |
মনোহর | উপপদ তৎপুরুষ | মন হরণ করে যে | 'হর' ধাতুজ → উপপদ |
হাতের লেখা | অলুক তৎপুরুষ | হাতের লেখা (লুপ্ত নেই) | বিভক্তি 'র' বজায় → অলুক |
💡 মনে রাখার সূত্র — পরীক্ষায় প্রয়োগ করুন কর্মতৎপুরুষ: 'কে' লুপ্ত → বিপদাপন্ন (বিপদকে আপন্ন) করণতৎপুরুষ: 'দিয়ে/দ্বারা' লুপ্ত → রক্তরঞ্জিত (রক্ত দিয়ে রঞ্জিত) নিমিত্ততৎপুরুষ: 'জন্য' লুপ্ত → দেশসেবা (দেশের জন্য সেবা) অপাদানতৎপুরুষ: 'থেকে' লুপ্ত → পথভ্রষ্ট (পথ থেকে ভ্রষ্ট) সম্বন্ধতৎপুরুষ: 'র/এর' লুপ্ত → রাজপুত্র (রাজার পুত্র) — সবচেয়ে বেশি আধারতৎপুরুষ: 'তে/এ' লুপ্ত → গৃহস্থ (গৃহে থাকে যে) নঞ তৎপুরুষ: 'অ/না/বে' পূর্বে → অবিশ্বাস, বেকার উপপদ তৎপুরুষ: কৃৎ প্রত্যয়যুক্ত উত্তরপদ → পঙ্কজ, জলচর অলুক তৎপুরুষ: বিভক্তি লুপ্ত হয় না → হাতের লেখা |
✅ অধ্যায়ের সারসংক্ষেপ তৎপুরুষ সমাসে পূর্বপদের কারকবিভক্তি বা অনুসর্গ লুপ্ত হয় এবং উত্তরপদের অর্থ প্রধান থাকে। প্রধান ৮টি শ্রেণি: কর্ম (কে লুপ্ত), করণ (দিয়ে লুপ্ত), নিমিত্ত (জন্য লুপ্ত), অপাদান (থেকে লুপ্ত), সম্বন্ধ (র লুপ্ত), আধার (তে লুপ্ত), নঞ (অ/না/বে) ও উপপদ (কৃৎ প্রত্যয়)। সম্বন্ধতৎপুরুষ সবচেয়ে বেশি — রাজপুত্র, বিদ্যালয়, মাতৃভাষা। অলুক তৎপুরুষে বিভক্তি সমস্তপদেও বজায় থাকে — হাতের লেখা, মনের কথা। তৎপুরুষ ও কর্মধারয় পার্থক্য: তৎপুরুষে পূর্বপদ বিশেষ্য+কারক; কর্মধারয়ে পূর্বপদ বিশেষণ। |