দ্বন্দ্ব সমাস
(Copulative / Dvandva Compound)
১. সমাস — প্রাথমিক ধারণা
সমাসের সংজ্ঞা দুই বা তার বেশি পদ মিলে একটি নতুন পদ তৈরি হলে সেই প্রক্রিয়াকে সমাস বলে। সমাসে পদগুলোর মাঝের বিভক্তি ও অনুসর্গ লুপ্ত হয় এবং একটি সংক্ষিপ্ত সমাসবদ্ধ পদ গঠিত হয়। |
সমাস শব্দের ব্যুৎপত্তি: সম্ (সম্যক/একত্রে) + অস্ (থাকা) = সমাস। অর্থাৎ একত্রে অবস্থান করা। সমাসে মিলিত পদগুলোকে 'সমস্যমান পদ' বলে এবং সমাসবদ্ধ পদকে 'সমস্তপদ' বলে। সমস্তপদকে বিশ্লেষণ করলে যে বাক্যাংশ পাওয়া যায় তাকে 'ব্যাসবাক্য' বা 'বিগ্রহবাক্য' বলে।
পরিভাষা | অর্থ | উদাহরণ |
সমস্যমান পদ | যে পদগুলো মিলে সমাস হয় | মা ও বাবা → মা + বাবা |
সমস্তপদ / সমাসবদ্ধ পদ | সমাসের ফলে গঠিত নতুন পদ | মা-বাবা / মাতাপিতা |
ব্যাসবাক্য / বিগ্রহবাক্য | সমস্তপদকে বিশ্লেষণ করলে যা পাওয়া যায় | মা ও বাবা (মাতাপিতার ব্যাসবাক্য) |
পূর্বপদ | সমাসে প্রথমে থাকা পদ | মাতাপিতা-তে 'মাতা' |
উত্তরপদ / পরপদ | সমাসে পরে থাকা পদ | মাতাপিতা-তে 'পিতা' |
১.১ বাংলায় সমাসের প্রকারভেদ
বাংলায় ছয় প্রকার সমাস রয়েছে — দ্বন্দ্ব, কর্মধারয়, তৎপুরুষ, বহুব্রীহি, দ্বিগু ও অব্যয়ীভাব। এই অধ্যায়ে শুধু দ্বন্দ্ব সমাস আলোচনা করা হবে।
সমাসের নাম | মূল বৈশিষ্ট্য | সংক্ষিপ্ত উদাহরণ |
দ্বন্দ্ব সমাস | উভয় পদই প্রধান; 'ও/এবং/আর' দিয়ে যোগ হয় | মাতাপিতা (মাতা ও পিতা) |
কর্মধারয় সমাস | বিশেষণ ও বিশেষ্যের সমাস; উত্তরপদ প্রধান | নীলাকাশ (নীল যে আকাশ) |
তৎপুরুষ সমাস | উত্তরপদ প্রধান; কারক সম্পর্ক লুপ্ত হয় | গৃহস্থ (গৃহে থাকে যে) |
বহুব্রীহি সমাস | কোনো পদই প্রধান নয়; তৃতীয় অর্থ প্রকাশ পায় | চন্দ্রমুখী (চাঁদের মতো মুখ যার) |
দ্বিগু সমাস | পূর্বপদ সংখ্যাবাচক; সমষ্টি অর্থ প্রকাশ | ত্রিফলা (তিন ফলের সমাহার) |
অব্যয়ীভাব সমাস | পূর্বপদ অব্যয়; অব্যয়ের অর্থ প্রধান | প্রতিদিন (দিন দিন / প্রতিটি দিন) |
২. দ্বন্দ্ব সমাসের সংজ্ঞা ও পরিচয়
সংজ্ঞা যে সমাসে সমস্যমান পদগুলো পরস্পর সমান গুরুত্বপূর্ণ অর্থাৎ উভয় পদই প্রধান এবং পদগুলোর মধ্যে 'ও', 'এবং', 'আর', 'বা', 'কিংবা', 'হয়...নয়' ইত্যাদি সংযোজক অব্যয় লুপ্ত থেকে সমাস হয়, তাকে দ্বন্দ্ব সমাস বলে। |
দ্বন্দ্ব শব্দের ব্যুৎপত্তি: সংস্কৃত 'দ্বন্দ্ব' — দুটি একত্রে বা যুগল অর্থে। ইংরেজিতে Copulative Compound বা Dvandva Compound বলা হয়। এটি সংস্কৃত ব্যাকরণের অন্যতম প্রধান সমাস।
২.১ দ্বন্দ্ব সমাসের মূল বৈশিষ্ট্য
বৈশিষ্ট্য | ব্যাখ্যা | উদাহরণ |
উভয় পদই প্রধান | সমাসের কোনো একটি পদ অপরটির চেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ নয় | মাতাপিতা = মাতা ও পিতা (উভয়ই সমান) |
সংযোজক অব্যয় লুপ্ত | ব্যাসবাক্যে 'ও/এবং/বা/কিংবা' থাকে, সমস্তপদে থাকে না | হাতে-কলমে = হাতে ও কলমে |
উভয় পদের অর্থ টিকে থাকে | সমাসের পরও উভয় পদের স্বতন্ত্র অর্থ বজায় থাকে | ভালোমন্দ = ভালো ও মন্দ উভয়ই |
সাধারণত বহুবচন অর্থ | দুটি বা তার বেশি বিষয়ের একত্র প্রকাশ | ছেলেমেয়ে = ছেলে ও মেয়ে |
বিপরীতার্থক পদেও হয় | বিপরীত অর্থের দুটি পদ মিলেও দ্বন্দ্ব হয় | ভালোমন্দ, আসাযাওয়া, দিনরাত |
সমার্থক পদেও হয় | একই অর্থের দুটি পদ মিলেও দ্বন্দ্ব হয় | মাঠঘাট, বনজঙ্গল, রাস্তাঘাট |
২.২ দ্বন্দ্ব সমাস চেনার উপায়
ব্যাসবাক্যে পদগুলোর মাঝে 'ও', 'এবং', 'আর', 'বা' বা 'কিংবা' যোগ করলে যদি সমস্তপদটি পাওয়া যায়, তাহলে সেটি দ্বন্দ্ব সমাস।
দ্বন্দ্ব সমাস শনাক্তের সূত্র সমস্তপদ → ব্যাসবাক্য তৈরি করুন → মাঝে 'ও / এবং / আর / বা' যোগ করতে হয় কিনা দেখুন। যদি 'ও' দিয়ে সংযুক্ত হয় এবং উভয় পদই সমান গুরুত্বপূর্ণ হয় → দ্বন্দ্ব সমাস। উদাহরণ: 'দুধভাত' → দুধ ও ভাত → দুধ (পূর্বপদ) ও ভাত (উত্তরপদ) উভয়ই প্রধান → দ্বন্দ্ব সমাস। |
৩. দ্বন্দ্ব সমাসের শ্রেণিবিভাগ
দ্বন্দ্ব সমাসকে ব্যাসবাক্যের অব্যয় ও অর্থের ভিত্তিতে চার ভাগে ভাগ করা হয়:
শ্রেণি | ব্যাসবাক্যের অব্যয় | বৈশিষ্ট্য | উদাহরণ |
মিলনার্থক দ্বন্দ্ব | ও / এবং / আর | উভয় পদ একসাথে বিদ্যমান | মাতাপিতা, ভাইবোন, দিনরাত |
বিকল্পার্থক দ্বন্দ্ব | বা / কিংবা / অথবা | একটি বা অন্যটি — বিকল্প | জলবায়ু, ভালোমন্দ, আসাযাওয়া |
বিরোধার্থক দ্বন্দ্ব | হয়...নয় / না...না | বিরোধ বা অনিশ্চয়তা | জমাখরচ, লাভক্ষতি, আয়ব্যয় |
সমার্থক দ্বন্দ্ব | ও (সমার্থক পদে) | একই অর্থের পদ মিলে | মাঠঘাট, বনজঙ্গল, রাস্তাঘাট |
৪. মিলনার্থক দ্বন্দ্ব সমাস
যে দ্বন্দ্ব সমাসে উভয় পদ একসাথে বিদ্যমান থাকে এবং ব্যাসবাক্যে 'ও', 'এবং' বা 'আর' দিয়ে যোগ করা হয়, তাকে মিলনার্থক দ্বন্দ্ব সমাস বলে। এটি সবচেয়ে প্রচলিত দ্বন্দ্ব সমাস।
৪.১ ব্যক্তিবাচক পদের মিলনার্থক দ্বন্দ্ব
সমস্তপদ | ব্যাসবাক্য | পদ পরিচয় |
মাতাপিতা | মাতা ও পিতা | মাতা (পূর্ব) + পিতা (উত্তর) |
ভাইবোন | ভাই ও বোন | ভাই (পূর্ব) + বোন (উত্তর) |
ছেলেমেয়ে | ছেলে ও মেয়ে | ছেলে (পূর্ব) + মেয়ে (উত্তর) |
স্বামীস্ত্রী | স্বামী ও স্ত্রী | স্বামী (পূর্ব) + স্ত্রী (উত্তর) |
রামশ্যাম | রাম ও শ্যাম | রাম (পূর্ব) + শ্যাম (উত্তর) |
হরিহর | হরি ও হর | হরি (পূর্ব) + হর (উত্তর) |
কৃষ্ণার্জুন | কৃষ্ণ ও অর্জুন | কৃষ্ণ (পূর্ব) + অর্জুন (উত্তর) |
রাধাকৃষ্ণ | রাধা ও কৃষ্ণ | রাধা (পূর্ব) + কৃষ্ণ (উত্তর) |
সীতারাম | সীতা ও রাম | সীতা (পূর্ব) + রাম (উত্তর) |
দাদাদিদি | দাদা ও দিদি | দাদা (পূর্ব) + দিদি (উত্তর) |
বাবামা | বাবা ও মা | বাবা (পূর্ব) + মা (উত্তর) |
ঠাকুরদাদা-ঠাকুরদিদি | ঠাকুরদাদা ও ঠাকুরদিদি | দুটি পূর্ণ পদের সমাস |
৪.২ প্রাণীবাচক পদের মিলনার্থক দ্বন্দ্ব
সমস্তপদ | ব্যাসবাক্য | উদাহরণ বাক্য |
গরুছাগল | গরু ও ছাগল | গরুছাগল পালা তার পেশা। |
পাখিপ্রাণী | পাখি ও প্রাণী | বনে পাখিপ্রাণী ভরা। |
মাছমাংস | মাছ ও মাংস | মাছমাংস খেতে পছন্দ করি। |
কুকুরবিড়াল | কুকুর ও বিড়াল | কুকুরবিড়াল পুষি। |
হাঁসমুরগি | হাঁস ও মুরগি | হাঁসমুরগির খামার আছে। |
বাঘসিংহ | বাঘ ও সিংহ | বাঘসিংহ বনের রাজা। |
গরুমহিষ | গরু ও মহিষ | গরুমহিষ চরাচ্ছে রাখাল। |
৪.৩ জড়বাচক পদের মিলনার্থক দ্বন্দ্ব
সমস্তপদ | ব্যাসবাক্য | উদাহরণ বাক্য |
দুধভাত | দুধ ও ভাত | দুধভাত খেয়ে বড় হয়েছি। |
হাতপা | হাত ও পা | হাতপা ধুয়ে খাও। |
মাথামুণ্ড | মাথা ও মুণ্ড | মাথামুণ্ড কিছু বুঝি না। |
নাকমুখ | নাক ও মুখ | নাকমুখ ঢেকে ঘুমাও। |
চোখকান | চোখ ও কান | চোখকান খোলা রাখো। |
বইখাতা | বই ও খাতা | বইখাতা গুছিয়ে রাখো। |
কাগজপত্র | কাগজ ও পত্র | কাগজপত্র সব তৈরি। |
তেলনুন | তেল ও নুন | তেলনুন কিনতে হবে। |
ডালভাত | ডাল ও ভাত | ডালভাত খেয়ে তুষ্ট। |
রুটিতরকারি | রুটি ও তরকারি | রুটিতরকারি খাচ্ছি। |
লবণমরিচ | লবণ ও মরিচ | লবণমরিচ মেশাও। |
সোনারুপা | সোনা ও রুপা | সোনারুপার গহনা। |
আলোবাতাস | আলো ও বাতাস | আলোবাতাস পর্যাপ্ত। |
জলহাওয়া | জল ও হাওয়া | জলহাওয়া ভালো এখানে। |
অন্নবস্ত্র | অন্ন ও বস্ত্র | অন্নবস্ত্রের অভাব নেই। |
৪.৪ বিমূর্ত ও ভাববাচক পদের মিলনার্থক দ্বন্দ্ব
সমস্তপদ | ব্যাসবাক্য | উদাহরণ বাক্য |
জ্ঞানবুদ্ধি | জ্ঞান ও বুদ্ধি | তার জ্ঞানবুদ্ধি অসাধারণ। |
সুখদুঃখ | সুখ ও দুঃখ | সুখদুঃখ জীবনের অংশ। |
ধনমান | ধন ও মান | ধনমান সব হারিয়েছে। |
শান্তিশৃঙ্খলা | শান্তি ও শৃঙ্খলা | শান্তিশৃঙ্খলা বজায় রাখো। |
আশাভরসা | আশা ও ভরসা | আশাভরসা ছাড়িনি। |
দোষগুণ | দোষ ও গুণ | সবার দোষগুণ আছে। |
ভয়ভীতি | ভয় ও ভীতি | ভয়ভীতি দেখিয়ে কাজ হয় না। |
লজ্জাশরম | লজ্জা ও শরম | লজ্জাশরম বিসর্জন দিয়েছে। |
বিদ্যাবুদ্ধি | বিদ্যা ও বুদ্ধি | বিদ্যাবুদ্ধিতে পিছিয়ে নেই। |
আনন্দউৎসব | আনন্দ ও উৎসব | আনন্দউৎসবে মাতো। |
আইনকানুন | আইন ও কানুন | আইনকানুন মানতে হবে। |
নিয়মনীতি | নিয়ম ও নীতি | নিয়মনীতি মেনে চলো। |
৪.৫ দিকবাচক ও কালবাচক পদের মিলনার্থক দ্বন্দ্ব
সমস্তপদ | ব্যাসবাক্য | উদাহরণ বাক্য |
দিনরাত | দিন ও রাত | দিনরাত পরিশ্রম করে। |
সকালসন্ধ্যা | সকাল ও সন্ধ্যা | সকালসন্ধ্যা নামাজ পড়ি। |
সকালবিকেল | সকাল ও বিকেল | সকালবিকেল হাঁটি। |
দিনক্ষণ | দিন ও ক্ষণ | দিনক্ষণ ঠিক করো। |
কালপরশু | কাল ও পরশু | কালপরশুর মধ্যে আসবে। |
পূর্বপশ্চিম | পূর্ব ও পশ্চিম | পূর্বপশ্চিম ঘুরে এসেছি। |
উত্তরদক্ষিণ | উত্তর ও দক্ষিণ | উত্তরদক্ষিণ বিস্তৃত। |
আগেপরে | আগে ও পরে | আগেপরে চিন্তা করো। |
ভোরসন্ধ্যা | ভোর ও সন্ধ্যা | ভোরসন্ধ্যা প্রার্থনা করি। |
৪.৬ ক্রিয়াবাচক পদের মিলনার্থক দ্বন্দ্ব
সমস্তপদ | ব্যাসবাক্য | উদাহরণ বাক্য |
আসাযাওয়া | আসা ও যাওয়া | আসাযাওয়া লেগেই থাকে। |
খাওয়াদাওয়া | খাওয়া ও দাওয়া | খাওয়াদাওয়া শেষ করো। |
দেখাশোনা | দেখা ও শোনা | দেখাশোনা করার কেউ নেই। |
কাটাকাটি | কাটা ও কাটি | কাটাকাটি করো না। |
মারামারি | মারা ও মারি | মারামারি বন্ধ করো। |
ধরাধরি | ধরা ও ধরি | ধরাধরি করে তুললাম। |
হাসিকান্না | হাসি ও কান্না | হাসিকান্না জীবনের ধর্ম। |
ওঠাবসা | ওঠা ও বসা | তার সাথে ওঠাবসা নেই। |
পড়াশোনা | পড়া ও শোনা | পড়াশোনায় মনোযোগ দাও। |
চলাফেরা | চলা ও ফেরা | চলাফেরায় সাবধান। |
লেখাপড়া | লেখা ও পড়া | লেখাপড়া শেষ করলাম। |
নাচগান | নাচ ও গান | নাচগানে মেতেছে সবাই। |
৫. বিকল্পার্থক দ্বন্দ্ব সমাস
যে দ্বন্দ্ব সমাসে একটি বা অন্যটির মধ্যে বিকল্প বোঝায় এবং ব্যাসবাক্যে 'বা', 'কিংবা' বা 'অথবা' যোগ হয়, তাকে বিকল্পার্থক দ্বন্দ্ব সমাস বলে।
সমস্তপদ | ব্যাসবাক্য | অর্থ |
জলবায়ু | জল বা বায়ু | জল অথবা বায়ু — যেকোনো একটি |
ভালোমন্দ | ভালো বা মন্দ | ভালো অথবা মন্দ — যেকোনো একটি |
পাপপুণ্য | পাপ বা পুণ্য | পাপ অথবা পুণ্য |
জীবনমৃত্যু | জীবন বা মৃত্যু | বাঁচা অথবা মরা |
সত্যমিথ্যা | সত্য বা মিথ্যা | সত্য অথবা মিথ্যা |
কবিলেখক | কবি বা লেখক | কবি অথবা লেখক |
দেশবিদেশ | দেশ বা বিদেশ | দেশ অথবা বিদেশ যেখানেই হোক |
আজকাল | আজ বা কাল | আজ অথবা কাল — যেকোনো একটি দিন |
কিছুকিছু | কিছু বা কিছু | কিছু পরিমাণ |
হয়তোবা | হয়তো বা না | সম্ভবত বা না |
আলোআঁধার | আলো বা আঁধার | আলো কিংবা অন্ধকার |
ভালোখারাপ | ভালো বা খারাপ | ভালো অথবা খারাপ |
৬. বিরোধার্থক দ্বন্দ্ব সমাস
যে দ্বন্দ্ব সমাসে পরস্পর বিরোধী দুটি পদ মিলে সমাস হয় এবং ব্যাসবাক্যে 'হয়...নয়', 'না...না', 'হয়তো...হয়তো' ইত্যাদি থাকে, তাকে বিরোধার্থক দ্বন্দ্ব সমাস বলে।
সমস্তপদ | ব্যাসবাক্য | অর্থ |
জমাখরচ | জমা না খরচ (হয়...নয়) | আয় ও ব্যয়ের হিসাব |
লাভক্ষতি | লাভ না ক্ষতি | লাভ হবে কি ক্ষতি হবে অনিশ্চিত |
আয়ব্যয় | আয় না ব্যয় | আয় ও খরচের হিসাব |
জয়পরাজয় | জয় না পরাজয় | জিতবে না হারবে অনিশ্চিত |
সাফল্যব্যর্থতা | সাফল্য না ব্যর্থতা | সফল না ব্যর্থ অনিশ্চিত |
উঠাপড়া | ওঠা না পড়া | ভালো না খারাপ — অনিশ্চিত |
ধারদেনা | ধার না দেনা | ঋণ ও দায়ের হিসাব |
পাওনাদেনা | পাওনা না দেনা | পাওয়া ও দেওয়ার হিসাব |
৭. সমার্থক দ্বন্দ্ব সমাস
যে দ্বন্দ্ব সমাসে একই বা কাছাকাছি অর্থের দুটি পদ মিলে সমাস হয়, তাকে সমার্থক দ্বন্দ্ব সমাস বলে। এখানে উভয় পদ প্রায় একই অর্থ প্রকাশ করে এবং সমস্তপদটি একটি সামগ্রিক ধারণা প্রকাশ করে।
সমস্তপদ | ব্যাসবাক্য | অর্থ / বিশেষত্ব |
মাঠঘাট | মাঠ ও ঘাট (সমার্থক) | খোলা জায়গা বা প্রান্তর অর্থে |
বনজঙ্গল | বন ও জঙ্গল (সমার্থক) | অরণ্য ও ঘন গাছপালার এলাকা |
রাস্তাঘাট | রাস্তা ও ঘাট (সমার্থক) | পথ ও চলাচলের স্থান সামগ্রিকভাবে |
নদীনালা | নদী ও নালা (সমার্থক) | জলপ্রবাহের স্থান সামগ্রিকভাবে |
ঘরবাড়ি | ঘর ও বাড়ি (সমার্থক) | আবাসস্থল সামগ্রিকভাবে |
হাটবাজার | হাট ও বাজার (সমার্থক) | বেচাকেনার স্থান |
পথঘাট | পথ ও ঘাট (সমার্থক) | চলার পথ সামগ্রিকভাবে |
দেশকাল | দেশ ও কাল (সমার্থক) | স্থান ও সময় সামগ্রিকভাবে |
জগৎসংসার | জগৎ ও সংসার (সমার্থক) | দুনিয়া ও পার্থিব জীবন |
ধনসম্পদ | ধন ও সম্পদ (সমার্থক) | সম্পদ সামগ্রিকভাবে |
বিদ্যাজ্ঞান | বিদ্যা ও জ্ঞান (সমার্থক) | জ্ঞান সামগ্রিকভাবে |
শক্তিসামর্থ্য | শক্তি ও সামর্থ্য (সমার্থক) | সক্ষমতা সামগ্রিকভাবে |
আলোকবাতি | আলো ও বাতি (সমার্থক) | আলোর উৎস সামগ্রিকভাবে |
টাকাপয়সা | টাকা ও পয়সা (সমার্থক) | অর্থসম্পদ সামগ্রিকভাবে |
খাবারদাবার | খাবার ও দাবার (সমার্থক) | খাদ্য সামগ্রিকভাবে |
৮. বিপরীতার্থক পদে দ্বন্দ্ব সমাস
যখন পরস্পর বিপরীত অর্থের দুটি পদ 'ও' দিয়ে যুক্ত হয়ে দ্বন্দ্ব সমাস হয়, তখন তাকে বিপরীতার্থক পদের দ্বন্দ্ব বলে। এই ধরনের সমাসে উভয় পদের সম্মিলিত অর্থ প্রকাশ পায়।
সমস্তপদ | ব্যাসবাক্য | বিপরীত অর্থ | উদাহরণ বাক্য |
ভালোমন্দ | ভালো ও মন্দ | ভালো ↔ মন্দ | ভালোমন্দ বিচার করো। |
দিনরাত | দিন ও রাত | দিন ↔ রাত | দিনরাত পরিশ্রম করি। |
সুখদুঃখ | সুখ ও দুঃখ | সুখ ↔ দুঃখ | সুখদুঃখ নিয়ে জীবন। |
ধনীগরিব | ধনী ও গরিব | ধনী ↔ গরিব | ধনীগরিব সবাই সমান। |
ছোটবড় | ছোট ও বড় | ছোট ↔ বড় | ছোটবড় সকলকে মানি। |
আলোআঁধার | আলো ও আঁধার | আলো ↔ আঁধার | আলোআঁধারে ভরা জীবন। |
জয়পরাজয় | জয় ও পরাজয় | জয় ↔ পরাজয় | জয়পরাজয় খেলার অংশ। |
লাভক্ষতি | লাভ ও ক্ষতি | লাভ ↔ ক্ষতি | লাভক্ষতি হিসাব করো। |
আসাযাওয়া | আসা ও যাওয়া | আসা ↔ যাওয়া | আসাযাওয়া লেগেই আছে। |
পাওয়াহারানো | পাওয়া ও হারানো | পাওয়া ↔ হারানো | পাওয়াহারানোর খেলা। |
জীবনমৃত্যু | জীবন ও মৃত্যু | জীবন ↔ মৃত্যু | জীবনমৃত্যু আল্লাহর হাতে। |
উঠাপড়া | ওঠা ও পড়া | ওঠা ↔ পড়া | উঠাপড়া লেগেই আছে। |
বাড়াকমা | বাড়া ও কমা | বাড়া ↔ কমা | দামের বাড়াকমা চলছে। |
আয়ব্যয় | আয় ও ব্যয় | আয় ↔ ব্যয় | আয়ব্যয় সমান রাখো। |
ভালোখারাপ | ভালো ও খারাপ | ভালো ↔ খারাপ | ভালোখারাপ চিনতে শেখো। |
৯. একশেষ দ্বন্দ্ব — বিশেষ প্রকার দ্বন্দ্ব সমাস
যে দ্বন্দ্ব সমাসে পদগুলোর একটির শেষে বহুবচনের বিভক্তি বা চিহ্ন যুক্ত হয়ে সমাস হয়, সেটিকে একশেষ দ্বন্দ্ব বলে। সমস্তপদটি বহুবচনে থাকে এবং উভয় পদের অর্থই প্রকাশিত হয়।
একশেষ দ্বন্দ্বের বৈশিষ্ট্য সাধারণ দ্বন্দ্ব: মা ও বাবা = মাবাবা / মাতাপিতা (উভয় পদের নাম আলাদাভাবে থাকে) একশেষ দ্বন্দ্ব: মা ও বাবা = মা-বাবারা / বাবা-মায়েরা (একটি পদের শেষে রা/দের বসে উভয়কে একসাথে বোঝায়) অর্থাৎ একটি পদের সাথে বহুবচনের চিহ্ন যুক্ত করে উভয় পদকে বোঝানো হয়। | ||||
সমস্তপদ (একশেষ) | বিশ্লেষণ | উদাহরণ বাক্য | ||
মা-বাবারা | মা ও বাবা → 'বাবা'-তে 'রা' বিভক্তি | মা-বাবারা অনুষ্ঠানে এলেন। | ||
ভাই-বোনেরা | ভাই ও বোন → 'বোন'-এ 'এরা' বিভক্তি | ভাই-বোনেরা একসাথে থাকে। | ||
ছেলে-মেয়েরা | ছেলে ও মেয়ে → 'মেয়ে'-তে 'রা' বিভক্তি | ছেলে-মেয়েরা স্কুলে গেছে। | ||
শিক্ষক-শিক্ষিকারা | শিক্ষক ও শিক্ষিকা → 'শিক্ষিকা'-তে 'রা' | শিক্ষক-শিক্ষিকারা পুরস্কার পেলেন। | ||
আত্মীয়-স্বজনেরা | আত্মীয় ও স্বজন → 'স্বজন'-এ 'এরা' | আত্মীয়-স্বজনেরা এলেন। | ||
দাদা-দাদিরা | দাদা ও দাদি → 'দাদি'-তে 'রা' | দাদা-দাদিরা চলে গেছেন। | ||
১০. দ্বন্দ্ব সমাসের বিস্তৃত শব্দভাণ্ডার
নিচে বিষয়ভিত্তিকভাবে দ্বন্দ্ব সমাসের সম্পূর্ণ তালিকা দেওয়া হলো:
১০.১ শরীরের অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ
সমস্তপদ | ব্যাসবাক্য | সমস্তপদ | ব্যাসবাক্য |
হাতপা | হাত ও পা | মাথামুণ্ড | মাথা ও মুণ্ড |
চোখকান | চোখ ও কান | নাকমুখ | নাক ও মুখ |
হাত-পা-মাথা | হাত, পা ও মাথা | বুকপিঠ | বুক ও পিঠ |
চুলদাড়ি | চুল ও দাড়ি | গলাঘাড় | গলা ও ঘাড় |
নখদাঁত | নখ ও দাঁত | হাড়মাংস | হাড় ও মাংস |
১০.২ খাদ্যদ্রব্য ও গৃহস্থালি
সমস্তপদ | ব্যাসবাক্য | সমস্তপদ | ব্যাসবাক্য |
দুধভাত | দুধ ও ভাত | ডালভাত | ডাল ও ভাত |
মাছমাংস | মাছ ও মাংস | তেলনুন | তেল ও নুন |
রুটিতরকারি | রুটি ও তরকারি | সবজিফল | সবজি ও ফল |
লবণমরিচ | লবণ ও মরিচ | মিষ্টিটক | মিষ্টি ও টক |
পিঠাপুলি | পিঠা ও পুলি | হালুয়ারুটি | হালুয়া ও রুটি |
বাটিচামচ | বাটি ও চামচ | থালাবাসন | থালা ও বাসন |
কাপপিরিচ | কাপ ও পিরিচ | হাঁড়িকড়াই | হাঁড়ি ও কড়াই |
১০.৩ প্রকৃতি ও পরিবেশ
সমস্তপদ | ব্যাসবাক্য | সমস্তপদ | ব্যাসবাক্য |
নদীনালা | নদী ও নালা | মাঠঘাট | মাঠ ও ঘাট |
বনজঙ্গল | বন ও জঙ্গল | পাহাড়পর্বত | পাহাড় ও পর্বত |
আলোবাতাস | আলো ও বাতাস | জলহাওয়া | জল ও হাওয়া |
মেঘবৃষ্টি | মেঘ ও বৃষ্টি | ঝড়বৃষ্টি | ঝড় ও বৃষ্টি |
ফুলফল | ফুল ও ফল | গাছপালা | গাছ ও পালা |
রোদবৃষ্টি | রোদ ও বৃষ্টি | শীতগ্রীষ্ম | শীত ও গ্রীষ্ম |
১০.৪ সমাজ ও কর্মকাণ্ড
সমস্তপদ | ব্যাসবাক্য | সমস্তপদ | ব্যাসবাক্য |
হাটবাজার | হাট ও বাজার | ঘরবাড়ি | ঘর ও বাড়ি |
দোকানপাট | দোকান ও পাট | কাজকর্ম | কাজ ও কর্ম |
আইনকানুন | আইন ও কানুন | নিয়মনীতি | নিয়ম ও নীতি |
শিল্পসাহিত্য | শিল্প ও সাহিত্য | সভাসমিতি | সভা ও সমিতি |
টাকাপয়সা | টাকা ও পয়সা | ধনসম্পদ | ধন ও সম্পদ |
হাতেকলমে | হাতে ও কলমে | পথেঘাটে | পথে ও ঘাটে |
১০.৫ গুণ ও বিমূর্ত ধারণা
সমস্তপদ | ব্যাসবাক্য | সমস্তপদ | ব্যাসবাক্য |
জ্ঞানবুদ্ধি | জ্ঞান ও বুদ্ধি | সুখদুঃখ | সুখ ও দুঃখ |
ধনমান | ধন ও মান | মানসম্মান | মান ও সম্মান |
দোষগুণ | দোষ ও গুণ | ভয়ভীতি | ভয় ও ভীতি |
আশাভরসা | আশা ও ভরসা | শক্তিসামর্থ্য | শক্তি ও সামর্থ্য |
শান্তিশৃঙ্খলা | শান্তি ও শৃঙ্খলা | বিদ্যাবুদ্ধি | বিদ্যা ও বুদ্ধি |
সত্যমিথ্যা | সত্য ও মিথ্যা | ন্যায়অন্যায় | ন্যায় ও অন্যায় |
পাপপুণ্য | পাপ ও পুণ্য | ধর্মকর্ম | ধর্ম ও কর্ম |
১১. দ্বন্দ্ব সমাস ও অন্যান্য সমাসের পার্থক্য
১১.১ দ্বন্দ্ব ও কর্মধারয় সমাসের পার্থক্য
বিষয় | দ্বন্দ্ব সমাস | কর্মধারয় সমাস |
প্রধান পদ | উভয় পদই সমান প্রধান | উত্তরপদ প্রধান |
পদের সম্পর্ক | পদগুলো পাশাপাশি থাকে; 'ও' দিয়ে যুক্ত | পূর্বপদ উত্তরপদের বিশেষণ |
ব্যাসবাক্য | 'ও' দিয়ে সংযুক্ত | 'যে...সে' বা 'যিনি...তিনি' দিয়ে |
উদাহরণ | ভালোমন্দ = ভালো ও মন্দ | মহাকবি = মহান যে কবি |
অর্থের প্রসার | উভয় পদের অর্থই প্রকাশিত | উত্তরপদের অর্থ বিশেষিত হয় |
আরেকটি উদাহরণ | রাজামন্ত্রী = রাজা ও মন্ত্রী | রাজমন্ত্রী = রাজার মন্ত্রী (তৎপুরুষ) |
১১.২ দ্বন্দ্ব ও তৎপুরুষ সমাসের পার্থক্য
বিষয় | দ্বন্দ্ব সমাস | তৎপুরুষ সমাস | ||
প্রধান পদ | উভয় পদই প্রধান | উত্তরপদ প্রধান | ||
ব্যাসবাক্যে | 'ও / এবং' দিয়ে সংযুক্ত | কারকবিভক্তি থাকে | ||
উদাহরণ | দেশসেবা = দেশ ও সেবা (দ্বন্দ্ব) | দেশসেবা = দেশের সেবা (তৎপুরুষ) | ||
পদসংখ্যা | দুটি পদ পাশাপাশি সমান | পূর্বপদ উত্তরপদকে বিশেষায়িত করে | ||
সমস্তপদের অর্থ | উভয়ের সম্মিলিত অর্থ | উত্তরপদের কারকসংক্রান্ত অর্থ | ||
সতর্কতা কিছু শব্দ দেখতে একরকম হলেও প্রসঙ্গ অনুযায়ী ভিন্ন সমাস হতে পারে। যেমন: 'রাজামন্ত্রী' = রাজা ও মন্ত্রী → দ্বন্দ্ব সমাস 'রাজমন্ত্রী' = রাজার মন্ত্রী → তৎপুরুষ সমাস ব্যাসবাক্য দেখেই সমাসের প্রকার নির্ণয় করুন। | ||||
১২. পরীক্ষার জন্য গুরুত্বপূর্ণ তথ্য ও কৌশল
১২.১ বিসিএস ও ব্যাংক পরীক্ষায় প্রশ্নের ধরন
দ্বন্দ্ব সমাসের সংজ্ঞা ও বৈশিষ্ট্য
দ্বন্দ্ব সমাসের শ্রেণিবিভাগ — মিলনার্থক, বিকল্পার্থক, বিরোধার্থক, সমার্থক
নির্দিষ্ট সমস্তপদের ব্যাসবাক্য লেখা
ব্যাসবাক্য থেকে সমস্তপদ গঠন
কোনটি দ্বন্দ্ব সমাস এবং কোনটি নয় — শনাক্তকরণ
দ্বন্দ্ব বনাম তৎপুরুষ / কর্মধারয় সমাসের পার্থক্য
একশেষ দ্বন্দ্ব সমাস চিহ্নিত করা
১২.২ বিভ্রান্তিকর শব্দ ও সমাধান
সমস্তপদ | সমাসের প্রকার | ব্যাসবাক্য | বিভ্রান্তির কারণ | |
মাতাপিতা | দ্বন্দ্ব সমাস | মাতা ও পিতা | দুটি পদ সমান — দ্বন্দ্ব | |
পিতামাতা | দ্বন্দ্ব সমাস | পিতা ও মাতা | শুধু পদের ক্রম পরিবর্তন | |
রাজামন্ত্রী | দ্বন্দ্ব সমাস | রাজা ও মন্ত্রী | উভয়ই প্রধান — দ্বন্দ্ব | |
রাজমন্ত্রী | তৎপুরুষ সমাস | রাজার মন্ত্রী | উত্তরপদ প্রধান — তৎপুরুষ | |
দেশসেবা | তৎপুরুষ সমাস | দেশের সেবা | কারক সম্পর্ক — তৎপুরুষ | |
শিল্পসাহিত্য | দ্বন্দ্ব সমাস | শিল্প ও সাহিত্য | উভয়ই সমান — দ্বন্দ্ব | |
লাভক্ষতি | দ্বন্দ্ব (বিরোধার্থক) | লাভ না ক্ষতি | বিরোধার্থক দ্বন্দ্ব | |
হাতেকলমে | দ্বন্দ্ব সমাস | হাতে ও কলমে | বিভক্তিসহ দ্বন্দ্ব | |
মনে রাখার সূত্র দ্বন্দ্ব সমাস চেনার সহজ পদ্ধতি: ১. ব্যাসবাক্যে 'ও / এবং / আর / বা / কিংবা' যুক্ত হয়। ২. উভয় পদই সমান গুরুত্বপূর্ণ — কোনো পদ অপরটির বিশেষণ নয়। ৩. সমস্তপদে উভয় পদের অর্থই বজায় থাকে। শ্রেণি মনে রাখুন: • মিলনার্থক: ও/এবং → মাতাপিতা, ভাইবোন • বিকল্পার্থক: বা/কিংবা → জলবায়ু, ভালোমন্দ • বিরোধার্থক: হয়...নয় → লাভক্ষতি, জমাখরচ • সমার্থক: একই অর্থে → মাঠঘাট, বনজঙ্গল | ||||
অধ্যায়ের সারসংক্ষেপ দ্বন্দ্ব সমাস হলো সেই সমাস যেখানে উভয় পদই প্রধান এবং ব্যাসবাক্যে 'ও / এবং / বা / কিংবা' যোগ করে পদগুলো সংযুক্ত করা হয়। দ্বন্দ্ব সমাস চার প্রকার — মিলনার্থক (মাতাপিতা), বিকল্পার্থক (জলবায়ু), বিরোধার্থক (লাভক্ষতি) ও সমার্থক (মাঠঘাট)। একশেষ দ্বন্দ্বে একটি পদের সাথে বহুবচনের চিহ্ন যুক্ত হয় (মা-বাবারা)। দ্বন্দ্ব বনাম তৎপুরুষ পার্থক্যের মূল চাবিকাঠি: দ্বন্দ্বে উভয় পদ সমান, তৎপুরুষে উত্তরপদ প্রধান। |